Tuesday, April 14, 2020

বদলে যাওয়া সংস্কৃতি নাকি আধুনিকতার ছোঁয়া? by শামীমুল হক

আচ্ছা, সংস্কৃতি কি বদলে যাচ্ছে? নাকি এতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে? কোনটি যুতসই হবে বুঝে উঠতে পারছি না। ভেবে পাচ্ছি না। বেশি দূর নয়। বছর চল্লিশ আগে ফিরলে কি দেখি? গ্রামের মেঠোপথ মাড়িয়ে দলে দলে লোক যাচ্ছে নদীর পাড় কিংবা কোনো বটতলায়। সেখানে বাংলা বছরের শেষদিনে বসেছে বান্নি। হাঁটতে হাঁটতে যখন কাছে পৌঁছাতাম তখন ভেসে আসত হাজারো মানুষের কোলাহল। কেউ মাটির তৈরি নানা পণ্য কিনে আনছেন। কেউ বা ভেপু বাজাতে বাজাতে বাড়ি ফিরছেন।
কেউ টানছেন ডবডবি। এক উৎসবমুখর গ্রাম-বাংলা। বছরের শেষদিন চৈত্রসংক্রান্তির দিনে এবং বছরের শুরুর দিন পহেলা বৈশাখ বসতো এ বান্নি বা মেলা। থাকতো নানা ধরনের খাবার। যা শুধু মেলাতেই মিলত। এছাড়া শিশুরা নাগরদোলায় চড়তো। কেউ কেউ পুতুলনাচ দেখতো। কোনো কোনো বান্নিতে যাত্রাপালাও হতো। বাংলা নববর্ষ বলে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ছিল বান্নি জুড়ে। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ীরা হালখাতা করতেন। মিষ্টির ড্রাম নিয়ে বসতেন।
ওইদিন যাবতীয় বকেয়া পরিশোধ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দায়মুক্তি নিতেন নির্দিষ্ট ক্রেতারা। এর অর্থ ছিল ব্যবসায়ী বা দোকানিরা বকেয়ার খাতাটি হালনাগাদ করে নিতেন। একে একে দেনাদাররা আসেন। দেনা পরিশোধ করেন। দোকানিরা তাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় দিতেন। করতেন কোলাকুলি। পরদিন থেকে শুরু হতো নতুন বছরের যাত্রা। আর গ্রামের ঘরে ঘরে সেদিন একটু হলেও তিতা জাতীয় কিছু মুখে দিয়ে তারপর খাবার শুরু করতেন। এটাই ছিল প্রথা। কিন্তু এখন? গ্রামে গেলেও এসব আর দেখা যায় না। এতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তিতার জায়গা দখল করেছে পান্তা আর ইলিশ। নব্বই দশকে শুরু হওয়া চারুকলার মঙ্গলশোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে বাংলা নববর্ষের প্রধান আকর্ষণ। পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। কিন্তু এ প্রাণের উৎসবে বাঙালির বাঙালিয়ানা কতটুকু আছে?
ভারতবর্ষের সম্রাট বিক্রমাদিত্য প্রবর্তন করেন পঞ্জিকা। এর নাম বিক্রম সাম্বাত পঞ্জিকা। এই পঞ্জিকা ধরেই বাংলা পঞ্জিকার যাত্রা। এই পঞ্জিকাকেই ক্যালেন্ডার বলা হতো। তখন ছিল সংস্কৃত ভাষা। এটাকে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা হয়। বারো মাসের নামগুলোও রাখা হয় একই। ইতিহাস মতে, রাজা শশাঙ্কের শাসনামলে ৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা সাল গণনা শুরু হয়। একটি কথা না বললেই নয়, পহেলা বৈশাখ শুধু বাঙালির নববর্ষ নয়, এটি পুরো দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নববর্ষ। ভারতবর্ষের শাসনক্ষমতা তখন মুঘল সম্রাটদের হাতে। পাল থেকে সেন, সেন থেকে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুঘলরা ক্ষমতায় আসে। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর এবং তার পুত্র দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ূন হিজরি সাল অনুযায়ী রাজ্য পরিচালনা করলেও, তৃতীয় মুঘল সম্রাট জালালুদ্দিন মুহম্মদ আকবর চন্দ্র মাসের ক্যালেন্ডার পাল্টে বাংলা ক্যালেন্ডার পুনঃস্থাপন করেন। এর কারণ ছিল, খাজনা আদায়।
চন্দ্র মাস অনুযায়ী খাজনা আদায় করতে গিয়ে কয়েক বছর ঘুরে খাজনা আদায়ের সময় চলে আসে ভিন্ন ঋতুতে। এতে কৃষকদের খাজনা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা দূর করতে সম্রাট আকবর ইরান থেকে আসা বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ সিরাজিকে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে সৌরবর্ষপঞ্জিতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব দেন। এভাবেই বাংলা পঞ্জিকার নবযাত্রা শুরু হয়। এরপরও সময়ে সময়ে বাংলা ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিকায়ন হয়েছে।
কিন্তু পহেলা বৈশাখ বাঙালির হৃদয়ে বাঙালিয়ানাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছে। তবে আদি সেই সংস্কৃতি দিন দিন বদলে যাচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখানেও এসেছে পরিবর্তন। পান্তা আর ইলিশ এসেছে খাবারের পাতে। হালখাতা যেন এখন হারিয়ে যাচ্ছে। কার্ডের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো হয়ে গেছে রেওয়াজ। নদীর পাড় থেকে বান্নি উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও উঠে গেছে। এর জায়গা নিয়েছে শহরে বৈশাখী মেলা নামে। যেন গ্রামীণ ছোঁয়ার ছিটেফোঁটাও পাওয়া যায় না। সেই এক মঞ্চের মধ্যেই যেন বন্দি বাংলা নববর্ষ। আগে শহর থেকে গ্রামে যেতেন বান্নি দেখতে। আর এখন গ্রাম থেকে মানুষ শহরে আসেন মঙ্গল শোভাযাত্রা দেখতে। পার্থক্য এখানেই।

