Sunday, January 4, 2015

প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে। রাজধানীতে পুলিশ সব ধরনের র‌্যালি নিষিদ্ধ করেছে। বিরোধী দলীয় নেতাকে তার অফিস থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তাকে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সারাদেশে বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ কথা লিখেছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে আরও বলা হয়েছে, বড় বিরোধী দলীয় জোট গত বছর নির্বাচন বর্জনের বার্ষিকী পালনকে সামনে রেখে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে পুলিশ তার অফিসে কর্ডন করে রেখেছে শনিবার দিবাগত রাত থেকে। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আজ রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ দেশে বিভিন্ন সস্থানে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অনেকে। এপি লিখেছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য করে নি পুলিশ। অন্যদিকে রাজধানীতে বাসে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা বেশ কিছু যানবাহনও ভাঙচুর করে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তাকে অবরুদ্ধ করা হয় নি। ঢাকার নয়া পল্টনে খালেদা জিয়ার দলের প্রধান কার্যালয় তালাবদ্ধ করেছে পুলিশ। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। ডিএমপি বলেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাজজধানীতে র‌্যালি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার সহিংসতা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আজ রাত থেকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ঢাকা। সহিংসতার আশঙ্কায় ঢাকামুখী বাস ও ফেরি, লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার আহ্বান আবারও জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি নতুন নির্বাচন দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন হবে না। এ সরকারের মেয়াদ ৫ বছরের। নির্বাচন তদারকির জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি ফর্মুলা নির্ধারণে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার জোট একমত হতে ব্যর্থ হওয়ার মধ্যে নির্বাচন কমিশন ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন করে। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। দেশে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলে বিশৃঙ্খল পরিসিস্থতি। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে হামলা, হরতাল পালন করতে থাকে। এতে ২০১৩ সালে নিহত হন প্রায় ৩০০ মানুষ। খালেদা জিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে ব্যর্থ হন। তারই ধারাবাহিকতায় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনের পর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হন শেখ হাসিনা।

ভিন্ন মতাবলম্বীদের শক্ত হাতে দমন করছে বাংলাদেশ

নির্বাচনের বর্ষপূতিকে সামনে রেখে ভিন্ন মতাবলম্বীদের শক্ত হাতে দমন করছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এ কথা বলেছে অনলাইন ডয়েচে ভেলে। ‘বাংলাদেশ অথরিটিজ ক্লাম্প ডাউন অন ডিসেন্ট অ্যাহেড অব ইলেকশন অ্যানিভারসারি’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রীকে তার অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সোমবার বিতর্কিত নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি। সে সময়টার মুখোমুখি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তা নিরসনের চেষ্টা করছে তারা। ঢাকা পুলিশের এক মুখপাত্র মাসুদুর রহমান বলেছেন, সহিংসতার আশঙ্কায় সব রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস বলেছেন, খালেদা জিয়াকে তার অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পুলিশ ওই এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। শনিবার মধ্যরাতে দলের এক অসুস্থ নেতাকে দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকে বাইরে বেরুতে দেয় নি। তবে খালেদাকে জোর করে আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ ইন্সপেক্টর ফিরোজজ কবির। তিনি বলেছেন, আমরা তাকে আটক করি নি। শুধু তার নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। তিনি অফিস থেকে যাচ্ছেন না।

বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের রিপোর্ট: কার্যালয়ে খালেদাকে রাত কাটাতে বাধ্য করা হয়

নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে অফিসে বাংলাদেশ পুুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। এক বছর আগে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি ৫ই জানুয়ারি। এ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। এ উপলক্ষে পুলিশ তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাকে কার্যালয়েই রাত কাটাতে বাধ্য করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা পিটিআই এ কথর বলেছে। ওই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যায়িত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তা বর্জন করেছিলেন। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। তার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, খালেদা জিয়াকে অফিস ত্যাগ করতে বাধা সৃষ্টি করেছে পুলিশ। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পুলিশ সেখানে আটকে রেখেছে। এক বছর আগের ওই নির্বাচনকে বিএনপি বর্জন করেছিল। তাদের দাবি ছিল ওই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কারসাজি ছিল। এ দলটি ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিএনপির গুলশানের অফিসে যাওয়ার রাস্তার দু’দিকে পুলিশের কমপক্ষে দুটি বড় ট্রাক দিয়ে তা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কাছাকাছি অবস্থান করছে সশস্ত্র ট্রাক, জল কামান ও র‌্যাবের সদস্যরা। শনিবার দিবাগত রাতে একই রকম ঘটনা ঘটেছে নয়া পল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে। পুলিশ সেখানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এর আগে ওই অফিস থেকে সব নেতাকর্মীকে সরিয়ে দেয়া হয়। তুলে নিয়ে যায় বিএনপির য্গ্মু মহাসচিব রুহুল কবির রিজভিকে। পুলিশ তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে তাকে পেটের সমস্যার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির দুটি অফিসই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রোববার সকালের দিকে পুলিশ উত্তরায় অবস্থিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসা ঘেরাও করে। নয়া পল্টনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বিশাল জনসভাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটছে। ওদিকে ৫ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগও রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ছাত্রলীগের জন্মদিনে সবাইকে শুভেচ্ছা by বিমল সরকার

এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম পরিচ্ছন্ন শিক্ষাঙ্গন, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস। প্রযুক্তিতে বিশ্বজয়। সমৃদ্ধির আগামী। গণতন্ত্রের শিকল মুক্তি। সম্ভাবনার বাংলাদেশ। তারুণ্যের অগ্রযাত্রা। সর্বত্রই আমরা; এ দেশের শিক্ষার্থীরা। এসবেরই অগ্রভাগে কোটি শিক্ষার্থীর একটি প্রিয় নাম, প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
আজ গৌরব, ঐতিহ্য আর সংগ্রামের ৬৮ বছরে পা দিচ্ছে সবার ভালো লাগার, ভালোবাসার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশ-বিদেশের সব শিক্ষার্থী বন্ধু ও দেশবাসীকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে তৈরি বাঙালির মুক্তি ও সংগ্রামের অগ্রভাগের সংগঠন ছাত্রলীগ। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও পুরনো এই ছাত্র সংগঠনটির আছে শুধুই ত্যাগ আর ইতিহাস গড়ার ইতিহাস। শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির তিন তারকাখচিত ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটি বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনে যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনি স্বাধীনতার গৌরব রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের আন্দোলনে সব সময়ই অগ্রভাগের সেনানীর ভূমিকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের রক্তে ভেজা লাল-সবুজের পতাকা। শ্যামল সবুজ বাংলার সেই রক্তভেজা পতাকায়ও মিশে আছে আমাদের প্রিয় সংগঠনের ১৭ হাজার অগ্রজের টগবগে রক্ত। ১৯৪৮ সালের আজকের দিনে (৪ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দূরদর্শিতায় স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রথম জন্ম নেয়া সংগঠনের নাম ছাত্রলীগ। জাতির পিতার সেই আস্থায় অবিচল থেকে বাঙালি জাতির ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাঁকেই দেশমাতৃকার জন্য অনন্য ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
’৭৫-এর নৃশংসতায় জাতির পিতাকে হারিয়ে সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া দেশটি স্বৈরশাসকের হাত ধরে পেছনের দিকে হাঁটতে থাকে। প্রায় দেড় দশকের পশ্চাদ্দিগ¦র্তী জাতিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে আলোর সন্ধান দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাজপথের ঝাঁঝালো মিছিলের অগ্রভাগের সাহসী সেনানীর ভূমিকায় ছিল এই আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খাবার স্যালাইন আর নিজ হাতে শত শত নেতাকর্মীর রুটি তৈরি করে অনাহারী দুর্যোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস ও মানসিকতা আছে আমাদের নেতাকর্মীদের। দেশের যে কোনো সংকটে মা, মাটি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা আর মমত্ববোধ থেকেই সব সময় জনতার পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দুর্যোগ-দুর্ভোগে সব সময়ই আর্তমানবতার পাশে থেকেছে একটি নাম, ছাত্রলীগ। তাই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসই ছাত্রলীগের ইতিহাস।’ কোনো ইতিহাসবেত্তা পাওয়া যাবে না যিনি আমাদের প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বাদ দিয়ে বাঙালি জাতির সঠিক ইতিহাস রচনা করতে পারবেন।
শুধু স্বাধীনতা অর্জনে বুকের তাজা রক্ত দিয়েই নয়; বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনের সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা, প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, শিক্ষার্থীদের বেতন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন, সর্বোপরি শিক্ষাঙ্গনকে জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে কাজ করেছে ছাত্রলীগ, যা আজও অব্যাহত আছে। ক্লিন ক্যাম্পাস; সেভ ক্যাম্পাস কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত রাখার আন্দোলন আমরা অব্যাহত রাখব। জ্ঞানচর্চার স্থলে মৌলবাদের উন্মেষ আমরা রুখবই। আমার ভাই, আমার বোনের জন্য নিরাপদ জ্ঞানচর্চার বিদ্যাপীঠ নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব শিক্ষার্থীদের একমাত্র আস্থার সংগঠন হিসেবে আমরাই কাঁধে তুলে নিয়েছি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আজও মাঠে সোচ্চার আমরা। যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলার দৃপ্ত শপথে দীক্ষিত সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেশের পুনঃশৃংখলিত গণতন্ত্র উদ্ধারে, দেশরত্ন শেখ হাসিনা মুক্তির আন্দোলনে সেনা শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে প্রথম উচ্চারণ তোলে ছাত্রলীগ। দেশের বহু বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তির রাজনৈতিক সূতিকাগার ছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ।
বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রগতির পথে অপ্রতিরোধ্যভাবে হেঁটে চলছি আমরা। এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে আমরা পৌঁছে যেতে চাই সমৃদ্ধির শীর্ষে। সমুদ্রের নীল জলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আমাদের জন্য তৈরি হোক অর্থনীতির নবভিত্তি। বিশ্বমন্দায়ও দারিদ্র্র্যের হার অর্ধেকে টেনে ধরে আনার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক ভূখণ্ড এখন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।
আজ শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির তিন তারকাখচিত গৌরবের পতাকা আমাদের কাঁধে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যেখানেই ছাত্রছাত্রীদের অধিকারের প্রশ্ন, সেখানেই অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আমরা আমাদের ছোট ভুলগুলোকে শুধরে নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে শান্তি অব্যাহত রেখে প্রগতির পথে অবিচল হেঁটে যাব। আজকের দিনে এটাই আমাদের অঙ্গীকার। আমাদের হাতেই গড়ব ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ, স্বপ্ন দেশরত্ন শেখ হাসিনার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৮তম জন্মদিনে সবাইকে শুভেচ্ছা।
লেখকদ্বয় : যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

জাতীয় রাজনীতি পরিশুদ্ধ না হলে ছাত্র রাজনীতিতে শৃংখলা আসবে না by বিমল সরকার

ছাত্রলীগ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং দেশবাসীর জন্য এখন অনেক অশান্তি, দুর্গতি, দুর্নাম ও বিড়ম্বনার কারণ। পাকিস্তান আমল এবং বাংলাদেশের প্রথমদিককার অর্জিত গৌরব-গরিমাকে বর্তমান ছাত্রলীগ ধরে রাখতে পারেনি। নানা ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকারের অর্জিত সাফল্য অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছেন ছাত্রলীগের একশ্রেণীর নেতাকর্মী। তাই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেও অনেকে তাদের ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোও সরব ও সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
ইদানীং আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতি এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখল, আতংক- এ ধরনের শব্দগুলো অনেকটা একাকার হয়ে পড়েছে। যখন যেখানেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নৈরাজ্য, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনা সংঘটিত হয়, সেখানেই কোনো না কোনোভাবে ছাত্র রাজনীতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। ঐতিহ্য রয়েছে ছাত্র রাজনীতিরও। প্রতিটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশের ছাত্র-যুবসমাজের আত্মত্যাগ ও গৌরবদীপ্ত ভূমিকা গোটা জাতির জন্যই উৎসাহ-অনুপ্রেরণার উৎস। কিন্তু ছাত্র রাজনীতির নামে গত দুই যুগ ধরে উচ্চশিক্ষা দানকারী নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মফস্বল এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বলতে গেলে দেশের সর্বত্র যা ঘটে চলেছে, তা সহজে ব্যক্ত করার নয়। এমন কোনো দুষ্কর্ম বাদ নেই যা আজকাল ছাত্ররাজনীতির নামে সংঘটিত হচ্ছে না। গুণধর ছাত্রনেতা বা কর্মীদের কীর্তিকলাপের যেসব বর্ণনা সময় সময় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়, তা উল্লেখ করতে যে কারোরই রুচিতে বাধে। এক্ষেত্রে নেতা ও কর্মীতে খুব একটা ব্যবধান নেই। সবার লক্ষ্যই যেন এক- আনো, লুটেপুটে খাও, ফুর্তি কর আর আখের গোছাও। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যাওয়াটা স্বাধীনতা লাভের পর বিরাজমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও, এমনকি আশির দশকেও সহজে কল্পনা করা যেত না। বিশ্বের ছোট-বড়, উন্নত, উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত বোধকরি একটি রাষ্ট্রও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে চাকরি বা দৃশ্যমান কোনো পেশায় জড়িত না হয়ে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে বাড়ি-গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
আশির দশক থেকে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে হয়ে ওঠে অশান্ত। সরকারি নির্দেশে কেবল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নয়, অনেক সময় সারা দেশের স্কুল-কলেজগুলোও সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস ধরে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ সময় ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে একতাবদ্ধ হয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করে। অবশেষে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় গণতন্ত্র।
১৯৯১ সালে দেশে নতুন করে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। বিএনপি সরকার গঠন করে। নব্বইয়ের ছাত্র ও গণআন্দোলনে গৌরবময় ভূমিকা পালন, ক্ষমতাসীনদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্বলতা কিংবা ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা বিবেচনায় রেখে বিএনপি (১৯৯১-১৯৯৬) তার ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর (১৯৯৬-২০০১) ছাত্রলীগ নেতারাও একই কারণে দলের কাছে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। এভাবে উভয় দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্রমে বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকেন। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে প্রায় সবখানেই বিস্তৃত হতে থাকলেও ছাত্র সংগঠনগুলোর গুণধর নেতাকর্মীদের দমনে বা এসব প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই গত দুই যুগ ধরে নির্লিপ্ততা, উদাসীনতা ও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোনো সংগঠনেরই বেপরোয়া ছাত্রনেতারা বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেননি। এ দুবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল অপেক্ষাকৃত শান্ত। দেশবাসীও ছিলেন এদিক থেকে অনেকটা নিরুপদ্রব; নিরীহ মানুষ বলতে গেলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাহীন জীবন কাটান। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০১৩) ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও ক্যাডারদের দৌরাত্ম্য অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। এ সময়ে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, দেশজুড়ে অনেক অশান্তি, দুর্গতি ও দুর্ভাবনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণ হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ তথা ছাত্র রাজনীতি, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
নব্বইয়ের দশকে ছাত্র রাজনীতির ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিণাম নিয়ে সুশীল সমাজের অনেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে (১৯৯৬-২০০১) অনেকবার প্রদত্ত ভাষণে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সাময়িকভাবে হলেও ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বারবার আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ছাত্র রাজনীতির ব্যাপারে তার গুরুত্বপূর্ণ অভিমত, মন্তব্য ও আহ্বান সে সময় সচেতন মহলে ব্যাপক উৎসাহ ও আশার সঞ্চার করলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়। প্রসঙ্গত, মিতভাষী এ সাবেক রাষ্ট্রপতি ছাত্র রাজনীতির মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে যতগুলো অনুষ্ঠানে যতবার নির্দ্বিধায় কথা বলেছেন, গত ৪৪ বছরে আর কোনো রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের মুখ থেকে এরূপ কথা উচ্চারিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। ক্ষমতাপিয়াসী বড় দুটি দলেরই একটি ক্ষেত্রে দেউলিয়াপনা ও দীনতার বিষয়টি দেশবাসীর কাছে বোধকরি আজ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নানাভাবে নষ্ট-ভ্রষ্ট ছাত্র রাজনীতির ওপর ভর না করে কখনও যে সহজে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া যাবে না কিংবা কোনো না কোনোভাবে অধিষ্ঠিত হলেও বেশিদিন অবস্থান করা যাবে না, তা তাদের হিসাবে রয়েছে। আর এ দুর্বলতার সুযোগটিই বরাবর লুফে নিচ্ছে স্বার্থান্বেষী ও সুযোগসন্ধানী মতলববাজ ছাত্রনেতারা।
সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি থাকলে কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেই এ ধরনের বেপরোয়াপনা সহজে জন্মাতে পারত না। আর রাজনীতি কলুষমুক্ত থাকলে ছাত্র রাজনীতি নিয়েও এমন বিতর্ক সৃষ্টির অবকাশ থাকত না। মনে রাখা দরকার, পঙ্কিলতার আবর্তে ঘূর্ণায়মান বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি আশা করা অনেকটা দুরাশারই নামান্তর। আর অসুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতিতে সংগঠন বিশেষে কিংবা সংগঠনে সংগঠনে সময় সময় এমন হানাহানি-রক্তপাত ঘটতেই থাকবে; ঘটাটাই স্বাভাবিক। আদর্শ-উদ্দেশ্য পরে, এসব কিছুর মূলে রয়েছে সংকীর্ণ স্বার্থ উদ্ধার ও আখের গুছিয়ে নেয়ার নেশা বা প্রতিযোগিতা। বিএনপি আমলে (২০০১-২০০৬) যা করেছে ছাত্রদল, আওয়ামী লীগের আগের আমলে (১৯৯৬-২০০১) ছাত্রলীগও বলতে গেলে তা-ই করেছিল। গত ২৪ বছরে পৌনঃপুনিকভাবে ক্ষমতায় থাকা বড় দুই দলের ছত্রছায়ায় থেকে মতলববাজ ও স্বার্থপর ছাত্রনেতারা দিন দিন তাল বুঝে এর মাত্রা বাড়িয়েছেন মাত্র, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
অতএব কেবল সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ নয়, বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপি সমর্থক ছাত্রদলও নয়; জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র রাজনীতি নিয়েই ভাবতে হবে। ছাত্র রাজনীতি যে অশান্তি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ, তা সেতু ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বর্তমান সরকারের আরও অনেকেই বলেছেন। রাজনীতিকে সন্ত্রাসমুক্ত করা গেলে আশি ভাগ এবং শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্র রাজনীতিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পারলে শতভাগ দুর্নীতি কমে যাবে বলে অনেকবার মন্তব্য করেছেন এ মন্ত্রী। কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের বেপরোয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ হাসিনা নিজে। দুর্ভাগ্যজনক হল এরপরও শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কমেনি। পবিত্র শিক্ষাঙ্গন রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। তাহলে দেশবাসীর ভরসা রাখার জায়গাটি কোথায়?
তাই আবারও বলতে চাই, ভাবতে হবে গোটা ছাত্র রাজনীতি নিয়েই। তারও আগে ভাবতে হবে আমাদের জাতীয় রাজনীতি নিয়ে। রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে না পারলে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ভাবাভাবি কোনো কাজে আসবে না। তবে আপাতত এসব কিছুর শুরুটা করতে হবে ছাত্রলীগকে দিয়েই।
বিমল সরকার : কলেজ শিক্ষক

হঠাৎ করেই পাল্টে গেল রাজনীতির দৃশ্যপট, ঢাকার ১৪ স্পটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন, সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন, অনড় খালেদা

(গাজীপুর শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় ঢাকা-গাজীপুর সড়কে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ভিআইপি সাতাইশ পরিবহনের একটি বাসে  আগুন দিয়েছে দুবৃত্তরা। স্থানীয়রা এবং খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভায়।আগুনে বাসের সবগুলো আসন পুড়ে গেছে।) একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তির একদিন আগেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিন ঢাকার ১৪টি স্পটসহ কয়েকটি জেলায় গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের পূর্বঘোষিত সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ঢাকার পল্টন, গুলিস্তান, তেঁজগাও, গেন্ডারিয়া, নর্দা, সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, আজিমপুর, কুড়িল, মালিবাগ, উত্তরা ও পোস্তাগোলায় বাসে আগুন দেয়া হয়। মতিঝিলে একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এছাড়া চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, ময়মনসিংহ সদর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এবং গাজীপুরের চান্দিনা চৌরাস্তা মোড় ও জয়দেবপুরেও বাস পোড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহের ঘটনায় আহত হয়েছেন চালকসহ অন্তত ১০ জন।
হঠাৎ করেই পাল্টে গেল রাজনীতির দৃশ্যপট
এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। ছিল না কারো কল্পনাতেও। ৫ জানুয়ারির আগেই যে দেশে যুদ্ধংদেহী অবস্থা তৈরি হবে তেমন ধারণা ছিল না কারোরই। কিন্তু হঠাৎ করেই পাল্টে গেল রাজনীতির দৃশ্যপট। শনিবার মধ্যরাতে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করার পর রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দেশ। সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। অথচ এই সময়ে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। বিশেষ করে ৩১ ডিসেম্বর  সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ‘নরম’ অবস্থানের কারণে সবাই ধরেই নিয়েছিলেন যে আপাতত রাজনীতির মাঠ গরম হচ্ছে না। কিন্তু সেসব পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে ৫ জানুয়ারির বিতকির্ত নির্বাচনের এক বছর পূর্তির আগের দিনই উত্তপ্ত হয়ে সারা দেশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।  নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশত গাড়িতে অগ্নিসংযোগ কিংবা ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপি নেতারাও কঠোর অবস্থানই নিয়েছেন। খালেদা জিয়া তো সাফ জানিয়েই দিয়েছেন যে তিনি ‘অবৈধ’  সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানেন না, সোমবারের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ হবেই। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আয়ত্বে রাখতে পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকায় প্রায় ১৭৭ জনসহ সারা দেশে ৪ শতাধিক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দূর পাল্লার বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়ে সারাদেশ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে সরকার। ঢাকা আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারপরও শাসকদল  সোমবার মহড়া দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজনৈতিক মাঠ আরো পরের দিকে উত্তপ্ত হতে পারে বলে যারা আশঙ্কা করেছিলেন তারা অবাক হয়ে দেখছেন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। রাজনৈতিক সংঘাত সহসাই আবার কোন পর্যায়ে পৌঁছায় তা নির্ভর করছে সরকার কতটা কঠোরতার পরিচয় দেয় কিংবা বিএনপি-জামায়াত জোট কতটা শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পারে তার ওপর নির্ভর।
সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়নের কথা হয়। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহসিন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীতে ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীতে আজ বিকেল ৫টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি’র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, যেকোনো সহিংসতা ও অরাজকতা পরিহার করতে এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি অধ্যাদেশের ২৮ ও ২৯ ধারা অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার ১০টায় নয়া পল্টনে সমবেশ॥ অনড় খালেদা জিয়া
২০ দলীয় জোট প্রধান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সোমবার সকাল ১০টায় সমাবেশ করতে অনড় রয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে রাজধানীর নয়া পল্টনস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হতে বলেছেন। যেকোনো মূল্যে তিনি সমাবেশ করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বাধা এলে তা প্রতিরোধ করার নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি নিজেও ওই সমাবেশে উপস্থিত হবেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া সবস্তরের নেতাকর্মীদের নয়া পল্টনের সমাবেশে উপস্থিত হতে বলেছেন। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিকদেরও এতে সমবেত হতে বলেছেন। কোনো ধরনের বাধা এলে তা প্রতিরোধ করতেও বলা হয়েছে। ২০ দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এখন আর পিছু হটার অবকাশ নেই। সোমবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার সমাবেশ করতে না দেয়া হলে এর পর থেকে প্রতিদিনই এই কর্মসূচি থাকবে বলে সূত্র জানিয়েছে। খালেদা জিয়া এখনো তার গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। তবে তিনি সোমবার নয়া পল্টন রওনা হবেন।

বাংলাদেশে সংসদীয় রাজনীতির করুণ পরিণতি by বদরুদ্দীন উমর

৫ জানুয়ারি ২০১৩, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলংকজনক দিন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে যে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, ওই দিন তা এক করুণ পরিণতি লাভ করে ধ্বংসের দোরগোড়ায় এ দেশকে এনে দাঁড় করিয়েছিল। একটি ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যে অনির্বাচিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তার সঙ্গে অনির্বাচিত সামরিক সরকারের যে কোনো পার্থক্য কার্যত নেই এটা এ সরকার তার এক বছরের শাসনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে। শুধু তাই নয়, অনির্বাচিত ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নিয়ে যেভাবে এ সরকার গঠিত হয়েছিল সেটা এক রাজনৈতিক ভেল্কিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু এর সব থেকে বিপজ্জনক দিক হল, সংসদীয় রাজনীতি ধসে গিয়ে এর মাধ্যমে বাংলাদেশে এমন এক সরকার গঠিত হয়েছে যার ফ্যাসিস্ট চরিত্র নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। এর প্রমাণ জনগণ এবং এ দেশের গণতান্ত্রিক ও সেই সঙ্গে সংসদীয় বিরোধী সব শক্তি ও দল বিগত ৩৬৫ দিনই পেয়েছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে যে ব্যবস্থা জারি আছে, একে পুলিশি রাজত্ব ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। দেশের সংবিধান থেকে নিয়ে সাধারণ নিয়ম-কানুনকে পর্যন্ত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এরা যেভাবে নিজেদের বেপরোয়া শাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের ৪৩ বছরের গণতন্ত্রশূন্য শাসনের সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনগণ, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো, এমনকি শাসকশ্রেণীর নিজের ক্ষমতাবহির্ভূত অংশ পর্যন্ত আজ সভা-সমিতি, মিছিল করার অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ দিক দিয়ে সরকারের শাসন নীতি অনুযায়ী জনগণ এখন পুলিশের হাতে জিম্মি। কারণ সভা-সমিতি, মিছিল করার জন্য নির্বাচনের আগে থেকেই পুলিশ ঢাকার মুক্তাঙ্গনকে পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং তা এখনও বলবৎ আছে। এভাবে তারা সভা-সমিতির জায়গা কমিয়ে দিয়েছে। ভিন্নমত প্রকাশের যে কোনো উদ্যোগকে কঠোরভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এরা আইন-শৃংখলা রক্ষার নামে পুলিশের হাতে সব ক্ষমতা ন্যস্ত করেছে। সরকারের নির্দেশে পুলিশ জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিজের হাতের মুঠোয় রেখেছে। একে পুলিশি শাসনব্যবস্থা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে? বর্তমান সরকারের এ কার্যকলাপ বিগত নির্বাচনপূর্ব পাঁচ বছরব্যাপী দেখা গেলেও ৫ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনের পর এটা এক ভয়াবহ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, যারা এ ব্যবস্থা পরিচালনা করে তাদের বেপরোয়া কার্যকলাপ। বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার মধ্যে সরকারি ও সরকারি দলের লোকদের জবাবদিহিতার কোনো ব্যাপার আজ নেই। যে যেভাবে পারছে চুরি-দুর্নীতি, জনগণের কণ্ঠরোধ, পুলিশি হেফাজতে হত্যা-নির্যাতন, অপহরণ, পুলিশি হেফাজতের বাইরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নামে সরকারি ঠেঙ্গাড়ে বাহিনী এবং খোদ আওয়ামী লীগের লাগামছাড়া লোকজন জনগণের ওপর যে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে, তার সব কিছুই সরকারি নির্দেশে ও তাদের ছাতার তলে থাকার কারণে এর কোনো জবাবদিহিতা নেই। আদালতের কোনো নিয়ন্ত্রণও এ ক্ষেত্রে দৃষ্টিগোচর নয়।
এ সরকারের অধীনে দুষ্কৃতকারী এবং নানা ধরনের অপরাধীর বিচার ও শাস্তির কোনো ব্যবস্থা এ দেশে নেই বললেই সবটুকু বলা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যারা এসব অপকর্ম ও ক্রিমিনাল কাজ করে তাদের শাস্তি দেয়ার পরিবর্তে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা আছে। রেলের কর্মচারী ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ কেলেংকারিতে ধরা পড়লেও কারও শাস্তি হয়নি। গাড়িতে আটক ৭০ লাখ টাকা গাড়ির মালিককে ব্যাংকে নিজের হিসাবে জমা দিতে দেয়া হয়েছিল, যা এক বড় মাপের দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সে টাকা কীভাবে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছিল, তা জানার কোনো উপায় নেই। এ কেলেংকারির জন্য রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে তার পদ থেকে অপসারণ করলেও তার দুর্নীতির পুরস্কারস্বরূপ তাকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দফতরবিহীনমন্ত্রী করা হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের লোকজন এবং তাদের সমর্থক ছাড়া কারও কোনো সামান্য চাকরি থেকে নিয়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও চাকরি হওয়ার উপায় নেই। এ নীতি তারা প্রথম থেকেই ব্যতিক্রমহীনভাবে কার্যকর করে এসেছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম একেবারে উলঙ্গভাবে যা বলেছিলেন তা উল্লেখযোগ্য। ছাত্রলীগের এক সভায় তিনি বলেছিলেন, কোনো রকমে
(অর্থাৎ দুর্নীতির মাধ্যমে হলেও) লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে পারলে মৌখিক পরীক্ষার জন্য তাদের ভাবনার কারণ নেই। তাদের সবারই চাকরি হবে! তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি যখনই কারও চাকরির তদবিরে যান, তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন প্রার্থী আওয়ামী লীগের লোক কি-না। আওয়ামী লীগের লোক হলে তার চাকরি হতে কোনো অসুবিধা নেই!! তার এ বক্তব্যের
পর সরকারি মহলেও কিছু কিছু সমালোচনা সত্ত্বেও ইমামের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের এ ধরনের কার্যকলাপের কোনো শেষ নেই। প্রতিদিনই তারা এসব কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন কোনো বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই।
এ আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরের শাসনকাল এবং তারপর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে এ দেশের শাসনব্যবস্থায় যা ঘটে চলেছে তার ফিরিস্তি দেয়া ও পর্যালোচনা কোনো কোনো মহল থেকে হচ্ছে। এ নিয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা এখানে সম্ভব নয়। কাজেই খণ্ড খণ্ড উদাহরণ ছাড়া উপায় নেই। এ রকম এক অতি সাম্প্রতিক ঘটনা হল, একটি চার বছরের শিশু ওয়াসার একটি খোলা পাইপের মধ্যে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনা। কাজ শেষ হওয়ার পর ওয়াসা কর্তৃক পাইপের মুখ খোলা রাখার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু এই তুচ্ছ অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অপরাধের তদন্ত করে ওয়াসার কোনো কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়ার প্রশ্নই বর্তমান সরকারের আমলে ওঠে না! এটা তো গেল এর একটা দিক। এর অন্যদিক হল, দুদিন ধরে নানা ধরনের অকেজো যন্ত্রপাতি নিয়ে ফায়ার ব্রিগেড এবং ওয়াসা ছেলেটিকে উদ্ধার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এ ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য ছেলেটির অসহায় ও শোকার্ত বাবাকে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে তার ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়, তাকে ক্রসফায়ারে দেয়ার উদ্দেশ্যে র‌্যাবের হাতে সমর্পণের হুমকি দেয়। তাদের কথা হল, ছেলেটি নাকি পাইপের মধ্যে পড়েনি! তাকে নাকি তার বাবা অন্য কোথাও সরিয়ে দিয়েছে, এজন্যই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!! থানার ওসির এ অপরাধের জন্য শাস্তির কোনো ব্যবস্থা এ সরকারের আমলে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের এক মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে সরকারি লোকদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য বলেন যে, পাইপের মধ্যে কোনো জীবিত শিশু তো নয়ই, এমনকি মৃত শিশুও নেই!!! অথচ শিশুটির কান্নার শব্দ তার খেলার সাথীরা, অন্য স্থানীয় লোকজন, এমনকি ফায়ার ব্রিগেডের একজন অফিসার পর্যন্ত শুনেছিলেন!!! মন্ত্রীর উপরোক্ত বক্তব্যের পর শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সরকারি চেষ্টা বন্ধ করা হয়। এখানে যা বিস্ময়ের সঙ্গে বলা দরকার তা হল, সরকারি লোকজন তাদের উদ্ধার-প্রচেষ্টা বন্ধ করার পনেরো মিনিটের মধ্যেই স্থানীয় লোকেরা শিশুটির মৃতদেহ উপরে নিয়ে আসে!!! এর থেকে সরকারের অপদার্থতা ও অমানবিকতার যে প্রমাণ পাওয়া যায় তার থেকে ভয়াবহ একটি দেশ ও সমাজের জন্য আর কী হতে পারে? দেশের জনগণ কি ভয়ংকর অপশাসনের অধীনে জীবন কাটাচ্ছেন তার পরিচয় কি এর মধ্যে পাওয়া যায় না? কিন্তু এর জন্য শেখ হাসিনার সরকার তাদের মন্ত্রীর কাছে কোনো জবাবদিহিতা চায়নি। এর জন্য ওয়াসা ও ফায়ার ব্রিগেডের অপদার্থতা ও অমানবিকতা সরকারকে বিচলিত করেনি।
বিগত ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির ভুয়া নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ সংক্ষিপ্ত কথা বলার প্রয়োজন হল এ কারণে যে, বাংলাদেশের জনগণের ওপর শুধু শোষণ-শাসনের নিষ্ঠুরতাই চলছে তাই নয়। সব থেকে বিপজ্জনক অবস্থা হল, তাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব। এসব কিছুর মধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার তার ফ্যাসিস্ট শাসনেরই স্বাক্ষর রাখছে।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

থমথমে রাজধানী

(রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় একটি বাসে আজ রোববার দুপুরে আগুন দিয়েছে দুর্বত্তরা।  ময়মনসিংহ শহরের মাসকান্দা এলাকায় আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। অন্যদিকে বিকেলে গাজীপুর শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় ঢাকা-গাজীপুর সড়কে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ভিআইপি সাতাইশ পরিবহনের একটি বাসে  আগুন দিয়েছে দুবৃত্তরা। স্থানীয়রা এবং খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভায়।আগুনে বাসের সবগুলো আসন পুড়ে গেছে। এ ছাড়াও বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় থেমে থাকা যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।) সন্ধ্যার পর ভুতুড়ে শহরের রূপ নিচ্ছে রাজধানী ঢাকা।  নামছে সুনসান নীরবতা। কমে গেছে কোলাহল, যানবাহন চলাচল। রাস্তাঘাট ফাঁকা। শীতের কুয়াশামাখা রাতে থমথমে পরিস্থিতি। রোববার দুপুরের পর থেকে রাজধানীতে ঘটছে সহিংসতা। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস। নানা এলাকায় ঘটেছে অসংখ্য ককটেলের বিস্ফোরণ।  সন্ধ্যায় এসে নাগরিক-মনে ভর করছে উদ্বেগ। সোমবার দিনটি কেমন কাটবে! এদিকে দেশের কোথাও থেকে ঢাকায় আসছে না দূরপাল্লার যানবাহন। আসছে না লঞ্চ। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে নামতে ঢাকার সড়কগুলোতে যানবাহন কমতে থাকে। রাতে গিয়ে ফাঁকা হয়ে যায় রাজপথ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছেন।  ঢাকা প্রবেশমুখসহ জায়গায়  জায়গায় চলছে তল্লাশি। সন্ধ্যায় রাজপথে নেমেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জওয়ানরা। রাত আটটায় এ প্রতিবেদন লেখা আগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসে ভাঙচুর ও আগুনের খবর পাওয়া গেছে। ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে প্রশাসনের সতর্কতার জেরে রাজধানী ঢাকা কার্যগত অবরুদ্ধ ও থমথমে।  সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক জোটের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা ৫ জানুয়ারির সোমবার ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। কর্মসূচির আগের দিন রোববার বিকাল পাঁচটা থেকে ঢাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।  দুপুরে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, “পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।”   এর আগে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে খালেদা জিয়া বাসা থেকে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কার্যালয়ে থেকে বের হওয়ার পথে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে রাতে তাকে কার্যালয়েই অবস্থান করতে হয়। এরপর সেখানেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছেন তিনি। বিপুল সংখ্যক পুলিশ  ওই কার্যালয় ঘিরে রেখেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল সাংবাদিকদের বলেন, “খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শুধু তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। শুধু খালেদা জিয়া নয়, বিএনপির কোনো নেতাকেই অবরুদ্ধ করা হয়নি।” বিএনপির অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি করতে না দিতে সরকার এসব করছে। রোববার বিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি জোটের নেতাকর্মীদের যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের দম্ভ ও স্বেচ্ছাচারিতার জবাব দেয়ার আহ্বান জানান।   যাত্রীবাহী বাসে আগুন-ভাঙচুর রোববার বিকালের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিনের তুলনায় রোববার সন্ধ্যার পর ঢাকায় যান চলাচল অনেক কমে যায়। আজিমপুরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিরপুর-মতিঝিলে চলাচলকারী বিকল্প পরিবাহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো জ ১৪২৫৮৪) অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। পরে এলাকার লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গুলিস্তানের গোলাপ শাহ্ মাজারের সামনে তানজিল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে (ঢাকা মেট্রো-জ-১১-৩২০৫) আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া কুড়িল বিশ্বরোডে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় গাজিপুর-গুলিস্তানে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহণের একটি বাসে, চারটার দিকে গেন্ডারিয়ায় মালঞ্চ বাসে, সাড়ে তিনটার দিকে তেজগাঁও মহিলা কলেজের সামনে ৮ নম্বর বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪১১৮৬),  দুপুর দেড়টার দিকে পুরানা পল্টনে নিউ ভিশন পরিবহনের বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।   রাত আটটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিভিন্ন স্থান থেকে আগুন ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যাচ্ছিল।   শিবিরও মাঠে ৫ জানুয়ারির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন শিবিরের নেতাকর্মীরাও মাঠে নেমেছেন। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে নেতাকর্মীদের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার। রোববার দুপুরে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “সময় এসেছে গর্জে ওঠার, অবৈধ সরকারের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার!!!! মৃত্যুভয়কে জয় করার। ক্ষমতান্ধদের প্রতিরোধ করার, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার, স্বাধীন দেশের বন্দি নাগরিকদের মুক্ত করার। জালিমের পতন অনিবার্য। আল্লাহ সহায়।”   দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা তার এ আহ্বানে সায় দিয়ে মন্তব্য লিখেছেন।   ঢাকায় গাড়ি-লঞ্চ আসছে না রোববার বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানী। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সমাবেশে যাতে কেউ যোগ দিতে না পারে সে জন্যই বাধার সৃষ্টি করছে সরকার। এদিকে পরিবহন মালিকরা দাবি করেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা নিজেরাই যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, বগুড়ার ওপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা অভিমুখে কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। বরিশাল থেকে ঢাকামুখী বাস ও লঞ্চ বন্ধ।  রংপুর, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকামুখী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সংবাদ পাওয়া গেছে। সদরঘাট থেকের দেশের বিভিন্ন রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা কার্যত অবরুদ্ধ- গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর

(বেলা আড়াইটার দিকে মতিঝিল পামরোডে মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি প্রাইভেট কারে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। তবে স্থানীয় লোকজন​ নিজেদের চেষ্টায় আগুন নেভায়। এসময় গাড়িতে কেউ ছিলেন না। এ ঘটনায় সন্দেভাজন তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।) দুই জোটের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে দেশজুড়ে। ঢাকায় রোববার বিকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখি যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানী। নিজের কার্যালয়ে গতকাল রাত থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সমাবেশে যাতে কেউ যোগ দিতে না পারেন সে জন্যই বাধার সৃষ্টি করছে সরকার। এদিকে পরিবহন মালিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা নিজেরাই যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। বগুড়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, রোববার সকাল থেকেই বগুড়ার ওপর দিয়ে সকল ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা অভিমুখে কোন গাড়ি ছাড়েনি। বরিশাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সহিংসতার আশঙ্কায় বাস ও লঞ্চমালিক সমিতির নেতারা ঢাকামুখী সকল পরিবহন বন্ধ রেখেছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সংবাদ পাওয়া গেছে। রাজশাহী থেকেও দুর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। সিলেট থেকে রোববার বিকাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোন বাস ছাড়েনি। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পল্টন, তেজগাঁও, গেন্ডারিয়া, নর্দা, গুলিস্তান ও শনির আখড়ায় পাঁচটি বাস ও একটি প্রাইভেট কার এবং ময়মনসিংহ সদরে একটি যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো হয়েছে।  বেলা পৌনে ১টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটের দিকে ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে গাবতলীগামী আরেকটি বাসে আগুন দেয়া হয়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে গেন্ডরিয়ার দয়াগঞ্জ এলাকায় মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সুপ্রভাত পরিবহনের আরেকটি বাস অগ্নিসংযোগ করে কে বা কারা। সাড়ে ৫টার দিকে শনিরআখড়া এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর গুলিস্তানে একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। নাটোর প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানের দলীয় অফিসে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখা, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহম্মেদসহ নেতাকর্মীদের আটক ও ঢাকাগামী সকল বাস ও ট্রেন বন্ধের প্রতিবাদে রোববার বিকালে বড়াইগ্রাম উপজেলা সদর বনপাড়ায় বিএনপির মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলম, পৌর সভাপতি লুৎফর রহমান, বিএনপি নেতা হোসেন আলী, ছাত্রদল নেতা কোরবান আলী, স্বপন ও সোহেল সহ ১৫জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বনপাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলমের নেতৃত্বে মিছিলটি শুরু হয়ে নতুন বাজার সোনালী ব্যাংকের সামনে গেলে পুলিশ দুই দিক থেকে মিছিলে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে তারা আহত হন। পরে মিছিল থেকে পুলিশ জোয়ারী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে আটক করে নিয়ে যায়। একই সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বনপাড়া পৌরসভা মাঠে সমবেত হয়ে অবস্থান করে। সিলেট অফিস জানায়, সিলেটে অস্ত্র ঠেকিয়ে বাসার ভেতরে গুলি করে পুলিশ। এ সময় বাসায় চিৎকার শুরু করেন বসবাসকারীরা। বিকাল ৪ টার দিকে নগরীর কাজী ইলিয়াস গলির মুখ থেকে ছাত্রদল সভাপতি সাঈদ আহমদ ও যুগ্ন সম্পাদক মকসুদ আহমদের নেতৃত্বে মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি জিন্দাবাজার এলাকায় পৌছামাত্র পুলিশ তাদের বাধা দিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ১০ মিনিট ব্যাপী সংঘর্ষে পুরো জিন্দাবাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। এ সময় পুলিশ মিছিলকারী ছাত্রদল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছাত্রদল কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রদল কর্মীরা কাজী ইলিয়াস গলি, তাতীপাড়া গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ পিছূ ধাওয়া করে পাশ্ববর্তী তাতীপাড়া এলাকায় ঢুকে পড়ে। ছাত্রদল কর্মীদের অবস্থান করছেন এমন সন্দেহে পুলিশ তাতীপাড়াস্থ সালমা হাউস নামের একটি বহুতল বাসায় অভিযান চালাতে যায়। কিন্তু ডাকাডাকির পর বাসার ফটক খোলা হয়নি। এক পর্যায়ে পুলিশ লাথি দিয়ে ফটক খোলার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে বাসার ফটকের উপর দিয়ে দুই রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে।

মনোবল ও আস্থা রক্ষার লড়াইয়ে আ. লীগ-বিএনপি by তানভীর সোহেল

নিজ দলের নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ানো আর প্রতিপক্ষের মনোবলে চিড় ধরানোর লড়াইয়ে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। পাশাপাশি দুই বড় দলেরই এখন লক্ষ্য সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন ও ধরে রাখা। ৫ জানুয়ারি নিয়ে দুই দলের অনড় অবস্থানের এটাই কারণ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা। এ জন্য দুই পক্ষই ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই দলের দায়িত্বশীল নেতারা প্রথম আলোকে বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নিয়ে সৃষ্ট অবস্থা থেকে যে পক্ষ সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে আগামী দিনের রাজনীতির চালিকাশক্তিতে তারাই এগিয়ে থাকবে। দু দলের নেতারা মনে করেন, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের ফলে তাত্ক্ষণিকভাবে সরকার পতন হবে না। কিন্তু সরকারের অবস্থান কতটা শক্ত বা নরম হবে, বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলন জোরালো হবে কি না তা নির্ধারণে এই সময়ের আন্দোলন ভূমিকা রাখবে।
২০১৪ সালে কয়েকবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে বিএনপি। তবে এবারের আন্দোলনে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার পেছনে আরও একটি কারণকে প্রাধান্য দিতে হচ্ছে বিএনপির। রাজপথের আন্দোলনে বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করছে রাজনীতিতে দলটির প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামের কর্মকাণ্ড। জামায়াতের মধ্যম পর্যায়ের দুই জন নেতা বলেছেন, এককভাবে জামায়াতের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলে জামায়াতও সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে থাকবে। এজন্য ৫ জানুয়ারি তারা আলাদা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়েছে। সড়ক ও নৌ পথে পর্যাপ্ত গাড়ি ও লঞ্চ চলছে না। কোনো কোনো জেলা থেকে ঢাকায় আসার সব ধরনের পরিবহনই চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও যান চলাচল অনেক কমে গেছে।
গত বছর ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে নির্বাচন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংসদের বাইরে চলে যায় বিএনপি। আওয়ামী লীগ এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় উত্সব’ হিসেবে আর বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকায় দু দলই নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজধানীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা মানার কথা বললেও বিএনপি এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্মীদের চাঙা ও মানুষের আস্থা অর্জনই বিএনপির লক্ষ্য: গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘অবর’দ্ধ’ করার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ফোনেও দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মসূচি থেকে সরে আসলে মাঠের নেতাকর্মীরা একেবারেই মানসিকভাবে ভেঙে (ডিমরালাইজড) পড়বে বলে মনে করেন দলীয় চেয়ারপারসন। এবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নেতাকর্মীদের আবার মাঠে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। তাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যা পারার তাই করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া যাবে না। ওই নেতা বলেন, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি ব্যর্থ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ে।
সাধারণ মানুষও বিএনপির ক্ষমতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে। তা ছাড়া গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে কিছু করতে না পারায় দলটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাই এবার আর কোনো ঝুঁকি নেবে না বিএনপি। কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসবে না। ওই নেতা বলেন, চেয়ারপারসন মনে করেন, বিএনপি কর্মসূচিতে অটল থাকলে দলের শক্তির ওপর সাধারন মানুষের আস্থা বাড়বে আর নেতাকর্মীরা চাঙা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু’ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সরকার পুলিশ দিয়ে শাসন ক্ষমতা রেখেছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে পুলিশ দিয়ে তা করার চেষ্টা করছে। এভাবে চলতে পারে না। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিএনপিকে পিছু হটানোর এই কর্মকাণ্ড সফল হতে দেওয়া যায় না। এ জন্য আজকের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সরকারকে ছাড় দেওয়া যাবে না। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে নামতে মুখিয়ে আছেন। সাধারণ মানুষও চায় বিএনপি তাদের পক্ষে মাঠে থাকুক। তাদের চাওয়াকে হতাশায় ভাসানোর কোনো সুযোগ বিএনপির নেই।
কর্মসূচি আলাদা তবে বিএনপির পাশে থাকবে জামায়াত: আজ বিকেলে টেলিফোনে আলাপকালে জামায়াতের দুই জন মধ্যম সারির নেতা প্রথম আলোকে বলেন, কর্মসূচি পালনে বিএনপি অনঢ় অবস্থান নিয়েছে। এ জন্য ওই আন্দোলনে জামায়াতও তার শক্তি দিয়ে মাঠে থাকবে। একজন নেতা বলেন, পৃথক কর্মসূচি ঘোষণার চিন্তা তাঁরা করছেন। ঢাকায় তাঁরা নামবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই নেতা বলেন, বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। এর উত্তর কেবল কালকেই পাওয়া যাবে। আগে বলা সম্ভব নয়।
আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনালের শফিকুল ইসলাম ৫ জানুয়ারি সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করার ঘোষণা দেন।
বিএনপির আন্দোলন দমাতে চায় আওয়ামী লীগ: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় আজ। ওই নেতাদের মতে, তুলনামূলক কম জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ও বড় দলের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে। এটা তাঁদের জন্য কিছুটা বিব্রতকর। তবে তাঁরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে। দলটির পূর্ণ মেয়াদে থাকাটাও অনেকটা নিশ্চিত। এই অবস্থায় প্রতিপক্ষ বিএনপিকে মাঠের রাজনীতিতে দুর্বল করতে পারলে তাদের সামনে তেমন কোনো সমস্যা থাকবে না। এ জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এবারের আন্দোলন দমানোকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুর’ত্ব দিচ্ছেন।
ওই নেতারা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে না পারার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সাধারণ মানুষেরও ধারণা তৈরি হয় বিএনপি আর আন্দোলন করতে পারবে না। নেতাকর্মীদের মনোবল গত এক বছরে খুব একটা বাড়ানি। পাশাপাশি বিএনপিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাবে তেমন একটা পরিবর্তন আসেনি। আওয়ামী লীগ এটা ধরে রাখতে চায়। এ কারণে ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে ন্যূনতম রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাই ওই নির্বাচনের সময় বিএনপিকে যেভাবে মোকাবেলা করা হয়েছে এবারও সেভাবে মোকাবেলা করা হবে। বিএনপিকে আন্দোলনে ব্যর্থ প্রমাণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ সরকার দেবে না। তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। নির্বাচিত সরকারকে উত্খাতের আন্দোলনের চেষ্টা সফল করতে দেওয়া হবে না।
আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞার কারণে সভা-সমাবেশ করবে না। তবে তাদের দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকবেন। প্রয়োজন হলে পুলিশকেও সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত থাকবেন।

সোমবারের কর্মসূচি চলবে: খালেদা জিয়া

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারী বাধা স্বত্বেও সোমবারের কর্মসূচি তিনি প্রত্যাহার করছেন না। ঢাকায় নির্ধারিত সমাবেশের চেষ্টা করা হবে। খবর বিবিসি বাংলা।
খালেদা জিয়া বলেন, শনিবার রাত থেকে তাকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
রাতে পুলিশে ঘেরা তার অফিসে বসে টেলিফোনে তিনি বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনকে বলেন, কোনো কর্মসূচির আগে কোনো দলের নেতাকে এভাবে অন্তরীণ করে রাখার নজির বাংলাদেশে নেই। বিএনপি নেত্রী বলেন, তার কর্মীরা রাস্তায় রয়েছেন এবং সোমবারের কর্মসূচি চলবে। তিনি নিজে ঐ সমাবেশে যোগ দেবেন কি না, এ প্রশ্নে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি চেষ্টা করবেন।
"নির্বাচনের আগেও ২৯শে ডিসেম্বর আমি কর্মীদের সাথে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, সরকার করতে দেয়নি। এবারও আরো বেশি পুলিশ দিয়ে আমাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।।"
নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ ঢাকায় সবধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি নয়, সরকার নিজেরাই নাশকতায় লিপ্ত হয়েছে। "আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম...আমাদের নেতা কর্মীদের ঘরে ঢুকে ঢুকে নির্যাতন করা হচ্ছে।"

কুতুবদিয়ায় জাতীয় সমাজসেবা দিবস অনুষ্ঠিত

কুতুবদিয়া উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের আয়োজনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০১৫ উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.টিিএম.নুরুল বশর চৌধূরী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন

গুলশান কার্যালয়ে কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ খালেদা, বিএনপি অনড়, আ.লীগের না, ঢাকামুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে



গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাঁর কার্যালয়ের আশে পাশে অবস্থান নিয়ে আছে। এ অবস্থার মধ্যেই কার্যালয়ে শনিবার রাত কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া। এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। অবশ্য স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দাবি করেছেন, খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়নি।তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর সড়কে খালেদা জিয়ার কার্যালয়। আজ রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়, ওই রাস্তায় কার্যালয়ের উত্তরে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এবং দক্ষিণে ৮৭ নম্বর সড়কের মাথায় পুলিশের দুটি ভ্যান আড়াআড়ি করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তার দুই মুখে অবস্থান নিয়ে আছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। ওই রাস্তায় সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষজনের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
আজ বেলা ১২টার দিকে বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যেতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের দুটি প্রতিনিধি দল গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। বিএনপির অল্পকিছু সংখ্যক নেতা-কর্মী গুলশান কার্যালয়ের কাছে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার কার্যালয়টি একটি দোতলা ভবন। খালেদা জিয়া বসেন দ্বিতীয় তলায়।গত রাতে দ্বিতীয় তলায় খালেদা জিয়ার বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ কয়েকজন মহিলাকর্মী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার রাত আটটার দিকে বাসা থেকে কার্যালয়ে যান বিএনপির চেয়ারপারসন। রাত নয়টার দিক থেকে কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বাড়ানো হয়। বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান প্রথমআলোর কাছে দাবি করেন, গত রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের মূল ফটকও গাড়ি দিয়ে আটকে রাখে পুলিশ। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বের হওয়ার জন্য গাড়িতে ওঠেছিলেন। কিন্তু বের হতে না পেরে ১০ মিনিট বসে থেকে তিনি আবার ওপরে চলে যান।তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
অবশ্য স্বারষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান একটি বেসরকারি ​টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করার প্রশ্নই আসে না। তিনি নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে চেয়েছিলেন।গোয়েন্দা সংস্থা মনে করেছে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া দরকার। তাই তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া রাতে নয়াপল্টন কার্যালয়ে যেতে চেয়েছিলেন।তাঁদের কাছে তথ্য ছিল, খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারির সমাবেশকে সামনে রেখে আগ থেকেই নয়াপল্টন কার্যালয়ে অবস্থান নিতে পারেন। এ কারণে তাঁকে বের হতে দেওয়া হয়নি। খালেদা জিয়াকে আপাতত তাঁর কার্যালয় এবং বাসার বাইরে কোথাও যেতে দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি সমাবেশে অনড়, আ. লীগের না
রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কাল সোমবার রাজধানীতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্তে এখনো অনড় আছে বিএনপি। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কোনো সভা সমাবেশ করবে না তারা।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কাল ঢাকায় ১৬টি স্থানে সমাবেশ করার কথা ছিল আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের ‘গণতন্ত্রের বিজয় উত্সব’ পালন উপলক্ষে এসব সমাবেশ করার কথা ছিল।
অন্যদিকে ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে ওইদিন রাজধানীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় বিএনপি।
প্রধান দুটি দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি সামনে রেখে আজ রোববার বিকাল পাঁচটা থেকে রাজধানীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, বিক্ষোভ সবকিছু নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এখনো পর্যন্ত বিএনপি-জোটের ঘোষিত কর্মসূচি বলবত্ আছে। এ সমাবেশ হবে। বিএনপির চেয়ারপারসনকে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি যে সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। বিএনপির চেয়ারপারসনকে অবরুদ্ধ করে রাখা, বিএনপি কার্যালয়ে তালা দেওয়া প্রমাণ করে সরকার গণতন্ত্রের কোনো জায়গা রাখছে না, তারা ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে।
অন্যদিকে বর্তমান অবস্থায় আওয়ামী লীগ কী করবে জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পুলিশের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে না। তাদের কর্মসূচি পরবর্তীতে পালিত হবে। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নানক একথা বলেন।
ঢাকা কার্যত অবরুদ্ধ
দুই জোটের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে দেশজুড়ে। ঢাকায় রোববার বিকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখি যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানী। নিজের কার্যালয়ে গতকাল রাত থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সমাবেশে যাতে কেউ যোগ দিতে না পারেন সে জন্যই বাধার সৃষ্টি করছে সরকার। এদিকে পরিবহন মালিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা নিজেরাই যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। বগুড়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, রোববার সকাল থেকেই বগুড়ার ওপর দিয়ে সকল ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা অভিমুখে কোন গাড়ি ছাড়েনি। বরিশাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সহিংসতার আশঙ্কায় বাস ও লঞ্চমালিক সমিতির নেতারা ঢাকামুখী সকল পরিবহন বন্ধ রেখেছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সংবাদ পাওয়া গেছে।
ঢাকামুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
বিএনপির কালকের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আজ রোববার থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিএনপির সমাবেশে যাতে কেউ যোগ দিতে না পারেন সে জন্যই এ ধরনের ব্যবস্থ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তবে পরিবহণ মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকার বা কোনো পক্ষ থেকে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তাঁরা নিজেরাই নাশকতার আশঙ্কায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।প্রথম আলোর বগুড়া প্রতিনিধি আনোয়ার পারভেজ জানান, আজ সকাল ১০টা থেকেই বগুড়ার ওপর দিয়ে কোনো ধরনের দূরপাল্লার যান চলাচল করছে না। ফলে ঢাকামুখী মোট ১১টি জেলার দূরপাল্লার বাস বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। যাঁদের টিকেট কাটা ছিল টিকেট কাউন্টার থেকে তাঁদেরকে মঙ্গলবারের পরে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। বগুড়া মটরমালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।প্রথম আলোর বরিশাল প্রতিনিধি সাইফুর রহমান জানান, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বাস ও অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে আজ দুপুর ২টা থেকে।জেলার সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলার মহানগর শ্রমিক লীগের আহবায়ক আফতাব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এর মধ্যেই যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। (ছবি:১ রাজশাহীতে হঠাত্ সকাল থেকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ছবিটি আজ সকালে একটি বাসের কাউন্টারের সামনে থেকে তোলা। ছবি: শহীদুল ইসলাম ছবি:২ রাজশাহীতে হঠাত্ সকাল থেকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ছবিটি সকাল ১১টায় শ্যামলী পরিবহনের বাসের কাউন্টারের সামনে থেকে তোলা। ছবি: শহীদুল ইসলাম)বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, যানবাহন চলাচল বন্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কার কথা বাস ও লঞ্চমালিক সমিতির প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর তাঁরা নিজেরাই বন্ধ করে দিচ্ছেন।লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং সুন্দরবন লঞ্চের মালিক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। রাতে লঞ্চ ছাড়ে। তাই পরে কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রথম আলোর সিলেট প্রতিনিধি সুমন কুমার দাস জানিয়েছেন, সে অর্থে এখন পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আসেনি বা চলচল বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে পরিবহণের সংখ্যা সকাল ১১টার পর থেকে কিছুটা কমে গেছে।

গুলশান কার্যালয়েই রাত কাটালেন খালেদা, ফখরুলের বাসায় পুলিশ, ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা, ২০ দলে বি চৌধুরী

পুলিশি বাধায় গুলশান কার্যালয়েই রাত কাটালেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এখান থেকেই তিনি আন্দোলনের পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে রয়েছেন মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খালেদা জিয়া বাসা থেকে নিজ কার্যালয়ে আসেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কার্যালয়ে থেকে বের হওয়ার পথে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে তিনি কার্যালয়েই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা জানান, রাত পৌনে দুইটার দিকে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা থেকে তার গৃহকর্মী বেশ কিছু ব্যবহারের ব্যক্তিগত কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ গুলশান কার্যালয়ে আসেন। এ সময় একটি ছোট সাইজের ট্রাকে করেও কিছু সরঞ্জাম আনা হয়। শনিবার রাত থেকে কার্যালয়ে খালেদার সঙ্গে আছেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাবেক সংসদস সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহেনা আক্তরা রানু, রাশেদা বেগম হিরা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সুলতানা ইয়াসমি প্রমুখ।
ফখরুলের বাসায় পুলিশ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসার সামনেও অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রাতে রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কের ২৩ নম্বর বাড়ি তল্লাশি করেছে পুলিশ। তবে সে সময় বাসায় ছিলেন না ফখরুল। রোববার ভোর রাত ৩টার দিকে তার বাসার সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ সদস্যরা তার বাসায় ঢুকে আধা ঘণ্টা ব্যাপী তল্লাশি চালায়। এরপর থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি গাড়ি ফখরুলের বাসার কাছে অবস্থান করছে। তবে শুক্রবার থেকেই ফখরুল বাসার বাইরে আছেন। এদিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে তার পথ আটকায় পুলিশ। কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আড়াআড়ি করে একটি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, যা সরানো হয়েছে সকাল ৬টার দিকে। রাত থেকে গুলশানের কার্যালয়েই অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
ঢাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা
৫ই জানুয়ারি দুই জোটের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে সামনে রেখে ঢাকায় সব ধরণের সভা-সমাবেশ ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আজ দুপুরে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার বিকাল পাঁচটা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেয়ার আগ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গণতন্ত্রের কালো দিবস হিসেবে বিএনপি এবং গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে আওয়ামী লীগ এদিন ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেয়ায় গত দুই দিন ধরে উত্তেজনা চলছে। দুই জোটই রাজপথে নামার ঘোষণা দেয়। গতকাল রাতে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত রুহুল কবির রিজভীকে আটক করে পুলিশ। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার কার্যালয় থেকে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে রিজভীকে দেখতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও আটকে দেয় পুলিশ। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনের রাস্তা পুলিশের গাড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়। এরপর থেকে খালেদা জিয়া ওই কার্যালয়েই অবস্থান করছেন। কার্যালয়ের বাইরে পুলিশের কড়া পাহারা রয়েছে।
এখন থেকে ২০ দলক পুরোদমে সমর্থন করবেন বি চৌধুরী
বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে গুলশান কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে পড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এ সময় তিনি সাংবাদিকেদের বলেন, আগে ২০ দলকে সমর্থন না করলেও এখন থেকে পুরোদমে সমর্থন করবেন। খালেদার সঙ্গে দেখা করতে রোববার বেলা ১২টার দিকে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী। তাকে পুলিশ কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএনপির সাবেক এই নেতা বলেন, “আমি একজন সিনিয়র সিটিজেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি। আমাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। পুলিশের এহেন আচরণ এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সঙ্কেত বলে আমি মনে করি।” বিএনপির ৫ জানুয়ারির কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে তা সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বি চৌধুরী। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকা ছেড়ে যান সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া

অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার গুলশান কার্যালয় ঘিরে রেখেছে অসংখ্য পুলিশ। কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দুই ধারে পুলিশ ভ্যান রেখে রাস্তা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়া দিয়েছে। কার্যালয় থেকে একবার বের হতে গিয়েও তিনি আবার ভেতরে ঢুকেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসায় যেতে চাইলে পুলিশ তাকে যেতে দিবে।তবে ৫ জানুয়ারি তিনি বের হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভবত বিষয়টি নেতিবাচক। হয়তো পুলিশ তাকে পূর্বঘোষিত ঘোষণা অনুযায়ী বাসা থেকে বের হতে দিবে না। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত আটটার দিকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান খালেদা জিয়া। অন্যান্য সময়ের মতো কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা সেখানে যান।কয়েকজন মহিলা নেত্রীরাও সেখানে যান। পরে সেখানে প্রথমে অল্প কিছু পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এরমধ্যে খালেদা জিয়া একবার কার্যালয় থেকে বের হয়ে অসুস্থ  নেতা রিজভী আহমেদকে দেখার জন্য বের হতে চাইলে  পুলিশ দাকে বাধা দেয়।  তিনি গাড়িতে আধঘণ্টা বসে থাকেন। পরে তিনি আবার অফিসে চলে যান। রাত একটার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের কাছে গোটা বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার পাগল হয়ে গেছে। যা ইচ্ছা তাই করছে। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন ৫ জানয়ারির কমসূচি পালন করা হবেই। এদিকে গুলশান অফিসে কেন এতো পুলিশ মোতায়েন জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে আগামী ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে দশম সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস' আখ্যা দিয়ে সমাবেশ করার কথা বলে বিএনপি। সমাবেশের জন্য গত ২২ ডিসেম্বর ডিএমপির কাছে অনুমতি চায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে অনুমতি না পেলেও যেকোনো মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৫জানুয়ারি বিএনপির সমাবেশ প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। জানুয়ারি বিএনপিকে মাঠে না নামার জন্য হুঁশিয়ার দিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, “দয়া করে ৫ জানুয়ারি মাঠে নামার চেষ্টা করবেন না, সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।” আর সড়ক পরিবহন  সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াওকারীদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। তাদেরকে এখনি রুখতে হবে। আন্দোলনের নামে নাশকতা হলে জনগণের জানমাল রক্ষায় সরকার এর কঠিন জবাব দেবে। একই অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম বলেন, “তারেক বিদেশে বসে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে কটূক্তি করেছে এর জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা এবং আত্মসমর্পণ না করলে দেশের এক ইঞ্চি মাটিতেও খালেদাকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।" রাজনৈতিব অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে, খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি পর্যনন্ত অবরুদ্ধ থাকতে হতে পারে। সরকার হয়তো তাকে বাসায় আটকে রাখবে।   ২০১৪’র ৫ জানুয়ারি ঘটেছিল টানা দুই মাস আন্দোলনের পর ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে করেছিলেন বিরোধী জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২৯ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের অভিযাত্রা ‘মার্চ ফর  ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি। পরদিন থেকেই খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশি কড়াকড়ি বাড়ানো হয়। ২৬ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান খালেদা জিয়া। ওই রাতে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দলটি বেরিয়ে যাওয়ার পর একঘণ্টা একাকী কার্যালয়ে কাটিয়ে রাত ১২টায় বাসায়  ফেরেন তিনি। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’কে কেন্দ্র করে ২৬ ডিসেম্বর থেকেই নয়াপল্টনের দু’টি প্রবেশমুখেই কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেয়া হয়। ২৭ ডিসেম্বর রাত ৮টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়ি ‘ফিরোজা’র সামনের রাস্তার দুদিকে দুটি বালুর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। বাসার সামনে কয়েক স্তরে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। খালেদা জিয়ার পুলিশ প্রটোকল প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। ওই সময় বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটকে দেন। এরপর থেকেই কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েন সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, যথসময়েই নয়াপল্টনের মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে উপস্থিত হবেন খালেদা জিয়া। রাত সোয়া ১০টায় ৬ সাংবাদিক নেতা খালেদা জিয়ার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওইদিন রাতে আরও ৩টি বালুর ট্রাক খালেদা জিয়ার বাসার সামনের রাস্তার দুইপাশে আড়াআড়িভাবে রাখা হয়। মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ঠেকাতে রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন জেলায় চৌকি বসায় পুলিশ। পাশাপাশি বিভিন্ন স্টেশনে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয় সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকরা। ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’কে কেন্দ্র করে  রাজধানীতে সারা দেশে উত্তেচনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত প্রতিটি গলিরমুখ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়া হয়। কয়েক স্তরে পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ভ্যান, এপিসি ও জলকামানের টহল দেয়া হয়। সকাল থেকেই নয়াপল্টনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন খালেদা জিয়া।  বেলা ২টা ৫৩ মিনিটে তিনি বাসা থেকে নিচে নামেন নয়াপল্টনে যাওয়ার জন্য। কিন্তু পুলিশ বাসা থেকে তার গাড়ি বের করতে দেয়নি। গাড়িতে বসে অপেক্ষার পর তিনি নেমে পতাকা হাতে বাসা থেকে বের হতে চান। এতেও বাধা দেয় পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নয়াপল্টনে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ওইসময় দেয়াল টপকে সাংবাদিকরা বাসায় প্রবেশ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ ঝাড়েন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন। এই রক্তের গঙ্গার ওপর দিয়ে তিনি তার নৌকায় চড়ে ক্ষমতায় বসবেন। এই আশা দুরাশা। সেটা ভুলে যেতে বলেন। দেখবো কতদিন আটকে রাখতে পারেন। কর্মসূচি চলবে যতদিন এ রকম করা হয়। ওদিকে রাজধানীর মালিবাগ, প্রেস ক্লাব, সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলীয় লোকজনের সঙ্গে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে মালিবাগে পুলিশের গুলিতে এক শিবির কর্মী মারা যান। সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে ৩০ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে সড়ক, রেলপথ ও নৌপথে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ। প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে চত্বরে যুব মহিলা লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে দুপুরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে  বিএনপির তিন মহিলা নেত্রী সেলিমা রহমান, রাশেদা বেগম হীরা এমপি ও সাবেক এমপি নেওয়াজ হালিমা আলিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়া হয় তাদের।  বিকাল পৌনে ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহউদ্দিন আহমেদ খালেদা জিয়ার বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। রাতে বারিধারার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১ জানুয়ারি থেকে ফের অবরোধের  ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরদিন দুপুরেই মাহবুব হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৩১ ডিসেম্বর অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। এসময় সঙ্কট সমাধানে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খোঁজা উচিত মন্তব্য করে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ১ জানুয়ারি নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান অভিযোগ করেন, বিরোধী নেতা ও  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। রাতেই সেলিমা রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২ জানুয়ারি গুলশানের নিজ বাসায় অবরোধের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।  ৩ জানুয়ারি তৎকালীন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তারা বিএনপি চেয়ারপারসন গ্রেফতার না গৃহবন্দি তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।   ৩ জানুয়ারি অবরোধের তৃতীয় দিন দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দুইজন নিহত  ও শতাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।  সন্ধ্যায় গুলশানের বাসায় অবরোধের মধ্যেই ৪ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ ঘণ্টা সর্বাত্মক হরতালের ঘোষণা দেন ড. ওসমান ফারুক। এসময় ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন বন্ধের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানান তিনি। এদিকে রাতে এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।  রাত সাড়ে ৮টায় পুলিশি বাধার কারণে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি নিউ ইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো চিফ এলেন ব্যারি। ৪ জানুয়ারি বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে যাওয়ার চেষ্টা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম  কোর্ট ও হাইকোর্টের জাতীয়তাবাদীপন্থি আইনজীবীরা। কিন্তু পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। সন্ধ্যার পর বিরোধী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনের সামনে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও সাবেক সচিব আসাফ্-উদ্দৌলাহ্। তাদেরকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। নির্বাচনের পরদিন ৬ জানুয়ারি রাতে বালুর ট্রাকের পাশাপাশি ব্যারিকেড দিয়ে রাখা জলকামানটি সরিয়ে নেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়িও শিথিল করা হয়। এরপর ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় সরিয়ে নেয়া হয় সেখানে মোতায়েন করা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। বাসার সরকারি প্রটোকল সরিয়ে নেয়ার পর নিয়মিত কিছু নিরাপত্তা কর্মী তার বাসভবনের নিরাপত্তা দেখভাল করেন। দীর্ঘ ১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ১১ জানুয়ারি গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত আলোয় আসেন খালেদা জিয়া। ওইদিন রাতে বাসভবন থেকে দলীয় কার্যালয়ে আসেন তিনি। সাক্ষাৎ করেন দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে।

