Showing posts with label নাটোর. Show all posts
Showing posts with label নাটোর. Show all posts

Saturday, March 14, 2026

বাঁশঝাড়ে মাটির নিচে পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত

প্রকাশ ০৭ মার্চ ২০২৬ঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বাঁশঝাড়ের মধ্যে মাটির নিচে পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল লুকিয়ে রেখেছিলেন রুবেল হোসেন নামের এক জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজ শনিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্র জানায়, সিংড়া বাজারের সততা ট্রেডার্সের মালিক রুবেল হোসেন উচ্চ মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির চক্রান্ত করছেন—এমন খবর পেয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত আজ বেলা দুইটার দিকে সিংড়ার নিংগুইন এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রুবেল হোসেন মাটির নিচে ১ হাজার লিটারের ১০টি পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) লুকিয়ে রেখেছেন। তাৎক্ষণিক ওই ব্যবসায়ীকে সেখানে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তেল লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।

ইউএনও কার্যালয় সূত্র জানায়, পরে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লুকিয়ে রাখা তেল সিংড়া বাজারের সততা ট্রেডার্সে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির পরামর্শ দেন।

অভিযান চালানোর সময় জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, তেল সংরক্ষণের অনুমতি থাকলেও ওই ব্যবসায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। বেআইনিভাবে মজুত করে তিনি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন।

এভাবে মাটির নিচে পানির ট্যাংকে মজুত করা হয় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। শনিবার নাটোরের সিংড়ার নিংগইন গ্রামে
এভাবে মাটির নিচে পানির ট্যাংকে মজুত করা হয় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। শনিবার নাটোরের সিংড়ার নিংগইন গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, April 22, 2025

জুঁইকে ধর্ষণের পর হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা চার কিশোর ও এক যুবকের

নাটোরের বড়াইগ্রামের আলোচিত মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার জুঁই (৭)কে ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনের জন্য যৌনকর্মী ও নর্তকী না পেয়ে ৪ কিশোর ও ১ যুবক জুঁইকে বেছে নেয়। বিকাল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে আম বাগানে আম কুড়াতে গেলে বাগানের মধ্যেই নেশার আসরে থাকা ওই ৫ জন জুঁইকে দেখতে পায়। তারা জোরপূর্বক জুঁই’র মুখ চেপে ধরে কোলে উঠিয়ে পাশের কলা বাগানে নিয়ে যায়। মধ্য রাত পর্যন্ত তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে জুঁই অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরনের প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। লাশ যেনো কেউ চিনতে না পারে তার জন্য ট্রাক্টর থেকে আনা ব্যাটারির এসিড দিয়ে মুখমণ্ডল পোড়ানোর চেষ্টা করে। নির্মম ও পৈশাচিক এই ঘটনার ৫ দিনের মাথায় বড়াইগ্রাম থানা, চাটমোহর থানা ও নাটোর ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা পুলিশের কাছে উপরোক্ত বিবরণ তুলে ধরে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম। 

অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও গ্রেপ্তারকৃত ৫ জন হলো- বড়াইগ্রাম উপজেলার দিয়াড়গাড়ফা গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম হোসেন (১৩), গাড়ফা উত্তরপাড়া গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছেলে শেখ সাদী (১৬), শফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৬), সুলতান হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫) এবং গাড়ফা দক্ষিণপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন (১৬)। এদের মধ্যে সিয়াম স্থানীয় ডিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, শেখ সাদী ও আব্দুল্লাহ অপকর্মের দায়ে স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কৃত। সোহেল বিবাহিত ও দিনমজুর এবং সাকিব ট্রাক্টর চালকের সহকারী।

তিনি আরও বলেন, যুবক সোহেল ও ৩ কিশোর শেখ সাদী, আব্দুল্লাহ, সাকিব পহেলা বৈশাখের আনন্দ করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে নিজেরা টাকা তুলে যৌনকর্মী ও নর্তকী ভাড়া করার চেষ্টা করে এবং নেশাদ্রব্য গাঁজা কিনে। তারা যৌন উত্তেজক ওষুধও সেবন করে। ঘটনার দিন বিকালে তারা জুঁইয়ের বাড়ির পাশের আমবাগানে বসে গাঁজা সেবন করছিল। হঠাৎ জুঁই দাদীর বাড়ি থেকে বেড়ানো শেষে সেখানে আম কুড়াতে যায়। এ সময় শেখ সাদী জুঁইকে জোরপূর্বক কোলে তুলে পাশেই দুলালের কলাবাগানে নিয়ে যায় এবং চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা শিশুটিকে ধরাধরি করে পাশের ভুট্টার জমিতে নিয়ে যাওয়ার সময় জুঁই’র বাড়ির পাশে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা সিয়াম বিষয়টি দেখে ফেলে। পরে তারা সিয়ামকেও প্রলুব্ধ করে শিশুটিকে পুনরায় ধর্ষণ করায়। তারা দীর্ঘসময় জুঁই’র শরীর নিয়ে আদিম অসভ্যতায় মেতে ওঠে। এরপর তারা জুঁইয়ের লাল রঙের প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে এবং ঘাড় মটকে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে তার মুখ ঝলসে দেয়। পরে তারা ভুট্টার জমিতে বিবস্ত্র লাশটি উপুড় করে ফেলে রেখে চলে যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ই এপ্রিল দাদীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয় বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা প্রবাসী জাহিরুল ইসলামের শিশুকন্যা জুঁই। পরদিন বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে চাটমোহরের রামপুর বিলের একটি ভুট্টা ক্ষেতে তার বিবস্ত্র ও মুখমণ্ডল ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়। রাতে জুঁইয়ের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। জুঁই’র ওপর এই নির্মমতা ও পৈশাচিকতার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নাটোরের সর্বস্তরের মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতেও এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মাঠে নামে। ব্যাপক অনুসন্ধানের পর ঘটনার ৫ দিনের মাথায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৫ জনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাবনা জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

mzamin

Friday, April 18, 2025

ধর্ষণের পর শিশু জুঁই’র মুখ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় by অমর ডি কস্তা

নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ বছরের শিশুকন্যা জুঁইকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে পুড়িয়ে বীভৎস করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার নিখোঁজের পর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ গজ অদূরে ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পেছনের কারণ খুঁজতে পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিক মহল ও স্থানীয়রা বেশ তৎপর রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। এতে ধর্ষণ বা হত্যার রহস্য এখন পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সরজমিন ওই এলাকায় খোঁজ নেয়া হয়। অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান, সোমবার বেলা ৩টার দিকে জুঁইর বৃদ্ধ দাদা সাইদুল ইসলাম ও দাদি জহুরা খাতুন তাদের মেয়ের (জুঁইর ফুফু) বাড়িতে বেড়াতে যায়। জুঁইয়েরা ৩ বোনের মধ্যে ১২ বছর বয়সী বড়বোন অন্যত্র আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। ওইদিন সে মাদ্রাসাতেই ছিল। ছোট ভাইয়ের বয়স প্রায় ৪ বছর। জুঁইয়ের বাবা জাহিরুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী। বাড়িতে কেউ না থাকার পরও জুঁই কেন দাদির বাড়ির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলো, তা স্পষ্ট নয়। এমন তথ্যটি রহস্যজনক।

পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ গজ অদূরে ভুট্টা ক্ষেতে লাশ টান টান করে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। পরনের প্যান্ট ছিল গলায় প্যাঁচানো। ভুট্টা ক্ষেতের চিত্র দেখে কোনোভাবেই বলা যাবে না সেখানে তাকে ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, তাকে বিকালে নয়, রাতেই অন্য কোথাও ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশ যাতে চেনা না যায় এজন্য মুখমণ্ডলে এসিড ঢেলে দেয়া হয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা লাশটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রেখে গেছে।

ইউপি সদস্য ফজিলা খাতুন বলেন, যারা জুঁইকে ধর্ষণ বা হত্যা করেছে তাদের তো কোনো প্রয়োজন ছিল না মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার। মূলত: জুুঁইকে যেন কেউ চিনতে না পারে তার জন্য ঘাতকরা চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা পেরে ওঠেনি। মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে ঝলসানোর কারণ সবার আগে খুঁজে বের করতে পারলে প্রকৃত দোষী ধরা পড়বে। কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস নাটোর জেলার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ওসমান গণি সোহাগ বলেন, জুঁইর বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায়। বাড়ির অদূরে লাশ পাওয়া গেলেও স্থানটি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা সীমানায়। প্রথম থেকেই ২ থানার মধ্যে মামলা গ্রহণ নিয়ে বেশ রেষারেষি হয়। পরবর্তীতে চাটমোহর থানায় মামলা রেকর্ড হয়। থানা ভিন্ন হওয়ায় এ মামলার অগ্রগতি আদৌ কতটুকু এগুবে- তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এদিকে শিশুকন্যা জুঁইকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জেলা জুড়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ক্লাস বাদ দিয়ে সড়ক ও মাঠে অবস্থান করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি করে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া লন্ডন থেকে এ ঘটনার খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জুঁইর পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। বুধবার বিকালে জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার নেতাকর্মীরা জুঁইর নিজ গ্রামে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং স্থানীয়দের নিয়ে বিশাল মানববন্ধন করে এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।   

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে ভুট্টা ক্ষেত থেকে ৭ বছর বয়সী জুঁই এর মুখাবয়ব এসিডে ঝলসানো ও বিবস্ত্র মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন সোমবার বিকাল থেকে সে নিখোঁজ হয়। জুঁই ওই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহিরুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, চাটমোহর থানাতে খবর নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। তবে দুই থানা পুলিশ দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে। 

mzamin

Sunday, September 22, 2024

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল: বাইরে ফিটফাট ভেতরে ‘সদরঘাট’

বাইরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট- এমনি এক প্রবাদের সঙ্গে মিল রয়েছে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের। গত ২০২২ সালে ভবনটির উদ্বোধন হলেও এর ভেতরের বহু যন্ত্রপাতি এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে স্থাপন করা যায়নি। ফলে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না নাটোরবাসী।

আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল হলেও জনবল কাঠামো ৫০ শয্যারও নেই। এতে যেসব প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে, তার অধিকাংশই বিকল হয়ে পড়ে আছে অথবা এটি চালানোর মতো দক্ষ জনবল নেই। এ কারণে রোগীদের হাসপাতালের বাইরে গিয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে যেমন খরচ বাড়ে, তেমনি হয়রানির শিকার হতে হয় রোগীর আত্মীয়স্বজনদের।

সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচতলা ভবনে শয্যা স্থাপন করলেও পুরোনো এবং নতুন ভবনে রোগীর এত বেশি চাপ থাকে যে, অনেক মুমূর্ষু রোগীকেও মেঝেতে পড়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ রোগী। এত বিপুলসংখ্যক রোগী একসঙ্গে হাসপাতালে থাকায় স্যানিটেশনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরো হাসপাতাল নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে। এমন অবস্থাতেও দেখার কেউ নেই।

হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় রয়েছে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিক। হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার এবং কর্মচারীরা এসব ডায়াগনস্টিক এবং ক্লিনিকের মালিকানায় অংশীদার। ফলে হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যও চরমে দেখা যায়।

নাটোর সদরের হালসা ইউনিয়নের এক রোগীর অভিভাবক জানান, চিকিৎসক পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তার রুম থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দালালরা সেই পরামর্শপত্র নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।

সাংস্কৃতিক কর্মী রফিকুল ইসলাম নান্টু জানান, নাটোর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্তদের কোনো চিকিৎসা হয় না। কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর ভাব দেখেই চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে থাকেন। এর ফলে অনেক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়েও রাজশাহী যাওয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেন। এটি আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

হাসপাতালে একটি জেনারেটর থাকলেও এটি ব্যবহারের খরচের অর্থ না থাকায় সেটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে অনেক দিন ধরে। ফলে অপারেশন থিয়েটার চলাকালে বিদ্যুৎ চলে গেলে টর্চের আলোতে অপারেশন চালাতে হয় চিকিৎসকদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসক কালবেলাকে জানান, জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি ১৫ বছর ধরে। হাসপাতালে কী কী অভাব রয়েছে, কী করা দরকার এ-সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফলে চিকিৎসকদের, সেবা গ্রহীতাদের এবং নাগরিকদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি।

সচেতন নাগরিক কমিটি নাটোরের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক রমেন রায় কালবেলাকে জানান, এর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা নাগরিকরা তুলে ধরতে পারতেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় এ ধরনের সভা আহ্বান করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিভিল সার্জন ডা. মসিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা



Thursday, September 19, 2024

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

নাটোরের এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে অর্ধশত বিঘা জমি, ঢাকা ও নিজ গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ৫টি বিলাসবহুল বাড়ি, একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের পাশাপাশি টাকার পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বিষয়গুলো তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা আবেদ আলী নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের গোধড়া গ্রামের মৃত শাহাদত আলী মোল্লার ছেলে। তিনি ট্রাফিক পরিদর্শক হিসেবে দু’বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন।

বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো আবেদনগুলোতে বলা হয়, স্থানীয় রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আবেদ আলী শিক্ষকতা শুরুর কিছুদিন পর পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের সুপারিশে তিনি ঢাকা মহানগরে বদলি হন। সেখান থেকেই তিনি অবৈধ টাকা উপার্জন শুরু করেন। এই আসনের সাবেক প্রায় প্রতিটি সংসদ সদ্যসের সঙ্গেই তিনি নিজের সুবিধার জন্য সখ্যতা গড়ে তোলেন। এই সখ্যতাকে পুঁজি করে চালিয়ে যান অবৈধ উপার্জন। এলাকার গোধড়া মৌজায় নিজের নামে এবং স্ত্রী-সন্তানদের নামে ৫ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন আঠারো বিঘা জমি। স্থানীয় কদিমচিলান, ধলা, দাইড়পাড়া, মানিকপুর, ধানইদহ ও চাঁদপুর মৌজায় কিনেছেন প্রায় ৫০বিঘা জমি। বনপাড়া শহরের মিশন স্কুলের  পাশে ৫ কাঠার প্লট, বনপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্ব পাশে তিন বিঘা জমি, হিরামন সিনেমা হলের পাশে আফতাবের বাড়ি সংলগ্ন ১০ কাঠার প্লট, মহিষভাঙ্গা মৌজায় জনৈক অশিত পাশের দেড় বিঘা জমি কিনেছেন। সরকারকে কর ফাঁকি দিতে এসব প্রতিটি জমি খুবই কমদাম দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। পৈতৃক বাড়ি ছাড়াও বনপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পেছনে দুটি ও হিরামন সিনেমা হলের পাশে আফতাবের বাড়ি সংলগ্ন একটিসহ তার মোট ৫টি বাড়ি ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকায় নিজের অবস্থান মজবুত করতে যেকোনো মসজিদ মাদ্রাসায় দানের পাশাপাশি তিনি যেকোনো নির্বাচন আসলে এলাকার প্রভাবশালী প্রার্থীদের পোস্টার ছাপিয়ে দেয়াসহ নানাভাবে অর্থ সহযোগিতা করে আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। প্রধান উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগকারীরা আবেদ আলী ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের সকল ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার সকল আয়ের বৈধতা যাচাই করে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এসব বিষয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারাও এই পুলিশ কর্মকর্তার বিপুল সম্পদ ও বাড়ি-গাড়ি থাকার অভিযোগ করেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। সারাজীবন বেতনের টাকায় তিনি নিজের ও স্ত্রীর নামে ৫-৭ বিঘা জমি কিনেছেন। শান্তি মিশন থেকে ফিরে সেই টাকায় বাড়ি করেছেন। পৈতৃক সূত্রে কয়েক বিঘা জমি পেয়েছেন। নিজের জমি বিক্রি করে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসের জন্য একটি ঠিকানা গড়েছেন বলে জানান তিনি।

mzamin

Wednesday, August 28, 2019

জীবন সংগ্রামে হারতে চান না তৃতীয় লিঙ্গের শানু

তৃতীয় লিঙ্গের শানু
নাটোরের বাগাতিপাড়ার শাহনাজ খাতুন ওরফে শানু (৪৫) তৃতীয় লিঙ্গের একজন হয়েও নিজ গোত্রে গা না ভাসিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সন্তান হিসেবে মা ও ভাই-বোনের জন্য এখনও পালন করে চলেছেন নিজ দায়িত্ব। পুরুষের পোশাক পরে পরিশ্রম করে আর দশজন মানুষের মতো সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল দৃষ্টান্তের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শানু।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামের মতিজান বেগম ও মৃত আহসান আলী প্রামাণিকের দ্বিতীয় সন্তান শানু। তার জন্ম ১৯৭৪ সালে। বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী শাহনাজ ওরফে শানুর জীবনে নেই মনে রাখার মত কোন সুখের স্মৃতি। তার বয়স যখন ১০ বছর তখন মা-বাবা তার শরীরে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তখন থেকেই তাকে আলাদা করে রাখেন। ফলে মা-বাবার আদর আর ভালোবাসার পরিবর্তে শানুর ভাগ্যে জোটে তাচ্ছিল্য অনাদর আর অবহেলা। দুবেলা দুমুঠো খাবারও যখন আর জুটছিলো না তখন একটু খাবারের আশায় কাজ খুঁজতে থাকেন শানু। তার এমন অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা। শানুকে তাদের সাথে রাখার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে তিনি যাননি। তখন থেকেই মানুষের বাড়ি বাড়ি আর ক্ষেত-খামারে শুরু করেন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। দিনশেষে রাতে এসে থাকতেন বাড়ির এককোণে আর পরিশ্রমের সব টাকা তুলে দিতেন মায়ের হাতে। এরই মধ্যে বাবা মারা গেলে দিনমজুর বড়ভাইয়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন এবং দিনমজুরির টাকায় এক ছোট ভাই রিজু ও দুই বোনের শাবানা ও শাহানারার বিয়ে দেন শানু।
এখন শানু কাজ করেন স্থানীয় একটি খামারে। দিনপ্রতি মজুরি পান ৩০০টাকা। প্রতিদিনের মজুরির টাকা দিনশেষে তুলে দেন বৃদ্ধা মায়ের হাতে। মাকে পৃথিবীতে একমাত্র আশ্রয় মনে করে সর্বোচ্চ কষ্ট করে হলেও বাকী জীবন মায়ের সেবা করে যেতে চান শানু।
খামার মালিক মিল্টন ঘোষ বলেন, 'শানু কাজের ক্ষেত্রে খুবই মনযোগী। কাজ ফাঁকি দেন না। তার কাজে অসন্তুষ্ট হবার সুযোগ নেই। অসহায়ত্ব লাঘবে কাজ দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে পেরেছি বলে ভালো লাগে। তাকে অন্য দশজনের থেকে আলাদাভাবে দেখি না।'
চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, 'শানু একজন সৎ, পরিশ্রমী ও অনুকরণীয় মানুষ। একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও সমগোত্রের অন্যদের মতো চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়েও যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়, শানু তাই প্রমাণ করেছেন।
শানুর প্রতিবেশী মিরাজ উদ্দীন ও শরিফ উদ্দীন বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই শানু কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিবারের জন্য। কেউ তাকে 'হিজড়া' বলে গালি দিলেও সে কখনও ভেঙে পড়েনি বরং সে ছোটদের স্নেহ করে ও বড়দের প্রাপ্য সম্মান দেয়।'
পাকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মখলেস হোসেন বাদশা বলেন, 'শানু একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং প্রতিবন্ধীও। তাকে প্রতিবন্ধী সহায়তা কার্ডের জন্য চিকিৎসকের সত্যায়নকৃত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলেও সে কর্ণপাত করেনি। সমাজের শ্রমজীবী মানুষদের মতো খেটে খেয়ে সে নিজে বেঁচে আছে এবং পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।'
শানু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আমার জীবনটা খুব কষ্টের ছিল। শৈশব থেকেই খাটতে খাটতে সব কষ্ট ভুলে গেছি। এখন আর কষ্ট নেই। যতদিন বেঁচে আছি মা'র জন্য কষ্ট করে যাবো। আমি হেরে যেতে চাই না।'
আত্মবিশ্বাস আর মনের জোরে স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েও যে সম্মানের সাথে জীবনধারণ করা যায় তা প্রমাণ করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের শাহানাজ ওরফে শানু।

