Wednesday, December 24, 2025

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার গ্রেটা থুনবার্গ

ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে গ্রেপ্তার করেছে বৃটিশ পুলিশ। মঙ্গলবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। এতে বলা হয়, ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা একাধিক প্ল্যাকার্ড হাতে রাখার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেটা থুনবার্গকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃটিশ সরকার ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। সিটি অব লন্ডনের এক মুখপাত্র জানান, একই ঘটনায় একটি ভবনের দিকে লাল রং ছোড়ার অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে আসা ২২ বছর বয়সি এক নারীকে সংগঠনটির সমর্থনে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগে আটক করা হয়। প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন জানায়, যে ভবনটিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সেটি একটি বিমা সংস্থার কার্যালয়।

২২ বছর বয়সি গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে সাপ্তাহিক জলবায়ু আন্দোলন শুরু করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। গত বছর লন্ডনে এক বিক্ষোভের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আদালত খারিজ করে দেয়। সে সময় বিচারক মন্তব্য করেছিলেন, গ্রেপ্তার করার মতো আইনগত ক্ষমতা পুলিশের ছিল না। এর আগে চলতি বছরের অক্টোবরে গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের একটি জাহাজবহরে যোগ দেওয়ার সময় গ্রেটাকে আরও ৪৭৮ জনের সঙ্গে আটক করে ইসরাইল। পরে তাকে দেশছাড়া করা হয়। ইসরাইল সরকার ধারাবাহিকভাবে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

mzamin

বাংলাদেশে ভারত নজর দিলে, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র বেশি দূরে নয় -পাকিস্তানের তরুণ নেতা

বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতকে হুমকি দিলেন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল)-এর যুব শাখার এক নেতা। মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় পিএমএল নেতা কামরান সাঈদ উসমানি বলেন, বাংলাদেশে আক্রান্ত হলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র তার জবাব দেবে। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।

এতে বলা হয়, পাকিস্তানের তরুণ ওই নেতা বলেন, যদি ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে বা কুদৃষ্টি দেয় তাহলে পাকিস্তানের জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র বেশি দূরে নেই। উসমানি আরও বলেন, বাংলাদেশের ওপর দিল্লির ‘অখণ্ড ভারত’ মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা পাকিস্তান মেনে নেবে না।

ভিন্ন আরেকটি ভিডিও বার্তায় উসমানি অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের ‘আদর্শিক আধিপত্যে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার দাবি, অতীতেও পাকিস্তান ভারতকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তা করতে পারে। তিনি একটি কৌশলগত দৃশ্যপট তুলে ধরে বলেন, পশ্চিম দিক থেকে পাকিস্তান, পূর্ব দিক থেকে বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ ও লাদাখে চীন সক্রিয় থাকলে ভারত চাপের মুখে পড়বে।

এছাড়াও উসমানি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানান। তার অভিযোগ, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের সীমান্তে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং ‘অখণ্ড ভারত’ মতাদর্শের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে।

উসমানির প্রস্তাব, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিক। এতে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হবে এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) এর সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দরগুলোর সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। যারা বন্দর ও সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ রাখে, তারাই বিশ্ব শাসন করে মন্তব্য করে উসমানি দাবি করেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামরিক অংশীদারিত্ব দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

mzamin

ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড নিয়ে কোনো আপস নয়: বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন

ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল শুক্রবার মস্কোয় চলতি বছরের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এ মন্তব্য করেন।

পুতিন বলেন, ‘জেলেনস্কির বিভিন্ন বক্তব্য থেকে আমরা জানি, তিনি ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত নন।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁদের সংবিধানে ভূখণ্ড হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুতিন দাবি করেন, তাঁর দেশের সেনারা ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চলের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, সেগুলো রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি ২০১৪ সালে দখল করে নিজেদের দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা ক্রিমিয়ার দাবিও ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে।

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ মস্কোর ‘গস্তিনি দভর প্রদর্শনী হল’–এর সংবাদ সম্মেলনে পুতিন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কথা বলেন। দেশ-বিদেশের ৭০টির বেশি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও অংশ নেন।

সাংবাদিকের পাশাপাশি পুতিন ফোনে রুশ নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন। ফোন, খুদে বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা ২০ লাখের বেশি রুশ নাগরিক পুতিনকে প্রশ্ন করেছিলেন। সেখান থেকে বিষয়ভিত্তিক কিছু প্রশ্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পুতিন সেগুলোর উত্তর দেন।