খালেদা অবরুদ্ধ নন -ডিএমপি, ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা, আটক ১০

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়নি বলে দাবি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এছাড়া পুলিশের দাবি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আটক করা হয়নি, তাকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গেছে চিকিৎসার জন্য। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
মনিরুল বলেন, “খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে শুধু তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। শুধু খালেদা জিয়া নয়, বিএনপির কোনো নেতাকেই অবরুদ্ধ করা হয়নি।”
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজবীকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, “রিজভীকে আটক করা হয়নি। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানে কোনো অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। এ অবস্থা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
৫ তারিখে যেকোনো ধরনের সংহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান মনিরুল।
ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগ
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আগামীকালের মুখোমুখি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক সমিতি। নাশকতার আশঙ্কায় রোববার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বলে জানান মালিকরা।   বিভিন্ন জেলা শহর থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকে আগে থেকে টিকিট কেটে রাখলেও সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস চলাচল বন্ধ দেখে দুর্ভোগে পড়েন। এজন্য সাধারণ যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। আমাদের রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী থেকে ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় রোববার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস মালিকরা। রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর রহমান পিটার জানান, ভোরে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে দুই থেকে তিনটি বাস ছেড়ে যায়। এরপরেই বাস মালিকরা সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো চলাচল বন্ধ করে দেয়ার। রাস্তায় নাশকতা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় বাস মালিকরা এ সিদ্ধান্ত নেয়। রংপুর ব্যুরো জানায়, ৫ জানুয়ারি বিএনপির ঢাকায় কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশকে ঘিরে দেশজুড়ে নাকশকতা হতে পারে এ আশঙ্কায় রংপুরে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মোটর বাস মালিক সমিতি। শনিবার রাত ১২টার পর থেকে অঘোষিতভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে চরম বিপাকে পড়েছে ঢাকাগামী যাত্রীরা। এব্যাপারে জেলা মোটর বাস মালিক সমিতির কোনো নেতা মুখ খুলতে রাজি হননি। আমাদের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ৫ জানুয়ারি সোমবার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মুখোমুখি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী থেকে দূরপাল্লার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রোববার সকাল ৭টা থেকে জেলার বাসস্টান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। হঠাৎ করে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস চলচল বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা
প্রায় আধা ঘণ্টা তল্লাশি শেষে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে কার্যালয়ে ঢুকে পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। রাত পৌনে ১টার দিকে কার্যালয়ে থাকা আটজনকে বের করে তালা দিয়ে পুলিশ চাবি নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে কার্যালয়ে থাকা কর্মচারীরা। এর আগে রাত ১২টার দিকে কার্যালয়ের তৃতীয় তলা থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা। তারা বলেছেন, চিকিৎসার জন্য অসুস্থ রিজভীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আসতে গেলে তার পথ আটকায় পুলিশ। কার্যালয়ের ফটকের সামনে একটি ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। এর ১৫ মিনিট পর খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য ব্যারিকেড সরাতে বললে তা না হওয়ায় কিছুক্ষণ গাড়িতে অপেক্ষা করে আবার কার্যালয়ে ফিরে যান। রাতে সেখানেই অবস্থান করেন তিনি।
খালেদার কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, আটক ১০
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি মিছিল লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের হালকা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কমপক্ষে ১০ জনকে আটক করেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি মিছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ প্রথমে তাদের গতিরোধ করে, পরে লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম জানা যায়নি।   এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে কোনো নেতাকর্মীকে ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীও পুলিশি বাধার মুখে ফিরে আসেন।

গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া

৫ই জানুয়ারির সমাবেশকে ঘিরে অনঢ় অবস্থানের মধ্যেই গতরাতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। তার গুলশানের বাসার সামনেও পাথরের ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে রাখার পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন করা হয় পোষাকধারী ও সাদা পোষাকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। ওদিকে রাত ১২টার সময় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অসুস্থ অবস্থায় ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে। পরে তাকে আটক অবস্থায় রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত ১০টার দিকে তিনি সংবাদ পান দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাতে হঠাৎ পেটে ব্যাথা অনুভব করেন রিজভী আহমেদ। এর পর বমি করতে থাকলে খালেদা জিয়া কার্যালয়ে থেকেই তার খোঁজ খবর নেয়ার পর তার নির্দেশে নয়াপল্টন কার্যালয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এ এস এম রায়হান নয়াপল্টন গিয়ে রিজভী আহমেদকে চিকিৎসা দেন। পরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের অধ্যাপক রায়হান বলেন, আপাাতত চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নয়াপল্টনে রিজভীকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ভ্যান দিয়ে দুইপাশে রাস্তা আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় নয়াপল্টন যাবার জন্য রাত পৌনে ১২টায় গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন তিনি। তবে গাড়ি স্টার্ট নিলেও তাকে কার্যালয় থেকে বের হতে গেলে বাধা দেয়া হয়। গাড়িতে আধঘণ্টা অপেক্ষার পর এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে তিনি কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। ওদিকে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয় থেকে রিজভীকে চিকিৎসা দিয়ে ডা. রায়হান বের হওয়ার পর মুহুর্তে রাত ১২টার সময় ডিবি পুলিশের একটি টিম বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকেন। তারা চিকিৎসার কথা বলে রিজভী আহমেদ বিছানা থেকে হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় তুলে নিয়ে যান। এ সময় রিজভী জিজ্ঞেসা করলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে নেয়ার কথা বলা হয়। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে এ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। এদিকে রাত সাড়ে ১২টার সময় পুলিশের একটি দল নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুলে সেখানে অবস্থানরত কর্মচারীদের বের করে গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। ওদিকে রাত দেড়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার অন্যান্য দিনের মতো কার্যালয়ে এসেছিলেন। রিজভী আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানার পর তিনি নয়াপল্টনে যাবার জন্য বের হয়ে গাড়িতে উঠেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তার কার্যালয়ের সামনে দুইপাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে আটকে দেয়। তিনি আধঘন্টা গাড়িতে অবস্থানের পর কার্যালয়ে ফিরে যান। শিমুল বিশ্বাস বলেন, খালেদা জিয়া বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর প্রতি চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ৫ই জানুয়ারি ঘোষিত জনসভা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করা হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার পাগলা হয়ে গেছে। যে কোন কিছুই হতে পারে। এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, অবরুদ্ধ হবার পর তিনি কার্যালয়ে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক কয়েকজন মহিলা এমপি রেহেনা আক্তার রানু, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, নিলুফার ইয়াসমিন মনি, রাশেদা বেগম হিরা, সুলতানা আহমেদ, মহিলা দল নেত্রী ফারজানা রহমান হুসনা ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীও অবস্থান করছেন। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত পুলিশের চৌদ্দটি টহল গাড়ি গুলশান কার্যালয় এলাকায় অবস্থান করে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনেও পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান রাখা হয়।

বাড়ছে উত্তেজনা, অজানা আতঙ্ক- প্রস্তুত জামায়াত, অপেক্ষা নির্দেশনার

ডেটলাইন ৫ জানুয়ারি। কী হবে আগামীকাল-সে প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। এখন পর্যন্ত দুই দলই মুখোমুখি অবস্থানে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। সাধারণ মানুষ ভুগছেন অজানা আতঙ্কে। সবার দৃষ্টি রাজধানী ঢাকার দিকে। ইতিমধ্যে ঢাকায় ঢোকার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ঢাকামুখী বিভিন্ন রুটের যানবাহন। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির মতো আগামীকালের কর্মসূচিতে যাওয়ার আগেই বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব অসুস্থ রুহুল কবির রিজভীকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় চালানো হচ্ছে তল্লাশি। গ্রেফতার এড়াতে নেতাকর্মীরা অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। জানা গেছে, নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকাগামী বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে বাস চলাচল বন্ধ করা হলেও কী কারণে বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা তারা জানাননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার আহ্বানে নেতাকর্মীরা যেন রাজধানীতে না আসতে পারেন সে কারণেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে সাবেক প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিনটাকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিনটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একই দিনে রাজধানীর ১৬টি স্থানে সমাবেশ করে দিনটি উদযাপন করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে।   বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাপলা চত্বর অথবা নয়াপল্টনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি দলটি। তবে, দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক জানান, অনুমতি না পেলেও আগামী ৫ জানুয়ারিতে মহাসমাবেশের করবে বিএনপি। অবশ্য  সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
প্রস্তুত জামায়াত, অপেক্ষা নির্দেশনার
৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে জোটের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রস্তুত জামায়াতে ইসলামী। দলটির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা এমন আভাস দিয়েছেন। জানা গেছে, জোটের নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছে, আন্দোলন সফল করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। গণতান্ত্রিক সব আন্দোলনই এখন থেকে জোটবদ্ধভাবে করা হবে। অতীতে জোটের আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা যেমন ছিল, আগামীতেও তা-ই হবে। এদিকে ৫ জানুয়ারির আন্দোলন সফল করার জন্য গতকাল শনিবার সারাদেশে প্রস্তুতি সভা করেছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির।  এসব সভা থেকে নেতাকর্মীদের কাছে চূড়ান্ত আন্দোলনের ম্যাসেজ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, শিবিরের কেন্দ্র থেকে ঢাকাসহ সারা সকল নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “এই আন্দোলন হলো বাংলাদেশের মুসলমানদের রক্ষার আন্দোলন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন। এজন্য কেউ বাড়িতে থাকবেন না। সময়মতো রাজপথে নেমে আসতে হবে।” মহানগর উত্তরের এক প্রস্তুতি সভায় জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরা সদস্য ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. রেজাউল করিম বলেছেন, “অবৈধ সরকারকে দীর্ঘ একটি বছর সময় দেয়া হয়েছে, আর নয়। ৫ জানুয়ারি এই জুলুমবাজ সরকারের কবর রচনা হবে।  ওই দিন ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে আসবে। রাজপথে ছাত্রসমাজকে নেতৃত্ব দেবে ইসলামী ছাত্রশিবির।” তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে ৫ জানুয়ারি সকলকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। জোট সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তখনই তিনি আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন।