Wednesday, November 26, 2025
বোরকা অবমাননা, অস্ট্রেলিয়ার সেই নারী সিনেটর বহিষ্কার
সোমবার তিনি জনসমক্ষে বোরকা ও অন্যান্য মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার বিল উপস্থাপনের অনুমতি না পাওয়ার পর প্রতিবাদস্বরূপ সিনেটে বোরকা পরে প্রবেশ করেন। তার এই আচরণ মুসলিম আইনপ্রণেতাসহ বহু সিনেটরের কাছে সরাসরি বর্ণবাদী ও অবমাননাকর হিসেবে বিবেচিত হয়। সিনেটের কেন্দ্রীয় বাম দল লেবার সরকারের নেতৃত্বে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলেন, সিনেটর হ্যানসনের এই ঘৃণাত্মক ও তুচ্ছ প্রদর্শনী আমাদের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যা অস্ট্রেলিয়াকে দুর্বল করার সামিল। এর নিষ্ঠুর প্রভাব পড়ে আমাদের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর। তিনি আরও বলেন, হ্যানসন পুরো একটি ধর্মকে উপহাস ও হেয় করেছেন। উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় দশ লাখ মুসলিম রয়েছে। হ্যানসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবটি ৫৫-৫ ভোটে পাস হয়।
বর্ধমান জাতীয়তাবাদী মনোভাব ও অভিবাসনবিরোধী রাজনীতি কাজে লাগিয়ে হ্যানসনের ওয়ান নেশন পার্টি গত মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে সিনেটে আরও দুইটি আসন পেয়ে এখন চারটি আসনের দলের রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে হ্যানসন ও তার দলের প্রতি সমর্থন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্যানসন অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদে পোশাকবিধি নেই, তাই বোরকা পরা নিয়েও প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত জনগণই এর বিচার করবে।
কুইনসল্যান্ডের এই সিনেটর ১৯৯০-এর দশকে এশিয়া থেকে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিচিতি পান। ইসলামী পোশাকের বিরুদ্ধেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এর আগে ২০১৭ সালেও তিনি সংসদে বোরকা পরে প্রবেশ করে দেশব্যাপী বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পকে বশে রাখতে সি চিন পিংয়ের তুরুপের তাস by মার্ক লিওনার্ড
ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে লাগাতার চাপে রাখবেন। তবে বাস্তবে তার উল্টোটি ঘটে গেছে।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে যেসব শীর্ষ চীনা অধ্যাপক ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাঁদের সবাই একমত—সির আন্তর্জাতিক কৌশল পুরোপুরি সফল হয়েছে এবং ক্রমে ভেঙে যাওয়া বহু মেরুর বিশ্ব আজ চীনের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করছে।
চীনা ভাবনা অনুযায়ী, আমরা একটি দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বায়নবিরোধী যুগে প্রবেশ করছি। দারিদ্র্য থেকে দেশকে তুলে আনতে চীন বহু বছর ধরে রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করেছে। এ প্রেক্ষাপটে এমন একটি যুগ তাদের জন্য সমস্যা বলে মনে হতেই পারে। তবে চীনা নেতারা এ নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন।
চীনা নেতাদের মতে, শীতল যুদ্ধের পর যে বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল একটি একক বৈশ্বিক বাজার বানানো এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ছড়িয়ে দেওয়া। অথচ আজ একক বাজারের বদলে বিশ্ব তিনটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ব্লকে ভাগ হয়ে গেছে।
ব্লকগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উত্তর আমেরিকা (যার মধ্যে মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা অন্তর্ভুক্ত)। দ্বিতীয়টি হলো নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে হিমশিম খাওয়া একটি উদীয়মান ইউরোপীয় পরিসর। তৃতীয়টি হলো এমন এক বিস্তৃত চীনা পরিধি, যেখানে আছে আসিয়ানের সদস্যদেশগুলো, দক্ষিণ আমেরিকার বড় অংশ, আফ্রিকার বহু দেশ ও সমগ্র গ্লোবাল সাউথের বিস্তৃত অঞ্চল।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জায়গায় চীনারা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্র ও উদারতাবিরোধী গণতন্ত্রের আরও বিস্তার দেখতে পাচ্ছেন। বিশ্বায়নের ধারণা ছিল, ব্যক্তিস্বাধীনতা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে অতিক্রম করবে এবং স্বৈরতন্ত্রের ওপর উদারবাদী গণতন্ত্র জয়ী হবে।
কিন্তু আমার চীনা আলাপসঙ্গীরা বলছেন, এখন পরিস্থিতি উল্টো; এই বিশ্বে মানবাধিকারের ওপর বারবার সার্বভৌমত্বকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যখন কিছুটা কর্তৃত্ববাদী আচরণ দেখাচ্ছে, তখন বিশ্বে যারা স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটতে চায়, তাদেরও আগের মতো ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
আমার আলাপসঙ্গীদের বিশ্বাস, এ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও কর্তৃত্ববাদী পন্থায় ঝুঁকে পড়া প্রবণতা বিশ্বরাজনীতিকে আবার সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ও নিয়মকানুন নয়; বরং শাসকদের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যক্তিত্বই রাজনীতিকে চালাবে।
ভৌগোলিক বাস্তবতা, শক্তির ভারসাম্য বা সম্পদের মতো কাঠামোগত উপাদানের চেয়ে এখন নেতাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও তাঁদের ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।
আমার আলাপসঙ্গীরা মনে করেন, সামনের দিনগুলোতে ব্যক্তিগত স্বার্থ জাতীয় স্বার্থকে ছাপিয়ে যাবে। নেতাদের মধ্যে চুক্তি হবে, কিন্তু সেটি আসলে আনুষ্ঠানিক ‘চুক্তিপত্র’ অ্যাগ্রিমেন্ট হবে না, হবে ‘ডিল’। সেখানে প্রাধান্য পাবে ব্যক্তিগত ‘ইগো’, কোনো মতাদর্শ নয়।
এর অর্থ দাঁড়ায়—আজকের বাজারে যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চলছে, তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিনির্ভর ও অনির্দেশিত হয়ে উঠছে। বিশেষত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে যে অবস্থা ছিল, এর পর থেকে এমনটা আর হয়নি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়ে বিশ্বের ভাগ্য নির্ভর করত রুশ জার নিকোলা দ্বিতীয়, জার্মান কাইজার ভিলহেলম দ্বিতীয় ও হ্যাবসবার্গ সম্রাট ফ্রানৎস জোসেফের ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির ওপর। আর আজ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ট্রাম্প, সি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং তাঁদের মতো আরও অনেক নেতা।
চীনারা মনে করেন, এ নতুন বিশ্বের বাড়বাড়ন্ত দ্রুততর করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ট্রাম্প। তাঁদের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রকল্পের দুটি লক্ষ্য আছে। প্রথম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন অঞ্চলে এমন নিরাপত্তাকাঠামো তৈরি করা, যেখানে বড় শক্তিগুলোর মোকাবিলার ‘কঠিন কাজগুলো’ যুক্তরাষ্ট্র অন্যদের ওপর ছেড়ে দেবে। এতে ইউরোপীয়রা রাশিয়াকে ঠেকানোর দায়িত্ব নেবে; জাপান ও অস্ট্রেলিয়া চীনকে ভারসাম্যে রাখার কাজ আরও বেশি করে করবে; আর ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো সামলাবে ইরানকে।
এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। ট্রাম্পের সেই দ্বিতীয় লক্ষ্যটি হলো বিশ্বের অন্য বড় নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়া ও তাঁদের সঙ্গে ‘ডিল’ করার দিকে মনোযোগ দেওয়া। সে ডিলগুলো হতে পারে পুতিনের সঙ্গে অ্যাঙ্কোরেজে, সির সঙ্গে বুসানে বা ভবিষ্যতে কোনো একদিন ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে অন্য কোথাও।
চীনারা অবশ্যই এ ধরনের ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাবেন। কারণ, তাঁরা বহুদিন ধরেই একধরনের ‘অরাজকতামুখী বিশ্ব’ বা অগোছালো আন্তর্জাতিক পরিবেশের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে কিছু লোক এটিকে এক বিরল সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ান নিয়ে কোনো বড় ডিল করার সুযোগও করে দিয়েছে এ ব্যবস্থা। তাঁরা এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা কল্পনা করেন, যেখানে তাইওয়ানের বিদ্যমান কার্যত স্বাধীনতা শেষ হয়ে যাবে। এর বদলে ট্রাম্প শুধু অস্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দেবেন—বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতে এখন যে নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে, তা আপাতত যেমন আছে তেমনই রাখা হবে।
কিন্তু প্রভাববলয় ভাগ করা একটি বৈশ্বিক ঝুঁকিও তৈরি করে। এ কারণেই চীন বহুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল দিকগুলো খুঁটিয়ে দেখছে এবং এমন সব কৌশলগত পয়েন্ট চিহ্নিত করছে, যেগুলোকে প্রয়োজনে চাপ হিসেবে, মানে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
যেমন বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সত্যিই অপ্রস্তুত করে ফেলেছে এবং আলোচনার টেবিলে টেনে এনেছে। এটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে সি ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের অনুকূল একটি চুক্তি নিশ্চিত করেছেন।
তবে বাইরের দিক থেকে চীনকে যতটা আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, আমার আলাপসঙ্গীদের দেওয়া ইঙ্গিত অনুসারে ততটা আত্মবিশ্বাসী তাঁরা নন। কারণ, তাঁদের দেশের ভেতরে দুর্বলতা ও অস্থিরতার বেশ কিছু উৎস রয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল হচ্ছে। আর স্থানীয় সরকারগুলোর বিপুল ঋণ এখনো বড় সমস্যা হয়ে আছে।
* মার্ক লিওনার্ড, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের পরিচালক
- স্বত্ব : প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১২,০০০ বছর পর ইথিওপিয়ায় অগ্ন্যুৎপাত, বিষাক্ত ধোঁয়া-ছাই দিল্লিতে, পৌঁছে যাবে চীনেও
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানায়, এই ছাইয়ের মেঘ চীনের দিকে সরে যাচ্ছে এবং সোমবার সন্ধ্যা ৭:৩০টার মধ্যেই ভারতের আকাশ থেকে সরে যাবে। আইএমডি বলেছে, উচ্চস্তরের বায়ু ইথিওপিয়া থেকে ছাইয়ের মেঘকে লোহিত সাগর পার করে ইয়েমেন, ওমান এবং পরে আরব সাগর হয়ে ভারতের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের দিকে নিয়ে এসেছে।
ভারতের বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি উপদেশ জারি করে বলেছে, বিমানগুলোকে অবশ্যই আগ্নেয়গিরির ছাই-প্রভাবিত এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট-লেভেলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে এবং সর্বশেষ সতর্কতার ওপর ভিত্তি করে রুট ও জ্বালানি পরিকল্পনা সমন্বয় করতে হবে। ডিজিসিএ এয়ারলাইনগুলোকে নির্দেশ দেয়, কোনো সন্দেহজনক ছাইয়ের সাথে সংঘর্ষ হলে তা অবিলম্বে জানাতে হবে। বিশেষ করে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া বা কেবিনে ধোঁয়া/গন্ধ পাওয়া গেলে। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেটসহ একাধিক এয়ারলাইনে এর প্রভাব পড়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পরে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় উড়ে যাওয়া কিছু বিমানের সতর্কতামূলক পরীক্ষা করার জন্য তারা ১১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আছে- নিউওয়ার্ক-দিল্লি, নিউইয়র্ক-দিল্লি, দুবাই-হায়দরাবাদ, দোহা-মুম্বই, দুবাই-চেন্নাই, দাম্মাম-মুম্বই, দোহা-দিল্লি, চেন্নাই-মুম্বই, হায়দরাবাদ-দিল্লি ইত্যাদি। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সে লিখেছে- আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে যাওয়া এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ইন্ডিগো জানিয়েছে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সব ধরনের সতর্কতা নিচ্ছে। তারা এক্সে বলেছে, ইথিওপিয়ার হাইলি গাবি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পরে ছাইয়ের মেঘ ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ভেসে আসছে। আমরা জানি এই খবর উদ্বেগ তৈরি করতে পারে এবং আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই- আপনাদের নিরাপত্তাই আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। একজন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ জানান, এই ছাইয়ের মেঘে মূলত সালফার-ডাই-অক্সাইড আছে। আর আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মাত্রা কম থেকে মাঝারি। ইন্ডিয়া মেট স্কাই ওয়েদার জানিয়েছে, গাবি আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মেঘ দিল্লি, এনসিআর, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে পৌঁছাতে আর ১০-৩০ মিনিট লাগবে। এতে মূলত সালফার ডাই অক্সাইড রয়েছে এবং মাঝারি মাত্রায় আগ্নেয় ছাই রয়েছে। বিশেষজ্ঞ আরও বলেন- এটি নেপালের পাহাড়ি অঞ্চল, হিমালয় এবং উত্তরপ্রদেশের টেরাই অঞ্চলে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়াবে। কারণ মেঘের কিছু অংশ পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে পরে চীনের দিকে সরে যাবে।
ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে হাইলি গাবি আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত করে ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশে ঘন ধোঁয়ার স্তম্ভ তুলেছে। তাতে বহু গ্রাম ছাইয়ে ঢেকে যায়। এই আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং রিফট ভ্যালি অঞ্চলে পড়ে। সেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয় এবং ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ অত্যন্ত প্রবল। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ঘন সাদা ধোঁয়ার স্তম্ভ উপরে উঠে যাচ্ছে।
আফার অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এবং এক বাসিন্দা বলেছেন তিনি একটি প্রচণ্ড শব্দ শুনেছেন যা একটি ‘শক ওয়েভ’-এর মতো লেগেছিল। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল ভলকানিজম প্রোগ্রাম জানায়, হাইলি গাবি হোলোসিন যুগে, যা শেষ আইস এজের পরে প্রায় ১২,০০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল, তারপর থেকে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের রেকর্ড নেই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আল্লাহকে নিয়ে বাউলের করা ‘কটূক্তি’র অভিযোগের প্রতিবাদ দ্য রেড জুলাইয়ের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্দেশে মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘আপনারা আপনাদের ভুল স্বীকার করবেন কি না, তা জানান।’ প্রতিবাদী বাউল সন্ধ্যা আয়োজন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের একজন সেখানে এসে গান গেয়েছেন এবং পক্ষ নিয়েছেন। আমরা তাঁর কাছে জানতে চাই, কোন উদ্দেশ্যে তিনি ওনার পক্ষ নিয়েছেন।’
ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের উদ্দেশে করে মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘আপনারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করেন। অথচ আল্লাহকে নিয়েই গালি দেওয়া হলো, কিন্তু আপনারা পক্ষেও গেলেন না, বিপক্ষেও গেলেন না। আপনারা যাবেন কোন দিকে?’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি অভিযুক্ত তাদের শাস্তি দিন। অন্যদের ওপর মব করবেন না। একজনের শাস্তি আরেকজনকে দেবেন না।’
পরে দ্য রেড জুলাইয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে ধর্ম অবমাননার সুস্পষ্ট অভিযোগে আবুল সরকার নামক এক বাউলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় এক শ্রেণির লোক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছি, এটি কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত হানার শামিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এই গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। আমরা আরও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে মূল অপরাধকে আড়াল করে “কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার” এমন শিরোনাম ব্যবহার করে মিডিয়ায় পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়টিকে “সংস্কৃতি”, “বাক্স্বাধীনতা” বা “শিল্প ও শিল্পীর ওপর আঘাত” হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর সমর্থকেরা ‘ভিক্টিম কার্ড’ ব্যবহার করে অপরাধ ঢাকতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া ও গোষ্ঠী এ ধরনের অপপ্রয়াসে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে, যা ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা তৈরি করছে। আমরা এই দায়িত্বহীনতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানাই।’
এতে আরও বলা হয়, ‘দ্য রেড জুলাই সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, আমরা কোনোভাবেই আইন হাতে নেওয়ার প্রবণতাকে সমর্থন করি না। যদি কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তা–ও রাষ্ট্রের সুশাসনের ঘাটতির কারণে ঘটেছে। আমাদের অবস্থান হলো, রাষ্ট্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীকে রক্ষা করা, তার দোষ লঘু করা কিংবা জনতার ন্যায়সংগত ক্ষোভকে উল্টো দোষারোপ করার চেষ্টা—এসবই ন্যায়বিচার থেকে সরে আসার শামিল।’
এতে বলা হয়, ‘আমরা রাষ্ট্রের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, সমস্ত বিভ্রান্তি ও ভ্রান্ত প্রচারণার অবসান ঘটিয়ে, কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর চাপ বিবেচনা না করে মহান আল্লাহর অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক, কঠোর ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর যেসব অপপ্রয়াস চলছে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
![]() |
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘বাউল কর্তৃক আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’র প্রতিবাদে কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করে দ্য রেড জুলাই নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘রাজসাক্ষী’কে কি সাজা দেওয়া যায় by রাইসুল সৌরভ
এ-সংক্রান্ত প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যরা মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড মেনে নিতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কমপক্ষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি করেছে। অন্যদিকে আইন অঙ্গনের কেউ কেউ মনে করছেন, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে তাঁকে খালাস দেওয়া উচিত ছিল।
আইসিটি আইনের ১৫ ধারায় অ্যাপ্রুভার বা অনুমোদনকারী শব্দটি রয়েছে; যদিও আইনের কোথাও এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। শব্দটি উল্লিখিত ধারার মূল অংশেও নেই; শুধু ধারার শিরোনাম/প্রান্তিক নোটে রয়েছে। দেশে প্রচলিত ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধিতেও (সিআরপিসি) শব্দটির কোনো উল্লেখ বা সংজ্ঞা দেওয়া নেই।
সাধারণত অ্যাপ্রুভার বা বহুল প্রচলিত রাজসাক্ষী বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত বা জড়িত বলে মনে করা হয়; যিনি ক্ষমা পাওয়ার শর্তে নিজের দোষ স্বীকার করে ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য সব দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর জ্ঞানত পূর্ণাঙ্গ ও সত্য সাক্ষ্য প্রদান করতে রাজি হন।
এসব ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি দেন, অপরাধের ব্যাপারে তাঁর যতটুকু জ্ঞান আছে, ততটুকু তিনি পুরোপুরি সততার সঙ্গে প্রকাশ করবেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাঁদের কথাও তিনি অকুণ্ঠভাবে বলবেন। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যক্তিকে আইনানুসারে আটক রাখা হয়। সাধারণত গুরুতর ও জটিল প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে প্রমাণের অভাবে যেন বিচার অনিষ্পন্ন থেকে না যায়, সে জন্য আইনে এ ধরনের বিধান রাখা হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭, ৩৩৮ ও ৩৩৯ ধারায় রাজসাক্ষী কে হবেন, রাজসাক্ষীকে ক্ষমা করা ও বিচারপদ্ধতির বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপ্রুভার–সংক্রান্ত বিধান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৫ ধারায় দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন বিচার শেষে ক্ষমা প্রদান করা হয়, সেসব ক্ষেত্রে তাঁকে সর্বদা ক্ষমা প্রদানের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে জানাতে হয়। পুলিশের সাবেক প্রধান চৌধুরী মামুন হলেন আইসিটি আইনের অধীন অ্যাপ্রুভার হিসেবে ঘোষিত প্রথম ব্যক্তি এবং সম্ভবত সে কারণেই তাঁর নমনীয় শাস্তির উপযুক্ততা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযোগ শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি দোষী নাকি নির্দোষ। সেই মুহূর্তে পুলিশের সাবেক প্রধান নিজের দোষ স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘আমি দোষ স্বীকার করছি। আমি স্বেচ্ছায় মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ঘটনার সম্পূর্ণ ও সত্য বিবরণ প্রকাশ করতে ইচ্ছুক।’
ফলে ট্রাইব্যুনাল তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাঁকে মামলার একজন অ্যাপ্রুভার হিসেবে গণ্য করেন। তার পর থেকে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন এবং এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এখন গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠেছে যে মামলার অভিযুক্ত একজন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীকে কি শাস্তি প্রদান করা উচিত, নাকি শর্ত পূরণ করলে খালাস পাওয়া উচিত?
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আগেই রাজসাক্ষী চৌধুরী মামুনের ভাগ্য সম্পর্কে বলেছিলেন যে এটি পুরোপুরিভাবে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করলে তাঁকে ক্ষমা করতে পারেন; যদি তাঁর সাক্ষ্যের মাধ্যমে অপরাধের পূর্ণ ও সত্য প্রকাশ পায় অথবা ট্রাইব্যুনাল চাইলে অন্য কোনো আদেশও দিতে পারেন।
আইসিটি আইনে বর্ণিত এই ক্ষমার শর্তগুলো হলো অ্যাপ্রুভার কর্তৃক ১. পরিপূর্ণ (আংশিক নয়) ২. সত্য (বানোয়াট নয়) ও ৩. সম্পূর্ণ ঘটনার প্রকাশ। এই মামলায় ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছেন যে সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে সাক্ষী হিসেবে অভিযোগ প্রমাণে সাবেক আইজিপির ভূমিকা/ অবদান/ স্বীকারোক্তি/ সহযোগিতা বিবেচনা করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে তিনি শর্ত পূরণ করেছেন। এ কারণে তাঁকে তাঁর সহ-অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তুলনায় কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে; যদিও ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে একসঙ্গে ঘটনায় উসকানি, গণহত্যার আদেশ প্রদান, উচ্চপদস্থ দায়িত্বের অধীন অপরাধ ও যৌথ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষীকে খালাস না দিয়ে সাজা দেওয়ার সুযোগ কখন থাকে। এই প্রশ্নের উত্তর হলো, যদি সাক্ষী উপরিউক্ত শর্ত পূরণ না করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ক্ষমা না করে তাঁকে শাস্তি দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে যার জন্য ক্ষমা করা হয়েছিল, সেই মূল অপরাধের জন্য বিচার করা যেতে পারে এবং ক্ষমাপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেওয়া তাঁর নিজের স্বীকারোক্তি/বিবৃতি সেই বিচারে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। তা ছাড়া যদি সাক্ষী ক্ষমার আওতায় পড়েন না—এমন কোনো ভিন্ন অপরাধ করেছেন বলে বিচারে প্রমাণিত হয়, তবে তাঁকে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। অতএব আইসিটি আইনের ১৫ ধারার অধীন উল্লিখিত ক্ষমা অ্যাপ্রুভারের সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সম্পূর্ণ দায়মুক্তি প্রদান করে না।
তবে জটিলতা এখানেই শেষ হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইসিটি আইনে ব্যবহৃত ক্ষমা শব্দটির অর্থ কী? এর অর্থ কি খালাস, নাকি যা দেওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে কম শাস্তি? বিভ্রান্তি এড়াতে আদালতের কাছ থেকে এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন। যদিও প্রচলিত ফৌজদারি মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন বিচার করা হলে শর্ত ভঙ্গ না করলে সাধারণত খালাস দেওয়া হয়। তবে আইসিটি আইনের ২৬ ধারা অনুসারে, এই বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেশে প্রচলিত সাক্ষ্য আইন কার্যকর হবে না।
এই আইনি জটিলতা নিরসনে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, জুরিস্প্রুডেন্স ও এরই মধ্যে সংঘটিত বিচারব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে পারি। সে ক্ষেত্রে দেখা যাবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির ৬৫ অনুচ্ছেদে অপরাধ স্বীকারের ওপর একটি আইনি কাঠামো ও বিধান রয়েছে। তবে সেখানে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি আমলে নিতে বাধ্য নন এবং আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে ১. অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর দ্বারা প্রদেয় স্বীকারোক্তির প্রকৃতি ও পরিণতি বোঝেন, ২. আইনজীবীর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে ইচ্ছুক এবং স্বীকারোক্তি মামলার অন্যান্য তথ্য দ্বারা সমর্থিত।
তবে রোম সংবিধিতে স্পষ্ট যে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকারোক্তি দিলেও তিনি অভিযুক্তই থাকেন; আমাদের আইসিটি আইনের মতো রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের সাক্ষীতে রূপান্তরিত হন না। আবার অভিযুক্ত ব্যক্তি উপর্যুক্ত প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করলেও আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত হলে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারেন।
অতএব, রোম সংবিধির ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে স্বীকারোক্তি দেবেন—এই শর্তে অভিযুক্তের জন্য পূর্বনির্ধারিত বা নমনীয় শাস্তির প্রদানের কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) কর্তৃক গৃহীত অপরাধ স্বীকারোক্তি-সংক্রান্ত চুক্তির নির্দেশিকা অনুসারে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির চেয়ে আদালতের স্বাধীন কর্তব্যের ওপর সব সময় জোর দেয়। বিচারকদের কেবল পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি নয়; বরং প্রসিকিউটরের দ্বারা উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণ, যার মধ্যে ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব এবং অন্যান্য উৎস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে; তা-ও পরীক্ষা করতে হবে যেন মামলা-সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ হয় এবং ন্যায়বিচার করা যায়।
এ ছাড়া নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্বারা অপরাধ স্বীকার সম্পর্কে অভিযোগকারী/ ক্ষতিগ্রস্ত/ ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত করতে হবে এবং তাঁদের মতামত এবং উদ্বেগ উপস্থাপন করার সুযোগ দিতে হবে যেন বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি তাঁদের স্বার্থকে উপেক্ষা করতে না পারেন। অথচ আমাদের আইসিটি আইনে এ-সম্পর্কিত কোনো বিধানই নেই!
আবার সাবেক যুগোস্লাভিয়া (আইসিটিওয়াই) এবং রুয়ান্ডায় (আইসিটিআর) ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন আইসিটিওয়াইয়ের বিধি ৬২ টিইআর এবং আইসিটিআরের ৬২ বিআইএসের অধীন স্বীকারোক্তি-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিধান রয়েছে। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট অভিযোগের জন্য দোষ স্বীকার করতে পারেন, তবে সাধারণত তা প্রসিকিউটরের সঙ্গে আলোচনার পর করা হয়ে থাকে। যেখানে প্রসিকিউটর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তির বিনিময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ প্রত্যাহার বা শাস্তি কমাতে সুপারিশ করতে সম্মত হন।
তবে ট্রায়াল চেম্বার প্রসিকিউটর ও অভিযুক্তের মধ্যকার এই চুক্তি মানতে বাধ্য নন। বিচারকদের যাচাই করতে হয় যে আবেদনটি স্বেচ্ছায় করা হয়েছে, এর পরিণতি সম্পর্কে তিনি অবহিত ও দ্ব্যর্থহীন ছিলেন এবং অপরাধের জন্য যথেষ্ট তথ্যগত ভিত্তি বিদ্যমান ছিল। এসব ক্ষেত্রে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে বিচারক তাঁকে যথোপযুক্ত সাজা দিতে পারেন। তবে দোষ স্বীকার করে নেওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ হ্রাস করা হয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনশাস্ত্রে কোনো অপরাধীকে ক্ষমা বা খালাস দেওয়ার বিষয়টি বোঝার জন্য আমাদের প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের লক্ষ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং বিচারের মাধ্যমে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা, পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা।
অন্যদিকে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় একতরফাভাবে ক্ষমা করে দিলে এই উদ্দেশ্যগুলো দুর্বল হয়ে যাবে। শাস্তি ব্যক্তির অপরাধ ও অপরাধের গুরুত্ব প্রতিফলিত করার জন্য দেওয়া হয়; অপর পক্ষে ক্ষমা কৌশলে বিচারিক প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যায়।
সুতরাং চৌধুরী মামুনের মতো একজন অপরাধী, যিনি পুলিশের প্রধান হিসেবে ঘটনার সময় উচ্চপদস্থ দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর নির্দেশে ও সহায়তায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে এবং যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আদালতে স্বীকার করেছেন, তাঁকে খালাস দিলে ন্যায়বিচার পরাহত হয়। তাই তাঁকে শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা বা খালাস দিলে তা আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়বদ্ধতার মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, তিনি কি ন্যায়বিচারের পরিপূর্ণ সুযোগ না পেয়ে শাস্তি পেয়েছেন? শর্ত লঙ্ঘন না করে একজন প্রসিকিউশন সাক্ষীকে কীভাবে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে? তিনি কি বিচার চলাকালে তাঁর পক্ষে সাফাই সাক্ষী আনার সুযোগ পেয়েছিলেন? কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ পেয়েছিলেন? নাকি বিচারের শুরুতে তাঁর অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে আর বিচার না করে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো?
এসব বিষয়ে এখন ধোঁয়াশা থাকলেও এ কথা স্পষ্ট যে বারবার সংশোধন করা সত্ত্বেও আমাদের আইসিটি আইনে এখনো অনেক অস্পষ্টতা ও আইনি ফাঁকফোকর রয়ে গেছে এবং আইনটি এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি। আইনি এসব অস্পষ্টতা ও দুর্বলতার কারণে এখন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিচারপ্রক্রিয়া ও শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত অ্যাপ্রুভার–সংক্রান্ত বিধানে দেশে প্রচলিত আইন বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি।
* রাইসুল সৌরভ, আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি গলওয়েতে আইনবিষয়ক ডক্টরাল গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাকাশের প্রথম জরুরি মিশনে সফল চীন
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, রকেটটি আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে মহাকাশের দিকে ছুটে যাচ্ছে। আর যানটি কক্ষপথে প্রবেশ করার সময় পৃথিবীর পটভূমি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সিসিটিভির তথ্যমতে, তিয়ানগং স্পেস স্টেশনে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সফলভাবে নোঙর করে শেনঝো-২২। যানটিতে চড়ে এ মাসের শুরুতে চীনা তিন নভোচারীকে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু এর রিটার্ন ক্যাপসুলের জানালায় ফাটল দেখা দেওয়ায় তা বাতিল করা হয়।
২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে শেনঝো মিশনের মাধ্যমে চীন ছয় মাস মেয়াদি অভিযানে নভোচারীদের তিয়ানগংয়ে পাঠাচ্ছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সবসময় একটি ব্যাকআপ রকেট ও শেনঝো মহাকাশযান প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক। সিএমএসএ জানিয়েছে, জিউকুয়ানে পূর্বেই রকেট ও শেনঝো-২২ প্রস্তুত থাকায় মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে জরুরি উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। যেখানে সাধারণত একটি শেনঝো মিশনের প্রস্তুতিতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ ইতিহাসে গত বছর নাসার দুই নভোচারী বোয়িং স্টারলাইনারের ত্রুটির কারণে মাত্র এক সপ্তাহ থাকার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আটকে ছিলেন নয় মাস। পরবর্তীতে নানা বিলম্বের পর তারা স্পেসএক্স ক্যাপসুলে করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। ২০২১ সাল থেকে মহাকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বা তার আগেই চাঁদে নভোচারী পাঠানো।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে আবুধাবিতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক
আজ মঙ্গলবার আবুধাবিতে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের ওই বৈঠক হয়। যদিও এ বৈঠকের বিষয়ে আগে থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গতকাল দুই পক্ষের মধ্যে আরও বৈঠকের কথা ছিল। সূত্রের বরাতে বৈঠকের বিষয়টি রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারলেও, আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
আজকের বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কে অংশ নিয়েছিলেন, সেটিও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবুধাবিতে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ড্যান ড্রিসকল আলোচনায় বসতে পারেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের কর্মকর্তারা আবুধাবিতে আলোচনার টেবিলে একত্র হতে পারেন।
সম্প্রতি ট্রাম্পের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আছে। পরিকল্পনার অনেক দফা রাশিয়াঘেঁষা, ইউক্রেনের এমন অভিযোগের পর রোববার কিয়েভ ও ইউরোপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেনেভায় আলোচনায় বসে ওয়াশিংটন। সেখানে পরিকল্পনায় কিয়েভকে রাজি করাতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। একই সঙ্গে দফা কমিয়ে ২৮ থেকে ১৯টি করা হয়।
এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মস্কোয় একটি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। আজ তিনি বলেন, ট্রাম্পের তৈরি মূল পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া। তবে পরিকল্পনায় যদি কোনো সংশোধন আনা হয়, তাতে অবশ্যই গত আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের ‘চেতনা’র প্রতিফলন থাকতে হবে।
এদিকে প্রথমে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানালেও সংশোধনের পর বেশ সন্তুষ্ট মনে হয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি বলেন, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর শান্তির ‘অনেক সম্ভাবনা’ দেখতে পাচ্ছে তাঁর দেশ।
পাল্টাপাল্টি তীব্র হামলা
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যে গতকাল সোমবার রাতভর পাল্টাপাল্টি তীব্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। অপর দিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।
ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৬০টির বেশি ড্রোন ছুড়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক ভবন লক্ষ্য করে রাশিয়া থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
![]() |
| বেলারুশ সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের সেনাদের মহড়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
November
(209)
-
▼
Nov 26
(7)
- বোরকা অবমাননা, অস্ট্রেলিয়ার সেই নারী সিনেটর বহিষ্কার
- ট্রাম্পকে বশে রাখতে সি চিন পিংয়ের তুরুপের তাস by ম...
- ১২,০০০ বছর পর ইথিওপিয়ায় অগ্ন্যুৎপাত, বিষাক্ত ধোঁয়...
- আল্লাহকে নিয়ে বাউলের করা ‘কটূক্তি’র অভিযোগের প্রতি...
- ‘রাজসাক্ষী’কে কি সাজা দেওয়া যায় by রাইসুল সৌরভ
- মহাকাশের প্রথম জরুরি মিশনে সফল চীন
- ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে আবুধা...
-
▼
Nov 26
(7)
-
▼
November
(209)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