Monday, August 19, 2019

নাটোরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় by কামাল মৃধা

হালতিবিলে নৌকায় ভ্রমণপ্রেমীরা
নাটোরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঈদুল আজহার ষষ্ঠ দিনেও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও তাদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকরা। উত্তরা গণভবন, ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিল, সিংড়া উপজেলার চলনবিল, নাটোর শিশু পার্ক, গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা, বাগাতিপাড়া উপজেলার গ্রিনভ্যালি পার্ক ও নাটোর রাজবাড়িতে ভ্রমণপ্রেমীরা ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন।
পাটুল বাজারের সেতুর আগে থেকে হালতিবিল পর্যন্ত মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বিলে নৌকা ভাড়া করে দারুণ সময় কেটেছে তাদের। পাটুল বাজার থেকে শুরু করে হালতিবিল পর্যন্ত বসেছে শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে নানান মুখরোচক খাবারের দোকান। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আছে পুলিশ বাহিনী।
সিংড়ার চলনবিল স্পট, গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা, নাটোর রাজবাড়ি আর লালপুরের গ্রিনভ্যালি পার্কেও ভ্রমণপ্রেমীরা ঈদ উদযাপন করেছেন। গ্রিনভ্যালি পার্কে দায়িত্বরত রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদের দিন থেকেই শত শত দর্শনার্থী পার্কে এসেছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ভিড়।
গ্রিনভ্যালি পার্ক দেখে খুশি সপরিবারে আসা মাসৌরা বেগম কাকলী। পার্কে বেড়ানো সদর উপজেলার দীঘাপতিয়া এলাকার শিশু কনক জানায়, গ্রিনভ্যালি পার্কে এসে তার ভালো লেগেছে। ট্রেন, নাগরদোলা, পাহাড় ও ইঞ্জিনবোটে উঠেছে সে। ভেতরের সেতুতে ছবিও তুলেছে।
নাটোরের উত্তরা গণভবন

সিংড়া উপজেলা থেকে মা-বাবার সঙ্গে গণভবন দেখতে এসেছে শিশু কুমকুম। এখানকার মিনি চিড়িয়াখানা, সংগ্রহশালা ও লেক দেখে তার ভালো লেগেছে। একই স্থানে বেড়াতে আসেন রাজশাহীর বাসিন্দা মুকুল।
নাটোরের এনডিসি জিয়াউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদের দিন থেকে উত্তরা গণভবনে দর্শনার্থীরা ভিড় করেছে। সেদিন দুপুর ২টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন আয় হয় ২৮ হাজার টাকা। এর পরদিন টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ঈদের পঞ্চম দিনে আয় হয়েছে ৫১ হাজার টাকা। শনিবার সকাল থেকেও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল।
শনিবার দুপুরে উত্তরা গণভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা মোটরসাইকেল, অটোচার্জার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি নিয়ে গণভবনে হাজির হচ্ছেন। টিকিট কাউন্টারে লক্ষ্য করা গেছে তাদের লাইন।
দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই গণভবনে বলে জানান এনডিসি জিয়াউর রহমান। এ কারণে তাদের খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।
নাটোরে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপ্রেমীদের নদী ভ্রমণ

Monday, May 14, 2018

সংগ্রামী মা খোদেজার গল্প

নাম খোদেজা, বয়স আনুমানিক ৪৫। প্রতিদিন তাকে দেখা যায় নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের হাট-বাজারে। পেশায় একজন কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ী হলেও তিনি একজন সংগ্রামী মা। তার বাড়ি পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর দমদমা গ্রামে। উত্তর দমদমা গ্রামের আঃ খালেকের মেয়ে খোদেজা। ৩০ বছর আগে বিয়ে হয় একই গ্রামের ইউসুফ মোল্লার সঙ্গে। ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান, খোরশেদ আলম। ছেলের জন্মের পরেই তার সংসার ভেঙ্গে যায়। তারপর থেকেই জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন খোদেজা। প্রায় ২৫ বছর যাবৎ সিংড়ার হাট-বাজারে কাঁচা তরকারীর ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ছেলেকে ছোট থেকে বড় করে বিয়েও দিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে ছেলে এখন স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ঢাকায়। নিয়মিত খোঁজ খবর নেবার পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠায় ছেলে খোরশেদ আলম। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন খোদেজা। প্রতি সপ্তাহে ৬১০ টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয় তাকে। টিনের একটি ছোট ঘরই হতদরিদ্র খোদেজা আবাসস্থল। সংগ্রামী মা খোদেজা বলেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা লাভ হয় ব্যবসা করে। বয়স্ক ভাতা ৪ মাসে ১৫০০ টাকা পাই। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষের সহযোগীতায় চলে আমার জীবন।

