Wednesday, September 21, 2016

ইলেকট্রনিক বর্জ্য কত বড় সমস্যা?

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি হয়েছে ১৯৭৭ সালে। একই বছর গঠিত হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ১৯৯২ সালে গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় পরিবেশ নীতি। ১৯৯৫ সালে কার্যকর হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন। ১৯৯৭ সালে তৈরি করা হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা। শিল্পকারখানার পরিবেশদূষণকারী বর্জ্য, মেডিকেল বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য—প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নানা রকমের আদেশ-বিধান ও দিকনির্দেশনা রয়েছে পরিবেশ–সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি দলিলে। কিন্তু সেসব দলিলের কোথাও ইলেকট্রনিক বর্জ্য সম্পর্কে কোনো কথা উচ্চারিত হয়নি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়ন-অগ্রগতির ডিজিটাল স্তরে প্রবেশ করেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, এবং আমরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি এমন এক পরিস্থিতির দিকে, যা সম্পর্কে এখনই সচেতন না হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন বিরাট ঝুঁকির মুখোমুখি হবে।
১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১৩ কোটি মুঠোফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ার, টেলিভিশন সেট, ভিসিডি-ডিভিডি প্লেয়ার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রেফ্রিজারেটর, নানা ধরনের ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক খেলনা, ডিজিটাল ক্যামেরা, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি—আধুনিক মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার্য সব ধরনের যন্ত্রপাতির ব্যবহার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেক বেড়েছে এবং দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। যে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ একসময় পেট পুরে তিন বেলা খাবার পেত না, সেই দেশে আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার এত বেড়েছে—এটা যে অনেক বড় আনন্দের বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এর উল্টো পিঠও আছে: সব ধরনের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেগুলো যে বর্জ্য পদার্থে পরিণত হয় এবং সেসব বর্জ্যেরও যে সুব্যবস্থাপনা দরকার—এই সচেতনতা এ দেশে গড়ে ওঠেনি। এমনকি ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) কথাটাই এ দেশের অধিকাংশ মানুষের এখনো অজানা রয়ে গেছে। এটা যে কত বড় বিপদের কথা, তা অনুধাবন করা দরকার।
পৃথিবী একটা ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ হয়ে উঠেছে দুই দশকেরও বেশি আগে। পুঁজি ও প্রযুক্তির চলাচল হয়েছে অবাধ। সুতরাং বাংলাদেশে এখন ১৩ কোটি মুঠোফোন—এই তথ্য এখন আর কাউকে বিস্মিত করে না। বিস্মিত হতে হয়, যখন দেখি যে প্রতিবছর ২৫-৩০ শতাংশ মুঠোফোনের ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেগুলো কোথায় যাচ্ছে তা অধিকাংশ মানুষই জানে না, জানার প্রয়োজনও বোধ করে না। শুধু মুঠোফোন নয়, কম্পিউটারসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতিতে অনেক ধাতব ও রাসায়নিক উপাদান থাকে। যন্ত্রগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা না হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যে ক্ষতিকর অবস্থা তৈরি হতে পারে, তা সম্পর্কে শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলো অনেক আগেই সচেতন হয়েছে এবং এ ব্যাপারে অনেক ধরনের আইনকানুন ও বিধিবিধান প্রণয়ন করেছে। শুধু তা–ই নয়, অনেক ধনী ও চালাক দেশ তাদের ইলেকট্রনিক বর্জ্য নানা কারসাজির মাধ্যমে রপ্তানি করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) বরাত দিয়ে লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকা গত বছর মে মাসে এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, ২০১৪ সালে পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত ইলেট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২ লাখ মেট্রিক টন। এর সিংহভাগ উৎপন্ন হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে, কিন্তু ৯০ শতাংশই রপ্তানি বা ‘ডাম্প’ করা হয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠন গ্রিনপিস লিখেছে, উন্নত দেশগুলো তাদের উৎপাদিত ইলেকট্রনিক বর্জ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রপ্তানি করে আসছে এক দশকেরও বেশি সময় আগে থেকে। ব্যবহৃত বা সেকেন্ডহ্যান্ড কম্পিউটার, মুঠোফোন ইত্যাদি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি তারা এশিয়া ও আফ্রিকার অপেক্ষাকৃত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রপ্তানি বা পাচার করার মাধ্যমে সেগুলো নিষ্কাশনের উপায় খোঁজে। বাংলাদেশে সস্তা ও স্বল্পস্থায়ী মুঠোফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি ইলেকট্রনিক পণ্য আসে মূলত চীন, দক্ষিণ, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে। ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার শীর্ষে থাকা দেশ নরওয়ে, সুইডেনসহ উন্নত দেশগুলো বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে রাখা, রিসাইক্লিং কারখানা স্থাপন করা প্রভৃতি পদক্ষেপের পাশাপাশি এসব পণ্য উৎপাদনের পর্যায়েও কিছু বিধিবিধান করেছে। যেমন, তারা উৎপাদকদের টেকসই বা দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রপাতি উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতেও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ‘লাইফস্প্যান’ বাড়ানোকে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সহায়ক একটা ভালো পন্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৩ কোটি মুঠোফোনের ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ১৩ কোটি ব্যাটারি কোথায় যাবে—এ কথা ভাবলেই আন্দাজ করা যাবে বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনঘনত্বের এই দেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ভবিষ্যতে কত বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। মাটি, পানি, বাতাসসহ পুরো প্রাকৃতিক পরিবেশই মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ইলেকট্রনিক বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ, পুনঃপ্রক্রিয়া ও নিষ্কাশন করা না হলে। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত সিসা, সিসার অক্সাইড, পারদ, ক্যাডমিয়াম, বেরিলিয়াম, বেরিয়ামসহ নানা ধরনের ভারী ধাতু ও রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যেগুলো মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, যকৃৎ, বৃক্ক, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, ত্বক, পরিপাকতন্ত্র ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতির সুফল পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে যেমন সীমাবদ্ধ নেই, তেমনই তার ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোও সব অঞ্চলেই ঘটতে বাধ্য। কিন্তু উন্নত দেশগুলো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দূরদর্শী, ভবিষ্যতের সমস্যা তারা আগে থেকেই অনুমান করতে পারে। সেসব সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনাও তারা আগে থেকেই করে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতিকে তারা নিজেদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ করে তুলতে সচেষ্ট। আমরা যদি সামনের বিপদ দেখতে না পাই, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পাহাড় একটা সময় আমাদের জন্য এক বিরাট অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

সাংসদ আমানুরের বিচার

৪৬ মামলার আসামি ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান ওরফে রানা। এর মধ্যে ৪৪টি থেকে অব্যাহতি এবং একটি স্থগিত রাখার ব্যবস্থা করেও সম্পূর্ণ উতরাতে পারলেন না তিনি। একটি খুনের মামলার জন্য তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। এ মামলাটি গা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারলেই একজন নিরপরাধ জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি দায়মুক্তি পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সেটা করা সম্ভব না হওয়ায় ২২ মাস পলাতক ছিলেন। অবশেষে গত রোববার তিনি টাঙ্গাইলের জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করেন। আদালত তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠান। তবে যিনি হত্যাসহ ৪৫টি বিভিন্ন ধরনের মামলার বিচার এড়াতে পেরেছেন, তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার বিষয়টি আমরা অনুমান করতে পারি। ফলে এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে তাই সংশয় ও আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
আমানুর রহমান টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্তাব্যক্তি। তাঁর ভাই ও সন্তানেরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। এই পরিবারের বিরুদ্ধে গত ২৫ বছরে ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে আমানুর একাই ৪৬টি মামলায় অভিযুক্ত। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের পর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে তাঁর ও তাঁর ভাইদের নাম আসে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলোর একটা অংশ সাক্ষী ও বাদীদের অনুপস্থিতির কারণে বাতিল হওয়া থেকে বোঝা যায়, ভয়ভীতি ছিল তাঁর অস্ত্র। প্রথমআলোর রোববারের সংবাদেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার পর একাধিক পরিবারের এলাকাছাড়া হওয়ার তথ্য এসেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারও বেশ কটি মামলা থেকে তাঁর অব্যাহতির ব্যবস্থা করে।
পলাতক অবস্থায়ও অন্তত দুবার জাতীয় সংসদে হাজিরা দিতে আসেন। ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা। টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ তো বটেই, স্থানীয় আওয়ামী লীগও আমানুরের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। এলাকায় তাঁর পরিবার যে জমিদারসুলভ দাপট প্রতিষ্ঠা করে অন্যায়-অত্যাচার চালিয়ে আসছে, তারও অবসান হওয়া উচিত। অতীতে গাইবান্ধার এক সাংসদের বিরুদ্ধে এক শিশুকে গুলি করার মামলায় জামিন প্রশ্নে বিচারকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা দেখেছি। সাংসদ আমানুরের বেলায় সে রকম কিছু হওয়া একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। জনপ্রতিনিধির আসনে বসে নির্বিচার অপরাধ করে যাওয়ার ইতি ঘটানো জরুরি। মানুষ দেখতে চায় আইন সবার জন্যই সমান।

