Wednesday, September 7, 2016

১১ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর অচলাবস্থার অবসান

হামলার পর কেয়ার দপ্তরের সামনে
নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য। এএফপি
আফগানিস্তানের কাবুলে বিদেশি সাহায্য সংস্থা কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের দপ্তরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ১১ ঘণ্টার অচলাবস্থার ইতি টেনেছে। ওই হামলা শুরু হয় গত সোমবার রাতে। কোনো জঙ্গি সংগঠন গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক তালেবান কার্যক্রমের অংশ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে সোমবারই দুপুরে কাবুলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জোড়া বিস্ফোরণে উচ্চপদস্থ এক সেনা কর্মকর্তাসহ ২৪ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়। কাবুলে দাতব্য প্রতিষ্ঠান কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের দপ্তরে সশস্ত্র জঙ্গিরা দফায় দফায় আত্মঘাতী হামলা চালায়। এ আক্রমণ শুরু হয় সোমবার রাতে। জঙ্গিরা প্রথমে একটি শক্তিশালী গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তালেবান যোদ্ধারা আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছাকাছি এলাকায় দুটি আত্মঘাতী হামলা চালায়। কাবুলের শের-ই নাও এলাকায় কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের দপ্তরে হামলা শুরুর পর চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ঠিক কোন অংশে হামলা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। কারণ, সেখানে ইট-পাথরের টুকরো এবং ভাঙা কাচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। গতকাল সকাল পর্যন্ত বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি চলে। কেয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে,
তাদের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র একটি দল এ হামলা চালায়। সম্ভবত তারা কেয়ারের দপ্তরটিকে সরকারি ভবন ভেবেছিল। কারণ, খুব কাছেই এ রকম একটি সরকারি ভবন রয়েছে। আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে ২০ জন বিদেশিসহ ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় কেউ মারা যায়নি। তবে প্রথমে একজনের মৃত্যুর খবর প্রচার হয়েছিল। পরে তদন্তে দেখা যায়, কেবল ছয়জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীর সংখ্যা ছিল তিন। তাঁদের সবাইকে গুলি করে হত্যা করেছে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী। কেয়ারের দপ্তরে হামলার আগে সোমবার দুপুরেই তালেবান জঙ্গিরা কাবুলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যস্ত এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সেনা কর্মকর্তাসহ অনেকে হতাহত হন। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সোমবারের ওই জোড়া বিস্ফোরণের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের শত্রুরা নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণেই তারা বিভিন্ন মহাসড়ক, নগর, মসজিদ, বিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করছে।’ তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটারে লিখেছেন, ওই হামলার প্রথম লক্ষ্য ছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পুলিশ ছিল দ্বিতীয় লক্ষ্য।

দুতার্তের সঙ্গে বৈঠক বাতিল ওবামার

বারাক ওবামা
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে অশ্লীল গালি দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন। ওবামাকে বিদ্রূপ করে ‘... ছেলে’ বলেছিলেন দুতার্তে। অবশ্য ওই ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বেশ পুরোনো। লাওসে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে দুতার্তের সঙ্গে সোমবার ওবামার বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দেন দুতার্তে। প্রতিক্রিয়ায় ওবামা ওই বৈঠক বাতিল করেন। এরপর দুঃখ প্রকাশ করলেন দুতার্তে। বারাক ওবামা চীনে জি-২০ সম্মেলনে যোগদান শেষে লাওসে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে যান। ফিলিপাইনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশের সম্ভাবনা আগে থেকেই আঁচ করেছিলেন দুতার্তে। লাওসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি গত সোমবার ম্যানিলায় ওবামার প্রতি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, আসিয়ান সম্মেলনে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেখে নেবেন।
গত ৩০ জুন ফিলিপাইনের ক্ষমতায় বসা প্রেসিডেন্ট দুতার্তে বেফাঁস মন্তব্য এবং ভিন্নধর্মী কর্মপদ্ধতির জন্য পরিচিত হয়ে উঠেছেন। এর আগেও আপত্তিকর নানা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তবে এবারই প্রথম তাঁকে নিজের অদ্ভুত আচরণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হলো। প্রথম বিদেশ সফরে আসিয়ান সম্মেলনের প্রথম দিনেই ‘দুঃখিত’ বলে পা রাখতে হলো দুতার্তেকে। দুতার্তে ক্ষমতায় আসার পর কঠোর মাদকবিরোধী অভিযানে ফিলিপাইনে সন্দেহভাজন ২ হাজার ৪০০ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বিচারবহির্ভূত এ হত্যা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ। তবে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে বলে দিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। অনেক লোক নিহত হবে...শেষ মাদক পাচারকারীর বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত। বারাক ওবামা অবশ্য তাঁর বিষয়ে দুতার্তের আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। শুধু বলেছেন, বিষয়টি দেখভাল করতে তিনি নিজের সহকারীদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এটা ‘গঠনমূলক ও কার্যকর আলোচনার সময়’।

শান্তিরক্ষা সফল করে তোলা

আগামীকাল বৃহস্পতিবারলন্ডনে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বা পিস মিশন আরও সফল করে তোলার বিষয়ে দিনব্যাপী আলোচনা। যুক্তরাজ্য ৭০টির বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা আনন্দিত যে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ এই আয়োজনের যৌথ উদ্যোক্তা হতে সম্মত হয়েছে; বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের মিশনে আপনারা ৭২ হাজারের ওপর শান্তিরক্ষী নিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে যে বিশাল অবদান রেখে চলেছেন, আমরা তার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নতুন এবং বিগত দিনের অকল্পনীয় সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। গত পাঁচ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘাতের ব্যাপকতা ঘটেছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমরা এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তিরক্ষা মিশনে বেশি বেশি শান্তিরক্ষী চাচ্ছি। শুধু বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা নয়, আমরা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান, আইনের শাসন ফিরে পেতে দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়া কিংবা জীবনরক্ষাকারী মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরাপদ করিডর তৈরির কাজেও শান্তিরক্ষীদের সহায়তা চাচ্ছি।
প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে, বিশ্বের যেকোনো স্থানে শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করার জন্য আমরা সুসজ্জিত এবং যথার্থ সক্ষমতাসম্পন্ন শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছি। এ লক্ষ্য অর্জনে শান্তিরক্ষা বা পিস কিপিংয়ের তিনটি ‘পি’, যেমন প্ল্যানিং বা পরিকল্পনা, প্লেজ বা অঙ্গীকার এবং পারফরম্যান্স বা কর্মসিদ্ধি—এই বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে। পরিকল্পনা বলতে আমরা বুঝি, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট করে জেনে, কাজ সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত সক্ষমতা চিহ্নিত করার মাধ্যমে যথাযথ স্থানে জাতিসংঘ মিশনকে নিয়োজিত করা। শান্তিরক্ষীদের নিয়োজিত করা থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার করা পর্যন্ত একটি মিশনের অবশ্যই লক্ষ্য সম্পর্কে সজাগ থেকে স্পষ্টভাবে সবকিছু অনুধাবন করতে হবে। অঙ্গীকারের অর্থ হচ্ছে, দেশগুলোর সেনা, পুলিশ ও সরঞ্জামাদি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। আলাদা আলাদা মিশনের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে আমাদের উচিত অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া। এর চমৎকার একটা উদাহরণ হতে পারে, মিশন কমান্ডারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে হাইতিতে বাংলাদেশের নারী পুলিশ ইউনিটের নিয়োজন। এ কারণেই সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদানে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য শান্তিরক্ষায় তার সেনাসংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। অনন্য প্রকৌশল–দক্ষতার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসস্থল গড়ে তুলেছে।
উপসংহারে বলতে পারি, আমাদের অবশ্যই মাঠপর্যায়ে কাজের উৎকর্ষ ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে শান্তিরক্ষীদের যথার্থ প্রশিক্ষণ প্রদান, সরঞ্জামাদি সরবরাহ এবং নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করতে হবে। মাঠে থাকতে হবে সাহসী ও যোগ্য নেতৃত্ব। এ জন্য যুক্তরাজ্য শুধু নিজের শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে না, শান্তিরক্ষী প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা দিচ্ছে, বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশনসের (বিআইপিএসওটি) মতো সহযোগীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এবং একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে বিকশিত করতে সাহায্য করছে যুক্তরাজ্য। গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ওবামা, এ লক্ষ্য অর্জনে শান্তিরক্ষা মিশনকে সহায়তা দিতে আয়োজন করেন লিডার্স সামিট। এই সম্মেলন ৫০টির বেশি দেশের তরফ থেকে সেনাসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির ক্ষেত্রে নতুন অঙ্গীকারের জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা যে কাজ শুরু করেছিলেন, সেই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সেই দেশগুলো এবার লন্ডনে উপস্থিত হয়েছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের হালচাল জেনে, একে আরও প্রসারিত করব আমরা। শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে আরও সেনা মোতায়েন করা, যেখানে নারীর যেন আরও শক্তিশালী ভূমিকা থাকে, সে বিষয়টিও আমরা দেখব।
এসব নতুন নতুন এবং ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করছে বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ অসহায় মানুষের জীবন। ব্যারোনেস অ্যানেলে: ফরেন ও কমনওয়েলথ অফিসে ব্রিটিশ কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘ–বিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ও সংঘাত–বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি।

প্রাচীন স্থাপত্য বাসুদেব মন্দির

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুপাতলা গ্রামের শ্রীশ্রী বাসুদেবের চারটি মন্দির প্রাচীন স্থাপত্য ও পুরাকীর্তির নিদর্শন। সপ্তম শতকে নির্মিত এ মন্দিরগুলোর এখন বেহাল দশা। চারটির মধ্যে তিনটি মন্দিরের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এগুলোর সংস্কার জরুরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এলাকাবাসীও অনেক দিন ধরে এসব মন্দির সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বাসুদেবের দোল মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দেয়ালে বটগাছ, শেওলা ও পরগাছা জন্মেছে। ঝুলন মন্দিরের সামনে প্রার্থনার স্থানেও ফাটল আছে। এ মন্দিরের দেয়াল থেকে খসে পড়েছে টেরাকোটা। বাসুদেবের মূল মন্দিরের দেয়ালের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। চারপাশে যথাযথ সীমানাপ্রাচীর না থাকায় মন্দিরগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিদিন অনেক ভক্ত আসেন, অথচ মন্দিরের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় যেকোনো সময় ভবন ভেঙে পড়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে।
এ ধরনের পুরোনো মন্দির বা যেকোনো পুরাকীর্তির সংস্কার ও সংরক্ষণ ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর্থিক অসংগতির কারণে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এগুলো সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে বা নিজেদের মতো করে এর সংস্কারের উদ্যোগ যথাযথ হতে না–ও পারে, কারণ পুরাকীর্তি সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও কৌশল নিতে হয়। দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের। বিয়ানীবাজারের বাসুদেবের মন্দিরগুলো সংস্কার করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে আমরা তাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়া না হলে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাক্ষী এসব মন্দির কালের গহ্বরে হারিয়ে যাবে। দেশের প্রাচীন স্থাপত্য ও পুরাকীর্তি যথাযথ সংরক্ষণ করতে পারাটা একটি সভ্য দেশ ও জাতির লক্ষণ। শুধু বাসুদেবের মন্দির নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও ধ্বংসের মুখে যেসব প্রাচীন স্থাপনা ও পুরাকীর্তি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।

এশিয়ায় থাকতে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র

এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামা বলেছেন, তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও এ অঞ্চলে যুক্ত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখানে থাকতে এসেছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১১তম ও শেষবারের মতো এশীয় অঞ্চলে সফরে রয়েছেন তিনি। খবর এএফপির। ওবামার আট বছরের শাসনামলে এ অঞ্চলে তার ‘পিভট টু এশিয়া’ নীতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতা থেকে সরে গেলেও এশিয়ায় মার্কিন নীতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে মনে করেন। লাওসের ভাষণে ওবামা বলেন, ‘এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নতুন নয়। আর এটা ফুরিয়েও যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ছিল এশীয় দেশ ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা।’ এই নতুন সম্পর্ক স্থায়ী হবে বলেও আশাবাদী তিনি।
ওবামা বলেন, ‘আমরা এখানে থাকতে এসেছি। সুখের সময় হোক, আর দুঃখের সময় হোক আপনারা যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাবেন।ভাষণে চীনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন ওবামা। উদীয়মান বিশ্বশক্তি চীন এশিয়ায় মার্কিন প্রবেশকে সন্দেহের চোখে দেখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বেইজিংয়ের উত্থানকে ওয়াশিংটন স্বাগত জানায়। তবে সেটা শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল ও উন্নয়নমূলক হবে। আমরা সবাই তাতে উপকৃত হব।’ পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্যের প্রতিবাদ করে ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিমান উড্ডয়ন ও নৌ পরিচালনা করবে এবং মিত্রদেরও তাতে সহায়তা করবে। ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন ওবামা। উত্তর কোরিয়াকে হুশিয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, উসকানিমূলক আচরণ দেশটিকে আরও একঘরে করে তুলবে। ওবামা বলেন, ‘আজ পার্কের (দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট) সঙ্গে আমার বৈঠকে নিশ্চিত করতে চাই আমাদের সম্পর্ক কখনো ভাঙার নয়। এটা আরও মজবুত হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
তাই উত্তর কোরিয়ার বোঝা উচিত তাদের উসকানিমূলক আচরণে তারা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’ লাওসকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ : লাওসের ভূমি থেকে প্রায় ৮ কোটি অবিস্ফোরিত গুচ্ছবোমা অপসারণের জন্য ৯ কোটি ডলার সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে দেয়া এক বক্তব্যে ওবামা বলেন, ‘মার্কিনিদের গোপন বোম্বিং মিশনের কারণে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দেশটির অনেক অঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই লাওসকে সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’ সিএনএন জানায়, এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট লাওস ভ্রমণে গেলেন। সেখানে তিন দিনের যাত্রা বিরতি করবেন তিনি। বিরতির প্রথম দিন লাওসের জনগণের উদ্দেশে অর্থ সাহায্যের ঘোষণা দেন ওবামা। আগামী তিন বছরে কয়েক ধাপে এ অর্থ দেয়া হবে লাওসকে। ওবামা বলেন, ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধের এতদিন পরও এখনও যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লাওসের মানুষ। কিছু বোমা এখনও অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে আছে।
কৃষকরা জমি চাষ করতে গিয়ে অথবা শিশুরা খেলতে গিয়েও এসব বোমার বিস্ফোরণ ঘটছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমি অর্থ বরাদ্দ দিলাম।’ লাওসের প্রেসিডেন্ট বাউনহাং ভোরাচিত ওবামার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘এখনও প্রতিবছর গড়ে ৫০ জন মারা যাচ্ছে এসব বোমার বিস্ফোরণে।’ এদিকে এখন পর্যন্ত অবিস্ফোরিত বোমার মাত্র ১ শতাংশেরও কম পরিমাণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় মার্কিনভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা। ৪০ বছর আগে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কয়েক কোটি গুচ্ছবোমা নিক্ষেপ করা হয় মার্কিন বোমারু বিমান থেকে। বিশ্বব্যাপী পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত বোমাগুলো উদ্ধারের জন্য এ বছর প্রায় ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে নিজেদের আরও দায়িত্ববান হওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন।

জঙ্গিদের কাঁচা খেয়ে ফেলব : দুতের্তে

ফিলিপাইনের ‘আবু সায়াফ’ জঙ্গিদের প্রকাশ্যে ছিঁড়ে খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে। এএফপি জানায়, লাওসের এক আঞ্চলিক সম্মেলনে ফিলিপাইনের নাগরিকদের সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগেও তিনি ইসলামী জঙ্গি সংগঠনটিকে উদ্দেশ্য করে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। ৭১ বছর বয়সী দুতের্তে বলেন, ‘আমি যদি একবার খুঁজে পাই, তোমরা দেখবে আমি মানুষ খেতে পারি। আমি তোমাদের জ্যান্ত ছিঁড়ে খাব। আমাকে শুধু লবণ আর ভিনেগার দাও, আমি তোমাদের কাঁচাই খেয়ে ফেলব।’
গত মাসে সন্দেহভাজন আবু সায়াফ জঙ্গিদের হামলায় ১৫ জন সেনা নিহত এবং গত সপ্তাহের বোমা হামলায় আরও ১৪ নাগরিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটাই সত্য যে- আমাকে রাগিয়ে দিলে আমি জীবন্ত অবস্থাতেই খেয়ে ফেলব তাদের।’ এরপর আবু সায়াফকে উদ্দেশ করে এ অগ্নিপুত্র প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আরও বোমা পুঁতে রাখো। এগিয়ে যাও তোমরা। খুব শিগগিরই আমি তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেব।’ এএফপি জানায়, ৩০ জুন রোমান ক্যাথলিক অধ্যুষিত ফিলিপাইনের দায়িত্ব নেয়ার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তিকে হত্যা করেন তিনি। দুতের্তের ‘ওয়ার অন ক্রাইমে’র অংশ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৪৪ জনকে খুন করা হচ্ছে দেশটিতে।

মামুনুলকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে!

জাতীয় ফুটবল দল থেকে অধিনায়ক মামুনুল ইসলামকে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে জাতীয় দলের বেলজিয়ান কোচ টম সেন্টফিটকে। সোমবার ভুটান ম্যাচের জন্য ঘোষিত দল থেকে বাদ দেয়ায় আবেগপ্রবণ হয়ে অবসরের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন মামুনুল ইসলাম। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) একটি প্রভাবশালী মহল অনেকদিন ধরেই মামুনুলের ওপর চটে ছিল। প্রায় বছরদুয়েক আগে মামুনুলের সঙ্গে বাফুফের এক কর্মচারীর বাদানুবাদের জের ধরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বাফুফের সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তদন্ত করার জন্য। ওই কর্মচারীর অভিযোগ ছিল, জাতীয় দলের অধিনায়ক বাফুফের মহিলা কমিটির তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) মাহফুজা আক্তার কিরনকে গালাগাল দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময় মামুনুল শেখ জামালের খেলোয়াড় থাকায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি ওই মহল। কেননা, তখন শেখ জামালের সভাপতি মনজুর কাদেরের প্রচণ্ড প্রভাব ছিল বাফুফেতে। মামুনুলকে বলা হয়েছিল, কিরনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাপারটি মিটমাট করে নিতে।
কিন্তু তাতে রাজি হননি এই মিডফিল্ডার। বিষয়টি তখন ধামাচাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে কাদেরের সঙ্গে বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাপে-নেউলে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। মামুনুলও শেখ জামাল ছেড়ে চট্টগ্রাম আবাহনীতে যোগ দেন। চট্টগ্রাম আবাহনীর শীর্ষ কর্মকর্তা শামসুল হক চৌধুরী এমপি ও তরফদার রুহুল আমিনের খুঁটির জোর থাকায় মামুনুলের কিছু করতে পারছিল না ওই মহল। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে তাকে সরে যেতে বাধ্য করে সেই প্রতিশোধ নেয়া হয়। অবসরের ঘোষণা দেয়া মামুনুল মঙ্গলবার যুগান্তরের প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতিকে আরও অনেক কিছু দেয়ার সুযোগ ছিল আমার। দেশের জন্য ২/৩ বছর অনায়াসেই খেলতে পারতাম। কিন্তু সেই সুযোগ পেলাম না। কোচ আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলেছেন, তা সত্যি নয়। নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ বাফুফের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই আমাদের খেলার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু এখন কোচ বলছেন অন্য কথা।’ মামুনুল বলেন, ‘জাতীয় দল থেকে আমি অবসর নিয়েছি এটাই সত্যি। দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলাম। এটাই আমার কষ্ট। সোমবার সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বারবার মনে পড়ছিল, খেলার মাঠের কথা।’

বেকার মিলন

সবদিকেই চলছে নিয়ম না মানার মহড়া। অনিয়মনে ভরে গেছে পুরো দেশ। চাকরি ক্ষেত্রে চলছে ঘুষ-বাণিজ্য। তরুণরা চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন। সেখানে চলছে ক্ষমতার দাপট। আর কত কত সমস্যা! অনেকেই ভেবে থাকেন সমস্যাগুলো যদি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যেত। তাহলে কতই না ভালো হতো। ঠিক তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতেই হঠাৎ শহরে হাজির হন এক ম্যাজিশিয়ান। যিনি মন্ত্রের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান দিতে পারেন। তবে বিষয়টি দেখা যাবে বিটিভির নাটকের একটি গল্পে। নাটকের নাম ‘ম্যাজিশিয়ান’। এর নাম ভূমিকায় থাকছেন হাসান ইমাম।
নাটকে বেকার তরুণের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন। এ প্রসঙ্গে মিলন বলেন, ‘অনিয়মের কারণে মানুষের জীবনে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয় তারই অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে নাটকে। আমরা ভালো থাকার জন্য অনেক কিছু কল্পনা করি। সেই কল্পনাগুলোই একজন ম্যাজিশিয়ান বাস্তবে রূপ দেয়। প্রতি সপ্তাহের বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বিটিভিতে দেখা যাবে ‘ম্যাজিশিয়ান’। মাসুম শাহরিয়ারের রচনা ও ফারুক খান টিটুর পরিচালনায় এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ড. ইনামুল হক প্রমুখ।