Saturday, March 14, 2026
বাঁশঝাড়ে মাটির নিচে পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্র জানায়, সিংড়া বাজারের সততা ট্রেডার্সের মালিক রুবেল হোসেন উচ্চ মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির চক্রান্ত করছেন—এমন খবর পেয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত আজ বেলা দুইটার দিকে সিংড়ার নিংগুইন এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রুবেল হোসেন মাটির নিচে ১ হাজার লিটারের ১০টি পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) লুকিয়ে রেখেছেন। তাৎক্ষণিক ওই ব্যবসায়ীকে সেখানে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তেল লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।
ইউএনও কার্যালয় সূত্র জানায়, পরে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লুকিয়ে রাখা তেল সিংড়া বাজারের সততা ট্রেডার্সে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির পরামর্শ দেন।
অভিযান চালানোর সময় জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, তেল সংরক্ষণের অনুমতি থাকলেও ওই ব্যবসায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। বেআইনিভাবে মজুত করে তিনি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন।
![]() |
| এভাবে মাটির নিচে পানির ট্যাংকে মজুত করা হয় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। শনিবার নাটোরের সিংড়ার নিংগইন গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো |
Tuesday, April 22, 2025
জুঁইকে ধর্ষণের পর হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা চার কিশোর ও এক যুবকের
অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও গ্রেপ্তারকৃত ৫ জন হলো- বড়াইগ্রাম উপজেলার দিয়াড়গাড়ফা গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম হোসেন (১৩), গাড়ফা উত্তরপাড়া গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছেলে শেখ সাদী (১৬), শফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৬), সুলতান হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫) এবং গাড়ফা দক্ষিণপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন (১৬)। এদের মধ্যে সিয়াম স্থানীয় ডিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, শেখ সাদী ও আব্দুল্লাহ অপকর্মের দায়ে স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কৃত। সোহেল বিবাহিত ও দিনমজুর এবং সাকিব ট্রাক্টর চালকের সহকারী।
তিনি আরও বলেন, যুবক সোহেল ও ৩ কিশোর শেখ সাদী, আব্দুল্লাহ, সাকিব পহেলা বৈশাখের আনন্দ করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে নিজেরা টাকা তুলে যৌনকর্মী ও নর্তকী ভাড়া করার চেষ্টা করে এবং নেশাদ্রব্য গাঁজা কিনে। তারা যৌন উত্তেজক ওষুধও সেবন করে। ঘটনার দিন বিকালে তারা জুঁইয়ের বাড়ির পাশের আমবাগানে বসে গাঁজা সেবন করছিল। হঠাৎ জুঁই দাদীর বাড়ি থেকে বেড়ানো শেষে সেখানে আম কুড়াতে যায়। এ সময় শেখ সাদী জুঁইকে জোরপূর্বক কোলে তুলে পাশেই দুলালের কলাবাগানে নিয়ে যায় এবং চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা শিশুটিকে ধরাধরি করে পাশের ভুট্টার জমিতে নিয়ে যাওয়ার সময় জুঁই’র বাড়ির পাশে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা সিয়াম বিষয়টি দেখে ফেলে। পরে তারা সিয়ামকেও প্রলুব্ধ করে শিশুটিকে পুনরায় ধর্ষণ করায়। তারা দীর্ঘসময় জুঁই’র শরীর নিয়ে আদিম অসভ্যতায় মেতে ওঠে। এরপর তারা জুঁইয়ের লাল রঙের প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে এবং ঘাড় মটকে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে তার মুখ ঝলসে দেয়। পরে তারা ভুট্টার জমিতে বিবস্ত্র লাশটি উপুড় করে ফেলে রেখে চলে যায়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ই এপ্রিল দাদীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয় বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা প্রবাসী জাহিরুল ইসলামের শিশুকন্যা জুঁই। পরদিন বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে চাটমোহরের রামপুর বিলের একটি ভুট্টা ক্ষেতে তার বিবস্ত্র ও মুখমণ্ডল ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়। রাতে জুঁইয়ের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। জুঁই’র ওপর এই নির্মমতা ও পৈশাচিকতার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নাটোরের সর্বস্তরের মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতেও এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মাঠে নামে। ব্যাপক অনুসন্ধানের পর ঘটনার ৫ দিনের মাথায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৫ জনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাবনা জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

