Thursday, November 17, 2011

বাংলাদেশে ‘নির্বাচিত একনায়কত্ব’ by মইনুল ইসলাম

২০১১ সালের ৪ নভেম্বর এই নিবন্ধটি লিখতে শুরু করেছি ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর তারিখকে স্মরণ করে, যেদিন বাংলাদেশের সংবিধানটি সংসদে গৃহীত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের ১০ মাস ১৯ দিনের মধ্যেই জাতিকে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দিতে পারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু আজকের নিবন্ধের শিরোনামেই আমি একটি কঠিন সত্য জাতির সামনে উপস্থাপন করতে চাইছি। তা হলো: ১৯৯১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই দশকের নির্বাচিত সংসদীয় গণতন্ত্রচর্চার বিশ্লেষণ থেকে আমার স্থির প্রতীতি জন্মেছে যে এই দুই দশকের শাসনপর্বে বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের দুই শীর্ষ নেতার ‘নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র’ বা ‘নির্বাচিত একনায়কত্বের’ কবলে বন্দী হয়ে গেছে জনগণ এবং এই জন্য প্রধানত দায়ী এ দেশের সংবিধান।
১৯৭২ সালের সংবিধান বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অলঙ্ঘনীয় রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করায় একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার আদর্শ সংবিধান হিসেবে এটা বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছিল। কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন যাতে রাজনৈতিক বেচাকেনার পণ্যে পর্যবসিত না হয়, সে জন্য এ সংবিধানের ৭০ ধারায় সাংসদদের দলীয় আনুগত্য পরিবর্তনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার সাংবিধানিক ব্যবস্থা সন্নিবেশিত হয়েছে। বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির দুঃখজনক ইতিহাস যাঁদের জানা আছে, তাঁদের কাছে ৭০ ধারার যৌক্তিকতা ও আবশ্যকতা প্রশ্নাতীত বিবেচিত হলে তাঁদের দোষ দেওয়া যাবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ৭০ ধারার গুরুতর নেতিবাচক অভিঘাতটি ধরা না পড়লেও ১৯৯১-২০১১ পর্বের নির্বাচিত সরকারের শাসনকালে এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ৭০ ধারা বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের দুই নেতার হাতে নিজ নিজ দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা দিয়েছে। দুই নেতাই যেহেতু তাঁদের একাধিপত্যের এই হাতিয়ারটি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল, তাই ৭০ ধারার কোনো ধরনের সংশোধন তাঁদের কেউই চাইছেন না—এই একটি ব্যাপারে তাঁদের মতৈক্য প্রশ্নাতীত বলা চলে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য গঠিত সংসদীয় কমিটি দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ৭০ ধারার বজ্র আঁটুনি কিঞ্চিৎ শিথিল করার কতিপয় প্রস্তাব খসড়া আকারে শেখ হাসিনার বিবেচনার জন্য পেশ করার পর ওই প্রস্তাবগুলোর প্রায় সব কটিই তাঁর অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। আরও দুঃখজনক হলো, সংসদীয় কমিটি বেশ কয়েক মাস পরিশ্রম করে, নানা বিজ্ঞজনের ও নানা মহলের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের যে খসড়া প্রস্তাবমালা প্রস্তুত করেছিল, সেগুলোর বেশির ভাগ প্রস্তাবই শেখ হাসিনার একক পছন্দ-অপছন্দের কারণে কমিটির অধিকাংশ সদস্যের আপত্তি সত্ত্বেও পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তার মানে দাঁড়িয়েছে, পঞ্চদশ সংশোধনীর যে ভাষ্যটা সংসদে পাস হয়েছে, তাতে অনেক বিষয়েই কমিটির বেশির ভাগ সদস্যেরই সায় নেই। অথচ, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে প্রকাশ্যে এহেন অসম্মতি বা অসন্তোষ প্রকাশের কোনো সুযোগ ক্ষমতাসীন মহাজোটের কোনো সাংসদেরই নেই ।
একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সাংসদ থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের স্থায়ী কমিটি বা প্রেসিডিয়াম সদস্য—সবারই এই দুই দলের দুই নেত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং পছন্দ-অপছন্দের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি এ দেশে চালু হয়েছে, তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো এই দুই নেত্রীর একাধিপত্যকে প্রশ্নাতীত স্বৈরতান্ত্রিক স্তরে উন্নীত করা। এই দুই দলে গণতন্ত্রের চর্চা নেই বলে আমরা যতই হা-হুতাশ করি না কেন, তাঁদের দুজনের সমালোচনা করে কিংবা ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে পরিণতি কী হবে, এটা যেহেতু সবারই জানা হয়ে গেছে, তাই ওই ধরনের ভূমিকা কে পালন করবে? কেন পালন করবে?
গণতান্ত্রিক সংবিধানে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বিভাজন সুনির্দিষ্ট করার কথা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মূল কেন্দ্রে রেখে ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনা করার কারণেই হয়তো বা আমাদের মূল সংবিধানের প্রণেতারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিভাজনে প্রধানমন্ত্রীকে সাংবিধানিকভাবেই অনেক অতিরিক্ত নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করে ফেলেছিলেন। তারপর এই সংবিধানের ওপর সওয়ার হয়েছে চতুর্থ সংশোধনীর রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার বোঝা। তারপর তো শুরু হলো সামরিক প্রভুদের অসাংবিধানিক ক্ষমতা জবরদখলের রক্তাক্ত অধ্যায়। কিন্তু ১৯৯১ সালে যখন আবারও বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে এল, তখন সামরিক স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতির আদলেই খালেদা জিয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে পুনর্বিন্যস্ত করে ফেলেছেন বিএনপির ধুরন্ধর ব্যারিস্টাররা। ১৯৭৫-৯১ পর্বের একচ্ছত্র ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতিরা তাঁদের সচিবালয়ের মাধ্যমে যেভাবে সব নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় একচ্ছত্র প্রয়োগের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, ১৯৯১ সালে বেগম জিয়া তদানীন্তন অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদাবনতি মেনে নিলেও প্রধানমন্ত্রীর পদের ক্ষমতাকেই একনায়কত্বের পর্যায়ে রেখে দেওয়ার ব্যবস্থাটা সুপরিকল্পিতভাবে বহাল রাখলেন। এরপর তিন দফা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া (একবার অবশ্য মাস দেড়েকের জন্য), কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর বিরাগ তিনি তাঁর আচরণে প্রমাণ করেছেন প্রতিবারই। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নির্বাহী শাখার প্রধান হয়েও কালেভদ্রে মাত্র কয়েকবার তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন, তা-ও বেশির ভাগ শেখানো-পড়ানো বক্তৃতা দেওয়ার প্রয়োজনে। এ ব্যাপারটাতে খালেদা জিয়া বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।
১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনা সংসদের অধিবেশনে প্রায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু বিরোধী দলের বর্জনের কারণে একতরফা বাহাস যেহেতু ক্লান্তিকর হতে বাধ্য, তাই তাঁর উপস্থিতিতে বেশির ভাগ দলীয় সদস্য তাঁকে খুশি করার জন্য একদিকে তাঁকে এবং তাঁর সরকারকে প্রশংসার বন্যায় ভাসানো আর বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে অরুচিকর ও অশ্লীল গালাগাল দেওয়াটাকেই সংসদীয় সংস্কৃতি বানিয়ে ফেললেন। সংসদকে এভাবে খালি মাঠে একতরফা প্রশংসা ও খিস্তিখেউড়ের প্রদর্শনীস্থল বানিয়ে গত দুই দশকে আমরা এ দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শুধু পাঁচ বছর পরপর ভোটের মাধ্যমে বেগম জিয়া কিংবা শেখ হাসিনাকে পালাক্রমে এ দেশের ‘নির্বাচিত একনায়ক’ বানিয়েছি।
নির্বাচিত একনায়কতন্ত্রের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার জন্য দুই নেত্রীর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য চাল ও পাল্টা চালের রাজনীতি ১৯৯৬-২০০৮ পর্যায়ের তিনটি নির্বাচনের মাঝামাঝি দুই মেয়াদে কতখানি প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন করেছে, তা ওয়াকিবহাল মহলের মোটেও অজানা নয়। এই প্রক্রিয়ায় পুরো সিভিল প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণের পালাক্রমিক আয়োজন সুসম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষত সেনাবাহিনীকে বারবার ছাঁটাই-পাল্টা ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে তথাকথিত শুদ্ধিকরণের শিকার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীতে রূপান্তরিত করে ফেলা হয়েছে। এমনকি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে নবগঠিত এলিট ফোর্স র‌্যাবের প্রধান প্রাণঘাতী তৎপরতা হিসেবে নীরব অনুমোদন দিয়ে চলেছে এ দুটো ক্ষমতাসীন মহল। সর্বোপরি, দেশের বিচারব্যবস্থাকে সরকারি দলের স্বার্থের বিশ্বস্ত খাদেম বানানোর প্রয়াসকে খোলামেলা চাতুর্যের খেলায় পরিণত করে ফেলা হয়েছে। ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের মাধ্যমে বেগম জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত জোটের রথী-মহারথীদের চালবাজির যে প্রদর্শনী দেখার দুর্ভাগ্য এ দেশের জনগণের হয়েছিল, তার পেছনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মরিয়া ভূমিকা পালন করেছিল—এটা এখন তো এ দেশের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে মানব জাতির ঐতিহ্যের অংশ হয়ে পড়েছে।
১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল সামান্যই, কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জিতিয়ে দিয়েছে এ দেশের জনগণ। এই ভূমিধস বিজয় যতখানি না মহাজোটের প্রতি ইতিবাচক জনসমর্থনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ, তার চেয়েও বেশি ছিল বিএনপি-জামায়াত জোটকে জনগণের ঘৃণাভরা প্রত্যাখ্যানের প্রকাশ। ২০০১ সালের নির্বাচনের অব্যবহিত আগের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে প্রায় একই ধরনের বিপর্যয়কর শিক্ষা দিয়েছিল জনগণ। কিন্তু ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসন, দলীয়করণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী পাকিস্তানীকরণ ছিল একেবারেই বেলাগাম ও অসহনীয়। সঙ্গে যোগ হয়েছিল জামায়াত-শিবির ও তাদের বিভিন্ন নামধারী পকেট সংগঠনের ঘাতক ফ্যাসিবাদী ক্যাডারদের তালেবানি তাণ্ডব, বোমাবাজি ও মধ্যযুগীয় খুন-জখমের অপরাজনীতি। সর্বোপরি যোগ হয়েছিল তারেক রহমানকে খালেদা জিয়ার ‘রাজতান্ত্রিক উত্তরাধিকারী’ বানিয়ে দেশের ক্ষমতার মসনদে বসানোর অপতৎপরতা। খালেদা জিয়া এই সমস্যাসংকুল দেশের আয়েশি প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন করতেই অভ্যস্ত, ক্যান্টনমেন্টের সুপরিসর বাসভবনে তাঁর বিলাসী জীবনযাত্রার কাহিনি বাংলাদেশের জন্য বড়ই বেমানান। কিন্তু তাঁর হাতেই বারবার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা অর্পণ করছেন এ দেশের ভোটাররা। সে জন্যই প্রতিবার তাঁকে ঘিরে ক্ষমতার ঘেরাটোপ গড়ে তুলেছেন তাঁর কৃপাধন্য কিছু উপদেষ্টা, পরামর্শক, সহকারী কিংবা পারিবারিক সদস্য ও আত্মীয়স্বজন। অতএব, তারেক রহমান মায়ের উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়ে যাবেন বিএনপির নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব—এটাই এখন বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ধ্যানজ্ঞান।
কিন্তু পরিবারতন্ত্র এবার আরও বেশি সংক্রমিত হয়ে গেছে শেখ হাসিনার রাজনীতির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে—এটাই এক্ষণে এ দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলে মনে করি আমি। ২০০৯-২০১১ পর্বের গত ৩৪ মাসের শেখ হাসিনার শাসনকালের ক্রমবিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, তাঁর সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই একক ও একতরফা হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় অভিজ্ঞ নেতারা ক্রমেই হয়ে পড়েছেন কক্ষচ্যুত কিংবা অবহেলিত, দলের প্রেসিডিয়াম কিংবা মন্ত্রিসভা তাঁর একক ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে যাচ্ছে বারবার। এটাকে অনেকে ‘উপদেষ্টাশাসিত সরকার’ বলেই অভিহিত করছেন ইতিমধ্যেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই সর্বনাশা পথ থেকে ফিরে আসুন।
মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সাধ্যাতীত ব্যয় এবং আর্থিক সংকট by এম এ তসলিম

