Sunday, September 18, 2016

দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

ঈদের সময় একই দিনে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনা কোনো দৈব ব্যাপার নয়। এই সন্দেহ অমূলক নয় যে দুর্ঘটনাগুলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কর্তব্য পালনে অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই ঘটে থাকবে। দুটি তদন্ত কমিটি গঠন আমাদের আশ্বস্ত করেনি। যদি সত্যিই এ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির সুনির্দিষ্ট তথ্য মানুষ জানতে পারে, তখনই আমরা শুধু আশ্বস্ত হতে পারি। তবে যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে রিপোর্ট দিতে তিন কার্যদিবস সময় বেঁধে দেওয়ার পরে আরেকটি নন–ক্যাডার কমিটিকে কোনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে না দিয়ে ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে’ রিপোর্ট দিতে বলা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো, কমিটি গঠন করার মধ্যেই সত্য আড়ালের চেষ্টা থাকে। চার ঘণ্টার ব্যবধানে সীতাকুণ্ড ও পাহাড়তলী স্টেশনের অদূরে দুর্ঘটনা ঘটল। এর ফলে রেলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ১০ ঘণ্টার দীর্ঘ একটা অচলাবস্থা তৈরি হয়, যাত্রীরা ভোগান্তি ও হয়রানির কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনার জন্য কারও বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ যেখানে প্রত্যাশিত ছিল, সেখানে কর্তৃপক্ষ দুটি কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। ঈদের সময় ট্রেনে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। সে ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। হয়তো ভাগ্যের জোরে দুটি দুর্ঘটনার কোনোটিতেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারত। এত দিন সরকারি মহল থেকে দাবি করা হচ্ছিল, রেলসেবার মানের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। এটাই কি উন্নয়নের নমুনা? রেলওয়ে আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের খামখেয়ালিতে একে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। এর ভেতরের কালো বিড়াল খুঁজে বের করতেই হবে। তদন্ত কমিটি সত্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হবে এবং কর্তৃপক্ষ দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে দ্বিধা করবে না, এটাই প্রত্যাশিত। কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।

ভারত-বাংলাদেশ আরও কাছাকাছি

অবশেষে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় প্রতিবেশী আক্ষরিক অর্থেই যোগাযোগের নতুন অধ্যায়ের সূচনালগ্নে এসে পৌঁছেছে। ফলে উভয় দেশই লাভবান হতে চলেছে। বাংলাদেশ যেমন পরিবহনশিল্পের ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুবিধা লাভ করছে। উভয় দেশেরই সামনে খুলে গেছে উইন-উইন কন্ডিশনে থেকে বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই পথেই হাঁটছেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হতে চলেছে। আগরতলা থেকে আখাউড়া রেলপথ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই উভয় দেশের রেলমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মোট ১৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হলেই আখাউড়া ও আগরতলার রেল-সংযোগ স্থাপিত হবে। এর মধ্যে ভারতে ৫ কিলোমিটার ও বাংলাদেশে ১০ কিলোমিটার রেলপথ। ভারত সরকার পুরো রেলপথ বানানোর খরচই বহন করছে। ২০১৭ সালের মধ্যে রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ করার বিষয়ে উভয় রাষ্ট্রই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই রেল-সংযোগ স্থাপিত হলে পণ্য পরিবহনের ইতিহাসে বাংলাদেশের নতুন দরজা খুলে যাবে। শুধু আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যই নয়, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিয়েও বহু অর্থ আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।
মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজেও বাংলাদেশের বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। সড়ক পরিবহন উপকৃত হবে। ভারতও দুর্গম উত্তর–পূর্ব ভারতের মানুষের কাছে সহজে পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে পারবে। আসলে ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য পরিবহন সবচেয়ে সহজ পথ। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে কলকাতার প্রচলিত পথে দূরত্ব ১৬৫০ কিলোমিটার। ত্রিপুরা থেকে আসাম, মেঘালয়, ফের আসাম, বিহার হয়ে যেতে হয় কলকাতা। কিন্তু ঢাকা হয়ে কলকাতা যেতে পেরোতে হয় মাত্র ৬২০ কিলোমিটার পথ। এটাই হলো বাস্তবতা। তাই ত্রিপুরা সরকার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রানজিট সুবিধার ব্যবস্থা করার কথা বলে এসেছে। আগরতলা থেকে আশুগঞ্জ বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৫৭ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ত্রিপুরার সাব্রুম থেকে মাত্র ৭২ কিলোমিটার। সব দিক বিবেচনা করেই ত্রিপুরা বাংলাদেশের বন্দরের সুবিধা নিতে উৎসাহী। বাংলাদেশ সরকারও মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার অবদান এবং নিজেদের স্বার্থ মাথায় রেখেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। ২০১২ সালে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য মালামাল আনতে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ভারতের হায়দরাবাদ থেকে ত্রিপুরায় চাল আনার ক্ষেত্রেও আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহৃত হয়। চলতি বছরেও ২৩৫০ টন চাল আশুগঞ্জ দিয়ে ত্রিপুরায় পৌঁছাচ্ছে।
এই বিপুল পরিমাণ চাল পৌঁছাতেও আশুগঞ্জের স্থানীয় পরিবহন ও শ্রমিকেরা ব্যবহৃত হচ্ছেন। চালের পাশাপাশি রডও পৌঁছাচ্ছে একই পথে। উভয়ের জন্যই লাভজনক হচ্ছে এই পরিবহন। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পেট্রোলিয়াম সামগ্রীও নিয়ে যাচ্ছে ভারত। ভারতের আসামের বঙ্গাইগাঁও থেকে মেঘালয়ের ডাউকি, বাংলাদেশের তামাবিল থেকে চাতলাপুর হয়ে উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহর পৌঁছাতে শুরু করেছে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুট চালু থাকবে। এই রুটে বাংলাদেশ রাজি না থাকলে ভারতকে এই বর্ষার মৌসুমে ৪০০ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে জ্বালানি আনতে হতো। বাংলাদেশ এই রুট খুলে দেওয়ায় ভারত লাভবান হয়েছে। বাংলাদেশও পণ্য পরিবহন শুল্ক ছাড়াও পরোক্ষে লাভবান হচ্ছে পরিবহন শিল্পের উন্নয়নে। উভয় দেশই যোগাযোগের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভারত রেল পরিকাঠামোর পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ বাড়াতে পরিবহন পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে রামগড় মহামুণির সঙ্গে ত্রিপুরার সাব্রুম শহরের আনন্দপাড়ার নবীনপুরের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হতে চলেছে। ফেনী নদীর ওপর ৪১২ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের জন্য ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ পর্বও প্রায় শেষ। ২০১৭ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা।
মূল সেতুটি অবশ্য ১৫০ মিটারের। বাকিটি অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য নির্মিত হবে। সেতুটি নির্মিত হলে ত্রিপুরার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার আরও সহজ হবে। সাব্রুম অবধি রেলপথ নির্মাণপ্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই হাতে নিয়েছে ভারতীয় রেল। তার কাজও ২০১৭ সালে শেষ হওয়ার কথা। রেল ও সেতু উভয় নির্মাণকাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের পূর্বমুখী নীতি বা ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ বাস্তবায়নের বড় দরজা খুলে যাবে। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনশিল্পেরও। আকাশপথেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বাড়তে চলেছে। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা বলেছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল শুরু করার বিষয়টি তাঁর মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে। চেষ্টা চলছে উভয় দেশে বহমান নদীগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে নৌপরিবহনের উন্নতি সাধন। এর জন্য ইতিমধ্যেই ভারত সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যেই তারের বন্ধনে আবদ্ধ ভারত ও বাংলাদেশ। চলতি বছরেরই ২৩ মার্চ উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করলেন ইন্টারন্যাশনাল কেব্‌ল নেটওয়ার্কের। 
কক্সবাজার থেকে প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবাইট   ব্যান্ডউইটথ ভারতকে রপ্তানি করছে। এর জন্য মাত্র ৩০ কিলোমিটার কেবল পাততে হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট রাজ্যটি এই সুবিধা পেয়ে এখন ইন্টারনেটের গেটওয়ে হয়ে উঠেছে। অনেক বহুজাতিক সংস্থা ত্রিপুরায় আইটি হাব করতে চাইছে। বাংলাদেশও এই সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে পাচ্ছে মোটা অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা। একই দিনে উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ত্রিপুরার পালাটানা থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানিও শুরু হয়। স্বল্পমূল্যে বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রেও সেই উইন-উইন ফর্মুলা। কথায় বলে, যোগাযোগ বাড়লে মনোযোগ বাড়ে। বাসযাত্রা দিয়ে শুরু। এখন ভারত–বাংলাদেশ রেল, নৌ, সড়ক ও আকাশ পরিবহনে সমান আগ্রহী। কারণ উভয় রাষ্ট্রই বুঝতে পারছে, এটাই সময়ের প্রয়োজন। ভিসা পদ্ধতি সহজ করার বিষয়েও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ চোখে পড়ছে। ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি মানুষে মানুষে যোগাযোগও বাড়ছে। এই যোগাযোগ বৃদ্ধিই পারে আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে। উভয় রাষ্ট্রের উন্নয়নে এটাও বড় জরুরি।
তরুণ চক্রবর্তী:প্রথম আলোর ত্রিপুরা প্রতিনিধি।

‘সংকটময় পরিস্থিতি’ নিয়ে ইইউ সম্মেলন

স্লোভাকিয়ার ব্রাতিস্লাভা দুর্গের বাইরে ‘ফ্যামিলি ফটো’
তোলার জন্য গতকাল সার বেঁধে দাঁড়ান ইউরোপীয়
ইউনিয়নের নেতারা। রয়টার্স
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতারা ভবিষ্যতের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে আলোচনায় বসেছেন। গতকাল শুক্রবার স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় এ বৈঠক শুরু হয়। এতে প্রভাবশালী সদস্য যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগ-পরবর্তী অবস্থা, অভিবাসন নিয়ে মতভেদ, নিরাপত্তা ও বিশ্বায়ন গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাজ্য ‘ব্রেক্সিট’ অর্থাৎ ইইউ ত্যাগের পক্ষে ভোট দেওয়ায় দেশটিকে ছাড়াই ইইউ–এর এবারের সম্মেলন বসেছে। ব্রেক্সিট ভোটের পর এটাই জোটটির প্রথম শীর্ষ সম্মেলন। ব্রাতিস্লাভায় দানিয়ুব নদী তীরবর্তী একটি দুর্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইইউর ২৭ নেতা। সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পেতে ‘নির্মম সততা’ দেখাতে হবে বলে তাঁরা পরস্পরকে সতর্ক করে দেন। ভবিষ্যতের একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে এ বৈঠকের পর আরও একাধিক সম্মেলন করে রোমে আগামী বছরের মার্চে সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হবে। উল্লেখ্য, আগামী বছর ইইউর প্রতিষ্ঠা চুক্তির ৬০তম বার্ষিকী। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, ‘আমরা একটা সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে আছি। নিজেদের কাজের মাধ্যমে দেখিয়ে দিতে হবে, আমরা আরও ভালো করতে পারি। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ইইউর ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা জোরদার করতে হবে।’
স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেন, ‘ইইউর নেতাদের সবাই ঐক্য দেখাতে চান। কিন্তু সেটা সহজ হবে না। ব্রেক্সিটের পরে ও তার সঙ্গে যুক্ত নানা রকম ঝুঁকির কারণে অত্যন্ত সৎ হওয়ার প্রয়োজন খুব বেশি করে দেখা দিয়েছে।’ অবশ্য অভিবাসন সমস্যা নিয়ে ফিকো নিজেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ‘একজন মুসলিমকেও’ সুযোগ দিতে নারাজ। ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নেতাদের অনেকে তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। অভিবাসন সংকট নিয়ে উত্তেজনার আরেকটি ইঙ্গিত মেলে লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি এ বিষয়ে কঠোর মনোভাবাপন্ন হাঙ্গেরিকে ইইউ থেকে বের করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলতি সপ্তাহে। যুদ্ধকবলিত সিরিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের সঙ্গে হাঙ্গেরি ‘পশুর’ মতো আচরণ করেছে বলেই অভিযোগ তাঁর। ইইউর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক এবারের সম্মেলন শুরুর আগে আগে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউ নেতাদের সবাইকে অবশ্যই ‘সংযম ও নির্মম সততার’ পরিচয় দিতে হবে। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট বলেন, ইইউর সব দেশকে সন্ত্রাসবাদ দমনের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইউরোপকে আরও বেশি নিরাপদ রাখার জন্যই এটা জরুরি।
অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন বন্ধ করতে হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। যুক্তরাজ্য গণভোটে ইইউ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ফ্রান্সই এখন জোটের সবচেয়ে শক্তিধর সামরিক বাহিনীর অধিকারী। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর বলেন, প্রতিরক্ষার দায়িত্ব তাঁর দেশের একার নয়। পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাই জানেন। যুক্তরাজ্য ইইউ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্যঁ-ক্লদ ইয়ুঙ্কার ইইউর একটি প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার জন্য চলতি সপ্তাহে প্রস্তাব দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই ইইউ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছিল। এ জন্য তারা ন্যাটো বাহিনীর গুরুত্ব হ্রাসের ঝুঁকির যুক্তি দেখিয়েছিল। ৫০ কোটি জনগণের জোট ইইউ ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে নানামুখী চাপে রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, অভিবাসন সংকট এবং ইউরোপের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের একের পর এক হামলা ইত্যাদি ঘটনায় ইইউর আত্মবিশ্বাস যেমন কমেছে, তেমনি এই জোট তার নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারে কি না, তা নিয়েও একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

আবার নির্বাচনী মাঠে হিলারি

সুস্থ হয়ে আবার প্রচারণায় ফিরতে পেরে উৎফুল্ল যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি
ক্লিনটন। গত বৃহস্পতিবার প্রচারণায় যাওয়ার আগে
নিউইয়র্কের একটি বিমানবন্দরে নিজের বিমানে
ওঠার সময়। ছবি: এএফপি
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কয়েক দিনের বিরতির পর আবার নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবোরোতে এক সমাবেশে যোগ দেন হিলারি। এ সময় তাঁকে যথেষ্ট সুস্থ দেখা যায়। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানা যায় তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
নর্থ ক্যারোলাইনার সমাবেশে হিলারি বলেন, ‘নির্বাচনের আর দুই মাস বাকি। এই অবস্থায় এখন বাসায় বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। নির্বাচনী উত্তাপ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’ এদিকে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই। তবে এই স্বীকারোক্তির পরও ওবামার জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির জন্য ক্ষমা চাননি ট্রাম্প। তিনি এখন এ বিতর্কের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারিকে দায়ী করছেন। ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তির সুযোগে তাঁর ওপর এবার চড়াও হয়েছে হিলারির শিবির। তারা বলেছে, ট্রাম্পের আচরণ ছিল ন্যক্কারজনক।