Saturday, July 9, 2011

বাংলাদেশের আপত্তিতে নাকচ হয়ে গেল ভারতীয় প্রস্তাব

দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের (সাফটা) আওতায় সদস্য দেশগুলোর জন্য দুটি স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা প্রস্তাব বাংলাদেশের আপত্তিতে নাকচ হয়ে গেছে।
অনেকটা হঠাৎ করেই গত মাসে সাফটা-বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশের জন্য দুটি স্পর্শকাতর তালিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত। পরে তা নাকচ হয়ে যায় মূলত বাংলাদেশের জোর বিরোধিতায়। পরে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও (সাফটা মিনিস্ট্রিয়াল কাউন্সিল) বিষয়টি অনুমোদন করা হয়।
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রুহুল আমিন সরকার।
হঠাৎ প্রস্তাব: জানা গেছে, গত ১১-১২ জুন মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সাফটা-বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১১ জুন বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকের শুরুতেই হঠাৎ করেই ভারতীয় প্রতিনিধিরা সাফটাভুক্ত প্রতিটি সদস্য দেশের দুটি স্পর্শকাতর বা নেতিবাচক পণ্য তালিকা রাখার প্রস্তাব করেন। আর ভারতীয় প্রস্তাবকে সমর্থন করে পাকিস্তান।
ভারতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি দেশের উচ্চ ও নিম্ন—এ রকম দুটি স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা থাকবে। তবে বর্তমান স্পর্শকাতর পণ্য তালিকার কত শতাংশ প্রস্তাবিত উচ্চ স্পর্শকাতর, আর কতটা নিম্ন স্পর্শকাতর পণ্য তালিকায় থাকবে এবং এগুলোর শুল্কহার কত হবে, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
বৈঠকের আলোচনায় অবশ্য উঠে আসে যে উচ্চ স্পর্শকাতর পণ্য তালিকার কোনো পণ্য সংশ্লিষ্ট দেশে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। আর নিম্ন স্পর্শকাতর তালিকার কোনো পণ্যের বিপরীতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে।
কিন্তু বৈঠকের প্রথম দিনেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বাংলাদেশ। তবে তখন অন্য কোনো সদস্য দেশের সমর্থন পাওয়া যায়নি।
তবে দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শুরুর আগে নেপাল ও ভুটানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘সাইডলাইন’ বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা নেপাল ও ভুটানের প্রতিনিধিদের বোঝাতে সক্ষম হন যে এভাবে দুটো তালিকা করা হলে ভারত ও পাকিস্তান লাভবান হবে। তবে স্বল্পোন্নত দেশগুলো কোনোভাবেই লাভবান হবে না।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ভারতের যে স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা রয়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছু পণ্যে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা আছে। তবে বেশির ভাগ পণ্যেই ১০ থেকে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে। ফলে দুটি স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকার বিধান অনুমোদন দেওয়া হলে ভারতকে খুব বেশি শুল্ক রক্ষণশীলতা দেখাতে হবে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশকে তার সংবেদনশীল পণ্যের তালিকার সিংহভাগ পণ্যের শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০-১২ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করতে হবে। এতে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে বেশি। নেপাল ও ভুটানেরও একই পরিস্থিতি হবে। ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশ তুলনামূলকভাবে সুবিধা বেশি পাবে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে আবার একই প্রস্তাবের অনুকূলে আলোচনা ওঠায় ভারত। এ সময় কার্যবিবরণীতে ‘৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সুবিধাভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে দুটি স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকার প্রস্তাবের ওপর মতামত দেবে’ বলে সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্তির জন্য বলা হয়।
এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সার্ক সচিবালয়কে না জানালে দুটি স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা প্রণয়নের প্রস্তাবই গৃহীত হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছিল।
কিন্তু এই পর্যায়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ান নেপাল ও ভুটানের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জানান, দুটি স্পর্শকাতর পণ্যতালিকা প্রণয়নের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে না থাকায় তাঁদের চূড়ান্ত মতামত (ম্যান্ডেট) দেওয়ার সুযোগ নেই।
এভাবে বাংলাদেশের আপত্তিতে দ্বৈত তালিকার প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। নিয়মানুযায়ী, সাফটার যেকোনো বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গৃহীত হতে হয়।
উল্লেখ্য, স্পর্শকাতর পণ্য বলতে সেসব পণ্য বোঝায়, যেসব পণ্যে কোনো দেশ অন্য দেশকে নিজেদের বাজারে শুল্কমুক্ত বা শুল্কছাড় সুবিধা দিতে রাজি নয়।
অন্যান্য: তবে বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে বাণিজ্য উদারীকরণ কর্মসূচির (টিএলপি) আওতায় ২০১৬ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলো তাদের স্ব-স্ব ট্যারিফ লাইনের (আমদানিযোগ্য পণ্যের তালিকা) ৩০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্কহার শূন্য করবে। অবশ্য বাংলাদেশে প্রায় ৩৮ শতাংশ পণ্যে ইতিমধ্যে শুল্ক শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া সাফটায় আফগানিস্তানের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও প্রটোকল অব এক্সেসেশনের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী ৭ আগস্ট থেকে এই প্রটোকল কার্যকর হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকায় স্বল্পোন্নত দেশের জন্য এক হাজার ২৩৩টি ও স্বল্পোন্নত নয় এমন দেশের জন্য এক হাজার ২৪১টি পণ্য রয়েছে। সাফটাভুক্ত দেশগুলোয় পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠীর বসবাস। অথচ সাফটাভুক্ত দেশগুলো বাণিজ্য করে তাদের মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ।

হরতালের দ্বিতীয় দিনেও পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী

বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও দেশের পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ভাব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেন দুই-ই বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল লেনদেন শুরুর আগেই ২১৭টি ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে ২১৬টি হাউস লগইন করায় নির্ধারিত ১১টায় লেনদেন শুরু হয়।
ডিএসইতে গতকাল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। এদিন ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৩১১ দশমিক ৮০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এদিন হাতবদল হওয়া ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৯২টির, কমেছে ৬০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। গতকাল এক হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১৯০ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে এদিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, বেক্সটেক্স, ইউসিবিএল, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ার, গ্রামীণফোন ও আফতাব অটো।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৫৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৭২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫৪টির, কমেছে ৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে এদিন ১৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩০ কোটি টাকা বেশি।

পুলিশি তাণ্ডবের সুষ্ঠু তদন্ত হোক-অনাকাঙ্ক্ষিত, নিন্দনীয়

বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী আহূত ৪৮ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন সংসদ ভবন এলাকায় পুলিশ যেভাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর আক্রোশ ও উন্মত্ততা দেখিয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জনপ্রতিনিধিদের ওপর এভাবে চড়াও হলে সাধারণ মানুষের ওপর তাদের আচরণ যে কতটা নির্মম ও নৃশংস হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। তাদের আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি নারী সাংসদেরাও। একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে যে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে, তার দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য হলেও তারা একজন সাংসদকে এভাবে লাঠিপেটা করতে পারে না।
এই বর্বরোচিত ঘটনায় মাননীয় স্পিকার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে তিনি চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন। জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে সাংসদদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা তাঁর দায়িত্বও বটে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীও। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অন্যায় কাজের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থনও রয়েছে, যা সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়, বিএনপির আমলে এই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাই রাজপথে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কীভাবে লাঞ্ছিত ও লাঠিপেটা করেছিলেন। জনগণের নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার নামে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বেচ্ছাচারী আচরণ করতে পারে না।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ডিএমপির সদস্যরাই যেখানে ঘটনার জন্য দায়ী, সেখানে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তার পরও আমরা আশা করব, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। দোষী ব্যক্তিরা শাস্তি না পেলে এ ধরনের তদন্ত কমিটি করে কী লাভ? বুধবারের ঘটনা দেশবাসী টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করেছে, পত্রিকায়ও এর খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বিরুদ্ধে মামলা করলেও তারা তাঁর পক্ষে দায়ের করা মামলা গ্রহণ করেনি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন সবার জন্যই সমান হতে হবে। মানুষ যেমন হরতাল-অবরোধ চায় না, তেমনি হরতাল প্রতিরোধের নামে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তাণ্ডবও পছন্দ করে না।
বিরোধী দলের হরতালে জনসমর্থন নেই দাবি করে ক্ষমতাসীনেরা আত্মতৃপ্তি লাভ করতে পারেন, কিন্তু তাতে দেশের ক্ষতি এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। অন্যদিকে বিরোধী দলকেও বুঝতে হবে, হরতাল করে সরকারকে ফেলে দেওয়া যাবে না। বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগ পারেনি, আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপিও পারবে কি না, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সংশয় আছে। সে ক্ষেত্রে তাদের বিকল্প উপায়ই খুঁজে বের করতে হবে। আলোচনায় বসতে হবে। সংসদে গিয়ে কথা বলতে হবে। সরকারের এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।

