Tuesday, May 9, 2017

বিচার বিভাগ নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেনা -প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা



যখন রাষ্ট্রের দুইটি অঙ্গ তাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয় তখন বিচার বিভাগ নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি আরো বলেছেন, আইনের সীমার মধ্যে থেকে সুপ্রিম কোর্ট সবসময় সংবিধানের অন্যতম অভিভাবক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে ‘বিচারিক স্বাধীনতা’ শীর্ষক  সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট,  কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট এবং কমনওয়েলথ ম্যাজিস্ট্রেটস্ এন্ড জাজেস এসোসিয়েশন (সিএমজেএ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আইন ও নির্বাহী বিভাগের কাজের উপর আদালত বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষকের (ওয়াচডগ) দায়িত্ব পালন করছে। সাংবিধানিক পদ্ধতির অধীনে স্বাধীন বিচার বিভাগ এ দায়িত্ব পালন করে। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের ভূমিকা সঠিকভাবে অঙ্কন করার মাধ্যমে সংবিধানকে সমুন্নত রাখা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান অবদান। তিনি বলেন, যখন রাষ্ট্রের দুইটি অঙ্গ তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখন বিচার বিভাগ নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেনা। আইনের সীমার মধ্য থেকে সুপ্রিমকোর্ট সবসময় সময় সংবিধানের অন্যতম অভিভাবক হিসেবে দাড়িয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারিক স্বাধীনতা মানে কোনো ধরণের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়া বিচারকের ক্ষমতা প্রয়োগ করা। বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার মূল ও ঐতিহ্যগত অর্থ হলো- সরকারের রাজনৈতিক শাখাগুলো থেকে বিশেষত নির্বাহী সরকার থেকে বিচারকদের সামষ্টিক ও স্বতন্ত্র স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, দেশের অর্ধেকের বেশী মানুষ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণটি কী- তা জানে না। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সত্যিকার অর্থে পৃথক করার জন্য মানুষের কোনো শক্তিশালী আন্দোলন নেই। সচেতনতার অভাবই এর কারণ। বক্তব্যে কমনওয়েলথ দেশগুলোর বিচার বিভাগগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। কমনওয়েলথ দেশগুলোর সরকারগুলোকে কমনওয়েলথ লিগ্যাল রিচার্স জুডিশিয়াল একাডেমী স্থাপনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একাডেমীতে সবাই তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। একইসঙ্গে সন্ত্রাস সম্পর্কিত এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মামলার বিষয়েও আলাপ আলোচনা করবে। অনুষ্ঠানে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের চিফ ম্যাজিস্ট্রেট রয় রিনাউডে, ইংল্যা-ের  বিচারক শামীম কুরেশী, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের আইন উপদেষ্টা মার্ক গোথরে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ‘ধর্ষণ’ - ওরা কেউ ধরা পড়েনি

রাজধানীর বনানীতে দি রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগের পর মামলা দায়ের হতে লেগেছিল তিন দিন। এখন গতকাল মামলার দ্বিতীয় দিন পার হলেও গ্রেপ্তার হয়নি ধনীর দুলালরা। গতরাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত অধরা ৫ আসামির সবাই।
তবে প্রভাবিত হয়ে আসামি গ্রেপ্তারে অনীহার কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ। আসামিরা যাতে বিদেশে পালাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এদিকে ঘটনাটিকে ধর্ষণের নামে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করছে আসামির স্বজনরা। ওই ঘটনা তদন্তে গতকাল ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গতকাল দুই তরুণী ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে বাসায় ফিরে গেছেন।
মামলার বাদী মানবজমিনকে বলেন, একজন নারী হিসেবে সমাজে কখন ধর্ষিতা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। ব্ল্যাকমেইলের হুমকির পর তারাই সে বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর পর আমরা বাধ্য হয়ে জানিয়েছি। মামলা করেছি। আপনারা তাদের জিজ্ঞেস করুন। দেখুন তারা কী বলে। আমরা ধর্ষণের বিচার চাই। আর যাতে কেউ তাদের শিকার না হয়। মামলার তদন্তে দায়িত্বে থাকা বনানী থানার  পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ  আবদুল মতিন মানবজমিনকে বলেন, পুলিশ প্রভাবিত হয়নি। কোন অনীহাও নেই। তদন্ত চলছে। ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ধর্ষিতারা সাফাতের ডিভোর্স পাওয়া স্ত্রীকে নিয়ে থানায় মামলা করতে এসেছিল। সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যা উঠে আসবে সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করলেও মামলার তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
মামলার অভিযোগ ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, গত ২৮শে মার্চ দিবাগত রাতে সাফাত আহমেদের জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াতের কথা বলে ওই দুই তরুণীকে সেই হোটেলে নেয়া হয়। সাফাত স্বনামধন্য আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। এরপর সেখানে পার্টি তো দূরের কথা, তেমন লোকজনও ছিল না। পরে ওই হোটেলের ৯ তলার ছাদ থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হোটেল কক্ষে নিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ সাফাত ও তার বন্ধু আরেক ধনীর দুলাল নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে। আর ওই দুই ছাত্রীকে ডেকে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা ছিল দুই বছর ধরে দুই বান্ধবীর পরিচিত বন্ধু সাদমান সাকিফের। সাদমান সাকিফ অপর এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ছেলে। বাকি দুই আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও বডিগার্ড। সাফাত ও নাঈম ধর্ষণদৃশ্যের ভিডিওচিত্র ধারণ করে তাদের বারবার ধর্ষণের সুযোগ নেয়ার জন্য ব্ল্যাকমেইল করেছিল। ঘটনার কথা কাউকে বললে খুন ও গুমের হুমকি দিয়েছিল। ঘটনার পর কথামতো তারা সেই ভিডিও’র কথা বলে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করলে একপর্যায়ে তারা তা স্বজনদের জানাতে বাধ্য হয়। থানায় যায়। মামলা করে।
এদিকে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। আগামী ১৫ দিনে মধ্যে ওই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ইতিমধ্যে মিডিয়ায় অনেক কিছু প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও আমরা ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলেছি। আজকেই (সোমবার) আমরা পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এ ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টা নিয়ে আমরা কথা বলবো। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নজরুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নুরুন নাহার ওসমানী, এনামুল হক চৌধুরী, শরীফ উদ্দীন ও এম রবিউল ইসলাম।’
তদন্ত কমিটি প্রয়োজনীয় স্থান পরিদর্শন, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলেও জানায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনার।
আসামিদের বিদেশে পালানো ঠেকাতে ‘সতর্ক’ পুলিশ: দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণে জড়িতদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সতর্ক রয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে বনানী থানা পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিবির উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম। তারা মামলাটির ছায়াতদন্ত করছে বলেও জানান। তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়ে আসামিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আসামিরা কোথায় আছে, তা বলা যাবে না। তবে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।’
অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে নাজমুল বলেন, ‘আসামিরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।’ এখন পর্যন্ত কোনো আসামির দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পুলিশের কাছে নেই বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
এদিকে ধর্ষণকারী হিসেবে উল্লেখ করা সাফাত ও নাঈম প্রভাবশালী দুই ধনীর দুলাল। অপর সহযোগী সাকিফও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ছেলে। বাকি দুজন সাফাতের গাড়িচালক ও বডিগার্ড। সাফাতকে গ্রেপ্তারে গুলশান-২-এর বাসায় বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। সাফাত, নাঈম, সাদমান এবং ঢাকার একজন সংসদ সদস্যের ছেলে বনানী ১১ নম্বর সড়কে একটি রেস্তোরাঁ চালান। এছাড়া তাদের একাধিক সীসাবারও রয়েছে।
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাফাত ও নাঈমের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সাফাতের পিতা দিলদার আহমেদের মুঠোফেনে কল ও এসএমএস দেয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভারতে প্রধান বিচারপতিসহ ৮ বিচারপতির জেল

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সিএস কারনান ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং অন্য সাত বিচারপতিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। 'তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি অত্যাচার আইন ১৯৮৯' এবং ২০১৫-র সংশোধিত আইনে দোষী সাব্যস্ত করে তিনি তাদের এই শাস্তি দেন। সোমবার বিকেলে ভারতের শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের জেলে পাঠানোর নির্দেশের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ রুপি করে জরিমানাও করেন বিচারপতি কারনান। অনাদায়ে বিচারপতিদের আরো ছ'মাসের জেল। রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি কারনান বলেন,
শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা বর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। নির্দেশে তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লির খান মার্কেটে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির সাংবিধানিক সংস্থা- ন্যাশনাল কমিশনে জরিমানার এই অর্থ জমা দিতে হবে। দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে এই রায় কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি কারনানের কলকাতার নিউটাউনের বাড়ি থেকে ১২ পাতার এই সুয়োমোটো নির্দেশটি জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের সাত সদস্যের বেঞ্চ গত ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে। গত ৪মে সুপ্রিম নির্দেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ৪ সদস্যের একটি টিম তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে এলে, অস্বীকার করেন কারনান।

আমেরিকাকে ধ্বংস করতে মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে উ. কোরিয়া!

এবার আমেরিকার ওপর হামলা চালাতে আরো একধাপ এগিয়ে গেল উত্তর কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উনকে জীবাণু প্রয়োগ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর বিরুদ্ধে। তারপর থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছে উত্তর কোরিয়া, তবে তা স্থলপথে নয়, মহাকাশেই জবাব দিতে মরিয়া উত্তর কোরিয়া। মার্কিনি বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়া আমেরিকার ওপর ইলেকট্রনিক প্লাস অস্ত্র (ইএমপি স্ট্রাইক) দিয়ে হামলা করতে পারে।
এর জন্য প্রস্তুতিও চলছে। জানা গেছে, উত্তর কোরিয়া দুটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমেরিকার ওপর নজরদারি করে চলেছে। এই দুটি স্যাটেলাইট ২০১২ এবং ২০১৬ সালে লঞ্চ করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার KMS 3-2 এবং KMS-4 নামক স্যাটেলাইট মাত্র ৯৪মিনিটে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে সক্ষম। আমেরিকার ওপর সাইবার হামলা করতে পারে। আর তাই নিজের শক্তিকে আরো বাড়িয়ে তুলছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া যে হামলার জন্য মুখিয়ে রয়েছে তা এক প্রকার স্পষ্ট আমেরিকার কাছে। তাই আমেরিকা হামলার চেষ্টা করলেই উত্তর কোরিয়া যে সবদিক থেকে চেপে ধরবে বিশেষ করে মহাকাশ যুদ্ধে যে তার সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে আমেরিকাকে ধ্বংস করতে চাইবে এমনি বার্তা উত্তর কোরিয়া থেকে পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনে টানেল দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শানদং প্রদেশের উইহাই নগরীর টানেলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে নয়জন নিহত ও আরো তিনজন নিখোঁজ রয়েছে। খবর সিনহুয়ার। মঙ্গলবার সকালে ওই টানেলে বিভিন্ন গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে আগুন ধরে গেলে তারা প্রাণ হারায়।