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক হামলা–বিস্ফোরণে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে শনিবার রাতে বিস্ফোরণের ঘটনায়
জড়িত এক সন্দেহভাজনের বাসা ঘিরে রেখেছেন
এফবিআইয়ের সদস্যরা। নিউজার্সির এলিজাবেথ
এলাকা থেকে গতকাল তোলা ছবি। এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ তিন জায়গায় গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় তিনটি হামলা-বিস্ফোরণের ঘটনার পর রোববার রাতে আবারও বিস্ফোরণ ঘটেছে। নিউজার্সির এলিজাবেথ রেলস্টেশনের কাছে সন্দেহজনক বিস্ফোরক দ্রব্য দেখার পর নিষ্ক্রিয় করতে গেলে তা বিস্ফোরিত হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর হামলা-বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। নিউইয়র্কে গতকাল সোমবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুউমো গতকাল জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসাজশ আছে বলেই মনে হচ্ছে। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন আহমাদ খান রাহামিকে (২৮) গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে নিউজার্সির লিনডেন শহরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হন তিনি। পুলিশের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। রাহামি আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। লিনডেনের পুলিশ কর্মকর্তা জেমস সারনিকি বলেন, একটি বাড়ির প্রবেশপথে এক ব্যক্তি শুয়ে আছেন বলে খবর পায় পুলিশ। এরপর পুলিশ সেখানে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন রাহামি হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশের এক সদস্য তাঁকে ডেকে তোলার চেষ্টা করেন।
তখনই রাহামি তাঁকে গুলি করেন এবং তাঁর পেটে আঘাত করেন। এ সময় পুলিশের টহল গাড়ির মধ্যে বসে ছিলেন পুলিশের আরেক সদস্য। রাহামি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। তবে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। পরে বন্দুকযুদ্ধে রাহামি গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে আটক করা হয়। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্থানীয় সময় গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চেলসি এলাকার ২৩ নম্বর স্ট্রিটে বোমা হামলায় আহত হন কমপক্ষে ২৯ জন। একই রাতে মিনেসোটার সেন্ট ক্লাউড শহরের ক্রসরোড সেন্টার নামের এক বিপণিবিতানে ছুরি মেরে আট ব্যক্তিকে আহত করেন এক ব্যক্তি। হামলার একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। এদিনই দুপুরে নিউইয়র্কের পাশের অঙ্গরাজ্য নিউজার্সিতে পাইপবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে একটি চ্যারিটি র‍্যালি শুরুর কিছুক্ষণ আগে এ বিস্ফোরণে অবশ্য কেউ হতাহত হয়নি। এসব হামলা নিয়ে তদন্ত শুরুর পর নিউইয়র্কে পাঁচজনকে আটক করার কথা জানা গেছে। ম্যানহাটনে বিস্ফোরণের ঘটনায় সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর খবরে গতকাল বলা হয়, নিউজার্সির একটি রেলস্টেশনের কাছে একটি ব্যাগের মধ্যে পাঁচটি সন্দেহজনক বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন আহমাদ খান
ম্যানহাটনে বিস্ফোরণের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরালো করা হয়েছে, ঠিক তার মধ্যেই সন্দেহজনক দ্রব্যগুলোর সন্ধান মিলল। নিউজার্সির এলিজাবেথ শহরের মেয়র ক্রিস্টিয়ান বলওয়েজ বলেন, এলিজাবেথ রেলস্টেশনের কাছে সন্দেহজনক এসব বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়। বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজে ব্যবহৃত স্কোয়াডের একটি রোবট এগুলোর একটি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টাকালে তা বিস্ফোরিতও হয়। স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এটি তদন্ত করে দেখছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বাকি সন্দেহজনক দ্রব্যগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছেন। বলওয়েজ বলেন, দুই ব্যক্তি সন্দেহজনক দ্রব্যগুলো দেখে পুলিশকে খবর দেন। বলেন, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিত্যক্ত ওই ব্যাগের ভেতর থেকে কিছু তার এবং একটি পাইপ বেরিয়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এদিকে সন্দেহজনক দ্রব্য পাওয়ার ওই খবরে রোববার নিউজার্সির নিউআর্ক লিবার্টি বিমানবন্দর ও এলিজাবেথ শহরের মধ্যে রেলযোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এএফপির খবরে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনটি হামলার ঘটনা যে সমন্বিতভাবে ঘটেছে, সেটার কোনো প্রমাণ নেই। তবে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গভীরভাবে বিভক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে ইতিমধ্যে দেশের নিরাপত্তা এক বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

২৩ হাজার বছরের পুরোনো বড়শি

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের একটি গুহায় একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এক জোড়া বড়শি খুঁজে পেয়েছেন। এগুলো প্রায় ২৩ হাজার বছর আগের। সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলের তৈরি এসব বড়শি আরও কিছু প্রাচীন জিনিসের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পড়ে ছিল। ওকিনাওয়া দ্বীপে অন্তত ৩০ হাজার বছর আগে মানুষ বসতি গড়েছিল বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে তথ্য–প্রমাণ বিরল। আধুনিক মানুষ সমুদ্রতীর থেকে দূরের দ্বীপগুলোয় প্রথম যাতায়াত শুরু করে প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে।
আদি মানুষ এই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সময় নিজেদের প্রয়োজনেই মাছ শিকার করতে শেখে। তবে এই কৌশল কীভাবে তারা রপ্ত করে এবং সেটাকে আরও উন্নত রূপ দিয়েছে, সেসব অস্পষ্ট। ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউগিনির কয়েকটি জায়গায় এ বিষয়ে গুটি কয়েক প্রমাণ মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস বলছে, নৌ চালনার প্রযুক্তি ভৌগোলিকভাবে ব্যাপক ছড়িয়েছিল উত্তর থেকে মধ্য-অক্ষাংশ হয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল অঞ্চলে। নতুন তথ্য–প্রমাণ এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিমুরে ১৬ হাজার বছরের এবং পাপুয়া নিউগিনিতে ১৮ হাজার বছরের পুরোনো বড়শি পাওয়া গিয়েছিল। সেই হিসাবে জাপানের বড়শি জোড়াই সবচেয়ে পুরোনো। ওকিনাওয়ার ওই গুহায় আরও মিলেছে আংশিক বাঁকানো বড়শি, অন্যান্য উপকরণ, পুঁতির মালা এবং খাবারের ধ্বংসাবশেষ। জাপানি প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘অতি সুস্বাদু’ এক প্রজাতির কাঁকড়া শিকার করতে ওকিনাওয়ার ওই গুহায় লোকজন মাঝেমধ্যে যাওয়া–আসা করত।