ভূখণ্ডের পাশাপাশি পুতিনের আরও কিছু দাবি রয়েছে। তাঁর দাবি, দনবাসের যেসব এলাকা রুশ সেনারা এখনো দখল করতে পারেনি, তা-ও রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

দনবাসের এসব এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। এখানে যেসব ভূখণ্ড এখনো নিজেদের দখলে রয়েছে, তা রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ।

‘যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এখনো সম্পূর্ণ রাশিয়ার’ সেনাদের হাতে দাবি করে পুতিন বলেন, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে তাঁদের সেনারা আরও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নেবে।

পশ্চিমাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক কয়েক মাসে রাশিয়ার সেনাবাহিনী রণক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে অল্প অল্প করে এগোচ্ছে। প্রতিদিন তারা প্রায় ১২ থেকে ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করছে।

পুতিনের এই বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা কর্মকর্তারা এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পুতিন রাশিয়ার জনগণের কাছে পরিস্থিতি কীভাবে তুলে ধরছেন, তাঁরা তা বোঝার চেষ্টা করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রাশিয়ার সেনারা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধে উভয় পক্ষের সেনাসহ ২০ লাখের বেশি মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। তবে কোনো পক্ষই হতাহত ও নিখোঁজের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করেনি।

বছরের সর্বশেষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোর ‘গস্তিনি দভর প্রদর্শনী হলে’, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বছরের সর্বশেষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোর ‘গস্তিনি দভর প্রদর্শনী হলে’, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

পশ্চিমবঙ্গের কারাগারেই সবচেয়ে বেশি বিদেশি বন্দি, সর্বোচ্চ বাংলাদেশি

এনসিআরবি প্রতিবেদনঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে দেশের অন্য যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিদেশি বন্দি অবস্থান করছে। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি) প্রকাশিত ‘প্রিজন স্ট্যাটিস্টিকস অব ইন্ডিয়া ২০২৩’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ৬,৯৫৬ জন বিদেশি বন্দি আছেন। তার মধ্যে ২,৫০৮ জন, অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গের সংশোধনাগারে আটক আছেন। এই বিদেশিদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। বিদেশি বন্দিরা রাজ্যের মোট ২৫,৭৭৪ বন্দির মধ্যে শতকরা ৯ ভাগ। বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৭৭৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১৪৪০ জন বিচারাধীন। দ্বিতীয় স্থানে আছে মিয়ানমার। এদেশটির বিচারাধীন বন্দিদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। রাজ্যের কারাগারে থাকা ৭৯৬ জন বিদেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির মধ্যে ২০৪ জন নারী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪,৯০৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পশ্চিমবঙ্গে। ফলে রাজ্যে বিদেশি বন্দির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৩ সালে রাজ্যের কারাগারগুলোতে ছিল ৭৯৬ জন বিদেশি দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১,৪৯৯ জন বিচারাধীন বন্দি।

এনসিআরবির তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একজন আইনি সহায়তা পরামর্শক বলেন, বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ আছে। তার মধ্যে অন্যতম আইনজীবীর খরচ বহন করতে না পারা,বিচারিক বেঞ্চের অভাব এবং আগেই অতিরিক্ত চাপে থাকা আদালতগুলো। একজন জ্যেষ্ঠ রাজ্য কর্মকর্তা জানান, অবৈধ বাংলাদেশি বন্দিদের সাধারণত ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর নির্দেশে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

কিন্তু আমাদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে ডিপোর্টেশনের হার অত্যন্ত কম। ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারগুলোর অকুপেন্সি রেট (দখল হার) ছিল ১২০ শতাংশ। অর্থাৎ, ২১,৪৭৬ জনের ধারণক্ষমতার জায়গায় ২৫,৭৭৪ জন বন্দি (দেশি ও বিদেশি) রাখা হয়েছিল মোট ৬০টি কারাগারে। রাজ্যের একমাত্র নারী কারাগারের বন্দি উপস্থিতির হার ছিল ১১০.২ শতাংশ। ২০৪ জন নারী এবং ১২ জন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি আছেন। ৩৭১ জন নারী এবং ৯ জন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি, যারা মোট ১,৪৯৯ জন বিচারাধীন বিদেশি বন্দির অংশ।

https://mzamin.com/uploads/news/main/183216_Abul-3.webp

ট্রাম্পের কথামতো আসলেই কি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হচ্ছে

আল–জাজিরার এক্সপ্লেইনারঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার বলেছেন, ‘রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে একটি শান্তিচুক্তি করার পথে এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।’ জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইউরোপীয় নেতা ও মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।

বার্লিনে দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকের পর কূটনীতিকেরা অন্য জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ সামরিক হুমকি থেকে ইউক্রেনকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বৈঠকের আগে জেলেনস্কি বলেন, পশ্চিমা সামরিক জোটে (ন্যাটো) যোগ দেওয়ার আশা ত্যাগের বিনিময়ে ইউক্রেন আইনি বাধ্যবাধকতার সঙ্গে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়। ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে তাদের তৎপরতা আরও বাড়বে, এমন যুক্তি দেখিয়ে রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা চালায়।

তবে ইউরোপের নেতারা বলেছেন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ভূখণ্ড–সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের সমাধান হয়নি এখনো। তাই প্রশ্ন উঠছে, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ পর্যন্ত সম্ভব কি না?

বার্লিন বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হলো

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার বার্লিন বৈঠকে অংশ নেন। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ন্যাটোর প্রধান নেতারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ইউরোপীয় নেতারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁরা ইউরোপের নেতৃত্বে একটি ‘বহুজাতিক বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব দেন। ওই বাহিনীকে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই বাহিনী ইউক্রেনের ভেতরে কাজ করবে। পাশাপাশি ইউক্রেনের বাহিনীকে সহায়তা করা, আকাশসীমার নিরাপত্তা দেওয়া এবং নিরাপদ জলসীমা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইউক্রেনের সুরক্ষা প্রস্তাবটি ন্যাটোর ‘অনুচ্ছেদ–৫’–এর আদলে করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

বার্লিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আওতায় ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিয়েভের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। নিশ্চয়তায় কার্যকর যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি থাকতে হবে।

তবে কীভাবে এ ধরনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বেশ সতর্ক। কারণ, ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেয়েছিল ইউক্রেন। তা সত্ত্বেও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল ও ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলা ঠেকানো যায়নি।

জার্মান চ্যান্সেলর ফেডরিখ মার্ৎস বলেছেন, বৈঠকে ওয়াশিংটন উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তার প্রস্তাব দিয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আইনি ও ভৌত নিশ্চয়তার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র যা তুলে ধরেছে, তা সত্যিই উল্লেখ করার মতো।

তবে রাশিয়া এ প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইউরোপীয় নেতাদের নিয়ে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেছেন, কূটনীতির মাধ্যমে বা সামরিক শক্তি খাটিয়ে—যেভাবেই হোক না কেন, ইউক্রেনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করবে মস্কো।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প কী বলেছেন

গত সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয় নেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। তারা এই যুদ্ধ শেষ করতে চাইছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমরা অনেক আলোচনা করেছি। আমি মনে করি, আমরা এখন চুক্তির যতটা কাছাকাছি পৌঁছেছি, তা আগে কখনো হয়নি। এখন দেখব আমরা কী করতে পারি।’

জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এ জন্য ইউক্রেনকে কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন।

জেলেনস্কি কী বলেছেন

উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে সোমবার জেলেনস্কি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘এ ধরনের বৈঠক আগে হলে আরও বেশি অগ্রগতি হতো। ভূখণ্ড–সংক্রান্ত বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভিন্ন অবস্থান। এটি স্বীকার করতে হবে এবং এ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা উচিত। আমি বিশ্বাস করি, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প প্রস্তাব করবে, যাতে অন্তত একমত হওয়া যায়।’

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমরা ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইউক্রেনকে পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থসহ সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পেতে সম্ভাব্য সব চেষ্টা চালাব। এই অর্থের উৎস সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি।’

আগে ইউক্রেন ইঙ্গিত দিয়েছিল, পশ্চিমা নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে তারা ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার আশা ত্যাগ করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনও কিয়েভের ন্যাটো সদস্যপদের বিরোধী ছিল।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করছি। যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষ—সবার স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কেমন হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে ইউক্রেন কী ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা পাবে এবং কোন কোন দেশ নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই ‘খুব সন্নিকটে’

লন্ডনের চিন্তক প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউসের রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ কিয়ার জাইলস আল–জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, শান্তিচুক্তি খুব কাছাকাছি, তবে সেটি স্থায়ী কোনো চুক্তি ছাড়াই।

ইতালির ইস্তিতুতো আফারি ইন্টারনাজিওনালির পরিচালক টোকসি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা একদম কম। আমার মনে হয়, চলমান যুদ্ধ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বেশি।’ এর কারণ ভূখণ্ড ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ের সমাধান এখনো হয়নি।

বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পিছু হটা ও সামরিক সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে ধীরে ধীরে রাশিয়া আরও ভূখণ্ড দখল করছে। এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে রাশিয়া।

চাথাম হাউসের কিয়ার জাইলস বলেছেন, এখনো কয়েকটি দিক থেকে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। একটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে, আরেকটি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে। তবে এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে চলছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই।

জাইলস আরও বলেন, কোনো বিষয়ে সমঝোতা হলেই রাশিয়া তা মেনে নেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এমনকি যেসব বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে, সেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য কি না—সেটিও নিশ্চিত নয়। যুদ্ধবিরতির মূল শর্ত আগের মতোই রয়ে গেছে। রাশিয়া তখনই যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে, যখন তারা মনে করবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে যুদ্ধবিরতিতে তাদের লাভ বেশি হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে

জাইলস বলেন, এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে—এর উত্তর সব সময় যেমন ছিল, এখনো তেমনই রয়েছে। একদিকে রাশিয়াকে পিছু হটতে বাধ্য করা, অন্যদিকে ইউক্রেনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

জাইলস বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একই শর্তে যুদ্ধবিরতিতে একমত হতে পারছে না। কারণ, তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের লক্ষ্য এতটাই ভিন্ন যে আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রমী।

এই বিশ্লেষক বলেন, ট্রাম্প একাধিকবার ক্রেমলিনের অনেক দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। যার মধ্যে ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার দাবিও রয়েছে। যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের প্রাথমিক ২৮ দফা পরিকল্পনায় রুশ যুদ্ধাপরাধের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার একটি ধারা ছিল। যদিও জেলেনস্কি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন।

জাইলস বলেন, ট্রাম্পের ২৮ দফা পরিকল্পনা ইউরোপীয় নেতাদের বিরোধিতার কারণে সংশোধন করা হয়েছে। রাশিয়া মনে করছে, এটি তাদের জন্য সুবিধাজনক নয়।

জাইলস আরও বলেন, ‘রাশিয়া শুধু তখনই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নেবে, যখন তারা বিশ্বাস করবে যে চুক্তিটি ইচ্ছামতো লঙ্ঘন করা যাবে। সেই সুযোগ আবার যুদ্ধ শুরু করার জন্য সুবিধাজনক হবে।’

ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ১৬ ডিসেম্বর
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ১৬ ডিসেম্বর। ছবি: এএফপি

‘নাজনীন মুন্নীকে বাদ দিন, না হলে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন লাগিয়ে দেব’ by নাজনীন আখতার

গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ নাজনীন মুন্নীকে চাকরি থেকে বাদ দিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছেন কয়েকজন তরুণ। তাঁরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য পরিচয় দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদও তাঁদের সংগঠনের এক সদস্যের ওই কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

ওই তরুণেরা ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত চ্যানেলটির কার্যালয়ে গিয়ে হুমকি দেন, নাজনীন মুন্নীকে চাকরিচ্যুত না করলে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো ওই অফিসেও তাঁরা আগুন লাগিয়ে দেবেন। ১৮ ডিসেম্বর রাতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

নাজনীন মুন্নী এখন গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ হিসেবে কর্মরত। এই চ্যানেলে তিনি যোগ দেন গত জুলাই মাসে। এর আগে তিনি ডিবিসি নিউজ চ্যানেলে অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ছিলেন। এক দল তরুণের হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে আজ ফেসবুকে একটি পোস্টে নাজনীন মুন্নী লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটির নাম করে ৭-৮ জন আমার অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গেছে—চাকরি না ছাড়লে অফিসে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন ধরিয়ে দেবে।’

এ বিষয়ে সাংবাদিক নাজনীন মুন্নীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবেই তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দিতে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে হওয়া অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে এই প্ল্যাটফর্ম ও জাতীয় নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর কয়েক মাস বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দৃশ্যমান কার্যক্রম সেভাবে ছিল না। তবে প্ল্যাটফর্মটির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনার খবর আসছিল। এমন প্রেক্ষাপটে গত ২৫ জুন ভোটের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠিত হয়।

হুমকি প্রসঙ্গে জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রশিদুল ইসলামের (রিফাত রশীদ) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহানগর কমিটির পৃথু নামের এক সদস্য কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা ছাড়া কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে গ্লোবাল টিভিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি স্মারকলিপি দেন, যেটিতে সাংবাদিক নাজনীন মুন্নীকে ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে অপসারণের দাবি করা হয়। স্মারকলিপিটি আমরা সংগ্রহ করেছি। সেখানে আগুন লাগানোর কোনো কথা লেখা নেই।’ সংগঠনের ওই সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের ওপর কোনো আঘাতের পক্ষে নেই। নাজনীন মুন্নী বা গ্লোবাল টিভি আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে আমরা তাঁকে বহিষ্কার করব।’

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজনীন মুন্নী প্রথম আলোকে বলেন, হুমকির ঘটনাটি ২১ ডিসেম্বর রোববারের হলেও তিনি পরদিন অফিসে এসে জানতে পারেন।

ঘটনা সম্পর্কে নাজনীন মুন্নী বলেন, ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তিনি রিপোর্টারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাত আটটার দিকে এক বন্ধু দেখা করতে এলে তাঁকে নিয়ে তিনি গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় যান। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে সাত-আটজন তরুণের একটি দল তাঁর অফিসে আসে। এর আগে তাঁরা চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে আসেন। নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটির বলে পরিচয় দেন। কিন্তু কী উদ্দেশ্যে আসবেন, সেটা এমডিকে ফোনে জানাননি।

নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘এমডির সঙ্গে দেখা করে ওই তরুণেরা প্রথমে বলেন, গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর কাভারেজ ভালো হয়নি। এরপর তাঁরা আমার (নাজনীন মুন্নী) প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তরুণেরা এমডিকে বলেন, নাজনীন মুন্নীকে কেন রেখেছেন? উনি আওয়ামী লীগের লোক। ওনাকে চাকরিতে রাখা যাবে না। ওনাকে বাদ দিন।’

নাজনীন মুন্নী জানান, তরুণদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমডি আহমেদ হোসেন বলেছিলেন, তাঁরা নাজনীন মুন্নীকে দেখেশুনেই চাকরিতে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

‘আপনারা একেকবার একেকটা বলবেন, সেটা তো হবে না। ওই সময় তরুণেরা বলেন, আমরা বলেছি, এ জন্য বাদ দেবেন। আমাদের কথা শুনতে হবে। নাজনীন মুন্নীকে বাদ না দিলে আপনাদের অফিসেও প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন লাগিয়ে দেব,’ এমডি আহমেদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে বলেন নাজনীন মুন্নী।

নাজনীন মুন্নী জানান, এরপর ওই তরুণেরা একটা কাগজ এমডির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে তাতে সই করতে বলেন। ওই কাগজে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজনীন মুন্নীকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিশ্রুতির কথা লেখা ছিল। এমডি তাতে সই করতে রাজি হননি। ওই সময় ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণেরা বলেন, ‘আমরা যেটা চাই, সেটাই হবে। প্রথম আলো-ডেইলি স্টারই কিছু করতে পারেনি। আর আপনারা তো কিছুই না।’

এমডি কাগজে সই করেননি, তাঁর বদলে তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মী সই করেন বলে জানান নাজনীন মুন্নী। তিনি বলেন, ‘এই হুমকি প্রসঙ্গে অফিস আমাকে চুপচাপ থাকতে বলেছিল। কয়েক দিন অফিসে আসতে মানা করেছিল। কিন্তু আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দিয়েছি। অফিস কর্তৃপক্ষ মনঃক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আমি চুপ থাকব না। দুই দিন পরপর থ্রেট (হুমকি) দিয়ে যায়, এটা মানার মতো না। যমুনা টিভির নিকোলকে (অ্যাসাইনমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং এডিটর রোকসানা আনজুমান নিকোল) হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে রাজনৈতিক চাপে এ বছরের জুন মাসে আমাকে ডিবিসি চ্যানেল ছাড়তে হয়েছে। আমি বারবার বলেছি, আপনারা প্রমাণ করুন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না। কোনো একটি সম্পৃক্ততাও তারা পায়নি।’

সংবাদমাধ্যমের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের ধারাবাহিকতা থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাজনীন মুন্নী। তিনি বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী চাইছে ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে ভয়-ভীতি দেখাতে। আমরা যাঁরা মানুষকে প্রভাবিত করতে পারি, তাঁদের গণমাধ্যমে রাখতে চায় না ওই গোষ্ঠী।’