Thursday, May 10, 2018

জিপিএ ৫ পাওয়া নুরুজ্জামানের কষ্টের জীবন

প্রতিদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সারাদিনের ক্লান্তি। ঘরে বিদ্যুতের আলো নেই। তবুও থেমে থাকেনি নুরুজ্জামান শেখ। কুপির আলোতেই রাত জেগে পড়ালেখা করে সাফল্যের দেখা পেয়েছে। সে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের তালতলা গোরস্থান পাড়ার লোকমান শেখের ছেলে নূরুজ্জামান শেখ। তালতলা গ্রামের কবর স্থান থেকে মেঠোপথ ধরে এগিয়ে মাঠের মধ্যে তিনটি পরিবারের বসবাস। সেখানেই  নূরুজ্জামানের বাড়ি। পাঠকাঠির বেড়া  টিনের ছাউনি দেয়া তিনটি ঘর। দরজাবিহীন ঘরের একটি তার। সেখানে চলতো তার পড়ালেখা। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় ভাই মাহমুদ বনপাড়া ডিগ্রী কলেজের বিএ এবং অপর ছোট ভাই নুরুন্নবী ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। বাবা লোকমান শেখ নিজেও একজন দিনমজুর । তিন সন্তানকে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটাতে না পারলেও পড়ালেখা করে বড় হওয়া যায় এমন স্বপ্ন দেখাতেন । বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে  নূরুজ্জামান শেখ কোন ঘাটতি রাখেনি। ছোট থেকে বাবার কাজে সহযোগীতার পাশাপাশি নিজেও অন্যের বাড়িতে দিন মজুরের কাজ করতো। একটু বড় হয়ে বেছে নেয় রাজমিস্ত্রির কাজ। এমনকি রেজাল্টের দিনও রাজমিস্ত্রির কাজে ব্যস্ত থাকায় বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে তার ফলাফল জেনেছে। সে পরীক্ষার পর থেকে ঢাকার সাভারে নবীনগরের খুরগাঁও এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছে। কষ্টের মধ্য দিয়ে প্রাইমারী শেষ করে সে উপজেলার মিশ্রিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়।  প্রত্যেক শ্রেণীতেই ভাল ফলাফল করতো সে। এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি’তে জিপিএ ৫ পায় নুরুজ্জামান। তার স্বপ্ন ভাল কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাব তার সে পথের একমাত্র বাধা। দৃঢ় প্রত্যয়ী নুরুজ্জামান কখনই পড়া লেখা বন্ধ করতে চায়না। এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ ওয়াহাব জানান, নুরুজ্জামান খুবই মেধাবী ছাত্র। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে অনেক দুর এগিয়ে যাবে।

Thursday, May 3, 2018

সড়ক সংস্কারের দাবিতে সড়কে প্রতীকী মৎস্য শিকার

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাগাতিপাড়া-নাটোর প্রধান সড়কের চার কিলোমিটার সড়ক প্রশ্বস্তকরণ কাজে ধীরগতি হওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রতিবাদে ও সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছেন স্থানীয়রা। এসময় সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে প্রতীকী মৎস্য শিকার করেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা থেকে সোনাপাতিল যুব সংঘের ব্যানারে ঘণ্টা ব্যাপী এ প্রতীকী প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, বাগাতিপাড়ার মালঞ্চি বাজার থেকে তমালতলা মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে তিন ফুট সড়ক প্রশ্বস্ত করণ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে নাটোরের উত্তর বড়গাছা’র মীর হাবিবুল আলম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সে মোতাবেক গত বছরের ১২ই জুন এ কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০শে অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের ৬ মাস পার হতে চললেও দৃশ্যমান তেমন কাজ হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দু’পাশের কাজ বন্ধ রাখায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। ফলে বেড়েছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কটির সোনাপাতিল এলাকায় কাঠের গুড়ি ফেলে ও বাঁশ বেঁধে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এসময় তারা সড়কে জমে থাকা পানিতে প্রতীকী মৎস্য শিকার করে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। অবরোধ চলাকালে সড়কটির দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু এবং উপজেলা প্রকৌশলী এএসএম শরিফ খান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় তারা অবরোধকারীদের দ্রুত সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলে কর্মসূচী স্থগিত করে।
এব্যাপারে যুব সংঘের সাধারন সম্পাদক তানজিন সরকার দিবস জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির ফলে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই খানা খন্দকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ইউএনও দুইদিনের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস দেওয়ায় আগামী শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছে।
জনগনের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী এএসএম শরিফ খান বলেন, ইতিমধ্যেই ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তিনি দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন।

