Saturday, December 3, 2016

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে ট্রাম্পের ফোন!

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এই নীতি ভেঙে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিলেন।
বিবিসি ও এএফপির খবরে জানা যায়, ট্রাম্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হতে পারে চীন। কারণ, চীন তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে মনে করে। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সাই তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আবার ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলছেন, এ বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সাইকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প।

অন্য যে কারণে পুতিনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ বেশ পুরোনো। সেই সুবাদে দেশ দুটির রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা লক্ষণীয়। রুশ-মার্কিন সম্পর্কের এই বৈরিতা দেখতে অভ্যস্ত বিশ্ব এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। রাশিয়া বা দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রশংসাকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অনেকটা বাঁকা চোখে দেখার চল আছে। অথচ খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এখন প্রকাশ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুণগান চলে। পুতিনের প্রশংসাকারী কোনো সাদামাটা মার্কিন নাগরিক নন। তিনি স্বয়ং দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে পুতিনের প্রতি তাঁর অনুরাগ খোলামেলাভাবে প্রকাশ করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে একজন ‘মেধাবী মানুষ’ বলে আখ্যা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিনের দেওয়া এই অভিধাকে ‘বিরাট সম্মান’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার পর আরও জোরেশোরে পুতিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, পুতিন অনেক বড় নেতা। শক্তিশালী নেতা। নিজ দেশের ওপর তাঁর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাঁর পক্ষে ৮২ শতাংশ জনসমর্থন আছে। তিনি দারুণ করছেন। রাশিয়া পুনর্গঠন করছেন। পুতিনের গুণগান করতে গিয়ে নিজ দেশের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিচে নামাতেও দ্বিধা করেননি ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে এনবিসি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ওবামার চেয়ে পুতিন অনেক বড় নেতা, শক্তিমান নেতা। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু দেশপ্রেমবর্জিতই নয়, ভয়ংকরও। সমালোচনা সত্ত্বেও পুতিনের ব্যাপারে ট্রাম্প তাঁর ইতিবাচক মনোভাব বদলাননি। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন পুতিন। ট্রাম্পকে তিনি অভিনন্দন জানান। এই ফোনালাপে দুই নেতা ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে একমত হন। ট্রাম্প বলেন, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক চান। পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের এই অনুরাগ নিয়ে নানাজন নানা কথা বলছেন। বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছেন। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক জামেলি বাউইর ভাষ্য, কর্তৃত্বপরায়ণ শাসকদের প্রতি ট্রাম্পের পক্ষপাত রয়েছে। তাঁর চিন্তা ও কথায় বিষয়টি স্পষ্ট।
তাঁকে সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি, কিম জং উনের মতো শাসকদের প্রশংসা করতে দেখা গেছে। তবে সবার চেয়ে পুতিনের প্রতি তাঁর অনুরাগ একটু বেশিই। পুতিনকে ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা করেন ট্রাম্প। মার্কিন কলাম লেখক ইউজিন রবিনসনের মতে, পুতিনের কেতাদুরস্ত ভঙ্গির ভক্ত হতে পারেন ট্রাম্প। আবার রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থও থাকতে পারে। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের চারিত্রিক মিল রয়েছে বলে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক অধ্যয়নের অধ্যাপক নিনা ক্রুশ্চেভা। রুশ বংশোদ্ভূত এই মার্কিনের ভাষ্য, পুতিনের মতো শক্তিশালী নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যাঙ্গেলা ই. স্টেনট বলেন, পুতিন তাঁর চাওয়া অনুযায়ী সব কাজ করেন। এ কারণে ট্রাম্প সত্যিকার অর্থেই পুতিনের প্রশংসা করেন। পুতিনের প্রতি ট্রাম্প এতটা গদগদ কেন, তার সুনিশ্চিত উত্তর আপাতত নেই। আলোচক-সমালোচকদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের বাইরে ট্রাম্পের নিজের কথাও তো শোনা দরকার। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের দপ্তরে পত্রিকাটির সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারলে আমার খুব ভালো লাগবে। আমার মনে হয়, তারাও আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারলে খুশি হবে। এটা উভয়ের স্বার্থে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময় যখন লোকে বলত, ট্রাম্প পুতিনকে ভালোবাসেন, পুতিনও ট্রাম্পকে ভালোবাসেন। হাজার হাজার মানুষের সামনে বলতে চাই, আমি পুতিনকে ভালোবাসি। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি হলে ব্যাপারটা কি ভালো হবে না? আমরা যদি একসঙ্গে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করি, তাহলে কি ব্যাপারটা ভালো হবে না?’
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও স্লেট সাময়িকী

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি

সিঙ্গাপুরে সরকারি সফরকালে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল
নিউজএশিয়াকে সাক্ষাৎকার দেন অং সান সু চি
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি দাবি করেছেন, রাখাইনের পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত হওয়ার পথে। তাঁর দাবি, রাখাইনে শুধু মুসলমানরাই উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তা নয়, সেখানকার রাখাইন জাতিগোষ্ঠীও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। সিঙ্গাপুরে সরকারি সফরকালে চ্যানেল নিউজএশিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী সু চি গত শুক্রবার এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনী যখন রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যেই সু চি এমন দাবি করলেন। সর্বশেষ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টাপ্রধান সু চি। সমস্যাটা নিয়ন্ত্রণের অনুপযোগী কি না জানতে চাইলে সু চি বলেন, ‘না। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সারাক্ষণ নেতিবাচক কথা না বলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়তে সহযোগিতা করে, তাহলে সেটিকে তিনি অভিনন্দন জানাবেন। তিনি বলেন, রাখাইনে দুই সম্প্রদায়ের (রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধ) মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সমস্যাটি ঠিকমতো উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব সংবেদনশীল ও সূক্ষ্ম বিষয়। শুধু যে মুসলিমরাই উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত, তা নয়। রাখাইন সম্প্রদায়ও একই রকম চিন্তিত, রাজ্যের জনসংখ্যায় তাদের উপস্থিতি শতাংশের হিসাবে ক্রমশ কমে আসছে। আর দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নেই—এই সত্য আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা এই সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে চাই। কিন্তু সবাই যদি পরিস্থিতির নেতিবাচক দিকটির প্রতি মনোযোগ দিতে থাকে, সেটা কাজে দেবে না। পুলিশচৌকিতে গত ৯ অক্টোবর হামলা হয়েছিল—এটাও তো সত্যি।’ ওই হামলার জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করা হলেও সরকার আগে রোহিঙ্গা সংহতি সংগঠনের দিকে ইঙ্গিত করেছিল। আর তারপর থেকে সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় তৎপরতা বাড়াতে শুরু করে। ওই এলাকায় রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বসবাস বেশি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরার নামে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অভিযান শুরু করলে হাজারো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বেসামরিক লোকজনের ওপর হত্যা ও গণধর্ষণ এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন নয়, সেটা মনে করিয়ে দেওয়ার পর সু চি বলেন, ‘আমি সেটা জানি।
আমি বলছি না যে ওখানে কোনো সমস্যা নেই। তবে জনগণ যদি সমস্যাগুলো বুঝতে পারে এবং সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়, ভালো হবে। অতিরঞ্জিত করলে বরং সমস্যাটা বাস্তবতার চেয়ে আরও খারাপ দেখাবে।’ মিয়ানমারের সরকারে কার্যত সু চিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নিজ প্রশাসনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রীরা দুর্নীতিগ্রস্ত নন বলে তিনি সন্তুষ্ট। তবে কেউ কেউ প্রত্যাশার তুলনায় কম পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। প্রায় অর্ধশতকের সামরিক শাসন পেরিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারে উত্তরণের যাত্রা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সু চি বলেন, ‘জনগণকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে আমি ১৫ বছর গৃহবন্দী ছিলাম। সামরিক জান্তার শাসনের সময় অনেক বাধার মধ্যেও আমরা নিজেদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছি। তাই অনেকের শক্তি বা আমাদের রাজনৈতিক দলের অনেক সাধারণ সদস্যের শক্তিকে আপনি খাটো করে দেখতে পারেন না। আমাদের দলের মানুষেরা সত্যিকারের জনগণ, আর আমরা জনগণের খুব কাছে রয়েছি।’ মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী সু চি, তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন। বললেন, ‘একজন নেতা হিসেবে আমি কতটা সফল, সেটা নির্ধারিত হবে আমি নিজেকে কতটা পরিহার্য করে তুলতে পারি—তার মাধ্যমে। আশা করি, আমি নিজেকে সম্পূর্ণ বদলযোগ্য করতে পারব। তখন আমার দেশ বা রাজনৈতিক দলই চাইবে না আমি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকি।’

রাখাইনে গিয়ে বৌদ্ধদের বিক্ষোভের মুখে কফি আনান

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের গাড়িবহর
গতকাল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তি বিমানবন্দর থেকে
বেরিয়ে আসার পর স্থানীয় বৌদ্ধদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে। রয়টার্স
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের মুখে গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইন সফর করেছেন। সেখানে কফি আনানের নেতৃত্বে একটি দল সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থা যাচাই করে দেখে। কফি আনান যে কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাতে মিয়ানমারের ছয়জন ও বিদেশি তিন সদস্য রয়েছেন। রাখাইনের মুখ্যমন্ত্রী নি পু গতকাল তাঁদের বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেও বিমানবন্দরের বাইরে প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন। তাঁরা ‘কফি আনানের কমিশন নিষিদ্ধ করো’ লেখা ব্যানার বহন করেন। আর স্লোগান দেন, ‘আমরা কফি আনান কমিশন চাই না।’ রাখাইনে এক সামরিক অভিযানে প্রায় ১০০ মুসলিম নিহত হয়েছে। আর প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে ১০ হাজার মানুষ। রাখাইনের রাজধানী সিত্তি শহর পরিদর্শনের পর আনানের আজ শনিবার দেশটির উত্তর অংশের দিকে যাওয়ার কথা।
সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে অঞ্চলটি অবরুদ্ধ রয়েছে। সীমান্তচৌকিতে গত ৯ অক্টোবর এক জঙ্গি হামলার পর সেনাবাহিনী ওই অভিযান চালায়। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি গোলযোগপূর্ণ রাখাইন রাজ্যের বর্তমান অবস্থা শুরুর আগেই ওই নয় সদস্যের কমিশনকে পরামর্শের জন্য নিয়োগ করেছিলেন। রাখাইনের বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলমানরা ২০১২ সালের সহিংসতার পর থেকে আলাদা থাকছেন। সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনায় মিয়ানমারে সু চির রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আট মাস বয়সী সরকার বেশ চাপের মুখে পড়েছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সহায়তায় সু চি খুব সামান্যই ভূমিকা রেখেছেন বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অথচ তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হিসেবে খ্যাত। আর তাঁর দেশেই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নেই। এমনকি মৌলিক সেবাগুলোও তারা পায় না। রোহিঙ্গা নারীরা সেনা অভিযানের সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে মিয়ানমারের অনেক বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করলেও সরকার ও সামরিক বাহিনী তা অস্বীকার করছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে বলেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষ রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে।

