Saturday, November 20, 2010

আলোচনা- 'প্রসঙ্গ : দুর্নীতি উৎপাটন' by মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

দেশকে উদ্ধার করাটা যে বর্তমানে একটি প্রধান কাজ, সুযোগ পেলেই সেকথা বলতে কেউ ভুল করে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কি উদ্দেশ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে।

সেটা কি আসলে দুর্নীতি নির্মূলের আন্তরিক ইচ্ছা থেকে, নাকি তা প্রধানত: দলবাজির চিন্তা থেকে? এ পক্ষের অভিযোগ যে, দেশকে তো 'ওরাই' দুর্নীতিতে ডুবিয়ে রেখে গেল। তাই আমাদের আমলে যা কিছু হচ্ছে তার সবটাই হলো 'ওদের' দুষ্কর্মের রেশ মাত্র। 'ওরা'ই হল দুর্নীতির পঙ্কে কলুষিত। আবার ওই পক্ষের বক্তব্যও অনুরূপ_দুর্নীতির জন্য যারা দায়ী তারা কেবলই অপরপক্ষ।

ইতিহাস- পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী পরিচিতি

চাকমা
পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসী চাকমা। পাহাড়ের অন্য আদিবাসীদের মতো তারাও মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। চাকমাদের উৎপত্তিকাল, আদি নিবাস ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাদের আগমন ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে ষোড়শ শতকের আগের কোনো সুস্পষ্ট ইতিহাস পাওয়া যায়নি।

তবে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকে নিশ্চিত বলা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমাদের বসবাসের নজির আছে। ১৫৬১ সালে এক ইওরোপিয়ানের আকা ছবি থেকে বাংলার যে মানচিত্র পাওয়া যায় সেখানেও চাকমাদের অবস্থানের প্রমাণ আছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে চাকমা রাজ্যের রাজধানী ছিল তৈন বা আলেখ্যাং ডং। সময়ের পরিক্রমায় চাকমা রাজতন্ত্রে নানা উত্থান-পতন ও বর্মা-মোগলদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে চাকমাদের আবাসস্থল এবং রাজ্য শঙ্খ নদীর তীরবর্তী হাঙ্গরকুল ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া হয়ে উত্তর-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে ব্যাপ্ত হয়।

প্রকৃতি- 'কোপেনহেগেনের বিক্ষোভ' by জোয়ান হ্যারি

কোপেনহেগেনে চলমান জলবায়ু সম্মেলন একনজরে আমার কাছে সালভাদর ডালির স্বপ্নের মতো। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পরনে ভিনগ্রহের কাল্পনিক প্রাণীর পোশাক।

আর হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল_'তোমাদের নেতার কাছে আমাদের নিয়ে যাও। তোমরা কি আমাদের কথা গুরুত্ব দিচ্ছ না?' এর আগে কালো বর্ণের একদল তরুণ স্প্রে ক্যান নিয়ে বিক্ষোভ করছিল। পরে তারা হিসাব-নিকাশ করে জানাল, কী পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পৃথিবীর জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না। এরপর আমার চোখে পড়ল, গরুর আকৃতির পোশাক পরা দুই ব্যক্তি। ঢিল ছোড়ার মতো করে 'গরুর খুর ছোড়া'র অভিযোগে পুলিশ তাদের তাড়া করল।

আলোচনা- 'আদিবাসীদের সম্পৃক্ত করা দরকার' by ইলিরা দেওয়ান

প্রস্তাবিত শিক্ষানীতিতে অনেক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে দেশের সব ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিশুদের জন্য নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের কথা বলা রয়েছে।

এ ছাড়া আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ, আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসনব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। এমনকি পাঠ্যসূচি তৈরিতে আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসব প্রয়োজনীয়তার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার ফলে বাংলাদেশের অনেক মানুষ আদিবাসীদের সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব লালন করে, যা আদিবাসীদের জন্য অসম্মানজনকও বটে। আমরা আশা করছি, এ শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি সঠিকভাবে উপস্থাপন করে জনগণের মধ্যে আদিবাসী-সম্পর্কিত জ্ঞানের দীর্ঘদিনের বন্ধ্যত্ব দূর করা সম্ভব হবে।

আলোচনা- 'ভুরকি গ্রামের স্ব্বপ্না বিবি থেকে রুশনারা আলী' by ইফতেখার মাহমুদ

ডাকনাম স্বপ্না। ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ভুরকি গ্রামে জন্ম। গ্রামের মানুষ ও স্বজনেরা ডাকতেন স্বপ্না বিবি নামে। বাবার দেওয়া নাম রুশনারা আলী।

ভুরকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা। বাবা আফতাব আলী থাকতেন লন্ডনে। সেই সূত্রে ১৯৮২ সালে রুশনারারা সবাই মিলে পাড়ি দেন বিলাতে।
হ্যাঁ, বাঙালি মেয়ে হয়ে ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হওয়া প্রথম এশিয়ান নারীসদস্য রুশনারা আলীর কথা বলছি। বিবিসি ও গার্ডিয়ান পত্রিকা যাঁকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ব্রিটেনের আগামী দিনের তরুণ তুর্কি। লেবার পার্টির পরবর্তী নেতৃত্ব। এরই মধ্যে নিজ দলের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর ভূমিকা পালন করছেন।’

রাজনৈতিক আলোচনা- 'সংবিধান সংশোধন, যুদ্ধাপরাধের বিচার' by শ্যামল সরকার

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার  তাদের পাঁচ বছরের শাসন আমলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একটি সংবিধান সংশোধন, অপরটি যুদ্ধাপরাধের বিচার। সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পাঁচ দফায় বলা আছে, ‘রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিষিদ্ধ করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’ প্রকৃতপক্ষে এই ব্যবস্থা ১৯৭২ সালের সংবিধানে থাকলেও ১৯৭৮ সালের সামরিক ফরমানবলে সংশোধিত সংবিধানে এ সুযোগ রহিত করা হয়।

প্রকৃতি- 'জলবায়ু পরিবর্তন : অদ্ভুত আঁধার এক' by আজাদুর রহমান চন্দন

পৃথিবীর বয়স ৪৬০ কোটি বছরের মতো। স্বাভাবিক নিয়মে পৃথিবীর আরো ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি বছর টিকে থাকার কথা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই সময় সূর্য তার সব হাইড্রোজেন জ্বালানি নিঃশেষ করে ফেলে প্রসারিত হবে এবং পৃথিবীসহ তার চারপাশের সব গ্রহকে

ভস্মীভূত করে দেবে। অন্যদিকে মানুষের তৈরি পরমাণু অস্ত্র যে কোনো সময় ধ্বংস করে দিতে পারে পৃথিবীকে। এই দুই চরম পরিণতির সুতোয় ঝুলছে পৃথিবীর আয়ু।
এ পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। একেবারে নিখুঁত হিসাব পাওয়া না গেলেও ধরে নেয়া হয়, ইতিহাসটা ৩০-৪০ লাখ বছরের। ১৮০০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে লোকসংখ্যা ছিল ১০০ কোটির মতো।

প্রকৃতি- 'বাঘ রক্ষার বিশ্বসভা রাশিয়ায়' by ইফতেখার মাহমুদ

‘ও আমি বাঘ শিকার যামু, বন্দুক লইয়া রেডি হইলাম আমি আর মামু’। নির্মমতা থাকলেও গানটি বাঙালির বেশ পছন্দের। বাঘ শিকারকে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা

হচ্ছে সুদূর অতীতকাল থেকে। এই মানসিকতা দুনিয়াজুড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় বাঘ শিকার এখন বড় ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রকৃতি ও প্রাণী সংরক্ষণবিদেরা বলছেন, নির্মমতা আর লোভ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই প্রাণীকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। বাঘ এখন বিলুপ্তির পথে।

শিল্প-অর্থনীতি 'অবকাঠামোর উন্নয়নে পেছনের সারিতে বাংলাদেশ' by হানিফ মাহমুদ

দুর্বল অবকাঠামো বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় প্রতিবন্ধকতা হলেও বর্তমান সরকার এ প্রতিবন্ধকতা অপসারণে এখনো তেমন কোনো চমক দেখাতে পারেনি।

ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। বিশ্বে ক্রমেই দুর্বল অবকাঠামোর দেশ হিসেবে এ দেশের ভাবমূর্তি গড়ে উঠছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকেই আশা করেছিল, অবকাঠামো-দারিদ্র্য হয়তো দ্রুত ঘুচে যাবে এবং অনেক বড় উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরেও চট্টগ্রাম নিউমুরিং টার্মিনাল পূর্ণভাবে চালু করতে পারেনি সরকার।

প্রবন্ধ- 'সাবধান থেকো তাদের থেকে...' by বদিউল আলম মজুমদার

দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শন এবং পাঠকদের মধ্যে তা জাগ্রত করার ব্রত নিয়ে ৪ নভেম্বর প্রথম আলো তার দ্বাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করল।

এ উপলক্ষে প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনের শিরোনাম ছিল: ‘এই দেশকে (মাকে) দিয়ে কিচ্ছু হবে না।’ এই ধাক্কা দেওয়া শিরোনামের উদ্দেশ্য ছিল পাঠকদের মধ্যে দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসার তাগিদ সৃষ্টি করা। নিঃসন্দেহে শিরোনামটি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে এটি তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জন্মলগ্নেই বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সেই কুখ্যাত উক্তি।

আলোচনা- 'ক্ষুধা-দারিদ্র্য-অশিক্ষা-অপুষ্টি ও নির্যাতনের শৃঙ্খলে বন্দি শিশুরা' by শুভ রহমান

দেশে শতাধিক শিশু জেলে রয়েছে। আদালত তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় দৈনিকগুলোয় এ খবর দেওয়া হয়েছে। খবরটা অনেককে নিশ্চয়ই হকচকিয়ে দেবে। এত শিশু জেলে! শিশুরা জেলে কেন!

ভিক্টর হুগোর, লা মিজারেবল-এ জাঁ ভালজাঁর কিশোর বয়স থেকে অপরাধ করে বারবার জেল খাটার, সামাজিক বৈষম্য, বিধিনিষেধ ভাঙার ভাগ্যবিড়ম্বনার মর্মস্পর্শী কাহিনী বিধৃত হয়েছে। সেটা ছিল ৪০০ বছর আগেকার ফরাসি সমাজ। কিন্তু আজও পৃথিবীর দেশে দেশে অমন ক্ষুধা-দারিদ্র্য, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক নির্যাতনের অসহায় শিকার হওয়া শিশু-কিশোরদের জীবন শুধু অকালেই ঝরে যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, আশ্রয়, স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা, মানুষের মতো বাঁচার অধিকার-বঞ্চিত অগণিত শিশু আমাদের সমাজেও যুগ যুগ ধরে গুমরে মরছে।