Tuesday, April 12, 2016

জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধী দল: এরশাদ

জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধী দল। একথা নিজ মুখে স্বীকার করেছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত বিরোধীদল পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু আমরা প্রকৃত বিরোধী দল হতে পারিনি। হয়েছি গৃহপালিত বিরোধী দল। যদি প্রকৃত বিরোধী দল হতে পারতাম তবে আমরাও ক্ষমতায় আসতাম। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর জাপা চেয়ারম্যান নিজ কার্যালয়ে কাউন্সিল পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ বলেন,  বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ দলের চেয়ারম্যান হতে চাইলে আমার কোনো আপত্তি নেই। তিনি চাইলে আমি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে তা লিখে দিয়ে দিতে রাজি আছি। কিন্তু আমি চাই, যাতে দলে কোনো বিভক্তি না থাকে। তিনি আরও বলেন, ৫ই জানুয়ারি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় নির্বাচন হয়েছে তা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু এখন দেশে কি হচ্ছে তা কি সংবিধান মেতাবেক হচ্ছে? সভায় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক এম মাসুদা রশিদ চৌধুরী, এস এম ফয়সল চিশতী, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

বছরে ১২০০০ মৃত্যু

অনেক বিষয় নিয়েই বাংলাদেশে নিয়মিত গবেষণা হয় এবং এর ফলাফল হিসেবে আমরা কিছু তথ্য ও পরিসংখ্যান পেয়ে থাকি। কিন্তু প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যুর বিষয়টিকে সাধারণভাবে একটি গবেষণায় পাওয়া তথ্য বা পরিসংখ্যান বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বছর বছর এত মৃত্যু এবং এর পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া গেলে এই সংখ্যা আঁতকে ওঠার মতোই।
দুর্ঘটনাসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) গবেষণা তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বয়স পাঁচ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে ১২ হাজার পরিবার। বছরের পর বছর ধরে এ পরিবারগুলোকে বয়ে বেড়াতে হয় স্বজন হারানোর ক্ষত। এই পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রতিবছর নতুন করে যোগ হচ্ছে আরও ১২ হাজার পরিবার। আমাদের দেশের ট্রাফিক-ব্যবস্থা ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সামনের দিনগুলোয় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বাড়ছে। এভাবে কোথায় গিয়ে ঠেকব আমরা?
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা হয়তো কখনো শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। কিন্তু ট্রাফিক-ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই কমানো যায়। যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার কারণে সড়কপথে যে চাপ পড়েছে, তা সামাল দিতে নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন একদিকে যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনি এর সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত। দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো নিয়ে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। কিন্তু ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার হার ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।
আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এই উচ্চ হার সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালক বা দায়ী ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখি করা যায় না। ১৭ বছরের মধ্যে সম্প্রতি একটি রায়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ছাত্রীর প্রাণহানির ঘটনায় একজন চালক শাস্তি পেয়েছেন। অর্থাৎ গত ১৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় যত প্রাণহানি হয়েছে, তার একটির জন্যও কেউ শাস্তি পাননি। যে পরিবারগুলো সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়ে বছরের পর বছর শোক বয়ে বেড়ায়, যাঁরা পঙ্গু হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটান, তাঁদের জন্য এই পরিস্থিতি কতটা হতাশার, তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ টের পান না বলেই হয়তো এ দিকটিতে কারোরই নজর নেই। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক শাস্তি পেলে, তা দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে এবং চালকদের বেপরোয়া ভাব যে কমে আসবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এআরআইয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা, গাড়ি খাদে পড়া থেকে ঠেকানো ও চালকের আচরণ উন্নত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো করা গেলে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে। অন্যদিকে দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রয়ে গেছে ঘাটতি। দুর্ঘটনার পর আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। দুর্ঘটনায় কোন ধরনের আঘাত পাওয়াদের কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া উচিত, সে ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণা চালানো গেলে, হাসপাতালে নেওয়ার আগে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার স্বজন হারানোর কষ্ট নেবে, আর বছরের পর বছর তা বয়ে বেড়াবে—এমন একটি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করতে এই কাজগুলো করা কি খুব কঠিন? সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়গুলো ভেবে দেখতে অনুরোধ জানাই।

মুমিনুলের চ্যালেঞ্জ

মুমিনুল হক
কাল বেলা দুইটার দিকে ইনডোরে অনুশীলন শেষে তিনি রওনা হলেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের জিমের দিকে। গা জ্বালানো চৈত্রের গরমে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে মুমিনুল হক তবু যাচ্ছেন অনুশীলনের পরের পর্ব শুরু করতে। এটাই তাঁর গত কদিনের রুটিন। কদিন পরই শুরু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। খেলার জন্য তৈরি হচ্ছেন। এবারের লিগে মুমিনুল কিছু প্রমাণ করার যেন তাগিদ পাচ্ছেন। আচ্ছা প্রমাণ করার কীই-বা আছে তাঁর? ১৭ টেস্টে ৫৬ গড়ে যাঁর রান ১৪৫৬, যিনি অল্পের জন্য ভাঙতে পারেননি এবি ডি ভিলিয়ার্সের সবচেয়ে বেশি টানা ১২ টেস্টে পঞ্চাশ বা পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ড, তাঁকেই কিনা প্রমাণ দিতে হবে? মুমিনুলের এই চ্যালেঞ্জ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরার। ২৬ ওয়ানডেতে ২৩.৬০ গড়ে ৫৪৩ রান। তাঁর মতো ব্যাটসম্যানের পাশে বড্ড বেমানান। টেস্ট হচ্ছে একজন ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ পরীক্ষা। সেই কঠিন পরীক্ষায় ‘এ’ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ মুমিনুল কেন সীমিত ওভারে ভালো করতে পারছেন না? প্রশ্নটা এতবার শুনতে হয়েছে যে তিনি নিজেও বিরক্ত, ‘এই উত্তরটা কয়েক শ বার দিয়েছি! আরেকবার দিচ্ছি। সুযোগটা হয়তো নিজেই হারিয়েছি। প্রথম দিকে টেস্টে আমার পারফরম্যান্স যেমন ছিল, সেটি যদি ওয়ানডেতেও করতে পারতাম তাহলে হয়তো এই সংস্করণেও নিয়মিত হতে পারতাম।’ কেন ব্যর্থ হচ্ছেন—এই ‘নিগূঢ় রহস্য’ ভেদ করার চেষ্টা করেছেন কখনো? মুমিনুলের কাছেও উত্তর নেই, ‘কেন ব্যর্থ হচ্ছি, কখনো ওভাবে বিশ্লেষণ করিনি। তবে কোনো সংস্করণে খারাপ করলে স্বাভাবিকভাবে দল আপনাকে নিয়ে চিন্তা করবে না।’ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মুমিনুলের ব্যর্থতার বিশ্লেষণে এই প্রশ্নটাও উঠতে পারে যে যথেষ্ট সুযোগ তিনি পেয়েছেন কি না। ২০১৫ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেলার পরই রঙিন পোশাকে বাংলাদেশ দলের দরজাটা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে গেল। মুমিনুল অবশ্য এসব নিয়ে ভাবেন না, ‘যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছি কি না, এমন নেতিবাচক চিন্তা কখনো করিনি। পেছনে কী হয়েছে, তা নিয়ে আসলে ভাবি না। এখন বাংলাদেশ দলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এক দিনের ম্যাচে আমাকে ভালো করতে হবে। সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে। এখানে ভালো করলে হয়তো ওয়ানডেতে আবার সুযোগ আসতে পারে।’ এবার প্রিমিয়ার লিগের ‘প্লেয়ার ড্রাফট’ পদ্ধতি মুমিনুলকে তুলেছে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে। খুব নামীদামি ক্রিকেটার নেই ২০১১-১২ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নদের। ভিক্টোরিয়াকে শিরোপা জেতানোর আশা মুমিনুলের নিজেরও নেই। ভালো অবস্থানে থাকাই তাঁর মূল লক্ষ্য, ‘বাস্তবতা মেনেই বলছি, আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চিন্তা করছি না। তিন-চারের মধ্যে থাকাই মূল লক্ষ্য। এই দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কঠিন।’ গত আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের পর থেকেই বাংলাদেশ দলের বাইরে মুমিনুল। এর পর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ তাঁর পদচারণ। তাতে অবশ্য তিনি হতাশ নন। বরং সামনের দিনগুলোয় সব ধরনের ক্রিকেটেই রাঙাতে চান ২৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা রাখছি আর কঠোর অনুশীলন করছি। জীবন শেষ হয়ে যায়নি। এখনো ছোট, সামনে তো অনেক দিনই পড়ে আছে।’

ভারত ম্যাচের পর রাতে ​খাননি মাশরাফিরা!

কাশ্মীরে সপরিবারে ছুটি কাটাচ্ছেন মাশরাফি
ছুটি কাটাতে গেছেন কাশ্মীরে। কাশ্মীর যেন পৃথিবীর মাঝখানে এক টুকরো স্বর্গ। কিন্তু সেই নিসর্গেও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পিছু ধাওয়া করল ভারতের বিপক্ষে এক রানে হেরে যাওয়া সেই দুঃস্মৃতি। বাংলাদেশের রঙিন পোশাকের অধিনায়ক জানালেন, সেই রাতে হোটেলে ফিরে কেউ মুখে খাবার তুলতে পারেননি। কষ্টে, হতাশায়। ভারতের কাশ্মীরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বেশ অনুরাগী আছে। সাকিব আল হাসান তো সেখানে বেশ জনপ্রিয়। মাশরাফিও অনেক ভক্তের দেখা পেলেন। সেখানে বেশ কজন স্থানীয় কিশোর-তরুণের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেখানেই এক কিশোর জানতে চায়, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ তিন বলে মাত্র দুই রান করলেই তো ভারতকে হারিয়ে দিতে পারত বাংলাদেশ। জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘ওই পরাজয়ে আমার খুবই ভেঙে পড়েছিলাম। সেদিন আমাদের কেউ রাতে খাবার পর্যন্ত খায়নি। পরাজয় খেলারই একটা অংশ। কিন্তু আমরা এভাবে ওই ম্যাচটি হেরে যেতে চাইনি।’ সপরিবারে কাশ্মীরে বেড়াচ্ছেন মাশরাফি। বেশ উপভোগ করছেন। কাশ্মীরের স্থানীয় একটি ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়েছে, সোনামার্গ থেকে কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে ফেরার পথে কুলানের গ্রামে বেশ কিছু কিশোরকে ক্রিকেট খেলতে দেখেন মাশরাফি। তখন গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছে যান। গ্রামের কিশোর ক্রিকেটাররা অপ্রত্যাশিত এই অতিথিকে পেয়ে যে খুশিতে আত্মহারা হয়েছিল, সন্দেহ নেই। মাশরাফি মন জিতে নিয়েছেন কাশ্মীরের সেই বালকদের। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বোলিং টিপস দিয়েছেন। এ রকম টিপস তো সবাই-ই দেয়, তাহলে আর মাশরাফি আলাদা হবেন কেন? তিনি যে অন্য সবার মতো নন, সেটি বুঝিয়ে ​দিয়েছেন সেই গ্রামের ক্রিকেটে বোলিং করেও। কিছুক্ষণের জন্য যেন নিজের নড়াইলের দুরন্ত শৈশবটাকেই কাশ্মীরের সেই গ্রামে ফিরে পেয়েছিলেন ‘ম্যাশ’।

চেন্নাই এখনো ধোনির হৃদয়েই

চেন্নাই সুপার কিংসের কথা ভুলতে পারছেন না ধোনি
মহেন্দ্র সিং ধোনি এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না যে তিনি চেন্নাই সুপারকিংসের কেউ নন। আইপিএলের শুরুর দিন তিনি যখন পুনে সানরাইজার্সের জার্সি গায়ে মাঠে টস করতে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর নাকি বারবারই মনে পড়ছিল সাবেক দলটির কথা। ধোনি বলেছেন, চেন্নাইয়ের কথা মনে করে তিনি বারবারই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছেন। আট বছর চেন্নাইয়ের হয়ে আইপিএল খেলেছেন ধোনি। বাজি ও স্পট ফিক্সিংয়ের কেলেঙ্কারিতে তাঁর এই পুরোনো দল জড়িয়ে না পড়লে হয়তো আবারও চেন্নাইয়ের হলুদ জার্সিতেই দেখা যেত ধোনিকে। ব্যাপারটা তাঁকেও তাড়া করে ফিরছে বেশ ভালোভাবেই, ‘আমি জানতাম যে এবার পুনের হয়ে খেলব। কিন্তু দলটাকে সত্যিকার অর্থে অনুভব করতে পারলাম যখন খেলোয়াড়দের তালিকা হাতে টস করতে নামলাম। চেন্নাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা আবেগের। নিজের এলাকা ঝাড়খন্ডের হয়ে কত দিন আর খেলেছি, চেন্নাইয়ের হয়ে আমি মাঠে নেমেছি দীর্ঘ আট বছর ধরেই।’ চেন্নাইকে বুকে ধারণ করলেও ধোনির পেশাদারি হৃদয় এখন পুরোপুরিই পুনেতে নিবেদিত, ‘পেশাদারি খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে এখন সামনের দিকেই তাকাতে হবে। আমি এখন পুরোপুরিই পুনের। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমি চেন্নাইকে যা দিয়েছি, পুনে তার চেয়ে কোনো অংশেই কম পাবে না।’

‘ভাবুক’ ক্লার্কের চেয়ে এগিয়ে ‘​​মিশুক’ স্মিথ

ক্লার্কের পর এখন অস্ট্রেলিয়ার সিংহাসনে স্মিথ
কম তো নয়, বছর চারেক হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া দলে। এই সময়ে কম উত্থান-পতন দেখেননি। সাফল্যের সোনালি সন্ধ্যা যেমন দেখেছেন, দেখেছেন বিপর্যয়ের ঝোড়ো রাতও। ক্যারিয়ারের শুরুতে অধিনায়ক হিসেবে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল পেয়েছিলেন মাইকেল ক্লার্ককে। আর এখন পাচ্ছেন স্টিভেন স্মিথকে। ম্যাক্সওয়েল জানাচ্ছেন, ক্লার্কের চেয়ে স্মিথের অধীনে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অভিষেকের পর থেকে ক্লার্ককে অনেক দিন অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। ভালো সময়ের পাশাপাশি খারাপ সময়ও দেখেছেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দুঃস্বপ্নের ভারত সিরিজ তো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটেই একটা কালো দাগ হয়ে আছে। সেই তুলনায় স্মিথের অধীনে অস্ট্রেলিয়া যেন অনেক বেশি ধারাবাহিক। ১১টি টেস্টের মধ্যে সাতটিই জিতেছেন স্মিথ, হারেননি একটিতেও। স্মিথকেই অনেক বেশি আন্তরিক মনে হয়েছে ম্যাক্সওয়েলের, ‘স্টিভ অনেক বেশি মিশতে পারে। কাউকে ডেকে এনে বিয়ার খাওয়ার ব্যাপারে তার কোনো অস্বস্তি নেই। খেলা নিয়ে কথা বলতে বা শুধু মজা করতেও নয়। আবার দল যখন খারাপ করে, তখন তার কথাবার্তা অন্য রকম হয়ে যায়। তারপরও সে অনেক বেশি খোলামেলা। সবার সঙ্গেই সে মিশে যেতে পারে।’ ক্লার্ককে সেই তুলনায় ম্যাক্সওয়েল একটু গোটানোই বলছেন, ‘আমার মনে হয় ক্লার্ক হচ্ছে দুর্দান্ত একজন পেশাদার, ট্যাকটিক্যাল দারুণ। সবাই তার কাছে পরামর্শ চাইত। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সে ঠিক সহজ হতে পারেনি। আমার মতো একজন তরুণের মনে হয়েছে, সে নিজেকে সব সময় অধিনায়ক হিসেবে দেখাতে চেয়েছে। নিজেকে ওই ভূমিকাতেই চেনাতে চেয়েছে। এটা যে ভুল বা ঠিক সে রকম কিছু নয়। দুজনেই বাকিদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করে। স্মিথের মধ্যেও ওর কিছুটা প্রভাব আছে।’

কেকেআরের একাদশে অনিশ্চিত সাকিব?

কেকেআরের জার্সিতে সাকিব
একটু চমক হয়েই এসেছিল সিদ্ধান্তটা। বাবার মৃত্যুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে উড়ে গিয়েছিলেন সুনীল নারাইন। ক্যারিবীয় অফ স্পিনারের অনুপস্থিতিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্পিন বোলিংয়ের মূল দায়িত্ব সাকিব আল হাসানের ওপরেই বর্তানোর কথা। অথচ সাকিবই প্রথম একাদশে সুযোগ পেলেন না। আর তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করে দিলেন ব্র্যাড হগ। কাল হগ-চাওলাদের নিয়ে গড়া কেকেআর যেভাবে বোলিং করে দিল্লিকে গুঁড়িয়ে দিল, সাকিবভক্তদের অনেকের প্রশ্ন, কেকেআরে সাকিবের জায়গা কি অনিশ্চিত হয়ে গেল? কাল ৪৫ বছর বয়সী হগ যেভাবে বল করেছেন, তাঁকে বাদ দেওয়া কঠিনই। ‘বুড়ো আঙুলে’র ভেলকি দেখিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট, এর মধ্যে ১৬টি আবার ডট বল। পীযূষ চাওলার সঙ্গে দুজন রীতমতো ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে। আর দলের ৯ উইকেটের জয়টা দর্শক হয়ে দেখতে হয়েছে সাকিবকে। ২০১১ সালে কলকাতার হয়ে নাম লিখিয়েছিলেন সাকিব। মাঝে এক মৌসুমে শৃঙ্খলার কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। ওই আসর বাদ দিলে প্রতি মৌসুমেই দলের জন্য অবদান রেখেছেন। কেকেআর অবশ্য বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবেই খেলায় সাকিবকে। ব্যাটের চেয়ে বল হাতেই বেশি অবদান রাখেন। প্রথম মৌসুমেই ৭ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। পরের মৌসুমে প্রথমবারের মতো দলকে শিরোপা নেওয়ার পেছনে বল হাতে ছিল বড় অবদান, ওই বার ৮ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট, পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ছিলেন সফল। ২০১৪ মৌসুমেও ১৩ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। শুধু উইকেটসংখ্যায় কেকেআরে সাকিবের অবদান বোঝা যাবে না। গুরুত্ব সময়ে জুটি ভাঙতে অধিনায়ক তাঁর হাতে বল তুলে দিয়েছেন। সাকিব বেশির ভাগ সময়ই প্রত্যাশা মিটিয়েছেন। তা ছাড়া ঠাস বুনুনির বোলিং করে প্রতিপক্ষের ওপর রান রেটের পাহাড়-চাপ তুলে দিতেও সাকিবের জুড়ি মেলা ভার। ২০১৫ মৌসুমে অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সিরিজের জন্য খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ৪ ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। কেকেআরের হয়ে ৩৮ ম্যাচ খেলে ৩৯ উইকেট পেয়েছেন। কেকেআরের হয়ে সাকিবের চেয়ে বেশি উইকেট আছে শুধু লক্ষ্মীপতি বালাজি, জ্যাক ক্যালিস ও সুনীল নারাইনের। ব্যাটিং অর্ডারে বেশির ভাগ সময় নিচের দিকে ব্যাটিং করেছেন বলে রান সেভাবে তুলতে পারেননি। শুধু কেকেআরেই সাকিবের চেয়ে বেশি রান আছে আরও ১৪ জনের। দলের প্রয়োজনে অনেক সময়ই ছয় বা সাতে নামতে হয়েছে, ব্যাট করার সুযোগ পাননি অনেক সময়। তবে বল হাতে সেই অতৃপ্তি মিটিয়ে দিয়েছেন ভালোমতোই। এটা তাই পরিষ্কার, বোলার সাকিবকেই চায় কেকেআর। আর একাদশে চার বিদেশি খেলোয়াড় কোটায় জায়গা পাওয়ার লড়াইটা সাকিবের জন্য কঠিন হয়ে গেল। নারাইন ফিরে এলে সেটি আরও কঠিন হবে সন্দেহ নেই। তা ছাড়া গত বিপিএল থেকেই সাকিব নিজের সেরা ছন্দে নেই। পিএসএলের পর গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরও বল হাতে চমক দেখাতে পেরেছেন কেবল ওমান ম্যাচে ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। সব মিলিয়ে সাকিবের জন্য কেকেআরের একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন। তবে সাকিব তো সব সময় কঠিন চ্যালেঞ্জই ভালোবাসেন!

দেড় শ বছর পর ক্রিকেটে যখন টসই নেই!

টসকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিচ্ছে কাউন্টি
মাশরাফি বিন মুর্তজা খবরটি শুনেছেন কি না কে জানে। শুনলে নির্ঘাত মুখে হাসি ফুটে ফুটেছে তাঁর মুখে। টানা নয়বার টস হারার অভিজ্ঞতা হয়েছে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতে। এর মাঝে অনেক ম্যাচেই টস বড় প্রভাবক ছিল ম্যাচের ফলাফলে। মাশরাফির মতো টস-দুর্ভাগাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলেছে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটের প্রায় দেড় শ বছরের খেলা শুরুর মহাগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটিই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে তারা। এই বছরে পরীক্ষামূলকভাবে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টস থাকবে না। গতকাল টস ছাড়াই কাউন্টিতে পাঁচটি ম্যাচ শুরুও হয়ে গেছে। ​টসবিহীন ক্রিকেটের নিয়মটা হলো, অ্যাওয়ে দল টস ছাড়াই প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সুবিধা নিতে পারবে। অবশ্য অ্যাওয়ে দল যদি ব্যাটিং নিতে চায়, তখন টস হবে। গতকাল কাউন্টিতে শুরু পাঁচটি ম্যাচের চারটিতেই টসের দরকার হয়নি। অন্য ম্যাচে সফরকারী দলের অধিনায়ক টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন প্রথমে। সামান্য এক মুদ্রা নিক্ষেপে ম্যাচের ফল নির্ধারণের বিষয়টি নতুন নয়। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়ের একটি। স্বাগতিক দলের সুবিধামতো উইকেট বানানো এবং টস জিতে তার ফায়দা তোলার গল্প তো অনেকই বলা হয়েছে। সর্বশেষ ভারতে নিজেদের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্পিনের বিষ মাখানো উইকেট বানিয়েও এই সুবিধা নিয়েছিল। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা হওয়ার পর অবশেষে ক্রিকেটের জন্মভূমি ও আইনপ্রণেতা এমসিসির দেশ থেকেই শুরু হলো টস-বিহীন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। এই নিয়মে বোলিং বান্ধব উইকেট বানিয়ে টস জিতে বোলিং নিয়ে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই ঘায়েল করার সুযোগ তাই কমে যাচ্ছে। কাউন্টিতে এই ব্যবস্থা চালু থাকবে আগামী এক বছরের জন্য। পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই ঠিক হবে এই পদ্ধতি স্থায়ী রূপ নেবে কি না। তবে প্রথম দিনেই ৮০ ভাগ ব্যবহার বুঝিয়ে দিয়েছে, মুদ্রা নিক্ষেপের মূল্য কমিয়ে দেওয়া এই নতুন নিয়ম থাকতেই এসেছে।

‘শুধু টাকার লোভেই পাকিস্তানের ক্রিকেটে আকরাম-রমিজ’

পাকিস্তানের ক্রিকেটে রমিজ ও আকরামের অবদান জানতে চান কাদির
এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—পরপর দুটি টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে পাকিস্তানের ক্রিকেটে। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে এরই মধ্যে সরে যেতে হয়েছে কোচ ওয়াকার ইউনিস ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে। চলছে সেই ব্যর্থতার ময়নাতদন্তও। জহির আব্বাস, ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরামরা নিজেদের মতো করে কারণ ব্যাখ্যা করছেন। এবার সেই দলে যোগ দিলেন কিংবদন্তি পাকিস্তানি লেগ স্পিনার আবদুল কাদিরও। অন্য সবাই মূলত পাকিস্তান ক্রিকেটের পুরো পদ্ধতি ও ক্রিকেট বোর্ডকে দায়ী করেছেন। কিন্তু কাদির একই সঙ্গে দায়টা চাপালেন ওয়াসিম আকরাম ও রমিজ রাজাদের মতো পিসিবির সঙ্গে যুক্ত সাবেকদের কাঁধেও। পাকিস্তানের দ্য নেশন পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই স্পিনার রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন আকরাম-রমিজকে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য পিসিবি কর্তাদের দায়ী করে কাদির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অনুরোধ করেছেন দ্রুত পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান ও নির্বাহী কমিটির প্রধান নাজাম শেঠিকেও সরিয়ে দেওয়ার। আকরাম-রমিজকে তোপটা দেগেছেন এর পর। বোর্ডের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁরা দুজনও এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না মন্তব্য করে কাদির আরও বলেছেন, ‘ওরা শুধু টাকা বানানোর জন্য পাকিস্তানে আসে। কথায় কথায় তারা বলে যে পিসিবির কাছ থেকে তারা কিছু নিচ্ছে না, বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারে উল্টো।’ একসময়ের সতীর্থ ও কিংবদন্তি পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরামের ওপরই ঝালটা বেশি ঝেড়েছেন কাদির, ‘ওয়াসিম গত দুই বছরে পিসিবির কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে আর এর বিনিময়ে কী কাজ করেছে, সেটার জবাব জাতির কাছে দিতে হবে। আসলে তো কিছুই দেয়নি। যে লোকটা অল্পদিনের জন্যও পাকিস্তানে থাকে না, অথচ ভাব ধরে সে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন, সে পাকিস্তানের জন্য জান দিয়ে দিচ্ছে। লম্বা লম্বা কথা বলা এক জিনিস, কিন্তু দেশের জন্য কাজ করা অনেক কঠিন।’ আকরাম-রমিজ এখনো জবাব দেননি, তবে দিতে সম্ভবত খুব একটা দেরি হবে না। পাকিস্তান ক্রিকেট বলে কথা!

‘সামনে এগিয়ে যেতে চাই’

মাবিয়া আক্তার
গত এসএ গেমসে ভারোত্তোলনে সোনাজয়ী মাবিয়া আক্তারের চোখ এখন দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে এশীয় পর্যায়ে। অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ড পাওয়ার জন্য খেলবেন এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে। আনসারের ভারোত্তোলক সেই প্রস্তুতি আর তাঁর বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বললেন
* অলিম্পিকের বাছাইপর্ব খেলতে উজবেকিস্তান যাচ্ছেন, প্রস্তুতি কেমন আপনার?
মাবিয়া আক্তার: ২০ এপ্রিল উজবেকিস্তান যাব এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে। ২২ এপ্রিল প্রতিযোগিতা শুরু। এটি সামনের রিও অলিম্পিকের বাছাইপর্বও। এ জন্য মার্চ মাস থেকেই কঠোর অনুশীলন করছি।
* অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ড কি পেতে পারেন এখানে?
মাবিয়া: ওয়াইল্ড কার্ড পাওয়াটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। তবে সেখানে সেট মার্ক (বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা) টপকালেই ওয়াইল্ড কার্ড মিলতে পারে।
* বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে বলবেন?
মাবিয়া: আমি যে ওজন শ্রেণিতে খেলি (৬৩ কেজি) ওই ক্যাটাগরির জন্য নির্দিষ্ট স্কোর করে যদি সেরা ১৬ জনের মধ্যে কেউ থাকতে পারে, তাহলেই সে অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবে। এটা গত যুব অলিম্পিকের নিয়ম ছিল। এবারও এমনটাই হবে বলে শুনেছি।
* অলিম্পিকে খেলা তো আপনার স্বপ্ন...
মাবিয়া: অবশ্যই। ভারতে সোনা জয়ের পর আমি দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। পারফরম্যান্স ভালো হলে হয়তো কার্ড পেয়েও যেতে পারি। একজন অ্যাথলেটের সারা জীবনের স্বপ্ন থাকে অলিম্পিকে খেলার। এত দিন ছোটখাটো গেমসগুলোয় খেলার স্বপ্ন দেখতাম। সব সময় লক্ষ্য থাকত যে ওই গেমসে যেন ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি। কিন্তু এবার অলিম্পিকে যাওয়ার জন্য বাড়তি পরিশ্রম করছি। যেহেতু অলিম্পিক সামনে এবং আমি কোয়ালিফাই করতেই যাব, তাই পুরো নজরই এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে। সেখানে ভালো খেলার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
* এবার বলুন, সোনা জয়ের পর আপনার চারপাশের জগৎ কতটা বদলেছে?
মাবিয়া: মনে হচ্ছে এখনো স্বপ্নের মধ্যে, ঘোরের মধ্যে আছি। সবকিছু দারুণ উপভোগ করছি। আগে সেলিব্রিটিদের এমনটা করতে দেখেছি। কিন্তু নিজেই সেলিব্রিটি হয়ে যাব তা কোনো দিন ভাবতে পারিনি। মনে হচ্ছে আজব একটা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছি (হাসি)!
* সোনা জয়ের পর টেলিভিশনে আপনার কান্নার ভিডিও সেদিন ভার্চ্যুয়াল জগতে ঝড় তুলেছিল। এ নিয়ে নিশ্চয়ই এখনো আপনাকে কথা বলতে হয়?
মাবিয়া: অবশ্যই। রাস্তায় হাঁটতে গেলে, শপিংয়ে গেলে লোকজন ছবি তোলে, সেলফি তোলে আমার সঙ্গে। বন্ধুরা মিলে চাইনিজে খেতে গেলে সবাই এগিয়ে আসে, এসব নিয়ে কথা বলতে চায়। কদিন আগে এই নিয়ে মজার একটা ঘটনাও ঘটেছিল।
* সেটা কেমন?
মাবিয়া: আমরা কয়েকজন সফিপুর আনসার একাডেমিতে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে একটা রেস্তোরাঁয় খেতে বসেছি। রেস্তোরাঁর ম্যানেজার আমাকে দেখেই চিনতে পারেন। কাছে এসে বললেন, আপনাকে টিভিতে দেখেছি। এরপর বলেন, আমি খুব ভাগ্যবান যে আপনি আমার রেস্তোরাঁয় খেতে এসেছেন। তখন খুব ভালো লাগছিল। ভদ্রলোক আমার খাবারের বিলটাও রাখেননি। বললেন, আপা আপনাকে টিভিতে কাঁদতে দেখেছিলাম। আপনার কান্না দেখে আমিও কেঁদেছিলাম। বললেন, আপনি সেদিন একা কাঁদেননি। পুরো বাংলাদেশকেই কাঁদিয়েছিলেন।
* প্রধানমন্ত্রীর ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, ফেডারেশন ও বিওএ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে কেমন লাগছে?
মাবিয়া: সবাই চায় এসব মৌলিক চাহিদা পূরণ হোক। কিন্তু এত অল্প সময়ে পূরণ হবে তা ভাবিনি। হয়তো আর পেছনে তাকাতে হবে না। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।

‘যুদ্ধ’ আর ‘জাদুর’ অপেক্ষা

আজ রিয়াল মাদ্রিদের মন্ত্র একটিই—শুরু থেকে আক্রমণ, ভলফ্‌সবুর্গের
রক্ষণকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলা। তাতে নেতৃত্ব দিতে হবে রোনালদো-বেনজেমাকেই l
৩১ বছর আগে হুয়ানিতো যে কথাটা বলেছিলেন জিনেদিন জিদানের সেটা জানা আছে? উয়েফা কাপে ইন্টার মিলানের কাছে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পরের লেগে ৩-০ গোলে জয়ে অবিস্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের পর প্রয়াত রিয়াল কিংবদন্তি হুয়ানিতো বলেছিলেন, ‘বার্নাব্যুতে ৯০ মিনিট মানে অনেক, অনেক দীর্ঘ সময়।’ জিদান তো চাইবেন, আজ যেন ভলফ্‌সবুর্গের কাছে ৯০ মিনিট অনন্তকাল মনে হয়। প্রথম লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিয়ালের সামনে ৩ গোলের ব্যবধানে জেতা ছাড়া উপায় নেই! আগের লেগে ২ গোলের হার রিয়ালের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত এক আঘাত। হকচকিত ভাবটা এই সপ্তাহেই কাটিয়ে উঠে এইবারকে তারা হারিয়েছে ৪-০ গোলে। রোনালদোদের সামনে আজ হিসাবটা জলের মতো সহজ—শুরু থেকে আক্রমণ করো, ভলফ্‌সবুর্গকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলো। রিয়াল ডিফেন্ডার দানি কারভাহাল তো ‘যুদ্ধই’ ঘোষণা করে বসলেন, ‘মঙ্গলবার একটা যুদ্ধ হবে। ৮০ হাজার দর্শক নিয়ে আমরা চেষ্টা করব ভলফ্‌সবুর্গ যাতে দাঁড়াতেই না পারে।’ সতীর্থ উইঙ্গার লুকাস ভাসকেজও যুদ্ধংদেহী, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব। ৮০ হাজার হৃদয়ও আমাদের সঙ্গে থাকবে।’ গত কিছুদিনে যে বার্নাব্যুর দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রোনালদোদের থেকে, তাদের তো আজ খুব করেই দরকার! কিন্তু যুদ্ধ তো শুধু হৃদয় দিয়ে জেতা যায় না, সেটির জন্য মস্তিষ্কও লাগে। রোনালদো জানেন, অতি আবেগ বরং সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। ঘুরে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েও সিআর-৭ মনে করিয়ে দিলেন, ‘মঙ্গলবার হবে জাদুর রাত। আমি আশা করব, বার্নাব্যুর ঠাসা গ্যালারি আমাদের পক্ষে যাবে। আমি খুবই রোমাঞ্চিত। অবশ্যই দর্শক সমর্থন করলে সবকিছু আমাদের পক্ষে যাবে। কিন্তু আমাদের খুব ঠান্ডা মাথায় খেলতে হবে। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। মনে রাখতে হবে, যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হবে আমাদের।’ মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের কণ্ঠেও সেই প্রতিধ্বনি, ‘আমাদের আক্রমণ করতে হবে, কিন্তু মেপে। রক্ষণটা উন্মুক্ত করতে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই। ওদের ড্রেক্সলারের মতো খেলোয়াড় আছে, বাকিরাও ভালো। আমাদের দল হিসেবেই রক্ষণ করতে হবে। কোনোভাবেই গোল খাওয়া চলবে না।’ আর ভলফ্সবুর্গ জানে, বার্নাব্যুতে একটা গোল দিলেই খেলা শেষ হয়ে যেতে পারে। তখন রিয়ালকে দিতে হবে ৪ গোল। জার্মান ক্লাবের উইঙ্গার ভিয়েরিনহা সেটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘একটা গোল করলেই সেটা যথেষ্ট হওয়া উচিত।’ আরেক উইঙ্গার আন্দ্রে শুরলেও রিয়ালকে বার্তা দিয়ে রাখছেন, ‘নিজেদের শতভাগ ঢেলে দেব আমরা, জীবন দিয়ে দৌড়াব।’
রোমাঞ্চকর একটা রাতের জন্য এখন থেকেই আশায় বুক বাঁধতে পারেন!

চট্টগ্রাম আবাহনীতে জাহিদ-ঝলক

দুরূহ কোণ থেকে অসাধারণ এক গোল করে হাওয়ায় ভাসছেন
চট্টগ্রাম আবাহনীর জাহিদ হোসেন। পেছনে উল্লসিত তিন সতীর্থ।
ম্যাচ শেষে সতীর্থরা এসে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তারপরও যেন খুশি হতে পারছেন না জাহিদ হোসেন। একটি গোল করেছেন, একটি করিয়েছেন, তবু অতৃপ্তি নিয়েই ড্রেসিংরুমের পথে পা বাড়ালেন চট্টগ্রাম আবাহনীর উইঙ্গার। জাহিদ ক্ষোভটা বেশি ঝাড়লেন স্ট্রাইকারদের ওপর। ম্যাচের গোড়াতেই ১০ জনের দল হয়ে পড়া দুর্বল উত্তর বারিধারার বিপক্ষে জয়টা যে মাত্র ২-১ গোলে! জয়ের ব্যবধানটা বড় হতে পারেনি ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অন্য ম্যাচে শেখ রাসেলও একই ব্যবধানে হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে। ফিকরু তেফেরা ও পল এমিলি করেছেন দুটি গোল। রহমতগঞ্জের হয়ে গোল করেছেন তূর্য। চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে ১১ মিনিটেই ১০ জন হয়ে পড়ে উত্তর বারিধারা। রেফারিকে অহেতুক গালি দিয়ে লাল কার্ড পেতে হয় উত্তর বারিধারার মিডফিল্ডার কসোকো ওলাসুকানমিকে। কিন্তু ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও ৪৭ মিনিট পর্যন্ত বারিধারা আটকে রাখে চট্টগ্রাম আবাহনীকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আত্মসমর্পণ করতেই হয়েছে। খুবই দুরূহ কোণ থেকে গোল করে জাহিদই এগিয়ে দেন চট্টগ্রাম আবাহনীকে। এভাবে গোল হবে, বারিধারার গোলরক্ষক রাজীব তা বুঝতেই পারেননি! গোলের পর দুই ডিফেন্ডারসহ রাজীবকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেল বলের দিকে। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নোয়েল ফাব্রিস। হাইতিয়ান এই ফরোয়ার্ডের এই গোলের উৎস আবার জাহিদ। বক্সের বাইরে থেকে জাহিদের বাড়ানো বলে আলতো টোকা দিয়ে ২-০ করেন ফাব্রিস। শেষ মিনিট দশেক গোল শোধে মরিয়া উত্তর বারিধারার কয়েকটি আক্রমণ দারুণ দক্ষতায় সামলেছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। কিন্তু একটি গোল তারা শেষ পর্যন্ত পেয়েই গেছে, শেষ বাঁশির মিনিট খানেক আগে গোল করে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন সবুজ। টানা দুই ম্যাচ জিতে চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট হলো ৬। আর চার ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে উত্তর বারিধারার। শেখ রাসেলের জয়: প্রথম দুই ম্যাচে ৪ গোল করে ঢাকার ফুটবলে সাড়া ফেলে দিয়েছেন ফিকরু তেফেরা। কাল তৃতীয় ম্যাচেও শেখ রাসেলের ইথিওপিয়ান ফরোয়ার্ড গোল করলেন। ৫ মিনিটে মিশুর ক্রস থেকে ফিকরুর দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় রাসেল। ১৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পল এমিলি (২-০)। গোল শোধে মরিয়া রহমতগঞ্জ ৮৬ মিনিটে গোল পায়, বদলি মিডফিল্ডার তূর্যর গোলে হারের ব্যবধান কমিয়ে (২-১) মাঠ ছেড়েছে রহমতগঞ্জ।  টানা তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে সবার ওপরে শেখ রাসেল। সেমিফাইনালে ওঠার পথেও তারাই সবচেয়ে এগিয়ে। তিন ম্যাচে ১ জয়ের পাশে ২ হার, রহমতগঞ্জের পয়েন্ট ৩।

বার্সেলোনার ​লিগ শিরোপা আসলে কতটা অনিশ্চিত?

বার্সার এমন উদযাপন কি থাকবে মৌসুমের শেষেও?
পর পর দুই ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই জমজমাট লা লিগা। বার্সেলোনার সঙ্গে দুইয়ে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্টের ব্যবধান এখন তিন, তিনে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান এখন চার। ম্যাচ বাকি আছে ছয়টি। কিন্তু সামনের ম্যাচগুলোতে কাদের পরীক্ষা বেশি কঠিন? বার্সেলোনার কাজটা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা কি সহজ?  বার্সেলোনার যে ছয়টি ম্যাচ বাকি, তার মধ্যে তিনটি নিজেদের মাঠে। আর বাকি তিনটি প্রতিপক্ষের মাঠে। ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে প্রথম ম্যাচটা ন্যু ক্যাম্পে, পরের ম্যাচটা অবশ্য দেপোর্তিভোর সঙ্গে। এই মৌসুমে ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের মাঠে ঠেকিয়ে দিয়েছিল বার্সাকে, ১-১ গোলে ড্র করেছিল। আর দেপোর্তিভো তো গত ডিসেম্বরে ন্যু ক্যাম্পে এসে ২-২ গোলে ড্র করে গিয়েছিল। কাগজে কলমে যতটা সহজ দেখাচ্ছে, ম্যাচ দুইটি ততটা সহজ নাও হতে পারে। প্রথম দেখা দুই দলের বিপক্ষেই পুরো তিন পয়েন্ট যে বার্সা পায়নি। গত তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্টের মাত্র একটি পেয়ে লা লিগা ‘জমিয়ে তোলা’ বার্সা সামনেই এই দুই দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে, সেটিও তিন দিনের ব্যবধানে। ক্লান্তি যখন ভোগাতে পারে বার্সাকে। পয়েন্ট টেবিলের ১১ ও ১২ নম্বরে থাকা এই দুই দলের বিপক্ষে পরীক্ষায় উতরে গেলে বার্সাকে খেলতে হবে স্পোর্টিং গিহনের সঙ্গে। রেলিগেশন অঞ্চলে পড়ে থাকা গিহনের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ম্যাচটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। নিজেদের মাঠে ১৬ ম্যাচের দশটিতে অপরাজিত রিয়াল বেটিস কি কঠিন পরীক্ষা নিতে পারবে বার্সার? বেটিস ম্যাচের পর কাতালুনিয়ান ডার্বিতে মুখোমুখি এসপানিওল। আর এই মৌসুমের শেষ ম্যাচটা বার্সা খেলবে গ্রানাডার সঙ্গে। এসপানিওল আর গ্রানাডা আছে ১৫ ও ১৭ নম্বরে। বার্সার মূল দুশ্চিন্তা তাই যতটা না প্রতিপক্ষ, তার চেয়ে বেশি মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্লান্তি পেয়ে বসা। গত মৌসুমে যে ক্লান্তিই কারণেই ছিটকে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। অ্যাটলেটিকো-রিয়াল মাদ্রিদেরও খুব বড় কোনো প্রতিপক্ষ নেই। অ্যাটলেটিকোর কাজটা তুলনামূলক সহজ, তাদের চারটি ম্যাচই নিজেদের মাঠে। গ্রানাডা, মালাগা, রায়ো ভায়েকানো ও সেল্টা ভিগোর সঙ্গে খেলতে হবে নিজেদের মাঠে। দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচ অ্যাথলেটিক বিলবাও ও লেভান্তের সঙ্গে। লেভান্তে পয়েন্ট টেবিলের ২০ নম্বর দল। তবে বরাবরই লড়াকু ক্লাব বিলবাও আছে ছয়ে। বলতে গেলে অ্যাটলেটিকোর এই একটাই বড় পরীক্ষা। রিয়ালের পথ সেই তুলনায় একটু কঠিন। রিয়ালের চারটি ম্যাচই প্রতিপক্ষের মাটিতে। গেটাফে, ভায়েকানো, সোসিয়েদাদ ও দেপোর্তিভোর মাঠে গিয়ে খেলতে হবে রোনালদোদের। নিজেদের মাঠে দুইটি ম্যাচও সহজ হবে না, প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল ও ভ্যালেন্সিয়া।

নেইমারের বেতন এত কম!

রুনির চেয়ে কম বেতন পান নেইমার
প্রথমেই একটি প্রশ্ন করা যাক, ৩৯ গোল ও ৭টি এসিস্ট বেশি মূল্যবান, নাকি ১৪ গোল ও ৬টি এসিস্ট? আচ্ছা, ব্যক্তিগত সাফল্য পরে টানা যাক, দলীয় সাফল্য নিয়েই আলোচনা করা হোক, কে বেশি মূল্যবান? একজন ট্রেবল জেতানো খেলোয়াড়, নাকি শূন্য হাতে ফেরা একজন! এতক্ষণে প্রথম খেলোয়াড়কে চিনে ফেলার কথা—বার্সাকে ত্রিমুকুট জেতানোর অন্যতম নায়ক নেইমার। অন্যজন? ওয়েইন রুনি। প্রশ্ন উঠতে পারে, হঠাৎ দুজনের তুলনায় নামা কেন? নামাচ্ছে তাঁদের বেতনের তুলনা। ক্লাব ফুটবলে বর্তমানে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত নাম নেইমার। তাঁকে দলে পেতে রীতিমতো লাইন দিয়েছে বড় ক্লাবগুলো। মেসি, রোনালদোর পর সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার। সে অনুযায়ী তাঁর বেতন-ভাতাও ওরকম হওয়ার কথা। কিন্তু চমকে ওঠার মতো এক তথ্য দিয়েছে ফুটবল লিকস। নেইমারের চুক্তি থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতি মৌসুমে বেতন হিসেবে বার্সেলোনা তাঁকে ৫ মিলিয়ন ইউরো দেয়। আর গত দুই মৌসুম প্রায় ‘শুয়ে-বসে’ কাটানো রুনির বেতন? প্রায় ১৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ইউরো, নেইমারের তিন গুণের বেশি! এমএসএনের মূল অস্ত্র মেসির বেতন যেখানে ২২ মিলিয়ন ইউরো। বেতন কম পেলেও অবশ্য বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্তিতে নেইমার কিন্তু বেশ ভালো সুবিধাই পাচ্ছেন কাতালান ক্লাবটি থেকে। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সময় চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ৮৫ লাখ ইউরো পেয়েছিলেন। এ ছাড়া প্রতি মৌসুমেই তাঁর জন্য বিভিন্ন ভাতা পাওয়ার সুযোগ আছে। অবশ্য সবই নেইমারের ওপর নির্ভর করছে। অর্থাৎ মাঠের খেলা দিয়েই তাঁকে এসব আদায় করে নিতে হবে। যার অধিকাংশ অবশ্য নেইমারের জন্য হাতের মোয়া। বার্সেলোনার কাছ থেকে এক মৌসুমে নেইমারের যেসব বোনাস পাবেন, সেটিও জানিয়ে দিয়েছে ফুটবল লিকস :
- প্রতি মৌসুমেই ১ লাখ ইউরো (১ দিন মাঠে না নামলেও!)
- ৬০ ভাগ (কমপক্ষে ৪৫ মিনিট মাঠে থাকতে হবে) ম্যাচ খেললেই পাবেন ১০.৬২ লাখ ইউরো।
- বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পেলে ৬.৩৭৫ লাখ ইউরো।
- চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব পার হলেই ৪.২৫ লাখ ইউরো।
- লা লিগা শিরোপা জয়ে ৬.৩৭৫ লাখ ইউরো।
- কোপা ডেল রের শিরোপা জয়ে ৮.৫০ লাখ ইউরো।
- চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে ৮.৫০ লাখ ইউরো।
- শুধু কোপা ডেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলে বাড়তি ১০.৬২ লাখ ইউরো।
- ট্রেবল জিতলে ১৭ লাখ ইউরো।
- ব্যালন ডি’অর পেলে ৪.২৫ লাখ ইউরো।
সব মিলিয়ে বেতনের চেয়ে নেইমারের বোনাসের অঙ্কটাই ভারী মনে হচ্ছে! ও আরেকটি ব্যাপার, নেইমারকে কিনতে চাইলে কত খরচ করতে হবে, তা নিয়ে তো কানাঘুষা কম হলো না। ফুটবল লিকস নিশ্চিত করল, নেইমারের রিলিজ ক্লজ ১৯ কোটি ইউরো! অর্থাৎ বার্সেলোনার অমতে নেইমারকে কিনতে চাইলে দলবদলের বিশ্বরেকর্ড শুধু ভাঙলেই হবে না, সেটি প্রায় দ্বিগুণ অঙ্ক খরচ করতে হবে পিএসজি ও ম্যানচেস্টার সিটিকে।
বিভিন্ন গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে আলোচনায় আসা উইকিলিকসের মতো ফুটবল লিকসও বেশ কিছুদিন ধরে ফুটবলসংক্রান্ত অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে আসছে। এবারের তথ্য থেকে অনুমান করে নিতে পারেন, বার্সার সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে কেন এত গড়িমসি করছেন নেইমার। এত ‘কম’ বেতন পেলে কি চলে!

নেইমারকেই দেখছেন দেল পিয়েরো

নেইমার
কথাটা এত বেশিবার শোনা গেছে যে এটিকে আর ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং স্লোগানই মনে হয় বেশি। পেলে-রবার্তো কার্লোস থেকে শুরু করে জাভি-মেসিরাও বলেছেন, সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন নেইমার জিতবেন ব্যালন ডি’অর। নতুন করে কথাটা আবারও আলোচনায় আসছে আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর কারণে। সাবেক জুভেন্টাস তারকা নিশ্চিত, নেইমার একদিন না একদিন বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতবেনই। নেইমারের সম্ভাব্য শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে দেল পিয়েরো নিশ্চিত হয়ে আছেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ডের বয়সের কারণে। ২৪ বছর বয়সেই বিশ্বকে সাম্বার জাদুতে মোহিত করে রেখেছেন নেইমার। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ত্রিমুকুট জেতায় তাঁর ছিল বড় অবদান, এই মৌসুমে নিজেকে যেন আরও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। গতবারই মেসি ও রোনালদোর সঙ্গে ফিফার বর্ষসেরার মঞ্চ ভাগাভাগি করেছিলেন। শিগগিরই যে সেটি নিজের ঔজ্জ্বল্যে রাঙাবেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই দেল পিয়েরোর, ‘নেইমারের এখনো বয়স অনেক কম। ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ওর ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আছে কি না? অবশ্যই!’ তবে ভবিষ্যতের সেরা কে হবেন সেটি নিয়ে নিঃসন্দেহ হতে পারলেও বর্তমান সেরার প্রশ্নে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির কাউকে এগিয়ে রাখতে পারছেন না ৪১ বছর বয়সী ইতালিয়ান।

পিএসজি, না সিটির রাত?

ম্যানচেস্টার সিটি ও ইতিহাসের মাঝে ব্যবধান মাত্রই ৯০ মিনিটের।
প্যারিস সেন্ট–জার্মেইয়ের বিপক্ষে আজ ‘অ্যাওয়ে’ গোলের সুবিধা
নিয়ে মাঠে নামবেন আগুয়েরো-ডি ব্রুইনারা
আজকের দিনটির জন্যই এত দিন অপেক্ষায় ছিল ম্যানচেস্টার সিটি? এত দিন ধরে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালা, বড় বড় ফুটবলার কেনা, নামীদামি কোচ আনা—এসব তো ইউরোপের সবচেয়ে কুলীন টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য। পিএসজির সঙ্গে আজ জিতলে  তো বটেই, ১-১ বা গোলশূন্য ড্র করলেও প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠে যাবে সিটি। তখন শিরোপাই তো হাতছানি দিতে পারে তাদের। আর শিরোপা জিতলে নিশ্চিত করেই ঠাঁই পেয়ে যাবে ইউরোপের কুলীন কুলে। সেই হাতছানি আছে পিএসজির সামনেও। এত দিন ধরে চেষ্টা করেও বারবার কোয়ার্টার ফাইনালের গেরোতে আটকে যাচ্ছিল পিএসজি। প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে যেতে হলে আজ জয় না পেলেও ম্যাচটি ২-২-এর চেয়ে বড় স্কোরলাইন রেখে ড্র করতে হবে। কাজটা কঠিন, তবে পিএসজির জন্য সেটা নিশ্চয়ই অসম্ভব নয়। সিটির মিডফিল্ডার সামির নাসরি সতীর্থদের সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন। আগের ম্যাচের স্মৃতিটাকে ঝেড়ে ফেলতে বলেছেন মাথা থেকে, ‘এটা হবে খুব কঠিন একটা ম্যাচ। তবে আমি পিএসজিকে জানি। ওই ম্যাচটা ওদের জন্য বাজে একটা দিন ছিল। ওরা টেকনিক্যালি খুব বাজে একটা দিন কাটিয়েছে, এটা আসলে ওদের সঙ্গে ঠিক যায় না।’ এ ধরনের সুবিধা যে অনেক সময় উল্টো বিপদ হয়ে আসতে পারে সেটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন নাসরি, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করতে হবে সেটা অনেক সময় বোঝা যায় না। আপনি আক্রমণ করবেন না রক্ষণ করবেন, সেটি নিয়েও আপনার দ্বিধা থাকে।’ দ্বিতীয় রাউন্ডে ডায়নামো কিয়েভের সঙ্গেও নিজেদের মাঠে একটু বিবর্ণ ছিল সিটি। নাসরি সেটা নিয়েও একটু উদ্বিগ্ন, ‘কিয়েভের সঙ্গে আমরা যেভাবে খেলেছি সেভাবে খেললে চলবে না। তবে আমাদের সবাই ক্ষুধার্ত, ভালো কিছু করার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।’ সিটি কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনিও জানেন ম্যাচটা কত বড়। শোনা যাচ্ছিল, চোট থেকে সেরে না ওঠা অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানিকে নামিয়ে দেওয়ার ফাটকাও খেলতে পারেন। কিন্তু তা হচ্ছে না। তবে চোট কাটিয়ে আজ ফেরার কথা ডেভিড সিলভার। পিএসজি কোচ লরা ব্লাঁ আজকের ম্যাচটা বাঁচা-মরার লড়াই হিসেবেও নিচ্ছেন। এরই মধ্যে ফ্রেঞ্চ লিগ জিতে গেছে তারা, এই সপ্তাহে নিয়মিত একাদশের প্রায় সবাইকে বসিয়ে রাখার ‘বিলাসিতাও’ করতে পারছেন ব্লাঁ। পিএসজির সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরের স্মৃতিটাও প্রেরণা জোগাতে পারে। চেলসিকে তাদের মাঠেই ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। আজও ব্লাঁ সে রকম কিছুই চাইবেন। এএফপি, রয়টার্স।

ইংল্যান্ডের পঞ্চম ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। এর আগে চেলসি (৭ বার), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (৭), লিভারপুল (৩) ও আর্সেনাল (২) সেমিফাইনাল খেলেছে।

এই মৌসুমে চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে পিএসজি। প্যারিসের ক্লাবটি শুধু গ্রুপ পর্বে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে।
২–২
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় পিএসজি যে তিনবার নকআউট পর্বে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে, সেই তিনবারই ওই রাউন্ডে বিদায় নিয়েছে।

বেতন বাদেই এত পান নেইমার!

নেইমার
ফুটবলের দলবদলের বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করে গত কিছুদিন বেশ নাম কিনেছে ফুটবল লিকস। এবার নেইমারের চুক্তিও ফাঁস করে দিল আড়ালে থাকা ওয়েবসাইটটি। ফুটবল লিকসের তথ্য থেকেই অনুমান করা যায়, বার্সার সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে কেন এত গড়িমসি নেইমারের। এত ‘কম’ বেতন পেলে কি চলে! মেসি-রোনালদোর পর এই সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার নেইমার। তাঁর বেতন-ভাতাও ওঁদের কিছুটা কমই হওয়া উচিত। কিন্তু এখন জানা গেল, বার্সেলোনা তাঁকে বছরে ৫ মিলিয়ন ইউরো বেতন দেয়। আর বার্সার মূল অস্ত্র মেসির বার্ষিক বেতন ২২ মিলিয়ন ইউরো। নেইমারের তিন গুণেরও বেশি বেতন পান ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি, প্রায় ১৬.৮৬ মিলিয়ন ইউরো! বেতন কম পেলেও নেইমার বেশ ভালো অঙ্কের ভাতা পান। বার্সেলোনায় চুক্তি স্বাক্ষরের জন্যই ৮৫ লাখ ইউরো পেয়েছিলেন। এ ছাড়া প্রতি মৌসুমেই তাঁর জন্য বাড়তি ভাতা পাওয়ার সুযোগ আছে। গত মৌসুমেই যেমন মূল বেতনের চেয়ে ভাতাই বেশি পেয়েছেন।
নেইমারের যত বোনাস
 প্রতি মৌসুমেই ১ লাখ ইউরো (১ দিন মাঠে না নামলেও!)
 ৬০ ভাগ (কমপক্ষে ৪৫ মিনিট মাঠে থাকতে হবে) ম্যাচ খেললেই পাবেন ১০.৬২ লাখ ইউরো।
 বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পেলে ৬.৩৭৫ লাখ ইউরো।
 চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব পার হলেই ৪.২৫ লাখ ইউরো।
 লা লিগা জিতলে ৬.৩৭৫ লাখ ইউরো।
 কোপা ডেল রের শিরোপা জয়ে ৮.৫০ লাখ ইউরো।
 চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে ৮.৫০ লাখ ইউরো।
 শুধু কোপা ডেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলে বাড়তি ১০.৬২ লাখ ইউরো।
 ট্রেবল জিতলে ১৭ লাখ ইউরো।
 ব্যালন ডি’অর পেলে ৪.২৫ লাখ ইউরো।
সব মিলিয়ে বেতনের চেয়ে নেইমারের বোনাসের অঙ্কটাই ভারী! আরেকটি ব্যাপার, নেইমারকে কিনতে চাইলে কত খরচ করতে হবে তা নিয়ে কানাঘুষার অবসান ঘটাল ফুটবল লিকস, নেইমারের ‘রিলিজ ক্লজ’ ১৯ কোটি ইউরো! অর্থাৎ বার্সেলোনার অমতে নেইমারকে কিনতে চাইলে দলবদলের বিশ্ব রেকর্ড শুধু ভাঙলেই হবে না, সেটির প্রায় দ্বিগুণ খরচ করতে হবে আগ্রহী ক্লাবগুলোকে। সূত্র: গোল, ব্লিচার রিপোর্ট, ফুটবল এস্পানা।

নেতাদের ট্যানারির কাজই এগোয়নি by রাজীব আহমেদ ও শুভংকর কর্মকার

সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীতে গুলশান ট্যানারি, কোহিনুর
ট্যানারি ও আঞ্জুমান ট্রেডার্সের প্লটে নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা
একসঙ্গে পাঁচটি প্লট। মোট আয়তন ১ লাখ বর্গফুট। এক পাশে ৩০ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে ভবন তৈরি চলছে। এক তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। বাকি অংশে কয়েকটি রড-সিমেন্টের পিলার দাঁড়িয়ে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বাঁশ ও রড। সামনের সাদা-কালো রঙের ছোট সাইনবোর্ড দেখে বোঝা গেল এটি গুলশান ট্যানারি, কোহিনুর ট্যানারি ও আঞ্জুমান ট্রেডিংয়ের জায়গা। ট্যানারি তিনটি একই পরিবারের। দেখভাল করেন শাহীন আহমেদ। তিনি কোহিনুর ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান। ট্যানারি ভবন নির্মাণকাজে বেশ পিছিয়েই আছেন এই নেতা। তবে বিসিকের তথ্য, সরকারের কাছ থেকে কোহিনুরের জন্য ৫৩ লাখ ৫২ হাজার, গুলশানের জন্য ৬২ লাখ ও আঞ্জুমানের জন্য ৭১ লাখসহ মোট ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান ও আনোয়ার ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলজাহান ভূঁইয়া। তাঁর প্লটে ট্যানারি ভবন নির্মাণের কাজ অনেক পিছিয়ে। পাইলিংয়ের কাজ শেষে বর্তমানে একতলার পিলারের নির্মাণ চলছে। চারপাশের সীমানা দেয়ালও পুরো শেষ হয়নি। সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি ভবন নির্মাণে এই দুজন শীর্ষ নেতার মতো দুই সংগঠন—বিটিএ ও বিএফএলএলএফইএর বেশ কয়েকজন নেতা পিছিয়ে আছেন। তাঁদের অগ্রগতি নিচতলার কলাম তৈরির মধ্যে আটকে আছে। ফলে ওই সব নেতার ট্যানারি শিগগিরই চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদনে যেতে পারছে না। পাশাপাশি বড় প্লট পেয়েছে এমন কয়েকটি ট্যানারিও নির্মাণকাজ এগোতে পারেনি। সাভারের চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্প এলাকায় গত বুধবার চার ঘণ্টা ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। ট্যানারির মালিকদের দুটি সমিতি। বিটিএর সদস্য ১৪২টি ট্যানারি। আর বিএফএলএলএফইএর সদস্য ১০৬। এই দুই সমিতির সদস্যরাই মূলত সাভারের শিল্পনগরীতে প্লট পেয়েছেন। জানতে চাইলে চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইউম বলেন, সমিতির নেতারা যে অবকাঠামো নির্মাণে পিছিয়ে তা নিয়ে সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে কথা উঠেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নেতারা চুপসে যান। তিনি বলেন, ‘যারা বড় প্লট নিলেও কাজ এগোচ্ছে না তাদের প্লট বাতিলের বিষয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমার কাছে ২৮টি আবেদন আছে, যারা শুধু প্লট চায়, ক্ষতিপূরণ নয়। কাজ না করলে প্লট বাতিল করে নতুন আবেদনকারীদের দেওয়া হবে।’ মেসার্স লেক্সকো লিমিডেটের প্লটের আয়তন ১ লাখ ৯০ হাজার বর্গফুট। বিশাল জমি নিয়ে ট্যানারিটি এক পাশে নিচতলার বিম তৈরি করেছে। আরেক পাশে গর্ত করে এখন মাটি ফুটিংয়ের কাজ করছে। ট্যানারিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ বিএফএলএলএফইএর সম্প্রতি বিদায় নেওয়া কমিটির নির্বাহী সদস্য। জানতে চাইলে হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর প্লটটি নদীর পাশে হওয়ায় পাইলিং করতে সময় বেশি লেগেছে। এক মাসের মধ্যে প্রথম তলার ছাদ ঢালাই করতে পারবেন তিনি। বেঙ্গল লেদার কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান বিএফএলএলএফইএর নির্বাহী সদস্য। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুটের বিশাল প্লট। তবে কাজ করেছেন সামান্যই। সাভারে তাঁর ট্যানারির প্রতিনিধি মো. ফিরোজ জানান, সেখানে মোট সাতটি ভবন হবে। এর মধ্যে তিনটির নিচতলার বিম তৈরি হয়েছে। বাকি চারটি ভবনের কাজ পরে শুরু হবে। মাটি কাটাসহ সব মিলিয়ে ছয় মাস ধরে কাজ চলছে। পিছিয়ে থাকা শাহজালাল লেদার কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল মজুমদার। তিনি বিএফএলএলএফইএর নির্বাহী সদস্য। তাঁর ট্যানারির অগ্রগতি নিচতলার বিম নির্মাণ পর্যন্ত। একই সমিতির আগের কমিটির নির্বাহী সদস্য আবুল কালাম আজাদের মালিকানাধীন কালাম ব্রাদার্স ট্যানারির প্লট বেশ বড়, কিন্তু ভবন নির্মাণের অগ্রগতিও নিচতলার বিম পর্যন্ত। নিচতলার কলাম তৈরি হচ্ছে হেলেনা এন্টারপ্রাইজেরও, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বিটিএর ভাইস চেয়ারম্যান। বিটিএর কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সমতা লেদার কমপ্লেক্সের নির্বাহী পরিচালক। তাঁর ট্যানারির নিচতলার ছাদ তৈরি করতে দেখা গেছে। বিটিএর উপদেষ্টা মনির হোসেনের মিরাজ লেদারের নিচতলার বিমের কাজ চলছে। নিজ পরিবারের তিন ট্যানারির কাজের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিএর সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, গত বছর বর্ষার কারণে তাঁরা কাজ এগোতে পারেননি। এখন পুরোদমে কাজ চলছে। আর বড় প্লট নিয়ে কাজ না করা মালিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা বিসিক বুঝুক। তারাই সিদ্ধান্ত নিক কী করবে।’ বিএফএলএলএফইএর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অর্থের সংস্থান না করতে পারায় অনেকে কাজ শুরু করতে দেরি করেছে। তাদের আমরা চাপের মধ্যে রেখেছি।’ ক্ষতিপূরণের শর্ত শিথিলের দাবি: ট্যানারি স্থানান্তরে মালিকদের সহায়তা করতে সরকার ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। শর্ত ছিল, নির্মাণকাজের অগ্রগতি বিবেচনা করে তিন ভাগে এ অর্থ দেওয়া হবে। সাভারে কাজ শুরু করলে ২০ শতাংশ, এক তলার ছাদ নির্মাণ করলে ৪০ শতাংশ ও পুরো স্থানান্তর শেষে বাকি ৪০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত ১২৬টি ট্যানারি ২০ শতাংশ অর্থ পেয়েছে। ৪০ শতাংশ পেয়েছে ৩১টি ট্যানারি। সেই হিসেবে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের প্রায় ৬০ কোটি টাকা পেয়েছেন ট্যানারির মালিকেরা। তবে নির্মাণকাজ না এগোনোয় ক্ষতিপূরণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছেন না মালিকেরা। এ জন্য সরকারের কাছে শর্ত শিথিল করে ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করার দাবি করে বিএফএলএলএফইএ শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় ইতিবাচক বিবেচনায় আছে বলে জানালেন প্রকল্প পরিচালক।

আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ইউএস–বাংলা এয়ার

ঢাকা–কাঠমান্ডু পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড্ডয়ন উপলক্ষে
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিথিরা
আকাশপথে ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যাত্রী পরিবহনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। আগামী ১৫ মে থেকে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে এই ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ইউএস-বাংলার এটি প্রথম ফ্লাইট। ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়া ও আসার খরচ পড়বে ১৭ হাজার ৬৬২ টাকা। তবে শুধু যাওয়া কিংবা আসার জন্য ভাড়া লাগবে ১১ হাজার ৭৯০ টাকা। ৭৮ আসনবিশিষ্ট ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ সিরিজের নিউ জেনারেশন এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-কাঠমান্ডু পথে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতি সপ্তাহের রোব, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার এই ফ্লাইট চলবে। ঢাকা থেকে বেলা তিনটায় ফ্লাইট ছেড়ে যাবে এবং নেপালের কাঠমান্ডুতে পৌঁছাবে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে। আর কাঠমান্ডু থেকে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। গত ২৪ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা পথে যাত্রী পরিবহনের জন্য নেপাল সরকারের অনুমতি পায়। বর্তমানে বিমান সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও বরিশালে যাত্রী পরিবহন করছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়া পিয়ের লাঘামে, নেপাল দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিলি প্রসাদ আচার্য প্রমুখ। আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সবচেয়ে কম সময়ে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে। এই ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।

ক্রেতাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল দাবি

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের নেতারা
স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ বছরের কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য একক অঙ্কের সুদহারে গৃহঋণ সুবিধা চেয়েছে দেশের আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। এ জন্য আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনেরও দাবি করেছে সংগঠনটি। বাজেট সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এ খাত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরা হয়। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল রোববার সকালে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি রবিউল হক, লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ওহিদুজ্জামান প্রমুখ। অর্থ পাচার বন্ধে আগামী বাজেটে আবাসন খাতে শর্ত ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দাবি করেন রিহ্যাবের সভাপতি। আগামী ১০ বছরের জন্য সুবিধাটি চেয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করা যায়। তবে কিছু সংস্থার প্রশ্ন করার সুযোগ রয়ে গেছে। এসব ক্ষেত্রে প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়াটা কঠিন। তাই প্রশ্ন করার সুযোগ থাকলে বিনিয়োগ আসবে না।’ এ ছাড়া ফ্ল্যাট ও প্লটের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবি করেন আলমগীর শামসুল আলামিন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত ব্যয় ১৪ শতাংশ। তবে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে রেজিস্ট্রেশন বাবদ খরচ ৪ থেকে ৭ শতাংশের বেশি নয়। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সভাপতি আগামী বাজেটে শহর এলাকায় ৫ বছর ও শহরের বাইরের এলাকায় ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ-সুবিধা চেয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু জেলা শহরে শিল্প স্থাপনের জন্য কর অবকাশের ব্যবস্থা আছে। আগামী বাজেটে আবাসন খাতের জন্য কর অবকাশ-সুবিধা দেওয়া হলে ঢাকার বাইরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে উঠবে। এতে করে বিভাগীয় শহরের ওপর থেকে চাপ কমবে। সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করাও সহজ হবে। এ ছাড়া আবাসন খাতে সেকেন্ডারি বাজার সৃষ্টির জন্য প্রথম দফায় একটি ফ্ল্যাট বিক্রয়ের পাঁচ বছরের মধ্যে পুনরায় তা বিক্রি হলে সে ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি এক শতাংশ করার কথা বলা হয় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে। জমি ও নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আবাসন ব্যবসায়ীদের মুনাফা হ্রাস পেয়েছে। এমন যুক্তিতে আগামী বাজেটে আয়কর যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার দাবি করছে রিহ্যাব। এ ছাড়া সম্পদ কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করার দাবি করেছে সংগঠনটি।

সরকারকে বাড়তি ২ দিন সময় দিলেন আদালত

মুঠোফোন অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে সরকারকে আরও দুই দিন সময় দিয়েছেন আদালত। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর জন্য সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। আগের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, রবি-এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার বিষয়ে সরকারের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল সোমবার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একীভূতকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এ-সংক্রান্ত নথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানি দুটির বিষয়ে বাড়তি আরও কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। সেসব তথ্য জমা দিতে রবি ও এয়ারটেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্যগুলো পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। রবি ও এয়ারটেল তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম একীভূত করার আবেদন জানিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করে। আর এ বিষয়ে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করে অপারেটর দুটির মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ও ভারতী এয়ারটেল। একীভূত কোম্পানিতে রবির মালিকানা হবে ৭৫ শতাংশ আর এয়ারটেলের থাকবে ২৫ শতাংশ। ৩ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক নিয়ে একীভূত রবি-এয়ারটেলই হবে গ্রামীণফোনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মুঠোফোন অপারেটর।

আট মাসে গ্রাহকের ৮৮ শতাংশ অভিযোগ সমাধান by আশরাফুল ইসলাম

আট মাসে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার-সংক্রান্ত গ্রাহকের অভিযোগের ৮৮ শতাংশেরই সমাধান করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গ্রাহক সমস্যা সমাধানে বিটিআরসির গঠিত ‘কাস্টমার কমপ্লেইন ডেটাবেজের’ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেবা ভোগান্তি নিয়ে গ্রাহকেরা মোট ১ হাজার ৩৩৮টি অভিযোগ করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৭৪টি বা ৮৮ শতাংশ অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে। যেসব অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ফেসবুকে হয়রানি, সিম নিবন্ধন সমস্যা, অবৈধ ভিওআইপির সন্দেহে সিম বন্ধ, গ্রাহকের কাছ থেকে সেবার বিপরীতে বাড়তি অর্থ কেটে নেওয়া, সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টিসহ টেলিযোগাযোগ সেবা-সংক্রান্ত নানা অভিযোগ। গ্রাহকের অভিযোগ-সংক্রান্ত বিটিআরসির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—এ তিন মাস সময়ে গড়ে প্রতি মাসে ২৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর আগে জুলাই থেকে নভেম্বর—এই পাঁচ মাসের মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে ১০০টি করে অভিযোগ জমা পড়েছে। অর্থাৎ গ্রাহকদের অভিযোগ সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। বিটিআরসিতে বর্তমানে তিনটি ব্যবস্থায় গ্রাহকেরা অভিযোগ করতে পারেন। এর মধ্যে প্রথম ধাপটি হলো ডাক, ই-মেইল ও ফোনের মাধ্যমে। দ্বিতীয়টি বিটিআরসির ওয়েবসাইটে গ্রাহক অভিযোগ-সম্পর্কিত ‘ওয়েব বক্সের’ নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে এবং তৃতীয়টি ২৮৭২ শর্টকোডে ফোন করে। বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাক, ই-মেইল, ওয়েবসাইটভিত্তিক ওয়েব বক্সের মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলো প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। এরপর সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া মুঠোফোনে ০১৫৫৫১২১১২১ নম্বরের মাধ্যমেও সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া সাধারণ কর্মদিবসে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সরাসরি গ্রাহকের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। একইভাবে ২৮৭২ শর্টকোডেও গ্রাহকেরা অভিযোগ করতে পারেন। জানা গেছে, বর্তমানে গ্রাহক অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধানে বিটিআরসির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকের অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী সমাধান দেওয়া হয়ে থাকে। ফেসবুক-সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রাহককে সরাসরি পরামর্শ দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির আরেক কর্মকর্তা জানান, গ্রাহকের অভিযোগের ধরন থেকে দেখা গেছে, অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজের লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ডের তথ্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে থাকেন। পরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ হলে সেসব গোপন তথ্য ব্যবহার করে ফেসবুক আইডির অপব্যবহার করা হয়। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আঙুলের ছাপ পদ্ধতিতে চলমান সিম নিবন্ধনের বিষয়েও অনেক সমস্যা ও জিজ্ঞাসা গ্রাহকদের কাছ থেকে আসছে। সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সিম নিবন্ধন-সংক্রান্ত গ্রাহকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব ২৮৭২ শর্টকোডের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মুঠোফোন অপারেটরদের সেবা-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জানতে চাইলে বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকের অভিযোগ সমাধানে টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব গ্রাহকসেবা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে কোনো অভিযোগের সমাধান না হলে বিটিআরসি দ্বিতীয় স্তরের গ্রাহক সেবাকেন্দ্র হিসেবে তা সমাধানে উদ্যোগ নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসির কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত করছে যমুনা ব্যাংক

বেসরকারি খাতের যমুনা ব্যাংকের কুমিল্লা শাখায় গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। শাখাটির ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেনের (সেলিম) বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার ব্যাংকের তিনটি তদন্ত দল কুমিল্লায় আসে। একটি দল গতকাল সোমবার চলে গেছে, বাকি দুটি দল তদন্ত করছে। এদিকে তদন্ত দলগুলো আসায় ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা দুই দিন ধরে শাখাটিতে ভিড় জমান। তাঁদের অনেকেই তদন্ত দলের কাছে অর্থ খোয়া যাওয়ার অভিযোগ জানান। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি মোশারফ হোসেন যমুনা ব্যাংকের কুমিল্লা শাখায় যোগ দেন। এরপর থেকে নানা সময় তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়ার নামে তাঁদের সই করা খালি চেক নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নিতে থাকেন। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকেও টাকা তুলে নেন তিনি। এর মধ্যে নগরের হালুয়াপাড়া এলাকার দেলোয়ারা বেগমের ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বরুড়ার আড্ডা ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা মীর হারুনুর রশিদের ৮ লাখ টাকা, বাগমারা এলাকার হাফেজ নজরুল ইসলামের ৯ লাখ টাকা এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম খানের ৬ লাখ ৯ হাজার টাকা তুলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, মোশারফের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত শুক্রবার রাতে থানায় মামলা করেছেন ওই ব্যাংকের একজন গ্রাহক। অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে ব্যাংকের তদন্ত দলের সদস্যদেরকে কাছে গত রোববার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, ‘ম্যানেজার সাহেব চেয়েছেন বলে আমরা চেক দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যে এ কাজ করবেন, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল।’ শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ব্যাংকের অন্তত ২০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এঁদেরই একজন ঠিকাদার আবুল হোসেন। তিনি আলাপকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যানেজার সপ্তাহ খানেক আগে আমার কাছে চার লাখ টাকা ধার চেয়েছিলেন। আমি না করে দিয়েছি। কারণ আগেও টাকা ধার নিয়ে ফেরত দেননি।’ কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় অবস্থিত এই শাখার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আসাদুল হক বলেন, ‘ম্যানেজার স্যার চেক দিয়ে বলতেন টাকা এনে রাখ। আমরা চেকের বিপরীতে টাকা দিতাম। উনার নির্দেশ অনুযায়ী চেক ফরোয়ার্ড করতাম।’ ব্যাংকের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক প্রধান বদিউল আলম, নিরীক্ষা শাখার কর্মকর্তা মাইনউদ্দিন ও মানি লন্ডারিং শাখার কর্মকর্তা শামসুল আলমের নেতৃত্বে আট সদস্যের তিনটি দল ঘটনা তদন্তে রোববার কুমিল্লা আসে।
ব্যাংকটির আঞ্চলিক প্রধান মো. বদিউল আলম রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধান কার্যালয় গত বুধবারই শাখা ব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গ্রাহকদের আমানত নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। যাঁদের টাকা খোয়া গেছে, তাঁদের অবশ্যই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

পালমিরার বিধ্বস্ত প্রান্তর ও ইতিহাসের হন্তারক by মনজুরুল হক

পালমিরার স্থাপত্য
মানব সভ্যতার ইতিহাস ঠিক কত সহস্র বর্ষের পথ পরিক্রমার ইতিহাস, তা নিয়ে হয়তো মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের বিবর্তনের ধারা যে শুধু শত কিংবা হাজার বছরের পথ চলার হিসাবের মধ্য দিয়ে বর্তমানের এই পর্যায়ে এসে পৌঁছায়নি, তা নিয়ে তর্ক–বিতর্ক অর্থহীন। ইতিহাসের বিভিন্ন উপাদান এবং সেই সঙ্গে নানা রকম বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ আমাদের সহজেই বলে দিতে সক্ষম যে এই ধরণিতে প্রাণের আবির্ভাব হয়েছিল কয়েক লাখ বছর আগে এবং ঘাত-প্রতিঘাতের ধারাবাহিকতা ও পর্যায়ক্রমিক বিবর্তনের মধ্য দিয়েই কেবল সভ্যতার এখনকার এই পর্যায়ে আমরা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। রাষ্ট্র ও জাতীয়তার একালের এই বিভাজন খুবই সমকালীন। কিন্তু সেই সত্যকে মেনে নিলে এটাও আমাদের মানতে হবে যে অতীতের সেই ইতিহাস সার্বিকভাবেই হচ্ছে মানব সভ্যতার ইতিহাস, যে ইতিহাসের অংশীদার মানব সমাজের সদস্য হিসেবে আমরা সবাই। আর তাই আমাদের সেই অভিন্ন অতীতকে জানতে পারার জন্য ইতিহাসের সংরক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেই ইতিহাস লিখিত কোনো পাঠের রূপ নিয়ে কিংবা বস্তু বা স্থাপত্য নিদর্শনের আকারে অথবা অন্য যেকোনো আদলেই উপস্থিত হোক না কেন। আর এ কারণেই অতীতের সে রকম ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের দায়িত্বও মানব সভ্যতার অংশীদার হিসেবে আমাদের সবার ওপর সমানভাবে বর্তায়। উল্টোভাবে আবার মানব সভ্যতার চলমান ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন যুগে এ রকম অনেক ঘটনার দেখা মেলে, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় হঠাৎ বিলুপ্তি টেনে দেওয়ার অপপ্রয়াস যেখানে লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, এটা হচ্ছে সেই রকম কীর্তিকলাপ, নির্ধারিত গণ্ডির বাইরে ইতিহাসের পদচারণ নেই, তা প্রমাণ করার জন্য অতীতের সব রকম নিদর্শন ধ্বংস করে দেওয়ায় হঠাৎ করে শক্তিশালী হয়ে ওঠা কোনো সমরনায়ক বা গোষ্ঠীকে যেখানে উন্মত্ত আচরণে লিপ্ত হতে দেখা যায়। তবে আমরা জানি সে রকম সংকীর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে ইতিহাসকে যারা শত্রু হিসেবে ধরে নেয়, ইতিহাসের ভ্রান্ত পাঠের দীক্ষা আমাদের দেওয়ার জন্যই সেটা তারা করে। ইতিহাসকে ধ্বংস করে দেওয়ার সে রকম চক্রান্তও অনেকটা যেন মানব সভ্যতার মতোই প্রাচীন। নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে জাহির করতে হলে আগের যা কিছু কীর্তি, সেগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারলে নগ্ন প্রান্তরে আমার ভেঙে পড়া কুটির হয়ে উঠবে স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং আমার প্রচার করা শিক্ষাই তখন হবে শিক্ষার একমাত্র সঠিক দৃষ্টান্ত। ফলে ইতিহাসকে হত্যার প্রচেষ্টারও শুরু বলা যায় অনেকটা যেন মানব সভ্যতার আদি পর্ব থেকেই। তবে তারপরও ইতিহাস নিজে থেকেই মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং এর দাম্ভিক হন্তারকদের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে আমাদের জানিয়ে দেয় যে মানব জাতির কতটা নিকৃষ্টতম নিদর্শন হচ্ছে একসময়ের সেই সব একচ্ছত্র অধিপতি। চেঙ্গিস খান, হালাকু খান আর নাদির শাহের মতো ইতিহাসের অতীতের হন্তারক কিংবা এডলফ হিটলারের মতো যুগের ইতিহাস বধে প্রত্যয়ী খলনায়কদের আমরা কিন্তু খলনায়ক হিসেবেই দেখছি, অন্য কোনো অনুকরণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়। ফলে ইতিহাসের দিকে খড়্গহস্ত হলে নিজেকেই সেখানে হতে হয় পর্যুদস্ত, সেই শিক্ষা কিন্তু ইতিহাসই আমাদের দিচ্ছে। তবে তারপরও থেমে নেই বিশ্বজুড়ে ইতিহাস বধের তৎপরতা, যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত আমরা এখন দেখছি পালমিরার ধ্বংসযজ্ঞের দিকে দৃষ্টিপাত করে। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হন্তারক হিসেবে যাদের দেখা গেছে, তারা হলো মৌলবাদী ইসলামের দীক্ষায় দীক্ষিত জঙ্গির দল। পালমিরার ইতিহাস ধ্বংসের তৎপরতায় মাত্র কিছুদিন আগে যেভাবে এরা নিয়োজিত হয়েছিল, সেই একই খেলায় এদের জড়িত হতে দেখা গেছে আফগানিস্তানে প্রায় দুই হাজার বছরের প্রাচীন বামিয়ানের বিশাল সব বুদ্ধমূর্তি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার তৎপরতার মধ্যে। একইভাবে ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মৌলবাদী জঙ্গিদের দখলাধীনে চলে আসার পর সেখানেও দেখা গেছে অতীতকে ধ্বংস করে দেওয়ার সেই একই খেলায় এদের লিপ্ত হতে। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার মূল্যবান সব নিদর্শন কুঠারের আঘাতে গুঁড়িয়ে দিয়েই এরা বসে থাকেনি, তাদের সেই ‘মহান’ কীর্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বাসনায় সেই অপকর্মের ভিডিও ছবিও একই সঙ্গে এরা প্রচার করেছে। অবাক হয়ে ভাবতে হয়, ইসলামের কোন শিক্ষা এদের অনুপ্রাণিত করছে মানব সভ্যতার তাবৎ ইতিহাসকে মুছে দিয়ে একেবারে সাদা পাতায় নতুন এক ইতিহাস রচনার সূচনা করতে? সন্দেহ নেই, সেই শিক্ষা হচ্ছে বিভ্রান্তির শিক্ষা, ইসলামের মূল আদর্শের সঙ্গে যার নেই কোনো রকম সম্পর্ক। বিভ্রান্তির সেই শিক্ষা যে দীক্ষা এদের দিচ্ছে তা হলো, অতীতকে মুছে দিতে পারলে এটা প্রমাণ করা আরও সহজ হবে যে এদের অনুসৃত বিভ্রান্তির ইসলামই হচ্ছে একমাত্র ধর্ম, যা কিনা সভ্যতার যাত্রাপথে মানুষকে দেখিয়ে দিতে পেরেছে শ্রেষ্ঠত্বের পথে পা বাড়ানোর সঠিক পথ। একই সেই ভ্রান্ত শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে মাঠে নেমেছে আমাদের দেশের মৌলবাদীরাও। যারা একইভাবে কেবল স্থাপত্য ধ্বংস করা কিংবা নাম মুছে ফেলার মধ্য দিয়েই নয়, সেই সঙ্গে অতীতকে আমাদের সামনে তুলে ধরার ব্রত নিয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার অন্যান্য শাখার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, সে রকম অগ্রসর চিন্তার মানুষদের হত্যা করেছে। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের ধারাকে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করায় ব্রতী হয়েছে। সে রকম উদ্দেশ্য নিয়েই ১৯৭১ সালে এরা নির্দ্বিধায় খুন করতে পেরেছিল দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, আর সেই হন্তারক তৎপরতার মধ্য দিয়ে মুছে দিতে উদ্যত হয়েছিল আমাদের অতীতের গৌরবময় অধ্যায়কে। এর সবটাই কিন্তু এরাও করেছিল ইসলামের দোহাই দিয়ে, ঠিক যেমনটা দেখা গেছে পালমিরার সভ্যতার নিদর্শন ধুলোয় গুঁড়িয়ে দেওয়ায় লিপ্ত হন্তারকদের বেলায়। পালমিরায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে একদিকে যেমন এরা সে রকম প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়েছিল যে ইসলামের আবির্ভাবের বাইরের যে অতীতের কথা বলা হয়, সে রকম অতীত বলতে কিছু নেই। অন্যদিকে নৃশংস আচরণের মধ্য দিয়ে ভয় দেখিয়ে মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখাও ছিল এদের আরও একটি উদ্দেশ্য। আমরা জানি, পালমিরার ধ্বংসাবশেষকে একই সঙ্গে এরা পরিণত করেছিল বধ্যভূমিতে, যেখানে শত্রুপক্ষের বন্দীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে শিরশ্ছেদ করার ছবিও এরা বিশ্বজুড়ে প্রচার করে বেড়ায়। বছরাধিক কাল ধরে জঙ্গিদের দখলাধীন থাকার পর বন্দী পালমিরা এখন শত্রুমুক্ত। এ যেন হচ্ছে ইতিহাসকে অন্ধকূপ বন্দিশালা থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসা। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর এখনো যে প্রান্তরের এখানে-সেখানে ভগ্নদশা নিয়ে দাঁড়িয়ে দূর অতীতে মানুষের হাতে তৈরি মন্দিরের প্রবেশ পথ, উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চের ধুলায় মিশে যাওয়া ভিত কিংবা প্রাচীন অন্য কোনো স্থাপনার স্মৃতি বহন করা প্রস্তর স্তম্ভ। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ২০০০ বছর আগে যে সভ্যতার সূচনা পালমিরায় হয়েছিল এবং সময়ের বিবর্তনে খ্রিষ্টাব্দের প্রথম শতকে এসে বর্ধিষ্ণু যে জনপদ সেখানে গড়ে উঠেছিল তার সঙ্গে ইসলামের কোনো বিরোধ নেই। ইসলামের গৌরবময় সময়ের শাসকেরাই এর প্রমাণ রেখে গেছেন। আরব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইসলাম ধর্মের প্রসারের মধ্য দিয়ে পালমিরাও একসময় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জনবসতি হয়ে উঠেছিল। সে যুগের ইসলামি শাসকেরা কিন্তু অতীতের রোমান নিদর্শন সংরক্ষণ করায় দেখাননি কোনো রকম কার্পণ্য। তবে কেন একালের ওহাবি দীক্ষায় অনুপ্রাণিত মৌলবাদী জঙ্গিরা অতীতকে শত্রু বলে ধরে নিচ্ছে? শিক্ষার সংকীর্ণতাই মনে হয় বড় ভূমিকা এখানে পালন করছে। বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি একে অন্যের কাছাকাছি আমাদের নিয়ে এলেও আধুনিক সভ্যতার বিভাজনমূলক এই বিশ্বে দেখা দিয়েছে আত্মপরিচয়ের সংকট। অন্যদিকে আবার আমাদের মধ্যে তৈরি করে দিচ্ছে এমন এক দেয়াল, যা কিনা ক্রমেই বিচ্ছিন্ন এক গণ্ডির ভেতরে আমাদের আবদ্ধ করে রাখছে।
অবহেলিত আর বঞ্চিত সেই গণ্ডিতে অতীত সাফল্যের জাবর কেটে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা তুলছি তৃপ্তির ঢেকুর। এ কারণেই অতীতকে যে সেখানে করে তুলতে হয় প্রতিদ্বন্দ্বীমুক্ত। অর্থাৎ আমার অতীতই হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম অতীত, এর বাইরে কিছু নেই। ফলে সেই গণ্ডির বাইরের যা কিছু নিদর্শন, গুঁড়িয়ে ফেল তার সবটা, মুছে দাও এর অস্তিত্ব। ধ্বংসের সে রকম এক খেলাই খেলে চলেছে মৌলবাদী জঙ্গিরা। তবে আমরা জানি সেই খেলায় পরাজয় এদের নিশ্চিত। পালমিরার এখনো দণ্ডায়মান অতীত সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ সেই সত্যকেই যেন আবারও আমাদের সামনে তুলে ধরছে।
(টোকিও, ৬ এপ্রিল ২০১৬)
মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক।

বেচারা ইলিশ!

ইলিশ
পয়লা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া না-খাওয়া নিয়ে এত প্যাঁচ মনে হয় আগে কখনো লাগেনি। বাংলা বছরের শুরুর দিন অনেকেই পান্তা-ইলিশ খান এবং এটাকে এখন একটা রেওয়াজই বলা যায়। এবার দেখলাম বেশ জোরেশোরেই পয়লা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার একটি আন্দোলন শুরু হয়েছে। পান্তা-ইলিশবিরোধী এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি হচ্ছে—এ সময় ইলিশ পাওয়া যায় না, তাই জাটকা ধরা হয়। মা-ইলিশ ধরা হলে ভরা মৌসুমে ইলিশ পাওয়া যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব মাথায় নিয়ে যদি কেউ পান্তা-ইলিশ খাওয়া থেকে দূরে থাকেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু অনেকে তো দেখছি মূল ধরেই টানাটানি শুরু করেছেন। তুলছেন ‘সংস্কৃতির’ প্রশ্ন। বাঙালির বৈশাখ উদ্‌যাপনের আদিতে নাকি ইলিশ খাওয়ার কোনো চল ছিল না। যাঁরা ইলিশ খাওয়া নিয়ে সংস্কৃতির প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের বলি, ভাই, আদিতে তো কত কিছুই ছিল না। আর আদিতে যা ছিল না, তা কোনো দিন ‘সংস্কৃতির’ অংশ হতে পারবে না—এই দিব্যি কে দিয়েছে! দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন যেভাবে বৈশাখ উদ্‌যাপনে মাতে, আদিতে কি তেমন হতো? রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ছাড়া এখন আমরা পয়লা বৈশাখের কথা ভাবতেও পারি না! এরও তো একটা শুরু ছিল। পরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বলতেই আমরা বুঝতে শুরু করি বটমূলের এই অনুষ্ঠানটিকে। এখন এর সঙ্গে আরও নানা অনুষ্ঠান ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে। নানা আয়োজনে উৎসব চলে গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় এমনকি ফ্ল্যাট কম্পাউন্ডেও। আদির প্রশ্ন তুললে তো এগুলো সবই বাদ দিতে হয়! মানুষ উৎসব করতে চায়, বৈশাখ সে সুযোগ করে দিয়েছে। যে যেভাবে তা করতে চায় করুক না! কেউ রমনার বটমূলে যাক, কেউ চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিক, কেউ পান্তার সঙ্গে ইলিশ খাক, কেউ নতুন জামাকাপড় পরে গন্তব্যহীনভাবে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ুক, অথবা হাতিরঝিলে গিয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি করুক, সমস্যা কী! কোনো কিছু রেওয়াজ হয়ে গেলে এর সঙ্গে ব্যবসাও দাঁড়িয়ে যায়। এখন বৈশাখ সামনে রেখে নতুন জামাকাপড় বাজারে আসে। লোকজন এখন অনেকটা ঈদের মতোই বৈশাখেও কেনাকাটা করেন। অনেকে এ সময় ইলিশ খাবেন, তাই মাছ ব্যবসায়ীরা তিন-চার মাস আগে থেকেই ইলিশ মজুত করে রাখেন। সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রিও করেন। যাঁদের টাকাপয়সা আছে, তাঁরা কিনবেন, খাবেন। পান্তা-ইলিশের বিরোধিতা করে বড়লোকের খাওয়াদাওয়ায় বাগড়া দেওয়ার কী দরকার পড়ল কে জানে! বড়লোকেরা তো অনেক কিছুই খান, অনেক কিছুই করেন, যা দেশের বেশির ভাগ মানুষ পারেন না। যাঁদের ইলিশ জোগাড়ের সামর্থ্য নেই, তাঁরা ভিন্ন ব্যবস্থা করবেন, পান্তা যদি খেতেই হয়, তবে নতুন কিছুর সঙ্গে খাবেন, একসময় হয়তো সেটাই রেওয়াজে পরিণত হবে। এই যে এবার প্রথম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৈশাখে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন, এই রেওয়াজ কি আগে ছিল? এই যে শুরু হলো, এটাই একসময় রেওয়াজে পরিণত হবে। সামনের বছরগুলোতে হয়তো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও বৈশাখে উৎসব ভাতা দেবে!
সেদিন দেখলাম ফেসবুকে আমার এক বন্ধু এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, পান্তা যদি খেতেই হয় একাধিক পদের ভর্তা আর কই মাছ দিয়ে খাওয়াই উত্তম। তিনি লিখেছেন, ‘কই মাছ ভেজে মসলা দেওয়া কিংবা সরষে দিয়ে মাখো মাখো ঝোল কিংবা একগাদা সরষের তেল দিয়ে কই—একবার খেয়েই দেখুন, পয়লা বৈশাখে আর কোনো দিন ইলিশের নাম মুখে আনবেন না।’ তিনি নিজের পছন্দের একটি রেসিপিও দিয়েছেন। ‘কালিজিরা আর কাঁচা মরিচ ফোড়ন দিয়ে হলুদ-মরিচ-ধনের গুঁড়ো দিয়ে সাঁতলে নিয়ে তাতে একটু আদা, রসুন, পেঁয়াজবাটা দিয়ে কই মাছ ছেড়ে দিয়ে একটুখানি কষিয়ে নিয়ে সেগুলো কুমড়া বা লাউপাতায় মুড়ে পাঁচ মিনিট ওভেনে রেখে বের করে পান্তা দিয়ে খেয়ে দেখুন।’ পাঠকদের কেউ কেউ চেষ্টা করে দেখতে পারেন! কে জানে সামনের দিনগুলোতে পান্তার সঙ্গে কই মাছ খাওয়াটাই রেওয়াজে পরিণত হয় কি না! বিশেষ করে যখন চাষের কই মিলছে কম দামে। পান্তা-কই হলে কি বৈশাখ উদ্‌যাপনে বড় সমস্যা হবে! কই হোক, ইলিশ হোক বা অন্য কিছুই হোক—উৎসবে শামিল হওয়াই তো বড় কথা। কেউ কেউ হঠাৎ ইলিশ নিয়ে পড়ল কেন কে জানে! আমাদের দেশে বৈশাখের উৎসব আজ যেখানে এসেছে, লোকজন যেভাবে নেমে পড়েছে, তা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই হয়েছে। এটা এখন সব মানুষের জন্য এক মুক্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে। পান্তার সঙ্গে কে কী খাবে বা ভবিষ্যতে আদৌ কেউ পান্তা খাবে কি না, সেটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হবে, আবার বদলাবে। আসুন, আমরা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততায় আস্থা রাখি। ‘পান্তা-ইলিশ’ এক অহেতুক বিতর্ক। বেচারা ইলিশকে এ থেকে মুক্তি দিই!