জাকার্তার খ্রিস্টান গভর্নরের দুই বছরের জেল

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বিদায়ী খ্রিস্টান গভর্নর বাসুকি চাহাইয়া পুরানামাকে ধর্ম অবমাননার দায়ে দুই বছরের জেল দিয়েছে দেশটির আদালত। এর আগে, বিতর্কিত মামলায় পুরানামার ক্ষেত্রে এই ধরণের রায় দেশটির ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। দেশটির ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পুরানামা (এহক) গভর্নর নির্বাচিত হন। এর আগে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছেন তিনি। এতে দেশটির ধর্মীয় চরমপন্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ায় জাতিগত এবং ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। জাকার্তায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে গভর্নর এহক বলেছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কোরআনের একটি আয়াতকে ব্যবহার করছে। তারা কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে এর এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, একজন অমুসলিমের অধীনে মুসলিমরা থাকতে পারে না। কিন্তু অন্য অনেক ইসলামী পণ্ডিত এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে বলেছেন, এই আয়াতটিকে দেখতে হবে কোনো যুদ্ধকালীন পটভূমিতে এবং এটিকে আক্ষরিক অর্থে নেয়া ঠিক হবে না। গত ২৮ শে সেপ্টেম্বর পুরনামা বলেন, যারা তার বিরুদ্ধে কোরানের এই আয়াতটি ব্যবহার করছেন তারা আসলে মিথ্যে বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। তার এই মন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার কট্টরপন্থী মুসলিমদের ক্ষুব্ধ করেছে। যদিও তিনি ইতোমধ্যে এর জন্য জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরে তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করে ইন্দোনেশিয়ান পুলিশ।

'সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইরানবিরোধী বক্তব্য খুবই অপরিপক্ক'

ইরানের সংসদ মজলিশে শুরায়ে ইসলামীর প্রধান ড. আলী লারিজানি বলেছেন, সৌদি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক অসংলগ্ন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তারা এ অঞ্চলে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্র আঁটছে। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান গত মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ইরান এ অঞ্চলে তার লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে আর এ কারণে ইরানের সাথে সৌদি আরবের কোনো সমঝোতা হতে পারে না। তিনি হুমকি দেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ইরানের ভেতরে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ হুমকির জবাবে আলী লারিজানি সংসদের প্রকাশ্য অধিবেশনে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতা, যুদ্ধ ও রক্তপাতের পেছনে কয়েকটি আরব দেশের হাত রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এতোটাই কাঁচা ও অপরিপক্ক যে এর উত্তর দেয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। ইরানের সংসদ স্পিকার আরো বলেছেন, সৌদি আরবের মতো রাজতন্ত্র শাসিত যেসব আরব দেশ মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির যে চেষ্টা চালাচ্ছে তার ফলে সবচেয়ে উপকৃত হচ্ছে দখলদার ইসরাইল। পরমাণু বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে আলী লারিজানি বলেছেন, তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন শেষ পর্যন্ত তাই প্রমাণিত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি শত্রুদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে। ইরানের সংসদ প্রধানও বলেছেন, ১৯ মে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি শত্রুদের ষড়যন্ত্র রোধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। সূত্র : ওয়েবসাইট

বগুড়ার ধানখেত থেকে খুলিসহ মানবদেহের হাড় উদ্ধার

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাথার খুলি ও মানবদেহের ৯টি হাড় উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেল ৫টায় ধুনট সদরের বেলকুচি পশ্চিমপাড়ার একটি ধানখেত থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, বেলকুচি গ্রামে মমতাজুর রহমানের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন একই গ্রামের আলতাফ হোসেন। সোমবার সকালে ওই জমিতে ৬জন শ্রমিক ধান কাটা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ধানখেতের মাঝখানে মাটি চাপা দেওয়া স্থান দেখতে পায় শ্রমিকরা। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে কোদাল দিয়ে মাটি গর্ত করতেই বেরিয়ে আসে হাড়। খবর পেয়ে বিকাল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। পরে ওই গর্ত খুড়ে মাথার খুলি ও হাত-পায়েরসহ মানবদেহের ৯টি হাড় উদ্ধার করে। এসময় সেখানে পুরানো চেক লুঙ্গীও পায় পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে অন্যত্র হত্যা করে মাথার খুলি,
হাড়-হাড্ডি লুঙ্গীতে মুড়িয়ে এনে ধানখেতে পুঁতে রেখেছে ঘাতকরা। এদিকে চালাপাড়া গ্রামের নবা আকন্দের স্ত্রী সাহেরা খাতুন ওই হাড়-হাড্ডি তার নিখোঁজ স্বামীর বলে দাবী করছেন। সাহেরা খাতুন জানান, চালাপাড়ার মধ্যপাড়া গ্রামের হাফেজ আলী আকন্দের ছেলে নবা আকন্দ শতবর্ষী বৃদ্ধ। গত ১২ দিন যাবত তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া লুঙ্গী নবা আকন্দের পরনে ছিল। ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মানবদেহের আকৃতির মাথার খুলি ও হাড়-হাড্ডি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়ে মানবদেহের কিনা পরীক্ষা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবদেহের প্রমাণিত হওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষা ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এবার বিচারপতি কারনানের কারাদণ্ড

আদালত অবমাননার দায়ে ভারতের কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সিএস কারনানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, সোমবার কারনান প্রধান বিচারপতিসহ ৮ বিচারপতির কারাদণ্ডের ব্যাপারে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা বাতিলও করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জেএস খেহরের নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, ‘আমরা যদি কারনানকে জেলে না পাঠাই, তবে অভিযোগ উঠবে যে বিচারপতিরা আদালত অবমাননা করলে তা মকুব করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।’ বিচারপতি কারনানের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে তার কড়া শাস্তির দাবি জানান অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল মণিন্দর সিং, শীর্ষ আইনজীবী কেকে বেণুগোপাল ও রূপিন্দর সিং সুরি। তারই জবাবে শীর্ষ আদালত জানায়, ‘অবমাননা করলে কখনও দেখা হবে না সেটা কে করছেন,
তিনি একজন সাধারণ মানুষ নাকি বিচারপতি।’ বিচারপতি কারনান যে নির্দেশগুলি দিয়েছে তা সম্প্রচার করা বা প্রকাশ করা থেকে সংবাদমাধ্যমকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন কারনান। মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের বিরুদ্ধে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ করে আসায় কারনানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা শুরু করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এদিকে, সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সিএস কারনান ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং অন্য সাত বিচারপতিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। ‘তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি অত্যাচার আইন ১৯৮৯’ এবং ২০১৫-র সংশোধিত আইনে দোষী সাব্যস্ত করে তিনি তাদের এই শাস্তি দেন। তিনি ভারতের শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের জেলে পাঠানোর নির্দেশের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ রুপি করে জরিমানাও করেন। অনাদায়ে বিচারপতিদের আরো ছ’মাসের জেল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

নরসিংদীতে আ’লীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় সোমবার দুপুরে দূর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিবদমান আওয়ামী লীগের দু’দলের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দু'জন নিহত এবং টেটা ও গুলিবিদ্ধ অন্তত আরো ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রাজনগর গ্রামের জোহর মিয়ার পুত্র মোঃ জয়নাল মিয়া (২২) ও ছোবানপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর পুত্র আরশ আলী (২৫)। নিহত দু-জনই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান শাহেদ সরকারের সমর্থিত বলে জানা যায়। এ সংঘর্ষে ২০/২৫ জন গুলি ও টেটাবিদ্ধ হয়ে আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংঘর্ষে চলাকালীন ৪ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে টেটা ও আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। অপরদিকে গত ২০ এপ্রিল আ’ লীগের দু-গ্রুপের দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। তারা হলেন উপজেলা আ”লীগের সদস্য ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক-সমর্থিত মাসুদ (২৯) এবং শাহেদ সরকার-সমর্থিত শারফিন (২০)। গতকাল সোমবার এ সংঘর্ষে ২০/২৫ টি বাড়ী-ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে।
জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনায় গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরের দিন বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ঐ সময় বিএনপির থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করা সিরাজুল হক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ-সমর্থিতদের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে সাহেদ-সমর্থিত শতাধিক বসতঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৩ বছর এলাকা ছাড়া থাকে শাহেদ সরকারের অর্ধশতাধিক পরিবার। এরই জের ধরে গত মাসের ২০ এপ্রিল এলাকা ছাড়া পরিবার গুলো নিজ বাড়িতে উঠতে গেলে উভয় দলের তুমুল সংঘর্ষে সিরাজুল হক-সমর্থিত শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর হয়। নিহত হয় উভয় দলের দু'জন। পর ঐ দিন থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। উভয় দলের পাল্টাপাল্টি ১৮ মামলার মধ্যে শাহেদ সরকারে বিরুদ্বে ১৫ মামলা দায়ের করেন সিরাজুল হকের সমর্থিতরা। এরই জের ধরে সোমবার পুনরায় দুই দল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ চালাকালে শাহেদ সরকারে সমর্থিত দু'জন নিহত হন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় দুদলের সংঘর্ষ চলছিল। রায়পুরা থানার ওসি মোঃ আজহার ইসলাম সরকার একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

ঘিওরে ধর্ষণ মামলায় যুবলীগ সভাপতি জেল হাজতে

ধর্ষণ মামলায় ঘিওরের বড়টিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো: তোবারক হোসেনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু খানের ছেলে। ঘিওর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো: তোবারক হোসেনকে গত রোববার রাতে তার নিজ বাড়ি হিজুলিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলী আদালতের বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৬ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (৪) (খ) ধারার মামলায় তিনি চার্জশীটে অভিযুক্ত আসামি।
উল্লেখ্য, তোবারক হোসেনের নামে ঘিওর থানায় ধর্ষণ, জমি দখল ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রবিউল ইসলাম জানান, আসামি তোবারক হোসেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান।

