Thursday, November 14, 2013
প্রত্যাখ্যানই কি প্রস্তাবের অমোঘ নিয়তি? by অরবিন্দ রায়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির আগমন ও নির্গমন বিষয়ে পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই। লেখার খাতিরে তত্ত্বাবধায়ক কথাটি যে কয়বার আসে তা বাদে এ নিয়ে কোনো জ্ঞানগর্ভ বয়ানের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কেননা ভাবসাবে বোঝা যাচ্ছে, এ পদ্ধতির সরকার অতীতে দেখা দিলেও বর্তমানে দেখা দেয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তবে আসন্ন সংসদ নির্বাচন সর্বদলীয় সরকারের অধীনে সম্পন্নের যে প্রস্তাব সরকারের তরফ থেকে এসেছে, আমার মনে হয় সরকারি দলের এ প্রস্তাব বিরোধী দল রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূত্র মতে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরীক্ষা শুরুর কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরও বিরোধী দলের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি হতাশ না করিয়ে ছাড়ে না। কেবল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়াই নয়। পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়ার সবুজ সংকেত পাওয়ার পরও পরীক্ষা হলের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি অনভিপ্রেত। ক্লাসের বর্তমান ফার্স্ট বয় নকল করবে কিংবা করতে পারে এই আশংকায় যদি সেকেন্ড বয় পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়- এ ঘটনা যে কারও মনে বিস্ময় না জাগিয়ে পারে না। কাজেই সরকারি দলের সর্বদলীয়ের এ প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক সংস্কৃতির ফের না বলে অপসংস্কৃতি বলাই উত্তম। অপসংস্কৃতি বলতে এটাকেই বোঝানো হচ্ছে যে, একদল কোনো প্রস্তাব রাখলে তা যত ভালোই হোক অন্যদল তা অবধারিত প্রত্যাখ্যান করবে। এখানে প্রত্যাখ্যানই যেন কোনো প্রস্তাবের অমোঘ নিয়তি। বলা যায়, উভয়ের কাছে উভয়ের রাখা যে কোনো প্রস্তাব এখন কার্যকরী অর্থে ফুটবলে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ একজন গোল করার জন্য বল একদিকে কিক করার সঙ্গে সঙ্গে অন্য দল ঠিক উল্টো দিকে কিক করবে। অপসংস্কৃতির মাত্রা এখন এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে, একপক্ষ সূর্য পূর্বদিকে ওঠার কথা বললেও অন্য পক্ষ সেটি মানতে নারাজ। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেটি মানাতে বাধ্য করানো হয়। তাও সেটি মানানো হয় দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে। মাত্রাতিরিক্ত বৈরী মনোভাবই রাজনৈতিক এ দীনতা সৃষ্টির কারণ বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। তাই নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সরকারের অভ্যন্তরে থাকা দলীয় লোকজনকে প্রায় সময়েই একটি কথা বলতে শোনা যায়, তারা কারও হুমকি-ধামকিকে পরোয়া করে না। অথচ নির্বাচনী বৈতরণী পার না করেই দেশের প্রায় অর্ধেক ক্ষমতা বিরোধী দলের হাতে তুলে দেয়ার প্রস্তাবটি তাদের সেই বড় গলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়। সম্পর্ক যেখানে এ রকম, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনি’, সেখানে কোনো রকম সংলাপ-সংঘাত ছাড়াই নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে বিরোধী দলকে প্রায় অর্ধেক ক্ষমতার শরিক বানানোর প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি সরকারের নতজানু মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। বিরোধী শিবিরের প্রতি এ নমনীয়তা সময়মতো তাদের ধরাশায়ী করলে তাতে আশ্চর্য হওয়ার গরজ কেউ দেখাবে না। কারণ সরকারের তরফ থেকে উপহার পাওয়া ক্ষমতার অংশীদারিত্ব এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিপুল জনরায়কে পুঁজি করে নির্বাচনে অংশ নিলে মনে হয় না এ যাত্রায় তাদের কেউ ঠেকাতে পারবে। কাজেই এই সুবর্ণ সুযোগ পাওয়ার পরও নির্বাচনে অংশ না নেয়ার বিষয়টি বিপুল জনরায়কে বিব্রত করার শামিল।
সর্বদলীয় সরকার গঠনে উভয় দলের পাঁচজন করে দশজন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি সেই সরকারের প্রধান থাকেনও তারপরও যে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষুণœ হবে, তা ভাবার অবকাশ নেই। কারণ সর্বদলীয় সরকার গঠন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রশাসন দলীয় সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে পড়বে। অর্থাৎ প্রশাসনিক অবকাঠামো দলকানা রোগ থেকে মুক্তি পাবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনে নতুন বলয়ের সৃষ্টি হবে। নতুন বলয়টির কারও অনৈতিক আবদার পূরণ না করার সম্ভাবনাই বেশি। উপরন্তু বর্তমান সরকারের বাধ্যানুগত কর্মকর্তা-কর্মচারীর চেয়ে ক্ষোভের আগুনে অঙ্গার হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যাই বেশি বলে ধারণা। কারণ তাড়িয়ে ফেরা চিতার চেয়ে নিরীহ মেষের সংখ্যা বরাবরই বেশি থাকে। কাজেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের প্রধান থাকলেও পুরনো প্রভাব বলয় কতটা কার্যকর রাখতে পারবেন এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা অমূলক নয়।
বিরোধী দলের পঞ্চশক্তি সরকারি দলের পঞ্চশক্তিকে নিষ্ক্রিয় করলে মাঠে থাকবেন কেবল শেখ হাসিনা। যার শরীরে রাজরক্ত বহমান। একজন রাজরক্তবাহী নারীর পক্ষে প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি কতটা বাস্তবসম্মত তা যথেষ্ট ভাবার বিষয়। বরং নিরপেক্ষতার স্টিকারবাহী একজন অপরীক্ষিত তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে এ ধরনের কুটিল প্রস্তাব আসার আশংকা হেসে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাছাড়া অবাধ মিডিয়ার যুগে একজন নারীর পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল উল্টে দেয়ার কাজটি হিমালয় পর্বতকে তর্জনীর ডগায় নিয়ে ঘূর্ণি খেলার মতোই অসম্ভব। কেননা আসন্ন ২০১৪ সালটি ১৯৮৬-এর এক টিভি চ্যানেলীয় সাল নয়। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী ফলাফলের মতো বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল যখন বাঁধভাঙা জোয়ারের পানির মতো এসে পড়া শুরু হবে, তখন প্রশাসনে পুরনো তল্পিবাহী কেউ থাকলেও সে যেদিকে বৃষ্টি সেদিকেই ছাতা ধরা শুরু করবে। এ পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়কের জন্য আন্দোলন চালিয়ে জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করি না। তাছাড়া দিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের মনে অনৈতিক চাহিদার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান সেই সুশীল বাবুটি কুশীল হতে কতক্ষণ? সুযোগ ও পরিমাণের ব্যাট-বলে সংযোগ ঘটানোর জন্য তিনি যে শিংয়ে তেল মেখে কোরবানির হাটে উঠবেন না এ নিশ্চয়তা কে দেবে। কাজেই সরকারি দলের দেয়া সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি বিরোধী দলের জন্য আত্মঘাতী বলেই মনে হয়।
অরবিন্দ রায় : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি পরিচালক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিপন্ন দেশবাসীকেই প্রতিরোধ গড়তে হবে by একেএম শাহ নাওয়াজ

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না কেউ সাহায্যের হাত বাড়াবে। ক্ষমতালোভী ও সন্ত্রাসী মানসিকতার রাজনীতিকরা হরতাল ডাকবেনই। গাড়ি, ঘোড়া ভাংচুুর করবেন, পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালাবেন উৎসাহের সঙ্গে; নিরীহ শিশু, তরুণ অটোরিকশাচালক, পৌঢ় ট্রাক ড্রাইভার পুড়ে মরবে। ব্যবসা লাটে উঠবে। দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সূচক নিুমুখী হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ পথে বসবে। বাজারে ক্রমে আগুনের উত্তাপ বাড়বে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থবির হয়ে পড়বে শিক্ষা, পরীক্ষা। এসবের বিনিময়ে ক্ষমতা প্রত্যাশী বিরোধী রাজনীতিকরা মসনদের পথ পরিষ্কার করবেন। পাশাপাশি প্রতারণামূলক নানা শব্দে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের মতো প্রগলভ ব্যক্তিরা যন্ত্রের পুতুল হয়ে ক্যামেরার সামনে নিরলস কথা বলতেই থাকবেন। ডাক দিয়ে যেতেই থাকবেন ‘শান্তিপূর্ণ’ হরতালের। অতঃপর হরতাল শেষে ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে’ হরতাল পালন করার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানাবেন। হরতালে বিপন্ন দেশবাসীকে এসব ভয়ংকর প্রলাপ শুনে যেতেই হবে।
অসহায় মানুষকে নিয়ে এভাবে আগুনে খেলা খেলে যাচ্ছেন আমাদের রাজনীতিকরা। ক্ষমতা কেন্দ্রে পৌঁছার জন্য বা রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য বিরোধী দল জনগণের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বা গুলি করে দুর্বল করতে চায় সরকারকে। সরকার পক্ষের রাজনীতিকরাও কখনও কখনও সঙ্গোপনে ইন্ধন জোগান বিরোধী পক্ষকে। অথবা বলা যায় ফাঁদ পাতেন। আর সে ফাঁদে পা দিয়ে হরতালের পর হরতাল চাপিয়ে দিতে থাকেন জনগণের ঘাড়ে। কারণ সরকারি হিসেবে এতে জনসমর্থন কমবে বিরোধী পক্ষের। অর্থাৎ দু’পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য শেষ পর্যন্ত জনগণেরই কলজে খুবলে খান। হরতালের রাজনৈতিক সৌন্দর্য হারিয়ে যখন তা জীবন ও সম্পদ সংহারি সন্ত্রাসে রূপান্তরিত হয়েছে, তখন তা থেকে জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব রাজনীতিকদেরই। আর যখন রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার রেসে ছোটা বিরোধী দল হরতাল চর্চা করেন তখন এ ধারার হরতালের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হওয়ার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমরা তেমন প্রতিক্রিয়া দৈবাৎও দেখি না। সরকারের তো কর্তব্যই দেশবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। বিশেষ করে এবার আওয়ামী লীগ সরকার যদি নিজেদের গণমুখী সরকার মনে করত, তা হলে সংসদে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে সহজেই হরতালের বিরুদ্ধে আইন পাস করতে পারত। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছরেও সে পথে হাঁটেনি সরকার। অনাচার করার সুযোগ দিয়েছে জামায়াত ও বিএনপিকে। কারণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বও জানেন, তারা যখন ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ে বিরোধী দলের আসনে বসবেন তখন তাদেরও দরকার পড়বে হরতাল অস্ত্রের। কারণ সরকারকে বিব্রত ও দুর্বল করতে জনগণের বুকে অস্ত্র ঠেকানোর মজাটাই আলাদা। জেনে বুঝে সে সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চায় না। তাই এ বীভৎস ধারার হরতাল বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার।