Friday, April 18, 2025
ধর্ষণের পর শিশু জুঁই’র মুখ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় by অমর ডি কস্তা
এদিকে, ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। এতে ধর্ষণ বা হত্যার রহস্য এখন পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সরজমিন ওই এলাকায় খোঁজ নেয়া হয়। অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান, সোমবার বেলা ৩টার দিকে জুঁইর বৃদ্ধ দাদা সাইদুল ইসলাম ও দাদি জহুরা খাতুন তাদের মেয়ের (জুঁইর ফুফু) বাড়িতে বেড়াতে যায়। জুঁইয়েরা ৩ বোনের মধ্যে ১২ বছর বয়সী বড়বোন অন্যত্র আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। ওইদিন সে মাদ্রাসাতেই ছিল। ছোট ভাইয়ের বয়স প্রায় ৪ বছর। জুঁইয়ের বাবা জাহিরুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী। বাড়িতে কেউ না থাকার পরও জুঁই কেন দাদির বাড়ির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলো, তা স্পষ্ট নয়। এমন তথ্যটি রহস্যজনক।
পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ গজ অদূরে ভুট্টা ক্ষেতে লাশ টান টান করে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। পরনের প্যান্ট ছিল গলায় প্যাঁচানো। ভুট্টা ক্ষেতের চিত্র দেখে কোনোভাবেই বলা যাবে না সেখানে তাকে ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, তাকে বিকালে নয়, রাতেই অন্য কোথাও ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশ যাতে চেনা না যায় এজন্য মুখমণ্ডলে এসিড ঢেলে দেয়া হয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা লাশটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রেখে গেছে।
ইউপি সদস্য ফজিলা খাতুন বলেন, যারা জুঁইকে ধর্ষণ বা হত্যা করেছে তাদের তো কোনো প্রয়োজন ছিল না মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার। মূলত: জুুঁইকে যেন কেউ চিনতে না পারে তার জন্য ঘাতকরা চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা পেরে ওঠেনি। মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে ঝলসানোর কারণ সবার আগে খুঁজে বের করতে পারলে প্রকৃত দোষী ধরা পড়বে। কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস নাটোর জেলার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ওসমান গণি সোহাগ বলেন, জুঁইর বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায়। বাড়ির অদূরে লাশ পাওয়া গেলেও স্থানটি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা সীমানায়। প্রথম থেকেই ২ থানার মধ্যে মামলা গ্রহণ নিয়ে বেশ রেষারেষি হয়। পরবর্তীতে চাটমোহর থানায় মামলা রেকর্ড হয়। থানা ভিন্ন হওয়ায় এ মামলার অগ্রগতি আদৌ কতটুকু এগুবে- তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে শিশুকন্যা জুঁইকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জেলা জুড়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ক্লাস বাদ দিয়ে সড়ক ও মাঠে অবস্থান করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি করে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া লন্ডন থেকে এ ঘটনার খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জুঁইর পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। বুধবার বিকালে জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার নেতাকর্মীরা জুঁইর নিজ গ্রামে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং স্থানীয়দের নিয়ে বিশাল মানববন্ধন করে এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে ভুট্টা ক্ষেত থেকে ৭ বছর বয়সী জুঁই এর মুখাবয়ব এসিডে ঝলসানো ও বিবস্ত্র মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন সোমবার বিকাল থেকে সে নিখোঁজ হয়। জুঁই ওই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহিরুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, চাটমোহর থানাতে খবর নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। তবে দুই থানা পুলিশ দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।

