Monday, August 31, 2015

‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়, তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠায়’ বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পথ প্রশস্ত করবে বলে তিনি আশা করেন।
১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। কাল মঙ্গলবার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে বিএনপি।
দলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কাল সকাল ১০টায় শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন খালেদা জিয়া। বিকেল তিনটায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিএনপি সব সময় জনগণের রাজনৈতিক দল হিসেবে সকল জাতীয়-রাজনৈতিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশেও দেশের গণতন্ত্র যতবার বিপন্ন হয়েছে বা গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত এসেছে-বিএনপি সব সময় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরশাসন-গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির চ্যালেঞ্জকে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দেশ ও জনগণের সেবায় বিএনপি আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশজুড়ে গণহত্যা গুম, গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মহোৎসব চলছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করার জন্য বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী করার জন্যই এই আইন পাস করা হয়েছে। এটি পাস হওয়ার ফলে নিপীড়িত মানুষের আইনি প্রতিকার পাওয়ার শেষ ভরসাটুকুও বন্ধ হয়ে গেছে। জনপ্রশাসন আজ্ঞাবহ হওয়ার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে।

ছাত্রলীগ থেকে আগাছা নির্মূল করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন এবং সফল রাজনীতিবিদ হওয়ার জন্য দেশের জনগণকে ভালোবাসতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আগাছা নির্মূল করে সংগঠনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সমুন্নত রাখার জন্যও ছাত্রলীগের নেতাদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদকে জানতে হবে কিভাবে ত্যাগের মাধ্যমে বাঁচতে হয়। ত্যাগ ছাড়া একজন রাজনীতিবিদ জনগণকে কিছুই দিতে পারেন না।
শেখ হাসিনা আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় ভাষণে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন। তোমরা যদি কারো কাছ থেকে ভালোবাসা পাও তাহলে তোমাদেরও উচিত তাকে ভালোবাসা দেয়া। তুমি কি পেলে সেটা কোনো বিষয় নয়।’
বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন- খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ একটি উর্বর দেশ। কিন্তু খাদ্যশস্যের সাথে সাথে আগাছাও জন্মায়। তাই ভালো শস্য উৎপাদনের জন্য আগাছা তুলে ফেলতে হবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকেও আগাছা নির্মূল করার জন্য সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহবান জানান।
আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক সুলতান শফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-এর অনুবাদক অধ্যাপক ফখরুল আলমও অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীদের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে জাতিকে বঞ্চনা মুক্ত করতে সবকিছু করেছেন। তিনি সবসময় বলতেন, বড় কিছু অর্জনের জন্য বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
শেখ হাসিনা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রকাশনা ‘মাতৃভূমি’-এর মোড়কও উন্মোচন করেন।
সূত্র : বাসস

তসলিমা নাসরিনের নিবন্ধ: বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র পালিয়েছে

বাংলাদেশ সত্যিকারের গণতন্ত্রের দেশ নয়। গণতন্ত্র পালিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ইসলামপন্থি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে খুব বেশি ব্যবধান নেই। ভারতের তেহেলকা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব কথা লিখেছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ‘আইডিওক্রেসি ওভারটেকস ডেমক্রেটিক ডিসেন্ট’ শীর্ষক ওই নিবন্ধে তিনি আস্তিক-নাস্তিক নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন যারা মুক্ত চিন্তা করেন অথবা প্রগতিশীল তাদেরকে নাস্তিক হিসেবে দেখা হয়। আনসিভিলাইজড ও অশিক্ষিতরা সেখানেই থেমে থাকে না। তারা দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করে নাস্তিকদের জন্য মৃত্যু ছাড়া অন্য কোন পুরস্কার নেই। ৩০ বছর আগে আমি কলম তুলে নিয়েছিলাম তাদেরকে একত্রিত করতে ও আলোকিত করতে। এখনও দেখতে পাই অশিক্ষিতরা তার চেয়েও বেশি খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আমার কলম সম্ভবত একটি পুরো জাতিকে শিক্ষিত করতে পারে না। এরপরেই তিনি লিখেছেন, অনেক বছর হলো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার দিকে দেশ কতখানি এগিয়েছে? এখন তার অবস্থান কোথায়? তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের দেশ নয়। একটি আদর্শ গণতন্ত্রে কোন ধর্ম থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশে আছে। যতদিন সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেয়া না হবে ততদিন নাস্তিক বা অবিশ্বাসী শব্দটি টিকে থাকবে এবং ততদিন বাংলাদেশ সত্যিকার গণতন্ত্র অর্জন করতে পারবে না। দীর্ঘ ওই নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ধর্ম নিরপেক্ষ দল হিসেবে এখনও মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখে। এর বিপরীত চিত্র দেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর জন্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শোনা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতারা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আহমদ শফির আর্শীবাদ পেতে নিয়মিত সফর করেন চট্টগ্রাম। তাই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বড় ধরনের কোন পার্থক্য নেই। তসলিমা লিখেছেন, যখন আমি দেশ নিয়ে ভাবি তখন এক রকম হতাশা বোধ করি। ইসলামিক কট্টরপন্থা ও সন্ত্রাসের শৃংখলে জাতিকে অবরুদ্ধ করে ফেলবে রাজনৈতিক দলগুলো। এক্ষেত্রে জনগণ নীরব দর্শক। যেভাবে ধর্মীয় পছন্দ-অপছন্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে দৃশ্যত, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন হয়ে ‘দারুল ইসলাম’ বা ইসলামের ভূমিতে পরিণত হবে।

জাসদঃ আহমদ ছফা’র মূল্যায়ন

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদকে নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা। প্রতিদিনই চলছে তর্ক-বিতর্ক। এরইমধ্যে জাসদ নিয়ে মনীষী লেখক আহমদ ছফা’র একটি লেখা পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত ওই লেখার শিরোনাম ছিল- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল: একটি সেন্টিমেন্টাল মূল্যায়ন।
আহমদ ছফা লিখেছেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের যখন সমালোচনা করি, মনে হয় নিজের শরীরে ছুরি চালাচ্ছি। এক সময়ে আমি ওই দলটির প্রেমে পড়েছিলাম। জীবনের অনেকগুলো বছর আমি ঐ দলের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। এগুলো আমার জীবনের অন্ধতা ও মুগ্ধতার বছর। অন্ধ করতে পারা, মুগ্ধ করতে পারা একটা ক্ষমতা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের তারুণ্যের সম্মোহনমন্ত্রে মোহিত হয়ে আমার মতো অনেকেই এই দলটির পতাকা তলে সমবেত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের সমাজ শরীর থেকে ফেটে পড়া অফুরুন্ত প্রাণশক্তির এই দুর্বার যৌবনতরঙ্গের কথা যখন চিন্তা করি, একটা অপরূপ বিস্ময়বোধ আমার মনকে চঞ্চল এবং উতলা করে তোলে। সেই অপচিত তারুণ্যের কথা যখন স্মরণে উদিত হয় একটা সুগভীর বেদনাবোধ আমার সমগ্র সত্তা আচ্ছন্ন করে ফেলে।
ওই নিবন্ধে আহমদ ছফা আরও লিখেছেন, একটি রাজনৈতিক দল বা শ্রেণীসমূহের আশাআকাক্সক্ষা তুলে ধরে ভুল কিংবা হঠকারী পন্থা গ্রহণ করার কারণে কিংবা সমাজের সঠিক বিশ্লেষণের অভাবে যখন একের পর এক উল্টা সিধা কর্মসূচি গ্রহণ করতে থাকে, সেই ধরনের পরিস্থিতিতে ওই দল বা দলগুলো পরাজিত হয়। তাদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে যে শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহ তাদের ওপর আস্থাস্থাপন করে এবং সক্রিয়ভাবে সমর্থন যোগায় তাদের আশাআকাক্সক্ষারও পরাজয় ঘটে। সমাজের সমর্থনকারী অংশের মধ্যে নেমে আসে হতাশা এবং অপরিমিত শূন্যতাবোধ। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল এবং সিরাজ সিকদারের পার্টির ভরাডুবি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম সামরিক শাসনের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের দক্ষিণ দুয়ার খুলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত মৌলবাদের উত্থানকে সম্ভাবিত করেছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল এবং সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টির তরুণরাই ছিলেন বাংলাদেশের সমাজ পরিবর্তনের সবচাইতে সম্ভাব্য প্রতিশ্রুুতিশীল শক্তি। এই দুটি দলের উদ্ভব স্বাধীনতা পরবর্তীকালে। জাসদের সিংহভাগ নেতা ও কর্মী এসেছে আওয়ামী লীগ থেকে। অন্যদিকে সিরাজ সিকদারের দলটির জন্ম হয়েছিল এ দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ক্রমপরিবর্তন এবং ক্রমবিভাজনের মধ্যদিয়ে।
বাংলাদেশের মুুক্তিযুদ্ধ তৎকালীন বিরাজমান রাজনৈতিক প্রবাহের দুটি ধারা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্ন অংশটির নাম ‘জাসদ’ এবং চীনপন্থী কমিউনিস্ট রাজনীতির ছিটকে বেরিয়ে আসা অংশ ‘সর্বহারা পার্টি’ নাম পরিচিতি লাভ করে।
জাসদ পার্টিটি কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে জন্ম লাভ করেছিল, সে কথায় আসা যাক। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারত সরকার তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলো। তখন শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগারে। তাজউদ্দীনের সরকারকে ভারত সরকার সাহায্য দিচ্ছিলো বটে। কিন্তু আশ্বস্ত হতে পারছিলো না। শেখ মুজিব পাকিস্তানের জেল থেকে ফেরত আসতে পারবেন কি না এ বিষয়ে ভারত সরকারের দ্বিধা ছিল। মুজিববিহীন বাংলাদেশে তাজউদ্দীন টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন সে বিষয়েও ভারত সরকার একরকম নিশ্চিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেজন্য সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স হিসেবে জনাব সিরাজুল আলম খান এবং মরহুম ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে ‘মুজিব বাহিনী’ গঠন করে ট্রেনিং দিতে থাকে। মুজিব বাহিনী গঠন করার ক্ষেত্রে ভারত সরকার তাজউদ্দীন সরকারের সঙ্গে কোন পরামর্শ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। এই মুজিব বাহিনীর নেতৃবৃন্দ বহুবার খোলাখুলিভাবে তাজউদ্দীনের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ পর্যন্ত করেছিলেন। মাঈদুল আহসান রচিত ‘মূলধারা ৭১’ বইটি যারা পাঠ করেছেন, তাদের কাছে এ বিষয় অজানা নয়।
স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীনের সঙ্গে মুজিব বাহিনীর লোকজন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সিরাজুল আলম খান ও শেখ ফজলুল হক মণির মধ্যে নানা ব্যাপারে মতান্তর ঘটে যায়। শেখ ফজলুল হক মণি তাজউদ্দীনের সরকারকে ভারতের মাটিতে চ্যালেঞ্জ করেছেন, কিন্তু শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে যখন দেশের সর্বময় কতৃত্ব গ্রহণ করলেন, শেখ মণি মামার সরকারকে সমর্থন করাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন। কথাটা সহজভাবে বললাম, অতো সহজে কিন্তু মণি-সিরাজ দ্বন্দ্বটি প্রশমিত হয়নি। আওয়ামী লীগ মধ্যশ্রেণি নিয়ন্ত্রিত মাল্টিক্লাস রাজনৈতিক সংগঠন। আওয়ামী লীগভুক্ত সমস্ত অংশের রাজনৈতিক আকাক্সক্ষাও এই ভাঙনের প্রতিক্রিয়ায় নিশ্চিত ভূমিকা পালন করেছে।
মূলত আওয়ামী লীগেরই লড়াকু অংশটি স্বাধীনতা- উত্তরকালে  জাসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আরো একটা সত্যের উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে। জাসদের জন্মের প্রক্রিয়ায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন এই পার্টিটিকে টাকা কড়ি দিয়ে এবং আরো নানা সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন। সেই সময়ে অনেকেই এ ধারণা পোষন করতেন মুজিব-তাজউদ্দীনের মধ্যে ভবিষ্যতে যদি মতান্তর ঘটে সে কথা চিন্তা করে ভবিষ্যতের আশ্রয় হিসেবে তাজউদ্দীন নতুন পার্টিটিকে জন্মাতে সাহায্য করেছেন। পরবর্তীতে তাজউদ্দীন-মুজিবের অবশ্যই মতান্তর ঘটেছিল। কিন্তু জাসদে যোগদান করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। আর জাসদের তরুণ নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের কোন নেতার নির্দেশ মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।
জাসদতো প্রতিষ্ঠিত হলো। বৈজ্ঞাণিক সমাজতন্ত্র কায়েম করার গালভরা ঘোষণা দেওয়া হলো। মার্কসবাদ লেনিনবাদ অনুসরণ করে সমাজ বিপ্লব ঘটিয়ে তোলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে মাঠে নামলো। লক্ষ লক্ষ তরুণ আগুনে প্রতঙ্গের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো। ঝড়ের মতো তাদের উচ্ছ্বাস আবেগে উচ্চারিত কন্ঠস্বর দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ধবনিত হতে থাকলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসবের পরিণতি কি দাড়ালো।
জাসদের নেতারা সদর্পে মার্কসবাদ লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠা করার কথা বলতে থাকলেন, স্লোগানে মিছিল রাজপথ মুখরিত হয়ে উঠলো, দেয়াল অজস্র চিকায় ভরে গেলো। কিন্তু তারা স্বভাবে থেকে গেলো আওয়ামী লীগের অপকৃষ্ট অংশ। জাসদ নেতৃবৃন্দ কর্মীদের বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছিলো আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার তাদের সঙ্গত অধিকার আছে।