৩০ ঘণ্টা পর ‘নবান্ন’ ছাড়লেন মমতা

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন টোল প্লাজায় সেনাবাহিনী নামানোর প্রতিবাদে রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’তে ৩০ ঘণ্টা অবস্থান নেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে বেরিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে তিনি বলেছিলেন, সেনাবাহিনী প্রত্যাহার না করা হলে তিনি নবান্ন থেকে বের হবেন না। গতকাল সচিবালয় ছাড়ার আগে মমতা বলেন, ‘কেন্দ্র আমাদের নিপীড়ন করতে চাইছে।
আমরা আইনিভাবে এর বিরুদ্ধে লড়ব।’ বৃহস্পতিবার পূর্বঘোষণা ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন টোল প্লাজায় সেনা মোতায়েন করা হয়। এর পরপরই মমতা দাবি করেন, রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই পশ্চিমবঙ্গে সেনা মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি ঘোষণা দেন, সেনা প্রত্যাহার না হলে তিনি রাজ্য সচিবালয় ছাড়বেন না। বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা ৩০ ঘণ্টা তিনি সেখানে ছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সেনাবাহিনীর নিয়মিত মহড়ার অংশ। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারকে আগেই জানানো হয়েছে। তবে মমতা বলেছেন, তাঁর সরকারকে এ বিষয়ে আদতে কিছুই জানানো হয়নি। মমতার দাবি, রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে সেনাবাহিনী কেন্দ্রের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে নেমেছে। তাঁর সরকারের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব বা পুলিশের প্রধানকে না জানিয়ে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। এদিকে রাজ্য সরকারের অভিযোগ খণ্ডন করে গতকাল ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল সুনীল যাদব বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চিঠি দিয়ে এই অভিযানে নেমেছে সেনাবাহিনী। গত ২৪ নভেম্বর রাজ্য পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। এটা তাদের নিয়মিত কর্মসূচি। এ ধরনের মহড়া গত বছরের ১৯ থেকে ২৪ নভেম্বরও হয়েছিল। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরও একই কথা বলেছেন। সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
দুই দিন ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, অরুণাচল, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম—সর্বত্রই একাধিক জায়গায় সেনাবাহিনীর এই কর্মসূচি চলছে। প্রতিটি দলে ৫ থেকে ১০ জন নিরস্ত্র সেনাসদস্য রয়েছেন। কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকে জানিয়েই তারা এই কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রথমে সেনাবাহিনী এই কর্মসূচি ২৮ নভেম্বর গোটা পশ্চিমবঙ্গে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পুলিশের অনুরোধে তা ১ ডিসেম্বর শুরু করা হয়। মমতার দলের বিধায়কেরা রাজ্যপালের বাসভবন ‘রাজভবন’ চত্বরও ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। রাজ্যপাল কলকাতায় নেই। তিনি এখন দিল্লিতে রয়েছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে দলের তরফ থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন। তৃণমূলের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যকে না জানিয়ে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে সেনাসদস্য নামানো হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত। তৃণমূলের আরেক সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জায়গায় সেনা নেমেছে। এ ধরনের ঘটনা এই পশ্চিমবঙ্গে আগে ঘটেনি। নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানান, সেনা মোতায়েনের বিষয়টি গতকাল সংসদের উভয় কক্ষে উত্থাপন করেন তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যরা।
তাঁদের পাশে সমর্থন নিয়ে দাঁড়ায় কংগ্রেস, বহুজন সমাজ পার্টিসহ অনেকেই। সবাই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর লোকসভায় বলেন, যেভাবে দেশের সেনাবাহিনীকে এই বিতর্কে টেনে আনা হচ্ছে, তা নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, এই আচরণ তৃণমূল নেত্রীর ‘রাজনৈতিক হতাশার’ বহিঃপ্রকাশ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘রুটিন মহড়া’ জানিয়ে বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এই মহড়া উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খন্ডে গত মাসে হয়ে গেছে। মহাসড়কে কী পরিমাণ ভারী যান চলাচল করে, সেনাবাহিনী তার একটা হিসাব নেয়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই জরিপ কাজ দেয়। সেনাবাহিনী পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অরুণাচল, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, মণিপুর ও মেঘালয়ে এই জরিপ করেছে। সংসদের দুই কক্ষেই তৃণমূলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে অন্ধকারে রেখে সেনাবাহিনী এই কাজটা করেছে।

কাস্ত্রোর মৃত্যুতে কিউবায় মার্কিন উপস্থিতি বাড়বে

প্রিয় বিপ্লবী নেতা প্রয়াত হয়েছেন। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে
এসেছেন এই নারী। হাতে সেই নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ছবি।
তাঁর দেহভস্ম বহনকারী গাড়ি কিউবার গুরুত্বপূর্ণ
শহরগুলোতে প্রদক্ষিণ করছে। গাড়িটি এসে কামাগুয়েতে
পৌঁছাবে, সেই জন্য এই নারীর অশ্রুসিক্ত প্রতীক্ষা। রয়টার্স
মার্কিন পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গোটা জীবনটাই পার করে দিয়েছিলেন কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। কিন্তু তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গেই কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপদেশটিতে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ার আভাস স্পষ্ট হওয়া শুরু করেছে। তাঁর প্রয়ানের অল্প কিছুদিন আগেই কিউবায় ফিরে এসেছে মার্কিন প্রমোদতরি। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ফিরে এসেছে দূতাবাসও। বাইসাইকেল রিকশাগুলোয় এখন অবাধে উড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। হাভানার পুরোনো নানা এলাকায় এখন মার্কিন পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে।
ফেরিওয়ালারা বিক্রি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পোস্টার। কিউবার জনগণের একটি অংশ আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে দ্বীপদেশটির অর্থনীতি চাঙা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো ইতিমধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। দুই দেশ পরস্পরের ভূখণ্ডে দূতাবাস আবার চালু করেছে। আর কিউবার ওপর থেকে বাণিজ্য ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতি ফিদেলের বৈরী মনোভাব ছিল। তিনি মার্কিনপন্থী স্বৈরশাসক ফুলগেনসিও বাতিস্তাকে উৎখাত করেই কিউবায় বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গেরিলাযুদ্ধ চলাকালে কাস্ত্রো ১৯৫৮ সালে এক চিঠিতে অঙ্গীকার করেছিলেন, বাতিস্তাকে সমর্থন করার মাশুল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আদায় করবেন। কাস্ত্রোর প্রয়াণের অল্প কিছুদিন আগেই কিউবায় ফিরে এসেছে মার্কিন প্রমোদতরি। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ফিরে এসেছে দূতাবাসও। বাইসাইকেল রিকশাগুলোয় এখন অবাধে উড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়ে কাস্ত্রো বলেছিলেন, এটিই তাঁর সত্যিকারের গন্তব্য। সম্প্রতি নিজের ৯০তম জন্মদিনে গত ১৩ আগস্ট কাস্ত্রো এক নিবন্ধে স্মৃতিচারণা করেন, তাঁকে হত্যার লক্ষ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বেশ কয়েকবার ‘ম্যাকিয়াভেলীয়’ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ২০১৪ সালে রাউল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রকাশ্যে এর প্রতিক্রিয়া জানাতে ফিদেল কয়েক মাস সময় নিয়েছিলেন। কিছুটা উষ্ণতা মাখিয়েই বলেছিলেন, রাউল ‘ঠিক কাজটাই’ করেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টার-আমেরিকান ডায়ালগের প্রেসিডেন্ট মাইকেল শিফটার বলেন, সবাই জানে ফিদেল তাঁর ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন উদ্যোগের ব্যাপারে খুব আগ্রহী ছিলেন না। তিনি কিছুটা অনমনীয়ই ছিলেন। বারাক ওবামা গত মার্চে কিউবায় ঐতিহাসিক সফরে যান। ৮৮ বছরের মধ্যে এটিই ছিল সেখানে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর।
এ সময় কাস্ত্রো এক কঠোর নিবন্ধে লেখেন, ‘আমরা ওই সাম্রাজ্যের কাছ থেকে কোনো উপহার চাই না।’ কিন্তু তাঁর অপছন্দ সত্ত্বেও কিউবায় মার্কিন প্রভাব ফিরে আসছে। কয়েক দশকের পুরোনো অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায়ই ওবামা প্রশাসন হাভানার ওপর থেকে বেশ কিছু বাণিজ্য ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। কিউবায় ৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো মার্কিন প্রমোদতরি গত মে মাসে নোঙর করে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উড়োজাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। এয়ারবিএনবি এবং নেটফিক্সের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কিউবায় কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া স্টারউড হোটেল কর্তৃপক্ষ হাভানায় গত জুনে শেরাটন হোটেলের একটি শাখা খুলেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার মার্কিন নাগরিক কিউবা ভ্রমণ করেছেন। তবে ওবামা সরকার নানা বাধা তুলে নিলেও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ কিউবার সরকার-নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে এখনো বাধার মুখোমুখি হচ্ছে। কাস্ত্রো বেঁচে থাকলে আরও বেশি শত্রুভাবাপন্ন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেখতেন। যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুর পরও তাঁকে একজন ‘নির্মম স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়েছেন। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কিউবান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক হোর্হে দুয়ানি বলেন, কাস্ত্রোবিরোধী কথাবার্তার মাধ্যমে ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন ‘ম্যাড ডগ’ ম্যাটিস

‘ভদ্র থাকুন। পেশাদার থাকুন। তবে যার সঙ্গেই আপনাদের মুখোমুখি হতে হোক না কেন, তাঁকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা মাথায় রাখবেন।’ ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন মেরিন সেনাদের উদ্দেশে এ কথাগুলো বলেছিলেন ‘ম্যাড ডগ’ (পাগলা কুকুর) হিসেবে পরিচিত জেনারেল জেমস ম্যাটিস। যুদ্ধপ্রীতির জন্য তিনি ‘যুদ্ধবাজ সন্ন্যাসী’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁকেই নিজ মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য মনোনীত করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ‘ইউএসএ থ্যাংক ইউ ট্যুর ২০১৬’-এর অনুষ্ঠানে জেনারেল জেমস ম্যাটিসকে মনোনয়নের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তাঁকে ‘সবচেয়ে সেরা’ বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ম্যাটিস একজন খাঁটি জেনারেল। ওহাইওর সিনসিনাটি এলাকায় থ্যাংক ইউ ট্যুরের অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘“ম্যাড ডগ” ম্যাটিসকে আমরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি।’ বিবিসি জানায়, ম্যাটিস ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ ও ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা অভিযানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান।
তাঁর বয়স এখন ৬৬ বছর। নৌবাহিনীর জেনারেল ম্যাটিস যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ছিলেন। তবে তাঁর নিয়োগ খুব সহজে হবে বলে মনে করার কারণ নেই। কারণ ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত সিনেটে পাস হতে হবে। এ ছাড়া সামরিক বাহিনী থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি বিধিনিষেধ আছে। সেটিও তুলে নিতে হবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটরা এর বিরোধিতা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ড এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক ব্যক্তি সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে—এটা মার্কিন গণতন্ত্রের মূলনীতি। ওবামা প্রশাসনের ঘোরতর সমালোচক ম্যাটিস। ওবামার মধ্যপ্রাচ্য নীতি, বিশেষ করে ইরান ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে তিনি সমালোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে তিনি সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করেন। ম্যাটিস ২০১০ সালে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড পরিচালনার দায়িত্ব পান। এই পদে আসীন ব্যক্তির দায়িত্ব হলো মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত সব মার্কিন বাহিনীকে পরিচালনা করা। সম্প্রতি জেমস ম্যাটিস ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানানোর ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে তা সত্যি হলো।

নতুন বই পেলে খুশি পাঠকেরা

উত্তর মুগদাপাড়ার সুরবিতান আদর্শ পাঠাগার।
মঙ্গলবার সকালের দৃশ্য। আবদুস সালাম
‘আমার পাঠাগারটি ছোট। এটি নিয়ে না হয় পরে লিখবেন।’ টেলিফোনের অপর প্রান্তে যিনি ছিলেন, তাঁর নাম রুবিনা ইয়াসমিন। তাঁকে বলা হলো, ‘পাঠাগার ছোট কি বড় সেটা বড় কথা নয়, পাঠাগার সক্রিয় আছে কি না, মানুষের উৎসাহ আছে কি না, সেটাই আসল।’ রুবিনা বললেন, সেদিক থেকে হয়তো কমতি নেই। ২৯ নভেম্বর সকালবেলা। মুগদাপাড়া যেতে মূল সড়ক থেকে ভেতরে ঢুকে আরও একটু গলির ভেতর গেলেই দেখা মেলে সুরবিতান আদর্শ পাঠাগারের। বাইরে সাইনবোর্ডে লেখা—৮৮, উত্তর মুগদাপাড়া। পাঠাগারটি ছোট বটে, তবে বই দিয়ে সাজানো। চারটি আলমারি।
বসার জন্য আছে চারটি বেঞ্চ। মাঝে একটু জায়গা, সেখানে বসেও পড়া যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রীর আসার খবর পেয়ে একে একে হাজির হন নিয়মিত পাঠক শ্রাবণ খান, সুরাইয়া এলিনা, সুরাইয়া আক্তার, এলিজা আক্তার, শিরিনা আক্তার, মোহনা বিনতে, আবদুল মতিন, শোয়েব ও নওরীন। ছিলেন পাঠাগারের সভাপতি এ কে এম মোরতেজুর রহমানও। তাঁরা বললেন পাঠাগার নিয়ে তাঁদের স্বপ্নের কথা। তাঁদের কথায় অনুরণিত হলো, পরিসরটা আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। ভালো হতো বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে পারলেও। সিটি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মোহনা বিনতের কথায়, ‘তাহলে পাঠক হিসেবেও আমরা বেশি সম্মানিত বোধ করতাম।’ সবার কথার মধ্যেই খলবলিয়ে ওঠেন এলিজা আক্তার, ‘ম্যাম নতুন বই নিয়ে আসেন, আর আমরা পড়ে শেষ করে ফেলি। আরও নতুন বই আনতে বলি।’ তিতুমীর কলেজের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্রী বোঝেন টানাটানির সংসারের সমস্যাটাও,
‘কিন্তু ম্যাম এত নতুন বই পাবেন কোথায়?’ এলিজার কথার সূত্র ধরে রুবিনা ইয়াসমিন, যিনি এই পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা, বললেন, ‘এই কক্ষটির ভাড়া ছয় হাজার টাকা। স্থানীয় মানুষের অনেক অর্থ থাকতে পারে, কিন্তু পাঠাগারে দেওয়ার মতো মন নেই। কষ্ট করে আমরা পাঠাগারটি চালাই।’ পাবনার মেয়ে রুবিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই গান করতেন। বই পড়ার অভ্যাসটা পরিবারেই ছিল। লেখাপড়া শেষ করে চিন্তা করলেন, একটা পাঠাগার যদি করা যায়, তবে মুগদাবাসীর কাজে লাগতে পারে। ২০০৫ সালে পাঠাগারটি জাতীয় গণগ্রন্থাগারে নিবন্ধিত হয়। প্রতিবছর জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে অনুদান পাওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত তা মিলেছে মোটে তিনবার। নগদ টাকা ১০ হাজার ও বই ১০ হাজার টাকার। রুবিনার কথায়, 
যে বইগুলো দেওয়া হয় সেগুলো নিশ্চয় ভালো, কিন্তু তরুণ পাঠকেরা ধরতে চায় না। এ জন্য প্রতিবছর একুশে বইমেলার সময় আমরা দুই/তিন হাজার টাকার বই কিনি।’ এখানকার পাঠকেরা বুদ্ধদেব গুহ, হ‌ুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন ও আনিসুল হকের বই বেশি পড়ে। সুরবিতানে বইয়ের সংখ্যা আট শর মতো। গল্প, কবিতা, উপন্যাসের পাশাপাশি রয়েছে জীবনী, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, রূপকথা ও মুক্তিযুদ্ধের বই। পাঠাগারের সদস্যদের মধ্যে নারী বেশি, যাদের বেশির ভাগ কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। পাঠকদের মধ্যে কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ২৫ জনের মতো হবে। দিনের প্রথম ভাগে অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত চালু থাকে পাঠাগারটি। বন্ধ থাকে শুক্রবার।

দখলে দখলে সড়ক উজাড়

কাফরুলে সড়ক দখল করে স্থাপন করা হয়েছে গ্যারেজ
সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় কচুক্ষেত থেকে মিরপুর আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত ১০০ ফুট সড়কের নির্ধারিত জায়গার অনেকাংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে উঠেছে অনেক ঘরবাড়ি-দোকানপাট। আবার কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা রয়েছে, যেখানে বাড়িঘর করবেন কি না, তা নিয়ে মালিকেরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। রাস্তার প্রয়োজনে এসব জায়গা অধিগ্রহণ হতে পারে। কচুক্ষেত পুলপাড়ে তামান্না কমপ্লেক্সের বিপরীত দিকে সড়কটির পূর্ব প্রান্ত। পশ্চিম দিকে গেছে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া হয়ে মিরপুর ১ নম্বরে আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্র বলেছে, ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার অনেক আগে থেকেই সড়কটি হওয়ার কথা। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা বারবার পিছিয়ে যায়। ২০১৫ সালে ডিএনসিসি নির্বাচনের সময় এলাকাবাসীর দাবি ছিল, দখল অংশ উদ্ধার করে ১০০ ফুট চওড়া করে সড়কটি নির্মাণ করা হোক। ওই বছরই সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গেলেও তা স্থগিত করা হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, জনস্বার্থ ও এলাকার যাবতীয় বিষয়ে সমীক্ষা ও জোরালো তথ্য ছাড়াই এটি উপস্থাপন করা হয়েছিল। ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, এবার সঠিক ও তথ্যবহুল সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুয়েট মাটি পরীক্ষাসহ যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, সময় লাগলেও ভবিষ্যতে এই সড়ক হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি আবারও একনেকে পাঠানো হবে। অনুমোদন হলেই পুরোদমে কাজ শুরু হবে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, শেওড়াপাড়া পর্যন্ত ১০০ ফুট সড়ক হওয়ার পর পশ্চিম প্রান্তে ওভারপাস করতে হতে পারে। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখন যে সড়কটি দৃশ্যমান সেখানে কোথাও ২০ ফুট, কোথাও তার খানিকটা বেশি জায়গা আছে। আবার কোথাও মাঠের মতো খালি জায়গা। পড়ে থাকার কারণে অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কচুক্ষেত প্রান্তে তামান্না কমপ্লেক্স থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটি অনেক স্থানেই সংকুচিত। কাফরুল, ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায় বিশাল খালি জায়গা দখল হয়ে গেছে। সড়কের কিছু অংশের পাশে মূল ভবনের সামনে টেনে দেওয়া হয়েছে টিনের ছাউনি। গড়ে উঠেছে অস্থায়ী স্থাপনা। মনিহারি দোকান থেকে শুরু করে মোবাইল ফোনের সামগ্রী, লন্ড্রি থেকে সেলুন—সবই রয়েছে। আবার অনেক স্থানে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। তবে সেগুলোর বেশির ভাগই ব্যক্তিমালিকদের জায়গা বলে জানা যায়। একাধিক মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁদের নিজস্ব জায়গাতেও পাকা বহুতল ভবন করতে পারছেন না। কারণ, অনেক দিন থেকেই শুনতে পাচ্ছেন, এখানে ১০০ ফুট সড়ক হবে। ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ বলেন, ১০০ ফুট সড়কের জন্য অবশ্যই ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। জেলা প্রশাসন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করলে সে অনুযায়ীই জায়গার মালিকদের এ বাবদ অর্থ দেওয়া হবে।

ভাঙাচোরা সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী

কুমিল্লার মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কটি যানবাহন চলাচলের
অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নয় কিলোমিটার এই রাস্তায়
চলাচলে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছবিটি
সম্প্রতি তেমুরিয়া এলাকা থেকে তোলা। প্রথম আলো
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদর থেকে রামচন্দ্রপুর পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার। সড়কটির বেশির ভাগ অংশের পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ শত শত যান। এতে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। সরেজমিনে গত ২১ নভেম্বর দেখা গেছে, সড়কের উপজেলা সদরের হরিপুর গ্রামের অংশে পিচ উঠে গেছে। সদর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে করিমপুর বাজার বেইলি সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। এই বাজার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার উত্তরে নেয়ামতপুর হাজি সুপারমার্কেট। এর সামনে থেকে প্রায় পৌনে ১ কিলোমিটার অংশে পিচ নেই। লাল সুরকি বেরিয়ে আছে। ধুলা উড়ছে। এর পরের প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে কাশীপুর এলাকায় সড়কটি উঁচু-নিচু, ঢেউখেলানো। এরপর নোয়াগাঁও বাজার। সেখানে মায়ের দোয়া নামের একটি দোকানের সামনে বড় বড় গর্ত। তারপর নোয়াগাঁও চৌরাস্তা, যেখানে রামচন্দ্রপুর থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাস গর্তে পড়ে আছে।
নোয়াগাঁও বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে কামাল্লা দরবার শরিফসংলগ্ন সেতুর কাছে সড়কটিতে চারটি বড় গর্ত। সেতু পার হয়ে সিয়াম মার্কেট ও কামাল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে সড়কটি ভেঙেচুরে একাকার। এরপর রাজনগর ও তেমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের দুই পাশভেঙে গেছে। তেমুরিয়া ঈদগাহ ও কবরস্থানের পাশেও সড়ক ভাঙাচোরা। রামচন্দ্রপুর গ্রামে রয়েছে প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো একটি বাজার। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তিতাসের শাখা নদ। উত্তর কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষ প্রতিদিন এ বাজারে আসে। এখানে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে শুঁটকি আনা হয়। এসব কারণে যাতায়াতের জন্য সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ৯ কিলোমিটার সড়কইভাঙাচোরা। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, আট বছর আগে এই সড়কে সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো ধরনের সংস্কারকাজ হয়নি। নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মামুন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি মুরাদনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুরের বাসিন্দারাও ব্যবহার করেন। কিন্তু যানবাহনে যাতায়াত করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে যাওয়া তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই মুশকিল। সড়কটি শিগগির সংস্কার করা দরকার। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগির কাজ শুরু হবে।

ছবি এঁকে পুরস্কার পেল খুদে আঁকিয়েরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণের গাছপালার ডালের ফাঁকে তখন উঁকি দিচ্ছিল হেমন্তের রোদ। মূল প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই শোনা গেল একঝাঁক শিশুর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের শব্দ। মাঝেমধ্যে শোনা যাচ্ছিল, ‘ওই যে ওটা আমার ছবি’। অভিভাবকদের নিজের আঁকা ছবি দেখাতে কথাগুলো বলছে খুদে আঁকিয়েরা। মেঝেতে রাখা রংবেরঙের ছবিগুলো তাদেরই আঁকা। বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী না-ফেরার দেশে চলে গেছেন দুই বছর হয়ে গেল।
তাঁর স্মরণে গতকাল শুক্রবার সকালে চারুকলা অনুষদ চত্বরে বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরী, রফিকুন নবী, সৈয়দ আবুল বারক আলভী ও শিশির ভট্টাচার্য্য। ৫ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তিনটি আলাদা দলে। সেখান থেকে নির্বাচিত ১৫ জন আঁকিয়েকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

তাঁর আগমন, তাই...