Sunday, September 22, 2024
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল: বাইরে ফিটফাট ভেতরে ‘সদরঘাট’
আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল হলেও জনবল কাঠামো ৫০ শয্যারও নেই। এতে যেসব প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে, তার অধিকাংশই বিকল হয়ে পড়ে আছে অথবা এটি চালানোর মতো দক্ষ জনবল নেই। এ কারণে রোগীদের হাসপাতালের বাইরে গিয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে যেমন খরচ বাড়ে, তেমনি হয়রানির শিকার হতে হয় রোগীর আত্মীয়স্বজনদের।
সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচতলা ভবনে শয্যা স্থাপন করলেও পুরোনো এবং নতুন ভবনে রোগীর এত বেশি চাপ থাকে যে, অনেক মুমূর্ষু রোগীকেও মেঝেতে পড়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ রোগী। এত বিপুলসংখ্যক রোগী একসঙ্গে হাসপাতালে থাকায় স্যানিটেশনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরো হাসপাতাল নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে। এমন অবস্থাতেও দেখার কেউ নেই।
হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় রয়েছে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিক। হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার এবং কর্মচারীরা এসব ডায়াগনস্টিক এবং ক্লিনিকের মালিকানায় অংশীদার। ফলে হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যও চরমে দেখা যায়।
নাটোর সদরের হালসা ইউনিয়নের এক রোগীর অভিভাবক জানান, চিকিৎসক পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তার রুম থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দালালরা সেই পরামর্শপত্র নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।
সাংস্কৃতিক কর্মী রফিকুল ইসলাম নান্টু জানান, নাটোর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্তদের কোনো চিকিৎসা হয় না। কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর ভাব দেখেই চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে থাকেন। এর ফলে অনেক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়েও রাজশাহী যাওয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেন। এটি আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
হাসপাতালে একটি জেনারেটর থাকলেও এটি ব্যবহারের খরচের অর্থ না থাকায় সেটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে অনেক দিন ধরে। ফলে অপারেশন থিয়েটার চলাকালে বিদ্যুৎ চলে গেলে টর্চের আলোতে অপারেশন চালাতে হয় চিকিৎসকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসক কালবেলাকে জানান, জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি ১৫ বছর ধরে। হাসপাতালে কী কী অভাব রয়েছে, কী করা দরকার এ-সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফলে চিকিৎসকদের, সেবা গ্রহীতাদের এবং নাগরিকদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি।
সচেতন নাগরিক কমিটি নাটোরের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক রমেন রায় কালবেলাকে জানান, এর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা নাগরিকরা তুলে ধরতে পারতেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় এ ধরনের সভা আহ্বান করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিভিল সার্জন ডা. মসিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।
![]() |
| নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা |
Thursday, September 19, 2024
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের পাহাড়
বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো আবেদনগুলোতে বলা হয়, স্থানীয় রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আবেদ আলী শিক্ষকতা শুরুর কিছুদিন পর পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের সুপারিশে তিনি ঢাকা মহানগরে বদলি হন। সেখান থেকেই তিনি অবৈধ টাকা উপার্জন শুরু করেন। এই আসনের সাবেক প্রায় প্রতিটি সংসদ সদ্যসের সঙ্গেই তিনি নিজের সুবিধার জন্য সখ্যতা গড়ে তোলেন। এই সখ্যতাকে পুঁজি করে চালিয়ে যান অবৈধ উপার্জন। এলাকার গোধড়া মৌজায় নিজের নামে এবং স্ত্রী-সন্তানদের নামে ৫ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন আঠারো বিঘা জমি। স্থানীয় কদিমচিলান, ধলা, দাইড়পাড়া, মানিকপুর, ধানইদহ ও চাঁদপুর মৌজায় কিনেছেন প্রায় ৫০বিঘা জমি। বনপাড়া শহরের মিশন স্কুলের পাশে ৫ কাঠার প্লট, বনপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্ব পাশে তিন বিঘা জমি, হিরামন সিনেমা হলের পাশে আফতাবের বাড়ি সংলগ্ন ১০ কাঠার প্লট, মহিষভাঙ্গা মৌজায় জনৈক অশিত পাশের দেড় বিঘা জমি কিনেছেন। সরকারকে কর ফাঁকি দিতে এসব প্রতিটি জমি খুবই কমদাম দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। পৈতৃক বাড়ি ছাড়াও বনপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পেছনে দুটি ও হিরামন সিনেমা হলের পাশে আফতাবের বাড়ি সংলগ্ন একটিসহ তার মোট ৫টি বাড়ি ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকায় নিজের অবস্থান মজবুত করতে যেকোনো মসজিদ মাদ্রাসায় দানের পাশাপাশি তিনি যেকোনো নির্বাচন আসলে এলাকার প্রভাবশালী প্রার্থীদের পোস্টার ছাপিয়ে দেয়াসহ নানাভাবে অর্থ সহযোগিতা করে আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। প্রধান উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগকারীরা আবেদ আলী ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের সকল ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার সকল আয়ের বৈধতা যাচাই করে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এসব বিষয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারাও এই পুলিশ কর্মকর্তার বিপুল সম্পদ ও বাড়ি-গাড়ি থাকার অভিযোগ করেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। সারাজীবন বেতনের টাকায় তিনি নিজের ও স্ত্রীর নামে ৫-৭ বিঘা জমি কিনেছেন। শান্তি মিশন থেকে ফিরে সেই টাকায় বাড়ি করেছেন। পৈতৃক সূত্রে কয়েক বিঘা জমি পেয়েছেন। নিজের জমি বিক্রি করে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসের জন্য একটি ঠিকানা গড়েছেন বলে জানান তিনি।

