Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts
Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts

Saturday, September 19, 2026

বিশ্ববাণিজ্যের দুটি দুঃস্বপ্ন: রুদ্ধ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবে by প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম

বিশ্ববাণিজ্যের ইতিহাসে কিছু জলপথ আছে, যেগুলোর আয়তন ছোট হলেও গুরুত্ব মহাদেশের চেয়েও বড়। হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দেব তেমনই দুটি সামুদ্রিক ‘চোকপয়েন্ট’। একটি পারস্য উপসাগরের তেল-গ্যাসের প্রধান দরজা, অন্যটি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে নিয়ে জিবুতি ও ইয়েমেনকে যুক্ত করেছে। বাব আল-মান্দেব ফারসি শব্দ। এর অর্থ মৃত্যু দরজা। অতীতে নাবিকরা দিকনির্দেশনা ভুল করে এই পথে দিশাহারা হয়ে পড়তেন বলেই এমন নামকরণ করা হয়েছিল। ভৌগোলিকভাবে এটি সরু; কিন্তু বিশ্ব জ্বালানি অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অসীম।

একটির অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে কাঁপিয়ে দেয়; অন্যটির সংকট জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরিয়ে দেয়। কিন্তু দুটিই যদি একই সময়ে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়বে বিশ্ববাণিজ্য, জ্বালানি, খাদ্য, শিল্প, মূল্যস্ফীতি ও কোটি কোটি মানুষের জীবনে।

২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই আশঙ্কাকে আর শুধু কল্পনায় থাকতে দিচ্ছে না। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত তরল পরিবাহিত হয়েছে, যা বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম তরল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একই সময়ে প্রতিদিন ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এ পথ দিয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের ২০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ হরমুজ কেবল একটি জলপথ এবং বিশ্ব জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনি।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হরমুজ দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ৮৯ শতাংশের গন্তব্য এশিয়া। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ছিল প্রধান ক্রেতা। তাই হরমুজের সংকটের প্রথম ধাক্কা পড়বে এশিয়ার শিল্পোন্নত অর্থনীতিতে; কিন্তু দ্বিতীয় ধাক্কা পড়বে পুরো বিশ্বে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক বাজার।

ইতোমধ্যেই এর নমুনা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ব মাত্রার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে এবং ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

তেলের দাম বাড়লে শুধু পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ে না। বাড়ে ট্রাকের ভাড়া, জাহাজের ভাড়া, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়, কারখানার উৎপাদন খরচ, কৃষির সেচ ও পরিবহন ব্যয়। অর্থাৎ তেলের দাম হলো অর্থনীতির এমন একটি সুইচ, যেটি চাপ দিলে একসঙ্গে বহু খাতের ব্যয় বেড়ে যায়।

অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব বিশ্ববাণিজ্যের আরেক দরজা স্বরূপ। হরমুজের সংকট মূলত জ্বালানি সরবরাহের সংকট। বাব আল-মান্দেবের সংকটের চরিত্র কিছুটা ভিন্ন। এটি বিশ্ববাণিজ্যের সময় ও দূরত্বের সংকট।

ইয়েমেন ও আফ্রিকার জিবুতি-ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর উত্তরে রয়েছে সুয়েজ খাল। ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়া জাহাজের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথিদের তৎপরতায় বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনায় বড় বড় জাহাজ কোম্পানি আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ বেছে নিচ্ছে। সম্প্রতি ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

দুটির সংকট একসঙ্গে হলে এখানেই শুরু হবে আসল দুঃস্বপ্ন। হরমুজ বন্ধ হলে উপসাগরীয় তেল ও এলএনজির প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বাব আল-মান্দেব বন্ধ হলে এশিয়া-ইউরোপের সমুদ্রপথে সুয়েজের কার্যকারিতা আরো কমে যাবে। অর্থাৎ একটি পথ বন্ধ করবে জ্বালানির সরবরাহ, আর অন্যটি বাড়াবে বাণিজ্যের দূরত্ব ও পরিবহন ব্যয়। একসঙ্গে ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি দুই দিক থেকে চাপে পড়বে। বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি বাণিজ্য সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়।

বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব বোঝার জন্য সুয়েজ খালের কথা মনে রাখতে হবে। এশিয়া থেকে ইউরোপে জাহাজ যদি বাব আল-মান্দেব দিয়ে লোহিত সাগরে ঢুকতে না পারে, তাহলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করেও লাভ নেই। তাকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরতে হবে।

এ কারণেই লোহিত সাগরের সংকট শুরু হওয়ার পর বড় বড় শিপিং কোম্পানি আফ্রিকা ঘুরে যেতে শুরু করেছিল। এখন যদি একই সময়ে হরমুজও অচল থাকে, তাহলে জ্বালানি পরিবহন ও কনটেইনার বাণিজ্য দুই ক্ষেত্রেই বিকল্প পথের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে।

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাব আল-মান্দেব দিয়ে তেল পরিবহন ৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন পর্যন্ত উঠেছিল বলে ইআইএর তথ্য দেখায়। একই সময়ে সুয়েজ খাল ও সুমেড (SUMED) পাইপলাইন দিয়ে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত তরল পরিবহনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, এই জলপথগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ সংকটের অভিঘাত আরো তীব্র হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটা নতুন বিপদের ঘণ্টা।

হরমুজে তেল ও এলএনজি সরবরাহ কমলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়বে। বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজের সংকটে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়বে। এই দুই ব্যয় একসঙ্গে বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়বে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি।

একজন বাংলাদেশি নাগরিক হরমুজ বা বাব আল-মান্দেবের মানচিত্র হয়তো কখনো দেখেননি। কিন্তু ওই দুই জলপথের সংকট তার বাজারের ব্যাগে, বাসের ভাড়ায় কিংবা বিদ্যুতের বিলে এসে পৌঁছাতে পারে।

কৃষির জন্য ডিজেল দরকার। সেচে বিদ্যুৎ দরকার। সার আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রা দরকার। কৃষিপণ্য পরিবহনে জ্বালানি দরকার। বন্দরে পণ্য খালাস ও দেশের অভ্যন্তরে পরিবহনে জ্বালানি দরকার।

আধুনিক বিশ্ববাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে ‘জাস্ট ইন টাইম’ মডেলের ওপর দাঁড়িয়েছে। কারখানায় কাঁচামাল বেশি দিন পড়ে থাকবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী আসবে। কিন্তু সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা বাড়লে এই মডেল ভেঙে পড়ে। একটি কনটেইনার যদি নির্ধারিত সময়ের বদলে দুই-তিন সপ্তাহ দেরিতে আসে, তাহলে পুরো উৎপাদন পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে।

এ কারণেই হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবকে আলাদা দুটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো বিশ্ব অর্থনীতির দুটি স্পর্শকাতর স্নায়ু। আজ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় তলানিতে এবং বাব আল-মান্দেবেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি বন্ধ থাকাই যদি বিশ্ববাণিজ্যের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়, তাহলে দুটি একসঙ্গে বন্ধ হওয়া হবে সেই দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় অধ্যায়।

একটি জাহাজকে কয়েক হাজার অতিরিক্ত নটিক্যাল মাইল যেতে হয়। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ে, জাহাজের সময় বাড়ে, ক্রু ও বীমা ব্যয় বাড়ে এবং একই পরিমাণ পণ্য পরিবহনের জন্য বেশি খরচ হয়।

কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুধু জাহাজ ও বন্দরের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বীমা, ব্যাংকিং, ক্রেডিট, জ্বালানি, কনটেইনার, বন্দর, সরবরাহচুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন।

হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব, দুটি প্রণালি ভৌগোলিকভাবে অনেক দূরে। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির শিরা-উপশিরায় তারা একই স্রোতের অংশ। একটি তেল ও গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে; অন্যটি এশিয়া-ইউরোপের বাণিজ্যপথকে সুয়েজের সঙ্গে যুক্ত করে। তাই একটির সংকট অন্যটির বিকল্প নয়; বরং দুটির সম্মিলিত সংকট বিশ্ব অর্থনীতির সরবরাহ, জ্বালানি ও পরিবহন—তিন স্তম্ভেই আঘাত করতে পারে।

সৌদি আরব কিছু তেল হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প রুটে পাঠাতে পারে। মিসরের সুমেড পাইপলাইনও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। কিন্তু এগুলোর সক্ষমতা সীমিত এবং দীর্ঘ সমুদ্রপথের তুলনায় ব্যয় বেশি। EIA-ও উল্লেখ করেছে, বিকল্প রুটগুলো দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও সীমিত সক্ষমতার। অর্থাৎ সংকটের সময় বিশ্ব বুঝতে পারে দক্ষতার জন্য তৈরি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সবসময় স্থিতিস্থাপকতার জন্য তৈরি নয়। কারণ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব যদি একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়, তখন বিশ্ববাজারে শুধু জাহাজের পথ বন্ধ হবে না, একইসঙ্গে বিশ্বায়নের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসই সংকুচিত হয়ে আসবে।

* প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন
- fakrul@ru.ac.bd

বিশ্ববাণিজ্যের দুটি দুঃস্বপ্ন

হুথিদের দখলে বাব আল-মান্দেব, সৌদির অনুরোধ সত্ত্বেও দূরে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের মিত্র হুথিদের হাতে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা চলে গেছে। কৌশলগত দ্বীপ ও লোহিত সাগরের দীর্ঘ উপকূলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাবেও নিয়ন্ত্রণ শক্ত করেছে গোষ্ঠীটি। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহান্তে মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। বৈঠকে হুথিরা আশ্বস্ত করেছে, লোহিত সাগরে তারা মার্কিন জাহাজে হামলা করবে না। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

হুথিদের এমন আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন আছে। অতীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। তাদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানও রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই।

সৌদি আরবের চাপ

হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত সপ্তাহে তিনি ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হামলার অনুরোধ করেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জরুরি সমন্বয়ের জন্য রিয়াদ যান। এতে বোঝা যায়, সৌদিকে সমর্থন করলেও সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরাইলও সৌদির হয়ে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে বলে খবর এসেছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইসরাইল সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা কম। গাজা, লেবানন, সিরিয়া, পশ্চিম তীর ও ইরান নিয়ে একসঙ্গে চাপ সামলাতে হচ্ছে দেশটিকে। এর মধ্যে ইয়েমেন নতুন আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে।

ওয়াশিংটনের ওপর সৌদির আস্থা কমছে

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহ সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। গত কয়েক বছর ধরেই রিয়াদ বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার পর সম্পর্ক বহুমুখী করার উদ্যোগ নেয় দেশটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে সৌদি। পরে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিও বাড়ানো হয়।

ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমন মাবন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নয়। বরং নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরো বহুমুখী করার চেষ্টা।

ইরান যুদ্ধেই চাপে যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েমেনে সরাসরি না জড়ানোর বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ইরান যুদ্ধ। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের শেষ কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে তেল ও যুদ্ধের খরচ বেড়েছে।

পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম চার মাসেই খরচ হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২২ বিলিয়ন ডলার গেছে গোলাবারুদে। অসংখ্য মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভান্ডারে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ার খবরও এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য বলছে, তাদের হাতে এখনো বিপুল অস্ত্র রয়েছে।

এর মধ্যে ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে সামরিক চাপ আরো বাড়বে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প নিজেই দীর্ঘস্থায়ী ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বাব আল-মান্দাবে চাপে কারা?

হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব—দুটি নৌপথই এখন ঝুঁকিতে। হরমুজ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে যায়। আর বাব আল-মান্দাব এশিয়া ও চীনের বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, বাব আল-মান্দাব দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে চীনের ওপর চাপ বেশি পড়তে পারে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রও রেহাই পাবে না। সৌদি অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাড়বে পরিবহন ও জ্বালানির খরচ, যার প্রভাব পড়বে মার্কিন ভোক্তাদের ওপরও।

অধ্যাপক মাবনের মতে, হুথিদের বাব আল-মান্দাব নিয়ন্ত্রণে থাকতে দেওয়া চীনকে দুর্বল করা বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নয়। ইরান যুদ্ধেই চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এখন ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

হুথিদের দখলে বাব আল-মান্দেব, সৌদির অনুরোধ সত্ত্বেও দূরে যুক্তরাষ্ট্র

Friday, September 18, 2026

মদ খাওয়ার টাকা দাবি, না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বি জেলায় এক মুসলিম মহিষ ব্যবসায়ীকে স্থানীয় কয়েকজনের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ভিডিওতে আফশার আলী নামের ওই ব্যবসায়ীকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে এক ব্যক্তি বারবার মারধর করছেন। একপর্যায়ে হামলাকারী তাকে ক্ষমা চাইতে বলেন । আলী ক্ষমা চাওয়ার পরও তাকে চড় ও ঘুষি মারতে থাকেন ওই ব্যক্তি। এ সময় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলা থামানোর চেষ্টা করেন।

আফশার আলীর জানান, শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে কারারি থানার জামদুয়া এলাকার কাছে তার ওপর হামলা হয়। হামলার আগে মূল অভিযুক্ত তার কাছে মদ খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন। তাকে বলা হয়, ‘তুমি এত আয় করো, আমাদের একটু মদও খাওয়াতে পারো না?’ এরপরই তাকে মারধর শুরু করা হয়।

আলী জানান, পরে আরো কয়েকজন ওই হামলায় যোগ দেন। তারা তাকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি তার কাছে থাকা ৪ হাজার ৫০০ রুপি নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর কারারি থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আলী। পরে তিনি কৌশাম্বির পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিচার ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কৌশাম্বি পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

মদ খাওয়ার টাকা দাবি, না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর
ছবি: সংগৃহীত।

তীব্র অর্থ সংকটে ইসরাইলের সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ না পেলে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবানন—এই তিন ফ্রন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। বৃহস্পতিবার আর্মি রেডিওর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সেনাবাহিনীর আশঙ্কা, অর্থের ঘাটতির কারণে সেনা নিয়োগ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভারী সাঁজোয়া যান মেরামতের মতো কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। লেবাননে শীতকালীন সামরিক প্রস্তুতিও পর্যাপ্ত নয় বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

এদিকে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিরোধ চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে অর্থ চেয়েছে তা রাষ্ট্রীয় বাজেটে কোনো প্রভাব না ফেলেই সরবরাহ করা সম্ভব। তিনি প্রস্তাব করেন যে, ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকেই এই অর্থ সংস্থান করা যেতে পারে।

ইসরাইলের ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট আগে প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল থাকলেও ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযানের পর তা বাড়িয়ে প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন শেকেল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বাড়তি অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছায়নি।

সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও সম্প্রতি বলেছেন, বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বর্তমানে বাজেট নিয়েও সংকটে রয়েছে।

গাজায় গণহত্যা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে হামলার পাশাপাশি, গত বছর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে দুটি যুদ্ধ চালিয়েছে। এছাড়া তারা ইয়েমেন ও কাতারেও আঘাত হেনেছে এবং সিরিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই স্থল অভিযান ও কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন এবং লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে ইসরাইল । তারা এসব এলাকা থেকে সরে আসতে কিংবা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: আনাদোলু

তীব্র অর্থ সংকটে ইসরাইলের সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ভুল মনে করেন ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। একই সঙ্গে ৭১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই। ফক্স নিউজের নতুন এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ শেষ করার কৌশল নিয়ে অনাস্থা সবচেয়ে বেশি ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে। তাদের ৯৫ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৮৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকান ভোটারদের ৪৩ শতাংশও একই মত পোষণ করেন।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলেছেন ৬০ শতাংশ ভোটার। বিপরীতে ৩৭ শতাংশ এটিকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। জুনের জরিপে ৫৮ শতাংশ ভোটার সামরিক পদক্ষেপকে ভুল বলেছিলেন। অর্থাৎ এ বিষয়ে বিরোধিতার হার বেড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কম নিরাপদ হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। এ ধরনের মত দেওয়া ভোটারের হার এপ্রিলে ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৭ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ৩২ শতাংশ মনে করেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আরও নিরাপদ হবে।

জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক কর্মদক্ষতায় অনুমোদনের হার ৩৯ শতাংশ পাওয়া গেছে। তার প্রতি অসন্তুষ্ট ৬১ শতাংশ ভোটার। পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার আরও কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন।

ফক্স নিউজের এই জরিপটি ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ২১১ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। জরিপের নমুনার ত্রুটিসীমা প্লাস বা মাইনাস ৩ শতাংশ পয়েন্ট। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, উপগোষ্ঠীগুলোর ফলাফলে ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে।

সূত্র: ফক্স নিউজ

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

চাঁদে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই এবার ছাড়িয়ে গেল পৃথিবীর সীমানাও! পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে এবার চাঁদের আশপাশকেও সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, মহাকাশে এরই মধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব বলছে, চাঁদের কাছাকাছি মহাকাশেও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সেনাদের।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-অস্ত্র মোতায়েন, অন্যদিকে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি। যেটা আমরা শুধু এতদিন 'স্টার ওয়ার্স' বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখেছি, এবার ঠিক সেটাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু মহাকাশে এমন কী ঘটতে যাচ্ছে যার জন্য ২৫ হাজার সেনার এক বিশাল স্পেস ফোর্স তৈরি করছে আমেরিকা? সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে এক নতুন মহাজাগতিক যুদ্ধের পূর্বাভাস।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক পরিকল্পনার কথা উঠে আসে ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ। সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন মহাকাশের নতুন এই যুদ্ধের ফ্রন্টের কথা জানান। এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননের মতে, চীন মহাকাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিতে চায়। আর মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করাই স্পেস ফোর্সের কাজ। এর কয়েক দিন আগেই বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েন করেছে।

আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের ‘স্পেস ফোর্স’ দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা, যার বড় অংশই মোতায়েন থাকবে সরাসরি যুদ্ধের কমব্যাট কমান্ডে। মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের দাবি, চীনের মতো সম্ভাব্য শত্রুরা মহাকাশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মহাকাশ সংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালেই নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গড়ে তুলেছিল বেইজিং। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, তারা যুদ্ধকে মহাকাশে বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’-কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, যেখানে মহাকাশকে সব ধরনের সামরিকীকরণ থেকে মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবুও পিছপা হচ্ছে না আমেরিকা। মহাকাশে সামরিকীকরণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাশিয়া একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর উদ্বেগ বাড়ছে। আমেরিকা চাঁদের চারপাশে যুদ্ধের ছক কষছে, তখন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা নিয়ে উদ্বেগে সারা বিশ্ব।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

বাব আল-মান্দাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে ইতালি

বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করেই ইতালি এ পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ক্রোসেত্তো বলেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা ইতালির রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অচল হয়ে পড়লে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে গুরুতর।

বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ। সুয়েজ খাল দিয়ে যাতায়াতকারী তেল, গ্যাস ও কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্যও প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে গত কয়েক সপ্তাহে বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে পুরো উপকূলীয় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দাব দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটি নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ। ছবি: এএফপি
বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ। ছবি: এএফপি

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধিদলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগী কর্মকর্তারা থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান সরকারের মূল প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে পারবে। তবে এবার প্রতিনিধিদলের আকার সীমিত রাখা হবে।

এ ছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এসব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।

এবারের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনা ফের শুরুর বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। প্রণালিটির কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে। তিনি তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন। তবে একই সময়ে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে হুতি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘ অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।

সূত্র: আলজাজিরা

মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: এএফপি
মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: এএফপি

সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৫

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩টি শিশু রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে জানা গেছে। খবর আল জাজিরার।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইফ গভর্নরেটে হুতিদের একটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি সৌদি আরবে বসবাসকারী একজন ইয়েমেনি নাগরিক।

চলতি মাসে হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ার পর সৌদি আরবে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার অভিযোগ করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমান তাইজ প্রদেশের ৩টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল আলমাসিরাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনের আবস শহরে সৌদি হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

পরে হুতিদের সমর্থক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন ইয়েমেনি আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীকে বোঝাতে তারা ‘সৌদি-সমর্থিত ভাড়াটে বাহিনী’ শব্দটি ব্যবহার করেছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে। এতে ইয়েমেনের সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

সৌদিতে ড্রোন হামলার পর। ছবি: আল জাজিরা
সৌদিতে ড্রোন হামলার পর। ছবি: আল জাজিরা

ইউরোপ থেকে ২৫ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে পেন্টাগন

ইউরোপে মোতায়েন প্রায় ২৫ হাজার বা তারও বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মহাদেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা প্রত্যাহারের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে এনবিসি। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ইতালি ও স্পেন রয়েছে। প্রস্তাবিত সেনা কমানোর ফলে এসব দেশ প্রভাবিত হতে পারে।

ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের ছয় মাসের পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ডের প্রধান ও ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে প্রাথমিক বিশ্লেষণ তুলে ধরতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পর্যালোচনায় বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনী নিয়ে একাধিক বিকল্প তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কিছু মার্কিন সেনা ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

আগামী ৬ নভেম্বর হেগসেথের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কোনো প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজেদের প্রচলিত প্রতিরক্ষার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আরও বেশি কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে প্রশাসন।

তবে ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর সম্ভাবনায় কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ও ইউরোপীয় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা হলে রাশিয়াকে প্রতিরোধে ন্যাটোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এনবিসি আরও জানিয়েছে, ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। গত জুনে পেন্টাগন ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্ভাব্য বড় আকারের সেনা কমানোর বিষয়ে অবহিত করার প্রস্তুতি নিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এতে হস্তক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন সিনেটর রুবিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইউরোপে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে পর্যালোচনায় পররাষ্ট্র দপ্তর ও দেশটির কূটনীতিকদের পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

পোল্যান্ডে মার্কিন বাহিনী। ছবি: গেটে ইমেজেস
পোল্যান্ডে মার্কিন বাহিনী। ছবি: গেটে ইমেজেস

মক্কাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে সৌদি: হুতি নেতা

মক্কাকে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হুতিদের নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি। বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার ভাষণে তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

তার বক্তব্য আলজাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

আল-হুতি বলেন, সৌদি আরব মক্কাকে ‘নিপীড়নের প্রতীক’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি একে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, আনসার আল্লাহ গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছে। তবে আল-হুতি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম বিশ্বের প্রতি সৌদি আরবের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ইয়েমেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

হুতি নেতা বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের আগ্রাসনের এটি ১২তম বছর। তার দাবি, বর্তমান সংঘাতের এই পর্যায় সৌদি আরবই শুরু করেছে। মক্কা ও অন্যান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি সামরিক অভিযান চালানোর পর ইয়েমেনে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আল-হুতির ভাষ্য অনুযায়ী, সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে মোচা দখল ও আনসার আল্লাহর অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এর ধারাবাহিকতায় আনসার আল্লাহ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মোচা, ধাবাব ও বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে দাবি করেন তিনি।

হুতি নেতা বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছে। তার দাবি, বর্তমানে ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক তৎপরতা এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ, যারা ইয়েমেনকে অধীন ও নিপীড়িত অবস্থায় রাখতে চায়।

আল-হুতি আরও অভিযোগ করেন, সৌদি আরবের সামরিক কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নবাদীরা’ নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার দাবি, তারাই সৌদি আরবের ওপর রাজনৈতিক নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে এবং সামরিকভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করছে।

সূত্র: আলজাজিরা

পবিত্র কাবা শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র কাবা শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

বছর শেষের আগেই ৩ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ইরানের

চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। রাশিয়ার সহযোগিতায় পায়া, জাফর ও কাওসার নামের এসব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি।

মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার এক বক্তব্যে হাশেমি বলেন, মহাকাশ শিল্পের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনটি ইরানি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, পায়া, জাফর ও কাওসার স্যাটেলাইট তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে তৈরি করা হয়েছে।

ইরান একাধিক উৎক্ষেপণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান হাশেমি। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির কিছু মহাকাশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাশেমি জানান, চাবাহার স্পেস সেন্টারের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর আগে প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। কেন্দ্রটি যোগাযোগ ও রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া নাহিদ-২ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ইরানের যোগাযোগমন্ত্রী। তার দাবি, এই স্যাটেলাইটটি প্রথমবারের মতো কু-ব্যান্ড প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর উন্নয়নকাজে একজন নারী নির্বাহী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্যাটেলাইটটি টেলিযোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হবে।

হাশেমি আরও জানান, নক্ষত্রমণ্ডলে ইরানের ২৪টি স্যাটেলাইট রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি মূল স্যাটেলাইট এবং ছয়টি রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।

চলতি বছর এসবের মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি স্যাটেলাইটগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ছবি: মেহের নিউজ এজেন্সি
একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ছবি: মেহের নিউজ এজেন্সি

Thursday, September 17, 2026

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় চালানো দুটি সামরিক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জোড়ালো প্রমাণ ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন। এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলেও জানিয়েছে মিশনটি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে।

ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের দমনপীড়ন এই দুই বিষয়ই তদন্ত করেছে মিশনটি।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছেন যে মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী। ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।

মিশনের সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি কোনো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণও তারা পাননি।

লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো হামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, দেশব্যাপি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী মিশন।

সূত্র: ডন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবন ধ্বংসে পরিকল্পিত তৎপরতায় ইসরাইল: বি’তসেলেম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পরিবেশ বা পরিস্থিতি সুপরিকল্পিতভাবে ‘ধ্বংস’ করার চেষ্টা করছে ইসরাইল। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমনটি দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম।

সংগঠনটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের ধারাবাহিক হামলা ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার লক্ষ্যে সরকারের মদতপুষ্ট একটি সামগ্রিক পরিকল্পনারই অংশ।

‘দ্য এলিমিনেশন প্রজেক্ট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বি’তসেলেম বলেছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসরাইল তাদের হামলার মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কাজে যাওয়া, সন্তানদের স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া, চিকিৎসা বা পৌর সেবা গ্রহণ, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দেখা করা, জমিতে চাষাবাদ করা কিংবা অবকাশ যাপনের মতো মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য সব কার্যক্রম।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো সাময়িক সংকট কিংবা বিচ্ছিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না।

বি’তসেলেমের এর মতে, এটি চলমান বিলোপ বা উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করার একটি সুস্পষ্ট পর্যায়। এই প্রক্রিয়াটি ইসরাইলি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার (অ্যাপার্থেইড) অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি মূলত বসতি-উপনিবেশবাদী সেই দর্শনের দ্বারা চালিত—যার লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা, তাদের বাস্তুচ্যুত করা এবং ইহুদি-ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবন ধ্বংসে পরিকল্পিত তৎপরতায় ইসরাইল: বি’তসেলেম
ছবি: সংগৃহীত।

হুথিদের মোকাবিলায় সৌদির পাশে নেই মিত্ররা, কঠিন পরিস্থিতিতে রিয়াদ

স্থল ও আকাশপথে একযোগ সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এসব হামলার মুখে ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ছে সৌদি আরব । সৌদি আরব এখন একসঙ্গে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

ইয়েমেনে তাদের মিত্ররা হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছে, একই সময়ে সৌদি আরবের অভ্যন্তরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকও সীমিত হয়ে আসছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সৌদি আরব যে মার্কিন নিরাপত্তাবলয়ের ওপর নির্ভর করে আসছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্র এখন এ বিষয়ে অনেকটা নিষ্ক্রিয় বা উদাসীন।

সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘হুথিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।’ বুধবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ওমানের মধ্যস্থতায় হুথি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব তার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতোই সৌদি আরবের নতুন মিত্ররাও হুথিদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের নাম থাকলেও বাস্তবে তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

চ্যাথাম হাউসের উপসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নীল কুইলিয়াম মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, ‘সৌদি আরব এখন চরম সংকটে এবং তারা অনেকটাই একা। যুক্তরাষ্ট্র পাশে নেই, মক্কা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোও এগিয়ে আসেনি। তাদের হাতে এখন খুব কমই বিকল্প বা কৌশল অবশিষ্ট আছে।’

ইরাকভিত্তিক ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়ার ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুথিরা সৌদি শহরগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ফলে তেল রপ্তানি ও দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীগুলোর অবস্থাও দুর্বল। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাইজ ও মারিবের দিকে এগোচ্ছে। একদিকে ইয়েমেনে স্থলসেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক সৌদি আরব, অন্যদিকে কার্যকর স্থানীয় মিত্রের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সও হুথিদের অগ্রযাত্রার মুখে ভেঙে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) তুলনামূলকভাবে কার্যকর যোদ্ধাশক্তি হলেও তাদের সমর্থক সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের মতপার্থক্য রয়েছে।

রিয়াদ আবারও দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। এখন সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে সীমিত বিমান হামলা, হুথিদের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা রাখার কথা বলা হচ্ছে।

হুথিদের দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দর অবাধে পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। তাদের সঙ্গে সমঝোতা করলে সৌদি আরবের জন্য তা রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে; আবার সামরিক সংঘাত বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মিত্ররা কতটা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তার ওপর। সম্ভাব্য পথগুলোর মধ্যে সীমিত বিমান অভিযান এবং বাব আল-মান্দেবকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার আওতায় আনার উদ্যোগও রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

হুথিদের মোকাবিলায় সৌদির পাশে নেই মিত্ররা, কঠিন পরিস্থিতিতে রিয়াদ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে বড় শক্তি হিসেবে ইরানের উত্থান অপ্রতিরোধ্য

ডনের নিবন্ধঃ ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন সফল হয়নি। ইরান এই হামলা প্রতিরোধ করার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহণ করেছে। দেশটির রেজিম ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় পরাশক্তি হিসেবে ইরানের অপ্রতিরোধ্য উত্থান ঘটছে বলে মনে করেন অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক খুররম হুসাইন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তা কার্যকরভাবে শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে সংঘাত হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে।

খুররমের মতে, কয়েক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের হুমকির মুখে থাকা ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় সেই দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার দেয়াল ভেঙে দেশটি এখন আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ঐতিহাসিক দেঁতাত বা সমঝোতার মাধ্যমে চীনের বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে ইরানের পুনরুত্থান চীনের চেয়ে অনেক বেশি অগোছালো ও সংঘাতময় হতে পারে। কারণ দেশটিকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে হচ্ছে।

তিনি জানান, ইরানের ভেতরে বর্তমানে দুটি শক্তিশালী ধারা বিদ্যমান। এক পক্ষ যুদ্ধ থামিয়ে দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় মনোযোগ দিতে চায়। অন্য পক্ষ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে এমন পরাজয়ের মুখোমুখি করতে চায়, যেমনটি আফগানিস্তানে তালেবানের হাতে ঘটেছিল। বিশ্লেষকের দাবি, মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি চলে যাওয়ার পর ইরানের মূল দৃষ্টি যাবে উপসাগরীয় ধনী রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর দিকে। যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে তেহরান ইতোমধ্যেই ২৭০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের দাবি উত্থাপন করেছে, যা পরবর্তীতে ওই উপসাগরীয় দেশগুলোকেই পরিশোধ করতে হতে পারে। তেহরানের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে ইরানের এই আত্মপ্রকাশ ঠেকানো সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় শক্তি হিসেবে ইরানের উত্থান অপ্রতিরোধ্য

Wednesday, September 16, 2026

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গোলাবারুদের ঘাটতি, পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে গোলাবারুদের ‘ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে এবং পুনরায় সরবরাহে একটি অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বক্তব্যটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ তিনি বারবার অস্বীকার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ঘাটতির মুখে রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ সরবরাহ ‘প্রায় সীমাহীন’ এবং এ-সংক্রান্ত ভিন্ন ধরনের প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

তবে স্বাধীন তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র গোলাবারুদ খাতে ২২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে, যার ফলে ‘কৌশলগত মজুদের ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে “প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট বেশি” গোলাবারুদ রয়েছে।

প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে পাওয়া প্রথম ধরনের একটি ধারণা তুলে ধরেছে। সাধারণত এ ধরনের তথ্য গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ থাকে।

এর আগে বিভিন্ন মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দীর্ঘপাল্লার স্থল হামলা ব্যবস্থার পাশাপাশি ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর এক মূল্যায়নে দেখা যায়, কিছু প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ, যেমন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড), উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এ ঘাটতি অর্ধেকেরও বেশি ছিল।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গোলাবারুদের ঘাটতি, পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের স্বীকারোক্তি
ছবি: সংগৃহীত।

উত্তরপ্রদেশে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মঙ্গলবার বিকেলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চল্লিশোর্ধ্ব বয়েসের এক স্কুল শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তার বয়স ৪০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। দুপুর ২টার দিকে স্কুলের গেটের কাছে রাথি নওশাদকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ।

এতে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। স্কুলশিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঋষিকেশের এআইআইএমএসে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ পরই দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ রাথি থানায় হাজির হন। সংবাদমাধ্যম আমর উজালার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাথি কথিতভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি তিনবার গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি নৌশাদের বিরুদ্ধে কথিত ‘লাভ জিহাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন, যা পুলিশ তদন্ত করছে।

বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানান, অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলেও হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত নৌশাদ রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রামের মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, হত্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

নৌশাদ মৃত্যুর পর তার মা, দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হত্যার উদ্দেশ্য তদন্তাধীন রয়েছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

উত্তরপ্রদেশে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত।

সৌদির যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি, মক্কায় হামলার অভিযোগ নাকচ হুতিদের

এএফপিঃ সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান বুধবার ভূপাতিতের দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একইসঙ্গে মুসলিমদের পবিত্র নগরী মক্কা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।

হুতির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি অস্ত্র দিয়ে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। এটি মারিব প্রদেশে অভিযান চালানোর জন্য ইয়েমেনের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।

ইয়াহিয়া সারে অভিযোগ করেন, সৌদি আরব এখন পর্যন্ত ৪৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা মক্কা লক্ষ্য করে হামলার যে অভিযোগ তুলেছে, সেটি ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযানগুলো সৌদির তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। সেগুলো পবিত্র স্থান থেকে অনেক দূরে।’

গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে পুনরায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে হুতিরা। তারা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা ও সম্প্রতি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় বাব এল-মান্দেব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে পরিণত হয়েছে। এটি সৌদির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পথ।

সৌদির যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি, মক্কায় হামলার অভিযোগ নাকচ হুতিদের
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় গ্র্যান্ড মসজিদ। ফাইল ছবি: সৌদি প্রেস এজেন্সি/সিএনএন

ইয়েমেনের সঙ্গে এখনই সংঘাতে জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েমেনের পরিস্থিতি বিষয়ে তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেলের মতে, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে ইয়েমেন সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে আগ্রহী নয়। বুধবার কতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

কামেল বলেন, যুদ্ধের আগের বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে; এর কারণ হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি।

তিনি যুক্তি দেখান যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের প্রভাব—অন্তত বর্তমান সময়ের জন্য—এর একটি উদাহরণ।

তিনি বলেন, বিশেষ করে আমরা দেখেছি যে, এই পর্যায়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার লক্ষ্যে বিশ্ববাজারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই তারা—বিশেষ করে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে—জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যায় যা সেখানকার বাস্তবতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

কামেল উল্লেখ করেন, নিজেদের শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে এবং রিয়াদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নিতে হুতিরা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে।

অধ্যাপক আরো বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রিয়াদের দীর্ঘদিনের নির্ভরতার কারণে তাদের এখন এর ‘মাশুল গুনতে হচ্ছে’।

তিনি আরো জানান, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নয়। এছাড়া, সম্ভবত সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মিশর সফর খুব একটা ফলপ্রসূ নাও হতে পারে, কারণ কায়রোর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘকাল ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে।

ইয়েমেনের সঙ্গে এখনই সংঘাতে জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র
হুথিদের দ্বারা দখলকৃত ‘গ্যালাক্সি লিডার’ বাণিজ্যিক জাহাজের ডেকে মানুষ নাচছে, ইয়েমেনের আল-সালিফ উপকূলে, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩। ছবি: রয়টার্স।