রেলওয়ের মহাপরিচালকের আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার
রাতে ফুলফোটা গাছ এনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে
লাগানো হয়। ছবি: প্রথম আলো
এ যেন আলাদিনের চেরাগের ছোঁয়া। রাজশাহী রেলস্টেশনের চেহারা রাতারাতি বদলে গেল। এক রাতের মধ্যেই ফুলে ফুলে ভরে গেল স্টেশন এলাকা। মরিচা পড়া গ্রিলগুলো পেল নতুন রং। সকালে রোদ উঠতেই ঝাঁ-চকচকে স্টেশন। অনেকেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এত সব শুধু একজনের জন্য। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আমজাদ হোসেন। গতকাল শুক্রবার ভোর রাতে তিনি ট্রেনে করে রাজশাহী রেলস্টেশনে এসে পৌঁছান।
ডিজির আগমন উপলক্ষে স্টেশনের পার্কিং জোনে রাতের মধ্যে ফুল ফোটা বড় বড় গাছ এনে লাগানো হয়েছে। সারা রাত ধরে সেগুলোতে পানি দেওয়া হয়েছে। রাতেই নতুন গ্রিল এনে সেগুলো ঘিরে দেওয়া হয়েছে। আর পুরোনোগ্রিলগুলোতে করা হয়েছে রং। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের পার্কিং জোনে ফুল গাছ লাগানোর জায়গাগুলো এত দিন খালিই পড়ে ছিল। প্ল্যাটফর্মের ভেতরে যেখানে ট্রেন এসে দাঁড়ায়, তার শেষ মাথায় খানিকটা জায়গা ঘিরে রাখা ছিল, সেখানেও ছিল না কোনো ফুল গাছ। গ্রিলে ছিল না রং। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতেই সেসব জায়গা ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। গ্রিলেও লেগেছে নতুন রং। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মহাপরিচালকের আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে নার্সারির ফুল ফোটা বড় বড় গাছ এনে এসব জায়গায় রোপণের কাজ শুরু হয়। কোনো কোনো জায়গায় গাছ লাগানোর মতো মাটি ছিল না। কিন্তু সেখানেও বালু ঢেলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে ফুল গাছ লাগানো হয়। এগুলো বেড়া দেওয়ার জন্য রাতেই গ্রিল এনে স্টেশনেই ঝালাই করে লাগানো হয়। এসব কাজ করতে গিয়ে রাতে স্টেশনে কর্মচারীদের দৌড়ঝাঁপ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত স্টেশনে অবস্থান করে দেখা গেছে, গাছ লাগানো ও গ্রিল ঝালাই করে বেড়া দেওয়ার কাজ তখনো শেষ হয়নি। ভোর পাঁচটার দিকে মহাপরিচালক ঢাকাথেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে রাজশাহী স্টেশনে এসে নামেন। সেখান থেকে সকালে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ যান। সেখানে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে আমনুরা রেলওয়ের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন তিনি। রাতে রাজশাহীতে মহাব্যবস্থাপকের সম্মেলনকক্ষে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে। আজ শনিবার সকালে পাকশি ডিভিশনের উদ্দেশে তিনি রাজশাহী ত্যাগ করবেন। গতকাল বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, রাতে সব জায়গায় ফুল গাছ লাগিয়ে স্টেশনের কর্মচারীরা শেষ করতে পারেননি। তবে গ্রিল লাগিয়ে তাতে রং করার কাজ শেষ করেছেন। রাতে লাগানো বড় গাছগুলো রোদ পড়ায় নেতিয়ে পড়েছে। একজন কর্মচারী সেগুলো পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
বালুর ওপরে এত বড় বড় গাছ লাগালে কি বাঁচবে? এমন প্রশ্নে তিনি কোনো কথা বলেননি। আরেক কর্মচারী বলেন, এর আগে মন্ত্রী (রেলমন্ত্রী) এসেছিলেন। তখনো এ রকম করা হয়নি। প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ পাশে একটি ফুলের বাগান রয়েছে। ওই বাগানের গাছগুলো সব ন্যাড়া হয়ে রয়েছে। কোনোটা মরে গেছে। কোনো পরিচর্যা না থাকায় পাতাবাহারের গাছগুলোর মাথায় জড়িয়ে রয়েছে স্বর্ণলতা। কোনো রকমে বাগানের জঙ্গল কেটে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাগানের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ছাই স্তূপ হয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী স্টেশন হয়ে ধূমকেতু ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন রাজশাহী নগরের অনন্যা শিশু শিক্ষালয়ের পরিচালক মাসুদ রানা। তিনি হঠাৎ রাতে স্টেশনের এই কর্মযজ্ঞ দেখে বলেন, রাত-দিন সরকারি কর্মচারীরা এভাবে কাজ করলে তো দেশটা বদলাতে সময় লাগবে না। এভাবে রাতের মধ্যে স্টেশন ফুল দিয়ে ভরার ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, অনেক কাজ তো রাতেও করতে হয়। এর আগে তো রাতে এভাবে কাজ করতে দেখা যায়নি, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজ থাকলে তো করতেই হয়। আপনারা তো চান স্টেশনটা সুন্দরভাবে সাজানো থাক?’ মহাপরিচালকের আগমনই কি জরুরি কাজ, জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তাহলে আগে কেন এই কাজ করা হলো না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মহাপরিচালকের আসার তারিখটা হঠাৎ পরিবর্তন হয়েছে। তিনি জরুরিভাবে এসেছেন। সে জন্য তড়িঘড়ি করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করতে হয়েছে।

শীর্ষ দশে বাংলাদেশের সাত কারখানা

বিশ্বের শীর্ষ ১০ পরিবেশবান্ধব কারখানার তালিকায় দ্বিতীয়
স্থানে থাকা নারায়ণগঞ্জের প্লামি ​ফ্যাশনসের একাংশ। ফাইল ছবি
পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা স্থাপনে বাংলাদেশে একধরনের নীরব বিপ্লবই ঘটে গেছে। সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শীর্ষ ১০–এ স্থান পাওয়া বিশ্বের ২৫টি পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার মধ্যে আছে বাংলাদেশের সাতটি। সব কটিই তৈরি পোশাক কারখানা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর অনুরোধে সম্প্রতি বিশ্বের পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার একটি তালিকা পাঠিয়েছে ইউএসজিবিসি।
অবশ্য প্রতিদিনই নিত্য নতুন পরিবেশবান্ধব কারখানা তালিকায় যোগ হচ্ছে। ১১০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৭ পেয়ে বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) রেমি হোল্ডিংস নামের পোশাক কারখানা। ৯২ নম্বর পাওয়া দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে আছে নারায়ণগঞ্জের প্লামি ফ্যাশনস। কারখানাটিতে নিট পোশাক উৎপাদন করা হয়। ৯০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে আছে আয়ারল্যান্ডের একটি শিল্পকারখানা ও বাংলাদেশের ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। আয়ারল্যান্ডের কারখানাটির নাম এবং সেটি কোথায় তা জানা যায়নি। পাবনায় অ্যাবা গ্রুপের ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিওতে জিনসসহ বিভিন্ন ধরনের প্যান্ট তৈরি হয়। ৮৬ নম্বর পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে আছে ইতালির বত্তেগা ভেনতা আর্টিলার ও যুক্তরাষ্ট্রের মেথড প্রোডাক্টস পিবিসি। ইতালির কারখানাটিতে চামড়াজাতীয় পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাটিতে সাবান তৈরি হয়। পঞ্চম অবস্থানটি বাংলাদেশের পোশাক কারখানার। ময়মনসিংহের ‘এসকিউ সেলসিয়াস ২’ পেয়েছে ৮৫ নম্বর। ৮৪ নম্বর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে ভিয়েতনামের এফজিএল-তান পু এক্সপানশন। ৮৩ নম্বর পেয়ে সপ্তম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটেল। ৮২ নম্বর পেয়ে অষ্টম অবস্থানে আছে চীনের ফক্সকন গুজিহুউ। ৮১ নম্বর নিয়ে বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান ও মেক্সিকোর ১০টি স্থাপনা সম্মিলিতভাবে নবম স্থানে আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের তিনটি পোশাক কারখানা—জেনেসিস ওয়াশিং, এসকিউ কোলব্লেনস ও এসকিউ বিরিকিনা। আর ৮০ নম্বর নিয়ে দশম অবস্থানে সম্মিলিতভাবে আছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও চেক রিপাবলিকের তিনটি শিল্প স্থাপনা। ইউএসজিবিসির লিড সনদ পেতে নয়টি শর্ত পরিপালন করতে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, এমন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে হয়, যাতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়। এ জন্য পুনরায় উৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ইট, সিমেন্ট ও ইস্পাত লাগে। এ ছাড়া কারখানার ৫০০ বর্গমিটারের মধ্যে শ্রমিকদের বাসস্থান, স্কুল, বাজার, বাস বা ট্যাম্পোস্ট্যান্ড থাকতে হয়। কারণ দূরত্ব বেশি হলে শ্রমিকদের কারখানায় আসতে গাড়িতে চড়তে হবে। এতে করে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ বেশি হয়। এর বাইরে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সূর্যের আলো, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি পানিসাশ্রয়ী কল লাগে।
এ ছাড়া কারখানাসহ অন্য ভবন নির্মাণের নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা রাখার বাধ্যবাধকতা আছে। কারখানার ভেতরের কর্মপরিবেশ উন্নত এবং অবশ্যই শ্রমবান্ধব হতে হয়। উৎপাদনের জন্য সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়। ইউএসজিবিসির নয়টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পয়েন্টে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ পয়েন্টে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ পয়েন্ট হলে ‘লিড সার্টিফিকেট’ সনদ মেলে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩২টি কারখানা ও স্থাপনা পরিবেশবান্ধব সনদ অর্জন করেছে। পরিবেশবান্ধব কারখানার স্থাপনার দিকে এগোচ্ছেন আরও অনেক শিল্প উদ্যোক্তা। এ ক্ষেত্রে অবশ্য পোশাকশিল্পের মালিকেরাই এগিয়ে আছেন। সংস্থাটির অধীনে কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি স্থাপনা পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা যায়। এ জন্য একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়। পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার শীর্ষে থাকা রেমি হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরান আলী প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যাচ্ছে, তবে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। কারণ সাধারণ কারখানার চেয়ে এখানে খরচ একটু বেশি। তবে ক্রেতারা এসব কারখানায় পোশাক তৈরির জন্য বেশি পয়সা দিচ্ছে না। তাই পরিবেশবান্ধব কারখানার ব্র্যান্ডিংটা আরেকটু জোরেশোরে করা দরকার। জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন,    পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের কারণে দেশের ব্র্যান্ডিং হবে। কারণ আমাদের দেশের ব্র্যান্ডিংটা এখনো অতটা উজ্জ্বল নয়। একই সঙ্গে অবশ্যই আমাদের পোশাক খাতের ব্র্যান্ডিংটাও হবে। দেশে নতুন নতুন পরিবেশবান্ধব কারখানা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পোশাকমালিকদের মধ্যে একধরনের সুস্থ প্রতিযোগিতা আছে।’ বিজিএমইএর এই সহসভাপতি বলেন, বর্তমানে পরিবেশবান্ধব কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ মূল চ্যালেঞ্জ। কারণ সঠিকভাবে দেখভাল করতে না পারলে হয়তো সনদ বাতিল হয়ে যাবে। সে জন্য বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিককে সচেতন হতে হবে। শোনা যাচ্ছে, ইউএসজিবিসি বাংলাদেশে তাদের একটি কার্যালয় করবে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেবে।
শীর্ষ ১০ পরিবেশবান্ধব কারখানা
পজিশন    পয়েন্ট        কারখানার নাম                  দেশ
 ১       ৯৭       রেমি হোল্ডিংস                        বাংলাদেশ
 ২       ৯২       প্লামি ফ্যাশনস                          বাংলাদেশ
 ৩      ৯০       গোপনীয়                                আয়ারল্যান্ড
 ৩      ৯০       ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও             বাংলাদেশ
 ৪       ৮৬      বত্তেগা ভেনতা আর্টিলার            ইতালি
 ৪       ৮৬      মেথড প্রোডাক্টস পিবিসি            যুক্তরাষ্ট্র
 ৫       ৮৫       এসকিউ সেলসিয়াস ২                বাংলাদেশ
 ৬      ৮৪       এফজিএল-তান পু এক্সপানশন      ভিয়েতনাম
 ৭       ৮৩       প্রিন্সটেল                                  যুক্তরাষ্ট্র
 ৮       ৮২       ফক্সকন গুজিহুউ ফোরজি          চীন
 ৯       ৮১       জেনেসিস ওয়াশিং                     বাংলাদেশ
 ৯       ৮১       এসকিউ কোলব্লেনস                  বাংলাদেশ 
 ৯      ৮১        এসকিউ বিরিকিনা                   বাংলাদেশ
 ১০    ৮০        প্রজেক্ট আই সিএফকে                জার্মানি
৮১ পয়েন্ট পাওয়া আরও সাতটি ও ৮০ পয়েন্ট পাওয়া আরও দুইটি স্থাপনা আছে
সূত্র: ইউএসজিবিসি