মিষ্টি কুমড়া চাষ করবেন যেভাবে

মিষ্টি কুমড়ার বীজ এক প্রকার আরোহী লতা জাতীয় গাছ। এর পাতাগুলো বড় এবং পাতা ও কাণ্ডে সাদা কোমল লোমাবৃত। ফল বড় গোলাকার এবং সাধারণত কমলা রঙের হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটা সবজি হিসেবে চাষ করা হয়। আমাদের দেশে চাষযোগ্য জমিতে ও বাড়ির আঙিনায় মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়। শুধু সবজি হিসেবে নয় মিষ্টি কুমড়া ও বীজে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ওষুধি গুণ। সামান্য ভাজা অবস্থায় মিষ্টি কুমড়ার বীজ বাদামের মতো সামান্য মিষ্টি স্বাদযুক্ত নমনীয় ও চর্বনযোগ্য খাদ্য।
মিষ্টি কুমড়ার কাণ্ড: মিষ্টি কুমড়া এক ধরনের কোমল কাণ্ডবিশিষ্ট বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। কাণ্ড দৃঢ়, হালকা সবুজ, অগভীর খাদবিশিষ্ট এবং তীক্ষ্ম কোমল লোমে আবৃত। গাছের গোড়ার দিকে আইক থেকে কয়েকটি প্রধান শাখা বের হয়। এগুলো ক্রমশ প্রশাখায় বিভক্ত হয়। আমাদের দেশে কচি শাখা-প্রশাখাগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে, শাখা কেটে দিলে কাটাস্থলের কাছ থেকে আবার প্রশাখা বের হয়।

মিষ্টি কুমড়ার ফুল: মিষ্টি কুমড়া এক ধরনের একবাসী জাত। অর্থাৎ একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদাভাবে উৎপন্ন হয়। উভয় ধরনের ফুল সবসময় একাকী এবং ভিন্ন পত্রকক্ষে উৎপন্ন হয়। ফুল ভোরবেলা প্রস্ফুটিত হয়। স্ত্রী ফুলের তুলনায় পুরুষ ফুল বেশি হয়। কুমড়ার জাত ও পরিবেশ ভেদে কম-বেশি হয়ে থাকে। কুমড়ার ফুল হলুদ রঙের, আকারে বৃহৎ। ফুলে ৫টি করে বৃত্তাংশ ও পাঁপড়ি থাকে। পুরুষ ফুলে তিনটি পুংকেশর থাকে। স্ত্রী ফুল থেকেই ফলের উৎপত্তি। পুরুষ ফুল সবজি হিসেবে এবং ভাজি হিসেবে খাওয়া যায়।
জলবায়ু ও মাটি: কুমড়ার জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে গেলে গাছের দৈহিক বৃদ্ধির হার কমে যায়।