Wednesday, April 18, 2018

নাগর নদ দখল করে মাছ চাষ

‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত এই কবিতার উৎস নাটোরের সিংড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নাগর নদের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে অবৈধ দখলদার ভূমি দস্যুদের কালো থাবায়। নিয়মিত ড্রেজিং না করা, নদীজুড়ে পুকুর খনন ও বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই নদী আজ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। তাছাড়া নদীতে বাঁধের কারণে গত কয়েক দিনের বর্ষণ ও ঢলের পানি চলনবিলে ঢুকে পড়ায় হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধা-পাকা ইরি ধানসহ বিভিন্ন রবি শস্য। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ভূমি দস্যুদের অবৈধ দখলের কারণে সেই নাগর নদ ও তার সংযোগ নদী গুড়-আত্রাই নদীর ঐতিহ্য ও গতি প্রবাহ হারিয়ে যেতে বসেছে। ভূমি দস্যুরা সিংড়া উপজেলার জয়নগর তাজপুর গ্রাম থেকে সারদানগর ফার্ম পর্যন্ত নাগর নদ দখল করে শতাধিক পুকুর ও নদের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। সমপ্রতি খরসতি গ্রামের জনৈক প্রভাবশালী আলহাজ ইদ্রিস আলী ও শামসুল ইসলাম ওরফে কালু সাদনগর এলাকায় নাগর নদজুড়ে চারটি বিশাল বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এতে নদে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়াও সমপ্রতি কয়েক দিনের বর্ষণ ও ঢলের পানি নামতে না দেয়ায় ধর্মপুর, বাশারনগর, ভুলবাড়িয়া এলাকার বিভিন্ন ভাঙন দিয়ে ঢুকে চলনবিলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধা-পাকা ইরি ধানসহ বিভিন্ন রবিশস্য হুমকির মুখে পড়েছে। নাগর নদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদজুড়ে পুকুর খনন ও অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর পানি ধর্মপুর ও বাশারনগর এলাকার ভাঙন দিয়ে বিলে পানি ঢুকছে। আর প্রায় শতাধিক কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছে। বাঁধে কর্মরত কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীদের কারণে প্রতি বছরই এই ভাঙন দিয়ে বিলে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চলনবিলের প্রায় লক্ষাধিক কৃষক। তাছাড়া নদীতে লাখ লনব ঘনমিটার পলি পড়ে ও অবৈধভাবে পুকুর খননের কারণে এই নদী নাব্য হারিয়ে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলহাজ ইদ্রিস আলী বলেন, জয়নগর থেকে সারদানগর ফার্ম পর্যন্ত নাগর নদে প্রায় শতাধিক পুকুর রয়েছে। তার শুধু একটিই পুকুর। আর পানি প্রবাহের জন্য বাঁধের কিছু অংশ খুলে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি ভেক্যু দিয়ে আরো মাটি সরিয়ে দেবেন বলে জানান। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও তাদের নিষেধ করেছেন। পরে নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tuesday, December 26, 2017

যুবককে বিবস্ত্র করে পেটালো ছাত্রলীগ নেতা, এলাকায় তোলপাড়

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে মাদক সরবরাহ না করায় কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিবস্ত্র করে পেটানো হয়েছে। সোমবার রাতে বাগাতিপাড়া উপজেলার পেড়াবাড়িয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনা শুনে নাটোর-১ (লালপুর- বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থালে ছুটে এসে আলিফ মাহমুদকে দল থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে মাদক এনে দিতো লালপুর উপজেলার চকশোভপুর গ্রামের ওমর মন্ডলের ছেলে কামরুল ইসলাম। সম্প্রতি তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে কামরুল বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে মাদক সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যার পর কামরুলকে নিজের অফিসে ডেকে আনেন আলিফ। এ সময় পুনরায় তিনি মাদক সরবরাহ করার প্রস্তাব দিলে কামরুল তাতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কামরুলকে দিগম্বর করে পেটাতে থাকে ছাত্রলীগ নেতা আলিফ।
কামরুল নিজেকে রক্ষা করতে বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎকার করতে করতে ছুটে বাইরে বেরিয়ে বাজারে এস কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এই দৃশ্য দেখে আশেপাশের লোকজন একটা গেঞ্জির হাতা কেটে পরিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করার ব্যবস্থা করে দেয়। এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিগারেট কেনার ৫০০ টাকা চুরি করায় কামরুলের সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে বিষয়টা মিটমাট হয়ে গেছে। বিবস্ত্র করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছ থেকে মোবাইলে ফোনে জানতে পেরে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থালে ছুটে আসেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আলিফ মাহমুদকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। নাটোর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল হাসান জেমস জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে শুনেছি। আমরাও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবো।

Saturday, December 23, 2017

গুরুদাসপুরে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার : আটক ২

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের দীঘি থেকে শিশু খাদিজার (৭) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নজরুল ও নাজমা বেগম ওরফে নাজুকে আটক করেছে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলসা গ্রামের ওই শিশু বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নিখোঁজ হয়। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তাদের বাড়ির পেছনের দীঘিতে একটি বস্তা ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাশটি উদ্ধারের পর এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় জমায়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবেশী রশিদ ভক্তির ছেলে বাদলা ভক্তি ও শহিদুল ভক্তির বাড়ি ভাংচুর করে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিলশা দাখিল মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা প্রতিদিনের মতো বুধবার বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার শিশুটির চাচা মোর্শেদ আলী গুরুদাসপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগের পনিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তল্লাশি করে কোনো সন্ধান পায়নি। শিশুর বাবা মনিরুল ইসলাম ওরফে মধু জানান, তার শিশুকে হত্যা পর বস্তাবন্দি করে দীঘির পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে নাজু ও তার স্বামী বাদলা। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। মা রাখী বেগমের বিলাপে গ্রামজুড়ে শোকের মাতম উঠেছে। বাদলা ও শহিদুল ২০১২ সালে শাহ আলম হত্যার অন্যতম আসামি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস নিহত শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, নিখোঁজের তিন দিন পর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। হত্যার কারণ জানা যায়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Sunday, December 3, 2017