ময়মনসিংহে ইমামকে কুপিয়ে আহত

ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদের ইমামকে কুপিয়েছে একদল হামলাকারী। মারাত্মকভাবে আহত মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ময়মনসিংহে আহমদিয়া জামাতের মোয়াল্লেম, আসাদুল্লাহ আসাদ জানান, এশা-র নামাজের আযান দেয়ার জন্য মি. রহমান মসজিদে প্রবেশ করলে একদল লোক সেখানে প্রবেশ করে এবং তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হামলাকারীদের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম খান। তিনি বলেন, মোট তিনজন এই হামলাটি চালিয়েছে এবং তাদের কেউই স্থানীয় নয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বাড়ি নেত্রকোনায় বলে জানান মি. খান। তবে এটি জঙ্গি হামলা কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নিজের সাজা অন্যকে দিয়ে কাটানো মেম্বার নাজির জেলহাজতে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মামলা হওয়ার পর নিজের ‘ছিনতাইকারী পরিচয়’ আট বছর ধরে গোপন রাখতে পেরেছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাজিউর রহমান নাজির। নিজের পরিবর্তে এক অটোরিকশাচালককে দিয়ে ছিনতাই মামলায় আদালতে হাজিরা ও জেল খাটিয়ে নিজের অপরাধ গোপন রাখতে সক্ষম হন তিনি। তবে সম্প্রতি নাজিরের জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। ওই কমিটির তদন্তেই বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের সত্যতা। অবশেষে সেই নাজিউর রহমান নাজিরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। গতকাল সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ২য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কামরুন্নাহারের আদালতে আপীল শুনানীতে হাজির হলে তার জামিন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠায়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পিপি বজলুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শের-ই বাংলা শাইটিং পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হক শাইটিং পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৭-এ বরিশাল বিভাগীয় সেরার পুরস্কার পেলেন দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার বরগুনা জেলা সংবাদদাতা গোলাম কিবরিয়া। অন্যদিকে বরগুনা জেলা সেরা সাংবাদিক হিসেবে এ শাইটিং পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দৈনিক আমার সময় জেলা প্রতিনিধি মো: শফিকুল ইসলাম ইরান। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভিআইপি হলরুমে এ শাইটিং অ্যাওয়ার্ড বিতরণ, আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া ও ইরানকে সম্মাননা পদক তুলে দেন বিচারপতি মো: সিদ্দিকুর রহমান মিয়া। শের-ই বাংলার ৫৫তম মৃত্যুবার্ষীকি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদ। এসময় শিক্ষক, আইনজীবী, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতা, সুশীলসমাজ ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান গৌরবময় কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি প্রশংসাপত্রও হাতে তুলে দেন। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলির সদস্য ও বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. আবদুল বাসেত মজুমদার, আইন,
বিচার সংসদ সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এস মাহমুদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহিদুল হারুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শের-ই বাংলা গবেষনা পরিষদের মহাসচির আর কে রিপন। সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ১৯৮৮ সালের ৭ই জানুয়ারি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা শহরের পশ্চিম সফিপুরের এক মুসলিম পরিবারে। পিতা মরহুম হাফেজ মাওলানা মুহা: আবুল কালাম আজাদ, মাতা মোসা: রাহিমা আজাদ। ২০০১ সালে তিনি নবম শ্রেনিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার তার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। এর পরে তিনি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও দিগন্ত টেলিভিশনে সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্ত ও ইংরেজী দৈনিক ডেইলি পিপলস্ টাইম পত্রিকায় জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া একাধিক সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি প্রথমে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার বামনা উপজেলা সংবাদদাতা থাকাকালীন ২০০৬ সালে বামনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১০ সালে জেলা সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বরগুনায় মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সাংবাদিক ইউনিয়ন, জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বরগুনা জেলা সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘিওরে ব্রিজের সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়পয়লা খালের উপর ব্রিজের গোড়ায় মাটি না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ঘিওরের পয়লা, সিংজুরী ইউনিয়ন এবং পাশ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার মানুষ। এ সড়ক দিয়ে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় সাত-আট হাজার লোক যাতায়াত করে। জানা যায়, পয়লা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এডিপি অর্থায়নে কিছু বরাদ্দ দিয়ে ব্রিজের তিনটি পায়া তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের অর্থায়নে আবারো কিছু বরাদ্দ দিয়ে বাকি তিনটি পায়া তৈরি করা হয়। শেষে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের (এলজিএসপি-২) এর অর্থায়নে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রিজের রেলিংসহ পাটাতনের কাজ করে ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু বর্তমানে ব্রিজের দু’পাশের মাটির কাজ বাকি থাকায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। সঙ্গে এ সড়কের প্রায় এক কি.মি. রাস্তা খানাখন্দে বিভিন্ন স্থান গর্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিনেও মেরামত না করায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচলরত পয়লা ইউনিয়নের বাংঙ্গলা, সাইলকাই, নলকোড়িয়া, তেরশ্রী, শ্রীধরনগর, ছোটপয়লা, বড়ড়িয়া, ধামশ্বর ইউনিয়ন কাকড়াদিয়া, তুলন্ড,
নন্দিরবাধা, সিংজুরি ইউনিয়নসহ প্রায় ১০টি গ্রামের ৭-৮ হাজার জনগণকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পয়লা ইউপি চেয়ারম্যান মো: হারুন-অর-রশিদ জানান, ব্রিজের গোড়ার মাটি এবং রাস্তাটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আমি দেখেছি। কিন্তু পরিষদে বড় কোনো বাজেট না থাকায় কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০১৩-১৪ অর্থ বছর থেকে শুরু করে কয়েক ধাপে পরিষদের এডিপি ও এলজিএসপি-২ এর অর্থায়নে ব্রিজটির এ পর্যন্ত করা হয়েছে। পরবর্তী বাজেটে ব্রিজটির সম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: সাজ্জাকুর রহমান জানান, ব্রিজের গোড়ার মাটি এবং রাস্তাটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিদর্শন করেছি। প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। ব্রিজের গোড়ার মাটির ব্যবস্থা অতিদ্রুত করা হবে।

কাঁঠালিয়ায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগে দু’বখাটের জরিমানা ও কারাদন্ড

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে আওরাবুনিয়া গ্রামের মো: নজরুল জমাদ্দারের ছেলে মো. রনি জমাদ্দার (২০) ও পশ্চিম শৌলজালিয়া গ্রামের সালাম খানের ছেলে মো. কালু খানকে (১৮) ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১ মাস করে কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট ডা: শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে এ দ- দেন।
জানা যায়, পশ্চিম শৌলজালিয়া গ্রামের বাবুল খানের মেয়ে ও কচুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী মোসা: মিম আক্তারকে প্রতিনিয়ত ওই দু’বখাটে যুবক যৌন হয়রানী ও ইভটিজিং করে আসছিল। এ অভিযোগ এনে মিমের পিতা বাবুল খান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করলে দু’বখাটে যুবক গতকাল সোমবার ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ জরিমানা ও কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

সেনবাগে ৩৮ লিটার মদসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশ পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে বিক্রয় নিষিদ্ধ ৩৮ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, সেনবাগ উপজেলার ২নং কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট গ্রামের দাস বাড়ির হরিপদ গোস্বামীর ছেলে রিপন চন্দ্র গোস্বামী (৩৬) ও ৩নং ডমুরুয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মৃত আবদুল বারিকের ছেলে আলী আক্কাছ (৩২)।
আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসআই সাইফুল ইসলাম ও এএসআই বশির উদ্দিনের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানকিরহাট গরুর বাজারে অভিযান চালিয়ে ৩০ লিটার চোরাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী রিপন চন্দ্র গোস্বামীকে (৩৬) ৩০ লিটার চোরাই মদসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে এএসআই সাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কানকিরহাট নামার বাজারের শিমুল বড়ুয়ার বিল্ডিং সামনে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আলী আক্কাছকে (৩২) ৮ লিটার মদসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ চৌধুরী উভয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে দু’দল ডাকাতের বন্ধুকযুদ্ধে নিহত ২ : দাবি পুলিশের

ফরিদপুরে দুই দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলিতে দুজন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে ফরিদপুর শহরের কৈজুরী ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের আলালপুর এলাকায় ডাকাতদের দুই দলের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। নিহত পাভেল শহরের শোভারামপুরের আব্দুল করিম ও নিহত সবুজ দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার আশরাফ উদ্দিন তারার ছেলে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, বাইপাস সড়কের আলালপুর এলাকায় ভোররাতের দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহলদল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ডাকাতরা পালিয়ে গেলে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে জানান পুলিশ সুপার। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরিদ উদ্দিন জানান, ভোররাতের দিকে এসআই অসীম মন্ডল মৃত অবস্থায় দুজনের লাশ নিয়ে আসে। মাথায় গুলি লেগে তারা মারা গেছেন। এখন ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে।

জামিন পেলেন মেয়র সাক্কু

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় জামিন পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এ আদেশ দেন। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, এক কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার তথ্য গোপন এবং চার কোটি ৫৮ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় সাক্কুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলা করে। পরে ২০১৬ সালের নভেম্বরে সাক্কুকে অভিযুক্ত করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়রের দায়িত্ব নেন তিনি।

ষোড়শ সংশোধনী বিষয়ে আপিল শুনানি ২১ মে পর্যন্ত মুলতবি

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে অর্পণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি আগামী ২১ মে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বেঞ্চে গতকাল এ শুনানি শুরু হয়। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি শেষে মামলার কার্যক্রম ২১ মে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। বিষয়টির ওপর হাইকোর্টের দেয়া রায় উপস্থাপন করেছেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টির ওপর মতামত দিতে ১২ বিশিষ্ট আইনজীবীকে এমিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র ও বিশিষ্ট আইনজীবী হচ্ছেন- টিএইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এ এফ হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এম আই ফারুকী, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে আদালতে লিখিত মতামত দাখিল করেছেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও এম আই ফারুকী। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময়ের আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে শুনানি অব্যাহত রাখতে বলে। রিট আবেদনকারী পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে অর্পণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের ১৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছর ১১ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ গতবছর ৫ মে বিষয়টির ওপর সংক্ষিপ্ত রায় দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন- বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। রায়টি লিখেছেন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বেঞ্চের অপর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক।
তবে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আরেকটি রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের রুলস অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে যে রায় দেয়া হয়, সেটাই চূড়ান্ত হবে। এক রিটের প্রেক্ষিতে কেন ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হবে এ মর্মে রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেয় হাইকোর্ট। এ মামলায় ৫ বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসিকে এমিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয় আদালত। এরই মধ্যে বিশিষ্ট আইনজীবী মাহমুদুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টির ওপর এমিকাস কিউরিগণের মধ্যে অপর চারজন তাদের মতামত আদালতে তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আলোকে বিচারপতি অপসারণের জন্য একটি খসড়া আইন প্রস্তত করা হয়েছে। অসদাচরণের জন্য সুপ্রিমকোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও তাকে অপসারণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন’-এর খসড়ার গতবছর ২৫ এপ্রিল মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দেয়। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। পরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন-২০১৪-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের নয়জন আইনজীবী রিট আবেদনটি করে। সূত্র : বাসস

পদ্মাসেতু দুর্নীতির গল্প : ষড়যন্ত্রকারী চিহ্নিতে তদন্ত কমিশন গঠন প্রক্রিয়াধীন

পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা প্রতিবেদনে আজ এ কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি দাখিল করেন সহকারী এটর্নি জেনারেল টাইটাস হিল্লোল রেমা। বিষয়টির ওপর জারি করা রুলে পক্ষভুক্ত হতে যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয় আদালতে আবেদন করেছে। এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ জুলাই ধার্য করা হয়েছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিটি বা কমিশন গঠনের অগ্রগতি প্রতিবেদন আজ ৯ মে’র মধ্যে দাখিল করতে গত ২০ মার্চ নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট।
পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে ইনকোয়ারি অ্যাক্ট অনুসারে কমিটি বা কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না- তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করে। দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এ কমিটি বা কমিশন গঠনের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়। দৈনিক ইনকিলাবে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের কথা উল্লেখ করে এ আদেশ দেয় আদালত। সূত্র : বাসস

ইস্পাহানি এগ্রোর ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড লাভ

ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেড রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশ, কৃষক সমাজ এবং শস্য রক্ষায় জৈব বালাইনাশক সরবরাহকারী অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৫ম এইচএসবিসি এবং দি ডেইলি স্টার ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড-এর গ্রীন বিজনেস শাখায় সেরা প্রতিষ্ঠান হওয়ার সম্মান লাভ করেছে। পরিবেশ সংরক্ষন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এইচএসবিসি এবং দি ডেইলি স্টার যৌথভাবে ৪টি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায়ে ২ জনকে সম্মানিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব অনুধাবন করে স্বল্পদামে, সহজে ব্যবহার উপযোগী, কার্যকরী ও পরিবেশ বান্ধব জৈব বালাইনাশক এবং কৃষি প্রযুক্তি কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেড সবার আগে কাজ শুরু করে। ২০০৯ সাল থেকে তারা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ফসল যেমন সবজি, চা, আখ, ধান এবং তুলা ইত্যাদিতে পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি যেমন ফেরোমন ফাঁদ, জৈব ছত্রাকনাশক, জৈব বালাইনাশক, জৈব সার, উপকারী বন্ধু পোকা, মাইক্রোবিয়ালস ইত্যাদি বাজারজাত করছে যা বাংলাদেশের কৃষিকে সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করেছে।

