Tuesday, January 29, 2019

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান ইউনিসেফের

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোরে। সোমবার তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে মিয়ানমারকে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, এখনো রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয় নি। হেনরিয়েটা ফোরে এদিন মিয়ানমারের রাজধানী ন্যাপিড’তে বক্তব্য রাখছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের শিশুরা প্রতিবেশী বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলোতে বিপজ্জনক ও প্রায় আশাহীন অবস্থায় বসবাস করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের নৃশংস নির্যাতনের পর থেকে কমপক্ষে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এমন হিসাব জাতিসংঘের এজেন্সিগুলোর। আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এখনও রয়ে গেছেন রাখাইনে।
সেখানে তারা চলাচলের সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছেন। তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার সীমিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় হেনরিয়েটা ফোরে বলেন, রোহিঙ্গা শিশুরা যে দুর্ভোগ নিয়ে বসবাস করছে তা সমাধানে সহায়ক হতে পারে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন। এ জন্য তিনি মিয়ানমারের দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কফি আনান কমিশনের ওই সুপারিশে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ারও সুপারিশ রয়েছে তাতে।
কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম কোনো ইউনিসেফ প্রধান মিয়ানমার সফর করছেন। এ সফরে হেনরিয়েটা বলেন, আমরা (মিয়ানমার) সরকারের কাছে আহ্বান জানাই এই অবস্থার অবসান ঘটাতে এবং এর মধ্য দিয়ে সব শিশুর বাস্তবতা নিশ্চিত করতে। এসব পদক্ষেপ নেয়া হলে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরে আসার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে অনেক দূর পথ তৈরি করবে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন দীর্ঘদিনের। এই জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমার স্বীকার করে না। তাদের নেই কোনো নাগরিকত্ব। ফলে তারা রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ সুবিধা পায় না। তাদের বিরুদ্ধে জাতিগত ও ধর্মীয় নির্যাতনের ঘটনা অহরহই ঘটছে। নৃশংস নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এর আগে এমন নির্যাতন ও সঙ্কটের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান বের করার জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি ২০১৬ সালে গঠন করেন কফি আনান কমিশন। কিন্তু সঙ্কট ও পশ্চাৎপদতার কারণে সেই কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয় নি। ২০১৭ সালের আগস্টে যেদিন ওই কমিশন এ বিষয়ক রিপোর্ট প্রকাশ করে তার একদিন পরেই আরাকান সালভেশন আর্মি (আরসা) নিরাপত্তা প্রহরীদের ওপর হামলা চালায়। তাতে কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হন। এর বদলা নিতে রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়ন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, যাকে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জাতি নিধনের উদ্দেশে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।
২০১৮ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী পশ্চিমা কূটনীতিকদের বলেন যে, আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে তার মধ্যে আটটি সুপারিশ সমস্যাবহুল এবং তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অবিলম্বে করা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান, যার ফলে রোহিঙ্গাদেরকে স্বীকৃতি দেয়া যায়।
ওই সুপারিশমে আরো বলা হয়, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবিলম্বে ছড়িয়ে দিতে হবে সরকারকে। মুসলিম রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে যেসব শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া আছে তাদের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যেন, তারা তাদের কাজ শুরু করতে পারেন। প্রয়োজেন তাদেরকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলা হয়। এতে আরো বলা হয়, রাখাইনের সব শিশুকে মিয়ানমারের ভাষায় শিক্ষা পাওয়ার অধিকার দিতে হবে। তৃতীয় বা টার্সিয়ারি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।
আগস্টে রোহিঙ্গা শিশুদের একটি হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম বা লস্ট জেনারেশন হিসেবে আখ্যায়িত করে সতর্ক করে ইউনিসেফ। এসব শিশুর প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরগুলোতে বিপদের মুখে রয়েছে। এসব বিপদের মধ্যে রযেছে নানা রকম রোগ, বন্যা। আর মিয়ানমারে যেসব শিশু রয়েছে তারা যথাযথ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না।
তাই হেনরিয়েটা ফোরে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে ঘরে ফেরার জন্য প্রযৈাজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি, যেখানে তাদের অধিকারকে সম্মান জানানো হবে এবং তারা আবারো শান্তিতে তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন।

বন্দিরা যেখানে এসকর্ট পান

জেলখানা মানেই অন্যরকম এক কঠিন শাস্তিময় স্থান। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী অপরাধী, ভয়াবহ সব সিরিয়াল খুনি সহ দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আশ্রয়। পানামার একটি সরকারি জেলখানায়ও একই রকম অপরাধীতে গাদাগাদি। কিন্তু এর বাইরে আবার সেখানে ভিন্নচিত্র। বন্দিরা সেখানে ভোগ করে নানা রকম সুবিধা। তারা পিজা দিয়ে উৎসব করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে চ্যার্টি করতে পারে। ৩১০ পাউন্ড দিয়েই কিনে নিতে পারে অস্ত্র।
আরো যে সুবিধা তারা ভোগ করে তা হলো নারী সঙ্গ। চাইলেই তারা অর্থের বিনিময়ে নারীদের সঙ্গে রাত্রিযাপন করতে পারে। অর্থের বিনিময়ে এমন দেহদানকারী নারীদের বলা হয় এসকর্ট বা পতিতা।
বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ওই জেলখানার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বেশকিছু ছবি ও ভিডিও। এর একটি ক্লিপে দেখা যায়, অপরিচ্ছন্ন একটি মেঝেতে খালি গায়ে শুয়ে আছে এক বন্দি। এটি একটি ৫ বেডের সেল। সেখানে অবস্থান করে আরো ৬ জন। আরেকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ভগ্ন স্বাস্থ্যের কয়েকজন কয়েদি খুবই নিম্নমানের খাবার খাচ্ছেন। তৃতীয় আরেকটি ক্লিপে ফুটে উঠেছে, জেলখানার ভেতরে কয়েদিদের আঁকা ছবি। তারা দেয়ালে বাচ্চাদের মতো এঁকেছে এসব। আর একটি ক্লিপে একজন কয়েদিকে দেখা যায় কাগজে মোড়ানো কিছু একটা সংগ্রহ করছে। আসলে এটা কয়েদিদের মল। তারা যখন বাথরুমে যাওয়ার লম্বা লাইনে পড়ে তখন মেঝেতে কাগজ বিছিয়ে তার ওপর সারে প্রাকৃতিক কাজ। এরপর তা মুড়িয়ে জানালা দিয়ে ফেলে দেয় বাইরে। এমন অনেক আবর্জনা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সেখানে। সেই মোড়ানো কাগজ সংগ্রহ করছিল ওই কয়েদি। এসব ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করেছে সিরিয়াল খুনি ইউলিয়াম ‘ওয়াইল্ড বিল’ হোলবার্ট। সে অবৈধ উপায়ে সংগৃহীত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ধারণ করেছে এসব ভিডিও ও ছবি। হোলবার্ট বলেছে, বন্দিরা প্রাকৃতিক কর্ম সারতে এই উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হয়। কারণ, সেলের যেসব টয়লেট আছে তা শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাশ করা হয়। তাই বন্দিরা এই উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হয়।
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে একটি টিনেজ বালক সহ ৫ মার্কিন নাগরিককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হোলবার্ট। অর্থের প্রয়োজনে সে বোকাস ডেল টরোতে হত্যা করেছিল ওইসব মানুষকে। তারপর সে নিজে পরিচালনা করে এমন একটি হোস্টেলের মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিল মৃতদেহ। তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন বৃটিশ ওই পত্রিকাটির সাংবাদিক। এ সময় সেলের ভেতরে বসেই প্রশ্নের উত্তর দেয় হোলবার্ট। সে জানায়, সে এবং অন্য অভিযুক্তরা যা ইচ্ছা চাইলেই করতে পারে জেলের ভেতরে। শুধু প্রয়োজন অল্প কিছু অর্থ। তার ভাষায়- এখানে সব কিছুই হয় অর্থে। আমরা প্রকৃতপক্ষেই ভালো আছি। আমি যে সেলে আছি এখানে আমার সঙ্গে আছে একটি শিশু। তার বিরুদ্ধে আছে অস্ত্র রাখার অভিযোগ। অন্যরা রাস্তায় মাদকদ্রব্য ব্যবহার বা বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত। তবে এই জেলে আপনি একটি কাজই করতে পারবেন না। তা হলো সীমা লঙ্ঘন করতে পারবেন না এবং জেল থেকে বেরুতে পারবেন না।
এই জেলে ১০০ ডলার হলে একজন বন্দি পেতে পারে ২৪টি শক্তিশালী বিয়ারের একটি কেস। হোলবার্ট বলেছে, শুধু তাই নয়। তারা নারীদের সঙ্গে রাত্রিযাপন করতে পারে। চাইলে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। এর জন্য ওই যে অর্থ, সেটা প্রয়োজন। তার ভাষায়, আপনি যা চাইবেন তার সবই পাবেন। আপনি যদি চান যে, আপনার স্ত্রী আপনার কাছে আসবেন এবং তিনদিন আপনার সঙ্গে থাকবেন, তাও করতে পারবেন আপনি। এর জন্য প্রয়োজন শুধু অর্থ। হোলবার্ট বলেছে, যখন আমি সিঙ্গেল ছিলাম তখন আমার কাছে মেয়েরা আসতো। আবার ভোর ৪টায় তারা চলে যেতো। জেলখানার প্রহরীদের দিকে ইঙ্গিত করে হোলবার্ট বলেছে, তারা ওইসব মেয়েকে আপনার সেলে রাত ৮টার দিকে দিয়ে যাবে। ভোরে যখন কয়েদি গণনা করা হয় তার আগেই ভোর ৪টায় ওই যুবতীকে সেল থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। তার ভাষায়, এটা এখানে খুবই স্বাভাবিক বিষয়।