Wednesday, August 28, 2019
জীবন সংগ্রামে হারতে চান না তৃতীয় লিঙ্গের শানু
![]() |
তৃতীয় লিঙ্গের শানু
|
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামের মতিজান বেগম ও মৃত আহসান আলী প্রামাণিকের দ্বিতীয় সন্তান শানু। তার জন্ম ১৯৭৪ সালে। বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী শাহনাজ ওরফে শানুর জীবনে নেই মনে রাখার মত কোন সুখের স্মৃতি। তার বয়স যখন ১০ বছর তখন মা-বাবা তার শরীরে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তখন থেকেই তাকে আলাদা করে রাখেন। ফলে মা-বাবার আদর আর ভালোবাসার পরিবর্তে শানুর ভাগ্যে জোটে তাচ্ছিল্য অনাদর আর অবহেলা। দুবেলা দুমুঠো খাবারও যখন আর জুটছিলো না তখন একটু খাবারের আশায় কাজ খুঁজতে থাকেন শানু। তার এমন অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা। শানুকে তাদের সাথে রাখার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে তিনি যাননি। তখন থেকেই মানুষের বাড়ি বাড়ি আর ক্ষেত-খামারে শুরু করেন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। দিনশেষে রাতে এসে থাকতেন বাড়ির এককোণে আর পরিশ্রমের সব টাকা তুলে দিতেন মায়ের হাতে। এরই মধ্যে বাবা মারা গেলে দিনমজুর বড়ভাইয়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন এবং দিনমজুরির টাকায় এক ছোট ভাই রিজু ও দুই বোনের শাবানা ও শাহানারার বিয়ে দেন শানু।
এখন শানু কাজ করেন স্থানীয় একটি খামারে। দিনপ্রতি মজুরি পান ৩০০টাকা। প্রতিদিনের মজুরির টাকা দিনশেষে তুলে দেন বৃদ্ধা মায়ের হাতে। মাকে পৃথিবীতে একমাত্র আশ্রয় মনে করে সর্বোচ্চ কষ্ট করে হলেও বাকী জীবন মায়ের সেবা করে যেতে চান শানু।
খামার মালিক মিল্টন ঘোষ বলেন, 'শানু কাজের ক্ষেত্রে খুবই মনযোগী। কাজ ফাঁকি দেন না। তার কাজে অসন্তুষ্ট হবার সুযোগ নেই। অসহায়ত্ব লাঘবে কাজ দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে পেরেছি বলে ভালো লাগে। তাকে অন্য দশজনের থেকে আলাদাভাবে দেখি না।'
চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, 'শানু একজন সৎ, পরিশ্রমী ও অনুকরণীয় মানুষ। একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও সমগোত্রের অন্যদের মতো চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়েও যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়, শানু তাই প্রমাণ করেছেন।
শানুর প্রতিবেশী মিরাজ উদ্দীন ও শরিফ উদ্দীন বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই শানু কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিবারের জন্য। কেউ তাকে 'হিজড়া' বলে গালি দিলেও সে কখনও ভেঙে পড়েনি বরং সে ছোটদের স্নেহ করে ও বড়দের প্রাপ্য সম্মান দেয়।'
পাকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মখলেস হোসেন বাদশা বলেন, 'শানু একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং প্রতিবন্ধীও। তাকে প্রতিবন্ধী সহায়তা কার্ডের জন্য চিকিৎসকের সত্যায়নকৃত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলেও সে কর্ণপাত করেনি। সমাজের শ্রমজীবী মানুষদের মতো খেটে খেয়ে সে নিজে বেঁচে আছে এবং পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।'
শানু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আমার জীবনটা খুব কষ্টের ছিল। শৈশব থেকেই খাটতে খাটতে সব কষ্ট ভুলে গেছি। এখন আর কষ্ট নেই। যতদিন বেঁচে আছি মা'র জন্য কষ্ট করে যাবো। আমি হেরে যেতে চাই না।'
আত্মবিশ্বাস আর মনের জোরে স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েও যে সম্মানের সাথে জীবনধারণ করা যায় তা প্রমাণ করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের শাহানাজ ওরফে শানু।

