Thursday, February 27, 2014

ছাত্ররাজনীতি এখন লাভজনক ব্যবসা?

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিগত আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য তাঁদের দায়ী করেছেন। ছাত্রদলের বর্তমান নেতাদের ব্যর্থ আখ্যায়িত করে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। অছাত্রদের বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত-সমর্থক শিক্ষকেরা নাকি তাঁকে সে রকম পরামর্শই দিয়েছেন। তবে ওই শিক্ষকেরা শিক্ষাঙ্গনে কোনো সমস্যা নিয়ে বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়নি। আপাতদৃষ্টিতে খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যে ছাত্রদের দিয়ে ছাত্ররাজনীতি করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে অনেকে আহ্লাদিত হতে পারেন। কিন্তু খটকা লেগেছে ছাত্ররাজনীতির উদ্দেশ্য ও আদর্শ-সম্পর্কিত তাঁর ধ্যানধারণা নিয়ে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে ছাত্রদলের সঠিক নেতৃত্বের অভাবেই বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনটি সফল হতে পারেনি। অর্থাৎ বিএনপি নয়, ছাত্রদলকেই সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল করতে হবে। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ নামে তিনি যে সর্বাত্মক অসহযোগের ডাক দিয়েছিলেন, সেটি কেন ছাত্রদল সফল করতে পারল না, সেই জবাবদিহিও চেয়েছেন তিনি।
এখানে আমরা স্মরণ করতে পারি যে বিএনপির নেত্রী ছাত্রদলের নেতাদের শিক্ষাঙ্গনের হানাহানি ও নৈরাজ্য বন্ধের কথা বলেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাস মোকাবিলা করার কথা বলেননি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে সেশনজট চলছে, ঠিকমতো ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না, সে ব্যাপারে কিছু করার কথা বলেননি। তিনি তাঁদের প্রতি একটি প্রশ্নই রেখেছেন, ছাত্রদল কেন সরকারকে ফেলে দিতে পারল না। ছাত্রদলই যদি সরকারকে ফেলে দেবে, তাহলে বিএনপির প্রয়োজনটা কী? এই হলো ছাত্রসংগঠন তথা ছাত্রসমাজের প্রতি আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আবদার। এই আবদার যে কেবল বিরোধী দল বিএনপি করেছে তা-ই নয়, ক্ষমতাসীন দলটি অন্য রকম আবদার নিয়ে হাজির হয়। সম্প্রতি একজন মন্ত্রী বলেছেন, বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এর অর্থ দাঁড়ায় ছাত্রলীগ নামের সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে ছাত্রদের সমস্যা এড়িয়ে গিয়ে একটাই কাজ করবেন, তা হলো বিরোধী দলকে ঠ্যাঙানো। একদিকে তাঁরা সরকার উৎখাতের, অন্যদিকে বিরোধী দল ঠ্যাঙানোর হাতিয়ার হবেন।
এই হলেন আমাদের অতি বিজ্ঞ রাজনীতিকদের চিন্তাভাবনা। দেশ গোল্লায় যাক, ছাত্রদের পড়াশোনা লাটে উঠুক। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাত্রসংগঠনকে তাঁদের ক্ষমতায় যাওয়ার ও থাকার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবেনই। শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা সমাধান হোক বা না হোক, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সচল থাকুক বা না থাকুক, সেসব নিয়ে তাঁদের মাথাব্যথা নেই। এক পক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে নামাতে মরিয়া, আরেক পক্ষ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে দাঁড় করাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অছাত্র বা আদুভাইদের নিয়ে ছাত্রসংগঠন করার উদ্দেশ্য ছাত্ররাজনীতিকে সুস্থ ও সঠিক পথে নিয়ে আসা নয়, বরং ছাত্ররাজনীতির নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা। এ কাজটি কেবল বিরোধী রাজনৈতিক দলই করে থাকে তা-ই নয়, সরকারি দলও একই কাজ করে। যেহেতু তাদের হাতে সরকার, পুলিশ, প্রশাসন আছে, সেহেতু ছাত্রসংগঠনের ওপর ততটা নির্ভর করতে হয় না। কিন্তু বিরোধী দলের প্রধান হাতিয়ারই হয়ে ওঠে ছাত্রসংগঠন। অছাত্রদের নিয়ে ছাত্রসংগঠন করার রেওয়াজ শুরু হয় স্বাধীনতার পর থেকেই। ছাত্রনেতাদের যখন বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ হয়ে যায়, তখন নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য অন্য একটি বিষয়ে (এ ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানই ভালো দৃষ্টান্ত) ভর্তি হয়ে থাকেন। তাঁরা ভর্তি হন বটে, পাস করে বের হন না। বের হলেই ছাত্রনেতৃত্ব চলে যাবে।
পাকিস্তান আমলে নিয়মিত ছাত্ররাই ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন। শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করতেন। এ দেশে ষাটের ও আশির দশকে যে দুটি ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, দুটিই ছিল শিক্ষাকেন্দ্রিক, সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্ররা রাজপথে নেমে এসেছিলেন এবং জীবন দিয়েছিলেন। আশির দশকের পর ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে ছাত্রদের বড় ধরনের কোনো আন্দোলন চোখে পড়ে না। রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রসংগঠনগুলোকে নিজেদের অনুগত ও বাধ্যগত সংগঠন হিসেবে পরিচালিত করতে চায়। এ কারণে তাঁদের কেউ সংগঠনের সাংবিধানিক অভিভাবক হন, কেউ বা সংগঠনের নেতৃত্বে কে আসবেন, তা ঠিক করে দেন। সম্মেলন করে কাউন্সিলরদের ভোটে ছাত্রনেতৃত্ব গঠনের রেওয়াজ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। মাঝখানে ছাত্রলীগ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়ার একটি মহড়া দিলেও পরবর্তীকালে ছাত্রদলকেই অনুসরণ করতে থাকে। সম্মেলন হবে, কাউন্সিলররা আসবেন, কিন্তু নেতৃত্ব বাছাই করবেন আপা বা ম্যাডাম। ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ উভয় সংগঠন এখন পরিচালিত হচ্ছে প্রধানত অছাত্রদের দিয়ে। কমিটির মেয়াদ তিন থেকে চার বছর পার হলেও নতুন নেতৃত্ব গঠনের উদ্যোগ নেই। ছাত্রত্ব নেই, তবু তাঁরা ছাত্রনেতা।
সবচেয়ে অবাক কাণ্ড, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার যাদের স্বৈরাচারী সামরিক শাসক হিসেবে চিহ্নিত করতে ভালোবাসে, সেই সামরিক শাসনামলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও এখন আর সেটি হচ্ছে না। জিয়াউর রহমান ও এরশাদ দুই সামরিক শাসকই ডাকসুসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়েছিলেন এবং অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিরোধী দলের সমর্থক ছাত্রসংগঠন জয়ী হয়েছিল। কিন্তু গত দুই দশকের গণতান্ত্রিক সরকারগুলো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নামও মুখে আনেনি। অতীতে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্ব গড়ে উঠত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী নেতাদের নিয়েই। যাঁরাই ডাকসু, চাকসু, রাকসু প্রভৃতি ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হতেন, তাঁরাই পরবর্তীকালে ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতেন। আবার কখনো ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্য থেকেও ছাত্র সংসদের নেতা হতেন। এসব ছাত্রনেতা কেবল নিজের সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কাছে আস্থাভাজন ছিলেন না, আস্থাভাজন ছিলেন দলমত-নির্বিশেষে সব ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনামলে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসর বিএনপির সঙ্গে স্বাধীনতার চেতনাধারী আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই। আওয়ামী লীগ ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে এ পার্থক্য দৃশ্যমান করলে ছাত্রসমাজ উপকৃত হবে। দুই বড় দলের শীর্ষ নেত্রী তিন দশকের বেশি সময় ধরে দলের নেতৃত্বে থাকলেও ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব গড়ে তোলার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে আছেন। সম্ভবত তাঁরা চান না যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব আসুক। তাঁরা চান অনুগত ছাত্রনেতৃত্ব। এই অনুগত ও বাধ্যগতদের দিয়ে আর যা-ই হোক, ছাত্ররাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই ছাত্ররাজনীতি সাধারণ ছাত্র বা শিক্ষার কোনো কল্যাণ করবে না। গোষ্ঠী ও ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করবে।
মূলত ছাত্রদের কল্যাণে, ছাত্রদের স্বার্থে এবং ছাত্রদের সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োজিত হওয়া উচিত ছাত্ররাজনীতি। আজ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ছাত্ররাজনীতি আর ছাত্রদের স্বার্থ ও কল্যাণের চিন্তা করে না। এমনকি তারা রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রথম কথা হলো ছাত্ররাজনীতির কাছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যাশা কী? এই প্রত্যাশা যদি দলকে ক্ষমতায় আনা এবং ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করা হয়, তাহলে সেটি ছাত্ররাজনীতি থাকে না। তাদের রাজনৈতিক দলেরই নেতৃত্বে এসেই সেই কাজটি করা উচিত। সম্প্রতি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে খালেদা জিয়া কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে যে প্রশ্নটি করেছেন, সেই প্রশ্নটি সব ছাত্রসংগঠনের প্রায় সব ছাত্রনেতার উদ্দেশে করা যায়। করা উচিত। ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, ‘তোমাদের এত বয়স, চাকরি করো না, ব্যবসা করো না, তোমরা চলো কীভাবে? তোমাদের পরিবার থেকে এখনো তোমাদের টাকা দেয়?’
