Thursday, October 29, 2026
আদিম মানুষের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার by জাহিদ হোসাইন খান
নেচার কমিউনিকেশনস অ্যান্ড প্যালিওএনথ্রোপলজি সাময়িকীতে নতুন প্রজাতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, জুলুয়েনসিস অর্থ বড় মাথা। পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ৩ লাখ থেকে ৫০ হাজার বছর আগে জুলুয়েনসিস প্রজাতির মানুষের বসবাস ছিল। গবেষকেরা মনে করেন, এই প্রজাতি হিমশীতল ঠান্ডায় বেঁচে থাকার জন্য বন্য ঘোড়া, পাথরের তৈরি হাতিয়ার ও প্রক্রিয়াজাত পশুর চামড়া ব্যবহার করত।
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিদ ক্রিস্টোফার জে বে বলেন, ‘জীবাশ্ম বিশ্লেষণের সময় সম্ভাব্য নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছি আমরা। এই প্রকল্প বেশ কয়েক বছর আগে শুরু করা হলেও নতুন হোমিনিন বা মানুষের কোনো পূর্বপুরুষ প্রজাতির খোঁজ পাব, তা আমরা আশা করিনি। আমরা এশিয়া থেকে পাওয়া হোমিনিন জীবাশ্মকে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে সংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছি। এই গবেষণা হোমিনিন প্রজাতির ফসিল রেকর্ডকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। হোমো ইরেকটাস, হোমো নিয়ানডারথালেনসিস বা হোমো স্যাপিয়েন্সের বাইরে এই প্রজাতির অবস্থান।’
২০১০ সালে সাইবেরিয়ায় একটি অল্পবয়সী কিশোরীর আঙুলের হাড় পাওয়া যায়। সেখান থেকে ডিএনএর মাধ্যমে শনাক্ত করা তথ্য বলছে, সেই নমুনা নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতির অন্তর্গত হতে পারে।
সূত্র: পপুলার মেকানিকস
![]() |
| আদিম মানুষের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন নৃতত্ত্ববিদেরা। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Saturday, July 11, 2026
পৃথিবী থেকে ১৮ আলোকবর্ষ দূরে সুপার-আর্থের খোঁজ by জাহিদ হোসাইন খান
নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটি তার নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চল থেকে প্রদক্ষিণ করছে। এই অঞ্চলের তাপমাত্রার কারণে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা বেশ। গ্রহটিতে জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। এই নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটি মিল্কিওয়ে ছায়াপথের একটি নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এটি পাথুরে বলে মনে করা হচ্ছে। আকারে পৃথিবীর সমান হলেও ওজনে পৃথিবীর চেয়ে বহু গুণ বেশি। গ্রহের বিভিন্ন তথ্য দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ইউসি আরভিনের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী পল রবার্টসনের বলেন, আজকাল নতুন বহির্গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করা সাধারণ হয়ে গেছে। নতুন এই গ্রহকে বিশেষ বলা যায়। এর নক্ষত্রটি আমাদের খুব কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় ১৮ আলোকবর্ষ দূরে। মহাজাগতিক পরিভাষায়, এই দূরত্বকে প্রায় আমাদের প্রতিবেশে থাকার মতো বলা যায়।
জিজে ২৫১ সি নামের এই গ্রহ একটি এম-বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্র মিল্কিওয়েতে সবচেয়ে সাধারণ ও প্রাচীন নক্ষত্রের মধ্যে অন্যতম। এই সব নক্ষত্রের মধ্যে তারার মতো দাগ ও সৌরশিখার মতো তীব্র কার্যকলাপ দেখা যায়। এমন সংকেত দেখে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রহ খোঁজার চেষ্টা করেন। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, নতুন গ্রহটি স্বল্প দূরত্বের কারণে বেশ আকর্ষণীয়। ভবিষ্যতে সরাসরি চিত্রগ্রহণের সুযোগ রয়েছে গ্রহটির। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার থার্টি মিটার টেলিস্কোপের মতো শক্তিশালী টেলিস্কোপ এমন ক্ষীণ বহির্গ্রহের স্পষ্ট ছবি তুলতে ও পানির সম্ভাব্য উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানী কোরি বেয়ার্ড বলেন, নতুন গ্রহটির মতো গ্রহের সরাসরি ছবি তোলার ক্ষমতা রয়েছে অনেক টেলিস্কোপের।
এই বহির্গ্রহ আবিষ্কার করতে হাবিটেবল-জোন প্ল্যানেট ফাইন্ডার থেকে পাওয়া ডেটা ব্যবহার করা হয়। এই সব যন্ত্র কাছাকাছি গ্রহ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় টানের কারণে নক্ষত্রের আলোতে খুব সামান্য পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। যখন গ্রহটি তার নক্ষত্রের ওপর মহাকর্ষীয় বল প্রয়োগ করে, তখন নক্ষত্রের আলোতে ক্ষুদ্র ও নিয়মিত তারতম্য দৃশ্যমান হয়। এই দুর্বল সংকেত রেকর্ড করে গ্রহটিকে চিহ্নিত করা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
![]() |
| নতুন সুপার-আর্থ গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা |
Friday, June 12, 2026
সাগরতলে তিমির ৫০ লাখ বছরের পুরোনো সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার, কী কী আছে এতে
গত বুধবার নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত তিমির সমাধিক্ষেত্রগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে গভীর ও প্রাচীন। এখানে পাওয়া কিছু জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৫৩ লাখ বছর।
ছোট একটি ডুবোযান দিয়ে গবেষণা চালিয়ে চীনের গবেষকেরা তিমির দেহাবশেষের ওপর বসবাসকারী নানা ধরনের অদ্ভুত প্রাণী দেখতে পান। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব প্রাণীর অনেকগুলোই নতুন প্রজাতির। তারা তিমির দেহাবশেষকে খাদ্য ও আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে গভীর সমুদ্রে টিকে আছে।
ভারত মহাসাগরের তলদেশে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম পাশে বিজ্ঞানীরা প্রায় ৫০০টি তিমির কঙ্কাল খুঁজে পেয়েছেন। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে এলাকাটি বিস্তৃত। সাগরে তলদেশে কিছু জায়গা ৭ হাজার মিটার পর্যন্ত গভীর।
এই কঙ্কালগুলোর মধ্যে একটি অজানা প্রজাতির তিমিও শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখন সে প্রজাতিটিও বিলুপ্ত।
গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস–এর বিজ্ঞানী শিয়াওতং পেং বলেন, এই আবিষ্কারের বিশালতা বুঝে গবেষকেরা ‘অবাক’ হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, তিমির এমন বড় পরিসরের সমাধিক্ষেত্র, এর গভীরতা এবং বয়স—সবকিছুই তাঁদের ধারণার বাইরে ছিল।
বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন, তিমি মারা গেলে তাদের দেহ সমুদ্রের তলায় ডুবে যায়। এই ডুবে যাওয়া দেহকে ‘হোয়েল ফল’ বলা হয়। এ দেহ গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর খাবারের উৎস হয়।
তবে পেং বলেন, ‘তিমির এত বড় একটি সমাধিক্ষেত্র পাওয়াটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। এর বিস্তার, গভীরতা ও বয়সের পরিসর আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।’
গবেষকদের মতে, এই এলাকায় এত বেশি তিমি মারা যাওয়ার কারণ হতে পারে এটি তিমিদের খাবার খোঁজার একটি প্রিয় অঞ্চল। পাশাপাশি, এখানে থাকা ‘ভি’ আকৃতির গভীর খাদ মৃতদেহগুলোকে সমুদ্রের তলায় জমা হতে সাহায্য করেছে।
‘অত্যন্ত অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা’
চীনা গবেষকেরা ২০২৩ সালে ফেনদৌঝে নামের একটি ডুবোযান দিয়ে এই গবেষণা শুরু করেন। এই ডুবোযানটি একসঙ্গে তিনজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে ৩২টি ডাইভ দেয়। পরে তাদের পাওয়া তথ্য নেচার সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞানীরা ডুবোযানের রোবোটিক হাত ব্যবহার করে সমুদ্রতল থেকে বিভিন্ন কঙ্কাল ও নমুনা সংগ্রহ করেন।
গবেষক ঝৌ বলেন, তিমির এই ‘সমাধিক্ষেত্র’ নিজের চোখে দেখাটা ছিল এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, সেখানে যে জীবন্ত ও বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র দেখা গেছে, তা অন্ধকার ও ঠান্ডা সমুদ্রতল সম্পর্কে তাঁদের ধারণাই বদলে দিয়েছে। সেখানে জেলিফিশ, কৃমি, শামুক, ক্রাস্টেশিয়ান, ব্রিটল স্টার এবং বাইভালভ নামের মলাস্কসহ নানা প্রাণী এই মৃত তিমির দেহের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ‘ডায়মেন্টিনা জোন’ নামে চিহ্নিত এ অঞ্চলটিতে এক কোটির বেশি তিমির মৃতদেহ থাকতে পারে। বেশির ভাগই ছিল ‘বেকড হোয়েল’।
এই বিশালসংখ্যক মৃতদেহে থাকা চর্বি ও জৈব পদার্থ মিলিয়ে প্রায় ৬৭ লাখ টন কার্বন সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইবেরীয় উপদ্বীপ এবং ক্রোজেট দ্বীপপুঞ্জের কাছেও এমন আরও সমাধিক্ষেত্র থাকতে পারে।
‘আরও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যাবে’
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো তিমির মৃতদেহ ঘিরে তৈরি হওয়া বাস্তুতন্ত্র (হোয়েল ফল) আবিষ্কার করেছিলেন। নতুন এই গবেষণায় তিনি যুক্ত ছিলেন না। তবে তিনি এ আবিষ্কারকে ‘অত্যন্ত রোমাঞ্চকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং তিমির মৃতদেহ–সংক্রান্ত গবেষক অ্যামি বাকো-টেলর বলেন, এই ‘অসাধারণ আবিষ্কার’ থেকে সম্ভবত অনেক নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।
তবে টেলর মনে করেন, এত বেশিসংখ্যক তিমির ওই এলাকায় মারা যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত। তিনি বলেন, ‘তিমির চেতনা বা আচরণ সম্পর্কে আমরা এখনো যথেষ্ট জানি না।’
যুক্তরাষ্ট্রের জীবাশ্মবিদ স্টিফেন গডফ্রে অতীতের বড় সামুদ্রিক আবিষ্কারের সঙ্গে এই ‘অনন্য আবিষ্কার’-এর তুলনা করেছেন। যেমন ১৯৭৭ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সমুদ্রের তলদেশে প্রাণে ভরপুর হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট আবিষ্কার করেছিলেন।
গডফ্রে ভবিষ্যতে আরও ডুবোযান অভিযান চালিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন তিমির সমাধিক্ষেত্র খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট একটি প্রবন্ধে গডফ্রে লিখেছেন, এই আবিষ্কার তাঁকে ‘একটি মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র সিরিজের প্রথম পর্বের ট্রেলারের’ কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন আরও ‘চমকপ্রদ আবিষ্কার’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গডফ্রে।
![]() |
| বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তিমির এত বড় আকারের একটি সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার করাটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। ছবি: এএফপি |
Thursday, April 16, 2026
বাবার দেওয়া খেলনা থেকেই উড়োজাহাজ উদ্ভাবনের নেশা by মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
উইলবার ১৮৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মিলভিলের কাছে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের চার বছর পর ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটনে জন্মগ্রহণ করেন অরভিল। বড় ভাইয়ের জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক উড়োজাহাজ উদ্ভাবনে দুই ভাইয়ের সাধনার গল্প।
খেলনা থেকে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন
শিশুকালেই দুই ভাইয়ের মনে আকাশজয়ের নেশা দানা বেঁধেছিল। জানা যায়, বাবার দেওয়া একটি খেলনা হেলিকপ্টার তাঁদের মনে বুনে দিয়েছিল স্বপ্নের বীজ। ১৮৭৮ সালের কোনো এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন বাবা মিল্টন রাইট। এ সময় ছোট দুই ছেলের জন্য আনা একটি উপহার বাসার মধ্যেই ওপরে ছুড়ে মারেন বিশপ বাবা।
১৯০৮ সালে একটি ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই ভাই বলেন, ‘ধারণা করছিলাম খেলনাটি মেঝেতে পড়ে যাবে। কিন্তু মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পরিবর্তে কক্ষের ছাদের অংশে ধাক্কা লাগার আগপর্যন্ত এটি উড়তে থাকে। ধাক্কা লেগে এটি উল্টে যায় এবং মেঝেতে পড়ে যায়।’
কর্ক, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে তৈরি এবং রাবার ব্যান্ড দ্বারা চালিত হেলিকপ্টার মডেলটি দুই ভাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। এ ধরনের আকাশযানের প্রতি তাঁদের মধ্যে তুমুল আবেগ তৈরি হয়। আকাশে ওড়ার স্বপ্ন রীতিমতো নেশার মতো কাজ করে দুই ভাইয়ের মধ্যে।
যদি লক্ষ্য থাকে অটুট
এই স্বপ্ন পূরণ এতটা সহজ ছিল না রাইট ভাইদের জন্য। এর বড় কারণ ছিল এ ধরনের আকাশযান তৈরির প্রকৌশল জ্ঞান এবং আর্থিক সংস্থানের অভাব। দুজনেরই হাইস্কুলে থাকার সময় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যদিও পরে একজন ডিপ্লোমা করতে পেরেছিলেন। অর্থের ব্যবস্থা করাও এতটা সহজ ছিল না দুজনের জন্য।
দুই ভাই কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পত্রিকা আর ছাপাখানার ব্যবসা দিয়ে। তবে এ ব্যবসায় তেমন সফল হননি তাঁরা। এরপর দুই ভাই ‘দ্য রাইট সাইকেল কোম্পানি’ নামে বাইসাইকেলের ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে ভাড়া দেওয়া বা যন্ত্রাংশ বেচাকেনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও শিগগিরই তাঁরা নতুন নতুন নকশায় সাইকেল তৈরি করতে শুরু করেন। ২০ বছর এই ব্যবসা করে আয়রোজগারও করলেন বেশ।
এরপর শুরু হলো আসল স্বপ্নের পথে যাত্রা। ১৮৯৯ সাল থেকে শুরু হলো গবেষণা। ১৯০০ সালে তৈরি করলেন প্রথম গ্লাইডার (একধরনের উড়োযান)। ১৯০১ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত নিরলসভাবে চলতে থাকে প্রচেষ্টা। অনেকবারই দুই ভাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে তাঁরা হাল ছাড়েননি। একবার উড্ডয়নের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ত্রুটি সারিয়ে এবং আরও নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে আবার নেমে পড়েন দুই ভাই।
অবশেষে ১৯০৩ সালের ডিসেম্বরে আসে সাফল্য। ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা। নর্থ ক্যারোলাইনার কিটি হকসংলগ্ন কিল ডেভিল হিল। গ্যাসোলিন ইঞ্জিনচালিত ফ্লায়ারের (আকাশযান) পাটাতনে চড়ে বসলেন অরভিল। পাইলটসহ এটির ওজন ছিল ৩৪০ কেজি। ইঞ্জিন চালু হলো। ঠিক ১০টা ৩৫ মিনিট। অরভিলকে বুকে নিয়ে শূন্যে উড়াল দিল ফ্লায়ার। আকাশে ছিল মাত্র ১২ সেকেন্ড। সামনের দিকে উড়ে যায় ১২০ ফুট (৩৬ মিটার)। তাতে কী! এই ১২ সেকেন্ডই পৃথিবীর গতিপথকে চিরতরে বদলে দিল।
চার ব্যক্তি রাইট ভাইদের এই উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন। তাঁদের একজন ছবি তোলেন। অবশ্য খুব কম সংবাদপত্রই ঘটনাটি নিয়ে খবর প্রকাশ করেছিল।
এই পরীক্ষাকে উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রথম কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। এরপর দফায় দফায় আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান দুই ভাই। শেষ পর্যন্ত রাইট ভাইদের হাত ধরে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন পূরণ হয় মানুষের।
দুই ভাইয়ের একসঙ্গে উড়তে মানা
দুই ভাই মাত্র একবারই একসঙ্গে উড়োজাহাজে চড়েছিলেন। কারণ, অরভিল ও উইলবার তাঁদের বাবাকে দুই ভাইয়ের একসঙ্গে উড়োজাহাজে না চড়ার কথা দিয়েছিলেন। বাবা মিল্টন রাইটের আশঙ্কা ছিল, কোনো এক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় দুই ছেলেকে একসঙ্গে হারাতে পারেন তিনি।
তবে ১৯১০ সালের ২৫ মে দুই ছেলেকে একবার একসঙ্গে উড়োজাহাজে চড়তে দিয়েছিলেন বাবা। ডেটনে ছয় মিনিটের এই ফ্লাইটে উড়োজাহাজ চালান অরভিল। যাত্রী হিসেবে ছিলেন উইলবার।
অবতরণ করার পর অরভিল প্রথম এবং একবারের জন্যই তাঁর ৮২ বছর বয়সী বাবাকে উড়োজাহাজে তোলেন। অরভিল যখন উড়োজাহাজ চালিয়ে উঁচুতে উঠছিলেন, তখন তাঁর উচ্ছ্বসিত বাবা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আরও উঁচুতে অরভিল, আরও উঁচুতে।’
বিশ্বে মর্যাদার আসনে সত্যিই অনেক উঁচুতে উঠেছেন দুই ভাই। রাইট ভাইদের প্রতি সম্মান জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ১৭ ডিসেম্বর পালিত হয় ‘রাইট ব্রাদার্স ডে’।
সূত্র: ন্যাশনাল অ্যাভিয়েশন হেরিটেজ এরিয়া (ভিজিটনাহা ডটকম), ভয়েস অব আমেরিকা
![]() |
| নিজেদের তৈরি ফ্লায়ারে (একধরনের আকাশযান) রাইট ভাইয়েরা। দুই ভাই মাত্র একবারই একসঙ্গে উড়োজাহাজে চড়েছিলেন। বেটম্যান আর্কাইভের সৌজন্যে |
Wednesday, December 3, 2025
মুক্ত দেশ না হয়েও চীন কীভাবে উদ্ভাবনে এগিয়ে by জেনিফার লিন্ড
আমার লেখা অটোক্র্যাসি ২.০ বইয়ে দেখানো হয়েছে, চীনের নেতারা এই ‘রাজাসুলভ দোটানা’ কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে নিয়েছেন। আমি এই মডেলকে বলেছি ‘স্মার্ট স্বৈরতন্ত্র’। এটি হলো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশলের সঙ্গে নির্বাচিত অর্থনৈতিক খোলামেলা ভাবের মিশ্রণ—যার অনুপ্রেরণা এসেছে প্রযুক্তিশাসিত সিঙ্গাপুর থেকে।
চীন ভারী দমন–পীড়নে না গিয়ে বিভিন্ন সূক্ষ্ম তথ্যনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি চালু করেছে। গবেষক টনি জিরুই ইয়াং বলেন, এই কৌশল মানুষকে সেন্সরশিপের সঙ্গে অভ্যস্ত করেছে। লাঠি-গুলি ব্যবহার না করে চীন ডিজিটাল নজরদারি (যেমন এআই, মুখ চেনার প্রযুক্তি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ) ব্যবহার করে যাতে আগেভাগেই অসন্তোষ চিহ্নিত করা যায়।
অন্যদিকে সরকার অর্থনীতির কিছু অংশ (বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাত) খুলে দিয়েছে এবং উদ্ভাবন বাড়াতে বড় বিনিয়োগ করেছে। গবেষণা-উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। গত দশকে চীনে উচ্চশিক্ষার মান দ্রুত বেড়েছে এবং বিশাল প্রযুক্তিকর্মী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
এখন চীন অনেকটা ঊনবিংশ শতকের আমেরিকার মতো। আগে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যেত। এখন তারা দেশে থেকেই ভালো শিক্ষা পাচ্ছে। চীন এখন বিশ্বে সর্বাধিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল পিএইচডি তৈরি করে। ২০২৩ সালে যে ওপেন-সোর্স এআই মডেল ডিপসিক বিশ্বকে চমকে দেয়, তার অধিকাংশ প্রকৌশলী চীনেই প্রশিক্ষিত।
চীনা কোম্পানিগুলো এখন কয়েকটি উচ্চ প্রযুক্তি খাতে বিশ্বনেতা। বিশ্বের ৮০ শতাংশ সৌর প্যানেল উৎপাদন ক্ষমতা চীনের হাতে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারিশিল্পেও তারা শীর্ষে। ২০২৩ সালে চীন জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ি রপ্তানিকারক হয়। আর ড্রোনশিল্পে ডিজিআই একাই ৭০ শতাংশ বৈশ্বিক বাজার দখলে রেখেছে।
চীন এখনো একদলীয় রাষ্ট্র, যেখানে ভিন্নমত দমন করা হয়। তবু উদ্ভাবনে তারা জাপান, জার্মানি, ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে দশম হয়েছে। যদিও ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’-এর সব লক্ষ্য পূরণ হয়নি, তবু চীন প্রযুক্তির সামনের সারিতে চলে এসেছে। তবে কিছু পর্যবেক্ষক এখনো সন্দিহান। তাঁরা মনে করেন, সি চিন পিংয়ের অধীন বাড়তি দমন–পীড়ন উদ্ভাবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ২০২০ সালে প্রযুক্তি খাতে দমন চালিয়ে অনেক সম্পদ নষ্ট হয়েছিল; কিন্তু ‘স্মার্ট স্বৈরতন্ত্র’-এর লক্ষ্য সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি নয়। তার মূল লক্ষ্য হলো শাসন টিকিয়ে রাখা। তাই কখনো কঠোরতা বাড়ে, আবার কখনো শিথিল করা হয়। সেদিক থেকে দেখলে বোঝা যাবে, ২০২৩ সালের পর চীন প্রযুক্তি খাতে কিছুটা ছাড়ও দিয়েছে।
চীনের আরও বড় কিছু চ্যালেঞ্জ আছে; যেমন বৃদ্ধ জনসংখ্যা, কম এবং ধীর উৎপাদনশীলতা, বিশাল ঋণ এবং রিয়েল এস্টেট সংকট। এগুলো সত্যিই প্রবৃদ্ধিকে কমিয়ে দিয়েছে; তবু চীন ইতিমধ্যে প্রযুক্তি সুপারপাওয়ার হয়ে উঠেছে এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দিয়েছে, যাকে অনেকেই অসম্ভব ভাবত।
তবে এসবের মানে এই নয় যে স্বৈরশাসন গণতন্ত্রের চেয়ে ভালো উদ্ভাবন করতে পারে। গণতান্ত্রিক দেশগুলো এখনো বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বমানের কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী নেটওয়ার্ক ধরে রেখেছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনও প্রথম তৈরি করেছিল গণতন্ত্রসমৃদ্ধ দেশগুলো। তারা এখনো চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম।
কিন্তু পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলো আর চীনের উদ্ভাবনী শক্তিকে হালকাভাবে নিতে পারে না। প্রযুক্তিতে শক্তিশালী হয়ে চীন তাইওয়ানের জন্য বড় সামরিক হুমকি এবং পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া চীনের এ সাফল্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ‘স্মার্ট স্বৈরতন্ত্র’ চালানো দেশগুলোকেও উৎসাহ দিচ্ছে। চীন অন্য একনায়কতন্ত্রকেও নজরদারি প্রযুক্তি ও দমন কৌশল দিয়ে সহায়তা করছে।
সি চিন পিং বলেছেন, ‘চীনের বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কেউ থামাতে পারবে না!’ এটা সত্য হবে কি না, ভবিষ্যতে জানা যাবে; কিন্তু এক বিষয় নিশ্চিত, সেটি হলো পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলো আর ধরে নিতে পারে না যে তারা এমনি এমনি এগিয়ে থাকবে।
* জেনিফার লিন্ড, ডার্টমাউথ কলেজের গভর্নমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং চ্যাটাম হাউসের সহযোগী ফেলো
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন উদ্ভাবনে বিস্ময়কর উন্নতি করেছে। ছবি: রয়টার্স |
ইরানে বড় স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শাদান স্বর্ণখনির প্রমাণিত মজুদ বিশাল স্বর্ণশিরা আবিষ্কারের পর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে রয়েছে ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক। অক্সাইড আকরিক সাধারণত উত্তোলন করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কম ব্যয়বহুল। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার জাতীয় স্বর্ণের মজুদের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণ কেনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে দাবি করে তারা।
গত সেপ্টেম্বর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদর রেজা ফারজিন বলেন, ২০২৩-২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বে সর্বাধিক স্বর্ণক্রয়কারী পাঁচ ব্যাংকের একটি ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ইয়েকতা আশরাফির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানো সহায়ক হবে। ইরানে মোট ১৫টি স্বর্ণখনি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনি। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু কর্মসূচির সামরিকীকরণের অভিযোগ আনার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগ তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে। ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলার পর শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইসরাইলের সাথে ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করায় দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। অত্যধিক মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক ইরানির কাছে স্বর্ণ একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডলার অনানুষ্ঠানিক বাজারে প্রায় ১১.৭ লাখ রিয়াল এবং ইউরো প্রায় ১৩.৬ লাখ রিয়ালে লেনদেন হয়েছে, বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বোনবাস্ট ও আলানচান্ড এ তথ্য দিয়েছে।

Monday, August 25, 2025
দক্ষিণ ভারতে আড়াই হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার গোপন রহস্য উন্মোচন
এতে বলা হয়, বহুদিন ধরে ভারতের প্রাচীনতম নগর সভ্যতা হিসেবে সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতাকেই ধরা হতো। যার বিস্তার ছিল মূলত উত্তর ও মধ্য ভারতে। কিন্তু কিলাডির প্রত্নতাত্ত্বিক খনন প্রমাণ করেছে যে, প্রায় একই সময়ে দক্ষিণ ভারতেও একটি উন্নত ও স্বাধীন সভ্যতা ছিল। এই সভ্যতার মানুষজন ছিল শিক্ষিত, দক্ষ কারিগর। এছাড়া আন্তঃমহাদেশীয় বাণিজ্যেও যুক্ত ছিল তারা। নতুন আবিস্কৃত সভ্যতার মানুষেরা ইটের তৈরি বাড়িতে বাস করতেন এবং মৃতদেহকে দৈনন্দিন সামগ্রীসহ মাটির পাত্রে সমাধিস্থ করতেন।
মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক জি কুমারাসন এবং তার দল এই খুলিগুলো নিয়ে গবেষণার জন্য লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির ফেস ল্যাবের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেন। ফেস ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা খুলিগুলোর ত্রিমাত্রিক (থ্রি ডি) স্ক্যান তৈরি করে তাতে পেশি, মাংস ও ত্বক যোগ করেন, যা মানুষের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় অনুপাত মেনে করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিচ্ছবিগুলোতে রঙ যোগ করা। গবেষকরা স্থির করেন, তারা বর্তমানে তামিলনাড়ুতে বসবাসকারী মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রঙ ব্যবহার করবেন। এই ডিজিটাল প্রতিচ্ছবিগুলো প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। কারণ এটি ভারতের উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিদ্যমান পুরোনো জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বিভাজনকে সামনে নিয়ে আসে। এতদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, আর্যরা (উত্তর ভারতের আদি বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত) এই দেশের ‘আসল নাগরিক’। কিন্তু দ্রাবিড়ীয় (দক্ষিণ ভারতের আদি বাসিন্দা) সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে নতুন গবেষণা সেই ধারণার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে।
অধ্যাপক কুমারাসন বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, আমরা যতটা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ছিল ওই সভ্যতা। আমাদের ডিএনএ-তে এর প্রমাণ রয়েছে। খুলি দুটির মুখের গঠনে প্রাচীন ভারতীয় জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। পাশাপাশি এতে মধ্য-প্রাচ্য ইউরেশীয় এবং অস্ট্রো-এশীয় জনগোষ্ঠীর ছাপও দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে প্রাচীনকালে মানুষের মধ্যে বৈশ্বিক অভিবাসন ও সংমিশ্রণ ঘটেছে।
তবে কিলাডি নিয়ে গবেষণা এখানেই শেষ নয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই স্থান থেকে প্রায় ৫০টি সমাধিপাত্র খনন করেছেন এবং মানব দেহাবশেষ থেকে ডিএনএ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। যদিও হাড়গুলো খুবই জীর্ণ হওয়ায় ডিএনএ সংগ্রহ করা কঠিন, তবু গবেষকরা আশাবাদী। তারা মনে করেন, প্রাচীন ডিএনএ লাইব্রেরিগুলো অতীতের একটি দরজা খুলে দেয়, যা থেকে সেই সময়ের জীবনযাত্রা এবং আমাদের বর্তমানের জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
এই গবেষণা শুধু অতীতের রহস্য উন্মোচন করছে না, বরং ভারতের বহুমুখী সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ওপর নতুন করে আলোকপাত করছে। এটি দেখায় যে, ভারত কোনো একক সংস্কৃতি বা জাতিগোষ্ঠীর দেশ নয়, বরং বিভিন্ন সভ্যতা ও মানুষের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক সমৃদ্ধ ভূমি। কিলাডির এই আবিষ্কার তাই শুধু তামিলনাড়ুর নয় বরং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

Thursday, May 29, 2025
বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারে পেরুর মমি রহস্যে নয়া মোড়
এগুলো কি মানুষ, নাকি ভিনগ্রহের প্রাণী? ২০২৫ সালে এসেও যে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এর মধ্যেই মমি রহস্যে নয়া মোড়। বলা হচ্ছে, ওই মমিকৃত শরীরগুলোতে যে চিহ্ন মিলেছে তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, অত্যন্ত নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়েছিল তাদের
উল্লেখ্য, সাংবাদিক এবং ইউফোলজিস্ট জেইম মাউসান নাজকা মরুভূমিতে এই রহস্যময়, মমিকৃত মৃতদেহগুলো আবিষ্কার করেছিলেন। প্রাথমিক ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, এগুলি আংশিকভাবে মানুষ এবং আংশিকভাবে ‘অজানা প্রজাতি’, যা মেক্সিকোর ইউএফও সম্পর্কে প্রথম কংগ্রেসনাল শুনানির সূত্রপাত করে।
তবে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তাদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এখন, বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে মমিগুলো আসল। যদিও তাদের উৎপত্তি অজানা তবুও মারিয়া, মন্টসেরাট এবং অ্যান্টোনিও নামে তিনটি মমির বিশদ গবেষণা থেকে জানা যায় যে, তারা হয়তো সহিংস মৃত্যুর শিকার হয়েছিলো।
মেক্সিকান নৌবাহিনীর চিকিৎসা বিভাগের প্রধান বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পরিচালক ড. জোসে জালস বলেছেন যে, তিনি ২১টি রহস্যময় মমিকৃত মৃতদেহের গভীর বিশ্লেষণ করেছেন। ৩৫-৪৫ বছর বয়সী ৫'৬" উচ্চতার একজন নারী মারিয়াকে পরীক্ষা করে গুরুতর আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মারিয়ার শরীরে তার নীচের পেলভিসে গভীর কাটা এবং কামড়ের চিহ্ন দেখা গেছে, পাশাপাশি তার নিতম্ব পর্যন্ত বিস্তৃত হাড়ে একাধিক ছোট ছোট ক্ষতও দেখা গেছে। ওই স্থানের চামড়া এবং চর্বি অপসারণ করা হয়েছে এবং মেরুদণ্ডের হাড়ের দুটি কশেরুকা ভাঙা ছিল। ক্ষত থেকে বোঝা যায় যে, তিনি সম্ভবত একটি পাহাড় থেকে পাথরের উপর পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। এই অনুসন্ধানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, মারিয়ার মৃত্যু সম্ভবত সহিংস এবং আঘাতমূলক ছিল।
ইতিমধ্যে, ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী মন্টসেরাটের সিটি স্ক্যানে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ পাঁজরের মাঝখানে বুকে একটি ক্ষত দেখা গেছে। স্ক্যানে উল্লেখযোগ্য, দীর্ঘস্থায়ী আঘাতের প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো গভীর আঘাত থেকে স্ক্যাপুলা এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিলো। মারিয়ার মতো, মন্টসেরাটেরও স্বতন্ত্র শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছিল, যার মধ্যে ছিল একটি লম্বা মাথার খুলি, তিনটি করে হাতের আঙুল ও পায়ের আঙ্গুল এবং হৃদপিণ্ড, লিভার এবং অন্ত্রের মতো অক্ষত অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। পেরুর মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. ডেভিড রুইজ ভেলা অ্যান্টোনিওর পরীক্ষা করে বুকে মারাত্মক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পান। ছুরিকাঘাতটি বুক, পেট এবং লিভারে প্রবেশ করে।
ডা. ভেলার মতে, আঘাতটি গুরুতর ছিল, যার ফলে শরীরে অভ্যন্তরীণভাবে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল। এই অনুসন্ধান থেকে আরও বোঝা যায় যে অ্যান্টোনিওর মৃত্যু একটি হিংসাত্মক আক্রমণের ফলে হতে পারে। এসব দেখে ড. জালস বলেছেন, ‘এগুলো আরও স্পষ্ট এবং অকাট্য প্রমাণ দেয় যে এই দেহগুলো ১০০% খাঁটি, বাস্তব এবং একসময় জীবিত ছিল।’
সূত্র : এনডিটিভি

Tuesday, September 20, 2022
টমাস আলভা এডিসনঃ বধিরতা যার জন্য ছিল আশীর্বাদ… by সাইকা তাসনিম

সাত ভাইবোনের মধ্যে টমাস আলভা এডিসন ছিলেন সবার ছোট। তার স্কুলের শিক্ষকরা তাকে খুবই দুর্বল ছাত্র ভেবেছিল। পড়ায় মন বসতো না বিধায় প্রায় সময়ই শিক্ষকরা প্রায় সময়ই তাকে বাসায় পাঠিয়ে দিত। কিন্তু এডিসন তার সাফল্যের জন্য তার সম্পূর্ণ কৃ্তিত্ব তার মাকে দিয়েছেন। তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তার পাশে তার মাকে পেয়েছেন। তার প্রতি শিক্ষকদের অনীহার কারণে তার মা তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। তার প্রতি তার মায়ের পুরো আস্থা ছিল। তিনি নিজেই পরবর্তিতে এডিসনের পড়ানোর দায়িত্ব নেন।
ছোটবেলা থেকে এডিসনের তার চারপাশের জিনিসের প্রতি আগ্রহ ছিল অসীম। ৯ বছর বয়স থেকেই তিনি বাসায় ছোট ছোট এক্সিপেরিমেন্ট চালান। তিনি তার হাত খরচের পুরোটাই এক্সপেরিমেন্টের জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল কেনার জন্য ব্যয় করতেন। তিনি এমন কিছু কেমিক্যাল কিনেছিলেন যেগুলো ছিল অমূল্য। তিনি সেগুলোকে সাবধানে একটি বোতলে সংরক্ষন করতেন। বোতলগুলোকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য সেগুলোকে “বিষ” নামে লিখে রেখেছিলেন। ১০ বছর বয়সে বাড়ির বেজমেন্টে তিনি তার প্রথম ল্যাবরেটরি বানান।
এডিসনের কানে শোনায় সমস্যা ছিল। তিনি কানে শুনতে পেতেন না। অনেকের ধারনা তিনি তার বাবার কাছ থেকে বধিরতা পেয়েছেন কারণ তার বাবাও শুনতে পেতেন না। কিন্তু বধিরতার ফলে তার বেশ সুবিধাও হয়েছে। যেহেতু তিনি শুনতে পেতেন না তাই মনযোগ সহকারে কাজ করতে পারতেন। কোন শব্দই তার কানে যেত না যার কারণে তার কাজে কোন বিঘ্ন ঘটতো না। এছাড়াও তিনি কাজপাগল বিজ্ঞানী ছিলেন। বধিরতার কারণে তিনি বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারতেন। বস্তুতই বধিরতা তার জন্য আশীর্বাদ ছিল।
১৪ বছর বয়সে এডিসন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। তিনি দিনের বেলা কাজ না করে রাতের বেলা কাজ করতেন যাতে করে তিনি তার এক্সপেরিমেন্ট গুলো করতে পারতেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই চাকরি রক্ষা করা সম্ভব হয় নি। ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিডের উপর পরীক্ষা চালানোর সময় আগুন ধরে যায়। আগুনে টেলিগ্রাফ অফিস ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর এই ঘটনার পরেই তার চাকরি চলে যায়।
নিবার্চনের সময় ভোটিং রেকর্ড করার জন্য এডিসন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করে। সেই সময়ে তার বয়স ছিল ২২ বছর। তিনি সেই আবিষ্কারের জন্য প্যাটেন্ট ও নেন। ভোট রেকর্ড করার জন্য ব্যবস্থাপককে প্রত্যেকবার সুইচ পরিবর্তন করতে হত। কিন্তু মেম্বাররা সঠিক ভাবে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারেনি। ভোট ঠিকমত রেকর্ড করা যায়নি কারণ মেম্বাররা বারবার তাদের ভোট চেঞ্জ করছিল। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান যন্ত্রটি বাতিল করে দেন ও প্যাটেন্ট ও বাতিল হয়ে যায়।
এডিসনের স্ত্রী মেরি মারা যাওয়ার ২ বছর পর তার সাথে সুদর্শন মিনা মিলারের সাথে দেখা হয়। এটি উভয়ের জন্যই প্রথম দর্শনে প্রেমে পড়ে যাওয়া ছিল। তারা একসাথে সময় কাটাতো। এডিসন তাকে মোর্স কোড ট্যাপিং ভাষাও শিখিয়েছিল। তারা যখন অন্যান্য মানুষদের সাথে থাকতো তখন মোর্স কোড ট্যাপিং এর মাধ্যমে কথা বলত। একদিন এডিসন মিনাকে মোর্স কোডের মাধ্যমে “. – — ..- .-.. -.. -.– — ..- — .- .-. .-. -.– — .” ম্যাসেজ পাঠায় ও মিনাও তাকে “-.– .” লিখে ফিরতি বার্তা দেয়। এর কিছুদিন পরেই তারা বিয়ে করে।
মিচুয়াল লাইফ ইন্সুরেন্সের রেজিস্টার মতে এডিসনের বাম হাতে ট্যাটু আঁকা ছিল। ট্যাটুতে মাত্র ৫ টি ডট ছিল। ট্যাটুর ব্যাপারটি সম্পূর্ণই রহস্যজনক ছিল কারণ কেউই এই ট্যাটুর মানে জানতো না। এডিসনই প্রথম আনঅফিসিয়ালি stencil-pen ব্যবহার করে ট্যাটু মেশিন বানায়। ১৮৭৬ সালে তিনি stencil-pen এর জন্য প্যাটেন্ট গ্রহন করেন। পরবর্তীতে Samuel O’Reilly এডিসনের ট্যাটু মেশিনকে কিছুটা পরিবর্তন করেন।
হাসপাতালগুলিতে ব্যবহৃত আধুনিক ফ্লোরোস্কোপ আবিষ্কারের জন্য এডিসন এক্স-রে ব্যবহার করেছিলেন। সেই সময় এক্স-রে গুলি অনিরাপদ বলে বিবেচিত হতো না। এডিসন তার কর্মচারী ক্লারেন্স ড্যালিকে একটি ফ্লোরোস্কোপ তৈরি করতে নির্দেশ দেন। ক্লারেন্স তার হাতে এক্স-রে টিউব পরীক্ষা করেন এবং এর ফলে তার হাতে সংক্রমণ তৈরি হয়। এই সংক্রামনের ফলে ড্যালিকে শুধু তার হাত নয় বরং তার জীবন ও হারাতে হয়েছিল। এডিসন ড্যালির মৃত্যুর ব্যাপারে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন ও হতাশ হয়ে পড়েন। পরে তিনি এক্সরে গবেষনা বন্ধ করে দেন।
এডিসন এক সময়ে সিমেন্ট ব্যবসা শুরু করার কথা ভেবেছিলেন। তিনি নিই ইয়র্ক শহরের বাসস্থানের সমস্যা সমাধানের করতে চেয়েছিলেন। তিনি ছাচের মাধ্যমে শুধু সিমেন্ট দিয়ে বাড়ি বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন সাইজের জানালা,সিড়ি ও বাথটাব বানানোর কথাও ভেবেছিলেন ছাচের মাধ্যমে। কিন্তু তার এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ছিল না। তাই এই পরিকল্পনা থেকে তাকে সরে আসতে হয়। যদিও তিনি নিজের জন্য এরকম একটি বাড়ি বানিয়েছিলেন। তিনি কংক্রিটের পিয়ানো ও আসবাবপত্রও বানিয়েছিলেন কিন্তু সেগুলো জনসাধারনের মনযোগ আকর্ষন করতে ব্যর্থ হয়।
একশতের ও বেশি পাওয়ার স্টেশনের মাধ্যমে এডিসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদুৎ সরবরাহ করত কিন্তু তিনি DC ব্যবস্থায় বিদুৎ সরবরাহের পক্ষপাতিত্ব ছিলেন না। এমন সময়ে তিনি DC ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রমানের জন্য একটি সুযোগ পেয়ে যান। হুট করে সার্কাসের একটি হাতি বন্য হয়ে ওঠে। এই বুনো হাতির আক্রমনে বেশ কিছু মানুষ মারাও যান। হাতিটি একটি হুমকি হয়ে দাড়িয়েছিল ও সার্কাস মালিক একে মেরে ফেলতে চান। যদিও এডিসন হাতিটি মারার পক্ষে ছিলেন না তাও তিনি এটির দায়িত্ব নেন প্রমানের জন্য। তিনি হাতিটির উপর ৬০০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক AC current ব্যবহার করেন ও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাতিটি মারা যান।
Wednesday, October 30, 2019
মহাকাশের গ্রহ কে-টু- ১৮বি-তে পানির সন্ধান; প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশা
![]() |
| কে-টু-১৮বি গ্রহের আবহাওয়া মণ্ডলের ৫০ শতাংশই পানি |
এক্সোপ্ল্যানেট কি?
- সৌরজগতের বাইরের গ্রহকে বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট।
- প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কৃত হয় ১৯৯২ সালে।
- বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি এক্সোপ্ল্যানেট-এর সন্ধান পাওয়া গেছে।
- এদের বেশিরভাগই বড় আকারের গ্রহ যাদের আকার বৃহস্পতি বা নেপচুনের সমান বলে ধারণা করা হয়।
- অনেক বৃহৎ আকারের গ্রহ দেখা গেছে তাদের তারার কক্ষপথে খুব কাছ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে।
দীর্ঘ পথ
![]() |
| ইউরোপীয়ান মহাকাশ কেন্দ্র-এর ২০২৮এর মহাকাশ মিশন থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে |
Thursday, October 24, 2019
মিসরে পাওয়া গেল ইদুর, বিড়াল আর পাখির মমি

এবার মিসরে নতুন আবিষ্কার হওয়া এক 'সুসজ্জিত' প্রাচীন 'নেক্রোপলিস' বা সমাধিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষের ভেতরে একটি কবরের মধ্যে পাওয়া গেছে মমি করা কয়েকটি ইঁদুর।
মিসরের সোহাগ শহরে ঐ সমাধিতে উদ্ধার হওয়া ইঁদুর ও আরো কয়কটি প্রাণীর মমিগুলো দুইজন মানুষের মানুষের মমির পাশে ছিল। সমাধিস্তম্ভের মধ্যে শেষকৃত্যের বিস্তারিত অংকন করা চিত্রকর্মও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমাধিটি দুই হাজার বছরের বেশি পুরনো, এবং ধারণা করা হচ্ছে মমি দুটি তৎকালীন রাজপরিবারের সিনিয়র কর্মকর্তা টুটু ও তার স্ত্রীর। অক্টোবরে অবৈধভাবে চোরাকারবারিরা এই সমাধি খনন করার সময় এটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
মিশরের কর্তৃপক্ষ অ্যান্টিকস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আশা কায়রো কাছে মরুভূমির মধ্যে আবিষ্কৃত এই সমাধি হয়ত নতুন করে এখানে পর্যটক আকর্ষণ করবে।
প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তফা ওয়াজিরি জানিয়েছেন, সমাধিক্ষেত্রটি "খুব সুন্দর ও রঙ্গিন।"
২০১১ সালে দেশটিতে আরব বসন্তের পর কায়রোর কাছে এই সমাধিক্ষেত্রগুলো আবিষ্কার হওয়াকেই সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে তিনি অভিহিত করেছেন।
সমাধিক্ষেত্রের বাইরে একজন নারী ও এক কিশোরের মমি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছৈ। মমি করা নারীর বয়স মৃত্যুর সময় ৩৫ থেকে ৫০ বছর ছিল এবং কিশোরটির বয়স মারা যাওয়ার সময় ছিল ১২ থেকে ১৪ বছর।
২০১৮ সালে আবিষ্কার হওয়া প্রাচীন 'নেক্রোপলিস' বা সমাধিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া গেছে বহু মমি, পাথরের তৈরি শবাধার ও অন্যান্য সামগ্রী, এবং একটি গলার হার -বলা হচ্ছে 'এটি হলো মৃত্যুর পরের জীবন থেকে পাঠানো বার্তা।' সমাধির ভেতরে অন্তত ৫০টি মমি করা ইঁদুর, বিড়াল এবং পাখি পাওয়া গেছে।
আর মূল্যবান সম্পত্তির মধ্যে দুর্লভ চিত্রকর্ম, এবং নানারকম উৎসবের রঙ্গিন মুখোশ। কায়রোর দক্ষিণে মিনিয়া শহরের কাছে এই পুরো প্রত্নস্থানটি এতই বড় যে তা পুরোপুরি খনন করতে পাঁচ বছর লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কয়েকটি পাত্র পাওয়া গেছে যাতে মৃতদের দেহের ভিতরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ মমি করে রাখা আছে। ওপরে লেখা আছে তাদের নাম ও পদ। এগুলো দেখতে হোরাস নামে এক প্রাচীন দেবতার চার পুত্রের মুখের মতো।
সূত্র : বিবিসি বাংলা।
Friday, October 18, 2019
অতীত ঢাকতে পুরস্কার চালু করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল?

নোবেল ১৯ শতকের সফলতম রসায়নবিদদের একজন ছিলেন। সুইডিশ এই নাগরিকের বিস্ফোরক সফলতাই পরবর্তী জীবনে তার জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে বেশিকিছু বলেননি তিনি। কিন্তু অতীতে তার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কাজের ইতিহাস ঘাটলে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
নোবেল সফলতার শিখরে পৌঁছেন ‘ডাইনামাইট’ আবিষ্কার করে। তার এই আবিষ্কার তাকে এনে দিয়েছিল বিশ্বজোড়া খ্যাতি আর সফলতা। কিন্তু ডাইনামাইট আবিষ্কার নিয়ে বেশ আক্ষেপ ছিল নোবেলের। তিনি চাননি মানুষ তাকে এই ধ্বংসকারী বস্তু আবিষ্কারের জন্য মনে রাখুক।
নোবেল মারা যান ১৮৯৬ সালে। মৃত্যুর আগে নোবেল পুরস্কারের জন্য একটি বিশাল অঙ্কের তহবিল রেখে যান তিনি। তার রেখে যাওয়া তহবিল দিয়ে ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান। পুরো বিশ্ব থেকে যাচাই-বাছাই করে বিশেষ কয়েকটি বিভাগে এই পুরস্কার দেয়া হয়। নোবেল তার উইল-এ লিখে গিয়েছিলেন, বিশ্বের মধ্যে ওই বিভাগগুলোয় সমসাময়িক কালে শ্রেষ্ঠ কাজ, শান্তির প্রচারণায় মুখ্য ভূমিকা রাখা ও সামরিক বাহিনীর নিশ্চিহ্নকরণ বা হ্রাসকরণের কৃতিত্ব হিসেবে এই পুরস্কার দেয়া হবে। ধ্বংসলীলাকে পূর্ণতা দিতে পারা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন কথা কিছুটা বেমানান শোনায়।
আঠারো শতকের ষাটের দশকে শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন নোবেল। ওই পরীক্ষার অংশ হিসেবে নাইট্রোগ্লিসারিন ও ব্ল্যাক পাওডার এর এক করে ডাইনামাইট আবিষ্কার করেন এই বিজ্ঞানী। অবশ্য পরীক্ষার শুরুতেই সফলতা পাননি তিনি। ১৮৬৪ সালে এই পরীক্ষায় একবার এক নাইট্রোগ্লিসারিন কারখানা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তার এক ভাইও মারা যান। কিন্তু নোবেল অনুধাবন করতে পারছিলেন যে, তিনি এমন কিছু আবিষ্কারের কাছাকাছি আছেন যা পুরো বিশ্বকে পাল্টে দেবে। ভাইয়ের মৃত্যুর পরও তিনি কাজ থামাননি। ১৮৬৭ সালে নোবেল আবিষ্কার করেন যে, নাইট্রোগ্লিসারিনের সঙ্গে ‘ডিয়াটোমাইট’ মেশালে নাইট্রোগ্লিসারিন নিরাপত্তার মাত্রা বেড়ে যায় ও তা আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তিনি নিজের এই আবিষ্কারের নাম দিলেন ‘ডাইনামাইট’। গ্রিক শব্দ ডাইনামিস (শক্তি) থেকে ডাইনামাইট শব্দটির উৎপত্তি। আবিষ্কারের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এর তীব্র চাহিদা দেখা দেয়।
ডাইনামাইটের বাণিজ্য করে বিপুল অর্থ আয় করেন নোবেল। বিশ্বজুড়ে খাল কাটায়, রাস্তা নির্মাণে, সুরঙ্গ তৈরি সহ নানাভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে ডাইনামাইট। নোবেল ডাইনামাইটের একাধিক কারখানা নির্মাণ করেন। প্রতিনিয়ত ডাইনামাইট আরো শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যান। ১৮৭৫ সালে তৈরি করেন ডাইনামাইটের চেয়েও শক্তিশালী বিস্ফোরক- বিস্ফোরক জেলাটিন। এই ব্যবসায় অকল্পনীয় লাভ করেন তিনি।
ডাইনামাইট ছাড়া অন্যান্য বস্তু নিয়েও কাজ করেছিলেন নোবেল। যেমন, আর্টিফিসিয়াল সিল্ক ও লেদার। লিখেছিলেন উপন্যাসও। যদিও সেগুলোর কোনটিই প্রকাশ পায়নি। ডাইনামাইটই ছিল নোবেলের সবচেয়ে বড় ব্যবসা। এই ব্যবসার সূত্র ধরেই একসময় প্রবেশ করেছিলেন যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরির কাজে। কিন্তু নোবেল ফাউন্ডেশন অনুযায়ী, নিজেকে শান্তিবাদী দাবি করতেন নোবেল। উনবিংশ শতকের অস্ট্রীয় শান্তিকর্মী, ঔপন্যাসিক বার্থা ভন সুটনারের লেখা অনুসারে, নোবেলের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৮৭৬ সালে। সেসময় নোবেল তাকে বলেছিলেন, তিনি এমন একটি বিস্ফোরক আবিষ্কার করতে চান, যেটি সব যুদ্ধ শেষ করে দেবে। ১৮৯১ সালের মধ্যে নোবেলের ৯০টি বিস্ফোরক ও যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কারখানা ছিল নোবেলের। সেসময় কারখানাগুলোর সমর্থনে শান্তিকর্মীদের তিনি বলেছিলেন, যেদিন দুটি সামরিক পক্ষ একে অপরকে সেকেন্ডের মধ্যে নিঃশেষ করে দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করবে, সেদিন সব সভ্য রাষ্ট্র নিশ্চিতভাবেই আতঙ্কে ভীত হয়ে তাদের সব সামরিক বাহিনী বিলুপ্ত করে দেবে।
কিন্তু নোবেল ভুল হিসেব করেছিলেন। যুদ্ধ চলতেই থাকলো। কোনো জাতি ভীত হয়ে পিছু হটেনি। বিলুপ্ত হয়নি সামরিক বাহিনী। পরবর্তীতে বিখ্যাত নোবেলজয়ীদের কেউ কেউ বলেছেন, নোবেল তার জীবনের সেরা কাজ নিয়ে অনুশোচনায় ভুগতেন। আর সে আক্ষেপ ঢাকতেই নোবেল পুরষ্কার চালু করেছিলেন তিনি। এদের মধ্যে ১৯২১ সালে পদার্থে নোবেল পাওয়া আলবার্ট আইনস্টাইনও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে ফেলা আনবিক বোমাগুলো তৈরিতে তার গবেষণার ভূমিকা ছিল।
১৯৪৫ সালে দেয়া এক ভাষণে আলবার্ট আইনস্টাইন বলেন, নোবেল তার সময়কালের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরক আবিষ্কার করেছিলেন। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কার্যকরী একটি উপায় বের করেছিলেন। নিজের এই অর্জনের প্রায়শ্চিত্ত করতে ও নিজেকের বিবেককে স্বস্তি দিতে তিনি শান্তির প্রচারণায় পুরষ্কার চালু করেছিলেন।
Monday, October 7, 2019
ভবিষ্যতের যুদ্ধ ঠেকাতে কল্পকাহিনী লেখক নিয়োগ দিচ্ছে ফরাসি আর্মি
এই 'রেড টিমের' সদস্য কারা?
![]() |
| দলের একজন উদ্ভাবক বাস্তিল দিবসের সামরিক অনুষ্ঠানের সময় জনতার সামনে একটি জেট চালিত উড়ন্ত বোর্ডের প্রদর্শনী দেখান। |
Thursday, September 12, 2019
অচিরেই দেখা মিলছে আরেক মহাবিশ্বের?

গুপ্ত ছায়াবিশ্ব আবিষ্কারের বিষয়টি ‘স্ট্রেঞ্জার থিংগস’ সিরিজের সায়েন্স ফিকশনের মতো মনে হতে পারে। পদার্থ বিজ্ঞানীরা তাদের এ সংক্রান্ত গবেষণায় বারবার সামঞ্জস্যহীন ফলাফল পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এর বাস্তব প্রমাণ শনাক্ত করা যায়নি। তবে ৯০ দশকের দুইটি সামঞ্জস্যহীন ফলাফলই ছায়া মহাবিশ্ব সংক্রান্ত গবেষণার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ওই গবেষণায় পদার্থবিদরা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা নিউট্রন কণা নিউক্লিয়াস থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর তা ভেঙে প্রোটনে পরিণত হতে কত সময় লাগে তা পরিমাপ করছিলেন।
দুইটি ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষায় তারা দেখেছেন, ধারণা অনুযায়ী নিউট্রনগুলো একেবারে একই হারে ক্ষয় হয়ে প্রোটনে পরিণত হচ্ছে না, ভিন্ন দুই হারে ভাঙছে। দুইটি পরীক্ষার একটিতে দেখা গেছে মুক্ত নিউট্রনগুলো চৌম্বক ক্ষেত্রে আটকে পড়ছে এবং পরীক্ষাগারের বোতলের ট্র্যাপস-এ দলবদ্ধ হয়ে আছে। আরেক পরীক্ষায় পারমাণবিক চুল্লি প্রবাহ থেকে প্রোটন কণার উত্তরকালীন উপস্থিতির মধ্য দিয়ে নিউট্রনগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। চুল্লি প্রবাহে বিস্ফোরিত এসব কণা গড়ে ১৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড করে সচল ছিল। যা বোতল ট্র্যাপস-এ থাকা নিউট্রন কণার সচলাবস্থার চেয়ে ৯ সেকেন্ড বেশি। এক্ষেত্রে তারতম্য খুব সামান্য মনে হলেও তা বিজ্ঞানীদেরকে সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ছায়া মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনার পেছনে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা রয়েছে।
বস্তুত নিউট্রনের আলাদা দুইটি জীবনকাল রয়েছে এবং হতে পারে ১ শতাংশ নিউট্রন (শনাক্তযোগ্য প্রোটন নির্গত করার আগে) আমাদের বাস্তব ও ছায়া মহাবিশ্বের বিভাজন রেখা পার হয় এবং ফেরত আসে। বিজ্ঞানীরা তাই পরীক্ষার অংশ হিসেবে একটি অভেদ্য দেয়ালে একটি নিউট্রন প্রবাহ বিস্ফোরণ ঘটাতে চাইছেন। দেয়ালের অপর পাশে স্থাপন করা হবে একটি নিউট্রন ডিটেক্টর, সাধারণত যা কোনও কিছুকেই শনাক্ত করবে বলে প্রত্যাশা করা হয় না। তবে ডিটেক্টর যদি নিউট্রনের উপস্থিতি পরিমাপ করতে পারে, তার মানে দাঁড়াবে-নিউট্রনগুলো ‘দোলনের’ মধ্য দিয়ে দেয়াল পাড়ি দিয়ে ছায়া নিউট্রন হিসেবে ছায়া বিশ্বে পৌঁছাতে পেরেছে। এরপর তা দোলনের মধ্য দিয়ে (এই বিশ্বে জগতে) টেনেসির পরীক্ষাগারে ফিরে এসেছে এবং সংবেদনশীল যন্ত্রপাতিতে আঘাত করেছে।
জুনে নিউ সায়েন্টিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রুসার্ড বলেন, ‘শুধু যে নিউট্রনগুলোর দোলন আছে এবং মহাবিশ্বে ফিরে আসে, কেবল সেগুলোই শনাক্ত করা যায়।’ এছাড়া বিজ্ঞানীর দলটি দেয়ালের অপর (উভয়) পাশে চৌম্বক ক্ষেত্র স্থাপন করবে। সেখানে তারা ক্ষেত্রের শক্তি-শ্রাবল্য বদলাতে পারে। আশা করা হচ্ছে নির্দিষ্ট শক্তি নিউট্রন কণার দোলনে সহায়তা করতে পারবে।পরিপাটি এ তত্ত্ব সত্ত্বেও গবেষক দল বাস্তব বিশ্বের যমজ ছায়াবিশ্ব খুঁজে পাওয়ার সুযোগ কম বলেই মনে করছেন। প্রাথমিক পরীক্ষার ব্যাপারে ব্রুসার্ড বলেন, এর ফলাফল শূন্য হবে বলেই তার ধারণা। তবে বিজ্ঞানীরা যদি দেয়ালের অপর পাশে একটি নিউট্রন শনাক্ত করতে পারে, তবে এর অনেক গুরুত্ব থাকবে। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রুসার্ড বলেন, ‘আপনি যদি এমন নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারেন, তবে খেলা পুরোপুরি পাল্টে যায়।’
ছায়া বিশ্বের অস্তিত্ব আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে আমাদের মহাবিশ্বের আইসোটোপ লিথিয়াম ৭-এর ঘাটতিকেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। পদার্থবিদদের বিশ্বাস, আইসোটোপ লিথিয়াম ৭ এর যে পরিমাণ উপস্থিতি রয়েছে তা বিগ ব্যাং এ সৃষ্ট পরিমাণের সঙ্গে মেলে না। ‘আমাদের ছায়াপথকে অতিক্রম করে আসা উচ্চ শক্তিসম্পন্ন মহাজাগতিক রশ্মি শনাক্ত করার’ ঘটনাকে ‘ব্যাখ্যা করা যেতে পারে ছায়া বিশ্বের অস্তিত্ব’ দিয়ে । শুধু দৃশ্যমান মহাবিশ্বের মধ্য দিয়ে সফর করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী এগুলো নয়। কিন্তু যদি তাদের দোলন হয় এবং তারা ছায়া-বিশ্বে ঢুকে আবারও ফিরে আসে, তবে এগুলো কিভাবে আসছে তার ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
Wednesday, June 19, 2019
লোহার খনি আবিষ্কার, ৪০০ ফুট পুরুত্বের আকরিকের সন্ধান : বিপুল মজুদের অস্তিত্ব

খনন কাজে নিয়োজিত জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের আকরিকে লোহার শতাংশ ৬৫-এর ওপরে। কানাডা, চীন, ব্রাজিল, সুইডেন ও অষ্ট্রেলিয়ার খনির লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। আবিস্কৃত খনি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জয়পুরহাটে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, খনিটির ব্যাপ্তি ৬-১০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে স্বর্ণের অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। ১ হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে।
তিনি জানান, জিএসবি ২০১৩ সালে ইসবপুর গ্রামের ৩ কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্র ধরে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুরে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর ১ হাজার ৩৮০ থেকে দেড় হাজার ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে আশার আলো দেখা যায়। এ খবর পেয়ে ২৬ মে জিএসবির মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শনে আসেন।
তখন জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এ অঞ্চলটি ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এ সন্ধান পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাকিমপুর উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বের গ্রাম ইসবপুরের কৃষক ইছাহাক আলীর কাছ থেকে ৫০ শতক জমি ৪ মাসের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে কূপ খনন শুরু করেছিল ভূ-তাত্তি¡ক জরিপ অধিদফতর। ২০১৩ সালে এ গ্রামের ৩ কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্রধরে দীর্ঘ ৬ বছর পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর ১৩৮০-১৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে সেখানে আশার আলো দেখতে পাওয়া যায়। এ খবর পেয়ে গত ২৬ মে জিএসবি’র মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। এসময় মহাপরিচালক সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার ফলে ১৭৫০ ফুট গভীরতা খনন করে লোহার খনির আবিষ্কার করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের এ স্তরটি পাওয়া গেছে।
জিএসবি’র উপ-পরিচালক (ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ার) মাসুদ রানা জানান, গত ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। ৩০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ একটি দল ৩ শিফটে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমরা জানতে পারলাম এখানে লোহার খনি পাওয়া গেছে। এখান থেকে লোহা উত্তোলন করা হলে এখানকার মানুষের জীবনমান পাল্টে যাবে। কর্মসংস্থান হবে এখানকার মানুষদের। দেশের জন্যও লাভজনক হবে। এমনই আশায় বুক বাঁধছেন এখানকার সর্বস্তরের মানুষ। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের কাছে খনি বাস্তবায়নে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Wednesday, March 21, 2018
কখনও রাত নামে না যে গ্রহে

Thursday, March 15, 2018
হকিংয়ের শেষ বার্তা

সাধারণ ছাত্র থেকে যেভাবে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী হলেন হকিং

নিজে নিজেই উড়তে পারে এয়ার ট্যাক্সি

Sunday, March 11, 2018
সুন্দরী চিত্রতারকা থেকে বিজ্ঞানী

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(2457)
-
▼
November
(43)
-
▼
Nov 04
(12)
- কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আফগান বংশোদ্ভূ...
- যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ড গড়লেন যেসব মুসলিম ...
- যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এ...
- চাইলেই সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবেন না ট্রাম্প
- ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নেতা হাসান সালামেহকে ৯...
- গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসক আদম হামাওয়ির জয়, ন...
- নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী আব...
- আরবিতে বক্তব্য দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম স...
- সুপ্রিম কোর্টের অন্য রকম ফ্যাশন শোয়ে মডেল হলেন আইন...
- ‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে ...
- মহাকাশে আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির পরিকল্পনা
- পর্নো সাইটে অন্তরঙ্গ দৃশ্য, বাঙালি অভিনেত্রীর ক্ষোভ
-
▼
Nov 04
(12)
-
▼
November
(43)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







