Tuesday, February 9, 2016

হাফিজুর, আমাদের ক্ষমা করো by সোহরাব হাসান

হাফিজুর মোল্লা
ফরিদপুরের গরিব অটোরিকশাচালকের মেধাবী সন্তান হাফিজুর মোল্লা ঢাকায় এসেছিলেন উচ্চশিক্ষা নিতে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি ভর্তিও হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে। কিন্তু তাঁর সেখানে আর পড়া হলো না। ভর্তির এক মাস না যেতেই সরকার-সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ‘বড় ভাইয়ের’ খপ্পরে পড়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জীবনটাই হারাতে হলো তাঁকে।
হাফিজুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও এই শহরে তাঁর থাকার কোনো জায়গা ছিল না। শুরুতে হলে সিট পাওয়ার সুযোগও কম। তাই ছাত্রলীগের ‘বড় ভাইদের’ ধরে তিনি উঠেছিলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে। থাকতেন দোতলার দক্ষিণ পাশের বারান্দায়। হল প্রশাসন এখন আর ছাত্রদের সিট বরাদ্দ করে না। সিট বা বারান্দা যা-ই হোক বরাদ্দ দেন সরকার-সমর্থক ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।
পত্রিকার খবর অনুযায়ী, হলে ওঠার বিনিময়ে হাফিজুরকে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে তালিম নিতে যেতে হতো। কিন্তু শীতের রাতের ধকল সইতে পারেননি তিনি। ফলে আক্রান্ত হন নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডে। চলে যান গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুরে। শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হলে ভালো চিকিৎসার জন্য রওনা দেন ঢাকায়। গত মঙ্গলবার রাতে পথেই তিনি মারা যান।
এই মৃত্যুর জবাব কী? এটি কি কেবলই শারীরিক অসুস্থতা, না এর পেছনে আমাদের অসুস্থ ছাত্ররাজনীতিও দায়ী? হাফিজুরের সহপাঠী ও পরিবারের অভিযোগ, শীতের মধ্যে বারান্দায় থাকা এবং রাতের বেলায় ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যাওয়ার কারণে হাফিজ ঠান্ডায় আক্রান্ত হন। অসুস্থ অবস্থায় তীব্র শীতের মধ্যেও হাফিজকে গত ২৬ জানুয়ারি রাতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বাইরে থাকতে হয়। তাঁকে প্রায়ই অন্য কর্মীদের সঙ্গে হলের মাঠে ‘গেস্টরুম’ করতে হতো। গেস্টরুম হচ্ছে ছাত্রলীগের একটি দলীয় রীতি। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্রলীগের কনিষ্ঠ কর্মীদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠরা বসে আলাপ-আলোচনা করেন। এ সময় তাঁদের ছাত্রলীগ করতে বা হলে থাকতে হলে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দিদার মুহাম্মদ নিজামুল ইসলাম জোর করে হাফিজুরকে কর্মসূচিতে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘আমি নিজে ওকে হলে তুলেছি। বলেছি, কোনো ধরনের সমস্যা হলে আমাকে বলতে। কিন্তু সে এ নিয়ে আমাকে কখনোই কিছু বলেনি।’ দিদার হলে তুললেও ছাত্রলীগের অন্য কেউ যে হাফিজুরকে গেস্টরুম কর্মসূচিতে পাঠাননি সে কথা হলফ করে বলা যাবে না। বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের নানা গ্রুপ থাকে। এক গ্রুপের কর্মীকে অন্য গ্রুপে নিতে জবরদস্তি করার ঘটনাও আছে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাফিজ আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তাই যদি হয়, সেই অসুস্থ অবস্থায় কারা তাঁকে রাতের ডিউটিতে পাঠিয়েছে, সেটি তদন্ত করে দেখা দরকার।
হাফিজুরের বাবা ইসহাক মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত সপ্তাহের বুধবার হাফিজ ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছিল। প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে এসেছিল। কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, “আমি আর বাঁচব না।” জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী হয়েছে। ও জানায়, শীতের মধ্যে বাইরে ‘‘ডিউটি’’ করতে হয়। ওই দিন নাকি সে ওদের বলেছে, তার শরীরটা ভালো না। ডিউটিতে যেতে পারবে না। কিন্তু তার পরও মাঠে নিয়ে গিয়ে রাত সাড়ে নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখেছে।’
একজন অসুস্থ তরুণকে রাত নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত মাঠে দাঁড় করিয়ে রাখা কী ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি? এসব যাঁরা করেন, তাঁরা কীভাবে নিজেদের সুস্থ রাজনীতির বাহক বলে দাবি করেন। নবীনদের ছাত্র সংগঠনে আনার জন্য তাঁরা সভা-সমাবেশ করতে পারেন। দলীয় নীতি ও কর্মসূচি বোঝাতে পারেন। কিন্তু রাতের বেলায় চার ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে কেন?
সন্তানকে হারিয়ে হাফিজুরের বাবা এখন দিশেহারা। মা পাগলপ্রায়। চার দিন ধরে বাড়িতে রান্না হয়নি। কিন্তু মা-বাবার আহাজারি আমাদের হৃদয়হীন সমাজকে এতটুকু নাড়া দিতে পেরেছে বলে মনে হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ হল কিংবা হাফিজুর যে বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন, সেই বিভাগের সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। কেউ তাঁর মৃত্যুতে শোক জানায়নি। বাবা-মার খোঁজ নেয়নি। এমনকি যে ছাত্র সংগঠনটির নেতারা হাফিজুরকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছেন, সেই সংগঠনটিও তাঁর শোকাহত বাবা-মাকে সামান্য সমবেদনা জানানোরও প্রয়োজন বোধ করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, ঘটনাটি গুরুতর কি না, তিনি পরখ করে দেখবেন। যে খবরটি দুদিন ধরে পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, সেটি পরখ করার কী আছে? হাফিজুর ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ছাত্র সংঘাতের শিকার না হলেও গেস্টরুম কর্মসূচির নামে চালু হওয়া অপসংস্কৃতিরই বলি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি এই তথাকথিত গেস্টরুম সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত? অবহিত হলে তারা এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে? আর অবহিত না থাকলে হাফিজুরের মত্যুর দায় তাদেরও নিতে হবে। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরই।
এ ব্যাপারে সবচেয়ে নিষ্ঠুর মন্তব্য করেছেন সলিমুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ। তাঁর দাবি, বারান্দায় থাকলেও নিউমোনিয়া হতে পারে, না থাকলেও হতে পারে। আরও অনেকে বারান্দায় ছিলেন, তাঁদের নিউমোনিয়া হয়নি; কিন্তু হাফিজুরের হয়েছে। এ জন্য তাঁকেই দায়ী করেছেন এই প্রাধ্যক্ষ। হায় প্রাধ্যক্ষ! হায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!
তার পরও আমরা আশা করব, হাফিজুরের মৃত্যু তাঁদের বিবেক জাগ্রত করতে না পারলেও কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙাবে। ক্যাম্পাসে গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান ঘটাবে। কয়েক বছর আগে শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ার কারণে বেশ কিছু ছাত্রকে সারা রাত হলের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেবারে কর্তৃপক্ষ অন্যায়ের বিচার করলে হয়তো হাফিজুরকে শীতের রাতে নিউমোনিয়ায় ভুগে এভাবে মরতে হতো না।
হাফিজুরের বাবা জানেন, তিনি কখনো সন্তানকে ফিরে পাবেন না। তাই আকুতি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে আর কারও সন্তান হাফিজুরের ভাগ্য না বরণ করেন। নিজের সন্তানের বিনিময়ে অন্যদের সন্তানকে নিরাপদ দেখতে চেয়েছেন এই মহান বাবা।
কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি সন্তানহারা বাবার এই আকুতি শুনতে পাবে? তারা কি ক্যম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে চলা অপসংস্কৃতি ও জবরদস্তি বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? না প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনহীন ক্যাম্পাসে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগের সব অপকর্ম প্রশ্রয় দিতে থাকবে?
সদরপুরের দায়িত্বরত ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আমি লজ্জিত।’ কিন্তু এ লজ্জা তো তাঁর একার নয়। আমাদের সবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সেই লজ্জা স্পর্শ করবে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
‘হাফিজুর, আমরা তোমাকে বাঁচাতে পারিনি। এমনকি তোমার শোকাহত বাবা-মার কান্না মুছে দিতে আমাদের হাতও বাড়াতে পারিনি। আমাদের এই অক্ষমতা ও কাপুরুষতা ক্ষমা করো।’

পুলিশের জবাবদিহি- দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির বিবরণ প্রকাশ করুন

সরকারি দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিদের প্রকাশ্য বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদানে রাজনীতিবিদদের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় সতর্ক ও সংযত থাকা প্রত্যাশিত। এই বিষয়ে বাংলাদেশের জনপ্রশাসন–সংশ্লিষ্টরা অতীতে সচেতন ছিলেন বলা যায়। কিন্তু ইদানীং কোনো কোনো কর্মকর্তা সরকারের অত্যন্ত দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কিছু বক্তব্য দিচ্ছেন, যা প্রত্যাশিত নয়।
এটা অনস্বীকার্য যে জনপ্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ার পরেও এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি আছেন, যাঁরা সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সংকল্পবদ্ধ আছেন। তাই ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের কারণে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রশ্ন আসে না। সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের দ্বারা নিরীহ মানুষের নির্যাতিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইজিপি বলেছেন, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ বিভাগ নেবে না। কিন্তু ইউনিফর্ম পরে পুলিশের কেউ অপরাধ করলে ওই বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা তা এড়াবেন কি করে? রোববার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বেপরোয়া আচরণকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত জুলাইয়ে আইজিপি বলেছিলেন, চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধে জড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ বিভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাবে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। মোহাম্মদপুরে ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ বিভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। মিরপুরের চা-দোকানিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ডিএমপির শাহ আলী থানার ওসিসহ পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়।
শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। সাময়িক বদলি ও প্রত্যাহারসর্বস্ব ব্যবস্থা নেওয়ার মামুলি রেওয়াজ বন্ধ করতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে ‘ক্লোজ’ করাকেই শাস্তি মনে করা হয়। কিন্তু তা অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে রক্ষা করারই নামান্তর। পুলিশের নির্দিষ্ট অপরাধ ও নির্দিষ্ট শাস্তিসংবলিত বিবরণ নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করি।

