Friday, March 25, 2011

লিবিয়া অভিযানের নেতৃত্ব নিয়ে বিভক্ত পশ্চিমারা

লিবিয়ায় সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব নিয়ে কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্ররা। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ন্যাটোই এই অভিযানে নেতৃত্ব দিক। কিন্তু এতে আপত্তি আছে ফ্রান্সের। এদিকে চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নেতারা লিবিয়ায় পশ্চিমা বাহিনীর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ল্যাটিন আমেরিকা সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন, জোট বাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে একটু সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এ অভিযানে অংশ নিয়েছে এমন দেশগুলোকে নিয়ে বৈঠকে বসে একটি সমাধান করা যাবে।’ তবে এর আগে ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
যুক্তরাষ্ট্র সামনে থেকে লিবিয়া অভিযানে নেতৃত্ব দিতে চাইছে না। এ জন্য এই দায়িত্ব তারা ন্যাটোর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ন্যাটোর সদস্য ফ্রান্স আপত্তি জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, ন্যাটো পরিকল্পনাগত ও সামরিক নেতৃত্ব দিতে পারে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেইন জুপ্পে গতকাল বুধবার প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জোটভুক্ত দেশগুলো ও আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। অভিযানের সার্বিক তদারকির বিষয়টি দেখবে এই কমিটি।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ সময় তাঁরা সম্মত হয়েছেন যে লিবিয়া অভিযানে ন্যাটোই প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ন্যাটো জোটভুক্ত নয় এমন দেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ন্যাটোর আছে। কাজেই আমরা এমন একটি অবকাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি, যাতে ন্যাটোর সহযোগিতা এবং তাদের সক্ষমতা আমরা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারি।’
তবে হোয়াইট হাউসের ওই বিবৃতির পর ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ন্যাটো কীভাবে জোট বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে, শুধু তা নিয়েই ওবামার সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট সারকোজি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো চাইছে, ন্যাটো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক। কিন্তু আমরা ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করতে চাই। তারা যেন মনে না করে, তাদের একপাশে ফেলে রাখা হয়েছে।’
এদিকে লিবিয়ায় পশ্চিমা জোটের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্লোব টাইমস পত্রিকা গতকাল লিখেছে, লিবিয়ার তেলসম্পদ লুটতে এবং বিশ্বের ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে পশ্চািম দেশগুলো লিবিয়ায় এই হামলা চালিয়েছে।
আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকাও লিবিয়ায় পশ্চিমা বাহিনীর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো দ্বিমুখী নীতি মেনে চলছে উল্লেখ করে পত্রিকায় একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখেছেন উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োবেরি মুসেভেনি।
লিবিয়ার সমস্যা সমসাধানের লক্ষ্যে আফ্রিকান ইউনিয়ন যে কমিটি গঠন করেছিল, তাতে ছিলেন মুসেভেনি। জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে বলেছেন, লিবিয়ার তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতেই পশ্চিমারা সেখানে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া নামিবিয়া, নাইজেরিয়াও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন

জাপানে ১১ মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন। গতকাল বুধবার সে দেশের সরকার এ কথা জানায়। এ কারণে আগামী অর্থবছরে দেশটির প্রবৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে।
২০০৫ সালে কোবেতে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন। তবে এবারের ভূমিকম্প ও সুনামিতে দেশটিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০০৫ সালের দ্বিগুণেরও বেশি।
ভূমিকম্পে বাড়িঘর, কলকারখানা, রাস্তাঘাট ও সেতুর যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠন বা নির্মাণ করতে দেশটির পরবর্তী তিন অর্থবছরে ১৬ থেকে ২৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন ব্যয় হবে। মন্ত্রিসভা কার্যালয় সূত্র এ কথা জানায়।

টয়োটার সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

জাপানের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশনের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাজারে আসতে দেরি হচ্ছে এটির দুটি নতুন মডেলের গাড়ি।
গতকাল বুধবার টয়োটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় প্রতিষ্ঠানটি বাজারে নতুন মডেলের একটি ওয়াগন ও একটি মিনিভ্যান ছাড়ার যে পরিকল্পনা করেছিল, সুনামি ও ভূমিকম্পের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

লিবিয়ায় নির্বিচার হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন

লিবিয়ায় নির্বিচার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্রিটেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী জেরাল্ড হাওয়ার্থ গতকাল বুধবার বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
হাওয়ার্থ বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া সফরে রয়েছেন। লিবিয়ায় বিমান হামলায় অনেক বেসামরিক লোক মারা যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে হাওয়ার্থ বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, লিবিয়ায় হামলার প্রধান লক্ষ্য বেসামরিক লোকজনকে রক্ষা করা।’
হাওয়ার্থ জানান, লিবিয়ার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হামলা করতে গিয়েও তা না করে ফিরে এসেছে দুটি ব্রিটিশ টর্নেডো জঙ্গি বিমান। কারণ, হামলার লক্ষ্যস্থলের কাছে বেসামরিক লোকজনকে দেখা গিয়েছিল।
ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিমানবাহিনীতে এমন বিমান ও সরঞ্জাম রয়েছে, যা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। কাজেই বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির তেমন আশঙ্কা নেই বলে জানান হাওয়ার্থ।
ব্রিটিশ মন্ত্রী দাবি করেন, জোট বাহিনী লিবিয়ায় বিমান হামলা না চালালে গাদ্দাফি বাহিনী সে দেশের বেসামরিক লোকজনের ওপর এখনো বোমা হামলা চালিয়ে যেত। গাদ্দাফির সরকার অভিযোগ করেছে, পশ্চিমা বিমান হামলায় অনেক বেসামরিক লোক হতাহত হচ্ছে। জোট বাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান হামলায় লিবিয়ার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন শহর বেনগাজিতে গাদ্দাফি বাহিনীর হামলা বন্ধ হয়েছে। লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে এবং ব্রিটিশ জঙ্গি বিমান টাইফুন ও টর্নেডে লিবিয়ার আকাশে টহল দিয়ে যাচ্ছে।

জাপানে আবার বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা গবেষকদের

জাপানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নয় তীব্রতার শক্তিশালী ভূমিকম্পের মতো আরও একটি ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। হতে পারে সুনামিও। অতীতের কয়েকটি ঘটনায় নতুন করে ভূমিকম্প ও সুনামি ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
গবেষকেরা জানান, ২০০৪ সালে সুমাত্রা দ্বীপে ভূমিকম্প ও সুনামির পর সাতের বেশি তীব্রতার কয়েকটি এবং ২০০৫ ও ২০০৭ সালে আটের বেশি তীব্রতার দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল। এবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে টোকিও ও কানতো অঞ্চল।
সুমাত্রায় কয়েকটি ভূমিকম্পের সঙ্গে সুনামিও হয়েছিল, যার ফলে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের ভূমিকম্পের পর পশ্চিম সুমাত্রা ও জাভার ভূগর্ভে থাকা টেকটোনিক প্লেটে চাপ বেড়েছিল, যার ফলে ওই ভূমিকম্প হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
জাপানি গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন এমন একজন ভূতাত্ত্বিক যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস গোল্ডফিঙ্গার বলেন, ‘কানতো অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন অত্যন্ত জটিল। ত্রিমুখী টেকটোনিক সংযোগস্থলে অঞ্চলটি অবস্থিত। টোকিওর ভূগর্ভেও একাধিক প্লেট একের ওপর অন্যটি উঠে জট পাকিয়ে আছে।’
রস স্টেইন বিবিসিকে আরও জানান, ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় টোকিওর ভূগর্ভস্থ কাঠামোর এ ত্রুটি পরিস্থিতিকে কতটা জটিল করছে, তা আমরা দেখছি। আমাদের ধারণা, অঞ্চলটি এরই মধ্যে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যেই আছে। এ ঝুঁকি আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে

টোকিওর পানি শিশুদের জন্য বারণ

জাপানে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণের কারণে পানিতে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী টোকিওর কর্মকর্তারা নগরবাসীকে শিশুদের ট্যাপের পানি না খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, ওই পানিতে যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি ধরা পড়েছে, তা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য না হলেও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
ফুকুশিমা ও আশপাশের এলাকার কিছু খাবার খেতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই জাপান থেকে কয়েক পদের খাদ্যসামগ্রী আমদানি করা আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
জাপানের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রতি এক লিটার পানিতে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১-এর স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১০০ বেকুরেলস (তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্দেশক একক)। কিন্তু টোকিওর প্রতি এক লিটার পানিতে ২১০ বেকুরেলসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। এই মাত্রা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা সহ্য করতে পারলেও শিশু, বিশেষ করে দুগ্ধপোষ্য শিশুর ক্ষেত্রে তা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে তাঁরা এই পানি শিশুদের পান না করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
ফুকুশিমার দ্বিতীয় চুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয়তা নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কর্মীরা সেখান থেকে সরে গেছে। জাতিসংঘের আণবিক সংস্থা বলেছে, ওই চুল্লি থেকে এখনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়াচ্ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান ফুকুশিমা ও পার্শ্ববর্তী ইবারাকি এলাকার গভর্নরদের সেখানে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচা শাকসবজি, তরিতরকারি, গরু-মোষের কাঁচা দুধ ইত্যাদি।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) বিভাগ বলেছে, তারা ফুকুশিমা, ইবারাকি, তোচিগি ও গানমা এলাকায় উৎপাদিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, তাজা ফল ও শাকসবজি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না।