মানবসম্পদ উন্নয়নে ইমামদের ভূমিকা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধারণার ব্যাখ্যা করে, যেখানে নৈতিকতা ও আর্থসামাজিক অগ্রগতির ওপর বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়। ইসলামে মানবশক্তির আধ্যাত্মিক উন্নয়নের সঙ্গে পূত-পবিত্রতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এটা মানবচরিত্রকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অর্জন করে মানুষকে সামগ্রিক পরিপূর্ণতা দান করে। ফলে একজন নীতিমান মানুষ সামাজিক কল্যাণ ও মানবিক উন্নয়নে সমর্থ হয় এবং ইহকাল ও পরকালে সাফল্য লাভ করে।
সর্বপ্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রত্যেক নবী-রাসুল স্ব স্ব জাতিকে মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞান দান করো, কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য সৃষ্ট।’ (মুসলিম)
মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর একটি ধর্মপ্রাণ জাতি তথা দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। মানবজাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে শিশুরা। তাদের যদি পরিকল্পিত পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন ও আদর্শ শিক্ষায় গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে সুন্দর। তাদের ভালোভাবে প্রতিপালিত করা পিতামাতা ও অভিভাবকদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের মাধ্যমেই মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হয়। তাই মানবসন্তানের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য প্রতিটি শিশুর শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য তাদের পর্যাপ্ত মানসম্মত জীবনযাপনের অধিকার সংরক্ষণ করা উচিত। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সন্তানদের (শিশুদের) স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (তিরমিজি)
মানবজাতি এমন এক বিরাট সম্পদ, যা সঠিকভাবে কার্যকর করা হলে প্রতিষ্ঠান তথা দেশে ও জাতির প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। আর মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা না হলে অন্য সব উপাদান কার্যকর থাকলেও উন্নয়ন-প্রক্রিয়া দারুণভাবে ব্যাহত হয়। সুতরাং মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশের পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ, আলেম সমাজ, ধর্মীয় নেতা বা মসজিদের ইমামদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। অবক্ষয়মুক্ত সমাজ, ধর্মীয় অনুশাসন ও মানুষকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সমাজে ইমামদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মানুষের নৈতিক চরিত্রের উন্নয়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে একটি উন্নত নৈতিকতাপূর্ণ আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো ইমামদের দৈনন্দিন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। মানুষ চেষ্টার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটায় এবং আল্লাহ তাআলা তার জীবনের সফলতার পথ সুগম করে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে।’ (সূরা: আর-রাদ, আয়াত-১১)
ইমাম-খতিবেরা জনগণকে এ শিক্ষা দেবেন যে চেষ্টা ও সাধনা মানবজাতির উন্নতির চাবিকাঠি। পৃথিবীর বহু জাতি-গোষ্ঠী জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে, এর মূলে রয়েছে চেষ্টা ও পরিশ্রম। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর এই যে, মানুষ তা-ই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সূরা আন-নাজ্ম, আয়াত-৩৯)
সমাজের ধর্মীয় নেতারা জনগণকে ঐক্য, সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, স্বদেশপ্রেম, মানবপ্রেম, সমাজকল্যাণ সর্বোপরি মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা দেবেন এবং নিজেদের মেধা, শ্রম ও মসজিদের অবকাঠামোগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে সহজেই জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে সমাজ থেকে বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাবলম্বন তথা ধর্মপ্রাণ মানুষকে কর্মপ্রেমিক করে তুলতে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান হবেন। ইমামদের সম্পৃক্ত করে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পশুপালন এবং মৎস্য চাষসহ জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উত্তরণ ঘটানো যেতে পারে। দেশের আড়াই লক্ষাধিক মসজিদের পাঁচ লাখের বেশি ইমাম-মোয়াজ্জিন যদি পরিকল্পিত পন্থায় অগ্রসর হন, তাহলে তাঁরা মসজিদের আওতাধীন ধর্মপ্রাণ মানুষকে অনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে সজাগ-সচেতন থাকার ব্যাপারে অবহিত করে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ইসলাম মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে, অথচ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। সমকালীন প্রেক্ষাপটে জাতীয় উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক হচ্ছে মানবসম্পদের উন্নয়ন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বায়নের যুগে সততা ও মেধাই হচ্ছে যোগ্যতার অন্যতম মাপকাঠি। তাই বর্তমান তথ্য ও প্রযুক্তির জগতে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা, লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় মানবজাতিকে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক মুসলিম সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষিত মানবসম্পদের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত চিন্তা, কর্মসাধনা, মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে তারাই দেশকে উন্নতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন।’ (সূরা আল-মুজাদালা, আয়াত-১১)
মসজিদের ইমামদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করে তাঁদের সমাজের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় নেতৃত্বের বিকাশ সাধন করা যেতে পারে। মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক নেতৃবৃন্দ ও সৎ মানুষগুলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্তকরণ ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে যদি এলাকার অগ্রগতির কাজে লাগানো যায়, তাহলে সমাজের চেহারা আমূল পরিবর্তন হতে পারে এবং পারিবারিক কল্যাণ তথা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যায়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dৎ.munimkhan@yahoo.com

শেষ হচ্ছে নাসার আটলান্টিসের অভিযান

মহাকাশযান ‘আটলান্টিস’ মহাশূন্যে পাঠানোর মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ৩০ বছরের মহাকাশযান অভিযান কর্মসূচি।
আজ স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে মহাশূন্যে শেষবারের মতো যাত্রা করবে আটলান্টিস। তার পরই আপাতত ইতি ঘটবে মহাশূন্যে নাসার নভোযান অভিযানের। তবে আবহাওয়াবিদেরা ওই দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শঙ্কিত।
ফ্লোরিডার কেন্দ্রস্থলে আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে ঠিক নভোযান উৎক্ষেপণের সময়টিতে ঝড় হয়ে এর যাত্রা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর প্রায় নয় বছর পর মহাকাশে নভোযান পাঠায় নাসা।
কলাম্বিয়া, চ্যালেঞ্জার, এন্ডেভার, ডিসকভারি ও আটলান্টিস নামের পাঁচটি নভোযান ৩০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে নভোচারী ও সাজসরঞ্জাম আনা-নেওয়া করছে। আজকের পর আপাতত নাসার আর কোনো নভোযান মহাকাশে যাবে না।

ইরাকে গণকবর আবিষ্কার

ইরাকের দিওয়ানিয়াহ শহরে গত বুধবার একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের আমলে গণহত্যার শিকার কুর্দিদের এখানে কবর দেওয়া হয়েছে।
দিওয়ানিয়াহ শহরের ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে শানাফিয়া অঞ্চলে এ গণকবরের খোঁজ মেলে। এখানে নয় শর মতো লাশ কবর দেওয়া হয়। ইরাকের বিচার ও জবাবদিহিমূলক কমিশনের প্রাদেশিক প্রধান দাখিল সাইহুদ এ কথা জানান। কমিশন-প্রধান জানান, আশির দশকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে মৃতদেহগুলো কুর্দিদের বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত হতে লাশগুলো নাজাফ শহরের গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত এপ্রিলে পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরাকের আনবার প্রদেশে আরেকটি গণকবর আবিষ্কারের কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এখানে নারী ও শিশুসহ আট শতাধিক মৃতদেহ পাওয়া যায়। সে সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সাদ্দামের শাসনামলে তাঁদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।
১৯৮০-৮৮ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় সুন্নি বংশোদ্ভূত সাদ্দাম হোসেন শিয়াদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালান। তাঁর ধারণা ছিল, শিয়া-অধ্যুষিত ইরানের প্রতি এসব ইরাকি শিয়ারা সহানুভূতিশীল। তাছাড়া সাদ্দামের বিরোধী হওয়ায় কুর্দিদের ওপরও ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়।