আলোচনার মাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহী

অমিত জৈন
প্রথম আলো: বাংলাদেশে উবার সেবা চালুর পর কেমন সাড়া পাওয়া গেছে?
অমিত জৈন: উবারের সেবা চালু করার পর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, যা আমাদের মুগ্ধ করেছে। গত সপ্তাহে আমরা এ সেবা চালু করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, এ শহরে কীভাবে সেবাগ্রহীতা ও চালকদের কাছে একটি বিশ্বস্ত, সুবিধাজনক ও নিরাপদ সেবা উপহার দিতে পারি। এটি চালুর পরপরই ঢাকা শহরের সেবাগ্রহীতা ও চালকদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি, তাতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। উবার বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিশীল করেছে। আমরা জানি, ঢাকা বিশ্বের জনবহুল শহরগুলোর একটি, তাই এ শহরের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিশীল করে তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সারা বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে উবারের ৮০ লাখ ভ্রমণ হয়।
প্রথম আলো: কতজন ট্যাক্সিচালক উবারে নিবন্ধন করেছেন?
অমিত জৈন: উবার স্মার্টফোনের অ্যাপ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে এই অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্সিসেবা গ্রহীতা ও চালকের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করা হয়। গ্রাহকদের মধ্যে সেবা নেওয়ার যে চাহিদা তৈরি হয়, তার ভিত্তিতে চালকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়।
প্রথম আলো: যেকোনো দেশে যেকোনো সেবা চালুর ক্ষেত্রে আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে। বাংলাদেশে উবার সেবা চালুর ক্ষেত্রে সেসব আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করা হয়েছে কি?
অমিত জৈন: আগেই বলেছি, উবার শুধু একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। যার মাধ্যমে শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিশীল করতে সহায়তা করা হয়। বিশ্বের ৭৪টি দেশের ৪৫০টি শহরে উবারের সেবা চালু আছে। এ ধরনের সেবা বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। নতুন কিছু উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা সরকার ও নীতিনির্ধারকদের রূপকল্প পূরণে সহায়তা করতে চাই। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহী।
প্রথম আলো: উবারে সেবা গ্রহণকারীর ক্ষেত্রে ভাড়া কীভাবে নির্ধারিত হয়?
অমিত জৈন: সব সময় আমাদের চেষ্টা থাকে সেবাটিকে গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী ও সহজ করার। সেবাগ্রহীতাদের সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বস্ত ও সুবিধাজনক একটি যাত্রা উপহার দিতে চাই আমরা। উবারের সেবায় ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি ভিত্তিমূল্য থাকে। তার সঙ্গে যাত্রার সময় ও দূরত্ব মিলিয়ে পরবর্তী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
প্রথম আলো: বর্তমানে শুধু ঢাকায় এ সেবা চালু করা হয়েছে। অন্যান্য শহরে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা আছে কি?
অমিত জৈন: আমাদের প্রথম চেষ্টা ঢাকা শহরে এ সেবাকে যতটা সম্ভব বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা। তাই ঢাকার বাইরে অন্য শহরগুলোতে এ সেবা চালুর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।
প্রথম আলো: উবারে নিবন্ধিত কোনো চালক যদি যাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, তবে তার প্রতিকারের উপায় কী?
অমিত জৈন: প্রযুক্তিনির্ভর এ সেবা চালুর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের চেষ্টা ব্যবহারকারীদের একটি নিরাপদ সেবা উপহার দেওয়া। গাড়ি খুঁজে পাওয়া থেকে গাড়িতে অবস্থানকালীন এবং গন্তব্যে পৌঁছা পর্যন্ত যাত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। এ জন্য উবার সেবাগ্রহীতার প্রতি আমাদের সব সময় আহ্বান থাকে গাড়িতে ওঠার আগে চালকের নাম, ছবি, লাইসেন্স, গাড়ির নম্বর ইত্যাদি ভালোভাবে দেখে ও মিলিয়ে নিতে। এর বাইরে উবারের আওতায় যেসব গাড়ি চলে, সেগুলোকে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে গতিবিধি নজরে রাখি। চালক ও সেবাগ্রহীতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অ্যাপ ব্যবস্থাটির মধ্যেই দুটি ধাপ সংযুক্ত করা আছে। যার মাধ্যমে প্রতিটি ভ্রমণ শেষে চালক ও সেবাগ্রহীতা তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে।
প্রথম আলো: বাংলাদেশকে ঘিরে উবারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?
অমিত জৈন: আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে যেকোনো শহরে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ও সহজ একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা। যাতে করে ওই শহরের নাগরিকের জীবনযাত্রা নিশ্চিন্ত ও গতিশীল হয়। প্রতিটি শহরের সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলক আলাপ–আলোচনার মাধ্যমেই এ কাজ করতে চায়। বাংলাদেশেও আমরা এ লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে যাব।

বিএনপি যত নরম, সরকার তত গরম!

খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের
প্রস্তাব পেশ করেন। ফাইল ফটো
রাজনীতিতে শীতের পর বসন্ত কিংবা বসন্তের পর খরতাপময় গ্রীষ্ম আসা অস্বাভাবিক নয়। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো দলের ‘শীতকাতর’ অবস্থা দেখে প্রতিপক্ষের উল্লসিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দলকে উল্লসিত কিংবা বিমর্ষ করার এখতিয়ার একমাত্র জনগণের। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে আছে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। আমাদের নেতা-নেত্রীরা সভা-সমাবেশে প্রায়ই বাক্যটি আওড়ালেও তা মান্য করেন না। মান্য করলে গণতন্ত্রের এই দুর্গতি হতো না। গণতন্ত্রের দুর্গতির জন্য বিএনপি আওয়ামী লীগকে এবং আওয়ামী লীগ বিএনপিকে দুষছে। কিন্তু জনগণ কাকে দুষবে?
বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হলো যাঁরা বিরোধী দলে থাকেন তাঁরা মনে করেন, তাঁদেরই ক্ষমতায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাঁদের সেখানে ঠেলে দিয়েছে। আর ক্ষমতাসীনদের বদ্ধমূল ধারণা, বিরোধী দল তাঁদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করছে, তা কঠোর হাতে দমন করতে না পারলে দেশ ও জাতির সর্বনাশ হয়ে যাবে। দুই পক্ষের এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মাঝখানে পড়ে দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার যে বারোটা বেজে গেল, সেসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। আজ আওয়ামী লীগের নেতারা যা বলছেন, ক্ষমতায় থাকলে বিএনপির নেতারাও তা–ই বলতেন। আর বিএনপির নেতারা যা বলছেন, বিরোধী দলে থাকলে আওয়ামী লীগ নেতারাও ভিন্ন কিছু বলতেন না।
গণতন্ত্র মানলে তার অপরিহার্য উপাদান নির্বাচনও মানতে হবে। আর সেই নির্বাচন পরিচালনা করতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি হলো খুব কম নির্বাচন কমিশনই বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে পেরেছে। দুই কমিশনের প্রধান (এম এ আজিজ ও এম এ সাদেক) তো নির্বাচন না করে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছিলেন। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন কতটা খারাপ করেছে, সেই বিশ্লেষণের চেয়েও যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো, আগামী ফেব্রুয়ারিতে এর মেয়াদ শেষ এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কীভাবে? সংবিধানে আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও গত ৪৫ বছরে সেই আইন কেউ করেননি। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা চলে আসছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে উত্থাপিত সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে আগের বারের মতো অর্থাৎ সার্চ কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন করার কথা বলা হয়েছে। আইনমন্ত্রীও সে রকম ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে গত ১৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠন–প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)
গঠন করা উচিত। তাঁর প্রস্তাবগুলো আলোচনার ভিত্তি হতে পারে। সরকারের কাছে এর চেয়ে উত্তম প্রস্তাব থাকলে সেটি নিয়েও কথাবার্তা হতে পারে। কিন্তু খালেদা জিয়ার প্রস্তাব পেশের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতে মনে হবে বিএনপির চেয়ারপারসন মহা অন্যায় করে ফেলেছেন। আমরা এত দিন দেখে এসেছি, সরকার বা সরকারি দল কোনো আলোচনার প্রস্তাব দিলে বিরোধী দল নাকচ করে বা নানা শর্ত জুড়ে দেয়। এখানে সরকারি দলই বিএনপির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। এত দিন তারা বলে আসছিল, জামায়াতকে ছাড়লে আলোচনা হতে পারে। খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে জামায়াতকে ছাড়া ও ধরা—দুই দিকের কথাই আছে। তিনি বলেছেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। নিবন্ধিত বললে, জামায়াত বাদ পড়ে। আর সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দল এলে জামায়াত যুক্ত  হয়। কিন্তু সরকারি দল আলোচনা করতেই রাজি নয়। একজন মন্ত্রী তাঁর প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে বলেছেন, এটি খুবই বিপজ্জনক। আরেক মন্ত্রী বলেছেন, খালেদার প্রস্তাবে নতুন কিছু নেই। নতুন কিছুই যদি না থাকবে, তাহলে বিপজ্জনক হলো কীভাবে?
বিশ্লেষকদের মতে, নিকট অতীতে বিএনপি কিছু ‘ঐতিহাসিক ভুল’ করার কারণে দলের নেতারা যতই নমনীয়তা দেখাচ্ছেন, সরকার ততই কঠোর হচ্ছে। আইন প্রতিপালন কিংবা অপরাধের বিচারে সরকার কঠোর হোক, কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে অপরিহার্য অনুষঙ্গ আলোচনা-সমঝোতা, সেসব ক্ষমতাসীনেরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না। বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের প্রধান অভিযোগ, তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে (যদিও বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধী নয়) এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। যদি যুক্তির খাতিরে ধরেও নিই যে বিএনপি সেই চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু শেষ বিচারে তো তারা সফল হয়নি। একতরফা হলেও যে নির্বাচন হলো তার জোরেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। বিএনপি নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে, বলে দলের নেতা-কর্মীদের যথেষ্ট কাফফারা দিতে হয়েছে। কিন্তু একতরফা নির্বাচনের কোনো ক্ষতিপূরণ আওয়ামী লীগকে দিতে হয়নি। বরং বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মীকে সরকার দৌড়ের ওপর রেখেছে।
কিন্তু এত সব কাণ্ড করে​ কি ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?  ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিরোধী দলকে দৌড়ের ওপর রাখলে তা থেকে সরকার কোনো রাজনৈতিক সুবিধা পায় না; বরং বিরোধী দলের প্রতি জনগণের সহানুভূতি বাড়ে। মানুষ বিএনপির শাসনামলের অবিচারের সঙ্গে বর্তমানকে মিলিয়ে দেখতে চেষ্টা করবে। নিকট অতীতে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তারও আগে এরশাদ ও জিয়ার শাসনামলের চালচিত্রটা ক্ষমতাসীনেরা একবার স্মরণ করতে পারেন। ২০০১-০৬ সালে বিএনপি সরকারের বাড়াবাড়ির ফল তারা পেয়েছে। সে সময় বিএনপির সঙ্গী ছিল জামায়াত, আর এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গী হলো স্বৈরাচারী এরশাদ। জিয়া যদি যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে পাপ করে থাকেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশীদকে দেশে এনে রাজনীতির মাঠে নামিয়ে এরশাদ মহাপাপ করেছেন। আওয়ামী লীগ পাপীকে ধরলেও মহাপাপীকে ছাড় দিচ্ছে।
শেখ হাসিনার সরকার আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে যে অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে, অতীতের কোনো সরকার তা পায়নি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে হাত দিলেন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে অতি বামেরা সশস্ত্র তৎপরতা চালালেন এই বলে যে দেশটি স্বাধীনই হয়নি। আবার সরকারের বিরোধিতার নামে কেউ পাটের গুদামে আগুন দেওয়া এবং ঈদের জামায়াতে মানুষ মারার কাজও শুরু করলেন (তখন কিন্তু বিএনপি–জামায়াতের জন্মই হয়নি)। পরবর্তীকালে জিয়া, এরশাদ, খালেদা এমনকি ১৯৯৬-২০০১ সালে শেখ হাসিনার সরকারও শক্ত বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। সেই তুলনায় এখন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জই নেই। সংসদের ভেতরে অনুগত বিরোধী দল আর বাইরে দৌড় খাওয়া বিএনপি। বিএনপি যখন জ্বালাও পোড়াও হরতাল-অবরোধ থেকে বেরিয়ে এসে অনেকটা ‘মুচলেকা’ দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাইছে, তখন কেন সরকার তাদের ফের ধ্বংসাত্মক পথে নিয়ে যেতে চাইছে?
খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের দুটি দিক আছে। একটি নির্বাচন কমিশন গঠন–সংক্রান্ত। আরেকটি নির্বাচন প্রক্রিয়াগত। দ্বিতীয়টির বিষয়ে কথা থাকতে পারে। কিন্তু প্রথমটি অর্থাৎ সব দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনে ওজর তোলার কী কারণ থাকতে পারে?
বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি যত নরম হচ্ছে, সরকার ততই গরম হচ্ছে। এটি দেশের গণতন্ত্র তো নয়ই, ক্ষমতাসীনদের জন্যও কোনো শুভ বার্তা বয়ে আনবে না। দেশের মানুষ রাজনীতির কাছ থেকে বেশি কিছু চায় না। তারা পাঁচ বছর পর পর নির্বাচনের একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু পরিবেশ চায়। তারা রাজনীতিকদের কাছে একটু সহমর্মিতা ও সহনশীলতা আশা করে। কিন্তু মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারা তার বিপরীতে হাঁটাকেই ভোট পাওয়ার গ্যারান্টি হিসেবে ধরে নিয়েছেন। অনুগ্রহ করে তাঁদের ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরাতে বলব। ১৯৭০ সালে আইন, শাসক, সেনাবাহিনী—সবকিছু তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিল। এমনকি পাকিস্তানি শাসক চক্র বাঙালিদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে নানা অপকৌশল নিয়েছিল। অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ইয়াহিয়া খানের এলএফও বা লিগ্যাল ফ্রেম ওয়ার্কের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। তিনি জবাবে বলেছিলেন, জনগণের রায় পেলে কোনো ফ্রেম ওয়ার্কই কাজে আসবে না এবং সেটি তিনি প্রমাণও করেছিলেন। স্বৈরাচারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে গণমাধ্যম, প্রশাসন,
দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগই জয়ী হবে। কিন্তু জনগণ বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছিল এবং খালেদা জিয়া সরকার গঠন করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে বিরোধীদের প্রচারণা ছিল যে, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অপপ্রচারে কান দেয়নি, তারা আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় বসিয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে, তার পেছনে নিজ নিজ দলের কৃতিত্ব তেমন ছিল না। ক্ষমতাসীনদের বাড়াবাড়ির জবাবই জনগণ ভোটের মাধ্যমে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ যদি দেশের এতই উন্নতি করে থাকে, তাহলে আগামী নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে এত বিচলিত কেন? সব দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারলে সেটা দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তখন আওয়ামী লীগ জনগণকে বোঝাতে পারবে যে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় থাকতে সমঝোতা না চাইলেও তারা সমঝোতায় বিশ্বাসী এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলা ভাষায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে, ‘নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে’। কিন্তু গত পঁয়তাল্লিশ বছরে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনেরা সেটি বুঝতে পারেননি, ভবিষ্যতে পারবেন ​িক?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