টেন্ডুলকার-আবেগে পন্টিংয়ের লাগাম

সবরমতি নদীর তীরে দুই মহাতারকার একজনের বিশ্বকাপ-জীবনের ইতি ঘটতে চলেছে আজ। পরের বিশ্বকাপ শচীন টেন্ডুলকার বা রিকি পন্টিংকে পাবে কি না, সে প্রশ্ন পরে। কিন্তু আপাতত দুই তারকার একজনকে বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে বিদায় দিতে তৈরি সরদার প্যাটেল স্টেডিয়াম।
কাল দুপুরে যখন সংবাদ সম্মেলনে এলেন পন্টিং, তাঁর দিকে ধেয়ে গেল নানা বিতর্কিত প্রশ্ন। নিজের ফর্মহীনতা, আউট জেনে টেন্ডুলকারের মতো না ‘হাঁটা’, মেজাজ হারিয়ে এই বিশ্বকাপেই ড্রেসিংরুমে টিভি ভাঙাসহ কত কী না করলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ-পূর্ব নিজের শেষ সংবাদ সম্মেলনটাও করে ফেললেন কি না—বাতাসে ভাসল এমন সব গুঞ্জনও।
আসলে নিয়তির লিখন। এবং এখানেই দেখা যাচ্ছে টেন্ডুলকার-পন্টিং দুজনই নিজ নিজ ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দুই মেরুতে। টেন্ডুলকার আছেন ফর্মের সপ্তস্বর্গে, ব্যাট ছুটিয়ে চলছে রানের ফোয়ারা, শাণিত ব্যাটটা গত বছর দুয়েকে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে কুড়িয়েছে ১৬টি সেঞ্চুরি, এই বিশ্বকাপেই যার দুটি। উল্টো দিকে পন্টিংয়ে ব্যাটে মরুর খরা, ১৭ ম্যাচ আগে পেয়েছেন শেষ সেঞ্চুরি, গত জুনের পর থেকে দেখা পাননি একটা ফিফটিরও।
এই অবস্থায় তাঁর নিজের মনে বিদায়ের রাগিণী বেজে থাকলে অপ্রকাশিতই রাখলেন পন্টিং। দুটি বিশ্বকাপ জেতা অধিনায়ক তাকাতে চান সামনে। কিন্তু পন্টিংকে এদিন দেখে মনে হয়েছে, সম্রাট নেপোলিয়নের সেই ওয়াটার লুর যুদ্ধের মতো তাঁর সামনেও আজ একটা যুদ্ধ। সরদার প্যাটেল স্টেডিয়াম সেই যুদ্ধের ময়দান। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় এখানে ঘটেছিল গোধরা হত্যাকাণ্ড। যেটির বর্ণনা দিতে গিয়ে আজও শিউরে ওঠেন স্থানীয়রা। পন্টিং শুনে থাকলে নিশ্চয়ই বিড়বিড় করে বলবেন, ‘আজ তো আমারও যুদ্ধ!’
নিজেকে বাঁচানো, দলকে বাঁচানো এবং অতঃপর টেন্ডুলকার ঠেকাও—পন্টিংয়ের সামনে চ্যালেঞ্জের অভাব নেই। সেই চাপেই যেন রোগাটে হয়ে গেছেন। যদি আজ টেন্ডুলকার নিজের শততম সেঞ্চুরিটা পেয়ে যান এবং ভারত জিতে যায় তাহলে? টেন্ডুলকারকে আটকাতে নিশ্চয়ই কাজ করেছেন পন্টিং?
প্রশ্ন শুনে স্মিত হাসি পন্টিংয়ের মুখে, ‘আশা করি, সে কাল (আজ) সেঞ্চুরিটা পাবে না। আমরা তাকে সেই সুযোগ দেব না নিশ্চিত থাকুন।’ কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯টি সেঞ্চুরির মালিকের বিদায় কি ব্যক্তি পন্টিংকে একটু বেদনাহত করবে না?
আবেগের লাগাম পন্টিংয়ের গলায়, ‘এটা অসাধারণ ব্যাপার। শচীন যেভাবে এতটা পথ এল, সহজ ব্যাপার নয়। তবে এটা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, আমরা আবেগতাড়িত নই।’
কিন্তু আবেগ ছুঁয়ে যাচ্ছে আহমেদাবাদের গা-পোড়ানো রোদেও। টেন্ডুলকার-পন্টিংয়ের মতো চরিত্র না থাকলে বিশ্বকাপ কি ঔজ্জ্বল্য হারায় না? নির্মম সত্য হচ্ছে, আজ একজনকে মঞ্চ ছাড়তেই হচ্ছে।
পন্টিং বিদায় নিক, ভারত সেটাই চাইছে। কিন্তু টেন্ডুলকারের বিদায় মাতম তুলবে এখানে। চেন্নাইয়ে শততম সেঞ্চুরি পাননি, আহমেদাবাদবাসী বুক বেঁধে আছে, নায়ক এখানে রেখে যান আরেকটা কীর্তি। স্থানীয় এক সংগঠক বলছিলেন, ‘ভারত হারলেও ততটা দুঃখ পাব না, টেন্ডুলকার শততম সেঞ্চুরি না পেলে যতটা বেশি পাব।’
এই সরদার প্যাটেল স্টেডিয়ামে টেন্ডুলকার পেয়েছেন তাঁর টেস্টের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড), কিছুদিন আগে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দুই দশক এখানেই উদ্যাপন করেছেন। টেন্ডুলকারের জন্য মঞ্চটা দুহাত বাড়িয়েই রয়েছে।
সেই মঞ্চে কাল মধ্যদুপুরে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বললেন, ‘আমরা ওর ওপর চাপ তৈরি করতে চাই না। আগে ওকে রানটা করতে দিন।’
সকালে আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত বলে গেলেন, ‘টেন্ডুলকার শততম সেঞ্চুরি পেলে আমরা ওকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার কথা ভাবব।’
কলকাতার এক রিপোর্টার গত তিন সপ্তাহে টেন্ডুলকারের ওপর ১৮টি লেখা লিখেছেন। চারটি তৈরি রেখেছেন, শততম সেঞ্চুরি হলেই এগুলো ‘বাজারে’ ছাড়বেন। বাজারে এলে পন্টিং যে হাতে পেয়ে ভুলেও চোখ বোলাবেন না, কাল তাঁকে দেখে ভালোই বোঝা গেছে!

আফ্রিদি মানেই এখন উইকেট!