কিছুদিন আগে দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য কয়েকজন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সংকটটি যে ধীরে ধীরে গভীরতর হচ্ছে, বড় আকার ধারণ করছে, বৈঠকে তাঁরা সে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে সংকটের কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ঋণ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করা হচ্ছিল। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের বা ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যাধিক খরচ, ভর্তুকি এবং বাজেট ঘাটতিকেও কেউ কেউ সংকটের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এসব শুনে মনে হচ্ছিল, আলোচকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটা খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁরা যেন বিচ্ছিন্নভাবে দেখছিলেন হাতির প্রকাণ্ড শুঁড়, থামের মতো পা অথবা বিশালকায় দাঁত। কিন্তু হাতির পূর্ণ অবয়ব স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়নি।
বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিবরণ থেকে যেমন প্রকৃত প্রাণীটিকে বোঝা যায় না, তেমনি সামগ্রিকভাবে একটি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কারণ বিচ্ছিন্নভাবে কিছু খাতের অবস্থা পর্যালোচনা করে বোঝা একটু কঠিন। অথচ সঠিক নীতি প্রণয়নে এই সামগ্রিক কারণটিকে চিহ্নিত করা একান্ত প্রয়োজন।
একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে যে, এখনকার যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে তাঁর প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত ব্যয়, যেটির জন্য সরকার এবং ব্যক্তি খাত—দুই পক্ষই দায়ী। যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোরই উৎস হলো অতিরিক্ত ব্যয়। দেশের অর্থব্যবস্থার নীতিনির্ধারকেরা যদি সংকট সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে চান তাহলে তাঁদেরকে অবশ্যই এই লাগামহীন খরচের রাশ টেনে ধরতে হবে।
সরকারতো বটেই, প্রত্যেকটি মানুষেরই একটি করে বাজেট আছে। এটা হলো তাঁর আয় এবং ব্যয়ের একটি হিসাব। যখন খরচ আয়ের চেয়ে বেশি হয়ে যায় তখন হয় বাজেট ঘাটতি, উল্টোটা হলে উদ্বৃত্ত থেকে যায়। ঘাটতি পূরণ করা যায় ধার করে অথবা সম্পদ বিক্রি করে।
যে কোনো অশিক্ষিত চাষী বা শ্রমিক এমনিক সাধারণ গৃহিনীকেও সহজে বোঝান যায় যে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়াটা বিপজ্জনক। দুর্ভাগ্যক্রমে অনেক সরকারকে বিশেষত উদারপন্থী সরকারকে এটা বোঝান বড়ই দুস্কর যে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি একসময় অর্থনীতিকে সমস্যার মধ্যে ফেলে দেয়। এর অতি সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া গ্রিস।
এই দুটি দেশের সরকারই (এবং আরও অনেক দেশের) অপরিণামদর্শীভাবে বছরের পর বছর ঘাটতি বাজেট দিয়ে পাহাড়সম ঋণ করে ফেলেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই এই ঋণ অর্থর্নতির জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দেশগুলোকে এখন কৃচ্ছ্র সাধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে যা সাধারণ জনগণের জন্য বেশ দুর্ভোগ বয়ে আনছে।
একটা নির্মম পরিহাস যে, সরকার ও এর ভ্রান্ত নীতি যার সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের রথী-মহারথীরা বিশ্বময় বিপর্যয় সৃষ্টি করলেও তাঁরা খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। উল্টো অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা এই চরম দুঃসময়েও তাঁদের বিশাল অঙ্কের বোনাসটি নিতে ভুল করেননি। অথচ একই সময়ে তাঁরা সরকারের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বেইল-আউট বা সাহায্য প্যাকেজ নিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকেরা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ এবং অবশেষে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। আরব বসন্তের মতো এই মার্কিনি বসন্তও যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছে। ভিয়েতনামের পরে এই প্রথম এই রকম ব্যাপক আন্দোলন হচ্ছে এই দেশে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই আন্দোলন ইউরোপের অনেক দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। তবে যে কোনো দেশের ঘাটতি মূল্যায়ন করতে গেলে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকারের বাজেট ঘাটতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সহজ কিন্তু ব্যক্তি খাতের হিসাব পাওয়াটি সেই তুলনায় যথেষ্ট কঠিন। ব্যক্তি খাতের হিসাব সরাসরি নির্ণয় করা না গেলেও সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু তাত্ত্বিক সমীকরণের প্রয়োগ ঘটিয়ে এটি হিসাব করা যায়। এ রকম একটি সমীকরণ হলো বাজেট ঘাটতি ও ব্যক্তি খাতের ঘাটতি চলতি হিসাবের ঘাটতির সমান।
অর্থাৎ চলতি হিসাবের ঘাটতির বড় অংশটাই ব্যক্তি খাতের উদ্বৃত্ত কমে ঘাটতিতে পরিণত হওয়া। এই কমে যাওয়ার একটা বড় কারণ হতে পারে রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টে বিনিয়োগ। সরকার জ্বালানিসংকট দ্রুত নিরসনের জন্য ব্যক্তি খাতে এই পদ্ধতিতে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে। এর ফলে তেলের আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগ জ্বালানিসংকটের কারণে সীমিত ছিল। আবার যেহেতু জ্বালানিসংকটের দ্রুত কোনো সমাধান নেই, তাই অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্পে দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
জ্বালানি খাতে ভর্তুকির একটি বিরাট অংশ ব্যয় হচ্ছে এই গ্যাস এবং তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রণোদনা হিসেবে যাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের মুখ দেখতে পায়। ফলে সৃষ্ট বাজেট ঘাটতি নিঃসন্দেহে এই অর্থবছরে আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ ও তেলের দামের ওপর যে ভর্তুকি আছে সেটি কমিয়ে সরকার এই বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে পারে, যেটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলেরও পরামর্শ। কিন্তু এটি রাজনৈতিকভাবে সরকারের জন্য বেশ অস্বস্তিকর। বিশেষ করে এখনকার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার তাঁর শুরুর দিকের রাজনৈতিক সমর্থন অনেকখানি হারিয়ে ফেলেছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
আরেকটা উদ্বেগের ব্যাপার হলে, প্রবাসী আয়প্রবাহ বৃদ্ধির হার দ্রুত কমে যাচ্ছে। যেখানে ২০০৮ সালে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩৩ শতাংশ এবং ২০০৯ সালে ১৯ শতাংশ, ২০১০ সালে তা ২ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ২০১১ সালে কিছুটা চাঙা হতে পারে। কিন্তু এটা আমদানির সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। ফলে এই অর্থবছরে চলতি হিসাব ঘাটতি দেখা দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অর্থনীতির চলতি হিসাব ২০০৪-০৫ অর্থবছরের পর এই প্রথমবারের মতো ঘাটতির সম্মুখীন হবে। এতে গত সাত বছরে গড়া কষ্টসাধ্য রাজস্ব শৃঙ্খলা বিপত্তিতে পড়বে।
এই ঘাটতি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় এটা অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক যে অতিরিক্ত খরচ কোন খাতে হচ্ছে—বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে নাকি খাদ্যদ্রব্য আমদানিতে অথবা অন্য কোনো পণ্য আমদানিতে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করছি, অবশ্যম্ভাবীভাবে সেটি চলতি হিসাবে ঘাটতিরূপে দেখা যাবে। জাতীয় ঘাটতি যত বেশি হবে, তত বেশি হবে চলতি হিসাবের ঘাটতি। বাজেট ঘাটতি কমানো যেতে পারে আয় বাড়িয়ে অথবা ব্যয় কমিয়ে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইদানীং রাজস্ব আয় বাড়াতে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। আরও বাড়ানের চেষ্টা করাটা হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই আয় হয়তো খুব বেশি বাড়ানো যাবে না।
এটি অনস্বীকার্য যে সরকারের ব্যয় কমাতে না পারলে বাজেট ঘাটতি কমবে না। সরকারকে এ জন্য কিছু উচ্চাভিলাষী প্রকল্প কাটছাঁট করতে হতে পারে। সরকারের মনে রাখা উচিত, যেকোনো খাতে অতিরিক্ত খরচ করলে অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করার ক্ষমতা কমে যায়। একইভাবে ব্যক্তি খাতের অতিরিক্ত ব্যয় সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সুচিন্তিত সমন্বয়ে ব্যক্তি ও রাজস্ব খাতের এই ঘাটতিসংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।
আবার ঘাটতি অর্থায়ন যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে করা হয়, তাহলে অর্থনীতিতে মানিটারি রিজার্ভ (মুদ্রার মজুদ) বৃদ্ধি পায় যা মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মূল্যস্ফীতির এক অশুভ চক্রের সৃষ্টি হয়। সরকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ঋণ করলে ব্যক্তি খাতের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে সুদের হার বেড়ে যায়। ব্যক্তি খাত এই অতিরিক্ত সুদের হার সামলাতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে পুনরায় মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে অবশ্যম্ভাবীভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যায়।
এসব কিছু থেকে আবার এটা বোঝানো হচ্ছে না যে এখনকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, বাজেট ঘাটতি একেবারেই আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে এবং অর্থনীতি একটি মহাসংকটের মধ্যে আছে। বরং যে ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে তা সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব। সরকারের এ ব্যাপারে সদিচ্ছা থাকলে প্রথমেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিছুটা কমিয়ে বাস্তবধর্মী প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হতে হবে- সম্পদের অপ্রতুলতার কথা চিন্তা করে। সরকার চাইলে এখনো অপরিণামদর্শী হয়ে বৃহত্তর ঘাটতির দিকে যেতে পারে। কিন্তু সেটি অবশ্যম্ভাবীভাবে অর্থনীতিকে একটি বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে।
এম এ তসলিম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
m_a_taslim@yahoo.com

ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত

দেশের শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে আজ বুধবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিনিয়োগকারীরা পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বেলা ১১টা থেকে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। যদিও আজ লেনদেনের শুরুতে সূচক অনেকখানি বেড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডিএসইর সভাপতি, এসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ চলাকালে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ডিএসইর সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ডিএসই ও এসইসির সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।বিকেল সাড়ে চারটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডিএসইর সামনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ চলছে। এখনো সেখানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।পরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে বিনিয়োগকারীরা কর্মসূচি শেষ করলে ডিএসইর সামনের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের বৈঠক থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

লড়াই করেই খুশি মিসবাহ

খানিক আগেই আউট হয়ে গেছেন উমর আকমল। হঠাৎ ক্যামেরা খুঁজে পেল তাঁকে, ড্রেসিংরুমের বাইরের সিঁড়িতে থুতনিতে হাত দিয়ে বসে আছেন। তখনো পায়ে প্যাড, মুখে রাজ্যের হতাশা। শহীদ আফ্রিদির রান আউটে পাকিস্তানের শেষ আশাটাও নিভে যাওয়ার পর আবার ক্যামেরা আকমলের দিকে। বসে আছেন সেভাবেই, থুতনি থেকে হাত দুখানি শুধু দুই গালে। পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন তিনি, তাঁর জন্যই যে আবার ম্যাচটা হাত থেকে ছিটকে গেল!
নায়ক হতে হতে খলনায়ক ছোট আকমল আর আরও একবার শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক লাসিথ মালিঙ্গা। প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি মালিঙ্গা, সঙ্গীরা যে লড়ার মতো রানই এনে দিতে পারেননি (১৩১)। খুব ভালো না হলেও পরশু মোটামুটি একটা স্কোর গড়লেন ব্যাটসম্যানরা (২৩৫), মালিঙ্গাও জ্বলে উঠলেন। মোহাম্মদ হাফিজ ও ইউনুস খানকে ফেরালেন প্রথম ওভারেই। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে থিতু হয়ে যাওয়া সরফরাজ আহমেদকে (২৪) ফিরিয়ে হলেন ম্যাচ-সেরা (৩/৩৬)। ২৫ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয়টি দুবাইতেই, আগামী পরশু।
এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরি পাওয়া আকমল মনে হচ্ছিল আরেকটি সেঞ্চুরি পেয়েই যাবেন। ১১ রানে ৩ আর ১০২ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে টানছিলেন বলতে গেলে একাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাটা পড়েছেন সেই পুরোনো রোগেই। দিলহারা ফার্নান্ডোকে টানা তিনটি চার মেরে পরের বলে আবার তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মিড অনে (১০২ বলে ৯১)। অনেক দিন পর আফ্রিদির ব্যাটে ছিল ম্যাচ-জয়ী ইনিংস খেলার ইঙ্গিত (১৪ বলে ২৯), কিন্তু তাঁর রান আউটেই শেষ পাকিস্তানের আশা।
হারের মাঝেও অবশ্য ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন মিসবাহ, ‘শুরুতে ৩ উইকেট হারানোর পরও আমরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। সবাই লড়াই করেছে। দিনটা আমাদের ছিল না, স্রেফ ৫০ ওভার খেলতে হতো, যা আমরা পারিনি।’
জিওফ মার্শের কোচিংয়ে এই প্রথম জয় পেল শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০-তে হারার পর হেরেছিল প্রথম ওয়ানডেও। দিলশানের কণ্ঠে তাই স্বস্তি, ‘জয়টা খুবই প্রয়োজন ছিল আমাদের। সিরিজ এখন উন্মুক্ত। আশা করি, সামনের ম্যাচগুলোতেও আজকের মতো খেলতে পারব।’

জিতেই চলেছে ব্রাজিল

২০১৪ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। তাই নিজেদের মাটির বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ দল গড়ার আশায় মানো মেনেজেস যত পারেন খেলছেন প্রীতি ম্যাচ। সাফল্যও পাচ্ছেন। জয়ের ধারা বজায় রেখে পরশু মিসরের বিপক্ষে ব্রাজিল জিতেছে ২-০ গোলে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির এই পর্বে এটা পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টানা পঞ্চম জয়। গত ২৮ আগস্ট বেলেমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে যাত্রা শুরু। পরে কোস্টারিকা, মেক্সিকো ও গ্যাবনের বিপক্ষে জয়ের পর পরশু হারাল মিসরকে।
ব্রাজিলের তরুণ ‘তুর্কি’ নেইমারকে এ ম্যাচে মাঠেই নামাননি কোচ। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক হোনাস অলিভিয়েরা। নিরপেক্ষ ভেন্যু দোহার আল রাইয়ান স্টেডিয়ামে বিরতির আগে-পরে দুটি গোলই করেছেন ভ্যালেন্সিয়ার ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার, ৩৯ ও ৫৯ মিনিটে।
লক্ষ্য বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ দল গড়ে তোলা, প্রতিটি ম্যাচেই তাই তরুণ প্রতিশ্রুতিশীলদের মাঠে নামিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন মেনেজেস। পরশু যেমন নেইমারের সঙ্গে কাকা, মার্সেলোও ছিলেন না দলে। তবে মিসরীয়দের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক পাসিং ফুটবল খেলে অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতি মেনেজেসকে বুঝতেই দেননি তাঁর তরুণেরা। মিসরীয়দের গোলের সুযোগ তেমন দেনইনি বলা চলে।
মাত্রই কয়েক দিন আগে মিসর দলের দায়িত্ব নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোচ বব ব্র্যাডলি। তিনি নতুন করে গড়ে তুলতে চাইছেন মিসরকে, কিছুদিন আগেও যারা ছিল আফ্রিকান ফুটবলের ‘রাজা’। আফ্রিকান নেশনস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ বার শিরোপাজয়ী মিসর সর্বশেষ তিন আসরেরই চ্যাম্পিয়ন। সেই মিসর এবার আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বই পেরোতে পারেনি!
ব্র্যাডলির নেতৃত্বে নতুনভাবে শুরু করা মিসরের পরশুর ম্যাচে প্রাপ্তি একটাই, এই ম্যাচ দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছুঁয়েছেন মিডফিল্ডার আহমেদ হাসান।

