Tuesday, August 11, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে মামদানি-সাইয়েদ কি মধ্যপন্থীদের মনে ভয় ধরালেন by নাসরিন মালিক

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রাইমারিতে আবদুল এল-সাইয়েদের জয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি একজন মুসলিম অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তিনি প্রতিষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির প্রায় সব প্রচলিত ধারা থেকে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন।

এই জয় শুধু সাইয়েদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদদের সেই আত্মতুষ্ট ভাবনাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে তাঁরা মনে করতেন প্রগতিশীলদের সাফল্য সীমিত এবং সাময়িক। আগে তাঁরা জোহরান মামদানির মতো নেতাদের উদাহরণ দিয়ে বলতেন, এগুলো বড় শহরের ঘটনা, জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কম। কিন্তু এখন এল-সাইয়েদের জয় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে হয়েছে, যা কিনা প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রক্রিয়ারও অংশ।

এই সাফল্য অনেকের কাছে আশার বার্তা। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও যারা শক্তিশালী বামপন্থী রাজনীতির উত্থান দেখতে চান, তাঁরা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

এল-সাইয়েদের জয় ঠেকাতে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ খরচ করা হয়েছিল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স তাঁকে নয় গুণের বেশি খরচে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এটি ছিল ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রাইমারির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন। শেভরন ও ফিলিপ মরিসের মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এল সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৬ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেয়। এর প্রায় অর্ধেক আসে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) সমর্থিত একটি সুপার প্যাক থেকে।

এই জয়ের প্রতীকী গুরুত্বও বড়। এটি দেখায় যে করপোরেট শক্তি ও বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব ভাঙা সম্ভব। এতে বোঝা যায় ভোটাররা এখন বুঝতে শুরু করেছে যে তাদের গণতন্ত্র অনেকাংশে দখল হয়ে গেছে। আগে যে বিষয়গুলো একজন প্রার্থীকে দুর্বল করত (যেমন অভিজ্ঞতার অভাব বা প্রতিষ্ঠানের সমর্থন না থাকা), এখন তা উল্টো ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এতে প্রার্থীকে ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসীদের প্রতি কঠোরতা এবং অর্থ অপচয়ের রাজনীতির বাইরে থাকা সৎ ও পরিষ্কার ভাবমূর্তির লোক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।

এই নির্বাচনে ইসরায়েল একটি বড় ইস্যু ছিল। তবে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য ছিল। এল-সাইয়েদের সমালোচকেরা বারবার ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে কথা বলছিলেন; অথচ এটি সাধারণ ভোটারের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এল-সাইয়েদ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশ্নটি ইসরায়েলের অস্তিত্ব নয়, বরং প্রশ্ন হলো, কেন সেখানে আমেরিকার করের অর্থ ব্যয় হবে। তাঁর এই অবস্থান ছিল স্পষ্ট এবং অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য।

তবে এই জয় এখনো প্রমাণ করে না যে প্রগতিশীলদের এই সাফল্য সব জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা যে একই ফল আনতে পারবেন, তা জোর দিয়ে বলা যায় না।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে দুর্বল ছিল। তবে নতুন প্রগতিশীল নেতারা সমাধান দিতে পারে বলে মনে হলেও তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যেই তাদের আক্রমণ করা শুরু করেছে। ট্রাম্প তাদের মতো নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, এই উদারপন্থীরা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যপন্থীরাও তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। থার্ড ওয়ে নামে একটি মধ্যপন্থী গোষ্ঠী ইতিমধ্যে কোটি কোটি ডলার খরচ করে প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের দাবি, যদি এই ধারা প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন পর্যন্ত যায়, তবে এমন প্রার্থী আসবেন যিনি রিপাবলিকানদের কাছে পরাজিত হবেন। যদিও অতীতে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাও ট্রাম্পের কাছে হেরেছেন।

সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে প্রগতিশীলদের খুব সহজেই চরমপন্থী বলে দেখানো হয়। এমনকি অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প কমলা হ্যারিস বা হিলারি ক্লিনটনের চেয়েও মাঝামাঝি অবস্থানের রাজনীতিবিদ। এ কারণে জাতীয় পর্যায়ে বামপন্থীদের লড়াই কঠিন হয়ে যায়। পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি তাদের শক্তি, সেটাকেই উল্টো ভয় বা অনিশ্চয়তা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবু এল-সাইয়েদ ও মামদানির মতো নেতারা নতুন এক পথ দেখাচ্ছেন। তারা এমন রাজনীতির কথা বলছেন, যেখানে অভিবাসী পটভূমি আর নতুন চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতার সঙ্গে মিশে গেছে। তারা না পুরোপুরি মিশে যেতে চেয়েছেন, না নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। বরং নিজেদের অধিকার ও জায়গা তারা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন।

তবে তাদের পথ সহজ নয়। তাদের লড়তে হচ্ছে দুর্বল ডেমোক্র্যাটিক কাঠামো, ডানপন্থীদের তীব্র রাজনৈতিক লড়াই এবং শক্তিশালী করপোরেট প্রভাবের বিরুদ্ধে।

প্রগতিশীল ভোটার এমনিতেই তৈরি হয় না, সময় নিয়ে গড়ে তুলতে হয়। যদি ডেমোক্র্যাটিক দল এই নতুন নেতাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই নেতারাই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ দেখাচ্ছেন। তাদের পুরোপুরি সমর্থন না করলে ট্রাম্পবাদ আবারও জিততে পারে।

* নাসরিন মালিক, ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান–এর একজন কলামিস্ট
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত

আবদুল এল-সাইয়েদ
আবদুল এল-সাইয়েদ। ছবি: এএফপি

দিল্লির চাপ সামাল দিতে ঝাড়খন্ডকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুঁজি করছে বিজেপি

দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে কোণঠাসা বিজেপিকে চাঙা করে দিল ঝাড়খন্ডে একই ধরনের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিপেটা। দিল্লির ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহির দাবিতে জেরবার বিজেপি আজ মঙ্গলবার পাল্টা মুখর হলো রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিপেটার ঘটনায়।

বিরোধীদের যে দাবিতে টানা তিন সপ্তাহ সংসদ অচল রয়েছে, সেই দাবিই এবার হাতিয়ার হলো কেন্দ্রের শাসকশিবিরের সদস্যদের। ঝাড়খন্ডের ঘটনার জন্য আজ কংগ্রেস নেতার রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। সংসদ চত্বর গম গম করে ওঠে সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানে।

এর ফলে আজও সংসদের উভয় কক্ষে স্বাভাবিক কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও লোকসভা বা রাজ্যসভায় যাননি। টানা তিন সপ্তাহ সংসদে বিরোধীদের মুখোমুখি না হয়ে মোদি ও শাহ এক বিরল নজির সৃষ্টি করলেন।

সরকারপক্ষ জানিয়েছে, অমিত শাহ বিবৃতি দিতে রাজি। বিরোধীরা জানিয়েছেন, দায়সারা বিবৃতি নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, পেলেট গান ছোড়াসহ পুলিশকে অত্যাচারের নির্দেশ কে দিয়েছিল। আগামী বৃহস্পতিবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিন।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থীরা কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতানেত্রীরা অনশন করেছিলেন, ঝাড়খন্ডে তেমনই অনশন করছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো।

নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, অপরাধীদের শাস্তিদান ও দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীরা বিধানসভা ভবন অভিযানে শামিল হন। তা ঠেকাতে ঝাড়খন্ড পুলিশ জলকামান ছোড়ে। লাঠি চালায়। আজ সংসদ ভবন চত্বরে তা নিয়ে সরব হন বিজেপি ও এনডিএ সদস্যরা। পুলিশি অত্যাচারের জন্য পাল্টা তাঁরা রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। কংগ্রেস ঝাড়খন্ডে ইন্ডিয়া জোট সরকারের শরিক। ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নেতৃত্বাধীন মোর্চায় কংগ্রেস ছাড়াও রয়েছে আরজেডি ও বামপন্থীরা।

দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ, র‍্যাফ ও সিআরপিএফ লাঠি চালিয়েছিল, কাঁদানে গ্রাসের শেল ছুড়েছিল, পেরেক পোঁতা ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া লাঠি (শক ব্যাটন) ব্যবহার করেছিল এবং পেলেট গান থেকে ছররা গুলি ছুড়েছিল।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ সিজেপি নেতারা সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে ওভাবে শক্তি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই। সে কারণে তাঁর জবাবদিহির দাবিতে বিরোধীরা আজও সংসদ অচল রেখেছে।