ভেজাল ওষুধে নিহত নামহীন শিশুরা

ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনের পর অকালমৃত্যুর শিকার ২৮টি শিশু এখন শুধুই পরিসংখ্যান। ২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসের মধ্যে প্যারাসিটামল নামের ‘বিষাক্ত’ ওষুধ সেবনে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ওই শি​শুগুলোকে বিষ প্রয়োগের জন্য কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না। ওদের হত্যাকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ওই প্যারাসিটামলের প্রস্তুতকারক ওষুধ কোম্পানি রিড ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং, ভেজাল ওষুধ অথবা মানহীন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের কারণে মৃত্যুর কবলে পড়া পরিসংখ্যানের তালিকায় এই ২৮টি শিশুর সংখ্যা যোগ হবে ঠিকই; কিন্তু তাদের পরিবারগুলো যে চরম অবিচার তথা অনাচারের শিকার হলো, তার কোনো প্রতিকার রাষ্ট্র ও সমাজ দিতে পারল না। শিশুগুলোর প্রত্যেকের আলাদা নাম ছিল। বাবা-মা, দাদা-নানা, দাদি-নানি কিংবা পরিবারের অন্যরা খুব ভেবেচিন্তে তাদের নাম রেখেছিলেন। প্রতিটি শিশুরই নাম ছিল তার বাবা-মায়ের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। প্রত্যেকেই ছিল খুব আদরের।
সে জন্যই তো সামান্য জ্বর হওয়া বা ঠান্ডা লেগে যাওয়ায় তাদের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। ডাক্তারের কথামতোই তো শিশুসন্তানের জন্য ওষুধ কেনা হয়েছিল। অথচ জ্বরের ওষুধ খেয়ে ছোট ছেলেটা অথবা মেয়েটার কিডনি অচল হয়ে গেল। পেশাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কী কষ্টটাই না ওরা পেয়েছে। কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ওদের ঢাকায় নিয়ে আসার পর জানা গেল যে ওষুধ মনে করে আদরের ধনকে বাবা-মা যা খাইয়েছেন, তা ছিল বিষ—ডাই-ইথিলিন গ্লাইকল। ঢাকার ওষুধবিষয়ক (ড্রাগ) আদালত রায় দিয়েছেন যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর মামলাটি করার ক্ষেত্রে আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। আইন না মেনে ত্রুটিপূর্ণ মামলা করায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়নি। আমরা এখন রিড ফার্মাসিউটিক্যালসের খালাস পাওয়া পরিচালকদের নাম জানি। ওষুধ প্রশাসনের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক যিনি মামলা করেছিলেন, তাঁর নামটিও খবরে ছাপা হয়েছে। শুধু জানি না ওই সব শিশুর নাম। যে শিশুগুলোর সম্ভাবনাময় জীবন কেড়ে নিয়েছে অসাধুতা-আশ্রয়ী ব্যবসায়ী, অযোগ্য ও অদক্ষ তদারকব্যবস্থা এবং প্রশাসন। আর ওই সব সন্তানহারা বাবা-মায়ের প্রতি বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নিষ্ঠুরতম পরিহাস করল তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে। এই বিষাক্ত প্যারাসিটামলে শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রে এই রিড ফার্মাসিউটিক্যালসই প্রথম নয়, এর আগে আরও অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে এই বিষাক্ত প্যারাসিটামল।
সেসব ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক ছিল ভিন্ন। একটি সংবাদপত্র বলছে যে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২—এই চার বছরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনের কারণে ২ হাজার ৭০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে (রোগীর প্রাণ গেলেও হাত গুটিয়ে ঔষধ প্রশাসন, কালের কণ্ঠ, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬)। পত্রিকাটির উদ্ধৃত সংখ্যার সূত্র উল্লেখ না থাকায় এর নির্ভরযোগ্যতা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে সরকারের উচিত হবে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা। ওই সময় অ্যাডফ্রেম নামের একটি কোম্পানি ফ্ল্যামোডল নামের প্যারাসিটামল তৈরি করে ঢাকা শিশু হাসপাতালে সরবরাহ করত। ওই শিশু হাসপাতালে ৭৬টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ১৯৯২ সালে দায়ের হওয়া মামলায় ২২ বছর পর ২০১৪ সালে অ্যাডফ্রেমের পরিচালকসহ তিনজনের ১০ বছর করে সাজা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত সেটিই শেষ মামলা, যাতে ভেজাল ওষুধের জন্য প্রস্তুতকারী হিসেবে কারও বিচার সম্পন্ন এবং সাজা হয়েছে। ওই একই সময়ে অপর দুটি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) ও পলিক্যাম ফার্মাসিউটিক্যালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্য চারটি মামলার বিচার গত ২৪ বছরেও শেষ হয়নি। রিড ফার্মার মতোই রেক্স ফার্মা নামে ময়মনসিংহের আরেকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে ওষুধ প্রশাসনের মামলা তদন্তজনিত দুর্বলতার কারণে টেকেনি।
অ্যাডফ্রেমের পরিচালকদের বিরুদ্ধে যে মামলাটির বিচার শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে, সেটির কৃতিত্ব অনেকটাই সংবাদপত্রের, বিশেষত দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর। তারা মামলাটির প্রতিটি পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ নজরদারি অব্যাহত রাখায় কালক্ষেপণের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। তবে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দোষী ব্যক্তিদের আপিল এখন উচ্চ আদালতে বিবেচনাধীন। দেশের চিকিৎসাসেবার বিদ্যমান অবস্থায় ত্যক্ত-বিরক্ত ভুক্তভোগী আমরা অনেকেই হরহামেশা চিকিৎসকদের শাপান্ত করে থাকি। কিন্তু সেই চিকিৎসকদেরই একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ হলেন এই ভেজাল প্যারাসিটামল কেলেঙ্কারি উদ্‌ঘাটনের মূল নায়ক। তিনিই প্রথম অস্বাভাবিক হারে শিশুদের কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করে এর অভিন্ন কারণ হিসেবে বিষাক্ত প্যারাসিটামলকে চিহ্নিত করে সবার নজর কাড়েন। এখন রিড ফার্মাসিউটিক্যালসের মামলা ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এটি শুধু আমার জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই দুঃখজনক।’ এভাবে এত বেশি সংখ্যায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা কোনো দেশকেই আলোড়িত না করে পারে না। এই অস্বাভাবিকতার কারণ অনুসন্ধানে তাই বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে সে রকম কিছু ঘটেনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর লোকদেখানো বিভাগীয় তদন্ত করে দায়সারা মামলা দায়েরেই তাদের কর্তব্য সমাধা করেছে। কোনো তদন্ত কমিশন কিংবা গণশুনানিও হয়নি। রিড ফার্মাসিউটিক্যালসের মামলায় জানা গেল যে মারা যাওয়া ২৮ শিশুর ময়নাতদন্তও হয়নি।
যে কারণে ওষুধের মধ্যে বিষাক্ত উপাদান থাকলেও সেটাই যে ওই সব শিশুর মৃত্যুর কারণ, সে রকম কোনো সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠা কোনো দিনই সম্ভব হতো না। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে যে করোনাররা আছেন এবং যাঁদের আইনগত দায়িত্ব হচ্ছে মৃত্যুর কারণ নিরূপণ করে সেই অনুযায়ী সার্টিফিকেট ইস্যু করা, সে রকম ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত্যু ধামাচাপা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। আমাদের দেশে পুলিশ যদি কোনো মৃত্যুকে অস্বাভাবিক মনে না করে, তাহলে তার ময়নাতদন্ত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। সুতরাং, অপরাধ আড়াল করার সহজ উপায়ও আমাদের নাগালের মধ্যে। বিকল্পটি আমরা কবে ভাবব, তা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অন্য রাজনীতিকদের কোনো ভাবনার কথা আমরা শুনতে পাই না। আদালত, তা সে ফৌজদারি বা দেওয়ানি যেটিই হোক না কেন, সেখানে বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের আইন কমিশনের। কমিশনটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তারা অনেক বিষয়েই সময়ে সময়ে সরকারের কাছে আইন সংস্কারের সুপারিশ করে এসেছে। কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান খায়রুল হকের কিছু কিছু মন্তব্য ও মতামত এবং বিচারপতি হিসেবে দেওয়া রায় নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনের একটি কাজের প্রশংসা করতেই হয়। অ্যাডফ্রেম ফার্মাসিউটিক্যালসের ভেজাল প্যারাসিটামল তৈরির মামলায় ২২ বছর সময় কেন লাগল, তা অনুসন্ধান করে আইন কমিশন একটি সুপারিশমালা তৈরি করেছে। তারা দেখেছে যে মামলাটিতে মোট সময় লেগেছে ২১ বছর ৭ মাস, যার মধ্যে শুধু হাইকোর্টেই ফৌজদারি রিভিশনে কেটেছে ১৪ বছর ৩ মাস। আবার রিভিশন শেষ হওয়ার পর সেই মামলার রায়ের নথি বিচারিক আদালতের সেরেস্তাদার আলমারিতেই রেখে দিয়েছিলেন ১ বছর ১১ মাস। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হাজির না হওয়া, আসামিপক্ষের সময় প্রার্থনা ইত্যাদি মিলিয়ে কমিশনের ভাষায় অপব্যয়িত সময় ১৯ বছর ২ মাস। কমিশন বলছে যে অহেতুক সময় নষ্ট না হলে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বিচারটি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব ছিল। কমিশন মোট ১৬ দফা সুপারিশ করেছে, যাতে তাদের আশা ‘অসহনীয় বিচারিক পরিস্থিতি’র সংস্কার সম্ভব হবে।
১৬ দফা সুপারিশের প্রথম চারটিই হচ্ছে সাক্ষীদের হাজির করানোর বিষয়ে। হাইকোর্টে রিভিশনের ক্ষেত্রে রুল জারির বিষয়েও কমিশন একাধিক পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে, যার একটি হচ্ছে ছয় মাসের মধ্যে রুলের নিষ্পত্তি না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। তাঁদের এসব সুপারিশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিচার ত্বরান্বিত করা। তবে আইন কমিশনের সব সুপারিশকেই যে সরকার সমান গুরুত্ব দেয়, তা নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। ঔষধ প্রশাসন-সম্পর্কিত বিচারব্যবস্থায় ওই আইনি সংস্কারের পথে সরকার এখনো অগ্রসর হয়েছে বলে শোনা যায়নি। তবে ওই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নেই যে বিচারহীনতার অবসান ঘটবে, তেমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। একই অপরাধে একই সন্দেহভাজন লোকজনের একাধিকবার বিচার না করার যে আইন (ডাবল জিওপার্ডি), সেটির সংশোধন প্রয়োজন। এর আগে গত মাসেই রুশদানিয়া ইসলাম বুশরা নামের এক কলেজছাত্রী হত্যার মামলা একইভাবে নিষ্ফল হওয়ার পর বুশরার পরিবারের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচিত হয়েছে। তখনো আমি ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় ‘ডাবল জিওপার্ডি’ আইন সংস্কারের দৃষ্টান্ত দিয়ে আমাদের দেশে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি (বুশরার মা কেন ন্যায়বিচার পাবেন না? প্রথম আলো, ১৭ নভেম্বর, ২০১৬)। ভেজাল ওষুধে মৃত্যুর বিচার প্রশ্নেও সেই একই কথা বলতে হচ্ছে। গুরুতর অপরাধের শিকার মানুষ, তাদের পরিবার, স্বজ​েনরা ন্যায়বিচার থেকে কেন বঞ্চিত হবেন? আইন কমিশনের কথায় ‘অসহনীয় বিচারিক পরিস্থিতি’ কোনো সমাজেই অনন্তকাল চলতে পারে না।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।