ইসরায়েল ও পাকিস্তানকে ইউরেনিয়াম দেবে না অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেছেন, ভারতের কাছে ইউরেনিয়াম বিক্রির উদ্যোগ নিলেও পাকিস্তান বা ইসরায়েলের কাছে ইউরেনিয়াম বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর দেশের।
গতকাল মঙ্গলবার জুলিয়া গিলার্ড সাংবাদিকদের জানান, যেসব দেশ পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি, তিনি চান ডিসেম্বরে তাঁর দল লেবার পার্টির জাতীয় সম্মেলনের সময় সেসব দেশের ওপর থেকে ইউরেনিয়াম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিক। তবে এই সুযোগ তৈরি করা হবে কেবল ভারতের জন্য। এ প্রসঙ্গে জুলিয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারতে ইউরেনিয়াম বিক্রির বিষয়ে লেবার পার্টির অবস্থান পরিবর্তন করার সময় হয়েছে। এটা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির জন্য ভালো হবে, আর এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে।’
জুলিয়া গিলার্ড বলেন, ‘এটা ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালো।’
ভারতের ইউরেনিয়াম রপ্তানির এ পরিকল্পনা নিয়ে লেবার পার্টির সম্মেলনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লেবার পার্টিতে ডানপন্থী অংশের প্রাধান্য থাকায় প্রস্তাবটি পাস করতে তেমন বেগ পেতে হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

উত্তর প্রদেশ ভেঙে চারটি রাজ্য হবে: মায়াবতী

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী বলেছেন, তাঁর রাজ্য মন্ত্রিসভা উত্তর প্রদেশকে ভেঙে চারটি ছোট ছোট রাজ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজ্যের রাজধানী লক্ষেৗতে এক সংবাদ সম্মেলনে মায়াবতী এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মায়াবতী বলেন, রাজ্য সরকার আগামী ২১ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।
মায়াবতী জানান, নতুন চারটি প্রদেশের নাম হবে: পূর্বাঞ্চল, বুন্দেলখন্ড, আওয়াধ প্রদেশ ও পশ্চিম প্রদেশ। গুর্খাপুর, বালিয়াসহ রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের ২২টি জেলা নিয়ে গঠিত হবে পূর্বাঞ্চল প্রদেশ। মধ্যাঞ্চলের ১৪টি জেলা নিয়ে হবে আওয়াধ প্রদেশ। বর্তমান রাজধানী লক্ষেৗ এ প্রদেশের মধ্যে পড়বে। বুন্দেলখন্ড প্রদেশের মধ্যে থাকবে সাতটি জেলা আর পশ্চিম এলাকার ২২টি জেলা নিয়ে হবে পশ্চিম প্রদেশ।
রাজ্য ভেঙে ছোট করার সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে মায়াবতী বলেন, উত্তর প্রদেশ হচ্ছে সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। উন্নয়ন এবং এর প্রশাসনিক সুবিধার জন্য রাজ্যকে ভাগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধান অনুযায়ী, এ-সংক্রান্ত আইন অনুমোদন করার ক্ষমতা একমাত্র লোকসভার হাতেই রয়েছে।
মায়াবতীর এ ঘোষণাকে আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন উপলক্ষে তাঁর তুরুপের তাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মায়াবতী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধী দলগুলো বলেছে, মায়াবতীর এ ঘোষণা রাজনৈতিক চমক মাত্র।
মায়াবতী আরও জানান, তিনি ২০০৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই উত্তর প্রদেশকে বিভাজন করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে বলেছিলেন। এ ছাড়া প্রদেশের পূর্বাঞ্চল ও বুন্দেলখন্ড এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য ৮০ হাজার কোটি রুপির উন্নয়ন প্যাকেজ প্রস্তাব করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

চেয়ারে বসে উড়বেন তাঁরা

একজন মার্কিন নাগরিক, অন্যজন ইরাকি। দুজন একসঙ্গে উড়বেন আকাশে। তবে বিমান বা হেলিকপ্টারে নয়; চেয়ারে বসে। তাঁদের চেয়ার আকাশে ওড়াবে বিশেষভাবে তৈরি গুচ্ছ বেলুন।
ইরাকি এতিম শিশুদের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে মার্কিন নাগরিক কেন্ট কাউচ ও ইরাকি নাগরিক ফরিদ আবদুল জাহরা এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০১২ সালের বসন্তে বেলুনে করে উড়বেন তাঁরা।
ই-মেইলে পাঠানো কাউচের এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়ে বলা হয়, গুচ্ছ বেলুন হচ্ছে হিলিয়াম গ্যাসে ভরা একধরনের বেলুন, যেসব বেলুন উৎসবের সাজসজ্জায় ব্যবহূত হয়। গুচ্ছাকারে সাজানো এসব বেলুন আকাশে ওড়াবে মার্কিন ও ইরাকি নাগরিককে।
ওরেগনের একটি গ্যাস স্টেশনের মালিক কাউচ এরই মধ্যে বেলুনের সহায়তায় লন চেয়ারে করে কয়েক শ কিলোমিটার উড়েছেন।

বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলেন অ্যারোইয়ো

ফিলিপাইনের সুপ্রিমকোর্ট দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগাল অ্যারোইয়োকে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ অনুমতি দেওয়া হয়। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত অ্যারোইয়োর বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
আদালতের মুখপাত্র মিদাস মারকুয়েজ জানান, অ্যারোইয়োর চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে ৮ ও বিপক্ষে ৫টি ভোট পরে। এর ভিত্তিতে বিচারকরা সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিদেশ যাওয়ার ওপর থেকে সাময়িক ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
অ্যারোইয়ো জানিয়েছেন, হাড়ের সমস্যার চিকিৎসা করাতে তিনি বিদেশে যেতে চান। এ জন্য তিনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন।

চীনা শান্তি পুরস্কার পেলেন পুতিন

এ বছর চীনা শান্তি পুরস্কার ‘কনফুশিয়াস পিস প্রাইজ’ পেয়েছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন। চীন ‘নোবেল’ পুরস্কারের পাল্টা হিসেবে পুরস্কারটির প্রবর্তন করেছে। ‘বিশ্ব শান্তিতে অসাধারণ অবদান’ রাখার জন্য পুতিনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। চীনের একদল শিক্ষাবিদ এ পুরস্কারের আয়োজক।
আয়োজকদের একজন কিয়াও দ্যামো গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, পুতিন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, চীনা কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংসহ অন্য প্রার্থীদের পেছনে ফেলে এ বছরের ‘কনফুশিয়াস পিস প্রাইজ’ লাভ করেছেন। চীনা দার্শনিক কনফুশিয়াসের নামানুসারে পুরস্কারটি প্রবর্তন করা হয়।
এ শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা আসে গত বছর। চীনের কারাবন্দী ভিন্নমতাবলম্বী লিও সিয়াওবোকে গত বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ঘোষণার দুদিন আগে আকস্মিকভাবে ওই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সিয়াওবোকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ায় সে সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বেইজিং। তখন ব্যাপক জল্পনা ছিল যে সরকারি তত্ত্বাবধানে চীন তার নিজস্ব আদলে নোবেলের পাল্টা একটি শান্তি পুরস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জুরি বোর্ডের সদস্যরা সরকারের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন। পরে অবশ্য নির্বাহী সভাপতি লিও হাওফ্যাং জানিয়েছিলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তত্ত্বাবধান করে এমন একটি সংগঠন এ পুরস্কারের আয়োজক। পুরস্কারটি ঘিরে এ ধরনের জল্পনার মুখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বরে আয়োজকদের এটি বাতিলের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয় তখন জানিয়েছিল, এ পুরস্কারে সরকারের কোনো অনুমতি নেই।

যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করল পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদীরা

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মাওবাদী বিদ্রোহীরা যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এ ব্যাপারে মাওবাদী নেতা আকাশ স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি গত সোমবার প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই বিদ্রোহীরা ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একজন কর্মী ও তাঁর ছেলেকে হত্যা করে। পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরকারের নিয়োগ করা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর মাওবাদীরা গত ৩ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পরপরই মাওবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার উদ্যোগ নেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য রাজ্য সরকার মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করে। মধ্যস্থতাকারীরা বেশ কিছুদিন আলোচনা চালিয়েও মাওবাদীদের শান্তি আলোচনায় বসাতে পারেনি।

প্রেসিডেন্ট আসাদকে পদত্যাগের আহ্বান জর্ডানের বাদশাহর

সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরব লিগের কঠোর অবস্থানের পর প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ গত সোমবার প্রেসিডেন্ট আসাদের প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে আসাদের ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে জর্ডানের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে।
এদিকে গত সোমবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সরকারবিরোধীদের সহিংসতায় ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
আরব দেশগুলোর সংগঠন আরব লিগ গত শনিবার সিরিয়াকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার এবং দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ করে। সোমবার জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ প্রেসিডেন্ট আসাদকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। আরব দেশগুলোর প্রথম নেতা বাদশা আবদুল্লাহ, যিনি প্রেসিডেন্ট আসাদকে সরাসরি পদত্যাগের আহ্বান জানালেন। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসাদের সমর্থকেরা দামেস্কে জর্ডানের দূতাবাসে হামলা চালায়।
সিরিয়ায় নিযুক্ত জর্ডানের রাষ্ট্রদূত ওমর আল আমাদ বলেন, ১২০ জনের মতো বিক্ষোভকারী সোমবার সন্ধ্যার দিকে দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তাদের মধ্যে দুজন দূতাবাস চত্বরে ঢুকে সেখানে থাকা জর্ডানের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের থামানোর চেষ্টা করেননি। আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী, জর্ডান দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে সিরিয়া।
গত সোমবার বাদশা আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি যদি প্রেসিডেন্ট আসাদের জায়গায় থাকতাম, তাহলে পদত্যাগ করতাম। দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে তাঁর (আসাদ) পদত্যাগ করা উচিত।’
সিরিয়ার যুক্তরাজ্যভিত্তিক অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, গত সোমবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। এ সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় ৩৪ জন সেনা ও ১২ জন পক্ষত্যাগী সেনা নিহত হয়। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে বেশির ভাগ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খেরবেট গাজেল ও হিরাক শহরের সংযোগ সড়কে গুলি চালিয়ে ২৩ জনকে হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী। একই এলাকায় সশস্ত্র জনতার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় ৩৪ জন সেনা ও ১২ জন পক্ষত্যাগী সেনা মারা যায়।
একই দিনে হোমস শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহত হয়।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দেশটির দারা প্রদেশ থেকে এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়।

নিউইয়র্কের জুকোটি পার্ক থেকে আন্দোলনকারীদের উচ্ছেদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো (অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট)’ আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পুলিশ। জুকোটি পার্কে পাতা আন্দোলনকারীদের তাঁবু ছিঁড়ে ফেলে তারা। কর্মকর্তারা এই অভিযানকে অস্থায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম বলে অভিহিত করেন।
আন্দোলনের উৎপত্তিস্থলে আকস্মিক এই অভিযান চলার আগে অন্যান্য নগরেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়। এতে আভাস পাওয়া গেছে যে দুই মাস ধরে বিক্ষোভ করতে থাকা ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থার পথ বেছে নিয়েছে।
নিউইয়র্কের জুকোটি পার্ক ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের মূল কেন্দ্র। সেখান থেকে আন্দোলনের ঢেউ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য নগরেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের বড় বড় শহরে পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহ জোগায়।
জুকোটি পার্কে যেসব আন্দোলনকারী আশ্রয় নিয়েছিলেন, ভোররাতের দিকে পার্ক ছেড়ে যেতে পুলিশের আহ্বানে তাঁদের টনক নড়ে। ততক্ষণে পার্কে আন্দোলনকারীদের খাটানো তাঁবু ঘিরে ফেলে পুলিশ।
পুলিশের মাথায় হেলমেট থাকলেও পুরোপুরি দাঙ্গা পুলিশের সাজ ছিল না। আন্দোলনকারীদের জড়ো করে ট্রাকে ঠেলে তোলে তারা। সব তাঁবু ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এসব আবর্জনাবাহী ট্রাকে তুলে দেয়। এ সময় একটি হেলিকপ্টার ওপরে চক্কর দিচ্ছিল।
আন্দোলনকারী ব্যক্তিরা এক বিবৃতিতে বলেন, লিবার্টি স্কয়ার (জুকোটি পার্ক) দুই মাস ধরে ওয়াল স্ট্রিট বিক্ষোভ হিসেবে দেশজুড়ে এ আন্দোলনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে। এমনকি এই আন্দোলন থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলন ছড়াচ্ছে। কিন্তু বিশাল এক পুলিশ বাহিনী এসে পার্ক থেকে আন্দোলনকারীদের উচ্ছেদ করেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লমবার্গের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের সাময়িকভাবে ওই পার্ক ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরে আবার তাঁরা ফিরে আসতে পারবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্কটি সাফসুতরো করতে এই আন্দোলনকারীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজন আন্দোলনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদকারী পুলিশ সদস্যরা এই অভিযানে সেনাদের মতো দৌড়ে আসেন। একজন আন্দোলনকারীকে পুলিশ যখন টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, ‘সারা দুনিয়া এ দৃশ্য দেখছে।’
জুকোটি পার্কথেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা ফলি স্কয়ারে সমবেত হন।
করপোরেট শোষণ ও ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন শুরু হয়। এর জের ধরে একদল আন্দোলনকারী বেসরকারি জুকোটি পার্কে তাঁবু ফেলেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ। এতে উৎসাহিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য নগরের আন্দোলনকারীরাও বিভিন্ন পার্ক ও উদ্যানে তাঁবু ফেলেন। সরকারের কিছু কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের এই অবস্থানকে হুমকি হিসেবে দেখছে।

শীতের হাওয়ার লাগল নাচন...

