Thursday, April 7, 2016

পেরুতে ফুজিমোরির বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ

পেরুতে শীর্ষস্থানীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কিকো ফুজিমোরির বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভযাত্রা করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী লিমায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কিকোর বাবা দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি। ১৯৯২ সালের ৫ এপ্রিল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নিয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনার ২৪ বছর পর অভ্যুত্থানের দিনে আলবার্তোর মেয়ের বিরুদ্ধে দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হলো। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘ফুজিমোরি আর নয়’। বিক্ষোভকারীরা নানা ধরনের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। আগামী রোববারের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিক্ষোভকারীরা দেশটির ন্যাশনাল ইলেকটরাল বোর্ড অভিমুখে যাত্রা করেন। প্যাট্রিসিয়া সালাজার নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, তিনি চান, বিশ্ব জানুক যে দুর্নীতিগ্রস্ত এক নেতার মেয়ের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার বিরুদ্ধে পেরুর জনগণ বেশ ক্ষুব্ধ। ৪০ বছর বয়সী রক্ষণশীল কিকোর বিরুদ্ধে দেশটির অন্যত্রও বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁরা পেরুর জনগণকে ২৪ বছর আগের অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা কিকোর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থানের বিষয়টিও জানান দিতে চান। কিকোর বাবা আলবার্তো দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০০৯ সালে তাঁর দণ্ড হয়। তিনি এখন ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

বিজেপি প্রশ্নে বিভক্ত সুশীল সমাজ by তরুণ চক্রবর্তী

গুয়াহাটির ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের
উদ্যোগে বসানো হয়েছে মোগলদের আসাম জয় রুখে
দেওয়ার নায়ক লাচিত বড়ফুকনের ভাস্কর্য
উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামে ভূমিকম্প জলভাত! প্রায়ই কেঁপে ওঠে মাটি। মানুষজনের গা-সওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু বহিরাগতদের কাছে অবশ্যই আতঙ্কের। ভোটপর্বেও কেঁপে উঠল ভূমি, উৎপত্তিস্থল আসামেরই গোয়ালপাড়া জেলা। এই গোয়ালপাড়াতেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময়। নিহত তিন। ভোট মৌসুমে এই খবর নিয়েও তেমন প্রতিক্রিয়া নেই। গত কয়েক দশকে মৃত্যুর মিছিলও অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে আসামবাসীর। ঠিক তেমনি গা-সওয়া বুদ্ধিজীবীদের দ্বন্দ্বও। সম্প্রতি অসমিয়া সমাজের প্রাতঃস্মরণীয় বুদ্ধিজীবী হীরেন গোঁহাই আর হোমেন বড়গোঁহাইয়ের উদ্যোগে সুশীল সমাজ রাজ্যবাসীর কাছে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আরজি জানায়। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘যাকে খুশি ভোট দেন, কিন্তু খাল কেটে কুমির আনবেন না! সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে ভোট দিলে  রাজ্যের ঘোরতর অমঙ্গল।’ আর এটি নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ইতিমধ্যেই সুশীল সমাজ দুই ভাগ। হীরেন-হোমেনদের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে এসে এসমাইল হোসেন বলছেন, ‘না বুঝেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছি।’ আর বিরোধী শিবির তো আরও কঠোর। লক্ষ্মীনন্দ বড়ুয়া, নির্মলকুমার চৌধুরীদের মতে, ভোট দেওয়ার অধিকার রাজ্যবাসীর। সুশীল সমাজের কোনো দলের বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত নয়। একই সঙ্গে তাঁদের কটাক্ষ, ‘বিজেপির বদলে কংগ্রেস তো আরও বেশি খারাপ। আরও বেশি সাম্প্রদায়িক।’ অসমিয়া সমাজে বুদ্ধিজীবীরা বেশ সমাদৃত। অসম সাহিত্যসভার মর্যাদার প্রতি রাজ্যবাসী বেশ আস্থাশীল। রাজধানী গুয়াহাটি ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি বসানো হয়েছে জেনারেল লাচিত বড়ফুকনের বিশাল মূর্তি। ১৬৭১ সালে মোগলদের নৌবাহিনীকে সরাইঘাট যুদ্ধে রুখে দিয়েছিলেন অহম রাজার এই সেনাপ্রধান। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এই অহম সম্প্রদায়েরই মানুষ। মোগল অর্থাৎ ‘মুসলিম’দের আসামে অনুপ্রবেশ তাঁরই পূর্বপুরুষেরা রুখে দিয়েছিলেন, সেটা জানাবার একটা প্রয়াস তো ছিলই দীর্ঘদিন পর লাচিতের এই বিশাল মূর্তি স্থাপনের মধ্যে। কিন্তু মজার কথা, কংগ্রেসিরাই এই প্রসঙ্গ তুলছেন না। এখন বেশি করে আলোচিত প্রসঙ্গ বর্তমানের জনবিন্যাস এবং বিভিন্ন জনপদের নিজস্ব সমস্যার নিরিখে গড়ে ওঠা ইস্যু। ইস্যুগুলোও জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ১২৬ সদস্যের আসাম বিধানসভার ৬৫ আসনে ভোট প্রদান শেষ। বাকি রয়েছে ৬১টি কেন্দ্রে। মিশ্র জনগোষ্ঠীর আসামের জনবিন্যাসও ভিন্নধর্মী। ১২৬টির মধ্যে অন্তত ২৬টি আসনের ফলাফলে বাঙালিদের প্রভাব বেশি। এর মধ্যে ১৬টিতে তো বলতে গেল বাঙালিরাই একমাত্র ভোটার। চা-শ্রমিকদের প্রভাব রয়েছে কম করে ৩০টি আসনে। বোড়োরা ১৬টি আসনে নিয়ামক শক্তি। এ ছাড়া মিশিং ও কার্বিরা চারটি, ডিমাসা ও রাভা একটি করে আসনে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারেন। রয়েছে মুসলিম ভোটও। রাজ্যের শতাধিক আসনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে বাঙালি মুসলিমরাই বড় ভূমিকা নেন।

গোপন লেনদেনে সেই অবৈধ পথে সিআইএও

আদনান খাসোগি,ফরহাদ আজিমা, জেমস বন্ডের একটি বইয়ের প্রচ্ছদ
সৌদি প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেখ কামাল আদহাম ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ‘সিআইএর প্রধান সমন্বয়কারী’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হয়ে কাজ করেছেন, এমন অনেকেই পানামাভিত্তিক রহস্যে ঘেরা আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার সহায়তা নিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা ‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারি প্রকাশ করা ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইসিআইজে গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। আইসিআইজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ বিভিন্ন দেশে এর গোপন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে এ প্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করেছে। পানামা পেপারসের নথিতে এ বিষয়ে যেসব নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে আছে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত একসময়ের আলোচিত সৌদি অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাসোগি, প্রভাবশালী মার্কিন উড়োজাহাজ ব্যবসায়ী ফরহাদ আজিমা, সৌদি আরবের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেখ কামাল আদহামসহ অনেকেই। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রসারে কাজ করা ওয়াশিংটন–ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) গত রোববার মোসাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস করে। বিশেষ কিছু কর রেয়াত অঞ্চলের সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র, সরকারপ্রধানসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা তাদের আত্মীয়-বন্ধুদের অর্থ পাচারের প্রমাণ এসব নথিতে উঠে এসেছে। আইসিআইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের অন্যতম ফরহাদ আজিমা। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নাগরিক উড়োজাহাজ ব্যবসায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দল ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টি—উভয়কেই দেদার অর্থ দিয়েছেন এই ধনকুবের। ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ। ১৯৯৫ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১০ বার তিনি গেছেন হোয়াইট হাউসে। ১৯৮০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময় নিকারাগুয়ার মার্কিন সমর্থনপুষ্ট কন্ট্রা বিদ্রোহীদের সহায়তা দিতে ইরানের কাছে গোপনে অস্ত্র বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আইসিআইজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে তেহরানগামী একটি বোয়িং ৭০৭ বিমানে ২৩ টন সামরিক সরঞ্জাম ছিল। বিমানটি ছিল ফরহাদ আজিমার। তবে আজিমা আইসিআইজেকে বলেন, ‘ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি নিয়ে আমি কিচ্ছু জানি না। মার্কিন প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থাই এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেছে, কিন্তু আমার সংশ্লিষ্টতা পায়নি।’ পানামা পেপারসের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ওই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ২০০০ সালে মোসাক ফনসেকার সহায়তায় বিশ্বে কর রেয়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে ‘এএলজি (এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক) লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। মোসাকের এক কর্মীর লেখা নিবন্ধকে উদ্ধৃত করে আইসিআইজের প্রতিবেদনে বলা হয়, লিবিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ করেছিল সিআইএর এমন এক এজেন্টকেও সহায়তা দেন আজিমা। ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত সৌদি ধনকুবের অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাসোগিও অর্থ পাচার করেছেন বলে নথি ঘেঁটে সন্ধান পেয়েছে আইসিআইজে। ইরানে অস্ত্র বিক্রি করতে খাসোগি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার উল্লেখ আছে ১৯৯২ সালে তৈরি মার্কিন সিনেটের প্রতিবেদনেও। সে সময় সিনেটর এবং এখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ওই প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ছিলেন। মোসাক ফনসেকার নথিতে দেখা যায়, ১৯৭৮ সাল থেকে খাসোগি অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অর্থ পাচার করেছিলেন। নথি অনুযায়ী মোসাক ফনসেকার সেবা নিয়েছেন সৌদি আরবের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেখ কামাল আদহাম। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তিনি আবার ছিলেন ‘১৯৬০ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে সিআইএর প্রধান সমন্বয়কারী’। এ তালিকায় আরও আছেন কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা রিকার্ডো রুবিয়ানোগ্রুট, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের গোয়েন্দাপ্রধান ইমানুয়েল দাহিরো। এঁদের মধ্যে আদহাম মারা গেছেন। দাহিরো আইসিআইজের কাছে কথা বলতে রাজি হননি। কেবল রুবিয়ানোগ্রুট স্বীকার করেছেন, ওয়েস্ট টেক পানামা নামে একটি ছোট কোম্পানি তাঁর ছিল। সিআইএ ঘনিষ্ঠ আরেক অর্থ পাচারকারী হলেন ‘দ্য আইসল্যান্ডার’ খ্যাত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী লুফটর জোহানেসন। ৮৫ বছর বয়সী আইসল্যান্ডের এই অধিবাসীর সঙ্গে সিআইএর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন বই ও পত্রপত্রিকায় বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। বলা হয়, ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট সরকারবিরোধী মুজাহিদদের অস্ত্র সরবরাহ করতেন। সিআইয়ের অর্থে তিনি বারবাডোজে একটি বাড়ি এবং ফ্রান্সে বিশাল আঙুরের খেতের মালিক হয়েছেন। ব্রিটিশ লেখক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের লেখা জনপ্রিয় জেমস বন্ড সিরিজ এবং এর কাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়। আইসিআইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বাইরে অর্থ পাচার করতে গিয়ে মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে যেসব কোম্পানি খোলা হয়েছে, সেখানে জেমস বন্ড সিরিজের নাম বা এর নানা চরিত্রের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে গোল্ড ফিঙ্গার, স্কাইফল, গোল্ডেন আই, মুনরেকার, স্পেক্টর ইত্যাদি। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট চরিত্র জেমস বন্ড ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের কল্পিত গোয়েন্দা চরিত্র। এর সঙ্গে বাস্তবের সে অর্থে মিল নেই। আইসিআইজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দেশে গুপ্তচরবৃত্তি এবং এর জন্য অর্থ পাচারের সঙ্গে মোসাক ফনসেকার যোগাযোগের ঘটনা চরম বাস্তব, এটি মোটেও কোনো কল্পকাহিনি নয়।

মোসাক ফনসেকার বড় বাজার চীনে

পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক-তৃতীয়াংশ ব্যবসা চীন ও হংকংয়ে। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি প্রকাশ করা ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইসিআইজে বলছে, চীনের পলিট ব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির আটজন বর্তমান বা সাবেক সদস্যের স্বজনেরা ফনসেকার শেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জড়িত। ফনসেকার ২৯ শতাংশ শেল প্রতিষ্ঠান আছে হংকং ও চীনে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুই স্বজন ঝাং গাওলি ও লিই ইয়ানসান ফনসেকার শেল কোম্পানির অংশীদার। ফনসেকার এই শেল কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক লেনদেনের কাজে ব্যবহৃত হয়। মোসাক ফনসেকার ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, হংকংস চীনের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের আটটি কার্যালয় রয়েছে। আর কোনো দেশে তাঁদের এত কার্যালয় বা শাখা নেই। চীনের বাণিজ্যিক শহর সাংহাই, শেনঝেন, কিংদাও, দালিয়ান, শানদং প্রদেশের জিনান, ঝেজিয়াং প্রদেশের হ্যাংঝাউ, নিংবোতে ফনসেকার কার্যালয় রয়েছে। ফনসেকা এক বিবৃতিতে বলেন, আইন ও নিয়ম মেনেই তাঁরা চীনে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আইসিআইজে গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হয়ে কাজ করেছেন—এমন অনেকেই ফনসেকার সহায়তা নিয়েছেন। গত রোববার আইসিআইজে ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস করে। বিশেষ কিছু কর রেয়াত অঞ্চলের সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র, সরকারপ্রধানসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা তাদের আত্মীয়-বন্ধুদের অর্থ পাচারের প্রমাণ এসব নথিতে উঠে এসেছে।

এফডিসেতে প্রথম by আলম বিশ্বাস

নুসরাত ফারিয়া
ভেবে দেখুন তো, বাংলাদেশি নায়িকা, ছবি মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু তিনি এফডিসিতে শুটিং করেননি! হ্যাঁ, এমন ঘটনা আছে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার ক্ষেত্রে। তাঁর প্রথম ছবি আশিকী মুক্তি পায় ২০১৫ সালে। ফারিয়া বলেন, তাঁর দ্বিতীয় ছবি হিরো ৪২০-এর দৃশ্য ধারণের শেষ দিকে এফডিসিতে শুটিং করেন তিনি। আর তা এ বছর। ফারিয়া বললেন, ‘প্রথম যেদিন এফডিসিতে আমি শুটিং করতে যাই, তা আমার জন্য স্মরণীয় দিন। শুটিংয়ের আগের দিন কেন জানি একটু মানসিক চাপ অনুভব করেছি। তবে এফডিসিতে প্রথম দিনটি আমার বেশ ভালো কেটেছে।’

এফডিসেতে প্রথম by আলম বিশ্বাস

নুসরাত ফারিয়া
ভেবে দেখুন তো, বাংলাদেশি নায়িকা, ছবি মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু তিনি এফডিসিতে শুটিং করেননি! হ্যাঁ, এমন ঘটনা আছে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার ক্ষেত্রে। তাঁর প্রথম ছবি আশিকী মুক্তি পায় ২০১৫ সালে। ফারিয়া বলেন, তাঁর দ্বিতীয় ছবি হিরো ৪২০-এর দৃশ্য ধারণের শেষ দিকে এফডিসিতে শুটিং করেন তিনি। আর তা এ বছর। ফারিয়া বললেন, ‘প্রথম যেদিন এফডিসিতে আমি শুটিং করতে যাই, তা আমার জন্য স্মরণীয় দিন। শুটিংয়ের আগের দিন কেন জানি একটু মানসিক চাপ অনুভব করেছি। তবে এফডিসিতে প্রথম দিনটি আমার বেশ ভালো কেটেছে।’

অনেক দামে কেনা

অনেক দামে কেনা ছবিতে মাহি
ডিপজল একজন ভালো মানুষ। একাকিত্ব কাটাতে প্রতি রাতে শহরে ঘুরে বেড়ান। শহরের দুস্থ মানুষের সেবা করেন। নায়ক বাপ্পি তাঁকে শ্রদ্ধা করেন বড় ভাইয়ের মতো। বাপ্পিকে নিজের অতীতের কথা খুলে বলেন ডিপজল। তাতে বের হয়ে আসে মাহির প্রতি ডিপজলের প্রেমের গোপন কথা। ছবিতে মাহি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ফুলবিক্রেতা। এই ছবির মধ্য দিয়ে অনেক দিন পর পর্দায় ফিরছেন ডিপজল। কাল ৮ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে অনেক দামে কেনা ছবিটি। সিটি লাইটস ছবির ছায়া অবলম্বনে অনেক দামে কেনা ছবিটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির। পরিচালনা করেছেন জাকির হোসেন।

আমি কান পেতে রই by মতিন রহমান

শহীদুল ইসলাম খোকন
‘যদি ঈশ্বর আমাকে আর একটু জীবন কৃপা করেন, আমি সাধারণ পোশাক পরব, সূর্যের সম্মুখে নিজেকে মেলে ধরব আমি, আমার দেহ।’ গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস জীবনের অপরাহ্নে এমনটিই প্রার্থনা করেছিলেন। মোটর নিউরন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শহীদুল ইসলাম খোকনের আকাঙ্ক্ষায় তেমনটি ছিল। অথচ খোকনকে ৪ এপ্রিল হারিয়ে যেতে হলো। খোকন হারিয়ে যেতে চায়নি। ঘন শূন্যতার মাঝেও বাক্শূন্য খোকন পৃথিবীর শরীরের স্পর্শ পেতে চেয়েছে। জীবন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে ওর বড় কষ্ট হয়েছে। আর তাই হয়তো শেষ কটি দিনে খোকন খুবই স্মৃতি ভারাতুর ছিল। বেদনার কথা, বিচ্ছেদের কথা ডায়েরির পৃষ্ঠায় লিখে রাখত। এই নিত্যদিনের পৃথিবী থেকে তরতাজা যুবক খোকন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এটা চলচ্চিত্র জগতের কেউ চায়নি। তবুও খোকনকে অন্য পৃথিবীর দূর অঞ্চলের যাত্রী হতে হলো। খোকনের অকাল প্রস্থানে চলচ্চিত্র পরিবার দারুণ বেদনা অনুভব করেছে। পৃথিবীতে একটা নতুন ভোর দেখার জন্য যেমন সারা রাত অন্ধকারে চোখ মেলে থাকতে হয়। শহীদুল ইসলাম খোকনও সর্বদাই চলচ্চিত্রের জন্য সংরক্ষিত স্বপ্ন নিয়ে জেগে থাকত। ২০০১ সালে চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা নির্মূল আন্দোলনে বীর সাহসী খোকনের ভূমিকা তার জেগে থাকার প্রমাণ মেলে। অসুস্থ খোকনকে নিয়ে আমিই লিখেছিলাম, সবকিছু ঠিক আছে। আসলে তো সবকিছু ঠিক আছে। সুরে তাল আছে। চলচ্চিত্র দৃশ্যে ধারাবাহিকতা আছে। সৌরমণ্ডলে গতির ঐকতান আছে। এসব ঠিক থাকার পরও আমরা শহীদুল ইসলাম খোকনকে হারিয়ে ফেললাম। কখনো মৃত্যু আসে অজান্তে, বিনা নোটিশে। কোনো মৃত্যু আসে আগাম জানান দিয়ে। আগাম নোটিশ পাওয়া ছিল খোকনের মৃত্যু। তাই হয়তো আমরা সরে যেতে পারছি। পরিচালক, প্রযোজক ও নায়ক মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) খোকনকে চলচ্চিত্রে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। সেই খোকনের মুক্ত চিন্তায় কঠোর পরিশ্রমে নায়ক রুবেলের অ্যাকশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। ড্যানি সিডাক, সিরাজ পান্না অথবা ইলিয়াস কোবরা চিরদিনই খোকনকে চলচ্চিত্রের শিক্ষক হিসেবে স্মরণ রাখবে। ম্যাডাম ফুলীখ্যাত অভিনেত্রী সিমলার স্মৃতিতেও খোকন বেঁচে থাকবে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাই সমস্বরে বলবে, একমাত্র খোকনই পেরেছে হুমায়ুন ফরীদিকে চলচ্চিত্র পর্দায় ঔদ্ধত্যে চমকিত করতে। চলচ্চিত্রের প্রতি অভিমান করা সুবর্ণাকেও অপহরণ চলচ্চিত্রে পুনঃ ফ্রেমবন্দী করতে পেরেছে খোকন। খোকন সব সময় মনে করত মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। মানুষ সব পারে। খোকনের চিন্তাগুরু ছিলেন আহমদ ছফা, আরজ আলী মাতুব্বর। খোকন স্বশিক্ষায় শিক্ষিত একজন চলচ্চিত্রকার। তার ছিল বহুমাত্রিক প্রতিভা। চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনা, চিত্রনাট্য-সংলাপ রচনা করেছে। কখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নায়কের ভূমিকায় সংলাপ উচ্চারণ করেছে। তার নির্মিত দুই ডজন চলচ্চিত্রের কাহিনি বৈচিত্র্য ও বিষয়বস্তু দর্শকদের অজানা উপলব্ধির খোরাক জুগিয়েছে। খোকন জাতির পিতাকে রূপক অর্থে সেলুলয়েডে বন্দী করেছে। হত্যা, গুম হওয়ার হুমকি তোয়াক্কা না করে রাক্ষস ও ঘাতক ছবিতে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির মুখোশ উন্মোচন করেছে। এই ধরনের দৃঢ় প্রত্যয় চলচ্চিত্রকার শহীদুল ইসলাম খোকনের জন্য বাঙলা নির্ধারিত ছিল। লাল সবুজ চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফুটিয়ে তুলতে এবং মুক্তিযুদ্ধের এক সেক্টর কমান্ডারের বিপ্লবী চিন্তা রূপক অর্থে চলচ্চিত্রে ধারণ করতে অসীম সাহস দেখিয়েছেন খোকন। জীবনের মন্থর দিনগুলোতে খোকনের সঙ্গী ছিল লাল মলাটের ডায়েরি। কাঁপা হাতে অস্পষ্ট অক্ষরে খোকন সংক্ষেপে লিখে গেছে, ‘আমার এখনো অনেক কাজ বাকি। আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে চাই।’ শহীদুল ইসলাম খোকন জীবন সায়াহ্নে উপলব্ধি করেছে আয়না তার বড় শিক্ষক। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খোকন নিজেকে জানতে চেয়েছে—খোকন কে, কোথা থেকে এসেছে। খোকন গতকাল কী করেছে। খোকনের এই জীবনোপলব্ধি প্রায় সে গল্পচ্ছলে প্রকাশ করত। জীবনকে বুঝতে এই ক্ষুদ্র দর্শনই খোকনকে আমাদের থেকে আলাদা করতে পেরেছে। চলচ্চিত্র নির্মাণকালে খোকন কখনোই শিল্পীদের প্রভুত্ব স্বীকার করেনি। ‘ডিরেক্টর ইজ এ সুপারস্টার’ এই সত্য প্রতিষ্ঠা করতে খোকনই পেরেছিল পরিচালক হিসেবে সর্বাধিক সম্মানী আদায় করতে। খোকনের জীবনে কোনো বিরক্তি বিষয় ছিল না। যতক্ষণ প্রাণ ছিল, জ্ঞান ছিল ততক্ষণই খোকন প্রাণতম ছিল। দেখা হলেই দরাজ কণ্ঠে বলত ‘বড় ভাই কেমন আছেন।’ এমন মধুর সম্ভাবনা খোকনের কণ্ঠে শোভা পেত। খোকন আমাদের মাঝে নেই। আমরা আছি। ওর ঘর-সংসারে জয়, হৃদয়, শৈলী ও শীষ আছে এবং থাকবে। হয়তো আমরাও থাকব। আমাদের সবার বেঁচে থাকার প্রার্থনায় আমি কান পেতে রইলাম। যদি কখনো অদৃশ্য বাতাসে খোকনের কণ্ঠে ভেসে আসে ‘বড় ভাই, কেমন আছেন?’ তখন আমি খোকনেরই কথা ফিরিয়ে দিয়ে বলব, ‘সবকিছু ঠিক আছে।’

ভিন্ন রকম রোমিও ও জুলিয়েট by নাসির উদ্দিন ইউসুফ

রোমিও ও জুলিয়েট
রোমিও ও জুলিয়েট নাটকে মৃত্যু দৃশ্যের অর্থাৎ শেষ দৃশ্যের অভিনয় চলছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। বেদনার আবহ মঞ্চজুড়ে। দুই জুলিয়েটরূপী শ্রবণপ্রতিবন্ধী স্মৃতি, শারীরিক প্রতিবন্ধী শাকিলা, দুজন রোমিও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তাইফুর আর শারীরিক প্রতিবন্ধী রাব্বির অপূর্ব অভিনয়। পেছনে বাজছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবুদ্দিনদের বাঁশি। এক ট্র্যাজিক আবহ তৈরি করে মিলনায়তন ও মঞ্চে। দর্শক অশ্রুসজল হয়। আমার চোখও আর্দ্র হয়। মনে হয় এই প্রতিবন্ধী অথবা ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষগুলো, যারা সমাজে অচ্ছুত, তাদের নিয়ে তো একটা সফল প্রযোজনা করা গেল। স্বাভাবিক মানুষের মতো তাদের মঞ্চাভিনয় সবাইকে বিস্মিত করে দেয়। মনে পড়ে আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৩ সালে যে যাত্রা শুরু, তা নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাফল্যের একটা সোপান পার হলো। প্রতিবন্ধী বলে অবহেলিত গ্রাম ও শহরের মানুষগুলো শতভাগ আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের সঙ্গে আরাধ্য কাজটি সম্পন্ন করে। আমরা পেলাম ‘ভিন্ন রোমিও ও জুলিয়েট’। মহান নাট্যকার উইলিয়াম শেকস্পিয়ারের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৫ বছর উদ্যাপন উপলক্ষ ঢাকা থিয়েটার ও লন্ডনের প্রতিবন্ধী থিয়েটার ‘গ্রেআই’ যৌথভাবে রোমিও ও জুলিয়েট মঞ্চায়ন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ২৮ ও ২৯ মার্চ। আয়োজক ব্রিটিশ কাউন্সিল। ঘটনার শুরু ২০১২ সাল। শেক্সপিয়ারের ৪৫০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হবে সারা বিশ্বে। আয়োজক শেক্সপিয়ারের ‘গ্লোব থিয়েটার’ আমাকে এবং ঢাকা থিয়েটারকে টেম্পেস্ট করার আমন্ত্রণ জানায় গ্লোবে। মণিপুরি নটপালা ও বাঙালির পালা নাট্যের আদলে টেম্পেস্ট-এর গীতল ও ছন্দময় প্রযোজনা খোদ ইংল্যান্ডে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সময় মে ২০১২ সাল। দেশে ফিরে এলে এবার ব্রিটিশ কাউন্সিল অনুরোধ করে ‘নাট্যকারের প্রয়াণ বর্ষ পালিত হবে ১৩০টি দেশে। ২০১৬ সালে আমি যেন আরেকটি শেক্সপিয়ারের নাটক করি। আমি বললাম করব, তবে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে করব। প্রতিবন্ধী বলে যাদের আমরা উপেক্ষা করি সেই ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আমরা শেক্সপিয়ারকে জানাব শ্রদ্ধা। উদ্যাপন করব স্বাধীনতার ৪৫ বছর। আর ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখব ইতিহাসের কালো পিঠে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের রবিন ডেভিস ও ঈষিতা আজাদ খুব তৎপর হলো ভাবনাটি শুনে। চ্যালেঞ্জিং কাজটা করার সব সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। আমরা গ্রাম থিয়েটার, ব্র্যাক, সিআরপিসহ নানা প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে অভিনয়ে-ইচ্ছুক মানুষদের খুঁজতে থাকলাম। শ্রবণ, দৃষ্টি ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের খুঁজে পাওয়া গেল। তাদের আগ্রহ ব্যাপক, কিন্তু মঞ্চ শিল্প সম্পর্কে জ্ঞান নেই। তা ছাড়া বাচিকসহ আরও দুটি ভাষা জরুরিভাবে তাঁরা ব্যবহার করে। দৃষ্টি ও শ্রবণ সম্পূর্ণ আলাদা ভাষা। শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ‘ইশারা ভাষা’ আর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বাচিকের ভিন্ন বাক্যের সংযোজন। আমাদের এ ভাষা জানা নেই। আর এদের সঙ্গে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। ব্রিটিশ কাউন্সিলকে সমস্যা অবহিত করার পর তারা লন্ডনের গ্রেআই থিয়েটারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বিশ্বখ্যাত প্যারা অলিম্পিকের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর জেনি সিলি যিনি নিজেও শ্রবণ প্রতিবন্ধী, তাঁকে আমন্ত্রণ জানায়। আমি ও কন্যা এশা ইউসুফ লন্ডনে গিয়ে জেনির সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপ সারলাম। জেনি ও তাঁর ইশারা ভাষা রূপান্তরকারী আরেক জেনি আমাদের কাজের পদ্ধতি নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিলেন। ২০১৩ সালে শুরু হলো জেনির তত্ত্বাবধানে ঢাকা ও সাভারে নির্বাচিত ৪০ জনের কর্মশালা। এক দুরূহ যাত্রা, কিন্তু নতুন এক শিল্পজগতে প্রবেশ করলাম আমরা। তিন বছরে ১১টি কর্মশালা। আর প্রথম তিনটির পর শিল্পী নির্বাচন। আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিতে মন খারাপ হচ্ছিল, কিন্তু আমাদের প্রয়োজন ১৭ জন। এভাবে তিন বছরে ১৫০ দিন-রাত পার করে তবে তরি ভিড়ল ২৮ ও ২৯ মার্চ জাতীয় নাট্যশালায় সন্ধ্যা সাতটায়। এ এমন এক অভিজ্ঞতা যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না, অনুভব করা যায়। আমাদের দৃষ্টি ও মানসিকতা বদলে দিয়েছে ভিন্নভাবে সক্ষম এই ১৬ জন মানুষ। তারা প্রমাণ করল তারা স্বাভাবিক মানুষের মতো সক্ষম। শুধু প্রয়োজন সহযোগিতা। আমরা সর্বতোভাবে সাহায্যের চেষ্টা করেছি—ঢালি আল মামুন শিল্প নির্দেশক। শিমূল ইউসুফ সংগীত ও পোশাক দোলাকে সঙ্গে নিয়ে, নাসিরউল হক আলো, তুষারের ডিজিটাল অভিব্যক্তি ও শব্দ, ওয়াসিমের প্রযোজনা ব্যবস্থাপনা, এশা, দোলা ও নিশাতের সহকারী পরিচালক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম—ডিফরেন্ট রোমিও ও জুলিয়েট সফলভাবে মঞ্চায়ন সম্ভব করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আংশিক অর্থায়ন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সার্বিক আয়োজনে আমাদের স্বপ্ন প্রযোজনা সম্ভব হয়েছে।

অবসরে অসিন?

অসিন
জানুয়ারি মাসে বিয়ে করেছেন বলিউড অভিনেত্রী অসিন। বিয়ের পর আর অভিনয় নয়। শুধু সংসারেই সময় দেবেন এই তারকা। এসব কথা অসিন বিয়ের আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গণমাধ্যম অসিনকে ছাড়তে চাইছে না। তাই তো অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর এখনো প্রকাশ করছে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম। এ জন্যই সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অসিন তাঁর অবসরের ঘোষণা দিলেন ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে। সেখানে একটি পোস্টে অসিন লিখেছেন, আপাতত নতুন কোনো কাজে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না তিনি। হাতে যেসব কাজ জমে ছিল, সেসব বিয়ের আগেই শেষ করে ফেলেছেন। তবে অসিনের এই অবসর কি সাময়িক নাকি স্থায়ী, তা এই গজনি অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেননি। অসিনের স্বামী রাহুল শর্মা মুঠোফোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোম্যাক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা। বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের মাধ্যমে দুজনের পরিচয়। পরিচয় থেকে পরিণয়, এরপর বিয়ে। ২০০১ সালে মালায়ালাম ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা করেছিলেন অসিন। আমির খানের বিপরীতে গজনি ছবিটি দিয়ে ২০০৮ সালে বলিউডে অভিষেক ঘটে তাঁর।

শক্ত হও কেহলানি by রাসেল মাহমুদ

কেহলানি
মন ভাঙলে কথা ছিল। সে সব নয়, শুধু ছবি ফাঁসেই ফুঁসে উঠেছিলেন কেহলানি। অবাকই হতে হয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এমন হয়। অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁসে আত্মহত্যা! সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন কেহলানি প্যারিস। হাসপাতালের শয্যা থেকে ছবি তুলে শেয়ার করেছেন সামাজিক মিডিয়ায়। তাঁর ট্যাটু করা বাহুতে তখন জড়িয়ে আছে স্যালাইনের নল, শিরায় ফুটে আছে সুচ। এই তো কদিন আগের ঘটনা। আবেগতাড়িত আমেরিকান রিদম অ্যান্ড ব্লুজ শিল্পী কেহলানি প্যারিস আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে প্রেমের এই ডাল-ভাত বাস্তবতায় কেউ আত্মহত্যা করে? তা ছাড়া প্রেমিক কাইরি এরভিং তাঁদের অন্তরঙ্গ যে ছবিটা আপলোড করেছিলেন, সেটাও তেমন আপত্তিকর ছিল না। শুধুই দুজনের দুটো হাত। ২০১১ সালে ‘অ্যামেরিকাস গট ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতা থেকে উঠে এসেছেন কেহলানি। টিনএজারদের ব্যান্ড পপলাইফ নিয়ে প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ পর্বে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে ১৪ নম্বরে পৌঁছেই বেশ পরিচিতি পেয়ে যান। ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম মিক্সট্যাপ ‘ক্লাউড ১৯’। ওই বছরের ৫০টি সেরা অ্যালবামের তালিকায় ছিল সেটি। দ্বিতীয় মিক্সট্যাপ ‘ইউ শুড বি হিয়ার’ ২০১৫ সালের রিদম অ্যান্ড ব্লুজ ঘরানার ৫ নম্বর অ্যালবামের তালিকায় ছিল। এ বছর সেরা সমসাময়িক আরবান অ্যালবাম শাখায় গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কেহলানি। অকল্যান্ড স্কুল ফর দ্য আর্ট-এ শুরু করেছিলেন নাচের শিক্ষার্থী হিসেবে। একবার হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে নাচ ছেড়ে চলে আসতে হয় গানে। বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর মাকে বেশির ভাগ সময় কাটাতে হয় জেলে। কেহলানি বড় হয়েছেন খালার কাছে। ‘ডিড আই’ গানটির মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় বিশ্বের সংগীতপ্রিয় মানুষের নজর কাড়েন তিনি। তারপর তৃতীয় দফায় নজরে আসেন আত্মহত্যা-চেষ্টার পর। তারকা বাস্কেটবল খেলোয়াড় কাইরি আরভিংয়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছেন বেশি দিন নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে সামাজিক মিডিয়ায় বদলে যায় তাঁর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস। সেখানে দেখা যায় কাইরি আরভিংয়ের নাম। এরপর ইনস্টাগ্রাম থেকেই ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের প্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনি। সংবাদমাধ্যম আর সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় সে সব। কেহলানিকে সান্ত্বনা দিতে হ্যাশট্যাগের প্ল্যাকার্ড নিয়ে পাশে দাঁড়ান ভক্তরা। লেখেন শক্তহওকেহলানি। সৌভাগ্যবতী কেহলানির কপাল ভালো, এ জন্মে ভক্তদের ভালোবাসা দেখতে পেলেন। কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেন না তিনিও। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে তা জানিয়েছেন ভক্তদের। কেহলানির বেশ কিছু গান শোনা যাবে অনলাইনে গানের সাইটগুলোতে। তা ছাড়া সাউন্ড ক্লাউড ও তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে তাঁর প্রিয় গানগুলো। সেগুলোর মধ্যে আছে ‘ইন টু’, ‘টোর আপ’, ‘দ্য ওয়ে’, ‘জেলাস’ গানগুলো। যে শিক্ষাটা তিনি পেলেন, তাতে হয়তো প্রেম, আত্মহত্যা থেকে মন সরিয়ে এবার একটু গানে মনোযোগ দেবেন।

অতীত ভেঙে নবজীবন by আশিস আচার্য

ডেমোলিশন ছবির একটি দৃশ্য
ব্যক্তিজীবনে এক রকম আর বাইরের পৃথিবীর কাছে অন্যভাবে মানুষ নিজেকে উপস্থাপন করে—এ কথা সবার ক্ষেত্রে সত্যি কি না, নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে ব্যাপারটা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম, তাতে সন্দেহ সেই। ডেমোলিশন ছবির প্রধান চরিত্র ডেভিস মিশেলকে প্রথমটায় বোঝা কঠিন। দেখে মনে হয়, জাগতিক সুখের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপাদানই তাঁর আছে। ইনভেস্টমেন্ট-ব্যাংকার পদে মোটা বেতনের চাকরি, সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী স্ত্রী এবং একজন মানুষের যা যা দরকার, সবকিছুর অধিকারী তিনি। তবু এসব থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকেন ডেভিস। অস্তিত্বসংকটের সেই পুরোনো গল্প। তবে এই কাহিনিতে বিনোদনের বিস্তর রসদ পেয়েছেন পরিচালক জ্যঁ-মার্ক ভালে। দেখিয়েছেন বিষাদ আর আত্মোপলব্ধির সাধারণ ভাবনাকে কেন্দ্র করেও কীভাবে একটি উপভোগ্য ছবি বানানো যায়। এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু ডেভিসের বিষাদের এটাই কারণ। এতে তাঁর সেই আপাত-বিচ্ছিন্নতা আরও প্রকট হয়। প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়ে শারীরিকভাবে অটুট থাকলেও ডেভিসের মনোজগতে বড় রকমের ভাঙন শুরু হয়। নিজেকে ধ্বংস করে দেওয়ার একটা অন্তর্মুখী যাত্রার অবাধ সুযোগ মেলে তাঁর। হলিউডে এ রকম গল্প নতুন না হলেও চলচ্চিত্রে সেটার উপস্থাপনায় ভিন্নতা দেখিয়েছেন ভালে। অভিনেতা জ্যাক জিলেনহালও ডেভিস চরিত্রটির আবরণ খুলে ধীরে ধীরে মেলে ধরেছেন, বিশেষত মানুষটির সহজাত সততার ব্যাপারটিকে। ডেভিস নিজের মনের গভীরে অনেক কথার অনুরণন শুনতে পান, যেগুলো কখনোই কাউকে বলা হয়নি—অথচ জীবনের কতটা দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছেন তিনি!
ডেমোলিশন ছবিতে জ্যাক
জিলেনহাল ও নাওমি ওয়াটস
ব্যক্তিজীবনে এক রকম আর বাইরের পৃথিবীর কাছে অন্যভাবে মানুষ নিজেকে উপস্থাপন করে—এ কথা সবার ক্ষেত্রে সত্যি কি না, নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে ব্যাপারটা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম, তাতে সন্দেহ সেই। ডেমোলিশন ছবির প্রধান চরিত্র ডেভিস মিশেলকে প্রথমটায় বোঝা কঠিন। দেখে মনে হয়, জাগতিক সুখের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপাদানই তাঁর আছে। ইনভেস্টমেন্ট-ব্যাংকার পদে মোটা বেতনের চাকরি, সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী স্ত্রী এবং একজন মানুষের যা যা দরকার, সবকিছুর অধিকারী তিনি। তবু এসব থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকেন ডেভিস। অস্তিত্বসংকটের সেই পুরোনো গল্প। তবে এই কাহিনিতে বিনোদনের বিস্তর রসদ পেয়েছেন পরিচালক জ্যঁ-মার্ক ভালে। দেখিয়েছেন বিষাদ আর আত্মোপলব্ধির সাধারণ ভাবনাকে কেন্দ্র করেও কীভাবে একটি উপভোগ্য ছবি বানানো যায়। এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু ডেভিসের বিষাদের এটাই কারণ। এতে তাঁর সেই আপাত-বিচ্ছিন্নতা আরও প্রকট হয়। প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়ে শারীরিকভাবে অটুট থাকলেও ডেভিসের মনোজগতে বড় রকমের ভাঙন শুরু হয়। নিজেকে ধ্বংস করে দেওয়ার একটা অন্তর্মুখী যাত্রার অবাধ সুযোগ মেলে তাঁর। হলিউডে এ রকম গল্প নতুন না হলেও চলচ্চিত্রে সেটার উপস্থাপনায় ভিন্নতা দেখিয়েছেন ভালে। অভিনেতা জ্যাক জিলেনহালও ডেভিস চরিত্রটির আবরণ খুলে ধীরে ধীরে মেলে ধরেছেন, বিশেষত মানুষটির সহজাত সততার ব্যাপারটিকে। ডেভিস নিজের মনের গভীরে অনেক কথার অনুরণন শুনতে পান, যেগুলো কখনোই কাউকে বলা হয়নি—অথচ জীবনের কতটা দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছেন তিনি! ডেভিস মিশেল একপর্যায়ে নিজের একান্ত ভাবনাগুলো চিঠিতে লিখে জানাতে শুরু করেন একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা বিভাগের কর্মী ক্যারেনকে! আর ক্যারেনও তাৎক্ষণিক জবাব দিতে থাকেন নিয়মিত। এই পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে নিঃসঙ্গ এক জোড়া নারী-পুরুষের মধ্যে। কাহিনির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে বেশ হাস্যরসাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন ডেমোলিশন ছবির চিত্রনাট্যকার ব্রায়ান সাইপ ও পরিচালক ভালে। তবু ছবিটি তার নিজস্ব ধরন থেকে একেবারে বেরিয়ে যায়নি। ডেভিসের যাত্রাটা এমন যাতে মনে হয় কখনো কখনো নতুন করে বাঁচতে শুরু করার জন্যই সবকিছু ভেঙে ফেলতে হয়। তাতে ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি আনন্দময় জীবনের হাতছানিও থাকে। ক্যারেন ও তাঁর ছেলে ক্রিসের সহায়তায় ডেভিস নিজের অতীতকে ধ্বংস করে জীবনকে নতুন করে গড়ে নেওয়ার প্রয়াস পান। কানাডার টরোন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিমধ্যে দেখানো হয়েছে ডেমোলিশন। আর যুক্তরাষ্ট্রে কাল ৮ এপ্রিল সীমিত পরিসরে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। অভিনয় করেছেন জ্যাক জিলেনহাল, নাওমি ওয়াটস, ক্রিস কুপার্স, ওয়াস স্টিভেন্স প্রমুখ। ডেভিস মিশেল একপর্যায়ে নিজের একান্ত ভাবনাগুলো চিঠিতে লিখে জানাতে শুরু করেন একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা বিভাগের কর্মী ক্যারেনকে! আর ক্যারেনও তাৎক্ষণিক জবাব দিতে থাকেন নিয়মিত। এই পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে নিঃসঙ্গ এক জোড়া নারী-পুরুষের মধ্যে। কাহিনির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে বেশ হাস্যরসাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন ডেমোলিশন ছবির চিত্রনাট্যকার ব্রায়ান সাইপ ও পরিচালক ভালে। তবু ছবিটি তার নিজস্ব ধরন থেকে একেবারে বেরিয়ে যায়নি। ডেভিসের যাত্রাটা এমন যাতে মনে হয় কখনো কখনো নতুন করে বাঁচতে শুরু করার জন্যই সবকিছু ভেঙে ফেলতে হয়। তাতে ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি আনন্দময় জীবনের হাতছানিও থাকে। ক্যারেন ও তাঁর ছেলে ক্রিসের সহায়তায় ডেভিস নিজের অতীতকে ধ্বংস করে জীবনকে নতুন করে গড়ে নেওয়ার প্রয়াস পান। কানাডার টরোন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিমধ্যে দেখানো হয়েছে ডেমোলিশন। আর যুক্তরাষ্ট্রে কাল ৮ এপ্রিল সীমিত পরিসরে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। অভিনয় করেছেন জ্যাক জিলেনহাল, নাওমি ওয়াটস, ক্রিস কুপার্স, ওয়াস স্টিভেন্স প্রমুখ।

ছোট প্রাণ, ছোট কথা by আদর রহমান

কি অ্যান্ড কা ছবিতে কারিনা কাপুর ও অর্জুন কাপুর
পোলাও থেকে শুরু করে রুটি পর্যন্ত, আর বালকি তাঁর ছবিতে তুলে ধরেছেন সবকিছুর স্বাদ। চিনি কম ছবিতে ‘বুড়ো’ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে টাবুর প্রেমটা কিন্তু হয় জাফরানি পোলাওয়ের জের ধরে। আর তাঁর সর্বশেষ ছবি কি অ্যান্ড কা-এর গাঁথুনিটা শক্ত হয়েছে গোলগাল রুটির মধ্য দিয়ে! হ্যাঁ, পরিচালক আর বালকি বরাবরই ছোট ছোট বিষয়ের মধ্য দিয়ে বড় বার্তা পৌঁছে দেন। তাই কারিনা কাপুর খান কিংবা অর্জুন কাপুর যদি রুটি বানানো, কাপড় ধোঁয়া কিংবা ঘর মোছা নিয়ে একটু বেশি মেতে ওঠেন, তাহলে ঘাবড়ে যাবেন না। এর মধ্য দিয়ে কিন্তু ভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন তাঁরা। বিজ্ঞাপন জগতের মানুষ আর বালকি। একটা সময় বানাবেন বড় ছবি, সেই স্বপ্ন চোখে নিয়েই কয়েক সেকেন্ড ব্যাপ্তির ছোট ছোট বিজ্ঞাপনচিত্র বানানো শুরু করেন। বড় স্বপ্ন চোখে নিয়ে ছোট ছোট গল্পে প্রাণ দেওয়া যেন একটা সময় অভ্যাসে রূপ নেয়। বালকির প্রতিটি ছবিতেই সেই অভ্যাসের ছাপটা স্পষ্ট। শুরু করা যাক তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি চিনি কম দিয়ে। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এ ছবিকে ওই সময় অনেক চলচ্চিত্রবোদ্ধাই বলিউডের অন্যতম সেরা প্রেমের ছবি বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ছোট ছোট ঘটনা থেকে একটা অসম প্রেম কী করে অসাধারণ হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে সেই গল্পে সহজেই মিলিয়ে দেওয়া যায় জীবনবোধের কঠিন বক্তব্য—তা বালকি তাঁর প্রথম ছবিতেই দারুণভাবে দেখিয়েছিলেন। ছবিটি মুক্তির আগে নানাজন নানা কথা বলেছিল এ নিয়ে। কিন্তু শেষমেশ সহজ উপস্থাপনের কাছে হার মেনেছিল সমালোচকদের কঠিন সব কথা। জাফরানি পোলাওয়ের পাত থেকে শুরু হওয়া অমিতাভ ও টাবুর প্রেম ঝড় তোলে বলিউডে। এরপর ২০০৯ সালে মুক্তি পায় আর বালকির দ্বিতীয় ছবি পা। এ ছবিতে খুব সহজভাবে কিছু কঠিন বার্তা দিয়েছিলেন এই নির্মাতা। কঠিন বাস্তবতাকে কখনো খিচুড়ি, কখনো বা মিলিয়েছেন হেঁচকির সঙ্গে। তাঁর সহজবোধ্য সেই গল্পে বাবা অমিতাভ ছেলে অভিষেকের সন্তানের চরিত্রে অভিনয় করলেও তা কিন্তু কারও মাথার ওপর দিয়ে যায়নি; বরং ঠিকই হৃদয় ভেদ করে সেখানেই স্থায়ী হয়। তামিল ছবির তারকা ধানুশ ও অমিতাভ বচ্চনকে নিয়েই নিজের তৃতীয় ছবি শামিতাভ তৈরি করেন বালকি, ২০১৫ সালে। প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি ছবিটি। তবে চলচ্চিত্রবোদ্ধারা ছবির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি। তাঁরা বলেছিলেন, আবারও সহজভাবে কঠিন বিষয়কে পর্দায় তুলে ধরলেন আর বালিক। ছবিটি যাঁদের দেখা হয়নি, তাঁদের জন্য বলে রাখি শামিতাভ-এ দেখানো হয়, সিনেমার জগতে মেধাটাই মুখ্য, সৌন্দর্য কিংবা সুকণ্ঠ নয়। ছবিতে বাক প্রতিবন্ধী ধানুশ তাঁর অভিনয়ের মেধা দিয়ে হয়ে উঠেছিলেন মহাতারকা। তাঁর কণ্ঠ হিসেবে পর্দার আড়ালে থাকতেন অমিতাভ। কিন্তু ধানুশের মৃত্যুর পর সেই সুকণ্ঠও হারিয়ে যায়। এবার আসা যাক বালকির সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবি কি অ্যান্ড কা-তে। এই ছবিতেও আর বালকি নিজের সেই ‘সিগনেচার স্টাইল’ ঠিক রেখে নারী ও পুরুষের জীবনের কিছু ছকে বাঁধা বিষয়কে ভেঙে দেখাতে চেয়েছেন। কারিনা কাপুরকে সুগৃহিণী হিসেবে পর্দায় তুলে না ধরে; বরং তাঁকে দিয়েছেন সফল করপোরেট ব্যক্তিত্বের পরিচয়। অন্যদিকে সুদর্শন অর্জুন কাপুরকে পরিচালক হেঁশেলঘরে ব্যস্ত থাকতে দেখিয়েছেন। কিন্তু এঁদের মধ্যে কাউকেই কিন্তু পরিস্থিতির শিকার বলে দেখাননি বালকি। ‘কি’ (কিয়া, কারিনার চরিত্রের নাম) এবং ‘কা’ (কবির, অর্জুনের চরিত্রের নাম) দুজনই স্বাচ্ছন্দ্যে বেছে নিয়েছেন যাঁর যাঁর পছন্দের স্থানটি। রুটিরুজি জোগাড় করেছেন কারিনা, তো রুটি বানিয়েছেন অর্জুন। তবে মজার বিষয় কি জানেন? চলচ্চিত্রবোদ্ধা আর চলচ্চিত্র-বিষয়ক লেখকেরা নানাভাবে বালকির কাজ বিশ্লেষণ করলেও, খোদ এই নির্মাতা কিন্তু নিজের কাজের ব্যাখ্যা দেন অদ্ভুতভাবে। সহজ আর ছোট কথায় বালকি বলেন, ‘আমি কোনো কঠিন বার্তা দেওয়ার জন্য সিনেমা বানাই না। আমি তো ছোট ছোট গল্প বলি, গল্প দেখাই। এই গল্প থেকে কেউ যদি দারুণ কোনো বার্তা পেয়েই যান, তাহলে ধরে নেবেন এটা ছিল বোনাস!’

রাজনীতিবিদদের দেখে অভিনয় শিখি by মাহফুজ রহমান

বিপাশা হায়াত
বিপাশা হায়াত অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনয় করছেন টিভি ও চলচ্চিত্রে। নাট্যকার। চিত্রশিল্পী। তারকার টি-টোয়েন্টিতে এবারের অতিথি তিনি। স্ট্রেট বল যাঁকে অথবা যাঁদের দেখে এখনো অভিনয় শিখি... রাজনীতিবিদ।
ছোটবেলায় ‘জীবনের লক্ষ্য’ রচনায় যা লিখতে ভালো লাগত... যা হতে চেয়েছি, তার উল্টোটাই লিখতে হয়েছে। কারণ সমাজে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। এখন আমি কিন্তু তা-ই হয়েছি। অভিনেত্রী।
সবচেয়ে ভালো লাগে, যখন শুনি... মা, আই লাভ ইউ।
যে বইটি পড়ে গায়ে কাঁটা দিয়েছিল... অনেক বই। তবে ইদানীং খুশবন্ত সিংয়ের ‘দিল্লি: অ্যা নভেল’ পড়ার পর তেমনটাই হয়েছে।
গুগলি আমাদের পরিবারের তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়... আবুল হায়াত, আমার আব্বু।
নাট্যকার বিপাশা হায়াতের যে দিকটি অভিনয়শিল্পী বিপাশার সবচেয়ে ভালো লাগে... পাজল সলভ করা। নাট্যকার বিপাশা হায়াতের প্রতিটি নাটকই পাজল সলভ করার মতো।
অল্প বয়সী নায়িকার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলে যেভাবে প্রস্তুতি নেব... শুরুতেই তা ফিরিয়ে দেব। কারণ এ ধরনের চরিত্রের জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, তা আমাদের দেশে নেই।
অভিনয়শিল্পী হিসেবে তৌকীর আহমেদকে যত নম্বর দেওয়া যায়...
তা দর্শকের ওপর ছেড়ে দিলাম।
বাউন্সার
আমার বড় ভয়... নিরাপত্তাহীনতা।
জীবনের যে সময়টা ফ্রেমে বন্দী করে রাখার মতো... আমার পুরো জীবনটা। তবে কিছু কছু ভুল ছাড়া।
খুব রেগে যাই, যখন... যখন দেখি কেউ শিল্প ও শিল্পীর সঙ্গে প্রতারণা করে আর কেউ মিথ্যা কথা বলে।
অবসরে কাজ পড়ে গেলে যা করি...
আমার অবসর বলে কিছু নেই। কাজের মাঝেই আমি আনন্দ খুঁজে পাই।
ফুলটস
যোগাযোগের প্রিয় মাধ্যম...
সরাসরি যোগাযোগকে আমি বেশি গুরুত্ব দিই।
ছবি আঁকার প্রিয় মাধ্যম...
অ্যাক্রিলিক অন ক্যানভাস আর ইংক অন পেপার।
সন্তানদের যে কথাটি বারবার বলি...
মানুষের জন্য কাজ করো।
এখনো যাঁর প্রেমে মশগুল...
তৌকীর আহমেদ এবং তৌকীর আহমেদ।
পাওয়ার প্লে
এই মুহূর্তে যে গানটি শুনতে ইচ্ছা করছে...
রবীন্দ্রসংগীত ‘তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে, যত দূর আমি ধাই’। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটি খুব ভালো লাগে।
যে জায়গাটি এখনো দেখা হয়নি, কিন্তু ঘুরে আসার ইচ্ছা আছে...
কিছুই তো দেখা হয়নি। সবই বাকি রয়ে গেছে।
দেশ নিয়ে আশাবাদের বড় জায়গা... নতুন প্রজন্ম।
সিনেমার প্রিয় সংলাপ... ফেদেরিকো ফেলেনির লা স্ত্রাদা ছবির একটি সংলাপ ‘এই পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তুরই প্রয়োজন আছে। এমনকি পথের ধুলায় পড়ে থাকা নুড়ি পাথরটিরও।’

বাংলাদেশের হাসির মায়ায় ফারহান by আদর রহমান

ফারহান আখতার
কেউ ফারহান আখতারের গানের ভক্ত, কেউ অভিনয়ের, কেউ আবার নির্মাতা ফারহানকে বেশি ভালোবাসেন। কিন্তু তরুণীদের মধ্যে ফারহানের কদরের আরেকটি বড় কারণ তাঁর হাসি। গালে অত বড় টোল পড়ে না তাঁর, কিন্তু হাসলে দুই চোখের দুপাশে কেমন যেন ভাঁজ পড়ে। প্রথম সাক্ষাতেই ফারহানের সেই হাসি। সে হাসিতে কোনো প্রভাবই ফেলেনি আগের রাতের কনসার্টের ক্লান্তি কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হার। ফারহানকে মনে হলো পর্দার মতোই উচ্ছল আর প্রাণবন্ত। ১ এপ্রিল সকালে বলিউড তারকা ফারহান আখতারের সঙ্গে দেখা হলো ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলের বিলাসবহুল কক্ষে। সেখানে বসে টিভিতে তিনি দেখছিলেন আগের রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ভারতের হেরে যাওয়া ম্যাচের অংশবিশেষ। কারণ, আগের রাতে গান গেয়ে ঢাকার ভক্তদের মুগ্ধ করতে গিয়ে খেলাটা দেখা হয়নি তাঁর। শুরুতেই ঢাকার ভক্তদের নিয়ে প্রশ্ন। কেমন ছিল ঢাকার শ্রোতা? এককথায় জবাব দিলেন ফারহান, ‘অসাধারণ।’ এরপর ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, ‘তাঁদের চিৎকার, আমার সঙ্গে গানে কণ্ঠ মেলানো, তাঁদের কথাগুলো—মনে হচ্ছে এখনো আমি শুনতে পাচ্ছি। সবাই গানের সঙ্গে, আমার সঙ্গে এতটা মিলে যাবে ভাবিনি।’ ফারহান আখতার বললেন গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘ফারহান লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্টের কথা। ব্লুজ কমিউনিকেশনসের আয়োজনে এই কনসার্টে অংশ নিতে ভারত থেকে তিনি এ দেশে ছুটে আসেন। এ কনসার্টের শিল্পী ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অনসূয়া ঘোষ। শুরুতেই দিলেন কিছু চমকপ্রদ তথ্য। ডন থ্রি নিয়ে যে খবর ছড়িয়েছে মিডিয়ায়, তা নিয়ে নির্মাতা ফারহান বললেন, ‘এসব খবরের কোনো ভিত্তি নেই। এখন আমার হাতে অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট জমে আছে। এগুলোই পড়ছি। ডন থ্রি আদৌ হবে কি না, জানি না। যদি অন্য কোনো ছবির গল্প পছন্দ হয়ে যায়, তাহলে ডন থ্রির আগে সে ছবিটাই তৈরি করব।’ আবার চোখের কোণে ভাঁজ পড়া সেই হাসি দিয়ে ফারহান বললেন, ‘মজার বিষয় কি জানেন? ডন থ্রি ছবির খবর আমার পেছনে এমন ভাবে ছুটছে, যেমন করে ডনের পেছনে ছোটে ১১টি দেশের পুলিশ!’ ভারতের প্রখ্যাত গীতিকার ও কবি জাভেদ আখতারের ছেলে ফারহান বলিউডের এ সময়ের মেধাবী ও জনপ্রিয় তারকাদের একজন। পরিচালক, নায়ক, গায়ক ও লেখক ফারহানকে কোনো একটি পরিচয়ে বাঁধা বেশ কঠিন। তাই বলিউডে ৪২ বছর বয়সী ফারহানকে অনেকে ‘সর্বগুণসম্পন্ন’ বা ‘অলরাউন্ডার’ বলে সম্বোধন করতে দ্বিধা করেন না। এই ভাগ মিলখা ভাগ অভিনেতার কাছে তাই জানতে চাওয়া, ‘এত কিছুর ভিড়ে কখনো খেই হারিয়ে ফেলেননি?’ ফারহান বললেন, ‘বিষয়গুলো আসলে ভালো লাগা থেকে এসেছে। যা-ই করেছি, ভালো লেগেছে বলেই করেছি। কাছের মানুষদের অনুপ্রেরণা পেয়েছি বলে করেছি।’ কাছের মানুষের কথা বলতেই ফারহান তাঁর বাঙালি স্ত্রী ভারতের নামী হেয়ারস্টাইলিস্ট অধুনা ভবানির প্রসঙ্গ আনলেন। তাঁদের সম্পর্কে বিচ্ছেদের সিলমোহর পড়ে গেছে, কিন্তু ১৬ বছরের সংসারজীবনে অধুনার যে প্রভাব, তা অস্বীকার করলেন না ফারহান। বললেন, ‘বাঙালি মেয়েটি (অধুনা) আমার জীবনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। এমনকি এখনো যেকোনো পরামর্শ, আলোচনা, উপদেশ—আমি অধুনার কাছ থেকে নিই। সে আমার ভালো বন্ধু। তা ছাড়া আমার সন্তানদের মাধ্যমে অধুনা তো সারা জীবনই আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। তাই বলা যায়, অধুনা নামের এই বাঙালি নারী সারা জীবন আমাকে প্রভাবিত করে যাবে।’ আর বাঙালি ভক্তদের প্রভাব? তা বলতে গিয়ে ফারহান মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন। বললেন, ‘এ নিয়ে তিনবার এলাম বাংলাদেশে। আট বছর আগে একটা ছবির কাজে এসেছিলাম। এরপর গত এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সময়। আর এবার এসেছি গান গাইতে। প্রতিবারই অল্প সময়ের জন্য এসেছি। তাই এই দেশটাকে ভালো করে দেখার সুযোগ হয়নি। তবে একটা বিষয় লক্ষ করেছি প্রতিবার। তা হলো, এ দেশের মানুষের হাসিতে অদ্ভুত মায়া আছে। যখনই এসেছি তাদের হাসি আমাকে মুগ্ধ করেছে। সুযোগ হলে এ হাসি দেখতে বারবার এখানে আসতে চাই। ভাষার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে বাংলাদেশে কাজও করা হতে পারে।’

নাটকে সাবার বিয়ে!

সোহানা সাবা
দীপ্ত টিভির শুটিং সেটে ঢুঁ মারতেই শোনা গেল অভিনেত্রী সোহানা সাবার বিয়ের খবর। শুনে তো রীতিমতো হতবাক! তাহলে কি কাউকে না জানিয়ে চুপি চুপি আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন সাবা। কিছুদিন আগেই তো সাবা ও মুরাদ পারভেজের বিচ্ছেদ ঘটেছে। সাবা বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন ঠিক, তবে এটা একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ের প্রয়োজনে। নাটকটির নাম খেলাঘর। পর্দায় তাঁর স্বামী চরিত্রে অভিনয় করছেন নিলয় আলমগীর। নাটকটি রচনা করেছে দীপ্ত টিভি ক্রিয়েটিভ টিম। ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন হাবিব মাসুদ। নাটকের এই বিয়ে নিয়ে সোহানা সাবা বলেন, ‘এক সাধারণ পরিবারের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছি আমি; ঢাকায় আসার পর হঠাৎ করেই ধনী এক ছেলের সঙ্গে যার বিয়ে হয়ে যায়। সেই মেয়েটির জীবনের নানা ধরনের সংগ্রামই এই নাটকটিতে দেখানো হয়েছে।’ কথা হলো নিলয়ের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর চরিত্রটির নাম ফারহান, যে বিয়ে নিয়ে মনোদ্বন্দ্বে ভোগে। পরিচালক জানালেন, ‘এটা একদমই আমাদের চারপাশের গল্প। একটি পরিবারের প্রত্যাশা ও ত্যাগের বিষয়গুলো দেখানো হয়েছে।’ ২৫ পর্বের এই নাটকটি রোজার ঈদ থেকে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন নাটকটির নির্বাহী প্রযোজক মোস্তফা মনন। দীপ্ত টিভির নিজস্ব সেটে নাটকটির দৃশ্য ধারণ চলছে। নাটকটিতে আরও অভিনয় করছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, সাবেরি আলম, ঈশানা, নরেশ ভুইঞা প্রমুখ।

দুই ক্রিকেটার ও এক মডেলের প্রেমকাহিনি by মনজুর কাদের

পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২ ছবিতে জয়া ও শাকিব খান
সোমবার সন্ধ্যা। স্থান এফডিসির ৮ নম্বর ফ্লোর। অতিথিরা হাজির, অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও কজনের জন্য। তাঁরা এলেই খোলা হবে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২ ছবির গানের অ্যালবামের মোড়ক। মিলনায়তনের উৎসুক চোখগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছে ছবির নায়িকা জয়া আহসানকে। উপস্থিত সবার মাঝে কানাকানি, জয়া আসবেন তো? ততক্ষণে সবাই জেনে গেছেন, ছবির নায়ক শাকিব খান আসতে পারছেন না। অন্য এক ছবির শুটিংয়ে কলকাতায় আটকে গেছেন তিনি। জয়া এলেন। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার ফ্ল্যাশগুলো জ্বলে উঠল। ঘুরে গেল টিভি ক্যামেরার মুখগুলো। জয়ার চারপাশে শুধু আলোর ঝলকালি। শুরু হয় ছবি নিয়ে কথা। এরপর কথা হলো জয়ার সঙ্গে। সোমবার ভোরের বিমানে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেছেন তিনি। কথা ছিল ৫ এপ্রিল ঢাকায় আসবেন। কিন্তু পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২ ছবির গান অবমুক্তিতে অনুপস্থিত থাকতে চাননি বলেই এক দিন আগে চলে আসা। কলকাতায় কী করছেন? জয়া বললেন অরিন্দম শীলের ঈগলের চোখ আর ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরীর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজের কথা। কাল শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২ ছবিটি। ফ্রেন্ডস মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল প্রযোজিত এই ছবির পরিচালক সাফিউদ্দিন সাফি। রুম্মান রশীদ খানের কাহিনি ও সংলাপে এই ছবির গল্প ক্রিকেট নিয়ে।
জয়া আহসান
ক্রিকেটারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও ইমন। আর জনপ্রিয় এক মডেলের চরিত্রে দেখা যাবে জয়াকে। ছবি নিয়ে জয়ার মন্তব্য, ‘এটা পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ছবির সিক্যুয়েল। প্রথম ছবিটি ব্যবসাসফল হয়েছে। মনে হয় এটাও হবে। কারণ গল্পটা মৌলিক। আমাদের ছবিগুলোতে কিন্তু মৌলিক গল্পের অভাব।’ জয়া বললেন, ‘শুধু ভালো ছবি বানালে হবে না, দর্শকদেরও হলমুখী হতে হবে। ছবি মুক্তির পর অনেকেই বলেন, ডিভিডি বের হবে কবে? কোনো শিল্পীর এটা শুনতে ভালো লাগে? ছবি তো বড় পর্দার উপযোগী করে তৈরি করা। তাই দর্শকেরও দায় আছে ছবিটি হলে গিয়ে দেখার।’ ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয় পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২ ছবির শুটিং। শুটিং হয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ আর ভারতের হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে। শুটিং হয়েছে ৪০ দিন। জয়া বললেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে সব জায়গায় দেখতে চাই। বাণিজ্যিক ছবিতেও নিজেকে যাচাই করতে চেয়েছি। তাই এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়া।’ এ প্রসঙ্গে শাবানা আজমিকে উদ্ধৃতি করে জয়া বলেন, ‘তিনি বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করতে গিয়ে বলেছিলেন, তোমাকে একটা জায়গায় বেঁধে রাখা হয়েছে আর তোমার পায়ের নিচে কিছু কুমির ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে সেটা কুমির না, তোমাকে ওই অভিনয়টা করতে হবে।’ বাংলাদেশের পাশাপাশি জয়া কলকাতায়ও কাজ করছেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি। বললেন, ‘কলকাতায় আমাকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে সম্মান দেয়, মূল্যায়ন করে, আমিও কাজ করে তৃপ্তি পাই। অন্যদিকে আমাদের এখানে পরিচালকের দায়টা বেশি মনে হয়। এখানে পেশাদারত্ব সত্যিকার অর্থে গড়ে ওঠেনি। জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত সব কাজ পরিচালককে করতে হয়। আমাদের সবার যার যার জায়গা থেকে সততা নিয়ে কাজটা করলে কিন্তু হয়।’ পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২ ছবিতে জয়ার সহশিল্পী শাকিব খান। জুটি হয়ে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ছবি। জয়া বললেন, ‘শাকিব ভালো শিল্পী।
পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২
 একজন মানুষ যখন একটা অবস্থানে পৌঁছান, নিশ্চয় তাঁর যোগ্যতা আছে। আমি ইমনের কথা বলতে চাই। সেও খুব ভালো অভিনয় করেছেন। মৌসুমী হামিদও।’ পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২ ছবিতে কাজ করার সময় অনেক মজার ঘটনা ঘটেছে। জয়া বললেন, ‘আমি ইমন ও সাচ্চু ভাই (শহীদুল আলম সাচ্চু) একসঙ্গে হয়াদরাবাদে গিয়েছিলাম। বিমানে আমাদের একটা কুপন দেওয়া হয়। ওই কুপনে আমরা ল্যাপটপ, টেলিভিশন আর ফ্রিজ পেয়েছি। ইমন খুব বিশ্বাস করছিল। সে যত্ন করে তা রেখে দেয়। বিমান থেকে নামার পর কাউন্টার খুঁজে না পেয়ে এ নিয়ে অনেক হাসাহাসি হয়েছে।’ আড্ডার ইতি টানতে হবে। জয়া জানালেন, তিনি এখন বাংলাদেশে কয়েকটি ছবির কাজ করছেন। এর মধ্যে শেষ করেছেন পুত্র, খাঁচার কিছু কাজ বকি আছে। শিগগিরই শুরু করবেন লাল মোরগের ঝুঁটি ছবির কাজ।