নাটোরে বিএনপি নেত্রীকে সভায় যেতে বাধা : দুইজন গুলিবিদ্ধ

নাটোরের সিংড়া উপজেলা বিএনপির পরিচিতি সভায় জেলা বিএনপির নেতাদের যেতে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটার সময় নাটোর সদর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল (২৪) ও আনসার ভিডিপির সদস্য সোহেল রানা (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ দু’জনকেই নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ রোববার সকালে সিংড়া পৌরসভা মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখার জন্য জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি শনিবার রাতে ঢাকা থেকে নাটোরের বাসায় আসেন। রোববার সকালে তিনি সিংড়া যাওয়ার জন্য বের হওয়ার সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মাসুমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি মোটরসাইকেলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা মিছিলসহ সাবেক মন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি দুলুর বাড়ির সামনে এসে গালাগালি করে সবাইকে জোর করে বাসার ভেতরে ঢুকিয়ে বাহির থেকে গেট আটকে দেয়। পরে পাশেই হাফরাস্তা এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে এমন খবরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে যায়। এসময় নাটোর সদর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল (২৪) ও আনসার ভিডিপির সদস্য সোহেল রানা (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার পর থেকে আলাইপুর এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ের আশেপাশে বিপুল পরিমাণ র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। এঘটনার কারণে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি দলীয় সভায় যোগ দিতে পারেননি। আহত নাটোর সদর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল সদরের বাগরোম গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। অপর আহত পথচারী সোহেল রানা রাঙামাটি আনসার ব্যাটালিয়ানে কর্মরত এবং নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা এলাকার ইয়াছিন আলীর ছেলে। সোহেল রানার পিঠে এবং রুবেলের বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এবিষয়ে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তাজা আলী বাবলু বলেছেন, ‘রোববার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাটোরে যুবদল-ছাত্রদল মিছিল করবে এজন্য তারা বহিরাগত অস্ত্রধারী ক্যাডারদের নিয়ে এসেছে এমন খবরের ভিত্তিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আলাইপুরে রাস্তায় অবস্থান নেয়। পরে দুলুর ক্যাডাররা গুলি করলে ছাত্রলীগ নেতাসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।’ অপরদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ‘সিংড়া উপজেলা বিএনপির পরিচিতি সভায় যোগদানের জন্য তার স্ত্রী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার বাসায় পুুলিশের সামনে প্রকাশ্যে হামলা করে। এসময় তাদের ছোঁড়া গুলিতেই দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়, এ ঘটনা এলাকার সবাই দেখেছেন। এর বিচার আমি নাটোরের মানুষের উপরে ছেড়ে দিলাম।’

Sunday, May 28, 2017

স্ত্রী খুনের ছুরি হাতে মসজিদে আশ্রয়, তারাবি বঞ্চিত মুসল্লিরা

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর সেই ছুরি হাতে মসিজদে আশ্রয় নেন স্বামী শফিকুল ইসলাম (৪২)। এর ফলে মাগরিব ও এশাসহ রমজানের প্রথম তারাবির নামাজ পড়তে পারেননি ওই এলাকার মুসল্লিরা। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রানীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদটি ঘিরে রেখে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর শফিকুলকে আটক করে। শফিকুল রানীনগর গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় সুপারি ব্যবসায়ী। ছয় বছর আগে উপজেলার বেড়গঙ্গরামপুরের দিনমজুর মৃত জিকির প্রামাণিকের মেয়ে হাজেরাকে বিয়ে করেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে সন্ধ্যায় শফিকুল ইসলাম নিজ বাড়িতে স্ত্রী হাজেরা বেগমকে (৩০) মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূ প্রাণ বাঁচাতে রাস্তার দিকে দৌড় দেন। তখন তাকে ধাওয়া করে গ্রামের মসজিদের কাছে তাকে ধরে ফেলেন এবং কুপিয়ে হত্যা করেন শফিকুল। এ সময় হাজেরাকে রক্ষায় রোকেয়া বেগম নামের এক প্রতিবেশী ছুটে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাতে জখম করা হয়। এক পর্যায়ে গ্রামের অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে মসজিদের মধ্যে গিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন শফিকুল। গুরুদাসপুর থানার ওসি  দীলিপ কুমার দাস জানান, স্থানীয়রা খবর দিলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ গিয়ে মসজিদটি ঘিরে রাখে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘাতক শফিকুলকে আটক করা সম্ভব হয়। এ সময় পুলিশ শফিকুলকে দুর্বল করতে মসজিদের ভেতরে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মসজিদে অবস্থানকালে শফিকুল নিজের গোপনাঙ্গে ছুরি দিয়ে আঘাত করায় গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে হাজেরার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি। স্থানীয় নাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লাবু জানান, আগেও একবার শফিকুল মসজিদের ভেতরে ঢুকে চারজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তিনি স্ত্রী হাজেরাকে কুপিয়ে হত্যা করলেন বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।

Thursday, May 25, 2017

গাছে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

নাটোরের বড়াইগ্রামে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক সংলগ্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কায় চঞ্চল আহমেদ (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সাইফুল ও আরমান নামে তার দুই বন্ধু আহত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে বনপাড়া-মৌখাড়া ফিডার সড়কের উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া কালিরঘুন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত চঞ্চল জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর কারিগরপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে এবার নাজিরপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বড়াইগ্রাম থানার ওসি শাহরিয়ার খান জানান, চঞ্চল তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে লালপুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কালিরঘুন এলাকার বাঁকে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে চঞ্চল গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দুর্ঘটনায় আহত অপর দু'জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

Thursday, May 18, 2017

ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ড থেকে নাটোর

ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ডের এক সুশ্রী তরুনী নাটোরে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন। থাইল্যান্ডে বহু বিবাহের চালু থাকা রীতি পচ্ছন্দ না হওয়ায় বিয়ে না করেই আইবুড়ো হয়ে বসেছিলেন সে দেশেরই এক তরুনী সুপুত্তো ওরফে ওম । ফেসবুকে হটাৎ বাংলাদেশের অনিক খানের সাথে তার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তা ভালবাসায রুপ নেয়। তাকে ভালবেসে আর আস্তা রেখেই ওকে শুধু আপন করে নিতেই বার বার নিজ দেশ চেড়ে বাংলাদেশে ছুটে আসেন তিনি। এবারেই তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি এখন দারুণ সুখি বলে হাসিমুখেই জানান। প্রেমিক অনিক খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বুধবার বিকেলে নাটোরের আদালত চত্বরে ইংরেজি ভাষায় এসব জনান থাই তরুনী সুপুত্তো ওরফে ওম ওরফে সুফিয়া খাতুন। ওম জানান, তাঁর বাড়ি থাইল্যান্ডের চো-অম জেলার পিচচোবড়ি এলাকায়। বাবা উইছাই ও মা নট্টাফ্রন আলাদা থাকেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে। তিনি পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে ব্যাংকে চাকরী করতেন।
এখন ফাস্টফুডের ব্যবসা করেন। বন্ধুবান্ধবরা সবাই বিয়ে করেছেন। তারা এনকেই বহুবিবাহে আসক্ত হয়ে পরেছেন। এটা তার ভালো না লাগায় ৩৬ বছর বয়সেও তিনি অবিবাহিতা। দোকানে বসে ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বাংলাদেশের ২২ বছরের তরুণ অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠান। অনিক প্রস্তাব সমর্থন করলে তাদের মধ্যে চেনাজানা শুরু হয়। ফোনে কথাবার্তাও চলতে থাকে। তাঁরা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেন। শুধু কথা বলার সীমাবদ্ধতা তাদের অস্থীর করে তুলে। গত ফেব্রুয়ারীতে তিনি বাবা-মার অনুমতি নিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বন্ধুর টানে একবার ছুটে এসেছিলেন বাংলাদেশে। বিমানবন্দরে অনিককে দেখে তার আরও ভালো লাগে। অনিকের পরিবারের সাথে দেখা করে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন প্রথমে কিন্তু অনিকের পরিবার আপত্তি করে। তবে অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের আদর অপ্যায়নে তিনি মুগ্ধ হন। মাত্র পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে আসায় সেবার তিনি তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে যান। আর যাওয়ার সময় বলে যান ছয়মাস পর আবার আসবেন কিন্তু ছয়মাস অপেক্ষা করতে পারেন তিনি। এ মাসের প্রথমদিকে তিনি আবারও অনিকের কাছে ছুটে এসেছেন। বিয়ে করার জন্য অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেন। দিনের পর দিন কান্নাকাটি করেন। না খেয়ে অনশন পর্যন্ত করেছেন। অবশেষে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে বুধবার তাঁরা ইসলাম ধর্মীয় ও হলফনামামুলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তার বর্তমানে তাঁর নাম সুফিয়া খাতুন।
সুফিয়া বলেন, মানুষের জীবন একটা জীবন সঙ্গীও হবে একটা কিন্তু তাদের সমাজে তা নেই। তিনি বিশ্বাস করেন অনিক তার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়েই থাকবে। তাকে পেয়ে আমি সুফিয়া দারুণ খুশি। নাটোর আদলত চত্তরে বসে অনিক খান জানান, তাঁর বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায়। পড়ালেখা তেমন একটা করেননি। তবে ভাংগা ভাংগা ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন। সেখানে তাঁর একটা মুঠোফোন মেরামতের দোকান রয়েছে। দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে ওমের সাথে তর পরিচয় হয়। এখন তারা একে অপরের সাথে সব সময় যোগাযোগ না রেখে থাকতে পারেন না। সুফিয়া তাকে একটা ভালো মোবাইল ফোন সেট উপহার দিয়েছেন। তাঁদের উভয়ের ফোনে সব সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। তারা ভিডিও কল করে দীর্ঘসময় কথা বলেন। এভাবেই তারা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেছেন। একে অন্যকে ছেড়ে থাকতে পারবেন না তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রের আইনকানুন মেনেই তারা সুখের সংসার গড়তে চান। অনিক বলেন, সুফিয়া এখন তার জীবনের একটি অংশ। ওর সাথেই সারা জীবন থাকতে চান। অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, মেয়েটি খুবই ভাল। মাত্র ক’দিনে সে আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, শিক্ষিত না কিন্তু তাতেও ওর কষ্ট নাই। আমাদের ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবে সে সারাক্ষণ মন খারাপ করে ছিল। ওর জন্য এখন তাদেরও কষ্ট হচ্ছে।

Wednesday, May 3, 2017

সিংড়ায় সড়কে প্রাণ গেল দুই ব্যবসায়ীর

নাটোরে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলার মালিহাট গ্রামের মৃত মুক্তার হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫০) ও একই গ্রামের পলানের ছেলে টুকু (৪০)। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের জামতলী এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই ব্যবসায়ী।
তাদের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এস আই হাবিবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে জয়পুরহাট থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে সিংড়া উপজেলার জামতলী এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এসময় আহত হয় অপর দুই ব্যবসায়ী। তাদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

Wednesday, April 26, 2017

চলনবিলে আত্রাই নদীর পানি: আতঙ্কিত কৃষক

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার চলনবিলে বর্ষার পানি ঢুকছে। উপজেলার নূরপুর, ভাগনাগরকান্দিসহ বেশ কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের চাষীরা। শ্রমিক সংকট থাকায় পাকা ধান বাড়িতে তুলতে পারছেন না কৃষক। চোখের সামনে পানি বেড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিতায় দিন কাটছে চলনবিলের কৃষকদের। এদিকে পাকা ধান কেটে জরুরি ভিত্তিতে ঘরে তুলতে এলাকায় মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন। এলাকাবাসী জানান, টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে সিংড়া উপজেলার আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি বেড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে। এতে জোড় মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল ব্রিজের নিচ দিয়ে চলনবিলের ফসলি জমিতে প্রতিনিয়ত পানি ঢুকছে। এতে নিংগইন, বালুভরা, হাঁসপুকুরিয়া, শেরকোল, তেলীগ্রাম, ভাগনাগরকান্দি, কালিনগর, বিলদহর মাঠের বোরো ধান ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিংগইন এলাকার কৃষক আশকান আলী জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি জোড়মল্লিকা বিলে ১৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। হঠাৎ নদীর পানি বিলে প্রবেশ করায় তিনিসহ শতাধিক কৃষক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এখন তাদের চোখে ঘুম নেই। এদিকে সোমবার থেকে জোড়মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। চলছে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, আত্রাই নদীতে ঢলের পানি উপচে চলনবিলে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাঁধ দেয়ায় এখন আর ঢুকতে পারছে না। তবে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে চলনবিলে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, টানা বর্ষণের নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চলনবিল এলাকায় পানি ঢুকছিল। পানি যাতে আর না ঢুকতে পারে সেজন্য দুটি স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সতর্ক করে মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগামী তিন-চার দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে নদীর পানি কমে যাবে। তখন ফসলের আর কোনো ক্ষতি হবে না।

Tuesday, March 14, 2017

বড়াইগ্রামে বিরল প্রজাতির তক্ষকসহ আটক ১

নাটোরের বড়াইগ্রামে বিরল প্রজাতির চারটি তক্ষক ও একটি শিবলিঙ্গসহ জাফর হোসেন (৫৮) নামে একজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার আগ্রাণ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা সেবনের উপকরণও জব্দ করা হয়। আটক জাফর হোসেন আগ্রাণ গ্রামের কাঞ্চন ব্যাপারীর ছেলে।
জেলা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক সুজন মিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল জাফর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তার শোয়ার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে চারটি তক্ষক, একটি শিবলিঙ্গ ও গাঁজা সেবনের উপকরণ পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।