জমি তৈরি ও বীজ বপন: পারিবারিক বাগানে কুমড়ার চাষ করতে হলে সুবিধাজনক স্থানে দু’একটি মাদায় বীজ বুনে গাছ মাচা, ঘরের চাল কিংবা কোন গাছের উপর তুলে দেয়া যেতে পারে। বাণ্যিজিক চাষের ক্ষেত্রে প্রথম ভালোভাবে জমি ৫-১০ সেমি করে কয়েকবার ক্রস চাষ দিয়ে মই দ্বারা সমান করতে হবে। তারপর ১৫-২০ সেমি উঁচু এবং ২.৫ মি বাই ৮মি প্লট তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি প্লটে ২ মিটার পর পর ৪৫ বাই ৪৫ বাই ৪০ সেমি আকারের পিট তাতে বীজ বপন করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রতিটি প্লটের মাঝে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরু নালী এবং জমির চারপাশে অপেক্ষাকৃত মোটা নালী তৈরি করে রাখতে হবে। যাতে প্রয়োজনে পানি নিষ্কাশন করা যায়।
সার ব্যবহার: ভালো ফলন পেতে মাটির উর্বরতার উপর ভিত্তি করে জমিতে বিভিন্ন সার ব্যবহার করা দরকার। এক্ষেত্রে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। আমাদের দেশের পেক্ষাপটে প্রতিটি পিটে সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। বীজ বপনের প্রায় ১০-১৫ দিন আগে প্রতিটি প্লটে ১০-১৫ কেজি গোবর সার এবং প্রতিটি পিটে ৫০ গ্রাম টিএসপি, ৪০ গ্রাম এমপি, ৪০ গ্রাম জিপসাম মাটির সাথে ভালোভাবে মিশ্রিত করে পিট তৈরি করলে ভালো হয়। বীজ অঙ্কুরিত হলে ১৫-২০ দিন পর প্রতিটি পিটে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

সেচ প্রদান: কুমড়া গাছের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারনের জন্য মাটিতে রস থাকার প্রয়োজন। শুষ্ক আবহাওয়া থাকলে ৫-৬ দিন পর পর হালকা সেচ দিতে হবে। তবে ফল তোলার তিন সপ্তাহ আগেই সেচ দেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। অপরদিকে বর্ষা বা বৃষ্টির পানি যাতে বেশি দিন গাছের গোড়ায় জমে না থাকে।
ফসল সংগ্রহ: বীজ বপণের দু’মাসের মধ্যে কুমড়ার গাছ ফল ধরতে শুরু করে এবং রোগাক্রান্ত না হলে আড়াই মাস ব্যাপি ফল দিয়ে থাকে। পরাগায়নের ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফল সবজি হিসেবে খাওয়ার উপযোগী হয়। কুমড়ার ফল সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট কোন পর্যায় নেই। ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অপক্ক ও পরিপক্ক ফল পাড়া হয়। ফল যত বেশি পাড়া হয় ফলন তত বেশি হয়। সবজি হিসেবে ব্যবহার করতে হলে ওজন আধা কেজি হলেও ফল পাড়া যায়। ফল পরিপক্ক হলে হালকা হলুদ রং ধারণ করে। ফল পাকাতে চাইলে শেষের দিকে গাছে দিতে হবে। ফল পাকালে হেক্টর প্রতি ফলন কমে যায়। তবে সবজি হিসেবে ফল সংগ্রহ করলে হেক্টর প্রতি ২০ টন ফলন পাওয়া যায়।