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রথম আলো। নাজনীন মুন্নীকে চাকরি থেকে বাদ না দিলে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো তাঁর কার্যালয়ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ‘কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই’ বলে জানান।

সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী
সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী। ছবি: সংগৃহীত

রুমিন ফারহানাও মাঠে থাকবেন

দলের মনোনয়ন বিমুখ হলেও নির্বাচনে লড়বেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার আংশিক) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে আজ বা কাল মনোনয়ন ফরম নেবেন। গতকাল দুপুরে বিএনপি ওই আসনে জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনিও নির্বাচনে থাকছেন বলে নিশ্চিত করেন। বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। ঢাকার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীরা যেসব আসনে নির্বাচন করবেন, বিএনপি সেসব আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না। এ সময় তিনি জনগণকে খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দিয়ে ধানের শীষকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। এরপরই দলের মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচন করার কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে আমি নির্বাচন করবো। আগামীকাল (আজ) অথবা পরশু (কাল) আমার পক্ষে মনোনয়ন ফরম নেয়া হবে। তিনি বলেন, এত বড় দল (বিএনপি) তাদের ভালো-মন্দ দেখতে হয়। যেহেতু জমিয়তে উলামায়ের সঙ্গে তারা জোট করেছে আসন না দিলে কেমন করে জোট হবে! দল বাধ্য হয়ে তাদের আসন দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে বহিষ্কার, বিএনপি’র এমন বার্তা সম্পর্কে রুমিন ফারহানা বলেন, যদি ব্যবস্থা নেয়ার হয় দল অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে। আমি তো আসলে বাধা দিতে পারবো না।  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। দলের মনোনয়ন তিনিই পাবেন, এটাও তার সমর্থকরা নিশ্চিত ধরে নেন। বিএনপি গত ৩রা নভেম্বর ২৩৭ আসনে তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। ওই তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। অবশ্য আগে থেকেই আলোচনা ছিল আসনটি জোটের জুনায়েদ আল হাবীবকে ছেড়ে দেবে বিএনপি। তারপরও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী এলাকায় তার গণসংযোগ অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সভা সমাবেশে দলের মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আভাস-ইঙ্গিত দেন। গত ২০শে ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নির্বাচনী এলাকা সরাইলে দলীয় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তার বাবা ১৯৭৩ সালে জনগণের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র হলেও তখন জনগণ ভুল করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তার বাবাকে জিততে দেননি। ‘আমি জানি না বাপের মতো বেটিরও কপাল আছে কিনা। বাপ স্বতন্ত্র, বেটিও স্বতন্ত্র।’
mzamin

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে মায়ের প্রতিক্রিয়া, মুখ খুললেন ছেলে নুহাশ

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে গুলতেকিন খানের ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এবার মুখ খুললেন ছেলে নির্মাতা নূহাশ হুমায়ুন। গুলতেকিন খান তার পোস্টে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণের ভেতর দিয়ে সাবেক স্বামী প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে অতীত দাম্পত্য জীবনের একটি দুঃখজনক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার এই পোস্টকে কেন্দ্র করে স্যোশাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপক্ষ গুলতেকিনের পাশে দাঁড়িয়ে তার যন্ত্রণার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে, অন্যপক্ষ প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি কলুষিত করার অভিযোগ তোলে।

এবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নূহাশ ফেসবুকে লিখেন, কোনো শিল্পী বা সৃষ্টিশীল মানুষকে তার কাজের জন্য ভালোবাসতে পারেন। একই সঙ্গে এটাও মানতে হবে যে, তার ব্যক্তিজীবনে ঝামেলা থাকতে পারে। বাস্তবতা হিসেবে দুটোই সত্য হতে পারে। মানুষ জটিল এবং ভুলপ্রবণ (আপনার প্রিয় উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মতো)। কেউ কেউ কোটি মানুষকে আনন্দ দেয়, অথচ খুব কাছের কাউকে কষ্ট দেয়। তার মানে এই নয় যে, যে কষ্ট পেলো সে চুপ থাকবে। এমনকি এও হতে পারে না যে, যে মরে গেছে তাকে অসম্মান করা হবে। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে সাংসারিক জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরে গত শুক্রবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন গুলতেকিন খান।

অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয় তার সেই পোস্ট। অনেকেই তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের লেখা প্রকাশের জন্য ভর্ৎসনা করেছেন। দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই আহত করেছে তাদের ছেলে নূহাশকে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/183233_f-1.webp