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয় মঙ্গলবার দুপুর ১২টায়। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত অনলাইন ও এসএমএসে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে একটি কলেজ নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। টেলিটকের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে এসএমএসেও আবেদন করা যাবে। তবে প্রতি কলেজে আবেদন ফি ১২০ টাকা। মোট তিন দফায় আবেদন নেয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর পছন্দ ও মেধাক্রম অনুযায়ী কলেজের মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। কলেজ বণ্টন শেষ হলে একযোগে ভর্তি শুরু হবে। প্রকাশিত তালিকায় কলেজ পছন্দ হলে ১৮৫ টাকা জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইনে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট www.xiclassadmission.gov.bd-তে গিয়ে আবেদন করতে হবে। প্রথম দফায় যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করতে ব্যর্থ হবে তারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালিকা প্রকাশের আগে দু’দিন করে সময় পাবে। প্রথমবার যারা আবেদন করবে, তাদের যদি প্রকাশিত তালিকার কলেজ পছন্দ না হয়, তাহলে দ্বিতীয় তালিকায় কলেজ পেতে আবেদন করতে পারবে। তবে এজন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না।
একইভাবে দ্বিতীয় তালিকার কলেজ পছন্দ না হলে তৃতীয় তালিকায় কলেজ পেতে আবেদন করা যাবে। তিন দফায় যথাক্রমে ৫, ১৩ এবং ১৮ জুন আবেদনের ফল বা কলেজ তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রথম দফায় সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পছন্দের কলেজ পেলে ৮ জুনের মধ্যে তাদের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডে জমা দিতে হবে ১৮৫ টাকা। দ্বিতীয় দফায় আবেদনের জন্য ৯ ও ১০ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৩ জুন দ্বিতীয় তালিকা বা ফল প্রকাশ করা হবে। এই তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ১৪-১৫ জুন বোর্ডে নিবন্ধনের মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত করবে। তৃতীয় তালিকার জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে পুনরায় কলেজ পছন্দের তালিকা নেয়া হবে। আগের দু’বার আবেদন না করা প্রার্থীরাও এ দফায় ১৬-১৭ জুনের মধ্যে আবেদন করতে পারবে। তৃতীয় দফার ফল প্রকাশ করা হবে ১৮ জুন। পরদিনই শিক্ষার্থীদের ১৮৫ টাকা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। তালিকা প্রকাশ ও ভর্তি নিশ্চিত পর্ব শেষে ২০ থেকে ২২ জুন প্রথম দফায় ভর্তি হতে হবে শিক্ষার্থীদের। পরে ২৮-২৯ জুনও ভর্তি হওয়া যাবে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমতে পারে তিন কারণে

তিন কারণে বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমতে পারে বলে মনে করেছে জাতিসঙ্ঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ)। এসকাপ মনে করছে, আগামীতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈশ্বিক নীতি অস্থিতিশীল হতে পারে। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য সংরক্ষণ নীতি আরো কঠোর হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী বছরের অর্থনীতিতে। আর আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি কমার অভ্যন্তরীণ কারণ হিসেবে দেখছে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক পতন। এসকাপের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল সার্ভে অব এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক প্রতিবেদনে এ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আগাগাঁওয়ের আইডিবি ভবন সম্মেলন কক্ষে এ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এ সময় জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিন্স, ইউএন এসকাপের ব্যাংকক কার্যালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক কর্মকর্তা সুদীপ রঞ্জন বসু এবং বিআইডিএস মহাপরিচালক কেএএস মুর্শিদ উপস্থিত ছিলেন।  প্রসঙ্গত, সরকার বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে হবে। আর এসকাপ তা প্রক্ষেপণ করেছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতিবেদনটির উপস্থাপনায় সুদীপ রঞ্জন বসু বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৫৩টি দেশ এসকাপের সদস্য। প্রতি বছরই এসকাপ দেশগুলোর সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, যে দেশে সুশাসনের মাত্রা যত বেশি সে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ততই ভালো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবদ্ধি করতে পারে। আমাদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী কয়েকটি কারণে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। যদিও সামগ্রিকভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তে পারে। চলতি অর্থবছরে এ অঞ্চলের সব দেশের সমন্বিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। গত অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ধরে রাখার জন্য কয়েকটি পরামর্শ রেখেছে। সেগুলো হচ্ছেÑ মানসম্মত চাকরির সুযোগ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়া। শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ। মানবসম্পদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা চিহ্নিত করে তা সরিয়ে ফেলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক মাত্রায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা। এক প্রশ্নের জবাবে বিআইডিএস মহাপরিচালক কেএএস মুর্শিদ আগামী অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা হলে অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন। তিনি বলেন, মাত্র ৩২ হাজার রেজিস্ট্রার্ড ভ্যাটদাতা ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে এটা দেশের অর্থনীতিতে বা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিআইডিএস মহাপরিচালক বলেন, দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার অভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে না। একই কারণে বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি কিভাবে বললেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই

আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আমি জানি না আমাদের চিফ জাস্টিস কিভাবে বললেন- আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই।’ প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে গতকাল সংসদে পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। নি¤œ আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট প্রকাশ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তাকে পাশ কাটানোর অভিযোগ তোলার পর থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। এর মধ্যেই গত ৩০ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়’ বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন। মাননীয় স্পিকার, আমি একটু আগে বললাম একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় ১৪০ দিন সময় চায়, আর সেটা দেয়া হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে বলেই তো এই সময়টা দিতে পারছে।
নাহলে তো দিতে পারত না। ‘আমাদের যদি কোনো মানসিকতা থাকত, তাহলে নিশ্চয় দিতে পারত না। আমরা তো সেটা করিনি। ইচ্ছামতো সময় দিয়ে গেছে, দিয়ে গেছে, দিয়েই যাচ্ছেন।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিষয়ে কথা বলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কথায় কথায় রিট। একই মামলায় যদি ৪০-৫০ বার রিট হয় আর যদি সেই রিট নিষ্পন্ন হয় তাহলে স্বাধীনতা নাই কিভাবে? এই একটা দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। যারা এর সুযোগ নিচ্ছেন তারাও একসাথে তাল মিলাচ্ছেন আইনের শাসন নেই।’ প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার এক সভায় বলেন, দেশে এখন আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে শাসন বিভাগ। শেখ হাসিনা বলেন, আইনের শাসন আছে বলেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে সরকার। ‘আইনের শাসন আছে বলেই সেটা সম্ভব, নইলে সম্ভব নয়।’ অভিযানে জঙ্গিদের মৃত্যু নিয়ে সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এখন যদি জঙ্গিদের ধরা হয়, সেখানে কেউ মারা যায় সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়। এই একটা মানুষের জন্য হয়ত শত শত মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে হতো কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করতে হতো। ‘তাদেরকে ধরলেই বা তারা নিজেরাই সুইসাইড করে বোমা ফেললেই... মরলেই আমাদের বিএনপির নেত্রীরও প্রাণ কাঁদে অন্যদেরও প্রাণ কাঁদে। কেন? যোগসূত্রটা কী? গোপন যোগাযোগ আছে কি না...’ বাংলাদেশে বাক-স্বাধীনতা নেই বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সরকারপ্রধান। ‘দেখলাম অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, দেশে বাকস্বাধীনতা নেই। যারা এ রিপোর্টটা করছে তাদের বলব, টেলিভিশনগুলোতে বসে বসে দিনরাত আমাদের বিরুদ্ধে সমানে কথা বলা হচ্ছে। টক-শো, আলোচনা...
একবারে স্বাধীনভাবে। সরাসরি কথা বলা হচ্ছে।’ ‘কই কেউ কি গিয়ে গলা টিপে ধরে? কেউ তো তা করে না। সংবাদপত্র লিখেই যাচ্ছে। হ্যাঁ, কেউ যদি হলুদ সাংবাদিকতা করে, মিথ্যা-অসত্য তথ্য দেয়, কারও যদি চরিত্র হনন করে তারও অধিকার আছে যে, এখান থেকে কিভাবে সে প্রটেকশন পাবে। কারো বিরুদ্ধে যদি অসত্য তথ্য দেয়, সে যদি মানহানির মামলা করে, এটার জন্য দোষ কিভাবে দেবো?’ সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা নেই এটা যারা বলে, এই লোকগুলো এক সময় মনে করত একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হলে তাদের মূল্য বাড়ে। ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেই সুযোগ কম থাকে। তাদের সাধ আছে ক্ষমতায় আসার। জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার সাধ্য নেই। অনেকে চেষ্টাও করেছে। মানুষের কাছ থেকে সাড়া পাননি। এরাই নানা কথা বলে বেড়ায়।’ ‘যারা বাকস্বাধীনতার কথা বলে...ইমার্জেন্সি থাকলে কী থাকে? যারা আমাদের বিরুদ্ধে বদনাম করেন, ইমার্জেন্সি সরকারের সময় বাকবাকুম বাকবাকুম করতে থাকে। কে তাদের ছিটায়ে দেবে, ওটা খাবে সেই আশায়। এটা তাদের চরিত্র।’ ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বদনাম করা, এটাই তাদের চরিত্র। মনে হচ্ছে বদনাম করতে পারলেই কেউ নাগরদোলায় করে বসিয়ে দেবে ক্ষমতায়। সেই আশায় তারা থাকুক, সে আশার গুড়ে বালি।’ স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বশীলতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘অধিকার ক্ষণœ করা স্বাধীনতা না। স্বাধীনতা ভোগ করতে চাইলে তাকে দায়িত্ববোধ নিয়েই ভোগ করতে হবে। এটা হলো বাস্তবতা। আশা করি এটা সবাই মনে রাখবে।’ নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট আড়াই বছরেও প্রকাশ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্ট। আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবনের দূরত্ব কতদূর? অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকার ফের সময়ের আবেদন করলে গতকাল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গতকাল প্রশ্ন রেখেছেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি ফাইল বঙ্গভবন ও গণভবনে যেতে কত দিন সময় লাগে? এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ৪ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের জনথ্য সরকারকে ৮ মে পর্যন্ত সময় দিয়ে বলেছিলেন, ওই সময়ের পর আদালত সরকারের আর কোনো ‘অজুহাত’ শুনবে না। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল আপিল বিভাগের কাছে আরো দুই সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল সরকারকে আরো এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন। সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর অ্যাটর্নি জেনারেল একটি ফাইল উপস্থাপন করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটা কি সময়ের আবেদন? আমরা তো ভেবেছি গেজেট।’ এরপর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করেন- ‘বলেন তো, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর কোনটা?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন- ‘টোকিও’। প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, ‘আমি তো জানতাম নিউ ইয়র্ক।’ রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম এ সময় বলেন, ‘আপনার হিসেবে নিউ ইয়র্ক, আমার মনে হয় টোকিও।’ এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘বলেন তো, নিউ ইয়র্ক থেকে টোকিও যেতে কত সময় লাগবে?’ অ্যাটর্নি জেনারেল চুপ করে থাকলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার তো মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর ঢাকা।’ তিনি আবার জানতে চান ‘সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন আর গণভবনের দূরত্ব কত?’ এবারো নিশ্চুপ থাকেন মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার মনে হয় ল মাইলেরও বেশি, কারণ একটি ফাইল সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন আর গণভবনে যেতে আড়াই বছরের বেশি সময় লাগে। মনে হয়, আড়াই বছরেও পাড়ি দেয়া যাবে না।’ সময় বাড়ানোর আদেশ দেয়ার আগে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘এর আগেও আপনি সময় চেয়েছিলেন, আমরা মঞ্জুর করেছি। আপনার কাছে এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ যা, দুই বছরও একই। উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এ রায় দেন। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেন সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়।
আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই সাথে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। এরপর দফায় দফায় সময় দেয়া হলেও সরকার মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলব করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দুই সচিবের হাজিরার আগে ১১ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি নোটিশে বলা হয়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি ‘সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো: জহিরুল হক এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক পরদিন আদালতের তলবে হাজির হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিধিমালা নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। সেদিন শুনানি করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় আপিল বিভাগ। এরপর সরকার কয়েক দফা সময়ের আবেদন করে।

