Monday, September 23, 2024

পাকিস্তানে ১২ দেশের কূটনীতিকদের গাড়িবহরে হামলা

পাকিস্তানে বিদেশি কূটনীতিকদের গাড়িবহরে হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। কূটনীতিকদের কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের নিরাপদে ইসলামাবাদে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে ডয়চে ভেলে।

এতে বলা হয়, রোববার কূটনীতিকরা আফগানিস্তানের সীমনান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের একটি পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ করছিলেন। সংশ্লিষ্ট এলাকাটিতে তালেবানদের একটি ঘাঁটি রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই গাড়িবহরে ১২টি দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনেরা ছিলেন। গাড়িবহরটি সোয়াত জেলার মালাম জাব্বায় পর্যটন স্পট এবং পাহাড়ি রাস্তা অতিক্রম করার সময় হামলার শিকার হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে এতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন। সোয়াত জেলার পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদুল্লাহ খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কূটনীতিকদের গাড়িবহর পুলিশ প্রটোকলের মাঝে অবস্থান করছিল, তবে সামনে থাকা পুলিশ ভ্যানটিতে সরাসরি বোমা আঘাত হানে। এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

হামলায় হতাহতের বিষয়ে মুহাম্মদ আলি খান বলেন, নিহত পুলিশ কনস্টেবলের নাম বুরহান। অন্যদিকে আহতরা হলেন- পুলিশের উপপরিদর্শক সার জামিন, কনস্টেবল হাবিব গুল ও আমানুল্লাহ। ১২টি দেশের কূটনীতিকদের একটি কাফেলা ওই এলাকা পরিদর্শনে বেড়িয়েছিলেন। এই কাফেলায় ছিলেন, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, পর্তুগাল, কাজাখস্তান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, জিম্বাবুয়ে, রুয়ান্ডা, তুর্কমেনিস্তান, ভিয়েতনাম, ইরান, রাশিয়া এবং তাজিকিস্তানের কূটনীতিকরা। তারা সবাই নিরাপদে ইসলামাবাদে ফিরে আসেন। কূটনীতিকরা পর্যটন, হস্তশিল্প এবং রত্নশিল্পের প্রচারের জন্য স্থানীয় চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সেখানে যাচ্ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাফেলাটিকে প্রটোকল দিয়ে নিয়ে যাওয়া স্কাউট পুলিশের গাড়িতে একটি আইইডি বোমা আঘাত হানে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি হামলার নিন্দা করেছেন এবং পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সোয়াত উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী উগ্র বিদ্রোহীদের কেন্দ্রস্থল। সরকারের সাথে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করার পরে, ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে সেখানে উগ্রপন্থীরা তাদের হামলা জোরালো করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ২০২৩ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী ঘটনায় প্রায় ৯৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা কর্মী। এছাড়া প্রায় ২,০০০ জন আহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ-ভিত্তিক পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, আগস্টে, উগ্রপন্থীদের টানা দুই দিনের হামলায় কমপক্ষে ৮৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

mzamin

অমিত শাহ’র বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক ভারতের ঝাড়খণ্ড সফরের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে দেওয়া ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে’ এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলা‌দেশ।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা প্রতিবাদ নোটে এ কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গণমাধ্যমে পাঠনো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি ভারতের ঝাড়খণ্ড সফরে গি‌য়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি নাগরিকদের নি‌য়ে অত্যন্ত অশোভন মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন। তার এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলা‌দেশ।

এতে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব‌্য নিয়ে বাংলাদেশ অস‌ন্তোষ প্রকাশ ক‌রে‌ছে। একই স‌ঙ্গে ভারত সরকারকে রাজনৈতিক নেতাদের এ ধরনের আপত্তিকর ও অগ্রহণ‌যোগ‌্য কাজ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হ‌য়ে‌ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে আসা এই ধরনের মন্তব্য দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মনোভাবকে ক্ষুণ্ণ করে।

এর আগে গত শুক্রবার ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এক নির্বাচনী সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করবেন বলে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে উল্টো ঝুলিয়ে রাখা হবে।

ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগণা জেলায় উপজাতি জনগোষ্ঠীর লোকজনের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সম্পর্কে অতীতে বিজেপির বিভিন্ন নেতার করা মন্তব্যের সঙ্গে সুর মেলান তিনি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে হত্যা দিয়ে কী ভারত আন্তর্জাতিক আইন ভাঙছে না? by সুবাইল বিন আলম

আসুন একটা ঘটনা চিন্তা করি। সার্বিয়া বসনিয়াকে আক্রমণ করলো। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকেও মেরে ফেললো। কিছু লাশ চাপা দেয়ার চেষ্টাও করলো। অন্যের সীমান্তে এসে মানুষ ধরে নিয়ে গেল। মারা গেল অনেক শিশু।  খুব খারাপ লাগছে না? জ্বি, এগুলা যুদ্ধাপরাধ। যার শাস্তি এই বিশ্বেই হচ্ছে। আমাদের দেশ কি যুদ্ধাবস্থায় আছে?  নাই। কিন্তু এরকম ঘটনা কী হর হামেশা ঘটছে না? আমাদের সীমান্তে আসলে কী হচ্ছে? এর থেকে প্রতিকারের উপায় কি?

দ্যা ডিপ্লোমেটের একটা অপ-এডে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তকে ভয়ঙ্করতম সীমান্ত হিসেবে লেখা হয়েছিল। হবেই না কেন? যুদ্ধ ব্যতীত এত হত্যা আর অন্য কোনো দেশের সীমান্তেই হয় না।  মুহম্মদ আব্দুর রব উনার বাংলাদেশ, ভুগোল, বৈশ্বিক রাজনীতি এবং পরিবেশ বইয়ে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত ২০৬ জন সাধারণ মানুষকে সীমান্তে খুনের কথা বলেছেন। অধিকারের মতে ২০০০-২০২০ পর্যন্ত ১২৩৬ জন খুন হইয়েছে বিএসএফের হাতে। আহত হয়েছে ১১৪৫ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত মারা গেছে ৭০ জন। এই হিসাব শুধু পত্রিকাতে আসা হিসাব। বাস্তবে আরও বেশি।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে স্বর্ণা দাস (১৪) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ডেইলি মানবজমিনের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে আকুতি করে এই কিশোরী বলেছিল আমাকে মেরো না, আইনের আশ্রয় নাও। এই কথার পরও ওদের মন গলে নাই। আমাদের সনাতন ধর্মের মানুষেরা ভারতের উপর অনেক আস্থা রাখে। কিন্তু ভারতের গুলি থেকে তাদেরও রক্ষা নাই। এই ব্যাপারে তার পরিবারের সাক্ষী সবাই নিচ্ছে। কিন্তু ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া ৪ সেপ্টেম্বর তাদের রিপোর্টে দাবি করেছে বিজিবির গুলিতে স্বর্ণা মারা গেছে। ফেলানীর ঘটনা আমরা সবাই জানি, তার জন্য ভারতের আদালতে বিচার নামের প্রহসনে আমরা জানতে পারলাম কেউ তাকে মারে নাই। এমনি এমনি লাশটা কাটাতারে নিজেই ঝুলে ছিল। এভাবেই ভারতীয় প্রোপাগাণ্ডাতে আমরা হারিয়ে যাই।  এপ্রিলে ফেসবুকে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। দেখা যায় লালমনিরহাটে বিএসএফ আমাদের সীমান্তের ভিতর ঢুকে ২ জন রাখালকে গুলি করছে, আর রাখালরা দৌড়ে পালাচ্ছে (যুগান্তর ৯ই এপ্রিল, ২০২৪)। ওরা নো ম্যানস ল্যান্ড পার হয়ে আমাদের এলাকায় কেন আসলো?  ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইসহাক আলী খান পান্না ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফ’র গুলিতে নিহতের অভিযোগ আছে। (ইনকিলাব ২৫শে আগস্ট, ২০২৪) সারা জীবন ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্কও উনাকে এই গুলির হাত থেকে বাঁচাতে পারে নাই। যদিও বিএসএফ এখানেও অন্য গল্প বলছে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় দু’টি প্রটোকল আছে-  জয়েন্ট ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গাইডলাইনস ফর বর্ডার অথোরিটিজ অব দ্য টু কান্ট্রিজ, ১৯৭৫ ও দ্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ২০১১। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ রকম দ্বিপক্ষীয় দু’টি প্রটোকল হলো-  জয়েন্ট ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গাইডলাইনস ফর বর্ডার অথোরিটিজ অব দ্য টু কান্ট্রিজ, ১৯৭৫ ও দ্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ২০১১। জয়েন্ট ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গাইডলাইনস ফর বর্ডার অথোরিটিজ অব দ্য টু কান্ট্রিজ প্রটোকলের ধারা ৮ (আই) অনুসারে, এক দেশের নাগরিক যদি বেআইনিভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করে বা কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আত্মরক্ষায় যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে, তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করাটাই বাঞ্ছনীয়। আর্টিকেল ৮ (এম) অনুসারে, সীমান্ত দিয়ে যদি গরু পাচার করা হয়, তাহলে গরু ও গরু পাচারকারীদের সম্পর্কে তথ্য অপর পক্ষের সীমান্তরক্ষীদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং নিকটস্থ থানার পুলিশের কাছে মামলা করে গরু উদ্ধারে পদক্ষেপ নিতে হবে। (প্রথম আলো, ৪ই সেপ্টেম্বর,২০২৪)।

এখন আমাদের কি আসলে কিছুই করার নাই? এই ক্ষেত্রে আসলে কয়েকটা উপায় আছে। প্রথমত হচ্ছে ডিপ্লোম্যাটিক উপায়। গতবছরের ২২শে জুন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে হত্যা শূন্যতে নামিয়ে নিয়ে আসার ব্যাপারে একমত হয়েছিল। ৫৪তম ভারত বাংলাদেশ বর্ডার সম্মেলনেও এই কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কাজের গরু কেতাবে আছে। মৃত্যুর মিছিল থামে নাই। আগের নতজানু পররাষ্ট্রনীতিও এর জন্য দায়ী। বাংলাদেশ কিন্তু ভারতের প্রায় সব দাবি মেনে নিয়েছিল যাতে এই মিছিল থামে। যেমন কাঁটাতারের বেড়া, যা পাকিস্তান বা চীনের সীমান্তে নাই, মোবাইল টাওয়ার সরিয়ে দেয়া। বাংলাদেশের সীমান্তে এই অধম ভারতের রোমিং দিয়ে মোবাইল ব্যবহার করে এসেছে, বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক না পেয়ে। তারমানে তারা কিন্তু সরায় নাই। এবার আর না পেরেই বাংলাদেশ সরকার খুব কড়া করে চিঠি দিয়েছে।

এরপর আসে নিজ নিজ দেশের আইন। ভারত বাংলাদেশ দুই দেশের আইনেই নিরস্ত্র মানুষদের মেরে ফেলার কোনো আইন নাই। আইন নাই চোরাচালানীদের বা বিনা বিচারে শাস্তি দেয়ারও। কিন্তু ভারত এই কাজ করেই যাচ্ছে আত্মরক্ষার দায়ে গুলি বলে অথবা স্বর্ণার কেসের মতো অস্বীকার করে শেষ উপায় তো ফেলানীর মতো কেস করা আছেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ‘ট্রিগার হ্যাপি: এক্সক্লুসিভ নিউজ অব ফোর্স বাই ইন্ডিয়ান ট্রুপস অ্যাট দ্য বাংলাদেশ বর্ডার’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, অপরাধী হিসেবে সীমান্ত হত্যার শিকার ব্যক্তিরা হয় নিরস্ত্র থাকে অথবা তাদের কাছে বড়জোর কাস্তে, লাঠি বা ছুরি থাকে। (৪ই সেপ্টেম্বর,২০২৪) উনাদের এই আষাড়ে গল্প ভারতের মানবাধিকার সংস্থাগুলোও খারিজ করে দেয়।  

সব শেষ উপায় আন্তর্জাতিক আইনে ব্যবস্থা খোঁজা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এর রোম সংবিধির অনুচ্ছেদ ৭ এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে যখন কোনো বেসামরিক ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যাপক বা পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ হিসেবে, হত্যাসহ বেশকিছু অপরাধ। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বল প্রয়োগ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের উপর জাতিসংঘের মৌলিক নীতি, ১৯৯০ ? নীতি ৯-এ পরিস্কারভাবে বলা আছে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাগণ কারও বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবেন না, আত্মরক্ষা বা অন্যদের প্রতিরক্ষা, মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের হুমকি, বিশেষ করে গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ, জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকির সঙ্গে জড়িত, এমন একটি বিপদ উপস্থিত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, অথবা তাদের পলায়ন প্রতিরোধ করতে এবং শুধুমাত্র যখন পর্যাপ্ত বিকল্প অনুপস্থিত। জেনেভা কনভেনশন এবং অতিরিক্ত প্রোটোকল ? জেনেভা কনভেনশন ৪, অনুচ্ছেদ ৩: অ-আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, জীবন এবং ব্যক্তির প্রতি সহিংসতা নিষিদ্ধ করে, বিশেষ করে সবধরনের হত্যা, অঙ্গচ্ছেদ, নিষ্ঠুর আচরণ এবং নির্যাতন, তাদের যারা সক্রিয় শত্রুতাকারী নয়। ভারতের এই হত্যার মধ্যে অনেক শিশুও আছে।  ভারত এইভাবে আন্তর্জাতিক আইনের অনেক ধারাই আমাদের সীমান্তে ভেঙেছে, যা অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘন।  হয়তো কোনো উপায় না থাকলে আমাদের এই পথেই হাঁটতে হবে।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান বা চায়না বর্ডারেও বছরে গড়ে ৫/ ৬ জনের বেশি সাধারণ মানুষ মারা যায় না, যদিও প্রায়ই এদের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা থাকে। যদিও ওইখানে প্রায় যুদ্ধাবস্থা থাকে। আমরা চাই প্রতিবেশীর সঙ্গে সমমর্যাদাতে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক। আমাদের একজনও যেন আর সীমান্তে মারা না যায়, তাদেরও না। আর এটা  ভারত নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি সংশোধন করে এগিয়ে আসলেই শুধুমাত্র তা সম্ভব।

লেখক: টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক কলামিস্ট।

mzamin


হাসপাতালে এখনো কাতরাচ্ছে আহতরা by শুভ্র দেব ও সুদীপ অধিকারী

এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতরা। বিভিন্ন হাসপাতালে গুরুতর আহতদের এখনো চিকিৎসা চলছে। তাদের অনেকের অঙ্গহানি হয়েছে। কেউ হাত হারিয়েছে। কেউ পা। কারও চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে বুলেট। এমন আহতদের নিয়ে দুঃসহ সময় পার করছেন স্বজনরা। সরকারের নির্দেশনায় বিনা খরচে তাদের চিকিৎসা চললেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পরিবার।

আন্দোলনে যারা আহত হয়েছে তাদের বড় অংশই চিকিৎসা নিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল)। গতকাল এই দুটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আবার অনেকেই সাধারণ বেডে ও আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেকের অবস্থা গুরুতর। তারা বাঁচার লড়াই করছে। আন্দোলনে আহত হওয়ার কারণে চিকিৎসকরা তাদেরকে আলাদাভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

সরজমিন গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে গুলিবিদ্ধ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  হাসপাতালটিতে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগী আসা শুরু করেন। তাদের মধ্যে যাদের আঘাত গুরুতর ছিল না তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর যাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে বুলেট প্রবেশ করেছে এবং একাধিক বুলেট বিদ্ধ হয়েছে তারা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাথায়, বুকে, চোখে, হাতে-পায়ে শতাধিক ছররা গুলিবিদ্ধ রোগীও সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা বলছেন, আমরা এসব রোগীদের বিষয়ে খুবই সচেতন। তাদেরকে দ্রুত সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছি। যাদের শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হচ্ছে তাদেরকে আইসিইউতে পাঠাচ্ছি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, এখনো ৩৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে বার্ন ইউনিটের তিনটি ওয়ার্ডে কিছু রোগীকে রাখা হয়েছে। বেশি ক্রিটিক্যাল রোগীদের আইসিইউ’তে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্দোলনে যারা আহত হয়েছিলেন তাদেরকে আলাদা করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের জন্য সার্বক্ষণিক ডিউটি ডাক্তার, নার্স রয়েছেন। চিকিৎসা খরচও ফ্রি করা হয়েছে।

পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনে আহতরা আগে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি-১, ক্যাজুয়ালিটি-২ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্তভাবে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে আসলেও বর্তমানে তাদের জন্য ৩য় ও ৪র্থ তলায় দুটি বিশেষায়িত ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।  হাসপাতালটির ৩য় তলার বি-ওয়ার্ডে (পুরুষ) গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার ৪৮টি বেডের ৩৫টিতে এখনো রোগীরা যন্ত্রণাতে কাতরাচ্ছেন। কেউ পা হারিয়েছেন, কারও হাতে গুলি লেগেছে, কারোর পায়ে লোহার রিং পরানো, কেউ ব্যথাতে নড়াচড়াও করতে পারছে না। সকলেরই চোখে মুখে বিষণ্নতার ছাপ। এমনই একজন ঢাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আহমেদ। ছোট বেলা থেকেই সেনাবাহিনীর অফিসার হতে চেয়েছে। তবে গত ৪ঠা আগস্টের পর থেকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে এই শিক্ষার্থী। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর ডান পায়ে লোহার পাত পরানো রয়েছে। আব্দুল্লাহ আহমেদ বলেন, শুরু থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মিরপুরে বাসা হওয়ায় ওই এলাকায় বেশি ছিলাম। সরকার পতনের ঠিক আগের দিন দুপুরে প্রথমে আমি অন্য সকলের সঙ্গে ইসিবি চত্বরে ছিলাম। সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা মিরপুর দশ নম্বরের দিকে যাচ্ছিলাম। বিআরটিএ অফিসের সামনে পৌঁছালে দশ নম্বরের দিক থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি উপেক্ষা করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। এরইমধ্যে রাস্তার পাশে থাকা পুলিশের একটি গাড়ি হঠাৎ ব্যাক গিয়ার দিয়ে পেছনের দিকে এসে আবার সামনের দিকে চলে যায়। বেশ কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলেও আমার ডান পা চলে যায় ওই গাড়ির নিচে। পায়ের হাড় ভেঙে গুঁড়া গুঁড়া হয়ে যায় আমার। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে দেখি আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেদিন থেকেই হাসপাতালের বেডে। কয়েকবার অপারেশন করা হয়েছে।

আরও অপারেশন বাকি আছে। ডাক্তার বলেছে আরও অন্তত এক বছর লাগবে আমার সুস্থ হতে। আর সুস্থ হলেও আগের মতো পা ভাঁজ করতে পারবো না। আব্দুল্লাহ বলেন, অনেক স্বপ্ন ছিল আর্মি অফিসার হবো। আমার সেই স্বপ্ন আর সত্যি হবে না। আব্দুল্লাহ যখন এসব কথা বলছিল তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আব্দুল্লাহর সামনের বেডেই চিকিৎসা নিচ্ছে মো. অ্যামেলি। পুরান ঢাকার চক বাজারে কসমেটিকের দোকানের এই সেল্‌সম্যানও ৪ঠা আগস্ট শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দেয়। অ্যামেলি বলে, বিকাল তিনটা পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। হঠাৎ দেখি ফার্মগেট, কাওরান বাজারের দিক থেকে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসছেন। আমরাও তখন সামনে এগিয়ে যাই। বাংলামোটর, কাওরান বাজার পার করে সামনের দিকে এগিয়ে রাস্তার ওপর একজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। হঠাৎ একটি ছাদের ওপর থেকে আমার বাম হাতে গুলি লাগে হাত ঝুলে যায়। গুলি আমার হাতের শিরা ছিঁড়ে হাড় ভেঙে বেরিয়ে যায়। এরপরই আরেকটি গুলি এসে লাগে আমার পেটে। আমি তখন রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ি। আশপাশের লোকজন আমাকে তখন ধরাধরি করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কয়েকদফা অস্ত্রোপচারের পর আমাকে আবার নিয়ে আসা হয় পঙ্গু হাসপাতালে। এই ৪০/৪৫দিন এখানেই ভর্তি রয়েছি। কোনো আয়-ইনকাম নেই। তিনি বলেন, এখানে কোনো চিকিৎসা ব্যয় নেই। ওষুধ, চিকিৎসা, অপারেশন সব ফ্রি । কিন্তু নিজেদের তো খরচ আছে। সেগুলো তো আর কেউ দেয় না। আয়-রোজগার না থাকায় দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।  কবে এর থেকে পরিত্রাণ পাবো তাও জানি না।

আব্দুল্লাহ-অ্যামেলির মতো একই ওয়ার্ডের বি-৪২ নম্বর বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৯ বছরের  সাদ আব্দুল্লাহ। ৪ তারিখের আন্দোলনে তার ডানপায়ে গুলি লাগে। একাধিক অস্ত্রোপচার করে তার পা থেকে গুলি বের করা হলেও এখানো পায়ে স্টিলের রডের খাঁচা পরানো। তারও বছর খানেক সময় লাগবে এই খাঁচা খুলতে। তারপরও পা আগের মতো স্বাভাবিক হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে তার সন্দেহ। দশম শ্রেণির ছাত্র আলী হাসানও গত ৫ই আগস্ট ডানপায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকেও সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনিও ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসান বলে, গুলি লাগার পর আমাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অনেক চেষ্টার পরও  গত ১৪ই আগস্ট আমার ডান পা হাঁটুর নিচে থেকে কেটে ফেলে এখানকার ডাক্তাররা। ১৬ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর ৩০শে আগস্ট আমি সাতক্ষীরা ফিরে যাই। কিন্তু বাড়ি ফিরে ক্রাচ নিয়ে হাঁটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আমার পায়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর গত ১৬ই সেপ্টেম্বর আবারো আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসে আমার পরিবার। সেদিন থেকে এখানেই ভর্তি আছি। সারা জীবনের মতো আমার পা-টা হারালাম।  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ৭৬৮ জনের মধ্যে আব্দুল্লাহ, অ্যামেলি, সাদ, হাসান, আতিকুল, আসলামের মতো এখনো অনেকে পঙ্গু হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন।  যাদের মধ্যে  ২১ জনের অঙ্গহানি হয়েছে। 

mzamin

ফেরত যাচ্ছে শতাধিক প্রকল্প by মো. আল-আমিন

প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের নেয়া প্রকল্পগুলোর ত্রুটি-বিচ্যুতি পুনরায় পর্যালোচনা করছে পরিকল্পনা কমিশন। আর রাজনৈতিক বিবেচনায় নেয়া প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে আলাদাভাবে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় চূড়ান্ত হওয়া প্রকল্পগুলো আবারো যাচাই করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও গ্রহণ করা হচ্ছে একই নীতি। ফেরত পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শতাধিক নতুন প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নতুন প্রকল্পগুলো ফিরিয়ে নিয়ে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্পগুলোর কোনো অংশ পরিবর্তন কিংবা সংযোজন-বিয়োজন লাগলে ডিপিপি সংশোধনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুনর্যাচাইয়ে যেসব প্রকল্পে ত্রুটি পাওয়া যাবে না, সেগুলো উপদেষ্টার নজরে আনার নির্দেশনা রয়েছে।

সূত্র আরও বলছে, পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগ থেকে শতাধিক প্রকল্প বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে ৩৫ থেকে ৪০টি প্রকল্প, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০-২২টি প্রকল্প, শিল্প ও শক্তি বিভাগ থেকে ১৫টি প্রকল্প এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ থেকে ১০-১৫ প্রকল্প ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পগুলোর ত্রুটি-বিচ্যুতি পুনরায় পর্যালোচনা করার পর সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিদায়ী সরকারের আমলে চাপে পড়ে ঠিকমতো পর্যালোচনা না করেই অনেক প্রকল্প একনেকে পাঠানো হয়েছে। একনেকে পাঠানো পাস না হওয়া প্রকল্পগুলো আবারো ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সেগুলো আবারো যাচাই করা হবে। দুর্বলতা আছে কিনা দেখা হবে। এসব প্রকল্পের সঠিক পর্যালোচনা করলে খরচ অনেক কমে আসবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৮টি প্রকল্প ফেরত পাঠানো হয়েছে। এসব প্রকল্প পুনরায় যাচাই-বাছাই করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন প্রকল্পগুলো আবারো পর্যালোচনা করা হবে। শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এতদিন কার স্বার্থে এই ধরনের প্রকল্পগুলো নেয়া হয়নি জানি না। গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পগুলো নেয়া হলে আমাদের বেশি দামে গ্যাস আমদানি করার প্রয়োজন হতো না।

ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) সোলেমান খান বলেন, আগের সরকারের আমলে গ্রহণ করা প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা কতোটুকু এবং প্রকল্পের টাকা কোন জায়গা থেকে আসবে, এগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। আসলে বোঝার জন্যেই এটা করা দরকার।

এদিকে গত বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে একনেক সভায় বিপুলসংখ্যক প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রকল্পও থাকতো। এখন সেসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দেশীয় অর্থায়নের চেয়ে বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া যাবে এমন প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা। 

mzamin

যেমন আছে ৩২ নম্বর

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ই আগস্ট সরকার পতনের দিন আক্রান্ত হয়েছিল ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক সময়ের বাসভবন এই বাড়িটি স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছিল। ৫ই আগস্টে হামলা-ভাঙচুরে এ বাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেতরে থাকা সব স্মারক-সামগ্রী ভস্মীভূত হয় আগুনে। ঘটনার দেড় মাস পরও একই অবস্থায় আছে বাড়িটি। কর্মচারীদের কেউ আর এখন সেখানে যান না। গতকাল দুপুরে ওই বাড়ির সামনে গেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে থাকা মামুন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি ওই এলাকায় ১৯ বছর ধরে পানি বিক্রি করেন। এখনো এখানে আছেন। সরকারি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা তাকে বাড়িটি দেখে রাখতে বলেছেন। এজন্য কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিষেধ করেন। এ ছাড়া কেউ খুব একটা আসেন না। বাড়ির ভাঙা ফটকটি ভেতর থেকে লাগানো। ভেতরে দেয়াল ঘেঁষে ঘাস, লতাপাতা বেড়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তারকাঁটা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ভাঙা ফটক ও দেয়ালে।

পকেট গেট দিয়ে ভেতরে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে রাখা সব জিনিসপত্র পুড়ে মেঝেতে ছাই-কয়লার স্তূপ হয়ে আছে। এগুলো আর পরিষ্কার করা হয়নি। বাড়ির নিচতলার প্রথম কক্ষে ইতিহাস লেখা ছবি ও প্রতিকৃতি ছিল এগুলো আর নেই। অগ্নিসংযোগে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। সিলিং ফ্যানগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে আগুনের তাপে। আগুনে পুড়েনি এমন কিছু কাগজপত্র ছড়ানো ছিটানো বিভিন্ন স্থানে। সিঁড়ি বেয়ে দু’তলায় উঠলে সেখানেও ধ্বংস চিহ্ন দেখা যায়। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। ধোঁয়া ও আগুনে দেয়াল কালো হয়ে আছে। তৃতীয়তলায়ও একই চিত্র। সেখানে কিছু পুরাতন জিনিসপত্র ছড়িয়ে আছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ৩২ নম্বর বাড়ির সামনের সড়কটি প্রায় সময়ই বন্ধ থাকতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন হতো বাড়ির সামনে। এখন এই সড়কটি উন্মুক্ত। লেকপাড়ে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো। ৫ই আগস্টের দিন প্রতিকৃতিতে সবুজ রঙ মেখে দেয়া হয়। এ এলাকায় এখন দিনের বেলা গাড়ি পার্কিং করেন আশপাশের লোকজন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকার তরুণরা রাতে এই সড়ক এবং লেকপাড়ে বসে আড্ডা দেন। অনেকে সংগীতের আসরও বসান।
৫ই আগস্টে সরকার পতনের পর ১৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওইদিন ছাত্র-জনতা প্রতি বিপ্লবের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আর ওই বাড়ির দিকে যেতে পারেননি। যারা যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাদের প্রধান সড়কে আটকে দেয়া হয়। মারধরও করা হয় কয়েকজনকে। ওইদিন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী শ্রদ্ধা জানাতে গেলে তাকেও ফিরিয়ে দেয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আর ৩২ নম্বরের দিকে যাচ্ছেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাড়িটি সিলগালা করে রাখা হয়। ১৯৮১ সালে তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে বাড়িটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তিনি জাদুঘর বানানোর উদ্যোগ নেন। ১৯৯৪ সালের ১৪ই আগস্ট জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। পরে পাশের প্লটে একটি নতুন ভবন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কার্যালয় করা হয়। ৫ই আগস্ট এই ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

mzamin

ফখরুল-ভার্মা বৈঠক: বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে চায় ভারত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। শনিবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন, বিভিন্ন সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চান। বিশেষ করে এই পরিবর্তনের পরে নতুন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে তাদের সঙ্গে তারা ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন এবং কথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (ভারতীয় হাইকমিশনার) বলেছেন যে, তারা এই বিষয়গুলোতে সজাগ, তারা চেষ্টা করছেন দ্রুততার সঙ্গে সেই সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়। তাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চান। আমাদের সঙ্গেও তারা তাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর যে সম্পর্ক, সেটা দৃঢ় করতে চান। এই সম্পর্কের মধ্যে কি করে আরও সুস্থতা, আরও পজেটিভিটি নিয়ে আসা যায়- সেটা নিয়ে তারা কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক- সেই সম্পর্ক আরও কীভাবে গভীর করা যায়, দৃঢ় করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরেছি। আমরা আমাদের পানি সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার, সেই কথা বলেছি- সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা প্রয়োজন, সেই কথাগুলো আমরা বলেছি। সেই সঙ্গে সিকিউরিটির যে বিষয়টা আছে, সেটা নিয়েও কথা বলেছি।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে উপ-হাইকমিশনার প্রভন বাধে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও শামা ওবায়েদ।

mzamin

শ্রীলঙ্কায় বাজিমাত চীনপন্থি দিশানায়েকের

শ্রীলঙ্কায় বাজিমাত করেছেন চীনপন্থি অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। তিনি শনিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। গতরাত আটটার দিকে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এর আগে শনিবারের নির্বাচনে ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই শতকরা ৫০ ভাগ ভোট পাননি। ফলে দেশটির ইতিহাসে এই প্রথমবার দ্বিতীয় দফা ভোট গণনা করা হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় দিশানায়েকেকে। প্রাথমিক নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন বর্তমান উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। কিন্তু তিনি নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েন বা বাদ হয়ে যান। ফলে দ্বিতীয় দফার ভোট গণনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছিল মার্কসবাদী, চীনপন্থি অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এবং ভারতপন্থি সাজিথ প্রেমাদাসার মধ্যে। অবশেষে শেষ হাসি হাসলেন দিশানায়েকে। গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে পালিয়ে যাওয়ার পর এটাই সেখানে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আরএলএএম রত্নানায়েকে বলেছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম রাউন্ডে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এবং তারপর সাজিথ প্রেমাদাসা। কিন্তু তারা কেউই শতকরা কমপক্ষে ৫০ ভাগ ভোট পাননি। এ কারণে সেখানে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা করা হয়। ১৯৮১ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন্স অ্যাক্টের অধীনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে শতকরা কমপক্ষে ৫০ ভাগ ভোট পেতে হয়। যদি এ পরিমাণ ভোট কোনো প্রার্থীই না পান, তাহলে দ্বিতীয় দফায় ভোট গণনা করা হয়।

নির্বাচনে অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে পেয়েছেন মোট ৫৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৫ ভোট (শতকরা ৪২.৩১ ভাগ)। সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৪৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ ভোট (শতকরা ৩২.৭৬ ভাগ)। অন্যদিকে রনিল বিক্রমাসিংহে পেয়েছেন ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৭ ভোট (শতকরা ১৭.২৭ ভাগ)। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিন্দু ও শ্রীলঙ্কার ডেইলি মিরর। অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে মার্কসবাদী ও চীনপন্থি। অন্যদিকে সাজিথ প্রেমাদাসা ভারতপন্থি। তার প্রতি ভারতের সমর্থন আছে বলে গত সপ্তাহে দ্য ডিপ্লোম্যাটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শ্রীলঙ্কায় দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ভারত এ অঞ্চলে আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়তে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক চিরবৈরী। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক মসৃণ নয়। মালদ্বীপে চীনপন্থি মোহাম্মদ মুইজু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এখন শ্রীলঙ্কায়ও চীনপন্থি দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। ফলে এতে ভারতের কপালে আরও একটি চিন্তার রেখা যোগ হবে। শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে একটি চমৎকার ব্যবস্থা চালু আছে। তাহলো প্রথম রাউন্ডের ভোটে যদি কোনো প্রার্থী শতকরা ৫০ ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হন তাহলে দ্বিতীয় দফায় ভোট গণনা করা হয়। ২১শে সেপ্টেম্বর ভোটাররা সরাসরি ভোট দিয়েছেন। সেই ভোটের হিসাবে কোনো প্রার্থীই বিজয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ওই ভোটের সময়ই ভোটারদেরকে একটি বিকল্প দেয়া হয়। তাতে তিনজন প্রার্থীকে ভোট দিতে বলা হয়। যদি প্রথম রাউন্ড ব্যর্থ হয়, তাহলে এই তিনজন প্রার্থীর মধ্য থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দু’জনের মধ্যে ভোট নতুন করে গণনা করা হয়। এটাই দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা। এই গণনায় যিনি বেশি ভোট পান, তিনিই হন প্রেসিডেন্ট। এই হিসাবে অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। এরই মধ্যে দিশানায়েকের দলের পলিটব্যুরো সদস্য বিমল রত্নানায়েকে বলেছেন, শ্রীলঙ্কা আইএমএফের সঙ্গে যে ২৯০ কোটি ডলার বেইলআউট চুক্তি করেছে তা অজনপ্রিয়। তবু অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এবং তার দল পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট সেই চুক্তি বাতিল করবে না। পক্ষান্তরে তারা এটা নিয়ে সমঝোতা করবে। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো আইএমএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং কিছু শর্তের সংশোধন সামনে আনা।

mzamin


জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ ও আহত তাদেরকে রাষ্ট্রীয় উপাধি দিতে হবে : বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছে এবং আহত হয়েছে তাদেরকে রাষ্ট্রের বীর সন্তান উপাধি দিতে হবে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মুরাদপুর জুরাইন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শ্যামপুর অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় ও আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই ফ্যাসিস্ট সরকার এবং তাদের দোসররা বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি বিদেশে পাচার করেছে সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে শহীদ এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে লাগাতে হবে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয় বরং সংস্কার করতে হবে। ছাত্রদের কল্যাণে এবং দেশের কল্যাণে ছাত্র রাজনীতিকে ঢেলে সাজানোর এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ডকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। আমরা এটাকে অন্যায় এবং ফ্যাসিবাদের অংশই মনে করি। যারা সুকৌশলে এখনো ৫ আগস্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করছে, এখনই তাদের মূলোৎপাটন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও জোন পরিচালক সৈয়দ জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুর রহিম জীবন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জসীম উদ্দীন, খন্দকার ইমদাদুল হক, মো: মহিউদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, আব্দুর রব ফারুকীর, আতিক চৌধুরী, নওশাদ আলম ফারুক, মাওলানা নেছার উদ্দিন ও কবিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহত ক্ষতিগ্রস্ত সকলকে পুনর্বাসন করতে হবে। রক্ত সাগর পাড়ি দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে আমরা একটি মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় সকল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অপশক্তি ছাত্র জনতার আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দিতে চেয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ব্যর্থ করার সকল রকম অপচেষ্টা করেও এই জুলুমবাজ ফ্যাসিস্ট সরকার পার পায়নি। ৫ আগস্ট তারা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। নিপীড়ন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ কায়েম করেছিল। আজকের ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে সেই চেপে বসা ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছে। আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সন্তানেরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে পরিণত হয়েছে।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জুলুম নির্যাতন চালিয়ে এদেশকে বসবাসের অযোগ্য ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বিচারব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে বিচারের নামে অবিচার শুরু করেছিল। তারা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করেছে। ১৬ বছরের শাসনামলে জামায়াতের ৫০০ জন নেতাকর্মীকে শহীদ করেছে। ২০ হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের সীমানাকে অরক্ষিত করে সীমান্তে ফেলানীর মতো লাশ উপহার দিয়েছে। এমতাবস্থায় দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। দেশপ্রেমিক শক্তির মাধ্যমে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে।

তিনি বলেন, বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ৫ আগস্ট থেকেই দুর্বৃত্তদের লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির প্রতিরোধ এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কোনো উপাসনালায়সহ দেশের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে।

ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক বিজয়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলে এর দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। এদেশের জনগণ এখন সজাগ ও সচেতন রয়েছে কোনো কুচক্রী মহলের আর কোনো দেশ বিরোধী এজেন্ডা আর বাস্তবায়ন করতে দেবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমিক অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই সকল শহীদ পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে তাদের কর্মসংস্থান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রায় দেড় হাজার শহীদ হয়েছেন এবং আড়াই হাজারের মতো পঙ্গু হয়েছেন। রাষ্ট্র গঠনের জন্য যারা জীবন দিয়েছে এবং পঙ্গু হয়েছে তাদের পরিবারকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করা সম্ভব নয়। শহীদ পরিবারকে সঠিকভাবে গঠন না করে একটি রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে দাড় করানো যাবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ মেরামতের অংশ হিসেবে আমাদের এই শহীদ পরিবারকে বাংলাদেশের কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তাদেরকে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। গত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলাম বিদ্বেষী বানানো হয়েছে কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষা খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করেছে অথচ সেখানে কোনো আলেমকে রাখা হয়নি। শিক্ষা কমিটিতে অবশ্যই দুই জন আলেমকে রাখতে হবে। ইসলামের অনুশাসন অর্থাৎ কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণার ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হতে হবে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ঘাপটি মেরে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। আর কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছাত্র জনতাকে সাথে নিয়ে তার উচিত জবাব দেবে।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সাথে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের সকল মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন। মা-বোনেরা ঘরে বসে থাকতে পারেনি। তারা আন্দোলনকারীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশে জুলুমতন্ত্রের অবসান হয়েছে। আওয়ামী গুণ্ডা ও আত্মস্বীকৃত পুলিশ অফিসারদেরকে বিচার করতে হবে। সকল খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এদেশের মানুষ শান্তি পাবে না। শেখ হাসিনাসহ সকল অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় ও কান্নার রোল পড়ে যায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ ও আহত তাদেরকে রাষ্ট্রীয় উপাধি দিতে হবে : বুলবুল - ছবি : নয়া দিগন্ত

৯ দফার পেছনের গল্প জানালেন সমন্বয়ক আব্দুল কাদের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঘোষিত ৯ দফার পেছনের গল্প জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। এ বিষয়ে রোববার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

আব্দুল কাদের বলেন, ‘৯ দফা প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল শিবির। যেহেতু নেট নেই, গোলাগুলি-কারফিউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশরীরে হাউসে হাউসে পৌঁছে দিয়েছে, বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা তারাই করেছে।’

শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিবির সেক্রেটারি ফরহাদের সাথে আলোচনা করে এই ৯ দফা তৈরি হয়েছিল বলেও জানান এই সমন্বয়ক।

স্ট্যাটাসে আব্দুল কাদের বলেন, ‘শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যখন আন্দোলন করছিলাম, তখন শিবিরের ঢাবি সেক্রেটারি ফরহাদ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, “আন্দোলনরত কয়েকজন সমন্বয়ক সরকারের মন্ত্রীদের সাথে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। এতো এতো শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতেছে তারা। আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। কিছু দাবি-দাওয়া দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। মানুষের সাথে বেইমানি করা যাবে না”। আমি সম্মতি জানাই। আমাদের তো আগেই অবস্থান ছিল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। তাছাড়া মঙ্গলবার রাতের মিটিংয়ে ঠিক করা কিছু দাবি দাওয়া আমার মাথায় আছে।’

আব্দুল কাদের বলেন, আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার মতো মাঠে কোনো সিনিয়র নেই। আসিফ-নাহিদ ভাইকে গুম করে রেখেছে। আমি সাত-পাঁচ না ভেবে রিস্ক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ওইদিন জুমার নামাজের পর পরই যাত্রাবাড়ীতে কয়কজন শহিদ হন, সবগুলা আমার চোখের সামনেই ঘটতেছে। মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মেরে ফেলছে, এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তাছাড়া দীর্ঘদিন জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়ে হাসিনার এমন অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছি; মাথা নত করিনি। আমার পরিণতি কী হবে, সেটা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করিনি। চোখের সামনে মানুষ মেরে ফেলছে, মানুষের কথা চিন্তা করে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাইনি। গত ৪/৫ বছর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই আমাদেরকে দৃঢ়তা ধরে রাখার শিক্ষাই দিয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরার সিদ্ধান্ত নিই।’

‘যাইহোক, কিছুক্ষণ বাদে শিবিরের সেক্রেটারি আমাকে আবারো ফোন দিলেন। বললেন, “কিছু দাবি দাওয়া খসড়া আকারে করছি, তোমার সঙ্গে আলোচনা করি”৷ আমাদেরও যেহেতু আগেই আলোচনা হয়েছিল অনেকগুলো দাবির ব্যাপারে সেগুলো তখন উনার সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে তৈরি হয় ৯ দফা।’

‘তিনি একে একে কিছু দাবি বললেন। যেগুলা খুব কমন দাবি দাওয়া- যেমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ প্রশাসনকে বরখাস্ত, সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা, ভিসির পদত্যাগ। যেগুলা ৬ জন শহিদ হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতের বৈঠকের আলোচনাতেই আমরা ভেবেছিলাম। এছাড়া মানুষজনও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছিল। শেষের দিকে গিয়ে শিবিরের সেক্রেটারি একটা দাবি অ্যাড করলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে” এটা আমি মানি নাই, দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা হলো। পরে আমি বললাম, ঢালাওভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না, এক্ষেত্রে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলতে পারেন। পরে সেটাই ঠিক হল, “লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে”।

‘এই হইলো ৯ দফা তৈরির পেছনের গল্প। তবে ৯ দফা প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল শিবির। যেহেতু নেট নেই, গোলাগুলি-কারফিউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশরীরে হাউসে হাউসে পৌঁছে দিয়েছে, বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা তারাই করেছে।’
৯ দফার পেছনের গল্প জানালেন সমন্বয়ক আব্দুল কাদের - ছবি : সংগৃহীত

পলাতক অপুর নির্দেশেই চলছে শুটিং!

৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। কিন্তু জনরোষ থেকে বাঁচতে অপু দেশ ছাড়লেও তার ভূত বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছে ফেডারেশনে। সূত্রমতে আত্মগোপনে থাকলেও অপুর নির্দেশনা বাস্তবায়নে তৎপর বর্তমান কর্তারা। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে শুটিং অঙ্গনে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সবচেয়ে সুবিধাভোগী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ভাইয়ের ছত্রছায়ায় শুটিংয়ে রামরাজত্ব কায়েম করেন অপু। ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিবের দায়িত্বে। সবশেষ প্যারিস অলিম্পিকে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্যা মিশন ছিলেন অপু। সব জায়গাতে মন্ত্রী ভাইয়ের ক্ষমতা দেখাতেন। সংগঠকদের ভয় দেখানো, অবৈধ অস্ত্র বিক্রি, পছন্দের শুটারদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া এবং ফেডারেশনের কার্যালয়কে নিজের অফিস বানিয়ে রেখেছিলেন অপু। শুটিং ফেডারেশনকে এক প্রকার স্বৈরাচারী, স্বেচ্ছাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ করে তুলেছিলেন। সেই অপু দেশ ছেড়ে পালালেও শুটিংকে নিজের কব্জায় রাখতে বিদেশে বসেই নানা কৌশল ও নির্দেশনা দিতে থাকেন। অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই শুটারদের ওপর নেমে আসতো নিষেধাজ্ঞার খড়্‌গ। ক্যাম্প থেকে বহিষ্কার করার সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া ছিল বন্ধ। মিষ্টভাষী, সব অন্যায় মেনে নেয়া শুটাররা হয়ে যান অপুর আস্থাভাজন! এই আস্থাভাজন খেলোয়াড়রা ছিল বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিবের সব অপকর্মের সহায়তাকারী। তাদের সঙ্গে ছিলেন ফেডারেশনের দুই কর্মকর্তা।
শুটিংয়ের গুলি নিয়ে নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে সহকারী কোচ গোলাম মহিউদ্দিন শিপলুর বিরুদ্ধে। অপুর যোগসাজশে বাজেটের হিসাবে গরমিল করে ম্যানেজার দেবাশীষ বিশ্বাসও ফেডারেশন থেকে টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। সরকার পতনের পর ইন্তেখাবুল হামিদ অপু পালিয়ে বিদেশে চলে গেলেও তার অনুপস্থিতিতে ফেডারেশন সামলাচ্ছেন শিপলু ও দেবাশীষের সঙ্গে কয়েকজন শুটার।

দুর্নীতি, অনিয়মের সঙ্গে অপুর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ স্বজনপ্রীতির। ২০১৮ সালে প্রতিভাবান শুটারকে বাদ দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের মেয়ে আমিরা হামিদকে পাঠানো হয়েছিল বুয়েন্স আয়ার্সে যুব অলিম্পিকে। সেখানে বাছাই পর্বে মাত্র ৬০৯ স্কোর করে ১৭তম হয়ে বাদ পড়েছিলেন তার মেয়ে। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে স্কোর দৃশ্যমান বলে ১০ মিটারে তার মেয়েকে খেলাননি অপু। ৫০ মিটারে দূরে মারতে হয় আর অফিসিয়াল স্কোর গুনে এনে পরে প্রকাশ করেন। দুর্নীতি করে তার মেয়েকে প্রথম বানানোর অভিযোগ আছে অপুর বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক গেমসে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দল গঠন না করার অভিযোগ আছে অপুর বিরুদ্ধে। এই কাজে তিনি ব্যবহার করেন সহকারী কোচ শিপলুকে।

প্যারিস অলিম্পিকের বাছাইয়ের জন্য ব্রাজিল, স্পেন এবং জার্মানিতে হয়েছিল শুটিংয়ের বাছাই পর্ব। মূলত অলিম্পিকের স্কলারশিপে যাদের নাম থাকে, যেকোনো ফেডারেশন ওই অ্যাথলেটকে পাঠাতে বাধ্য থাকে। কিন্তু শুটিং ফেডারেশনের মধ্যে স্কলারশিপে শায়েরা আরেফিন এবং কামরুন নাহার কলির নাম ছিল। অথচ শায়েরাকে এই তিনটি গেমসে পাঠালেও কলিকে পাঠানো হয়নি। কিন্তু কেউই সরাসরি অলিম্পিকের টিকিট কাটতে পারেননি।

বিষয়টি নজরে আনলে সহকারী কোচ শিপলুর দাবি, যার স্কোর বেশি তাকেই প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়েছে। অথচ জ্যোতি এবং জিদানের স্কোর কলির চেয়েও খারাপ ছিল, তার পরও তাদের পাঠানো হয়েছে নতুন শুটার তৈরির লক্ষ্যে। শুধু তাই নয়, উঠতি শুটাররা যেন আরও বড় তারকা হয়ে উঠতে না পারেন, সেজন্য অনুশীলনের সময় দুই সিনিয়র খেলোয়াড়কে লেলিয়ে দিতেন শিপলু। মনোবল ভেঙে দিতে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন কোচ শিপলু এবং দুই সিনিয়র শুটার। কোনো কোচিং জ্ঞান না থাকলেও শিপলুই যেন রেঞ্জে শুটিংয়ের সর্বেসর্বা। আন্তর্জাতিক শুটাররা সারাদিন ক্যাম্প করেন ডিজিটাল মনিটরে। কিন্তু অ্যানালগ রেঞ্জের প্রায় ২০টি লেইন সারা বছর খালি থাকা সত্ত্বেও যেসব ক্লাব নিজ খরচে প্র্যাকটিস করতে ইচ্ছুক, তাদেরও অনুশীলন করতে দেয়া হয় না। বারবার ক্লাবগুলো থেকে চিঠি দিলেও মহাসচিব এসবের কোনো তোয়াক্কা করেননি বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ নেভির নিজস্ব রেঞ্জ নেই। তারা শুটিং ফেডারেশনের এই রেঞ্জ ব্যবহার করতে চাইলেও দেননি অপু। এমনও অভিযোগ আছে, শুটারদের ভালো মানের খাবার দিতো না ফেডারেশন। যখন কোনো মিডিয়া যেত, সেই সময়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করে অপু বোঝাতে চাইতেন তিনি মানসম্মত খাবার দিতেন শুটারদের। অপুর আস্থাভাজন শিপলু গুলি নিয়ে করতেন নয়ছয়। শিপলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার পছন্দের শুটারদের বেশি দামে গুলি দিতেন। অপছন্দের শুটারদের খারাপ গুলিটা ধরিয়ে দিতেন। এসব অপকর্ম মহাসচিব অপু, সহকারী কোচ শিপলু এবং ম্যানেজার দেবাশীষ চক্র করতো বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদেশ সফর নিয়েও সক্রিয় ছিল অপুর এই চক্রটি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কোনো বাহিনীর শুটার বিদেশে খেলতে গেলে পুরো খরচ বহন করে ওই সার্ভিসেস সংস্থাটি। বাহিনীর দেয়া অর্থ দিয়ে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদেরও পাঠাতেন। নির্বাহী কমিটিতে ৭০ থেকে ৮০ বছরের মতো এমন অনেক ব্যক্তিকে ঢুকিয়েছেন অপু, যাদের শুটিংয়ের জ্ঞান নেই বললেই চলে। সম্প্রতি শুটিং ফেডারেশনে অপুর অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বঞ্চিত সাবেক শুটাররা। তারা এই কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে খেলা অনেক শুটার এই কমিটির সমালোচনাকারী এসব সাবেক শুটারকেও ফেডারেশনে চাচ্ছেন না। বরং শুটিংয়ের উন্নয়নে নিঃস্বার্থভাবে যারা কাজ করবেন, তাদের চাচ্ছেন তারা।

mzamin


গণঅভ্যুত্থানের চেতনা হাইজ্যাক হতে দেওয়া যাবে না : সিপিবি

গণঅভ্যুত্থানের চেতনা যাতে কোনোভাবে হাইজ্যাক না হয়ে যায় তার জন্য দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার; জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনা; সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা; পাচারের টাকা ফেরত ও খেলাপি ঋণ আদায়; ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য, মন্দির-মাজার এবং নারীর ওপর হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং পাহাড়ে হামলা বন্ধের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতারা এ কথা বলেন।

নেতারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে দেশবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সিপিবি এবং বামপন্থিরা জনগণের পাশে থেকে এই সংগ্রামকে এগিয়ে নেবে।

অভ্যুত্থানে নিহত-আহতদের প্রকৃত তালিকা তৈরি, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে ভয় ও অপমানের রাজনীতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান নেতারা।

নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কারের কার্যক্রম শুরু ও নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের মধ্য দিয়ে জনগণের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই সময়ের দাবি। এই কাজে দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিপিবির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান ও পরেশ কর এবং সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান, অধ্যাপক এমএম আকাশ, ক্বাফি রতন, কাজী রুহুল আমিন, ডা. সাজেদুল হক রুবেল, জলি তালুকদার, আসলাম খান, লুনা নূর, হাফিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ইদ্রিস আলী, মোসলেউদ্দিন, হাসিনুর রহমান রুশো প্রমুখ।

সমাবেশে নেতারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের ৪০ দিন পার হলেও এখনো মধুচন্দ্রিমা কেটেছে বলে মনে হচ্ছে না। তারা এখনো নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারল না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করতে পারল না। দখলদারিত্ব-চাঁদাবাজি থেকে দেশকে মুক্ত করে ভয়ের রাজত্বের অবসান ঘটাতে দৃশ্যমান রূপরেখাও সামনে আনতে পারল না। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জান-মালের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বিষয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন এলাকায়, পার্বত্য এলাকায় যে হত্যাকাণ্ড-ভাঙচুর সংঘটিত হলো তা মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর আগে সংঘটিত ভাঙচুর, চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় মানুষের উদ্বেগ কমছে না। এসব ঘটনায় দেশি-বিদেশি নানা অপশক্তি নানামুখী কার্যক্রম করারও সুযোগ পাচ্ছে।

সমাবেশে নেতারা বলেন, অর্থনীতির দুর্বৃত্তায়ন অব্যাহত রেখে ভালো রাজনীতি আশা করা যাবে না। দেশে মুক্তবাজারের নামে লুটপাটের চলমান অর্থনীতি এই সংকটের গোড়ার কথা। দুর্নীতি-লুটপাট আজ এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতি ও লুটপাটের যেসব খবর বেরোচ্ছে তা দেশবাসীর কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীনরা নিজেদের স্বার্থে আইন করে, কমিশন ভোগ করে, চাঁদাবাজি করেই তারা তাদের অর্থ সম্পদ গড়ে তুলেছে, টাকা পাচার করেছে। এরা দেশকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে পৃথিবীর অন্য দেশে নিজেদের আবাসভূমি গড়ে তুলেছেন। আজ তাই এমন নীতি করতে হবে যাতে করে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত নয় এমন জনগোষ্ঠী কখনোই অর্থ সম্পদের মালিক হতে পারবে না। তাহলে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যাবে। এ দেশে কমিউনিস্টরা এজন্যই দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে চলেছে।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনের পার্টির কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এছাড়াও সিপিবির আহ্বানে আজ দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রাজধানীতে সিপিবির মিছিল। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীতে সিপিবির মিছিল। ছবি : সংগৃহীত

চীন নিয়ে নিজের বাড়িতে গোপন বৈঠক বাইডেনের

প্রেসিডেন্সির শেষ দিন গুনছেন জো বাইডেন। কিন্তু তার আগেই চীনের কফিনে আরও পেরেক ঠুকতে চাইছেন তিনি। দিন দিন যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠা চীনকে নিয়ে এবার গোপন এক বৈঠক করেছেন বাইডেন। নিজ বাড়িতে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা খোলাসা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে শেষবেলায় বাইডেনের এমন বৈঠকে চটতে পারে চীন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি কয়েক সপ্তাহ। তার আগে সর্বশেষ নির্বাচনপূর্ব এক বৈঠক করেছেন বাইডেন। কোয়াড জোটের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নেতারা। শনিবারের ওই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল চীনের সম্ভাব্য হুমকি ব্যর্থ করে দেওয়া। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব ঠেকাতেই কোয়াড গঠন করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এমন দাবি নাকচ করে আসছে হোয়াইট হাউজ।

অস্বীকার করলেও কোয়াড যে চীনের ভূত তাড়াতেই গঠন করা হয়েছে, ওই বৈঠকে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গোপন মিটিং হলেও বাইরে জড়ো হন সাংবাদিকরা। কেউ শুনছে না ভেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ঘোষণা করেন, তাদের আলোচনার প্রথম টপিক চীন। তবে তাদের কথাবার্তা নিউজ ফিডে ধরা পড়ে। সেখানে বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, চীনের সাম্প্রতিক আচরণে বোঝা যাচ্ছে, বেইজিংয়ের কাজের ধরন বদলেছে তবে কৌশল পাল্টায়নি।

দক্ষিণ চীন সাগরসহ তৎসংলগ্ন অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী আচরণ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে, মিত্র দেশ জাপানের আশপাশের জলসীমায় চীনের কর্মকাণ্ড ভালোভাবে নিচ্ছে না বাইডেন প্রশাসন। বৈঠকে সে কথাই উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডন্ট। তিনি বলেন, চীন এখনও দক্ষিণ চীন সাগর, পূর্ব চীন সাগর, দক্ষিণ চীন, দক্ষিণ এশিয়া ও তাইওয়ান প্রণালিতে আগ্রাসী আচরণ করে যাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রায় ১০০ মাইল দূরে বাইডেনের বাড়িতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতা ছাড়ার আগে চার দেশের সম্পর্ক শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বাইডেন। আগামী বছর জানুয়ারিতে ক্ষমতার বাইরে চলে যাবেন বাইডেন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। তাই জোটের ধারাবাহিকতা যেন, পরবর্তী নেতৃত্বের মধ্যে বজায় থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছেন বাইডেন।

কোয়াডের দেশগুলোর মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, নভেম্বরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে গতি হারাতে পারে এই জোট। তবে সেই শঙ্কা জোরালোভাবেই উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বাইডেন। এমনকি কোয়াড নেতাদের প্রকাশ্য বৈঠকের একটি ছবিতে দেখা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর নিজের হাত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নভেম্বরের পরও পুরো দমে টিকে থাকবে কোয়াড এমনটাই বিশ্বাস বাইডেনের।

কোয়ড জোটের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নেতারা। ছবি : সংগৃহীত
কোয়ড জোটের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নেতারা। ছবি : সংগৃহীত



এবার জানা গেল ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারির পরিচয়

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতির পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর এবার আলোচনায় এসেছেন শিবিরের সেক্রেটারি।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারির প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। এর পরই শুরু হয় তুমুল আলোচনা।

আব্দুল কাদের ওই স্ট্যটাসে ফরহাদ নামের একজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ সেশনের এবং কবি জসিম উদদীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি ২০২২-২৩ সেশনে জসীম উদদীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতিও ছিলেন।

এ ছাড়া এস এম ফরহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে, শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে সাদিক কায়েম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি হিসেবে দাবি করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

ফেসবুক পোস্টে সাদিক বলেন, ফ্যাসিস্ট শোষণ শুধু ছাত্র রাজনীতি নয়, রাজনীতির সংজ্ঞাই পালটে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদে কোনো রাজনীতি থাকে না। বিরাজনীতি ফ্যাসিবাদের ভাষা।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারে অবশ্যই চব্বিশের শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে, তা না হলে ভেস্তে যাবে আমাদের এই স্বাধীনতা। আমরা চাই ছাত্র রাজনীতির সংস্কার গবেষণা, পলিসি ডায়ালগের মধ্য দিয়ে তা বাস্তবায়িত হোক।

ঢাবি ছাত্রশিবির সভাপতি দাবি করা সাদিক কায়েমের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

ফ্যাসিস্ট শোষণ শুধু ছাত্র রাজনীতি নয়, রাজনীতির সংজ্ঞাই পালটে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদে কোনো রাজনীতি থাকে না। বিরাজনীতি ফ্যাসিবাদের ভাষা। ফ্যাসিবাদ ছাড়া সব বাদ, ইজম ও রাজনীতি ফ্যাসিবাদে অনুপস্থিত থাকে। ফ্যাসিবাদে কোনো রাজনীতি নাই, শুধু ফ্যাসিবাদই আছে। টেন্ডারবাজি, গুম, খুন, ক্রসফায়ার, ফাঁসি, ধর্ষণ, রাহাজানি, দুর্নীতি এসব রাজনীতি না। এগুলো ফ্যাসিবাদ।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের গত ষোল বছরের ভয়ংকর দিনগুলো কিংবা তারও পূর্বের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো রাজনীতির প্রতি তীব্র ঘৃণা সৃষ্টি করেছিল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সব ভুল ভেঙে দিয়েছে। রাজনীতি সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নতুন সচেতনতা। দেয়ালে দেয়ালে লেখা হচ্ছে, ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’।

আমরা জানি এই স্বাধীনতার জন্য শহীদ হয়েছে রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট এবং দলের আওতামুক্ত রাজনীতি সচেতন ছাত্র-জনতা। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানোর চেয়ে বড় রাজনীতি আর কোনো রাজনীতিই না। আমরা চাই সেই রাজনীতির আদর্শে ছাত্র রাজনীতির ব্যাপক ইতিবাচক সংস্কার হবে। ভবিষ্যতের ছাত্র রাজনীতিতে মত-দ্বিমত হবে, যুক্তির পাথরে সবাই বিক্ষিপ্ত হবে, কিন্তু কোনো হকিস্টিক কিংবা স্ট্যাম্প থাকবে না। কোনো গেস্টরুম, গণরুম থাকবে না। চব্বিশের আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে এগিয়ে যাবে এই ছাত্র রাজনীতি। মধুতে ভিন্নমতের কেউ চা খেলে অপর পক্ষের কেউ তেড়ে আসবে না। একাডেমিক পরিবেশে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ছাত্র সংসদ ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি।

গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্ন মতের প্রতি থাকবে সম্মান কিন্তু কেউ যেন স্বৈরাচারী না হয়ে উঠতে পারে সে ব্যাপারে রাখতে হবে সজাগ ও পূর্ণ দৃষ্টি। এই রাজনৈতিক সংস্কারে অবশ্যই চব্বিশের শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে, তা না হলে ভেস্তে যাবে আমাদের এই স্বাধীনতা। আমরা চাই ছাত্র রাজনীতির সংস্কার গবেষণা, পলিসি ডায়ালগের মধ্য দিয়ে তা বাস্তবায়িত হোক। এ লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

এর আগে গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে সব ছাত্র সংগঠনের মতবিনিময় সভায় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক আহনাফ আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ছাত্রপ্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সর্বশেষ প্রকাশ্যে কার্যক্রম ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্র শিবিরের। 

এস এম ফরহাদ। ছবি : সংগৃহীত
এস এম ফরহাদ। ছবি : সংগৃহীত

‘কয়েকজন সমন্বয়ক বেইমানি করতে চেয়েছিল’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েকজন সমন্বয়ক বেইমানি করতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।

স্ট্যাটাসে আব্দুল কাদের ফরহাদ নামে এক ব্যক্তিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। কাদের লিখেছেন, আন্দোলন চলাকালে ফরহাদ তাকে জানিয়েছেন, ‘আন্দোলনরত কয়েকজন সমন্বয়ক সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে, এত এত শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করতেছে তারা। আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। কিছু দাবি-দাওয়া দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, মানুষের সাথে বেইমানি করা যাবে না।’

কালবেলার পাঠকদের জন্য সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের পোস্টটি তুলে ধরা হলো-

কোটা সংস্কারকে উদ্দেশ্য করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল; কিন্তু সরকার পরিস্থিতি ঘোলাটে করলে আন্দোলন ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় নয় দফার অবতারণা হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলাম; কিন্তু ১৬ তারিখ মঙ্গলবার আবু সাঈদসহ ছয়জন যখন শহীদ হয়, ওই দিন রাত ১২টায় সামনের সারির সমন্বয়করা মিলে আমরা একটা অনলাইন মিটিং করি। মিটিংয়ে প্রথম এজেন্ডা-ই ছিল, আজকে যে ছয়জন শহীদ হলো, এই ছয়টা লাশের বিনিময়ে শুধু কোটা সংস্কার কি না? তখন সবাই হই হই করে বলে উঠে, ছয়টা লাশের বিনিময়ে শুধু কোটা সংস্কার হতে পারে না। পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসহ আরও কিছু দাবি দাওয়া উঠে আসে।

বলে রাখা ভালো, আমরা এতদিন ‘বাংলা ব্লকেড’ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পেশসহ নানা সফট এবং হার্ড কর্মসূচি নিয়ে মাঠে অবস্থান করেছিলাম; কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে একেবারে নির্বিকার-নির্লিপ্ত মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। আলাপ-আলোচনার ধার ধারেনাই সরকার, কেবল হাইকোর্টের কাঁধে বন্দুক রেখে চুপচাপ দেখে যাচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি যখন বেগতিক হয়ে যায়, ছয়জন শহীদ হয়, ঐদিনই সরকার আলোচনার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দেয়, আমাদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ দিতে থাকে আলোচনায় বসার জন্য। কিন্ত আমরা আলোচনার আহ্বানকে বারাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করি। যদিও ভিতর বাহির থেকে আলোচনায় বসার নানারকম চাপ আসছিল।

সরকার সংলাপের আহ্বান ফরমালি জানিয়েছিল কিন্ত সেটার প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অবস্থান ফরমালি ক্লিয়ার করি নাই। ক্লিয়ার করার সুযোগও পাই নাই। বুধবার গায়েবানা জানাজায় ঢাবি ক্যাম্পাসে পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালায়, আমিসহ কয়েকজন আহত হই। হান্নান মাসউদ গুলিবিদ্ধ হয়। তখন থেকেই আমরা আন্দোলন পরিচালনা করে যাবার স্বার্থে কৌশলী অবস্থান নিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। যদিও সরকারের সংলাপকে প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার রাতে আমরা কিছু দাবি দাওয়া ঠিক করেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে সবাই মিলে আলাপ-আলোচনা করে যে সেই দাবিগুলো ফাইনাল করব সে সময় পাইনি। তবে আমরা বৃহস্পতিবার মাঠের কর্মসূচি (কমপ্লিট শাটডাউন) দিয়ে নিজেদের অবস্থান ক্লিয়ার করেছিলাম।

বৃহস্পতিবার আমি আর আসিফ ভাই এক বাসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে চলে যাই। ওই দিন ১৮ তারিখ রাতেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার। আমরাও কর্মসূচি চলমান রাখতে, গ্রেপ্তার এড়াতে বার বার জায়গা পরিবর্তন করে বেড়াচ্ছি। কারও সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগ করতে পারতেছি না।

আন্দোলনের শুরুতেই নাহিদ ভাই আমাকে ডেকে নিয়ে এক লোকের সঙ্গে মিট করায় এবং পরবর্তীতে আন্দোলনের পারপাসে একাধিকবার ওই লোকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়; পরবর্তীতে জানতে পারি তিনি ঢাবি শিবিরের ছাত্র আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। কিন্ত তখনো শিবিরের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সঙ্গে ওইভাবে যোগাযোগ হয় নাই।

শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যখন আন্দোলন করছিলাম তখন শিবিরের ঢাবি সেক্রেটারি ফরহাদ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলল, ‘আন্দোলনরত কয়েকজন সমন্বয়ক সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে, এত এত শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করতেছে তারা। আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। কিছু দাবি-দাওয়া দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, মানুষের সাথে বেইমানি করা যাবে না।’ আমি সম্মতি জানাই। আমাদের তো আগেই অবস্থান ছিল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। তাছাড়া মঙ্গলবার রাতের মিটিংয়ে ঠিক করা কিছু দাবি দাওয়া আমার মাথায় আছে। আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার মতো মাঠে কোনো সিনিয়র নাই। আসিফ-নাহিদ ভাইকে গুম করে রেখেছে। আমি সাত-পাঁচ না ভেবে রিস্ক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ঐদিন জুমার নামাজের পর পরই যাত্রাবাড়ীতে কয়কজন শহীদ হয়, সবগুলা আমার চোখের সামনেই ঘটতেছে। মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মেরে ফেলতেছে, এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারতেছিলাম না। তাছাড়া দীর্ঘদিন জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়ে হাসিনার এমন অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছি; মাথা নত করি নাই। আমার পরিণতি কী হবে, সেটা ঘুনাক্ষরেও কল্পনা করি নাই। চোখের সামনে মানুষ মেরে ফেলতেছে, মানুষের কথা চিন্তা করে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাই নাই। গত ৪/৫ বছর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই আমাদেরকে দৃঢ়তা ধরে রাখার শিক্ষাই দিয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরার সিদ্ধান্ত নিই।

যাইহোক, কিছুক্ষণ বাদে শিবিরের সেক্রেটারি আমাকে আবারও ফোন দিল। বলতেছে, ‘কিছু দাবি দাওয়া খসড়া আকারে করছি, তোমার সঙ্গে আলোচনা করি।’ আমাদেরও যেহেতু আগেই আলোচনা হয়েছিল অনেকগুলো দাবির ব্যাপারে সেগুলো তখন উনার সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে তৈরি হয় ৯ দফা।

তিনি একে একে কিছু দাবি বললেন। যেগুলা খুব কমন দাবিদাওয়া- যেমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ প্রশাসনকে বরখাস্ত, সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা, ভিসির পদত্যাগ। যেগুলা ৬ জন শহীদ হওয়ার পরে মঙ্গলবার রাতের বৈঠকের আলোচনাতেই আমরা ভেবেছিলাম। এ ছাড়া মানুষজনও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছিল। শেষের দিকে গিয়ে শিবিরের সেক্রেটারি একটা দাবি এড করল, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে’ এটা আমি মানি নাই, দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা হইল। পরে আমি বললাম, ঢালাওভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না, এক্ষেত্রে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলতে পারেন। পরে সেটাই ঠিক হইলো- ‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে’।

এই হলো নয় দফা তৈরির পেছনের গল্প। তবে নয় দফা প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল শিবির। যেহেতু নেট নাই, গোলাগুলি-কারফিউর মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশরীরে হাউজে হাউজে পৌঁছে দিয়েছে, বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা তারাই করেছে।

আমাকে নতুন একটা সিম এবং মোবাইল কালেক্ট করার পরামর্শ দিল তারা। আমি স্টুডেন্ট এর বাসা থেকে সিম নিয়ে ওই নাম্বারটা নয় দফা সংবলিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে দিয়ে দিলাম। ঐদিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে ৪-৫ কিলো দূরে হেঁটে গিয়ে পরিচিত সাংবাদিকদেরকে ফোন দিয়ে নয় দফার বিষয়টা জানাইলাম। টুকটাক ছাত্র রাজনীতি করার সুবাদে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তো ওই রাতে তাদের অনেককে একটা একটা করে দফা বাটন ফোন দিয়ে ম্যাসেজের মাধ্যমে দাবিগুলা লিখে পাঠাইছি। পুরা নয়টা দাবি একসঙ্গে ম্যাসেজে পাঠানো যায় না। কাউকে আবার মুখে বলে দিছি, সে লিখে নিছে। কেউ আবার রেকর্ড করে নিছে। কনফার্ম হওয়ার জন্য অনেকেই ফোন দিছে, এটা আসলেই আমি দিছি কি না। বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলাকেও ফোন দিয়ে কনফার্ম করা লাগছে, ‘আমার পক্ষ থেকে এটা যাচ্ছে, আপনাকে একজন পেনড্রাইভের মাধ্যমে পৌঁছে দিবে।’ এইভাবে চলল রাতের ১১টা পর্যন্ত।

প্রতিদিন রাতের বেলায় বাসা থেকে দূরে চলে যেতাম। ফোন অন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে ২-৩ ঘণ্টা কথাবার্তা বলে, তাদেরকে কনফার্ম করে, ফোন বন্ধ করে আবার বাসায় ফিরতাম। সিনিয়ররা গুম অবস্থায় ছিল, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বাকিদের সঙ্গেও। এইভাবেই চলতে থাকল। আমার বাসা ছিল যাত্রাবাড়ী থানার পাশেই। গ্রেপ্তারের আতঙ্ক, তারপরও বাসায় থাকতে হতো। শুরুতেই যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। কোনো রাত মসজিদে কাটাইছি, কোনো রাত অর্ধেকটা বাহিরে কিংবা বাসার ছাদে কাটিয়ে শেষ রাতে বাসায় ফিরেছি।

এইতো ঐতিহাসিক নয় দফা, আমাদের নয় দফা, ফ্যাসিস্ট হাসিনা থেকে মুক্তি লাভের সনদ! 

বাঁ দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ও ডান দিকে ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ। ছবি : সংগৃহীত
বাঁ দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ও ডান দিকে ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের ভয়ে লেবাননে স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ইসরায়েলের বোমা হামলার ভয়ে লেবাননে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাতে সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরা এ তথ্য জানায়।

লেবাননের শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলার কারণে স্কুলগুলোতে নিরাপদ উপস্থিতি সম্ভব নয়।

এনএনএ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সতর্ক করতে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাসঙ্গিক শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধের বিষয়ে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা আগেই লেবানিজ ইউনিভার্সিটি দক্ষিণের শহর সিডন, নাবাতিহ এবং টায়ারে তার শাখাগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পেজার হামলার পর বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছিল লেবানন।

গত শনিবার রাতে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ৪০০টির বেশি স্থানে হামলা চালায়। এরপর স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় দেশটি। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, লেবাননজুড়ে সাম্প্রতিক ওয়াকি-টকি ও পেজার বিস্ফোরণে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর একাধিক ঊর্ধ্বতন কমান্ডারসহ ৩৭ জন নিহত হয়েছে। প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহও। ফলে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনা।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় অনেকগুলো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে।

লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান শনিবার সন্ধ্যা থেকে দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে শুক্রবার ১৫০টি রকেট দিয়ে ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। তবে এই হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানানো হয়নি।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া রকেটে ইসরায়েলে উত্তরাঞ্চলের একাধিক স্থাপনা ও বাড়িঘরে আগুন ধরে গেছে। ইসরায়েলের জরুরি মেডিকেল সেবা সংস্থা বলেছে, রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় হাইফা শহরের বাসিন্দা।

ইসরায়েলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা মুহুর্মুহু রকেট হামলার ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গত প্রায় এক বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের মাঝে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সর্বশেষ এই উত্তেজনায় ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

পেজার হামলার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিচ্ছে লেবাননিরা। ছবি : সংগৃহীত
পেজার হামলার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিচ্ছে লেবাননিরা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে সংস্কার ও বন্যা পুনর্বাসনে সহায়তা করবে জাতিসংঘ

বাংলাদেশে পুলিশ ও নির্বাচনী সংস্কার এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘ।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আশ্বাস দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুয়েন লুইস।

বৈঠকে গুয়েন লুইস বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের পুলিশ ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বন্যা পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় পুনর্গঠনের যে পরিকল্পনা নিয়েছে তাতেও সহায়তা করবে।

গুয়েন লুইস অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার উদ্যোগের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং তিনি ড. ইউনূসকে বিপ্লব-পরবর্তী প্রশাসনের প্রধান হিসেবে ‘অসাধারণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য’ ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে তারা সংস্কার, দুর্নীতি, বন্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-আগস্ট মাসে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে তদন্ত নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, এখন সমগ্র জাতির জন্য সর্বাধিক ঐক্যের মুহূর্ত এবং তার সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে প্রত্যেকের জন্য একটি নজির স্থাপন করা। এখন অর্থনীতি সংস্কার এবং প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পথে নিয়ে আসার লক্ষ্যে দেশের জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনীর সংস্কারকে অগ্রাধিকারের শীর্ষে রেখেছে। একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার, যা দেশে হয়রানি ও দুর্নীতি কমিয়ে আনবে। সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের জন্য একটি কমিশনও গঠন করেছে যাতে অবাধে ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

লুইস বলেন, জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল ইতোমধ্যে জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং তাণ্ডবের বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সি, ডব্লিউএইচও এবং আইএলও আন্দোলনকালে আহতদের ও তাণ্ডবের ঘটনার দ্বারা যারা মর্মাহত হয়েছে তাদের সাহায্য করার উপায় খুঁজছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য ৪ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। জাতিসংঘ বন্যাদুর্গতদের জন্য বিভিন্ন সংস্থা ও দাতব্য সংস্থার সহায়তা কর্মসূচি সমন্বয় করছে। অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যার জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করতে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে আলাপ করেন। তিন পার্বত্য জেলায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো যে সাহায্য কাজ করেছে, তার চিত্র তুলে ধরেন গুয়েন লুইস। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলাপকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য অধিকতর সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে জাতিসংঘের সহায়তা চান।

রোববার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইস। ছবি : সংগৃহীত
রোববার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইস। ছবি : সংগৃহীত



‘মুরুব্বি মুরুব্বি উঁহু উঁহু’ বলায় ঝলসে দিল কিশোরীর শরীর

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক বৃদ্ধকে দেখে ‘মুরুব্বি মুরুব্বি উঁহু উঁহু’ বলায় পপি আক্তার (১০) নামের এক কিশোরীর শরীরে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দিয়েছে ছায়ের খাতুন (৫৫) নামের এক নারী। আহত পপি আক্তার এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। সে স্থানীয় মৃত বিজলি আকতারের মেয়ে। ছোটবেলায় প্রথমে তার বাবা ও পরে মায়ের মৃত্যু হলে সে নানার বাড়িতে থাকত।

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ওয়াজের বাড়িতে ঘটলেও কিশোরীটি অসহায় হওয়ায় প্রভাবশালীরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কিশোরীর মামা মো. দিদার কালবেলাকে জানান, বাবা-মা হারা কিশোরী পপি আক্তার বাড়ির উঠানে খেলছিল।

এসময় তার নানা সম্পর্কিত এয়ার মোহাম্মদ (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে দুষ্টামিবশত ‘মুরুব্বি মুরুব্বি উঁহু উঁহু’ বলে হাসাহাসি করে। কিছুক্ষণ পর এয়ার মোহাম্মদের ছোট ভাইয়ের বউ ছায়েরা খাতুন (৫৫) এসে ওই কিশোরীর শরীরে গরম পানি ঢেলে দিলে তার শরীর ঝলসে যায়। আমরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন কালবেলাকে বলেন, আমি ঘটনা শোনার পর কিশোরীর অভিভাবককে থানায় আসতে বলছি, তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। শুনেছি কিশোরীটি অসহায়, তার বাবা-মা কেউ নেই। অভিভাবকরা এলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। 
হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে বাবা-মা হারা কিশোরী পপি আকতার
হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে বাবা-মা হারা কিশোরী পপি আকতার

আন্দোলনে নিহতের চাচা-চাচাতো ভাইরাও হত্যা মামলার আসামি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রামে গুলিতে শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর  চাচা ও চাচাতো ভাইদের। গত ৭ই সেপ্টেম্বর  নিহত ইকরামুল হক সাজিদের বাবা জিয়াউল হক বাদী হয়ে কাফরুল থানায় মামলা করেন। তবে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা কেউ ঘটনার দিন ঢাকায় ছিলেন না। বরং তারা সবাই ওইদিন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চকরিয়ায় ছাত্রদের সমর্থনে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তারা সবাই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী ইকরামুল হক ৪ঠা আগস্ট মিরপুর-১০ এলাকায় নিহত হন। তার বাবা জিয়াউল হক বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রধান আসামি করে এ মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ৭৩ জনকে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১০০-১৫০ জনকে। এর মধ্যে ২৯নং আসামি জিয়াউর রহমান (৪৫), ৪১নং আসামি মো. কামাল (৪৩), ৫৪নং আসামি মিজানুর রহমান মাতব্বর (৫৫) এবং ৬২নং আসামি নাজমুল হোছাইন (৩৪) শহীদ তানভীরের আত্মীয়। অভিযোগ রয়েছে, শহীদ তানভীর ছিদ্দিকী হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারেক বিন উসমান শরীফের ষড়যন্ত্রে ইকরামুল হত্যা মামলায় ঢোকানো হয়েছে তাদের নাম।

সূত্র মতে তানভীর ছিদ্দিকীর পরিবার ও আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি এক আসামি রাজনৈতিক মামলায় ১২ বছর কারাবাস শেষে ঘটনার এক মাস আগে মুক্ত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা ঘরছাড়া হয়েছেন। বাড়ির প্রতিটি ইটও খুলে নিয়ে গেছে তারেক বাহিনী। শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ বছর আগে তানভীর ছিদ্দিকী হত্যার আসামী তারেক বিন উসমান শরীফ ও নোমান শরীফের সন্ত্রাসী বাহিনী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শহীদ তানভীরের বাড়িসহ স্বজনদের শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। সর্বশেষ ইটের টুকরোটিও নিয়ে যায় তারা। পুরো একটি গ্রাম বিস্তীর্ণ মাঠে পরিণত হয়েছে। এ সময় দখল নেয় পুরো গোষ্ঠীর স্বজনদের কোটি কোটি টাকা মূল্যের ধানি জমি, লবণ চাষের জমি, চিংড়ি ঘের ও পুকুর। এতে নিঃস হয়ে পড়েন তারা।

এ ছাড়া টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে দুর্নীতি করে তারেক বিন উসমান শরীফ ও নোমান শরীফ শতকোটি টাকার মালিক বনে যায়। এসব অবৈধ টাকায় গড়ে তুলেছেন সশস্ত্র তারেক বাহিনী। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তার গড়ে তোলা এ বাহিনী কালারমার ছড়ার উত্তর পাশের বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থান করে। পরে গত ১১ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নৌবাহিনী এসব পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় তারেক বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। যৌথবাহিনীর অভিযানের মুখে সন্ত্রাসী তারেক বিন উসমান ও নোমান শরীফ ঢাকায় পালিয়ে গেছে। তারা বলেন, ষড়যন্ত্র করে শহীদ সাজিদ হত্যা মামলায় ঢোকানো হয়েছে শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর আত্মীয়দের নাম। এর মধ্যে মো. কামাল (৪৩) তানভীরের চাচা। তিনি কালারমার ছড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য। কিন্তু মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীমের এপিএস। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান জিয়া, মিজানুর রহমান মাতাব্বর ও নাজমুল হোছাইন তানভীরের চাচাতো ভাই। জিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, কক্সবাজার জেলা যুবদলের সদস্য এবং কালারমার ছড়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। এজাহারে তাকে জলদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিজানুর রহমান মাতাব্বর ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত কালারমার ছড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিও। আর নাজমুল হোছাইনও উপজেলা যুবদলের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমানে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন তানভীরের ৫ আত্মীয়। ২০০৬ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি উসমান গণিকে কুপিয়ে এক হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। বিচ্ছিন্ন হাত নিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকায় বিজয় উল্লাস করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। একইদিন ওই পরিবারের আরেক সদস্য ও ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি জয়নাল আবেদীন ধইন্নাকে হাত পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে বস্তায় ভরে পাশের কোহেলিয়া নদীতে ফেলে দেয়। তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ২০০৮ সালের ১৩ই জুন পরিবারের আরেক সদস্য জবল চৌধুরীকে কালারমার ছড়া বাজারে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে মিজানুর রহমান নামে আরেকজনকে গুলি করে হত্যা করে তারেক বাহিনী।
শহীদ তানভীরের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় পরিবারের অনেক সদস্য পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে দেড় শতাধিক আত্মীয়-স্বজনকে। পরিবারের অনেক সদস্য ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত জেলহাজতে বন্দি ছিলেন। শহীদ তানভীর সিদ্দিকী পরিবারের সদস্য তারেক আজিজ সিদ্দিকী বলেন, স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর যখন আমরা আমাদের হারানো বসতভিটায় বাড়িঘর নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করি ঠিক তখনই এ রকম একটা হত্যা মামলায় আমাদের জড়ানো হয়েছে এমন খবর পেয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ি। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সঠিক তদন্ত ও নিরাপদ মানুষদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি।

mzamin

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বললেন ‘অ্যাকশনে’ যেতে, বাহিনীর সদস্যরা নির্বিকার by মাহমুদুল হাসান

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীতে ছোট পরিসরের একটি আন্দোলন নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে দেখা গেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। রোববার রাজধানীর কাকরাইলের অডিট ভবনের সামনে গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে অডিটরদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে এমন চিত্র দেখা যায়।

কাকরাইলের অডিট ভবনের সামনের সড়কটি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধ করে রেখেছিলেন বাংলাদেশের মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অধীন দেড় শ থেকে দুই শ অডিটর। তাঁদের দাবি, ১১তম গ্রেড থেকে তাঁদের পদকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। এই দাবিতে সড়ক অবরোধের কারণে কাকরাইলের আশপাশসহ রাজধানীর বড় অংশজুড়ে যানজট তৈরি হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনার জন্য ডাকলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশের পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলনকারীদের সড়কের এক পাশে অবস্থান নিতে দফায় দফায় অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা শোনেননি। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরাতে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্বিকার ভূমিকার কারণে বাধে বিপত্তি।

আন্দোলনকারীরা দুপুর সাড়ে ১২টার আগে সিএজি কার্যালয়ের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), সেনাবাহিনী ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা কার্যালয়ের ফটকে শক্ত অবস্থান নেন। ফলে আন্দোলনকারীরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে সাঁজোয়া যান আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও জলকামান আনা হয়। বেলা দেড়টার পর আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরে যেতে হ্যান্ডমাইকে দফায় দফায় অনুরোধ জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. সারোয়ার জাহান। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সড়ক ছাড়েননি। একপর্যায়ে তাঁদের পাঁচ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। তখনো আন্দোলনকারীরা সড়ক না ছাড়লে অডিট ভবনের সামনে সড়কের পশ্চিম দিকে অবস্থান নেয় পুলিশ।

এ সময় অধস্তন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ডিসি সারোয়ার জাহানকে বলতে শোনা যায়, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি নিয়ে সবাই প্রস্তুত হোন। একপর্যায়ে হ্যান্ডমাইকে তিনি সবাইকে আন্দোলনকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা রমনা জোনের এডিসি, রমনার এসি (পেট্রল), রমনা থানার ওসিসহ কয়েক পুলিশ সদস্য ছাড়া অধস্তন আর কাউকে এগোতে দেখা যায়নি।

ডিসি সারোয়ার জাহান দফায় দফায় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের (ফোর্স) উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। বলেন, ‘সাহস নিয়ে আপনারা এগিয়ে আসুন।’ এ সময় কনস্টেবল ও উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সরাসরি বলতে শোনা যায়, তাঁরা কোনো ‘অ্যাকশনে’ যেতে পারবেন না। এই সুযোগে সড়কে দোয়া ও মোনাজাত শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

পুলিশ কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান কয়েকজন কনস্টেবল ও এসআইকে জিজ্ঞেস করেন, ‘সাউন্ড গ্রেনেড মারতে পারো না তুমি?’ তখন তাঁদের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পারি না, স্যার।’ এপিবিএনের দলটির কাছে গিয়ে ডিসি সারোয়ার বলেন, ‘তোমরা কি আমার কথা শুনবা না?’ এ সময় এক এপিবিএনের একজন সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা যেতে পারব না, স্যার।’ অনেকেই আবার নিজেদের মধ্যেও আলাপ করছিলেন, যেন কেউ সামনে না যায়। দুই এসআইকে কনস্টেবলদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘যা বলে বলুক, চুপ করে থাকো।’

এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায় রমনার ডিসি সারোয়ার জাহানকে। সবশেষে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরাতে নিজের ব্যর্থতার কথা মুঠোফোনে বলতে শোনা যায় পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসিকে। তিনি তখন বলছিলেন, ‘স্যার, কেউ কথা শুনছে না। বারবার বলেছি, কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না।’

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কাকরাইলের সড়কের অবরোধ করা অংশে দেখা যায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) সানা শামীনুর রহমানকে। তবে তিনি আসার পরও অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরানো যায়নি।

বেলা ৩টা ১৭ মিনিটে আন্দোলনকারী অডিটরদের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, তাঁরা সড়কের অবরোধ তুলে নিয়ে সেগুনবাগিচার দিকে চলে যাবেন। আগামীকাল (সোমবার) আবার তাঁদের কর্মসূচি পালন করা হবে। যদিও আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ তখন আবার বলছিলেন, এখনই না গিয়ে সড়কে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা চলে যাবেন।

এরই মধ্যে অডিট ভবনের সামনে উপস্থিত হন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি এসে সব ফোর্সকে ডেকে একত্র করেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের কয়েকজন ধাক্কা দিয়ে সড়কের বাইরে নিতে থাকেন। তখন আন্দোলনকারীরাও তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশ এগিয়ে যায়। তখন আন্দোলনকারীদের বড় অংশ রাস্তা ছেড়ে দিতে থাকেন।

এ সময় সড়ক থেকে সরে না যাওয়া বাকি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে জলকামান থেকে গরম পানি ছোড়া হয়। তখন বাকিরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন ডিসি পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। যুগ্ম কমিশনার অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের কথা কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যায়ের সদস্যরাও কেন শুনছেন না—তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন প্রত্যেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে প্রথম আলো। তবে তাঁদের কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুধু বলেছেন, ‘ঢাকায় পুলিশের অধস্তন পর্যায়ের সদস্যদের বড় অংশই শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের। তাই তারা কথা শুনতে চায় না। অনেকে আবার ঢাকায় নতুন আসায় বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারে না। সব মিলিয়ে আমরা খুবই বিপাকে আছি।’

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার (সাদা জ্যাকেট) আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে যান। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার (সাদা জ্যাকেট) আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে যান। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর। ছবি: দীপু মালাকার

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট বামপন্থী অনূঢ়া

গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালানোর দুই বছরের বেশি সময় পর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেল শ্রীলঙ্কা। আজ রোববার রাত আটটার দিকে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানায়, গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বামপন্থী অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে।

অনূঢ়া কুমারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কায় রাজাপক্ষে পরিবারের টানা দেড় দশকের বেশি সময়ের একক আধিপত্যের অবসান ঘটল। ১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পর থেকে শ্রীলঙ্কা শাসন করেছে দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল বা তাদের জোট বা তাদেরই কোনো অংশ। এর মধ্যে একটি রাজাপক্ষে পরিবারের নেতৃত্বাধীন দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি)। দলটি থেকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগের আগে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ছিলেন তাঁর ছোট ভাই গোতাবায়া রাজাপক্ষে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দল সঙ্গী জন বালাওয়াগার (এসজেবি) নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৩২ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয় গতকাল। আজ প্রথম দফা ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, একজন প্রার্থীও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। এরপর দ্বিতীয় দফায় ভোট গণনা করে রাতে নির্বাচন কমিশন ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি) জোটের নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকেকে বিজয়ী ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা আসার পর এনপিপি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামীকাল সোমবার সকালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ে তাঁর শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি হবে অনাড়ম্বর।

খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধসহ নিত্যপণ্যের তীব্র সংকটের প্রতিবাদে ২০২২ সালে সড়কে নামেন শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ। প্রবল জন–অসন্তোষের মুখে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গণ–আন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ হাজারো মানুষ ঢুকে পড়েন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের বাসভবনে। গোতাবায়া দেশ ছেড়ে পালান। এরপর রণিল বিক্রমাসিংহকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে দেশটির সংসদ।
কে এই দিশানায়েকে

জনতা বিমুক্তি পেরামুনার (জেভিপি) প্রধান অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এবারের নির্বাচনে এনপিপি জোটের প্রার্থী ছিলেন। এই জোট এর আগে কখনো শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলও ছিল না। দেশটির ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে এই জোটের আসন ছিল মাত্র তিনটি।

গণবিক্ষোভের মুখে গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশ ছেড়ে পালানোর পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জেভিপির জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। সেই গণবিক্ষোভে সক্রিয়া ভূমিকা ছিল দলটির। আন্দোলনের পর জেভিপি বৃহত্তর পরিবর্তনের ডাক দেয়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলটির অনড় অবস্থান নাগরিকদের আকৃষ্ট করেছে। দলের সঙ্গে বেড়েছে অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের ব্যক্তিগত আবেদন।

গত শতকের সত্তর ও আশির দশকে মার্ক্সবাদে অনুপ্রাণিত দুটি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিল জেভিপি। রাষ্ট্র এর প্রতিশোধ-পাল্টা প্রতিশোধ নিতে দেরি করেনি। গণগ্রেপ্তার, নির্যাতন, অপহরণ ও গণহত্যায় দলসংশ্লিষ্ট কমপক্ষে ৬০ হাজার মানুষ নিহত হর। এর মধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা রোহানা উইজেবিরাসহ বেশির ভাগ জ্যেষ্ঠ নেতাও ছিলেন।

অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর দিশানায়েকে দলের পলিটব্যুরো সদস্য হন। দল সহিংসতার পথ ত্যাগ করে। বিশ্লেষকদের মতে, দিশানায়েকে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এক বৃহত্তর জোট গড়ে তুলতে পেরেছেন। এটাই তাঁকে জয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছে।
অর্থনীতি সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ

বিক্ষোভের মুখে গোতাবায়া রাজাপক্ষে পালানোর পর রণিল বিক্রমাসিংহেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে দেশটির পার্লামেন্ট। এরপর দুই বছরের বেশি সময়ে তাঁর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সংকট থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় দেউলিয়া হওয়া শ্রীলঙ্কা। কিন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী কর বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ নেয় সরকার। এর চাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে উত্তরণের আশায় অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকেকে ভোট দিয়েছেন মানুষ। এখন তাঁর বড় কাজ হবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে টেনে তোলা। ফলে নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো। এখন দিশানায়েকে দেশটির মানুষকে কতটা দিশা দেখাতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার খবরে হাত নেড়ে কর্মী–সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। আজ রোববার রাতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার খবরে হাত নেড়ে কর্মী–সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। আজ রোববার রাতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। ছবি: এএফপি

শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রকাশ্যে এলেন, নানা আলোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কমিটি আছে এবং সেই কমিটির সভাপতি সাদিক কায়েম—সেটা অবশেষে প্রকাশ্যে এল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে গতকাল শনিবার মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার পর গণমাধ্যমে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সাদিক। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে।

কেউ কেউ সাদিকের সঙ্গে পরিচয় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় না জানা ও বুঝতে না পারা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ জানান।

কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের মিথস্ক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম পরিবেশ পরিষদে ১৯৯০ সালে শিবির ও জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে না দেওয়ার বিষয়ে মতৈক্য হয়েছিল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন হয়। তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করত। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে শিবিরকে কোনো কার্যক্রম চালাতে দেয়নি। শিবির সন্দেহে তারা অনেককে মারধর ও হল ছাড়তে বাধ্য করেছে। অবশ্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত জুলাইয়ে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শনিবার আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নেন শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদিক। এই পর্বে ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতারা।

মতবিনিময় সভায় শিবিরের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পরিবর্তে সংস্কার ও অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি করা হয়।

সভা শেষে সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা কোনো প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নয়। তাঁরা সব ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে সংলাপের আয়োজন করতে বলেছেন, যেখানে ফ্যাসিবাদের দোসর ছাড়া সব ছাত্রসংগঠন আসবে। শিবির মেধাভিত্তিক রাজনীতি চায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকে প্রত্যেকের রাজনৈতিক চর্চা করবে, সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না, সেটাই আমাদের চাওয়া।’

ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠনকে ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে সাদিক বলেন, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।

সাদিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তাঁর স্নাতকোত্তর শেষ। তিনি থাকতেন মাস্টারদা সূর্য সেন হলে। গত জানুয়ারিতে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হওয়ার আগে তিনি সংগঠনের সূর্য সেন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সাদিকের সঙ্গে শনিবার মতবিনিময় সভায় শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আরেক নেতা রেজাউল ইসলাম অংশ নেন। তবে রেজাউলের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। সাদিক ও রেজাউল ছাড়া শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্য নেতাদের কারও পরিচয় এখনো সামনে আসেনি।

কমিটির বিষয়ে সাদিক আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের কমিটি খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী সরকার তাঁদের আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিকস (গোপনে রাজনীতি) করতে বাধ্য করেছে।

ছাত্রলীগ বিতাড়িত হওয়ার পর এখন শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ব্যানারে রাজনীতি করছে এবং হলগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে—কারও কারও এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাদিক বলেন, শিবিরের সমর্থকদের বেশির ভাগ হলের বাইরে থাকেন। কিছু নিয়মিত শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারেন। গোপনে শিবির সব নিয়ন্ত্রণ করছে, এটা ঠিক নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারের সভাটি পরিবেশ পরিষদের ব্যানারে ডাকা হয়নি। শিবিরের দুজন নেতা সভাটিতে অংশ নেওয়ার পর এ নিয়ে উপাচার্যের সামনে প্রশ্ন তোলেন কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ শনিবারের মতবিনিময় সভায় উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কীভাবে তাঁকে (শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি) খুঁজে পেলেন?’

উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান তাঁর এই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন মাঈন আহমেদ। মাঈন ছাড়াও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ (বাসদ) কয়েকটি বাম ছাত্রসংগঠনের নেতারা সভায় শিবিরের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

১৯৯০ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদে জাতীয় ছাত্রসমাজ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়, তখন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের অন্যতম নেতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন। তিনি আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, স্বৈরাচারের সহযোগী হওয়ায় জাতীয় ছাত্রসমাজ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে সব ছাত্রসংগঠনের মধ্যে তখন ঐকমত্য হয়েছিল। সিদ্ধান্তটি ছিল, এই দুই সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না৷

খায়রুল কবির আরও বলেন, ‘শিবির ও ছাত্রসমাজের বিষয়ে এখনকার ছাত্রসংগঠনগুলো কী আচরণ করবে, সে ব্যাপারে আমরা এখনকার ছাত্রসমাজের ওপরই আস্থা রাখতে চাই। আমরা দলীয় বা সাংগঠনিকভাবে এ বিষয়ে কিছু বলছি না৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাড়ে তিন দশকে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচার করা হয়। কারও কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বিভিন্ন সময় বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন করেছে। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি জামায়াতের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। গত ৩০ আগস্ট দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের জোট অনেক আগেই অকার্যকর হয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন প্রভাব আছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে। বাম ছাত্রসংগঠনগুলোও সক্রিয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান হলো, তারা ক্যাম্পাসে কোনো দলের ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি চায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের আপত্তি আছে। তবে নেতারা এখনই প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি নন।

ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা আজ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে তাদের অবস্থান প্রকাশ করতে হবে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো এবং অন্যান্য অংশীজন মিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

সাদিক কায়েম
সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রথম জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সেমিকন্ডাক্টর কারখানা পাচ্ছে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির আওতায় ভারতে প্রথমবারের মতো জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সেমিকন্ডাক্টর তৈরির কারখানা (ফ্যাব) নির্মিত হচ্ছে। এই কারখানা থেকে যুক্তরাষ্ট্র, দেশটির মিত্র এবং ভারতের সামরিক বাহিনীর জন্য ‘চিপ’ সরবরাহ করা হবে। ‘শক্তি’ নামের এই কারখানা নির্মিত হবে ২০২৫ সালে।

স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে বৈঠক করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে পরে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানেই নিরাপত্তাবিষয়ক সেমিকন্ডাক্টর তৈরির কারখানা নির্মাণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

সেমিকন্ডাক্টরকে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ের চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎপ্রবাহ চালনা করতে পারে। সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে চিপ তৈরি করা হয়। মুঠোফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে এই চিপ ব্যবহার করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কারখানার মূল উদ্দেশ্য হলো ইনফ্রারেড, গ্যালিয়াম নাইট্রাইড ও সিলিকন কার্বাইড সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা। অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরবর্তী প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য এই কারখানা গড়ে তোলা হবে।

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত জোট কোয়াডের সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন মোদি। এর মধ্যে শনিবার বিকেলে বাইডেনের উইলমিংটনের বাড়িতে তাঁদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা বিষয় উঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে শনিবার কোয়াড সম্মেলনে অংশ নেন নরেন্দ্র মোদি ও জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে শনিবার কোয়াড সম্মেলনে অংশ নেন নরেন্দ্র মোদি ও জো বাইডেন। ছবি: রয়টার্স

ইরানে খনিতে বিস্ফোরণ, নিহত কমপক্ষে ৫১

ইরানের দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া রোববার বলেছে, মাদানজু কোম্পানি পরিচালিত খনিটির বি এবং সি ব্লকে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রদেশটির গভর্নর আলি আকবর রাহিমি বলেছেন, ইরানের মোট কয়লা চাহিদার শতকরা ৭৬ ভাগই সরবরাহ করা হয় এই খনি থেকে। মাদানজু কোম্পানিসহ প্রায় ৮ থেকে ১০টি কোম্পানি ওই অঞ্চলে কাজ করছে। দুর্ঘটনার পর বি ব্লকের উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। এই ব্লকে কাজ করছিলেন ৪৭ জন শ্রমিক। তার মধ্যে ৩০ জনই মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১৭ জন। এ রিপোর্ট লেখার সময় সি ব্লকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল। এই ব্লকে মিথেনের ঘনত্ব অনেক বেশি। কর্মকর্তারা ধারণা করছিলেন সেখানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় ব্লক দুটিতে ৬৯ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ইরানের রেডক্রিসেন্ট প্রধানকে উদ্ধৃত করে এর আগে বলা হয়, আহত ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিখোঁজ আছেন ২৪ জন। শনিবার দিবাগত রাত স্থানীয় সময় ৯টার দিকে এই বিস্ফোরণ হয়। নিহতদের আত্মার শান্তি এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
mzamin

দিল্লিতে বিদেশি কূটনীতিকদের জম্মু-কাশ্মীরে আমন্ত্রণ ভারতের

জম্মু-কাশ্মীরে চলমান নির্বাচনী কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান এবং আসিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের একদল সিনিয়র কূটনীতিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে অনলাইন দ্য হিন্দু বলছে, দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়াসহ নির্বাচিত সচল দূতাবাসগুলোর প্রায় ২০ জন দূতাবাসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার মধ্যে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ১৬ জন কূটনীতিক। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর তারা দুইদিনের সফরে কাশ্মীর যেতে পারেন। ওইদিনই শ্রীনগরে ভোটগ্রহণ। ২৫শে সেপ্টেম্বর সেখানে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তার আগেই কূটনীতিকদের নাম চেয়ে দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ করা হয়। ২৫শে সেপ্টেম্বরেই সেখানকার রাজধানী শ্রীনগর, গন্ধারবাল এবং বুধগাম জেলায় ভোটগ্রহণ হয়। ১লা অক্টোবর তৃতীয় দফার নির্বাচন। তার আগেই একদল কূটনীতিকের কাশ্মীর সফরে যাওয়ার কথা। ১লা অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে কাশ্মীরের বরমুল্লা, বান্দিপোড়া এবং কুপওয়ারা জেলায়। এর আগে ২০২০ সালে রাজ্যকে ভেঙে দুটি ইউনিয়ন টেরিটোরি করার পর সর্বশেষ এমন সফর আয়োজন করেছিল সরকার। তখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের কিছু সদস্যকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখাতে জম্মু ও শ্রীনগরে নিয়ে গিয়েছিল সরকার। তার আগে ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ২০২৩ সালের মে মাসে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ও কূটনীতিকদের স্বাগত জানানো হয় শ্রীনগরে। জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মাসে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কূটনীতিকরা শ্রীনগর সফর করেন। এ সময় তারা ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লাহ, পিপলস কনফারেন্সের প্রধান সাজ্জাদ লোকি, মূলধারার রাজনীতিকদের অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি কি সে বিষয়ে অবহিত হন তারা। তবে নতুন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেসব কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তার মধ্যে নেই কানাডিয়ান হাইকমিশন। তবে সূত্র বলেছে, আগামী সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীর সফরে যেতে পারে মিশনের একটি টিম।
mzamin