Showing posts with label বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার. Show all posts

Saturday, June 13, 2026

হোয়াটসঅ্যাপ আসার আগে মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য অ্যাপ বানিয়েছিলাম

জেরক্স ও আইবিএমে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ছিলেন সৌদি আরবের কিং ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞানের শিক্ষক। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে অসুবিধা হয় বলে নিজেই একটি অ্যাপ তৈরি করতে গিয়ে যে আনন্দময় অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছিল, সেটাই পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ সালেহ উদ্দিন আহমদ।

তখন হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না। বাইরে থেকে বাংলাদেশে টেলিফোন করাটা ছিল এক বিরাট ঝক্কি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায়ই সময়ে অসময়ে আমাকে বাংলাদেশে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে হতো। টেলিফোন করার দু-একটা অ্যাপ আমার আইফোনে ছিল, কিন্তু সেগুলো ছিল খুব বাজে।

হঠাৎ লাইন কেটে যেত, ক্রেডিট কার্ড থেকে বেশি পয়সা কেটে নিতো। একসময় মনে হলো নিজেই একটা টেলিফোন অ্যাপ বানাই না কেন। যেহেতু আইফোন ব্যবহার করি, তাই নিয়েই শুরু করলাম।

কিছুদিন পড়াশোনা করে বুঝলাম, কাজটা সহজ নয়। আর বেশ সময়সাপেক্ষ। ভয়েসওভার টেলিফোন (ভিওআইপি) অ্যাপ্লিকেশন এমনিতেই বেশ জটিল ধরনের অ্যাপ। আর আমরা যেসব প্ল্যাটফর্মে কাজ করি, সেগুলো কতগুলো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড ও প্রচলিত প্রটোকল মেনে চলে।

কিন্তু স্টিভ জব আপেলের জন্য সবকিছু নিজস্ব ধারায় করে গেছেন। আপেল তাদের প্ল্যাটফর্মে সব কিছুতে এখনো নিজেদের তৈরি কাস্টম মেনে চলে। তবু কাজ শুরু করলাম, দেখা যাক কতটুকু যাওয়া যায়!

অ্যাপের নাম দিলাম ‘কলকরো’

প্রথমে স্ক্রিনের কাজ, যেমন ডায়াল প্যাড ও বিভিন্ন আইকন। যুক্তরাষ্ট্রে এসব গ্রাফিকসের কাজ খুব ব্যয়বহুল। ঠিক করলাম, বাইরের ফ্রিলান্সার দিয়ে করাব। ইন্টারনেটে ফ্রিলান্সারদের ভালো কিছু প্ল্যাটফর্ম আছে। আমার পছন্দ ‘আপওয়ার্ক’। কী কী লাগবে তার বিবরণ দিয়ে একটা ‘প্রয়োজন’ পোস্ট করলাম।

দুই দিনের মধ্যেই সারা দুনিয়ার গ্রাফিকস ডিজাইনার হাজির! দুজনকে বাছাই করে কয়েক দিন ধরে তাঁদের সঙ্গে আমার প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে কথা বললাম। দুজনের মধ্যে ইউক্রেনের ডিজাইনার ছিলেন ব্যয়বহুল।

তাঁকে বাদ দিয়ে ভারতীয় একজন ডিজাইনারকে নিয়োগ দিলাম। এখানে বলে রাখি, ফ্রিলান্সারের পারিশ্রমিক ও টাকাকড়ির লেনদেন সব আপওয়ার্ক ব্যবহার করে করা হয় এবং একটা অংশ তারা কমিশন হিসেবে কেটে নেয়।

গ্রাফিকস ডিজাইন এমন কাজ যে একবারে তৃপ্ত হওয়া যায় না, বারবার আরও ভালো করার চেষ্টা চলতে থাকে। একসময় ডিজাইন শেষ হলো। স্ক্রিন লে–আউট ডিজাইনও বেশ কষ্টসাধ্য। পরের ধাপগুলো ছিল রুটিন—আপেল এপিআই ব্যবহার করে ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিসগুলো তৈরি করে ব্যবহারকারী ও ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিসের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি।

ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিসগুলো ডিজাইন করতেও কিছু পর্যায়ে হোঁচট খেতে হয়েছিল। একেকবার মনে হতো, ‘বাদ দাও, কী দরকার মাথাটা নষ্ট করে!’ কিন্তু কাজগুলো এত কৌতূহলোদ্দীপক ছিল যে বাদ দিয়েও আবার শুরু করেছি বারবার। আসলে উৎসাহ আর সংকল্প না থাকলে কোনো কাজই ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায় না।

নেপথ্য সার্ভিসগুলো রান করার জন্য অ্যামাজন ক্লাউড থেকে সার্ভার ভাড়া করতে হয়েছিল। ফোনকলের ইতিহাস, হিসাবে-নিকাশ এবং ডাটাবেজের জন্য একটা ভিন্ন সার্ভার ভাড়া নিতে হয়েছিল। অনেক বিষয়েই কোনো পূর্বধারণা আমার ছিল না, কাজ করতে করতে শিখেছি। আর সময় লেগেছিল বেশ। কারণ, বেশির ভাগ আমাকে শুধু রাতেই কাজ করতে হতো।

একসময় অ্যাপটা তৈরি হয়ে গেল। অ্যাপটার নাম দিলাম ‘কলকরো’। আপেল টেস্ট টুলস ব্যবহার করে নিশ্চিত হলাম, সব কিছু ভালোভাবেই কাজ করছে। একটা বাণিজ্যিক টেলিফোন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য যা যা দরকার, সেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমাকে যোগ করতে হয়েছিল।

এগুলো ছাড়া আপেল টেস্ট টিম অ্যাপস্টোরের ছাড়পত্র দেবে না। এগুলোর মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ড ইন্টারফেস, যা দিয়ে ব্যবহারকারী টাকা জমা রাখতে পারতেন, দেশে দেশে ফোন করার চার্জ, সহজ ‘ইউজার ইন্টারফেস’—এসব কিছু নিয়েই টেস্ট টিমের সঙ্গে বারবার কাজ করতে হয়েছিল।

প্রথম কলটা মাকে করলাম

‘কলকরো’ যেদিন ছাড়পত্র পেল এবং আপেল অ্যাপস্টোরে আপলোড হলো, সেদিনই আমি একটা ই–মেইল পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপটা ডাউনলোড করে প্রথম কলটা মাকে করলাম। সেই আনন্দের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়!

নিজের কাজে ফোন করা ছাড়া অ্যাপটা আর কোনো কাজে লাগবে—এমন কোনো ভাবনা প্রথমে আমার ছিল না। আস্তে আস্তে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে জানালাম। অনেকেই অ্যাপস্টোর থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা শুরু করলেন। সমস্যা হলো অনেকেই তো অ্যান্ড্রয়েড সেট ব্যবহার করেন, আইফোনের অ্যাপ সেগুলোতে কাজ করে না।

অ্যাপটা তাই অ্যান্ড্রয়েডে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিলাম। অ্যান্ড্রয়েডে কাজ করা সহজতর ছিল। কারণ, অ্যান্ড্রয়েড টুলসগুলো স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নির্মিত এবং সব ইন্টারফেস ‘জাভা’ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে লেখা। এ ছাড়া আগেরটার গ্রাফিকসসহ অনেক লজিক বা অ্যালগরিদম আমি পুনর্ব্যবহার করতে পেরেছিলাম। তাই রূপান্তরটা সহজ ছিল।

আস্তে আস্তে আপেল অ্যাপস্টোর ও গুগল প্লে স্টোরে সার্চ করে অনেকে অ্যাপটা ব্যবহার করতে শুরু করলেন। আমিও মজা পেয়ে গেলাম। আরও ব্যবহারকারী বাড়ানোর আশায় নিউইয়র্কের বাংলা পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন দিলাম।

‘কলকরো’ দুই বছরের মতো কার্যকর ছিল। এর মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নিল ফেসবুক। ২০১৬ সালের দিকে তারা ফ্রি টেলিফোন সার্ভিস চালু করল। পয়সা দিয়ে কে আর ফোন সার্ভিস ব্যবহার করবে? একসময় কলকরো বন্ধ করে দিয়ে নিজেও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার শুরু করলাম।

কলকরোর স্বল্পায়ুর জন্য আমার কোনো দুঃখ বা পরিতাপ নেই। অ্যাপটা দিয়ে টাকাকড়ি বানানোর কোনো পরিকল্পনাও আমার ছিল না। কাজটা করেছিলাম অনেকটা শখের বশে। অনেক সময় ব্যয় করেছি, কিছু টাকাকড়িও খরচ হয়েছে। কিন্তু পুরা বিনিয়োগই আমি কড়ায়–গন্ডায় ফেরত পেয়েছি। কাজটা চলাকালীন এবং শেষ করে যে আনন্দ আমি পেয়েছি, কোনো কিছু দিয়েই তা পরিমাপ করা যাবে না।
https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-10-11%2Fi1pr0fom%2FDUCSU1.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
হোয়াটসঅ্যাপ আসার আগে মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য ‘কলকরো’ নামের এক অ্যাপ বানিয়েছিলেন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ সালেহ উদ্দিন আহমদ। সালেহ উদ্দিন আহমদ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন (বাঁ থেকে প্রথম) ছবি: সালেহ উদ্দিন আহমদের সৌজন্যে

Sunday, May 17, 2026

কম্পিউটার ভাইরাসের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর by জাহিদ হোসাইন খান

আধুনিক ডিজিটাল জীবনযাত্রার এক অনিবার্য অনুষঙ্গ কম্পিউটার। সেই কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণের মাধ্যমে আমাদের তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে। ভাইরাসের কারণে পুরো কম্পিউটার অচল হয়ে যেতে পারে। কম্পিউটার ভাইরাসের শুরু হয়েছিল সাধারণ একটি পরীক্ষা থেকে।

কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামের মধ্যে অন্যতম হলেন গবেষক ফ্রেড কোহেন। তিনি ১৯৮০–এর দশকে ভাইরাস প্রথমবার বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন। কম্পিউটার ভাইরাসের ধারণাগত আলোচনা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। বাস্তব ও কার্যকরী প্রমাণ আসে ১৯৮৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রকৌশল স্নাতক ফ্রেড কোহেন তাঁর অধ্যাপক অ্যাডলম্যানের তত্ত্বাবধানে একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সময় একটি ছোট প্রোগ্রাম তৈরি করেন। প্রোগ্রামটি নিজেকে একটি অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে কপি করতে ও অন্যান্য প্রোগ্রামের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সক্ষম ছিল। বিষয়টা ঠিক একটি জৈবিক ভাইরাসের মতো।

১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বরে একটি ভিএএক্স ১১/৭৫০ কম্পিউটারে মাত্র আট লাইনের কোড ব্যবহার করে কোহেন তাঁর এই নমুনা ভাইরাসটির পরীক্ষা চালান। কোহেনের তৈরি করা এই প্রোগ্রাম মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সিস্টেমের সব নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণভাবে অন্য একটি প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম ছিল। ফ্রেড কোহেনই প্রথম ব্যক্তি যিনি এ ধরনের সফটওয়্যারের জন্য কম্পিউটার ভাইরাস শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি তাঁর গবেষণা প্রবন্ধে কম্পিউটার ভাইরাসের একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা দেন। তিনি বলেন, একটি প্রোগ্রাম যা অন্য প্রোগ্রামকে সংক্রমিত করতে পারে এবং নিজের অনুলিপি তৈরি করতে পারে। তাঁর গবেষণাপত্র ১৯৮৪ সালে কম্পিউটার ভাইরাসের গবেষণা শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।

সূত্র: ওয়্যার্ড ডট কম

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-09%2F5ddx8v8t%2Fvirus.jpg?rect=0%2C0%2C960%2C640&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
একটি পরীক্ষার মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাসের জন্ম হয়েছিল। ছবি: রয়টার্স

Monday, October 13, 2025

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক কেন ছাড়লেন ‘বিস্ময় বালক’ কাইরান কাজী? কারণ জানালেন তার মা জুলিয়া কাজী

মাত্র ১৪ বছর বয়সে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের স্টারলিংক প্রকল্পে যোগ দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল কাইরান কাজী। দুই বছর পর স্টারলিংক ছাড়ার ঘোষণায় আবার আলোচনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই কিশোর। তাঁর মা জুলিয়া কাজীর কাছ থেকে এই বিস্ময়কর প্রতিভা সম্পর্কে আরও জানলেন তোফাজ্জল হোসেন

জুলিয়া কাজীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ। তাঁর ছেলে কাইরান কাজী স্টারলিংক ছেড়েছে জানার পর পেশাগত পরিচয় দিয়ে মেসেজ দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, আলাপ করতে চাই। উত্তরে তিনি মিনিট পাঁচেক সময় দিলেন।

ওয়াল স্ট্রিটের সাবেক ফিন্যান্সিয়াল কর্মকর্তা জুলিয়া কাজী শুরুতেই বিনীত কণ্ঠে ছোট ছোট বাক্যে বললেন, ‘বাংলা বুঝতে পারি, ভালো বলতে পারি না।’ তবে কথা বলতে বলতে বুঝতে পারি, বাংলা তিনি ভালোই বলেন। কুশল বিনিময় করে জানতে চাইলাম, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান কেন ছাড়ল কাইরান?

জুলিয়া কাজী বললেন পেছনের গল্প। কাইরানের কর্মস্থল ওয়াশিংটনের সিয়াটলে। আর তার কেমিক্যাল প্রকৌশলী বাবা মুজতাহিদ কাজী থাকেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। কাইরান চাকরি পাওয়ার পর নিজের চাকরি ছেড়ে ছেলের সঙ্গেই আছেন জুলিয়া। তবে সিয়াটলে মা-ছেলে ছাড়া তাঁদের নিকটাত্মীয় কেউ নেই। কমিউনিটিও ছোট। এই বিচ্ছিন্নতা মা-ছেলের ভালো লাগছিল না।

জুলিয়া কাজী বলেন, ‘এ ছাড়া কাইরান সপ্তাহে ৮০ থেকে ৯০ ঘণ্টা কাজ করত। স্টারলিংকের দায়িত্ব উপভোগ করলেও দুই বছর পর এসে সে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে চাচ্ছিল।’

বিশ্বের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানই কাইরানকে চায়। তবে কাইরানের পছন্দ নিউইয়র্কের থাকা যাবে, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান। এই শহরে তার নানি থাকেন। আছেন আরও আত্মীয়স্বজন। এসব বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দিচ্ছে কাইরান। ম্যানহ্যাটন পার্ক অ্যাভিনিউতে তার অফিস। অভিজাত একটি অ্যাপার্টমেন্ট পেয়েছে সে। অফিস থেকে যার হাঁটার দূরত্ব মিনিট দশেক। জুলিয়া কাজী বললেন, ‘বেতনের পরিমাণও সন্তোষজনক।’

কতটা সন্তোষজনক? পাঠকের আগ্রহের কথা ভেবে শিষ্টাচার ভেঙেই জানতে চাইলাম। জুলিয়া বললেন, প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তার নিয়ম অনুযায়ী এই তথ্য বলা বারণ।

তবে আমরা সিটাডেল সিকিউরিটিজে কাইরানের সমতুল্য পদের বেতনের খোঁজ করে জানতে পেলাম, বছরে এক মিলিয়ন ডলারের বেশি।

এসব আলাপে মিনিট পাঁচেকের সময় দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। আরও কিছুটা সময় চাই বলে আবদার করলে জুলিয়া কাজী হাসিমুখে সায় দেন।

কাইরানের ছেলেবেলা

কাইরানের বাবা মুজতাহিদ কাজীর আদি নিবাস মানিকগঞ্জে হলেও তাঁর জন্ম ঢাকায়। বেড়ে ওঠা আর পড়াশোনা ব্রুনেই ও মালয়েশিয়ায়। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি ইউনিভার্সিটিতে আসেন পড়াশোনা করতে। জুলিয়া কাজীদের বাড়ি মৌলভীবাজারে। তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

জুলিয়া ও মুজতাহিদের বিয়ে হয় ২০০০ সালে। কাইরানের জন্ম ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি। তার মা-বাবা তখন ক্যালিফোর্নিয়ার বে-এরিয়ায় থাকতেন। বড় হতে থাকলে দেখা গেল, কাইরানের আচরণ সমবয়সীদের চেয়ে আলাদা, স্মরণশক্তিও তীক্ষ্ণ। তার সামনে যে কথাই বলা হয়, টেলিভিশনে সে যা দেখে, সব মনে রাখতে পারে এবং বলতে পারে।

দুই বছর বয়স থেকেই মা-বাবার সঙ্গে বিজ্ঞান, রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো কথা বলত কাইরান। তিন বছর বয়সে কাইরানকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান জুলিয়া। চিকিৎসক সব জেনে বললেন, ‘আপনাদের ছেলে অতিমানবীয় মেধাবী। এমন ‘‘রোগী’’ আমি আমার ক্যারিয়ারে আগে দেখিনি!’

জুলিয়া বলেন, ‘তারপর তো আপনারা জানেন। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ৯ বছর বয়সে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাইরান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করে। তারপর ১১ বছর বয়সে গণিতশাস্ত্রে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি নেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে ১৪ বছর বয়সে।’

১৭৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটির সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যাজুয়েট কাইরান। স্নাতক পড়ার সময়ই বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইন্টেলে ইন্টার্নশিপ করে সে। পরে ব্ল্যাকবার্ড নামের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানেও ইন্টার্নশিপ করেছে। আর দুই বছর আগে ১৪ বছর বয়সে স্টারলিংকে চাকরি পেয়ে তো বড় বড় গণমাধ্যমের শিরোনামই হয়েছে।

জুলিয়া কাজী বলছিলেন, কাইরান অত্যন্ত কৌতূহলী ছেলে। ছোটবেলায় যদি তাকে শেখার সুযোগ না দেওয়া হতো বা দিন-রাত আলোচনা করতে না দেওয়া হতো, তবে সে বিরক্ত হয়ে যেত। এখনো তার ইচ্ছেমতো পরিবেশ–পরিস্থিতি না হলে বিরক্ত হয়।

কাইরান কাজীকে সামাল দিতে গিয়ে তাঁর মা-বাবা আর দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেননি। সে জন্য অবশ্য জুলিয়ার মনে কষ্ট নেই। এত বিরল মেধাবী সন্তানের মা হিসেবে যে সম্মান পান, তা–ইবা কজনের ভাগ্যে জোটে!

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-08-30%2Fu21afqkb%2F518224832101717358735855761680864372928337399n.jpg?rect=52%2C0%2C794%2C529&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
১৪ বছর বয়সে স্টারলিংক প্রকল্পে যোগ দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল কাইরান কাজী। ছবি: জুলিয়া কাজীর সৌজন্যে

Saturday, May 3, 2025

দুরবস্থায় ৬০০ বিজ্ঞানী by পিয়াস সরকার

ক’দিন ধরেই উত্তাল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বাপশক)। দু’মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারী-বিজ্ঞানীরা। ১১ দফা দাবিতে টানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন তারা। প্রায় ৬০০ বিজ্ঞানী ও ২৫০০ কর্মকর্তার অভিযোগ তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে খুব বাজেভাবে। করতে দেয়া হচ্ছে না স্বাধীন বিজ্ঞান চর্চা। ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ মেলার পরও মিলছে না অনুমতি। সভা-সেমিনারগুলোতে যাচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আমলে নেয়া হচ্ছে না নিউক্লীয় তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা। যে সফটওয়্যারে তাদের তথ্য দিতে বলা হচ্ছে তা ভারতীয় একটি সফটওয়্যার। নিয়ন্ত্রণ করা হয় চেন্নাই থেকে।

বাপশক-এর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিজ্ঞানীরা জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকার পাশাপাশি প্রত্যেকের পরিবারের জীবন বৃত্তান্ত, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আয়-ব্যয়, আমদানি-রপ্তানি, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি সব কিছু এই সফটওয়্যারে দিতে হয়। এই সফটওয়্যারটি নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে ভারতের চেন্নাই থেকে। বিজ্ঞানীদের অভিযোগ, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার রীতিনীতি মেনে পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশেষায়িত গবেষণা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করলে কোনো গোপনীয়তাই থাকবে না।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ পদগুলো শূন্য। বর্তমানে চেয়ারম্যান ও মাত্র একজন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকার বিতাড়িত হলেও এখনো মন্ত্রণালয় ফ্যাসিস্টের দোসরমুক্ত হয়নি। পূর্ণ স্কলারশিপ থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা/প্রশিক্ষণের জন্য গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) প্রদান করা হচ্ছে না। অভিযোগ গত কয়েক মাসে মন্ত্রণালয়ের প্রায় ১২ জন কর্মকর্তা পরমাণু প্রযুক্তি বিষয়ক বৈদেশিক প্রশিক্ষণে মনোনয়ন নিয়েছেন। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত নিউক্লিয়ার সিকিউরিটির ওপর একটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং কোর্সে কোনো বিজ্ঞানীকে না পাঠিয়ে পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি মো. মইনুল ইসলাম তিতাসকে। ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর নিউক্লিয়ার সিকিউরিটির ওপর ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামে যান ডেপুটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অস্ট্রিয়ায় ইনসাইডার থ্রেট ইউজিং দি শাপারস থ্রিডি মডেলের ওপর কর্মশালায় যান সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফারজানা, সিডনিতে অনুষ্ঠিত সেইফ ট্রান্সপোর্ট অব রেডিওকেটিভ মেটেরিয়াল প্রোগ্রামে যান সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. সানোয়ার হোসেন।

ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তিনি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েও যেতে পারেননি দেশের বাইরে। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালের নির্দিষ্ট একটা কমিশন আইন আছে। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে কমিশন কীভাবে চলবে সব বলা আছে। এখানে উচ্চশিক্ষাকে ট্রেনিং হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটা ২০১০-এর আগে অনেক সহজ ছিল। আমি আমেরিকায় ফুল ব্রাইট ভিজিটিং স্কলার্স প্রোগ্রামে স্কলারশিপ পাই, যা সারা বিশ্বের মধ্যে সেরা। রূপপুরে যে বর্জ্যগুলো উৎপন্ন হবে বা আমাদের এখানেও কিছু মেডিকেল নিউক্লিয়ার বর্জ্য বের হয়, এটার ডিসপোজালের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা প্রয়োজন। কমিশন থেকে খুবই উৎসাহ দেয়া হলো। দেশের একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই স্কলারশিপটা আমি পেয়েছিলাম। ২০২৪ সালের কথা, কমিশন থেকে মন্ত্রণালয়ে জিও’র জন্য চিঠি পাঠালো। আমার পাসপোর্টে জে ওয়ান ভিসা লেগে গেছে, আমি কোথায় থাকবো, কার আওতায় কাজ করবো সেটাও ঠিক করা হয়েছে। জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে এই প্রোগ্রামটা ছিল। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ আমার জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) নামঞ্জুর করা হলো।

তিনি বলেন, আমি সচিবের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি বললেন সিদ্ধান্ত হয়েছে ওটা কিছু করা যাবে না। এরপর ফের পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করার পরও হলো না। জে ওয়ান ভিসা ছয় মাসের জন্য দেয়া হয়। আমাকে ছয় মাস পর অবশ্যই ফেরত আসতে হতো। সচিব বললেন, এত পড়াশুনা করে কী হবে? এই বিজ্ঞানী বলেন, দুইজন উপদেষ্টা ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, দেখেন এটা প্রেস্টিজিয়াস একটা প্রোগ্রাম। দুই দেশের সম্পর্কেরও বিষয়। তাও জিও দেয়া হয় নাই। ফুল ব্রাইট স্কলারশিপে চান্স পেয়ে যাননি- এমন ইতিহাস বাংলাদেশে নাই। সরকারের এক টাকাও খরচ দিতে হতো না বরং রেমিট্যান্স নিয়ে আসতে পারতাম। আমি গত ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ রিট করেছিলাম। হাইকোর্টের রায় আমার পক্ষে আসলো। একটা রুলিং দেয়া হলো, কেন জিও দেয়া হবে না এবং ৭ দিনের মধ্যে জিও দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হলো। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এটা চিফ জাস্টিজ পর্যন্ত গিয়েছিল। চিফ জাস্টিজ বলেন, রুলিংয়ের উপর হেয়ারিং করে রায় দেয়ার জন্য। এরপর আবারো আমি আপিল করতে পারতাম কিন্তু করি নাই। কারণ সময় শেষ। যখন হাইকোর্টে ডিরেকশন দেয়া হয় তখন হাইকোর্ট থেকে মন্ত্রণালয়ে ফোন করা হয়েছিল। তারা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এ বিষয়ে শোকজও করা হয়েছিল। সেটা আমার রায়েও লেখা আছে।

তিনি বলেন, আমরা কমিশনে আসি দেশকে সেবা দিতে। দেশি-বিদেশি একটা চক্র আছে যারা চায় না বাংলাদেশ বিজ্ঞানে এগিয়ে যাক। রূপপুরে আমাদেরকে কোনো কাজে লাগানো হয় নাই। রাশিয়ানদের, ভারতের কাজে লাগানো হচ্ছে। আমি নিউক্লিয়ার ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য সক্ষম। প্রয়োজনে তারা আমার মেধা যাচাই করুক। সেখানে যারা বাংলাদেশি কাজ করছে যারা তারা সব স্টাফ টাইপের লোক। মনে রাখতে হবে, রূপপুর কিন্তু চারটা পদ্মা সেতুর সমান টাকা। প্রশ্ন তো ওঠেই, রূপপুরে যে প্রকল্প করা হয়েছে এর থেকে ভারত-পাকিস্তান অর্ধেক টাকায় কীভাবে করলো?

ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ৫ই আগস্টের পর আমরা আশাবাদী ছিলাম পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে। কিন্তু উল্টো হয়েছে বরং সচিবালয়ের লোকদের মাধ্যমে জঘন্য আকার ধারণ করেছে। তারা চান আমরা যাতে ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকি। রূপপুর কিন্তু ১০০ বছরের প্রজেক্ট। এখানে নিজস্ব লোকবল না থাকলে, প্রযুক্তি না থাকলে অন্য স্থান থেকে নিয়ে আসতে হবে। ভারত এটাই চায়। রূপপুরে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রণালয় ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী ড. মো. সাইফুর রহমান বলেন, আমি ফুল ফান্ডেড জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্স (জেএসপিএস) ফেলোশিপ পাই। আমি বাংলাদেশে হাড় ও মাথার স্কাল (খুলি) নিয়ে কাজ করি। জাপানে আমার কাজ ছিল মানুষের দেহের একটা কোষ থেকে মাথার খুলির বিভিন্ন অংশ তৈরি করা। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে কিনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। আমার প্রোগ্রাম ছিল ২ বছরের। এরমধ্যে মেডিসিনের যারা নোবেল লরিয়েট ছিলেন তাদের সঙ্গে বৈঠকও ছিল।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে জিও’র জন্য ’২৪ সালের অক্টোবরে আবেদন করি। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন করলেও দেয়া হয়নি। পোস্ট ডক্টরেট শুধু ডিগ্রি নয়। মন্ত্রণালয়ের লোকজনভাবে এটা বেনজির টাইপ ডিগ্রি। এটা একটা প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের উন্নতি হয়। বিশ্বব্যাপী কাজকে দেখানো যায়। ২০২২/২৩ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে বাচ্চাদের মাথার খুলি ডেভেলপের বিষয়ে একটা সুযোগ ছিল পোস্ট ডক্টরেট করার। তখনো আমাকে যেতে দেয় নাই। তখন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বলা হয়েছিল লাইফ ক্রাশ করে দেবে, গোয়েন্দাদের দিয়ে ফ্যামিলিকে তুলে নেবো ইত্যাদি। হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার পরও যেতে পারি নাই। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন ড. অশোক কুমার পাল। তিনি বলেন, হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ে কী হবে?
এই বিজ্ঞানী বলেন, মন্ত্রণালয় বলে ডক্টরেট করেছেন নামের আগে ড. লেখার জন্য আমাদের অনুমতি নিতে হবে। এগুলো কিন্তু দেশের টাকার ফেলোশিপ না বা বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ না যে, দেশের টাকায় বিদেশে গিয়ে  মোজ মাস্তি করবো। বিগত সময়ে এক সচিব শুধু বলতেন, ব্লিডিং বানাও-যন্ত্রপাতি কেনো। মানে তার কথা শুধু রাজমিস্ত্রি হও। সব সময় বলছি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবো, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। কিন্তু কোনো অর্থ ব্যয় করা হয় নাই, কোনো লক্ষ্য নিয়ে কাজও করা হয় নাই। পলিসিও নাই। এদের লক্ষ্য ছিল যন্ত্রপাতি কেনো। এটা কীভাবে চালায় এটা শেখার জন্য বিদেশে গিয়ে ঘুরে আসো।

সাইফুর রহমান বলেন, জাপানের স্কলারশিপ যখন দিল না তখন আমি মন্ত্রণালয়ে একজন এডিশনাল সেক্রেটারির কাছে গেলাম। অনেক কথার পর তিনি বলেন, আমরা রাজা, আপনারা প্রজা এটা মেনে নেন। এটা মেনে নিলেই সমস্যা শেষ। ৫ই আগস্টের আগে তো এসোসিয়েশনের নির্বাচনও করতে দেয়া হয় নাই। বলে, তোমরা এসোসিয়েশন করলে পিটায়া পিঠের ছাল উঠায়া দেবো। যাই হোক, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আবেদন না করে দেয়া হলো। কমিশন চেয়ারম্যান স্যার আবেদন করতে বললেন। এরমধ্যেই জাপানের ভিসা পেলাম, যে বাসায় থাকবো সেটা ঠিক হলো, ল্যাবের ফান্ডও প্রস্তুত হয়ে গেলো। কিন্তু পুনর্বিবেচনাতেও না করে দেয়া হলো। জাপান অ্যাম্বাসি থেকে ফোন দেয়া হলো স্কলারশিপ নেবো কিনা? আমি বারবার সময় বাড়ালাম কিন্তু যেতে পারলাম না। হাইকোর্টে গেলাম গত মার্চে। রিট করলাম। হাইকোর্ট আদেশ দিলেন, সাতদিনের মধ্যে জিও দিতে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে আপিল করা হলো। এই প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল নভেম্বরে। এখনো প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আমার সুযোগ এখনো রয়েছে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) কার্যালয় আগারগাঁওয়ে। প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে একটি পোস্টার। যাতে লেখা- ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র সিনিয়র সচিব খুনি হাসিনার সুরক্ষা সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোকাব্বির হোসেনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ চাই।’ এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, তথ্য পাচারের কোনো বিষয় না। তাদের মূল দাবি তারা আইবাসে যুক্ত হতে চান না। এটা সরকারের ইস্যু। অর্থ বিভাগ যখন দুই বছর ধরে সময় দিচ্ছে তারা অক্টোবরে না করেন। তারা সময় বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিলেন। আমরা দেখলাম ১৩ শতাংশের জন্য সমস্যা হবে। আমরা বললাম, এটা কেস টু কেস সমাধান করে দেবো কিন্তু তারা রাজি হলেন না। ওনাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আইবাসে বেতন না নেয়া। তাদের কিছু লোকবল নিয়োগ আছে তারা অনুমোদনবিহীন। আইবাসে ঢুকতে গেলে ওনারা আটকে যাবেন।

উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ড. মুনিরুজ্জামান পোস্ট ডক্টরেট স্কলারশিপ পেয়েছেন। উচ্চশিক্ষা হচ্ছে পিএইচডি পর্যন্ত। এটা কোনো উচ্চশিক্ষা নয়, এটা চাকরি। এটা কোনো সেমিনার না ওয়ার্কশপও না। ফলে ওনারটা নামঞ্জুর করা হয়েছে। উনি আদালতে গিয়েছিলেন। মহামান্য আদালত ফুল বেঞ্চে এটা না করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওনারা স্বায়ত্তশাসন চান। ২০১৭ সালের আইন অনুযায়ী ওনারা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। স্বায়ত্তশাসন দেয়া আমাদের এখতিয়ার না।

রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের বিষয়ে বলেন, রাশিয়ান টেকনোলজি ও নির্দেশনায় প্রত্যেকটি কাজ হচ্ছে। কোথায় কোন লোক কী করবে, সব রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। মন্ত্রণালয়ের এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। আমরা ১৯০০’র বেশি লোক নিয়োগ দিয়েছি। ওনাদের একদল ফেস বাই ফেস কাজ করেছে। এখানে গবেষণার কোনো সুযোগ নাই। পাওয়ার প্লান্টে যে নিয়োগ, সেটা গত সাত বছরে হয়েছে। ওনাদের দাবি বায়ারদের বাদ দিয়ে ওনারা বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তি করবেন পিডিবি’র সঙ্গে। নিউক্লিয়ার পাওয়ারের আইন বলা হয়েছে, রূপপুরের প্রথম পিডি হবেন কোম্পানির এমডি। তাহলে পাওয়ার বিক্রির চুক্তি করবে কীভাবে? কোম্পানি আইনেই তো রেজিস্ট্রার্ড হয়েছে। কোম্পানি করাই হয়েছে ব্যবসার জন্য। সেই অনুযায়ী কোম্পানিকে বলা হয়েছে তোমরা পিডিবি’র সঙ্গে সেল পারসেস এগ্রিমেন্ট করো।

কমিশনের বিষয়ে বলেন, এখানে কমিশনের মেম্বার পদ খালি। তাদের মধ্যে কিছু জটিলতা ছিল। ওনারা গুছিয়ে দেয়ার পরই এসএসবি’তে পাঠাই। এটা তো এসএসবি’র এখতিয়ার, আমার না। আমরা ১৮২ জন নিয়োগ দেয়ার কথা বলেছি। ওনারা নিয়োগ করেন নাই। সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন। আমাদের ২২টি ইনমাস (ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস) পরে রয়েছে। এখানে যে জনবল সৃজন হয়েছে, একজন লোকও নিয়োগ দেন নাই। আমি বারবার চিঠি দিয়েছি, মানুষ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন, কোটি কোটি টাকার যন্ত্র পড়ে আছে। এটার কারণ হচ্ছে নিয়োগ যদি আগে হয়ে যায় ওনারা জুনিয়র হয়ে যাবেন।
অস্থায়ী পদ স্থায়ীকরণের বিষয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ওনাদের তো প্রস্তাব দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, ওনারা তো রিসার্চ প্রজেক্ট নেন। উদাহরণ হিসেবে বলেন, চিটাগংয়ে ১ কোটি ২ লাখ টাকার ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করবেন। ওনারা ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার পর দুই কিস্তিতে কাজ হওয়ার প্রেক্ষিতে ৭৬ লাখ টাকা দেয়া হয়। ওনারা বলেন, এটা বাদ দিয়ে অন্য একটা করবো। অডিটে আসছে ওনারা একটা কাজও করেন নাই। যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে, এই টাকা দিয়ে ভিন্ন কাজের সুযোগ তো দিতে পারি না।

বিভিন্ন সেমিনারে মন্ত্রণালয়ের লোকজন যায়। এই বিষয়ে বলেন, আইইএফ (ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম) যে সেমিনার ডাকে কিছু সেমিনার হয় বিজ্ঞানীদের জন্য, কিছু ম্যানেজমেন্টের জন্য। তারা তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন- আইন, লেজিসলেটিভ ও পলিসি রিলেটেড। এটা বিজ্ঞানীদের ট্রেনিং না। আমরা আগে নিউক্লিয়ার ইউজার কান্ট্রি ছিলাম না। আমি আগস্টে যোগদানের পর ১৬৮টি জিও দেয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। কিছু বাদে সব দিয়ে দিয়েছি। দাবির বিষয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে কথা বলবো আমরা এটা পুরোই ছেড়েই দিতে চাই। সরকার স্বায়ত্তশাসন দিতে চাইলে আমার কোনো সমস্যা নাই। তারা অনেক জ্ঞানী মানুষ, দেশের অগ্রগতির জন্য তাদের প্রয়োজন রয়েছে।

mzamin

Tuesday, March 4, 2025

জাপানে বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্ন নেবে এআই রোবট

এক ব্যক্তি দুই পা ভাঁজ করে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। তার দিকে ঝুঁকে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) পরিচালিত একটি রোবট। সেটির একটি হাত ওই ব্যক্তির হাঁটুতে আর আরেকটি তার কাঁধে। ওইভাবে ধরে ওই ব্যক্তিকে বিছানায় কাত করে শুইয়ে দিলো রোবটটি। সমপ্রতি জাপানের টোকিওতে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। সাধারণত চলাচলে অক্ষম বয়স্ক মানুষের ডায়াপার পরিবর্তন বা শরীরের যত্ন নিশ্চিত করতে কাত করানোর জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ১৫০ কেজির  (৩৩০ পাউন্ড) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত মানবিক রোবট অওজঊঈ (এআই ড্রাইভেন রোবট অব এমব্রেস অ্যান্ড কেয়ার) জাপানে বয়স্কদের পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিগেকি সুগানো, যিনি সরকারি অর্থায়নে অওজঊঈ-এর গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বলেছেন, ‘আমাদের বার্ধক্যজনিত সমাজ এবং ক্রমহ্রাসমান জন্মহারের কারণে চিকিৎসা ও বয়স্কদের যত্নের জন্য এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রোবটের সহায়তার প্রয়োজন হবে।’ জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমছে জন্মহার। কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং সীমিত অভিবাসন নীতি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানে ১৯৪৭-১৯৪৯ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া প্রজন্মের সবাই গত বছর ৭৫ বছর বয়সী হয়েছে। ফলে বয়স্কদের যত্ন ও পরিচর্যা খাতে কর্মীর সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে টানা নবম বছরের মতো দেশটির জন্মহার কমেছে। ৫ শতাংশ কমে এটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮-এ নেমে এসেছে, যা রেকর্ড সর্বনিম্ন। নার্সিং সেক্টরে কর্মীর ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ডিসেম্বরে প্রতি ৪.২৫টি চাকরির জন্য মাত্র একজন আবেদনকারী ছিল, যা সরকারি তথ্য অনুসারে দেশের সামগ্রিক চাকরি-আবেদনকারী অনুপাত ১.২২ এর চেয়ে অনেক খারাপ। এমন অবস্থায় বিদেশি কর্মীদের দিয়ে সেবা খাতে শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছে জাপান সরকার। এতে গত কয়েক বছরে এ খাতে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা বেড়েছে। তবে এরপরও ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজারের কাছাকাছি, যা এ খাতে প্রয়োজনীয় জনবলের তুলনায় ৩ শতাংশের কম। টোকিওর একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে দেখা গেল, পুতুল আকারের একটি রোবট পপ সংগীত গাইছে এবং সেখানকার সেবাগ্রহণকারীদের সাধারণ কিছু ব্যায়াম করাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে সেখানকার পরিচর্যাকর্মীকে সহযোগিতা করছে এটি। পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে সবচেয়ে বেশি যে প্রযুক্তিটি এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতে দেখা যায়, সেটি হলো সেবাগ্রহীতাদের ঘুমের অবস্থা নিরীক্ষণের জন্য তাদের বিছানার নিচে ‘স্লিপ সেন্সর’ স্থাপন করা। বয়স্কদের সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেনকৌকাইয়ের পরিচালক তাকাশি মিয়ামোতো বলেন, ‘১০-১৫ বছরের মধ্যে আমাদের দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাবে। এই সমস্যা এড়াতে এখন  প্রযুক্তিই আমাদের সেরা বিকল্প।’  জেনকৌকাই সক্রিয়ভাবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে, কিন্তু রোবটের ব্যবহার এখন পর্যন্ত সীমিত। অধ্যাপক সুগানোর কথায় ‘বিশ্ব জুড়ে মানবাকৃতির রোবট তৈরি হলেও সরাসরি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়নি। এসব রোবট সাধারণত ঘরবাড়ি বা কারখানার কাজেই ব্যবহৃত হয়।’ তবে গবেষকের তৈরি ‘এআইআরইসি’ রোবট একজন ব্যক্তিকে বসাতে, মোজা পরাতে, কাপড় ভাঁজ করতে এবং বাড়ির বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে সক্ষম। তবে, তিনি মনে করেন, ২০৩০ সালের আগে এ রোবট পুরোপুরি সেবা ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের উপযোগী হবে না। প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট রোবটের জন্য কমপক্ষে ১ কোটি ইয়েন (৬৭ হাজার মার্কিন ডলার) ব্যয় হবে। জেনকৌকাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের একজন সেবাকর্মী তাকাকি ইতো, রোবোটিক নার্সিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে  আশাবাদী। তিনি মনে করেন, যদি আমাদের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সজ্জিত রোবট থাকে যারা প্রতিটি সেবাগ্রহীতার জীবনযাত্রার অবস্থা এবং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো বুঝতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের সরাসরি নার্সিং সেবা প্রদানের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না রোবটরা নার্সিং কেয়ার সম্পর্কে সবকিছু বুঝতে পারে। নার্সিং কেয়ার উন্নত করার জন্য রোবট এবং মানুষ একসঙ্গে কাজ করবে এমন একটি ভবিষ্যৎ আমি আশা করতে পারি। সূত্র: রয়টার্স
mzamin

Friday, November 15, 2024

ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়িয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যাপ্তি

বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) কে অনেকেই কম্পিউটার বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রের ডোমেন হিসাবে মনে করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি এআই - এর প্রকৃত সম্ভাবনাকে সীমিত করে যা ওষুধ এবং ব্যবসা থেকে শুরু করে পরিবেশ বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং কলা বিভাগ পর্যন্ত অসংখ্য শাখায় একটি রূপান্তরকারী শক্তি হয়ে উঠেছে। এআই-এর বিস্তৃত, আন্তঃবিষয়ক অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে স্বীকৃতি দিয়ে, বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি  এআই-কে বিভিন্ন একাডেমিক ক্ষেত্রের মধ্যে সম্পৃক্ত করছে। এই ইন্টিগ্রেশন ছাত্রদের শুধুমাত্র ভিত্তিগত এআই জ্ঞান দিয়েই নয় বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথেও সজ্জিত করে তাদেরকে একটি বিকশিত, প্রযুক্তি-চালিত বিশ্বে সফল হওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তুলছে। এই নিবন্ধতে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলির বাইরে এআই-এর অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে তুলে ধরা হলো।

ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনায় এআই : আজকের বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে এআই ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সক্ষম করে, দক্ষতার মাপকাঠিকে উন্নত করে এবং কোম্পানিগুলিকে প্রতিযোগিতামূলক রাখার মাধ্যমে ব্যবসাকে নতুন আকার দিচ্ছে। এআই-এর মুখ্য ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে, বিশ্বব্যাপী নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়িক স্কুলগুলি তাদের পাঠ্যক্রমের মধ্যে এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে -  বিশ্লেষণ,আর্থিক পূর্বাভাস এবং প্রক্রিয়া অটোমেশনের কাজে অন্তর্ভুক্ত করছে। এটি শিক্ষার্থীদের বিপণন, ফিনান্স, এইচআর এবং লজিস্টিকসে এআই প্রয়োগ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার সাথে সজ্জিত করে। ব্যবহারিক এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলির সাথে তত্ত্বের মিশ্রণের মাধ্যমে, এই প্রোগ্রামগুলি ব্যবসায়িক পেশাদারদের বিশেষ সুবিধা করে দিচ্ছে  যারা কৌশলগত সুবিধার জন্য এআই ব্যবহার করতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবন বিজ্ঞানে এআই : স্বাস্থ্যসেবাতে এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলি  ডায়াগনস্টিকগুলি উন্নত করে, চিকিত্সা পরিকল্পনা এবং রোগী পরিষেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মতো প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল প্রোগ্রামগুলি এআইকে একীভূত করে, রেডিওলজিতে চিত্র বিশ্লেষণ, জিনোমিক সিকোয়েন্সিং -এর  মতো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, এআই-ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক সরঞ্জামগুলি নির্ভুলতার সাথে ক্যান্সারের মতো রোগ শনাক্ত করতে পারে। এই ধরনের সরঞ্জামগুলিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীরা এআই-চালিত স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে রোগীদের কাছে নির্ভুল  ফলাফল পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।

পরিবেশ বিজ্ঞানে  এআই:
পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রোগ্রামগুলি যেমন  জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এআই ব্যবহার করছে। ইটিএইচ জুরিখ এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি পরিবেশগত অধ্যয়নের মধ্যে এআইকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তুতন্ত্র নিরীক্ষণ করতে, আবহাওয়ার ধরণগুলির পূর্বাভাস দিতে এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সমাধান তৈরি করতে শেখে। উদাহরণ স্বরূপ- শিক্ষার্থীরা বন উজাড় ট্র্যাক করার জন্য উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করতে, সরকার এবং এনজিওগুলিকে বাস্তব সময়ে পরিবেশগত অবক্ষয়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করতে এআই মডেলগুলি ব্যবহার করতে পারে।

এআই ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং: ম্যানুফ্যাকচারিং, সিভিল ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং রোবোটিক্সের মতো ক্ষেত্রে, এআই উদ্ভাবন এবং দক্ষতা বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে । এমআইটি এবং মিউনিখের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামগুলিতে এআইকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রক্রিয়াগুলি অনুকরণ করতে, কাঠামোকে অপ্টিমাইজ করতে এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলি বিকাশে বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে। উৎপাদনে এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলির মধ্যে রয়েছে  রক্ষণাবেক্ষণ এবং লজিস্টিক অপ্টিমাইজেশান, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মান নিয়ন্ত্রণ। রোবোটিক্স শিক্ষার্থীরা  উদাহরণস্বরূপ সমাবেশ বা বিপজ্জনক উপাদান পরিচালনার মতো জটিল কাজের জন্য এআই-চালিত রোবট ডিজাইন করে।

সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিকতায়  এআই :  সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক ক্ষেত্রকেও প্রভাবিত করছে এআই। এই ক্ষেত্রগুলিতে এতদিন ডেটা-সীমিত ছিল কিন্তু এখন এআই বিশ্লেষণের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টিতে সমৃদ্ধ। অক্সফোর্ড এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সামাজিক নিদর্শন, আচরণগত প্রবণতা এবং নীতির প্রভাবগুলি অধ্যয়নের জন্য সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এআই  সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করে।  রাজনৈতিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী ফলাফলের মডেল বা জনমত পরিবর্তনের মূল্যায়ন করতে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রবণতা মূল্যায়ন করতে, সম্প্রদায়ের চাহিদা চিহ্নিত করতে এআই -চালিত বিশ্লেষণ প্রয়োগ করতে পারে।

আইন এবং পাবলিক পলিসিতে এআই : এআই আইন ও পাবলিক নীতিগুলিতেও রূপান্তর ঘটাচ্ছে। যে ক্ষেত্রগুলিকে এতদিন প্রযুক্তি বিরোধী  বলে বিবেচিত হত। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর এবং স্ট্যানফোর্ড ল স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি এখন আইনি গবেষণা, চুক্তি বিশ্লেষণ এবং কেস পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে এআই অ্যাপ্লিকেশনের কোর্স অফার করে। ছাত্ররা শিখছে কিভাবে এআই নথি পর্যালোচনাগুলি স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, নজিরগুলি শনাক্ত করতে পারে এবং অতীতের রায়গুলির উপর ভিত্তি করে মামলার ফলাফলের পূর্বাভাস দিতে পারে। পাবলিক পলিসিতে, এআই স্বাস্থ্যসেবা অ্যাক্সেস, অপরাধের হার এবং শিক্ষার গুণমান বিশ্লেষণ করতে সক্ষম করে, ডেটা-চালিত নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ প্রদান করে।

কলা বিভাগ এবং  ডিজাইনে এআই: সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনের নতুন দিক উন্মোচন করে  শিল্পকলা এবং ডিজাইনে এআই একটি   নতুন দিকের পরিচয় দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অফ আর্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্সনস স্কুল অফ ডিজাইনের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রামগুলি এআই-কে এমন কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করছে যা জেনারেটিভ ডিজাইন, ডিজিটাল আর্ট এবং মিউজিক কম্পোজিশন অন্বেষণ করে। এআই -এর মাধ্যমে, শিক্ষার্থীরা  ভার্চুয়াল বাস্তবতার অভিজ্ঞতা লাভ করে ,অ্যালগরিদমিক শিল্প বিকাশ করে , এমনকি মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে সঙ্গীত রচনা করে। মিডিয়া শিল্পে, এআই -এর  বিশেষ প্রভাব রয়েছে  দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগতকৃত করে এবং বিষয়বস্তু সুপারিশগুলিকে অপ্টিমাইজ করে এআই বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে।

সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগে এআই: দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে কীভাবে সংবাদ সংগ্রহ করা হয়, তৈরি করা হয় এবং বিতরণ করা হয়, এআই সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া সংস্থা এবং সাংবাদিকতা স্কুলগুলি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল এবং অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপ তৈরি করতে এআই-চালিত সরঞ্জামগুলি গ্রহণ করছে। এআই সরঞ্জামগুলি বিশাল ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে, বিষয়বস্তু তৈরির স্বয়ংক্রিয়তা, ব্যক্তিগতকৃত সংবাদ বিতরণ এবং ভুল তথ্য সনাক্ত করে  সাংবাদিকদের আরও দ্রুত, নির্ভুলভাবে   সামগ্রী তৈরি করতে সক্ষম করে।রুটিন নিউজ থেকে শুরু করে ফ্যাক্ট-চেকিং বাড়ানো পর্যন্ত, এআই নিউজরুমগুলিকে দক্ষতার সাথে খবরগুলো  কভার করার সুযোগ প্রদান করে  সাংবাদিকদেরকে জটিল অনুসন্ধানমূলক কাজে সহায়তা  করে। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীরা উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে এবং মিডিয়াতে এআই-চালিত সুযোগগুলিকে কাজে লাগাতে  এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শেখে।  দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং রয়টার্সের মতো সংস্থাগুলি আর্থিক, খেলাধুলা এবং আবহাওয়ার রুটিন রিপোর্টগুলিকে স্বয়ংক্রিয় করতে এআই অ্যালগরিদম নিয়োগ করে, যা সাংবাদিকদের গভীর তথ্যগুলিতে ফোকাস করতে দেয়। এআই পাঠকদের পছন্দ অনুযায়ী বিষয়বস্তুকে ব্যক্তিগতকৃত করে, যেমনটি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বিবিসি-তে দেখা যায়,   পাঠকের আগ্রহের উপর ভিত্তি করে নিবন্ধের সুপারিশ করে ।

সূত্র : দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

mzamin

Tuesday, February 11, 2020

শৈশব বনাম গ্যাজেট by হাসান ইমাম

ডিজিটাল বিশ্ব এখন বাস্তবতা। এ এমন এক বাস্তবতা, যাকে আঁকড়ে ধরা বা এড়িয়ে যাওয়া—কোনোটাই আর কারো ইচ্ছাধীন নয়; মেনে নেওয়াই নিয়তি। এই ‘বিরাট’ বাস্তবের ছোট্ট উদাহরণ বুঝি হাতের মুঠোয় থাকা কয়েক ইঞ্চির স্ক্রিন (বা পর্দা), যাতে ঠিক এঁটে গেছে গোটা বিশ্ব মায় বহির্বিশ্ব! আক্ষরিক অর্থেই দুনিয়া আজ হাতের মুঠোয়। মানুষে মানুষে যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, খবরাখবর, তত্ত্বতালাশ থেকে শুরু করে নিখাদ বিনোদন—এমন কিছুই নেই, যার দায়িত্ব স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপকে দেওয়া হয়নি।

প্রযুক্তি জীবনকে কতটা সহজ-সাবলীল, গতিশীল করেছে, তা নিক্তিতে হয়তো পরিমাপযোগ্য নয়। তবে তার ব্যাপকতা এতটাই যে, এখন জীবন অনেকটাই নির্ভার করেছে প্রযুক্তি। তাই বলে শিশুদের ভবিষ্যত্ গড়ার ভারও কি গ্যাজেটের ওপর ছেড়ে দেওয়া চলে? সমাজ যেন সেই কাজটিই করছে; শৈশব সাজানোর দায়িত্ব গছিয়ে দিচ্ছে প্রযুক্তির কাঁধে।

প্রযুক্তিময় বিশ্বে এটা বলা অন্যায় হবে না যে, চোখ ফোটার পর থেকেই শিশু আসক্ত হচ্ছে গ্যাজেটে। তা সে অক্ষর চেনার জন্যই হোক, ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখা বা খাবার গলাধঃকরণের জন্যই হোক। ভাবনা কী, আছে নির্ভাবনার গ্যাজেট! কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মুশকিল-আসানের সহজ তরিকা কি অন্য কোনো জটিল মুসিবত ডেকে আনছে না?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যা বলছে, তাতে শঙ্কিত হওয়ার কারণ ষোলো আনা ছাড়িয়ে আঠারো আনা। সম্প্রতি সংস্থাটি তাদের হালনাগাদ পর্যালোচনায় সাফ বলেছে, দুই থেকে চার বছরের শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার বেশি ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে থাকতে দেওয়া চলবে না; কোনো অজুহাতেই না। স্ক্রিন আছে এমন যে কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেওয়া ঠিক হবে না আরো কমবয়সিদের, নাড়াচাড়া তো দূরের কথা। ডব্লিউএইচও তাদের গবেষণায় বলছে, বিশ্বের একটি বড়ো অংশের শিশুদের হাতে কোনো না কোনোভাবে স্মার্টফোনের মতো সহজলভ্য গ্যাজেট সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। যেকোনো সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে সমাধানের পথে তো হাঁটছেই না, উলটো মনোযোগ দিচ্ছে হাতে থাকা স্ক্রিনে। ফলে শৈশব থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজছে আবেগের; মনোজগতের দুয়ার বন্ধই থাকছে।

শিশুর মানসিক বিকাশের এই পর্বে বিষয়টি যে অত্যন্ত উদ্বেগের, তাতে বোধ করি কারো ভিন্নমত থাকার কথা নয়। উপরন্তু, স্ক্রিনের সামনে টানা বসে থাকার প্রবণতায় বাড়ছে স্থূলতা। অনিদ্রার মতো সমস্যার বাড়বাড়ন্তও ঘটছে সমানতালে, যা একইসঙ্গে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অর্থাত্, সমস্যা এতটাই প্রকট যে, চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। আমাদের উপেক্ষার মাশুল গুনবে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম।

মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা বা শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে তবু কিছু আলাপ-আলোচনা হয় বিভিন্ন ফোরাম, প্ল্যাটফরমসহ গণমাধ্যম বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। কিন্তু সমাজবিচ্ছিন্নতায় স্মার্টফোনের অবদান নিয়ে তেমন কোনো আওয়াজ কালেভদ্রেও তোলা হয় না। অথচ দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।

প্রযুক্তির রমরমা এই ‘আধুনিক-প্লাস’ বিশ্বে শিশুরা বড়োই একা। যৌথ পরিবারের ধারণা আমাদের মনোজগত্ থেকে এখন ‘মাইনাস’ হয়েছে। ছোটো হতে হতে পরিবার এখন স্রেফ মা ও বাবায় সীমাবদ্ধ। তার ওপর তাদের উভয়ের কর্মজীবন, উদয়াস্ত ব্যস্ততা, ক্যারিয়ার গ্রাফ। যে নিরাপদ পারিবারিক বেষ্টনী শিশুকে এযাবত্ কাল ঘিরে রাখত পরম যত্নে, তা ক্রমে ভেঙে পড়ছে। এমন ‘অরক্ষিত’ শিশুই শিকার হচ্ছে গ্যাজেটের। অর্থাত্, গ্যাজেটে মগ্ন-মত্ত শিশু আরও বেশি সমাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, নিঃসঙ্গ হচ্ছে।

দুটি কারণ পাশাপাশি একটি অন্যটিকে পুষ্টি জুগিয়ে চলেছে। দরকারি সাহচর্য, বিনোদন, শিক্ষা—সবকিছুই স্ক্রিনে পেয়ে পারস্পরিক মেলামেশা ও লেনাদেনার তাগিদ হারাচ্ছে শিশু। কোনো কিছুই আর অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শিখছে না সে। অন্যদিকে, তার বৌদ্ধিক বিকাশও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সঙ্গে ফাউ হিসেবে শারীরিক ক্ষতি তো আছেই।

স্ক্রিনসর্বস্ব জীবনে শিশু নিজের কল্পনা ঝালিয়ে নেওয়ার অবসর পায় না, সুযোগও ঘটে না। স্ক্রিনটিই নানা রঙিন মোড়কে তার কল্পনাটিকে বাস্তবে এনে ফেলে। ফলে স্ক্রিনে দেখা গল্পকে, ভাবনাকেই সে নিজস্ব কল্পনা বলে ভাবতে থাকে। বছর কয়েক আগেও ঠাকুমার ঝুলি, দৈত্যদানো বা লালকমল-নীলকমলের গল্প শুনে সে নিজের মনে কতগুলো অবয়ব রচনা করত। যে কোনো গল্পের সার্থকতাও সেখানে।

কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যমে সেই গল্পের বাহারি ভিডিও শিশুর নিজস্ব কল্পনার জগিটকে স্রেফ গুম করে ফেলছে। শিশুমন কল্পনা আর বাস্তবের ফারাক করতে পারছে না। কাগুজে ধারণা হয়ে থাকছে শিশুর কল্পনাশক্তির উন্মেষ, মনোজগতের বিস্তার। আগামী প্রজন্মের একটা বড়ো অংশকে কি আমরা এমন ‘জড়ভরত’ হিসেবে দেখতে চাই?

>>>লেখক :সাংবাদিক

Thursday, November 21, 2019

নিয়ন্ত্রণহীন এবং সর্বগ্রাসী: ডিজিটাল যুগের মোহ কেমন?

আমি জানি যে, কে আপনার নতুন সঙ্গী
গভীর আবেগ নাকি মোহ? যখন কেউ অনলাইনে থাকে তখন মানব আচরণের এই দুটি প্রকাশের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য আলাদা করাটা বেশ কঠিন হয়ে পরে।
কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন তো, আপনি কি কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার পুরনো সঙ্গীর খোঁজ করতে গিয়ে আবিষ্কার করেছেন যে, তিন ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পরও আপনি তার নতুন সঙ্গীর সাথে তোলা বিভিন্ন ছবি তখনো দেখছেন?
পকেটে কম্পিউটার আর ২৪ ঘণ্টা ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার ফিডে প্রবেশাধিকার হাতের নাগালে থাকলে এ ধরণের অযৌক্তিক কাজ করার অন্ধ তাড়না থেকে বের হওয়াটা বেশ কঠিনই বটে।
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী এবং বিবিসির উপস্থাপক অ্যালেকস ক্রতোস্কি বোঝার চেষ্টা করেছেন যে কিভাবে মোহগ্রস্ত আচরণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তিনি এমন কিছু মানুষের সাথে কথা বলেছেন যাদের অন্যের বিষয়ে জানতে চাওয়ার প্রবণতা অনিয়ন্ত্রিত, বাধাহীন এবং সর্বগ্রাসী হয়ে গেছে। সাথে এমন আচরণ থেকে বের হওয়ার উপায়ও বলেছেন তিনি।

বিপরীতমুখী ঈর্ষা

কিশোর বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন জ্যাক স্টকিল।
কিন্তু শিগগিরই তিনি তার বান্ধবীর অতীত জীবন নিয়ে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। যদিও এরআগে আর কারো বিষয়ে এমনটা হয়নি তার।
তিনি কখনোই একজন ঈর্ষান্বিত ব্যক্তি ছিলেন না। কিংবা তার বান্ধবী তার তাকে ধোঁকা দিতে পারে এমন আশঙ্কাও ছিলো না তার। কিন্তু তার বান্ধবীর সাবেক এক সঙ্গীকে নিয়ে একটি মন্তব্য হঠাৎই তার মস্তিষ্কে একটি সুইচ খুলে দেয়।
"এই একটি জিনিসই আমার মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে এনে দেয়," জ্যাক বলেন।
"সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমি তার অতীতের খুব ছোট ছোট বিষয় নিয়েও খুব আগ্রহ বোধ করতাম। আমার সাথে দেখা হওয়ার আগে তার প্রেম জীবন কেমন ছিলো সেসব নিয়ে খুব আগ্রহী ছিলাম আমি।"
"আমি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টও দেখতাম," জ্যাক বলেন, "আমি ভাবতাম এই ব্যক্তিটি কেমন? কিংবা ওই ছবিতে কে? এবং এই কমেন্ট দিয়ে কি বোঝায়?"
জ্যাক তার সঙ্গীর অতীত নিয়ে তার কৌতুহলের এমন একটি চক্রে নিজেকে আবিষ্কার করলেন যা অগ্রাহ্য করা তার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব ছিলো না।
তিনি তার বিপরীতমুখী ঈর্ষাকে দমন করতে ক্রমাগতভাবে অনলাইনে উত্তর খুঁজতেন। কিন্তু এটি তার ওই ঈর্ষাকে দমন না করে বরং তা আরো বাড়িয়ে দিতো।

সাইবার নজরদারি বা সাইবার স্টকিং

সাইবার স্টকিং শব্দটি ২০১০ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে সংযুক্ত করা হয়।
এটি হচ্ছে স্টকিং বা কোন ব্যক্তির উপর অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারির ডিজিটাল রূপ। যা শুধু অনলাইন জগতেই ঘটে থাকে এবং এটি পুরোপুরি প্রযুক্তিগতভাবেই হয়।
স্টিনা স্যান্ডার্স একজন সাংবাদিক যিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সম্পর্কে লেখালেখি করেন।
ছয় বছর আগে যখন তার সঙ্গী তাকে কোন কারণ ছাড়াই ছেড়ে চলে যায়, তখন এর কারণ জানতে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো মোহগ্রস্থের মতো পর্যবেক্ষণ শুরু করেন।
"সে কেন আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলো এ নিয়ে কখনোই ভাবনা বন্ধ করতে পারতাম না আমি," স্টিনা বলেন, "আর এর জন্য অনলাইনে প্রকাশিত তার নতুন সঙ্গীর সাথে বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি দেখাই আমার একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়। "
এটা একটা মোহ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর কয়েক বছর কেটে গেলেও এখনো সে তার ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং টুইটার পেজ দেখে।
"আমি প্রায়ই আমার সাবেক ছেলে বন্ধুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখি এটা জানতে যে সে এখন কি করছে? এবং আমি এটাও দেখি যে নতুন করে কাদের সাথে ডেট করছে সে আর তার নতুন সঙ্গীর এমন কি আছে যা আমার নেই। "
এ ধরণের সাইবার স্টকিং ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর ভেরোনিকা লুকাক্সের পরিচালিত এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন সাবেক সঙ্গীর মধ্যে নয় জনই তাদের পুরনো সঙ্গীর ফেসবুক প্রোফাইল দেখে থাকে।

সাইবার স্টকিং বেশ সহজ কারণ এতে আপনার সামনে আসার ভয় থাকে না

কানাডার এই গবেষণাটি আরো প্রকাশ করে যে, ৭০ ভাগ মানুষ তাদের সাবেক সঙ্গীর প্রোফাইল তাদের মিউচুয়াল বন্ধুর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেখে। এমনকি তারা যদি বন্ধু নাও থাকে কিংবা ব্লক করে দেয়া হলেও সাবেক সঙ্গীর অ্যাকাউন্ট দেখার কোন না কোন উপায় খুঁজে বের করে তারা।
স্টিনা বলেন, তার সাবেক সঙ্গী ও তার নতুন সঙ্গীর উপর নজর রাখতে একটি ফেক প্রোফাইল তৈরি করেছেন তিনি। যাতে তারা কখনো টের না পায়।
ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্ডশায়ারের জাতীয় সাইবারস্টকিং গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক এবং মনোবিজ্ঞানী এমা শর্ট, বিশ্লেষণ করেছেন যে, কিভাবে অনলাইন স্পেস আমাদেরকে সবকিছুর সাথে জড়িত না হয়েও সবকিছু পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেয়।
তবে এমন সুযোগ আমাদের "সীমানা" সম্পর্কে সচেতন থাকার চেতনাকে দুর্বল করে দেয়।
মানুষের সম্পর্কে নজর রাখা আসলে খারাপ কিছু নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের নজর রাখতে এতো বেশি সুযোগ করে দেয়, যা করাটা উচিত নয় এবং যা অনেক সময় আমরা আসলে করতে চাইও না।
কোন ধরণের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এখন মোহগ্রস্ত আচরণ এমন ভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব যা ভিন্ন পরিবেশ আসলে মোহগ্রস্ত মনে হবে না।
আপনি চাইলে আপনার সাবেক সঙ্গীর প্রোফাইল দিনে একশবার দেখতে পারেন। সাথে আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যেতে পারবেন। বন্ধুদের সাথে দেখা করা, স্বাভাবিক আচরণ করা দেখলে মনে হবে যে আপনি আপনার খেয়াল রাখছেন...বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে না যে কোন সমস্যা আছে।
কিন্তু আপনি যদি আপনার সাবেক সঙ্গীর অফিসের বাইরে গিয়ে হাজির হন এবং জানালা দিয়ে দিনে আট ঘণ্টা তার দিকে তাকিয়ে থাকনে তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়।

আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ তথ্য রয়েছে আমাদের হাতে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অন্যের জীবনে আমাদের উঁকি মারার একটি জানালা খুলে দেয় এবং বিশাল তথ্য ভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ করে দেয় যা আগে কখনো ছিলো না।
অনলাইনে আমরা যে তথ্য দেই- যখন কারো সাথে সিনেমা দেখতে গিয়ে চেক ইন দেই কিংবা কারো সাথে সম্পর্কে জড়ানোর কথা জানাই তখন সেটা নতুন নতুন সূত্র ও সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করে।
বিপরীতমুখী ঈর্ষার সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সঙ্গীর অতীত জীবন নিয়ে জানার আগ্রহ অনেক বেশি হয়ে দেখা দিতে পারে।
অতীতে, কারো সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানার তেমন কোন সুযোগ ছিলো না। কিন্তু এখন এটা বেশ সহজ।
কমেডিয়ান অ্যানড্রিয়া হাবার্ট বলেন, তার যখন ২০ বছর বয়স ছিলো, তখন তার সঙ্গী তাকে ছেড়ে যায়। তার সাথে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করে দেয় সে। এমনকি এমন আচরণ শুরু করে যে, তার জীবনে তার অস্তিত্বই কখনো ছিলো না।
তিনি জানতেন যে, তার সঙ্গী অন্য কারো সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর নিয়মিত তাকে অনলাইনে স্টক করা শুরু করেন তিনি। আর এটি তিনি বার বারই করতে লাগলেন।
"যখন আপনাকে বাধা দেয়ার কেউ নেই, তখন আপনি অন্যের প্রোফাইলে দিনে ৬০-৭০ বার দেখবেন," অ্যানড্রিয়া বলেন।

"নিজের ক্ষতি করার অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাধ্যম"

অনলাইনে কিছু দেখাকে আসলে নির্দিষ্টভাবে তেমন ক্ষতিকর মনে হয় না। কিন্তু "আসলে নিজের একটু একটু করে ক্ষতি করছেন আপনি। নিজের ক্ষতি করার অতি সূক্ষ্ম একটি মাধ্যম এটি।"
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার জনিত আচরণ যে তার ভোগান্তিকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলো তা তিনি বুঝতে পারতেন।
"আপনি যে দুঃখ অনুভব করছেন তা কমানোর জন্য স্থায়ী একটি সমাধান খুঁজবেন আপনি, কিন্তু আপনি যা খুঁজছেন তা কখনোই পাবেন না," তিনি বলেন।
মনোবিজ্ঞানী এমা শর্ট সহমত দেন যে, যারা সাইবারস্টকিং বা মোহগ্রস্ত অনলাইন আচরণ করেন তাদের স্বাস্থ্যের উপর এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
এসব আচরণ ভুক্তভোগীদের একই ধরণের আচরণ বার বার করার দিকে ঠেলে দেয় যা আসলে তাদের জন্য কোন ফল বয়ে আনে না।
"আপনি কোন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাবেন না। আর সামাজিক জীব হিসেবে সেখানে আমাদের থাকা উচিত নয়," এমা বলেন।
এছাড়াও, তিনি আরো বলেন, কোন কিছুর পেছনে এতো শ্রম আর শক্তি ব্যয় করার পরও আপনি কোন প্রতিদান না পেলে তা আপনার "আত্মসম্মানও বাড়াবে না।"

এ ধরণের সমস্যায় করনীয় কি?

সম্প্রতি গবেষণাগুলো থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, মানুষ যখন অনুভব করে যে তারা অনলাইনে অন্যের পেছনে অনেক বেশি সময় ব্যয় করছে বা তারা যদি তাদের আচরণ নিয়ে দোষী অনুভব করে তাহলে সে বিষয়ে তাদের কথা বলা উচিত।
"বন্ধুদের সাথে কথা বলুন," এমা বলেন।
"যারা মনে করেন যে, তাদের জীবন এতোটাই প্রভাবিত হয়েছে যে তারা আটকে গেছেন বলে অনুভব করছেন তাদের জন্য পেশাদারদের সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।"
জ্যাক বলেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, পুরো সমস্যাটাই আসলে তার সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুধু এটাকে আরো বেশি খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে... "এটা থেকে বেরিয়ে আসার শুরুতেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, শিগগিরই আমাকে এগুলো ছেড়ে দিতে হবে।"
অনলাইনে তিনি কম সময় ব্যয় করতে শুরু করলেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি যাতে তার সাবেক সঙ্গীর বিষয়ে আগ্রহী না হন তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা শুরু করেন।
"আপনাকে সেই লোভ সামলা বেশ কঠোর হতে হবে," তিনি বলেন, "কারণ ওই লোভ সহসাই আপনাকে ছেড়ে যাবে না।"
আর অ্যানড্রিয়া বলেন, তিনি জানতেন যে, সামনে এগিয়ে যেতে হলে ভিন্ন পথে এগুতে হবে তাকে। সম্পর্ক ভাঙার পর অনলাইনে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। কারণ তিনি আবার মোহগ্রস্তদের মতো আচরণে অভ্যস্ত হতে চাননি।
তিনি বলেন, "সমস্যাটি বুঝতে পারাই ছিলো সবচেয়ে কঠিন।" তার পর থেকে আর কোন সাবেক সঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল দেখেন নি তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে আপনাকে অনুসরণ করছে তা কি আপনি জানেন?

Monday, October 7, 2019

বিল গেটসকে ছেড়ে বাংলাদেশে নোবেল by কাজল ঘোষ

তুমি যদি নতুন কোনো আইডিয়া করো। তবে এখনই তা কাজে রূপান্তর করো। না হলে আইডিয়াটি অন্যের হয়ে যাবে; কথাটি বিল গেটসের। মাইক্রোসফটের জনক বিল গেটসের কথা কে না জানে? দুনিয়াজুড়ে যার খ্যাতি তার এ কথার বাস্তবে রূপ দিলেন তারই কর্মী নোবেল। পুরো নাম নোবেল খন্দকার। তার স্বপ্ন একটা নতুন কিছু করা। দেশের জন্য কিছু করা। নিজ অভিজ্ঞতার বিনিময়ে তরুণদের জন্য নতুন প্লাটফরম তৈরি করা।
এমন চিন্তা থেকেই বিল গেটস-এর প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ছাড়লেন তিনি। পাড়ি জমালেন নিজ দেশে। প্রিয় বাংলাদেশে।
দেশে যখন অগুনতি সমস্যা, তীব্র যানজট, পরিবেশের বেহাল অবস্থা, আমলাতান্ত্রিকতা, দক্ষকর্মীর অভাব, দেশের অনেক কিছুই এখনো এনালগ, সর্বত্র ঘুষ-দুর্নীতি, শিক্ষা আর স্বাস্থ্য দুই-ই নিম্নমানের। সব প্রতিকূল অবস্থার ফর্দ নোবেলের টেবিলে। অন্যদিকে, বিশ্বনন্দিত প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের হাতছানি। যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। দিনে দিনে আয়ত্ত বাড়বে। সঙ্গে আনুষঙ্গিক সুবিধাও। কিন্তু মাথায় একটিই ভাবনা। দেশের জন্য কিছু করতে চাই। স্ত্রী-সন্তান, পরিবারের নিরাপত্তা সব ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ লক্ষ্যই নোবেলকে নিয়ে আসার তাড়না দিলো দেশের মাটিতে। সিদ্ধান্ত নিলেন আর নয়। মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষকে জানালেন। ফিরতে চান নিজ দেশে। প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তা সব শুনে বললেন, নোবেল তোমার অবদান ভোলার নয়। দরজা খোলা সব সময়। যখন চাইবে চলে আসবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় অনার্স করে নোবেল পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। লক্ষ্য উচ্চতর শিক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা ইউনিভার্সিটি থেকে করেন কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। তারপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে করেন পিএইচডি। অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
নেব্রাস্কা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই কাজ শুরু করেন অ্যাপলিকেশন ডেভেলপার হিসেবে। কাজ করেন ‘কলেজ অব এডুকেশন অ্যান্ড হিউম্যান সায়েন্স’ প্রজেক্টে। যার মাধ্যমে একটি অনলাইন সার্ভে টুল ডিজাইন করেন, যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের মেধাস্তর মনিটর করে বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটি প্রথম সাফল্য হিসেবে নোবেলের অর্জন তালিকায় যুক্ত হয়। এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্স অ্যাসিসটেন্স হিসেবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাজ শুরু করেন। ‘সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইন টেস্ট’ পদে মাইক্রোসফটে যোগ দেন ২০১১ সালে। প্রথম কাজ ছিল ‘এক্সচেঞ্জ কমপ্ল্যাইয়েন্স টিম’ নিয়ে। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও কাজের সমন্বয়ে এগিয়ে যান নোবেল খন্দকার। ২০১৩-তে পদায়ন ঘটে। মাইক্রোসফটে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কাজ শুরু করেন। মূল দায়িত্ব ছিল ‘ইনফরমেশন প্রটোকল টিম’ নিয়ে কাজ করা। ২০১৮-তে ‘লিড সিনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার’ পদে আসীন হন। বর্তমানে তার নেতৃত্বে তৈরি সফটওয়্যার ডাটা লস প্রিভেনশনে অর্থাৎ কোনো কেম্পানির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে তা বন্ধে কাজ করে এই সফটওয়্যার। এই অ্যাপসটি হ্যাকিং আতঙ্কে এই সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তথ্যের সুরক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যা সকল মহলে প্রশংসিত। বিশ্ব প্রযুক্তির জায়ান্ট সংস্থা মাইক্রোসফটে কাজ করতে গিয়ে পেয়েছেন স্বীকৃতিও। স্পেশাল এমপ্লয়ি স্টক অ্যাওয়ার্ড, টপ টুয়েন্টি ইমার্জিং এ আই অ্যাপলিকেশন, মাইক্রোসফট কোলাবরেটিভ রিসার্স প্রজেক্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন নোবেল। মাইক্রোসফটের সবশেষ লিড সিনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কাজ করার সময়ই নোবেল সিদ্ধান্ত নেন দেশে ফেরার। ১০ই সেপ্টেম্বর ফেরেন দেশে। যোগ দেন সহজ ডটকমে ভাইস প্রেসিডেন্ট (টেকনোলজি) পদে।
নোবেল খন্দকার বলেন, আট বছর দেশের বাইরে থেকে পৃথিবীর সেরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। অনেক নোবেল বিজয়ীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতায় যদি দেশের একশ’ ছেলেমেয়েকেও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে পারি তাহলেই আমার দেশে ফেরা সার্থক। তিনি বলেন, আমাদের মতো দেশে অনেক ধরনের নাগরিক সুবিধার ঘাটতি আছে, দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান নেই। প্রযুক্তি এসব সমস্যার সমাধানে তথ্যগত বা থিওরিটিক্যাল কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে এর ব্যবহারিক দিক নিয়ে কাজ করা। ফিজিক্স আর ইনফরমেশন টেকনোলজির সমন্বয়ে অর্থাৎ পদার্থবিদ্যা ও প্রযুক্তিবিদ্যার সমন্বয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে একেবারেই উন্মুক্ত, কাজেই এ সেক্টরে অনেক কিছু করার আছে। এটাই আমার বিশ্বাস- যোগ করেন নোবেল।
নোবেল বলেন, আগামী পৃথিবীকে বলা হচ্ছে- ‘Inovation t the edge of sciences.’ আর সে লক্ষ্য নিয়েই তরুণদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে, দেশের সমস্যা সমাধানে ইনোভেটিভ কিছু করা। নোবেল শেষ করেন এই বলে, স্যার উইনস্টন চার্চিল বলেছেন, দেশপ্রেমের সংজ্ঞা হলো নিজের কাজ ঠিকমতো করা। আর দেশপ্রেমের চেতনায় আমি আমার কাজটিই করতে চাই।
রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে বেড়ে ওঠা নোবেল খন্দকারের মাতা মিতালী হোসেন ভ্রমণ লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত। একজন সমাজকর্মীও। পিতা মোজাম্মেল খন্দকার ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ প্রধান। একমাত্র বোন মৌটুসী খন্দকার নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষকতায় যুক্ত। ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী তিশা খন্দকার, পুত্র-কন্যা দানিয়েল ও ইনারাকে নিয়ে সুখী পরিবার।

Thursday, September 12, 2019

নমোফোবিয়া : ফোন হারানো চার্জ ফুরানোর ভয় যখন একটা রোগ by আহমেদ দীন রুমি

মোবাইল ফোন বুঁদ করে ফেলেছে আধুনিক প্রজন্মকে
মোবাইল ফোন আমাদের আধুনিক জীবনকে অনেকাংশেই সহজ করে দিয়েছে। অনেক বড় সমাধান থেকে অতি তুচ্ছ প্রয়োজনের জন্যেও হাতের মোবাইলের উপর ঝুঁকে পড়ে অনেকেই। তার ওপর নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সুবিধার চূড়ান্ত দেবার মাধ্যমে এই যে নির্ভরশীলতা তৈরি করেছে, তা জন্ম দিচ্ছে এক নতুন ধরনের সমস্যার। নমোফোবিয়া, ফোন হারানোর উৎকণ্ঠা কিংবা চার্জ ফুরিয়ে যাবার ভয়।

নমোফোবিয়া শব্দটি এসেছে ইংরেজি কয়েকটি শব্দের মিশ্রণে। Nomophobia = No + Mobile + Phone + Phobia। নমোফোবিয়াকে প্রথম সংজ্ঞায়ন করে যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংগঠন YouGov। সাদামাটাভাবে বললে ফোবিয়া হলো অযৌক্তিক ভয় বা অকারণ উৎকণ্ঠা। আর নমোফোবিয়া বলতে বোঝায় মোবাইলবিহীন থাকার ভয়। সিগনাল কিংবা ব্যাটারিজনিত কারণে মোবাইলের সাথে সংযোগ ছিন্ন হতে পারে, ক্ষণিকের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে; প্রভৃতি কারণে প্রিয়াবিরহের মতো মোবাইলপ্রেমিকের ভেতরে যে উৎকণ্ঠা, তাই নমোফোবিয়া। ২০০৮ সালে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৫৩ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী তাদের ফোন বন্ধ করেন না। গবেষণায় আরো দেখা গেছে এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

ভ্রমণে কিংবা বাসায়—প্রায়ই এই ধরনের মানসিক বিভ্রান্তির দেখা মেলে। মনোবিজ্ঞানীরা একে “লো-ব্যাটারি অ্যাংজাইটি” বলে চেনেন। মানুষের জীবন দিনকে-দিন বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ঘিরে ফেলছে। মানুষের কাজ করে দিচ্ছে নতুন নতুন ডিভাইস। সরাসরি কথা, সামাজিক যোগাযোগ, জিপিএস, গাড়ির সেবা, খাবারের অর্ডার, গেইম, ভিডিও বিনোদন, ব্যাংকিং, ক্যালেন্ডার, ক্যালকুলেটর, পরিবারের ছবি প্রভৃতি এখন কেবলমাত্র একটি ছোট্ট যন্ত্রের মাধ্যমেই সম্ভব—সেলফোন।

জীবন যাপনের সুবিধার জন্যই মানুষ ক্রমশ এনালগ ছেড়ে ডিজিটাল পৃথিবীতে প্রবেশ করছে। সকল ধরনের কাজে সরাসরি নিজেকে না জড়িয়ে ঝুঁকছে অনলাইন সুবিধার প্রতি। আর তাই, অল্প সময়ের জন্য ব্যাটারিতে চার্জ না থাকা কিংবা কোনো কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ভয়ের উদ্রেক করে। হারিয়ে ফেলা কিংবা একা হয়ে যাবার ভয়।

ব্যাটারি যখন শেষ
আধুনিক যামানার ভৌতিক সিনেমাগুলোতেও দেখা যায়, সেলফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার মানে একটা খারাপ কিছু ঘটতে চলছে। ব্যক্তিকে একা করে ফেলা ক্লাসিক হররগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ১৯৬০ সালের Psycho, ১৯৭৪ সালের The Texas Chain Saw Massacre, ১৯৮০ সালের The Shining এমনকি গত ২০১৭ সালের Get Out প্রায় একইভাবে ফুটিয়ে তুলেছে বিষয়টা। মোবাইল না থাকার দরুণ সৃষ্ট এই নিঃসঙ্গতায় ভীতি।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তির ওপরেই মূলত আমরা দৈনন্দিন জীবনে ভরসা করে থাকি। ১৯৭০ সালের দিকে ইংরেজ রসায়নবিদ স্টেনলি হুইটিংহাম এর আবিষ্কার করেন। তিনি তখন Exxon Corporation-এ গবেষণায় মগ্ন। তবে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারির আগমন ছিল রীতিমতো বিপ্লবের মতো। লিথিয়াম-আয়ন এবং লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারির মধ্যেকার পার্থক্য ইলেক্ট্রোলাইটের ব্যবহারে।

লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারিতে কঠিন পলিমার ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করা হয়। যেমনটা polyacrylonitrile এবং এনোডে প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থ। অন্যদিকে লিথিয়াম-আয়নে জৈব দ্রবণে ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে ব্যবহৃত হয় লিথিয়াম লবণ। ফলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তাড়াতাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়তে পারে।

আধুনিক যামানায় সেলফোনপ্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ব্যাটারিপ্রস্তুতি। ব্যাটারি প্রস্তুতকারীরা মনোযোগী অধিক ধারণ ক্ষমতা আনতে। কিন্তু যখনই তারা ব্যাটারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, সেলফোন প্রস্তুতকারীরা সাথে সাথেই বের করছে নতুন কোনো ফিচার, যা পাওয়ার কমাবে। এভাবে সেলফোনের ফিচারগুলো ব্যাটারির পাওয়ার নামিয়ে আনে, আর প্রস্তুতকারীরা যোগ করে।

মোবাইল কোম্পানিগুলো ক্রেতার এই উদ্বেগকে ব্যবহার করছে বেশ ভালোভাবেই। চার্জ দেবার জন্য ওয়্যারলেস সুবিধাসহ নতুন সেলফোন আসছে আজকাল। Qi Standard (উচ্চারণ. চি স্ট্যান্ডার্ড) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আরোহী পদ্ধতিতে চার সে.মি. দূরত্ব পর্যন্ত চার্জ দেওয়া সম্ভব।

চি পদ্ধতিটা মূলত তড়িৎচৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টির মধ্য দিয়ে কাজ করে। সেলফোন কোম্পানিগুলো এই বিশেষত্বকে খুব দ্রুত ক্রেতার চাহিদার সাথে মানিয়ে নিচ্ছে। এই সুবিধাহীন পুরানা ধাঁচের মোবাইলগুলোর জন্য এডাপ্টরের মাধ্যমে পোর্টে সংযোগ দেওয়া যায়। এমনিতেই তারের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার চেয়ে ওয়্যারলেস চার্জ সময়বহুল। আর যদি এডাপ্টার ব্যবহার করা হয়, তবে তো কথাই নেই।

দ্য এন্ড্রয়েড পাই অপারেটিং সিস্টেম ব্যাটারি লো হয়ে গেলে ব্যবহারকারীকে নোটিফিকেশন পাঠায়। উপরের কোনায় চার্জের শতকরা প্রদর্শন তো আছেই। আইফোন এক্স তাদের ফোনের ব্যাটারি আইকন থেকে আইকন সরিয়ে ফেলেছে। দেখতে হলে যেতে হবে কন্ট্রোল সেন্টার। সে যা-ই হোক, উভয় ক্ষেত্রেই চার্জ ফুরিয়ে আসতে গেলে নোটিফিকেশন আসে, লো পাওয়ার মুডে চালানোর জন্য; যাতে কম চার্জ ফুরায়।

কাজ হোক আর না হোক, ব্যাটারির সক্ষমতা ক্রেতাকে ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যবসার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর কাছে এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টোপে পরিণত হয়েছে।

নমোফোবিয়ার লক্ষণ
বছর দশেক আগেও হয়তো কেউ প্রিয়তমার উদ্দেশ্যে বলত, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। কিন্তু হাল আমলে সেই স্থান দখল করেছে সেলফোন। মনোবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য মতে, নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকেই ধরে নিতে হবে নমোফোবিয়ার লক্ষণ—
১) রাতে ঘুম ভেঙে যদি প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর সেলফোন চেক করতে হয়।
২) দুপুরে কিংবা রাতে খাবার সময়েও যদি মোবাইল প্রাধান্য পায়।
৩) ব্যাটারি ফুরিয়ে যেতে চাইলে যদি চার্জে দেবার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে পড়ে।
৪) ফোনে সিগনাল না থাকলে যদি মনে হয়, জীবন থেকে বাইরে।
৫) যত ব্যস্ততাই থাক, যদি ফোনের জবাব দেবার জন্য ভেতর থেকে তাড়না আসে।
৬) ওয়াশরুমে পর্যন্ত ফোন হাতে করে নিয়ে যাবার অভ্যাস গড়ে উঠলে।
৭) এই আর্টিকেল পড়ার মধ্যে বেশ ক’বার যদি ফোন চেক করে ফেলা হয়।

নমোফোবিয়ার ক্ষতি
বেশিরভাগ সমস্যাই মনস্তাত্ত্বিক। তবে এর ফলাফল সদূরপ্রসারী। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সামাজিক জীবনে বাধাগ্রস্ত হতে পারে তুচ্ছ এক অভ্যাসের কারণে। ক্রমানুসারে উল্লেখ করলে—
১) যেহেতু উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, সেহেতু রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ব্যক্তির নিজের কাজের দিকে মনোযোগ কমিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন ক্ষমতায় কমে যায়।
২) সময়ের দারুণ অপচয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, একসাথে বহু কাজ করার মানে কোনো কাজই না করা। হাতে মোবাইল নিয়ে অন্য কাজ করতে চাওয়াটা অন্য অর্থে সময় নষ্টের নামান্তর।

৩) ঘুমের প্যাটার্ন বিঘ্নিত করে। ফোন থেকে নীল আলো চোখে পড়া ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। এর কারণে মেলাটোনিন হরমোনের ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বলা বাহুল্য, মেলাটোনিন হরমোন ঘুমের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দায়ী।
৪) লাগাতার ফোনের সাথে লেগে থাকা চর্মরোগ, এলার্জি কিংবা নানা ধরনের রোগের জন্ম দিতে পারে।
৫) সর্বোপরি বন্ধু ও পরিবারের সাথে বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। বন্ধু বা পরিজনের সাথে কথা বলার সময় ঘন ঘন মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করা নিশ্চই ভালো দেখায় না। এই অভ্যাস কর্মক্ষেত্রে ও ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ ক্ষতিকর।

উপায় ও প্রতিকার
সব সমস্যারই সমাধান থাকে। নমোফোবিয়ার সমাধানও গবেষকদের ধারণায় বেরিয়ে এসেছে। তবে তা পুরোটাই নির্ভর করে ব্যক্তির অভ্যাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ওপর—
১) ঘুমের আগে মোবাইল বন্ধ করে ঘুমানো, যেন নিদ্রা বিঘ্নিত না হয়।
২) নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণে আনা। সবরকম অ্যাপ থেকে সব ধরনের নোটিফিকেশন বিরক্তিকর।

৩) অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডিলিট করে দেওয়া।
৪) মোবাইল না, সময় দেখার জন্য ঘড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করা।
৫) নিজের জন্য ফোন-ফ্রি জোন তৈরি করা। কাজের সময় ফোন দূরে সরিয়ে রাখা।
৬) বন্ধু ও পরিবারের সাথে বেশি সময় ব্যয় করা। ফোনের সাথে সীমিত ও হিসাব করে সময় দেওয়া।

জীবন যাপনে আধুনিকায়ন মানুষকে সমাজবিমুখ করে দিয়েছে। নির্ভরশীল করে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর। আর তাই হাতের সেলফোনটা কেবল সেলফোন হয়ে নেই, পরিণত হয়েছে সবথেকে মূল্যবান সঙ্গী হিসাবে। মোবাইল হারানোর যে উদ্বেগ, তার পেছনের মনস্তত্ত্ব মূলত এটাই। আর তাই আগামী প্রজন্ম নমোফোবিয়া থেকে কিভাবে বের হবে কিংবা আদতে বের হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

Wednesday, March 21, 2018

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার এখনই সময়

বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় অ্যাপস হোয়াটসঅ্যাপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রিয়ান অ্যাকটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধের সমবেত আহ্বানে সুর মিলিয়ে অ্যাকটন মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় এ কথা বলেন।
-খবর সিএনএন অনলাইন। লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা (সিএ) অবৈধ উপায়ে ফেসবুকের পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে পরামর্শক হিসেবে কাজ করা সিএ কীভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার পেল তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তথ্য হাতিয়ে নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টুইটারে হ্যাশট্যাগ ডিলিট ফেসবুক আন্দোলন শুরু হয়। ফেসবুকের এক ব্যবহারকারী বলেন, আমাদের তথ্য নিয়ে ফেসবুক যা করেছে, তাতে যদি মনে কোনো ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকে, তবে আপনার অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলুন। মনে রাখবেন, আমরা ক্রেতা নই, আমরা হচ্ছি পণ্য। এক হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপের স্বত্ব নিয়ে নেয় ফেসবুক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফেসবুক থেকে সরে আসেন অ্যাকটন। সম্প্রতি তিনি নিরাপদ বার্তা আদান-প্রদান অ্যাপ সিগন্যালে পাঁচ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সিগন্যাল ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন।

ওয়াইফাই রাউটার আরো দ্রুতগতির করবেন যেভাবে

ইন্টারনেটের প্রসার হচ্ছে প্রতিনিয়তই। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ইন্টারনেট প্রসারের অন্যতম মাধ্যম হলো রাউটার। বাসাবাড়ি বা অফিসে আমরা নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে এখন সবাই কম-বেশি ওয়াইফাই ব্যবহার করছি। তবে শুরুতে ওয়াইফাইয়ের ব্যবহার ভালো লাগলেও কিছু দিন পরই ওয়াইফাইয়ের গতি ধীর হয়ে যায়। কারণ ওয়াইফাই হলো রেডিও তরঙ্গ, যা সামান্য দূরত্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্মার্টফোন ল্যাপটপের মতো ডিভাইসে তা গ্রহণ করে। তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার মাঝে বাধা পড়লে তা ধীরগতির তো হবেই। কাজেই হতাশ না হয়ে কিছু বিষয় মেনে চললে ওয়াইফাইয়ের ধীরগতি সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনার ঘরের মেঝেতে ওয়াইফাই রাউটার রাখবেন না। রাউটার এমনভাবে বানানো হয়, যেন তা তরঙ্গ একটু নিচের দিকে ছড়িয়ে দেয়। কাজেই মেঝেতে থাকা রাউটার থেকে তরঙ্গ ওপরের দিকে খুব বেশি ছড়াবে না। ফলে আপনার ডিভাইসগুলো ধীরগতির ইন্টারনেট পাবে। তাই একে একটু উঁচু স্থানে রাখুন। দামি রাউটারটাকে ধুলোবালি, পানি বা ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হয়তো আলমিরা বা কোথাও লুকিয়ে রাখবেন। এ কাজটা করলেও রেডিও তরঙ্গ পাবেন না। ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যাবে।
বন্ধ দরজা বা দেয়াল ভেদ করে সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না তরঙ্গ। তাই আপনি তার পূর্ণগতিও পাবেন না। তাই খোলামেলা স্থানে রাখতে হবে রাউটার, যেন তরঙ্গ বাধাহীনভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওয়াইফাই তরঙ্গ যে বস্তুতেই এসে পড়ুক না কেন তার কিছু অংশ শোষিত হয়। তাই বাধা ন্যূনতম থাকে এমন স্থানে রাখতে হবে রাউটারটাকে। এমন একটা কক্ষের বিশেষ এক স্থানে রাখতে হবে যেখান থেকে বাড়ির অন্যান্য স্থানে সহজে যাওয়া-আসা করা যায়। তাহলে বাড়ির সবখানে সহজে পৌঁছে যাবে তরঙ্গ। এতে গতি ধীর হবে না। যদি আপনার রাউটারে দুটো অ্যান্টেনা থাকে তবে একটাকে লম্বভাবে রাখবেন। অন্যটাকে মাটি বরাবর সমান্তরাল করে রাখবেন। এতে করে তরঙ্গ দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়বে। আসলে এটাই স্বাভাবিক যে কম্পিউটারের পাশে রাউটার রাখা হয় যেন সিগনাল দ্রুত পায়। কিন্তু টেলিভিশন, রেডিও বা রান্নাঘরের মাইক্রোওয়েভের মতো যন্ত্র রাউটারের তরঙ্গের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে। ফলে এটা দুর্বল হয়ে যায়। তাই এ ধরনের যন্ত্র থেকে রাউটার দূরে রাখুন।

Tuesday, February 9, 2016

সবকিছুই স্মার্ট by পল্লব মোহাইমেন

আশ্চর্য্য জগতে ঘুরে আসা যায় স্যামসাংয়ের
গিয়ার ভিঅার পরে। স্যামসাংয়ের কর্মী একতা
পুন পরেছেন এই গিয়ার -প্রথম আলো
চারদিকের গোলাগুলি, যুদ্ধবিমানের ওড়ে যাওয়া শেষ হলো। হঠাৎ শুভ্র প্রকৃতি। ন্যাড়া গাছগুলোর মাথায় তুলো তুলে বরফ। মাথা নামিয়ে নিচে তাকাতেই দেখতে পেলাম তুষারে ঢাকা উঁচু-নিচু পথ, প্রান্তর। যেদিকেই তাকালাম শুধু সাদা আর সাদা। ওপরে তাকাতেই গম্ভীর আকাশ। পায়ের নিচে তো তুষারশুভ্র বরফ। কিন্তু আমি তো বসে আছি কুয়ালালামপুর সম্মেলন কেন্দ্রের (কেএলসিসি) বড় একটি ঘরে!
ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটির ব্যাপারটা এমনই। ৩১ ডিগ্রি তাপমাত্রার কুয়ালালামপুর থেকে আমাকে নিয়ে গেছে এক বরফ রাজ্যে। তারপরই একনিমেষে ঘন এক বনে বড় বড় গাছে বাঁধা ঝুলন্ত এক সেতুর সামনে। চোখ ঢাকা এক যন্ত্র পরেছিলাম। ফিতা দিয়ে মাথায় যন্ত্রটি আটকানোর পরপরই আশ্চর্য একেকটা জগৎ খুলে যাচ্ছিল চোখের সামনে। স্যামসাং গিয়ার ভিআর হলো যন্ত্রটির নাম। বাংলাদেশে এখনো যন্ত্রটি ছাড়া হয়নি, তবে গত মাসে স্মার্টফোন মেলায় এ যন্ত্র মাথায় পরে অনেকেই পেয়েছেন ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটির স্বাদ।
স্মার্ট ওভেন
৪ ফেব্রুয়ারি কেএলসিসিতে ‘স্যামসাং ফোরাম ২০১৬’ আয়োজনে গিয়ার ভিআরের এই চমকের সঙ্গে ছিল নতুন নতুন প্রযুক্তির চমক। আয়োজক স্যামসাং সাউথওয়েস্ট এশিয়া। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সাংবাদিকদের নিয়ে করা হয়েছিল সারা দিনের এই ফোরাম।
‘লোকাল ইজ দ্য নিউ গ্লোবাল’— নিজের বক্তৃতায় এ কথা বললেন স্যামসাং সাউথওয়েস্ট এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। মানেটা কী? জানা গেল স্মার্টফোন, স্মার্টটিভি তো বটেই, জীবন যাপনের সব রকম প্রযুক্তিপণ্যের বেলায় উদ্ভাবনকে ২০১৬ সালে গুরুত্ব দিচ্ছে স্যামসাং। সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের জীবন যাপনের অভ্যাসগুলো জেনে সে অনুযায়ী যন্ত্র তৈরির বিষয়টিই এখন স্যামসাংয়ের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্যই ‘মেক ফর ইন্ডিয়া’, ‘মেক ফর বাংলাদেশ’ ইত্যাদি স্লোগানে পণ্য তৈরি হবে একেক দেশের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী।
স্মার্টঘড়ি—গিয়ার এস–২, পাউ রোবট
২০১৫ সালে ১৮টি স্মার্টফোন ছেড়েছিল স্যামসাং। ফোরামে ঘোষণা এল গ্যালাক্সি এ-৫ ও এ-৭ ২০১৬ সংস্করণের দুটি স্মার্টফোন আসছে। ধাতব আর কাচ দিয়ে তৈরি এ দুটি স্মার্টফোনে বেশ আশাবাদী স্যামসাং। জানালেন স্যামসাং ইন্ডিয়ার পরিচালক (মোবাইল বিজনেস) মনু শর্মা। বাংলাদেশের বাজারে শিগগিরই আসবে ফোন দুটি। গ্যালাক্সি নোট ৫ আসছে এবার দুটি সিমকার্ড ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে। স্যামসাংয়ের এই ফোনগুলো চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। বাংলাদেশে এখনো ফোরজি চালু হয়নি। বিকেলে ফোরামে এক কথোপকথনে মনু শর্মা বললেন, ‘আমরা ফোরজির বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই। তাই আগেই ফোরজি প্রযুক্তির ফোন বাজারে ছাড়া হচ্ছে। যখন ফোরজি চালু হবে তখন যাতে গ্রাহক এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে।’
ফোরামে নতুন টেলিভিশনের ঘোষণা এল এসইউএইচডি টিভির। ৭০০ কোটি রঙে ছবি দেখাবে এই টিভি। আর ইন্টারনেট তো আছেই। স্মার্টঘড়ি গিয়ার এস–২ এখন আরও উন্নত করেছে স্যামসাং। বেশ কটি মডেলের ঘড়ির দেখা মিলল ফোরামে।
ছিল নানা রকম স্মার্টটিভি
বেশি দিন হয়নি। ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ নামে একটি বাক্য চালু হয়েছে। এর মানে হলো ঘর-গেরস্থালির সবকিছুই যেন ইন্টারনেটে যুক্ত থাকে। ইন্টারনেট বা অন্য কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা যন্ত্রগুলোই ‘স্মার্ট’। সঙ্গে পর্দা ছুঁয়ে কাজ করার সুবিধা থাকতে হয়। স্যামসাং ফোরামে নতুন কিছু ঘরের কাজের পণ্য দেখা গেল। কার্পেট বা মেঝে পরিষ্কারের জন্য দেখা গেল পাউ রোবট নামের এক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। এর সঙ্গে ক্যামেরা আছে। সেই যান্ত্রিক চোখে মেঝের ময়লা দেখে দেখে যন্ত্রটি এগোয়, বাতাস দিয়ে ময়লা শুষে নেয়। কাজ করে একা একাই। এ ছাড়া স্মার্টফোন দিয়েও একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নতুন যে রেফ্রিজারেটর দেখানো হলো সেটি ‘পাঁচের ভেতর এক’। এতে আছে দুটি কমপ্রেসর। মজা হলো ওপরের ফ্রিজার খালি থাকলে তখন সেটার কমপ্রেসর বন্ধ থাকবে, নিচেরটা চলবে। আবার নিচেরটা খালি থাকলে উল্টো কাজ হবে। দেখা গেল কাপড় ধোয়ার নতুন যন্ত্র অ্যাডওয়াশ। কাপড় ধুতে দিলেন, ধোয়া শুরু হলো, তখন হয়তো মনে পড়ল আরও কটি কাপড় ধুতে হবে। চিন্তা নেই। নতুন কাপড় যোগ করা যাবে এ যন্ত্রে। ওয়াশিং মেশিনটি স্মার্টফোন দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নতুন আরেকটি যন্ত্র দেখাল স্যামসাং-স্মার্ট ওভেন।
হাতের মুঠো আর ঘরের যত যন্ত্রপাতি সবকিছুকেই স্মার্ট বানানোর চেষ্টা করছে স্যামসাং। ফোরামের সংবাদ সম্মেলনের শেষে পর্দায় দেখানো হলো এক প্যান্ডোরার বাক্স। বন্ধ সেটি। তবে আরও ঠিকরে বেরোচ্ছে। এই বাক্স খোলা হবে ২১ ফেব্রুয়ারি, স্পেনের বার্সেলোনায়। এটি থেকে সম্ভবত বের হবে গ্যালাক্সি এস ৭ স্মার্টফোন। স্যামসাং প্রযুক্তির নতুন চমক।

Monday, January 18, 2016

শিশুদের জন্য ডিজিটাল শিক্ষা by মেহেদী হাসান

পুরোপুরি ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশু আনন্দের সঙ্গেই
শিখতে পারে। মডেল: আরোহী, ​ছবি: খালেদ সরকার
সারি সারি ডেস্কে পেটমোটা সব কম্পিউটার। সামনে বসে আছে একদল শিশু। ভাবভঙ্গি গুরুগম্ভীর হলেও উত্তেজনায় চোখ চকচক করছে। আজ নতুন কিছু শিখবে তারা, মজার কিছু। গত শতকের আশির দশকের ঘটনা এটি। তা-ও আবার মার্কিন মুলুকে। স্টিভ জবসের অ্যাপল কম্পিউটার সবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে তিনি একবাক্যে ঘোষণা দিলেন, ‘কিডস কান্ট ওয়েট’। গোটা দুনিয়া কম্পিউটার হাতে এগিয়ে যাবে আর শিশুদের বেলায় বলা হবে ‘আগে বড় হও’, তা চলবে না! ১০-১১ বছরে প্রথম কম্পিউটার দেখেছেন স্টিভ জবস। প্রথম দেখায় প্রেম। আর তাই শিশুশিক্ষায় কম্পিউটারের অন্তর্ভুক্তি ছিল অ্যাপলের অগ্রাধিকার। শিশুদের জন্য মজার মজার সব কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি করেছে তারা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কম্পিউটার সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। মোটকথা, শিক্ষা যেন অ্যাপলের ‘ডিএনএ’তেই ছিল।
শনিবার বেসিস সভাকক্ষে আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার পুরোনো স্মৃতি এভাবেই রোমন্থন করছিলেন। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের সেই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হন। নিজ দেশে এমন কিছু শুরুর কথা ভাবেন। অ্যাপলের কিছু সফটওয়্যার কিনে আনেন তিনি। বাংলায় রূপান্তরের চেষ্টা করেন। তবে সেই চেষ্টায় সফলতার মুখ দেখে যখন নিজেরা নতুন করে অ্যানিমেশন ও শব্দ সংযোজনার মাধ্যমে এমন সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেন। মূলত সেটাই ছিল বিজয় শিশুশিক্ষা তৈরির ইতিকথা।
এরপর ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল স্থাপন করা হয় পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে। ধীরে ধীরে সারা দেশেই স্কুলের নতুন নতুন শাখা খোলা হয়। এই স্কুলগুলোতে বিজয় শিশুশিক্ষার মাধ্যমে কম্পিউটারভিত্তিক শিক্ষার হাতেখড়ি দেওয়া হয় শিশুদের। এদিকে চলতে থাকে বিজয় শিশুশিক্ষার উন্নয়ন। ২০১১ সাল নাগাদ প্রাক–প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সফটওয়্যার তৈরি হয়। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এরপর আমার স্বপ্ন ছিল স্কুলের বাচ্চাদের হাতে কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু ৪০-৫০ হাজার টাকার কম্পিউটার তো আর দেওয়া সম্ভব না। কম খরচের কম্পিউটারের খোঁজে লেগে পড়ি। এদিকে আমাদের সফটওয়্যারের উন্নয়ন চলছেই। প্রিস্কুল পর্বের কাজ হলো, পাঠ্যবই ধরে প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণিও হলো। কিন্তু আমরা চাইছিলাম সফটওয়্যারটি শুধু শ্রেণিকক্ষে না, শিশুদের হাতে পৌঁছে দিতে।’এর মধ্যে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় নেত্রকোনার পূর্বধলার এক স্কুলের অধ্যক্ষের সঙ্গে। সৈয়দ আরিফুজ্জামান নামের সেই অধ্যক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেন তাঁরা। এরপর গত বছরের শেষে এই প্রচেষ্টার উদ্বোধন করা হয়। মোস্তাফা জব্বার জানান সারা দেশে এই শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়াই এখন আমাদের পরিকল্পনা। এ বছর পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) তৈরি করব আমরা।
পূর্বধলার স্কুলে ডিজিটাল শিক্ষা
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আরবান একাডেমির অধ্যক্ষ সৈয়দ আরিফুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয়টির ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে বিজয় শিশুশিক্ষার প্রাক্-বিদ্যালয় বিষয়বস্তুগুলো শ্রেণিকক্ষে বড় পর্দায় দেখানো শুরু করি। এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা আগ্রহের সঙ্গে পড়াশোনা করে।’ এরপর তিনি ভেবে দেখেন, যদি প্রতিটি শিশুর হাতে তা পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে আরও ভালো হয়। এর মধ্যে বিজয় শিশুশিক্ষা দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা উপকরণ তৈরি করে ফেলে। এগিয়ে আসে বেসরকারি সংস্থা ডিনেট। ওদিকে মোস্তাফা জব্বার সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যান স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট কম্পিউটারের খোঁজে। অবশেষে সব ব্যবস্থা হয়ে গেলে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আরবান অ্যাকাডেমির প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ৪০ শিক্ষার্থীর হাতে কি-বোর্ডযুক্ত ট্যাবলেট কম্পিউটার তুলে দেওয়া হয়। ‘স্বদেশ’ নামের এই ট্যাবলেট কম্পিউটার বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে শিশুদের পাঠদানের উপযোগী করে। প্রতিটি ট্যাবলেটে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রথম শ্রেণির সিলেবাস অনুসরণ করে তৈরি করা বিজয় প্রাথমিক শিক্ষা-১ সফটওয়্যার ইনস্টল করা আছে৷ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা এসব কম্পিউটার ও ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বিজয় ডিজিটাল৷ সৈয়দ আরিফুজ্জামান ২০১৮ সালের মধ্যে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে এই ট্যাবলেট কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুত এই শিক্ষার্থীরা ট্যাবলেট কম্পিউটারের ব্যবহার আয়ত্ত করে ফেলেছে। শিখছেও দ্রুত। এই মাধ্যমে শিক্ষা খুব কার্যকর হচ্ছে।’
আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে, আমাদের দেশে তা হচ্ছে এত দিন পর। তবু তো চাকা গড়াল! সে জন্যও উদ্যোক্তারা একটা ধন্যবাদ তো পেতেই পারেন। তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে একদিন জ্যোতির্ময় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

Wednesday, December 9, 2015

দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজারো চাকুরির বিজ্ঞাপন এখন অনলাইনে

ডিজিটাল বিপ্লব আর অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উত্থানের সাথে সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বিনোদন থেকে শুরু করে কেনাকাটা এমনকি চাকুরীর খোঁজের জন্য দিন দিন আরো বেশি ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়ছে।
বিক্রয় ডট কম এবং বিডিজবস এর মতো জব পোর্টালগুলোতে বর্তমানে এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করে ম্যানেজমেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির অসংখ্য চাকুরির বিজ্ঞাপন রয়েছে। জব সাইটগুলো শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে এসএমই (ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তা) সব ধরনের চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করেছে।  যার ফলে, এই জব সাইটগুলোতে চাকুরি প্রার্থীদের জন্য সবধরনের চাকুরির খোঁজ মিলছে। বিক্রয় ডট কম প্রধানত ব্লু এবং গ্রে কলার ক্যাটাগরির চাকুরি এবং বিডিজবস হুয়াইট কলার ক্যাটাগরির চাকুরিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। বর্তমানে, বিক্রয় ডট কমে বিপিও ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ, ফাইনান্স ইন্ডাস্ট্রির জন্য অ্যাকাউন্টিং এক্সিকিউটিভ, আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির চাকুরির বিজ্ঞাপন বেশি দেখা যায়। এছাড়াও  গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির জন্য কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারের মতো অনেক ধরনের চাকুরির বিজ্ঞাপন রয়েছে।
অনলাইন জব পোর্টালগুলোর কারনে চাকুরি প্রার্থীদের জন্য যথাযথ চাকুরির খোঁজ পাওয়াটা এখন আরো সহজ হয়ে গিয়েছে। অনলাইনের কারণে চাকুরি প্রার্থীরা শুধু অসংখ্য চাকুরির খোঁজই পাচ্ছে না সেই সাথে বাসা কিংবা অফিসে বসে খুব সহজেই চাকুরির জন্য আবেদন করতে পারছে।  বিক্রয় ডট কম’এর নতুন ফিচারের মাধ্যমে আবেদন করার জন্য আবেদনকারী শুধুমাত্র সিভি সংযুক্ত করলেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। চাকুরি প্রার্থীদের জন্য এটি যেমন সুবিধাজনক এবং তেমনি চাকুরিদাতার নিয়োগ প্রক্রিয়াকেও এটি গতিশীল করছে। সাফারা অনলাইনের এক্সিকিউটিভ শাওন মোল্লা বলেন, “বিক্রয় ডট কমের মাধ্যমে সাফারা অনলাইনে আবেদন করার আগে আমি চাকুরির জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা  করেছি। বিক্রয়ে আবেদন প্রক্রিয়াটি ছিল খুবই সহজ। শুধুমাত্র সিভি সংযুক্ত করি এবং প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দিই। কয়েক দিনের মধ্যেই আমি ইন্টারভিউ এর অফার পাই এবং তাৎক্ষনিকভাবে চাকুরির জন্য মনোনীত হই। বিক্রয় ডট কম সত্যিই এক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করেছে।”
অনলাইনে চাকুরির বিজ্ঞাপন চাকুরিদাতা এবং প্রার্থী উভয়ের জন্যই কার্যকর এবং সুবিধাজনক। বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বিএসিসিও) সম্প্রতি দেড় হাজারেরও বেশি আগ্রহী আবেদনকারীকে তাদের অংশিদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কল সেন্টারের  বিভিন্ন পদের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ প্রসঙ্গে বিএসিসিও’র মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, “এতো বেশি সংখ্যক যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন পেয়ে আমরা বিস্মিত হয়েছি। অসংখ্য আবেদন থেকে বাছাই করতে বিক্রয় ডট কম আমাদের সাহায্য করেছে।”

Wednesday, November 25, 2015

ফ্রিল্যান্সিংয়ে মাসে আয় ২৪০০০ ডলার

এশিয়ায় ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা অনেক। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনে এ সম্প্রদায় এখন অন্য দেশের তুলনায় সংখ্যাগুরু। নিয়মিত চাকরি করে যে অর্থ আয় করা যায় তাদের অনেকেই তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আয় করছেন ফ্রিল্যান্সিং করে। তাদেরই একজন পাকিস্তানের দানিয়েল সালিম। কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে তিনি এখন অনলাইনে এক পরিচিত মুখ। অনলাইনে গ্রাফিক ডিজাইন করে তিনি মাসে আয় করেন গড়ে ২০ হাজার ডলার। গত কয়েক মাস ধরে তার আয় এমনই। দানিয়েল বলেছেন, এই সফলতা রাতারাতি তার কাছে ধরা দেয় নি। তিনি বলেন, ২০১২ সালে আমার এক নিকট আত্মীয় আমাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করায়। কিন্তু শুরুতে ক্লায়েন্টরা খুব কম পারিশ্রমিক দিতো। ওই সময় আমি কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলাম। এক পর্যায়ে দেখি চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা। তাই আমি সেই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি চূড়ান্তভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। এ সংক্রান্ত অনেক সাইটের মধ্যে একটিতে তিনি সাইন ইন করেন। সেখানে ছোটখাটো কাজ দেয়া হয়। যেমন একটি লোগোর ডিজাইন অথবা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দেয়া। এরই মধ্যে কলেজের শিক্ষার খরচ চালিয়ে নিতে তিনি শুরু করে দেন একটি ছোটখাট ব্যবসা। সিদ্ধান্ত নেন ফ্রিল্যান্সিংয়ে দুই বা তিন মাস দেখবেন যদি সফলতা না পান তাহলে ব্যবসায় ফিরবেন। প্রথম মাসে তিনি ফিভার (Fiverr)-এর সঙ্গে কাজ করেন। এখানে বেশির ভাগই লোগো ডিজাইনের কাজ। তবে এ কাজটি খুব সহজ ছিল না। দু’তিন সপ্তাহ তিনি কোন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কোন সাড়া পেলেন না। দানিয়েল বলেন, আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম কি করলে সাড়া পাওয়া যাবে। তাই আমি ব্লগ পড়া শুরু করলাম। ফোরামে যোগ দিলাম। যারা সফল ফ্রিল্যান্সার তাদের কাজের ধারা বিশ্লেষণ করলাম। দেখলাম এটা এক কঠিন লড়াই। তবে তাই বলে আমাকে এ কাজ ছেড়ে দিলে চলবে না। তিনি বুঝলেন কোন ক্লায়েন্ট সহজে কোন নতুন ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দিতে চায় না। কারণ সেখানে বিশ্বাসের বিষয় রয়েছে। তারা চায় পেশাদার। প্রতিষ্ঠিত ফ্রিল্যান্সার। এক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সারের জীবনী থাকতে হয় বর্ণিল, শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তেমন করে তিনি  প্রোফাইল আপডেট করলেন। আস্তে আস্তে কাজ আসা শুরু হলো। কয়েক মাসের মধ্যে গড়ে প্রতি মাসে তিনি এক প্রজেক্ট হাতে পাওয়া শুরু করলেন। পেশাগত কাজের পরিধি বাড়িয়ে দিলেন। এবার লোগো ডিজাইন থেকে বিজনেস কার্ড, ব্যানার, ফেসবুক কভার পেজ, লেটারহেড ও স্টেশনারি কাজের অর্ডার পেতে লাগলেন। যেসব ক্লায়েন্ট এসব কাজে সন্তুষ্ট হলেন তারা সংশ্লিষ্ট আরও কাজ তাকে দেয়া শুরু করলেন। এতে তার আয় বাড়তে থাকে। এ বছরের মে পর্যন্ত তার সামনে কাজের স্তূপ পড়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে ইন্টারনেট বড় সমস্যা হয়ে গেল তার জন্য। তার বাড়ি যেখানে সেখানে একটানা দুদিন পর্যন্ত কোন কোন সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। এ অবস্থায় তিনি জরুরি প্রয়োজনে ছুটে যান বন্ধুদের বাসায়। যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাদের প্রতি তার পরামর্শ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড়তি কিছুকে সব সময়ই ছাড় দিতে হয়। ক্লায়েন্টের চাওয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সে মতো কাজ করুন। তারাই আপনাকে সামনে টেনে নেবেন। অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা প্রতিদিন কয়েক শত প্রজেক্টে বিড করেন কিন্তু হতাশ হন। একটি প্রজেক্টও পান না। তার পরামর্শ হচ্ছে, আপনি যে বিষয়ে দক্ষ এমন প্রজেক্টগুলোতেই বিড করা ভাল। যেসব ফ্রিল্যান্সার অন্যের প্রজেক্ট থেকে কপি করে তা দিয়ে প্রজেক্ট বানান তারা বেশিদূর যেতে পারেন না। দানিয়েল একাই নন, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ৭০ জনকে। তাদের সবাই এখন প্রতি মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করছেন। দানিয়েল বলেন, শুধু দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়। আপনাকে জানতে হবে কিভাবে নিজেকে যথাযথভাবে ব্যবহার করবেন।

Wednesday, November 11, 2015

ভবিষ্যৎ নির্মাণে দরকার বাধাহীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা -সোমনাথ হালদার

পৃথিবী এখন প্রযুক্তি নির্ভর। বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হবে প্রযুক্তি জ্ঞান ও প্রযুক্তি দক্ষতা। নিজেদেরকে বিশ্বে তুলে ধরতে হলে জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আর এ জন্য ভবিষ্যৎ নির্মাণে দরকার বাঁধাহীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই একমাত্র গন্তব্য। এ লক্ষ্যে চিটাগাং সায়েন্স ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিশ্ব বিজ্ঞান দিবস-২০১৫ উপলক্ষে চিটাগাং সায়েন্স ফাউন্ডেশন (সিএসএফ) এর আলোচনা সভা, সম্মাননা স্মারক ও কর্মশালার সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ হালদার এ কথাগুলো বলেন।
গতকাল (১০ নভেম্বর মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ড. মো. সানাউল্লাহ। চিটাগাং সায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএসটিসির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়–য়া, সমাজবিজ্ঞানী ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা পিপি এড. চন্দন বিশ্বাস, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী পরিষদ কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. তপন কান্তি দাশ, চ্যানেল আই’র ব্যুরো চীফ চৌধুরী ফরিদ, বঙ্গবন্ধু সবুজ স্কুলের প্রেসিডেন্ট নাসরিন সুলতানা, ফোরাম ফর পিপলস ভয়েসের নির্বাহী সদস্য বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দক্ষিণ জেলার সভাপতি অজিত কুমার দাশ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর বেলায়েত হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নীলরতন দাশগুপ্ত, রিমন মুহুরী, অনিন্দ্য দেব, সানি তালুকদার, সমীর পাল প্রমুখ। ইউএসটিসির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়–য়া বলেন, উচ্চ শিক্ষা বলতে আমরা উন্নত সমাজ-সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান সৃষ্টির কথা বলি। কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, উন্নত বিশ্বের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে। সমাজবিজ্ঞানী ড. মনজুর-উল- আমিন চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য তাই সর্বাগ্রে দরকার বাধাহীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা। এখনই সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার। তিনি এই আন্দোলনকে বাংলাদেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। অজিত কুমার দাশ বলেন, এই প্রথম চট্টগ্রামে যে বিজ্ঞান আন্দোলন প্রতিষ্টা লাভ করেছে তা অদুর ভবিষ্যতে পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।
আলোচনা সভা শেষে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন প্রধান অতিথি সোমনাথ হালদার। এবার বিশ্ব বিজ্ঞান দিবসের সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সজল কুমার নাথ, ডা. মো. নাছির উদ্দিন, আলমগীর শিপন, মো. আরিফ চৌধুরী, দিদারুল ইসলাম, ডা. আর কে রুবেল, প্রিন্সিপ্যাল ডা. বরুণ কুমার আচার্য্য। উল্লেখ্য যে, বিকাল ৩টার কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।