নিহত ব্রিটিশ সেনাদের স্বজনদের ফোনেও আড়ি পাতা হয়

টেলিফোনে আড়ি পাতার অভিযোগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আগামী রোববার এর সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হবে। পত্রিকাটির মালিক প্রতিষ্ঠান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জেমস মারডক গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডকের পত্রিকা। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত এই ‘রবিবাসরীয়’ সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা রাজনীতিক ও তারকা থেকে শুরু করে ইরাক ও আফগানিস্তানে নিহত ব্রিটিশ সেনাপরিবারের সদস্যদের ফোনেও সম্ভবত আড়ি পেতেছিল।
বিবিসি বলেছে, অভিযোগ ওঠার পর পত্রিকাটি সীমাহীন চাপের মুখে পড়ে। একের পর এক বিজ্ঞাপনদাতা পত্রিকাটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পত্রিকাটি ইরাক ও আফগানিস্তানে নিহত ব্রিটিশ সেনাপরিবারের সদস্যদের ফোনেও আড়ি পেতেছিল। ব্রিটেনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, ফোনে আড়ি পাতার ওই অপকর্মের মূলে ছিলেন বেসরকারি গোয়েন্দা গ্লেন মুলকেরি। আফগানিস্তান ও ইরাকে নিহত সেনাদের পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য তাঁর কাছে ছিল।
রুপার্ট মারডকের প্রতিষ্ঠান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে তা হবে ‘ভয়ানক মর্মাহত’ হওয়ার মতো বিষয়। নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড নিউজ ইন্টারন্যাশনালেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে গত বুধবার প্রথম মুখ খুলেছেন রুপার্ট মারডক। তিনি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় তিনি খুবই মর্মাহত হয়েছেন।
২০০৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত-আহত ব্যক্তিদের পরিবারের লোকজনের ফোনে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড আড়ি পেতেছিল বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্যে তোলপাড় শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গত বুধবার পার্লামেন্টে বলেছেন, এ অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে বামফ্রন্টের সমর্থন

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে রাজ্যের সাবেক শাসকজোট বামফ্রন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বামফ্র্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
বিমান বসু বলেছেন, রাজ্যের নাম পরিবর্তনে তাঁদের সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এ কথাও বলেছেন, বামফ্রন্ট এর আগে এ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল। এ প্রস্তাব নিয়ে বিধানসভায় আলোচনাও হয়। সেই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভার বৈঠকে মমতার ইচ্ছায় পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ওঠে। বৈঠকে সব সদস্যই একবাক্যে নাম পরিবর্তনের পক্ষে সায় দেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, ইংরেজিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল লিখতে গেলে একেবারে শেষে চলে আসে পশ্চিমবঙ্গের নাম। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা একেবারে শেষে ঠাঁই পান। তাই পশ্চিমবঙ্গের নামটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে তিনটি নাম এসেছে বঙ্গ, বঙ্গদেশ, বঙ্গপ্রদেশ এবং বঙ্গভূমি। জানা গেছে, মমতার পছন্দের নাম নাকি বঙ্গভূমি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নামের ব্যাপারে বিভিন্ন বিশিষ্টজন এবং রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষকে।
এর আগেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ও শহরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। উড়িষ্যার নাম বদলে করা হয়েছে ওডিশা। বোম্বের নাম মুম্বাই, মাদ্রাজের নাম চেন্নাই, পণ্ডিচেরির নাম পদুচেরি, ব্যাঙ্গালোরের নাম বেঙ্গালুরু, আসামের নাম অসম, ত্রিবাদ্রমের নাম তিরুবনন্তপুরম করা হয়েছে। এ ছাড়া পুনার নাম পুনে, কোচিনের নাম কোচি, কাউনপুর শহরের নাম কানপুর করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

নতুন ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। আত্মঘাতী হামলা পরিচালনার জন্য জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, আল-কায়েদা এবার সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। আত্মঘাতী জঙ্গিরা এবার শরীরের অভ্যন্তরে বিস্ফোরক স্থাপন করে হামলা পরিচালনা করবে।
এর আগে জুতার ভেতরে বা অন্তর্বাসের মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে নাশকতা করার চেষ্টা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যমতে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে স্থাপন করা হবে বিস্ফোরক। যাত্রীবাহী বিমান বা জনবহুল স্থাপনায় এ ধরনের আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মাধ্যমে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনচলাচলবিষয়ক নিরাপত্তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এ ধরনের জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে বর্তমানে বহুল ব্যবহূত মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে এ ধরনের জঙ্গি হামলা আগাম প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে বলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সন্দেহজনক বিমানযাত্রীর ওপর কড়া নজরদারি এবং পুরো শরীরের এক্স-রে করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র লিসা ফারবস্টেইন বলেছেন, জনপরিবহনে সন্দেহভাজনদের আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তল্লাশি করা হবে।
জনপরিবহন বিভাগের পরিচালক জন পিসটলি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার গোয়েন্দা সূত্রে জঙ্গিদের নতুন তৎপরতায় আগাম খবর জানতে পেরেছে। নতুন কৌশলে আল-কায়েদা হামলা পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রধান কংগ্রেসম্যান পিটার কিং বলেছেন, আল-কায়েদার মতো ভয়ংকর জঙ্গিদের তৎপরতা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র সর্বদাই সতর্ক। তিনি বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ধ্বংস করেছে, তাদের নাশকতামূলক তৎপরতার ক্ষমতা ও পরিকল্পনা নিয়ে উদাসীনতার কোনো সুযোগ নেই।

ভারতে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ৩৮ জনের প্রাণহানি

ভারতের উত্তর প্রদেশে গত বুধবার রাতে একটি ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে অতিথিরা বাসে করে ফেরার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্মকর্তারা জানান, উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষেৗর ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কাশীরামনগর জেলার থানাগাঁও গ্রামের কাছে বাসটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। এ সময় রেলক্রসিংয়ে কোনো কর্মী ছিলেন না। এ ছাড়া ক্রসিংয়ের গেটও ছিল খোলা। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাসের চালকও রয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের কাশীরামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সেলভা কুমারি বলেন, ‘বাসটির পেছনের অংশে মথুরা-ছাপড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি আঘাত করে। ধারণা করা হচ্ছে, বাসের চালক মাতাল অবস্থায় ছিলেন।’
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় ওই বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই ছিলেন বরপক্ষের। বাসের পেছনেই একটি জিপগাড়িতে ছিলেন বর ও কনে। তাঁরা অক্ষত রয়েছেন।

আফগানিস্তানে ন্যাটোর বিমান হামলায় নিহত ১৩

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে গতকাল বৃহস্পতিবার ন্যাটোর বিমান হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ জাজাই বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে দোয়ামানদা নামক জায়গার একটি বাড়িতে ন্যাটোর বিমান হামলায় আট নারী, চার শিশু ও একজন পুরুষ নিহত হয়েছে।
জাজাই বলেন, ওই হামলায় তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাক্কানি নেটওয়ার্কের চারজন জঙ্গিও নিহত হয়েছে।
মোহাম্মদ জাজাই বলেন, ওই বাড়ির একটি আস্তানা থেকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের একজন কমান্ডার ও তিন বিদ্রোহীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে।
প্রাদেশিক গভর্নরের এক মুখপাত্র বিমান হামলায় বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা-বাহিনী (আইএএসএফ) বলেছে, নিহত ব্যক্তিরা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের পরিবারের সদস্য।
ন্যাটোর বিমান হামলায় বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে খোস্ত প্রদেশে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা একটি মহাসড়ক অবরোধ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে নয়জনের যাবজ্জীবন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইতালিতে গণহত্যার দায়ে গত বুধবার জার্মানির নয়জন নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ইতালির ভেরোনার একটি আদালত। সে দেশের গণমাধ্যমের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়। ১৯৪৪ সালে ইতালির মোদেনা, আরেজো ও রেগিয়া এমিলিয়া এলাকায় এ গণহত্যা চালানো হয়।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তখন জার্মানির ‘হারমান গোয়েহরিং’ ডিভিশনে ছিলেন। এ ডিভিশন ইতালির প্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। তখন নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইতালির মোদেনা এলাকায় ১৪০ জন বেসামরিক নাগরিক হত্যায় জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁরা ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় আরেজো ও রেগিয়া এলাকায় গণহত্যায়ও তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন।
পাঁচ বছরের তদন্ত শেষে গত বছরের নভেম্বরে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। গত বুধবার ওই নয়জনের অবর্তমানে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর তিন ব্যক্তি শুনানি চলাকালে মারা যান।

মার্কিন সেনাবাহিনীতে সমকামীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিলের নির্দেশ

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সমকামীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আইনের বাস্তবায়ন বন্ধে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত।
সান ফ্রান্সিসকোর নবম ইউএস সার্কিট আপিল আদালত গত বুধবার ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ (ডিএডিটি) নামে পরিচিত আইনটি অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ওবামার প্রশাসন শিগগিরই বিতর্কিত এই আইন বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছিল। হোয়াইট হাউস বলেছে, সমকামীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করার এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীতে সমকামীদের নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত এই আইন ১৯৯৩ সালে চালু করা হয়েছিল। সে বছর প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক আপসের মাধ্যমে তা স্থির হয়। ক্লিনটন চেয়েছিলেন, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই সমকামীরা বাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন। সেনা কর্মকর্তারা এর বিরোধিতা করেন। এরপর চালু হওয়া ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ আইনে মার্কিন সেনাসদস্যদের নিজ যৌন পছন্দের বিষয়টি গোপন রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সমকামের কথা প্রকাশ করলে তাঁদের বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতো।
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই আইন চলতি মাসের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হতে পারে। তবে আদালতের রায়ের কিছু দিক দুর্বোধ্য হওয়ায় তা বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হতে পারে।
সান ফ্রান্সিসকোর আদালতের তিনজন বিচারকের প্যানেলের রায়ে বলা হয়েছে, ওবামার প্রশাসন ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা দিয়েছিল, প্রচলিত আইনে সমকামী মার্কিনদের ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখাটা সংবিধান পরিপন্থী। তাই ডিএডিটি অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের পথ অনুসরণ করে সম্প্রতি নিউইয়র্কে সমকামীদের বিয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তে উল্লসিত। তাদের সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সান ফ্রান্সিসকোর আদালত এই রায় দিলেন।

মাচু-পিচু আবিষ্কারের শতবর্ষ উদ্যাপন

পেরুতে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ মাচু-পিচুু আবিষ্কারের শতবর্ষ উদ্যাপন করা হচ্ছে এ মাসে। গতকাল বৃহস্পতিবার নাচ, গান, শোভাযাত্রা ও সভা-সেমিনারের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই উৎসব।
মাচু-পিচু বিশ্বের অগণিত পর্যটকের কাছে অন্যতম সেরা আকর্ষণ। আজ থেকে ১০০ বছর আগে ১৯১১ সালে মার্কিন গবেষক ও ইতিহাসবিদ ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরাম বিংহাম প্রাচীন ইনকা সভ্যতার এই নিদর্শন প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। হিরাম বিংহাম ১৯১১ সালের ২৪ জুলাই মাচু-পিচুতে পৌঁছান। পরে এই শহর নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সাময়িকিতে ‘লস্ট সিটি অব দ্য ইনসকাস’ শিরোনামে বিস্তারিত লেখেন।
পেরুর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আন্দিজ পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত মাচু-পিচুকে ১৯৮১ সালে পেরুর ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বলে ঘোষণা করে। ২০০৭ সালে নতুন সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় স্থান পায় ১৫ শতকের এই নগর।
পেরুর জাতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রের সাবেক প্রধান কর্মকর্তা লুই লাম্বরেরা বলেন, ‘পেরুবাসীর কাছে মাচু-পিচু হলো মিসরের পিরামিডের মতো।’
ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এ নগরের ব্যাপারে অনেক বিষয়ে এখনো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি পবিত্র স্থান। অন্যরা মনে করছেন, ইনকা সাম্রাজ্যের পর্যটননগর ছিল এটি।

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড মাত্রার কাছাকাছি

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) বলেছে, গত জুন মাসে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড মাত্রার কাছাকাছি বেড়েছে। তারা বলেছে, চিনির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচকে এর প্রভাব পড়েছে।
বিশ্ববাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং ব্রাজিলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গত মাসে চিনির দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
এফএওর মাসিক খাদ্যমূল্যের সূচক গতকাল বৃহস্পতিবার হালনাগাদ করা হয়। এতে দেখা যায়, সূচক গত জুনে ২৩৪ পয়েন্টে পৌঁছে গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সূচক ছিল ২৩৯ পয়েন্ট, যা দরবৃদ্ধিতে রেকর্ড হয়ে আছে।
এফএও বলেছে, চিনির দাম বাড়লেও বিশ্ববাজারে গম, যব, সয়াবিনসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের দাম পড়তির দিকে। তবে চিনির দরবৃদ্ধির কারণে এসব পণ্যের দাম কমা সূচকে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এফএও বলেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে শস্যবীজের উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে। এটি খাদ্যশস্যের দাম কমাতে সহায়তা করবে।
এফএওর একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বলেছেন, খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ায় এক বছর আগে মূল্যস্ফীতি যে পর্যায়ে ছিল, ২০১১-১২ অর্থবছরে তার তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে। তবে খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চমাত্রা থেকে সহসাই বেরিয়ে আসতে পারবে না।

পাকিস্তানের পরমাণু প্রযুক্তি পেতে ঘুষ দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া

পরমাণু বোমা তৈরির প্রযুক্তি বাগাতে নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের ৩০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ঘুষ দিয়েছিল উত্তর কোরিয়ার সরকার। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির স্থপতি বলে পরিচিত বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাদির খান উত্তর কোরিয়ার একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া এমন এক চিঠির অনুলিপি ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশ করেছেন, এর মধ্যে ওই ঘুষের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই ওই চিঠি লেখা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিঠি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল জাহাঙ্গীর কেরামাতকে উত্তর কোরিয়া ৩০ লাখ ডলার দিয়েছে। এ ছাড়া লে. জেনারেল জুলফিকার খানকে পাঁচ লাখ ডলার ও অলঙ্কার দেওয়া হয়। চিঠিতে যাঁর স্বাক্ষর, তিনি উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি জন বিয়ং।
কাদির খান বলেছেন, তিনি নিজে এ অর্থ সেনাকর্মকর্তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এ অর্থের বিনিময়ে একটি পরমাণু কর্মসূচির নথিপত্র উত্তর কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল কাদির খানের। তবে পত্রিকার পক্ষ থেকে অর্থের পরিমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিঠিতে এক জায়গায় লেখা হয়, ‘দয়া করে চুক্তি অনুযায়ী সব দলিলদস্তাবেজ পাকিস্তানে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার একজন দূতাবাস কর্মকর্তার কাছে দিন। এসব নিয়ে বিমানে করে দেশে ফিরবেন তিনি।’
কাদির খান স্বীকার করেছেন, তাঁর দেওয়া সেন্ট্রিফিউজ ও নকশার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া ইউরেনিয়ামভিত্তিক বোমা তৈরির কাজ শুরু করে। উত্তর কোরিয়া এর মধ্যে প্লুটোনিয়ামভিত্তিক পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে। কিন্তু গোপনে পরমাণু প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্য পাচারের ব্যাপারে পাকিস্তান কেবল কাদির খানকেই দোষ দিয়ে আসছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে চিঠিটি সত্য। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এই চিঠিকে ভুয়া বলে অভিহিত করেন। জেনারেল কেরামত ও জুলফিকার খান বলেছেন, কাদির খানের প্রকাশ করা ওই চিঠিটি ভুয়া। উত্তর কোরিয়ার কাছে পরমাণু প্রযুক্তি পাচার করার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর জন্য এটা কাদির খানের একটি চেষ্টা।
পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে: পাকিস্তানে পরমাণু অস্ত্রের মজুদ দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বে তারাই সবচেয়ে দ্রুত এ মজুদ বাড়াচ্ছে। আগামী দশকে তারা ১৫০ থেকে ২০০টি পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন শীর্ষ আণবিক বিশেষজ্ঞ এ কথা বলেছেন।
এই বিশেষজ্ঞরা হলেন হ্যান্স এম ক্রিস্টেনসেন ও রবার্ট এস নরিস। এ বিষয়ে তাঁদের লেখা একটি নিবন্ধ বুলেটিন অব অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস-এর চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
‘পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি, ২০১১’ শীর্ষক নিবন্ধে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাকিস্তান যদি ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ বাড়াতে থাকে, তাহলে এক দশকে তা ১৫০ থেকে ২০০টিতে পৌঁছাতে পারে।

শেষ আটেই ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র

ফিফা মহিলা বিশ্বকাপের শেষ আটেই মুখোমুখি ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত পরশু সুইডেনের কাছে অপ্রত্যাশিত হার দুবারের চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মার্তার দলের বিপক্ষে। ওই দিনই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। তিন ম্যাচেই জয় পাওয়া ব্রাজিল এখন পর্যন্ত কোনো গোল খায়নি। যদিও নিজেরা দিয়েছে সর্বোচ্চ ৭ গোল, ফ্রান্স ও জার্মানিও অবশ্য তাই।
অঘটনের শিকার আরেক সাবেক চ্যাম্পিয়ন নরওয়েও। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে ১৯৯৫ সালের চ্যাম্পিয়নদের। আগামী পরশু শেষ আটে অস্ট্রেলিয়া খেলবে সুইডেনের বিপক্ষে। ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্রের খেলাটাও ওই দিন। আগামীকাল গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি জাপানের এবং ইংল্যান্ড ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।

জিতল ইংল্যান্ড, জিতলেন কুক

ক্রিকেট-বিধাতাই যেন ঠিক করে রেখেছিলেন। ওয়ানডে খেলার সামর্থ্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকে একেকটি পুল, কভার ড্রাইভে বাইরে আছড়ে ফেলছিলেন অ্যালিস্টার কুক। আর মাইক্রোফোন হাতে মাইকেল আথারটন, দুর্দান্ত-অসাধারণ...বলতে বলতে একপর্যায়ে প্রশংসার ভাষাও হারিয়ে ফেললেন!
সিরিজ শুরুর আগে কুককে ‘মন্থর’ আর ‘গাধা’ বলেছিলেন আথারটন। শুধু সাবেক অধিনায়কই কেন, সংশয়বাদীদের তালিকাটা ছিল লম্বা। তাঁদের মিলিত চিৎকারকে ‘ফিসফাস’-এ নামিয়ে এনেছিল আগের ম্যাচের সেঞ্চুরি। পরশু ‘ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস’ খেলে আপাতত সবার মুখ বন্ধ করলেন। ইংল্যান্ডের ১০ উইকেটের জয়, সিরিজে ২-২ সমতা, সব ছাপিয়ে গেছে কুকের ৭৫ বলে ৯৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। মাইক্রোফোন হাতে নাসের হুসেইন বলতে বাধ্য হলেন, ‘এ আমাদের চেনা-জানা কুকই তো!’
‘ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস’ শুনে মনে প্রশ্ন জাগছে? ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসটা (১১৯) খেলেছেন আগের ম্যাচেই। কিন্তু সে ছিল বিপর্যয়ে রুখে দাঁড়ানো চেনা কুক, স্ট্রাইক রেট ‘মাত্র’ ৮৩.২১। কুকের ব্যাট যে ঝড় তুলতে পারে, এটা তো প্রথম দেখা গেল পরশুই! তার পরও সন্দেহ থাকলে কুকের নিজের কণ্ঠেই শুনুন, ‘সম্ভবত আমার সেরা ইনিংস। এত ভালো টাইমিং আমার সচরাচর হয় না।’ পাহাড়সম চাপ নিয়ে শুরু করেছিলেন সিরিজটা। ৪ ম্যাচে ৮৯ গড়ে ২৬৭ রান, স্ট্রাইকরেট ৯৭.৮০, সমালোচকদের জবাব দেওয়া হলো? ‘একটা-দুটোই ইনিংসেই কি আর জবাব দেওয়া যায়! লম্বা সময় ধরে এমন খেলে যেতে হবে। আমি নিজে সব সময়ই জানতাম ওয়ানডে খেলতে পারি, এখন এটা স্রেফ সবাইকে দেখানোর ব্যাপার’—বোঝা গেল সমালোচনাগুলো কুককে করেছে পরিণত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিই পেতে পারতেন কুক। জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ১৯, সেঞ্চুরির জন্য তখন কুকের চাই ৭। দুটো ছয় ও এক চার মেরে অধিনায়ককে ‘বঞ্চিত’ করলেন ক্রেইগ কিসওয়েটার। তবে এতে একটুও হতাশ নন কুক। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরির জন্য চান্দিমালের শ্লথ ব্যাটিংয়ের সমালোচনায় সোচ্চার ছিলেন। পরশু নিজেকে দিয়ে প্রমাণও করলেন। ম্যাচ শেষে বললেন, ‘কিসওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করেছিল সিঙ্গেল নেব না ছয়? সম্মতি পেয়েই ও ছয় মেরেছে। ক্রিকেটটা আমরা এভাবেই খেলি, ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দল বড়।’
শুধু নতুন কুককে নয়, পরশুর ট্রেন্টব্রিজ ইংল্যান্ডকেই দিয়েছে অনেক কিছু। যাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে খানিকটা গুঞ্জন ছিল, সেই কিসওয়েটার করলেন ৬৮ বলে অপরাজিত ৭২। কুকের সঙ্গে ১৭১ রানের জুটি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেকোনো জুটিতেই সর্বোচ্চ। তিন ম্যাচ পর উইকেট পেলেন স্টুয়ার্ট ব্রড (২/৩৭), প্রথম ম্যাচের পর আবারও লঙ্কান টপ-অর্ডার গুঁড়িয়ে দিলেন অ্যান্ডারসন (৩/২৪), স্লগ ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে দলে থাকার যৌক্তিকতা প্রমাণ করলেন জেড ডার্নব্যাচ (৩/৩৮)।
ঘাসের উইকেটে টস হারা থেকে শুরু করে কোনো কিছুই পক্ষে যায়নি শ্রীলঙ্কার। ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন সাঙ্গাকারা ও ম্যাথুস (৩৯)। শেষ ৪ উইকেট পড়েছে আবার ১৯ রানে। সাঙ্গাকারার ৭৫ রানের ইনিংটার কল্যাণে ১৭৪ পর্যন্ত যেতে পারে শ্রীলঙ্কা। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচ আগামীকাল ওল্ড ট্রাফোর্ডে।

শেখ জামালের গোল-বন্যা

বাংলাদেশ লিগের চ্যাম্পিয়ন। কোটি টাকার সুপার কাপে শেখ জামাল ধানমন্ডির শুরুটাও হলো ঠিক চ্যাম্পিয়নের মতোই। গ্রামীণফোন দ্বিতীয় সুপার কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই আজ শুক্রবার বিকেলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে গোল-বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে শেখ জামাল।
শেখ জামালের জয় ৬-১ গোলে! ম্যাচের স্কোর-লাইনটাই বলে দিচ্ছে, ব্রাদার্সের ওপর কতটা চড়াও হয়ে খেলেছে বাংলাদেশ লিগ চ্যাম্পিয়নরা। শেখ জামালের সামনে প্রতিরোধ গড়া তো দূরের কথা, এ ম্যাচে ন্যূনতম লড়াই করার সুযোগটাও পায়নি ব্রাদার্স।

বলিভিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কোস্টারিকা

প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শুরুটা ভালোভাবে করতে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বলিভিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে কোস্টারিকা। ‘এ’ গ্রুপে দুই ম্যাচ পর স্বাগতিক আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এখন তারা আছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
প্রথমার্ধে কিছুটা আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল বলিভিয়া। দুই দুইটি চমত্কার গোলের সুযোগও পেয়ে গিয়েছিলেন বলিভিয়ান স্ট্রাইকার মার্সেলো মার্টিন। কিন্তু সেগুলো থেকে গোল করতে পারেননি তিনি। আর দ্বিতীয়ার্ধে তাঁদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি কোস্টারিকার তরুণ খেলোয়াড়েরা। ৭০ ও ৭৫ মিনিটে ডিফেন্ডার রোনাল্ড রিভেরো ও মিডফিল্ডার ওয়াল্টার ফ্লোরেস লালকার্ড দেখার পর ৯ জনের দলে পরিণত হয় বলিভিয়া। এরপর জয় তুলে আনতে তেমন কোনো কষ্ট করতে হয়নি কোস্টারিকাকে।
৫৯ মিনিটের মাথায় স্ট্রাইকার জোসে মার্টিনেজের গোল থেকে এগিয়ে যায় কোস্টারিকা। ৭২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর চমত্কার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি অ্যালেন গুয়েভারা। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এই কোস্টারিকার মিডফিল্ডার। তবে দ্বিতীয় গোলটির জন্য খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। ৭৯ মিনিটের মাথায় স্কোরটা ২-০ তে নিয়ে যান ১৯ বছর বয়সী ক্যাম্পবেল।
এখন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কোস্টারিকা। আর বলিভিয়া তাদের শেষ ম্যাচটা খেলবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।

মানবসম্পদ উন্নয়নে ইমামদের ভূমিকা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধারণার ব্যাখ্যা করে, যেখানে নৈতিকতা ও আর্থসামাজিক অগ্রগতির ওপর বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়। ইসলামে মানবশক্তির আধ্যাত্মিক উন্নয়নের সঙ্গে পূত-পবিত্রতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এটা মানবচরিত্রকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অর্জন করে মানুষকে সামগ্রিক পরিপূর্ণতা দান করে। ফলে একজন নীতিমান মানুষ সামাজিক কল্যাণ ও মানবিক উন্নয়নে সমর্থ হয় এবং ইহকাল ও পরকালে সাফল্য লাভ করে।
সর্বপ্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রত্যেক নবী-রাসুল স্ব স্ব জাতিকে মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞান দান করো, কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য সৃষ্ট।’ (মুসলিম)
মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর একটি ধর্মপ্রাণ জাতি তথা দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। মানবজাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে শিশুরা। তাদের যদি পরিকল্পিত পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন ও আদর্শ শিক্ষায় গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে সুন্দর। তাদের ভালোভাবে প্রতিপালিত করা পিতামাতা ও অভিভাবকদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের মাধ্যমেই মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হয়। তাই মানবসন্তানের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য প্রতিটি শিশুর শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য তাদের পর্যাপ্ত মানসম্মত জীবনযাপনের অধিকার সংরক্ষণ করা উচিত। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সন্তানদের (শিশুদের) স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (তিরমিজি)
মানবজাতি এমন এক বিরাট সম্পদ, যা সঠিকভাবে কার্যকর করা হলে প্রতিষ্ঠান তথা দেশে ও জাতির প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। আর মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা না হলে অন্য সব উপাদান কার্যকর থাকলেও উন্নয়ন-প্রক্রিয়া দারুণভাবে ব্যাহত হয়। সুতরাং মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশের পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ, আলেম সমাজ, ধর্মীয় নেতা বা মসজিদের ইমামদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। অবক্ষয়মুক্ত সমাজ, ধর্মীয় অনুশাসন ও মানুষকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সমাজে ইমামদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মানুষের নৈতিক চরিত্রের উন্নয়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে একটি উন্নত নৈতিকতাপূর্ণ আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো ইমামদের দৈনন্দিন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। মানুষ চেষ্টার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটায় এবং আল্লাহ তাআলা তার জীবনের সফলতার পথ সুগম করে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে।’ (সূরা: আর-রাদ, আয়াত-১১)
ইমাম-খতিবেরা জনগণকে এ শিক্ষা দেবেন যে চেষ্টা ও সাধনা মানবজাতির উন্নতির চাবিকাঠি। পৃথিবীর বহু জাতি-গোষ্ঠী জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে, এর মূলে রয়েছে চেষ্টা ও পরিশ্রম। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর এই যে, মানুষ তা-ই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সূরা আন-নাজ্ম, আয়াত-৩৯)
সমাজের ধর্মীয় নেতারা জনগণকে ঐক্য, সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, স্বদেশপ্রেম, মানবপ্রেম, সমাজকল্যাণ সর্বোপরি মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা দেবেন এবং নিজেদের মেধা, শ্রম ও মসজিদের অবকাঠামোগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে সহজেই জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে সমাজ থেকে বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাবলম্বন তথা ধর্মপ্রাণ মানুষকে কর্মপ্রেমিক করে তুলতে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান হবেন। ইমামদের সম্পৃক্ত করে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পশুপালন এবং মৎস্য চাষসহ জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উত্তরণ ঘটানো যেতে পারে। দেশের আড়াই লক্ষাধিক মসজিদের পাঁচ লাখের বেশি ইমাম-মোয়াজ্জিন যদি পরিকল্পিত পন্থায় অগ্রসর হন, তাহলে তাঁরা মসজিদের আওতাধীন ধর্মপ্রাণ মানুষকে অনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে সজাগ-সচেতন থাকার ব্যাপারে অবহিত করে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ইসলাম মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে, অথচ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। সমকালীন প্রেক্ষাপটে জাতীয় উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক হচ্ছে মানবসম্পদের উন্নয়ন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বায়নের যুগে সততা ও মেধাই হচ্ছে যোগ্যতার অন্যতম মাপকাঠি। তাই বর্তমান তথ্য ও প্রযুক্তির জগতে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা, লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় মানবজাতিকে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক মুসলিম সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষিত মানবসম্পদের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত চিন্তা, কর্মসাধনা, মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে তারাই দেশকে উন্নতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন।’ (সূরা আল-মুজাদালা, আয়াত-১১)
মসজিদের ইমামদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করে তাঁদের সমাজের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় নেতৃত্বের বিকাশ সাধন করা যেতে পারে। মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক নেতৃবৃন্দ ও সৎ মানুষগুলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্তকরণ ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে যদি এলাকার অগ্রগতির কাজে লাগানো যায়, তাহলে সমাজের চেহারা আমূল পরিবর্তন হতে পারে এবং পারিবারিক কল্যাণ তথা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যায়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dৎ.munimkhan@yahoo.com

রমজান মাসের জন্য বাড়তি তেল-চিনি আমদানি

রমজান মাস উপলক্ষে ৪৩ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে ‘এমটি টর্ম জারটার্ড’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে। ‘এমভি পিলিয়ন’ নামের আরেকটি জাহাজে ইতিমধ্যে ৫২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি এসে গেছে।
বন্দর সূত্র ও ব্যবসায়ীরা জানান, গড় আমদানিমূল্য অনুযায়ী টর্ম জারটার্ড নামক জাহাজে থাকা সয়াবিনের দাম প্রায় ৪১৫ কোটি টাকা। আর পিলিয়নে থাকা চিনির দাম প্রায় ২৬১ কোটি টাকা। তাঁরা বলেন, টর্ম জারটার্ডের মাধ্যমে যে পরিমাণ ভোজ্যতেল আসছে, সচরাচর একসঙ্গে এত বেশি আমদানি করা হয় না।
ব্যবসায়ীরা জানান, এই দুই জাহাজে থাকা তেল ও চিনি দিয়ে সারা দেশে আসন্ন রমজান মাসের অন্তত ৮-১০ দিনের চাহিদা পূরণ হবে। রমজান মাসের বাড়তি চাহিদা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা এই তেল ও চিনি আমদানি করেছেন। রমজান মাসে দেড় লাখ টন করে ভোজ্যতেল ও চিনির চাহিদা থাকে বলে ধরা হয়। আর স্বাভাবিক সময়ে মাসে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে।
এই দুটি জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি রেইনবো শিপিং লাইনসের নির্বাহী পরিচালক কামাল হায়াত প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী ভোজ্যতেলের জাহাজে কয়েকজন আমদানিকারকের সয়াবিন তেল আছে। আমদানি করা এসব সয়াবিন তেলের কিছু পরিমাণ বহির্নোঙরে এবং বাকিটা মুরিংয়ে এনে খালাস করা হবে।
অন্যদিকে অপরিশোধিত চিনি এনেছেন একজন আমদানিকারক।
কাস্টম হাউস ও ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, রমজান মাস সামনে রেখে সাধারণত তিন মাস আগে পণ্য আমদানি শুরু হয়। সে অনুযায়ী গত দুই মাসে ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার ৭০৪ টন। চলতি মাসের প্রথমদিকে চার জাহাজে করে আসছে ৬৩ হাজার ৩৪০ টন ভোজ্যতেল।
গত দুই মাসে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৪ টন। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫২ হাজার ৪০০ টন অপরিশোধিত চিনি নিয়ে বন্দরে এসেছে একটি জাহাজ। চলতি মাসে আমদানি স্বাভাবিক থাকলে রমজান মাসে ভোজ্যতেল ও চিনির সরবরাহ আরও বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
ব্যবসায়ীরা জানান, চারটি পরিশোধন কারখানা বন্ধ থাকায় বাজারে এখনো প্রস্তুত চিনির সরবরাহ বাড়েনি, যে কারণে গত এক সপ্তাহে চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। অবশ্য গত মাসে প্রায় ৩১ হাজার টন পরিশোধিত চিনি আমদানি করা হয়।
এদিকে পরিবেশক প্রথা চালুর কারণে মিলমালিক ছাড়া সাধারণ আমদানিকারকেরা প্রস্তুত চিনির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দেশে এখন ভোজ্যতেল ও চিনি আমদানি বেড়েছে। এ মাসে এই দুটি পণ্য আরও আসছে। ফলে সরবরাহ নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা আর নেই। তবে চিনির দাম বাড়তি থাকায় রমজানের আগে সরকারের হাতে থাকা চিনি বাজারে ছেড়ে দেওয়া হলে তাতে দাম সহনশীল থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল—এই তিন মাসে ভোজ্যতেল ও চিনি আমদানি স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়। এ কারণে রমজান মাসে এই দুটি পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

হরতালের দ্বিতীয় দিনেও পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী

বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও দেশের পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ভাব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেন দুই-ই বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল লেনদেন শুরুর আগেই ২১৭টি ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে ২১৬টি হাউস লগইন করায় নির্ধারিত ১১টায় লেনদেন শুরু হয়।
ডিএসইতে গতকাল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। এদিন ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৩১১ দশমিক ৮০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এদিন হাতবদল হওয়া ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৯২টির, কমেছে ৬০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। গতকাল এক হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১৯০ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে এদিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, বেক্সটেক্স, ইউসিবিএল, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ার, গ্রামীণফোন ও আফতাব অটো।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৫৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৭২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫৪টির, কমেছে ৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে এদিন ১৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩০ কোটি টাকা বেশি।

শেষ হচ্ছে নাসার আটলান্টিসের অভিযান

মহাকাশযান ‘আটলান্টিস’ মহাশূন্যে পাঠানোর মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ৩০ বছরের মহাকাশযান অভিযান কর্মসূচি।
আজ স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে মহাশূন্যে শেষবারের মতো যাত্রা করবে আটলান্টিস। তার পরই আপাতত ইতি ঘটবে মহাশূন্যে নাসার নভোযান অভিযানের। তবে আবহাওয়াবিদেরা ওই দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শঙ্কিত।
ফ্লোরিডার কেন্দ্রস্থলে আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে ঠিক নভোযান উৎক্ষেপণের সময়টিতে ঝড় হয়ে এর যাত্রা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর প্রায় নয় বছর পর মহাকাশে নভোযান পাঠায় নাসা।
কলাম্বিয়া, চ্যালেঞ্জার, এন্ডেভার, ডিসকভারি ও আটলান্টিস নামের পাঁচটি নভোযান ৩০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে নভোচারী ও সাজসরঞ্জাম আনা-নেওয়া করছে। আজকের পর আপাতত নাসার আর কোনো নভোযান মহাকাশে যাবে না।

ইরাকে গণকবর আবিষ্কার

ইরাকের দিওয়ানিয়াহ শহরে গত বুধবার একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের আমলে গণহত্যার শিকার কুর্দিদের এখানে কবর দেওয়া হয়েছে।
দিওয়ানিয়াহ শহরের ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে শানাফিয়া অঞ্চলে এ গণকবরের খোঁজ মেলে। এখানে নয় শর মতো লাশ কবর দেওয়া হয়। ইরাকের বিচার ও জবাবদিহিমূলক কমিশনের প্রাদেশিক প্রধান দাখিল সাইহুদ এ কথা জানান। কমিশন-প্রধান জানান, আশির দশকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে মৃতদেহগুলো কুর্দিদের বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত হতে লাশগুলো নাজাফ শহরের গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত এপ্রিলে পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরাকের আনবার প্রদেশে আরেকটি গণকবর আবিষ্কারের কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এখানে নারী ও শিশুসহ আট শতাধিক মৃতদেহ পাওয়া যায়। সে সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সাদ্দামের শাসনামলে তাঁদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।
১৯৮০-৮৮ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় সুন্নি বংশোদ্ভূত সাদ্দাম হোসেন শিয়াদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালান। তাঁর ধারণা ছিল, শিয়া-অধ্যুষিত ইরানের প্রতি এসব ইরাকি শিয়ারা সহানুভূতিশীল। তাছাড়া সাদ্দামের বিরোধী হওয়ায় কুর্দিদের ওপরও ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়।

আত্মহত্যা রোধে...

আত্মহত্যা একটি বড় চিন্তার বিষয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। ১৯৯৭ সালে এশিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ার পর থেকে দেশটিতে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এখনো চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামইয়ুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাং বলেছেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০, ৩০ অথবা ৪০ বছর বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা।’
এই আত্মহত্যা রোধে রাজধানী সিউলের উত্তর-পূর্বে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ‘প্রতীকী মৃত্যু-মহড়া’ সেমিনারের আয়োজন করে। তাতে প্রায় ৭০ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। এই মৃত্যু-মহড়ার স্লোগান ছিল ‘জীবনটাকে বিকিয়ে দিও না
কোরিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, তাঁরা শণের তৈরি হলুদ পোশাক পরে কফিনে ঢোকেন। পরে কফিনটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর কফিনে নেমে আসে ঘোরতর অন্ধকার। নির্দিষ্ট সময় পর কফিন থেকে বেরিয়ে এসে হা ইউ-সু স্বস্তি প্রকাশ করেন। ৬২ বছর বয়সী এই অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক বলেন, ‘জীবন থেকে মৃত্যুর দূরত্ব এক পা। কিন্তু এই দূরত্বটাই আবার অনেক বড়।’
‘কফিন থেকে উঠে এসে বায়েক সাং-ওকে নামের একজন নারী বলেন, কফিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে স্বজনদের মূল্য বুঝতে সাহায্য করেছে। ক্যানসার-আক্রান্ত এই নারী কয়েক বছর আগে কেমোথেরাপি নেওয়া বর্জন করেন।
মৃত্যু-মহড়ায় অংশ নেওয়া আরেকজন নারী কফিন থেকে উঠে তাঁর সন্তানদের উদ্দেশে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আর বেঁচেও না থাকি, তোমরা সবাই মিলেমিশে থেকো। স্বার্থপর হয়ো না।’ সামইয়ুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাং বলেন, ‘এ সেমিনার জীবনকে উপলব্ধি করার সুযোগ দেবে।’
তবে এই সেমিনারের পরও দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা কমবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সে দেশের হ্যালিম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মহত্যা প্রতিরোধক কেন্দ্রের প্রধান ওহ জিন-টাক বলেন, ‘আত্মহত্যা রোধে কফিনের এই অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়।’ তিনি বলেন, সেমিনারে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের কেউই হতাশায় ভুগছেন না।

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে বামফ্রন্টের সমর্থন

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে রাজ্যের সাবেক শাসকজোট বামফ্রন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বামফ্র্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
বিমান বসু বলেছেন, রাজ্যের নাম পরিবর্তনে তাঁদের সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এ কথাও বলেছেন, বামফ্রন্ট এর আগে এ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল। এ প্রস্তাব নিয়ে বিধানসভায় আলোচনাও হয়। সেই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভার বৈঠকে মমতার ইচ্ছায় পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ওঠে। বৈঠকে সব সদস্যই একবাক্যে নাম পরিবর্তনের পক্ষে সায় দেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, ইংরেজিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল লিখতে গেলে একেবারে শেষে চলে আসে পশ্চিমবঙ্গের নাম। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা একেবারে শেষে ঠাঁই পান। তাই পশ্চিমবঙ্গের নামটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে তিনটি নাম এসেছে বঙ্গ, বঙ্গদেশ, বঙ্গপ্রদেশ এবং বঙ্গভূমি। জানা গেছে, মমতার পছন্দের নাম নাকি বঙ্গভূমি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নামের ব্যাপারে বিভিন্ন বিশিষ্টজন এবং রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষকে।
এর আগেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ও শহরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। উড়িষ্যার নাম বদলে করা হয়েছে ওডিশা। বোম্বের নাম মুম্বাই, মাদ্রাজের নাম চেন্নাই, পণ্ডিচেরির নাম পদুচেরি, ব্যাঙ্গালোরের নাম বেঙ্গালুরু, আসামের নাম অসম, ত্রিবাদ্রমের নাম তিরুবনন্তপুরম করা হয়েছে। এ ছাড়া পুনার নাম পুনে, কোচিনের নাম কোচি, কাউনপুর শহরের নাম কানপুর করা হয়েছে।

নিহত ব্রিটিশ সেনাদের স্বজনদের ফোনেও আড়ি পাতা হয়

টেলিফোনে আড়ি পাতার অভিযোগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আগামী রোববার এর সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হবে। পত্রিকাটির মালিক প্রতিষ্ঠান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জেমস মারডক গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডকের পত্রিকা। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত এই ‘রবিবাসরীয়’ সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা রাজনীতিক ও তারকা থেকে শুরু করে ইরাক ও আফগানিস্তানে নিহত ব্রিটিশ সেনাপরিবারের সদস্যদের ফোনেও সম্ভবত আড়ি পেতেছিল।
বিবিসি বলেছে, অভিযোগ ওঠার পর পত্রিকাটি সীমাহীন চাপের মুখে পড়ে। একের পর এক বিজ্ঞাপনদাতা পত্রিকাটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পত্রিকাটি ইরাক ও আফগানিস্তানে নিহত ব্রিটিশ সেনাপরিবারের সদস্যদের ফোনেও আড়ি পেতেছিল। ব্রিটেনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, ফোনে আড়ি পাতার ওই অপকর্মের মূলে ছিলেন বেসরকারি গোয়েন্দা গ্লেন মুলকেরি। আফগানিস্তান ও ইরাকে নিহত সেনাদের পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য তাঁর কাছে ছিল।
রুপার্ট মারডকের প্রতিষ্ঠান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে তা হবে ‘ভয়ানক মর্মাহত’ হওয়ার মতো বিষয়। নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড নিউজ ইন্টারন্যাশনালেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে গত বুধবার প্রথম মুখ খুলেছেন রুপার্ট মারডক। তিনি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় তিনি খুবই মর্মাহত হয়েছেন।
২০০৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত-আহত ব্যক্তিদের পরিবারের লোকজনের ফোনে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড আড়ি পেতেছিল বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্যে তোলপাড় শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গত বুধবার পার্লামেন্টে বলেছেন, এ অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

