Tuesday, April 14, 2020
বদলে যাওয়া সংস্কৃতি নাকি আধুনিকতার ছোঁয়া? by শামীমুল হক

কেউ টানছেন ডবডবি। এক উৎসবমুখর গ্রাম-বাংলা। বছরের শেষদিন চৈত্রসংক্রান্তির দিনে এবং বছরের শুরুর দিন পহেলা বৈশাখ বসতো এ বান্নি বা মেলা। থাকতো নানা ধরনের খাবার। যা শুধু মেলাতেই মিলত। এছাড়া শিশুরা নাগরদোলায় চড়তো। কেউ কেউ পুতুলনাচ দেখতো। কোনো কোনো বান্নিতে যাত্রাপালাও হতো। বাংলা নববর্ষ বলে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ছিল বান্নি জুড়ে। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ীরা হালখাতা করতেন। মিষ্টির ড্রাম নিয়ে বসতেন।
ওইদিন যাবতীয় বকেয়া পরিশোধ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দায়মুক্তি নিতেন নির্দিষ্ট ক্রেতারা। এর অর্থ ছিল ব্যবসায়ী বা দোকানিরা বকেয়ার খাতাটি হালনাগাদ করে নিতেন। একে একে দেনাদাররা আসেন। দেনা পরিশোধ করেন। দোকানিরা তাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় দিতেন। করতেন কোলাকুলি। পরদিন থেকে শুরু হতো নতুন বছরের যাত্রা। আর গ্রামের ঘরে ঘরে সেদিন একটু হলেও তিতা জাতীয় কিছু মুখে দিয়ে তারপর খাবার শুরু করতেন। এটাই ছিল প্রথা। কিন্তু এখন? গ্রামে গেলেও এসব আর দেখা যায় না। এতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তিতার জায়গা দখল করেছে পান্তা আর ইলিশ। নব্বই দশকে শুরু হওয়া চারুকলার মঙ্গলশোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে বাংলা নববর্ষের প্রধান আকর্ষণ। পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। কিন্তু এ প্রাণের উৎসবে বাঙালির বাঙালিয়ানা কতটুকু আছে?
ভারতবর্ষের সম্রাট বিক্রমাদিত্য প্রবর্তন করেন পঞ্জিকা। এর নাম বিক্রম সাম্বাত পঞ্জিকা। এই পঞ্জিকা ধরেই বাংলা পঞ্জিকার যাত্রা। এই পঞ্জিকাকেই ক্যালেন্ডার বলা হতো। তখন ছিল সংস্কৃত ভাষা। এটাকে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা হয়। বারো মাসের নামগুলোও রাখা হয় একই। ইতিহাস মতে, রাজা শশাঙ্কের শাসনামলে ৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা সাল গণনা শুরু হয়। একটি কথা না বললেই নয়, পহেলা বৈশাখ শুধু বাঙালির নববর্ষ নয়, এটি পুরো দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নববর্ষ। ভারতবর্ষের শাসনক্ষমতা তখন মুঘল সম্রাটদের হাতে। পাল থেকে সেন, সেন থেকে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুঘলরা ক্ষমতায় আসে। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর এবং তার পুত্র দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ূন হিজরি সাল অনুযায়ী রাজ্য পরিচালনা করলেও, তৃতীয় মুঘল সম্রাট জালালুদ্দিন মুহম্মদ আকবর চন্দ্র মাসের ক্যালেন্ডার পাল্টে বাংলা ক্যালেন্ডার পুনঃস্থাপন করেন। এর কারণ ছিল, খাজনা আদায়।
চন্দ্র মাস অনুযায়ী খাজনা আদায় করতে গিয়ে কয়েক বছর ঘুরে খাজনা আদায়ের সময় চলে আসে ভিন্ন ঋতুতে। এতে কৃষকদের খাজনা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা দূর করতে সম্রাট আকবর ইরান থেকে আসা বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ সিরাজিকে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে সৌরবর্ষপঞ্জিতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব দেন। এভাবেই বাংলা পঞ্জিকার নবযাত্রা শুরু হয়। এরপরও সময়ে সময়ে বাংলা ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিকায়ন হয়েছে।
কিন্তু পহেলা বৈশাখ বাঙালির হৃদয়ে বাঙালিয়ানাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছে। তবে আদি সেই সংস্কৃতি দিন দিন বদলে যাচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখানেও এসেছে পরিবর্তন। পান্তা আর ইলিশ এসেছে খাবারের পাতে। হালখাতা যেন এখন হারিয়ে যাচ্ছে। কার্ডের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো হয়ে গেছে রেওয়াজ। নদীর পাড় থেকে বান্নি উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও উঠে গেছে। এর জায়গা নিয়েছে শহরে বৈশাখী মেলা নামে। যেন গ্রামীণ ছোঁয়ার ছিটেফোঁটাও পাওয়া যায় না। সেই এক মঞ্চের মধ্যেই যেন বন্দি বাংলা নববর্ষ। আগে শহর থেকে গ্রামে যেতেন বান্নি দেখতে। আর এখন গ্রাম থেকে মানুষ শহরে আসেন মঙ্গল শোভাযাত্রা দেখতে। পার্থক্য এখানেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে

মিষ্টি কুমড়ার কাণ্ড: মিষ্টি কুমড়া এক ধরনের কোমল কাণ্ডবিশিষ্ট বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। কাণ্ড দৃঢ়, হালকা সবুজ, অগভীর খাদবিশিষ্ট এবং তীক্ষ্ম কোমল লোমে আবৃত। গাছের গোড়ার দিকে আইক থেকে কয়েকটি প্রধান শাখা বের হয়। এগুলো ক্রমশ প্রশাখায় বিভক্ত হয়। আমাদের দেশে কচি শাখা-প্রশাখাগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে, শাখা কেটে দিলে কাটাস্থলের কাছ থেকে আবার প্রশাখা বের হয়।

মিষ্টি কুমড়ার ফুল: মিষ্টি কুমড়া এক ধরনের একবাসী জাত। অর্থাৎ একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদাভাবে উৎপন্ন হয়। উভয় ধরনের ফুল সবসময় একাকী এবং ভিন্ন পত্রকক্ষে উৎপন্ন হয়। ফুল ভোরবেলা প্রস্ফুটিত হয়। স্ত্রী ফুলের তুলনায় পুরুষ ফুল বেশি হয়। কুমড়ার জাত ও পরিবেশ ভেদে কম-বেশি হয়ে থাকে। কুমড়ার ফুল হলুদ রঙের, আকারে বৃহৎ। ফুলে ৫টি করে বৃত্তাংশ ও পাঁপড়ি থাকে। পুরুষ ফুলে তিনটি পুংকেশর থাকে। স্ত্রী ফুল থেকেই ফলের উৎপত্তি। পুরুষ ফুল সবজি হিসেবে এবং ভাজি হিসেবে খাওয়া যায়।
জলবায়ু ও মাটি: কুমড়ার জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে গেলে গাছের দৈহিক বৃদ্ধির হার কমে যায়।

জমি তৈরি ও বীজ বপন: পারিবারিক বাগানে কুমড়ার চাষ করতে হলে সুবিধাজনক স্থানে দু’একটি মাদায় বীজ বুনে গাছ মাচা, ঘরের চাল কিংবা কোন গাছের উপর তুলে দেয়া যেতে পারে। বাণ্যিজিক চাষের ক্ষেত্রে প্রথম ভালোভাবে জমি ৫-১০ সেমি করে কয়েকবার ক্রস চাষ দিয়ে মই দ্বারা সমান করতে হবে। তারপর ১৫-২০ সেমি উঁচু এবং ২.৫ মি বাই ৮মি প্লট তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি প্লটে ২ মিটার পর পর ৪৫ বাই ৪৫ বাই ৪০ সেমি আকারের পিট তাতে বীজ বপন করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রতিটি প্লটের মাঝে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরু নালী এবং জমির চারপাশে অপেক্ষাকৃত মোটা নালী তৈরি করে রাখতে হবে। যাতে প্রয়োজনে পানি নিষ্কাশন করা যায়।
সার ব্যবহার: ভালো ফলন পেতে মাটির উর্বরতার উপর ভিত্তি করে জমিতে বিভিন্ন সার ব্যবহার করা দরকার। এক্ষেত্রে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। আমাদের দেশের পেক্ষাপটে প্রতিটি পিটে সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। বীজ বপনের প্রায় ১০-১৫ দিন আগে প্রতিটি প্লটে ১০-১৫ কেজি গোবর সার এবং প্রতিটি পিটে ৫০ গ্রাম টিএসপি, ৪০ গ্রাম এমপি, ৪০ গ্রাম জিপসাম মাটির সাথে ভালোভাবে মিশ্রিত করে পিট তৈরি করলে ভালো হয়। বীজ অঙ্কুরিত হলে ১৫-২০ দিন পর প্রতিটি পিটে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

সেচ প্রদান: কুমড়া গাছের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারনের জন্য মাটিতে রস থাকার প্রয়োজন। শুষ্ক আবহাওয়া থাকলে ৫-৬ দিন পর পর হালকা সেচ দিতে হবে। তবে ফল তোলার তিন সপ্তাহ আগেই সেচ দেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। অপরদিকে বর্ষা বা বৃষ্টির পানি যাতে বেশি দিন গাছের গোড়ায় জমে না থাকে।
ফসল সংগ্রহ: বীজ বপণের দু’মাসের মধ্যে কুমড়ার গাছ ফল ধরতে শুরু করে এবং রোগাক্রান্ত না হলে আড়াই মাস ব্যাপি ফল দিয়ে থাকে। পরাগায়নের ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফল সবজি হিসেবে খাওয়ার উপযোগী হয়। কুমড়ার ফল সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট কোন পর্যায় নেই। ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অপক্ক ও পরিপক্ক ফল পাড়া হয়। ফল যত বেশি পাড়া হয় ফলন তত বেশি হয়। সবজি হিসেবে ব্যবহার করতে হলে ওজন আধা কেজি হলেও ফল পাড়া যায়। ফল পরিপক্ক হলে হালকা হলুদ রং ধারণ করে। ফল পাকাতে চাইলে শেষের দিকে গাছে দিতে হবে। ফল পাকালে হেক্টর প্রতি ফলন কমে যায়। তবে সবজি হিসেবে ফল সংগ্রহ করলে হেক্টর প্রতি ২০ টন ফলন পাওয়া যায়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভ্রমণ : শ্রীলঙ্কা ডায়েরি by অশোক কে মেহতা

গত মাসে আমি নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। অর্ধাবৃত্তাকারে ঘুরলাম শ্রীলঙ্কা। কলম্বো-গল-পুতভিল থেকে বাত্তিকোলোয়া-ত্রিনকোমালি-কলম্বো ছুটলাম। পাঁচ দিনে চক্কর দিলাম প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার। ২০০৯ সালের মে মাসে যুদ্ধ বন্ধ হয়। এরপর এক দিনের জন্যও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেনি। দেশটি পরিণত হয় শান্তির স্বর্গে। মনমুগ্ধকর পরিবেশ, বন্ধুপ্রতীম লোকজন, জিবে পানি আসা খাবার- আর কী চাই। আর সবাই পাওয়া যায় একেবারে অল্প দামে।
ডন্দ্র হেডের কাছে গল হলো শ্রীলঙ্কা সর্বদক্ষিণের প্রান্তভাগ। জায়গাটা অনেকটা উত্তরের পয়েন্ট পেড্রোর মতো। ১৫০৫ সাল পর্তুগিজদের বানানো ক্লক হাউজ আর লাইট হাউজ এখনো শোভা পাচ্ছে। তবে কেবল পর্তুগিজদেরই নয়, ডাচ, ব্রিটিশদের ছোঁয়া এখনো অনুভব করা যায়। সমুদ্র জাদুঘরে তাদের শিল্পকর্মগুলো বেশ যত্নে আছে। ডাচ রিফর্ম চার্চ, গল লাইব্রেরিও মনে ধরার মতো জিনিস। এক সময় হানাদারদের আটকানোর জন্য উপকূলে মোতায়েন ছিল ১৯টি কামান। এখনো সেগুলোর ভগ্নাবশেষ রয়ে গেছে।