কি হবে ভেনিজুয়েলার তেলের? বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আর ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মধ্যে ঘোর শত্রুতা। শত্রুতাই শুধু নয়, দৃশ্যত একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে অঘোষিত এক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। নিকোলাস মাদুরোকে আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মানেন না ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিরোধী দলের ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট’ হুয়ান গাইডোকে। এ নিয়ে চরম এক উত্তেজনা বিরাজ করছে ভেনিজুয়েলা ও এর বাইরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে যখন এমন উত্তেজনাকর অবস্থা তখন তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক আছে। তাহলো ভেনিজুয়েলার তেল। এই তেলের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র।
ওপেকভুক্ত দেশগুলো গত বছর যে পরিমাণ তেল সরবরাহ দিয়েছে এ পরিমাণ তার শতকরা ৩৯ ভাগ।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ বৈদেশিক তেল গিয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরবরাহের দিক দিয়ে চতুর্থ বৃহৎ উৎস হলো ভেনিজুয়েলা। কিন্তু এখন ট্রাম্প, মাদুরো, হুয়ান গাইডো এবং বাকি বিভক্ত বিশ্বের মধ্যে মাদুরো ইস্যুতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তাতে ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তেলভিত্তিক শক্ত সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব বা টান পড়বে। বুধবার হুয়ান গাইডো নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করার পরই নাটকীয় পদক্ষেপ নেয় হোয়াইট হাউস। তারা তাকে দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে স্বীকৃতি দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন মাদুরো। ওদিকে ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছে বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশ। আর মাদুরোর পাশে আছে তার দেশের সেনাবাহিনী, রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের মতো কিছু দেশ।
এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি করবেন- তা নিয়ে চলছে জল্পনা। এরই মধ্যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, সব ধরনের অপশন তাদের হাতে রয়েছে। এর অর্থ ভেনিজুয়েলায় সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আবার অর্থনৈতিক অবরোধও দেয়া হতে পারে মাদুরোর বিরুদ্ধে। যদি অবরোধ দেন ট্রাম্প তাহলে তার আওতায় পড়বে দেশটির তেলও। এটা করা হলে ভেনিজুয়েলার ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ভেঙে দেয়া হবে। আর তা হবে মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আঘাত। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় তাহলো, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভীষণ বড় প্রভাব পড়বে। বড় এক আঘাত তাদের গায়েও লাগবে। ভেনিজুয়েলার তেলভর্তি ব্যারেলের যখন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে তখন অশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাবে। ভেনিজুয়েলা থেকে প্রতিদিন সেখানে যায় কয়েক লাখ তেলভর্তি ব্যারেল। এর ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রে যে শোধনাগার রয়েছে তার সংখ্যাও দ্রুত কমে যাবে। তাই এ খাত নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ক্লিপার ডাটা’র পরিচালক ম্যাট স্মিথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধ দেয় তাহলে তাতে নিজেরই ক্ষতি করবে তারা।
ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির প্রাণ তেল
ভেনিজুয়েলার মোট রাজস্বের শতকরা ৯০ ভাগই আসে তেল রপ্তানি থেকে। ফলে তেলের ওপর নির্ভর করেই দেশটি টিকে আছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। কিন্তু জ্বালানি শিল্পের দ্রুত ক্ষতি হওয়ার ফলে এরই মধ্যে ভেনিজুয়েলার তেল উত্তোলন ৩০ বছরের মধ্যে নিচে নেমে এসেছে। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেট এ বিষয়টিকে এভাবে মূল্যায়ন করেছে- ২০১৯ সালে এ দেশের প্রতিদিনের তেল উত্তোলন ৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যাবে। আরবিসি আরো সতর্ক করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ দেয় তাহলে অতিরিক্ত কয়েক লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন বাড়িয়ে দিতে পারে ভেনিজুয়েলা।
আরবিসি’র বৈশ্বিক বিষয়ক প্রধান হেলিমা ক্রফট বুধবার তার ক্লায়েন্টদের কাছে লিখেছেন, ভেনিজুয়েলায় দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, খুব কঠিন একটি অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সবকিছু।
ভেনিজুয়েলার তেলের অন্য বড় ক্রেতার মধ্যে রয়েছে চীন ও ভারত। কিন্তু এসব দেশে তেল শিপমেন্ট পাঠিয়ে অর্থের দিক থেকে তারা খুব একটা লাভবান হয় না। এ দেশগুলোর কাছে প্রচুর পরিমাণ অর্থের ঋণী ভেনিজুয়েলা। তাই যে তেল পাঠানো হয় তা থেকে ঋণের অংশ কর্তন করে নেয়া হয়। এ জন্য এই শিপমেন্ট বা রপ্তানিতে তাদের অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। ম্যাট স্মিথ বলেছেন, এ অবস্থায় অবরোধ দেয়া হলে ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির টিকে থাকার নাড়িটাই কেটে দেয়া হবে। এমনিতেই দেশটি মানবিক একটি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কারণ, আইএমএফের মতে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সেখানে জাতীয় প্রবৃদ্ধি কমে গেছে শতকরা ৩৭ ভাগ। ২০১৯ সালে সেখানে মুদ্রাস্ফীতি শতকরা এক কোটি ভাগে গিয়ে দাঁড়াবে বলে ধরা হচ্ছে।
ট্রাম্প কি কঠোর পদক্ষেপ নেবেন?
ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি যখন এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, বিশৃঙ্খল সেখানকার সবকিছু- তখন তেল বাজার দৃশ্যত প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে থমকে আছে। এর কারণ হতে পারে, পরবর্তীতে কি ঘটতে যাচ্ছে তা একেবারেই নিশ্চিত নয়। গত বছর তেল বাজারে একটি ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ ছিল ট্রাম্পের কাছে। ইরানের ওপর অবরোধ দিলে তাতে তেলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল দাঁড়াতে পারে এমন আতঙ্কে ইরান অবরোধে প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা নমনীয় হন তিনি। তার এই নমনীয়তায় তেলের বাজারে সরবরাহ আছে পর্যাপ্ত। ফলে মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অধীনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তা জো ম্যামোনিঙ্গেল  ভেনিজুয়েলার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, বাজারে খুব বেশি সংশয় রয়েছে যে, তেলের ওপর অবরোধকে পেছন থেকে টেনে ধরে রাখতে পারেন। জো ম্যামোনিঙ্গেল বর্তমানে হেজেয়ি পটোম্যাক রিসার্সের জ্বালানি নীতি বিষয়ক একজন সিনিয়র বিশ্লেষক। তিনি বিশ্বাস করেন ট্রাম্প অবরোধ আরোপকেই বেশি বেছে নিতে পারেন। তিনি সতর্ক করেন, এই অবরোধ দেয়া হলে বিশাল একটি সংকট সৃষ্টি হবে। তাতে দেখা দিতে পারে গৃহযুদ্ধ অথবা ভেনিজুয়েলায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে অপারেশন স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগার
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনিজুয়েলাকে শাস্তি দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি তেল শিল্পকে তার আওতায় রাখে তাহলে তাতে দাম বেড়ে যাবে। আকাশ ছুঁয়ে যাবে যুুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম। কারণ, নিজের তেল দিয়ে চলার মতো যুক্তরাষ্ট্র সক্ষম নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের সরবরাহকারীরা একাই এই সাপোর্ট দিয়ে যেতে পারবে না। গ্যাসোলিন, জেট বিমানের জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে, শোধনাগার যে সরবরাহ দেয় তা খুব বেশি নির্ভর করে অশোধিত তেলের ওপর। সস্তায় যায় ভেনিজুয়েলা থেকে। এনার্জি ইনফরমেশন এডমিনিস্ট্রেশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান মতে, ভেনিজুয়েলায় সম্প্রতি তেল উত্তোলন দ্রুততার সঙ্গে কমে যায়। তা সত্ত্বেও অক্টোবরে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদিন ৫ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ দিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে আর যেসব দেশ অশোধিত তেল সরবরাহ দিয়েছে বড় মাপে তার মধ্যে রয়েছে কানাডা, সৌদি আরব ও মেক্সিকো। এমন অবস্থায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্কতা দিচ্ছেন। বলছেন, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ দিলে তাতে ‘হেভি ক্রড’-এর দাম বেড়ে যাবে। তখন এই তেল তাদেরকে অন্য স্থানে খুঁজতে হবে। ওই দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান গত বছর সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করেছে তার মধ্যে রয়েছে সিটগো, ভ্যালেরি ও শেভরন। বৃহস্পতিবার রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক পাওলো রড্রিগুয়েজ-মিশুউ একটি রিপোর্টে লিখেছেন, অবরোধ দেয়া হলে উপসাগরীয় উপকূল অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শোধনাগার আছে তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যগুলোর ওপর খুব বেশি নির্ভর করতে হয় দেশটিকে। ভেনিজুয়েলার অশোধিত তেল এতটাই ভারি যে, এটাকে লঘু তেলে পরিণত করতে ন্যাপথার সঙ্গে ব্লেন্ড করতে হয়। যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ দেয় তাহলে ওই ন্যাপথা ভেনিজুয়েলায় সরবরাহ করতে পারবে না সে নিজেই। এক্ষেত্রে অন্য দেশের কাছ থেকে ওই রাসায়নিক পণ্যটি সংগ্রহ করবে ভেনিজুয়েলা। তবে তাতে দাম পড়তে পারে বেশি এবং অনেক দূর থেকে নিতে হতে পারে।
(সূত্র অনলাইন সিএনএন)

যে জেলখানায় অর্থের বিনিময়ে চলে অসামাজিক কর্মকান্ড

পানামার চিরিকু সরকারি কারাগার। সেখানে অর্থের বিনিময়ে চলে সব অসামাজিক কর্মকান্ড। বন্দিরা ভোগ করেন নানারকম সুযোগ সুবিধা। এমনকি নারীসঙ্গও পেতে পারেন তারা। তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করা হয় এসকর্ট। এসব তথ্য ওই জেলখানার ভিতর থেকে জানিয়েছেন সিরিয়াল কিলার উইলিয়াম ওয়াইল্ড বিল হোলবার্ট। তার বর্ণনা প্রকাশ করেছে লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ। হোলবার্ট বলেছেন, প্রতিদিনই ওই জেলখানার ভিতর বিক্রি হয় মাদক।
রশি ব্যবহার করে তা পৌঁছে দেয়া হয় এক সেল থেকে আরেক সেলে। তার ভাষায়, আমি মোটেও মাদক ব্যবহার করি না। মাদক ব্যবহার করলে যে অনুভূতি হয় তা আমি পছন্দ করি না। মাদক বিক্রির সঙ্গে আমি জড়িত নই। মাদক বিক্রির যে লাইসেন্স লাগে আমি তা বিক্রি করি। যদি এই জেলখানায় আপনি মাদক বিক্রি করতে চান তাহলে আপনাকে একটি লাইসেন্স কিনতে হবে।
মাত্র ৪০০ ডলার বা ৩১০ পাউন্ড হলেই একজন বন্দি তার হাতে পেয়ে যেতে পারেন অস্ত্র। মাত্র ৪০০ ডলারে বিনিময়ে একটি ছোট ০.৩৮ মানের গ্লোক ৯এমএম পাওয়া যায়। হোলবার্ট বলেন, রাস্তায় যে পরিমাণ অস্ত্র আছে, তার চেয়ে বেশি অস্ত্র আছে এই জেলখানায়। আমার কাছে নেই। তবে সবার কাছে একটি করে আছে। তিনি আরো যোগ করেন, বন্দিরা দেশে তৈরি ছুরিরও কিনতে পারে। কিন্তু জেলখানায় এত অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও বন্দিদের শুভ বুদ্ধির কারণে এর ভিতরে খুব কমই হত্যাকা- ঘটে। মাসে একটার মতো হত্যাকান্ড ঘটে। কিন্তু পানামা সিটিতে একটি বড় জেলখানা আছে, যেখানে প্রতিদিনই হত্যাকা- ঘটে।
তিনি বলেন, যদি এই জেলখানায় কোনোকিছু দরকার হয় আমাকে অর্থ দিতে হবে আপনাকে। কারণ, এখানকার অফিস চালাই আমি। আমি খুব ভাল আছি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আমার সন্তানদের ভালভাবে দেখাশোনা করি। জেলখানায় আমি হলাম একজন রকস্টার। আমি এমন একজন মানুষ, যেখানেই যাই ,সেখানেই আমাকে অত্যন্ত ভালবাসে গ্রহণ করা হয়। আমি প্রতিদিনই এখানকার রাস্তার খাবার খেতে পারি। শহরে আমার স্ত্রী পিৎজা হাটে অথবা কেনটাকি ফ্রাইড চিকেনে যান। প্রতিদিনই সেখান থেকে আমার জন্য কিছু না কিছু কিনে আনেন তিনি।
হোলবার্ট নিজেকে সিরিয়াল কিলার হিসেবে দেখেন না। তিনি মনে করেন, সহিংস হত্যাকান্ডের পাপের জন্য তিনি দোষী। ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে তিনি ওইসব হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন দিনের আলোতে।
তিনি নিজে একচি বালক ও চারজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে হত্যা করা সত্ত্বেও জেলখানার বন্দিদের মানবাধিকার নিয়ে তিনি সোচ্চার। তিনি মনে করেন, তাদেরকে রাখা হয়েছে নোংরা সেলে, যেমনটাতে তিনিও বসবাস করছেন। বলেন, সেলগুলোতে মানুষে উপচে পড়ছে। নৈশভোজে দেয়া হয় নষ্ট ও বাজে সব খাবার। তার অভিযোগ, এসব খাবার খেয়ে তাদের মধ্যে যৌন উদ্দীপনা লোপ পায়। জেলখানা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা হলো এমন একটি স্থান যেখানে মানুষের মাংস জমা করা হয়, তাদের কোনো পূনর্বাসন নেই।
(বাকি অংশ আগামীকাল)

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় গোঁড়ামির শিকার তুলসি গাব্বার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের হয়ে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তুলসী গাব্বার্ড। কিন্তু এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় গোঁড়ামির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রোববার এক কলামে তিনি লিখেছেন, কিছু গণমাধ্যম তাকে ও তার হিন্দু সমর্থকদেরকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের দায়ে অভিযুক্ত করছে। এর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বী আমেরিকানদের টার্গেট করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, তুলসি গাব্বার্ড মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু সদস্য। হাওয়াই অঞ্চল থেকে তিনি ৪ বার কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১১ই জানুয়ারি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন ৩৭ বছর বয়সী এই কংগ্রেসম্যান। রোববার রেলিজিয়াস নিউজ সার্ভিসে লেখা ওই কলামে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হিন্দু জাতীয়তাবাদের অভিযোগের কড়া সমালোচনা করেন।
বলেন, আগামীতে কি মুসলিম ও ইহুদি আমেরিকানদের সঙ্গেও এমনটি করা হবে? অথবা জাপানি, স্প্যানিশ বা আফ্রিকান আমেরিকানদের সঙ্গে?  তুলসী গাব্বার্ড লেখেন, ‘ভারতের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমার বৈঠককে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিষয়টিকে একরকম সন্দেহজনক ও অসাধারণ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। অথচ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পসহ কংগ্রেসের বহু সহকর্মী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করেছেন।’ হিন্দু কংগ্রেসম্যান হিসেবে গর্ব প্রকাশ করে তিনি লেখেন- ‘কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবং এখন প্রথম হিন্দু প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়ে আমি গর্বিত।
খবরের শিরোনামে ইতিহাসের প্রথম এই ঘটনা উদ্‌যাপিত হতে পারত। কিন্তু এর পরিবর্তে কিছু মানুষ সন্দেহ, আতঙ্ক ও ধর্মীয় গোঁড়ামিকে উস্কে দিচ্ছে। এটা শুধু আমার বিরুদ্ধে না, আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধেও এটা করা হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে তিনি লেখেন, কয়েক দশক ধরে দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। দেশের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অ-হিন্দু নেতাদের নিয়ে প্রশ্ন না তোলার মতো একচোখা নীতির একটাই কারণ থাকতে পারে। তা হলো- ধর্মীয়  গোঁড়ামি।