ফ্রান্সে নতুন ইতিহাসের সূচনা

ফ্রান্সের রাজনীতিতে এক বছর আগেও খুব একটা পরিচিত ছিলেন না এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে তিনিই এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট। দেশটির দিগি¦জয়ী বীর নেপোলিয়ান বেনাপার্টের পর সবচেয়ে তরুণ নেতা ম্যাক্রোঁ। নিজের ৪০তম জন্মদিনের কয়েক মাস আগেই রোববার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইতিহাসের এ বরপুত্র। ভেঙে দেন ফ্রান্সের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রায় ৬০ বছরের গতানুগতিক ধারা। দেশের মূলধারার মধ্য-ডানপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী দলকে পেছনে ফেলে জয়ী হয়েছেন ম্যাক্রোঁ। খবর বিবিসি ও এএফপির। এক বছর আগেও তার নিজের কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। সরকারি পদ ছেড়ে ২০১৬ সালে রাজনৈতিক দল ‘এন মার্শে! (এগিয়ে চলো) গঠন করেই বাজিমাত করলেন ম্যাত্রেঁদ্ধঁ। সাবেক ব্যাংকার ম্যাক্রোঁ ফরাসি রাজনীতির প্রজন্ম বদলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান। জি-৭ দেশগুলোর নেতাদের মধ্যেও এখন ম্যাক্রোঁই সবচেয়ে তরুণ নেতা। এসব দেশের সব নতুন-পুরনো তরুণ নেতার চেয়েও তিনি তরুণতর, এমনকি কানাডীয় প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডোই হোন আর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হোন। ১৮০৪ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ফ্রান্সের সম্রাট হন নেপোলিয়ান বোনাপার্ট। রোববারের নির্বাচনে ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন ম্যাক্রোঁ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লি পেন পান ৩৫ শতাংশ ভোট। এরপরই রাজধানী প্যারিসে ল্যুভর জাদুঘরের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে বিজয়ী বক্তব্য দেন তিনি। ‘নতুন করে ইতিহাস গড়ার’ প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এ রাতে আমরা জিতেছি। ফ্রান্স জিতেছে। অনেকেই বলেছিলেন এ জয় অসম্ভব। কিন্তু তারা ফ্রান্সকে আর ফরাসিদের চিনতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের শক্তি, সামর্থ্য এবং ইচ্ছা আছে। আমরা সবাই মিলে দেশকে বদলে দেব। বিভাজন ভুলে, পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে আজ থেকে নতুন ইতিহাসের সূচনা হবে।’ ফ্রান্সের অভিজাত ন্যাশনাল স্কুল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গ্রাজুয়েট মাত্রেঁদ্ধা। এই স্কুল থেকেই ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা বের হয়ে আসেন।
এর সাবেক ছাত্রদের মধ্যে ম্যাক্রোঁসহ ফরাসি প্রেসিডেন্টের সংখ্যা চার জনে দাঁড়ালো। জীবনের সব ক্ষেত্রেই ম্যাক্রোঁ সিরিয়াস ছিলেন এবং নিজেকে লক্ষ্যের পথে পরিচালিত করেছেন। পড়েছেন দর্শন। কাজ করেছেন ফ্রান্সের বিখ্যাত দার্শনিক পল রিকোরের সহযোগী হিসেবে। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্কুলের সমাপনী পরীক্ষায় সাফল্যের সুবাদে তিনি ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিনান্সিয়াল ইন্সপেক্টর হিসেবে নিয়োগ পান। এখানে থাকার সময় ম্যাক্রোঁর এক সতীর্থ তাকে প্রশ্ন করেন, ‘৩০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাও?’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট- জবাব দিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ। তবে তার আগেই সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন করলেন তিনি। ২০১৪ সালে সমাজতান্ত্রিক সরকারের অর্থ, শিল্প ও ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ম্যাক্রোঁ। ব্লন্ড চুল ও নীল চোখের ম্যাক্রোঁকে কাছের মানুষেরা ‘মানু’ নামেই ডাকেন। স্কুলে পড়ার সময় বরাবরই ক্লাস থেকে দেরি করে বেরোতেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষকের সঙ্গে গল্প করা। ফরাসি সাহিত্য ও নাট্যকলার শিক্ষক ব্রিজিত ত্রগনিয়ক্স প্যারিসের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াতেন। স্কুলের অনুষ্ঠানের জন্য ড্রামা রচনার কাজে মানু তার শিক্ষকের সঙ্গে কাজটি করেন। একপর্যায়ে ম্যাক্রোঁ শিক্ষককে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা নাকচ করেন। ১৫ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁর সমবয়সী এক মেয়ে ছিল তার। এক ক্লাসেই পড়ত তারা। তবে নাছোড়বান্দা ম্যাক্রোঁ পরিণত বয়সেই তার চেয়ে ২৬ বছরের বেশি বয়সী সেই শিক্ষককেই বিয়ে করেন। বর্তমানে ৬৩ বছর বয়সী স্ত্রী ব্রিজিতের সাতজন নাতি-নাতনি রয়েছে। প্রথম পর্বের ভোটে জয়ের পর এক অনুষ্ঠানে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে স্মিত হাস্যে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, ‘ব্রিজিত সব সময় আমার পাশে আছে। তার চেয়ে বড় বিষয়, তাকে ছাড়া আমি আজকের আমি হয়ে উঠতে পারতাম না।’

শাহ আমানতে যাত্রীর পেটে ১২ সোনার বার

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিল্লাল হোসেন (৩৫) নামের এক যাত্রীর পেট থেকে বের করে আনা হলো ১২টি সোনার বার। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ওই যাত্রীকে আটক করে পায়ু পথ দিয়ে ওই সোনা পেট থেকে বের করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। আটক বিল্লালের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। সে সকাল ১০টায় এয়ার এরাবিয়ার একটি উড়োজাহাজে শারজাহ থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছে। বিমানবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মইনুল খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জব্ধ করা সোনার ওজন প্রায় এক কেজি ৩৯০ গ্রাম। এর বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। মঈনুল খান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিল্লালকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পেটে সোনা বহনের কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, কেউ পেটের মধ্যে সোনা লুকিয়ে রাখলে তার অস্বস্তি হয়। সোনা বহনকারী এই যাত্রীর চেহারাতেও তা ধরা পড়ে।পরে বিশেষ কৌশলে পায়ুপথ দিয়ে সোনার বারগুলো বের করা হয়। আটক বিল্লালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এই কর্মকর্তা।

স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক স্বামী। মঙ্গলবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি মাঝপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম মিতু আক্তার (৪৫)। আর স্বামী মোশাররফ হোসেন (৪৫) ছিলেন পেশায় গাড়ি চালক। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, জালকুড়ি মাঝপাড়া এলাকার আহসান সরদারের ছেলে মোশাররফের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর আগে বরিশালের মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৯ বছর বয়সী মেয়ে আছে। নানা কারণে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তাছাড়া মোশাররফ মাদকাসক্ত ছিল বলে জানায় প্রতিবেশীরা। মঙ্গলবার ভোরেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ভোর ৬টায় সন্তানদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে মিতুকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মোশাররফ। তখন বাইরে থেকে লোকজন দরজা আটকে দেয়। পরে মোশাররফ নিজেই ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাফতউল্লাহ জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহননের ঘটনাটি ঘটেছে। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রধান বিচারপতিকে দণ্ড দেয়া বিচারকের জেল

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক চিন্নাস্বামী নাথন কারনানকে ছয় মাসের জেল দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এটিই কোনো বিচারপতিকে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দেয়া প্রথম সাজা। ভারতের প্রধান বিচারপতিসহ ৮ বিচারককে কারাদণ্ড প্রদান এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করার দায়ে কারনানকে এ শাস্তি দেয়া হয়। খবর এনডিটিভির। ইতিমধ্যে কারনানকে গ্রেফতারের জন্য কলকাতার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত। এর আগে, ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরসহ আট বিচারপতিকে সোমবার পাঁচ বছর করে ‘সশ্রম কারাদণ্ড’ দেন বিচারপতি সি এস কারনান। আদেশে তিনি বলেন, বর্ণ বৈষম্য, ষড়যন্ত্র, হয়রানি এবং আদালত অবমাননা প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের দায়ে ওই বিচারকদের সাজা দেয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি কারনান কলকাতার নিউ টাউনের বাসভবন থেকে ১২ পৃষ্ঠার এ আদেশ জারি করেন। বিচারপতিদের পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের সঙ্গে এই আটজন বিচারপতিকে ১ লাখ রুপি করে জরিমানাও করেন তিনি। এক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লির খান মার্কেটে তফসিলি জাতি-উপজাতি সংক্রান্ত জাতীয় কমিশনে সেই টাকা জমা দিতে হবে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের ঘোষণা দেয়া হয়। যে ৮ বিচারপতির বিরুদ্ধে বিচারপতি কারনান রায় দিয়েছেন, তারা হলেন প্রধান বিচারপতি জেএস খেহর, বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি জে চেলামেশ্বর, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি মদন বি লোকুর, বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষ, বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ এবং বিচারপতি আর ভানুমতী। এদের মধ্যে বিচারপতি ভানুমতী বাদে বাকি ৭ জন বিচারপতি একই বেঞ্চের সদস্য। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সেই ৭ সদস্যের বেঞ্চই বিচারপতি কারনানকে বিচার এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

কোরআন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে জাকার্তা গভর্নরের কারাদণ্ড

কোরআন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বিদায়ী গভর্নর বাসুকি চাহাইয়া পুরানামাকে (এহক) দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে বিষয়টিকে ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় সহনশীলতার একটি পরীক্ষা হিসাবে দেখা হচ্ছে। গত এপ্রিলে এহকের আইনজীবীরা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে তাকে রেহাই দেয়ার আবেদন করেছিল। তবে বিচারকরা এ আবেদন বাতিল করে দেন। এদিকে গভর্নর এহক নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
দেশটির ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পুরানামা যিনি 'এহক' নামে বেশি পরিচিত তিনি গভর্নর নির্বাচিত হন। গত নভেম্বরে এহক কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে মুসলিম ভোটারদের অমুসলিম প্রার্থী হিসেবে তাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। ওই সময় তার এ মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তার মন্তব্যের প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ান মুসলিমরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং তার শাস্তি দাবি করেন।