চরম শিহরণ-সুখের উল্লাসে উৎসব এখন যৌনতার by বিশ্বজিৎ ঘোষ

যৌনতার উৎসব৷ হোক না, ওই উৎসব মাত্র একদিনের জন্য৷ কিন্তু, উৎসব-ই তো! এবং, তাও আবার যৌনতার! শুধুমাত্র তাও নয়৷ ওই উৎসব আসলে, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার জন্য৷
কোনও কোনও মহলে এমন প্রসঙ্গও উঠতে পারে যে, যৌনতার জন্য আবার উৎসবের কী প্রয়োজন! অথবা, বছরের যে কোনও দিন তো বটেই, বছরের যে কোনও সময়েই তো মেতে ওঠা যায় যৌনতার ওই উৎসবে! তা হলে, বছরের বিশেষ একটি দিন কেন! কেন-ই-বা বিশেষ একটি দিনের প্রয়োজন? আসলে, বছরের বিশেষ একটি দিন স্থির করা হয়েছে যৌনতার সময় চরম শিহরণের সুখ প্রাপ্তির বিষয়টিকে মনে রেখেই৷ কেননা, এখনও অনেকে জানেন না যে, যৌনতায় কীভাবে, কোন উপায়ে মিলবে চরম শিহরণের সুখ৷
যদিও, যৌনতার এমন উৎসবকে কেন্দ্র করে যেমন পক্ষে অথবা বিপক্ষে যুক্তি-তর্কের অভাব হবে না৷ তেমনই আবার, যৌনতার উৎসবে মেতে ওঠার জন্য আদর্শ যুগলেরও অভাব হবে না৷ দুনিয়া অনেক বদলে গিয়েছে৷ এবং, দুনিয়া ক্রমে আরও বদলে চলেছে৷ আর, ওই বদলের হাত ধরেই, বদলে চলেছে যৌনতার সংজ্ঞাও৷ বদলে চলেছে যৌনসুখে মেতে ওঠার জন্য বয়সের সীমাবদ্ধতাও৷ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বহু মহিলা অথবা পুরুষের কাছে যৌনতা এখন আবার নির্দিষ্ট কোনও বয়সেও আবদ্ধ নেই৷ বরং, কীভাবে, কোন উপায়ে আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে যৌবন৷ কীভাবে, কোন উপায়ে আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে যৌনজীবন৷ এবং, যৌনতার রূপ-রস কীভাবে, কোন উপায়ে আরও বেশি সময় উপভোগের হতে পারে, তেমন নানা বিষয়ে ক্রমে বেড়ে চলেছে আগ্রহ৷ এমন আগ্রহ অবশ্য তাঁদের ক্ষেত্রে বেশি রয়েছে, যাঁরা আসলে যৌনরসিক৷
স্বাভাবিকভাবেই, বিভিন্ন রকম-ধরনের বদলের সৌজন্যেও আবার আবির্ভাব ঘটেছে যৌনতার ওই উৎসবের৷ যাঁরা টেকস্যাভি অথবা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের অনেকের কাছেই এখন অজানা নয় যে, যৌনতার ওই উৎসবে মেতে ওঠার জন্য বছরের বিশেষ দিনটি হল ৩১ জুলাই৷ তবে, যৌনতার উৎসবে মেতে ওঠার জন্য কে অথবা কারা বিশেষ দিন হিসেবে ৩১ জুলাইকে নির্দিষ্ট করেছেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সঠিক তথ্য মেলেনি৷ তেমনই, এটাও আবার অস্বীকারের নয় যে, ৩১ জুলাই কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনরসিকদের কাছে ক্রমে আরও বেশি সমাদৃত হচ্ছে৷ এবং, যে কারণে, গত কয়েক বছর ধরে, ৩১ জুলাই যৌনতার উৎসবে মেতে উঠছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বহু যুগল অথবা মহিলা কিংবা পুরুষ৷
কোনও কোনও মহল থেকে এমনটাও বলা হচ্ছে যে, কোনও সেক্স টয় অথবা কনডোম প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে নির্দিষ্ট করা হয়েছে ৩১ জুলাইকে৷ ওই সংস্থার মনোভাব, ৩১ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হোক যৌনতার উৎসব৷ এবং, ওই উৎসবে মেতে উঠুন যৌনরসিকরা৷ কিন্তু, যাঁরা যৌনরসিক নন? এই বিষয়টিও যে ভাবা হয়নি, তাও নয়৷ যাঁরা যৌনরসিক নন, তাঁরাও যাতে অনুভব করতে পারেন যৌনতার ওই উৎসবের মাহাত্ম্য, তার জন্যেও জারি রয়েছে প্রচেষ্টা৷ কেননা, যৌনতার উৎসবে মেতে ওঠার মানে-ই যে শুধুমাত্র দুই সঙ্গীর শারীরিক মিলন, তাও নয়৷ সমীক্ষা বলছে, শারীরিক মিলন ছাড়াও হতে পারে যৌনতা৷ এবং, শারীরিক মিলন হোক অথবা অন্য কোনও উপায়ে, যৌনতার আসল বিষয় হল, চরম শিহরণের সুখ মিলছে কি না৷ এমনই বিভিন্ন বিষয়কে মাথায় রেখেই, ৩১ জুলাইকে এখন বলা হচ্ছে ন্যাশনাল অর্গ্যাজম ডে৷
তবে, বছরের বিশেষ দিন হিসেবে ৩১ জুলাইকে যে বা যাঁরা-ই নির্দিষ্ট করে দিন না কেন, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার এমন সুযোগ কিন্তু হাতছাড়া করতে চাইছেন না বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বহু মহিলা-পুরুষ৷ তেমনই আবার, যৌনতায় মেতে ওঠা মানেই যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুগলের-ই প্রয়োজন, তাও নয়৷ কেননা, এ ক্ষেত্রেও বদলে চলেছে ধারণা৷ এবং, বদলে চলা ওই ধারণার সৌজন্যেও, শুধুমাত্র কোনও যুগলও নয়৷ মহিলা হোক অথবা পুরুষ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা কোনওমতেই যৌনতায় মেতে ওঠার এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না৷ এবং, যে কারণেও আবার, বছরের ওই নির্দিষ্ট দিনের জন্য হয় জোগাড় করে নিচ্ছেন সঙ্গী, নয়তো, নিজের মতো যৌনতার উৎসবে তাঁরা মেতে উঠছেন৷
নিজের মতো যৌনতার উৎসবে মেতে ওঠার জন্য অবশ্য অন্যতম উপায় হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে হস্তমৈথুনের বিষয়টি৷ এবং, বদলে চলা দুনিয়ায় যেমন ক্রমে বেড়ে চলেছে আরও বেশি যৌন-শিহরণের চরম সুখ প্রাপ্তির বিষয়টি, তেমনই আবার বদলে চলেছে হস্তমৈথুনের রকম-ধরনও৷ যে কারণেও, দীর্ঘ সময়ের হস্তমৈথুনের বিশ্ব রেকর্ডের বিষয়ে জানলে, চমকে উঠতে পারেন যৌনরসিক কোনও পুরুষ অথবা মহিলাও৷ অথবা, বিষয়টি এতটাই ঈর্ষণীয় যে, তাঁদের মনে জ্বালাও ধরাতে পারে৷ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চরম যৌন শিহরণের সুখের জন্য একজন মহিলা ছ’ঘন্টা ৩০ মিনিট ধরে হস্তমৈথুনে লিপ্ত ছিলেন৷ অন্যদিকে, ওই একই লক্ষ্যে, একজন পুরুষ হস্তমৈথুনে লিপ্ত ছিলেন আট ঘন্টা ৩০ মিনিট৷ তবে, এত দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে, কোন উপায়ে ওই মহিলা অথবা পুরুষ লিপ্ত ছিলেন হস্তমৈথুনে, তা অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি৷
অথচ, যৌনতার ওই উৎসবে মেতে ওঠার বিষয়টি এখনও তেমন অবস্থায় পৌঁছয়নি যে, তার জন্য ছুটি মিলতে পারে৷ তাই বলে কি এমন উৎসব মাটি হয়ে যেতে পারে! যদি, অফিস অথবা অন্য কোনও কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় ৩১ জুলাই, তা হলে কি যৌনতার চরম শিহরণ-সুখের উল্লাস থেকে বঞ্চিত হতে হবে! তা হলে, কী করবেন যৌনরসিকরা? উপায়-ই বা কী?  তবে, মন খারাপেরও কোনও কারণ নেই৷ কেননা, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনরসিক বহু মহিলা-পুরুষ এমনও বলছেন যে, অফিসে ছুটির ব্যবস্থা করতে না পারলে অথবা কাজে ব্যস্ত থাকতে হলে, সময় বের করে সুযোগ মতো মেতে উঠুন যৌনতার উৎসবে চরম শিহরণের সুখ প্রাপ্তির জন্য৷ এবং, যে কারণে আবার কোনও কোনও মহলে এমন রসিকতাও চলছে যে, খেয়াল রাখতে হবে, যৌনতার উৎসবে মেতে উঠতে গিয়ে যেন অফিসে বসের নজরে পড়ে যেতে না হয়!
সমীক্ষা বলছে, শারীরিক মিলন ছাড়াও হতে পারে যৌনতা৷ এবং, এমন ক্ষেত্রেও মিলতে পারে যৌনসুখের চরম শিহরণ৷ তবে, যেমন-ই অথবা যেভাবেই হোক না কেন, অন্যতম বিষয় হল, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের প্রাপ্তি হচ্ছে কি না৷ যৌনসুখে চরম শিহরণের উল্লাসে মেতে ওঠা সম্ভব হচ্ছে কি না৷ এবং, যৌনতার উৎসবে মেতে ওঠা অর্থাৎ, ন্যাশনাল অর্গ্যাজম ডে-র অন্যতম উদ্দেশ্যই হল, যৌনসুখের চরম শিহরণ প্রাপ্তি৷ যদিও, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের প্রাপ্তির বিষয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন রকমের ধারণাও রয়েছে৷ এবং, ওই সব ধারণার মধ্যে আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে যুক্ত রয়েছে ভ্রান্ত ধারণাও৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের বিষয়েও এখনও সেভাবে অবগত নন বহু যুগল অথবা মহিলা কিংবা পুরুষ৷ অথচ, এ দেশ কামসূত্রের৷ কিন্তু, এমন হলেও কী হবে!  যৌনতা তথা যৌনজীবন নিয়ে এখনও সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যেই রয়েছে নানা রকমের ছুঁতমার্গ৷
তবে, যাঁরা যৌনরসিক, তাঁদের উপরে অবশ্য তথাকথিত ছুঁতমার্গ কোনও ছায়া-ও ফেলতে পারে না৷ কেননা, সমাজের বিভিন্ন অংশের ওই সব ছুঁতমার্গকে যৌনরসিকরা আসলে তেমন কোনও পাত্তা-ও দেন না৷ তেমনই আবার, যৌনতার উৎসব৷ তাও আবার, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার এ হেন উৎসবে পিছিয়ে থাকে কী করে কলকাতা! না কি, পিছিয়ে থাকতে পারে এই মহানগরী! কাজেই, যাঁরা জানেন ৩১ জুলাই-কে, তাঁরা অবশ্য হাতছাড়া করেননি ওই সুযোগ৷ তেমনই, এমনও হয়েছে, যাঁরা জানতেন না অথচ ইতিমধ্যেই জেনে গিয়েছেন, পরের বছরের জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন৷ তাই বলে এক বছরের অপেক্ষা!
মোটেও নয়৷ দু’-একদিন পেরিয়ে গিয়েছে তো কী হয়েছে!  ৩১ জুলাইকে মনে রেখে, ইতিমধ্যেই তাঁদের অনেকে আবার মেতে উঠেছেন যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের উল্লাসে৷ তবে, কোনও এক যুগলের মধ্যে, কোনও মহিলা অথবা পুরুষের সঙ্গীও যে তাঁর-ই মতো সমান যৌনরসিক হবেন, তাও নয়৷ কাজেই, শুধুমাত্র তো আর যৌনতার উৎসবে মেতে উঠে চরম শিহরণ-সুখের উল্লাসে ভেসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও চলবে না! কোনও এক যৌনরসিকের সঙ্গীকেও তো তেমনই হতে হবে৷ না হলে, হবে কীভাবে যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের উল্লাস! কাজেই, এমনও হচ্ছে যে, সঙ্গীকে বোঝাতে সমর্থ না হলে, উপায় হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে অন্য কোনও পথ৷
সমীক্ষায় প্রকাশ, মহিলা হোক অথবা পুরুষ, এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক মিলনে অংশ নিলেও সঠিকভাবে জানেন না যে, কীভাবে অথবা কোন উপায়ে মিলতে পারে চরম যৌন শিহরণের সুখ৷ অপেক্ষা থাকে, অথচ, তাঁরা সেভাবে জানেন না যে, কীভাবে অথবা কোন উপায়ে পৌঁছনো সম্ভব যৌনতার চরম রোমাঞ্চিত পর্বে৷ যে পর্বে পৌঁছনো সম্ভব হলেই মিলবে যৌনতায় চরম শিহরণের সুখ৷ সমীক্ষায় প্রকাশ, বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে ৪.৭ শতাংশ মহিলা যৌনতায় চরম শিহরণের সুখ থেকে বঞ্চিত থাকেন৷ ৩১ জুলাই ন্যাশনাল অর্গ্যাজম ডে-কে মনে রেখে ফেমিনিস্টা জোনস তাঁর ব্লগে এমন লিখেছেন, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের প্রাপ্তি কে না চান৷ তবে, এটাও সত্যি যে, কখনোই চরম যৌন শিহরণের সুখ পাননি ১০-১৫ শতাংশ মহিলা৷
কেন? ফেমিনিস্টা জোনস-এর ব্লগে বলা হয়েছে, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের বিষয়টি জানেন-ই না ওই সব মহিলা৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ এই বিষয়ে যে তাঁদের বোঝানো হবে, তাও সম্ভব নয়৷ কেননা, তাঁদের ধারণা নেই যে, চরম যৌন শিহরণের সুখ আসলে ঠিক কেমন অনুভূতি৷ তার উপর, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের জন্য কোনও লক্ষ্য-ও নেই ওই সব মহিলার৷ এখানেও আবার শেষ নয়৷ ফেমিনিস্টা জোনস-এর ব্লগে এমনও বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে এক সমীক্ষায় প্রকাশ, শারীরিক মিলনের সময় ৭৫ শতাংশ মহিলা চরম যৌন শিহরণ-সুখের সমস্যায় ভোগেন৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে ওরাল সেক্স এবং সেক্স টয়ের ব্যবহার না হওয়ার কারণেও চরম যৌন শিহরণ-সুখের জন্য সমস্যা দেখা দেয়৷ যৌনতায় কীভাবে মিলতে পারে চরম শিহরণের সুখ, তার জন্য সঙ্গীকে তাঁদের বোঝাত হবে যে, কী চাইছেন ওই মহিলারা৷ যৌনতার সময় কী, কী করণীয় এবং কী, কী করণীয় নয়, সে সবও তাঁদের সঙ্গীকে বোঝাতে হবে ওই সব মহিলাকে৷
নিয়মিত যৌনতা এবং চরম যৌন শিহরণের সুখ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত ওই সব মহিলাকে আবার মন খারাপ না করার বার্তাও দিয়েছেন ফেমিনিস্টা জোনস৷ তিনিও মহিলা৷ এবং, তিনি মনে করেন, যৌনতার সময় চরম শিহরণের সুখের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ এখনও ওই সব মহিলার হাতছাড়া হয়নি৷ অর্গ্যাজম অর্থাৎ, চরম যৌন শিহরণ-সুখের মুহূর্তে বেড়ে যাবে হৃদস্পন্দন এবং আরও দ্রুত আর ঘন হবে শ্বাস-প্রশ্বাস৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ আরও অনেক কিছু রয়েছে৷ সাড়ে তিন হাজার মানুষের উপর সমীক্ষা করেছিলেন ব্রিটেনের রয়্যাল এডিনবার্গ হাসপাতালের ওল্ড এজ সাইকোলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান তথা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডেভিড উইকস৷ ওই সমীক্ষায় প্রকাশ, যাঁরা যত বেশি চরম যৌন শিহরণের সুখ উপভোগ করেছেন, তাঁদের তারুণ্য তত বেশি প্রকাশ পেয়েছে৷ একজন মহিলা অথবা পুরুষকে কত বেশি যুবতী অথবা যুবক দেখাবে, সেই বিষয়টিও নির্ভর করছে চরম যৌন শিহরণ-সুখের প্রতি ওই মহিলা অথবা পুরুষের আগ্রহের উপর৷ এখানেও শেষ নয়৷
বয়স যত বেশি হবে, চরম যৌন-শিহরণের সুখও তত বেশি উপভোগের হবে৷ লেলো গ্লোবাল সেক্স-এর সমীক্ষায় প্রকাশ, যৌনতায় চরম শিহরণ-সুখের পরিপূর্ণ তৃপ্তি উপভোগ করেন মাত্র চার শতাংশ মহিলা৷ এবং, ৩১ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ওই তৃপ্তি উপভোগ সম্ভব হয় শারীরিক মিলনের মাধ্যমে৷ ওই সমীক্ষায় প্রকাশ, বেশি বয়সের মহিলারা অনেক বেশি মাত্রায় উপভোগ করেন চরম যৌন-শিহরণের সুখ৷ ৬০ বছরের বেশি বয়সি মহিলাদের উপর করা ওই সমীক্ষায় প্রকাশ, ওই মহিলাদের ৭৫ শতাংশের দাবি, তাঁদের জীবনে সব থেকে বেশি চরম যৌন শিহরণের সুখ উপভোগ করেছেন তাঁরা এই বয়সে৷ এবং, চরম যৌন শিহরণের সুখ সব থেকে বেশি তাঁরা উপভোগ করেছেন শারীরিক মিলনের মাধ্যমে৷
শুধুমাত্র তাই-ও নয়৷ এক ঘন্টায় ১০০ বার-ও চরম যৌন শিহরণের সুখ উপভোগ করতে পারেন মহিলারা৷ তবে, সব মহিলা নন৷ দ্য ফান্ডামেন্টালস অফ সেক্স-এর লেখক তথা গবেষক ক্যাথ্রে অ্যান্ড কোল-এর দাবি, কোনও কোনও মহিলা প্রতি ০.৬ মিনিট অন্তর অর্থাৎ, এক ঘন্টায় ১০০ বার পর্যন্ত চরম যৌন শিহরণের সুখ উপভোগ করতে পারেন৷ তবে, লেলো গ্লোবাল সেক্স-এর সমীক্ষায় প্রকাশ, মৈথুনের সময় একসঙ্গে চরম যৌন শিহরণের সুখ পেতে চান না অধিকাংশ যুগল৷ ৬৯ শতাংশ মহিলার দাবি, শারীরিক মিলনের সময় তাঁরা চরম যৌন শিহরণের সুখ উপভোগ করতে পারেন না৷ তবে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে উপভোগও করেন তাঁরা৷ তবে, সেই কোনও কোনও ক্ষেত্রটি আবার বিরল৷
কাজেই, এমন নানা বিষয়েও যৌনরসিকরা যাতে আরও সচেতন হন, তার জন্যেও ন্যাশনাল অর্গ্যাজম ডে-র গুরুত্ব রয়েছে বলে জানানো হচ্ছে৷ কেননা, অর্গ্যাজম অর্থাৎ, যৌনতায় চরম শিহরণের পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব হলে, তার সৌজন্যে আবার আরও নানা রকমের সুফল মেলারও সম্ভাবনা রয়েছে৷ যার মধ্যে রয়েছে, নানা রকম এবং ধরনের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি, বয়সকে দমিয়ে রাখা অর্থাৎ, আরও দীর্ঘ তারুণ্য তথা যৌনজীবন৷ শুধুমাত্র তাই-ই নয়৷ নিয়মিত চরম যৌন শিহরণের সুখ প্রাপ্তির জেরে যেমন ভালো ঘুম হয়, তেমনই আবার ওই চরম সুখের জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাও বেড়ে যায় বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় জানানো হচ্ছে৷
কাজেই, উল্লাস…! ৩১ জুলাই ন্যাশনাল অর্গ্যাজম ডে-র সৌজন্যে যৌনতার উৎসবে তো বটেই, বছরভর মেতে উঠুন চরম যৌন শিহরণ-সুখের উল্লাসে!

শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সন্ত্রাস হবে না: অতিরিক্ত আইজিপি

দেশে রাস্তা ও গাছ কেটে সহিংসতা চালিয়ে প্রশাসনকে ব্যর্থ  বানানোর চেষ্টা আর কখনো হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেছেন, “যত দিন বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকবেন, তত দিন এ দেশে আর কোনো সন্ত্রাস হবে না।”
সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের নছির  আহমদ ভূইয়া মিলনায়তনে জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অতিরিক্তি আইজিপি।
বিরোধী দলের গত আন্দোলনের সময় লক্ষ্মীপুরের পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে মোখলেছুর রহমান বলেন, “লক্ষ্মীপুর বাংলাদেশের একটি অংশ, পাকিস্তানের নয়। এখানে মিনি পাকিস্তান করতে দেয়া হবে না। অঙ্কুরে তা শেষ  হয়ে গেছে।”
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, “পুলিশের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে দমন করা হবে। তাদের কখনো মাথা উঁচু করতে দেয়া হবে না।” সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, চট্রগ্রাম পুলিশের ডিআইজি মো. সফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কংকন চাকমা, সিভিল সার্জন ডা. গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদসস্যরা।
এর আগে ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে সকালে জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ ছাড়া বিকালে পুলিশ সুপার সম্মেলন কক্ষে জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ থানার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা ও আমরা by সৈয়দা রোযানা রশীদ

বাংলাদেশ শরণার্থীর উৎস দেশ না হয়েও আঞ্চলিকভাবে উদ্ভূত শরণার্থী সমস্যার মোকাবিলা করে আসছে চার দশকেরও অধিক সময় ধরে। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর বাংলাদেশের আশ্রয় প্রার্থনা আরম্ভ হয় সত্তরের দশকের শেষ ভাগে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতনে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। নব্বইয়ের দশকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যায় রোহিঙ্গাদের প্রবেশ এবং বাংলাদেশের আশ্রয়দানের ঘটনা সবার জানা। বাংলাদেশ সরকার সে সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করে বিশ্বব্যাপী নন্দিত হয়। উল্লেখ্য, ২ লাখ ৫০ হাজারের মধ্যে ২ লাখ ৩২ হাজার রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে ফিরে যায়।
নব্বইয়ের দশকে প্রবেশ করাদের প্রায় ১০ শতাংশের অনির্দিষ্টকালের জন্য শরণার্থীশিবিরে অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে নাফ নদী পেরিয়ে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরের বাইরে গ্রামাঞ্চলে বসতি স্থাপন ক্রমাগতই ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও সরকারকে। তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাবিরোধী জনমত। অভিযোগ করা হয়ে থাকে যে, স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার নষ্ট করা, বাংলাদেশি পরিচয়পত্র নিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম অভিবাসন, অপরাধমূলক কাজ যেমন, ছিনতাই, রাহাজানি, মাদক ও মানব পাচার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর দিয়ে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার ও অভিবাসনের ঘটনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আবারও আলোচনায় আসে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে রোহিঙ্গাদের কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে আশ্রয় মিলবে না।
ওপরের তথ্যগুলো মনে করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো কতগুলো তাত্ত্বিক ও নীতিনির্ধারণী বিষয় বিশ্লেষণ করা, যা সার্বিকভাবে বিশ্ব শরণার্থী সমস্যা এবং বিশেষভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাষ্ট্রগুলোর দ্বৈত অবস্থানকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে নীতিনির্ধারণী মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো ‘অবৈধ অর্থনৈতিক অভিবাসী’ হিসেবে তাদের অনুপ্রবেশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নয়, গৃহযুদ্ধ, জাতিরাষ্ট্রগত দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি কারণেই নব্বইয়ের দশকের পর মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুপাতে। জাতিসংঘের হিসাবে বর্তমান বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা পাঁচ কোটিরও অধিক, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি। শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকেই অন্য দেশে প্রবেশের জন্য তাই বেছে নিচ্ছে ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের ব্যবহৃত পন্থা ও পথ।
কয়েক মাস ধরে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে ভাসমান অবস্থায় অথবা মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মৃত ও জীবিত অবস্থায় প্রাপ্ত কয়েক হাজার বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা জনগণ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা অথবা ভূমধ্যসাগরের ভাসমান জাহাজে ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ঠেলাঠেলির নীতি প্রকারান্তরে এ সত্যটিই তুলে ধরে। ফলে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে অনিয়মিত পন্থায় যাত্রাকারী ‘শ্রম অভিবাসী’ এবং যুদ্ধবিগ্রহ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা রাষ্ট্রের শোষণনীতির শিকার ‘শরণার্থী’র মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য অনেক হলেও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান যেন ক্রমে কমিয়ে আনা হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধের নামে জোরদার হচ্ছে শরণার্থীর প্রবেশ ঠেকানো।
শরণার্থী সৃষ্টি হওয়া, তাদের আশ্রয় এবং ফেরত পাঠানোর পুরো বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্ক থাকে। রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হওয়ার ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায় যে রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়ায় এই ক্ষুদ্রতর জাতিগোষ্ঠীটি বৃহত্তর শাসকগোষ্ঠীর দমন ও বহিষ্কারের রাজনীতির শিকার। অন্যদিকে, আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে বাংলাদেশও পৃথিবীর উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ যেমন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি বা অস্ট্রেলিয়ার মতোই শরণার্থী বা ‘অর্থনৈতিক অভিবাসী’দের আশ্রয় বা প্রবেশাধিকার দেওয়ার আগে অভ্যন্তরীণ সংহতি ও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি শঙ্কিত। জনগণের সরকারকে এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হয়, কেননা রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা বাড়া-কমার পেছনে সে দলের শরণার্থী বা অভিবাসন নীতির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব থাকে। রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশে শরণার্থীদের মানবাধিকার বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা কমাতে তাই সবার আগে বিষয়টি বিরাজনীতিকরণ করা প্রয়োজন।
শরণার্থী মোকাবিলায় শরণার্থী-বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনেরও যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। ১৯৫১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় শরণার্থী মোকাবিলা ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে গৃহীত জাতিসংঘের এ সনদ ১৯৬৭ সালে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শরণার্থী তৈরির ইতিহাস থাকলেও দক্ষিণ এশীয় কোনো দেশ এই সনদ অনুসমর্থন করেনি। শরণার্থী মোকাবিলার বিষয়টি চলছে রাষ্ট্রের খেয়ালখুশির ভিত্তিতে। জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশন, যার মূল কাজ শরণার্থী-বিষয়ক আইনের প্রয়োগ ও শরণার্থীর মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ফলে তাকেও পরিণত হতে হয়েছে ত্রাণ সরবরাহকারী সংস্থায়। উন্নত বিশ্বের অনাগ্রহ এবং শরণার্থী ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এই সংস্থাকে বাধ্য করেছে অনুন্নত এবং অক্ষম দেশগুলোকে ত্রাণ বা সাহায্যের বিনিময়ে উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে রাজি করাতে। অনেক সময় যে সেটাও সম্ভব হয় না, তার প্রমাণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, যাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান অর্জন সম্ভব হয়নি। শরণার্থী সমস্যার সহজ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তৈরি এ আইনের স্বীকৃতি ও প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
পরিশেষে, বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিশ্বায়নের এ যুগে একে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। প্রতিবেশী হিসেবে এবং আঞ্চলিক আর্থ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। তাই, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের স্বার্থ জড়িত। দৃঢ়ভিত্তিক নির্যাতনের ভয়ে আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তিদের চিন্তিত করা ও আশ্রয়দানের মধ্য দিয়ে ‘শরণার্থী’ ও ‘অর্থনৈতিক অভিবাসী’-সংক্রান্ত দ্বিধা দূর করে বিষয়টিকে বিরাজনীতিকরণ করা এবং শরণার্থী নীতির সপক্ষে জনমত গড়ে তোলা সম্ভব। জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এই দলিল অনুসমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল মানবাধিকার সুরক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপনই নয়, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আঞ্চলিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায় করতে পারবে।
সৈয়দা রোযানা রশীদ: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শ্যাম্পেনের কর্ক নামাল আস্ত বিমান!

দুঁদে মার্কিন অভিনেত্রী ইলাইন স্ট্রিচ বলতেন, “আমার টাকা-পয়সার চিন্তা, নিরাপত্তাহীনতা, হতাশা— সব শ্যাম্পেনের বোতলের কর্ক খোলার আওয়াজে উড়ে যায়!” অথচ, ওই শ্যাম্পেনের বোতলের কর্ক খুলতে গিয়েই চলতি মাসের গোড়ায় লন্ডন থেকে তুরস্কগামী এক বিমানকে জরুরি অবতরণ করতে হল মিলানে। তার সঙ্গে যাত্রীদের মধ্যেও বিলক্ষণ দেখা গেল নিরাপত্তাহীনতা, হতাশা— হয়ত বা আর্থিক দুশ্চিন্তাও!
যাত্রা শুরুর সময় অবশ্য সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল। নির্ধারিত সময়ে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে মসৃণ উড়ানে যাত্রী নিয়ে চলেছিল ইজি জেটের বিমানটি। যাওয়ার কথা তুরস্কের ডালামানে। বিমান আকাশ ছোঁয়ার পর নিজেদের মধ্যে গল্পগুজবে মত্ত ছিলেন যাত্রীরা। কেউ আবার মগ্ন ছিলেন বই বা খবরের কাগজের পাতায়। কেউ শুনছিলেন গান। বিমানকর্মীরাও যে যার কাজে ব্যস্ত। এমন সময়ে মাঝ আকাশে ঘটল বিপত্তি! যাত্রীদের পিপাসা মেটাতে গিয়ে হতাশার দিকে নিয়ে গেল ওই শ্যাম্পেনের বোতলের ছিপি!
যাত্রীদের জন্য শ্যাম্পেনের বোতল খুলছিলেন এক বিমানকর্মী। হঠাত্ই বোতলের কর্ক সোজা গিয়ে ধাক্কা মারল বিমানের সিলিংয়ে। কর্কের আঘাতে মুহূর্তে চিড় ধরে সেখানে। যাত্রীদের মুখের সামনে এসে যায় অক্সিজেন মাস্কগুলো। ঘটনায় হতচকিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। আর বিমানচালক? নিরাপত্তার কথা ভেবে আর দেরি করেননি তিনি। বিমানটিকে আপত্কালীন ভাবে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো ইতালির মিলানের মালপেনসায় নামিয়ে আনা হয় ইজি-জেটের বিমানটিকে।
ঘটনার দরুন নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক পর গন্তব্যে পৌঁছয় বিমানটি। প্রাথমিক ভাবে চমকে গেলেও ঘটনার কথা ভেবে পরে মজাই পেয়েছেন যাত্রীরা। “চেঁচামেচি, দেরি, ইজি জেটের কয়েক হাজার পাউন্ড গচ্চা যাওয়া.......সবই সামান্য এক কর্কের জন্য! ছ্যা ছ্যা”— এমন মন্তব্যও শোনা যায় এক সুরসিক যাত্রীর মুখে।
ইজি জেটের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, চালকের সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক। নিরাপত্তার কথা ভেবেই বিমানটিকে নামিয়ে আনা হয়েছিল। মিলানে মালপেনসায় যত ক্ষণ বিমানটি ছিল তত ক্ষণ যাত্রীদের সুবিধার্থে সমস্ত রকম পরিষেবা দিতেও কসুর করেনি বিমান কর্তৃপক্ষ।
আর শ্যাম্পেন? সেটাও কি যাত্রীদের পরিবেশন করা হয়েছিল মালপেনসায়? সে ব্যাপারে কোনও কথাই জানাতে চায়নি বিমান কর্তৃপক্ষ।
- আনন্দবাজার

‘নাজিব, বিদায় হও’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে
গতকাল রাজপথে নেমেছে হাজারো বিক্ষোভকারী। দুই দিনের
ওই বিক্ষোভে রাজধানী কুয়ালালামপুরের সেন্ট্রাল মার্কেট
এলাকায় যোগ দেওয়া বিক্ষোভকারীদের একাংশ। রয়টার্স
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার দেশটির রাজধানীতে বিক্ষোভে নেমেছে হাজারো মানুষ। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুই দিনের ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যদিও এই বিক্ষোভে নাজিবের পদত্যাগ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। খবর রয়টার্স ও বারনামার। কুয়ালালামপুরের একটি স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা ছিল বিক্ষোভকারীদের। সরকার ওই স্কয়ার ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। ওই স্কয়ারের পাশে দাঙ্গাবিরোধী বাহিনী বেশ কয়েকটি ট্রাক নিয়ে অবস্থান নেয়। মোতায়েন করা হয় জলকামানও। রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। এই কঠোরতার মধ্যেই স্কয়ার এলাকায় গতকাল দুপুরের দিকেই প্রায় ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী নাজিব ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট (১এমডিবি) নামের একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে দেশটির মানবাধিকার সংগঠন বেরসিহ (মালয় শব্দটির অর্থ ‘পরিষ্কার’) এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছিল তারা। নাজিব অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছেন, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের ইন্ধনে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিক্ষোভে যোগ দেওয়া লোকজনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশই তরুণ। বিক্ষোভকারীরা অনেকটা উৎসবের আমেজ নিয়ে নির্ধারিত ওই স্কয়ার এলাকায় জড়ো হন।
‘নাজিব, বিদায় হও’, স্লোগানসহ নাজিববিরোধী নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন তাঁরা। তিনাগার ভেরানোগান নামে এক বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ার জনগণ নোংরা রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা একটি স্বচ্ছ দেশ চাই।’ বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই পরিকল্পনামতো হলুদ শার্ট পরে বিক্ষোভে যোগ দেন। কেউ কেউ দেশটির জাতীয় পতাকা বহন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে তাঁর কার্টুন নিয়ে অনেককে বিক্ষোভে যোগ দিতে দেখা যায়। বেরসিহ নেতা মারিয়া চিন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আজ বলতে চাই, আমরা সংস্কার চাই।’ এদিকে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এই বিক্ষোভের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গতকাল পূর্বাঞ্চলীয় পাহাং রাজ্যে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ৩১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়োজকদের রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ও স্বাধীনতা দিবসের প্রতি তাঁদের সম্মান দেখানো উচিত। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারবিরোধী এই আন্দোলনে শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। এ কারণে সর্বস্তরের মানুষ এই আন্দোলনে সমর্থন দেবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিক্ষোভ নাজিবের পতন ঘটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মালয়েশিয়ার জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মারদেকা সেন্টারের পরিচালক ইবরাহিম সুফিয়ান বলেন, চলতি মাসের এক জরিপে তাঁরা দেখেছেন, জনগণ এই বিক্ষোভের বিরোধিতাই করছে। তবে জরিপের ফল দেখাচ্ছে, বিক্ষোভের পক্ষ ও বিপক্ষের পার্থক্য খুবই সামান্য।
সিদ্ধান্ত নেননি মাহাথির: সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আজ রোববার ওই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনো তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। পাসির গুদাং স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গতকাল মাহাথির ‘জনগণের ক্ষমতা’ প্রদর্শনের জন্য দুদিনের বিক্ষোভে যোগ দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অ্যামনেস্টির আহ্বান: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিক্ষোভকারীদের প্রতি নিপীড়ন না করে তারা কী বলতে চায়, তা শুনতে মালয়েশিয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিচ্ছিন্নতার পরীক্ষা শুরু

হাওয়াই​ে​য় বিশেষ এই ঘরটির ভেতরে এক বছর
বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করবেন নাসার ছয় গবেষক। এএফপি
মঙ্গল গ্রহে অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন গত শুক্রবার শুরু করেছেন ছয় বিশেষজ্ঞ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) উদ্যোগে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের একটি উষর জায়গায় বিশেষ একটি ঘরের ভেতরে থাকবেন। বিজ্ঞানীরা আগামী তিন বছরের মধ্যেই মঙ্গলে মানুষবাহী যান পাঠানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করছেন। দূর গ্রহটিতে অবস্থানের অনুভূতি কেমন হবে, সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্যই নাসার এই আয়োজন। এ পরীক্ষায় যাঁরা অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে একজন ফরাসি মহাকাশ-জীববিজ্ঞানী, একজন জার্মান পদার্থবিদ এবং চার মার্কিন (একজন স্থপতি, একজন পাইলট, একজন চিকিৎসক/সাংবাদিক এবং একজন মৃত্তিকাবিজ্ঞানী)।
বিশুদ্ধ বাতাস, তাজা খাবার বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়াই তাঁদের ওই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হবে। মাত্র ৩৬ ফুট ব্যাস ও ২০ ফুট উচ্চতার ঘরটির বাইরে গেলে তাঁরা স্পেসস্যুট (নভোচারীর পোশাক) ব্যবহার করবেন। বিচ্ছিন্নতার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দলটিতে তিনজন নারীও রয়েছেন। ঘরের ভেতরে সবার জন্য রয়েছে ঘুমানোর ব্যবস্থা ও কাজ করার ডেস্ক। খাবার হিসেবে তাঁরা পাবেন গুড়ো পনির ও টিনজাত টুনা মাছ। তবে জীবিত কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ ওই ঘরের ভেতরে থাকবে না। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীরা সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকেন। নাসা ইতিমধ্যে চার মাস ও আট মাস দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পরীক্ষা চালিয়েছে। সেই হিসাবে এবারের পরীক্ষাটি হবে দীর্ঘতম। সীমিত জায়গার মধ্যে দীর্ঘ অবস্থানে নভোচারীদের কী কী সমস্যা হতে পারে, সেগুলো নির্ণয় এবং সমাধানের কৌশল বের করতেই নাসা এই উদ্যোগ নিয়েছে। এএফপি ও বিবিসি।

দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা নিতে হবে ফখরুলকে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিকিৎসা এখনই শেষ হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হওয়া রোগের জন্য তাকে দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা নিতে হবে। আপাতত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে গেলেও শুরু হওয়া চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তাকে বারবার এ হাসপাতালেই ফিরে আসতে হবে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এমনই অভিমত দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত কর্নেল হসপিটালের (নিউ ইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান অ্যান্ড ওয়াইল কর্নেল মেডিক্যাল সেন্টার) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। মির্জা ফখরুলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এমন তথ্য জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য প্রথমে যান সিংগাপুরে। কিন্তু সেখানকার হাসপাতালগুলোতে তার রোগের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় গত ১১ই আগস্ট তিনি সস্ত্রীক সিংগাপুর থেকে সোজা যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। এরপর গত দুসপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিউ ইয়র্কের কর্নেল হাসপাতালে তার রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি বাইলেটারল ইনটার্নাল ক্যারোটিড আর্টারি স্টেনোসিস নামের গুরুতর রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার হৃৎপিণ্ড থেকে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের দুটি ধমনিই প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রধানত অত্যধিক মানসিক চাপজনিত সমস্যা থেকে এমন রোগের উদ্ভব হয়। এ রোগের জন্য এখানকার চিকিৎসকগণ প্রথমে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় কর্নেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
নিউ ইয়র্কে মির্জা আলমগীরের অবস্থান ও চিকিৎসার সবকিছু তদারাকি করছেন গত এক বছর ধরে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য এখানে অবস্থান নেয়া বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। তিনি নিয়মিতভাবে মির্জা আলমগীরের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া-আসা করছেন, তার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তবে মির্জা আলমগীর এখানে সব রকমের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ তার সঙ্গে মাঝে-মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ করলেও তা স্রেফ শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। প্রথম দফা চিকিৎসা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঠিক কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য জানাতে পারেনি।

অপেক্ষা করছে আরও বিস্ফোরণ by গ্যারি লিউপ

৯/১১-এর হামলার পর, তালেবান বাদে বিশ্বের সব সরকারই আল কায়েদার নিন্দা জানিয়েছিল। কিন্তু আপনি কি লক্ষ্য করেছেন? জর্জ ডব্লিউ বুশ যখন ইরাকে বিনাশ চালালেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সার্বিক তাদের অবস্থানের সার্বিক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করলেন তখন আল কায়েদার এমনটাই বিস্তার ঘটতে লাগলো যে, তাদেরকে তখন আর সন্ত্রাসী স্কোয়াড বলার চেয়ে প্রকৃতপক্ষে গেরিলা যোদ্ধা বলাই ভালো। ন্যাটোর মিত্র তুরস্ক ও তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব সহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে তারা হয়তো সমর্থন পেয়েছে না হয় কৌশলগত উৎসাহ পেয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারকে উৎখাতে বদ্ধপরিকর হয়ে একজোট হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি ভীষণ জটিল। সিরিয়ান আমি ফোর্সেস, কুর্দি যোদ্ধা, আল কায়েদা সমর্থিত আল নুসরা ও আইএসআইএল (আইসিল)-এর মধ্যে বর্তমানে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সিরিয়া। ওয়াশিংটন ও আঙ্কারা উভয়েই বিভিন্ন কারণে আইসিলকে অপছন্দ করে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিলের মোকাবিলা করতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জোট করেছে। আইসিলকে তাদের মর্যাদার জন্য বড় ধরনের এক আঘাত হিসেবে দেখে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রমাণ হয় যে, তাদের ইরাক যুদ্ধের লক্ষ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইরাককে মুক্ত করা থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে এর পশ্চিমা প্রতিবেশীদেরকে ফেলে দিয়েছে ভয়াবহ দুর্ভোগে। এটা ভীষণ এক বিব্রতকর অবস্থা। ইউটিউবে আইসিলের যেসব ডকুমেন্টারি দেয়া আছে সে বিষয়ে তুরস্ক কমই উদ্বিগ্ন বা সচেতন এবং সম্ভবত তারা আইসিলের প্রতি পক্ষপাতী সিরিয়ান কুর্দিস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য অথবা আসাদের শাসন টিকে থাকুক এমনটা চায় তারা। কিন্তু তাদের যে সুপারপাওয়ার মিত্র রয়েছে তাদের প্রতি সহযোগিতা করতে তারা বাধ্য। এমনটা অনুভবও করে। আইসিল ও আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর মিত্র হিসেবে সিরিয়ায় কুর্দি যোদ্ধাদের মূল্যায়ন করে থাকে ওয়াশিংটন। এই আসাদ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘বৈধতা হারানো’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তুরস্কে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে। তুরস্কের আশঙ্কা সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দি বাহিনীর মিত্র তার দেশের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী পিকেকে। আল নুসরার সঙ্গে সঙ্গে তার ঘোর শত্রু আইসিলকে বিনাশ করে দিতে চায় ওয়াশিংটন। তুরস্ক হয়তো খুব সঙ্গোপনে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে একটি মিত্র হিসেবে এবং     তার দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বিরোধীদের বিরুদ্ধে আইসিসকে সমর্থন করে থাকতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ কুর্দিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আল নুসরা যোদ্ধারা। অন্যভাবে বলা যায়, ন্যাটোর দু’মিত্রের মধ্যে কার্যকর বিভাজন সৃষ্টি করতে পেরেছে আল কায়েদা। ২০০৩ সালে তুরস্ক সরকার পরিষ্কার করে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তারা ইরাক আগ্রাসনের বিরোধী। ওই ইরাকও সিরিয়ার মতো তুরস্কের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করেছে। সেখানে বসবাস রয়েছে কুর্দিদের। যথার্থই আঙ্কারার আতঙ্ক হলো যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন চালালে ওই অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। তাতে ইরাকে, সিরিয়ায় ও তুরস্কের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা উৎসাহিত হয়ে উঠবে। তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে আগ্রাসন চালানোর অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। এটা ওয়াশিংটনের জন্য আতঙ্কের বিষয়। এর ফলে যুদ্ধ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে বাধ্য হয়েছে পেন্টাগন। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে এতে হয়তো তুরস্কের ভেতরকার কেউ কেউ মনে মনে সন্তুষ্ট হয়েছেন। সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আইসিল বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথভাবে বোমা হামলা চালাতে ও কুর্দিদের টার্গেট করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি সেফ জোন বা সুরক্ষিত এলাকা তৈরির কথা বলেছে তখন তাতে তুরস্ক সম্মতি দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনা কর্মকর্তা ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন সম্প্রতি। এটা সম্মতি বা চুক্তির কোন অংশ ছিল না। তারা এ জন্য প্রতিবাদ করেছেন। সম্প্রতি জর্ডানে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার ৫৩ বিদ্রোহীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদেরকে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির আদলে অগ্রসর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা ছিল। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ কথা হলো, সে বিষয়টি আল নুসরার কাছে বলে দিয়েছে তুরস্ক।
প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও আইসিলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ার যোদ্ধাদের যোগাড় করতে বড় রকমের অসমর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানুয়ারিতে প্রকাশ্যে পেন্টাগন অনুমিত হিসাব দিয়ে বলেছে, এক বছরের মধ্যে তারা ফ্রি সিরিয়ান আর্মির জন্য পাঁচ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে পারতো। তবে সে জন্য সদস্য যোগাড় করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত তারা ওই ৫৩ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছে। কেউ কেউ বলতে পারেন যে, সিরিয়ার এসব যুবক তাদের দেশের শাসকগোষ্ঠী ও ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতি অনীহা দেখাতে পারেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এ অঞ্চলের জন্য কি করেছে  তা তারা ভাল করে জানে ও সে জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে পারে।
ক্ষুদ্র বাহিনীটিকে এখন আটক করা হয়েছে। তারা এখন আল নুসরার কাছে বন্দি। সাধারণভাবে এই আল নুসরা হয়তো তাদের শিরñেদ করতে পারে। কিন্তু তুরস্কের অনুরোধে তা করা থেকে তারা দৃশ্যত বিরত রয়েছে। কি সুন্দর কথা!
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন। ২০১২ সালে আরব বসন্তের পর যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দানা বেঁধে ওঠে তখন যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের মিত্র আলী সালেহকে নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিলে সেই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন আবদ রাব্বু। ইয়েমেনে সেই নির্বাসনে থাকা সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। সৌদি-ইয়েমেন সীমান্ত অঞ্চলে তাতে সন্তুষ্ট হয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। তারা শিয়া মতাবলম্বী মুসলিম। তারা নতুন ও দুর্বল প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এমনটা ঘটেছে, কারণÑ তিনি আল কায়েদার বিরুদ্ধে যথাযথ পন্থা অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
জানুয়ারিতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সামনে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল তা ছিল মামুলি। তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাও করেছিলো। ফলে আবদ রাব্বু হাদি পদত্যাগ করেন এবং তারপর দেশত্যাগ করেন। ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার করে নেয়, দূতাবাস খালি করে দেয় ফেব্রুয়ারিতে। ইত্যবসরে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টারা অবস্থান করতেন সেখানে আল কায়েদা গোপন সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। হাদির সময়কালে আল কায়েদার বিস্তার ঘটেছে। তাদের প্রতি ভীত ছিল হুতিরা। কারণ, তারা জানতো মুসলিম বিশ্বে আল কায়েদার হত্যাযজ্ঞের মিশন সম্পর্কে।
 অন্যদিকে সৌদি আরবের নেতৃস্থানীয় লোকেরা শিয়াদের অবজ্ঞা ও তাদের প্রতি আতঙ্ক পোষণ করতো। ইয়েমেনের মতো সৌদি আরবেও তারা উল্লেখ করার মতো সংখ্যালঘু। 
যৎসামান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তারা অভিযোগ করেন যে, শিয়া হুতিরা ইরানের প্রতিনিধিত্ব করে। কাজেই সৌদি আরব মার্কিন সহযোগিতায় হুতি বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বোমাবর্ষণ করছে। বিমান হামলার বিষয়বস্তু নির্ণয় করতে সৌদি এয়ার ফোর্সকে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে পেন্টাগন। অর্থাৎ শিয়া বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আর সৌদি আরবের অবস্থান একই। কিন্তু সৌদিরা ইয়েমেনে আল কায়েদা সংশ্লিষ্টদের অগ্রগতিকে উপেক্ষা করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অতীতে এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সব থেকে বড় হুমকি বলে আখ্যায়িত করতো।
আল কায়েদার বিরুদ্ধে জর্জ ডব্লিউ বুশের যুদ্ধ সংগঠনটির বিশাল ব্যাপ্তির একটি সময়কাল সৃষ্টি করেছে। আর এ বিস্তারে কিছু সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও। তোরাবোরায় বুশের বোমাবর্ষণের পর আল কায়েদাকে আফগানিস্তান থেকে হটিয়ে দিয়ে প্রধানত পাকিস্তানে সরিয়ে দেয়। যে সময়টায় আল কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছিল তখনকার আল কায়েদা বর্তমান আল কায়েদায় ছায়া সমতুল্য।
আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্থাপিত জোড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প (প্রাথমিকভাবে সিআইএ’র সহযোগিতায়) আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রে সন্ত্রাসীদের সেল ২০০১ সাল নাগাদ লিবিয়া থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত এক জালে রূপান্তরিত হয়েছে (এসব স্থানে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকা তালেবানের বিরুদ্ধে এখন অবস্থান তৈরি করছে আইসিল)।
আফগানিস্তানের পরপরই ইরাকে যুদ্ধ চালান বুশ। ওই যুদ্ধ আল কায়েদাকে প্রতিহিংসা সহ ইরাকে টেনে নিয়ে আসে। ২০০৭ সালে ইরাকে বুশ সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির পর আবু মুসাব আল-জারকাবি প্রতিষ্ঠিত আল কায়েদার গ্রুপটি (আল কায়েদা ইন মেসোপটেমিয়া) প্রাথমিকভাবে পরাজিত হয় এবং সিরিয়াতে পশ্চাদপসরণ করে। এ গ্রুপটিই রূপান্তরিত হয়ে আইসিল-এ রূপ নিয়েছে। সিরিয়ায় তাদের জনবল বৃদ্ধি পায়। এর পেছনে আংশিক কারণ হলো আসাদকে উৎখাতে মার্কিন প্রচেষ্টা। নিজেদেরকে ইসলামিক স্টেটে পুনর্গঠন করে দলটি এখন বৃটেনের সমান একটি ভূখ- নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা ট্যাক্স সংগ্রহ করে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করে এবং তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
গত ডিসেম্বরে ব্রাসেলসের ন্যাটো সদর দপ্তরে বেশ ঘটা করে ৫৯টি দেশের কূটনীতিকরা আইসিলকে ‘পরাজিত’ করার জন্য একটি জোট গঠন করে (উল্লেখযোগ্য হলো যে দুটি দেশ আইসিলের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সব থেকে বেশি কিছু করেছে। তাদেরকে এ জোটে রাখা হয় নি। তারা হলো সিরিয়া ও ইরান)। যাই হোক, সামরিকভাবে অংশগ্রহণ করেছে কিছুসংখ্যক দেশ। আর ইসলামিক স্টেটের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। ১৫ই মে আইসিল সিরিয়ান আর্মির কাছ থেকে প্রাচীন শহর পালমিরা দখল করে।
আইসিল বিরোধী ‘জোটে’র মধ্যকার দুর্বলতা আর বিভক্তি এতোটাই যে, ইসলামিক স্টেট যখন ২০০০ বছরের পুরনো বালশামিম মন্দির মাটিতে গুঁড়িয়ে দিলো, বিশ্ববাসীকে বাধ্য হয়ে তা দর্শকের মতো দেখতে হয়েছে। বুশের সমাপ্তিহীন যুদ্ধগুলোর এটা সব থেকে সাম্প্রতিক একটি ফলমাত্র।
যে শাসক গোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্র উৎখাত করতে চায় আর রাশিয়া রক্ষা করতে চায়Ñ তারা পালমিরার ধ্বংসাবশেষসহ যাবতীয় জাতীয় ঐতিহ্যকে সযতেœ লালন করে। তারা দামেস্কের ক্রিশ্চিয়ান এলাকাগুলোকে সম্মান করে। যেমন হাউজ অব সেইন্ট আনানিয়াস ও চ্যাপেল অব সেন্ট পল। ইসলামিক স্টেট ওই শহর দখল নিয়ে নিশ্চিতভাবে এগুলো ধ্বংস করে ফেলবে। তারপরও সিরিয়ায় শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের স্বপ্ন লালন করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আইসিল-এর বিরোধী জোটে আসাদ বাহিনী ও ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করতে রাশিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বেসামরিক মানুষের গণহত্যা করার অভিযোগে আসাদের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে আবার তাদের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যাও গণনা করতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই তাদের টার্গেটগুলোর ‘গণহত্যা’ সহিংসতা অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে। সেটা ১৯৯৯ সালে কসোভোর সার্বিয়ান আর্মি হোক, ২০১১ সালের লিবিয়ান শাসকগোষ্ঠী হোক বা সাম্প্রতিক সময়ের সিরীয় শাসকগোষ্ঠী হোক না কেন।
মূলত, গৃহযুদ্ধে নিহত হওয়া যে আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের হিসাব জাতিসংঘ দিয়েছে তার মধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার হলো সিরিয়ান আর্মি ও ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য। বিদেশী সেনাসহ সরকারবিরোধী বাহিনীগুলোর ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সিরিয়ান শাসকগোষ্ঠীর বিদেশী সমর্থকদের মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা আনুমানিক ৩ হাজার। এসব বিদেশী গোষ্ঠীর মধ্যে যেমন রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া। অর্থাৎ, বেসামরিক প্রাণহানি সামগ্রিক প্রাণহানির ১৫ শতাংশেরও কম। আর আমরা যেমনটা জানি, বেসামরিক মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করতে আইসিল ও আল-নুসরার কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে না। পালমিরা ধ্বংসাবশেষের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ৮২ বছরের পুরাতত্ত্ববিদকে শিরñেদ করে আইসিল। আর অন্যদের সতর্কবার্তা হিসেবে তার মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তার অপরাধমূলক যুদ্ধগুলোর আরেকটি অবদান এটা।
মানবতার অমূল্য সব সম্পদ ধুলোয় মিশিয়ে দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে আরও সব বিস্ফোরণ। আর মনে হচ্ছে এটা প্রতিহত করতে কিছুই করা যাবে না। আমাদের ওপর এ পরিস্থিতি নিয়ে এসেছে যারা, তাদের ধিক্কার।
লেখক পরিচিতি: গ্যারি লিউপ টাফটস ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাস বিষয়ের অধ্যাপক। একইসঙ্গে তিনি ধর্ম বিভাগে কর্মরত। তিনি একাধিক বইয়ের রচয়িতা। এগুলো হলো: সার্ভেন্টস, শপল্যান্ডস অ্যান্ড লেবারার্স ইন দ্য সিটিজ অব তোকুগাওয়া জাপান; মেল কালার্স: দ্য কন্সট্রাকশন অব হোমোসেক্সুয়ালিটি ইন তোকুগাওয়া জাপান এবং ইনটাররেসিয়াল ইনটিমেসি ইন জাপান: ওয়েস্টার্ন মেন অ্যান্ড জাপানিজ ওমেন, ১৫৪৩-১৯০০। এছাড়া তিনি হোপলেস: বারাক ওবামা অ্যান্ড দ্য পলিটিকস অব ইলিউশন বইয়ে অবদান রেখেছেন। লেখকের ই-মেইল: gleupp@tufts.edu
(নিউএজ পত্রিকায় ২৯শে আগস্ট প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

বিক্ষোভের নামে সহিংসতায় উস্কানি দেবেন না : নাজিব

বেরসিহ’র বিক্ষোভ আয়োজনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিরোধীদের বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করলেও সময় ও স্থান নিয়ে তিনি বিরক্ত। তাদের বিক্ষোভ স্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর স্বাধীনতা দিবস প্যারেডের মহড়া হওয়ার কথা রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শুক্রবার নাজিব বলেন, ‘আপনারা বিক্ষোভ করতে চান ভালো কথা। কিন্তু সহিংসতায় উস্কানি দেবেন না। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য আর ভুল বোঝাবুঝি যাই থাকুক, জাতীয় দিবসকে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াবেন না।’ ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়া মালয়েশিয়ার ৫৮তম স্বাধীনতা দিবস আগামীকাল সোমবার।

ব্যাংকক হামলায় এক বিদেশী গ্রেফতার

দু’সপ্তাহ আগে ব্যাংককে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক বিদেশীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকক পুলিশ। ব্যাংকক পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, শনিবার ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সম্ভাব্য বিভিন্ন সরঞ্জামের সন্ধান পায় পুলিশ। পুলিশের ওই মুখপাত্র প্রাউত থাভনসিরি বলেন,
‘আমরা যাকে খুঁজছিলাম সেই-ই এ বলে মনে হচ্ছে।’ ব্যাংককের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত আসামি তুরস্কের নাগরিক। তবে থাভনসিরি তাকে বিদেশী বলে স্বীকার করলেও তার তুর্কি পরিচয় নিশ্চিত করেনি। ১৭ আগস্ট বোমা বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে ওই ব্যক্তি তার পিঠের ব্যাগ বিস্ফোরণ স্থলের কাছে ফেলে যান বলে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।

জনগণের শক্তি দেখানোর সময় হয়েছে : মাহাথির

সরকারের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার জনগণের শক্তি দেখানোর সময় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেন, সবকিছু আইন অনুযায়ী চললে এর প্রয়োজন হতো না। শনিবার বেরসিহ’র উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
মালয়েশিয়ার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সমালোচক। ফিলিপিন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোসের দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, ফার্দিনান্দ জনগণকে চাপে রেখেছিলেন। জনগণ শক্তি দেখিয়ে তাকে বিদায় করেছে।

নাজিবের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিক্ষোভ

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। শনিবার দেশটির মানবাধিকার সংগঠন ‘বেরসিহ’র ডাক দেয়া এ বিক্ষোভে রাজধানী কুয়ালালামপুরে অংশ নেয় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। রোববারও বিক্ষোভ চলার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নাজিব ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট নামের একটি রাষ্ট্রীয় তহবিলের ৭০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করছে বিক্ষোভকারীরা। নাজিব রাজাকের পদত্যাগের পাশাপাশি দেশটির নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারেরও দাবি তাদের। খবর বিবিসি, এএফপি ও মালয়েশিয়ান ইনসাইডারের। কুয়ালালামপুরের স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ।
এর আগে, কর্মসূচি ঘোষণার পর পরই পুলিশ এ বিক্ষোভকে অবৈধ ঘোষণা করে। বিক্ষোভ ঠেকাতে নানা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কুয়ালালামপুরের বেশকিছু এলাকা বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়াও আয়োজক সংগঠন বেরসিহ’র একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। এ ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে বিক্ষোভ সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করছিল বেরসিহ’র কর্মীরা। দেশজুড়ে বেরসিহ’র হলুদ টি-শার্ট নিষিদ্ধ করা হয়। বিক্ষোভের আগেই ১৬৩ তরুণকে আটক করা হয়। তবে সবকিছু উপেক্ষা করেই বিক্ষোভ কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকরা। মালয় শব্দ বেরসিহ’র অর্থ ‘পরিষ্কার’। নাজিবের আর্থিক কেলেঙ্কারি, মুদ্রা রিংগিতের দরপতন ও জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাবসহ নানা কারণে এ বিক্ষোভের ডাক দেয় সরকারবিরোধীরা। সকাল থেকে হলুদ টি-শার্ট পরে দলে দলে আন্দোলনে যোগ দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় হর্ন বাজিয়ে, পতাকা উড়িয়ে, সোগো, পাসার সেনি ও পেতালিং স্ট্রিট প্রদক্ষিণ করে তারা।
দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর ২টায় সবচেয়ে বড় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। মূলত মালয়েশিয়ার পাঁচটি বিরোধী দলের ডাকে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এগুলো হল- ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টি (ডিএপি), পার্টি ইসলাম সে-মালয়েশিয়া (পাস), পার্টি কেয়াদিলান রাকয়েত (পিকেআর), পার্টি সোসাইলিস মালয়েশিয়া (পিএসএম) ও সারাওয়াক ন্যাশনাল পার্টি (এসএনএপি)। এর আগে ‘বেরসিহ’ স্লোগানে ২০০৭, ২০১১ ও ২০১২ সালে আন্দোলন করে বিরোধী দলগুলো। বেরসিহ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, মালয়েশিয়ার জনগণ যে এখন আর ভয় পায় না সরকার তা বুঝতে পারেনি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন নীতিমালার পরিবর্তন চাই যার মধ্য দিয়ে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা গঠিত হবে। ৫৮ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষিকা শায়লা দেভারাজ বলেন, আমরা নাজিবকে দেখাতে চাই, জনগণ আর তাকে চায় না। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। আয়োজকরা বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের আমরা দেখতে পাচ্ছি বছরের শুরু থেকে প্রায় প্রতি মাসেই বিক্ষোভ করা হচ্ছে। তবে এবার আমরা বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজন করেছি। সরকার যদি এবার সাড়া দিতে ব্যর্থ হয় তবে আমরা এ যুদ্ধ চালিয়ে যাব।’

দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম খুন চলছে : খালেদা জিয়া

দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম, খুন চলছে অভিযোগ করে এসব ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তে জাতিসংঘকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ রোববার বিকেলে বিশ্ব গুম দিবস উপলক্ষে গুলশান কাযার্লয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন এই আহবান জানান।
তিনি বলেন, দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস ও গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা জানি, সরকারের নির্দেশ-আদেশ ছাড়া এসব কাজ র‌্যাব-পুলিশ করতে পারে না। আজ আন্তর্জাতিক গুম দিবসে গুম হয়ে যাওয়া লোকদের পরিবারের সদস্যরা অনেকে সরকারের কাছে দাবি করেছেন, তদন্ত করে তাদের খুঁজে বের করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু আমি জানি সরকার কোনোদিনও তদন্ত করবে না। এদের কাছ থেকে কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হবে না। তাই আমি দাবি করছি, জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্ত করতে হবে। দেশে যারা নিরপেক্ষ আছেন তাদের নিয়ে ওই তদন্ত করতে হবে।
২০০৯-২০১৫ সাল পযর্ন্ত বিভিন্ন সময়ে গুম হয়ে যাওয়া নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা জানাতে বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর ‘অনন্ত অপেক্ষা’ নামে ১৩ মিনিটের নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পরেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন অনুষ্ঠানে আসা গুম হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন ও তাদের খোঁজ-খবর নেন। অনুষ্ঠানে নিখোঁজ ও গুম হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে মর্মস্পশী বক্তব্য রাখেন।
তাদের বক্তব্যের জবাবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার অধিকার নেই। কারো কথা বলার অধিকারও নেই। কেউ কোনো অনুষ্ঠানও করতে পারবে না। যারা জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে আছে, যারা মিথ্যা কথা বলতে পারে, তাদেরই অধিকার কেবল আছে।
২০০৯-২০১৫ সাল পযর্ন্ত গুম হওয়া স্বজনদের আবেগ অনুভুতির সাথে একাত্ম হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকার কখনো গুমের ঘটনার সুষ্ঠু কোনো তদন্ত করবে না। আমি শুধু স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে পারি, আশ্বাস দিতে পারি এর বেশি কিছু আমাদেরও করার নেই। আমরা জানি না আমরা কিরকম থাকবো, কখনো গুম-খুন হয়ে যাবো না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। শুধু আল্লাহতায়লা জানেন। শুধু মানুষের আস্থার ওপর আমরা ভরসা করে চলি। আমাদের বিশ্বাস এদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।

রোনাল্ডোর মৃত্যুভয়

তিনি মাঠে নামলে প্রতিপক্ষের গোলকিপার ও ডিফেন্ডারদের বুকে কাঁপুনি ধরে যায়। প্রতিপক্ষের জন্য যিনি মূর্তিমান আতাংক, সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিজেও সব সময় আতংকের মধ্যে থাকেন! মৃত্যুভয় তাড়া করে তাকে। তরুণ বয়সে মারা যাওয়াটা জীবনের সবচেয়ে ভীতিকর দিক বলে মনে করেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ সুপারস্টার। অল্প বয়সে মরতে চান না রোনাল্ডো, ‘অল্প বয়সে মারা যাওয়াটা আমার কাছে খুব ভয়ের। এটা আমার সবচেয়ে বড় ভয়। তরুণ বয়সে আমি মরতে চাই না। বুড়ো হতে চাই। যখন মারা যাব তখন বয়স যেন ৮০ বা ৯০ বছর হয়।’
স্প্যানিশ ম্যাগাজিন লিবেরোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো আরও জানিয়েছেন, যতদিন সম্ভব ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান তিনি। তবে রোনাল্ডোর কাছে তার পাঁচ বছরের ছেলে, পরিবার ও বন্ধুদের চেয়ে কোনো কিছুই বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিত্যনতুন রেকর্ড ভাঙার চেয়েও ছেলের সান্নিধ্য বেশি উপভোগ করেন সিআর সেভেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রোনাল্ডোর উপলব্ধি, ‘আমি খুব সাধারণ। পরিবার, বন্ধু ও ছেলেকে নিয়েই সময় কাটাতে চাই। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই। অবসরে ছেলের সঙ্গে খেলাটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। আমাকে ঘিরে থাকা মানুষগুলো সব সময়ই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তারা আমাকে ইতিবাচক হতে ও আগের চেয়ে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। তারাই আমার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্যক্তিগত জীবনের মতো ফুটবলেও উপভোগের মন্ত্রে নিজেকে চাঙ্গা রাখেন রোনাল্ডো, ‘মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করার চেষ্টা করি। আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি এবং চাই সমর্থকরাও যেন আমার মতো খেলাটা উপভোগ করে।’ সব সময় সেরা হওয়াই রোনান্ডোর লক্ষ্য। সেজন্য কঠোর অনুশীলনের কোনো বিকল্প দেখেন না তিনবার ফিফা ব্যালন ডি’অরজয়ী পর্তুগিজ রাজপুত্র, ‘সব সময় সেরা হওয়াটাই আমার লক্ষ্য থাকে। বছরের পর বছর একই লক্ষ্যে অবিচল থেকে নিজের সেরা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাই। কঠোর অনুশীলনে নিজের সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করি। গত ৮-৯ কিংবা ১০ বছরে এটা দারুণ কাজ করেছে। সুতরাং আগামীতেও আমি একই কাজে করে যাব।’ ওয়েবসাইট।

ভালো বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব পাচ্ছি না

*এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
**ফার্স্ট ফরোয়ার্ড নামের একটি নাটকের কাজ শেষ করেছি। এছাড়া কিছু খণ্ড নাটকে অভিনয় করছি। আরও কিছু খণ্ড নাটকে অভিনয় করার কথা চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে শিগগিরই শুটিং শুরু করব।
*ফার্স্ট ফরোয়ার্ড নাটকে আপনার চরিত্র কেমন?
**নাটকটিতে আমাকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর চরিত্রে দেখা যাবে। যে কিনা সারাদিন লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমার কোনো বন্ধু থাকে না। তবে কোনো এক সময় ঘটনাক্রমে তৌসিফ নামের এজনের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়।
*ঈদের কাজের ব্যস্ততা কেমন?
**ঈদের কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে সেভাবে কোনো কাজ শুরু করিনি। কথাবার্তা চলছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করতে পারব।
*নতুন কানো বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন কী?
**বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে একটু বেছে কাজ করি। ভালো গল্প, পণ্য, বাজেটের অফার সেভাবে পাচ্ছি না। তাই বিজ্ঞাপন করাও হচ্ছে না। তবে ব্যাটে-বলের সংযোগ হলে অবশ্যই বিজ্ঞাপনে কাজ করব।
*চলচ্চিত্রের খবর কী?
**চলচ্চিত্র অনেক বড় মাধ্যম। প্রত্যেক শিল্পীরই স্বপ্ন থাকে এ মাধ্যমে কাজ করার। আমারও আছে। তবে এখনই নই। আগে নিজেকে তৈরি করে নিই। তারপর চলচ্চিত্রের কথা ভাবব।
*ব্যক্তিগত জীবন কেমন যাচ্ছে?
**মানুষের জীবন মাত্রই জোয়ার-ভাটার সন্নিবেশ। সে ক্ষেত্রে আমিও ব্যতিক্রম নই। তবে হ্যাঁ, সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে।
সাদিয়া ন্যান্সি

গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেছেন, “যে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই স্লোগানের এতবড় অপমান আমি আমার জীবনে দেখিনি।”রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ভিসিবিরোধী শিক্ষকদের জোট ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’-এর অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় তাদের ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। তারা আন্দোলনরত শিক্ষকদের ব্যানার  কেড়ে নেয় এবং তাদের গলা ধাক্কা দিয়ে এবং মারধর করে সরিয়ে দেয়। এই ফাঁকে ভিসি আমিনুল হক ভূঁইয়া প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে দোতলায় নিজের কার্যালয়ে চলে যান। ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাক্কায় অধ্যাপক ইয়াসমিন হক মাটিতে পড়ে যান। এক ছাত্রলীগ কর্মীকে এ সময় এক শিক্ষকের গায়ে লাথি মারতেও দেখা যায়। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে হাত দশেক দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচক্করে একাকী বসে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক জাফর ইকবাল, যিনি ইয়াসমিন হকের স্বামী। ক্ষুব্ধ জাফর ইকবাল বলেন, “এখানে যে ছাত্ররা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা আমার ছাত্র হয়ে থাকলে আমার গলায় দড়ি দিয়ে মরে যাওয়া উচিত।” জনপ্রিয় এই লেখক জানান, ‘তিনি সরাসরি শিক্ষকদের আন্দোলনে অংশ না নিলেও আন্দোলনকারীদের প্রতি তার মায়া, ভালবাসা আছে। তারা যে কারণে আন্দোলন করছে, আমি তা ১০০ ভাগ সমর্থন করি। এ ভিসির যোগদানের দু’মাস পর আমি তার সঙ্গে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ আমি দেখেছি, উনি মিথ্যা কথা বলেন। যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলেন, তার সঙ্গে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না।’ হামলার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজ আমার জীবনে একটা নতুন অভিজ্ঞতা হলো। আজ যা দেখলাম, আমার জীবনে এ ধরনের ঘটনা দেখবো তা আমি কখনও কল্পনা করিনি।” জাফর ইকবাল বলেন, গলায় দড়ি দিয়ে না মরলেও ‘তীব্র মানসিক যন্ত্রণায়’ তাকে ভুগতে হচ্ছে। “কিভাবে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমার শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করতে পারলো, আর আমাকে সেটা এখানে বসে বসে দেখতে হলো!” এই শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, ভিসিই ছাত্রলীগকে শিক্ষকদের ওপর ‘লেলিয়ে’ দিয়েছেন। “তিনি যদি মনে করেন, এভাবে আন্দোলন থামানো সম্ভব, তবে সেটা ভুল করছেন। শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন কোন পদের জন্য নয়, শাবিকে বাঁচানোর জন্য।” কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে গত ১২ই এপ্রিল থেকে আন্দোলনে রয়েছে সরকারসমর্থক শিক্ষকদের একাংশের  জোট ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। তাদের এ আন্দোলনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ‘অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র’ আখ্যায়িত করে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তার চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে ভিসির পক্ষে রয়েছেন সরকার-সমর্থক শিক্ষকদের আরেকটি অংশ। অচলাবস্থা কাটাতে দুই পক্ষের সঙ্গেই বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। নিয়োগ, নতুন ব্যবস্থা চালু বা কাউকে নতুন কোন পদে দায়িত্ব দিতে নিষেধ করে ভিসির ক্ষমতা কার্যত খর্বও করা হয়েছে। তারপরও ভিসির পদ না ছাড়ায় শিক্ষকরাও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতায় ঢাকা ছাড়লেন আইসিডিডিআর’বি কর্মকর্তা

নিরাপত্তাহীনতায় ঢাকা ছেড়েছেন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআর’বির এক কর্মকর্তা। তার নাম আনজুম ইসরার। গতকাল পুলিশ পাহারায় তাকে বনানী এলাকা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া হয়। পুলিশ ও আইসিডিডিআর’বি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সপ্তাহ খানেক আগে পাকিস্তানি নাগরিক আনজুম ইসরার রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআর’বিতে অর্থ নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই তার ঠিকানায় একটি চিঠি আসে। ওই চিঠিতে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও দেশ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়। তা না হলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয় চিঠিতে। এ হুমকি পেয়ে তিনি দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি তিনি কয়েকজন সহকর্মীর মাধ্যমে বনানী ও গুলশান থানাকে জানান। তবে এ বিষয়ে থানায় কোন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেননি তিনি। আনজুম ইশরারের অনুরোধে বনানী ও গুলশান থানা পুলিশ গতকাল দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। আইসিডিডিআরবি’র দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আইসিডিডিআর’বির মিডিয়া ম্যানেজার একেএম তারিফুল ইসলাম খানের পাঠানো ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইসিডিডিআরবি তাদের কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। চলতি সপ্তাহে তাদের একজন কর্মী হুমকি পেয়েছেন। এরপর তারা ওই কর্মীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। আইসিডিডিআরবি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আনজুম ইসরারের দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি বলা না হলেও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গতকাল দুপুরেই তিনি ঢাকা ছেড়ে যান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, আইসিডিডিআরবি’র ওই কর্মকর্তা পুলিশের কাছে বিমানবন্দরে পৌঁছার জন্য নিরাপত্তা সহায়তা চাইলে তাকে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া হয়। আনজুম আসরার এর আগে আন্তর্জাতিক বহু প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে অর্থ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতি একটি অর্থপূর্ণ পরিবর্তন চায় : ড. কামাল

গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতি ইতিহাসের এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছে। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নীতি-আদর্শ বহির্ভূত রুগ্ম রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হচ্ছে এখন। দুর্নীতি রাষ্ট্র ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আর এসব কারণে সমগ্র জাতি আজ একটি অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের পরিস্থিতিকে এভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের কাংঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে জাতীয় ঐক্যের সনদ উপস্থাপন করতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন এ কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন জানান, তার এই সনদ নিয়ে তিনি জনগণের কাছে যাবেন। সমর্থন আদায়ে প্রয়োজনে সবধরণের ঝুঁকি নেবেন। তিনি বলেন, সবাইকে এই সনদের পক্ষে এসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতার সনদ উপস্থাপনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. কামাল আরো বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের পর জাতি আশা করেছিল যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধের প্রতি সবাই সন্মান দেখাবে। এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ক্রমাগত শক্তিশালী হবে। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো।
ড. কামাল বলেন, সমগ্র জাতি যে পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ তা আনতে হবে। যা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য ও জনগণের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে যে, সব জনগণই ক্ষমতার মালিক এবং জনগণ সেই ক্ষমতার প্রয়োগ করবে নিজেদের নির্বাচিত প্রতনিধিদের মাধ্যমে। তবে হতাশার কিছু নেই। কারণ অতীতে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়েছে। অতীতে স্বৈরাচারী কণ্ঠে কথা বলা হয়েছিল। তবে তা মোকাবেলা করে সমানের দিকে এগিয়েছি।
সংলাপ দরকার
ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে নারী শিশু ও নিরাপরাধ ব্যক্তিরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীরা দায়মুক্ত থেকেই যাচ্ছে। দেশের জনগণ চারদশক ধরে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিরামহীনভাবে সংগ্রাম করছে। কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক চর্চা ও মূল্যবোধের প্রতি সন্মান প্রদর্শণ করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমুহের যথাযথ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, জনগণকে আত্মত্যাগী নেতৃবৃন্দের নীতি আর্দশ ও মূল্যবোধকে আজ আকড়িয়ে ধরতে হবে। এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংহিংসতা পরিহার করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে গুরুত্ব সহকারে অবশ্যই আলোচনা ও সংলাপ করতে হবে।
এদিকে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যের জন্য সনদ ঘোষণায় বলেছেন, কেবলমাত্র কালো টাকা, সন্ত্রাস এবং সশস্ত্র ক্যাডারমুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ সৎ, যোগ্য ও কার্যকর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে। সনদে এছাড়া বলেছেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ। কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে যথাযথভাবে পরিচালনা করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সচেতনভাবে লালন করতে হবে। এর পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলকে অবশ্যই দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ও জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই জাতীয় লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মের অপব্যবহারের মাধ্যমে চরমপন্থা, অসহিষ্ণুতা সন্ত্রাসবাদ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের কোনো স্থান থেকে আমাদের সমাজে থাকবে না বলে তিনি তার সনদের জানিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী আইনের প্রতি অনুগত থেকে জনপ্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে তার ওই সনদে বলা হয়। এছাড়াও বলা হয় যথেচ্ছা গ্রেফতার, বিনা বিচারে আটক, আটক অবস্থায় নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ দেশের সংবিধান অনুমোদন করে না। সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত এবং আর্ন্তজাতিক সনদ অনুযায়ী সুরক্ষিত মানবাধিকারের প্রতি অবশ্যই সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলতাব হোসেন, সুপ্রীমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি জগলুল হায়দার, ফরোয়ার্ড পার্টির সভাপতি আ ব ম মোস্তফা আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গণফোরামের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ম শফিউল্লাহ সনদ পাঠ করেন।

কয়লাখনি মামলার বৈধতা: খালেদা জিয়ার আবেদনের রায় যেকোনো দিন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদনের বিষয়ে যেকোনো দিন রায় দেয়া হবে। এ বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার এই আদেশ দেন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রুল শুনানিকালে মামলাটিতে প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তার দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও নিম্ন আদালতে থাকা এর সব নথি তলবের নির্দেশনা চেয়ে খালেদা জিয়ার করা দুটি আবেদন গত ২৩ অগাস্ট খারিজ করে দেন আদালত। ওইদিন আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ হিসাবে ৩০ অগাস্ট দিন ধার্য করে দেন। এর আগে দশ কার্যদিবস রুলের ওপর শুনানি হয়।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার রগীব রউফ চৌধুরী। সাথে ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, রুলের ওপর শুনানি শেষে হয়েছে। আদালত রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছেন। রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, এখন যে কোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।
এক-এগারোর জরুরি অবস্থার সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলা দায়ের করে। ওই বছর ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
পরে মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর খালেদা জিয়া রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং রুল জারি করেন। মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। হাইকোর্টের ওই আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় আটকে যায় বিচার। পরে মামলার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই মামলায় স্থায়ী জামিনে রয়েছেন খালেদা জিয়া।
সম্প্রতি মামলাটিতে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে দুদক। ওই আবেদনের উপর গত ১৯ এপ্রিল হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। গতকাল তা শেষ হয়।
কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনকে (সিএমসি) বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক শামসুল আলম। মামলার অভিযোগে বলা হয়, কয়লা উত্তোলনে তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা সিএমসির সাথে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করায় সরকারের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা গ্যাটকো ও নাইকো মামলা বাতিল চেয়েও হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদনগুলো খারিজ করে দেন। সেই সাথে মামলাগুলোর কার্যক্রমের ওপর থেকে স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে নেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয় এই দুই মামলায়।