Monday, August 19, 2019
নাটোরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় by কামাল মৃধা
![]() |
| হালতিবিলে নৌকায় ভ্রমণপ্রেমীরা |
পাটুল বাজারের সেতুর আগে থেকে হালতিবিল পর্যন্ত মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বিলে নৌকা ভাড়া করে দারুণ সময় কেটেছে তাদের। পাটুল বাজার থেকে শুরু করে হালতিবিল পর্যন্ত বসেছে শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে নানান মুখরোচক খাবারের দোকান। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আছে পুলিশ বাহিনী।
সিংড়ার চলনবিল স্পট, গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা, নাটোর রাজবাড়ি আর লালপুরের গ্রিনভ্যালি পার্কেও ভ্রমণপ্রেমীরা ঈদ উদযাপন করেছেন। গ্রিনভ্যালি পার্কে দায়িত্বরত রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদের দিন থেকেই শত শত দর্শনার্থী পার্কে এসেছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ভিড়।
গ্রিনভ্যালি পার্ক দেখে খুশি সপরিবারে আসা মাসৌরা বেগম কাকলী। পার্কে বেড়ানো সদর উপজেলার দীঘাপতিয়া এলাকার শিশু কনক জানায়, গ্রিনভ্যালি পার্কে এসে তার ভালো লেগেছে। ট্রেন, নাগরদোলা, পাহাড় ও ইঞ্জিনবোটে উঠেছে সে। ভেতরের সেতুতে ছবিও তুলেছে।
![]() |
| নাটোরের উত্তরা গণভবন |
সিংড়া উপজেলা থেকে মা-বাবার সঙ্গে গণভবন দেখতে এসেছে শিশু কুমকুম। এখানকার মিনি চিড়িয়াখানা, সংগ্রহশালা ও লেক দেখে তার ভালো লেগেছে। একই স্থানে বেড়াতে আসেন রাজশাহীর বাসিন্দা মুকুল।
নাটোরের এনডিসি জিয়াউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদের দিন থেকে উত্তরা গণভবনে দর্শনার্থীরা ভিড় করেছে। সেদিন দুপুর ২টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন আয় হয় ২৮ হাজার টাকা। এর পরদিন টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ঈদের পঞ্চম দিনে আয় হয়েছে ৫১ হাজার টাকা। শনিবার সকাল থেকেও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল।
শনিবার দুপুরে উত্তরা গণভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা মোটরসাইকেল, অটোচার্জার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি নিয়ে গণভবনে হাজির হচ্ছেন। টিকিট কাউন্টারে লক্ষ্য করা গেছে তাদের লাইন।
দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই গণভবনে বলে জানান এনডিসি জিয়াউর রহমান। এ কারণে তাদের খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।
![]() |
| নাটোরে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপ্রেমীদের নদী ভ্রমণ |
Monday, May 14, 2018
সংগ্রামী মা খোদেজার গল্প
![]() |
| নাম খোদেজা, বয়স আনুমানিক ৪৫। প্রতিদিন তাকে দেখা যায় নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের হাট-বাজারে। পেশায় একজন কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ী হলেও তিনি একজন সংগ্রামী মা। তার বাড়ি পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর দমদমা গ্রামে। উত্তর দমদমা গ্রামের আঃ খালেকের মেয়ে খোদেজা। ৩০ বছর আগে বিয়ে হয় একই গ্রামের ইউসুফ মোল্লার সঙ্গে। ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান, খোরশেদ আলম। ছেলের জন্মের পরেই তার সংসার ভেঙ্গে যায়। তারপর থেকেই জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন খোদেজা। প্রায় ২৫ বছর যাবৎ সিংড়ার হাট-বাজারে কাঁচা তরকারীর ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ছেলেকে ছোট থেকে বড় করে বিয়েও দিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে ছেলে এখন স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ঢাকায়। নিয়মিত খোঁজ খবর নেবার পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠায় ছেলে খোরশেদ আলম। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন খোদেজা। প্রতি সপ্তাহে ৬১০ টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয় তাকে। টিনের একটি ছোট ঘরই হতদরিদ্র খোদেজা আবাসস্থল। সংগ্রামী মা খোদেজা বলেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা লাভ হয় ব্যবসা করে। বয়স্ক ভাতা ৪ মাসে ১৫০০ টাকা পাই। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষের সহযোগীতায় চলে আমার জীবন। |
Thursday, May 10, 2018
জিপিএ ৫ পাওয়া নুরুজ্জামানের কষ্টের জীবন
![]() |
| প্রতিদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সারাদিনের ক্লান্তি। ঘরে বিদ্যুতের আলো নেই। তবুও থেমে থাকেনি নুরুজ্জামান শেখ। কুপির আলোতেই রাত জেগে পড়ালেখা করে সাফল্যের দেখা পেয়েছে। সে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের তালতলা গোরস্থান পাড়ার লোকমান শেখের ছেলে নূরুজ্জামান শেখ। তালতলা গ্রামের কবর স্থান থেকে মেঠোপথ ধরে এগিয়ে মাঠের মধ্যে তিনটি পরিবারের বসবাস। সেখানেই নূরুজ্জামানের বাড়ি। পাঠকাঠির বেড়া টিনের ছাউনি দেয়া তিনটি ঘর। দরজাবিহীন ঘরের একটি তার। সেখানে চলতো তার পড়ালেখা। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় ভাই মাহমুদ বনপাড়া ডিগ্রী কলেজের বিএ এবং অপর ছোট ভাই নুরুন্নবী ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। বাবা লোকমান শেখ নিজেও একজন দিনমজুর । তিন সন্তানকে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটাতে না পারলেও পড়ালেখা করে বড় হওয়া যায় এমন স্বপ্ন দেখাতেন । বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নূরুজ্জামান শেখ কোন ঘাটতি রাখেনি। ছোট থেকে বাবার কাজে সহযোগীতার পাশাপাশি নিজেও অন্যের বাড়িতে দিন মজুরের কাজ করতো। একটু বড় হয়ে বেছে নেয় রাজমিস্ত্রির কাজ। এমনকি রেজাল্টের দিনও রাজমিস্ত্রির কাজে ব্যস্ত থাকায় বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে তার ফলাফল জেনেছে। সে পরীক্ষার পর থেকে ঢাকার সাভারে নবীনগরের খুরগাঁও এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছে। কষ্টের মধ্য দিয়ে প্রাইমারী শেষ করে সে উপজেলার মিশ্রিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। প্রত্যেক শ্রেণীতেই ভাল ফলাফল করতো সে। এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি’তে জিপিএ ৫ পায় নুরুজ্জামান। তার স্বপ্ন ভাল কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাব তার সে পথের একমাত্র বাধা। দৃঢ় প্রত্যয়ী নুরুজ্জামান কখনই পড়া লেখা বন্ধ করতে চায়না। এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ ওয়াহাব জানান, নুরুজ্জামান খুবই মেধাবী ছাত্র। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। |
Thursday, May 3, 2018
সড়ক সংস্কারের দাবিতে সড়কে প্রতীকী মৎস্য শিকার