জার্সি নম্বর ১০। নম্বরটা কি তিনি ইচ্ছা করেই বেছে নিয়েছেন? নাকি কাকতাল! ভেবে নিতে ইচ্ছা করে, ১০ নম্বর জার্সিটা শহীদ আফ্রিদি বেছে নিয়েছেন ইচ্ছা করেই। আফ্রিদি যেন ক্রিকেটে গুরুত্বহীন জার্সি নম্বরটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চান। ফুটবলে যেমন ১০ নম্বরটা নিজেই কিংবদন্তি। ক্রিকেটে নয়। তবে হয়ে উঠতে পারে এর পর থেকে। শচীন টেন্ডুলকারের নম্বর ১০। আফ্রিদিরও।
টেন্ডুলকারের ব্যাট এই বিশ্বকাপেও হাসছে। তবে তার চেয়েও বেশি হাসছেন আফ্রিদি। না, তাঁর ব্যাট নয়; হাসছেন বোলার আফ্রিদি। প্রথম তিন ম্যাচেই নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। পরের তিন ম্যাচে তিনটি নিয়ে একটু যেন জিরিয়ে নিয়েছিলেন। বিশ্রাম শেষ। কাল আবার ৪ উইকেট নিলেন ৩০ রান খরচায়। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার চার উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটা এত দিন ছিল দুই স্পিনার শেন ওয়ার্ন আর মুত্তিয়া মুরালিধরনের।
কাল তাঁদের পাশে নয়, একেবারে ওপরে গিয়ে বসলেন আফ্রিদি। কাল চতুর্থবারের মতো ম্যাচে ৪ উইকেট। ওয়ার্ন-মুরালিরও তা-ই। তবে আফ্রিদি সেটা করলেন এক বিশ্বকাপেই। ওয়ানডে ইতিহাসেই এক টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশিবার চার উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড।
এই বিশ্বকাপের যাত্রাপথে আফ্রিদি এরই মধ্যে বেশ কিছু রেকর্ড ভেঙেছেনও। তাঁর প্রিয় ‘ওয়াসিম ভাই’য়ের একটা রেকর্ড যেমন। ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতার পথে ওয়াসিম আকরাম নিয়েছিলেন ১৮ উইকেট। এত দিন সেটাই ছিল এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার পাকিস্তানি রেকর্ড। কাল আকরামকে দুইয়ে ঠেলে দিলেন। ২১ উইকেট নেওয়া আফ্রিদির সামনে এখন বিশ্বকাপের রেকর্ডটারই হাতছানি। গত বিশ্বকাপে গ্লেন ম্যাকগ্রা নিয়েছিলেন ২৬ উইকেট।
শুধু উইকেটপ্রাপ্তিতে নয়, আফ্রিদি ভূমিকা রাখছেন দলের জয়েও। কেনিয়াকে ২০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল পাকিস্তান। মাত্র ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন আফ্রিদি। ম্যাচ-সেরা অবশ্য ওই ম্যাচে হননি। হয়েছিলেন পরের ম্যাচে। শ্রীলঙ্কাকে একটুর জন্য জয়বঞ্চিত করেছিল ৩৪ রানে নেওয়া তাঁর ৪ উইকেট। যে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার তিন সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহকের দুজনই তাঁর শিকার। সেই দুটো উইকেট আবার তিলকরত্নে দিলশান আর কুমার সাঙ্গাকারার বলে মাহাত্ম্যটা বেড়ে যাচ্ছে আরও। অধিনায়ক আফ্রিদির আরও বড় ভূমিকাটা দেখা গেছে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচটায়। মাত্র ১৮৪ রান করেও পাকিস্তান জিতেছে তাঁর স্পিনে আবারও পাঁচ ব্যাটসম্যান বধ হওয়ায়। এবারও ম্যাচ-সেরা আফ্রিদি।
গ্রুপ পর্বের শেষ তিন ম্যাচে উমর গুলের ছায়ায় ঢাকা পড়েছিলেন। কিন্তু আফ্রিদি কাল জ্বলে উঠলেন আবারও। স্পিনের বিপক্ষে হাঁসফাঁস করতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের গলায় মরণফাঁস পরিয়ে দিলেন। জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও।
বল হাতে যেভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটি ব্যাট হাতেও দিতে পারলে সবচেয়ে খুশি তিনিই হতেন। আফ্রিদির বড় পরিচয় তো ছিল ওটাই—‘বুমবুম আফ্রিদি’ নামটা আর এমনিই হয়নি। প্রতিটা সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যাটিং নিয়ে নিজেই সমালোচনা করছেন। কে জানে, ব্যাট হাতে সফল হতে না-পারাটাই হয়তো তাঁকে বেশি করে অনুপ্রাণিত করছে বল হাতে জ্বলে উঠতে!
তবে এটা নিশ্চিত, বিশ্বকাপ যে তাঁর জন্য একটা দুঃস্মৃতি হয়ে ছিল, সেটাকে এবার মুছে ফেলার প্রতিজ্ঞাই করে এসেছিলেন। এর আগে যে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, তাতে তাঁর উইকেট ছিল ৭টি; রান ছিল সব মিলে ১২৫!
সেমিফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ঠিক হয়নি। যে-ই হোক, ফাইনালে ওঠার সেই লড়াইয়ের আগে প্রতিপক্ষের টিম মিটিংয়ে বড় একটা অংশ যাবে আফ্রিদির লেগ স্পিন সামলানোর কৌশল ঠিক করতে।

স্মরণীয় বিদায় চান বেলিস

আর মাত্র তিনটি ম্যাচ। সাড়ে তিন বছর আগে যে চূড়ার দিকে দৃষ্টি রেখে শুরু করেছিলেন অভিযান, সেটা আর মাত্র তিন ধাপ দূরে। লক্ষ্যটাকে এখন খালি চোখেই দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু এই পথটুকুই যে সবচেয়ে দুর্গম!
ট্রেভর বেলিসও তা জানেন। ২০০৭ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া শ্রীলঙ্কার অস্ট্রেলিয়ান কোচ তো ভালো করে জানেন নিজের দলকেও। বিশ্বকাপের আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, টুর্নামেন্ট শেষে আর থাকছেন না শ্রীলঙ্কায়। নিজের দলকে চেনেন বলেই দৃঢ়বিশ্বাস তাঁর বিদায়টা হবে মধুর, ‘আর মাত্র তিনটি ম্যাচ! এই ম্যাচ তিনটি জিতে বিদায় নিতে পারলে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হয় না। আমাদের লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আমরা ভালো খেললে আমাদের হারানো কঠিন হবে।’
তিন ধাপের প্রথমটিতে বেলিসের দলকে জয় পেতে হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে যে ওঠা-নামা আর স্পিনে যে দুর্বলতা তাতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছে তারা। একটু এদিক-সেদিক হলে তো ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে খেলতে হতো! বেলিস কিন্তু ইংল্যান্ডকে মোটেও সহজ ভাবতে রাজি নন। যুক্তিটাও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়, ‘আমার কিন্তু মনে হয় না ইংল্যান্ড খারাপ খেলছে। বেশ কিছু উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে তারা, কয়েকটি জিতেছে, কয়েকটি হেরেছে। এই ক্লোজ ম্যাচগুলো খেলার জন্যই ওদের নার্ভ একটু শক্ত থাকবে। একটা না-একটা ম্যাচে তো ওরা সেরাটা দেবেই। হয়তো কোয়ার্টার ফাইনালেই। আমাদের লক্ষ্য থাকবে ওদের চেয়ে ভালো খেলা। আগের ম্যাচগুলোয় যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো আর করতে চাই না।’
লক্ষ্য পূরণে বেলিসের মূল হাতিয়ারগুলোর একটিকে পাওয়া নিয়ে অবশ্য খানিক শঙ্কা আছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ার পথে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগেছিল মুত্তিয়া মুরালিধরনের। কাল নেটে ব্যাটসম্যানদের বোলিং করেননি, তবে আলাদা নেটে মিনিট বিশেক বোলিং করেছেন। বেলিস জানালেন মুরালি খেলবেনই, ক্যারিয়ারে কতবারই তো ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে খেললেন। মাঠে নামার জন্য নাকি মুখিয়ে আছেন স্পিন-জাদুকর।
বেলিস অবশ্য অভিযানের সফলতায় অভিজ্ঞ মুরালির মতো ভরসা রাখছেন তাঁর তরুণ ব্রিগেডের ওপরও, ‘মুরালি এখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেমনটা ছিল ১৫ বছর ধরে। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমাদের বেশ কজন তরুণ ক্রিকেটার উঠে এসেছে। মেন্ডিস, ম্যাথুস, থিসারা আমাদের বেশ কিছু ম্যাচ জিতিয়েছে। আশা করি, এবারও ওরা নিজেদের মেলে ধরবে।’
বেলিসের কোচিংয়ে ৯০ ম্যাচের ৪৯টিতে জিতেছে শ্রীলঙ্কা, হার ৩৫টিতে। গত এক বছরে সাফল্যের হারটা আরও বেশি। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩১ ম্যাচের ২১টিতেই জয়, হার মাত্র ৭ ম্যাচে। এই ধারাবাহিকতা ফিরে পাওয়াকেই নিজের কোচিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানলেন বেলিস। তবে এ মুহূর্তে খুব বেশি ধারাবাহিকতার প্রয়োজন নেই, দরকার মাত্র ৩টি জয়। এখানে ছন্দপতন হলে যে আগের ধারাবাহিকতা কেউ খুব একটা মনে রাখবে না!

ভবিষ্যতে কয়টি দল খেলবে তা চূড়ান্ত নয়: লরগাত

সিদ্ধান্তটি মোটামুটি নেওয়া হয়েই গেছে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠেয় একাদশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেবে ক্রিকেটের শীর্ষ ১০টি দল। সরাসরি না বললেও টেস্ট খেলুড়ে ১০টি দেশকে নিয়েই যে আইসিসি পরের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে, তা মোটামুটি নিশ্চিত। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারাচ্ছে আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড, কেনিয়া, কানাডার মতো সহযোগী সদস্য দেশগুলো। এ নিয়ে ইতিমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিস্তর বিতর্ক। অনেকে আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘পেছনের দিকে হাঁটা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এতে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।
তবে বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের পারফরম্যান্সের ব্যাপারটি আইসিসিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তা গতকাল জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত নিজেই। আহমেদাবাদে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আয়ারল্যান্ডের পারফরম্যান্সে আইসিসি দারুণ সন্তুষ্ট। আগামী বিশ্বকাপে কয়টা দেশ খেলবে, ১০টি দল খেললেও তাঁরা কী পদ্ধতিতে কোয়ালিফাই হয়ে আসবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগে অনেক বিতর্ক, অনেক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ৫০ ওভারের ক্রিকেট নিয়েও এত গুঞ্জন হয়নি। অনেকে তো বলেই ফেলেছিলেন টি-টোয়েন্টির দাপটে ৫০ ওভারের ক্রিকেট না আবার বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে স্নায়ুক্ষয়ী সব ম্যাচ, দর্শক আগ্রহ বিচার করে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের পুনর্জাগরণ ঘটেছে বলেই মনে করেন লরগাত। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি খেলায় দর্শক আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। টেলিভিশনেও দর্শকের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। এসব ব্যাপার ওয়ানডে ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকেই নির্দেশ করে।’
রেফারেল পদ্ধতি নিয়েও বিশ্বকাপে বিতর্কের ডালপালা গজিয়েছে। অনেক দলের অধিনায়ক ও তারকা বিশেষজ্ঞরা তো এ পদ্ধতিকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করতে ছাড়েননি। তাঁরা বলেছেন, প্রযুক্তিগত উত্কর্ষ ছাড়া এ পদ্ধতি একেবারেই অসার। তাঁদের মতামতকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে এ পদ্ধতি নিয়ে আরও চিন্তা-ভাবনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন লরগাত। তাঁর ভাষায়, ‘আমি নিজেও খুবই প্রযুক্তিবান্ধব একজন মানুষ। অবশ্যই রেফারেল পদ্ধতির আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আইসিসি চায়, মাঠে একজন আম্পায়ার পদ্ধতিগতভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত দিক। আগামী মে মাসে এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে। আশা করছি, জুনের মধ্যে আইসিসি এ-সংক্রান্ত কমিটির মতামত নিয়ে চূড়ান্ত একটি সিদ্ধান্তে আসবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতই ফেবারিট: কুম্বলে

ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও স্পিন তারকা অনিল কুম্বলের দৃষ্টিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার আজকের কোয়ার্টার ফাইনালে ফেবারিট ভারতই। তাঁর মতে, ‘২০০৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া দুটি দল ভারত ও অস্ট্রেলিয়া আজ মোতেরাতে যখন মাঠে নামবে, তার আগে সময় অনেক কিছুই পরিবর্তন করে দিয়েছে। ২০০৩ সাল ও ২০১১ সালের মধ্যে পেরিয়ে গেছে আটটি বছর। এর মাঝে অস্ট্রেলিয়া পরিণত হয়েছে ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে। উল্টা দিকে ভারত একটি দল হিসেবে অনেক উন্নতি করেছে।’
তবে কুম্বলে অস্ট্রেলিয়া দলকে একটি শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জিততে হলে আপনাকে সেরা দলগুলোকেই হারাতে হবে। তাই অস্ট্রেলিয়া কতটুকু শক্ত প্রতিপক্ষ, সেগুলো নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে, ভারতীয় খেলোয়াড়দের উচিত মাঠে নেমে নিজেদের পুরোটা ঢেলে দেওয়া।’
পাওয়ার প্লেতে ভারতের ব্যাটিং দুর্বলতা ধরা পড়েছে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। এ ব্যাপারে কুম্বলের অভিমত, ওয়ানডে ক্রিকেটে জিততে হলে আপনাকে পুরো ৫০ ওভার নিয়েই ভাবতে হবে। তাই মাঝের পাঁচ ওভারে কী হচ্ছে, না হচ্ছে, তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।’
নিজের আউট বুঝতে পারার পরেও অনেক খেলোয়াড়ই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকেন। ব্যাপারটি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠলেও কুম্বলের চিন্তা-ভাবনা এ ব্যাপারে একটু অন্য রকম। তিনি বলেন, ‘আসলে এটা নির্ভর করে ব্যক্তির ওপর। আউট জানার পরেও সে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকবে না কি প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটতে শুরু করবে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ব্যাটসম্যানের নিজের।’

‘সেমির প্রতিপক্ষ নিয়ে আলাদা ভাবনা নেই’

কোয়ার্টার ফাইনালের মতো লড়াই যেখানে অনিঃশেষ স্নায়ুক্ষয়ের কারণ হয়, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়টা এসেছে ১০ উইকেটের সহজতর ব্যবধানে—কোচ ওয়াকার ইউনুস এই জয়ে খুশি হতেই পারেন। তবে পাকিস্তানের সাবেক এই গতি তারকা কোয়ার্টার ফাইনালের এ জয়টা দেখছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটের পুনর্জাগরণ হিসেবে। তাঁর মতে, এ দাপুটে জয়, পাকিস্তানি ক্রিকেটের প্রতি অগণিত ভক্ত-সমর্থকের বিশ্বাস ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়টা এমন একটা সময়ে এল, যখন পুরো পাকিস্তান প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করছে। আমরা এই জয়টা দেশবাসীর জন্য উত্সর্গ করছি।’ আনন্দিত, আপ্লুত ওয়াকারের মন্তব্য।
গত বছরটা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ছিল নিকষ কালো এক অধ্যায়। বাট, আমির ও আসিফের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, বিতর্ক—সবকিছুই পাকিস্তানের ক্রিকেটকে করেছিল সমালোচিত। এবারের বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে কেউ গণনার মধ্যেই রাখেনি। নিজেদের চেষ্টা আর একনিষ্ঠ পারফরম্যান্স দিয়ে সেই দলটিই জায়গা করে নিয়েছে সেমিফাইনালে। পুরো ব্যাপারটিকে ওয়াকার দেখছেন এভাবে, ‘গত বছরটা আমাদের জন্য ভালো ছিল না। নানা রকম উত্থান-পতন, বিতর্ক দেশের ক্রিকেটকে বারবার আঘাত করেছে। সমর্থকেরা সেই আঘাতগুলো সহ্য করেছে নিদারুণ কষ্টের সঙ্গে। বিশ্বকাপের সেমিতে উঠে, সেই বাজে দিনগুলো অবশ্যই আমরা পেছনে ফেলে এসেছি।’
পাকিস্তানের এ সাফল্যে বোলারদের অবদান সর্বাধিক বলেই জানালেন ওয়াকার। তিনি বলেন, ‘কৃতিত্ব যদি কিছু দিতে হয়, সেটা বোলারদেরই দিতে হবে। পুরো বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বোলাররা অসাধারণ বল করেছে। কেবল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া। এমনকি পার্টটাইম বোলাররাও প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের মেলে ধরেছে।’
আজ আহমেদাবাদে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দলের সঙ্গে মোহালির সেমিতে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। এই ম্যাচটি যেহেতু ভারতের মাটিতে হচ্ছে, তাই প্রতিপক্ষ নিয়ে তাঁর চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন সংবাদকর্মীরা। তাঁদের হতাশ করেই ওয়াকার জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ নিয়ে আলাদা কোনো ভাবনা নেই তাঁর দলের। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, তার বিপক্ষে লড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত পাকিস্তান দল।