বিএনপির চেয়ারপারসনের অজানা নয় যে যাঁরা চাকরি করেন না এবং যাঁদের ছাত্রত্ব অনেক আগেই পার হয়ে গেছে, তাঁরাই ছাত্রনেতৃত্ব আঁকড়ে আছেন। তবে ছাত্রনেতাদের কাছে এ প্রশ্ন করার আগেই তাঁর নিজের কাছে প্রশ্ন করা উচিত এ অছাত্রদের কেন তিনি ছাত্রনেতৃত্বে রেখেছেন। একজন তরুণ, যাঁর ছাত্রত্ব নেই, তাঁকেই ছাত্রনেতৃত্ব দিয়ে অবৈধ আয়ের এবং অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছেন। এত দিন ক্ষমতার রাজনীতিকে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। মন্ত্রী, সাংসদ, উভয় পক্ষের রাজনীতিকেরা নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে তার প্রমাণও দিয়েছেন, দিচ্ছেন। হালে দেখা যাচ্ছে কেবল জাতীয় রাজনীতিই নয়, ছাত্ররাজনীতিও লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ক্ষমতায় থাকতে এ ব্যবসায় সরাসরি লাভবান হওয়া যায়, আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করে। বিএনপির নেত্রী এবারের বিনিয়োগের সুফল পাওয়া যায়নি বলে আক্ষেপ করেছেন। ভবিষ্যতে ছাত্রদলকে দিয়ে সেই বিনিয়োগের লাভ সুদে-আসলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন নিশ্চয়ই।
 সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

খাঁচায় ঢুকছে সংসদ ভবন!

সংসদ ভবন
খাঁচায় পোরা হচ্ছে সংসদ ভবনকে! এখন বিশ শতকের দুনিয়াসেরা দশ স্থপতির একজন লুই আই কানের সর্বশ্রেষ্ঠ এই কাজটিকে দেখতে হবে শিকের ফাঁক দিয়ে। এমন একটি অনন্য স্থাপনার মালিক হয়ে আমরা সম্ভবত বুঝতে পারছি না যে ‘এমন সম্পদ লইয়া কী করিব!’ এই সম্পদের নিরাপত্তা দরকার, সম্ভবত সংসদে যাঁরা বসেন, তাঁদের নিরাপত্তাও দরকার (সংসদ ভবনে বসে সাংসদেরা নিরাপত্তাহীন বোধ করেন কি না, এটা জানার কৌতূহল হচ্ছে)। সুতরাং একে খাঁচায় ঢোকাও! নিরাপত্তা বলে কথা! দক্ষিণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও উত্তরে ক্রিসেন্ট রোডের মাঝখানে ২০০ একর জায়গায় আমাদের সংসদ ভবন। বিশ শতকের নির্বাচিত ১০০টি স্থাপত্যের একটি। অনেক সময় লেগেছে এই পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে। ১৯৬২ থেকে ১৯৮১। লুই কান মারা যান চুয়াত্তরে। কিন্তু এর আগেই ১৯৭৩ সালে ভবনের ধারণাটি চূড়ান্ত করে দিয়ে যান। সংসদ ভবন, সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন, দক্ষিণ দিকের খোলা অংশ জনগণের জন্য—এটাই হচ্ছে পুরো পরিকল্পনার ধারণা। এই দক্ষিণ প্লাজা বা চত্বর দীর্ঘদিন জনগণেরই থেকেছে।
এই চত্বরে হেঁটে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য জনগণকেই সম্ভবত আমাদের সরকারগুলো সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে। জনগণের সংসদকেও তাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই উদ্যোগ আয়োজন। এই চেষ্টা নতুন নয়। এর আগেও সংসদ ভবনকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তখন ক্ষমতায় এরশাদ। আমাদের কাছে স্বৈরশাসক। আশির দশকে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে গিয়ে সেই সরকার তখন ভবনটিকে বেড়া দিয়ে আটকাতে চেয়েছিল। স্থপতিদের তরফে আপত্তি ওঠায় তখন সেই ধারণা থেকে সরকারকে সরে আসতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ‘গরু-ছাগলের’ প্রবেশ ঠেকাতে হাঁটুর উচ্চতার একটি গ্রিল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চত্বরে মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল। স্বৈরাচারী শাসনের সময় যেটা শুরু হয়েছিল ‘গরু-ছাগল’ ঠেকানো দিয়ে, ‘গণতান্ত্রিক’ শাসনে তা এসে দাঁড়াল মানুষ ঠেকানোতে। সংসদ ভবনে যেটা ছিল জনগণের চত্বর, সেখানে নিষিদ্ধ হলো জনগণের প্রবেশ। নিরাপত্তাচৌকি বসল বিভিন্ন স্থানে। এরপর অন্তত ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে বা দাঁড়িয়ে ভবনটি দেখার বা খোলা চত্বরটির দিকে তাকানোর সুযোগ ছিল জনগণের। এখন সেটাও যাচ্ছে, শিকের মধ্য দিয়ে দেখতে হবে খাঁচায় পোরা এই ভবনটিকে। ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ সংসদ সচিবালয় সংসদ ভবন চত্বরকে লোহার শিকের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে সংসদ সচিবালয় (ডেইলি স্টার, ২৩ ফেব্রুয়ারি)। যে নিরাপত্তার জন্য খাঁচায় গিয়ে ঢুকতে হচ্ছে সংসদ ভবনকে, সেই ‘নিরাপত্তা’র বিষয়টি আসলে কী? যখন এই ভবন তৈরি হয়েছে, তখনকার নিরাপত্তার ধারণা আর এখনকার নিরাপত্তার ধারণার মধ্যে নিশ্চয়ই পার্থক্য রয়েছে।
কিন্তু এই ভবনটি নিরাপত্তার দিকটি কি ডিজাইনে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি? সংসদ ভবন, শেরেবাংলা নগর ও লুই কান—এসব বিষয় নিয়ে লেগে আছেন ও কিছু গবেষণার কাজ করেছেন স্থপতি সাইফ উল হক। স্থপতি কাজী খালিদ আশরাফের সঙ্গে মিলে ২০০২ সালে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছিলেন তিনি, ‘শেরেবাংলা নগর: লুই কান অ্যান্ড দ্য মেকিং অব আ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স’ শিরোনামে। তাঁর শরণাপন্ন হয়েছিলাম বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার করতে। ‘সংসদ ভবনটির নিরাপত্তা আর জনগণের জন্য রাখা খোলা চত্বর বা উদ্যানের নিরাপত্তা এক জিনিস নয়। আর কী ধরনের নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে সংসদ ভবনের, তাও পরিষ্কার নয়। ভবনটিতে প্রবেশ করার যে পথগুলো রয়েছে, তার স্থাপত্য ডিজাইনেই এর নিরাপত্তার বিষয়টি রয়েছে। দক্ষিণ দিকে যে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে, সেগুলো দিয়ে ভবনে প্রবেশ করতে হলে নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হতে হয়। উত্তর দিকে পথটিও সুরক্ষিত। সাঁতার কেটে বা হেলিকপ্টার ছাড়া সংসদ ভবনে কোনো উপায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।’ তাঁর সঙ্গে আলাপ করে যে প্রশ্নগুলো মাথায় এসেছে, তা হচ্ছে সংসদ ভবন যে নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেটা কোন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে? গোয়েন্দা রিপোর্টে কি এ ধরনের আশঙ্কা রয়েছে? যদি তা থেকে থাকে তবে এই ভবনটি বিবেচনায় নিয়ে এর নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে কী কোনো স্টাডি হয়েছে কি? সংসদ সচিবালয় ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ লোহার বেড়া দেওয়ার যে কাজ শুরু করল, সে ব্যাপারে কি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে? আর শুধু বেড়া দিয়ে বা জনগণের প্রবেশাধিকার ঠেকিয়েই কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব? সংসদ ভবন শুধু এর স্থাপত্যের কারণেই নয়, দেশ পরিচালনা ও গণতন্ত্রের কেন্দ্র হিসেবেও দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভবন। এর নিরাপত্তার দিকটি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।
সংসদ ভবনের নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার পর যদি কোনো ফাঁকফোকর চিহ্নিত হয়, তবে তা নিশ্চয় দূর করতে হবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে সে ধরনের কিছু ধরা পড়লে এই স্থাপনাটির শৈল্পিক ও স্থাপত্য গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে করণীয় ঠিক করতে বিশেষজ্ঞ স্থপতিদের পরামর্শ নেওয়াই হচ্ছে সঠিক পথ। সে ধরনের কিছু যে হয়নি, এই বেড়া নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর স্থপতি ও নগর পরিকল্পকদের প্রতিক্রিয়া দেখেই তা স্পষ্ট। ‘লোহার শিকের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি হাস্যকর এবং এটা কোনো সম্ভাব্য হামলা বা অন্তর্ঘাত থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেবে না।’ এ মন্তব্য বাংলাদেশের সাবেক প্রধান স্থপতি এ এস এম ইসমাইলের (সূত্র: ডেইলি স্টার)। সংসদ সচিবালয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে পূর্ত মন্ত্রণালয়। ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে লুই কান যে চূড়ান্ত নকশাটি অনুমোদন করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ চত্বরটি পার্কসহ জনগণের জন্য খোলা রাখা হয়েছে, এর চারপাশে বেড়ার কোনো ব্যাপার নেই। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে সীমানাজুড়ে ফোয়ারা ও ছোট খালের কথা বলা আছে। এই পরিকল্পনাকে বিকৃত করে সাড়ে আট ফুট লোহার শিকের খাঁচায় আটকে যাচ্ছে আমাদের সংসদ ভবন, বিশ্বে অন্যতম সেরা স্থাপত্য, এক অনন্য শিল্পকর্ম হিসেবেও যা বিবেচিত। ‘সংসদ ভবনটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শুধু পূর্তকাজই দেখতে পারে। এ ধরনের স্থাপনার বিষয়গুলো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা উচিত। আমাদের বর্তমান সংস্কৃতিমন্ত্রী একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
এ ব্যাপারে তাঁর কাছ থেকে বিশেষ উদ্যোগ আশা করছি। আমরা চাই একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্থাপত্যটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হোক।’ এই অনুরোধ স্থপতি সাইফ উল হকের। সংসদ ভবন জনগণের, শিকের ভেতর দিয়ে কেন তাদের এই ভবন দেখতে হবে? এর দক্ষিণ চত্বরটি জনগণের জন্যই করা, সেখানে জনগণকে প্রবেশের সুযোগটি না থাকলে এর মূল চেতনাটি নষ্ট হবে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই পার্লামেন্ট ভবন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। অনন্য স্থাপত্য জার্মান আইনসভা বুন্ডেস্টাগের রেইখস্টাগ ভবন। ১৮৯৪ সালে জার্মান সাম্রাজ্যের আইনসভা হিসেবে দ্বার উন্মোচিত হওয়া এই ভবনটি নব্বই সালে দুই জার্মানি এক হওয়ার পর সংস্কার করেন বিখ্যাত স্থপতি নরম্যান ফস্টার। দুনিয়ার দর্শনার্থীদের কাছে এটি এখন অন্যতম আকর্ষণীয় এক ভবন। ১৯৯৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন কোটি ৪০ লক্ষাধিক দর্শনার্থী এই ভবন পরিদর্শন করেছেন। এই ভবনের নিরাপত্তা বলে কি তবে কিছুই নেই? লুই কানের সর্বশ্রেষ্ঠ এই সৃষ্টিকে বিকৃত করে বেড়া তৈরির কাজটি এখনই বন্ধ করতে হবে। সংসদ ভবনকে খাঁচায় বন্দী করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প পথ নিশ্চয়ই আমাদের স্থপতি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দিতে পারবেন।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

বাংলা চর্চায় আমাদের অনীহা

মুস্তাফা নূরউল ইসলাম একদিন আমাকে বললেন: ‘আব্বাসী, প্রতিদিনই লিখি, রাত তিনটায় উঠেও। কেন জানো? এটি না হলে ঘুম আসতে চায় না। রোজ কলম ব্যবহার করবে, না হলে কলম সরবে না।’ ‘সিলভারস্প্রিং’-এ ওনার পাশের ঘরে আমার বেডরুম। রোজ রাতে দেখি তাঁর ঘরে আলো জ্বলছে অর্থাৎ তিনি তাঁর কাজটি করছেন। গত তিন মাসে ‘কলাম’-এ আসিনি, তবে বইমেলায় উপস্থিতি কটি বই নিয়ে। তেমনি আমার ক্ষেত্রে সকালে গলা না সাধলে দিনটি মনে হয় শুরুই হয়নি। ভাষার মাসে ভাষা ছাড়া কিছু বলা যাবে না, অথচ ভাষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ যে অস্তিত্ব, তা ভুলে যাই। ঘরে কেন আগুন, কেউ জিজ্ঞেস করছে না, কেন মানুষ অমানুষ, জিজ্ঞেস করছি না। বিশ্বাস আমাদের গভীরতর। শুধু ভাষার স্থানই নয়, আছে ডায়ালেক্টেরও। ইংরেজিতে এর নাম: ‘গাটারাল ইন্টোনেশন’। বাংলার সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আবহাওয়ায় যে ভাষা বেড়ে ওঠে, তার মতো আর কোনো ভাষাতে বাঙালি খুঁজে পাবে না আমৃত্যু তার অস্তিত্ব। রেডিও ও টেলিভিশনের চ্যানেল-সংখ্যা বেড়ে চলেছে। অনুপাতে ভাষাচর্চা যদি হতো দিন-রাত, অবশ্যই আনন্দিত হতাম। সব জীবিত ভাষা গতিশীল, যা ভাষাকে করে সংস্কৃত, আধুনিকতর। ফলে বানান পরিবর্তিত হয়, অব্যবহূত শব্দ বাদ পড়ে। পাহাড়ি নদীর মতোই এর এগিয়ে চলা, ততই স্ফূর্তি, ততই সহজ ও সমতলের পানে ছুটে যাওয়া। অভিধানচর্চার বালাই নেই, শব্দ নির্বাচনে নেই সাবধানতা, বানান ও উচ্চারণে অনবধানতা।
আদর্শ কথ্য বাংলার উচ্চারণ কী হবে, এ নিয়ে শিক্ষকদের নেই মাথাব্যথা। ধরা যাক, পদ্ম শব্দটি। এটি কীভাবে উচ্চারিত হবে, তা ভেবে দেখেন না, না-শিক্ষক, না-গায়ক। এটি উচ্চারিত হবে ‘পদেদা’ নয়, ‘পদেদাঁ’, কারণ পদ্মর গর্ভে ‘ম’ আছে। উচ্চারণের সময় ‘ম’টির কথা ভুলে বসে থাকি। এমন আরও বহু শব্দ, যার মধ্যে ‘ম’-র উচ্চারণ লুক্কায়িত। একটি ছেলে গান গাইছে। গানটি: ‘পদ্মার ঢেউ রে’, সে ভালোই গাইল, গোড়াতেই গলদ। গানের সময়ও পদেদাঁই হবে। কে শেখাবে? শিক্ষিত লোকদের কাছে অভিধান অর্থ বর্ণানুক্রমিক অর্থসংবলিত বই। আসলে তা নয়। শব্দের প্রাথমিক অর্থকে বলা হতো অভিধান। আর যে গ্রন্থে সেই প্রাথমিক অর্থ ধরা থাকত, তা-ই অভিধান। শব্দের মুখ্যার্থ বর্ণনা করলেই অভিধান সংকলকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আজ আমরা যাকে অভিধান বলছি, তাকে একসময় বলা হতো শব্দার্থ কোষ। ধরে নিয়েছি ‘ডিকশনারি’ অর্থ অভিধান এবং ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’র অর্থ কোষ বা জ্ঞানকোষ। অভিধানের চেয়ে শব্দকোষ নামটি যুক্তিযুক্ত। বাংলা ভাষায় রয়েছে শত শব্দকোষ। প্রয়োজন হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এই শব্দকোষের ব্যবহার। আমাদের রচিত বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে নিবিড় পরিচয় ঘটার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু নতুনদের ক্ষেত্রে তা নয়। আমার নাতি-নাতনিদের কথা বলছি। শব্দ ও ভাষা নিয়ে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা দূরের কথা, বরং যা কিছু অর্জিত তার প্রতি অনীহা। যেকোনো ভাষাই প্রধানত মুখের ভাষা। লিখিত সাহিত্যের ব্যাপারে তা আলাদা। আমরা সব সময় দৃষ্টি দিই, যাতে তার রূপ থাকে দৃষ্টিনন্দন। সে কারণে উচ্চারণে দিকটি রয়ে যায় উপেক্ষিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ডায়ালেক্ট নিয়ে অনেক কথা উঠেছে, টেলিভিশন ও রেডিওতে যখন শোনা যায় সিলেটি অথবা চট্টগ্রাম অথবা নোয়াখালীর ডায়ালেক্টে সুজন ব্যক্তিরা ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছেন এতটুকু ভ্রুক্ষেপ না করে,
বোঝা যায় যে উচ্চারণকোষ আমাদের শিক্ষার আওতা থেকে বাইরে কেন। সুভাষ ভট্টাচার্য তাঁর ১২৪ পৃষ্ঠাব্যাপী বাংলা ভাষা চর্চা বইতে এ নিয়ে আদ্যোপান্ত আলোচনা শেষে সংবাদপত্রের শিরোনাম নিয়ে অনেক মূল্যবান বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের সংবাদপত্রে মোটামুটি সরল শিরোনাম, যাতে সংক্ষেপণ ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার সীমিত। ভাষা যদি এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে সংক্ষেপণ ও বিরাম চিহ্নেরও প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি। পাঠক ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবেন, এটাই কাম্য। প্রথম আলো ভাষাচর্চার যে উন্নত নীতিমালা প্রতিদিনের কার্যক্রমে প্রকাশ করে চলেছে, তাকে সাধুবাদ দিতেই হয়। ‘ভাষাযোগ’ তাদের একটি নিয়মিত কার্যক্রম। তমদ্দুন মজলিশ প্রবর্তন করেছে ‘মাতৃভাষা পদক’। অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল গফুর, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, কবি ও গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ ও আমাকে ২০১১ সালে ‘মাতৃভাষা পদক’ দেওয়া হয়। এই পদকে সম্মানিত হওয়ায় আনন্দিত আমি, কারণ তমদ্দুন মজলিশ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ। কদিন আগে ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। দুই বছর ধরে বইটি লেখা হয়েছে, কাজী নজরুল ইসলাম: ম্যান অ্যান্ড পোয়েট। কোথাও খবরটি গুরুত্ব পায়নি। ছেলেমেয়েরা ভাষার শ্রেষ্ঠ আকর রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের গান আউড়ে গেছে, প্রবেশাধিকার পায়নি ভেতরে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সবই আছে, নেই বাংলা। প্রধান অতিথি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম দুঃখ করে বললেন, ‘বলতে বলতে হয়রান হয়ে গেলাম, মাতৃভাষার প্রতি আমাদের অনুরাগ বচনসর্বস্ব। পৃথিবীর কাছে নজরুলকে পৌঁছে দেব ইংরেজিতে, ফরাসিতে, আরবিতে, জাপানিতে—সেটা ঠিক আছে। কিন্তু নজরুল অধ্যয়ন, রবীন্দ্র অধ্যয়ন হবে কোন ভাষায়? তার চর্চা কে করবে?’
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীতব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net