জানা যায়, বাগাতিপাড়ার মালঞ্চি বাজার থেকে তমালতলা মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে তিন ফুট সড়ক প্রশ্বস্ত করণ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে নাটোরের উত্তর বড়গাছা’র মীর হাবিবুল আলম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সে মোতাবেক গত বছরের ১২ই জুন এ কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০শে অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের ৬ মাস পার হতে চললেও দৃশ্যমান তেমন কাজ হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দু’পাশের কাজ বন্ধ রাখায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। ফলে বেড়েছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কটির সোনাপাতিল এলাকায় কাঠের গুড়ি ফেলে ও বাঁশ বেঁধে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এসময় তারা সড়কে জমে থাকা পানিতে প্রতীকী মৎস্য শিকার করে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। অবরোধ চলাকালে সড়কটির দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু এবং উপজেলা প্রকৌশলী এএসএম শরিফ খান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় তারা অবরোধকারীদের দ্রুত সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলে কর্মসূচী স্থগিত করে।
এব্যাপারে যুব সংঘের সাধারন সম্পাদক তানজিন সরকার দিবস জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির ফলে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই খানা খন্দকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ইউএনও দুইদিনের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস দেওয়ায় আগামী শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছে।
জনগনের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী এএসএম শরিফ খান বলেন, ইতিমধ্যেই ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তিনি দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন।
Wednesday, April 18, 2018
নাগর নদ দখল করে মাছ চাষ

Tuesday, December 26, 2017
যুবককে বিবস্ত্র করে পেটালো ছাত্রলীগ নেতা, এলাকায় তোলপাড়

Saturday, December 23, 2017
গুরুদাসপুরে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার : আটক ২

Sunday, December 3, 2017
নাটোরে বিএনপি নেত্রীকে সভায় যেতে বাধা : দুইজন গুলিবিদ্ধ

Sunday, May 28, 2017
স্ত্রী খুনের ছুরি হাতে মসজিদে আশ্রয়, তারাবি বঞ্চিত মুসল্লিরা

Thursday, May 25, 2017
গাছে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

Thursday, May 18, 2017
ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ড থেকে নাটোর

Wednesday, May 3, 2017
সিংড়ায় সড়কে প্রাণ গেল দুই ব্যবসায়ীর

Wednesday, April 26, 2017
চলনবিলে আত্রাই নদীর পানি: আতঙ্কিত কৃষক

Tuesday, March 14, 2017
বড়াইগ্রামে বিরল প্রজাতির তক্ষকসহ আটক ১

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