প্রায় এক লাখ জাহাজ কাছের পূর্ব-পশ্চিম রুট দিয়ে চলাচল করে। এটা হলো ভারত মহাসাগরের সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুট। প্রায় পুরো উপকূলই অবকাশকেন্দ্র আর হোটেলে পরিপূর্ণ। সি-সার্ফিং আর ডাইভিংপ্রিয় বিদেশিদের জন্য এটা হলো সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। বর্ষায় টুনা মাছ শিকার আর গল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে তিমি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র যে কাউকে হাতছানি দেবে বারবার।
আবার গল থেকে ইস্টার্ন প্রভিন্সে সড়কপথটি চমৎকার। দুই মুখো রাস্তাটি চীনা-নির্মিত হাম্বানতোতা বন্দর আর রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এখন অবশ্য খুব কমই ব্যবহৃত হয়। রাজাপাকসে যদি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যেতে পারতেন, তবে হাম্বানতোতা হয়তো শ্রীলঙ্কার দক্ষিণমুখো রাজধানীতে পরিণত হতে পারতো।
তামিল ইস্টে রয়েছে হিন্দু আর মুসলিমদের আবাস। স্থানটি প্রজাপতি পার্কের জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া আছে জেসুইট স্কুল।
অবশ্য এই এলাকায় পর্যটন তেমনভাবে বিকশিত হয়নি। অথচ এখানেও আছে বিশাল বিশাল বিচ। বিশেষ করে কালকুদাহ আর পুস্কুদার কথা বলতেই হয়।

সিডনির পর ত্রিনকোমালি হলো বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোত্তম প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়। এটা ইস্টার্ন প্রভিন্সের রাজধানীও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার জন্য সাবেক এলটিটিই মুখ্যমন্ত্রী পিলায়ান এখন জেলে রয়েছেন। এখানে এলে অবশ্যই হারবার ক্রুইজ অবধারিত। আছে নেভি হাউজ, এলিফ্যান্ট পয়েন্ট। এলিফ্যান্ট পয়েন্টে ১২ ইঞ্চির ব্রিটিশ কামানগুলো শত বছরের বেশি সময় ধরে শত্রুদের দূরে রাখছে। ত্রিনকোর উত্তরে রয়েছে নিলাভেলি বিচ। এখানকার জায়গার দাম বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। প্রতি ইঞ্চি দাম সোনার মতো।
আর কলম্বোর জন্য গর্ব হয়, দু:খও লাগে। এর সৌন্দর্য হয়তো শিগগিরই হারিয়ে যাবে আকাশচুম্বি সব ভবনের জন্য। একের পর এক দীর্ঘ এপার্টমেন্ট, হোটেল হচ্ছে। এসবের বেশিই তৈরি করছে চীনারা।
শ্রীলঙ্কায় চীনারা সত্যিই বলতে পারে- এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।
লেখক : সাবেক জিওসি, আইপিকেএফ সাউথ, প্রায়ই শ্রীলঙ্কা ঘুরে বেড়ান
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যান্সারের কারণ হিসেবে মোটা শরীর কতটা দায়ী?
![]() |
| স্থূলতা এবং ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক পরিষ্কারভাবে উঠে এলেও, এর পেছনে কি ধরণের জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে তা এখনো সম্পূর্ণভাবে ধারণা করা যায়নি। |
![]() |
| ব্রিটেনে ক্যান্সারের প্রতিরোধ-যোগ্য কারণগুলোর মধ্যে ধূমপান প্রধান। এর পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ওবেসিটি। |
![]() |
| বিলবোর্ডে স্থুলতার ঝূঁকি সম্পর্কে তথ্য |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুরান ঢাকায় ‘লাঞ্চ এট হেরিটেজ হোম’ by শফিক রহমান

উনিশ শতকের মাঝামাঝি ঢাকা ও সোনারগাঁয়ের সাবেক জমিদার মৌলভী আবুল খায়রাত মোহাম্মদের (১৮৫০-১৯৩০) তৈরি করা লাল রঙের দোতলা ঐতিহাসিক ওই বাসভবনে বাঙ্গালীর পারিবারিক আপ্যায়নের আবহ ও পুরনো ঢাকার খাবারের ঘরোয়া স্বাদ নিয়ে এ আয়োজন আবু মোহাম্মদ ইমরানের। যিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন আবুল খায়রাতের ষষ্ট প্রজন্মের।
পুরনো ঢাকার বেসরকারি, আধাসরকারি এমনকি সরকারি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো যখন একে একে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে তখন আবু ইমরানের অভিমত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পক্ষে। বরাবরই যুক্ত রয়েছেন ‘সেইভ পুরান ঢাকা’ আন্দোলনের সঙ্গে। ‘লাঞ্চ এট হেরিটেজ হোম’ উদ্যোগকেও ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখছেন ইমরান।
ইতোমধ্যে আবু ইমরানের এ আয়োজনে আবুল খায়রাতের সময়ের আর্ট, এন্টিক আর ডাইনিং টেবিলে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন অনেকে। যাদের মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারির মধ্যে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের অতিথিরা।
ইমরান বলেন, “আমার এ আয়োজনের বয়স মাত্র মাস পাঁচেক। কিন্তু আতিথেয়তা এবং আপ্যায়নে আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য দুইশ বছরেরও বেশি। এই বাড়িতে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ছিলেন তিন মাসের বেশি সময়। কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাড়িতে বসেই লিখেছেন তার বিষের বাঁশি কাব্যের কয়েকটি কবিতা। তারও আগে এই বাড়িতে অসংখ্যবার এসেছেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক (অবিভক্ত বাংলা ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী), মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (আওয়ামী মুসলিম লীগ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির-ন্যাপ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের ৫ম প্রধানমন্ত্রী), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ (আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি) তৎকালীন নেতারা। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথায় এই বাড়িটির কথা উল্লেখ করেছেন। পঞ্চাশের দশকের যুক্তফ্রন্টের কয়েকটি বৈঠক এই বাড়িতেই হয়েছে।”