খনিজের সন্ধানে, গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে

গ্রহাণু থেকে খনিজ পদার্থ আহরণ করবে লুক্সেমবার্গ
ঠিক এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষের নাম বিল গেটস। তাঁর সম্পদের পরিমাণও ১০ হাজার কোটি ডলারের অনেক নিচে। কিন্তু আজ আপনাকে এমন এক কৌশল বলতে পারি, যা মেনে চললে আপনার সম্পদের হিসাবটা হবে ট্রিলিয়ন ডলারে।
‘বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হতে হলে আপনাকে গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণ করতে হবে।’ জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী নিল টাইসনের কথা এটি। তাঁর সে কথা যদি সত্যি হয় তবে পশ্চিম ইউরোপের ছোট্ট দেশ লুক্সেমবার্গ ভাসবে অর্থের অথই সমুদ্রে। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী এটিয়েন শ্নাইডার সম্প্রতি জানিয়েছেন, গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড খননকারী প্রতিষ্ঠান ডিপ স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং প্ল্যানেটরি রিসোর্সের সঙ্গে কাজ করবে তাঁর দেশ। সেটা অবশ্যই অ্যাস্টেরয়েড থেকে খনিজ আহরণের জন্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য, মহাশূন্যে ভাসমান পাথরের এই খণ্ডগুলো থেকে সম্পদ আহরণের দ্বার উন্মোচন করা, যা আগে কখনো করা হয়নি।’
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক গবেষণাকেন্দ্র ঘুরে দেখার পর থেকেই শ্নাইডার খনিজ নিয়ে আলোচনা করে আসছেন। অবশ্য অ্যাস্টেরয়েড খননের কাজ কিন্তু এটাই প্রথম না। মহাশূন্যে খনিজ আহরণের সম্ভাবনা জানতে চলতি বছর ‘অসিরিসি রেক্স’ শিরোনামে এক অভিযান পরিচালনা করবে নাসা। ১০০ কোটি ডলার বাজেটের এ যাত্রায় বড়জোর ৬০ গ্রাম খনিজ পদার্থ সঙ্গে আনতে পারবে এই মহাকাশ যান।
কোটি কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও খরচটাও কিন্তু কম না। প্রতি অভিযানে গড়পড়তা খরচ পড়বে প্রায় ২৬০ কোটি ডলার। অবশ্য খরচ হওয়া এ টাকা উঠে আসার সম্ভাবনাই বেশি। এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের কোনো অ্যাস্টেরয়েড থেকে এই পরিমাণে খনিজ আহরণ সম্ভব, যা গোটা যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ আয়ের চেয়েও বেশি। হয়তো সে কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিছুদিন আগে আইন প্রণয়ন করেছেন, কোনো মার্কিন নাগরিক যদি মহাশূন্য থেকে কিছু নিয়ে আসে তবে তার মালিক যুক্তরাষ্ট্র সরকার! বুঝুন এবার!
মাইক অবলম্বনে মেহেদী হাসান

সবকিছুই স্মার্ট by পল্লব মোহাইমেন

আশ্চর্য্য জগতে ঘুরে আসা যায় স্যামসাংয়ের
গিয়ার ভিঅার পরে। স্যামসাংয়ের কর্মী একতা
পুন পরেছেন এই গিয়ার -প্রথম আলো
চারদিকের গোলাগুলি, যুদ্ধবিমানের ওড়ে যাওয়া শেষ হলো। হঠাৎ শুভ্র প্রকৃতি। ন্যাড়া গাছগুলোর মাথায় তুলো তুলে বরফ। মাথা নামিয়ে নিচে তাকাতেই দেখতে পেলাম তুষারে ঢাকা উঁচু-নিচু পথ, প্রান্তর। যেদিকেই তাকালাম শুধু সাদা আর সাদা। ওপরে তাকাতেই গম্ভীর আকাশ। পায়ের নিচে তো তুষারশুভ্র বরফ। কিন্তু আমি তো বসে আছি কুয়ালালামপুর সম্মেলন কেন্দ্রের (কেএলসিসি) বড় একটি ঘরে!
ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটির ব্যাপারটা এমনই। ৩১ ডিগ্রি তাপমাত্রার কুয়ালালামপুর থেকে আমাকে নিয়ে গেছে এক বরফ রাজ্যে। তারপরই একনিমেষে ঘন এক বনে বড় বড় গাছে বাঁধা ঝুলন্ত এক সেতুর সামনে। চোখ ঢাকা এক যন্ত্র পরেছিলাম। ফিতা দিয়ে মাথায় যন্ত্রটি আটকানোর পরপরই আশ্চর্য একেকটা জগৎ খুলে যাচ্ছিল চোখের সামনে। স্যামসাং গিয়ার ভিআর হলো যন্ত্রটির নাম। বাংলাদেশে এখনো যন্ত্রটি ছাড়া হয়নি, তবে গত মাসে স্মার্টফোন মেলায় এ যন্ত্র মাথায় পরে অনেকেই পেয়েছেন ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটির স্বাদ।
স্মার্ট ওভেন
৪ ফেব্রুয়ারি কেএলসিসিতে ‘স্যামসাং ফোরাম ২০১৬’ আয়োজনে গিয়ার ভিআরের এই চমকের সঙ্গে ছিল নতুন নতুন প্রযুক্তির চমক। আয়োজক স্যামসাং সাউথওয়েস্ট এশিয়া। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সাংবাদিকদের নিয়ে করা হয়েছিল সারা দিনের এই ফোরাম।
‘লোকাল ইজ দ্য নিউ গ্লোবাল’— নিজের বক্তৃতায় এ কথা বললেন স্যামসাং সাউথওয়েস্ট এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। মানেটা কী? জানা গেল স্মার্টফোন, স্মার্টটিভি তো বটেই, জীবন যাপনের সব রকম প্রযুক্তিপণ্যের বেলায় উদ্ভাবনকে ২০১৬ সালে গুরুত্ব দিচ্ছে স্যামসাং। সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের জীবন যাপনের অভ্যাসগুলো জেনে সে অনুযায়ী যন্ত্র তৈরির বিষয়টিই এখন স্যামসাংয়ের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্যই ‘মেক ফর ইন্ডিয়া’, ‘মেক ফর বাংলাদেশ’ ইত্যাদি স্লোগানে পণ্য তৈরি হবে একেক দেশের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী।
স্মার্টঘড়ি—গিয়ার এস–২, পাউ রোবট
২০১৫ সালে ১৮টি স্মার্টফোন ছেড়েছিল স্যামসাং। ফোরামে ঘোষণা এল গ্যালাক্সি এ-৫ ও এ-৭ ২০১৬ সংস্করণের দুটি স্মার্টফোন আসছে। ধাতব আর কাচ দিয়ে তৈরি এ দুটি স্মার্টফোনে বেশ আশাবাদী স্যামসাং। জানালেন স্যামসাং ইন্ডিয়ার পরিচালক (মোবাইল বিজনেস) মনু শর্মা। বাংলাদেশের বাজারে শিগগিরই আসবে ফোন দুটি। গ্যালাক্সি নোট ৫ আসছে এবার দুটি সিমকার্ড ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে। স্যামসাংয়ের এই ফোনগুলো চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। বাংলাদেশে এখনো ফোরজি চালু হয়নি। বিকেলে ফোরামে এক কথোপকথনে মনু শর্মা বললেন, ‘আমরা ফোরজির বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই। তাই আগেই ফোরজি প্রযুক্তির ফোন বাজারে ছাড়া হচ্ছে। যখন ফোরজি চালু হবে তখন যাতে গ্রাহক এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে।’
ফোরামে নতুন টেলিভিশনের ঘোষণা এল এসইউএইচডি টিভির। ৭০০ কোটি রঙে ছবি দেখাবে এই টিভি। আর ইন্টারনেট তো আছেই। স্মার্টঘড়ি গিয়ার এস–২ এখন আরও উন্নত করেছে স্যামসাং। বেশ কটি মডেলের ঘড়ির দেখা মিলল ফোরামে।
ছিল নানা রকম স্মার্টটিভি
বেশি দিন হয়নি। ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ নামে একটি বাক্য চালু হয়েছে। এর মানে হলো ঘর-গেরস্থালির সবকিছুই যেন ইন্টারনেটে যুক্ত থাকে। ইন্টারনেট বা অন্য কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা যন্ত্রগুলোই ‘স্মার্ট’। সঙ্গে পর্দা ছুঁয়ে কাজ করার সুবিধা থাকতে হয়। স্যামসাং ফোরামে নতুন কিছু ঘরের কাজের পণ্য দেখা গেল। কার্পেট বা মেঝে পরিষ্কারের জন্য দেখা গেল পাউ রোবট নামের এক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। এর সঙ্গে ক্যামেরা আছে। সেই যান্ত্রিক চোখে মেঝের ময়লা দেখে দেখে যন্ত্রটি এগোয়, বাতাস দিয়ে ময়লা শুষে নেয়। কাজ করে একা একাই। এ ছাড়া স্মার্টফোন দিয়েও একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নতুন যে রেফ্রিজারেটর দেখানো হলো সেটি ‘পাঁচের ভেতর এক’। এতে আছে দুটি কমপ্রেসর। মজা হলো ওপরের ফ্রিজার খালি থাকলে তখন সেটার কমপ্রেসর বন্ধ থাকবে, নিচেরটা চলবে। আবার নিচেরটা খালি থাকলে উল্টো কাজ হবে। দেখা গেল কাপড় ধোয়ার নতুন যন্ত্র অ্যাডওয়াশ। কাপড় ধুতে দিলেন, ধোয়া শুরু হলো, তখন হয়তো মনে পড়ল আরও কটি কাপড় ধুতে হবে। চিন্তা নেই। নতুন কাপড় যোগ করা যাবে এ যন্ত্রে। ওয়াশিং মেশিনটি স্মার্টফোন দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নতুন আরেকটি যন্ত্র দেখাল স্যামসাং-স্মার্ট ওভেন।
হাতের মুঠো আর ঘরের যত যন্ত্রপাতি সবকিছুকেই স্মার্ট বানানোর চেষ্টা করছে স্যামসাং। ফোরামের সংবাদ সম্মেলনের শেষে পর্দায় দেখানো হলো এক প্যান্ডোরার বাক্স। বন্ধ সেটি। তবে আরও ঠিকরে বেরোচ্ছে। এই বাক্স খোলা হবে ২১ ফেব্রুয়ারি, স্পেনের বার্সেলোনায়। এটি থেকে সম্ভবত বের হবে গ্যালাক্সি এস ৭ স্মার্টফোন। স্যামসাং প্রযুক্তির নতুন চমক।