নতুন ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। আত্মঘাতী হামলা পরিচালনার জন্য জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, আল-কায়েদা এবার সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। আত্মঘাতী জঙ্গিরা এবার শরীরের অভ্যন্তরে বিস্ফোরক স্থাপন করে হামলা পরিচালনা করবে।
এর আগে জুতার ভেতরে বা অন্তর্বাসের মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে নাশকতা করার চেষ্টা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যমতে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে স্থাপন করা হবে বিস্ফোরক। যাত্রীবাহী বিমান বা জনবহুল স্থাপনায় এ ধরনের আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মাধ্যমে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনচলাচলবিষয়ক নিরাপত্তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এ ধরনের জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে বর্তমানে বহুল ব্যবহূত মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে এ ধরনের জঙ্গি হামলা আগাম প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে বলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সন্দেহজনক বিমানযাত্রীর ওপর কড়া নজরদারি এবং পুরো শরীরের এক্স-রে করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র লিসা ফারবস্টেইন বলেছেন, জনপরিবহনে সন্দেহভাজনদের আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তল্লাশি করা হবে।
জনপরিবহন বিভাগের পরিচালক জন পিসটলি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার গোয়েন্দা সূত্রে জঙ্গিদের নতুন তৎপরতায় আগাম খবর জানতে পেরেছে। নতুন কৌশলে আল-কায়েদা হামলা পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রধান কংগ্রেসম্যান পিটার কিং বলেছেন, আল-কায়েদার মতো ভয়ংকর জঙ্গিদের তৎপরতা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র সর্বদাই সতর্ক। তিনি বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ধ্বংস করেছে, তাদের নাশকতামূলক তৎপরতার ক্ষমতা ও পরিকল্পনা নিয়ে উদাসীনতার কোনো সুযোগ নেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে নয়জনের যাবজ্জীবন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইতালিতে গণহত্যার দায়ে গত বুধবার জার্মানির নয়জন নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ইতালির ভেরোনার একটি আদালত। সে দেশের গণমাধ্যমের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়। ১৯৪৪ সালে ইতালির মোদেনা, আরেজো ও রেগিয়া এমিলিয়া এলাকায় এ গণহত্যা চালানো হয়।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তখন জার্মানির ‘হারমান গোয়েহরিং’ ডিভিশনে ছিলেন। এ ডিভিশন ইতালির প্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। তখন নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইতালির মোদেনা এলাকায় ১৪০ জন বেসামরিক নাগরিক হত্যায় জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁরা ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় আরেজো ও রেগিয়া এলাকায় গণহত্যায়ও তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন।
পাঁচ বছরের তদন্ত শেষে গত বছরের নভেম্বরে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। গত বুধবার ওই নয়জনের অবর্তমানে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর তিন ব্যক্তি শুনানি চলাকালে মারা যান।

ভারতে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ৩৮ জনের প্রাণহানি

ভারতের উত্তর প্রদেশে গত বুধবার রাতে একটি ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে অতিথিরা বাসে করে ফেরার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্মকর্তারা জানান, উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষেৗর ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কাশীরামনগর জেলার থানাগাঁও গ্রামের কাছে বাসটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। এ সময় রেলক্রসিংয়ে কোনো কর্মী ছিলেন না। এ ছাড়া ক্রসিংয়ের গেটও ছিল খোলা। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাসের চালকও রয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের কাশীরামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সেলভা কুমারি বলেন, ‘বাসটির পেছনের অংশে মথুরা-ছাপড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি আঘাত করে। ধারণা করা হচ্ছে, বাসের চালক মাতাল অবস্থায় ছিলেন।’
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় ওই বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই ছিলেন বরপক্ষের। বাসের পেছনেই একটি জিপগাড়িতে ছিলেন বর ও কনে।

মার্কিন সেনাবাহিনীতে সমকামীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিলের নির্দেশ

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সমকামীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আইনের বাস্তবায়ন বন্ধে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত।
সান ফ্রান্সিসকোর নবম ইউএস সার্কিট আপিল আদালত গত বুধবার ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ (ডিএডিটি) নামে পরিচিত আইনটি অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ওবামার প্রশাসন শিগগিরই বিতর্কিত এই আইন বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছিল। হোয়াইট হাউস বলেছে, সমকামীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করার এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীতে সমকামীদের নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত এই আইন ১৯৯৩ সালে চালু করা হয়েছিল। সে বছর প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক আপসের মাধ্যমে তা স্থির হয়। ক্লিনটন চেয়েছিলেন, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই সমকামীরা বাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন। সেনা কর্মকর্তারা এর বিরোধিতা করেন। এরপর চালু হওয়া ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ আইনে মার্কিন সেনাসদস্যদের নিজ যৌন পছন্দের বিষয়টি গোপন রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সমকামের কথা প্রকাশ করলে তাঁদের বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতো।
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই আইন চলতি মাসের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হতে পারে। তবে আদালতের রায়ের কিছু দিক দুর্বোধ্য হওয়ায় তা বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হতে পারে।
সান ফ্রান্সিসকোর আদালতের তিনজন বিচারকের প্যানেলের রায়ে বলা হয়েছে, ওবামার প্রশাসন ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা দিয়েছিল, প্রচলিত আইনে সমকামী মার্কিনদের ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখাটা সংবিধান পরিপন্থী। তাই ডিএডিটি অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের পথ অনুসরণ করে সম্প্রতি নিউইয়র্কে সমকামীদের বিয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তে উল্লসিত। তাদের সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সান ফ্রান্সিসকোর আদালত এই রায় দিলেন।

আফগানিস্তানে ন্যাটোর বিমান হামলায় নিহত ১৩

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে গতকাল বৃহস্পতিবার ন্যাটোর বিমান হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ জাজাই বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে দোয়ামানদা নামক জায়গার একটি বাড়িতে ন্যাটোর বিমান হামলায় আট নারী, চার শিশু ও একজন পুরুষ নিহত হয়েছে।
জাজাই বলেন, ওই হামলায় তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাক্কানি নেটওয়ার্কের চারজন জঙ্গিও নিহত হয়েছে।
মোহাম্মদ জাজাই বলেন, ওই বাড়ির একটি আস্তানা থেকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের একজন কমান্ডার ও তিন বিদ্রোহীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে।
প্রাদেশিক গভর্নরের এক মুখপাত্র বিমান হামলায় বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা-বাহিনী (আইএএসএফ) বলেছে, নিহত ব্যক্তিরা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের পরিবারের সদস্য।
ন্যাটোর বিমান হামলায় বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে খোস্ত প্রদেশে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা একটি মহাসড়ক অবরোধ করে।

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড মাত্রার কাছাকাছি

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) বলেছে, গত জুন মাসে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড মাত্রার কাছাকাছি বেড়েছে। তারা বলেছে, চিনির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচকে এর প্রভাব পড়েছে।
বিশ্ববাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং ব্রাজিলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গত মাসে চিনির দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
এফএওর মাসিক খাদ্যমূল্যের সূচক গতকাল বৃহস্পতিবার হালনাগাদ করা হয়। এতে দেখা যায়, সূচক গত জুনে ২৩৪ পয়েন্টে পৌঁছে গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সূচক ছিল ২৩৯ পয়েন্ট, যা দরবৃদ্ধিতে রেকর্ড হয়ে আছে।
এফএও বলেছে, চিনির দাম বাড়লেও বিশ্ববাজারে গম, যব, সয়াবিনসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের দাম পড়তির দিকে। তবে চিনির দরবৃদ্ধির কারণে এসব পণ্যের দাম কমা সূচকে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এফএও বলেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে শস্যবীজের উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে। এটি খাদ্যশস্যের দাম কমাতে সহায়তা করবে।
এফএওর একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বলেছেন, খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ায় এক বছর আগে মূল্যস্ফীতি যে পর্যায়ে ছিল, ২০১১-১২ অর্থবছরে তার তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে। তবে খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চমাত্রা থেকে সহসাই বেরিয়ে আসতে পারবে না।