বিরোধীদের দাবি, অমিত শাহকে জানাতে হবে ওই নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন কি না। না দিলে কে পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল। বস্তুত, তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও অমিত শাহ সেই দাবি মানেননি। প্রধানমন্ত্রী মোদিও শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাননি।

ঝাড়খন্ডের ঘটনা নিয়ে আজ সকালে কোণঠাসা বিজেপি ও এনডিএ জোট সরব হয়ে ওঠেন। বিরোধীদের মতো তাঁরাও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংসদ ভবনে আসেন। কংগ্রেস নেতা রাহুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন, যদিও রাহুল ঝাড়খন্ড সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন।

২০ জুলাই দিল্লিতে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে মোদি-শাহ এখনো মুখ খোলেননি। কিন্তু রাহুল গতকালই রাঁচিতে পুলিশি লাঠি চালনার নিন্দা করে বিবৃতি দেন। গতকালই ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘ঝাড়খন্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ভুল সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। একমাত্র আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসতে পারে।’

রাহুল রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে দ্রুত সমস্যার সুরাহা করতে।

ইনস্টাগ্রামে রাহুল গান্ধী ‘আস্ক মি এনিথিং’ নামে এক অনুষ্ঠান করছেন। তাতে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, ‘দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কোটা, দেরাদুন, এলাহাবাদে (প্রয়াগরাজ) আমি স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও নিপীড়নমূলক। কেন্দ্রীয় সরকার, ঝাড়খন্ড সরকার বা কংগ্রেস সরকার, সবার উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনা।’

শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে রাহুলের অবস্থান স্বচ্ছ ও স্পষ্ট হলেও সংসদ ভবন চত্বরে বিজেপি সদস্যরা তাঁকেই আক্রমণের লক্ষ্য করে তোলেন। ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকেন বিরোধীরাও। তাঁরাও মুখর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে। এক সময় ওইখান দিয়ে আসতে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরাকে। বিজেপি সদস্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন রাহুল কেন চুপ। জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুল পুলিশি অত্যাচারের নিন্দা করেছেন। ঝাড়খন্ডের পড়ুয়াদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।

ঝাড়খন্ডের অনশনকারী ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো গতকাল বিধানসভা অভিযানে শামিল হন অ্যাম্বুলেন্সে চেপে। পরে শরীর খারাপ হয়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেবেন্দ্র ১০ দিন ধরে অনশন করছেন। গতকাল গভীর রাতে তাঁকে ভিডিও কল করেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে।

পরে দিপকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘দেবেন্দ্র মাহাতোর সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশের লাঠিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। যন্তর মন্তর হোক বা ঝাড়খন্ড, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা অমানবিক। সিজেপি দৃঢ়ভাবে দেবেন্দ্র ও তাঁর সংগ্রামের পাশে আছে। তিনি একজন প্রকৃত বীর। তাঁর সাহস ও শক্তিকে কুর্নিশ করি।’

ঝাড়খন্ড সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, ৯৮ শতাংশ দাবি মানা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যে দুই দাবি মানতে সরকার নারাজ তার একটি হলো দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া। অন্যটি হলো ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) ও কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) পরীক্ষা দুটি বাতিল করার।

এই দুই দাবি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। রাজ্যে বিজেপি বিরোধী পক্ষ। তারা ছাত্রদের সমর্থনে ও পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে আজ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

সিজেপির সমর্থকদের ওপর পুলিশের দমন–পীড়ন ও রামমন্দিরের অর্থ লোপাটের প্রতিবাদের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অভিনেত্রী জয়া বচ্চনসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেন। ১১ আগস্ট ২০২৬, নয়াদিল্লি
সিজেপির সমর্থকদের ওপর পুলিশের দমন–পীড়ন ও রামমন্দিরের অর্থ লোপাটের প্রতিবাদের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অভিনেত্রী জয়া বচ্চনসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেন। ১১ আগস্ট ২০২৬, নয়াদিল্লি। ছবি: এএনআই

ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর ফের কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলে ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের অর্থনীতিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে—এমন পরিসংখ্যান ও তথ্য ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার মাধ্যমে তেহরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।

তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব না হওয়ায় সামরিক হামলার পথ বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না আসায় কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার চেষ্টা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি।

সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আমি এখনই আগ্রহী নই।’ ইরানও জানিয়ে দিয়েছে, শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন কৌশলকে ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটির ওপর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি করেছে ইরান। ট্রাম্প এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর চাপ—সবকিছু মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার বিষয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের কৌশল মূলত সামরিক সংঘাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানকে আলোচনায় বসাতে না পারলে ওয়াশিংটনের সামনে আবার সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নটি ফিরে আসতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

ভাইয়ের ড্রয়ার থেকে চুরি করা লিরিক, ৫০ বছর পর সামনে আনছেন নকীব

প্রকাশ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ঃ পেশাদার সংগীতজীবনের ৫০ বছর পার করছেন রেনেসাঁ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক নকীব খান। এ উপলক্ষে কয়েকটি গান প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তবে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, যাত্রা শুরু হবে জীবনের প্রথম সুর করা গানটি দিয়ে। ৫০ বছর আগে সুর করা সে গান আজও প্রকাশিত হয়নি। কিছুদিন আগে হঠাৎ তাঁর মনে হলো, গানটি প্রকাশের এটাই সবচেয়ে সুন্দর সময়। তাই উদ্যোগ নিয়েছেন সেই গান প্রকাশের। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে লন্ডন থেকে প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেন নকীব খান।

এই মুহূর্তে স্টেজ শো করতে লন্ডনে আছেন নকীব খান। সাবেক ব্যান্ড সোলসের সঙ্গে দুটি স্টেজ শোতে গান পরিবেশন করতে তাঁর সেখানে যাওয়া। এরই মধ্যে লন্ডনের শো শেষ করেছেন, বাকি আছে বার্মিংহামের একটি শো। এরপরই দেশে ফিরবেন।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবার যুক্তরাজ্যে স্টেজ শো করতে গেলেন নকীব খান।

লন্ডন থেকে কথা প্রসঙ্গে নকীব খান জানান, তখন তিনি চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওই সময়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে জীবনের প্রথম গানের সুর করেন তিনি। হেনা ইসলামের লেখা সেই গানের শিরোনাম ‘একাকী যখন নির্জনে আমি’। জীবনের প্রথম সুর করা গান সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন নকীব খান।

গানের গল্প প্রসঙ্গে নকীব খান বলেন, ‘আমার বড় ভাই জিলু খান (জালাল উদ্দিন খান জিলু) ও হেনা (ইসলাম) ভাই বন্ধু ছিলেন। ভাইয়াকে তখন হেনা ভাই সুর করার জন্য কয়েকটা লিরিক দিয়েছিলেন। বড় ভাই এসব লিরিক ড্রয়ারে রেখেছিলেন। তিনি যখন বাসার বাইরে যান, অফিসে গেলেন—তখন মনে মনে ভাবলাম, আমি একটা সুর করার চেষ্টা করে দেখি না। ড্রয়ার থেকে ঝুঁকি নিয়ে চুরি করে একটা লিরিক নিলাম, এরপর সুর করলাম। বড় ভাই বাসায় আসার পর বললাম, একটা অন্যায় কাজ করছি। ড্রয়ার থেকে আপনার একটা গান চুরি করে নিয়ে সুর করছি। এরপর বড় ভাই বললেন, “তাই নাকি! তাই নাকি! কই দেখি, শোনাও তো।” শোনানোর পর আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, “অনেক দোয়া করি, খুব ভালো হয়েছে গানটা।”’

নকীব খানের বড় ভাই জিলু খান তাঁর চেয়ে বয়সে ১০ বছরের বড়। তিনিও একসময় ব্যান্ড সংগীত করতেন।