খন হেমন্তের মধ্য পর্ব। তবে খানিকটা উত্তুরে হিম হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে, রবিঠাকুরের গান 'শীতের হাওয়ার লাগলো নাচন, আমলকীর এই ডালে ডালে...'; যদিও পঞ্জিকা অনুযায়ী শীতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে মাসখানেক বাকি।এরই মধ্যে নগরজীবনে লেগেছে শীতের ছোঁয়া। দিনের আবহাওয়া বেশ ঝকঝকে, শুষ্ক। মাঝরাতে হঠাৎ হঠাৎ ঠাণ্ডা হাওয়া মনে করিয়ে দেয় তার আগমনী বার্তা।

ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে প্রস্তাব তৈরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ-বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রস্তাব শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যাহারের কথা বলছে কানাডীয় কম্পানিটি

ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো-সংক্রান্ত কানাডীয় কম্পানি ভিজ্যুয়াল ডিফেন্স ইনকরপোরেশনের (ভিডিআই) প্রস্তাব তৈরির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) এ নির্দেশ দেয়। এদিকে ভিডিআই গত মঙ্গলবার রাতে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রস্তাব শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল-সরকার তারেককে ফাঁসাতে বিদেশি সাক্ষী ভাড়া করেছে

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসাতে সরকার বিদেশ থেকে সাক্ষী ভাড়া করে এনেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাক্ষীরা বলেছেন, এই মামলার সঙ্গে তারেক রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই। এখন সরকার বিদেশ থেকে সাক্ষী ভাড়া করে তাঁকে ফাঁসাতে চাইছে।

নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ড-হত্যা পরিকল্পনার সবটাই জানেন আশরাফ সরকার

রসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফ হোসেন সরকারকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল বুধবার দুপুরে নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা তা মঞ্জুর করেন।

আদালতে সাক্ষ্য দিলেন এফবিআই কর্মকর্তা ডেবরা লাপরিভেট-পাচার করা অর্থে ভ্রমণ ও কেনাকাটা করেন তারেক

সিঙ্গাপুরের এনসিটি ব্যাংকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে জানা যায়, তারেক-মামুনের পাচার করা টাকা সেখানে জমা হয়। সেই হিসাবের বিপরীতে পাওয়া ভিসা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন তারেক রহমান। তিনি কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শপিং মলে কেনাকাটা করেন।সিঙ্গাপুরে অর্থপাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার

শেয়ারবাজার নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা রবিবার-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বহুপ্রতীক্ষিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত

শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করার জন্য এত দিন ধরে যেসব ঘোষণা এসেছিল, এবার সেগুলোর বাস্তবায়ন হবে_প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর গতকাল বুধবার মধ্যরাতে এ কথাই জানালেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দীর্ঘ চার ঘণ্টার এ বৈঠকে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বিচার-বিশ্লেষণ করে সরকারের পক্ষ থেকে রবিবার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

অব্যবহৃত বিমানবন্দর-বৃহৎ স্বার্থেই উড্ডয়ন উপযোগী করা দরকার

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো পুরোপুরিভাবে তৈরি আছে। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতা সে কথা বলে না। লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি এখন গোচারণভূমি। এটি একটি মাত্র দৃষ্টান্ত। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর প্রায় প্রতিটিরই কমবেশি সমস্যা রয়েছে। নানাবিধ সমস্যা-সংকট বিমানবন্দরগুলোতে জিইয়ে থাকায় বিরূপ প্রভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে বহুমুখী। অথচ একেকটি বিমানবন্দর নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে।

সার্ক শীর্ষ সম্মেলন-রচিত হোক সেতুবন্ধ

প্তদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ থেকে মালদ্বীপে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে মালদ্বীপ পৌঁছেছেন। গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে সার্ক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। রবিবার ছিল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক। এরপর গত সোম ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্ক দেশগুলোর সচিব পর্যায়ের বৈঠক। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। এবারকার সার্ক সম্মেলনের প্রতিপাদ্য সেতুবন্ধ।

সার্কের ২৬ বছর এবং কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা by ফরিদুল আলম

ময়ের পথপরিক্রমায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক ২৬ বছর অতিক্রম করতে চলেছে। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, সহযোগিতা, সমন্বিত আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান পর্যায়ের ১৬টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ও কাল দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে সার্কের ১৭তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ এশিয়া নানা কারণেই বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

চরাচর-রাস উৎসব

চান্দ্রমাসের প্রথম দিনে যেদিন সন্ধ্যার আকাশে হেসে উঠেছিল এক চিলতে চাঁদ, সেদিন আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল মণিপুরিরা। এ পক্ষেই যেদিন আকাশের কোলজুড়ে হেসে উঠবে পূর্ণিমার চাঁদ, সেদিন মণিপুরিরা মেতে উঠবে রাস উৎসবে। অবশেষে এল সেই দিন। আজ মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা। প্রতিবছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় মহারাসলীলা উৎসব।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা by ড. তুহিন ওয়াদুদ

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভূমি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আর বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান করার মহান দায়িত্ব হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদ অলংকৃত করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক-স্থানীয় হিসেবে বিবেচিত।

সাদাকালো-সংসদীয় সংস্কৃতি নিয়ে কিছু কথা by আহমদ রফিক

র্তমান মেয়াদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ধসনামা বিজয়ে সবাই খুব আশান্বিত হয়েছিল। বিশেষ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের দফাগুলো দেখে। কোনো দলই পাঁচ বছরের মেয়াদে ইচ্ছা থাকলেও সব দফা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারে না। অপেক্ষা করে পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসার। পাঁচ বছরের কাজকর্মে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাফল্যে জনসন্তুষ্টি ঘটাতে পারলে পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত হয়ে যায়।

সেই একই অভিযোগ-রোডমার্চ by নির্মল সেন

বেগম জিয়ার সিলেট ও রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ শেষ হয়েছে। আমি বেগম জিয়াকে জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই চিনি। জিয়ার আমলে বঙ্গভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি জিয়া বেগম জিয়াকে ডেকে বলতেন, দেখ তো, নির্মল সেন বিয়ে করেন না কেন। জিয়ার মৃত্যুর পরে বেগম জিয়ার সঙ্গে আমার দু'বার দেখা হয়েছে। তিনি কুশলাদি জানতে চেয়েছিলেন। আমার শারীরিক অসুস্থতার কথা শুনে বলেছিলেন, আপনাকে আমি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠাব।

সেতুবন্ধ রচিত হবে কি?-সার্ক শীর্ষ সম্মেলন by হুমায়ুন কবির

মালদ্বীপে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। দ্বীপরাজ্যের রাজধানী মালে থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের শহর আড্ডুতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা 'সেতুবন্ধ রচনা' করায় করণীয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই প্রাধান্য পাবে। এ যোগাযোগ যানবাহন চলাচলে, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে এবং মানুষে মানুষে। এ ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আসিয়ানভুক্ত

চরিত্র হননের মহোৎসব হবে আজ by আহমেদ শরীফ শুভ

জ ১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। আমাদের ভূখণ্ডের রাজনীতির ত্রিকালদর্শী এই পুরুষ কেবল একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, একজন সমাজ সংস্কারকও ছিলেন। তিনি ছিলেন গণমানুষের হৃদয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রম ব্রিড। মোহ আর ক্ষমতার রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে নির্মোহ আর ক্ষমতাবিমুখ এই মানুষটি আজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন।

কী মজা তাদের by আসিফ আহমেদ

চার মাস আগে ১০ ও ১১ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনের সময়েই নির্বাচন করা হয়। এরপর থেকে অপেক্ষার পালা ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের। ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বেশ আনুুষ্ঠানিকতার ঢঙে_ জুলাইয়েই কমিটি গঠিত হবে। দীর্ঘ সময় অতিক্রম করার পর ঘোষকরা বলতেই পারেন_ কোন জুলাই, সেটা কি বলা হয়েছিল? এটাও বলতে পারেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে

নীতিহীন শিক্ষা :আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা-শিক্ষাঙ্গন by শম্পা ইফতেখার

ফার্মগেট এলাকায় এলেই মনে হয় হাতের নাগালে মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দুয়ার মেলে বসে আছে। যথারীতি সেই খোলা দ্বারে স্বপ্নমাখা চোখ নিয়ে পা রাখে বিত্তশালী বা মধ্যবিত্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী নবীন শিক্ষার্থীরা। সেই দুয়ারের অন্তরালে অর্থপিপাসু ব্যবসায়ী চোখ_ যারা জানে একটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বদৌলতে কীভাবে বদলে যাবে তাদের জীবনধারা।

ভারতের জন্য ট্রানজিট নাকি ট্রান্সশিপমেন্ট?-বাণিজ্য by মাহবুবুর রহমান

মাদের এই অঞ্চলে বাংলাদেশের রয়েছে অভিনব ভৌগোলিক অবস্থান। অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও বিপুল। ব্যাপকতর আঞ্চলিক সংযোগ গড়ে তুলে এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তোলা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য চাই অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা।বাংলাদেশ সরকার শুধু ভারত, নেপাল ও ভুটানের জন্য নয়, চীন ও মিয়ানমার এবং আরও দূরের দেশগুলোর জন্যও বহুমাত্রিক পরিবহন সংযোগ গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ সরকারের এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ-নাড়ির টানে তুচ্ছ প্রাণ!

দে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির অন্ত থাকে না। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রায় ট্রেনই সিডিউল অনুযায়ী গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি বা পেঁৗছেনি। লঞ্চের ক্ষেত্রেও একই দশা। সড়কপথে বাস, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি ছাড়াও অনেককে ট্রাকে চড়ে প্রিয়জনের কাছে পেঁৗছার প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে হয়েছে। তবে সড়কপথে অতীতের মতো এবার ঈদে দুর্ঘটনায় মানবমৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। শুভ সংবাদ হলো, এবার বড় ধরনের কোনো লঞ্চ দুর্ঘটনা

সপ্তদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন-উন্নততর দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন

সার্কের সপ্তদশ শীর্ষ সম্মেলনটি অনেকের কাছেই নতুন আশার বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। ১৯৮৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন বা সার্ক গঠিত হলেও মাঝপথে বহুবার এটি নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাষ্ট্রনেতারা এ নিয়ে ১৭ দফা বসলেও সার্কে আঞ্চলিকতার সংস্কৃতি আশানুরূপভাবে গড়ে ওঠেনি।

বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন স্বল্পোন্নত দেশেও আঘাত করেছে

ন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) এবং মিউনিখভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক রিসার্চ (আইএফও) প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনৈতিক জরিপমতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা চতুর্থ প্রান্তিকে এসে আরও খারাপ হয়েছে, যে রকমটি অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা নেতিবাচক প্রত্যাশার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছিলেন। গত অক্টোবরে ১১৯টি দেশের ব্যবসায়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১১৯ জন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞকে চলমান এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে বলা হয়।

ডিসেম্বরে বাজারজাত-বাজারে আসছে ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল by শেখ আবদুল্লাহ

দেশের সাধারণ জনগণের ভিটামিন 'এ'-এর অভাব পূরণে ভোজ্যতেলের সঙ্গে ভিটামিন 'এ' মিশিয়ে বাজারজাত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য 'ফর্টিফিকেশন অব এডিবল অয়েল ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের তিনটি বেসরকারি ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

দেশি বাজারে হঠাৎ করেই বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশীয় বাজারে হঠাৎ করেই বাড়ল স্বর্ণের দাম। গতকাল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ১২শ' টাকার বেশি। যদিও প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমছে। দেশি বাজারে স্বর্ণের সংকট এবং শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানান, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। নতুন দর অনুযায়ী ভরি প্রতি ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৫৭ হাজার ৩৮৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

মেহনতি মানুষের নেতা মওলানা ভাসানী by আনোয়ার হোসেন

ওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জন্ম ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জে। ১৯০৭-০৯ সালে পড়াশোনা করেছেন ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায়। সেখানে অনেক খ্যাতিমান ইসলামী চিন্তাবিদের সংস্পর্শে আসেন এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ হন। দেওবন্দ থেকে টাঙ্গাইলের কাগমারীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হয়ে চলে আসেন। এরপর থেকে টাঙ্গাইলকেই তার অন্যতম প্রধান কাজের এলাকায় পরিণত করেন।

সড়ক দুর্ঘটনা-মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয় by তারেক শামসুর রেহমান

বাসচালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। হাইওয়ে পুলিশের কর্মতৎপরতা বাড়াতে হবে। অদক্ষ ও ভুয়া চালকদের চিহ্নিত করার স্বার্থে প্রতিটি গাড়িতে একটি বিশেষ যন্ত্র স্থাপন করতে হবে, যার মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্স চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। চালকদের যে কোনো অন্যায়ের জন্য ফাইন ও লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। মহাসড়কের পাশে কোনো হাট-বাজার থাকবে না। গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিডব্রেকার থাকতে হবে।

গৌতমের মৃত্যু নেই by পাশা খন্দকার

গৌতম দাস কোনো রাজসংসারে জন্মগ্রহণ করেননি। অতি সাধারণ মানুষরূপেই গৌতম দাস এই সমাজের মানুষ। সমাজ পরিবর্তনের জন্য কেউ কেউ অতি সাহসী হয়ে ওঠে, আমাদের চারদিকে প্রচণ্ড ঝড় তুলে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এই তেজোদীপ্ত তরুণ গৌতম দাস তার নিজ জীবনাচরণে, নির্ভীকতায় এবং একান্ত সত্য কথা বলার প্রয়োজনে সমাজের সব অসঙ্গতি দূর করার বৃহৎ স্বার্থে একজন দুঃসাহসিক কলমযোদ্ধার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন।

শিক্ষা-মানসম্মত উচ্চশিক্ষার দুর্গম পথ by মোঃ আসাদুল্লাহ

বেষণার জন্য বরাদ্দ না বাড়ালে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু পাঠদান তথা জ্ঞান বিতরণ নয়, নতুন জ্ঞানেরও সৃষ্টি করা। প্রথম কাজটি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা গেলেও দ্বিতীয় কাজটিতে আশানুরূপ সাফল্য অর্জিত হয়নি। এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়েও সংস্থান করা কার্যত অসম্ভব। তাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একটা সময়োচিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি

কৃষি অর্থনীতি, কৃষকের অর্থনীতি by মাহবুব হোসেন

বারে প্রকৃতি খুব সদয় ছিল। নিয়মিত বৃষ্টির কারণে আমরা বলতে পারি এবার স্মরণকালের মধ্যে 'আমনের জন্য অন্যতম সেরা মৌসুম' ছিল। ফলন অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছে। এ অবস্থায় বোরো চাল যেসব চাষির ঘরে রয়েছে তারা গোলা খালি করতে শুরু করেছে। অতীতে আমন ধান ওঠার আগের দুটি মাস আশ্বিন-কার্তিককে মঙ্গার সময় বলে ধরা হতো। এ সময়ে ধান-চালের বাজার থাকত চড়া।

সড়কের গাছ চুরি-বৃক্ষেরও তবে পা গজায়!

নফুলের বিখ্যাত ছোটগল্প 'নিমগাছ'-এ আমরা দেখেছি, প্রশংসায় মুগ্ধ বৃক্ষটি কবির সঙ্গে চলে যেতে চাইলেও পারে না। শিকড়ের কারণে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কালিয়া সড়কের আট কিলোমিটার এলাকার ৭৬টি গাছও কি ওই সড়কে চলাচলকারী কোনো পথিকের পেছনে পেছনে চলে গেছে? সে ক্ষেত্রে শিকড় বোধহয় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

জাতীয় নির্বাচন ২০১৪-সংলাপের বিকল্প নেই

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখনই নানামুখী আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। দৃশ্যত এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও জোট পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক ধারা বিবেচনা করে অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী মনোভাব সাংঘর্ষিক এমনকি সংঘাতমূলক পরিস্থিতির

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্নধারার ক্লাব মনন by ইমদাদ হক

প্রতিনিয়ত পরির্তন ঘটছে আমাদের সমাজে। স্বাভাবিক জীবনধারা যেন হ্রাস পাচ্ছে। বাড়ছে অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা। ঘটছে ইভ টিজিং, বিয়ে বিচ্ছেদ, এমনকি খুনের মতো ঘটনা। এর প্রভাব পড়ছে তারুণ্যের ওপর। হাসি-আনন্দ আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। যা কিছু হচ্ছে তা অধিকাংশই মেকি ও কৃত্রিম। আমরা চাই জীবনটাকে প্রকৃত অর্থেই আনন্দময় করতে। পড়ালেখার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনের জন্য প্রয়োজন সৃজনশীল বিনোদন।

মেধাবীদের পাশে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি by জাবেদ ইকবাল

ন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল তৈরি ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১ জুন ২০০৩ সালে। উচ্চশিক্ষার অনুকূল একটি পরিবেশে যোগ্যতাসম্পন্ন ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অধ্যাপকদের পরিচালনার ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমাদৃত হয়েছে।

পড়ার বিষয়-এসিসিএ এবং এফআইএ by জাহাঙ্গীর আলম

ইচএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী চাহিদাসম্পন্ন ডিগ্রি নিয়ে পড়ালেখার পরিকল্পনা করে থাকে। সাধারণত বিবিএ, এমবিএ পড়তে এইচএসসির পর বিবিএর জন্য ৪ বছর, এমবিএর জন্য ১ বছর অর্থাৎ ৫-৬ বছর লেগে যায়। কিন্তু এইচএসসির পর শিক্ষার্থীরা ৩-৪ বছরে ব্রিটিশ সিএ সম্পন্ন করতে পারে। একই সঙ্গে পেতে পারে অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড অ্যাকউন্টিংয়ে অনার্স ডিগ্রি।

ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে চলছে ডিডিএস by জয়দেব দাশ ও সোহেল সামাদ

ডুয়েটের যান্ত্রিক জীবনে নিয়মতান্ত্রিক পড়াশোনার পাশাপাশি একটু আনন্দের স্বাদ খুঁজতে কিংবা একঘেয়েমি কাটিয়ে জীবনটাকে সৃষ্টিশীলতার রঙে রাঙাতে কতটুকু সময়ই আর অবশিষ্ট থাকে সেখানকার শিক্ষার্থীদের হাতে। তবে এর পরও নিজেকে একটু ব্যতিক্রমভাবে উপস্থাপন করার জন্য প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করার চেষ্টা করেন। তেমনি কিছু উদ্যমী শিক্ষার্থী, যারা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সত্যটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান জীবনে।

উত্তরায় চোরাই তেলের 'ভাসমান বাজার' by শহিদুল আলম

রাজধানীর উত্তরায় চলছে চোরাই তেলের জমজমাট বাণিজ্য। একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে গড়ে তুলেছে অবৈধ ব্যবসার শক্ত সিন্ডিকেট। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অসাধু গাড়ি চালকরা সুযোগ পেলেই এ চোরাই বাজারে তেল বিক্রি করছে। ফলে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গাড়ির মালিকরা। সম্প্রতি এই চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভুয়া কাগজপত্রে জামিন নিয়ে ফাঁসির আসামি পলাতক by ইন্দ্রজিৎ সরকার

গুলশানে চাঞ্চল্যকর দম্পতি খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ রুবেল ও মিথুন চন্দ্র ভুয়া কাগজে জামিন নিয়ে প্রায় ১০ মাস ধরে পলাতক। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর আদালত গ্রেফতারের নির্দেশ দিলেও তাদের খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, রুবেল ও মিথুন বিদেশে পালিয়ে গেছে। তবে নিহত দম্পতির স্বজনরা বলছেন, রুবেল রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় থাকে বলে তাদের কাছে খবর রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক থাকায় তারা আতঙ্কে দিনযাপন করছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা তীব্র যানজটে নাকাল

মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ২০-২৫ মিনিটের পথ এক ঘণ্টা ২০ মিনিটে এসেছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা হেলেন খান। তিনি জানান, প্রতিদিনই এভাবে যানজটে আটকে থাকতে হয়। এ রকম অবস্থা মোহাম্মদপুরের আসাদ এভিনিউ, সলিমুল্লাহ রোড, বাবর রোড, শেরশাহ সুরি রোড, জাকির হোসেন রোড, রাজিয়া সুলতানা রোড, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, মোহাম্মদপুর টাউন হল, শিয়া মসজিদ, সাতরাস্তাসহ পুরো এলাকার।

তারার চোখে দেখা

বারের ঈদে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরাও দেখার চেষ্টা করেছেন। ঈদের অনুষ্ঠান দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে কয়েকজন তারকা কথা বলেছেন নন্দনের সঙ্গে।রাইসুল ইসলাম আসাদ :ঈদের অনুষ্ঠান মানেই তো নাটক আর টেলিছবি দেখা। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন-চার দিন বেশ কয়েকটি নাটক ও টেলিছবি দেখেছি। এর মধ্যে নিজের অভিনীত কাজগুলো দেখেছি। এগুলো নিয়ে নানা ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছি।

প্রদীপ যেন না নেভে

বারের ঈদে মুক্তি পাওয়া সাতটি চলচ্চিত্র নিয়ে নিজের মন্তব্য জানিয়েছেন চলচ্চিত্রকার শহীদুল ইসলাম খোকন
চলচ্চিত্রের অবস্থা ভালো না, ভালো না, ভালো না। গত কয়েক বছর ধরে ভাঙা রেকর্ডের মতো এ কথাটিই কানে শুধু বাজছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাশতা-গোসলের পাট চুকিয়ে এফডিসিতে রওনা হই। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু হয় আড্ডা।

মানুষ মানুষের জন্যে... by মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

লে গেলেন যাযাবর শিল্পী ভূপেন হাজারিকা। গত ৫ নভেম্বর পরলোকগমন করেন তিনি। ভূপেন হাজারিকাকে স্মরণ করে নন্দনের পাঠকদের জন্য লিখেছেন গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানচলে গেলেন কিংবদন্তি সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ড. ভূপেন হাজারিকা। সন্দেহ নেই, উপমহাদেশের সঙ্গীতজগতে এ ক্ষতি অপূরণীয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর দু'মাস প্রায়।

টিভি চ্যানেলের ঈদ আয়োজন-মনে রাখার মতো কাজ কম by মঈন আবদুল্লাহ,মীরসামী ও সৈয়দ ইকবাল শিশির

প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের সব টিভি চ্যানেল ঈদ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চ্যানেলগুলো কী ধরনের অনুষ্ঠানকে এবার প্রাধান্য দিয়েছিল তা নিয়ে লিখেছেন মঈন আবদুল্লাহ, মীর সামী ও সৈয়দ ইকবাল শিশির
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিটিভিসহ দেশের অন্য সব টেলিভিশন চ্যানেল কমপক্ষে পাঁচদিনের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছিল।

ত থ্য বি চি ত্র-পক্ষীবৃত্তান্ত

পৃথিবীতে উড়ে বেড়ানো পাখির মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির নাম হামিংবার্ড। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কিউবার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। পাখিটির দৈর্ঘ্য ৫.৭ সেন্টিমিটার আর ওজন মাত্র ১.৬ গ্রাম।ষ ফ্লেমিংগো নামের পাখিটি দেখতে গোলাপি। এটির প্রধান খাদ্য ক্যারোটিনসমৃদ্ধ সমুদ্র চিংড়ি। জন্মের সময় পাখিটির পালক হয় ধূসর রঙের। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় রঙ। আস্তে আস্তে ধূসর থেকে তা গাঢ় গোলাপি রঙ ধারণ করে।

প্রা ণি জ গ ৎ-ব্যাঙ ভয়ঙ্কর!

বিশাল এক দৈত্য ঢুকে পড়েছে শহরে। ভেঙে সব চুরমার করে দিচ্ছে! দৈত্যটির হুঙ্কারে প্রকম্পিত হচ্ছে ভূমি, গাছপালা। দালানকোঠা নড়ে উঠছে! দৈত্যটি ধরতে পিছে পিছে ছুটছে আইন-শৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ সাংবাদিকরা। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই দৈত্যটিকে থামানো যাচ্ছে না, ধরে ফেলা তো দূরের কথা। বিশালদেহী প্রাণীটির কাছে মানুষ পিঁপড়ার মতোই অসহায়। রূপকথার এ দৈত্যটির নাম গডজিলা।

নিয়মিত অভিনয়ের ইচ্ছা আছে

দের পর কবে থেকে কাজ শুরু করেছেন?ঈদের পর গত সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছি। এখন ধারাবাহিক নাটকগুলোর কাজ করছি। আগামীকাল থেকে তিনটি এক ঘণ্টার নাটকের কাজ শুরু করব।ষ ঈদে আপনার অভিনীত নাটকগুলো নিয়ে কেমন সাড়া পেয়েছেন?এককথায় বলতে গেলে দারুণ সাড়া পেয়েছি। ঈদের আগে একটি বিজ্ঞাপন চিত্রের দৃশ্যধারণের জন্য আমাকে ভারতে যেতে হয়েছিল।

অর্থহীন ও অসমাপ্ত-২-মাসখানের আগে মুঠোফোনে রিলিজ হয়েছিল অর্থহীনের ষষ্ঠ একক অ্যালবাম 'অসমাপ্ত-২'। অ্যালবামটি ডেডলাইন মিউজিকের ব্যানারে সিডি আকারে বাজারে আসছে চলতি মাসেই। অর্থহীন ও তাদের নতুন অ্যালবাম নিয়ে এই প্রতিবেদন। by রবিউল ইসলাম জীবন

মরা সব সময়ই অল্প সময় নিয়ে অ্যালবাম করে থাকি। এই অ্যালবামটি করেছি মাত্র ৯৬ ঘণ্টায়। এতে মূলত দুই ধরনের গান আছে। মেলোডি ও হেভি মেটাল। তবে সুর ও সংগীতে বরাবরের মতো এবারও আমরা ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করেছি।' ব্যান্ডের ষষ্ঠ একক অ্যালবাম 'অর্থহীন-২' সম্পর্কে বলছিলেন অর্থহীনের সুমন। এত অল্প সময়ে অ্যালবাম করার রহস্যটা কী! বলেন, "অ্যালবাম করার জন্য আমরা সব সময় কম সময় নিই।

এক জীবন-এর গায়ক by কামরুজ্জামান মিলু

'এক জীবনে এত প্রেম পাব কোথায়'_রাস্তায় বের হলেই এখন শোনা যাচ্ছে এ গান। কলকাতার শুভমিতার সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সৈয়দ শহীদ। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু'নীলাম্বরী' অ্যালবামটি প্রকাশের কয়েক দিন পরই সৈয়দ শহীদের মুঠোফোনে অন্য রকম একটি কল আসে। একটি মেয়ের কল। শহীদ ফোন ধরতেই মেয়েটি বলে, 'আমি আপনার গানে এক সত্যিকারের শিল্পী ও মানুষের দর্শন পেয়েছি।

দুজনই সমান সমান by সৌরভ রাহমান

রামপুরার একটি ব্যাচেলর বাড়িতে ছোট্ট কক্ষে ভাড়া থাকেন লিখন। নাচের অনুষ্ঠান, শুটিং কিংবা নাচের ক্লাস শেষে ব্যাচেলর বাড়ির ছোট্ট কক্ষটিই হয়ে ওঠে তাঁর অবসরের আড্ডাস্থল। তাই বলে কিন্তু লিখনকে একেবারেই ঘরকুনো স্বভাবের বলা যাবে না। কারণ আর কিছু নয়, খ্যাতির বিড়ম্বনা। লিখন বলেন, 'আড্ডা দেওয়ার জায়গা কোথায় রে ভাই! আর দশটা মানুষের মতো যে পার্ক রেস্টুরেন্ট, মার্কেট বা যেখানে-সেখানে আড্ডা দিয়ে সময়টাকে নিজের মতো

খাপছাড়া ফন স্যান্ট by পিপ্পলি কেয়ারি

সাধারণ পরিচালকদের কাছে চলচ্চিত্র মানেই নিয়মের ছড়াছড়ি। ধরুন, কোনো ব্যক্তি তাঁর বন্ধুর বাড়িতে যাবেন। তিনি গাড়িতে উঠলেন। গাড়ির ইঞ্জিন চালু হলো। চাকা ঘুরল। বন্ধুর বাড়ির সামনে থামল গাড়ি। এরপর দ্রুত বন্ধুর বাড়িতে ঢোকার পরই শুরু হলো সংলাপ। বেশির ভাগ পরিচালক কিংবা চিত্রনাট্যকার তাঁদের অবচেতন মনে ছোটেন সংলাপের পেছনে। তবে সবাই একভাবে চিন্তা করেন না। মার্কিন পরিচালক গাস ফন স্যান্ট ব্যতিক্রমী একজন।

সিরিয়ালের সুন্দরীরা by অনন্য রেজা করিম

রোয়া বিনোদনে হিন্দি টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা কোনোভাবেই কমছে না। বিচিত্র স্বাদের রিয়ালিটি ও গেম শোর প্রচার বাড়ছে বলেই হয়তো দর্শকদের আলোচনায় প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকছে হিন্দি সিরিয়ালেরনাম।সিরিয়ালগুলোকে যথাসম্ভব আকর্ষণীয়, জমজমাট ও গ্ল্যামারাস করে তুলতে নির্মাতাদের চেষ্টার অন্ত নেই। পাত্র-পাত্রীদের সাজ-পোশাক থেকে শুরু করে সেট ডিজাইন, লোকেশন নির্বাচন, নাচ ও সংগীতের যথাযথ ব্যবহারের পাশাপাশি সুন্দর মুখের

ঈদের ছবির হালহকিকত by সুদীপ কুমার দীপ

দে এবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি ছবি। এর মধ্যে শাকিব খানেরই রয়েছে 'প্রিয়া আমার জান', 'কিং খান' ও 'বস নাম্বার ওয়ান' নামের তিনটি ছবি। বাকি দুটি ছবির মধ্যে 'ছোট্ট সংসার' ছবিটিতে ডিপজল, মারুফ এবং 'প্রজাপতি' ছবিটিতে জাহিদ হাসান ও মোশাররফ করিম অভিনয় করেছেন। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের প্রেক্ষাগৃহগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ছবিগুলোর হালহকিকত নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

ব্যবচ্ছেদ-সীমিত আকাশ, তবুও প্রজাপতিটা উড়ল by দাউদ হোসাইন রনি

ছবির নাম : প্রজাপতি
পরিচালক : মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ
অভিনয়ে : মৌসুমী, জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম, কচি খন্দকার, সোহেল খান প্রমুখ
মুক্তির তারিখ : ৭ নভেম্বর
রেটিং : ৩/৫

দরগাতলায় মন মজেছে...by শাকিল ফারুক

কার্তিক মাসের পূর্ণিমা রাত। কুয়াশা আর জোছনায় মাখামাখি চারপাশ। ইছামতীর বুকে এখন পানি কম। সেই পানিতেই আকাশ থেকে নেমে এসেছে ভরা চাঁদ। শীতল বাতাস কাঁপন তুলছে জলে, টলমল করছে কাঁসার থালার মতো চাঁদটাও। চাঁদের টলমলানো দেখতে দেখতে জোছনায় নদীর অদূরের মেঠোপথ ধরে হেঁটে চলেছি। সঙ্গে তিন বন্ধু_সজীব, সুমন আর তন্ময়। গন্তব্য দোসরপাড়া টেকেরহাট। উদ্দেশ্য লালন সাঁইয়ের গান শোনা।

তাঁর সঙ্গে কিছু সময়

কটি মিঙ্ড অ্যালবামের কাজ করতে সম্প্রতি মুম্বাইয়ে যান গীতিকার জুলফিকার রাসেল। সেখানে তিনি দেখা করেন আশা ভোঁসলে, সনু নিগাম ও জাবেদ আলীর সঙ্গে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন তিনি।আমার মাথায় সব সময়ই বড় ও ব্যতিক্রমী কিছু একটা করার চিন্তা ঘুরপাক খায়। প্রতিটি মানুষের জীবনেই হয়তো এ রকম স্বপ্ন থাকে। তবে এই স্বপ্ন দেখতে যে সাহস লাগে, সেটা আমার ছিল।

মৌমাছি মৌ

দীর্ঘদিন ধরেই টিভি পর্দায় অনুপস্থিত ছিলেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। একটা সময় বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে বেশি দেখা গেলেও, এখন মৌকে অভিনেত্রী হিসেবেই দেখা যাচ্ছে বেশি। গত ঈদে প্রচারিত হয়েছে তাঁর অভিনীত তিনটি নাটক। তাঁর ক্যারিয়ারে এমনটি এর আগে ঘটেনি। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন গোলাম রাব্বানী, ছবি তুলেছেন নাভিদ ইশতিয়াক তরু

হোয়াইট হাউসের জানালায় লাগা গুলির খোঁজ মিলেছে

হোয়াইট হাউসের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী জানালার কাচে আঘাত করে নিচে পড়ে যাওয়া একটি গুলির খোসা খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল থেকে বের হয়েছে গুলিটি। কাছাকাছি জায়গা থেকে আরো একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য জানান। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে খুঁজছে বলেও জানান তাঁরা।

সুপ্রিম কোর্টের রায়-জুকোটি পার্কে অভিযান বৈধ ছিল, শিবির করা যাবে না

নিউ ইয়র্কে জুকোটি পার্ক থেকে 'ওয়াল স্ট্রিট দখল করো' আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিতে চালানো পুলিশি অভিযান বৈধ ছিল। বিক্ষোভকারীরা অভিযান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেলে নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার এ রায় দেন। একই সঙ্গে পার্কে কোনো শিবির স্থাপন করা যাবে না বলেও রায় দেন আদালত। তবে এ রায় সত্ত্বেও মঙ্গলবার রাতেই পার্কে ফিরে যায় অসংখ্য বিক্ষোভকারী।

দীর্ঘমেয়াদে ঘাঁটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত মানতে হবে : কারজাই

ফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের ব্যাপারে কয়েকটি শর্ত বেঁধে দিয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগানিস্তানে রাত্রীকালীন সামরিক অভিযান ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। নিরাপত্তাসংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিই যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা করবে বলেও মত দিয়েছেন কারজাই। কাবুলে উপজাতীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গতকাল বুধবার কারজাই এসব কথা বলেন।

অন্য দেশ-আলজেরিয়া

ভূমধ্যসাগরের তীরে উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। সুদান ভাগ হয়ে যাওয়ার পর আলজেরিয়া এখন আয়তনে আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশ। পাশাপাশি আরব বিশ্ব ও ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যেও আয়তনে আলজেরিয়া সবার বড়। আর বিশ্বের দশম বৃহত্তম দেশ আলজেরিয়া। এর উত্তর-পূর্বে তিউনিসিয়া, পূর্বে লিবিয়া, পশ্চিমে মরক্কো, দক্ষিণ-পশ্চিমে সাহারা মরুভূমির পশ্চিমাঞ্চল, মৌরিতানিয়া ও মালি।

স্টেম সেল গবেষণা বন্ধ করল পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান জেরন

হবিলের অভাবে স্টেম সেল গবেষণা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বে স্টেম সেল গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান জেরন করপোরেশন। কম্পানিটির এ সিদ্ধান্ত স্টেম সেল গবেষণায় বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করছেন অনেক বিজ্ঞানী। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অর্থের অভাব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে এমব্রিয়ানিক (ভ্রূণজাত) স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা বন্ধ করছে তারা।

আরব লিগের বৈঠক সিরিয়ার বর্জন-দামেস্কে গোয়েন্দা ঘাঁটিতে হামলা, তুরস্কের সঙ্গে টানাপড়েন

সিরিয়া বিষয়ে গতকাল বুধবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে আরব লিগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ওপর চাপ বাড়াতে পরবর্তীকরণীয় ঠিক করতেই তাঁদের এ বৈঠক। বৈঠকে সিরিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও আসাদ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে চলমান সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সফরে ওবামা-আড়াই হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা-* আগামী বছর থেকে ডারউইনে মেরিন সেনা মোতায়েন শুরু হবে * চীনের উদ্বেগ

স্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সামরিক বন্ধন আরো জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরিতে আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন করা হবে। গতকাল বুধবার ক্যানবেরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।২৮ ঘণ্টার সফরে গতকাল অস্ট্রেলিয়ায় পেঁৗছান ওবামা। আজ বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ম্যানিলায় হিলারির গাড়িবহরে হামলা

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় হিলারির গাড়িরবহর ভিন্ন পথ ধরতে বাধ্য হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে।ম্যানিলা সফররত হিলারি গতকাল প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন মালাক্যানাং প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট বেনিনিয়ো অ্যাকুইনোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ম্যানিলার মার্কিন দূতাবাসে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহ তায়ালা দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে তুলতে চান

৩. ফাতাওয়াল্লা- আ'নহুম ওয়া ক্বা-লা ইয়া-ক্বাওমি লাক্বাদ আবলাগ্তুকুম রিছালাতি রাব্বী ওয়া নাসাহ্তু লাকুম; ফাকাইফা আ-ছা- আ'লা- ক্বাওমিন কা-ফিরীন।৯৪. ওয়া মা- আরছালনা- ফী ক্বারইয়াতিম্ মিন্ নাবিয়্যিন ইল্লা- আখায্না- আহ্লাহা- বিলবা'ছা-য়ি ওয়াদ্দ্বার্রা-য়ি লাআ'ল্লাহুম ইয়াদ্দ্বার্রাঊ'ন।৯৫. ছুম্মা বাদ্দালনা- মাকা-না চ্ছায়্যিআতিল হাছানাতা হাত্তা- আ'ফাওঁ ওয়া ক্বা-লূ ক্বাদ মাচ্ছা আ-বা-আনাদ্ দ্বার্রা-উ ওয়াচ্ছার্রা-উ ফাআখায্না-হুম বাগ্তাতাওঁ ওয়াহুম লা-ইয়াশউ'রূন।

বয়ঃসন্ধি নয়, জন্ম থেকেই মেয়েরা বৈষম্যের শিকার by লুৎফর রহমান রনো

কিছুদিন আগে 'এ পারসপেকটিভ অন জেন্ডার ইকোয়ালিটি ইন বাংলাদেশ' শিরোনামে ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তাতে গবেষণালব্ধ যেসব তথ্য-পরিসংখ্যান রয়েছে, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নারী-পুরুষ বৈষম্যের মাত্রা উপলব্ধির জন্য; এতে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। তবে তথ্যের সঙ্গে তত্ত্বের অমিল রয়েছে বলে আমি মনে করি।

চালচিত্র-তিস্তা চুক্তিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ by শুভ রহমান

দেশের এখানে-সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু আশার আলো জ্বললেও তিস্তা চুক্তিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো নয়। নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। খোদ সরকারের ভেতরের লোক, শাসক আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মন্ত্রিসভার পুনর্মূল্যায়ন চেয়েছেন। মুখর উপদেষ্টা ওবায়দুল কাদেরও। বিরোধী দলকে তাঁরা ছাড় দেবেন না, কিন্তু সরকারের ব্যাপারেও তাঁরা দুর্মুখ। সরকারের ভেতরের সমালোচনা ক্রমেই আরো স্পষ্ট হচ্ছে।

ভাসানী : তোমাকে যেন ভুলে না যাই by গাজীউল হাসান খান

সাম্রাজ্যবাদ কিংবা সামন্তবাদ, আধিপত্যবাদ কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠীর যেকোনো অপশাসন, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনতার যে নেতার দুটি সংগ্রামী হাত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে খোলা তরবারির মতো বারবার ঝলসে উঠত, ১৭ নভেম্বর সে নেতার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের ইতিহাসে এক আপসহীন সংগ্রামী নেতার নাম, যিনি ভোগের নয়, ত্যাগের ও আদর্শের রাজনীতি করে ৯৬ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন।

কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তিটি কার স্বার্থে? by প্রশান্ত মাহমুদ

বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন কম্পানি কনোকো-ফিলিপসের মধ্যে গত ১৬ জুন একটি প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বা উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির ফলে কনোকো-ফিলিপস বাংলাদেশের সমুদ্রবক্ষের ১০ ও ১১ নম্বর গ্যাস ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের অধিকার লাভ করল। এখন পর্যন্ত এ চুক্তি সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে বলা যায় এটি জনস্বার্থবিরোধী।

সাদাকালো-ঢাকা বিভাজন বাস্তবতাভিত্তিক নয় by আহমদ রফিক

ন্দেহ নেই, ঢাকা মহানগরের জনসংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে তীব্র হয়ে উঠছে যানজট থেকে নানা সমস্যা_শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ইত্যাদি। এসব সমস্যা নিয়েই ৪০০ বছরের ঢাকা, ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আমাদের জন্য গর্ব ও গৌরবের। পুরান ঢাকার অনেক ঐতিহ্য নিয়ে শুধু ঢাকাইয়ারা নন, নতুন ঢাকা যদি বলি, উত্তর ঢাকার মানুষও রীতিমতো কৌতূহলী ও আগ্রহী, তাহলে ভুল বলা হবে না।

চরাচর-ছব্বিশা গণহত্যা দিবস

৭ নভেম্বর ১৯৭১ সাল ছাবি্বশা গণহত্যা দিবস। টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর সদর উপজেলা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাবি্বশা গ্রাম। বর্তমানে এটি ভূঞাপুর পৌরসভার অধীন। গ্রামটি মুক্তিযুদ্ধের সময় গোবিন্দাসী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৭১ সালে ছাবি্বশা গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক খণ্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধের শেষে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামটিতে গণহত্যা চালায়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-সরকারের নতি স্বীকার প্রত্যাশিত নয়

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব কানাডার একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রদানের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করার ঘটনাটি উদ্বেগজনক। কানাডার একটি কম্পানি_ভিজ্যুয়াল ডিফেন্স ইনকরপোরেশনকে কাজ দেওয়ার জন্য কারা চাপ প্রয়োগ করছে, তা সংবাদে স্পষ্ট না হলেও প্রভাবশালী মহল যে এর পেছনে কাজ করছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

শেয়ারবাজার-কারসাজির আশঙ্কাও অমূলক নয়

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার নিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যে ঘটনাপ্রবাহ ঘটে চলেছে, তা বোধ হয় বিশ্বে নজিরবিহীন। শেয়ারবাজারের পতন ঠেকাতে ব্যবহৃত সব টোটকাই ব্যর্থ। কিসে বাজার পড়ে, আর কিসে বাজার ওঠে, সেটা নির্ণয় করা কঠিন। ঈদের আগে থেকেই বাজার ছিল নিম্নগামী। ঈদের পর সে বাজার ওঠেনি। ৯ দিন বন্ধ থাকার পরও ঠেকানো যায়নি বাজারের দরপতন। গত মঙ্গলবার বাজার নেমে যায় দুই বছর আগের অবস্থানে।

'আওয়ামী লীগই কেবল উন্নয়নের রাজনীতি করে'-এমপির বয়ান

সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, 'সরকারের এই আড়াই বছরে মঠবাড়িয়ায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আর কোনো এমপি করতে পারেননি। তিনি তাঁর ব্যাপক উন্নয়ন তুলে ধরে বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। তুষখালী থেকে সাপলেজা ২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ হবে।

সড়কের ভোগান্তি গেল না

সংসদ নির্বাচনের প্রধান প্রতিশ্রুতি চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা বেহাল সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণ। প্রতিশ্রুতি থাকলেও সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে সড়কের পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে কাদা-পানির সড়কে পরিণত হয়েছিল। তখন ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। আর এখন ওই সড়কে মানুষের পায়ে চলাও দায়।

এমপির উদারতা!

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ার হোসেন ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ওই বছর বরিশাল আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগে তিনি কয়েক বছর এলাকায় গণসংযোগ আর বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে জনপ্রিয় হন।

মঠবাড়িয়া : বিএনপি-দুলাল বনাম মিলন

ঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন দুলাল, কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) শাহজান মিলন। এই দুই নেতা গত সংসদ নির্বাচনে একত্র হয়ে নির্বাচন করেছেন। ওই নির্বাচনে এ আসনে বিএপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন কর্নেল শাহজাহান মিলন। আর এ নির্বাচনের সমন্বয়কারী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহল আমীন দুলাল। এখন এই দুই নেতার গতিপথ দুই দিকে বেঁকে গেছে।

প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি-পাওয়া না-পাওয়ার দুঃখ

ঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহাজোট প্রার্থী মানুষের ভোট নেন। কিন্তু আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ দূরে থাক, বর্তমান সরকার এ সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়ার পরেও গত আড়াই বছরে কোনো কাজ হয়নি। ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ অব্যাহত আছে।পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে গত নির্বাচনে প্রধান দুই দলই প্রায় একই রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মহাজোটের মহাপ্রতিশ্রুতি ছিল এবারের নির্বাচনের প্রাক্কালে।

মঠবাড়িয়া : আওয়ামী লীগ-বিভক্তি নিয়েই চলছে by দেবদাস মজুমদার,

০০৩ সালের পর মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত না হওয়া, সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দলের সিনিয়র দুই নেতার দলীয় পদ স্থগিত, উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর দলের কতিপয় দলীয় নেতা-কর্মীর হামলা-মামলা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিভক্তি নিয়েই চলছে এখানকার আওয়ামী লীগের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এসব কারণে দলের কর্মকাণ্ড ছিল অনেকটাই স্থবির।

মুখোমুখি প্রতিদিন-বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেটপ্রেম দেখে আমি মুগ্ধ

নামের পাশে বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার তকমাটা লাগানো। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ওপেনার স্টেফানি টেইলরের কাছে তাই তাঁর দলের প্রত্যাশাটা অনেক বেশি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে টেইলরও জানিয়েছেন সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রস্তুত তিনি। কত দূর নিয়ে যেতে পারবেন টেইলর তাঁর দলকে? বাকি ম্যাচগুলোর প্রতিপক্ষদের নিয়ে তাঁর ভাবনাটাই বা কী রকম? কালের কণ্ঠ সপোর্টসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে স্টেফানি টেইলর জানিয়েছেন সেসব কথা
প্রশ্ন : প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি পেলেন। কেমন লাগছে?

আর্জেন্টিনার জয়

গোল পেয়েছেন মেসি। সে সুবাদে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাঙ্ক্ষিত জয় পেয়েছে দু'বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কলম্বিয়ার বারানকুইলাতে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি ও সার্জিও আগুয়েরো করেছেন গোল দুটো। এ জয়ের ফলে চার ম্যাচ শেষে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলার সঙ্গে যুগ্মভাবে পয়েন্ট

ডাক পেলেন মাশরাফি

যেদিন চট্টগ্রাম থেকে ব্যাগ গুছিয়ে ঢাকা রওনা হয়েছিলেন, সেদিনই কানাঘুষা শুরু হয়েছিল_ ফিরে আসতে পারবেন তো আশরাফুল? শুনতে পেয়েছিলেন কি-না আশরাফুল জানা নেই, তবে নিশ্চিত, তিনি আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। আর সে কারণেই মিডিয়ায় বোর্ড সভাপতিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। তারপর শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে জরিমানার মুখে পড়ে নিজের অবস্থান আরও নড়বড়ে করে ফেলেন আশরাফুল।

পাকিস্তান-উইন্ডিজ হাইভোল্টেজ ম্যাচ

শুধু কি জয় পেলেই সুখী থাকা যায়, শুধু রান পেলেই কি মুখে হাসি আনা যায়। এমন তত্ত্বে বিশ্বাস করেন না আইরিশ মেয়েরা। ঢাকায় আসার পর থেকেই দারুণ হাসিখুশি তারা। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত দুটি ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই হেরেছে। কিন্তু তারপরও অনুশীলনে সবসময়ই প্রাণবন্ত এ দলটি। গতকালও দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ক্রিকেটার এলিনা টাইসির ১৪তম জন্মদিন পালন করল তারা মিরপুরের একাডেমী মাঠে বেশ ধুমধাম করেই।

কে হচ্ছেন বিসিবির প্রার্থী?-কামাল-সাবেরের নামও আলোচনায় by রানা হাসান

বিশ্ব ক্রিকেটের শাসক সংস্থা আইসিসির প্রেসিডেন্ট পদটি প্রথাগতভাবেই পূরণ হয়ে আসছে রোটেশন পদ্ধতিতে। সমঝোতার এই পদ্ধতির কারণেই অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান-ইংল্যান্ড-ভারতের প্রতিনিধিত্ব থাকছে আইসিসির এই শীর্ষ পদটিতে। গত বছর হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়েছিল এই রোটেশন পদ্ধতি। পরে অবশ্য অবশিষ্ট পূর্ণ সদস্য দেশগুলোকে সুযোগ দেওয়ার স্বার্থে সেই রোটেশন পদ্ধতি পুনর্বহালে বাধ্য করা হয় আইসিসির নির্বাহী কমিটিকে।

অস্ট্রেলিয়ায় সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন।অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গিলার্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন ওবামা। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন তিনি। তবে ওবামার এ উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন।

মঙ্গলে প্রথম পদচিহ্ন হবে নারীর!

নিল আর্মস্ট্রং তার দুই পুরুষ সহযাত্রী নিয়ে চাঁদের বুকে এঁকেছিলেন প্রথম মানুষের পদচিহ্ন। এবার বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মঙ্গলে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আঁকতে পারেন কোনো নারী নভোচারী। ২০৩৩ সাল নাগাদ গ্রহটির দুটি চাঁদের যে কোনো একটিতে তারা অবতরণ করার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। খবর ডেইলি মেইলের। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যতটা মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব তার চেয়ে ১৫০ গুণ বেশি।

সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে বিদ্রোহী সেনাদের হামলা

সিরিয়ার স্বপক্ষত্যাগী সেনা দল 'ফ্রি সিরিয়ান আর্মি (এফএসএ)' অস্থায়ী সামরিক পরিষদ গঠন করে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বিদ্রোহী সেনারা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ঘাঁটিতে হামলা করেছে। এদিকে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আরব লীগের বৈঠক থেকে বলা হয়েছে, সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি দেশটিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে আরব লীগ।

মেয়েদের ক্রিকেটে 'আগামীর শেন ওয়ার্ন' by কামরুল হাসান

প্রথম দেখায় মনে হবে 'দ্য গার্ল নেঙ্ট ডোর' সিনেমার সেই মেয়েটি। যার হাসিতে দোলে পাশের বাসার কিশোরের হৃদয়!ভুলটা ভাঙল এলেনা টাইসকে বোলিং করতে দেখার পর। নেটে ঘেরা মিরপুরের অনুশীলন উইকেটে বেশ কয়েকটা বল এত ভালো টার্ন নিল যে পাশে দাঁড়ানো এক সহকর্মী বলেই ফেললেন, এ যে রীতিমতো বিষ মাখানো বল! বাংলাদেশের বিপক্ষে এমন বল করলে তো...

কথার জবাব মাঠে দিয়েই মূল পর্বে পর্তুগাল by শাহজাহান কবির

প্রথম লেগে খেলা হয়েছিল বসনিয়ার 'বিলিনো পোলিজে' মাঠে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভাষায়, সেটা কোনো মাঠ ছিল না, মনে হয়েছে সবজি বাগানে খেলছেন! পাল্টা টিপ্পনি কাটতে ছাড়েননি বসনিয়ার ফুটবলাররাও। তবে ইউরোর বাছাই পর্বের ফিরতি লেগে বসনিয়ানদের বড় বড় কথা কোনো কাজে আসেনি। বেনফিকার পরিচিত মাঠে চেনা চেহারাতেই দেখা দিয়েছেন রোনালদো, তাঁর জোড়া গোলেই প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে বসনিয়া-হার্সেগাভিনাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০১২ ইউরোর টিকিট কেটেছে পর্তুগাল।

গ্র্যান্ডমাস্টাররা সরে যান, মোকাদ্দেস তবু থেকে যান by শাহজাহান কবির

নেক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়েই দাবায় দুই বছর পার করে দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসেন। অথচ তিনি নির্বাচিত কেউ নন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় চাইলে অ্যাডহক কমিটিতে বদল আনতেই পারত। কিন্তু আনেনি, তাঁকে বহাল তবিয়তে রেখে দাবা থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে দুই গ্র্যান্ডমাস্টার আবদুল্লাহ আল রাকিব ও এনামুল হোসেন রাজীবকে।

সুনামগঞ্জে ধানের অনুপযুক্ত ১২০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ by শামস শামীম,

ধান চাষের অনুপযুক্ত বিস্তীর্ণ বালুভূমিতে শিম চাষ করেছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মথুরাকান্দি ইউনিয়নের চাষিরা। শিম চাষে এলাকার পাঁচ শতাধিক কৃষক পরিবার এখন স্বাবলম্বী। সরেজমিন ইউনিয়নের বাঘবের, আক্তাপাড়া, চালবন্দ, মাঝের টেক, জিনারপুর, রামপুর, ঘরেরগাঁও ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চাষ হয়েছে সবুজ শিম। উত্তরে হাওয়ায় ঢেউ খেলানো ক্ষেত থেকে মনের আনন্দে শিম তুলছেন কৃষকরা।

আমদানি নিষিদ্ধ হয়নি ইজি বাইক-নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সংযোজনের অভিযোগ by শেখ শাফায়াত হোসেন

বিদ্যুৎ খরচের কারণে দেশে ইজি বাইক আমদানি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকদের দাবিতে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অভিযোগ উঠেছে, অধিক মুনাফার আশায় কিছু আমদানিকারক ও খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রেতা ইজি বাইকের সংযোজনের সময় নিম্নমানের টায়ার, ব্যাটারি ও চার্জার ব্যবহার করছেন। আর এতে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল ক্রেতারা।

সংশোধন হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকিং গাইডলাইন-৩২০০ কোটি উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহারে আসছে by মজুমদার বাবু

সলামী ব্যাংকিং গাইডলাইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য ইসলামী ব্যাংকগুলো, প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং উইংগুলো ব্যবহার করতে পারবে। এতে বাজারে বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোয় যে তারল্যের চাপ রয়েছে, তা অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।

মন্দা কাটছে স্থানীয় বিনিয়োগে-অক্টোবরে সাত হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন-টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগ আসছে সবচেয়ে বেশি by আবুল কাশেম

স্থানীয় বিনিয়োগ নিবন্ধনে মন্দা কাটতে শুরু করেছে। অক্টোবর মাসে ১৭২ শিল্প ইউনিটে সাত হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করেছে বিনিয়োগ বোর্ড। টাকার অঙ্কে অক্টোবর মাসে বিনিয়োগ নিবন্ধনের পরিমাণ আগের দুই মাসের সমষ্টির দ্বিগুণ। আর একক খাত হিসেবে টেঙ্টাইল খাতে বিনিয়োগ আসছে সবচেয়ে বেশি।জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ১২৭টি ইউনিটে চার হাজার ৯১২ কোটি টাকা, আগস্ট মাসে ১৩১টি

নির্বাচনে দলবদলের সুযোগের পক্ষে এরশাদ, ইসির 'না' by কাজী হাফিজ

ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনে দলবদলের পক্ষে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিতে বলেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামসুল হুদার কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, 'কে কখন কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, কখন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা সংবিধান প্রদত্ত তাঁর নাগরিক অধিকারের বিষয়।

রংপুর চিড়িয়াখানায় সিংহ সম্রাটের পর লাইলীর মৃত্যু by মানিক সরকার,

রংপুর চিড়িয়াখানার পশুরাজ সিংহ স্বামী সম্রাটকে ছয় মাস আগে হারানোর বেদনা আর নিঃসঙ্গতায় অবশেষে স্ত্রী লাইলীও গতকাল বুধবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এদিকে ছয় মাস আগে বাবা আর গতকাল মাকে হারিয়ে তাদের দুই সন্তানও কিছুটা নিশ্চুপ হয়ে যায়। লাইলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে সাংবাদিকরা মৃতদেহের ছবি তুলতে গেলে দেখা যায় দুই শাবক ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে আছে মৃত মায়ের দিকে।

প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শেয়ার কিনছে না ব্যাংকগুলো by আনোয়ার ইব্রাহীম

ফের বিনিয়োগে ফেরার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংক এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি। ঘোষণার পর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্যাংকগুলো সাকল্যে ১১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, যা এ সময়ে শেয়ারবাজারের মোট লেনদেনের মাত্র ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো শেয়ার কিনছে না।

প্রতীক্ষার অবসান-ঐশ্বরিয়ার কোলজুড়ে ফুটফুটে মেয়ে by মঈন আবদুল্লাহ

বশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই গতকাল বুধবার সকালে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন। শ্বশুর অমিতাভ বচ্চন উচ্ছ্বসিত হয়ে নিজের টুইটারে লিখেছেন, 'আমি ছোট্ট একটি খুকির দাদা হয়েছি।' দাদা হওয়ার খবর জানিয়ে উচ্ছ্বসিত অমিতাভ টুইটারে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, 'দাদাজি হয়ে আমি খুব উৎফুল্ল।' হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মা ও শিশু দু'জনই সুস্থ।

কোটালীপাড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী-খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না by অমরেশ রায়,

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধ বিচারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে পারবেন না। তার আন্দোলন দেশের মানুষ মেনে নেবে না। এ বিচার এখন মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবেই।প্রধানমন্ত্রী বুধবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সরকারি শেখ লুৎফর রহমান কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন।

পরিকল্পনাকারীদের একজন গ্রেফতার :মন্ত্রীর ভাইকে ধরতে অভিযান by পিনাকি দাসগুপ্ত ও প্রীতিরঞ্জন সাহা

রসিংদী পৌর মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম একজনকে গতকাল বুধবার রাজধানী থেকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের অর্থের জোগান থেকে শুরু করে সবকিছু গ্রেফতারকৃত এ ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। ওই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামিদের গ্রেফতারে জন্য ঢাকা ও নরসিংদীতে পুলিশের ১০টি টিম কাজ শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সব কিছু করা হবে

শেয়ারবাজারে দরপতন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা দরকার করা হবে। শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে বাজারসংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে গণভবনে দীর্ঘ বৈঠকে তিনি ওই নির্দেশনা দেন।

ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের 'থ্রি আর' প্রকল্প-আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দশ মাসেও চালু হয়নি-আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে by ভূঁইয়া নজরুল,

নুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দশ মাসেও চালু হয়নি ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের 'থ্রি আর' প্রকল্পের কার্যক্রম। গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জৈবসার তৈরি ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আবার ব্যবহারের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ১৯ কোটি ৯ লাখ টাকার প্রকল্পটি গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ উদ্বোধন করেন।অনুমোদনের এক বছর পর উদ্বোধন হওয়া ওই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হচ্ছে।

মহাকরণে দীপু মনির সাক্ষাৎ-তিস্তা চুক্তিতে দুই বাংলারই স্বার্থ দেখতে হবে : মমতা by সুব্রত আচার্য্য,

শ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ দেখে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় মহাকরণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'কেউ কেউ বিশেষ করে কিছু মিডিয়ায় তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে।

গোপালগঞ্জে দিনভর নানা কর্মসূচি-যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা সফল হবে না : প্রধানমন্ত্রী by পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য ও প্রসূন মণ্ডল

বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি 'যুদ্ধাপরাধীদের' বাঁচানোর চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে খালেদা জিয়ার চেষ্টা সফল হবে না। এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে।'গতকাল বুধবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

ব্রোকারেজ হাউসগুলো আখের গোছাচ্ছে by তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু

শেয়ারবাজারের চরম মন্দায় পুঁজি হারিয়ে পথে বসছেন ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা। আর তাদের পোর্টফোলিও থেকে শেয়ারের 'ফোর্সড সেল' করে নিজেদের টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। বাজার মূলধন, শেয়ারের দর দুই-ই তলানিতে এসে ঠেকেছে। অথচ হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বলে চিহ্নিত বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তহবিল গঠনকারী ব্যবস্থাপনা কম্পানিগুলো।

অবসরপ্রাপ্ত দুই মেজরের কথা by মাহবুব তালুকদার

গুরুদেব যোগাসনে ধ্যানস্থ হইয়া বসিয়াছিলেন। শিষ্য তাহার মুখশ্রী অবলোকন করিতেছিল। ধ্যানমগ্ন অবস্থায় গুরুদেবের মুখমণ্ডল হইতে ঐশ্বরিক বিভা ছড়ায়। চতুষ্পার্শ্ব যেন আলোকিত হইয়া ওঠে। উহা দেখিয়া শিষ্য একপ্রকার অভিভূত হইয়াছিল। একসময়ে গুরুদেবের চক্ষুদ্বয় উন্মীলিত হইল। তিনি শিষ্যের প্রতি দৃকপাত করিয়া কহিলেন, বত্স! অবধান করো। আপনার যথা আজ্ঞা প্রভু! শিষ্য অবনত শিরে কহিল। তুমি কি দুই মেজরের আইনি লড়াই সম্পর্কে অবহিত আছো?

চট্টগ্রামে মাদকঃ ১৮০ স্থানে মাদকের বেচাকেনা by একরামুল হক ও প্রণব বল

ট্টগ্রাম নগরের ছয়টি এলাকায় (সার্কেল) ছোট-বড় ১৮০টি স্থানে মাদক বেচাকেনা হয়। প্রতি দুই থানার এলাকা নিয়ে একটি সার্কেল। কোতোয়ালি সার্কেলে সর্বোচ্চ ৩৫টি স্থানে মাদক বেচাকেনা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তাঁরা কোতোয়ালির ৩৫টি স্পটেই নিয়মিত অভিযান চালান।

আঁদ্রে মালরো by ইমরান রহমান

৯০১ সালের ৩ নভেম্বর প্যারিসের এক সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক, প্রত্নতত্ত্ববিদ, শিল্পকলা-তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক কর্মী আঁদ্রে মালরো। লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিংশ শতাব্দীর সংস্কৃতিকে নানাভাবে প্রভাবিত করেন। একোল দে লঁগ ওরিয়াঁল বা বর্তমান ইনসিল্টটিউট ন্যাশনাল দি লেগ অ্যাট সিভিলাইজেশন্স অরিয়েন্টালে তিনি পড়াশোনা করেন।

খুচরো ঘটনার স্মৃতি by আল মাহমুদ

যৌবনে এই জগৎ-সংসার ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ আমার হয়েছিল। আমি ঘুরেছি। অনেক ঘটনার বিবরণ আমি দিয়েছি। তবুও আমার মন ভরে আছে আরও কিছু খুচরো ঘটনার স্মৃতিতে। খুচরো বললাম এ কারণে যে, এসব ঘটনার বিবরণ সাধারণত লেখকরা দিতে চান না; কিন্তু ওইসব খুচরো ঘটনা এক সময় যে আনন্দ দিয়েছিল সেটাও তো কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত।

টিফা চুক্তির পোসল্টমর্টেম by গোলাম মোস্তফা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টিফা বা ট্রেড অ্যান্ড ইনভেসল্টমেন্ট ফেদ্ধমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সম্প্রতি পত্রপত্রিকার খবরে প্রকাশ। এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে অনেক; সেই সঙ্গে ওই দেশে আমাদের পণ্যসামগ্রীর রফতানিও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল জে. ডিলেনি বিভিন্ন বৈঠকে আশ্বস্ত করেছেন।

আশা-নিরাশার দোলাচলে কোপেনহেগেন সম্মেলন by মাহফুজ উল্লাহ

প্রায় শুরু থেকেই আবহাওয়া নিয়ে মানুষের মাথাব্যথার শেষ নেই। দৈনন্দিন জীবনের রুটিনকে বদলে দিতে পারে বলেই আবহাওয়া নিয়ে এই উদ্বেগ। অথচ আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি আমানত জলবায়ু সম্পর্কে মানুষের ধারণাটা ব্যক্তি পর্যায়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল না। কিন্তু গত কয়েক দশকে পৃথিবীজুড়ে আবহাওয়া ও জলবায়ু মানুষের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু কি উদ্বেগ?

বোরকার বিরুদ্ধে আবার ষড়যন্ত্রঃ ইতালি সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে

বার ইসলামী বিধান তথা মুসলিম সংস্কৃতিকে অপদস্থ করার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে ইউরোপের কিছু মুসলিমবিদ্বেষী গোষ্ঠী। বালখিল্য অজুহাত দাঁড় করিয়ে তারা ইসলামী তাহজিব-তমদ্দুনকে হেয়প্রতিপন্ন করতে আদাজল খেয়ে লেগেছে। ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এই সজ্ঞান শত্রুতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ঐক্যের চেতনা খর্ব করার কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে মুসলিমবিদ্বেষীরা।

নির্যাতনের হাতিয়ার রিমান্ডঃ ডিজিটাল শাসনে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত

রিমান্ডের দানবীয় তাণ্ডব হাড়ে হাড়ে টের তারাই পেয়েছেন যারা এর শিকার হয়েছেন। অথচ এ ধরনের আচরণ সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক নিরাপত্তার সম্পূর্ণ বিপরীত, আইনের শাসনের সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্কই নেই। রিমান্ডের নামে সব সময়ই পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের নাম করে আদালত থেকে রিমান্ড আদায় করে। তবে গত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থায় রিমান্ড হয়ে উঠেছিল বিভীষিকাময়।

ফিরে দেখাঃ সুকুমার রায় by ইমরান রহমান

নপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় তার পিতা ও বিধুমুখী দেবী তার মা। বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিত্ রায়ের পিতা তিনি। সুকুমার রায়ের জন্ম হয় বাঙালি রেনেসাঁর স্বর্ণযুগে এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে। উপেন্দ্রকিশোরের ঘনিষ্ঠবন্ব্দু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সরাসরি প্রভাব পড়েছিল সুকুমারের ওপর।

অলক্ষ্যে সেসব দিন by কে জি মোস্তফা

সংবাদপত্রকে একটি কালের ইশতেহার অথবা ব্যক্তি ও কালকে ছাড়িয়ে কাল-নিরপেক্ষতার দলিল বলা যেতে পারে। এ দলিল নির্মাণে যারা নিবেদিত, সেই সাংবাদিকদের জীবন ঘরে আর পথে কোনো তফাৎ নেই। সাংবাদিকতার সাধ বড় মায়াময়! কিন্তু একদিন সেই মায়াবী জগত ত্যাগ করতে হলো আমাকে। জীবনের মোড় কখন যে কোনদিকে বাঁক নেবে, সর্বনিয়ন্তা ছাড়া কেউ আর জানে না। তবে পৃথিবীতে কোনো কিছুই হারিয়ে যায় না।

ওরা ইতালিতে ভালো নেই by কাজী জহিরুল ইসলাম

ভূ-মধ্যসাগর যখন পূর্বে ক্রোয়েশিয়া আর পশ্চিমে ইতালিকে ঠেলে দিয়ে ঢুকে পড়ে স্লোভেনিয়া-ভেনিসের দিকে তখন এর নাম হয় অড্রিয়াটিক। অড্রিয়াটিকের বৈশিষ্ট্য হলো এর জল গ্রিক দেবীদের চোখের মতো নীল। আমরা এখন সেই নীলচোখজল অড্রিয়াটিকের পাড়ে, ইতালির এক ছোট্ট শহর ব্রিন্ডিসিতে। বন্দর শহর হিসেবে ব্রিন্ডিসির সুখ্যাতি সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই। সুখ্যাতির খেসারতও এ শহরকে কম দিতে হয়নি।

বাজারের ব্যাগ হাতে বিপন্ন নাগরিক by রেজোয়ান সিদ্দিকী

কাঁচাবাজারে এক গলির দু’পাশে তরকারির দোকানের সারি। শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। শিম, ফুলকপি, পাতাকপি, বেগুন, চিচিঙ্গা, সবুজ কচি ঢেঁড়স, লাউশাক, লালশাক, মুলাশাক, পালংশাক, ডাঁটাশাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ধুন্দুল, কচুর লতি, কচুরমুখী, পটল-আলু, ওল, সাহেব আলু, গাইছা আলু—সবকিছুই সাজানো দোকানগুলোতে। একজন মাঝবয়সী মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন সবজি বাজারের মুখে। স্থির।

নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদঃ বালিশ by হুমায়ূন আহমেদ

মার জন্ম-জেলা নেত্রকোনায় ‘বালিশ’ নামের একধরনের মিষ্টি পাওয়া যায়। আকৃতি বালিশের মতোই। এক বালিশ সাত-আটজনে মিলে খেতে হয়। নেত্রকোনা শহরের এক মিষ্টির দোকানে বসে আছি। ময়রা থালায় করে বালিশ এনে আমার সামনে রাখল। বিনীত ভঙ্গিতে বলল, একটু মুখে দেন, স্যার। আমি বললাম, যে মিষ্টির নাম বালিশ, সেই মিষ্টি আমি খাই না। আমি লেখক মানুষ। আমার মধ্যে রুচিবোধ আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকি বাড়ছেঃ সমন্বিত প্রতিরোধের বিকল্প নেই

লবায়ুর পরিবর্তন ও পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশও এখন মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন। এই ঝুঁকির রূপরেখা নিয়ে অনেক দিন ধরেই ভাবছেন বিশ্বের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ গবেষকরা। তারা সমূহ বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কেও নির্দেশনা দিয়ে আসছেন; কিন্তু বিশ্বের সব দেশের সমন্বিত রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সদিচ্ছা না থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেয়া যায়নি।