‘তীর শিলং’ ফাঁদ সিলেটে

সিলেটে আটকের পর ১৩ মাদকসেবীকে সাজা দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর শিলং তীরের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১১ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। র‌্যাব জানায়, গত শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে র‌্যাব-৯ এর সিপিসি-১ (সিলেট ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার এএসপি নাহিদ হাসানসহ এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২০ গ্রাম গাঁজাসহ ১৩ মাদকসেবনকারীকে আটক করে র‌্যাব। আটককৃতদের প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বমোট ১২৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে- মো. সুমন মিয়া (২৫), আব্দুল কাদির (৩০), রনি আহমেদ (২৮), শাহীন আহম্মদ (২৮), আব্দুল ওয়াহিদ (৩৫), মনি রায় (২৭), মো. ইউনুস (২৫), সুমন মিয়া (৩০), মো. মুমিন মিয়া (৩০), ফিরোজ মিয়া (১৯), মো. আসকর আলী (৩০), সুমন দাস (২০) ও জামিল আহমদ (২০)। সোমবার র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো. মনিরুজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান। উদ্ধারকৃত আলামত ধ্বংস এবং সাজাপ্রাপ্ত মাদকসেবীদেরকে সিলেট জেলা কারাগারে প্রেরণ ও জরিমানাকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে ‘তীর কাউন্টার’ নামের অনলাইন লটারিকে কেন্দ্র করে সিলেটে চলে আসছিলো জুয়া খেলার মহোৎসব। এই জুয়ার বিস্তার এমন হয়েছে যে, শহর কিংবা গ্রামের হাট-বাজার সবখানেই এই সিন্ডিকেটের লোকদের দেখা মেলে। বিভিন্ন ছোট চায়ের টংয়ে বসে তারা লোকদের সত্তর গুণ লাভের আশা দেখিয়ে ‘তীরের ঘর’ বুকিং করাতেন এজেন্টরা। আর তাদের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত গরিব দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন স্তরের লোকেরা। বাদ পড়ছিলেন না উচ্চবিত্তরাও। এভাবেই অবৈধ এই চক্রটি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই খেলা চললেও এদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছিল না। ফলে সিলেটের সীমন্তবর্তী উপজেলাগুলোর গণ্ডি পেরিয়ে নগরীতেও ছড়িয়ে পড়েছিল ডিজিটাল পদ্ধতির জুয়া ‘শিলংয়ের তীর’। এবার তীর শিলংয়ের বিরুদ্ধে নড়েচড়ে বসেছে সিলেটের প্রশাসন। শনিবার মধ্যরাতে নগরের লালদীঘিরপার নতুন মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় তীর শিলং খেলার সামগ্রীসহ ১১ জুয়াড়িকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার বোর্ডের মালিক সাইফুল কৌশলে পালিয়ে যায়। এ মার্কেটে বহুদিন ধরে জমজমাট ‘তীর শিলং’ খেলা চালিয়ে আসছিল ওই চক্রটি। আটককৃতরা হচ্ছে- শ্যামল মদক (৪৫), মোবারক হোসেন (১৮), আকিল হোসেন (২৫), শংকর চন্দ্র দে (৩০), কৃষ্ণ ঋষি (২৮), শরীফ (২৫), ফারুক আহমদ (২৪), জাহাঙ্গীর (২৫), তাজুল ইসলাম (২৮), কামাল আহমেদ (৬০) ও আলী আমজাদ (৪৫)। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানা প্রকাশ্যে জুয়া আইনে মামলা দায়ের করেছে। এ ছাড়া বোর্ডের মালিক সাইফুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া এই চক্রের মূলহোতাদের চিহ্নিত করে তাদের ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।

মামলা যন্ত্রণায় চোখ হারানো মেরী by শাহনেওয়াজ বাবলু

আগাম জামিন চাইতে আদালতে চোখ হারানো মেরী
নির্বাচনের আগে পছন্দের প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগে বের হয়েছিলেন মেরী বেগম। দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানের সময় প্রতিপক্ষের হামলা। পুলিশের লাঠিচার্জ-সংঘর্ষ। এরমধ্যেই দুই চোখে গুলিবিদ্ধ হন মেরী। গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয় ঢাকায়। দীর্ঘ দেড়  মাস ধরে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার চোখে আলো ফেরার কোনো সম্ভাবনাই নেই। চোখের আলো নেভা মেরীর জীবনটাও এখন যেন নিভু নিভু অবস্থায়।
তিন সন্তানকে নিয়ে অনটনের সংসারের ঘানি টানছেন খেটে খাওয়া স্বামী। সঙ্গে মেরীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এর সঙ্গে নতুন যন্ত্রণা হয়ে এসেছে মামলা। যে ঘটনায় চোখ হারিয়ে ধুঁকছেন মেরী ওই ঘটনার মামলায় তাকে করা হয়েছে আসামি। তিনি জানেন না কি কারণে তাকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার মামলায় আগাম জামিন নিতে স্বামী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে হাইকোর্টে এসেছিলেন। আদালতে শুনানির পর জামিনও হয়েছে। অন্যের সাহায্য নিয়ে তিনি আদালত কক্ষে যান। তার আগে আদালতের বারান্দায় মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে বসে ছিলেন তিনি। ষষ্ট শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে মারিয়া আক্তার এখন তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। হাসপাতালে মায়ের সেবা, সাহায্য করে সে।
এ কারণে তার পড়াশোনাও অনিয়মিত হওয়ার উপক্রম। আদালতের বারান্দায় বসেই মেরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন তার যন্ত্রণার কথা। তিনি জানান, চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে ষষ্ট শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলেটিও স্কুলে যায়। রাজনীতি সচেতন হিসেবে তিনি বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রুমানা মাহমুদের প্রচারণায় গিয়েছিলেন। ঘটনা ১৪ই ডিসেম্বরের। এ দিন সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানের সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে তাদের ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে বিএনপি কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে গুলি করে। তার দুই চোখে তিনটি স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। গুলি লাগার পর প্রথমে মনে করেছিলেন বিদ্যুৎ চলে গেছে। পরে বুঝতে পারেন চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। ঘটনার পর থেকে তিন তিনবার চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের হাসাপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বামী জামাত আলী খেটে খাওয়া মানুষ। তার আয়ে সংসার চলে। গত দেড় মাস ধরে মানুষের সাহায্য নিয়ে তার চিকিৎসা চলছে। সংসারও চলছে টেনেটুনে। মেরী বলেন, গুলিতে আমি অন্ধ হয়ে গেলাম, তারপর আমার বিরুদ্ধে আবার মামলা হয়েছে। কী জন্য আমাকে আসামি করেছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না। আমি চোখে দেখি না। তারপরও কোর্টে আসতে হয়েছে। এটি কী যে যন্ত্রণার বলে বুঝাতে পারব না। মেরী যখন কথা বলছিলেন তখন তার পাশে থাকা মেয়ে মারিয়া উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। তার চোখেও যেন রাজ্যের অনিশ্চয়তা। জামাত আলীর চোখেও দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।  
মেরী বলেন, আমার ডান চোখে একটি আর বাম চোখে দু’টি গুলি লাগে। আমি অন্ধ হয়েও আদালতে আসা লাগছে। গত তিনদিন ধরে আমি ঢাকায় চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। সেখানে আমি ভর্তি হতে চাইছিলাম। কিন্তু ভর্তি হতে পারিনি। এখন একজন আত্মীয়ের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। ডাক্তার বলছে বাংলাদেশে চিকিৎসা করে আমার চোখ ভালো করা যাবে না। এর জন্য বিদেশ যেতে হবে। আমার কাছেতো এতো টাকা নেই। বিদেশে গিয়ে কিভাবে আমি চিকিৎসা করব। চিকিৎসায় কোনো সাহায্য পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মেরী বলেন, শুনছি তারা কিছুটা সাহায্য করছে। তবে কে বা কারা সাহায্য করছে তার কিছুই বলতে চাননি তিনি। এই ঘটনার পর বিচার চেয়ে মামলা করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আমি কোনো মামলা করিনি। উল্টো আমার নামে মামলা করা হয়েছে। এর জন্য আজ আদালতে এসেছি। আর আমি কারো নামে মামলা করতে চাই না। কারণ আমরা গরিব মানুষ। মামলা করতে গেলে আবার কোন ঝামেলায় পড়ি।
সরকারের কাছে কোনো আবেদন আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের কাছে কোনো আবেদন নেই। তবে আমি দেশবাসীর কাছে জানতে চাই, আমার যে দুই চোখ শেষ করে দিলো। এর বিচার কে করবে? আমার চোখ কে ভালো করে দেবে? আমি এই দুই চোখ দিয়া আমার সন্তানদের আবারো দেখতে চাই।
আগাম জামিন চাইতে আদালতে চোখ হারানো মেরী ছবি: জীবন আহমেদ

মেরীর স্বামী জামাত আলী মানবজমিনকে বলেন, আমরা হচ্ছি সাধারণ মানুষ। আমার স্ত্রী চোখ হারিয়েছে দেড় মাস হলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর বিচার তো দূরের কথা, উল্টো মামলা হয়েছে তার নামে। আমার একার উপার্জনের উপরই পরিবারের সবকিছু নির্ভর করে। কিভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করব কিছুই বুঝতে পারছি না। মেরীর ছোট মেয়ে মারিয়া আক্তার বলে, ঘটনার পর থেকে মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে আমাকে। আমরা সারাক্ষণ খুব আতঙ্কে থাকি। বাড়ি থেকে বের হলে কেউ আমাগোর সঙ্গে কথা কইতে চায় না। আমি ঠিকমতো স্কুলেও যেতে পারছি না। যারা আমার মায়ের দুই চোখ কেড়ে নিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই। আর মা যাতে সুস্থ হতে পারে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সাহায্য চাই। 
ঘটনার বিষয়ে গতকাল যোগাযোগ করা হলে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ বলেন, ওইদিন পুলিশ টহল দেয়ার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের গাড়ির ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাবার বুলেট টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। হামলায় পুলিশের একটি গাড়ির কাঁচও ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তদন্ত চলছে। তবে মেরীর চোখে গুলিবিদ্ধ হলো কিভাবে তা তার জানা নেই বলে জানান ওসি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সে কিভাবে আহত হয়েছে সেটা বলতে পারব না। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও করেনি।
স্থানীয়রা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রুমানা মাহমুদ ১৪ই ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর শহরে গণসংযোগের জন্য জেলা বিএনপি কার্যালয়ে যান। সেখানে থেকে বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের প্রার্থীসহ গণসংযোগে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে করে লোকজন এসে কার্যালয়ের সামনে মহড়া দেয়। মাগরিবের নামাজের পর একপর্যায়ে তারা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দু’টি ককটেল ছুঁড়ে। এ সময় বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকরা তাদের ধাওয়া দেয়। পর মুহূর্তে সেখানে পুলিশ আসে এবং বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছুড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মধ্যেই চোখে গুলিবিদ্ধ হন মেরী।

হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অভিযোগ, কোম্পানির প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের আনা ২৩টি ফৌজদারি অভিযোগ (ক্রিমিনাল চার্জ) প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের ইলেকট্রনিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। তারা বলেছে, ব্যবসা করতে গিয়ে কোনো অন্যায় তারা করে নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে ফাইল জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা, বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও প্রযুক্তি চুরি। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে হুয়াওয়ের অর্থ বিষয়ক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝো’কে গ্রেপ্তার করে কানাডা। তা নিয়ে চীন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক কূটনৈতিক উত্তেজনা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এক বিবৃতিতে হুয়াওয়ে বলেছে, কোম্পানির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা জানতে পেরে হতাশাগ্রস্ত হুয়াওয়ে। নিয়ম লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনোটিই এই কোম্পানি করে নি। তা ছাড়া মিস মেং ওয়ানঝো কোনো অন্যায় করেছেন বলে তারা অবগত নয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক গোপনীয়তার বিষয়ে যে কথা বলা হয়েছে তা একটি দেওয়ানি মামলার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।
যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
সোমবার ঘোষিত ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে দুটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ডিভাইস ইউএসএ এবং স্কাইকম টেক-এর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করেছে হুয়াওয়ে। ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে সব অবরোধ আরোপ করেছেন। সম্প্রতি আরো কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। এতে ইরানের তেল রপ্তানি, জাহাজ চলাচল ও ব্যাংকিং খাত আক্রান্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত ওই অবরোধ লঙ্ঘন করে হুয়াওয়ে গোপনে তাদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের স্থায়িত্ব পরীক্ষায় টি-মোবাইল যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা চুরি করেছে হুয়াওয়ে। এ ছাড়া তারা বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ওয়্যার বা ইন্টারনেটে জালিয়াতি করেছে। তবে হুয়াওয়ে বলেছে, ২০১৪ সালে দাখিল করা একটি দেওয়ানি মামলায় টি-মোবাইলের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে ফেলেছে হুয়াওয়ে। ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি, যা ট্যাপ্পি নামে পরিচিত তা, ফোন টেস্ট করতে মানুষের আঙ্গুলের ছাপ অনুকরণ করে। সব মিলিয়ে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগ উত্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার ওয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার মানদন্ডের প্রতি নগ্নভাবে অসম্মান করে হুয়াওয়ে, এ বিষয়টি উন্মুক্ত হয়ে গেছে অভিযোগগুলোতে। হুয়াওয়ের মতো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয় খাতের জন্য হুমকি।
এরপর কি?
হুয়াওয়ে হলো বিশ্বে সর্ববৃহৎ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। সম্প্রতি তারা অন্য জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকে ছাড়িয়ে গেছে। আর তার ফলে দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হয়ে উঠেছে। তার সামনে আছে শুধু স্যামসাং। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা অন্য দেশগুলো উদ্বিগ্ন এ নিয়ে যে, চীনা সরকার হুয়াওয়ের প্রযুুক্তির মধ্য দিয়ে তার গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করে থাকতে পারে, যদিও হুয়াওয়ে বলছে তাদের প্রতিষ্ঠানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এ অবস্থায় কানাডায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে মেং ওয়ানঝোকে। এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ চীন। গত ১লা ডিসেম্বর মেং’কে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ভ্যানকোভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় একটি আদালত এক কোটি কানাডিয়ান ডলারের বিনিময়ে জামিন দিয়েছে। তবে তিনি রাত দিন নজরদারির অধীনে রয়েছেন। তার পায়ের গোঁড়ালিতে অবশ্যই পরতে হচ্ছে একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস। এ দিয়ে নির্ধারণ করা হচ্ছে তিনি কখন কোথায় যাচ্ছেন।

ওমানে বাংলাদেশী অভিবাসীদের মহানুভবতা

ওমানের মাসকটে শয্যাশায়ী বাংলাদেশী শ্রমিক মোহাম্মদ লিটন (৩২)। শুধু যে শয্যাশায়ী তা নয়, তার শরীরের বেশির ভাগ অংশ বিকল বা প্যারালাইজড। কাঁধের নিচ থেকে শরীরের নিচের অংশের এই অবস্থা। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন তাকে বাংলাদেশে এনে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু লিটনকে দেশে আনা সহজ কথা নয়। বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে আনতে হবে ঢাকায়। এ জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক একটি বিমান সংস্থা চেয়েছে ১৫০০ ওমানি রিয়াল। এত টাকা তার পক্ষে যোগাড় করা অসম্ভব।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অমনি এগিয়ে এলেন বাংলাদেশী অভিবাসীরা। তারা স্বদেশী ভাইয়ের জন্য মন উজার করে সংগ্রহ করলেন তহবিল। তাতে ওই ১৫০০ ওমানি রিয়াল সংগ্রহ হয়ে গেছে। ফলে লিটন এখন দেশে ফিরে মা-বাবা, স্বজনের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মাসকট ডেইলি।
লিটন একটি ফার্মে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু প্রায় আড়াই মাস আগে তার শরীরের নিচের অংশে অস্বাভাবিক এক সমস্যা দেখা দেয়। তিনি শরীর নাড়াতে পারেন না। এ অবস্থায় মাসকটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। প্যারালাইজড হয়ে যায় তার শরীরের নিচের অংশ। তারপর থেকে গত দেড় মাসের মতো বিছানায় পড়ে আছেন লিটন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দেশে ফিরে আরো চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যোগাযোগ করা হয় বিমান সংস্থার সঙ্গে। তারা লিটনকে ঢাকা পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় পৌঁছে দেয়ার জন্য চেয়ে বসে ১৫০০ ওমানি রিয়াল। এ অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা এবং আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। আর মানবতার স্বার্থে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশী অভিবাসীদের একটি দল। তারা লিটনকে দেশে ফেরত পাঠানোর টিকেট কিনতে সংগ্রহ করতে থাকেন তহবিল।
টাওয়েল অটো সেন্টারের মাসকট সেলসের প্রধান সুদীপ ব্যানার্জী বলেন, লিটন হলেন তাদের একজন সাপোর্ট স্টাফের ভাই। তার ভাষায়, আমরা জানতে পারি লিটন অসুস্থ। তার শরীরের নিচের অংশ প্যারালাইজড। এখন এ অবস্থার বিস্তার লাভ করেছে। শরীরের উপরের অংশও প্যারালাইজড। কাঁধের নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে তা। লিটনের এমন অবস্থার কথা শুনতে পেয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম তাকে দেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা আমাদেরকে নিতেই হবে। এ সময়ে দিনরাত ২৪ ঘন্টা লিটনের পাশে একজন কারো থাকা উচিত, তার দেখাশোনার জন্য। তা ছাড়া এই বেসরকারি হাসপাতালে অবস্থান করাও ব্যয়বহুল। এ জন্য তার আত্মীয়-স্বজনরা বেশ কিছু বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে।
বাংলাদেশের একটি বিমান সংস্থা তাদেরকে জানায়, এমন রোগিকে পরিবহন করতে যে সরঞ্জাম প্রয়োজন তা তাদের কাছে নেই। অন্যরা বিমান ভাড়া এতটা হাঁকালো যে তা তার বা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। লিটনকে দেশে পাঠাতে হলে কমপক্ষে ১৫০০ রিয়াল প্রয়োজন।
সুদীপ ব্যানার্জী বলেন, এ নিয়ে আমি সহকর্মী ও অন্যান্য কোম্পানিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করি। সবার কাছে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানাই, যাতে আমরা লিটনকে তার মায়ের কাছে ফেরত পাঠাতে পারি। অবশেষে সবার মনখোলা সহযোগিতায় লিটনকে দেশে পাঠানোর মতো অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। এখন তাকে দেশে পাঠানোর জন্য সঙ্গে যাওয়া একদল ডাক্তারও ঠিক করা হয়েছে। সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত। লিটন অপেক্ষা করছে দেশের উদ্দেশে যাত্রার জন্য।

দুর্নীতিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩, দক্ষিণ এশিয়ায় ২য়

বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩ তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে টিআইবি। ২০১৭ সালে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ১৭ তম। সেখানে ২০১৮ সালের সূচকে ৪ ধাপ পিছিয়ে হয়েছে ১৩ তম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এ অঞ্চলে আফগানিস্তানের পরেই অবস্থান বাংলাদেশের। আজ রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘দুর্নীতির ধারনা সূচক (সিআইপি) ২০১৮’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি দুর্নীতির এ চিত্রের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে করেছে।
সংস্থাটির মতে, এবারের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২ পয়েন্ট কমেছে।
তালিকার নিম্নক্রম অনুযায়ী ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৩ তম , যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৪ ধাপ নিম্নে এবং উর্ধক্রম অনুযায়ী ১৪৯ তম, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬ ধাপ অবনতি। ১০০ এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় হিসেবে বিবেচনায় বাংলাদেশের ২০১৮ সালের স্কোর ২৬ হওয়ায় দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো উদ্বেগজনক বলে প্রতীয়মান হয়। তদুপরি দক্ষিণ এশিয়ার ৮ট দেশের মধ্যে আংলাদেশের অবস্থান নিম্নক্রম অনুসারে এখনো বিব্রতকরভাবে আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে অবস্থান চতুর্থ সর্বনিম্ন।
টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। ২০১৮ সালের সিপিআই অনুযায়ী এ দেশটির স্কোর ৬৮ এবং উর্ধক্রম অনুযায়ী অবস্থান ২৫। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার স্কোর ৪১ এবং অবস্থান ৭৮। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এরপরে শ্রীলংকা ৩৮ স্কোর পেয়ে ৮৯তম অবস্থানে রয়েছে। ৩৩ স্কোর পেয়ে ১১৭ তম অবস্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান এবং ৩১ স্কোর পেয়ে ১২৪ তম অবস্থানে নেমে গেছে মালদ্বীপ। অপরদিকে ৩১ স্কোর পেয়ে ১২৪ তম অবস্থানে আরো রয়েছে নেপাল। এরপর ২৬ স্কোর পেয়ে ১৪৯ অবস্থানে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের পরে ১৬ স্কোর পেয়ে সিপিআই ২০১৮ সূচকে ১৭২ তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।
সূচকে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ডেনমার্কের অবস্থান প্রথম। আর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ আফ্রিকার সোমালিয়া। ১৮০ টি দেশের মধ্যে ১৮০ তম স্থান পাওয়া এ দেশটির স্কোর ১০। সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে এরপরের অবস্থানগুলো পর্যায়ক্রমে সিরিয়া, সাউথ সুদান, ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, সুদান, গিনিয়া বিসাউ, একুয়াটোরিয়াল গিনিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া, বুরুন্ডি।
২০১৭ সালের তুলনায় দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নমুখী হওয়ার কারণ বলতে গিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে যেসব দুর্নীতি হয় সেসব ক্ষেত্রে অভিযান চালায়। কিন্তু উচ্চ শ্রেণীর মধ্যে অভিযান চালাতে তাদের দেখা যায় না। ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

শান্তি চুক্তির খসড়ায় সম্মত তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের আলোচকরা একটি শান্তিচুক্তির খসড়া রূপরেখায় সম্মত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের শীর্ষ আলোচক এ তথ্য দিয়েছেন। আফগানিস্তানে ১৭ বছর মেয়াদী সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে আলোচনা করছে দুই পক্ষ। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
কাতারে গত সপ্তাহে ছয় দিন ধরে তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন আলোচকরা। অপরদিকে আফগান প্রেসিডেন্টও তালেবানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারকে ‘তাঁবেদার’ আখ্যা দিয়ে ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামপন্থি এই গোষ্ঠী।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবানরা।
এখনও দেশটির শীর্ষ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে টিকে আছে এই গোষ্ঠী। আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের অবসান ঘটে দেশটিতে মার্কিন আক্রমণের মধ্য দিয়ে। তালেবান শাসকগোষ্ঠী জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দাকে আশ্রয় দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার জন্য আল কায়দাকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার পর আল কায়দাকে আশ্রয় দেওয়ায় তালেবানের ওপর আক্রমণ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
এই ১৭ বছর সংঘাতের পর অবশেষে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছে। যদিও চুক্তির খসড়া রূপরেখায় উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে বলা হচ্ছে, তবুও বিশ্লেষকরা বলছেন, পূর্ণ শান্তিচুক্তিতে উপনীত হতে কয়েক বছর লেগে যাবে।
আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জালমায় খলিলজাদ আলোচনা নিয়ে আফগান সরকারকে অবহিত করতে কাবুল সফর করেছেন। এ সময় নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রূপরেখার খসড়ায় আমরা সম্মত হয়েছি। তবে এটি চুক্তিতে পরিণত হতে আরও সময় লাগবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, প্রস্তাবিত চুক্তির একটি অংশে বলা আছে, আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করবে তালেবান।
এই সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ছিল অনেকটা এরকম যে, তালেবানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। মার্কিন প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে সৈন্য প্রত্যাহারের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে। বিনিময়ে তালেবানকে অস্ত্রবিরতি ও সরাসরি আলোচনায় বসতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে। তালেবান বলছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা তখনই শুরু হবে যদি সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট একটি তারিখ ঘোষিত হয়।
আফগানিস্তানে ১৭ বছর ধরে চলা এই সংঘাতে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের উপাত্ত মতে, যুদ্ধপরবর্তী বছরগুলোতেও, অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৬ থেকে ১১ হাজার করে মানুষ নিহত হয়েছে।

এ কেমন বিদায় by শুভ্র দেব

বড় ভাইকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন ডালিম। সঙ্গে তার একমাত্র  বোনের স্বামী মোবারক। সোমবার ছিল ডালিমের ভাই রুবেলের ফ্লাইট। তাই রোববার বিকালেই নরসিংদী থেকে তারা এসে উত্তরার একটি হোটেলে উঠেন। রুবেলকে হোটেলে রেখে ডালিম ও মোবারক সন্ধ্যায় ঘুরতে বেরিয়েছিলেন বিমানবন্দর এলাকায়। সেই ঘোরাই যে তাদের জীবনের শেষ ঘোরা তা কে জানতো? বেপরোয়া এক ট্রাকের চাপায় বিমানবন্দরের প্রবেশ পথে প্রাণ হারান তারা। স্বজনকে বিদায় জানাতে এসে তারা নিজেরাই ধরলেন চির বিদায়ের পথ। নিজের বিদায়ে এসে যারা প্রাণ হারালেন তাদের শেষ বিদায়ে  না থাকার কষ্ট নিয়েই সোমবার সৌদি আরব গেছেন রুবেল।
তার একমাত্র বোনের সঙ্গে মোবারকের বিয়ে হয় ঘটনার মাত্র ১৮ দিন আগে। মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে ঢাকা বিমানবন্দরের পুলিশ চেকপোস্টের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন নরসিংদীর রায়পুরার আবদুল মান্নান (২৩)। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজো।
২৫ বছর বয়সী বড় ভাই রুবেলকে সৌদি আরবে নেয়ার জন্য একটি ভিসার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই মোতাবেক গতকাল দুপুরে ছিল তার ফ্লাইট। রুবেলকে বিদায় দিতে আগের দিন সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন তার ছোট ভাই ডালিম (২০) ও তার একমাত্র বোনের স্বামী মোবারক হোসেন (৩০)। পরের দিন ফ্লাইট হওয়াতে তারা উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন। রাতের বেলা রুবেলকে হোটেলে রেখে বাইরে ঘুরতে বের হন শ্যালক ও বোন ভগ্নিপতি। ঢাকা বিমানবন্দরের বাইরে তারা ঘণ্টাখানেক ঘোরাঘুরি করেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তারা বাসায় ফেরার উদ্দেশে রওনা দিয়ে আসেন বিমানবন্দরের প্রবেশ পথের আর্মড পুলিশের তল্লাশি চৌকির কাছে। ঠিক তখনই রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দু’জনকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। নিহত ডালিম রায়পুরার আনোয়ারাবাদের আতর মিয়া ও সুফিয়া বেগমের ছেলে। আর মোবারক রায়পুরার সামুদ নগরের মৃত আবদুল খালেক ও হেলেনা বেগম দম্পতির ছেলে। 
নিহত ডালিমের মামা আনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, তার তিন ভাগ্নে ও এক ভাগ্নি। মাত্র ১৮ দিন আগে ভাগ্নি শাবনুরের বিয়ে হয়েছিল মোবারকের সঙ্গে। ভাইকে বিদায় দিতে সে ও তার স্বামী বাবার বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু এক ভাইকে বিদায় দিতে এসে আরেক ভাই ও নিজের স্বামীকেই চিরবিদায় দিতে হয়েছে তার। আনোয়ার বলেন, আমার ভাগ্নির মেহেদির রং এখনো মুছেনি। একমাত্র ভাগ্নি আমাদের। তার মা-বাবা ও ভাইদের অনেক আদরের ছিল। পারিবারিকভাবেই জাঁকজমক আয়োজনে বিয়ে দেয়া হয়েছিল তার। তার স্বামীর বাড়ি ও বাপের বাড়িতে এখনো বিয়ের আমেজ রয়ে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমার বোনের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। কে কাকে সান্ত্বনা দেবে। আমার বোনের বড় আদরের ছেলে ছিল ডালিম। ছেলের শোকে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আর ভাগ্নি তার স্বামী ও স্বামীর সংসারকে বুঝে ওঠার আগেই স্বামীহারা হয়ে গেল। এদিকে রোববার রাতে বিমানবন্দর থানায় তৈরি হয়েছিল এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। ভাই ও ভগ্নিপতি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন এটা ভাবতেই পারছিলেন না সৌদিগামী যাত্রী রুবেল। তারা কান্নায় অনেকের চোখের কোণে এসেছিল জল। একদিকে আদরের বোনের স্বামী অন্যদিকে ছোট ভাই। চোখেমুখে অনেকটা বিষণ্নতার ছাপ, বুকভরা কষ্ট আর চোখে জল নিয়ে রুবেল বলেন,  আমি এখন কি করে বিদেশে যাব। আমি সেখানে গিয়ে থাকতে পারবো না।
আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমাকে হোটেলে রেখে তারা ঘুরতে বের হয়েছিলেন। আমি একা একা হোটেলে বসে তাদের অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু তারা যে না ফেরার দেশে চলে গেছেন এটা আমি ভাবতে পারছি না। রুবেলকে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ সময় পুলিশ সদস্যরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।  আত্মীয়-স্বজনদের অনুরোধে ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই রুবেল গতকাল দুপুর আড়াইটায় সৌদি আরবের উদ্দেশে পাড়ি জমান। বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক শ্রীদাম চন্দ্র রায় মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই ট্রাকের চালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আছে।

বেওয়ারিশ লাশের কেন পরিচয় মেলে না by বিবিসি

২০১৮ সালের নভেম্বরের ১ তারিখ। বাংলাদেশের বেওয়ারিশ লাশ দাফনের দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি মরদেহ ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার করে।
পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ প্রাথমিক সুরতহাল করে আঞ্জুমান মফিদুলের কাছে দিয়ে দেয় বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফনের জন্য।
ঘটনা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারতো আরো হাজার খানেক বেওয়ারিশ লাশের মতই।
কিন্তু ঘটনার মোড় নেয় যখন আঞ্জুমান মফিদুলের কর্মীরা তাকে দাফনের আগে গোশলের জন্য নেন। মৃতব্যক্তির কোমরে কিছু কাগজ খুঁজে পান তারা। সেই সময় উপস্থিত থাকা একজন কর্মী ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন এভাবে,
তিনি বলছিলেন "আমরা তার কোমরে আইডি কার্ড আর ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পাই। আইডি কার্ড দিয়ে সনাক্ত করা যায় নি। এরপর পুলিশকে জানালে তারা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে তার পরিচয় বের করেন। দেখা যায় তিনি চট্টগ্রামের বিশাল বড়লোক ফ্যামিলির লোক। পরে তাদের খবর দিলে তারা এসে লাশ নিয়ে যায়"।
চট্টগ্রামের এই পরিবারটির সাথে আমি কথা বলেছি।
তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। কিন্তু পরিবারটি বলেছেন তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন,এবং এই ঘটনায় এতটাই বিপর্যস্ত যে এখন আর এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিলেন না তারা।
বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা
বেওয়ারিশ লাশের ওয়ারিশ বা পরিবার-পরিজনের খবর পাওয়া যায় হাজারে দুই থেকে তিনটা।
আঞ্জুমান মফিদুল বলছে ২০১৪ সালের জানুয়ারি ১ তারিখ থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই পাঁচ বছরে ৬ হাজার ২১৩ জনকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করেছে তারা। অর্থাৎ প্রতি বছরে এক হাজার জনের বেশি মানুষ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে যাদের কোন ওয়ারিশ পাওয়া যায়নি।
ঢাকায় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের কার্যালয়। সংস্থাটি ২০১৮ সালের নিখোঁজদের যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে এর সংখ্যা ৩৪। পরবর্তীতে ১৯জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। যাদের অধিকাংশ বিভিন্ন মামলায় পুলিশের কাছে আটক আছে। আর বাকি ১৫ জন নিখোঁজ।
পরিবারগুলো কি খোঁজ করে?
এই নিখোঁজদের একজন মোহন মিয়া। যিনি ঢাকার মিরপুর থেকে ২০১৮ সালের ১০জুন নিখোঁজ হন। মোহন মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলছিলেন তারা আঞ্জুমান মফিদুলে যাননি। কারণ তার আশা তার স্বামী একদিন ফিরে আসবেন।
তিনি বলছিলেন "তার শত্রুতা ছিল বাড়ী ঘর নিয়ে। মুদি দোকান ছিল আমার স্বামীর, সে তো কোন সন্ত্রাস না , নেতাও না যে তারে মেরে ফেলবে। নিখোঁজের পর আমরা অনেকবার পুলিশের কাছে গিয়েছে। কিন্তু আঞ্জুমান মফিদুলে যায়নি। আমরা বিশ্বাস করি সে ফিরে আসবে একদিন"।
আরো একজন নিখোঁজ ব্যক্তির বাবা বলছিলেন তার ছেলের খোঁজে একাধিক বার থানা-পুলিশ করেছেন কিন্তু আঞ্জুমান মফিদুলে যাননি।কারণ পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তার ছেলেকে তারা খুঁজে বের করবেন। সে ঘটনার পার হয়ে গেছে ছয় মাস।
তিনি বলছিলেন "অনেক কিছু করলাম। মিডিয়া করলাম, থানা -পুলিশ করলাম। পুলিশ বলতো আপনার ছেলেকে পাবেন।এখন সেই ওসি'ও ট্রান্সফার হয়ে গেছে"।
বেশির ভাগেরই মরদেহের খোঁজ করতে কেউ আসেনা এখানে।
যেসব পরিবারে কোন ব্যক্তি নিখোঁজ থাকেন দীর্ঘদিন, তারাও যান না কারণ তাদের আসা থাকে একদিন হয়ত নিখোঁজ ব্যক্তিটি পরিবারের কাছে ফিরে আসবে এই আশায়।
এছাড়া অনেক সময় মরদেহগুলো এমন অবস্থায় থাকে যে সেগুলো সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পরে। বলছিলেন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের একজন কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম।
মি. ইসলাম বলছিলেন "যদি কোন পরিবার এসে একটা টাইম লিমিট বলতে পারেন যে ঐ সময়ের মধ্যে ঘটনাটা ঘটেছে বা ব্যক্তির বর্ণনা দিতে পারে তাহলে আমরা আমাদের নথী ঘেটে মেলানোর চেষ্টা করি। তবে সেটা খুব কম হয়। বছরে দুই তিনটা এমন কেস থাকে। তারপর আগে ছবি তোলার সিস্টেম ছিল না।এখন কিছুদিন হল হয়েছে। কিন্তু মরদেহগুলো এত বিকৃত অবস্থায় থাকে যে পরিবারের লোক আসলেও সনাক্ত করতে পারে না"।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কি পরিচয় শনাক্ত করতে পারে?
একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার সুরতহাল, ময়নাতদন্ত, জিডি, মামলা সব কিছু হয় সংশ্লিষ্ট থানাতে।
এর একটা কপি দেয়া হয় আঞ্জুমান মফিদুল। এছাড়া দেশের সব থানাতে এই বিবরণ বা প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাহলে কেন একটা ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায় না? আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টর (মিডিয়া এবং পাবলিক রিলেশন) সোহেল রানার সাথে।
প্রশ্ন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে একটা বেওয়ারিশ লাশ পাওয়ার পর আপনারা কী করেন তার পরিচয় বের করার জন্য?
উত্তর: ময়নাতদন্ত হয়, পরিচয় জানার জন্য থাম্প ইম্প্রেশন থেকে এনআইডির সাথে মেলানোর চেষ্টা করি, প্রাথমিক ভাবে যদি না পরিচয় পায় সেক্ষেত্রে ডিএনএ নমুনা নিয়ে সিআইডিকে পাঠায়। এছাড়া মামলা হয়। জনপ্রিয় পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেয়, সব থানার ইউনিট গুলোকে জানানো হয়।
প্রশ্ন: আপনি ডিএনএ নমুনা, পত্রিকাতে বিজ্ঞাপনের কথা বলছেন এসব কি বিশেষ কেসের ক্ষেত্রে নাকি সব ক্ষেত্রে করেন?
উত্তর: এসব আমরা সব অশনাক্তকৃত লাশের ক্ষেত্রে করে থাকি
প্রশ্ন: যেহেতু একটা মরদেহের সব তথ্য আপনাদের কাছে থাকে সেক্ষেত্রে এটা কি খুব কঠিন কাজ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য খুঁজে বের করা?
উত্তর: নিশ্চিত সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকতে পারে খুঁজে না পাওয়ার পিছনে, যেসকল ক্ষেত্রে অনেক সময় বা কখনো কখনো সম্ভব নাও হতে পারে।
পুলিশ বলছে এভাবে তারা একটি মরদেহ শনাক্তের জন্য তিনমাস তদন্ত করতে থাকেন। তারা দাবী করছেন এর ফলে সন্তোষজনক সংখ্যক মরদেহের শনাক্ত করা গেছে তবে সেই সংখ্যাটি দিতে পারেন নি। এদিকে সেটাই যদি হয় তাহলে আঞ্জুমান মফিদুলের পাঁচ বছরের ৬ হাজারের বেশি বেওয়ারিশ লাশের যে হিসেব দিচ্ছে তার সংখ্যাটা অনেকটা কম আসতো।
আদৌ কি সম্ভব পরিচয় বের করা?
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজ বলছিলেন যেহেতু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সব রকম তথ্য রয়েছে সেক্ষেত্রে একটা মরদেহের শনাক্ত করা কঠিন কিছু না।
তিনি বলছিলেন "কেন একটা মরদেহের শনাক্ত করা যাবে না, নিশ্চয় যাবে। এটা শুনলে মনে হবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কি সচেতন কিন্তু এটা অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।যদি পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে সেই নির্দেশনা থাকে, পলিটিকাল উইল (রাজনৈতিক ইচ্ছা) থাকে তাহলে এটা হবে। পুলিশের অনেক গুলো কাজের মধ্যে এটাকে হায়েস্ট ইম্পর্টেন্স দিয়ে করা উচিত। এখন অনেক প্রযুক্তি বের হয়েছে সেগুলো ব্যবহার করে অবশ্যই বের করা যায়। তবে তার জন্য দরকার বাহিনী গুলোর সৎইচ্ছা"।
বাংলাদেশের বেওয়ারিশ লাশের দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের ২৭ টি শাখা সক্রিয় রয়েছে সারা দেশে।
তবে দেশের যে কোন প্রান্তে কোন বেওয়ারিশ লাশ পেলে পুলিশ তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্রম শেষ করে সৎকারের বা দাফনের জন্য ঢাকাতে পাঠিয়ে দেন।
ঢাকার দুইটি স্থানে সেসব লাশের দাফন হয়।এভাবেই বছরের পর বছর ধরে পরিবার গুলো অপেক্ষায় থাকেন তাদের নিখোঁজ আপনজনের, অপরদিকে হাসপাতালের মর্গ, থানা-পুলিশ সব পার করে একজন মৃত ব্যক্তির হয়ত স্থান হয় বেওয়ারিশ লাশের তালিকায়।
যেটার খবর শুধু তার পরিবারের কাছেই যায় না।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা হলো না ভাইবোনেরঃ ট্রাক কেড়ে নিলো প্রাণ

প্রতিদিনের মতোই দুই সন্তানকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বের হয়েছিলেন সামসুদ্দিন ডালিম। সন্তানরাও বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসেছিল। কিন্তু নিমিষেই সব মিইয়ে গেছে। ট্রাক চাপায় নিহত হয়ে তারা এখন না ফেরার দেশে। গুরুতর আহত হয়েছেন সামসুদ্দিন ডালিম। নিহত সন্তানদের মরদেহ উদ্ধার করে নেয়া হয়েছে মর্গে আর বাবাকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বেলা ১১টায়। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দক্ষিণ  কেরানীগঞ্জের মোল্লারপুল এলাকায়।
ট্রাক  চাপায় নিহত সন্তানদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি বাবা। নিহত ওই দুইশিশু সম্পর্কে ভাই-বোন। তাদের মধ্যে আফসার হোসেন কেরানীগঞ্জের কসমো মেট্রোপলিটন স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণি আর ফাতিমা আফরিন একই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। মোটরসাইকেলচালক বাবা সামসুদ্দিন  ডালিমকে গুরতর অবস্থায়  ভর্তি করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এদিকে দুই শিশু শিক্ষার্থী নিহতের খবরে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে কসমো  মেট্রোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঘটনার প্রতিবাদে ওই স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ৪০ মিনিট অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশের আশ্বাসে  শিক্ষার্থীরা  তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  বেলা সোয়া ১১টার দিকে বাবা সামসুদ্দিন ডালিম স্কুলপড়ুয়া দুইসন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় প্রিয়াঙ্গন আবাসিক প্রকল্পের  গেটের সামনে মালবোঝাই একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে পিষ্ট হয়ে আফসার (১০) ও আফরিন (১৩) নামে দুই ভাই-বোন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহজামান জানান, আমরা ট্রাকটির চালক ও হেলপারকে আটক করার চেষ্টা করছি। অন্যদিকে আবদুল্লাপুর-ধলেশ্বরী সেতুর কাছে রডভর্তি ট্রাকটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আটক করা হয়।
শুধু দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নয়, পুরো রাজধানী গতকাল পৃথক পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আরো চারজনে। রাজধানীর খিলক্ষেত তিনশ’ ফুট রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় বুলবুল হোসেন (২২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন, সাগর (২০) ও কামরুল (২২) নামে দুই যাত্রী।  রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, খবর পেয়ে সিএনজি’র নিচ থেকে তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বুলবুলকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ডেন্টাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খিলক্ষেত থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শাহজাহান কবির জানান, রাতে তিনশ’ ফিট রাস্তায় একটি সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতে দেখে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ। তিনি  জানান, কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। জানার চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ববুলবুল হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মওগাপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম রজব আলী।
অন্যদিকে একই দিন রাত পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় দুই পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, ডালিম (২০) ও মোবারক (২৭)। তাদের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
জানা যায়, তাদের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। তাদের কাছে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ থেকে কিছু কাগজপত্র দেখে তাদের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রীধান চন্দ্র রায় ঘটনাস্থল থেকে  জানান, বিমানবন্দর ইন গেটের মুখে একটি ট্রাক নিযয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠিয়ে দেয়। এতে ফুটপাতে থাকা দুই পথচারীর ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। বিস্তারিত ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাকটি জব্দ করার পাশাপাশি তার চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার শ্যামপুর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় আক্কাছ আলী (৫৫) নামে ট্রাকের এক হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুপুরে শ্যামপুর জুরাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পথচারীরা ওই হেলপারকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকাল ৩টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রয়েছে।
ময়মনসিংহে ট্রাকচালক ও সহকারী নিহত
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ট্রাকচালক ও তার সহকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ আরো অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ট্রাকচালক আলামিন (২৪) ও তার সহকারী হাফিজুর রহমান (২২)। আহতরা সবাই ভালুকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক সকালে ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় ইউটার্ন নিতে গেলে ভালুকাগামী পোশাক শ্রমিকবাহী একটি বাসকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে যায়। এ সময় ময়মনসিংহগামী আরেকটি মিনি ট্রাক পেছন থেকে ওই ট্রাকটিকে ধাক্কা দিলে খাদে পড়ে যায়।
লালপুরে বাসচাপায় গুড় ব্যবসায়ী নিহত
নাটোরের লালপুরের লক্ষ্মীপুরে বাসচাপায় আজিজুর রহমান ভেগল নামে এক গুড় ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে লালপুর-ঈশ্বরদী সড়কের লক্ষ্মীপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুর রহমান উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মণ্ডলের ছেলে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল ও স্থানীয়রা জানায়, আজিজুর ভোরে সাইকেলে করে ঈশ্বরদীতে গুড় বিক্রি করতে যাচ্ছিল। পথে লক্ষীপুর এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী একটি বাস তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিবচরে ট্রাক উল্টে নিহত ১
মাদারীপুরের শিবচরে একটি চালভর্তি ট্রাক উল্টে মো. মিলন হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত মিলন একজন বাঁশ ব্যবসায়ী। সে পৌরসভার নলগোড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার ভোরে উপজেলার শিবচর-পাঁচ্চর সড়ক হয়ে একটি চালভর্তি ট্রাক উপজেলার চান্দেরচর যাচ্ছিল।
ট্রাকটি পৌরসভার দাদাভাই তোরণ সংলগ্ন এলাকায় আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এসময় পথচারী বাঁশ ব্যবসায়ী মিলন হাওলাদার ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
কচুয়ায় দুর্ঘটনায় নিহত ১
চাঁদপুরের কচুয়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ ও ২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার কচুয়া-চৌমুহনী সড়কের দোঘর-শাহাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেল চালক বিপ্লব (২৬) নিহত হয় এবং আরোহী জুটন (২২) ও অজয় (২১) আহত হয়েছেন। আহতদের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এব্যাপারে কচুয়া থানার ওসি মো. আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিহত পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডুতে নছিমন চাপায় ৭ বছরের শিশু নিহত
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দখলপুর গ্রামে প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া মাদরাসা ছাত্র রাফি (৭) নছিমন চাপায় নিহত হয়েছে। নিহত রাফি ঐ গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় রাফি মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দখলপুর বাজার রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি নছিমন এসে রাফিকে ধাক্কা দিলে রাফি নছিমনের চাকার নিচে পড়ে। স্থানীয়রা প্রথমে তাকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে তার অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রোববার রাতে সবাইকে কাঁদিয়ে শিশু রাফি না ফেরার দেশে পাড়ি জমায়। এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, মর্মান্তিক এই বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ডাকসু নির্বাচন: সিন্ডিকেটের দিকে তাকিয়ে সবাই by মুনির হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তই অনুমোদন হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায়। এখান থেকে চূড়ান্ত হবে- কারা হতে পারছেন ডাকসু নির্বাচনের ভোটার ও প্রার্থী, প্রার্থীদের আচরণবিধি কী হবে, গঠনতন্ত্রে কী কী সংশোধন আসছে, তফসিল ঘোষণা কবে হবে, সিসি ক্যামেরা
ব্যবহার করা যাবে কিনা, গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা কী হবে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সিন্ডিকেটের এক সদস্য সভার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছে। আমাদের উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সভায় ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।’
এদিকে সিন্ডিকেটের এ সভা ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে। তারাও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে। বিশেষ করে গঠনতন্ত্র মোতাবেক যারা ইতিমধ্যে নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তারাও তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন সিন্ডিকেটের সভার প্রতি। ইতিপূর্বে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সব দাবি দাওয়াই সিন্ডিকেটে তোলা হবে বলে জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, আগামী ১১ই মার্চ ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটা কমিটি গঠন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১৫ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ, সাত সদস্যের আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি, পাঁচ সদস্যের গঠনতন্ত্র যুগোপযোগীকরণ কমিটি। এসব কমিটি ইতিমধ্যে নিজেরা এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বসে গঠনতন্ত্র যুগোপযোগীকরণ, আচরণবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ জমা দিয়েছেন ভিসির কাছে। কমিটির দেয়া সুপারিশগুলো তোলা হবে সিন্ডিকেটের সভায়। সেখান থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়াও ভিসি প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ছয় রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন। তারাও নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিসির কাছে কিছু সুপারিশ রেখেছেন। সেগুলোও আলোচনায় আসবে সিন্ডিকেটের সভায়। চূড়ান্ত করা হতে পারে কখন ঘোষণা হচ্ছে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল। নির্বাচনের তারিখ, মনোনয়ন সংগ্রহ, জমা ও প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দিনক্ষণ।
প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের খসড়া যে আচরণবিধি তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে আমরা বেশকিছু ধারায় সংশোধনের দাবি জানিয়েছি। এখন দেখা যাক সিন্ডিকেট কী সিদ্ধান্ত নেয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা আচরণবিধিতে মাইক ব্যবহারে শর্ত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ অল্প কিছু ধারায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছি। এছাড়া গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির কাছে প্রার্থী শর্ত শিথিলের প্রস্তাব করেছিলাম। এখন সিন্ডিকেট কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটি দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে আমরা সিন্ডিকেটের নেয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের আলোকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
গঠতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার পর তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন এনে মাননীয় ভিসি স্যারের কাছে দিয়েছি। সিন্ডিকেট সেগুলো দেখে পরিবর্তন পরিবর্ধন করে চূড়ান্ত করবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে যেগুলো সিন্ডিকেট চূড়ান্ত করবে। আজ সিন্ডিকেটের সভা অনুষ্ঠিত হবে।’
আচরণ বিধিতে কী চায় ছাত্র সংগঠনগুলো
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি একটি খসড়া আচরণবিধি তৈরি গত শুক্রবার ছাত্র সংগঠনগুলোকে পৌঁছে দিয়েছিল। যেখানে ১৪টি ধারায় করা খসড়া আচরণবিধি ছাত্র সংগঠনগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতে যুক্তিসঙ্গত হলে প্রয়োজনে সংশোধন করা হবে বলে জানানো হয়। এরপর শনিবার ছাত্র সংগঠনগুলো আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটিকে নিজেদের মতামত দেয়।
ছাত্রলীগের সুপারিশ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যায়তনিক পরিবেশ, একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাস-পরীক্ষা-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম-লাইব্রেরির পরিবেশ ব্যাহত করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না; ৫ (জ) সংশোধন করে শিক্ষার পরিবেশ ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস জীবনের স্বার্থে মাইকের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। ছাত্র সমাবেশ বা অডিটোরিয়ামের অভ্যন্তরে মাইকের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে; দেয়াল লিখনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন-সাহস-সংগ্রাম প্রতিধ্বনিত হয়। ছাত্ররাজনীতির ঐতিহ্যবাহী এ প্রথার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না;  মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ভাবে ও হলগুলোতে নির্বাচনী বিতর্কসভার আয়োজন করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচন একান্তই একাডেমিক-বুদ্ধিবৃত্তিক-সাংস্কৃতিক ও ছাত্র-অধিকারকেন্দ্রিক। নির্বাচনের মিথস্ক্রিয়া ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বর্তমান ছাত্র নেতা ছাড়া ডাকসু বা হল সংসদের সাবেক নেতৃবৃন্দ বা অন্য কাউকেই রাজনৈতিক প্রচারণায় সম্পৃক্ত করা যাবে না। ক্যাম্পাসের রাজনীতি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হতে হবে; আচরণবিধি সাপেক্ষে, সাংবাদিকদের কার্যক্রম পরিচালনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে; ৫ (খ) সংশোধন করে সভা-সমাবেশ-শোভাযাত্রা করার অনুমতি ৪৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা করতে হবে; কোনো প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে, সংক্ষুব্ধ যে কেউ চিফ রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তদন্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে; নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় বা অঞ্চলকে ব্যবহার বা অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না; শিক্ষার্থীদের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্বাচনী ব্যয়সীমা সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে।
ছাত্রদলের সুপারিশ
ছাত্রদল তফসিল ঘোষণার পর ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের কোনো প্রকার হয়রানি, মামলা দেয়া এবং গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। এছাড়াও সংগঠনটির পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা সংক্রান্ত ৪(গ) ধারা সংশোধন করে পরিবেশ পরিষদের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সকল নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ সংগঠনের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে সাবেক ডাকসু নেতৃবৃন্দের উপস্থিত থাকার সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হয়। ছাত্রদলের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে- ভোট প্রদানের গোপন বুথ ব্যতীত ভোটকক্ষ এবং সমগ্র ভোটকেন্দ্র ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা। নির্বাচনী সভা, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা সংক্রান্ত ৫(খ) ধারা সংশোধন করে প্রচার-প্রচারণাকে আরো প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার পূর্বে সভা সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করার অনুমতি গ্রহণের সময়সীমা শিথিল করা। উস্কানিমূলক বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে অথবা করলে তাদেরকে সহজেই শনাক্ত করা যায়। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত ১০(ক) ধারায় বলা হয়েছে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ‘অনুমোদিত ব্যক্তি’র সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা করা এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ব্যতিরেকে গণমাধ্যম কর্মীদের অবাধে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ, ছবি তোলা এবং ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার করার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
ছাত্র ফেডারেশনের সুপারিশ 
আচরণবিধির ৪ (গ) ধারাটি সংশোধন করে কোনো ব্যক্তির খ্যাতির মানদণ্ড সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন। এ ছাড়াও ৫ (গ) ধারাটি সংশোধন করে একজন প্রার্থী বা একটি প্যানেলের পক্ষে প্রতিটি হলে ১টির পরিবর্তে ৩টি ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ৩টির বদলে ৫টি প্রজেকশন মিটিং করার অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে কোনোরূপ বাধা না দিয়ে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ছবি তোলা ও ভিডিও করার ব্যবস্থা থাকার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এছাড়াও প্রত্যেক প্রার্থী নির্বাচনের ব্যয়সীমা নির্দিষ্ট করা, রঙিন পোস্টার না করা, নির্বাচনী ক্যাম্প না বসানো, আলোকসজ্জা না করা, ভোটার স্লিপ শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দেয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রেখেছে তারা।
ছাত্র ইউনিয়নের সুপারিশমালা :
ছাত্র ইউনিয়ন খসড়া সুপারিশমালার ৪ এর (গ) ধারা সংশোধন করে ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দের প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ। ৫ এর (গ) ধারাটিও সংশোধন চায় সংগঠনটি। এর বদলে প্যানেল পরিচিতি সভা প্রশাসনের উদ্যোগে করার সুপারিশ করেছে তারা। এছাড়াও ৬ (গ) ধারাটি সংশোধন করে দেয়ালে কোনো প্রচারণা না চালানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী দেয়াল লিখন মুছে দেয়া, ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং গণমাধ্যমের কর্মী এবং কোনো প্রার্থী সিসিটিভির ফুটেজ নিতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তা দিতে বাধ্য থাকার প্রস্তাবও আছে ছাত্র ইউনিয়নের আচরণবিধি সংস্কার প্রস্তাবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সুপারিশ:
‘আচরণবিধির খসড়াটির ৪ নম্বর ধারা’ অনুযায়ী প্রস্তাব হলো প্রচারণার সময় রাত ১০টার বদলে রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো। খসড়ার ৫নং ধারার (ক) ও (খ) উপধারা অনুযায়ী প্রস্তাবনা হলো মৌখিকভাবে জানানোর বিষয়টি থাকতে পারে, যাতে দুইটি অনুষ্ঠান একই স্থানে না পড়ে যায়। একই ধারার (ঘ) উপধারার বিপরীতে সংগঠনটির প্রস্তাব হলো- মৌখিকভাবে বলার বিধান থাকাই যুক্তিযুক্ত। কারণ, (ঙ) ও (চ) উপধারায় যা বলা আছে, তারপরও লিখিতভাবে অনুমতির বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের পরিচায়ক। ৬ (ক) উপধারার ক্ষেত্রে তাদের মতামত হচ্ছে পোস্টার ও হ্যান্ডবিল, লিফলেটের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়া যেতে পারে। হ্যান্ডবিল ৩৫ হাজার এবং পোস্টার ৫ হাজার কপি হতে পারে। খসড়া আচরণবিধির ৭ নং ধারার (ক) উপধারা মোতাবেক প্রস্তাব হলো- নির্বাচনী আচরণবিধিতে গণচাঁদার বিষয়টি যুক্ত করা। ৮ (ক) উপধারা এবং ৮নং ধারার পরের উপধারার বিপরীতে প্রস্তাব হলো- সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক গঠনমূলক সমালোচনার বিধি প্রয়োজনীয়। নতুবা যেকোনো কথাকেই ‘কোট’ (উদ্ধৃত) করে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করার ফাঁক থেকে যায়। ৫ (চ) উপধারার জন্য প্রস্তাব হলো- ক্লাসরুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতামত বিনিময়ের সুযোগ (ক্লাস ক্যাম্পেইন) যেমন থাকতে হবে, একইসঙ্গে বক্তব্য প্রচারের জন্য করিডোরে মিছিলের মতো প্রচলিত ও সর্বজনস্বীকৃত কার্যক্রমকে ‘নির্বাচনী আচরণবিধি’তে যুক্ত করতে হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সকল শিক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে; কোনো রাজনীতি সংগঠন যাতে ক্যাম্পাসে সকলের সহাবস্থানে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি না করতে পারে; সম্প্রতি যারা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন ভাবে হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ঢাবির বিভিন্ন হলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো প্রকারের নির্যাতন বা ভয়ভীতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সর্বোপরি ডাকসুর নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার আগেই ক্যাম্পাসে নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।

জিআই সনদ পেলো ‘খিরসাপাত’

জামদানি ও ইলিশের পর এবার স্বীকৃতি পেলো ‘খিরসাপাত’। দেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে জিআই নিবন্ধন সনদ পেলো চাঁপাই নবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম। গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁপাই নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  ড. মো. শফিকুল ইসলামের হাতে এ সনদ তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাঁপাই নবাবগঞ্জের ‘ল্যাংড়া’ এবং ‘আশ্বিনা’ আমের অনুকূলেও জিআই সনদ দেয়ার জন্য ডিপিডিটির প্রতি নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, চাঁপাই নবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম জিআই সনদ অর্জনের ফলে দেশে আমের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমকেন্দ্রিক অর্থনীতি জোরদার হবে। তিনি আমসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী ফল, ফুল, পাখি ও পণ্যকে জিআই নিবন্ধনের আওতায় আনার তাগিদ দেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, গুণগতমানের জন্য সারা বিশ্বে বাংলাদেশি আমের বিশাল বাজার রয়েছে। এ আম দিয়ে বাঙালি জাতির নিজস্ব পরিচয় বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা সম্ভব। তিনি আমকেন্দ্রিক গবেষণা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে বর্তমান সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
ঐতিহ্যবাহী খিরসাপাত আম জিআই সনদ পাওয়ায় স্থানীয় আম চাষি, ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) রেজিস্ট্রার মো. সানোয়ার হোসেন ও সনদ গ্রহণকারী ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার প্রধান এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ আমচাষি সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া ১০ বছরের সাজার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। বিচারিক আদালত এ মামলায় ৫ বছরের সাজা দিলেও দুদকের করা রিভিশন আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সাজা দ্বিগুণ করেন হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরের পর ১৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে। রায়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতির সঙ্গে বেঞ্চের কনিষ্ট বিচারপতি সহমত প্রকাশ করেছেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক উল হক, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমেদ, এ জে মোহাম্মদ আলীসহ ২৩ জনকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আরো ছয় আইন কর্মকর্তা ও দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খানসহ ৪ জন আইনজীবীর নাম রয়েছে।
রায়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় আদালত বলেছেন, বেগম জিয়া জেনে-শুনে অসততার আশ্রয় নিয়ে ট্রাস্টের তহবিল  আত্মসাৎ করেছেন। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে, তার অজ্ঞাতসারে অপর আসামিদের ব্যাংক হিসেবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল।
তার এই অসৎ ইচ্ছার দায় মার্জনার কোনো উপায় নেই।
কারণ তিনি মূল ব্যক্তি, যার ব্যর্থতায় তহবিল আত্মসাৎ হয়।
আজকের দিনে আর্থিক অপরাধসহ দুর্নীতি শুধু সুশাসনকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়নি বরং গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এটা নিয়ে বিতর্ক নেই যে, দুর্নীতি সব অধিকারকে নস্যাৎ করে থাকে। দুর্নীতি মানবাধিকার ক্ষয় করে, উন্নয়নকে রুদ্ধ করে, ন্যায়বিচারকে অবমূল্যায়ন করে অথচ স্বাধীনতা, সাম্য, সম্প্রীতি আমাদের সংবিধানের একটি মূল বিষয়। আদালতের কর্তব্য হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী লড়াই করা। ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় অভিযুক্তকে শাস্তি প্রদানে কোমল হওয়ার সুযোগ নেই।
বিচারিক আদালতের দেয়া পাঁচ বছরের সাজা থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার যুক্তি হিসেবে আদালত বলেছেন, বেগম জিয়া হলে আসল অভিযুক্ত। অন্য আসামিরা তাকে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন। তারা এক অপরের সহায়তায় ট্রাস্টের তহবিলের অপব্যবহার করেছেন। আমাদের মতামত হলো বেগম জিয়াকে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় সাজা দেয়া সঠিক হয়নি। ৪০৯ ধারার পাশাপাশি জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্টের ২৬ ধারায়ও তার শাস্তি প্রাপ্য। অন্য আসামিরা দেয়া সাজা তাদের প্রাপ্য। বিচারিক আদালত বেগম জিয়াকে বয়স, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়েছেন, যা প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে কম হবে এ ধরনের আইনি ন্যায্য ও যুক্তি আমরা বলে খুঁজে পাইনি। এতিমদের জন্য পাওয়া অর্থের সুরক্ষা দেয়া এবং তাদের কল্যাণে ব্যয় করা বেগম জিয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু সেটা না করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় আসীন হয়ে নিজের ছেলে, এক আত্মীয় এবং দলীয় ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থের অপব্যবহার করেছেন।
সবকিছু বিবেচনায় আমরা এটাই যুক্তিযুক্ত মনে করছি যে, যথাযথ সাজা দেয়া হলে রাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করার ক্ষেত্রে দুবার হলেও ভাবতে বাধ্য হবে।
এ কারণে আপিল খারিজ করা হলো। সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুকূলে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। অন্য আসামিদের বিশেষ জজ আদালতের দেয়া সাজা বহাল রাখা হলো। বেগম জিয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেয়া হলো।
২০ কার্যদিবস শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবর হাইকোর্ট সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন। তিন মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলো। ওইদিন খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বেড়ে দশ বছর করেন হাইকোর্ট। এ মামলার অপর দুই আসামি মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের দশ বছরের সাজাও বহাল থাকে। একইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানের ১০ বছরের দণ্ডও বহাল থাকে হাইকোর্টের রায়ে। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদক রিভিশন আবেদন করলে সেটা যথাযথ ঘোষণা করে সাজা ১০ বছরে উন্নীত করে হাইকোর্ট।
২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বকশিবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর ওই দিনই তাকে নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় হয়।
রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের সত্যায়িত (সার্টিফায়েড) অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরদিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালাস চেয়ে আপিল করেন তারা। পরে ২২শে ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্ট ৭ই মার্চ অপর আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ১০ই মে শরফুদ্দিন আহমেদের আপিল গ্রহণ করেন।
এছাড়া গত ২৮শে মার্চ খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদকের করা আবেদন গ্রহণ করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। গত ১২ই মার্চ খালেদা জিয়া এ মামলায় চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। কিন্তু জামিন পেলেও অন্য মামলা থাকায় তিনি মুক্ত হতে পারেননি। 
জরুরি অবস্থার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ  ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে অন্যান্য মামলার সঙ্গে এ মামলায়ও খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মতিঝিল থানায় করা মামলায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অভিযোগ করে দুদক। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কুয়েত থেকে এতিমদের জন্য আসা অর্থ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে  আত্মসাৎ করে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।  ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট শুধু কাগজেই ছিল, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। ২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট এ মামলার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ। মামলায় ৩২ সাক্ষীর মধ্যে ৩১ জন সাক্ষ্য দেন।

স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি: দুদকের তথ্যের পর তৎপর মন্ত্রণালয় by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

যেসব চিকিৎসক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনিটরিংয়ে আরো তৎপর হচ্ছে মন্ত্রণালয়। অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হলে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা  নেয়া হবে বলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সম্প্রতি দুদকের অভিযানে ঢাকাসহ ৮ জেলার হাসপাতালে অধিকাংশ চিকিৎসককে অনুপস্থিত পেয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় ৪০ শতাংশ এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৬২ শতাংশ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি দেখা গেছে। বিষয়টিকে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনৈতিক। আর মন্ত্রণালয় বলছে, চিকিৎসকদের এই অনুপস্থিতির বিষয়টি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের অননুমোদিত অনুপস্থিত প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, চাকরির নিয়ম আছে।
স্বাভাবিক রুটিন আছে। চিকিৎসকরা যেখানে চাকরি করনে তার উপরে মহল আছে। তারপরে মন্ত্রণালয় আছে। হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর অভিযান তাদের নজরে এসেছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে মন্ত্রণালয়ও তাদের চ্যানেলে ভেরিফাই করছে। তদন্ত চলছে। দোষী হলে চাকরির নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা  নেয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, অভিযোগ পওয়া গেছে। তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ২১শে জানুয়ারি বেলা দুইটা পর্যন্ত মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ফুলবাড়িয়ার কর্মচারী কল্যাণ হাসপাতাল, নাজিরা বাজারের মা ও শিশু সদন, রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাবনা সদর হাসপাতাল ও আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি দেখতে পায় সংস্থাটি। এদিকে, ২৩শে জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগে ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে দুদক। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অধীনস্থ বিভিন্ন কার্যালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ স্বেচ্ছাচারী ও ক্ষমতা অপব্যবহারকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করার সুবাদে দুর্নীতির শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছে। যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুদকে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে, যা আমাদের গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। এমন অবস্থায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতি প্রতিরোধক কল্পে বর্তমান কর্মস্থল থেকে জরুরি ভিত্তিতে বদলির ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ  করেছে দুদক।
কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি এবং স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব মানবজমিনকে বলেন, চিকিৎসকদের দুর্বৃত্তায়ন আছে। এটা অস্বীকার করার কারণ নেই। এর সমাধান কী সেটা খুঁজে বের করতে হবে। মন্ত্রণালয় কি করছে। দুদক অভিযান চালিয়ে দুর্নীতি ধরিয়ে দিয়েছে। এটা মন্ত্রণালয়ে অদক্ষতা। মন্ত্রণালয় তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কি তদারকি করছে। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা কি কাজের জায়গা নিয়ে সন্তুষ্ট নন? কাজের সুযোগ সুবিধা রয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটা আগে বের করতে হবে। অনুপস্থিতির  যৌক্তিক কারণ খোঁজে  বের করতে হবে। ব্লেম গেম দিয়ে হবে না। পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উপস্থিতির জন্য হাতের আঙুলের ছাপ নেয়ার জন্য ডিজিটাল মেশিন কিনে অনেক টাকা খরচ করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, হেলথ সার্ভিস সিস্টেমে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তাও দেখতে হবে। কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্টার জাহিদুর রহমান বসুনিয়া মানবজমিনকে বলেন, চাকরি নিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করবেন না। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবেন এটা হতে পারে না। এটা অনৈতিক।

যশোরে যুবলীগ নেতাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গুলির অভিযোগ

সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত যশোর শহর ফের অশান্ত হতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে বাড়ছে সহিংসতা। বাড়ছে বোমাবাজি আর গোলাগুলির ঘটনা। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার গভীররাতে যশোর শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহবুব রহমান ম্যানসেল (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাত আড়াইটার দিকে যশোর শহরের ষষ্ঠিতলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতের স্বজনরা বলছেন, পুলিশ ম্যানসেলকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বামপায়ে গুলি করে। কিন্তু পুলিশ বলছে, ক্ষমতাসীন দলের বিবদমান দুইপক্ষের গোলাগুলির খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায় এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ম্যানসেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়েছে।
আহতের বাবা মোহাম্মদ আলমাস বলেন, ‘রাতে ম্যানসেল বাসার নিচতলায় ঘুমিয়ে ছিল। রাত আড়াইটার দিকে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপর তারা ম্যানসেলকে তুলে বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়।
পরে গুলির শব্দ শুনি। আমরা কেউ ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। কেননা বাড়ির দরজা পেছন থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ছেলের বামপায়ে গুলির জখম।’
আহতের মামা ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) হাসান ইমাম লাল বলেন, ‘গভীর রাতে ষষ্ঠিতলাপাড়ার কয়েকটি বাড়ির সামনে অনেক পুলিশ অবস্থান নেয়। তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে বাড়ির লোকজনকে। এমনকি তারা আমার পরিবারকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেও গাল দেয়। কিছুসময় পর গুলির শব্দ শুনতে পাই। সেসময় আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনি, কেননা আমাদের ঘরে বাইরে থেকে দরজার হ্যাজবল্ড লাগানো ছিল।’
তিনি জানান, ওইসময় পুলিশের ছোড়া ইটপাটকেলে আমার ঘরের জানালার কাচ ভেঙে যায়। তারা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
যোগাযোগ করা হলে যশোর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু বলেন, কিছুদিন আগে ম্যানসেলের স্ট্রোক হয়। তার শরীরের ডান পাশ প্রায় অবশ। তিনি বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় থাকতেন। গতরাতে পুলিশের সঙ্গে মুখবাঁধা অবস্থায় শহরের চিহ্নিত কতিপয় সন্ত্রাসী ষষ্ঠিতলাপাড়া এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন আব্দুর রউফ জানান, আহতের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দ্রুত ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করালে হয়তো তার পা রক্ষা করা যাবে।
জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে আমরা খবর পাই- ষষ্ঠিতলাপাড়া এলাকায় সরকারি দলের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং ম্যানসেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই।’ তিনি দাবি করেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। ম্যানসেল একজন টপটেরর সন্ত্রাসী। তার নামে থানায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড ছিল। পুলিশ তাকে আটক দেখিয়ে কাস্টডিতে নিয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ম্যানসেল যশোরে বিবদমান আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে এমপি গ্রুপের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত দুই দিন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিবাদ চরমে পৌঁছেছে। গুলিবিদ্ধ ম্যানসেল যুবলীগের নেতা হলেও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার তাকে হত্যার চেষ্টাও করেছে প্রতিপক্ষ। এদিকে, যুবলীগ নেতা ম্যানসেল গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার জন্য এমপি গ্রুপের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে চাকলাদারপন্থি ক্যাডার ও পুলিশকে দায়ী করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইউএস বাংলার পাইলট ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত -নেপালের তদন্ত রিপোর্ট

গত বছরের মার্চে নেপালে দুর্ঘটনার শিকার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটির বাংলাদেশি ক্যাপ্টেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ ছাড়া কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টে অবতরণের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বিমানের ক্রুরা সচেতন ছিলেন না। এ কারণেই গত ২৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে নেপাল। যাতে ৭১ আরোহীর ৫১ জন প্রাণ হারান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে রোববার এমন রিপোর্ট দিয়েছে নেপালের তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবেদনে কন্ট্রোল রুমের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব দেয়া হবে। তা বিবেচনা না করলে আইকাওয়ে অভিযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে থাকা বেবিচক-এর ফ্লাইট অপারেশন কনসালটেন্ট সালাউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ।
নেপালে প্রকাশ হওয়া দেশটির এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার বিমানের ক্যাপ্টেন মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।
প্রাণঘাতী ওই বিমানযাত্রায় ছিলেন না এমন এক নারী সহকর্মী ভালো প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যাপ্টেনের সুখ্যাতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ নিয়ে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থাতেই বিমান চালাচ্ছিলেন তিনি। ফলে পরিস্থিতির বিষয়ে সচেতনতা হারিয়ে ফেলেন ক্যাপ্টেন। অসচেতন হওয়ার অর্থ হলো, নির্ধারিত রানওয়ে থেকে বিমানটির বিচ্যুতি বুঝতে পারেন নি দুই চালক।
অন্যভাবে বললে, তারা রানওয়ে দেখতে পান নি। রানওয়ে হারিয়ে ফেলার পর চালক বিমানবন্দরের উত্তর দিকে পার্বত্য অঞ্চলে খুব নিচু দিয়ে ভুল পথে বিমান উড়াচ্ছিলেন। অবশেষে রানওয়ে দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু তখন বিমানটি এর কাছেই খুবই নিচু দিয়ে ভুল পথে  উড়ছিল। তদন্তে নেপালি কর্মকর্তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেনের উচিত ছিল অবতরণ না করে আশেপাশে চক্কর দেয়া। কিন্তু বিমানটি ঝুঁকি নিয়ে অবতরণ করতে গিয়ে রানওয়ের পাশে ছিটকে পড়ে। ক্ষণিকের মধ্যেই তাতে আগুন ধরে যায়। দুই পাইলটসহ অর্ধশতাধিক আরোহী এতে নিহত হন।
ওই বিমানের প্রধান ক্যাপ্টেন ছিলেন ৫২ বছর বয়সী আবিদ সুলতান। মানসিক বিষণ্নতায় ভোগার কারণে ১৯৯৩ সালে তাকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়। কিন্তু পরে তাকে বেসামরিক বিমান চালনার যোগ্য বলে ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ভয়েস রেকর্ডার ও প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের উদ্ধৃতি দিয়ে তদন্ত রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার আগে বিমানের ক্যাপ্টেন ককপিটে বসে ধূমপান করছিলেন। অবতরণের সংকটকালীন সময়ে তিনি অপেশাদারভাবে অহেতুক কথাবার্তা বলছিলেন। ককপিটে তার প্রধান সহযোগী বা কো-পাইলট ছিল ২৫ বছরের নারী পৃথুলা রশিদ। যার উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ৩৯০ ঘণ্টা।
পূর্বে কখনো তিনি ক্রু হিসেবে কাঠমান্ডুতে বিমান অবতরণ করেন নি। রিপোর্টে বলা হয়, দুই চালকের মধ্যে অভিজ্ঞতার বড় ব্যবধান ও ককপিটে ক্যাপ্টেনের কর্তৃত্বের কারণে কো-পাইলট চূড়ান্ত অবতরণের গুরুত্বপূর্ণ সময়েও তৎপর হননি। তবে গত বছর ইউএস-বাংলা জানিয়েছিল, কো-পাইলটের কাঠমান্ডুতে বিমান অবতরণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। রিপোর্টে তদন্তকারীরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে ক্রু ব্যবস্থাপনার ওপর আরো গুরুত্ব আরোপ করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মানসিক অবস্থার ওপর নজরদারি করতে বলেছে।

নাগরিকত্ব দেয়ার নামে চালাকি চলছে, কোনো সত্যতা নেই: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, নাগরিকত্ব দেয়ার নামে প্রহসন চলছে। এসবের মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। তিনি আজ (সোমবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে এক সভায় ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
মমতা আজ কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ইত্যাদি ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি সভায় উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘বলুনতো এখানে যত লোক আছেন, তরুণ প্রজন্ম ছাড়া যারা আমাদের জেনারেশনের বা পরের জেনারেশনের তাঁদের বাবা-মায়ের জন্ম প্রমাণপত্র আছে? আছে? কত জনের কাছে আছে? তাহলে জন্ম প্রমাণপত্র না দিতে পারলে তোমাকে এনআরসি থেকে বাদ দেয়া হবে! তুমি আবাসিক নও। দেশে আজ এ সমস্ত চলছে।’
মমতা বলেন, ‘কোথা থেকে থিওরি নিয়ে এসেছে কখন কাকে তাড়াবে। ওঁরা নাগরিকত্ব দেবেন, নাগরিকত্বের জন্য যেন আমরা বসে আছি। আমরা এই মাটিটাকে স্বাধীন করেছি। এই মাটিতেই আমাদের জন্ম, এই মাটিতেই মৃত্যু এই মাটিতেই কর্ম, এই মাটিতেই ধর্ম, আর ঠিক করবে কাকে কোনদিন নাগরিকত্ব দেবেন!’
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্বের থিওরি কী? তুমি ছয় বছরের জন্য বিদেশি হয়ে যাও! প্রথম তোমাকে বিদেশি বানাবো। তার পরে তোমাকে নাগরিকত্ব দেবো। ‘না ঘর কা, না ঘাট কা’ অর্থাৎ ওদিকেও গেল, এদিকেও গেলো। বুঝতে পারলেন চালাকিটা? সুতরাং এগুলো নির্বাচনি তত্ত্ব, এগুলোর মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। এগুলো নিয়ে আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা যতক্ষণ বেঁচে আছি, আর কাজের মধ্যে আছি এই সমস্ত ভয় দেখিয়ে, প্ররোচনা সৃষ্টি করে, প্রলোভন দেখিয়ে কোনো লাভ নেই।’    
মমতা বলেন, ‘যারা এদেশের নাগরিক তাদেরকে দু’বার করে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে, তাঁদেরকে বিদেশি বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না। নাগরিকত্ব একবারই হয় এবং প্রত্যেকেই আমরা এদেশের নাগরিক। আমরা ভোট দিই, আমাদের ব্যাঙ্কে একাউন্ট আছে, আমাদের প্রত্যেকে পড়াশোনা করেছে, কেউ না কেউ চাকরি-বাকরি করেছে। বাংলাকে অত মাইনাস পয়েন্টে ভাবার কোনো কারণ নেই। বাংলার লোকেদের সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিয়ে একে তাড়াবো, ওকে তাড়াবো বলবার কোনো কারণ নেই।’
‘বাংলার মানুষ আমরা যতদিন বাঁচব আধখানা রুটি খেলে আধখানা রুটি আমরা ভাগ করে খাবো। কিন্তু আমরা কাউকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই। আমরা সবাইকে নিয়ে চলি। এটা আমাদের মাধুর্য’ বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।

ইরানের আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা নীতি ঘোষণার রহস্য

ইরান প্রয়োজন হলে আগাম হামলার মত আক্রমণাত্মক-প্রতিরক্ষার নীতি গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি।
তিনি বলেছেন, ইরান ইসলামি শিক্ষা ও আদর্শের অনুসারী বলে অন্যের ভূখণ্ড ও সম্পদের প্রতি ইরানিদের কোনো লোভ নেই, তবে আগ্রাসনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে জাতীয় স্বার্থ ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনে কৌশল পরিবর্তন করে আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে পারে তার দেশ।
মেজর জেনারেল বাকেরি গতকাল (রোববার) প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক বৈঠকে এসব কথা বলেন।
ইরানের শীর্ষস্থানীয় সমরনায়কদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় দেশটি তার সামরিক শক্তিকে শত্রুর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার মত যথেষ্ট মাত্রায় শক্তিশালী করতে সক্ষম। এরই আলোকে আকাশ, ভূমি ও পানিতে ইসলামী এই দেশটির সাম্প্রতিক নানা সামরিক মহড়ায় অতি দ্রুত ও আগাম আঘাত হানার কৌশলের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন শত্রুদের যে কোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছে।
ইরানের স্থল-বাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সবগুলো শাখাকে দ্রুত আক্রমণমুখী করার জন্য যেসব অস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে সাম্প্রতিক মহড়াগুলোতে সেসবের কার্যকারিতাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।  অন্যদিকে প্রতিরক্ষার চিরাচরিত ও প্রচলিত এবং আধুনিক ও অত্যাধুনিক কৌশলগুলোকেও হাল-নাগাদ করে আসছে দেশটির সামরিক বাহিনীগুলো।
ইরানের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রধান স্তম্ভ হল অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে দেশটির অবস্থান এখন বিশ্বে চতুর্থ। ইরান বিশ্বের যত বড় পরাশক্তির হাতেই আক্রান্ত হোক না কেন দেশটির ব্যালিস্টিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা আঘাতগুলো হজম করা হবে খুবই কঠিন এবং অসহনীয়। তাই ইরানের শত্রুরা এ দিকটি বিশেষ বিবেচনায় রেখে সামরিক হামলার কথা খুব কমই ভাবতে বাধ্য।
আট বছরের প্রতিরক্ষা যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান শত্রুদের হামলার হুমকির কঠোরতম জবাব দেয়ার ব্যাপারে সদাপ্রস্তুত এবং এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে দশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হবে বলে বার বার ঘোষণা দেয়ায় মার্কিন সরকার ও ইসরাইলের মত দাম্ভিক শক্তিগুলোর হামলার হুমকির সংখ্যা লক্ষ্যনীয় মাত্রায় কমে গেছে। আর এখন ইরানের আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা নীতির ঘোষণাটি দেশটির শত্রুদের বলদর্পিতাকে আরও নমনীয় করে তুলবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।