লুটেরাদের স্বার্থে ধ্বংসাত্মক কাজে মেতে উঠেছে সরকার : আনু মুহাম্মদ

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা দেশের বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে বিকল্প পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই পথ গ্রহণ না করে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থে ধ্বংসাত্মক কাজে মেতে উঠেছে। বিদ্যুৎ সংকটকে জিম্মী করে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষায় ‘দায়মুক্তি আইন’ করে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল স্থাপন করা হয়েছে, আরো চুক্তি করা হচ্ছে।
তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ ফেডারেশন মিলনায়তনে জাতীয় কমিটি ঢাকা মহানগর আয়োজিত এই আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ ও জনমত উপেক্ষা করে সরকার যদি রামপাল-ওরিয়ন এর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অব্যাহত রাখে তা হবে দেশের জন্য আত্মঘাতী। বিশ্ব-ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সুন্দরবন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রক্ষাবর্ম। আইলা-সিডরসহ অতীতের অনেক বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে বাঁচিয়েছে। সেই সুন্দরবনের পাশে ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা স্থাপনার কারণে সেটি ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। সুন্দরবন এর পাশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ও রামসার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সমুদ্রের গ্যাস-তেল উত্তোলনে শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করে, প্রয়োজনে কন্ট্রাকটার নিয়োগ করে দেশি প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সরকার এ কাজ না করে বিদেশী কোম্পানীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গ্যাস ব্লক ইজারা দিচ্ছে।
বক্তারা বলেন, আমরা বিদ্যুৎ চাই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প স্থান ও পথ আছে কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নেই।
তারা দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়ন ও সুন্দরবন রক্ষায় আগামী ১০ থেকে ১৫ মার্চ সারাদেশে থেকে সুন্দরবমুখী জনযাত্রা সফল করার আহ্বান জানান।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন মহানগরের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ফজলু। এতে অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক তানজিক উদ্দিন খান, অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, কিশোর রায়, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, মানষ নন্দী, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন। সভা পরিচালনা করেন তৈমুর খান অপু।

মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধাপরাধ

৮ জানুয়ারি (রেডিও তেহরান): হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের নিরীহ জনগণের ওপর ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে।
সংস্থাটি বলেছে ইয়েমেনের কোনো কোনো অঞ্চলে সৌদিআরব সিবিইউ-৫৮ মডেলের ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে। ১৯৭৮ সালে আমেরিকার একটি অস্ত্র তৈরির কারখানায় এই বোমাগুলো তৈরি করা হতো।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে ক্লাস্টার বোমাগুলো ইয়েমেনের রাজধানী শহর সানআর আশেপাশের বহু আবাসিক এলাকায় নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই সংস্থার অস্ত্র পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত বিভাগের প্রধান স্টিভ গুস বলেছেন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আবাসিক এবং বেসামরিক এলাকায় ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপের ফলে বহু নিরীহ মানুষ মারা গেছে। পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ধ্বংসসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি আরব তাদের কয়েকটি আরব দেশকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকাসহ তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সবুজ সংকেতে ২০১৫ সালের শেষের দিকে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে। তারা মূলত হামলার টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছে আবাসিক এলাকাগুলোকে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য দেশ সৌদিআরব ইয়েমেনের জনগণের ওপর ওই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন ও বৃটেনের অস্ত্র ব্যবহার করে।
বৃটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান গেল বছরের মাঝামাঝিতে একটি নিবন্ধ ছেপেছিল ‘সৌদি আরবের কাছে বৃটেনের অস্ত্র বিক্রির লজ্জা ও ইয়েমেন ’ শিরোনামে। ওই নিবন্ধে এসেছে ইয়েমেনে হামলা শুরু করতেই ব্রিটিশ সরকার সৌদিআরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির চল্লিশটির মতো ছাড়পত্র দিয়েছে।
মারবাধিকার রক্ষার দাবিদার আমেরিকা ও বৃটেন সৌদি আরবের দিকে শুধু তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের দৃষ্টিতেই তাকায়। রিয়াদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি মাথায় রেখে তারা মানবাধিকারের প্রসঙ্গটি ধামাচাপা দিয়ে রাখে। প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমাদের সম্পর্ক বিশেষ করে আমেরিকা ও ব্রিটেন যে সৌদিআরবের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে তার উদ্দেশ্য হলো সৌদিআরবের পেট্রোডলার। তাদের পেট্রোডলারের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক কল্যাণ। ব্রিটেন এবং আমেরিকার অস্ত্রের কারখানাগুলোর ভাগ্যেই জোটে সৌদিআরবের ওই তেল বিক্রির অর্থ।
সৌদি নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী জোট গত নয় মাসেরও বেশি সময় আগে ইয়েমেনে অভিযান শুরু করার সময় যে ভবিষ্যৎবাণী করেছিল, তা তো সেখানে বাস্তবায়িত হয়নি বরং এখন দেখা যাচ্ছে ইয়েমেন সৌদি যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্র বা মঞ্চে পরিণত হয়েছে। তারা তাদের সুবিধাবাদী পশ্চিমা মিত্রদের নীরবতার সুযোগে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের জনগণের ঘরবাড়ি,দোকানপাট সব ধ্বংস করেছে। এককথায় পুরো ইয়েমেনের উপরিকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। নিষিদ্ধ মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে ইয়েমেনের নিরপরাধ নারী ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। নি:সন্দেহে এইসব অপরাধের দায় সৌদিআরবের পশ্চিমা মিত্ররাও অস্বীকার করতে পারবে না। কেননা তারাও এই হত্যাযজ্ঞের অংশীদার।
ইয়েমেনি নারী ও জনতার ওপর গণহত্যা চালানো, সৌদি আরবে শিয়া ধর্মীয় ও বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব শেখ নিমর আন নিমরের হত্যাসহ বিরোধী মতের লোকদের ওপর দমন অভিযান চালানো এবং সেইসাথে ইরাক ও সিরিয়ায় হামলাকারী বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। এরকম একটি অবস্থায় সৌদি আরব যে নিজ দেশ এবং ইয়েমেনে ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে তা নির্বিকারভাবে উপেক্ষা করে যাচ্ছে আমেরিকা এবং ব্রিটেন।
ইয়েমেনি সূত্র জানিয়েছে ২০১৫র ডিসেম্বর পর্যন্ত সেদেশে সৌদি আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধের মাত্রা এমন ছিল যে ওই সময়ের মধ্যেই সাড়ে হাত হাজার ইয়েমেনি নিহত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টারসহ সেবামূলক জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। বিশ্ববাসী জানে ইয়েমেনে এখন মানবিক বিপর্যয় কোন পর্যায়ে রয়েছে।

জোর-জবরদস্তি শুরু করেছে মাইক্রোসফট!

উইন্ডোজ ১০
উইন্ডোজের পুরোনো সংস্করণ ব্যবহারকারীদের জোর করে উইন্ডোজ ১০ দিচ্ছে মাইক্রোসফট। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের ডাউনলোড হতে শুরু করছে। নতুন সংস্করণ পাওয়ার জন্য অনুরোধ বা কোনো কিছু ক্লিক না করলেও ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে এই সফটওয়্যারটি। প্রশ্ন উঠেছে, কেন জোর করে উইন্ডোজ দিচ্ছে মাইক্রোসফট?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অধিক সংখ্যক পিসিতে উইন্ডোজ ১০ দেওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টার একটি অংশ হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ডাউনলোড প্রক্রিয়া। গত বছরের জুলাই মাসের পর থেকে অনুরোধের ভিত্তিতে উইন্ডোজ ১০ বিনা মূল্যে হালনাগাদ করার সুযোগ রেখেছিল মাইক্রোসফট। কিন্তু চলতি সপ্তাহ থেকে জোর-জবরদস্তি শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যাঁরা উইন্ডোজের জন্য অনুরোধ করছেন না, তাঁদেরও জোর করে উইন্ডোজ ১০ দিয়ে দিচ্ছে মাইক্রোসফট।
এটা কী ভালো?
উইন্ডোজ ১০-এর বেশ কিছু সুবিধা আছে। উইন্ডোজের আগের সংস্করণগুলো, বিশেষ করে উইন্ডোজ ৮-এর চেয়ে উইন্ডোজ ১০-এ অনেক সুবিধা যুক্ত হয়েছে। এতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, একাধিক যন্ত্রে কাজের উপযোগী ব্যবস্থা রয়েছে। পিসিতে কোনো অ্যাপ কিনলে তা ফোন ও এক্সবক্সে ব্যবহার করা যাবে। তবে সমস্যাও আছে। নতুন অ্যাপ উইন্ডোজ ১০-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে, তাই পুরোনো পিসিতে নতুন অ্যাপ বা সফটওয়্যার সমর্থন না-ও থাকতে পারে।
মাইক্রোসফটের কী লাভ?
মাইক্রোসফটের হালনাগাদ সফটওয়্যার ব্যবহারে সুবিধা আছে। এতে মাইক্রোসফটের আয় কমে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সফটওয়্যার বিক্রি থেকে যে আয় আসে, তার ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে মাইক্রোসফট। এর পরিবর্তে বিং সার্চ, ওয়ানড্রাইভ স্টোরেজ ও স্কাইপ কমিউনিকেশন থেকে অর্থ আয়ের পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম এসব অ্যাপ অধিক ব্যবহারে জোর দেয়। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন ও প্রিমিয়াম ফিচার বিক্রি করে অর্থ আয় করে। অ্যাপ নির্মাতাদের উইন্ডোজ ১০-এর জন্য আরও অ্যাপ তৈরিতে উৎসাহিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলকে অনুসরণ করছে মাইক্রোসফট।
সতর্কতা জরুরি
সিস্টেম হালনাগাদ সব সময় ঝামেলামুক্ত হয় না। যাঁদের পুরোনো পিসি, কম গতিসম্পন্ন প্রসেসর, কম মেমোরি আর কম জায়গা, তাঁদের সিস্টেম হালনাগাদে সমস্যা হতে পারে। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল হতে পিসির সর্বনিম্ন কনফিগারেশন পরীক্ষা করে। কিন্তু সর্বনিম্ন কনফিগারেশনে উইন্ডোজ ১০ চালালে পিসি গতিসম্পন্ন হয় না। পুরোনো পিসিতে থাকা অনেক সফটওয়্যার উইন্ডোজ ১০-এর সঙ্গে কাজ করে না। তখন দরকারি সফটওয়্যারগুলোর হালনাগাদ করা লাগে। প্রিন্টার, স্ক্যানারের জন্য আলাদা ড্রাইভার লাগে।
কীভাবে ঠেকাবেন
উইন্ডোজ ১০-কে মাইক্রোসফট এখন নিরাপত্তা হালনাগাদ হিসেবে দেখাচ্ছে। অপশনাল থেকে সফটওয়্যারটিকে ‘রিকমেনডেড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। যাঁরা কম্পিউটারে অটোমেটিক বা স্বয়ংক্রিয় হালনাগাদ চালু রেখেছেন, তাঁদের উইন্ডোজ ১০ ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে। এই ডাউনলোড ও অটোমেটিক আপডেট ঠেকাতে উইন্ডোজ আপডেটের সেটিংস থেকে অটোমেটিক আপডেট বন্ধ করে দিন। মাইক্রোসফট এটাকে অবশ্য নিরুৎসাহিত করছে। কারণ, মাইক্রোসফট বলছে, এতে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা প্যাঁচ ব্যবহারকারী নাও পেতে পারে।
আপনি যদি বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তবে সিস্টেম ব্যবস্থাপকের অনুমতি ছাড়া উইন্ডোজ স্বয়ংক্রিয় হালনাগাদ হতে পারবে না। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট বিনা মূল্যে উইন্ডোজ ১০ দিচ্ছে না। ২০২০ সাল পর্যন্ত উইন্ডোজ ৭, ২০২৩ সাল পর্যন্ত উইন্ডোজ ৮-এর জন্য নিরাপত্তা হালনাগাদ দেবে মাইক্রোসফট। তত দিনে অবশ্য নতুন ধরনের পিসি বাজারে চলে আসতে পারে।
অবশ্য যাঁরা উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল করতে চান, তাঁরা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ হালনাগাদ দেখালে তার অনুমতি দিতে পারেন। উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল করলে ছবি বা অন্য ডকুমেন্টের কোনো সমস্যা হয় না। তবে নতুন সফটওয়্যারের কারণে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই আগেভাগে ফাইল ব্যাকআপ রাখুন। এ ক্ষেত্রে অনলাইন স্টোরেজ সেবা যেমন ওয়ানড্রাইভ কিংবা ড্রপবক্স কাজে লাগাতে পারেন।
যাঁদের উইন্ডোজ ১০ আপডেট হয়ে গেছে, তাঁরা কী করবেন? মনে রাখতে হবে, প্রায় এক মাস ধরে পুরোনো সিস্টেমের ব্যাকআপ রেখে দেয় মাইক্রোসফট। সেটিংসে ‘আপডেট অ্যান্ড সিকিউরিটি’তে গিয়ে ‘রিকোভারি’ দিলে উইন্ডোজ ৭ বা ৮-এ ফেরত আসা যাবে। ফাইল ঠিকঠাক থাকলেও কিছু সফটওয়্যার অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

২০১৬ বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ফুটবলার, ক্রিকেটার, দাবাড়ু!

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় দেখা যেতে পারে ক্রীড়া জগতের বেশ কয়েকটি নতুন মুখকে। প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলার থেকে  ক্রিকেটার, দাবাড়ু অনেকেরই এবারের নাম থাকতে পারে প্রার্থী তালিকায়। যদিও প্রার্থী  হওয়ার ব্যাপারে কেউই মুখ খুলতে চাননি।   দুহাজার এগারোর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় পালাবদল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নাম ছিল টালিগঞ্জের একঝাঁক চিত্র তারকার। এরপর দুহাজার চোদ্দর লোকসভা নির্বাচনেও বজায় ছিল সেই ট্রেন্ড। দুহাজার ষোলর বিধানসভা নির্বাচনে কি কিছুটা হলেও স্ট্যান্স বদলাচ্ছে শাসকদল? ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন ফুটবলার রহিম নবী, প্রাক্তন ফুটবলার গৌতম সরকার, বিদেশ বোস, ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা এবং দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া। তৃণমূল সূত্রের খবর, রহিম নবী প্রার্থী হতে পারেন পাণ্ডুয়া থেকে। লক্ষ্মীরতন শুক্লা প্রার্থী হতে পারেন বালি অথবা উত্তর হাওড়া আসনে। যাদবপুর থেকে প্রার্থী হতে পারেন দিব্যেন্দু বড়ুয়া। যদিও প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন সকলেই। কয়েকদিন আগেই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন লক্ষ্মী রতন শুক্লা। তখন থেকেই তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। প্রাক্তন ফুটবলার গৌতম সরকার এবং বিদেশ বোস কোনো আসন পাবেন তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই খবর। তবে সারদাকাণ্ডে মদন মিত্র গ্রেফতার হওয়ার পর প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা গেছে গৌতম সরকারকে। তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি একরকম পাকা বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর।  যদিও ভোট ময়দানে শেষ পর্যন্ত কারা কারা নামবেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত।

ফুডস্টল আছে, অথচ বাংলাদেশি বইয়ের গুরুত্ব নেই

 ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা' – নামে আন্তর্জাতিক তো বটে, কিন্তু তার চরিত্র কি আদৌ আন্তর্জাতিক? তা হলে বইয়ের বাইরেও কেন এত অবান্তর, অপ্রয়োজনীয় আয়োজন?   ময়দান থেকে কলকাতা বইমেলা যবে ইএম বাইপাসের ধারে পাকাপোক্ত মিলনমেলা প্রাঙ্গনে তার ঠিকানা বদলেছে, তবে থেকে মেলার আর আয়তনে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ নেই, কিন্তু বইমেলা বাড়ছে বৈচিত্র্যে৷ বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও নানা পশরা জায়গা পাচ্ছে মেলায়, যার সঙ্গে অন্তত পঠন-পাঠনের কোনো সম্পর্ক নেই৷ অথবা আছে, মানে আক্ষরিক অর্থে, কিন্তু যার জন্যে এই বইমেলার আয়োজন, সেই সাহিত্যের বাড়বাড়ন্তের সম্ভাবনা নেই৷ যেমন ধরা যাক, একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজকাল কলকাতা বইমেলায় স্টল দেয়, যার মূল উদ্দেশ্য নতুন শিক্ষার্থীর সন্ধান করা৷ বলা বাহুল্য যে, এ সব শিক্ষা রীতিমত খরচসাপেক্ষ এবং শিক্ষাদানের গোটা প্রক্রিয়াটিই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে৷ অর্থাৎ এটি একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ, বইমেলায় যার উপস্থিতির অর্থই হলো সেই ব্যবসা বাড়ানো৷ শিক্ষার প্রসার সেখানে উপলক্ষ্য মাত্র৷   তাও যদি ধরে নেওয়া যায়, উচ্চশিক্ষা পরোক্ষে বই পড়ার অভ্যাসকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, সোনার গহনা কীভাবে বইমেলায় জায়গা পায়! অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি, এবারের কলকাতা বইমেলায় একটি নামি প্রতিষ্ঠানের গহনার দোকান রয়েছে৷ এর পাশাপাশি রয়েছে আচার-হজমির দোকান, ঘর সাজাবার উপকরণের দোকান এবং অসংখ্য খাবারের দোকান৷ বইমেলা মিলন মেলায় সরে আসার পর প্রথমদিকে খাওয়া-দাওয়া সীমাবদ্ধ ছিল কেবল ফুড কোর্ট চত্বরের মধ্যে৷ কিন্তু এ বছর অগুন্তি খাবারের দোকান গুঁজে দেওয়া হয়েছে বইয়ের দোকানগুলোর মধ্যে৷ এবং সেগুলো যাঁরা চালাচ্ছেন, তাদের সম্ভবত কোনো ধারণাই নেই যে এটা আসলে বইয়ের মেলা৷ প্রায় হাত ধরে টেনে তারা সবাইকে দাঁড় করিয়ে দিতে চান খাবারের স্টলের সামনে৷ ঠিক যেভাবে বিভিন্ন বিনোদনমূলক টিভি চ্যানেলের স্টলে প্রায় প্রতিযোগিতা চলছে নিজেদের দিকে বেশি লোক টানার৷ উচ্চগ্রামে লাউডস্পিকার বাজিয়ে তারা নানারকম অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে দিনভর, যার সঙ্গে, বলাই বাহুল্য, সাহিত্যের কোনো সম্পর্ক নেই৷   অথচ সাহিত্যের প্রসারে কি যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে? মঙ্গলবার কলকাতা বইমেলায় পালিত হলো ‘বাংলাদেশ দিবস'৷ এই উপলক্ষ্যে এক আলোচনাসভায় বাংলাদেশের জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের মাজহারুল ইসলাম৷ তিনি রীতিমত খেদ প্রকাশ করলেন যে প্রতিবেশী দেশ, বাংলাভাষী দেশ, তাও কলকাতা বইমেলায় প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশকে, তার সাহিত্যকে৷বাংলাদেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচিতি নেই এপারের বাঙালি পাঠকদের৷ তার কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ে না কলকাতা বইমেলার উদ্যোক্তাদের তরফে৷ উল্টো বাংলাদেশের বই বেআইনিভাবে প্রকাশ ও বিক্রি করেন কলকাতার কিছু অসাধু প্রকাশক৷ অথচ তা আটকাবার কোনো প্রচেষ্টা নেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের৷ পশ্চিমবঙ্গ প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা সমিতির পক্ষে সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেন, বই জালিয়াতির একই ঘটনা ঘটে বাংলাদেশেও৷ বরং কলকাতা, তথা পশ্চিমবঙ্গেই বাংলাদেশের বই স্থানীয় প্রকাশকরা আইন মেনে, নিজেদের নামে, নিজেদের আইনি দায়িত্বে প্রকাশ করেন৷ কিন্তু বাংলাদেশে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নকল করা হয় একেকটি বই৷   এই তর্কের হয়ত একদিন নিষ্পত্তি হবে, কিন্তু সেই তর্কে জেতার থেকেও বড় কথা, বাংলাভাষী দুই অঞ্চলের মধ্যে যে বিশ্বাসহীনতা, তা প্রকট হচ্ছে এই বিতর্কে, যা বাংলা সাহিত্যের পক্ষেই ক্ষতিকর৷ পাশাপাশি বইয়ের থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যে হুজুগ, তাই বা বাঙালির কতটা উপকার করবে! কলকাতা বইমেলা আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে নথিভুক্ত হতে পারে, কিন্তু তা আদৌ বাংলা সাহিত্যের উত্তরণে, প্রসারে কোনো সাহায্য করছে কিনা, সে প্রশ্নও থেকেই যাবে!

শাহ আলী থানার নতুন ওসি

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন শাহ আলী থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। চা বিক্রেতা বাবুল মাতবরের মৃত্যুর ঘটনায় আগের ওসি শাহীন মণ্ডলকে প্রত্যাহার করার পর সোমবার তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহাঙ্গীর আলম সরকার এ তথ্য জানান। চাঁদা চেয়ে না পেয়ে গত বুধবার শাহ আলী থানার পুলিশ ও পুলিশের তথ্যদাতা চা-বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরকে জ্বলন্ত চুলার ওপর ফেলে দেয় বলে সেখানে উপস্থিত লোকজন অভিযোগ করেছেন। এর পরদিন বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

হত্যা মামলায় তৃণমূল নেতাসহ ১১ জনকে ফাঁসির আদেশ

 জমি দখলকে কেন্দ্র করে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে গৃহবধূ খুনের মামলায় তৃণমূল নেতা-সহ ১১ জনকে ফাঁসি দেওয়ার নির্দেশ দিল কৃষ্ণনগর আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে নদিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (৩) পার্থসারথী মুখোপাধ্যায় এই রায় দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বরের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডের এই রায় দিয়েছে আদালত। কৃষ্ণগঞ্জের ঘুঘরোগাছি গ্রামে প্রায় ২২ বিঘা বিতর্কিত জমির দখল ঘিরে ঘটনাটি ঘটে। ঘুঘরোগাছির ৫৪ জন কৃষক জমিটি চাষ করতেন। তৃণমূল নেতা লঙ্কেশ্বর ঘোষ দলবল নিয়ে সেই জমি দখলের চেষ্টা করেন। ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর ট্রাক্টর নিয়ে ওই বিতর্কিত জমিতে নেমে ফসল নষ্টের চেষ্টা করছিল লঙ্কেশ্বর ঘোষের বাহিনী। কৃষকরা বাধা দিতে এলে ব্যাপক বোমাবাজি শুরু হয়। লঙ্কেশ্বরের বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। গুলি খেয়ে নিজের জমিতেই লুটিয়ে পড়েন অপর্ণা বাগ নামে কৃষক পরিবারের এক মহিলা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বেপরোয়া গুলি-বোমায় জখম হন আরও দুই মহিলা ও এক ছাত্র।

মুসলিম ভোট ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট অক্ষুণ্ন রাখতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। দলটি ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি, জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ তথা রাজ্য এআইইউডিএফ প্রধান মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এমনকি দিল্লি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ বুখারীর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।   বুধবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী তাকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠক নিয়ে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বিশেষ মুখ খুলতে না চাইলেও মিডিয়া সূত্রে প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি ১২ টি আসনের দাবি জানিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে নাকি ৫ টি আসন দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এমনকি জেতা আসনে প্রার্থী করে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে মন্ত্রী করারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে খবর রটেছে। যদিও তৃণমূল বা এআইইউডিএফ-এর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।   অন্যদিকে, মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তৃণমূলে যোগ দেবেন কি না তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী অবশ্য এ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানান নি। তিনি বলেছেন, ‘দলে যোগ দেব কি না এখনই এ নিয়ে কোনো কথা বলব না। আগামী দিনেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কী হবে। তবে তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করব।’ এ নিয়ে সাসপেন্স কায়েম থাকলেও ১২ ফেব্রুয়ারি কোলকাতা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূল কংগ্রেসের জেনারেল কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দেবেন বলে স্বীকার করেছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার ওই সভায় যাওয়ার জন্য বলাতেই নাকি তিনি ওই বৈঠকে যাবেন।   গত নভেম্বরে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর আমন্ত্রণে কোলকাতার শহীদ মিনারে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।   অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার দিল্লির জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ বুখারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তৃণমূলের এক সময়ের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়। মমতার নির্দেশেই তিনি মাওলানা বুখারির সঙ্গে দেখা করেন। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে সমর্থন করার জন্য তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন মুকুল রায়।   এদিকে, রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারকে পরাজিত করতে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের মধ্যে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও রাজনৈতিকভাবে এরা দীর্ঘকাল ধরে পরস্পরের বিরোধী এবং চরম শত্রু বলে পরিচিত।   গত ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল ৩৯.৭৯ শতাংশ, বামফ্রন্ট ২৯.৯৫ শতাংশ, কংগ্রেস ৯.৬৯ শতাংশ, বিজেপি ১৭.০২ শতাংশ এবং অন্যান্য ৩.৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাম্ভাব্য বাম–কংগ্রেস জোট কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।   কংগ্রেসের দাবি, জোট হলে তৃণমূল থেকে অনেক ভালোমানুষ তাদের সঙ্গে যোগ দেবে। অন্যদিকে, এতদিনের রাজনৈতিক শত্রু বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করলে কংগ্রেসের মধ্যে থেকে ভাঙন ধরার আশঙ্কা রয়েছে।   বস্তুত, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের মধ্যে জোট তৎপরতা শুরু হওয়ায় রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট যাতে এদিক-ওদিক না হয় সেজন্য এখন থেকে ঘর গোছাতে শুরু করেছে তৃণমূল। কারণ, এই সংখ্যালঘু ভোট যদি একচেটিয়া কোনো দলের দিকে যায় তাহলে সেই দলেরই পাল্লা ভারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারা কী জোট করল যায় আসে না: মমতা

বাম-কংগ্রেস জোট সম্ভাবনাকে 'উপেক্ষা' করে দলকে একক শক্তির উপর ভরসা রাখতে বললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দলের অন্দরের খবর, শনিবার কালীঘাটে তৃণমূলের জেলাওয়াড়ি বৈঠকে মমতা বলেছেন, 'কারা কোথায় কী জোট করল সে সব নিয়ে দলের ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷ সরকারের পাঁচ বছরের কাজের সুবাদে তৃণমূল 'একক শক্তিতে'ই অবলীলায় ক্ষমতায় ফিরবে৷' ওই বৈঠকে মমতা জানান, চলতি মাসের ২৯ তারিখ থেকে মার্চের ২ তারিখের মধ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন৷ সেইমতো প্রস্ত্তত হতে হবে৷ মার্চ থেকে তিনি নিজেই প্রচারে নামবেন৷ ৎ মাত্র দু'দিন আগে, বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরে সাংসদ মুকুল রায় কলকাতা বিমানবন্দরে বলেছিলেন তৃণমূলের কোনও জোট করার প্রয়োজন নেই৷ তিনি জোট করতে দিল্লি যাননি বলেও জানিয়েছিলেন মুকুল৷ ঠিক তার পরের দিন, শুক্রবার দিল্লিতে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী ইঙ্গিত দেন, তাদের সামনে যে তিনটি পথ খোলা আছে তার একটি হল তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে ভোটে লড়া৷ কিন্ত্ত মমতা-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কন্ঠে এখনও জোটের রাস্তা খোলা রাখার কোনও ইশারা-ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না৷ বাংলার শাসকদল শেষ পর্যন্ত যাই করুক না কেন, মুখে অন্তত দলকে একক শক্তিতে ভরসা রাখার কথাই বলছেন শীর্ষ নেতারা৷ নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, এই সপ্তাহেই ফের কলকাতায় আসতে পারেন উপ-নির্বাচন কমিশনার সন্দীপ সাক্সেনা৷ তিনি পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও কথা বলবেন৷ রাজ্য নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, সাক্সেনার চূড়ান্ত কর্মসূচি এ দিন পর্যন্ত তাদের কাছে আসেনি৷ ১২ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের জেনারেল কাউন্সিলের বৈঠক৷ ২০ তারিখ তিনি কলকাতা জেলাকে নিয়ে বসবেন৷ শনিবারই মমতা দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, ১২ তারিখের পর থেকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কর্মীদের পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়তে হবে৷ বড় মিটিং-মিছিলের চেয়ে মমতা বাড়ি বাড়ি যাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন৷ কর্মীদের চাঙ্গা করতে মুকুল মনে করিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরিবর্তনের প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল৷ দলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নেতাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷ ভোট যত এগিয়ে আসছে, তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে টিকিট পাওয়ার আকুতিও ততই বাড়ছে৷ বহুদিন প্রচারের বাইরে থাকা সাসপেন্ড হওয়া নেতা শঙ্কুদেব পন্ডা হঠাত্ করেই তার শাস্তি প্রত্যাহার এবং টিকিট জোগাড়ের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে সূত্রের খবর৷ ইতিমধ্যেই শঙ্কু দলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টাও শুরু করেছেন৷ তবে দলের কেউই তাকে নিয়ে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করতে রাজি নন৷ সাসপেন্ড হওয়া ইস্তক শঙ্কু নিজেও সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়েই চলছেন৷ তবে এখন তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থেকে ভোটে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছেন বলেও একটি সূত্রের দাবি৷ সদ্য শাস্তি ওঠা প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামকে বহুদিন পর শনিবার শীর্ষ নেত্রীর বাড়ির বৈঠকে দেখা গিয়েছে৷ জোট প্রসঙ্গ ছাড়াও শনিবারের বৈঠকে সুনির্দিষ্ট ভাবে কয়েকটি আসনের প্রার্থী নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন নেত্রী৷ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহ এ বার আর সাতগাছিয়ে থেকে টিকিট পাবেন না বলে এতদিন বহু জল্পনা চলেছে দলে৷ এ দিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কিন্ত্ত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সোনালি এ বারও সাতগাছিয়া থেকেই ভোটে দাঁড়াবেন৷ সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'সোনালি অনেক দিনের কর্মী৷ ও এলাকায় কম যায়৷ কিন্ত্ত সোনালিই সাতগাছিয়া থেকেই লড়বে৷ আপনারা একটু দেখে নেবেন৷' অর্থাত্ শুধু সোনালির টিকিট নিশ্চিত করে দেওয়াই নয়, জেলা নেতৃত্ব যাতে তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করেন, অল্প কথায় সেই নির্দেশও দিয়েছেন তিনি৷ সোনালি ছাড়াও বৈঠকে উঠেছিল দেবশ্রী রায়ের টিকিট পাওয়ার প্রসঙ্গও৷ সূত্রের খবর, দেবশ্রীকে নিয়ে দলের অন্দরের কিছু চর্চা খোদ নেত্রীর কানে পৌঁছেছে৷ যারা সেই চর্চা করছেন তাদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলেও সূত্রের খবর৷ বৈঠকে খোদ নেত্রীই প্রশ্ন করতে শোনা গিয়েছে ,'যারা দেবশ্রীকে নিয়ে নানা কথা বলছে তাদের কী যোগ্যতা আছে৷' সোনালির মতো দেবশ্রীর বিরুদ্ধেও এলাকায় কম যাওয়ার অভিযোগ আছে দলেরই অন্দরে৷ দেবশ্রীকে যারা চর্চার খোরাক করেছেন, তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলেও মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য কারও নাম না-করে একথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন এলাকায় সময় না দেওয়া জনপ্রতিনিধিদের উপর তিনি রুষ্ট৷ তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'এলাকায় যাব না, ভোটের টিকিট পাব, এসব চলবে না৷'

