Monday, August 4, 2014
ভঙ্গুর রাষ্ট্র, ভঙ্গুরতম নেতৃত্ব by মিজানুর রহমান খান
বাংলাদেশ বিশ্বের ১৭৮টি দেশের মধ্যে ‘অ্যালার্টে’ মানে বিপদে থাকা ২৯তম ভঙ্গুর রাষ্ট্র। এর অর্থ, আমাদের চেয়ে ১৪৯টি দেশের মানুষ ভালো আছে, আর আমরা ২৮টি দেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছি। আগের নয় বছরের সূচকের আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশ ক্রমাগত ভালোই করছিল। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের তিন বছর আগেই এই অগ্রগতি থমকে দাঁড়ায় ২৯তম র্যাঙ্কিংয়ে।
বিএনপির শাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করলে আওয়ামী লীগ ঢের ভালো করেছে। বিএনপির আমলের খুব খারাপ থাকা ১৬ ও ১৭তম এবং সেনা-সমর্থিত আমলের আরও অবনতিশীল ১৬ ও ১২তম অবস্থানকে পেছনে ফেলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এগিয়ে চলছিল।
সুতরাং যাঁরা আমাদের জীবনমান বিএনপি-জামায়াতকে আদর্শস্থানীয় ভেবে তুলনা করে আনন্দ পেতে চান, তাঁদের জন্য সুসংবাদ। শাসনগত ১২টি ক্যাটাগরির আওতায় তাঁরা শতাধিক সাব-ক্যাটাগরি করেছে। ১২ ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যাগত চাপ, উদ্বাস্তু হয়ে দেশত্যাগ ও স্থানান্তর, উত্তেজনা ও সহিংসতা, অভিবাসন ও মেধা পাচার, অসম উন্নয়ন, দারিদ্র্য ও মন্দা, রাষ্ট্রের বৈধতা, সরকারি সেবা, মানবাধিকার, নিরাপত্তাব্যবস্থা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপ।
এতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি তুলনা পেয়েছি। ওই ১২টি বিষয়ের প্রতিটির জন্য নম্বর হচ্ছে ০ থেকে ১০। ১২টিতে নম্বর তাই ১২০। নম্বর যত কম থাকবে, অবস্থান তত ভালো। যত বেশি হবে, তত খারাপ। ২০০৫-০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯৪ দশমিক ৩ থেকে ১০০ দশমিক ৩ পর্যন্ত পেয়ে শীর্ষ ২০টি ভঙ্গুর রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশ এরপর ক্রমাগত তার অবস্থান বদলাতে শুরু করেছিল। যেমন, ৯৬ দশমিক ১ পেয়ে বাংলাদেশ ২৪তম অবস্থান নেয় ২০১০ সালে। ২০১১ সালে ৯৪ দশমিক ৪ পেয়ে ২৫তম। ২০১২ সালে ৯২ দশমিক ২ পেয়ে ২৯তম অবস্থানে আসে এবং আগেই বলেছি, এখানে এসেই সে আটকা পড়ে। ২০১৪ সালের সূচকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রতিফলন নেই।
কারণ, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। তবে টানা তিন বছর থমকে দাঁড়ানো ইঙ্গিত দেয় যে ২০১৫ সালের সূচক বিস্ময়করভাবে ইতিবাচক হবে না। বাংলাদেশের বর্তমান ভঙ্গুর নেতৃত্ব সময় পার করতে পারে।
কিন্তু স্বল্প আয় থেকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করার আশাবাদ ভঙ্গুর থেকে যাবে।
২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সার্বিক প্রবণতার একটি লেখচিত্র তারা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ২০০৭-০৮ এতে খুবই খারাপভাবে চিত্রিত হয়েছে। বহুল আলোচিত এক-এগারোর প্রতি এটি আন্তর্জাতিক অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা চলে। ২০১২ সালের সূচকে বাংলাদেশ সামান্যই পরিবর্তন দেখেছে। অর্ধেকের বেশি সূচকের পরিবর্তন ঘটেনি। তিনটি সূচকের উন্নতি ছিল প্রান্তিক এবং দুটো সূচকের সামান্য অবনতি ঘটে।
পিস ফর ফান্ড বলেছে, পাঁচ বছর মেয়াদে বাংলাদেশের সূচকগুলো লক্ষণীয়ভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে জনসংখ্যার চাপ, সহিংসতা কমানো, অসম উন্নয়ন হ্রাস এবং দেশত্যাগ ও মেধা পাচারের গতিরোধে।
ফরেন পলিসির নির্বাহী সম্পাদক বেঞ্জামিন পকার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দ্য ফান্ড ফর পিসের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস্টা হেন্ড্রির। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন অনেক দেশ অব্যাহতভাবে শীর্ষ দশে অবস্থান করছে। উত্তরে ক্রিস্টা বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত একটি দেশ খুব তাড়াতাড়ি অধিকতর ভঙ্গুর কিংবা পুরোপুরি সহিংস হয়ে উঠতে পারে। এবং তারা ভঙ্গুরতম হতে পারে।
অথচ তালিকার নিচে যাওয়াটা অর্থাৎ অবস্থান ভালো হওয়াটা দ্রুততার সঙ্গে ঘটে না। অধিকতর স্থিতিশীলতা আনতে হলে একটি প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও উন্নয়ন অংশীদারদের এখন এটাই বেশি মনে রাখতে হবে।
সিয়েরা লিওন টপ টেন থেকে মুক্ত হয়েছে। কীভাবে? তারা সুশাসনগত সামর্থ্য বৃদ্ধির জোর চেষ্টা করেছে। কী করে ভালোভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায়, সে জন্য তারা জ্ঞানচর্চায় মনোযোগ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের তৃণমূলে পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বুঝতে হবে, এসবই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। আর স্থিতি ছাড়া একে লালন করা চলে না। তবে আমরা ক্রিস্টার সঙ্গে একমত হব যে কেবল সংশ্লিষ্ট দেশই নিজেদের খারাপ অবস্থা থেকে টেনে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল তার প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের নেতৃত্বকে এই ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে। সাফল্য আওয়ামী লীগের, ব্যর্থতা বিএনপি-জামায়াতের কিংবা প্রতিপক্ষের, এ কথা ৫ জানুয়ারির প্রহসনের পরে একেবারেই খাটে না।
ভঙ্গুর রাষ্ট্রের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ সুদানে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না, যারা সহিংসতা মোকাবিলা করতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের সহিংসতা বা তাদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন চালিয়ে একটি অবস্থা পার করে এসেছে সত্য। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে ভঙ্গুর থেকে ভঙ্গুরতর হয়েছে। আমরা এমন কিছু রাষ্ট্র দেখছি, যারা শক্তিশালী কিন্তু তারা জনগণের কল্যাণকে থোড়াই কেয়ার করে। এমনকি নিজেদের নাগরিককে আহত করে। আবার এমন অনেক রাষ্ট্র রয়েছে, যারা জনগণের জন্য ভালো করতে চাইলেও তার প্রতিষ্ঠান দিয়ে সেটা তারা করতে পারে না। বাংলাদেশ মনে হয় এই শেষের কাতারে পড়তে যাচ্ছে।
তবে ক্রিস্টার একটি কথা প্রণিধানযোগ্য। কিছু লোক সব সময়ই ক্ষমতাসীনদের তাঁবেদার। তাঁরা রাজনীতিকে উন্নয়ন থেকে আলাদা করতে চান। সামরিক শাসনেও বলা হয়েছে, জেনারেলদের বিরক্ত কোরো না। জেনারেল হয়েছে তো কী হয়েছে, দেশের স্বার্থ তো আগে। আগে চাই অর্থনৈতিক মুক্তি আর এটা পেলেই রাজনৈতিক মুক্তি ধরা দেবে। আর বাংলাদেশ এখন কার্যত এরই একটি পরীক্ষাগার। অথচ ক্রিস্টা বলেছেন খাঁটি কথা। ‘আমরা এমন কোনো দেশ দেখিনি, যারা তাদের অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন সাধন করে ফেলেছে অথচ তাদের দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিরাট রাজনৈতিক উদ্বেগ রাষ্ট্রকে কাতর করেনি।’ আসলে দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। কারণ, এ-সংক্রান্ত সব ইস্যু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্রিস্টা প্রশ্ন করেছেন, ভারতের অর্থনৈতিক মন্দা কি দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শাসনগত দক্ষতাকে প্রভাবিত করেনি? আরব বসন্ত কি প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে কোনো স্থায়ী অবদান রাখতে পেরেছে?
বর্তমানে যে অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, তা সব সময় ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা হয়ে থাকবে। কারণ, ক্রিস্টার কথায়, ‘একটি রাষ্ট্র, যার কাঠামো শক্তিশালী রয়েছে, তারও একটি বছরে অনেক কিছু ঘটতে পারে। আর সেটা কেবল রাষ্ট্রের বৈধতাকে নয়, তার নাগরিকদের জীবনে তা কয়েক দশকব্যাপী প্রভাব বয়ে আনতে পারে।’
২০১২ সালে শিল্পোন্নত জি-৭ + ফ্রাজাইল ১৮-এর জন্ম হয়েছে। জি-৭-এর সঙ্গে ১৮টি দেশ যুক্ত হয়েছে, যারা ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচকে খুব খারাপ অবস্থায়। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ অবশ্যই দূরে, কিন্তু খুব বেশি দূরে নয়। ২০১২ সালে তারা প্রথমবারের মতো ৫২ পৃষ্ঠার একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জি-৭ তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে চায়।
এই প্রতিবেদনে ভয়ানক ভঙ্গুর রাষ্ট্রের ১৪টি বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ঢাকার কূটনৈতিকপল্লি থেকে একটি নতুন পরিভাষা শুনেছিলাম। এই প্রতিবেদনে তা দেখলাম, আর সেটি হলো ‘ইনক্লুসিভ পলিটিকস।’ সোজা কথায়, বিএনপি, জামায়াতসহ সবাইকে নিয়েই রাজনীতি। বাংলাদেশে এর পদ্ধতিগত বিসর্জনকাল চলছে। এ জন্য শাসনসংশ্লিষ্ট সব ‘বাজিকর’ কমবেশি দায়ী। কিন্তু যা খুবই আশঙ্কার তা হলো সবচেয়ে ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলোর যা বৈশিষ্ট্য তার কয়েকটি বাদে সবই বাংলাদেশের জন্য মাত্রাগত তারতম্য সাপেক্ষে এখনই প্রযোজ্য এবং হুঁশিয়ার হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এই বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে সংলাপ না থাকা, সব পক্ষ যুদ্ধে থাকা, চুক্তি করে তার বরখেলাপ করা, জবরদস্তি (প্রতিপক্ষকে) এলাকাছাড়া করা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক ভেঙে পড়া, নির্বাচন না হওয়া, শক্তি প্রয়োগকেই ক্ষমতার ভিত্তি করা, দেশের সর্বত্র রাষ্ট্রের উপস্থিতি অনুভূত না হওয়া, শাসনের ঐতিহ্যগত ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, আবার ঐতিহ্যগত শাসনই একমাত্র চালিকাশক্তি এবং রাজনৈতিকভাবে সমাধানের কোনো পথ একেবারেই খোলা না থাকা।
এই অবস্থা থেকে উতরাতে যে ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে, তার বেশির ভাগই বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী বেমালুম অস্বীকার করে চলেছে। এতে তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে: নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে হবে, সংবিধানের রিভিউ শুরু করতে হবে এবং রাজনৈতিক সংলাপ চালু করতে হবে। অবশ্য বাস্তবে এটা কম ভরসার বিষয় নয় যে ২০০৮-১১ সোমালিয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্রের সূচকের টপ টেনে থেকেও জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে থাকতে তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
তাদের শীর্ষ নেতা বিদেশে গেলে রাষ্ট্রপ্রধানেরা দেখা করেন। সোমালিয়ার পত্রিকা নিশ্চয় বড় করে সেসব সাক্ষাৎপর্বের আলোকচিত্র ফলাও করেই ছাপে। পাকিস্তান টপ টেনে থেকেও সত্তরের নির্বাচনের পর প্রথম এত বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ভোট করল। তার
মানে দাঁড়াল, বিএনপির চাওয়া ভোট এলেও আমাদের উন্নতি হচ্ছে না। ভঙ্গুরতম নেতৃত্বই এর বাধা।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বহুত্ববাদী ভারতে চরমপন্থার বিস্তার by কুলদীপ নায়ার
গেল পবিত্র রমজান মাসে শিবসেনার এক সাংসদ একজন মুসলিমকে জোর করে রোজা ভাঙতে বাধ্য করেছেন। আরও খারাপ ব্যাপার হচ্ছে, সেই সাংসদ ও অন্যরা এর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শিবসেনার বেশ কয়েকজন সাংসদ এ ঘটনার নিন্দা তো করেনইনি, উপরন্তু তাঁরা বলেছেন, মহাসদনে যে খাবার সরবরাহ করা হয়, তার মান যে ভালো নয়, সেটা বোঝাতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শিবসেনার সেই সাংসদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে রোজার সময় অনেক মুসলিম ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ করেন, এর সঙ্গে ওই ঘটনার সাদৃশ্য টানার কোনো দরকার ছিল না দলটির। মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভারতের সংবিধান অনুসারে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু মোদি তো হিন্দুত্ববাদের রাজনীতিই করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ই গুজরাটে ২০০২ সালে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় বহু মুসলিম মারা যান।
অমিত শাহ মোদির একজন সহযাত্রী। বিজেপির সভাপতি হয়েছেন অমিত শাহ। এটা হচ্ছে আনুগত্যের পুরস্কার। অমিত শাহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বস্ত লোক। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য হচ্ছে, নিজ প্রভু নরেন্দ্র মোদির ওপর তাঁর অগাধ আস্থা রয়েছে। ভারতের বৃহৎ রাজ্য উত্তর প্রদেশে মেরুকরণ ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তিনি এতে সফলও হয়েছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে বিজেপি ৮০টি আসনের মধ্যে ৭১টি আসন পেয়েছে।
মোদি এখন তাঁর ওপর আরও বড় দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, উত্তর প্রদেশের পর তাঁকে এবার দেশজুড়ে হিন্দুত্ববাদ ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে একটি ব্যাপার স্পষ্ট হয়ে গেছে: ভারতের সমাজে চরমপন্থার যে প্রতিকূল স্রোত ছিল, সেটা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি এখন প্রকাশ্যেই মোদি ও আরএসএসকে একই কাতারে আনার চেষ্টা করছেন। যেমন, আরএসএসের কট্টর সদস্য কাপতান সিং সোলাঙ্কিকে হরিয়ানার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিজেপি এখন আরএসএসের দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হতে মুখিয়ে আছে।
আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগওয়াত বলেছেন, সংঘ পরিবার রাজনীতিতে নামবে। এর মাধ্যমে একটি ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যায়, সংঘ পরিবার এখন আরএসএসের অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত হচ্ছে। আরএসএস ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার প্যাটেলের কাছে মুচলেকা দিয়েছিল, তারা কখনো রাজনীতিতে অংশ নেবে না। এর মাধ্যমে তারা কি সে ওয়াদার বরখেলাপ করল না? বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যে কোনো তফাত আর থাকছে না, তারা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
হিন্দুত্ববাদের বিস্তারকল্পে মোদি এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নিলেও তাঁর আমলে আরএসএসের ভিত্তি আরও জোরালো হচ্ছে। ব্যাপারটা এ পর্যায়ে চলে গেছে যে বিজেপির একজন সদস্য ভারতের সেরা টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জাকে পাকিস্তানি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ভারতের মুসলমানদের নিরন্তর রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পরীক্ষা দিতে হয়। সানিয়ার স্বামী একজন পাকিস্তানি, সেটা সবাই জানে। তাঁর জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি আহত হয়েছেন।
হরিয়ানাতেও হিন্দুত্ববাদের অনুরূপ ব্যাপার দেখা যাচ্ছে, সেখানকার একটি পৃথক শিরোমণি গুরুদুয়ারা পারবন্ধক কমিটি (এসজিপিসি) প্রদেশের সকল গুরুদুয়ারা ও সেগুলোর প্রার্থনা পরিচালনা করবে। আরএসএস শিখদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই মনে করে, যদিও শিখেরা এ ধারণার বিরোধী। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পারকাশ সিং বাদল জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেছেন, পাঞ্জাবের শিখরা শিখধর্ম পালনে কোনো ব্যত্যয় সহ্য করবে না।
আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপিতে উদারনৈতিক মানুষের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। এই চক্রে এখন আরএসএসের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। হয়তো বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যকার দূরত্বের কোনো বাস্তবতা নেই। আসলে আরএসএসের কৌশল হচ্ছে, ভারতের মানুষ একগুঁয়ে আরএসএসের চেয়ে উদার বিজেপিকে শ্রেয় মনে করে, এই ধারণায় চিড় ধরানো।
সৌভাগ্যবশত মোদি বুঝতে পেরেছেন, প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের সঙ্গেই তাঁর ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনায় সে ইঙ্গিতই পাওয়া যায়। মোদি ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে দেশটির বহুত্ববাদী সংস্কৃতি আরও পোক্ত হবে। এ গুণের কারণেই ভারত এই উপমহাদেশে একটি উদারনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে পেরেছে।
আমি আশা করি, নয়াদিল্লি হিন্দু তালেবানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। এরা ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। উদারনৈতিক মুসলমানদের তালেবান ও মৌলবাদের বিরোধিতায় আত্মসন্তুষ্টির খপ্পরে পড়া চলবে না, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় দেশের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।এই মৌলবাদীদের লক্ষ্য হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের সকল প্রকার উদারপন্থা রুদ্ধ করা। তারা এটাও জানে যে তা সম্ভব নয়।
আর নির্বাচনের সময় তারা বহুত্ববাদের সমর্থক প্রার্থীদের হটিয়ে দিতে চায়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শাসকদের বাস্তববাদী মনে হচ্ছে।তাঁরা হয়তো এমন কিছু করবেন না, যাতে তাঁদের দেশের অমুসলিম ভোটাররা দেশত্যাগে বাধ্য হন।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি অবৈতনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন by আব্দুল কাইয়ুম
আসলে বাসায় মোটামুটি খেয়েপরে চলার সংগতি তাদের নেই। স্কুলে একবেলা খাবারই তার ভরসা। কিন্তু তাতে কি চলে? অসুখবিসুখ লেগেই আছে।বেশ দুর্বল।তার পরও সে স্কুলে রোজ আসে। পড়াশোনা তার খুব ভালো লাগে। স্কুলের পরিবেশ ভালো। বাবা আরেক বিয়ে করে চলে গেছেন। মা হাড়ভাঙা খাটুনি করে সামান্য রোজগার করেন। তাতেই চলে তাদের মা-মেয়ের কষ্টের সংসার।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হলো কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল। এটা যে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের একটি বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তা ধীরে ধীরে দেশে-বিদেশে বিদ্যোৎসাহী মানুষজন জানতে শুরু করেছে। কমরেড রতন সেন ছিলেন আজীবন বিপ্লবী। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি সারা দেশের, বিশেষভাবে খুলনার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি অর্জন করেছিলেন। কিছু সমাজবিরোধী লোক তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে রতন সেনের শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর ভিটেজমিতে গড়ে তোলেন মেয়েদের স্কুল।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এস এম লিয়াকত হোসেন আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। স্কুলের দায়িত্ব তাঁর কাছে নিজের ব্যবসার চেয়েও বড়। গত বছরের শেষ দিকে তিনি স্কুল পরিচালনার কাজ করছিলেন। এ সময় মলিন কাপড় পরা গ্রামের এক নারী এসে স্কুলে ভর্তির তারিখ জানতে চাইলেন। স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী ফসলি জমিতে কাজ করতেন। মজুরি পেতেন মাত্র দেড় শ টাকা। তাতে কষ্টেসৃষ্টে মা-মেয়ের সংসার চলে যেত। কিন্তু ফসল তোলার পর মাঠে কাজ নেই। তিনি শহরে বাসাবাড়ির কাজ নিয়ে চলে যাবেন। মেয়েকে নানির কাছে রেখে যেতে চান। এ সময় যদি স্কুলে ভর্তি হতে পারে, তাহলে তাঁর মেয়ের পড়াশোনার ব্যবস্থা তো হবেই, উপরন্তু দুপুরে পেটভরে খাওয়ার নিশ্চয়তাও থাকবে। এ জন্যই তিনি মেয়েকে স্কুলে পড়াতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। মেয়েটি এবার ক্লাস সিক্সে ভর্তি হতে পেরেছে। এর চেয়ে বড় খুশির খবর আর কী হতে পারে!
স্কুলের এক ছাত্রী টুম্পা রানী। ক্লাস নাইনে পড়ে। ছোট বোন পড়ে সিক্সে। স্বামী পরিত্যক্তা মা খুব কষ্টে ছিলেন। গত বছর ক্যানসারে মারা গেলেন।দুই বোন তাদের জেঠার কাছে থাকে। স্কুল থেকে তাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যেন তারা স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে।আরেক ছাত্রী তাফুরা খাতুন। ক্লাস নাইনে বিজ্ঞানের ছাত্রী। তার মা শহরে গুঁড়া হলুদের একটি মিলে চাকরি করে দুই পয়সা আয় করেন।স্কুলে যদি মেয়ের এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা না হতো, তাহলে হয়তো তার এই শিশু বয়সেই মজুর খাটতে হতো মায়ের মতোই।
এ রকম কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে দেখলাম, ওরা নিজেদের গরিব বলে মনে করে না। তাদের ঘরে
ঘরে দারিদ্র্য, কিন্তু ওরা দরিদ্র নয়। কারণ, স্কুল তাদের মর্যাদার আসনে দাঁড় করিয়েছে। শিক্ষার আলোকবর্তিকা তাদের হাতে। তাদের মেধাসম্পদের প্রাচুর্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আর্থিক দারিদ্র্যের যাতনা। এখন তারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
শিক্ষকেরা দিনে স্কুলে পড়ান আর রাতে নিজেরা দায়িত্ব ভাগাভাগি করে বিভিন্ন গ্রামে ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেন হোমওয়ার্ক করতে তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না। টর্চলাইট নিয়ে তাঁরা গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়েন। যাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই, স্কুল থেকে তাদের হারিকেন ও কেরোসিনের খরচ দেওয়া হয়। বাসায় বিদ্যুৎ থাকলে দেওয়া হয় চার্জলাইট, যেন লোডশেডিংয়ে পড়াশোনা আটকে না যায়।
টিফিনের সময় লাইন ধরে সবাই থালায় খাবার নিয়ে ক্লাসে বসে খায়। ডালভাত-শাকসবজি। সপ্তাহে একদিন মাছ। স্কুলের জমি ও পুকুর থেকেই আসে টিফিনের খাবারের শাকসবজি ও মাছ। ছাত্রীরা বাগানে নিজেদের জন্য কাজ করে।
জেলা প্রশাসন বছরে একদিন সার্কিট হাউস থেকে রান্না করে এনে স্কুলের ছাত্রীদের এক বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করে। প্রত্যেকের জন্য প্লেট ভরা পোলাও, দুই টুকরা মাংস, একটি ডিম ও দুটি আলু। জেলা প্রশাসক নিজে এসে সবাইকে খাইয়ে যান। এ ছাড়া, বছরের বিভিন্ন সময় স্কুলের শুভানুধ্যায়ীরা তাঁদের পারিবারিক উদ্যোগে বিশেষ খাওয়ার আয়োজন করে থাকেন।
সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরেও রয়েছে এককালীন বৃত্তি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা শুভানুধ্যায়ীরা এসব বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। তা ছাড়া, ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ডভিশন, রোটারি ক্লাব থেকে ছিটেফোঁটা সহায়তা আসে। প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সাড়াও মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়টির সামনে এখন বিরাট পরীক্ষা।আগামী বছর, অর্থাৎ ২০১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে একাদশ শ্রেণি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ভবনটি দোতলা করতে হবে।দরকার অন্তত ৫০ লাখ টাকা।এত টাকা যে নেই।
আমার চোখের সামনে স্বপ্নের মতো ভেসে উঠছে একটি দৃশ্য। ভাবছি, এত উদ্যমী শুভানুধ্যায়ীরা যখন রয়েছেন, তাহলে হয়তো একদিন এখানে গড়ে উঠবে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।একান্তভাবে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের জন্য সেটি হবে বাংলাদেশের প্রথম একটি অবৈতনিক বিশ্ববিদ্যালয়।
এ জন্য দরকার অনেক মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা।কেউ সহায়তা দিতে চাইলে সরাসরি ব্যাংকে যোগাযোগ করতে পারেন: অ্যাকাউন্ট নেম: কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, অ্যাকাউন্ট নং: ০০১২১০০০১৬৮১৯, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, খুলনা শাখা, বাংলাদেশ, সুইফট কোড, SEBDBDDHKLN
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গান-প্রমোতেই বাজিমাত করলেন তামান্না ভাটিয়া

About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এত্ত এত্ত লাশ!

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দীপিকা-প্রিয়াংকাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে কাটরিনা
কাটরিনার ক্রেজই তার এই এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবেই মানা হচ্ছে। তবে ভোটিংয়ের সময় আরও অনেক বাকি আছে। এতে যে কোন সময়ই এগিয়ে যেতে
পারেন প্রিয়াংকা ও দীপিকাও। তবে কাটরিনাকে পেছনে ফেলতে বেশ বেগ পেতে হবে এই দুই অভিনেত্রীকে এতটুকু তো বলাই যায়!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জোরদার
![]() |
| গাজার বাসিন্দা হিসেবে যুদ্ধ ও ধ্বংসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে এই শিশুরা। এ কারণেই হয়তো ইসরায়েলি গোলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে বল খুঁজে পেয়ে খুশি এই ফিলিস্তিনি শিশুরা। ছবি: এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণায় টুটু
![]() |
| ডেসমন্ড টুটু |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহান শিশু
![]() |
| ভালো কাজকে কখনো খাটো করে দেখতে নেই |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় নেমে এসেছে মহাপ্রলয় -চারদিকে শুধু লাশ

ওদিকে গাজার জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। গতকাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল ঢাকাস্থ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শাহের মোহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সেখানকার জনগণের প্রতি সিপিডির পক্ষ থেকে সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করা হয়। এ সময় সিপিডির পক্ষ থেকে গাজার জনগণের জন্য রাষ্ট্রদূতের কাছে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দু’দিনের বেতনের সমপরিমাণ দুই লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুই নারীর ফাঁদ

About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 04
(11)
- ভঙ্গুর রাষ্ট্র, ভঙ্গুরতম নেতৃত্ব by মিজানুর রহমান খান
- বহুত্ববাদী ভারতে চরমপন্থার বিস্তার by কুলদীপ নায়ার
- একটি অবৈতনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন by আব্দুল কাইয়ুম
- গান-প্রমোতেই বাজিমাত করলেন তামান্না ভাটিয়া
- এত্ত এত্ত লাশ!
- দীপিকা-প্রিয়াংকাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে কাটরিনা
- যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জোরদার
- ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণায় টুটু
- মহান শিশু
- গাজায় নেমে এসেছে মহাপ্রলয় -চারদিকে শুধু লাশ
- দুই নারীর ফাঁদ
-
▼
Aug 04
(11)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