ক্যালসিয়াম কীভাবে খাবেন

ওষুধের দোকান থেকে কিনে ক্যালসিয়াম বড়ি খান অনেকেই। একটু হাত-পা ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ বা বয়স হয়েছে বলেই ক্যালসিয়াম খেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কেননা আমাদের দৈনন্দিন নানা খাবারেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে। প্রতিদিন এ রকম খাবার থেকেই আমরা ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে পারি। ক্যালসিয়াম নামের খনিজ উপাদানটি আমাদের হাড় ও দাঁত শক্ত করে, ক্ষয় রোধ করে। স্নায়ু, হৃৎস্পন্দন, মাংসপেশির কাজেও ক্যালসিয়াম দরকার হয়। এটির অভাবে হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরাসিস রোগ হতে পারে। তাই ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারগুলো কী তা জেনে নেওয়া উচিত।
দুধ, দই, পনির, কাঁচা বাদাম, সয়াবিন, আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, কালো ও সবুজ কচুশাক, শজনে পাতা, পুদিনা পাতা, সরিষাশাক, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিংড়ি শুঁটকি, ডুমুর ইত্যাদি হলো উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার। ১০০ গ্রাম দুধে ক্যালসিয়াম আছে ৯৫০ মিলিগ্রাম, একই পরিমাণ পাবদা মাছে ৩১০ মিলিগ্রাম, সামুদ্রিক মাছে ৩৭২ মিলিগ্রাম, শজনে পাতায় ৪৪০ মিলিগ্রাম, ট্যাংরা মাছে ২৭০ মিলিগ্রাম। তবে অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয় কিছু জিনিস, যেগুলো ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারের সঙ্গে না খাওয়াই ভালো। যেমন উচ্চমাত্রার চর্বি ও অক্সালিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার। চকলেট, পালংশাক, কার্বোনেটযুক্ত পানীয় ইত্যাদিও ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। কিন্তু ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে ভিটামিন এ, সি এবং ডি। আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবারও ক্যালসিয়ামের কাজে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদ

অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ

মাঝে দাঁড়ানো জাপানি রোবট অ্যাসিমো। দুই পাশে
সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট টনি ট্যান ও স্ত্রী ম্যারি ট্যান।
পেছনে পৃথিবী-আকৃতির পর্দায় দেখানো হচ্ছে
পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা। পাঁচ দিনের জাপান
ভ্রমণে রাজধানী টোকিওর এক বিজ্ঞান
জাদুঘরের সামনে টনি ট্যানের ছবিটি
তোলা হয় ২৯ নভেম্বর। এএফপি
তাইওয়ানের তাইপে শহরে গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে চার দিনের আয়োজন অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ড। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) উদ্যোগে এই আয়োজনে এবারই প্রথম বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে। এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্স, সংক্ষেপে অ্যাপিকটা হলো এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম সংগঠন। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র সংগঠন হিসেবে অ্যাপিকটার সদস্যপদ লাভ করে বেসিস।
এ অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ও সফল উদ্যোগ, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাপিকটা। বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এবারের অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাসেল টি আহমেদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সহসভাপতি এম রাশিদুল হাসান ও পরিচালক উত্তম কুমার পালসহ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বিজ্ঞপ্তি

১৩ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তথ্য হ্যাকড হয়েছে

১৩ লাখের বেশি গুগল অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করেছে হ্যাকাররা। এর মধ্যে রয়েছে ই-মেইল, ছবি, নথির মতো সংবেদনশীল তথ্য। আক্রান্ত অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য অ্যাপগুলো নামিয়ে সেগুলোর রেটিং বাড়িয়ে দেয়। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্টের গবেষণায় উঠে আসে এ তথ্য। গত বুধবার গুগল নিজেও তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। হ্যাকিংয়ের ধরন ও সমস্যার ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণাও দিয়েছে গুগল। তবে গুগল বলছে, হ্যাকাররা যেসব তথ্য চুরির কথা বলছেন, সেসব তথ্য এখনো তারা চুরি করতে পারেনি।
অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তা পরিচালক আড্রিয়ান লুডউইগ এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, এই রেটিং ষড়যন্ত্রে আক্রান্ত সব অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর থেকে মুছে ফেলেছে। এ ছাড়া গুগল জোর দিয়ে বলছে, এখন থেকে গুগল প্লে স্টোরের বাইরে কোনো অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নামানো উচিত নয়। সে যা-ই হোক হ্যাকাররা কিন্তু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কেন অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর ছাড়া বাইরের অ্যাপ নামানো ঠিক না।
মোখলেছুর রহমান, সূত্র: সিএনএন

এ দেশের ক্রিকেট যেখানে সুন্দর

বিপিএল খেলার জায়গা। ফিক্সিংয়ের অভিযোগগুলো সত্যি হলে ‘খেলানোর’ও। টি-টোয়েন্টির রঙিন আসর আরও একটা জিনিসেরও ক্যানভাস তৈরি করে দিয়েছে। এ যে চেহারা দেখানোরও দারুণ এক জায়গা! টুর্নামেন্টের উপযুক্ত স্লোগান হতে পারে ‘প্রচারেই প্রসার’। গ্যালারির দর্শক থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক, কখনো কখনো বিসিবির কর্মকর্তাদেরও এই স্লোগানে উজ্জীবিত মনে হয়।
টেলিভিশন পর্দায় পালা করে মুখটা একবার দেখাতেই হবে। কেউ আবার গ্যালারিতে লাগানো অন্যের বিলবোর্ড ঢেকে দিয়ে হলেও বিশাল ব্যানারে নিজের চেহারাটা বড় করে দেখাতে ব্যগ্র। খেলা নয়, দর্শকেরা যেন তাঁর ছবি দেখতেই এসেছেন স্টেডিয়ামে! এসব চাটুকারের তেলবাজিও হতে পারে। তবে চিন্তাগুলো খুবই শিশুতোষ। আশার কথা, মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই থাকুক, ক্রিকেটারদের মধ্যে মাঠের বাইরে এ রকম অক্রিকেটীয় কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তাঁরা বরং অনেক সময় সৌহার্দ্যের এমন জীবন্ত ছবি তুলে ধরেন, যা ক্রিকেটকে পুঁজি করে, তারকা ক্রিকেটারদের পাশে বসিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জনের অপচেষ্টাকে হাস্যকর করে তোলে। কাল প্রথম ম্যাচ শেষে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে এসেই মাশরাফি বিন মুর্তজা যেমন ঘোষণা দিলেন, ‘আজ একসঙ্গে হবে। প্রথমবারের মতো...।’ খুলনা টাইটানস অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ততক্ষণে চেয়ারে বসে গেছেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সত্যিই তাঁর পাশের চেয়ারে গিয়ে বসলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস অধিনায়ক মাশরাফি। একটু আগেও মাঠে তাঁরা ছিলেন প্রতিপক্ষ। কিন্তু মাশরাফির ‘একসঙ্গে হবে’ ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনে ছড়াল বন্ধুত্বের বাতাবরণ। ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর এক ওভারে দুই ছক্কা মেরেছেন মাশরাফি। সেটি নিয়ে দুজনের সে কি রসিকতা! প্রসঙ্গটি উঠতেই মাহমুদউল্লাহ কৌতুকপ্রবণ, ‘প্র্যাকটিসেও মাশরাফি ভাই আমাকে ভালো মারেন। আজ (গতকাল) বলছিলাম, আমাকে মাইরেন না...।’ পাশ থেকে মাশরাফির প্রতিবাদ, ‘ও আমাকে যতটুকু বলছে ততটুকুই মেরেছি। ও বলেছে দুইটার বেশি মাইরেন না।’ এরপরই যেন তাঁর অনুশোচনা, ‘দলকে তো ব্যাট-ট্যাট ঘোরানো দেখাতে হয়। সেটা করতে গিয়েই ব্যাটের কানায় লেগে...।’ ছক্কা প্রসঙ্গ সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে এল আলোচনা অনুষ্ঠানের মেজাজ। মাহমুদউল্লাহ মাশরাফির কথা থামিয়ে দিলেন, ‘আমি ওই দুইটা বলই ওনার (মাশরাফি) শক্তির জায়গায় করে ফেলেছি।
চেয়েছিলাম ওয়াইড ইয়র্কার করতে। পারিনি। উনি সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন।’ ব্যতিক্রমী সংবাদ সম্মেলনের বাকিটা দুই দলের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে হলেও মজা ছিল সেখানেও। প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা সব সময় আগে থেকে বোঝা না গেলেও মাঠে নামলে সব দলের কাছেই আস্তে আস্তে তা পরিষ্কার হতে থাকে। কিন্তু মাশরাফি যখন বলছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম ১৫-১৬ ওভারের মধ্যে ম্যাচটা জিততে’ বা ‘মিটিংয়ে বলা হয়েছিল শেহজাদ-ইমরুল প্রথম থেকেই চড়াও হবে’, পাশের চেয়ারে বসে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের মুখে নিজেদের নিয়ে রণপরিকল্পনা শোনার অভিজ্ঞতা সম্ভবত প্রথমই হলো মাহমুদউল্লাহর। বিপিএলের অনেক নেতিবাচকতার মধ্যে সৌহার্দ্যের এই খণ্ডচিত্রগুলো মন কাড়ে। এই টুর্নামেন্ট লাল-নীল-হলুদ-সবুজ অনেক রকম জার্সিই তুলে দিয়েছে ক্রিকেটারদের গায়ে। সবারই লক্ষ্য নিজের দলের জন্য ভালো খেলা। কিন্তু এসবের পরও তাঁদের গোড়া যে একই ড্রেসিংরুমের মাটিতে পোঁতা, দেশের লাল-সবুজ জার্সিতেই লেখা সবার আসল পরিচয়—সেটা মাঝে মাঝেই জানান দেয়। টস করতে গিয়ে সাকিব-মুশফিকের খুনসুটি, কখনো মাহমুদউল্লাহর পাশে মাশরাফির বসে পড়া অথবা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে দুই দলের অধিনায়কের গলাগলি করে ফেরা। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসবই আসল সৌন্দর্য, যার প্রচারে কোনো ব্যানার লাগে না। যে সৌন্দর্য কোনো ব্যানারে ঢাকাও যায় না।

