Sunday, October 25, 2009

জনসমক্ষে রাজা ভূমিবল

থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজ মাসখানেক আগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এসেছেন। তিনি ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এখন তিনি প্রায় সুস্থ।
থাই টেলিভিশনে দেখা গেছে, ব্যাংককের সিরিরাজ হাসপাতালে তিনি শত শত ভক্ত ও চিকিত্সকের মাঝে হুইল চেয়ারে বসে আছেন। জ্বর, ফুসফুস সমস্যা ও বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কারণে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

মার্কিন নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ

মার্কিন নৌবাহিনীর দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেই চাওয়া তাদের পূরণ হতে চলেছে। আগামী বছরই তারা পেয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতির দুটি যুদ্ধজাহাজ। এ জাহাজ দিয়ে জলদস্যুদের সহজেই ধাওয়া ও পাকড়াও করা যাবে। নির্মাণ শেষে জাহাজ দুটি ইতিমধ্যে মহড়াও দিয়েছে।
‘ইনডিপেনডেন্স’ নামের জাহাজটি চার ঘণ্টায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল অতিক্রম করতে সক্ষম। এর দৈর্ঘ্য ৪১৮ ফুট। তৈরি হয়েছে আলাবামায়। এ মাসেই উপসাগরীয় এলাকায় এর মহড়া হয়েছে। অন্য জাহাজটি হলো ‘ফ্রিডম’। এটি লম্বায় ৩৭৮ ফুট। এটিও সমান দ্রুতগতিসম্পন্ন। দুটি জাহাজেরই যান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা সমান। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে জাহাজ দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দ্রুত গতি দেওয়ার জন্য জাহাজ দুটিতে স্থাপন করা হয়েছে শক্তিশালী ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ও গ্যাস টারবাইন। প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের মতো এ দুটিতে প্রপেলার ও রাডার স্থাপন করা হয়নি। এর পরিবর্তে এতে লাগানো হয়েছে ওয়াটারজেট। ফলে উপকূলে সমুদ্রের অগভীর অংশেও জাহাজ দুটি চলাচল করতে পারবে।
‘গাইড টু কম্বেট ফ্লিটস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর লেখক ও সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞ এরিক ওয়েরথেইম বলেন, ‘দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজের ধারণাটা ভালো। কিন্তু এর জন্য প্রচুর গাঁটের অর্থও খরচ গুনতে হয়।’
অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের তৈরি এই জাহাজে হেলিকপ্টার অবতরণের সুবিধা রয়েছে। এখানে এমন যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে, যার কারণে শত্রুর ডুবোজাহাজও এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তা ছাড়া বিস্ফোরক নিরোধক যন্ত্রও রয়েছে। ওই জাহাজ সহজেই জলদস্যুর হামলা এড়াতে সক্ষম। বরং দ্রুতগতির ওই জাহাজ দিয়ে জলদস্যুদের ধাওয়া করা যাবে সহজেই। সামনের বছরই উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ওই জাহাজ মোতায়েন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী এ রকমের ৫৫টি জাহাজ তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকোর মাদক চক্রের ৩০০ সদস্য গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় মেক্সিকোর একটি মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ৩০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি অঙ্গরাজ্যে দুই দিন ধরে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেন কয়েক হাজার পুলিশ কর্মকর্তা। কর্মকর্তারা জানান, করোনাডো অভিযানের অংশ হিসেবে মাদক চক্র লা ফেমিলিয়াকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। করোনাডো অভিযানের আওতায় গত চার বছরে প্রায় এক হাজার ২০০ লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সহিংস হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে মেক্সিকোর মিচোয়াকান অঙ্গরাজ্যভিত্তিক মাদক চক্র লা ফেমিলিয়ার বিরুদ্ধে।
লা ফেমিলিয়া চক্রের সন্দেহভাজন ৩০৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেন, এই অভিযান মাদক চক্রটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেছে।

বিনা ভাড়ায় সারা জীবন বিমানে ভ্রমণ

মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়ার একে-৬৫০৬ বিমানটি গত বুধবার যাচ্ছিল দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং দ্বীপ থেকে বোর্নিও দ্বীপের কুচিং এলাকায়। বিমানের একজন যাত্রী লিইউ সিয়াও এইচসিয়া (৩১) ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বিমান ছুটছে। তিনি টের পেলেন, তাঁর সন্তান প্রসবের সময় হয়েছে। বিমানকর্মীদের কাছে সহযোগিতা চাইলেন। ভাগ্য ভালো, বিমানের এক আরোহী ছিলেন চিকিত্সক। তিনি বাড়িয়ে দিলেন সহযোগিতার হাত। বিমানের অন্য কর্মীরাও এগিয়ে এলেন। বিমানটির মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হলো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের দিকে। জরুরি অবতরণ দরকার। ব্যবস্থা পাকা করা হলো। কুয়ালালামপুরের আকাশে গতি কমানো হলো। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে রানওয়েতে চাকা ছুঁয়ে যাবে। তখনই নবজাতক কেঁদে উঠল। সে জানান দিল তার পৃথিবীতে আগমনের কথা। নিরাপদেই সে দেখল পৃথিবীর প্রথম আলো। মায়ের মুখে হাসি ফুটে উঠল। বিমানটিও অবতরণ করল নির্বিঘ্নে। কর্তৃপক্ষ হাফ ছেড়ে বাঁচল।
অবতরণের কিছুক্ষণ পর কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালে মা ও ছেলেকে ভর্তি করা হলো। তাদের স্বাগত জানাতে এয়ার এশিয়ার পরিচালক মোজেস ডেভানায়াগাম গতকাল শুক্রবার যান ওই হাসপাতালে। তিনি ঘোষণা দেন, ‘মা ও ছেলে আমাদের বিমানে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন এবং এই সুযোগ তাঁরা সারা জীবনই ভোগ করবেন। নবাগতকে স্বাগত জানাতে আমাদের তরফ থেকে এটা সামান্য উপহার ।’

মাওবাদী নেতার ঘোষণা- লালগড়কে মুক্তাঞ্চল বানানো হবে

মাওবাদীদের হাতে অপহূত পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁকরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতীন্দ্রনাথ দত্তকে ছেড়ে দেওয়ার পর মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা কিষেণজি বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য লালগড়কে মুক্তাঞ্চল করা। এ লক্ষ্যে তাঁদের আন্দোলন চলবে। তিনি অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, মাওবাদীরা হিংসা ছাড়লে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে। সরকার সব সময় মাওবাদীদের পুনর্বাসনে সচেষ্ট। তিনি মাওবাদী দমনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মাওবাদী দমনে কেন্দ্র সব সময় রাজ্য সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে এবং করে যাবে।
এদিকে ছাড়া পেয়ে অপহূত ওসি বলেছেন, মাওবাদী সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক বলেছেন, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার মাওবাদী অধ্যুষিত জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁকরাইল থানা আক্রমণ করে মাওবাদীরা ছিনিয়ে নেয় পুলিশের সব অস্ত্র। শুধু তাই নয়, থানা লুট করার পর পাশের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার একটি শাখায় তারা হামলা চালিয়ে লুট করে নেয় ব্যাংকের নয় লাখ ২৭ হাজার টাকা এবং অস্ত্র। একই সময় মাওবাদীরা সাঁকরাইল থানার ওসিকে অপহরণ করে নেয়। একই সঙ্গে তারা থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এই মাওবাদীরা দুই মাস আগে সাব্বির হোসেন ও কাঞ্চন গড়াই নামের আরও দুই পুলিশ কনস্টেবলকে অপহরণ করে। তাঁদের আজও ছেড়ে দেয়নি তারা।

বিরোধীরা ছন্নছাড়া, তাই তিন রাজ্যে কংগ্রেসের জয়

লোকসভা নির্বাচনের পাঁচ মাস পরও মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও অরুণাচল প্রদেশে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিজেদের গুছিয়ে উঠতে পারেনি। তাদের ওই বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগে ওই তিনটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে গেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট। বিশ্লেষকেরা তাই মনে করছেন, কংগ্রেসের ওই বিজয় যতটা না কৃতিত্ব তাদের, তার চেয়ে বেশি দায় বিরোধীদের ছন্নছাড়া অবস্থা। কারণ তারা ওই তিন রাজ্যে লড়াইয়ের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
অনেকে মনে করছে, ওই ভোট আরও প্রমাণ করেছে, শিবসেনা ও বিজেপির ‘প্রান্তিক ও চরম সাম্প্রদায়িক’ দর্শনকে ভোটারেরা আরও একবার বর্জন করেছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে সোনিয়া-মনমোহন-রাহুলের সর্বভারতীয় বহুত্ববাদী ভাবমূর্তির জয় হয়। তিন রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনেও সেই ধারা বজায় থাকল।
১৩ অক্টোবর ওই তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ফলাফল গণনায় দেখা গেছে, মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনের মধ্যে কংগ্রেস-এনসিপি পেয়েছে ১৪৬টি, বিজেপি-শিবসেনা ৯১টি। হরিয়ানায় ৯০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৪০, ভারতীয় জাতীয় লোকদল (আইএনএলডি) ৩২ ও বিজেপি পেয়েছে মাত্র চারটি। অরুণাচলে কংগ্রেস ৪২, তৃণমূল পাঁচ ও বিজেপি পেয়েছে মাত্র দুটি আসন।
এবার পরিস্থিতি মোটেও কংগ্রেসের অনুকূলে ছিল না। মুম্বাইয়ে হামলার ঘটনা, খরা, অসহায় কৃষকদের আত্মহত্যা, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় কংগ্রেস বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তবে কোনো ইস্যুকেই কাজে লাগাতে পারেনি বিরোধীরা। নিজেদের অন্তর্কোন্দল এর জন্য দায়ী। মহারাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক, সেখানে শিবসেনা হলো রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল। কিন্তু তাদের মধ্যে চলছে এখন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। শিবসেনাপ্রধান বালসাহেব ঠাকরের ছেলে উদ্ধব আর ভাইপো রাজের কলহে দল ভেঙেছে আগেই। গত লোকসভায়ও রাজের দল (মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা—এমএনএস) নিজের নাক কেটে উদ্ধবের যাত্রা ভঙ্গ করেছিল। এবারও তাই হয়েছে। দুই ভাইয়ের ঝামেলা আর মেটেনি।
শিবসেনার মতো বিজেপির নিজের অবস্থাও তথৈবচ। নিজেদের মধ্যে ফ্যাসাদের কারণে কোথাও তারা ভোটের জন্য ঝাপিয়ে পড়তে পারেনি। ভোটের মাঠে যখন লড়াই চলছে, তখন দলের নেতারা ব্যস্ত লালকৃষ্ণ আদভানি ইস্তফা দিচ্ছেন কি না, কিংবা রাজনাথ সিংকে সরিয়ে সভাপতি কাকে করা হবে, তা নিয়ে।
হরিয়ানায় ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল গুনেছে বিজেপি। ভোটের আগ পর্যন্তও ওমপ্রকাশ চৌটালার সঙ্গে জোট ছিল বিজেপির। কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে চৌটালার সঙ্গ ত্যাগ করে তারা অন্যদের সঙ্গে জোট করে। ফলে দুই কূলই গেছে বিজেপির। চৌটালার দল জিতে গেছে ৩২টি আসনে।
জয়ী হলেন ভারতের রাষ্ট্রপতির ছেলে
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, মহারাষ্ট্র বিধানসভায় জয় ছিনিয়ে আনলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিলের ছেলে রাজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। কংগ্রেসের টিকিটে রাজেন্দ্র সিং দাঁড়িয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের অমরাবতী কেন্দ্র থেকে।
জয়ী হওয়ার পর শেখাওয়াত বলেছেন, তাঁর জয়ের পেছনের কারিগর ছিলেন মহিলা ভোটাররা। তাঁরাই বিপুল ভোটে এগিয়ে নিয়েছেন তাঁকে।
মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির ছেলে ছাড়াও জয়ী হয়েছে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিলাসরাও দেশমুখের ছেলে অমিত দেশমুখ, কংগ্রেস নেতা সুশীল কুমার শিন্ডের মেয়ে প্রণীতি, এনসিপির সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ছগন ভুজবলের ছেলে পঙ্কজ ভুজবল। তবে হেরে গেছেন প্রয়াত বিজেপি নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রমোদ মহাজনের মেয়ে পুনম।

জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানে ২৩ জন নিহত

পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে গতকাল শুক্রবার জঙ্গি হামলায়২৩ জন নিহত হয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে কামরা শহরে একটি বিমান ঘাঁটির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। আফগান সীমান্তের কাছে আদিবাসী অধ্যুষিত মোহমান্দে একটি ট্যাংক বিধ্বংসী মাইনের বিস্ফোরণে১৫ জন নিহত এবংআহত হয়েছে ছয়জন। এদিকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পেশোরায়ার শহরে একটি গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে ১৫ জন আহত হয়। এ নিয়ে গত ১৯ দিনে জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানে প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, গতকাল শুক্রবার ইসলামাদের ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে কামরা শহরে অবস্থিত পাকিস্তান অ্যারোনোটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি)-এর কাছে আত্মঘাতীবোমা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় নিহত আটজনের মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর দুজন সদস্য রয়েছেন। বাকিরা বেসামরিক নাগরিক।
বিমানবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, কামরায় বিমানঘাটির কাছের তল্লাশি চৌকিতে আত্মঘাতী হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে বিমানবাহিনীর ১৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং দুজন মারা গেছেন।
মোহমান্দে সোরান্দারা এলাকায় একটি বরযাত্রীবাহী মিনিবাসে ট্যাংক বিধ্বংসী মাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ১৫ জন নিহত হয়। স্থানীয়প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাকসুদ খান জানান, বিস্ফোরণেনিহতদের বেশির ভাগই নারীও শিশু।
এদিকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেশোয়ারের হায়াতাবাদ জেলায় চালানো গাড়িবোমা হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ফজল-ই-আমিন বলেন, হায়াতাবাদের একটি রেস্তোরাঁর গাড়ি রাখার স্থানে ওই গাড়ি বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে রেস্তোরাঁটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এসব হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার না করলেও কর্তৃপক্ষের ধারণা, আল-কায়েদা ও তালেবান জঙ্গিরাই এসব হামলার সঙ্গে জড়িত।

মার্কিন সিনেটে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সহায়তা বিল অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ পাকিস্তানের জন্য সামরিক সহায়তা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট। এই প্রস্তাবে সহায়তা ছাড়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং শুধু সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেই এই সহায়তা ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সিনেটে গতকাল শুক্রবার ৬৮-২৯ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। ‘ডিফেন্স অথরাইজেশন বিল’ শীর্ষক প্রস্তাবটিতে ২০১০ সালে পাকিস্তানের জন্য ৬৮ হাজার ডলারের সামরিক সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ২৮১-১৪৬ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।
নতুন এই প্রস্তাবে শর্ত রাখা হয়েছে, পাকিস্তানে পাঠানো সামরিক সরঞ্জামগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে, সে দিকে লক্ষ রাখা হবে। এসব সহায়তা প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া নতুন এই প্রস্তাবের অধীনে দেওয়া সহায়তা আল-কায়েদা, তালেবান ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম বাড়াচ্ছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনকে। পাকিস্তানের জন্য পাঠানো এ সহায়তা যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না করে, তা নিশ্চিত করতেই এসব কঠোর শর্তের প্রস্তাব করেন সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজ ও বব ক্রোকার। তাঁদের ওই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট। এখন থেকে নতুন এসব শর্তের আওতায় ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বরাদ্দ ১৬০ কোটি ডলারের তহবিল থেকে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সহায়তা ছাড় করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
ডেমোক্র্যাটদলীয় সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজ বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই লড়াই (সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ) প্রয়োজন। তবে আমাদের একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, এই যুদ্ধ-সহায়তা যেন অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়।’ রিপাবলিকানদলীয় সিনেটর বব ক্রোকার বলেন, ‘সহিংস চরমপন্থীদের নির্মূল করার জন্য পাকিস্তানকে উদ্যোগী হতে হবে। নিজের দেশের সীমানার মধ্যে অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার ব্যাপারে পাকিস্তানের চলমান উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’
তবে এ ধরনের কঠোর শর্ত আরোপ করার বিষয়টি পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ খুব একটা ভালোভাবে নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদে সাড়ে ৭০০ কোটি ডলারের আরেকটি সহায়তা প্যাকেজে আরোপিত শর্তগুলো নিয়ে আপত্তি তোলে সে দেশের সরকার। পাকিস্তানের বক্তব্য, এসব সহায়তা প্যাকেজের শর্তের মাধ্যমে তাদের দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে মার্কিন প্রশাসন।

সাম্প্রাস-আগাসি আবার

এখন ফেদেরার-নাদাল যেমন, টেনিসে একসময় তেমনি দারুণ জমেছিল সাম্প্রাস-আগাসি দ্বৈরথ। পিট সাম্প্রাস অবসর নিয়েছেন ২০০২ সালে, চার বছর পর আন্দ্রে আগাসি। তবে এখনো এই দুজনের দ্বৈরথ অনেকের স্মৃতিতেই উজ্জ্বল। তাঁদের জন্য আনন্দের সংবাদ, আগামীকাল ম্যাকাওতে এক প্রদর্শনী ম্যাচে মুখোমুখি হবেন এই দুজন।
১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ৩৪টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলেন। এর ৫টি ছিল গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল। এই দ্বৈরথে অবশ্য সাম্প্রাসেরই আধিপত্য ছিল।

স্বপ্ন পূরণ হবে কুমিল্লার by গাজীউল হক

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এনামুল হকের আক্ষেপ, ‘কুমিল্লায় ক্রিকেট লিগ হয় নকআউট পদ্ধতিতে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়মিত ক্রিকেটের আয়োজন না করায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট চর্চা নেই। আশা করি, বিসিবির নতুন সভাপতি এ অচলায়তন দূর করে কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনে গতি আনবেন।’ যে শহরের ক্রিকেট আবহে কেটেছে শৈশব-কৈশোর, সেটার জন্য এটুকু কামনা তিনি করতেই পারেন। কিন্তু এনামুলের আশা কি পূরণ হবে?
গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল সংবর্ধনা পেলেন তাঁর নিজ জেলার বাসিন্দাদের কাছ থেকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘যুদ্ধজয়’ এলাকা থেকে বিশাল এক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে স্টেডিয়ামে আসেন তিনি। তাঁকে বরণ করে নিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন। বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল অভ্যর্থনা পান মোস্তফা কামাল। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ জামিল বাবু, জেলার পুলিশ সুপার মো. শফিকুর রহমান প্রমুখ।
কিন্তু সংবর্ধনার ফুল শুকিয়ে যাওয়ার আগেই কি বিসিবির নতুন সভাপতি কুমিল্লার স্থবির ক্রীড়াঙ্গনকে জাগিয়ে তুলতে কার্যকর কিছু করার কথা ভাবতে পারেন না? বিসিবি সভাপতি অবশ্য বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেলেন কুমিল্লাবাসীকে। জানালেন, ‘বিসিবির অর্থায়নে মাঠ বানানো হবে কুমিল্লায়। আয়োজন করা হবে আন্তর্জাতিক মানের প্রদর্শনী ম্যাচ। স্থানীয় ক্রিকেটারদের দেওয়া হবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।’
এনামুল হক মনির মতো আরও অনেক মানুষই আশায় আছেন, এই প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকবে না। কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গন ফিরে পাবে প্রাণ। বিসিবির সাবেক নির্বাহী সদস্য বদরুল হুদা যেমন বললেন, ‘কুমিল্লার ক্রিকেটের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিসিবির সভাপতি পথ তৈরি করে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তিনিই পারেন অবকাঠামোগত সুবিধাসহ আমাদের একটি ভালো মাঠ উপহার দিতে।’
১৯৩৩ সালে গঠিত হয় কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ১৯৭৪ সালে প্রথম জাতীয় ক্রিকেটে শিরোপা জেতে কুমিল্লা। ১৯৯২ সালে জাতীয় নির্মাণ স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা জিলা স্কুল। জাতীয় পর্যায়ে এ রকম সাফল্য এসেছে আরও অনেক। কিন্তু কুমিল্লার ক্রিকেটে হঠাত্ করেই যেন ভাটার টান! জাতীয় পর্যায়ে দূরের কথা, জেলার খেলাও নিয়মিত হয় না এখন।
জেলা আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার ফয়সল বারী মজুমদারের প্রশ্নটা যৌক্তিক, ‘বগুড়ার চেয়েও কুমিল্লার ক্রিকেটের ইতিহাস উজ্জ্বল। বগুড়ায় যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হতে পারে, তাহলে কুমিল্লায় তো আরও আগে হওয়া উচিত। আশা করি, বিসিবির সভাপতি কুমিল্লার খেলাধুলায় বিশেষ করে ক্রিকেটকে নতুন জীবন দেবেন। কুমিল্লা একটা ভালো ভেন্যু হবে।’ আর এসব দাবির সারমর্মই যেন তুলে ধরলেন দুই দশকের বেশি সময় ধরে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা ইউসুফ জামিল বাবু, ‘উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষণা, ভালো স্পনসর, অবকাঠামোগত উন্নয়নই আমাদের দাবি।’
কিন্তু এটাও তো ঠিক, স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে জাগাতে জাদুর কাঠি হাতে এগিয়ে আসবেন না কোনো জাদুকর! নতুন স্বপ্নে জেগে উঠতে হবে নিজেদেরই। তবে বিসিবির সভাপতি হওয়ার পর মোস্তফা কামাল অবশ্যই একটা ভূমিকা রাখতে পারেন।

ভারতের প্রতি আকরামের কৃতজ্ঞতা

চেন্নাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই ওয়াসিম আকরামের। ১৯৯৯ সালে এই চেন্নাইয়েই ভারতকে উত্তেজনাপূর্ণ টেস্টে হারানোর পর পরাজয়ের দুঃখ ভুলে স্বাগতিক দর্শকদের কাছ থেকে স্মরণীয় অভিবাদন পেয়েছিলেন তখনকার পাকিস্তান অধিনায়ক। দশ বছর পর চেন্নাই আবারও কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করল ওয়াসিমকে। এখানকার হাসপাতালে চিকিত্সা চলছে তাঁর স্ত্রী হুমার। জীবন সংকটাপন্ন স্ত্রীর জন্য বিশ্ববাসী, বিশেষ করে ভারতের সবার শুভকামনায় মুগ্ধ আকরাম বলছেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব জায়গা থেকে, বিশেষ করে ভারতের মানুষের কাছ থেকে আমার স্ত্রীর প্রতি যে সমবেদনা আমি পেয়েছি, সেটি আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে।’
ব্রেন টিউমারের চিকিত্সা চলছিল হুমার। পরিস্থিতি অবনতি হলে উন্নত চিকিত্সার জন্য লাহোর থেকে বিমানে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সিঙ্গাপুরে। মাঝখানে জ্বালানি নিতে চেন্নাইয়ে থেমেছিল বিমান। তখন হুমার পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয় যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের চিকিত্সকেরা তাঁকে তাত্ক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। পরে আকরাম তাঁকে ভর্তি করান চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে। গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর চিকিত্সকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় হুমার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও বিপদ এখনো কাটেনি।
হুমাকে বিমানবন্দর থেকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া ভারত সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞ আকরাম, ‘ঈশ্বর অনেক মহান। ভালো খবরটি হলো, হুমার পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল আছে। ওকে এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিত্সকেরা। আমাদের ভারতে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই এখানকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে, যারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে হুমার চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছে।’

ফেরার অঙ্গীকার মিসবাহর

টেস্ট-ওয়ানডেতে ধারাবাহিকতার অভাব। যে টি-টোয়েন্টি দিয়ে তাঁর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, সেখানেও নেই ঝলকানো কোনো ইনিংস। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকেই বাদ পড়লেন মিসবাহ-উল হক। পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান অবশ্য বাদ পড়ার জুতসই কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে জানাচ্ছেন, এখন তাঁর লড়াই আবারও জাতীয় দলে ফেরার।
এই ৩৬ বছর বয়সের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আবারও জায়গা ফিরে পাওয়ার কাজটা তাঁর জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছেন অনেকেই। যদিও সনাত্ জয়াসুরিয়াকে আদর্শ মানা মিসবাহ জানাচ্ছেন, ‘আমি মনে করি না ভালো খেলার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা। ৪০ বছর বয়সেও দাপটের সঙ্গেই খেলে যাচ্ছেন সনাত্ জয়াসুরিয়া। আমিও ফিট আছি এবং তা ধরে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই চালিয়ে যাব। যত দিন কেউ ফিট আছে, তত দিন সে যেকোনো পর্যায়েই খেলা চালিয়ে যেতে পারে।’
শুধু মুখে নয়, দলে ফেরার এই প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি তাঁর ব্যাটেও। যেদিন পাকিস্তানের টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—তিন ধরনের থেকেই বাদ পড়েছেন, সেদিনই কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে খেলেছেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। লাহোর শালিমারের বিপক্ষে সুই নর্দান গ্যাস পাইপলাইন লিমিটেডের হয়ে করেছেন অপরাজিত সেঞ্চুরি। ১০৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপর্যয়ে, তখনই উইকেটে এসে ২০৬ বলে খেলেন ১৫৩ রানের সেই ইনিংস, যাতে আছে মিসবাহ-সুলভ ২৫টি চার।
এমন ইনিংস খেলার পরপর জাতীয় দলে বাদ পড়াটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারতেন। সরাসরি মুখে কিছু না বললেও পরোক্ষে জানিয়ে দিয়েছেন, সিদ্ধান্তটা মনঃপূত হয়নি তাঁর, ‘নির্বাচকদের সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা নেই। তাঁরা যেটি সঠিক মনে করেছেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি শুধু এখন আমার সেরা চেষ্টাটাই করে যেতে পারি। আমি সত্যিই হতাশ। কেন তাঁরা আমাকে কোনো দলের জন্য বিবেচনা করেননি, সেটা আমি জানি না। কারণ আমি ফর্মে আছি এবং আজই (পরশু) কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে ১৫৩ রান করেছি।’
টেস্টে ২০০১ আর ওয়ানডেতে পরের বছর অভিষেক হলেও ক্রিকেট বিশ্ব তাঁকে চিনেছে ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তখন থেকেই পাকিস্তানের জাতীয় দলে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলেন। এর পর বাদ পড়া এই প্রথম। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তাঁর ফর্ম নিয়ে সমালোচনা হলেও মিসবাহ মনে করেন না, তাঁর ফর্মটা খুব খারাপ ছিল, ‘আমার পারফরম্যান্সটা সন্তোষজনক ছিল। যদি তাকিয়ে দেখেন, দেখবেন টুর্নামেন্টে অন্য ব্যাটসম্যানরাও ফর্মের জন্য লড়াই করেছে। আমিও এর বাইরে ছিলাম না।’
নির্বাচকেরা অবশ্য জানিয়েছেন, এমন নয়, চিরতরে দরজা বন্ধ হয়ে গেল তাঁর জন্য। আর আশাবাদী মিসবাহ জানাচ্ছেন, সেই দরজায় তিনি কড়া নাড়বেন শিগগিরই।

১ রানে জিতল অনূর্ধ্ব-১৯

শেষ ওভারে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান। শেষ বলে তা দাঁড়ায় ৩ রানে। কিন্তু বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার আবুল হোসেন ড্যানি ব্রিগসকে ১ রানের বেশি নিতে দেননি। প্রথম এক দিনের ম্যাচে ইংল্যান্ড যুবদলকে শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ১ রানে হারিয়ে দিয়েছে মাহমুদুল হাসানের দল।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে তুলেছিল ২১২ রান। জবাবে ৯ উইকেটে ২১১ রান তুলতে পারে সফরকারীরা।
শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ২৯ রানে ওপেনার অমিত মজুমদারকে হারিয়ে শুরু। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা যুবদলের স্কোর একপর্যায়ে দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১২৯ রান। ওখান থেকেই দলকে ভদ্রস্থ রানে নিয়ে যান দুই টেল এন্ডার নূর হোসেন ও আবুল হোসেন। শেষ ৩ উইকেটে বাংলাদেশের যুবদল তোলে ৮৩ রান। যার মধ্যে নবম উইকেটে নূর হোসেন ও আবুল হোসেনের অবদান ৫৬। আর শেষ ৫ ওভারে উঠেছে ৫২ রান। ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হওয়ার আগে নূর হোসেন করেন ২৭ বলে ৩৪ রান (২টি চার ও ১টি ছক্কা)। ১৭ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন নূর হোসেন।
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শুরুটাও হয়েছিল স্বাগতিকদের মতোই। জো রুট করেন সর্বোচ্চ ৫৪ রান। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে জেতানোর মূল কৃতিত্ব অবশ্য শাকের আহমেদের। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে এই স্পিনারই হয়েছেন ম্যাচ-সেরা। ৭ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পরের ম্যাচটি ফতুল্লায় আগামী ২৬ অক্টোবর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল: ২১২/৯ (নূর হোসেন ৩৪, আবুল হাসান ৩২*, মমিনুল ৩১, মাহমুদুল ৩১; নাথান বাক ৩/৩৮, আজিম রফিক ৩/১৮, ম্যাথু ডান ১/৩২)।
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ২১১/৯ (জো রুট ৫৪, বেন স্টকস ৪৫; শাকের ১০-০-৪৩-৪, মাহমুদুল ৭-০-৩৭-১, আবুল হাসান ৬-১-২৫-১, সাব্বির ১০-০-৩৯-১, নূর হোসেন ১০-০-৩২-১)।

এসএ গেমস সাঁতারে পুরোনো স্কোরবোর্ড!

১৬ বছর আগের অকেজো ইলেকট্রনিক বোর্ড আবার মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু মিরপুর সুইমিং পুলের ইলেকট্রনিক বোর্ডটা মাঝখানে কয়েকবার সচল করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থই হয়েছে। দু-একদিন সচল থাকলেও ওটা ফিরে গেছে আগের চেহারায়।
এটিকে বাতিলের খাতায় ফেলে আসন্ন এসএ গেমসের জন্য নতুন ইলেকট্রনিক বোর্ড আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গিয়েছিল অনেক দূর। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গত পরশু এসএ গেমসের স্টিয়ারিং কমিটির সভায়। বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে ‘মেরামত-তত্ত্ব’। পুরোনোটিই এখন মেরামত করা হবে!
স্টিয়ারিং কমিটির সভায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আবদুর রহমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে বলেছেন, পুরোনো বোর্ডের একটি লেন নিয়ে সমস্যা আছে। বাকি সবই ঠিক। কাজেই ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করলে এটা সারিয়ে তোলা সম্ভব। মন্ত্রী তখনই মত দেন, নতুন আনার দরকার নেই। পুরোনোটাই সারিয়ে তোলা হোক। সভাসূত্রের খবর, মন্ত্রী বলেছেন, নতুন বোর্ড আনতে অনেক টাকা দরকার। সেই টাকা নাকি সরকারের নেই!
গেমসের জন্য ব্যয় হবে প্রায় দুই শ কোটি টাকা। অথচ যে ইভেন্টে বাংলাদেশের সোনা জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল, সেই সাঁতারই ‘টাকার অভাবে’ নতুন ইলেকট্রনিক বোর্ড পাচ্ছে না। মিরপুর সাঁতার কমপ্লেক্সের বর্তমান বোর্ডটি বিশ্বখ্যাত ওমেগা কোম্পানির। নতুনটি ছিল এএলজি, আনার কথা ছিল চীন থেকে। সেটির জন্য বরাদ্দ ছিল দেড় কোটি টাকার মতো। বর্তমানে ওমেগার মূল্য ৫ কোটি টাকা, সেটা দূরে থাক, এখন দেড় কোটির বোর্ডও পাওয়া যাচ্ছে না!
কেন হঠাত্ করেই ইলেকট্রনিক বোর্ড আনার সিদ্ধান্ত বাতিল হলো? বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সিইও কর্নেল (অব.) ওয়ালি উল্লাহ বলছেন, ‘ওমেগা আনতে হবে এমন কথা নেই। তবে অন্য কোম্পানির বোর্ড আনলে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে সমস্যা হতে পারে। তখন ফিনার অনুমোদনেরও ব্যাপার থাকতে পারে। যা-ই হোক, এখন এনএসসি বলছে, এটা মেরামত করা যাবে। সে জন্যই আগের পরিকল্পনা বাদ।’
নতুন না পুরোনো—এই সিদ্ধান্ত কি আরও আগেই নেওয়া যেত না? শেষ মুহূর্তে কেন এই ভজকট? সাঁতার ফেডারেশন সদস্য ও কোচ আমিরুল ইসলাম বলছেন, ‘এটা তো আমাদেরও প্রশ্ন। ২০০৬ সাল থেকেই সাঁতার ফেডারেশন ওমেগা আনার জন্য বলে আসছে এনএসসিকে। অনেক চিঠিপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এনএসসি দেড় কোটি টাকা মূল্যের এএলজি আনার জন্য দরপত্র ডাকে। এখন শুনছি, পুরোনোটাই মেরামত করা হবে। নতুন দিলে দেশের জন্যই ভালো হতো।’
নতুন বোর্ড আনা হচ্ছে না জেনে সাঁতারুরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। জুয়েল আহমেদ বললেন, ‘ইন্দো-বাংলা গেমসের সময়ও এটা ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এই বোর্ড টাইমিং ঠিকমতো ধরতে পারেনি। কাজেই এটা দিয়ে কাজের কাজ কিছু হবে না। বিদেশিদের সামনে মানসম্মান হারাতে হবে।’ গত এসএ গেমসে সোনাজয়ী শাহজাহান আলী রনি দুঃখ পেয়েছেন সরকারের এমন মানসিকতায়, ‘সাঁতারে এক সেকেন্ডের এক শ ভাগ ভাগও অনেক সূক্ষ্মভাবে ধরতে হয়। আধুনিক বোর্ড ছাড়া এটা সম্ভবই নয়। পুরোনো বোর্ড দিয়ে কাজ চালালে বিরাট সমস্যা হবে। এটা সাঁতারের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। আশায় ছিলাম, নতুন বোর্ড পাব, এখন তো শুনছি উল্টোটা।’
জুয়েলের আশঙ্কা গোটা সাঁতার অঙ্গনেরই আশঙ্কা। প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে, আর এসএ গেমস হবে কি না ১৬ বছর আগের ইলেকট্রনিক বোর্ডে! ঘরোয়া প্রতিযোগিতার সময়ই যে বোর্ড সচল করা যায় না, মেরামত করলে সঙ্গে সঙ্গেই বিকল হয়ে যায়, সেই বোর্ডেই কি না এসএ গেমস!

শুরুটা করে দিলেন ফয়সাল by আরিফ রনি

ছবিটাকে প্রতীকী বলতে পারেন। বিসিবি একাদশকে
জিম্বাবুয়ের নাগালের বাইরে নিয়ে গেলেন ফয়সাল হোসেন
খেলা শেষে সোজা ড্রেসিংরুমে ফিরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে গেল গোটা জিম্বাবুয়ে দল। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ফেবারিট মেনেই নিয়েছে তারা, তাই বলে বিসিবি একাদশের কাছে এমন পরাজয়! তাই শুরু হয়ে গেল পারফরম্যান্সের কাটাছেঁড়া। প্রতিক্রিয়া জানার জন্যও কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ড্রেসিংরুমে ঢুকতে খানিকটা দেরি করে ফেলা অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলকেই পাকড়াও করতে হলো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার জন্য, ‘আসলে এই উইকেটে ২৭০-৮০ রান হতো ভালো স্কোর। এই রান নিয়েও যে ছেলেরা জেতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল, এটা একটা ইতিবাচক দিক।’
জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচকের কথাতেই পরিষ্কার ফুটে উঠছে ম্যাচের ছবিটা। ফতুল্লার ব্যাটিং উইকেটে টস-ভাগ্য সহায় ছিল প্রসপার উতসেয়ার। কিন্তু বিসিবি একাদশের পেসারদের দাপটে (ভুল পড়েননি, স্পিনার নয়, পেসারদের দাপটেই) ব্যাটসম্যানে ঠাসা জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে গেল মাত্র ২০৬ রানে। তবে এমন উইকেটেও এবং এই রান নিয়েও হান্নান সরকারের দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ফয়সাল হোসেন ও সগীর হোসেনের ৮৫ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত জয়টা এসেছে ৩১ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই।
প্রস্তুতি ম্যাচের উদ্দেশ্য সাধারণত বিদেশি দলগুলোর জন্য সাধারণত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া আর স্বাগতিক দলের জন্য ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের লড়াই। জিম্বাবুয়ের উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে এটা বলা মুশকিল, তবে সফল বিসিবি একাদশের বেশ কয়েকজন। ৩টি করে উইকেট নিয়ে কালকের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক দুই পেসার তারেক আজিজ ও তালহা জুবায়ের। আর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অপরাজিত ৮১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে জয়ের মূল নায়ক ফয়সাল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল নাটকীয়। তারেক আজিজের করা ইনিংসের প্রথম বলেই এলবিডব্লুর জোরালো এক আবেদন থেকে বেঁচে যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। দারুণ এক কভার ড্রাইভে চার মেরে জবাবটা পরের বলেই দিয়ে দেন ইন-ফর্ম এই ব্যাটসম্যান। চতুর্থ বলে একটি সিঙ্গেল নিতে গিয়ে বেঁচে যান রানআউটের হাত থেকে। দলীয় ৩৬ রানে প্রথম আউটও এই মাসাকাদজাই।
মুতিজাওয়াকে আউট করে দিনের দ্বিতীয় উইকেটটিও তালহার। এর পর ওয়ানডে দল থেকে সদ্য বাদ পড়া মাহবুবুল চিবাবাকে আউট করে ৩ উইকেটে ৭৭ বানিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের স্কোর। এর পরই টাইবু ও টেলরের ৫১ রানের জুটি। টেলর ৩৬ রানে ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আঁকড়ে ছিলেন টাইবু। ৪০তম ওভারের শুরুতে জিম্বাবুয়ে ৬ উইকেটে ১৯৩—আড়াই শ-টাড়াই শ তখন খুবই সম্ভব বলে মনে হচ্ছে। তবে ১৫ বলের এক ঝড়ে আর মাত্র ১৩ রানেই ইনিংস শেষ করে দিয়েছে স্বাগতিক দল। নয় বলে ৩ উইকেট নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের নায়ক তারেক।
সেই আনন্দ বিসিবি একাদশের ইনিংসের শুরুতে প্রায় উধাও হয়ে যেতে বসেছিল। ৫৩ রানে নেই ৪ উইকেট। ইমরুল, নাফিস ও শামসুর উইকেট উপহার দিয়ে এলেন চিবাবার স্লো মিডিয়ামে, অধিনায়ক হান্নান সরকার প্রথম বলেই এলবিডব্লু। ১২২ রানে ৬ উইকেট পরে যাওয়ার পর ফয়সাল ও সগীরের ওই জুটি। শুরুতে দুজনেই খেলেছেন দেখেশুনে। পাল্টা আক্রমণটা প্রথম চালান সগীর, পরে যোগ দেন বাঁহাতি ফয়সালও। ক্রেমারকে মারা ফয়সালের একটি ছয় আছড়ে পড়ে গ্যালারিতে। মাঠে উপস্থিত হাজার দুয়েক দর্শককে উল্লাসে ভাসিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় ফয়সালের চেহারায় ছিল স্বস্তি, কিন্তু কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ, ‘আরে, আমরা তো বুড়া হয়ে গেছি।’
একই আক্ষেপ কি তালহা-তারেকদেরও আছে?