সেই সময়ের কথা মনে করে নকীব খান বললেন, ‘আমরা তিন ভাই (জিলু খান, নকীব খান, পিলু খান) মিউজিক করতাম। আমাদের প্রথম ব্যান্ড কিন্তু বালার্ক, যার অর্থ ভোরের সূর্য। এই ব্যান্ড করতে গিয়ে কি-বোর্ড বাজানো থেকে সুর করা, সব শিখেছি। ১৯৭২ সালে এই ব্যান্ডের হয়ে প্রথম শো করি, কক্সবাজারে। তখন আমরা তিন ভাই বাজাই। আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি, পিয়ানো আর অ্যাকর্ডিয়ন বাজাতাম। পিলু পড়ত ক্লাস ফোরে, সে ড্রামস বাজাত। আর বড় ভাই কি-বোর্ড বাজাত। এটাই প্রথম ব্যান্ড আমার। বড় ভাইয়ের চাকরির ব্যস্ততায় এরপর ব্যান্ডটা ভেঙে যায়। ১৯৭৪ সালে আজকের ব্যান্ড সোলসে যোগ দিই, তখন অবশ্য সেটির নাম ছিল সুরেলা।’

জীবনের প্রথম সুর করা গান প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে নকীব খান বলেন, ‘হয়তো কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমরা তো আসলে অতটা পেশাদারভাবে কাজও করি না। মনে হয়, ভুলেও গিয়েছিলাম। অথবা ও রকম সিরিয়াসনেসও আমার মধ্যে ছিল না। এখন মনে করছি, ৫০ বছর একটা ঐতিহাসিক ব্যাপার, গানটা প্রকাশ করা উচিত। এ গানটা স্মৃতিময় একটা ব্যাপার। জীবনে প্রথম সুর করা গানটা তো মানুষের কাছে আসা উচিত, শোনা উচিত।’ সবশেষে নকীব খান জানালেন, কথা ও সুর তখনকার হলেও শোনার পর মনে হবে, আধুনিক ও সমসাময়িক। তবে সংগীতায়োজনে একটা নতুনত্ব থাকবে।

বাম থেকে তিন ভাই নকীব খান, জিলু খান ও পিলু খান
বাম থেকে তিন ভাই নকীব খান, জিলু খান ও পিলু খান। ছবি : নকীব খানের সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান, চীন-রাশিয়ার পোয়াবারো

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোতে অস্ত্র সরবরাহ পিছিয়ে দিতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা যেমন চাপে পড়ছে, তেমনি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন হিসাব কষার সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সিনিয়র মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানে হামলা এবং পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব অস্ত্রের অনেকগুলো তৈরিতে জটিল ও নির্ভুল প্রযুক্তি প্রয়োজন হয় এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে অস্ত্রভাণ্ডার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

দুই বছরে ফিরবে না প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ১ হাজার ৭০০টিরও কম।

উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে দুই বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অস্ত্রভাণ্ডারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা থেকে ট্রাম্প অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পরও যুদ্ধের অবসান ঘটেনি। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ আরো বাড়িয়েছে।

ইউরোপ-এশিয়ায় কমছে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা

ইরান যুদ্ধের জন্য ইউরোপ ও এশিয়া থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে মার্কিন বাহিনীর সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, সেনাদের মনোবল এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে এশিয়া অঞ্চলে উদ্বেগ বেশি। চীনের সম্ভাব্য তাইওয়ান অভিযান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করে রেখেছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে টমাহকসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও এশিয়ার অন্যান্য স্থান থেকেও শত শত উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অঞ্চলটি থেকে একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও উন্নত প্রযুক্তির কয়েকটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারও ইরান যুদ্ধের সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনারাও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নজরদারি সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনেও পড়েছে অস্ত্রসংকটের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রসংকটের তাৎক্ষণিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে ইউক্রেনে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে এ বছর তার দেশ যে পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, তা ২০২৫ সালের তুলনায় তিনগুণ কমেছে।

একই সময়ে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়ে চলেছে। ফলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

একটি হামলার উদাহরণ দিয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ছোড়া ২৮টি ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও ইউক্রেন প্রতিহত করতে পারেনি। ওই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হন। তার মতে, আরো বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে নিহতদের অনেকের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাও এখন বিশ্বব্যাপী আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের মধ্যে নিজেদের মজুত ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ইউক্রেনকে আরো ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার আহ্বান জানানো হলে ট্রাম্পও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদেরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন।

রাশিয়া-চীন হিসাব কষছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের এই দুর্বলতা রাশিয়া ও চীনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুই দেশই বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্য, প্রতিরক্ষা বাজেট, অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাশিয়া ও চীনের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে এ ধরনের অস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরান যুদ্ধে কিছু ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র—যেমন আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল—এর মজুতও অনেকটাই কমে গেছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক টম কারাকোর ভাষায়, এই অস্ত্রভাণ্ডার ক্ষয় প্রচলিত সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতার জন্য ‘এক প্রজন্মের বিপর্যয়’। তার মতে, অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর লাগবে—এ বিষয়টি রাশিয়া ও চীনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

এশিয়ায় বাড়ছে মিত্রদের উদ্বেগ

অস্ত্রসংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর। এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যদি মনে করে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রচলিত অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না, তাহলে নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তারা আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।

ইউরোপেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের দীর্ঘ অপেক্ষা মিত্র দেশগুলোকে বিকল্প সরবরাহকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের বাজার ও মিত্রদের সঙ্গে সামরিক সম্পর্কেও পরিবর্তন আসতে পারে।

রাশিয়ার জন্য ‘সুযোগের জানালা’

রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করা কার্নেগি এনডাওমেন্টের বিশেষজ্ঞ দারা ম্যাসিকটের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের গত চার বছরেই রাশিয়া বুঝতে শুরু করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে পারে। ইরান যুদ্ধ সেই ধারণাকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।

অন্যদিকে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক টড হ্যারিসন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রসংকট তত গভীর হবে এবং দেশটির দুর্বলতার সুযোগ তত স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

রাশিয়ার একজন জনপ্রিয় যুদ্ধপন্থী ব্লগার আলেকজান্ডার কটসও মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার কমে যাওয়াকে ইউক্রেনের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভুল-নির্দেশিত অস্ত্র যত কম থাকবে, ইউক্রেনে পৌঁছানো অস্ত্রের পরিমাণও তত কমবে।

সংকট অস্বীকার হোয়াইট হাউসের

তবে ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্রসংকটের খবরকে অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে প্রেসিডেন্টের নির্দেশিত অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে।

তিনি আরো দাবি করেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অস্ত্র তৈরি করছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও অস্ত্রসংকটের খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট যখন যেখানে হামলার নির্দেশ দেবেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ তুলনামূলক কম উন্নত অস্ত্র থাকলেও উচ্চক্ষমতার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত পূরণ করা কঠিন। ফলে ইরান যুদ্ধের বর্তমান প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; ইউরোপ, এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশলেও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক কৌশলগত চাপে ফেলছে, যার প্রভাব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর থাকতে পারে। আর সেই সময়টিই রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য হয়ে উঠতে পারে নতুন সুযোগের জানালা।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান, চীন-রাশিয়ার পোয়াবারো
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন।

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১১১ , ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আতঙ্কে বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থ্যাটি জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এ অঞ্চলের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।

কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের মধ্যে ১০টিতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্যালিতে এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া ক্যালির স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি। আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’

এদিকে রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা সম্মুখভাগ ধসে পড়তে দেখা গেছে। এতে চারপাশে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ তৈরি হয়। রাস্তায় থাকা মানুষ আতঙ্কে ছুটে পালান।

ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটিও ভূমিকম্পের আঘাতে ধসে পড়েছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, বহু মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পরই এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে তার প্রশাসন। এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল। সূত্র: এপি, রয়টার্স 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আমি কাঁদতেছি, রুনা লায়লা আমাদের গান শেয়ার করেছেন...

প্রকাশ ১৯ মার্চ ২০২৫ঃ ‘জ্বীন ৩’ ছবি নিয়ে ঈদে আসছেন নুসরাত ফারিয়া। ছবিটির একাধিক পোস্টার ও একটি গান প্রকাশিত হয়েছে। গত সোমবার ছবির ‘কন্যা’ শিরোনামের গানটি প্রকাশের পর পর্দায় সজল ও নুসরাত ফারিয়ার রসায়ন উপভোগ করেছেন ভক্তরা। উৎসবের আবহে বেশ বড় আয়োজনে গানটির দৃশ্য ধারণের কাজ করা হয়। গানটি প্রকাশের এক দিন পর বাংলাদেশের বরেণ্যে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা তাঁর ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। তা দেখে কেঁদেছেন ছবির নায়িকা নুসরাত ফারিয়া।

হঠাৎ করে এ বছরের শুরুতে প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া ঘোষণা দেয়, নুসরাত ফারিয়া ও সজলকে নিয়ে তারা নতুন ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। পরিচালক কামরুজ্জামান রোমান একটানা শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে কাজটি এগিয়ে নেন। সজল জানান, ঈদে মুক্তি দিতে হবে, তাই ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে তিনি ছবিটির শুটিং করেন।

মুক্তির আগে ‘জ্বীন ৩’ ছবিটি সম্পর্কে ধারণা দিতে একাধিক পোস্টার প্রকাশ করে প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান। গত সোমবার প্রকাশিত হয় ছবির প্রথম গান ‘কন্যা’। ইমরানের সুর ও সংগীতে ছবিটির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কনা ও ইমরান। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে রুনা লায়লা তাঁর ফেসবুকে গানটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘খুবই সুন্দর। অভিনন্দন ইমরান-কনা এবং ফারিয়া ও সজল। ভালো লেগেছে।’ রুনা লায়লার কাছ থেকে এমন মন্তব্য পেয়ে আপ্লুত চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। একটি ভিডিওতে ফারিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কাঁদতেছি, রুনা লায়লার আমাদের গান শেয়ার করেছেন।’ সজলকে দেখিয়ে ফারিয়া বলেন, ‘তুমি কি এটা বিশ্বাস করছ? এই দেখো। দেখো। আমি খুবই আবেগাপ্লুত।’

রুনার লায়লার পোস্টে মন্তব্য করেছেন ‘কন্যা’ গানের শিল্পী কনা ও ইমরান। কনা লিখেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক কিছু। আপনি গানটি শেয়ার করায় নিজেদের পরিপূর্ণ মনে করছি।’ ইমরান লিখেছেন, ‘অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা অভিভূত।’ ছবির নায়ক সজল লিখেছেন, ‘আপনার প্রত্যেকটা শব্দে ভালোবাসা। ভালোবাসি ম্যাডাম।’

প্রকাশের দুই দিনে জাজ মাল্টিমিডিয়ার অফিশিয়াল ইউটিউবে ‘কন্যা’ গানের ভিউ চার লাখের বেশি। মন্তব্য এসেছে তিন হাজারের বেশি।

ইনজামাম ইমন নামের একজন লিখেছেন, ‘বাহ বেশ! সজল ভাইয়ের নাচ এবং নুসরাত ফারিয়া আপুর উপস্থাপন অসাধারণ।’ নিশাত নামের একজন লিখেছেন, ‘নুসরাত ফারিয়াকে অসম্ভব সুন্দরী লাগছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ফারিয়ার অভিব্যক্তিগুলো অসাধারণ ছিল। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে।’ কেউ বলেছেন, গানটা যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি গানের কোরিওগ্রাফারও সুন্দরভাবে কাজটা করেছেন। মাশরুবা জান্নাত লিখেছেন, ‘সজলকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাটা দুর্দান্ত লেগেছে।’

কেউ কেউ আবার ‘কন্যা’ গানটির সঙ্গে দেব-ইধিকার ‘খাদান’ ছবির ‘কিশোরী’ গানের মিল খুঁজে পেয়েছেন। মন্তব্যে তা–ও উল্লেখ করেছেন।

একজন লিখেছেন, ‘গানটি অসম্ভব সুন্দর হয়েছে কিন্তু “কিশোরী কিশোরী কিশোরী”র গন্ধ পাচ্ছি।’ হিমু তমাল লিখেছেন, ‘“কিশোরী” গানের মিউজিকের সাথে অনেক মিল।’ সোহেল লিখেছেন, ‘“খাদান” মুভির “কিশোরী” গানের কপি মনে হচ্ছে।’ মেহেদী অভি লিখেছেন, ‘কোনো “কিশোরী” নয়, “কন্যা” হবে অনলি।’

রুনা লায়লা ও নুসরাত ফারিয়া
রুনা লায়লা ও নুসরাত ফারিয়া। কোলাজ