জাকারবার্গের মেয়ের চীনা পরিচয়

জাকারবার্গ পরিবার
ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ যে চীনের ‘জামাই’, সে কথা তো সবার জানা। চীনা নাগরিক প্রিসিলা চ্যানকে বিয়ে করেছেন তিনি। এবারে তাঁদের মেয়ে ম্যাক্সের জন্য একটি চীনা নাম ঠিক করে দিলেন তাঁরা। ম্যাক্সের চীনা নামটি হচ্ছে ‘চেন মিংইয়ু’।
চীনের লুনার নিউ ইয়ার বা নতুন চান্দ্রবর্ষ উপলক্ষে কন্যার নতুন নাম দেন জাকারবার্গ দম্পতি। গত শনিবার একটি ভিডিও পোস্টে জাকারবার্গ দম্পতি বলেন, তাঁদের জন্য চীনের নতুন বর্ষ অর্থবহ। কারণ তাঁরা ম্যাক্সের চীনা নাম ঠিক করেছেন। জাকারবার্গ বলেন, ‘চেন’ হচ্ছে প্রিসিলা চ্যান বা ম্যাক্সের মায়ের পারিবারিক নাম। আর মিংইয়ু অর্থ আশা বা ভবিষ্যতের উজ্জ্বলতর পৃথিবীর জন্য প্রত্যাশা।
চীনা নামগুলোর নানা প্রতীকী অর্থ থাকে। শিশুর জীবনে নাম কী রকমের প্রভাব ফেলতে পারে, সে অনুযায়ী তার নাম রাখে চীনারা।
গত বছরে জাকারবার্গ যখন ম্যাক্সের জন্মের বিষয়টি ঘোষণা দেন, তখন তাঁদের পুরো সম্পদের ৯৯ শতাংশ দাতব্য কাজে ব্যয় করারও ঘোষণা দেন। ইন্টারনেট সুবিধা, শিক্ষা, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এবং আরও উন্নত বিশ্ব গড়তে এই অর্থ ব্যয় করার কথা জানান জাকারবার্গ। মেয়ের নাম রাখার ক্ষেত্রে এই ভাবনাটিকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন। মিং অর্থ উজ্জ্বল আর ইয়ু অর্থ বিশ্ব। জাকারবার্গের পরিবারের পক্ষ থেকে ম্যাক্সের পুরো নাম ম্যাক্সিমা রাখা হয়েছে।
জাকারবার্গ চীনের জামাই হিসেবে মান্দারিন ভাষা ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন। কয়েক বছর আগে মান্দারিন শেখেন তিনি। ভিডিও পোস্টের পাশাপাশি এর আগে তিনি বেইজিংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ মিনিট মান্দারিন ভাষায় প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সুখবর দিচ্ছেন কুক

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক
অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার চালিত ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আরও অধিক সেবা দেওয়ার আভাস দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক। এর আগে মাইক্রোসফটও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে। বর্তমানে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।
ফরচুন অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরের জুনে অ্যাপল মিউজিক চালু করার সময় একে ২৪ ঘণ্টার বৈশ্বিক বেতার স্টেশনের যুগান্তকারী সেবা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল অ্যাপল। কিন্তু অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের পক্ষ থেকে কিছু সেবা দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গত মাসের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপলের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় টিম কুক ও অ্যাপলের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রান্তিক আয় ঘোষণা করেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট নাইনটুফাইভ ম্যাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়। এর মধ্যে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয় ছিল।
এর মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের আরও সেবা বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, অ্যাপলের আইক্লাউড সেবা ও অ্যাপল পে নামের পেমেন্ট সেবাকে অ্যান্ড্রয়েডে আনতে পারে অ্যাপল। গত নভেম্বরে অ্যান্ড্রয়েডের জন্য অ্যাপল মিউজিক উন্মুক্ত করে অ্যাপল।
অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে সেবা চালু করে গুগল ও মাইক্রোসফটকে অনুসরণ করছে অ্যাপল। গত বছর থেকে মাইক্রোসফট তাদের ডিজিটাল সহকারী সফটওয়্যার করটানাকে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও সাইনোজেনের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

ঢাকায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার আহ্বানে ‘ধর্ষণের হুমকি’

ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার এক ফেসবুক ইভেন্ট থেকে বিতর্কের শুরু৷ কেউ কেউ এমন ইভেন্টকে স্বাগত জানালেও অনেকে করেছেন এর বিরোধিতা, এমনকি ইভেন্ট চালু করা নারীকে দেয়া হচ্ছে ‘ধর্ষণের হুমকি’৷   জার্মানিতে নির্বাসিত দুই বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট শাম্মী হক ও অনন্য আজাদ গত সপ্তাহে একটি ফেসবুক ইভেন্ট খোলেন৷ শিরোনাম, ‘‘ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাব৷'' এই আহ্বানের কারণ হিসেবে ইভেন্টে তারা জানিয়েছেন, ‘‘প্রতিবছরই এই দিনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পুলিশ বিভিন্ন রকম হয়রানি করে৷ এর প্রতিবাদে সকল জুটিকে স্ব স্ব প্রেমিক প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে চুমু খাবার আহবান জানানো যাচ্ছে৷'' ফেসবুক এই ইভেন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ প্রকাশ্যে চুমুর ইতিবাচক, নেতিবাচক নানা দিকের আলোচনা হচ্ছে ফেসবুকে৷ ক্যানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর লিখেছেন, ‘‘জার্মানিতে বসবাসরত দুইজন প্রবাসী বাংলাদেশি ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ্য চুমু খাওয়ার একটি ইভেন্ট পেজ খুলেছেন ফেসবুকে৷ প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার আয়োজনটি আবার ঢাকায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে৷ নিজেরা জার্মানিতে বসে ঢাকায় চুমু খাওয়ার ইভেন্ট কেন?'' ফেসবুক ইভেন্টের অন্যতম আয়োজক শাম্মী হক প্রকাশ্যে চুমুর বিষয়টিকে দেখছেন প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে, যেমনটা কিছুদিন আগে ভারতে করা হয়েছিল৷ তবে এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি৷ তাকে দেয়া হয়েছে ‘ধর্ষণের হুমকি'৷ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত শাম্মী দাবি করেন, ‘‘আওয়ামী লীগের এক নেতা ইভেন্ট খুলেছে, টাকা তোলার জন্য৷ সেই টাকা দিয়ে জার্মানি এসে আমাকে ধর্ষণ করবে৷'' ইতোমধ্যে ফেসবুক ইভেন্টে সাড়া দিয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ৷ সেখানে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আরো আড়াই হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী৷ তবে ভালোবাসা দিবসে ঢাকায় ‘প্রকাশ্যে চুমু' ঠেকাতে পুলিশের তরফ থেকে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানা যায়নি৷ এই বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা কামরুল আহসান জানান, ‘‘এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা আমার জানা নাই৷'’

দুই মামলায় জামিন পেলেন এম কে আনোয়ার

নাশকতার দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার।   মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন মঞ্জুর করেন।   আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন সগীর হোসেন লিয়ন। শুনানি শেষে সগীর হোসেন লিয়ন জানান, আজ দুটি মামলায় জামিন হয়েছে। মোট ২১টি মামলার মধ্যে ২০টিতে জামিন হলো। একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করেন এম কে আনোয়ার। ২০১৫ সালের শুরুতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডা ও মুগদা থানায় নাশকতার দুই মামলা দায়ের করা হয়। এ দুই মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন নাকচ হওয়ার পর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।   বিএনপির বয়োজ্যেষ্ঠ এ নেতা বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। আর একটি মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তিতে বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

‘দ্য মোস্ট বিউটিফুল গার্ল ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’,