বন্দুক ঠেকিয়ে ভারতীয় তরুণীকে পাকিস্তানি যুবকের বিয়ে

পাকিস্তানে ঘুরতে গিয়ে ভালোই বিপদে পড়েছেন ভারতীয় নাগরিক ডা. উজমা। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এক পাকিস্তানি যুবক জোর করে তাকে বিয়ে ও ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার পাকিস্তানি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিজের বয়ান নথিভুক্ত করানোর সময়ে এমনটাই জানিয়েছেন নির্যাতিতা ভারতীয় নারী চিকিৎসক। জানা যায়, দিল্লির বাসিন্দা উজমা দুই বছর আগে কর্মসূত্রে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে পাকিস্তানি যুবক তাহিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তবে উজমার অভিযোগ, তাহির নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্য পরিচয় দিয়ে উজমার সঙ্গে সম্পর্ক করে। তাহির স্কুলের গণ্ডিও পেরোয়নি। মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করত সে। আগে বিয়েও করেছিল এক বার। চারটি সন্তানের পিতা সে। এরপর গত ১ মে তারিখে উজমা পাকিস্তানে বেড়াতে যান। সেখানে তার পুরনো বন্ধু তাহিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়।
তবে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়ালার বাসিন্দা তাহিরের সঙ্গে উজমার সেই সাক্ষাতের পরিণাম হয় ভয়াবহ। স্থানীয় আদালতে উজমা জানিয়েছেন, ৩ মে তাহির তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বিয়ে করে। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের পরে উজমাকে নাকি ধর্ষণও করে তাহির। এসব ঘটনায় ভীত উজমা দিল্লিতে থাকা তার ভাইয়ের পরামর্শে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় হাইকমিশনে আশ্রয় নেন। পরে ৮ মে ইসলামাবাদের একটি আদালত সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেয়। সেখানেই নিজের অভিযোগের কথা বিশদে বলেন উজমা। অন্য দিকে তাহির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, বিগত দু’বছর ধরে সে এবং উজমা প্রণয়সম্পর্কে আবদ্ধ এবং তাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্য নিয়েই উজমা পাকিস্তানে এসেছিলেন। এদিকে ভারতীয় হাই কমিশন অবশ্য আদালতের সামনে স্পষ্ট ভাবেই জানিয়ে দিয়েছে যে, উজমাকে পাকিস্তানে রাখা হবে না। তাকে দিল্লিতে নিজের আত্মীয়দের কাছে ফেরত পাঠানো হবে।

পরাজয়ে ডরে না বীর

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্যপন্থী প্রার্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে ব্যাপক ব্যবধানে ধরাশয়ী হওয়ার পরও এ নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন মেরিন লি পেন। কট্টর ডানপন্থী এ প্রার্থী রোববার ফলাফল ঘোষণার পর পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ঐতিহাসিক, বিশাল ফলাফল’। তিনি আরও বলেন, আমার দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এফএন) ফ্রান্সে ‘নতুন রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে উত্থানের পথে বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। খবর এএফপি ও বিবিসির। রোববার ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন ম্যাক্রোঁ। অন্যদিকে ৩৫ শতাংশ ভোট পান লি পেন। ফ্রান্সের ইতিহাসে মূলধারার রাজনৈতিক দলের বাইরের কোনো প্রার্থীর এমন ফলাফল সত্যিই ঐতিহাসিক। লি পেন তার বক্তব্যে ম্যাক্রোঁর সফলতা কামনা করেন। প্যারিসের নিকটবর্তী শহর ভিনেসেসে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে লি পেন বলেন, এ নির্বাচনে জয়ে আমি ম্যাক্রোঁকে অভিনন্দন জানাই। ফ্রান্সের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ম্যাক্রোঁর সফলতাও কামনা করেন তিনি। তাকে ভোটদানকারী প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ নাগরিককে ধন্যবাদ জানান লি পেন। ৪৮ বছর বয়সী এ নেতা বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার এ ফলাফলে এফএন পার্টি দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেবে তার দল। লি পেন বলেন, “এবারের নির্বাচন ‘দেশপ্রেম ও বিশ্বায়নের’ মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে এবং এটি একটি ‘নতুন রাজনৈতিক শক্তির’ আবির্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর ফলে নতুন করে এফএনকে সংস্কার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। নতুন আন্দোলনের পথে পা বাড়ানোর শক্তি সঞ্চার হয়েছে।’ ফ্রান্সের সব দেশপ্রেমিককে তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে,
লি পেন ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ভোটারদের প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাক্রোঁ পেয়েছেন ৫৬ শতাংশ তরুণের ভোট। লি পেনের প্রচারণা শিবির আগেই ধারণা করেছিল, এফএন পার্টি পুরুষদের চেয়ে নারী ভোট বেশি পাবে এবং দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের ভোট পাবেন। তবে তরুণদের ভোট এফএন দলকে আরও শক্তি জুগিয়েছে। এসব তরুণ ভোটারের সমর্থন পেয়ে আগামী ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন লি পেন। তবে লি পেনের পরাজয়ে এই বাস্তবতা সামনে এসেছে যে, ইউরোপ থেকে কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের পতন ঘটছে। পশ্চিমা বিশ্বে অভিবাসীবিরোধী জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থী প্রার্থীর পতন ঘটল। আগামী সেপ্টেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচনেও ইউরোপবিরোধী প্রার্থী ধরাশয়ী হয়েছেন। আদতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য লি পেনের এ পরাজয় হল। মার্কিন নাগরিকদের কাছে অভিবাসী বিতাড়ন করার স্বপ্ন দেখিয়ে গত নভেম্বরে জয় পান ট্রাম্প। একই পথে হাঁটছিলেন লি পেন। ট্রাম্পের জয়ে নির্বাচনের দিন রাতেই তাকে অভিনন্দন জানানো প্রথম রাজনৈতিক নেতাও তিনি। এর একদিন পর নেদারল্যান্ডের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী নেতা গার্ট ওয়াইল্ডার উল্লাস প্রকাশ করেন। মার্চের নির্বাচনে তিনিও ছিটকে পড়েন। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় লি পেন ট্রাম্পের নীতি গ্রহণ করে ঘোষণা দেন, ফ্রান্স থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করবেন তিনি। ট্রাম্পের এ নীতিই এখন তার জন্য কাল হল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল : আপিলের পরবর্তী শুনানি ২১ মে

উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য ২১ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। এর আগে আজ সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো এ মামলার আপিলের শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদন নাকচ করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আজ আপিল বিভাগে শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বাতিলের শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য আবারও মুলতবি রাখার আবেদন করেন। কিন্তু আবেদন নাকচ করে আদালত শুনানি অব্যাহত রেখেছেন। এ নিয়ে আদালতের সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কথা কাটাকাটি সকালে আপিল শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে দু'টি আবেদন দাখিল করেন। একটি আবেদনে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উল্লেখ করা হয়- গতকালের শুনানিতে আপনারা বলেছিলেন আমরা সব বিচারপতি মিলেই এ বিষয়ে শুনবো।
কিন্তু বেঞ্চে আজও পাঁচজন (সাতজন থাকার কথা) বিচারপতি রয়েছেন। এ অবস্থায় শুনানি দুই সপ্তাহ মুলতবি করা হোক। অপর আবেদনে হাইকোর্টের রায়ে সংসদ সদস্যদের নিয়ে যেসব বিরুপ মন্তব্য করা হয়েছে সেগুলো বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেয়ার আবেদন করা হয়। এরপরও আদালত শুনানি শুরু করলে অ্যাটির্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, শুনানি থেকে আমি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবো। এসময় আদালত ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মধ্যে বেশ কিছু সময় ধরে কথা কাটাকাটি হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাশ করা হয়। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। এ আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে গতবছর ৫ মে ১৬তম সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেন। তিন বিচারকের মধ্যে দু'জন ১৬তম সংশোধনী অবৈধ অবৈধ ঘোষণা করেন এবং একজন রিট আবেদনটি খারিজ করেন। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন।

দুর্গতদের পাশে না থাকলে খবর আছে: কাদের

হাওরের দুর্গতদের পাশে না থাকলে খবর আছে বলে নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার হাকালুকি হাওর তীরের জুড়ী উপজেলার নিরোদ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি কারো লাল গোলাপের শুভেচ্ছা নিতে আসিনি। ভাষণ দিতেও আসিনি। আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। তিনি বলেন, অকাল বন্যায় সৃষ্ট যন্ত্রণা ও কষ্ট নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার রাজনীতি করে না। আপনারা নিজেদের অসহায় ভাববেন না। আপনাদের পাশে সবাই আছে। যে না থাকবে, তার খবর আছে। মন্ত্রী আরও বলেন, আমি এখানে দাঁড়িয়ে ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি।
যতদিন না আপনাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, আপনাদের ঘরে যতদিন নতুন ফসল না উঠবে, ততদিন সরকার আপনাদের সহযোগিতা করে যাবে।মন্ত্রী স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমি যেন এখান থেকে যাওয়ার পর রিপোর্ট না পাই যে মন্ত্রী যাওয়ার পর আর কাউকে পাওয়া যায়নি। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাসুকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম, বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ প্রমুখ।

প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় বাড়িতে আগুন

প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় এক স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে বখাটেরা তাকে হত্যাচেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৬ মে রংপুর শহরের ধাপ পাশারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন। থানায় মামলা হলেও পুলিশ অভিযুক্ত বখাটেদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এলাকাবাসী জানায়, নগরীর ধাপ পাশারীপাড়া এলাকার রায়হান সেলিমের মেয়ে সানজিদা আক্তারকে একই এলাকার মোজাহার আলীর  বখাটে ছেলে বিপ্লব হোসেন(২২) গত এক বছর ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সানজিদা প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় স্কুল যাওয়া আসার পথে প্রায় তাকে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করতো বিপ্লবের। এ ঘটনায় সানজিদার মা নাসিমা বেগম গত বছরের ৫ আগষ্ট রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে বিপ্লবের বাড়িতে গেলে ৭ আগষ্ট বিপ্লব তার পরিবারের লোকজন নিয়ে সানজিদাদের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর হস্থক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনার জের ধরে গত ৬ মে শনিবার গভীর রাতে বিপ্লব, রবিন, নাহিদ ও তৌকির পেট্রোল ঢেলে সানজিদার ঘরের দরজা ও জানালায় আগুন ধরিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা করে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাড়ির লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় বখাটে বিপ্লব, রবিন, নাহিদ ও তৌকির পেট্রোলের কৌটা ফেলে পালিয়ে যায়। আগুনে ঘর ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভষ্মিভূত হয়। সানজিদার মা জানায়, বিপ্লব তার সঙ্গীদের নিয়ে মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছে। এর প্রতিবাদ করায় সে মেয়ের ক্ষতিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। বিপ্লবের এসকল কর্মকাণ্ড থানায় জানানো হলে পুলিশ উল্টো তাদেরকে দোষারোপ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ব্যাপারে রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, আমরা একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিপ্লবকে খোঁজা হচ্ছে। আশাকরি তাকে আমরা গ্রেফতার করতে পারব।

অটোবাইকে কাপড় পেঁচিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় অটোবাইকে কাপড় পেঁচিয়ে ফাতেমা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মৌলভীকান্দি গ্রামের ফজলুল হক চৌকিদারের বৃদ্ধা স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাড়ির সামনে থেকে একটি অটোবাইকে চড়ে মৌলভী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় পড়নের কাপড়ের আচল অটোবাইকের মোটরে জড়িয়ে যায়। এতে তার ঘাড় থেকে মাথা আলাদা হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। কালকিনি থানা পুলিশ খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধার লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে। কালকিনি থানার এসআই মোঃ জুয়েল বলেন, আমরা বৃদ্ধার লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠিয়েছি।

বিকল্প সূর্য উদ্ভাবন!

সভ্যতার শুরু থেকেই বেঁচে থাকার তাগিদে একের পর এক নিত্য নতুন উদ্ভাবন করে যাচ্ছে মানুষ। উদ্ভাবনের তালিকায় কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে প্রাণীর ক্লোন পর্যন্ত যুক্ত হয়েছে। এছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য রোবট থেকে শুরু করে কৃত্রিম মেঘ তৈরির কথাও শোনা গেছে। কিন্তু তাই বলে সূর্যের বিকল্প আবিষ্কার করবে বিজ্ঞানীরা তা কি কখনো ভেবেছে মানুষ? জার্মানির একদল বিজ্ঞানী উদ্ভাবন করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির কৃত্রিম সূর্য। বিজ্ঞানীদের এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন জার্মানির ইন্সটিটিউট অব সোলার রিসার্চ এর প্রধান ড. কাই উইগহার্ট। কৃত্রিম সূর্য উদ্ভাবনের কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সব দিন একইভাবে পৃথিবীতে সূর্য আলো ও তাপ ছড়ায় না। যে কারণে অনেক সময়ই বাধাগ্রস্ত হতে পারে মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড। যখন পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকে না, তখন সোলার প্যানেল বা সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনকাজ কিভাবে চলবে? যেহেতু সোলার প্যানেলের মূল খাবার আসে সূর্যের আলো থেকে, ফলে পৃথিবীর যেসব দেশে প্রায়ই সূর্যের দেখা মেলে না, তারা রীতিমত বিপদে পড়েন। সেই সংকটের জবাব খুঁজতে গিয়ে জার্মানির বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন কৃত্রিম এক সূর্য, যাকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কৃত্রিম সূর্য। কাই উইগহার্ট বলছেন, ‘এই সূর্যের মাধ্যমে আমরা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কৃত্রিম আলো পাবো, যা খুবই প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে পশ্চিম জার্মানির মত জায়গায়, যেখানে প্রতিদিন সূর্যের দেখা পাওয়া যায় না এবং আবহাওয়াও খুব একটা ভালো নয়।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪৯টি ফিল্ম প্রজেকশন লাইট একত্রিত করে আলো প্রক্ষেপণ করা হয়। আর সেই সম্মিলিত আলো প্রতিদিন সূর্যের যে রশ্মি পৃথিবীতে আলো ছড়ায় তার থেকে দশ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এই আলোর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আগামী দিনের সোলার বা সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদি পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারছেন।
ড. কাই এটিকে এখনো একটি নিরীক্ষা বলেই অভিহিত করছেন।তিনি বলছেন, ‘এটা আমাদের প্রথম নিরীক্ষাগুলোর একটি, যেটি খুবই সাধারণ আর প্রথাগত। একে আপনি একটি সোলার হাইড্রোজেন রিঅ্যাক্টর বলতে পারেন। এই রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে সৌরশক্তি ব্যবহার করে আমরা পানিকে ভাগ করে ফেলার প্রক্রিয়া তৈরি করছি। এর ফলে আমরা শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারব এবং সেটিকে সামনের দিনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। নির্দিষ্ট কোন একটি দিকে আলো প্রক্ষেপণ করলে, সেটি কোন এলাকাকে প্রায় ৩ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত করে তুলতে পারবে। যা যেকোনো জ্বলন প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেহেতু হাইড্রোজেন পুড়লে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় না, তাই ভবিষ্যতে হাইড্রোজেনকেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হবে। বিজ্ঞানীদের বানানো এই কৃত্রিম সূর্যটির যে বিশাল এক যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে, তার উচ্চতা তিনতলা একটি ভবনের সমান। সেখানে ১৪০ জেনন শর্ট আর্ক ল্যাম্প জ্বলছে। এ প্রচণ্ড তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন গ্যাস প্রস্তুত করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগেই সোলার রেডিয়েশন ব্যবহার করে হাইড্রোজেন তৈরি করা পদ্ধতি উদ্ভাবনা করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম সূর্যের মাধ্যমে যে পরিমাণে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করা সম্ভব, তা কেবল জ্বালানি হিসেবে নয়, ব্যবহার করা যাবে শিল্প খাতেও। সূত্র: বিবিসি।

ধূমপানমুক্ত বিশ্ব চায় শীর্ষস্থানীয় সিগারেট কোম্পানি!

ধূমপায়ী জনসাধারণকে ধূমপান ছেড়ে দেয়ার আবেদন জানাচ্ছে একটি সিগারেট কোম্পানি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সিগারেট কোম্পানির নাম ফিলিপ মরিস। ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, ২০১৬ সালে ৮৫০ বিলিয়ন সিগারেট উৎপাদন করে এ কোম্পানিটি। তবে কোম্পানিটি বর্তমানে ধূমপানমুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন দেখছে। এক সমীক্ষা মতে, ধূমপানের কারণে প্রতিবছর ৬০ লাখ লোক প্রাণ হারায়। বিশ্বজুড়ে যখন তামাকের ব্যবহার ও ধূমপায়ীর সংখ্যা কমছে, সিগারেট কোম্পানিগুলো নিকোটিন আসক্তদের জন্য নতুন নিরাপদ ধূমপান পণ্যের উৎপাদনের চেষ্টা করছে।

দ. কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আজ দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে স্পষ্টতই এগিয়ে রয়েছেন দেশটির বামপন্থী প্রার্থী গণতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মী ও মানবাধিকার আইনজীবী মুন জায়ে ইন। দেশটির এ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীরা সোমবার শেষবারের মতো প্রচারণা চালান। খবর এএফপির। গ্যালাপ কোরিয়ার সর্বশেষ জনমত জরিপ মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টির এ প্রার্থী ৩৮ শতাংশ এবং মধ্যপন্থী আন চিওল সু মাত্র ২০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। দেশটির জনগণের জন্য চাকরির নিশ্চয়তা ও অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে মূলত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উচ্চাকাংক্ষার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। তা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রচারে উত্তর কোরিয়া ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে।
মুন জায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন এবং পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী প্রতিবেশির প্রতি নমনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ডিসেম্বরে মুন বলেছিলেন, যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারি তবে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আগেই উত্তর কোরিয়া সফর করবেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার সৈন্যের এ দেশের একমাত্র নিরাপত্তা গ্যারান্টার যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে পিয়ংইয়ং সোমবার দেশটির বিদায়ী রক্ষণশীল সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছে। উত্তর-দক্ষিণের মধ্যকার তিক্ত সম্পর্কের জন্য গত এক দশক ক্ষমতায় থাকা এ সরকারকে দোষারোপ করেছে কিম জন উনের সরকার। মঙ্গলবারের এ নির্বাচন দেশটির অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইয়ের উত্তরসূরি নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অপরাধে ১০ মার্চ অভিশংসিত হন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম এ নারী প্রেসিডেন্ট।

মক্কা-মদিনা বাদে সৌদি আরব গুঁড়িয়ে দেব

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহঘান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি সরকার যদি কোনো বোকামি করে তাহলে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা ছাড়া গোটা সৌদি আরব ধ্বংস করে দেয়া হবে। সৌদি উপ-যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ ইরানে নিয়ে যাওয়া হবে বলে মন্তব্য করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় জেনারেল দেহঘান এ হুমকি দেন।
খবর রয়টার্সের। প্রিন্স সালমান বলেন, রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে কোনো যুদ্ধ হলে তা হবে ইরানের মাটিতে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব সৌদি আরবের পরিবর্তে যুদ্ধটা যেন ইরানে হয়।’ সালমানের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের টিভি চ্যানেল আল-মানারে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী একথা বলেন, ‘আমরা তাদের মূর্খের মতো কাজ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাব, কিন্তু তারপরও তারা যদি বেকুবের মতো কিছু করে বসে তাহলে মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের আর কোনো জায়গায় হামলা চালাতে আমরা বাদ রাখব না।’

কিম জংয়ের কিছু অজানা তথ্য

বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন কমিউনিস্টশাসিত উত্তর কোরিয়া। সেখানে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যম। ফলে দেশটির নেতা কিম জং-উন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। কিম ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার ফার্স্ট সেক্রেটারি, উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সেনা কমিশন ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এবং কোরিয়ান পিপলস আর্মির সুপ্রিম কমান্ডার। গত বছরে উত্তর কোরিয়ার প্রথম হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর নেপথ্যের ব্যক্তিও তিনি। আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়ের হুমকি, চাপ, ভাবনা নিয়ে তার তেমন মাথাব্যথা নেই। এখন পর্যন্ত বিশ্বনেতাদের বুড়ো আঙুল দেখাতে কার্পণ্য করেননি তিনি।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কিম। যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছেন। কিমের কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরেছে ইকোনমিক টাইমস। আনন্দদানকারী : কিম জং-উন এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও পরোয়া করেন না। বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময়, হেঁয়ালি এবং অনিশ্চিত একজন ব্যক্তি কিম, যার সম্পর্কে আগাম কোনো কিছুই বলা যায় না। এই নেতা ভালোবাসেন অন্যকে আনন্দ দিতে। তিনি সুসজ্জিত প্রাসাদে থাকেন, যেখানে অন্যকে আতিথেয়তা দিতে এবং নিতে পছন্দ করেন। ভালোবাসে প্রমোদতরী : অবসরে প্রমোদতরীতে সময় কাটান কিম। উত্তর কোরিয়ার উপকূল এলাকায় ২০০ ফিট একটি প্রমোদতরী রয়েছে কিমের। এরই পাশে থিম পার্ক এবং আছে একটি ফুটবল মাঠও। এছাড়া কিমের প্রিয় খেলা বাস্কেটবল। তিনি বাস্কেটবলের প্রতি চরম আসক্ত।
বন্ধুবৎসল : একা একা নয় সঙ্গী-সাথী নিয়ে থাকতে পছন্দ করেন কিম জং-উন। জং সব সময় তার চারপাশে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। আর তিনি সঙ্গী-সাথীকে নিয়ে ধূমপান, পানীয় এবং হাসি-গল্পে সময় কাটান।

বিদেশি পাত্রী চায় ডেনমার্ক

ডেনমার্কের কোলে স্বশাসিত দ্বীপপুঞ্জ ফেরো। ভাষা, খাওয়া-দাওয়া, আবহাওয়ার দিক থেকে আর পাঁচটা দেশের থেকে একদম আলাদা। সাকল্যে ৫০ হাজার লোকের বাস। তার মধ্যে আবার পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যা অনেক কম। আর সেই জন্যই অন্য দেশ থেকে পাত্রী খুঁজে আনতে হচ্ছে ফেরোর বিবাহযোগ্য পুরুষদের। পরিসংখ্যান বলছে, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন থেকে আসা তিন শতাধিক নারীর ঠিকানা এখন এই দ্বীপপুঞ্জে। স্বামী-সংসারের পাশাপাশি এখানেই আর্থিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন তারা।
কেউ শুরু করেছেন রেস্তোরাঁর ব্যবসা, কেউ বা ম্যাসাজ পার্লার। পড়াশোনা কিংবা চাকরির সন্ধানে সম্প্রতি ফেরোর যুবক-যুবতীরা বাইরে যাচ্ছেন। তবে তারা অনেকেই ফেরেন না। নারীদের মধ্যে বিদেশে পাকাপাকিভাবে থিতু হওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে পাত্রীর খোঁজে একমাত্র সহায় ডেটিং ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া। বর্তমান বিশ্বে শরণার্থী প্রশ্ন একটি স্পর্শকাতর বিষয়। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ফেরো মুক্ত হস্তে অভিবাসীদের গ্রহণ করেছে। তবে নিজের প্রয়োজনেই! স্থানীয় রাজনীতিক মাগ্নি আর্গে বলেন, ‘অভিবাসীদের বেশির ভাগই নারী। তারা এখানে আসছেন, কাজ করছেন। তবে কোনো রকম সমস্যা তৈরি করছেন না।’ বিবিসি।

কাশ্মীরিদের মোকাবেলায় এবার ‘পাথরবাজ সেনা’