ভ্রমণ : শ্রীলঙ্কা ডায়েরি by অশোক কে মেহতা

যে দেশটি ৩০ বছর ধরে নৃশংস যুদ্ধ আর বর্বর সন্ত্রাসবাদে ছারখার হয়েছে, যে দেশটির অন্যতম আলোচিত ঘটনা এক নারী বোমারুর ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর প্রাণ সংহার, সেই দেশটি আজ দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ থেকে পর্যটনে রূপান্তর একদিকে যেমন চমক সৃষ্টিকারী, অন্যদিকে বিস্ময়কর। এক তেল ছাড়া বলা যায় পৃথিবীর প্রায় সব সম্পদেই ভরপুর শ্রীলঙ্কা। বিশেষ করে বিশাল বিশাল বিচের কথা তো না বলেই পারা যায় না। তামিল যুদ্ধের কারণে অবশ্য পর্যটকের আনাগোনা বেশ কমে গিয়েছিল। এমনকি ওই যুদ্ধের মধ্যেই নির্ভীক কয়েকজন জার্মানি আরুগাম বে থেকে ভাকারাই পর্যন্ত পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। এলটিটিই তাদের ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল।
গত মাসে আমি নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। অর্ধাবৃত্তাকারে ঘুরলাম শ্রীলঙ্কা। কলম্বো-গল-পুতভিল থেকে বাত্তিকোলোয়া-ত্রিনকোমালি-কলম্বো ছুটলাম। পাঁচ দিনে চক্কর দিলাম প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার। ২০০৯ সালের মে মাসে যুদ্ধ বন্ধ হয়। এরপর এক দিনের জন্যও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেনি। দেশটি পরিণত হয় শান্তির স্বর্গে। মনমুগ্ধকর পরিবেশ, বন্ধুপ্রতীম লোকজন, জিবে পানি আসা খাবার- আর কী চাই। আর সবাই পাওয়া যায় একেবারে অল্প দামে।
ডন্দ্র হেডের কাছে গল হলো শ্রীলঙ্কা সর্বদক্ষিণের প্রান্তভাগ। জায়গাটা অনেকটা উত্তরের পয়েন্ট পেড্রোর মতো। ১৫০৫ সাল পর্তুগিজদের বানানো ক্লক হাউজ আর লাইট হাউজ এখনো শোভা পাচ্ছে। তবে কেবল পর্তুগিজদেরই নয়, ডাচ, ব্রিটিশদের ছোঁয়া এখনো অনুভব করা যায়। সমুদ্র জাদুঘরে তাদের শিল্পকর্মগুলো বেশ যত্নে আছে। ডাচ রিফর্ম চার্চ, গল লাইব্রেরিও মনে ধরার মতো জিনিস। এক সময় হানাদারদের আটকানোর জন্য উপকূলে মোতায়েন ছিল ১৯টি কামান। এখনো সেগুলোর ভগ্নাবশেষ রয়ে গেছে।

প্রায় এক লাখ জাহাজ কাছের পূর্ব-পশ্চিম রুট দিয়ে চলাচল করে। এটা হলো ভারত মহাসাগরের সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুট। প্রায় পুরো উপকূলই অবকাশকেন্দ্র আর হোটেলে পরিপূর্ণ। সি-সার্ফিং আর ডাইভিংপ্রিয় বিদেশিদের জন্য এটা হলো সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। বর্ষায় টুনা মাছ শিকার আর গল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে তিমি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র যে কাউকে হাতছানি দেবে বারবার।
আবার গল থেকে ইস্টার্ন প্রভিন্সে সড়কপথটি চমৎকার। দুই মুখো রাস্তাটি চীনা-নির্মিত হাম্বানতোতা বন্দর আর রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এখন অবশ্য খুব কমই ব্যবহৃত হয়। রাজাপাকসে যদি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যেতে পারতেন, তবে হাম্বানতোতা হয়তো শ্রীলঙ্কার দক্ষিণমুখো রাজধানীতে পরিণত হতে পারতো।
তামিল ইস্টে রয়েছে হিন্দু আর মুসলিমদের আবাস। স্থানটি প্রজাপতি পার্কের জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া আছে জেসুইট স্কুল।
অবশ্য এই এলাকায় পর্যটন তেমনভাবে বিকশিত হয়নি। অথচ এখানেও আছে বিশাল বিশাল বিচ। বিশেষ করে কালকুদাহ আর পুস্কুদার কথা বলতেই হয়।

সিডনির পর ত্রিনকোমালি হলো বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোত্তম প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়। এটা ইস্টার্ন প্রভিন্সের রাজধানীও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার জন্য সাবেক এলটিটিই মুখ্যমন্ত্রী পিলায়ান এখন জেলে রয়েছেন। এখানে এলে অবশ্যই হারবার ক্রুইজ অবধারিত। আছে নেভি হাউজ, এলিফ্যান্ট পয়েন্ট। এলিফ্যান্ট পয়েন্টে ১২ ইঞ্চির ব্রিটিশ কামানগুলো শত বছরের বেশি সময় ধরে শত্রুদের দূরে রাখছে। ত্রিনকোর উত্তরে রয়েছে নিলাভেলি বিচ। এখানকার জায়গার দাম বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। প্রতি ইঞ্চি দাম সোনার মতো।
আর কলম্বোর জন্য গর্ব হয়, দু:খও লাগে। এর সৌন্দর্য হয়তো শিগগিরই হারিয়ে যাবে আকাশচুম্বি সব ভবনের জন্য। একের পর এক দীর্ঘ এপার্টমেন্ট, হোটেল হচ্ছে। এসবের বেশিই তৈরি করছে চীনারা।
শ্রীলঙ্কায় চীনারা সত্যিই বলতে পারে- এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।
লেখক : সাবেক জিওসি, আইপিকেএফ সাউথ, প্রায়ই শ্রীলঙ্কা ঘুরে বেড়ান

ক্যান্সারের কারণ হিসেবে মোটা শরীর কতটা দায়ী?

ব্রিটেনে এখন সাধারণ চার ধরনের ক্যান্সারে অনেক ক্ষেত্রে ধূমপানের চেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠেছে স্থূলতা। এমনটাই বলছে দাতব্য সংস্থা ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে।
তারা জানাচ্ছে, অন্ত্র, কিডনি, ওভারিয়ান এবং লিভার ক্যান্সারের কারণ যতটা না তামাকের ধূমপান থেকে হচ্ছে তার থেকে বেশি হচ্ছে অতিরিক্ত ওজনের কারণে।
তারা আরও বলছে, লাখ লাখ মানুষ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছে তাদের ওজনের কারণে। এবং এসব মোটা মানুষদের ক্যান্সারের আশঙ্কা ধূমপায়ীদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে।
কিন্তু ওবেসিটির ফলে ক্যান্সার ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে এর নতুন বিলবোর্ড ক্যাম্পেইন নিয়ে তারা সমালোচনার মুখে পড়েছে। সেখানে ফ্যাট-শেমিং বা শারীরিক স্থূলতা নিয়ে অসম্মানজনক বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছে তারা।
তবে এই অভিযোগে এই দাতব্য সংস্থাটি এই প্রথমবার অভিযুক্ত হল তেমনটি নয়।
গত ফেব্রুয়ারিতেই কমেডিয়ান এবং ক্যাম্পেইনার সোফি হাগেন এই ক্যাম্পেইনের সমালোচনার জন্য টুইটারকে বেছে নেন।
স্থূলতা এবং ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক পরিষ্কারভাবে উঠে এলেও, এর পেছনে কি ধরণের জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে তা এখনো সম্পূর্ণভাবে ধারণা করা যায়নি।
ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বলছে যে, তারা ওভার-ওয়েট বা মেদবহুল হওয়ার জন্য লোকজনকে দোষারোপ করছে না।
আবার ক্যান্সারের জন্য ক্ষতিকরের দিক বিবেচনায় ধূমপান এবং স্থূলতা সরাসরি তুলনীয় বলে তারা উল্লেখ করছে না, তবে দুটোই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
কিন্তু তারা বলছে, অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী বা স্থুল হওয়ায় প্রতিবছর প্রায় ২২ হাজার ৮০০ ক্যান্সারের ঘটনা ঘটছে, আর ধূমপানের কারণে ঘটছে ৫৪ হাজার ৩০০ ঘটনা।
স্থূলতা এবং ধূমপানের কারণে যে চারটি ক্যান্সারের ঘটনা সচরাচর ঘটছে-
•অন্ত্র- প্রায় ৪২ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা যার মধ্যে ওভারওয়েট বা স্থূলতার কারণে ৪,৮০০ এবং ধূমপানের কারণে ২৯০০টি।
•কিডনি: সর্বমোট ১২ হাজার ৯০০ ক্যান্সার আক্রান্তের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার কারণে ২৯০০ এবং ধূমপানের কারণে ১৬০০ জন আক্রান্ত।
·লিভার- সর্বমোট ৫৯০০ জনের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার জন্য ১৩০০ এবং ধূমপানের জন্য ১২০০ জন এবং·ওভারিয়ান: মোট ৭,৫০০ জন আক্রান্ত এবং প্রতিবছর অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা ৪৯০ জনের ক্যান্সারের জন্য দায়ী, যেখানে ধূমপান দায়ী ২৫ জনের ক্ষেত্রে।
সার্বিকভাবে ব্রিটেনে ক্যান্সারের প্রতিরোধ-যোগ্য কারণগুলোর মধ্যে ধূমপান প্রধান। এর পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ওবেসিটি-বলছে সিআরইউকে।
কিন্তু যেসময়টাতে ধূমপানের হার কমে আসছে, তখন ওবেসিটি বা স্থূলতা বাড়ছে, যেটাকে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
সে কারণে টোরি নেতা বরিস জনসন পর্যালোচনা ছাড়া সুগার ট্যাক্স বর্ধিত না করার ঘোষণা দিলে তাদের পক্ষ থেকে সেই সতর্কবার্তা আসে।
কোমল পানীয় থেকে মিল্কশেক-এর ওপর ট্যাক্স বর্ধিত করার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, মিস্টার জনসন নিজের ওজন নিয়ে কৌতুক করে বলেছিলেন, ট্যাক্স আরোপ করায় অন্তত যারা এটা বহন করার সামর্থ্য রাখেন তাদের আহত করতে তিনি "খুব খুব অনিচ্ছুক" ছিলেন।
তিনি পরামর্শ দেন, "আমরা লোকজনে হাটতে, সাইকেল চালাতে এবং সাধারণত আরও বেশি ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করছি"।
ব্রিটেনে ক্যান্সারের প্রতিরোধ-যোগ্য কারণগুলোর মধ্যে ধূমপান প্রধান। এর পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ওবেসিটি।
যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ স্থুল।
ব্রিটেনের এ সম্পর্কিত আরও যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ-
•১৩.৪ মিলিয়ন স্থুল প্রাপ্তবয়স্ক আছে যারা ধূমপান করে না
• ৬.৩ মিলিয়ন প্রাপ্ত বয়স্ক ধূমপায়ী রয়েছে যারা স্থুল নয়
•১.৫ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যারা একইসঙ্গে স্থুল এবং ধূমপায়ী
স্থূলতা এবং ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক পরিষ্কারভাবে উঠে এলেও, এর পেছনে কি ধরণের জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে তা এখনো সম্পূর্ণভাবে ধারণা করা যায়নি।
চর্বি কোষ অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে এবং বৃদ্ধি করে যা কোষগুলোকে বিভক্ত হয়ে পড়তে বলে। এটা ক্যান্সার কোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
শারীরিক সক্রিয়তা বা কর্মশক্তি হয়তো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
মোটা হলে বা অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হলেই যে একজন মানুষের নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার হবে তেমনটা নয়, কিন্তু সেটা ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
এবং এই ঝুঁকি বেড়ে যায় যখন সে আরও বেশি ওজন লাভ করে এবং যত দীর্ঘসময় ধরে সে অতিরিক্ত শারীরিক ওজন বহন করে চলে।
ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে'র তথ্য অনুসারে ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যান্সার স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত-
•স্তন ক্যান্সার(মেয়েদের মেনোপজের পরে)
•অন্ত্রের ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াটিক বা অগ্নাশয় ক্যান্সার.
•খাদ্যনালীর ক্যান্সার,
•লিভার ক্যান্সার
•কিডনি ক্যান্সার
•পাকস্থলীর উপরের অংশ,
•গল-ব্লাডার
• জরায়ু
•ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়
•থাইরয়েড
•ব্লাড ক্যান্সার
•মস্তিষ্কের ক্যান্সার।
স্থূলতা ও ক্যান্সারের এই সম্পর্ক যদিও শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা গেছে, তবে স্বাস্থ্যসম্মত আদর্শ ওজন শিশুদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এই দাতব্য সংস্থাটি বলছে , প্রতিবছর ব্রিটেনে অতিরিক্ত ওজনের ফলে যা ঘটে-
•ধূমপানের চেয়ে ১৯০০-র বেশি অন্ত্রের ক্যান্সার
•১৪০০-র বেশি কিডনির ক্যান্সার
•৪৬০-র বেশি ওভারিয়ান ক্যান্সার
•১৮০-র বেশি লিভার ক্যান্সার।
বিলবোর্ডে স্থুলতার ঝূঁকি সম্পর্কে তথ্য
দেশটির ওবেসিটি সমস্যাকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য সরকারের উচিত উদ্যোগ নেয়া, এমনটাই মনে করছেন ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লিন্ডা বোল্ড।
অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানীয়ের বিজ্ঞাপন সীমিত করার ক্ষেত্রে সরকার ধীর গতিতে এগুচ্ছে, বলছে ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন।
তারা বলছে, "আমরা ধূমপানের সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকির ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন হলেও, ওবেসিটি মোকাবেলায় উদ্যোগ কম নেয়া হয়েছে, যেটা এখন ক্যান্সারের প্রধান একটি কারণ"।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইমন সিভেন্স বলেছেন, স্থুলকায়তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এনএইচএস একা জয়ী হতে পারবে না।
"আমেরিকার ক্ষতিকর এবং ব্যয়বহুল উদাহরণ সামনে রেখে যদি আমরা তা এড়াতে চাই,তাহলে বিভিন্ন পরিবার, খাদ্য ব্যবসায়ী এবং সরকার-সবাইকে তাদের নিজেদের যার যার অবস্থানে থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে"।?