সেই কুমিল্লাই এখন...

কাল আরও একবার ‘ব্যাটসম্যান’ মাশরাফি বিন
মুর্তজাকে দেখল বিপিএল। খুলনা টাইটানস অধিনায়ক
মাহমুদউল্লাহর এক ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস অধিনায়ক। শামসুল হক
বড় দেরিতে জ্বলে উঠল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। এতটাই যে, টানা তিন ম্যাচ জিতে অঙ্কের হিসাবে শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো জিইয়ে রেখেছে। তবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তাতে খুব আশাবাদী হতে পারছেন না। বরিশাল বুলস ও রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচেই ৮ উইকেটে জয়। মিরপুরে কালও সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখল মাশরাফির দল। খুলনা টাইটানসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট হয়ে গেছে ১১ ম্যাচে ৮। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট বরিশালেরও। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় কুমিল্লার অবস্থান তাদের ঠিক ওপরে।
সবার নিচে এখন বরিশাল। কিন্তু কী রহস্য কুমিল্লার এই হঠাৎ ‘জাদু’র পেছনে? ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা করতেই হেসে উঠলেন মাশরাফি, ‘শেষ কয়েকটা ম্যাচ জিততে পারায় ভালো লাগছে। সেরা হওয়া সব সময়ই কঠিন। তবে আপনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন কি না, সেটাই আসল কথা। আমরা কোথাও ছিলাম না। এই তিনটি ম্যাচে জেতা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’ ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা এমনিতেও কঠিন ছিল না। কুমিল্লার জন্য সেটা আরও সহজ করে দিয়েছেন মারলন স্যামুয়েলস। প্রথম ওভারেই দলের ১ রানের মাথায় ওপেনার আহমেদ শেহজাদের আউটের পর উইকেটে এসে ফিরেছেন ম্যাচ জিতিয়ে। ৫৭ বলে আট বাউন্ডারিসহ অপরাজিত ৬৯—খুব বেশি মারকাটারি না হলেও পরিস্থিতির দাবি মেটানো ব্যাটিং করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানই। দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি। ষষ্ঠ উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শেষ করে দেন খেলাই। লিটনের ১১ বলে অপরাজিত ২৪, তার আগে অধিনায়ক মাশরাফির ১১ বলে ২০ রানের ইনিংসও ছিল যথেষ্ট বিনোদনদায়ী। পুরো বিপিএলে কালই প্রথম কিছুটা আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে লিটনকে। শফিউল ইসলামের করা ১৬তম ওভারেই মেরেছেন তিন বাউন্ডারি।
পাঁচ বাউন্ডারির বাকি দুটি জুনায়েদ খানের পরের ওভারে। মাশরাফির ইনিংসে কোনো বাউন্ডারি নেই। অবশ্য ২০ রানের মধ্যে ছক্কাই তিনটি থাকলে বাউন্ডারি না থাকারই কথা। খুলনা টাইটানস অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর এক ওভারেই ছক্কা আছে দুটি। অন্যটি মেরেছেন পেসার বেনি হাওয়েলকে। ম্যাচটা আরেকটু আগে জিততে পারলে নেট রানরেট আরও ভালো হতো কুমিল্লার। তাদের লক্ষ্যও ছিল ১৫-১৬ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করা। পাঁচ নম্বরে নেমে মাশরাফির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সেটাই কারণ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস অধিনায়ক তাঁর আসল কাজটা করেছেন বল হাতে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েও বোলিং বিশ্লেষণ ৪-০-১৬-৩! সপ্তম ওভারে এসে টানা চার ওভার বোলিং। প্রথম বলেই আবদুল মজিদকে ফেরানোর পর নিয়েছেন হাসানুজ্জামান আর নিকোলাস পুরানের উইকেট দুটিও। অন্যদের ব্যর্থতার দিনে খুলনার ইনিংসে যা একটু লড়াই দেখা গেছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাটেই। ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে অপরাজিত ছিলেন ৪০ রানে। বিপিএলের অনেক নেতিবাচকতার মধ্যে সৌহার্দ্যের এই খণ্ডচিত্রগুলো মন কাড়ে

অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন, চর্বিতচর্বণ গল্প দর্শককে টিভিবিমুখ করেছে

শুভ জন্মদিন। কেমন কাটল দিনটি?
ছোটবেলায় কোনো দিন বাবা-মা ঘটা করে আমার জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন বলে মনে পড়ছে না। স্কুলে যখন পড়তাম, তখন ডিসেম্বর মাসে ফাইনাল পরীক্ষার ব্যস্ততা থাকত, তাই জন্মদিন উদ্যাপনের সুযোগ ছিল না। কলেজে পড়ার সময় বন্ধুরা বাসায় আসত, আব্বা-আম্মা রান্না করতেন। আমার বাবা-মা একটা কথাই বলতেন, তুমি তোমার পড়াশোনা, অভিনয়, রান্নাবান্না, সেলাই, খেলাধুলা—সব কাজ দিয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করো। যাতে অন্য মানুষ জন্মদিনে তোমাকে অভিনন্দন জানায়।
এখন টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে জড়িত সবাই আন্দোলন করছেন। দর্শককে নাটক দেখাতে হলে আসলে কী করা দরকার?
ভালো নাটক বানাতে ভালো অভিনয়শিল্পী দরকার। একটি নাটকে একজন ভালো অভিনেতা, বাদবাকি সবাই অভিনেতা নন, সেই নাটক তো দর্শক হিসেবে আমি দেখতে চাই না। ভালো নাটক, ভালো গল্প, ভালো নির্মাতা এবং একদল ভালো অভিনেতা একসঙ্গে টেলিভিশন স্ক্রিনে দেখতে চাই। আর সেটার পূর্বশর্ত অবশ্যই চ্যানেলগুলোকে বাজেট বাড়াতে হবে।
কী উপায়ে?
আগে চ্যানেল গল্প দেখেছে, নির্মাতার সঙ্গে কথা বলেছে। উঠতি মেধাবী নির্মাতাদেরও তারা সুযোগ দিয়েছে। এখন তো নাটকের সঙ্গে চ্যানেলের কোনো সম্পর্ক নেই। একেকটি এজেন্সি ঈদ বা অন্যান্য উৎসবে ৭০-৮০টি করে নাটক বানাচ্ছে। তারা তাদের পছন্দমতো শিল্পী ঠিক করছে। অত্যন্ত কম বাজেট তরুণ নির্মাতাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিনিয়র নির্মাতাদের পক্ষে কম্প্রোমাইজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি টেলিভিশনে অভিনয় করতে পছন্দ করি। কিন্তু ইদানীং টেলিভিশনে নাটক দেখতে পছন্দ করি না। প্রথমত, মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন। দ্বিতীয়ত, নাটকের দু-একজন ভালো শিল্পী, বাকিদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা হয় না। একটি চরিত্র কীভাবে আয়ত্ত করতে হয়, তারা জানে না। এটা তাদের দোষ নয়। বিদেশি সিরিয়াল বন্ধের কথাও জোরেশোরে হচ্ছে। বিদেশি সিরিয়াল নিয়ে আমার কোনো ঝামেলা নেই। একই সময়ে অন্য কয়েকটি চ্যানেলে কোথাও কেউ নেই, বহুব্রীহি, সংশপ্তক, এই সব দিনরাত্রি, অয়োময় যদি দেখানো হয়, তখনই বোঝা যাবে দর্শক কোনটি দেখছেন। অবশ্যই আমাদের নাটকগুলো সবাই দেখবেন! এ জন্যই বলতে চাই, আমাদের প্রোডাকশনের মানের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। একটা ধারার নাটক ক্লিক করল তো সবাই একই দিকে ছুটতে থাকল। দর্শককে টেলিভিশনবিমুখ করেছে মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন, চর্বিতচর্বণ গল্প।
সাক্ষাৎকার: মনজুর কাদের

চলছে লাল–সবুজের মহোৎসব

বিজয়ের মাসে বিজয়ের ৪৫ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকার সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চলছে ‘লাল–সবুজের মহোৎসব’। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছিল নাটক প্রদর্শনী। আজাদ আবুল কালামের নির্দেশনায় প্রাচ্যনাটের প্রযোজনা রক্তপথ নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। নাটকের প্রদর্শনী ছাড়াও ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে লাল–সবুজের বিজয় উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। অন্যান্যের মধ্যে আরও ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিন্নাত ইমতিয়াজ আলী, ওয়ান মোর জিরো কমিউনিকেশনসের প্রধান উপদেষ্টা দেলোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপস এবং চেয়ারপারসন ফারজানা মুন্নী। বিজয়ের মাসে বিজয়ের ৪৫ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে শুরু হয়েছে ১৬ দিনব্যাপী লাল–সবুজের মহোৎসব।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ আয়োজন চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৬ ডিসেম্বরের আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা হবে। তবে সেই ভেন্যুটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয়নি। লাল–সবুজের মহোৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় আছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আর সম্প্রচার সহযোগিতায় আছে গানবাংলা টেলিভিশন। গানবাংলা চ্যানেলের বিপণন বিভাগের প্রধান নাবিল আশরাফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিজয়ের ৪৫ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে আমাদের এই আয়োজন। ১৬ দিনে আমরা ১৬টি ভাবনা নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে কখনো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, কখনো থাকবে নজরুলের গান, কখনো রবীন্দ্রসংগীত, কখনো আধুনিক গান, কখনো ব্যান্ড সংগীত আর কখনো নাটক। এভাবেই আমরা লাল–সবুজের মহোৎসব উদ্যাপনের পরিকল্পনা করেছি।’ লাল–সবুজের মহোৎসব আয়োজনে নাটক ও গানের দলীয় পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে একক গানও। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত এই আয়োজন চলবে বলেও জানায় গানবাংলা কর্তৃপক্ষ।