জম্মু-কাশ্মীরে পাথর ছোড়া প্রতিবাদী তরুণদের মোকাবেলা করতে উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে হিন্দু সাধু-সন্ন্যাসীদের সংগঠন ‘জন সেনা’র সদস্যরা কাশ্মীরে পৌঁছেছে। রোববার শতাধিক বাসে এক হাজারের বেশি ‘স্বেচ্ছাসেবক’ রওনা হয়। কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়ানোও হবে তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সংগঠনটির প্রধান বালযোগী অরুণ পুরি চৈতন্য মহারাজ বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরে যেভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর পাথর ছোড়া হচ্ছে তা লজ্জাজনক। এসব লোক দেশদ্রোহী। এ ধরনের লোককে তাদের ভাষাতেই জবাব দেয়া হবে। এজন্য শহর থেকে পাথরবাজ সেনা তৈরি করা হয়েছে।’ ওই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে ‘যুদ্ধ বিজয় যজ্ঞ’। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। বালযোগী চান, কাশ্মীরে সেনারা নিজেদের সামনে ‘জন সেনা’র পাথরছোড়া বাহিনীকে রাখুক। কারণ দেশের জন্য তারা প্রাণ দিতেও পিছপা নন। দড়ির সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে পাথর ছোড়ার প্রশিক্ষণ নেয়া এক উপজাতীয় ব্যক্তি বলেন, তারা অন্তত ২৫০-৩০০ মিটার দূরে তীব্র গতিতে পাথর ছুড়তে সক্ষম। কাশ্মীরি তরুণরা যেভাবে হাত দিয়ে পাথর ছুড়ছে তার চেয়ে ৭-৮ গুণ বেশি গতিতে তারা পাথর ছুড়তে পারে।
স্বেচ্ছাসেবী এ বাহিনীর জন্য ট্রাকে করে খাদ্য, তাঁবু সরঞ্জাম, পাথর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পাথর ছোড়া তরুণদের মোকাবেলা করা হবে। এজন্য উড়ে আসা পাথর থেকে কীভাবে মাথা বাঁচিয়ে পাল্টা পাথর ছুড়তে হয়, সেই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সাধু-সন্ন্যাসীরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন। বালযোগী বলেন, ‘কানপুরে আমরা স্থায়ীভাবে পাথরবাজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলতে চাই। এখানে আমরা আরও সাধুকে পাথর ছোড়ার পদ্ধতি শেখাতে চাই।’ পাথর ছোড়া ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবীদের লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, কাশ্মীরে পাথর ছোড়া তরুণীদের সামলাতে হাজারখানেক নারীকে পুলিশ ব্যাটালিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, নারী পুলিশকর্মীরা প্রাথমিকভাবে কাশ্মীর উপত্যকায় পাথর মোকাবেলা করবেন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাজনিত দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি পাঁচটি ইন্ডিয়া রিজার্ভড ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার জাকির মুসা শনিবার এক অডিও বার্তায় কাশ্মীরি তরুণীদের পাথর ছোড়াকে ‘শরিয়াহ বিরুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তাদের পাথর ছোড়া থেকে বিরত থাকতে এবং বাসায় অবস্থান করতে আহ্বান জানান। জাকির মুসা ছাত্রীদের ক্লাস বয়কট ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশ্যে পাথর না ছোড়ার আবেদন করেন। নিজেকে ইঙ্গিত করে মুসা বলেন, আপনাদের ভাই এখনও জীবিত রয়েছে। সেজন্য আপনাদের ময়দানে আসার প্রয়োজন নেই।

পৃথিবীতে ফিরল রহস্যময় মহাকাশযান

প্রায় দুই বছর পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তন করছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর রহস্যময় মহাকাশযানটি। ৭১৮ দিন মহাকাশে পরিভ্রমণ শেষে এবার ফিরে এসেছে এক্স-৩৭বি নামে সেই মহাকাশযানটি। এক্স-৩৭বি মহাকাশযান সম্প্রতি অবতরণ করে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে। অবতরণের সময় এর শব্দে অনেকেই চমকে ওঠেন। মার্কিন বিমানবাহিনী এক টুইট বার্তায় মহাকাশযানটির ফিরে আসার কথা নিশ্চিত করে। খবর ডেইলি মেইলের। মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বা গোয়েন্দা উপগ্রহের কাজে একে ব্যবহার করা হয় বলে জল্পনা-কল্পনা চলছে। অবশ্য পেন্টাগন তা অস্বীকার করেছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এক্স-৩৭বির প্রধান উদ্দেশ্য দুটি। প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল বারবার ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং মহাকাশ ও পৃথিবীতে সমন্বিত গবেষণা করা। এ মহাকাশযান নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে তারা। ২০১৫ সালের ২০ মে পৃথিবী থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওয়ানা দেয় মার্কিন বিমানবাহিনীর এক্স-৩৭বি মহাকাশাযানটি। এর পর থেকে তা একটানা ৭০০ দিন অতিবাহিত করে। তবে এতে কোনো মানুষ নেই। সম্পূর্ণ দূর নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পৃথিবী থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

মিরসরাইয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামে গোলাম মোস্তফা (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। গোলাম মোস্তফা করেরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পোলট্রি ব্যবসা করতেন। জানা যায়, ঘটনার দিন করেরহাট বাজার থেকে নিজ মোটরসাইকেলে রাত ১টার দিকে গোলাম মোস্তফা বাড়ি ফিরেন। মোটরসাইকেল বাড়ির উঠোনে থামতেই আগে থেকে ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মোস্তফার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ ও নিহতের পরিবার। নিহতের স্ত্রী নিলুফা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী একজন সৎ ও নিরপরাধ লোক ছিলেন। সমাজের বিভিন্ন সমস্যায় তিনিই এগিয়ে যেতেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। তবে কেন এ হত্যাকাণ্ড, আমি এর বিচার চাই।’
করেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক। মোস্তফার কোনো রাজনৈতিক শত্রু ছিল না। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’ জোরারগঞ্জ থানার এসআই বিপুল দেবনাথ বলেন, ‘খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ জোরারগঞ্জ-মিরসরাই থানা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান জানান, এ হত্যাকাণ্ডটি পূর্বশত্রুতা, নাকি অন্য কোনো কারণে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ম্যাক্রোঁর জয়ের পাঁচ কারণ

ফ্রান্সের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মধ্যপন্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে এক বছর আগেও পরিস্থিতিটা ছিল ভিন্ন। দেশটির সবচেয়ে অজনপ্রিয় সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ম্যাক্রোঁ। এক বছর যেতে না যেতেই দেশের মূলধারার মধ্য-ডানপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী দলের অনুসারীদের হারিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। বিশ্লেষকরা অবশ্য এ জয়ের পেছনে ৩৯ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁর নিজস্ব ক্যারিশমার পাশাপাশি বেশ কিছু কারণ খুঁজে বের করেছেন।
ভাগ্যবান ম্যাক্রোঁ : এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি তার ভাগ্যের জোরেই এ জয় পেয়েছেন। নির্বাচনে ম্যাক্রোঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থী প্রার্থী ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ ও সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী বেনোঁ হ্যামনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় ভোটাররা নতুন কাউকে চেয়েছিল নিজেদের নেতা হিসেবে। প্যারিসভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘টেরা নোভা’র প্রতিনিধি মার্ক ওলিভার প্যাডিস বলেন, তিনি (ম্যাক্রোঁ) সত্যিই খুব ভাগ্যবান যে অপ্রত্যাশিতভাবে জনগণের সেই শূন্য জায়গাটি দখল করতে পেরেছেন।
চালাক ম্যাক্রোঁ : ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্টের ভাগ্যই কেবল সুপ্রসন্ন ছিল না। বরং তিনি খুব চতুরতার সঙ্গে নির্বাচনের গতিপথ তৈরি করে নিয়েছিলেন। নির্বাচনে ম্যাক্রোঁ সমাজতান্ত্রিক দলের হয়ে অংশ নিতে পারতেন। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি অনুধাবন করেন দলের অবস্থা জনগণের কাছে খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়। প্যাডিস বলেন, ‘দূরদর্শী ম্যাক্রোঁ দলের অবস্থার বিষয়টি আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাই তিনি সেই পথ মাড়াননি।’ ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠা করেন এন মার্শে! (এগিয়ে চলো) আন্দোলন। এর চার মাস পরেই প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ সরকার থেকে পদত্যাগ করেন ম্যাক্রোঁ।
করতে চেয়েছেন নতুন কিছু : প্যারিসভিত্তিক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এমিলি স্কালথেইস বলেন, ‘এন মার্শে প্রতিষ্ঠার পর ২০০৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণার পদ্ধতি অনুসরণ করেন ম্যাক্রোঁ। এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবক তৈরির দিকে নজর দেন তিনি। কতিপয় অনভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবক একটি গ্র্যান্ড মার্চের আয়োজন করেন।’ লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, ৩ লক্ষাধিক পরিবারের কাছে তাদের প্রচারণা নিয়ে হাজির হবেন। সেই সব বাড়ির বাসিন্দাদের কাছ থেকে তুলে আনেন জনগণের চাওয়া-পাওয়ার কথা। সেগুলোকে পাথেয় করেই নিজের নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করেন ম্যাক্রোঁ। এটাও তার সাফল্যের একটি কারণ।
ইতিবাচক বার্তা ছিল ম্যাক্রোঁর : নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী মেরিন লি পেনের চেয়ে ইতিবাচক বার্তা প্রদানের মাধ্যমে অনেক এগিয়ে ছিলেন ম্যাক্রোঁ। লি পেন যখন নিজেকে এলিটদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন, তখন রাজনীতিতে নতুন আগন্তুক ম্যাক্রোঁ তৃণমূলের কথা তুলে ধরেন। স্বপ্ন দেখান সবাইকে নিয়ে নিরাপদ ও সমৃদ্ধিশালী ফ্রান্স গড়ার। প্যাডিস বলেন, ‘ফ্রান্সের জনগণের মন জয় করতে ম্যাক্রোঁর তাৎপর্যপূর্ণ আশাবাদী এমন পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র এমন আশাবাদী বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন।’
লি পেনের বিরুদ্ধে সোচ্চার : নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী লি পেন বেশ কিছু নেতিবাচক ইস্যু সামনে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে অভিবাসনবিরোধী ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসা (ফ্রেক্সিট) এবং দেশের গতানুগতিক ধারা বদলে দেয়ার চিন্তা অন্যতম। সে ক্ষেত্রে ম্যাক্রোঁ তার আধুনিক চিন্তার সমন্বয়ে অভিবাসীদের জন্য সীমান্ত খুলে রাখার পাশাপাশি ইইউয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশকে সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ স্থান করার অঙ্গীকার করেন। বিবিসি।
হাঁফ ছেড়ে বাঁচল ইউরোপ : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্যপন্থী প্রার্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ইউরোপ। কারণ এ নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী লি পেন জয়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা ছিল। যুক্তরাজ্যের মতো ব্রেক্সিটের পথে হাঁটতে পারত ফ্রান্সও। তবে ম্যাক্রোঁর জয়ে সে শঙ্কা কেটে গেল। তবে ইইউপন্থী এ নেতার জয়ে নতুন করে শঙ্কায় পড়তে পারে ব্রেক্সিট আলোচনা। এ জন্য আগেভাগেই ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র জানান, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে এ বিশাল জয়ের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন তেরেসা। ম্যাক্রোঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল,
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জাঙ্কার, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কসহ ইউরোপ ও বিশ্বনেতারা। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জাঙ্কার টুইট করেন, ‘খুবই খুশি হয়েছি, ফরাসিরা ইউরোপের ভবিষ্যৎকে নির্বাচিত করেছেন। শক্তিশালী ও সুন্দর ইউরোপের জন্যই এ একতা।’ জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের মুখপাত্র স্টিফেন সেইবার্ট টুইটে লেখেন, ‘শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের জন্য ম্যাক্রোঁর জয় হয়েছে।’ ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও একতা’কে পছন্দ করেছেন ফরাসিরা। নির্বাচনের সময় ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধেও রুখে দাড়িয়েছেন তারা।’