এখন দিনকে দিন হরতালের চেহারা অনেক বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠছে। অতীতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দায়িত্বহীন অনেক হরতাল করেছে। হরতালের নামে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। জীবন সংহারও হয়েছে। তবে সাম্প্র্রতিক সময়ের বিএনপি-জামায়াতের হরতাল সব সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে। টানা হরতালের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। হরতালের আগের দিন থেকে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ খুন করে আর মুড়ি মুড়কির মতো ককটেল ফুটিয়ে পেট্রল বোমা ছুড়ে সৃষ্টি করা হচ্ছে চরম অরাজকতা আর ভীতিকর পরিবেশ। হরতালের দিনগুলোতেও ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনা বাড়ছে। রেললাইন উপড়ে ফেলা হচ্ছে। আগুন দেয়া হচ্ছে বগিতে। বাস ডিপোতে ঢুকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা বাস পুড়িয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করা হচ্ছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি করে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এভাবে হরতাল ডাকিয়েরা ভয়ংকর সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। অথচ এজন্য সামান্যতম অনুশোচনা তাদের আছে বলে মনে হয় না।
এমন সব অপকীর্তি করছেন আবার হরতাল ডাকার প্রেস ব্রিফিংয়ে কোনো রকম লাজ-লজ্জার বালাই না রেখে চরম অশান্তি সৃষ্টি করবেন জেনেও বিএনপির মুখপাত্ররা ‘শান্তিপূর্ণ’ হরতালের কথা বলে যাচ্ছেন। হরতালের আগের দিন কেন ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে সে ব্যাপারে কোনো শব্দ উচ্চারণ করছেন না। স্কুল-মাদ্রাসা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় বিঘœ ঘটিয়ে তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন হরতাল। অথচ একটিবারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন না। যেন যথেষ্ট ভোট দিয়ে ক্ষমতায় না বসানোর জন্য এটি জননেতাদের দেয়া জনগণের জন্য বিশেষ শাস্তি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অংক মিলিয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এবার তাও তছনছ করে ফেলা হচ্ছে। হরতালের আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছেন শিশু-যুবা-প্রৌঢ়। এ বিষয়ে টুঁ-শব্দটিও উচ্চারণ করছেন না তারা। এসব দেখে এ ধারার রাজনীতিকদের সুন্দরকান্তি অবয়বের আড়ালে দন্ত বের করা জান্তব চেহারাটাই স্পষ্ট হচ্ছে। তাই সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে এসব মানুষের হাতে গণতন্ত্র, জনগণের নিরাপত্তা, জনজীবন ও দেশের অর্থনীতি কীভাবে নিরাপদ থাকবে? রাজনীতির এসব নায়ক সরকার গঠন করলে জাতি কোন অন্ধকারে তলিয়ে যাবে!
প্রচারিত আছে, এবার বিএনপির ডাকা হরতালের সহিংসতার ধরন জামায়াতের ডাকা হরতালের জঙ্গি রূপের মতোই। বোমাবাজি, আগুনের ব্যবহার এবং হাসতে হাসতে মানুষ পুড়িয়ে মারা একাত্তরের জামায়াতেরই প্রতিরূপ। বিএনপি হরতালে জঙ্গিবাদী জামায়াত-শিবিরকেই ব্যবহার করছে বলে মানুষের ধারণা। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সব অপকীর্তির দায় নিতে হচ্ছে বিএনপিকেই। বাস্তব অবস্থাদৃষ্টিতে মানতেই হচ্ছে, নিজেদের রাজনৈতিক লাভ অর্জনের জন্য আমাদের রাজনীতিকরা দিন দিন আরও বড় সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। জনগণের জানমাল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিপর্যস্ত করে তুলবেন।
এসব কারণে দেশবাসীকে আজ নতুনভাবে বাস্তবতা উপলব্ধি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্ষমতাপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের হাতে এখন সাধারণ মানুষ জিম্মি। সরকারকে দুর্বল আর অস্থির করে তুলতে বিরোধী দল হাতে তুলে নিয়েছে হরতাল অস্ত্র। এতে যে দেশের মানুষের প্রত্যক্ষ ক্ষতি হচ্ছে তা এদের ছুঁয়ে যাচ্ছে না। তাই ৬০ ঘণ্টা হরতালের রেশ না কাটতেই ৭২ ঘণ্টার হরতাল চাপিয়ে দেয়া হল। আবার সরকার কেন বিএনপির জাতীয় নেতাদের গ্রেফতার করল তার দায়ও নিতে হল জনগণকে। ৭২ ঘণ্টার টানা হরতালকে আরেকটু টেনে চারদিন পূরণ করে দেয়া হল।
এখন বিএনপির অফিস যেন হয়ে গেছে মৃত্যুদূতের চেম্বার। সেখানকার নিরাপদ আশ্রয়ে বসে নানা চ্যানেলের টিভি ক্যামেরার সামনে হরতাল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিপন্ন মানুষ, সম্পদ আর দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার রায় ঘোষণা করে দেন নেতারা। এরপর মাঠে নেমে পড়েন যুক্তিবুদ্ধিহীন নির্বোধ দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। তারা পিকেটিং করেন। জীবন সংহার করেন স্বদেশী নিরপরাধ ভাইবোনের। গাড়ি, ঘোড়া ভাংচুর আর অগ্নিসংযোগ করেন। আবার পুলিশের লাঠিপেটা ও বুলেট হজম করতে হয় তাদেরই। অন্যদিকে সন্ধ্যায় বেশ তৃপ্তির সঙ্গে রাস্তায় না নামা নেতারা দলীয় কর্মীদের ওপর পুলিশ কতটা নির্যাতন করেছে- কজনকে গ্রেফতার করেছে, এসব ফিরিস্তি দিয়ে টিভির পর্দা গুলজার করেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিরোধী দলের প্রতি যদি সরকার অন্যায়ই করে থাকে তবে তার দায় জনগণকে নিতে হবে কেন?
এমন সব বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এমন বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষকেই প্রতিবাদী হতে হবে। নিজেদের টিকে থাকার জন্য, সন্তানের ভবিষ্যৎ পথযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ানো পাহাড় সরাতে এবং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়ার আগে ঘুরে দাঁড়াতে হবে দেশবাসীকেই। অপশক্তির ভয়ে ভীত হয়ে ঘরে বসে আত্মরক্ষার সময় নয় এটি। খড়ের গাদায় যখন আগুন লেগেছে তখন তা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়বেই। তাই সব ভীতি আর অবসাদ ঝেরে ফেলে দেশবাসীকেই নেমে আসতে হবে রাস্তায়। ধাওয়া দিয়ে হরতাল ডাকিয়ে আর নির্মম পিকেটারদের দিগন্ত রেখা পার করে দিতে হবে। জনরোষের বারুদ ওদের ককটেল বোমার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ইদানীং বিএনপি নেতারা খুব ‘গণঅভ্যুত্থান’ শব্দটি ব্যবহার করছেন। গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য না বুঝেই বোধহয় এমনটি বলেন তারা। দেয়ালে পিঠ ঠেকা দেশবাসীকেই বুঝিয়ে দিতে হবে গণঅভ্যুত্থান কাকে বলে।
ড. একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবতা লংঘনের রাজনীতির অবসান চাই by মাহমুদুল বাসার

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আগেও সংঘাত হয়েছে। এ সরকারের কাঠামো নিয়ে, প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে এমনকি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নিয়েও বিতর্ক, বাকযুদ্ধ, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও, অবরোধ হয়েছে। খুব সম্ভবত এ কথা সরাসরি বলার অবকাশ নেই যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেয়া হল না বলে বর্তমান সংঘাত লেগেছে। বরং এ কথা বলাই শ্রেয়, বড় দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হল না বলে দেশ রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হতে চলেছে। অতীতে দুই নেত্রীই যথেষ্ট হেনস্থা হয়েছেন, তারপরও তারা এক জায়গায় বসে নির্বাচনের ফর্মুলা তৈরি করতে পারলেন না। এই না পারার পরিণতি দেশে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ ডেকে আনছে।
এদেশের নাগরিক হিসেবে অনুতাপে মরে যাচ্ছি, আমাদের শিশু-কিশোররা অসুস্থ, জেদাজিদির রাজনীতির নির্মম শিকার হচ্ছে দেখে। ফুলের মতো ফুটন্ত বয়সে তারা জীবন হারাচ্ছে, অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে, না হয় অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে। পত্রিকায় শিরোনাম এসেছে, ‘বাড়ি যাওয়া হল না মনিরের’, ‘হরতালে গাজীপুরে অগ্নিদগ্ধ স্কুলছাত্রের মৃত্যু’। কী নিষ্পাপ চেহারা, কী মায়াবী মুখমণ্ডল, টানা টানা চোখ। মাথায় ঘন কালো চুল। হরতালের রাজনীতির শিকার হল। পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে বেড়ে ওঠার আগে এমন একটি সম্ভাবনাময় মানবশিশু অকালে হরতালের আগুনে ঝলসে পুড়ে গেল। এর দায় কে নেবে? এই দোষ কাকে দেব?
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার বড়কাঞ্চনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ছিল মনির হোসেন। বাবা রমজান আলী ছিলেন পেশায় একজন ভ্যানচালক। ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টা হরতাল চলাকালে সোমবার গাজীপুর চৌরাস্তায় জাতীয় আইন কলেজের পাশে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয় এই কিশোর। যারা জেএসসি পরীক্ষার্থী তারাও কিশোর। যারা পঞ্চম শ্রেণীর পরীক্ষার্থী তারাও মনিরের মতোই অবুঝ শিশু। এদের কে বাঁচাবে?
গাজীপুরের মনির হোসেনের আগে ককটেল হিংস্রতার শিকার হয়েছে তিন শিশু। তাদের অগ্নিদগ্ধ চেহারা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। সড়ক বিভাজনের মধ্যে লাগানো গাছের ফুল তুলে রাস্তা পার হচ্ছিল আট বছরের শিশু সোহেল মিয়া। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী তিন যুবক এসে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় রাস্তায়। এতে শিশুটির হাত-পাসহ শরীর ঝলসে যায়। সোমবার (২৮-১০-১৩) হরতাল চলাকালে সকাল ৭টার দিকে বগুড়া শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন সাতমাথা-তিনমাথা স্টেশন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সোহেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে সেউজগাড়ি রেলবস্তিতে মা-বাবার সঙ্গে থাকত। তার বাবা শহীদুল ইসলাম একজন রিকশাচালক। শুধু সোহেল নয়, সেদিন হরতাল সমর্থকদের ককটেলে আহত হয়েছে বগুড়ার আরও দুই পথশিশু। সকাল ১০টার দিকে শহরে স্টেশন ক্লাব সংলগ্ন ঝাই-জঙ্গলে কাগজ কুড়াচ্ছিল ৭ বছরের শিশু রনি ও ৮ বছরের শিশু মিল্টন। সেখানে পড়েছিল অবিস্ফোরিত একটি ককটেল। কৌতূহলবশত লাল কাগজ মোড়ানো ককটেল দুটি একজন হাতে নিলে তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে স্পিন্টারের আঘাতে মারাত্মক আহত হয় পথশিশু দুটি। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে ফেনী যাচ্ছিল লাইফ লাইন নামের একটি অ্যাম্বুলেন্স। রোববার (২৭.১০.১৩) রাত ৩টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় পৌঁছলে গাড়ি লক্ষ্য করে ছুটে আসে পাথর। এতে অ্যাম্বুলেন্সটির দুটি কাচ ভেঙে যায়। অ্যাম্বুলেন্স চালক মাহবুব বলেন, ‘ওই অবস্থায় গাড়িটি নিয়ে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করি।’ ৬০ ঘণ্টার হরতাল চলাকালে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এভাবে চারটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হয়। এ অবস্থায় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও চালকরা ভয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছিল না। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
এভাবে প্রায় সারা দেশে রোগী বহনকারী গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স আক্রান্ত হচ্ছে। লাশ বহনকারী রেড সিগন্যাল লাগানো গাড়িকেও রেহাই দেয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ রাজনীতির উত্তেজনা মানবতা উপড়ে ফেলছে। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হরতালকারীরা পত্রিকাবাহী গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করছে, তাতে সাংবাদিকরা মারাত্মক আহত হচ্ছেন। এর মধ্যে পত্রিকায় আমরা দেখেছি, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা অফিসে এবং কয়েকটি টিভি চ্যানেল অফিসে ককটেল-বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিকট আওয়াজে তা বিস্ফোরিতও হয়েছে।
হরতালে কাজে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর। তাদের ওপরই পড়ছে হরতালের আগুন আর ককটেল। পরিবারের প্রধান রোজগেরে লোকগুলো আহত হওয়ায় একদিকে কাজ বন্ধ, আয় বন্ধ, অন্যদিকে তাদের চিকিৎসা খরচ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি আর্থিক কষ্টও তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শাজাহানপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছুড়ে দেয়া পেট্রল বোমায় ঝলসে যায় চালক আইয়ুব আলীর বুকের নিচ থেকে তলপেট পর্যন্ত ও বাঁ পা।
পুড়ে যায় মুখমণ্ডলও। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সুস্থ হতে অন্তত দু’সপ্তাহ সময় লাগবে। এখন দরিদ্র, খেটে খাওয়া আইয়ুব আলীর সংসার কে চালাবে? হরতালকারীদের ছুড়ে মারা ককটেলে ৪৫ বছরের রংমিস্ত্রি আবদুর রহমান বাঁ চোখ হারিয়েছেন।
তাকে ভর্তি করা হয়েছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে। বাঁ চোখে ব্যান্ডেজ নিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন তিনি। উদাহরণ আর বাড়াতে চাই না। পত্রিকার পাতাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছি, অসহায়, গরিব, নুন আনতে পান্তা ফুরানো মানুষেরা; নিু আয়ের পেশাজীবী-শ্রমজীবী এবং অসহায় শিশু-কিশোররা ককটেল বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছে। এতে মায়ের কোল খালি হচ্ছে। দরিদ্র সংসারের রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পেটে লাথি পড়ছে।
এই মানবতা লংঘনের রাজনীতি কবে শেষ হবে?
মাহমুদুল বাসার : প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক, গবেষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের অর্থনীতি by মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০০৯-২০১৩) মূল প্রতিপাদ্য হল ডায়াবেটিসকে জানা এবং নিয়ন্ত্রণ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যক্তির সজ্ঞান ও আন্তরিক আগ্রহ আবশ্যক বলেই তাকে উদ্বুদ্ধকরণ, সার্বিক সহায়তা প্রদান, চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি এবং উপকরণ সরবরাহ তথা পরিবেশ নির্মাণে বিরাট ভূমিকা রয়েছে সরকার ও সমাজের। কারণ সুস্থ জনশক্তি বা নাগরিকের সুস্বাস্থ্য সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার অন্যতম অবলম্বন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ২০০০ সালে বিশ্বে ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি। আশংকা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালে এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাবে। প্রাদুর্ভাব ও বিস্তারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উন্নত বিশ্বে টাইপ-২ অর্থাৎ ইনসুলিন নিরপেক্ষ রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোয় সবচেয়ে বেশি (১৮০%), এরপর আফ্রিকা মহাদেশে (১৬০%), তারপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (১৫৫%) ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা রয়েছে। বিশ্বে এ রোগের গড় বিস্তার যেখানে ১১৪%, সেখানে বাংলাদেশে বিস্তারের হার ১৪৯%, যা যথেষ্ট আশংকাজনক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা অনুসারে নগরায়ন, ওয়েস্টার্ন ফুড ও সার্বিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এ রোগের বিস্তারকে বেগবান করছে। বিশ্ব রোগ নিরাময় কেন্দ্রের মতে, এ শতকের মাঝামাঝি পৌঁছার আগেই এটি মহামারীরূপে দেখা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ডায়াবেটিক তথ্য কেন্দ্রের হিসাব মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এ ঘাতকব্যাধি বছরে দেশটির জাতীয় অর্থনীতির অন্তত ১৩২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিসাধন করে।
দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকলে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। ডায়াবেটিস সাধারণত বংশগত কারণে ও পরিবেশের প্রভাবে হয়। কখনও কখনও অন্যান্য রোগের কারণেও এ রোগ হতে পারে। ডায়াবেটিস একবার হলে আর নিরাময় হয় না। এটা সব সময় ও আজীবনের রোগ। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ রোগকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয়- এ ধারণাও সঠিক নয়। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, শৃংখলা এবং ওষুধ এ রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায়। খাদ্যের গুণগত মানের দিকে নজর রেখে পরিমাণ মতো খাদ্য গ্রহণ, জীবনের সবক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন বা শৃংখলা অর্থাৎ কাজেকর্মে, আহারে-বিহারে, চলাফেরায়, এমনকি বিশ্রাম ও নিদ্রায় শৃংখলা মেনে চলা দরকার। নিয়ম-শৃংখলাই ডায়াবেটিস রোগীর জীবনকাঠি। ডায়াবেটিস রোগীকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম-শৃংখলা মেনে চলতে হয়। রোগ সম্বন্ধে ব্যাপক শিক্ষা ছাড়া ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। তবে ডায়াবেটিস বিষয়ে শিক্ষা কেবল রোগীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একই সঙ্গে আÍীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং ডাক্তার ও নার্সদেরও শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। রোগী যদি চিকিৎসকের সঙ্গে সহযোগিতা করে তার উপদেশ ও নির্দেশ ভালোভাবে মেনে চলে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে পালন করে, তবে সুখী, কর্মঠ ও দীর্ঘজীবন লাভ করা সম্ভব।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ : সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান, চিফ কো-অর্ডিনেটর, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কৌশলে ভুল করেছে বিরোধী দল by বদিউর রহমান

বাংলাদেশে হালে দু’নেতার কৌশল নিয়ে ভাবতে গেলে আমার আরও মজা লাগে। শেখ হাসিনা আর বেগম জিয়া কী কৌশল যে শুরু করলেন! একজন চেলাচামুণ্ডাদের দেয়া খেতাব জননেত্রী থেকে এখন যেন এফিডেভিট করে ‘দেশরত্ন’ হওয়ার মহাজোটের মহাখায়েশে ব্যস্ত। গাজীপুরের জনসভায় বড় ব্যানারে দেখা গেল তাকে দেশরত্ন লেখা হল। কারা যে এসব লেখে বুঝি না, কিন্তু শেখ হাসিনা কেন যে তা মেনে নেন তা তো আরও বুঝি না। দেশরত্ন বোধকরি চেলাচামুণ্ডাদের ভাষায় জননেত্রী থেকেও বড়, হয়তো হবেও বা, কিন্তু রাজনীতির এ সময়ে ‘খেতাব’ নিয়ে এ ব্যস্ততা বড় দৃষ্টিকটু বটে। হতে পারে ভাবটা এমন যে, ভোটের প্রচারণার এ সময়েই নাম ফাটানোর বড় সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। আর ডজন ডজন পাথরের যে সমাহার দেখা যায় তাতে মনে হয়, পারলে কেয়ামত পর্যন্ত এ দেশের যত উন্নয়ন হবে, সবই যেন তিনি এখনই উদ্বোধন করে দিয়ে যাবেন। সম্প্রতি প্রয়াত মান্না দের পাথরে নাম লেখা নিয়ে যে গান তার কথাও যেন আলীর (আওয়ামী লীগ) চাটুকাররা ভুলে গিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে তার তোষামোদকারীদের কেউ কেউ হালে রাষ্ট্রনায়কও বলা শুরু করেছেন। তারা বলতেই পারেন, তারা যে চাটুকার! কিন্তু আমি বলি, রাষ্ট্রনায়করা কি এভাবে ডজনে ডজনে উদ্বোধনের ভিত্তিপ্রস্তরের পাথরের নামের মেলা বসায়? হতে পারে, এগুলো ওই এলাকার জনগণের ভোট পাওয়ার একটা সস্তা কৌশল। কিন্তু জনগণ কি এখন এত বোকা নাকি? ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হলে এসব পাথরের অপব্যবহার হলেও কি আমরা অবাক হব? রাষ্ট্রনায়ক হলে তো কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপ্তিতে উদ্বোধনেই তিনি যেতেন না, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ একটা খবরের ঘোষণা দিয়েই তা চালু করে দিত। জনগণ কি বুঝত না কোন আমলে কারা এ উন্নয়ন করেছেন? হৃদয়ে নাম লেখালে পাথরের নাম কি আর থাকে? আবার মান্না দে! মান্না দে জিন্দাবাদ, মান্না দে চিরজীবী হোন।
তবে শেখ হাসিনা এক চুল নড়ে বেশ কৌশলের পরিচয় দিয়েছেন। টেলিফোনের আলাপের সময়ের আচরণ/মেজাজও তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে এনেছে বলা যায়। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও তার অনেক অরাজনৈতিক আচরণসুলভ আচরণ থেকে এবার তিনি তুলনামূলকভাবে মুক্ত ছিলেন বলা চলে। টকশো আর লেখালেখিতে এসব নিয়ে, ৩৭ মিনিটের ‘ক্যারিকেচার’ নিয়ে কত যে বিশ্লেষণ, কত যে আঁতলামি আর মাতলামি! কেউ কেউ তো দু’নেত্রীর ফোনালাপকে ঐতিহাসিকও বলছেন। আমি বলি, এ ধরনের কথাবার্তা অর্থাৎ এ সংলাপকে ঐতিহাসিক বলাটা আস্ত ছাগলামি। বড় অসৌজন্যমূলক হয়ে গেল নাকি? বড় অভদ্রতা হল নাকি? সন্তান যদি মাকে মা বলে, বাপকে বাপ বলে- তা ঐতিহাসিক হবে কেন? এটা তো স্বাভাবিক, খুবই স্বাভাবিক। হতে পারে কোনো কারণে সন্তান অনেক দিন মা-বাপের সঙ্গে কথা বলেনি, তাই বলে পরে বলাটা ঐতিহাসিক হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধী দলের নেত্রীর মধ্যে কথা হওয়া তো দেশের জন্য, জাতির কাছে সন্তানের মা-বাপকে মা-বাপ বলার মতোই। এতদিন যে তাদের কথা হয়নি, সেটাই বরং ঐতিহাসিক, নজিরবিহীন ও আশ্চর্যের বিষয়। এতদিন কথা না বলে তারা দু’জন শুধু অপরাধই করেননি, তারা জাতির সঙ্গে বেয়াদবিই করেছেন। এ বেয়াদবির জন্য তাদের দু’জনেরই জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। জাতিকে নিয়ে রাজনীতি করবেন, জাতিকে নিয়ে খেলবেন, এ খেলা থেকে জননেত্রী-দেশনেত্রী খেতাব ভোগ করবেন, অথচ দু’জন কারও সঙ্গে কেউ কথা না বলে জাতির সঙ্গে বেয়াদবি করবেন- এটা তো মেনে নেয়া যায় না।
যাক, তবুও শেষতক টেলিফোনে তাদের সংলাপ হল, কখনও কখনও এ সংলাপকে ‘সঙের লাফ’ মনে হয়েছে। বেগম জিয়ার হাবভাব বেশ কঠোর ঠেকেছে। তিনি যে আপসহীন নেত্রী! হয়তো এবারও তিনি তাই হতে চেয়েছেন, আচরণে তাই দেখাতে চেয়েছেন, আলাপের সময়ে তার ক্ষোভ প্রকাশ্য হয়েছে। হয়তো এ আলাপের রেকর্ড যে আমজনতা দেখে ফেলবে তা তিনি ভাবেননি, হতে পারে আলীর কূটকৌশল তিনি টের পাননি। তবে আমরা দু’নেত্রীর ফোনালাপ প্রকাশকে সাধুবাদ জানাই। রাজনৈতিক আলাপ কেন গোপন থাকবে? শেখ হাসিনা যদি প্রকাশের মানসিকতা নিয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকেন, আমি বলব এ কৌশলে তিনি লাভবান হয়েছেন। তার জনসমর্থন বেড়েছে। আমজনতা দু’নেত্রীর অঙ্গভঙ্গি, প্রকাশভঙ্গি, শব্দচয়ন, উচ্চারণের আবেগ-বিরক্তি সবই মূল্যায়ন করেছে। আমার দু’গ্রামের লড়াইয়ের কথা মনে পড়ল। কারা শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্তের জন্য শেষতক ঠিক হল দু’গ্রামের দু’পণ্ডিতের মধ্যে জ্ঞানের বচসা হবে, জ্ঞানের লড়াই হবে। যে পণ্ডিত হারবেন, সেই গ্রামের লোকই পরাজয় মেনে নেবে। উত্তম সিদ্ধান্ত, কেন অযথা রক্তক্ষয়, জীবননাশ। জ্ঞানী পণ্ডিত শক্ত ইংরেজির বাংলা জিজ্ঞেস করলেন- হর্নস অব ডাইলেমার অর্থ কী? কপাল গুণে অন্য গ্রামের কম জ্ঞানী-মূর্খ পণ্ডিত পেরে গেলেন- উভয় সংকট। এবার তার জিজ্ঞাসার পালা। জ্ঞান কম হলেও তার ধূর্ততা বেশ, তিনি বোঝেন মূর্খ গ্রামবাসী ইংরেজির আর কিই বা জানেন, তারা বাংলাই যা বোঝে। অতএব, তিনি জ্ঞানী পণ্ডিতকে জিজ্ঞেস করলেন, বলুন তো, আই ডু নট নো- এর বাংলা কী? যেইমাত্র জ্ঞানী পণ্ডিত জবাব দিলেন, আমি জানি না, অমনি মূর্খ পণ্ডিতের গ্রামবাসী লাঠি নিয়ে বিপক্ষ দলকে ‘হেরে গেছে, জানে না’ বলে তাড়াল। দু’নেত্রীর ফোনালাপের মধ্যে এমন কৌশল যদি থেকেও থাকে তবে বলতে হবে যে, তা-ও তো কৌশল, নাকি? খালেদা জিয়ার জন্মদিনকে নিয়ে রাসেলের প্রসঙ্গ টেনে এনে সস্তা সহানুভূতি পাওয়ার কৌশলী আকুতি আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, জনগণের মন জয়ের এবং খালেদা জিয়াকে খাটো করার লক্ষ্যেই এমনটি করা হয়েছে। কেউ ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করল কী করল না, তাতে ১৫ আগস্টের শোক বা ভাবগাম্ভীর্য কী করে কমে? শেখ হাসিনার এ ধরনের কথা বড় বিরক্তিকর বটে। খালেদা জিয়া ঠিকই বলেছেন, ১৫ আগস্ট কি কেউ জন্মাতে পারেন না? ১৯৪৬-এ তার জন্ম হলে তা তো ১৯৭৫-এর অনেক আগে, নয় কি? অতএব আমি বলি, জন্মদিন মিথ্যে হলেও খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ, বঙ্গবন্ধুর শোকে তিনি কেন কেক কাটবেন না? যত বছর, তত পাউন্ডের কেক, বেশ মজা, তাই না?
সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়ে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার দু’দিনের আলটিমেটাম রক্ষা করেছেন। আলোচনার ব্যবস্থা তো শেখ হাসিনা করেছেন, নাকি? অতএব, খালেদা জিয়ার নিজের ঘোষিত ওয়াদা অনুসারে ৬০ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। হতে পারে শেখ হাসিনা নির্দলীয় সরকারের কথা বলেননি, সর্বদলীয় সরকারের কথা বলেছেন; আলোচনার কথা তো বলেছেন। অতএব, হরতাল প্রত্যাহার করলে বাজাদের জনসমর্থন বাড়ত, খালেদা জিয়ার ভাবমূর্তি উন্নত হতো, তার সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটত। ১৮ দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া হরতাল প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়- তার এ ধরনের বক্তব্য জনগণ গিলেনি, তাকে ‘বেইমান’ ভেবেছে, এবার কিন্তু আপসহীন ভাবেনি। ’৮৬-এ শেখ হাসিনা যখন এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গেলে ‘জাতীয় বেইমান’ হবেন জেনেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটার্ন নিয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে ‘জাতীয় বেইমান’ হয়েছিলেন, এবার খালেদাও তা-ই হলেন, অর্থাৎ ৮৬’র শেখ হাসিনার খেতাবটা ’১৩-এ এসে খালেদা নিলেন। আলোচনায় গিয়ে অবশ্যই সর্বদলীয় সরকার না মানতে পারতেন তিনি। নির্দলীয় সরকারের দাবি করতে পারতেন। হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বলতে পারতেন, সংলাপে আসব, তবে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব গ্রহণ করছি না। তা না করে বাজাদ একটা বড় ‘মার’ খেল বটে। এবার আবার ৬০ ঘণ্টার, ৮৪ ঘণ্টার হরতাল দিয়ে জেএসসি পরীক্ষাকে বেকায়দায় ফেলে বাজাদ আরেকটা বড় ‘মার’ খেল। বাজাদ সমর্থক জনগণের সন্তানদের মধ্যেও লাখ লাখ পরীক্ষার্থী রয়েছে, তারাও অসন্তুষ্ট। হরতাল ঘোষণা কৌশল হিসেবে ঠিক ছিল, কিন্তু সরকারের অনুরোধের পর প্রত্যাহার করা হতো আরও বড় লাভজনক কৌশল। তাতে জনসমর্থন অনেক বাড়ত, ঘোষণা দেয়া যেত- ঠিক আছে, ৬০ ঘণ্টার, ৮৪ ঘণ্টার হরতাল পরীক্ষার পরে দেয়া হবে। রাজনৈতিক কৌশলে পরপর দু’বার ৬০ ঘণ্টা করে এবং পরে ৮৪ ঘণ্টার হরতাল দিয়ে, সংলাপে না গিয়ে বাজাদ মারই খেল। কোনো অর্জন হল না। জনসমর্থনের বেলায় বৃষ্টি বুঝে ছাতা ধরতে না পারলে গোঁয়ার্তুমি টিকে থাকে হয়তো, কিন্তু তা আপসহীন হয় না; তা হয় বরং রাজনৈতিক মার খাওয়া। বাজাদ এ বড় দুটি মার খেয়ে অবশ্যই বেশ জনসমর্থন হারিয়েছে এবং এতে আলী ফাউ সুবিধা পেয়ে গেল। একেই বলে রাজনীতি!
বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রী আছেন মন্ত্রিসভা নেই
খন্দকার মাহবুব হোসেন: ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্জনে নির্বাচন ঠেকে না, কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা?
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংলাপের স্বার্থেই মন্ত্রীদের পদত্যাগ by আবদুল বাছেত মজুমদার
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওবামা অসৎ অবিশ্বস্ত
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লাশের দ্বীপ ফিলিপিন্সে নৈরাজ্যের দাপট
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 14
(10)
- প্রত্যাখ্যানই কি প্রস্তাবের অমোঘ নিয়তি? by অরবিন্দ...
- বিপন্ন দেশবাসীকেই প্রতিরোধ গড়তে হবে by একেএম শাহ ন...
- মানবতা লংঘনের রাজনীতির অবসান চাই by মাহমুদুল বাসার
- ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের অর্থনীতি by মোহাম...
- কৌশলে ভুল করেছে বিরোধী দল by বদিউর রহমান
- প্রধানমন্ত্রী আছেন মন্ত্রিসভা নেই
- বর্জনে নির্বাচন ঠেকে না, কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা?
- সংলাপের স্বার্থেই মন্ত্রীদের পদত্যাগ by আবদুল বাছ...
- ওবামা অসৎ অবিশ্বস্ত
- লাশের দ্বীপ ফিলিপিন্সে নৈরাজ্যের দাপট
-
▼
Nov 14
(10)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