ইমরানদের পারিবারিক অ্যালবামে ১৯৩৭ সালে তোলা ‘Some Stalwarts of Eastern Bengal’ শিরোনামের একটি ছবিতেও দেখা যায় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, বিচারপতি স্যার জাহেদ সোহরাওয়ার্দী, স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, অধ্যাপক শাহেদ সোহরাওয়ার্দী, ড. সয়ুদ হোসাইন, সৈয়দ আলী আহমদসহ দশ জনকে।
অ্যালবামের ৬৪ নাম্বার ছবিটি এখানে আরও প্রাসঙ্গিক। যার ক্যাপশনে লেখা রয়েছে- Moulana Shawkat Ali entertained at Dacca by Aligarh Old Boys। ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯২১ সালে।
তবে এ যুগে আবুল খায়রাতের পরিবারের ভিন্নধর্মী এ আপ্যায়নের আয়োজনে অংশ নিতে হলে অন্তত একদিন আগে ফোন করতে হবে আপনাকে। দিনে সর্বোচ্চ জায়গা পাবেন ২০ থেকে ২৫ জন। জন প্রতি খরচ কোনভাবেই এক হাজার টাকার ওপরে যাবে না।
ইতোমধ্যে ঢাকাইয়া খাবারের রসালো বর্ননা ও বাড়ির ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার বিস্তারিত সব জানিয়ে খোলা হয়েছে ‘Lunch at Emran’s Heritage Home’ ফেসবুক পেজ।
ইমরান বলেন, ‘এ আয়োজনের পুরো কৃতিত্বের অংশিদার আরবান স্টাডি গ্রুপের (ইউএসজি) প্রধান নির্বাহী স্থ্যপতি তাইমুর ইসলাম। যিনি আমাদের পুরনো ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মসহ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে গত ১০/১২ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ঠ দেশি-বিদেশী পেশাজীবীসহ নানা পেশার পর্যটকদের নিয়ে সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত আয়োজোন করছেন ‘হেরিটেজ ওয়াক’। যার সুবাধেই আবার নতুন করে অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে আবুল খায়রাত ও তার পরিবারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ‘লাঞ্চ এট হেরিটেজ হোম’ এসব অনুপ্রেরণারই ফসল।
প্রসঙ্গত, জমিদার আবুল খায়রাত মোহাম্মদের প্রথম পুরুষ মুন্সী আলম। ইয়েমেনে যার জন্মস্থান। মুন্সী আলমের দুই ছেলের একজন মুন্সী গুল বকস ও আরেকজন মুন্সী নূর বকস। এই নূর বকসেরই ছেলে আবুল খায়রাত মোহাম্মদ। যার দুই ছেলের একজন আবুল হাসনাত ও আরেকজন আবু জাফর জিয়াউল হক ওরফে নাবালক মিয়া। নাবালক মিয়ার ছয় ছেলে ও ছয় মেয়ের মধ্যে এম এ জাহাঙ্গীরেরই ছেলে এ এম ইমরান।
পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ির ওই বাড়িটির পাশের চারটি সড়কের নাম এই পরিবারের চার সদস্যের নামে- নূর বকস রোড, আবুল খায়রাত রোড, আবুল হাসনাত রোড ও নাবালক মিয়া লেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