পুরান ঢাকায় ‘লাঞ্চ এট হেরিটেজ হোম’ by শফিক রহমান

খাবারের ঐতিহ্য আর ঐতিহ্যের সঙ্গে খাবার। এই দুইয়ের সম্মিলনে রাজধানী ঢাকার পুরনো শহরের নূর বকস রোডের দুই শতাধিক বছরের পুরনো ‘জমিদার সাহেব বাড়িতে’ চালু হয়েছে ‘লাঞ্চ এট হেরিটেজ হোম’।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি ঢাকা ও সোনারগাঁয়ের সাবেক জমিদার মৌলভী আবুল খায়রাত মোহাম্মদের (১৮৫০-১৯৩০) তৈরি করা লাল রঙের দোতলা ঐতিহাসিক ওই বাসভবনে বাঙ্গালীর পারিবারিক আপ্যায়নের আবহ ও পুরনো ঢাকার খাবারের ঘরোয়া স্বাদ নিয়ে এ আয়োজন আবু মোহাম্মদ ইমরানের। যিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন আবুল খায়রাতের ষষ্ট প্রজন্মের।
পুরনো ঢাকার বেসরকারি, আধাসরকারি এমনকি সরকারি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো যখন একে একে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে তখন আবু ইমরানের অভিমত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পক্ষে। বরাবরই যুক্ত রয়েছেন ‘সেইভ পুরান ঢাকা’ আন্দোলনের সঙ্গে। ‘লাঞ্চ এট হেরিটেজ হোম’ উদ্যোগকেও ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখছেন ইমরান।
ইতোমধ্যে আবু ইমরানের এ আয়োজনে আবুল খায়রাতের সময়ের আর্ট, এন্টিক আর ডাইনিং টেবিলে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন অনেকে। যাদের মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারির মধ্যে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের অতিথিরা।
ইমরান বলেন, “আমার এ আয়োজনের বয়স মাত্র মাস পাঁচেক। কিন্তু আতিথেয়তা এবং আপ্যায়নে আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য দুইশ বছরেরও বেশি। এই বাড়িতে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ছিলেন তিন মাসের বেশি সময়। কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাড়িতে বসেই লিখেছেন তার বিষের বাঁশি কাব্যের কয়েকটি কবিতা। তারও আগে এই বাড়িতে অসংখ্যবার এসেছেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক (অবিভক্ত বাংলা ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী), মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (আওয়ামী মুসলিম লীগ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির-ন্যাপ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের ৫ম প্রধানমন্ত্রী), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ (আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি) তৎকালীন নেতারা। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথায় এই বাড়িটির কথা উল্লেখ করেছেন। পঞ্চাশের দশকের যুক্তফ্রন্টের কয়েকটি বৈঠক এই বাড়িতেই হয়েছে।”

ইমরানদের পারিবারিক অ্যালবামে ১৯৩৭ সালে তোলা ‘Some Stalwarts of Eastern Bengal’ শিরোনামের একটি ছবিতেও দেখা যায় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, বিচারপতি স্যার জাহেদ সোহরাওয়ার্দী, স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, অধ্যাপক শাহেদ সোহরাওয়ার্দী, ড. সয়ুদ হোসাইন, সৈয়দ আলী আহমদসহ দশ জনকে।
অ্যালবামের ৬৪ নাম্বার ছবিটি এখানে আরও প্রাসঙ্গিক। যার ক্যাপশনে লেখা রয়েছে- Moulana Shawkat Ali entertained at Dacca by Aligarh Old Boys। ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯২১ সালে।
তবে এ যুগে আবুল খায়রাতের পরিবারের ভিন্নধর্মী এ আপ্যায়নের আয়োজনে অংশ নিতে হলে অন্তত একদিন আগে ফোন করতে হবে আপনাকে। দিনে সর্বোচ্চ জায়গা পাবেন ২০ থেকে ২৫ জন। জন প্রতি খরচ কোনভাবেই এক হাজার টাকার ওপরে যাবে না।
ইতোমধ্যে ঢাকাইয়া খাবারের রসালো বর্ননা ও বাড়ির ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার বিস্তারিত সব জানিয়ে খোলা হয়েছে ‘Lunch at Emran’s Heritage Home’ ফেসবুক পেজ।
ইমরান বলেন, ‘এ আয়োজনের পুরো কৃতিত্বের অংশিদার আরবান স্টাডি গ্রুপের (ইউএসজি) প্রধান নির্বাহী স্থ্যপতি তাইমুর ইসলাম। যিনি আমাদের পুরনো ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মসহ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে গত ১০/১২ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ঠ দেশি-বিদেশী পেশাজীবীসহ নানা পেশার পর্যটকদের নিয়ে সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত আয়োজোন করছেন ‘হেরিটেজ ওয়াক’। যার সুবাধেই আবার নতুন করে অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে আবুল খায়রাত ও তার পরিবারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ‘লাঞ্চ এট হেরিটেজ হোম’ এসব অনুপ্রেরণারই ফসল।
প্রসঙ্গত, জমিদার আবুল খায়রাত মোহাম্মদের প্রথম পুরুষ মুন্সী আলম। ইয়েমেনে যার জন্মস্থান। মুন্সী আলমের দুই ছেলের একজন মুন্সী গুল বকস ও আরেকজন মুন্সী নূর বকস। এই নূর বকসেরই ছেলে আবুল খায়রাত মোহাম্মদ। যার দুই ছেলের একজন আবুল হাসনাত ও আরেকজন আবু জাফর জিয়াউল হক ওরফে নাবালক মিয়া। নাবালক মিয়ার ছয় ছেলে ও ছয় মেয়ের মধ্যে এম এ জাহাঙ্গীরেরই ছেলে এ এম ইমরান।
পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ির ওই বাড়িটির পাশের চারটি সড়কের নাম এই পরিবারের চার সদস্যের নামে- নূর বকস রোড, আবুল খায়রাত রোড, আবুল হাসনাত রোড ও নাবালক মিয়া লেন।