১২ লক্ষ ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার, ৪ লক্ষ ফেসবুক ফ্যান। এই পরিসংখ্যান কোনো সেলিব্রেটির নয়। দশ বছরের একটি ছোট্ট মেয়ের যাকে নিয়ে এই মুহুর্তে তোলপাড় ফ্যাশান দুনিয়া। তবে খবর এটা নয়। ফ্যাশান দুনিয়ার যে খবর চমকে দিয়েছে সকলকে তা হলো এই একরত্তি মেয়ের পকেটে এখন বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত মডেল এজেন্সি ‘এল এ মডেলস’ এর কন্ট্র্যাক্ট। আর এই কন্ট্র্যাক্টে ছোট্ট ‘সগপার মডেল’-এর গায়ে থাকবে ‘দ্য মোস্ট বিউটিফুল গার্ল ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর তকমা। প্রাক্তন রুশ ফুটবলার রুশলান পিমেনভের মেয়ে ক্রিস্টিনা পিমেনভের কাছে মডেলিং কোনো নতুন বিষয় নয়। তিন বছর বয়স থেকেই শুরু হয়েছে তার ‘ক্যাট ওয়াক’। ইতিমধ্যেই ক্রিস্টিনা জায়গা করে নিয়েছে ‘ভোগ’-আর কভার পেজে। এইটুকু বয়সেই খ্যাতির অনেকটা শিখরে পৌঁছে গেছে ক্রিস্টিনা। কিন্তু খ্যাতি থাকলেই থাকবে সমালোচনা। ছোট বলে তার থেকে বাদ পড়েনি সে। অনেকেই মনে করছেন এইটুকু বাচ্চাকে যে ধরণের উত্তেজক পোষাক পরানো হয় বা যেভাবে দেখানো হয় তার ‘সেক্সি লেগ’ তা সৌন্দর্যের থেকে সেস্কুয়ালিটিকেই বেশি তুলে ধরে। এর জন্য অবশ্য সমালোচকরা দায়ী করছেন ক্রিস্টিনের ম্যানেজার অর্থাৎ তার মাকে। তাদের মতে প্রচার ও টাকা পয়সার জন্য ছোট্ট ক্রিস্টিনার সৌন্দর্যকে অন্যভাবে ব্যবহার করছেন ওর বাবা-মা। একথা অস্বীকার করে ক্রিস্টিনার মা, প্রাক্তন মডেল গিলকেরিয়া বলেছেন, ‘এইটুকু বাচ্চার খোলা পা দেখে যারা সেস্কুয়ালিটি কুঁজে পান তারা বিকৃত মনের মানুষ’।

প্রেসিডেন্ট হতে পারেন সু চি! সেনাবাহিনীর সঙ্গে এনএলডির ‘ইতিবাচক’ আলোচনা

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সমঝোতার গুঞ্জন সঠিক প্রমাণ করে শেষমেশ প্রেসিডেন্ট হতে পারেন অং সান সু চি। গতকাল সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরুর তারিখও। আগামী ১৭ মার্চ এই ভোট গ্রহণ শুরু হবে। খবর রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের।
মিয়ানমারের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, সংবিধানের যে ধারার কারণে গণতন্ত্রকামী নেত্রী সু চির প্রেসিডেন্ট হতে বাধা রয়েছে, তা অপসারণে তাঁর ও প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা ঠিকমতোই এগোচ্ছে।
তবে এদিন রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সেনাবাহিনীর এমপিদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল টিন সান নাইং এই বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, ‘সংবিধানের ৫৯ (এফ) ধারা নিয়ে সেনাবাহিনী ও এনএলডির মধ্যে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি। এটা স্থগিত হতে পারে না। এটা সংবিধানবিরোধী। এ নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনাও হয়েছে। তাই আবার প্রস্তাব বা আলোচনার সুযোগ নেই।’
সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘ধারাটি জেনেবুঝেই সংবিধানে রাখা হয়েছে, যেন বিদেশি আগ্রাসন থেকে দেশের মানুষকে বাঁচানো যায়।’
গার্ডিয়ান-এর খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের সরকারপন্থী দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবর অনুযায়ী, ওই ধারা স্থগিত করার বিষয়ে সু চি ও সেনাপ্রধানের মধ্যে সমঝোতায় ‘ইতিবাচক ফল’ বেরিয়ে আসতে পারে।
সু চির নেতৃত্বে গত ৮ নভেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয় এনএলডি। কিন্তু ধারাটির কারণে তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ায় বাধা রয়েছে। ধারায় বলা হয়েছে, মিয়ানমারের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী কিংবা সন্তান বিদেশি হলে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সু চির প্রয়াত স্বামী একজন ব্রিটিশ নাগরিক। আবার দুই ছেলেও মিয়ানমারের নাগরিক নন।
গত রোববার রাতে মিয়ানমারের স্কাই নেট ও মিয়ানমার ন্যাশনাল টেলিভিশনে সম্প্রচার করা খবরে সু চি ও সেনাপ্রধান মিন অং হলাইংয়ের মধ্যে সমঝোতায় ইতিবাচক ফল বের হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।
ধারাটি স্থগিত বা বাতিল করতে হলে পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর অনির্বাচিত সদস্যদের জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত। এ ছাড়া সেনাবাহিনী-সমর্থিত দলের কিছু নির্বাচিত এমপিও রয়েছেন পার্লামেন্টে। যার অর্থ, এনএলডির পক্ষে এককভাবে ধারাটি পাল্টানো অসম্ভব।
এই ধারা পাল্টানো নিয়ে এনএলডির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য এমপি কেয়াউ এইচটিউ বলেন, ‘আমার ধারণা, সবকিছু ঠিকমতোই হবে। আমাদের নেত্রী অং সান সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পক্ষে সমঝোতায় ইতিবাচক ফলই বয়ে আসবে।’
তবে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান মেয়ো থেইনের মন্তব্য কিছুটা সতর্কতামূলক। তাঁর কথা, ‘সু চি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন, এটা এখনই নিশ্চিত করে বলাটা হবে বেশ আগাম। শুধুই টেলিভিশনের সংক্ষিপ্ত ঘোষণার ওপর নির্ভর করে আমরা প্রকৃত মন্তব্য করতে পারি না।’
গত নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচন শেষ হলেও নতুন প্রেসিডেন্ট এখনই দায়িত্ব নিতে পারবেন না। এ জন্য তাঁকে ৩১ মার্চ বা ১ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নতুন সরকার গঠনেও অপেক্ষা করতে হবে ওই সময় পর্যন্ত। কেননা, বর্তমান থেইন সেইন সরকারের মেয়াদ শেষ হবে মার্চের শেষ নাগাদ। আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-প্রক্রিয়াটিও বেশ দীর্ঘ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-প্রক্রিয়া সামনে রেখে সবে পার্লামেন্টে শপথ নিয়েছেন এমপিরা। ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তিনজন প্রার্থী বেছে নিতে তাঁরা এখন বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করবেন।
রয়টার্স বলেছে, এনএলডির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এ মাসেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-প্রক্রিয়া শুরু করবেন তাঁরা। তবে গতকাল পার্লামেন্টে সিদ্ধান্ত হয়, এটি শুরু হবে ১ এপ্রিল নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহ আগে। নির্দিষ্ট করে এই সময়টা ১৭ মার্চ বলে জানান স্পিকার ম উইন খাইং থান।

শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: এরশাদ

জাতীয় পার্টির দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরশাদ বলেন, “আজকের এই প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয়ার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ফোন করে না আশার জন্য সবাইকে হুমকি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই হুমকি উপেক্ষা করে সবাই এখানে এসেছে।” সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় গুলশানস্থ একটি কনভেনশন সেন্টারে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, “যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে তাদের পরিস্থিতি কি হয় আপনারা দেখুন।” এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টিকে নি:শেষ করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি শেষ হয়নি। আমাদের সামনে কঠিন মুহূর্ত। এ পরীক্ষায় আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে। অতীতকে ভুলেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” এরশাদ আরো বলেন, “জাতীয় পার্টি প্রায় মৃত ছিল। বিরোধী দলীয় নেতা রওশনকে ইঙ্গিত করে এরশাদ বলেন, যারা আমার মতো বয়জোষ্ঠ তারা নেতৃত্ব ছেড়ে দিন। নতুন প্রজন্মকে আসতে দিন।”

ভ্যালেন্টাইনস্ ডে-তে একসঙ্গে রণবীর-ক্যাটরিনা!

তাদের দুজনের বিচ্ছেদ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে বলিউডে। কিন্তু ভালোবাসার দিনটি একই সঙ্গে কাটাবেন বলিউড তারকা রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফ। এই খবরে অবাক তাদের অনুরাগীরাও। সূত্রের খবর, অনুরাগ বসুর জগ্গ জাসুস ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে বলিউডের জনপ্রিয় এই জুটিকে। শোনা যাচ্ছে, কাজের সুবাদেই ভালোবাসার বিশেষ দিনটিতে একসঙ্গেই কাটাবেন তারা। কিছুদিন আগে গুঞ্জন উঠেছিল, বিচ্ছেদের মুখে রণবীর-ক্যাটের সম্পর্ক। এই নিয়ে রণবীর প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ক্যাটরিনা এই ইঙ্গিত উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, কে বলেছে আমাদের বিচ্ছেদ হতে চলেছে? সম্প্রতি আবার একটি টিভি সাক্ষাতকারে ক্যাটরিনা জানিয়েছেন তিনি সিঙ্গেল। এক্ষেত্রে তার ব্যাখ্যা বিয়ের আগে পর্যন্ত মেয়েরা সিঙ্গেল-ই থাকে।

জয়ার ‘ঈগলের চোখ’

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের রাজকাহিনীর পর ফের এক বার এপার বাংলার ছবিতে অভিনয় করবেন বাংলাদেশের নামী অভিনেত্রী জয়া এহসান। অরিন্দম শীলের আগামী ছবি ‘ঈগলের চোখ’-ছবিতে নায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে জয়াকে। ‘এবার শবর’-এর পর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গোয়েন্দা চরিত্র শবর দাশগুপ্তকে ফের এক বার পর্দায় আনতে চলেছেন অরিন্দম। এ বারের গল্প ‘ঈগলের চোখ’। নায়ক ‘বিষাণ’-এর উপর যৌন নিগ্রহ এবং অপরাধকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই ছবির গল্প। মুখ্য চরিত্র বিষাণের চরিত্রে দেখা যাবে নাটকের জগতের পরিচিত মুখ অনির্বাণকে। ‘দেবী সর্পমস্তা, ‘রাজা লিয়ার’, ‘অ্যান্টনি সৌদামিনী’-র মতো নাটকে অভিনয় করেন অনির্বাণ। অনির্বাণের বিপরীতে দেখা যাবে জয়া এহসানকে। এই ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম শিবাঙ্গী। নায়ক বিষাণের স্ত্রী হল শিবাঙ্গী। অরিন্দম শীলের ছবিতে নতুন নন জয়া। এর আগে অরিন্দম পরিচালিত ‘আবর্ত’-তে টোটা রায়চৌধুরীর পাশে দেখা গিয়েছে জয়াকে। গোয়েন্দা শবর দাশগুপ্তের চরিত্রে দেখা যাবে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে। জয়া এবং অনির্বাণের পাশাপাশি ‘ঈগলের চোখ’-এ দেখা যাবে পায়েল সরকার, গৌরব চক্রবর্তীকেও। এ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে ছবির শুটিং। এখন দেখার পর্দায় কেমন কামাল করেন জয়া।

নিরাপত্তাহীনতায় বলিউডের সবাই

বলিউডে প্রত্যেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন৷ সাফ বলে দিলেন বিদ্যা বালন৷ এক বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি৷ সেই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বিদ্যাকে প্রশ্ন করেন, বলিউডে তিনটি নেতিবাচক বিষয় বা 'ডার্ক থিং ' কী ? উত্তরে বিদ্যা বলেন, 'বলিউডে প্রথম ডার্ক থিং হল শ্যুট শেষ হয়ে যাওয়ার পর স্টুডিওগুলো৷ মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া পার্টিগুলো অবশ্যই দ্বিতীয়স্থানে৷ আর তৃতীয়টি নিশ্চিতভাবেই আমাদের নিরাপত্তাহীনতা৷ ' 'পরিণীতা ' ছবি দিয়ে বলিউডে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন বিদ্যা বালন৷ শুরু থেকে দর্শক এবং সমালোচকদের নজর কেড়েছিলেন তিনি৷ তারপর 'কাহানি ', 'ডার্টি পিকচার ' কিংবা 'পা '-এর মতো ছবিতে কাজ করে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন বিদ্যা৷ অনেকগুলো বছর চুটিয়ে কাজ করার পরও বিদ্যার মত, 'আমিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি৷ এবং সেটা বলিউডের প্রত্যেকেই৷ মানুষ মাত্রেই নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে পারে৷ বলিউড তার ব্যতিক্রম নয়৷ ' বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বিদ্যাকে এও প্রশ্ন করেছিলেন তিনি নিজে কোনওদিন বই লিখবেন কি না ? জবাবে বিদ্যা বলেন, 'আমার লেখার কিছু নেই৷ সত্যিই বলার মতো কিছু থাকলে সেটা বলতে আমার ভালোই লাগতো৷ কিন্ত্ত সত্যিই সেটা নেই৷ তাই বই লেখার প্রশ্নও উঠছে না৷

নয়াপল্টনে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদবঞ্চিতরা সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন। এ সময় তারা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকেল পাঁচটার দিকে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে আকস্মিকভাবে তারা কার্যালয়ের সামনে থাকা দুইটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। দ্রুতগতিতে কার্যালয়ের চার তলায় উঠে ভাঙচুর চালান তারা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হন নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। ছাত্রদলের পদবঞ্চিতরা  রোববার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ করেন। শনিবার ছাত্রদলের ৭৩৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন দেন খালেদা জিয়া

ভালোবাসা দিবসে স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র নিয়ে আসছে ইমামী এন্ড হ্যান্ডসাম

এবারের ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে তরুণ-তরুণীদের জন্য অনলাইনে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ‘বদলেযাওয়ারগল্প’ প্রকাশ করতে যাচ্ছে ইমামী ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম।   ১৫মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত তরুণ নির্মাতা রেদোয়ান রনি। ভালোবাসা দিবসের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ১৪ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১মিনিটে ছবিটি ইমামী ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম এর ফেসবুক পেইজ http://www .facebook.com/ theultimatemen/?fref=ts-G-এএটিপ্রচারিতহবে। রাজধানীর একটি হোটেলে এই উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ইমামী সার্কক্লাসটার প্রেসিডেন্ট মোহসিন আহমেদ, ইমামী বাংলাদেশ লিমিটেডের এজিএম মার্কেটিং হাসান মাহমুদসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে নতুন মুখ তানজিম ইমরানকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

সরকারের মদদে কার্যালয়ে হামলা: রিজভী

বিএনপির কাউন্সিল বানচাল করতেই সরকারের মদদে দুষ্কৃতিকারীরা কার্যালয়ের সামনে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, সামনে বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। আর এই কাউন্সিলকে সামনে রেখে সরকারের মদদে ছাত্রদল নামধারী কিছু দুষ্কৃতিকারী এ হামলা চালিয়েছে। কাউন্সিল যাতে সুষ্ঠুভাবে না করা যায় এবং তা বাধাগ্রস্থ করতে এ ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। এর পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশ ছিল। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এভাবে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ চালালেও তাদের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে দুষ্কৃতিকারীরা হামলা চালাতে পারতো না। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি। এর আগে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। আজ বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এই জনপদ গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটে: ফখরুল

 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ, গণতন্ত্র, এই রাষ্ট্র সর্বোপরি এই জনপদ এক গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটে আচ্ছন্ন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। নির্বাচিত নয় এমন সরকারের দুঃশাসনে মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।” দেশের বিপন্ন গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। পুলিশের আচরণে মানুষ আতঙ্কিত। তারপরও পুলিশ প্রধান বলছেন, তাদের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। তাহলে নির্যাতিত মানুষ কার কাছে যাবেন?” মির্জা ফখরুল বলেন, “এ সরকার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। বাক, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মিডিয়াকে ন্যক্কারজনকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে পারছেন না। কেউ লিখতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে।” বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলছেন, তিনি নাকি প্রধান বিচারপতিকেই মানেন না। চরম দলীয়করণের কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো জায়গায় শৃঙ্খলা নেই।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। এ থেকে মানুষ পরিত্রাণ চায়, বাঁচতে চায়।” ফখরুল ইসলাম বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের জেলা সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ন্যায় পরায়ন শাসন কায়েম করতে বিএনপিকে আজ সুসংগঠিত করতে হবে। সম্মেলনে জেলার ৬ উপজেলার শত শশ নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, জাসাস সাধারণ সম্পাদক মনির খান, সাবেক এমপি শহিদুজ্জামান বেল্টু, সাবেক এমপি আব্দুল ওহাব, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, হরিণাকুন্ডু বিএনপির সভাপতি এড এম এ মজিদ, বিএনপি নেতা জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম ও আরিফুল ইসলাম আনন প্রমুখ।

মালদ্বীপে ২০ বাংলাদেশি গ্রেফতার

অবৈধ বসবাসের অভিযোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে কমপক্ষে ২০ বাংলাদেশি শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মালের একটি বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দ্বীপরাষ্ট্রটির একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যেসব বাজারে শুধু মালদ্বীপে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করা হয়, সেগুলোতে স্থানীয়দের কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়। তবে অনেক দোকানেই অবৈধভাবে প্রবাসী শ্রমিকরা কাজ করে থাকেন। অভিবাসন বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, দেশটিতে বসবাস করা অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে এই বাংলাদেশিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কারো কাছেই মালদ্বীপে বসবাসের বৈধ কাগজপত্র নেই। তবে ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে অভিবাসন বিভাগ সঠিক কোনো তথ্য দেয়নি। গ্রেফতার অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মালের একটি বাজার থেকে কমপক্ষে ২০ জনকে গতকাল সকালে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। অবৈধ এসব শ্রমিককে মালের পাশের দ্বীপ হুলহুমালের একটি বিশেষ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মালদ্বীপের যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সেগুলোকে জরিমানা করেছে মালদ্বীপ সরকার। এদের ১০ থেকে ১৫ হাজার মালয়েশিয়া মুদ্রা জরিমানা করা হয়। অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুনতে হয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মালদ্বীপের অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয় যে কোনো দোকান, রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতে হিসাবরক্ষক হিসেবে প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ দিলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। এছাড়া মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রবেশের অনুমোদনও বন্ধ রাখে অভিবাসন বিভাগ।

ওয়েলসের সোয়ানসী ও নিউপোর্ট শহরে টিউলিপকে সংবর্ধনা

বৃটেনের ওয়েলসের সোয়ানসী ও নিউপোর্ট শহরে ২৫ জানুয়ারী বৃটেনের হ্যাম্পসটেড অ্যান্ড কিলবার্ন এলাকার বৃটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দীক পৃথক পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। কাউন্সিলার সাইফুর রহমান মামুনের পরিচালনায় অ্যাভারএভন লেভার পার্টির উদ্যোগে সোয়ানসী টাওয়ার্স হোটেলে দুপুরে অনুষ্ঠিত চ্যারিটি ইভেন্ট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি টিউলিপ সিদ্দীক এমপি ছাড়াও স্টাপহেন কিন্ক এমপি, অ্যাসেম্বলি মেম্বার ডেভিড রিস ও কাউন্সিলার রবেট জনস বক্তব্য রাখেন। ওইদিন সন্ধ্যায় নিউপোর্ট লেবার পার্টি ও নিউপোর্ট বাংলাদেশ কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে ওয়াই এমসি হলে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দীক এমপির সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কমিউনিটি লিডার ও রাজনীতিবিদ শেখ মো: তাহির উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং মহিলানেত্রী রুসনারা বেগমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন নবপ্রজন্মের সন্তান সাদিয়া রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসাবে নিউপোর্টের লেবার জেসিকা মর্ডান এমপি, ওয়েলস এসেম্বলী মেম্বার জন গ্রিফিগ্স, কমিউনিটি লিডার ও রাজনীতিবিদ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবং কাউন্সিলার আলী আহমদ বক্তব্য রাখেন। উভয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে টিউলিপ সিদ্দীক এমপি লেবার পার্টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নব-প্রজন্মের সন্তানদের বৃটিশ রাজনীতিতে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।   বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দীক বাংলাটিভির ওয়েলস অ্যাম্বেসেডর সাংবাদিক মকিস মনসুর আহমদের এক প্রশ্নের জবাবে বৃটিশ ভিসা অফিস দিল্লি থেকে ঢাকার ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করে বলেন, আমি জানি এজন্য মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে।” এই ক্যাম্পেইনে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি ওয়েলসের আগামী অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে সবাইকে লেবার পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানান।