Monday, August 4, 2014

ভঙ্গুর রাষ্ট্র, ভঙ্গুরতম নেতৃত্ব by মিজানুর রহমান খান

ব্যর্থ রাষ্ট্র কথাটি ছিল গোলমেলে। ওয়াশিংটনভিত্তিক দ্য ফান্ড ফর পিস এবং ফরেন পলিসি, যারা যথাক্রমে ২০০৫ সালে প্রথম ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচক (ফেইল্ড স্টেট ইনডেক্স) প্রস্তুত ও প্রকাশ করা শুরু করেছিল, তারা সম্প্রতি ২০১৪ সালের সূচক প্রকাশ করে বলেছে, তারা আর কোনো রাষ্ট্রকে ফেইল্ড বলবে না, বলবে ফ্রাজাইল বা ভঙ্গুর।
বাংলাদেশ বিশ্বের ১৭৮টি দেশের মধ্যে ‘অ্যালার্টে’ মানে বিপদে থাকা ২৯তম ভঙ্গুর রাষ্ট্র। এর অর্থ, আমাদের চেয়ে ১৪৯টি দেশের মানুষ ভালো আছে, আর আমরা ২৮টি দেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছি। আগের নয় বছরের সূচকের আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশ ক্রমাগত ভালোই করছিল। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের তিন বছর আগেই এই অগ্রগতি থমকে দাঁড়ায় ২৯তম র্যাঙ্কিংয়ে।
বিএনপির শাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করলে আওয়ামী লীগ ঢের ভালো করেছে। বিএনপির আমলের খুব খারাপ থাকা ১৬ ও ১৭তম এবং সেনা-সমর্থিত আমলের আরও অবনতিশীল ১৬ ও ১২তম অবস্থানকে পেছনে ফেলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এগিয়ে চলছিল।
সুতরাং যাঁরা আমাদের জীবনমান বিএনপি-জামায়াতকে আদর্শস্থানীয় ভেবে তুলনা করে আনন্দ পেতে চান, তাঁদের জন্য সুসংবাদ। শাসনগত ১২টি ক্যাটাগরির আওতায় তাঁরা শতাধিক সাব-ক্যাটাগরি করেছে। ১২ ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যাগত চাপ, উদ্বাস্তু হয়ে দেশত্যাগ ও স্থানান্তর, উত্তেজনা ও সহিংসতা, অভিবাসন ও মেধা পাচার, অসম উন্নয়ন, দারিদ্র্য ও মন্দা, রাষ্ট্রের বৈধতা, সরকারি সেবা, মানবাধিকার, নিরাপত্তাব্যবস্থা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপ।
এতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি তুলনা পেয়েছি। ওই ১২টি বিষয়ের প্রতিটির জন্য নম্বর হচ্ছে ০ থেকে ১০। ১২টিতে নম্বর তাই ১২০। নম্বর যত কম থাকবে, অবস্থান তত ভালো। যত বেশি হবে, তত খারাপ। ২০০৫-০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯৪ দশমিক ৩ থেকে ১০০ দশমিক ৩ পর্যন্ত পেয়ে শীর্ষ ২০টি ভঙ্গুর রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশ এরপর ক্রমাগত তার অবস্থান বদলাতে শুরু করেছিল। যেমন, ৯৬ দশমিক ১ পেয়ে বাংলাদেশ ২৪তম অবস্থান নেয় ২০১০ সালে। ২০১১ সালে ৯৪ দশমিক ৪ পেয়ে ২৫তম। ২০১২ সালে ৯২ দশমিক ২ পেয়ে ২৯তম অবস্থানে আসে এবং আগেই বলেছি, এখানে এসেই সে আটকা পড়ে। ২০১৪ সালের সূচকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রতিফলন নেই।
কারণ, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। তবে টানা তিন বছর থমকে দাঁড়ানো ইঙ্গিত দেয় যে ২০১৫ সালের সূচক বিস্ময়করভাবে ইতিবাচক হবে না। বাংলাদেশের বর্তমান ভঙ্গুর নেতৃত্ব সময় পার করতে পারে।
কিন্তু স্বল্প আয় থেকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করার আশাবাদ ভঙ্গুর থেকে যাবে।
২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সার্বিক প্রবণতার একটি লেখচিত্র তারা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ২০০৭-০৮ এতে খুবই খারাপভাবে চিত্রিত হয়েছে। বহুল আলোচিত এক-এগারোর প্রতি এটি আন্তর্জাতিক অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা চলে। ২০১২ সালের সূচকে বাংলাদেশ সামান্যই পরিবর্তন দেখেছে। অর্ধেকের বেশি সূচকের পরিবর্তন ঘটেনি। তিনটি সূচকের উন্নতি ছিল প্রান্তিক এবং দুটো সূচকের সামান্য অবনতি ঘটে।
পিস ফর ফান্ড বলেছে, পাঁচ বছর মেয়াদে বাংলাদেশের সূচকগুলো লক্ষণীয়ভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে জনসংখ্যার চাপ, সহিংসতা কমানো, অসম উন্নয়ন হ্রাস এবং দেশত্যাগ ও মেধা পাচারের গতিরোধে।
ফরেন পলিসির নির্বাহী সম্পাদক বেঞ্জামিন পকার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দ্য ফান্ড ফর পিসের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস্টা হেন্ড্রির। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন অনেক দেশ অব্যাহতভাবে শীর্ষ দশে অবস্থান করছে। উত্তরে ক্রিস্টা বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত একটি দেশ খুব তাড়াতাড়ি অধিকতর ভঙ্গুর কিংবা পুরোপুরি সহিংস হয়ে উঠতে পারে। এবং তারা ভঙ্গুরতম হতে পারে।
অথচ তালিকার নিচে যাওয়াটা অর্থাৎ অবস্থান ভালো হওয়াটা দ্রুততার সঙ্গে ঘটে না। অধিকতর স্থিতিশীলতা আনতে হলে একটি প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও উন্নয়ন অংশীদারদের এখন এটাই বেশি মনে রাখতে হবে।
সিয়েরা লিওন টপ টেন থেকে মুক্ত হয়েছে। কীভাবে? তারা সুশাসনগত সামর্থ্য বৃদ্ধির জোর চেষ্টা করেছে। কী করে ভালোভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায়, সে জন্য তারা জ্ঞানচর্চায় মনোযোগ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের তৃণমূলে পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বুঝতে হবে, এসবই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। আর স্থিতি ছাড়া একে লালন করা চলে না। তবে আমরা ক্রিস্টার সঙ্গে একমত হব যে কেবল সংশ্লিষ্ট দেশই নিজেদের খারাপ অবস্থা থেকে টেনে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল তার প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের নেতৃত্বকে এই ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে। সাফল্য আওয়ামী লীগের, ব্যর্থতা বিএনপি-জামায়াতের কিংবা প্রতিপক্ষের, এ কথা ৫ জানুয়ারির প্রহসনের পরে একেবারেই খাটে না।
ভঙ্গুর রাষ্ট্রের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ সুদানে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না, যারা সহিংসতা মোকাবিলা করতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের সহিংসতা বা তাদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন চালিয়ে একটি অবস্থা পার করে এসেছে সত্য। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে ভঙ্গুর থেকে ভঙ্গুরতর হয়েছে। আমরা এমন কিছু রাষ্ট্র দেখছি, যারা শক্তিশালী কিন্তু তারা জনগণের কল্যাণকে থোড়াই কেয়ার করে। এমনকি নিজেদের নাগরিককে আহত করে। আবার এমন অনেক রাষ্ট্র রয়েছে, যারা জনগণের জন্য ভালো করতে চাইলেও তার প্রতিষ্ঠান দিয়ে সেটা তারা করতে পারে না। বাংলাদেশ মনে হয় এই শেষের কাতারে পড়তে যাচ্ছে।
তবে ক্রিস্টার একটি কথা প্রণিধানযোগ্য। কিছু লোক সব সময়ই ক্ষমতাসীনদের তাঁবেদার। তাঁরা রাজনীতিকে উন্নয়ন থেকে আলাদা করতে চান। সামরিক শাসনেও বলা হয়েছে, জেনারেলদের বিরক্ত কোরো না। জেনারেল হয়েছে তো কী হয়েছে, দেশের স্বার্থ তো আগে। আগে চাই অর্থনৈতিক মুক্তি আর এটা পেলেই রাজনৈতিক মুক্তি ধরা দেবে। আর বাংলাদেশ এখন কার্যত এরই একটি পরীক্ষাগার। অথচ ক্রিস্টা বলেছেন খাঁটি কথা। ‘আমরা এমন কোনো দেশ দেখিনি, যারা তাদের অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন সাধন করে ফেলেছে অথচ তাদের দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিরাট রাজনৈতিক উদ্বেগ রাষ্ট্রকে কাতর করেনি।’ আসলে দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। কারণ, এ-সংক্রান্ত সব ইস্যু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্রিস্টা প্রশ্ন করেছেন, ভারতের অর্থনৈতিক মন্দা কি দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শাসনগত দক্ষতাকে প্রভাবিত করেনি? আরব বসন্ত কি প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে কোনো স্থায়ী অবদান রাখতে পেরেছে?
বর্তমানে যে অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, তা সব সময় ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা হয়ে থাকবে। কারণ, ক্রিস্টার কথায়, ‘একটি রাষ্ট্র, যার কাঠামো শক্তিশালী রয়েছে, তারও একটি বছরে অনেক কিছু ঘটতে পারে। আর সেটা কেবল রাষ্ট্রের বৈধতাকে নয়, তার নাগরিকদের জীবনে তা কয়েক দশকব্যাপী প্রভাব বয়ে আনতে পারে।’
২০১২ সালে শিল্পোন্নত জি-৭ + ফ্রাজাইল ১৮-এর জন্ম হয়েছে। জি-৭-এর সঙ্গে ১৮টি দেশ যুক্ত হয়েছে, যারা ব্যর্থ রাষ্ট্রের সূচকে খুব খারাপ অবস্থায়। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ অবশ্যই দূরে, কিন্তু খুব বেশি দূরে নয়। ২০১২ সালে তারা প্রথমবারের মতো ৫২ পৃষ্ঠার একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জি-৭ তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে চায়।
এই প্রতিবেদনে ভয়ানক ভঙ্গুর রাষ্ট্রের ১৪টি বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ঢাকার কূটনৈতিকপল্লি থেকে একটি নতুন পরিভাষা শুনেছিলাম। এই প্রতিবেদনে তা দেখলাম, আর সেটি হলো ‘ইনক্লুসিভ পলিটিকস।’ সোজা কথায়, বিএনপি, জামায়াতসহ সবাইকে নিয়েই রাজনীতি। বাংলাদেশে এর পদ্ধতিগত বিসর্জনকাল চলছে। এ জন্য শাসনসংশ্লিষ্ট সব ‘বাজিকর’ কমবেশি দায়ী। কিন্তু যা খুবই আশঙ্কার তা হলো সবচেয়ে ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলোর যা বৈশিষ্ট্য তার কয়েকটি বাদে সবই বাংলাদেশের জন্য মাত্রাগত তারতম্য সাপেক্ষে এখনই প্রযোজ্য এবং হুঁশিয়ার হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এই বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে সংলাপ না থাকা, সব পক্ষ যুদ্ধে থাকা, চুক্তি করে তার বরখেলাপ করা, জবরদস্তি (প্রতিপক্ষকে) এলাকাছাড়া করা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক ভেঙে পড়া, নির্বাচন না হওয়া, শক্তি প্রয়োগকেই ক্ষমতার ভিত্তি করা, দেশের সর্বত্র রাষ্ট্রের উপস্থিতি অনুভূত না হওয়া, শাসনের ঐতিহ্যগত ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, আবার ঐতিহ্যগত শাসনই একমাত্র চালিকাশক্তি এবং রাজনৈতিকভাবে সমাধানের কোনো পথ একেবারেই খোলা না থাকা।
এই অবস্থা থেকে উতরাতে যে ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে, তার বেশির ভাগই বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী বেমালুম অস্বীকার করে চলেছে। এতে তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে: নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে হবে, সংবিধানের রিভিউ শুরু করতে হবে এবং রাজনৈতিক সংলাপ চালু করতে হবে। অবশ্য বাস্তবে এটা কম ভরসার বিষয় নয় যে ২০০৮-১১ সোমালিয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্রের সূচকের টপ টেনে থেকেও জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে থাকতে তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
তাদের শীর্ষ নেতা বিদেশে গেলে রাষ্ট্রপ্রধানেরা দেখা করেন। সোমালিয়ার পত্রিকা নিশ্চয় বড় করে সেসব সাক্ষাৎপর্বের আলোকচিত্র ফলাও করেই ছাপে। পাকিস্তান টপ টেনে থেকেও সত্তরের নির্বাচনের পর প্রথম এত বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ভোট করল। তার
মানে দাঁড়াল, বিএনপির চাওয়া ভোট এলেও আমাদের উন্নতি হচ্ছে না। ভঙ্গুরতম নেতৃত্বই এর বাধা।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

বহুত্ববাদী ভারতে চরমপন্থার বিস্তার by কুলদীপ নায়ার

ভারতে সম্প্রতি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানকার গোঁড়ারা ক্রমেই চরমপন্থার দিকে ঝুঁকছেন, সমাজেও এই চরমপন্থার গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া শাহের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার আর কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের পর তিনি সমাজে মেরুকরণ ঘটানোর কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এও নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন, যাতে বিজেপি আরএসএস বা মহারাষ্ট্রের চরমপন্থী শিবসেনার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ না করে।
গেল পবিত্র রমজান মাসে শিবসেনার এক সাংসদ একজন মুসলিমকে জোর করে রোজা ভাঙতে বাধ্য করেছেন। আরও খারাপ ব্যাপার হচ্ছে, সেই সাংসদ ও অন্যরা এর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শিবসেনার বেশ কয়েকজন সাংসদ এ ঘটনার নিন্দা তো করেনইনি, উপরন্তু তাঁরা বলেছেন, মহাসদনে যে খাবার সরবরাহ করা হয়, তার মান যে ভালো নয়, সেটা বোঝাতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শিবসেনার সেই সাংসদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে রোজার সময় অনেক মুসলিম ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ করেন, এর সঙ্গে ওই ঘটনার সাদৃশ্য টানার কোনো দরকার ছিল না দলটির। মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভারতের সংবিধান অনুসারে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু মোদি তো হিন্দুত্ববাদের রাজনীতিই করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ই গুজরাটে ২০০২ সালে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় বহু মুসলিম মারা যান।
অমিত শাহ মোদির একজন সহযাত্রী। বিজেপির সভাপতি হয়েছেন অমিত শাহ। এটা হচ্ছে আনুগত্যের পুরস্কার। অমিত শাহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বস্ত লোক। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য হচ্ছে, নিজ প্রভু নরেন্দ্র মোদির ওপর তাঁর অগাধ আস্থা রয়েছে। ভারতের বৃহৎ রাজ্য উত্তর প্রদেশে মেরুকরণ ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তিনি এতে সফলও হয়েছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে বিজেপি ৮০টি আসনের মধ্যে ৭১টি আসন পেয়েছে।
মোদি এখন তাঁর ওপর আরও বড় দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, উত্তর প্রদেশের পর তাঁকে এবার দেশজুড়ে হিন্দুত্ববাদ ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে একটি ব্যাপার স্পষ্ট হয়ে গেছে: ভারতের সমাজে চরমপন্থার যে প্রতিকূল স্রোত ছিল, সেটা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি এখন প্রকাশ্যেই মোদি ও আরএসএসকে একই কাতারে আনার চেষ্টা করছেন। যেমন, আরএসএসের কট্টর সদস্য কাপতান সিং সোলাঙ্কিকে হরিয়ানার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিজেপি এখন আরএসএসের দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হতে মুখিয়ে আছে।
আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগওয়াত বলেছেন, সংঘ পরিবার রাজনীতিতে নামবে। এর মাধ্যমে একটি ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যায়, সংঘ পরিবার এখন আরএসএসের অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত হচ্ছে। আরএসএস ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার প্যাটেলের কাছে মুচলেকা দিয়েছিল, তারা কখনো রাজনীতিতে অংশ নেবে না। এর মাধ্যমে তারা কি সে ওয়াদার বরখেলাপ করল না? বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যে কোনো তফাত আর থাকছে না, তারা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
হিন্দুত্ববাদের বিস্তারকল্পে মোদি এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নিলেও তাঁর আমলে আরএসএসের ভিত্তি আরও জোরালো হচ্ছে। ব্যাপারটা এ পর্যায়ে চলে গেছে যে বিজেপির একজন সদস্য ভারতের সেরা টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জাকে পাকিস্তানি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ভারতের মুসলমানদের নিরন্তর রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পরীক্ষা দিতে হয়। সানিয়ার স্বামী একজন পাকিস্তানি, সেটা সবাই জানে। তাঁর জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি আহত হয়েছেন।
হরিয়ানাতেও হিন্দুত্ববাদের অনুরূপ ব্যাপার দেখা যাচ্ছে, সেখানকার একটি পৃথক শিরোমণি গুরুদুয়ারা পারবন্ধক কমিটি (এসজিপিসি) প্রদেশের সকল গুরুদুয়ারা ও সেগুলোর প্রার্থনা পরিচালনা করবে। আরএসএস শিখদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই মনে করে, যদিও শিখেরা এ ধারণার বিরোধী। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পারকাশ সিং বাদল জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেছেন, পাঞ্জাবের শিখরা শিখধর্ম পালনে কোনো ব্যত্যয় সহ্য করবে না।
আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপিতে উদারনৈতিক মানুষের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। এই চক্রে এখন আরএসএসের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। হয়তো বিজেপি ও আরএসএসের মধ্যকার দূরত্বের কোনো বাস্তবতা নেই। আসলে আরএসএসের কৌশল হচ্ছে, ভারতের মানুষ একগুঁয়ে আরএসএসের চেয়ে উদার বিজেপিকে শ্রেয় মনে করে, এই ধারণায় চিড় ধরানো।
সৌভাগ্যবশত মোদি বুঝতে পেরেছেন, প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের সঙ্গেই তাঁর ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনায় সে ইঙ্গিতই পাওয়া যায়। মোদি ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে দেশটির বহুত্ববাদী সংস্কৃতি আরও পোক্ত হবে। এ গুণের কারণেই ভারত এই উপমহাদেশে একটি উদারনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে পেরেছে।
আমি আশা করি, নয়াদিল্লি হিন্দু তালেবানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। এরা ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। উদারনৈতিক মুসলমানদের তালেবান ও মৌলবাদের বিরোধিতায় আত্মসন্তুষ্টির খপ্পরে পড়া চলবে না, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় দেশের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।এই মৌলবাদীদের লক্ষ্য হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের সকল প্রকার উদারপন্থা রুদ্ধ করা। তারা এটাও জানে যে তা সম্ভব নয়।
আর নির্বাচনের সময় তারা বহুত্ববাদের সমর্থক প্রার্থীদের হটিয়ে দিতে চায়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শাসকদের বাস্তববাদী মনে হচ্ছে।তাঁরা হয়তো এমন কিছু করবেন না, যাতে তাঁদের দেশের অমুসলিম ভোটাররা দেশত্যাগে বাধ্য হন।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক |

একটি অবৈতনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন by আব্দুল কাইয়ুম

গত বছরের নভেম্বরের শেষ। হেমন্তের সকাল।শীত আসি আসি করছে। আমরা কয়েকজন এসেছি গ্রামের বঞ্চিত-অবহেলিত মেয়েদের একটি স্কুল দেখতে।খুলনা শহর থেকে সামান্য দূরে, রূপসা উপজেলার ডোমরা গ্রামের ভেতরে একটি পাকা একতলা ভবনে কয়েকটি ক্লাসঘর।চারপাশে সবুজ গাছপালা। ক্লাস চলছে।এরই মধ্যে একটি মেয়েকে কয়েকজন ধরাধরি করে বাইরে নিয়ে এসেছে। সহপাঠীরা ব্যস্ত হয়ে তার চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে দিচ্ছে।সে ক্লাসের ভেতরে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল। আমি এগিয়ে যাই। একটু পরে সে চোখ মেলে তাকায়। অবসন্নতায় সে নুইয়ে পড়েছে।স্পষ্টতই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
আসলে বাসায় মোটামুটি খেয়েপরে চলার সংগতি তাদের নেই। স্কুলে একবেলা খাবারই তার ভরসা। কিন্তু তাতে কি চলে? অসুখবিসুখ লেগেই আছে।বেশ দুর্বল।তার পরও সে স্কুলে রোজ আসে। পড়াশোনা তার খুব ভালো লাগে। স্কুলের পরিবেশ ভালো। বাবা আরেক বিয়ে করে চলে গেছেন। মা হাড়ভাঙা খাটুনি করে সামান্য রোজগার করেন। তাতেই চলে তাদের মা-মেয়ের কষ্টের সংসার।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হলো কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল। এটা যে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের একটি বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তা ধীরে ধীরে দেশে-বিদেশে বিদ্যোৎসাহী মানুষজন জানতে শুরু করেছে। কমরেড রতন সেন ছিলেন আজীবন বিপ্লবী। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি সারা দেশের, বিশেষভাবে খুলনার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি অর্জন করেছিলেন। কিছু সমাজবিরোধী লোক তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে রতন সেনের শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর ভিটেজমিতে গড়ে তোলেন মেয়েদের স্কুল।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এস এম লিয়াকত হোসেন আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। স্কুলের দায়িত্ব তাঁর কাছে নিজের ব্যবসার চেয়েও বড়। গত বছরের শেষ দিকে তিনি স্কুল পরিচালনার কাজ করছিলেন। এ সময় মলিন কাপড় পরা গ্রামের এক নারী এসে স্কুলে ভর্তির তারিখ জানতে চাইলেন। স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী ফসলি জমিতে কাজ করতেন। মজুরি পেতেন মাত্র দেড় শ টাকা। তাতে কষ্টেসৃষ্টে মা-মেয়ের সংসার চলে যেত। কিন্তু ফসল তোলার পর মাঠে কাজ নেই। তিনি শহরে বাসাবাড়ির কাজ নিয়ে চলে যাবেন। মেয়েকে নানির কাছে রেখে যেতে চান। এ সময় যদি স্কুলে ভর্তি হতে পারে, তাহলে তাঁর মেয়ের পড়াশোনার ব্যবস্থা তো হবেই, উপরন্তু দুপুরে পেটভরে খাওয়ার নিশ্চয়তাও থাকবে। এ জন্যই তিনি মেয়েকে স্কুলে পড়াতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। মেয়েটি এবার ক্লাস সিক্সে ভর্তি হতে পেরেছে। এর চেয়ে বড় খুশির খবর আর কী হতে পারে!
স্কুলের এক ছাত্রী টুম্পা রানী। ক্লাস নাইনে পড়ে। ছোট বোন পড়ে সিক্সে। স্বামী পরিত্যক্তা মা খুব কষ্টে ছিলেন। গত বছর ক্যানসারে মারা গেলেন।দুই বোন তাদের জেঠার কাছে থাকে। স্কুল থেকে তাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যেন তারা স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে।আরেক ছাত্রী তাফুরা খাতুন। ক্লাস নাইনে বিজ্ঞানের ছাত্রী। তার মা শহরে গুঁড়া হলুদের একটি মিলে চাকরি করে দুই পয়সা আয় করেন।স্কুলে যদি মেয়ের এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা না হতো, তাহলে হয়তো তার এই শিশু বয়সেই মজুর খাটতে হতো মায়ের মতোই।
এ রকম কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে দেখলাম, ওরা নিজেদের গরিব বলে মনে করে না। তাদের ঘরে
ঘরে দারিদ্র্য, কিন্তু ওরা দরিদ্র নয়। কারণ, স্কুল তাদের মর্যাদার আসনে দাঁড় করিয়েছে। শিক্ষার আলোকবর্তিকা তাদের হাতে। তাদের মেধাসম্পদের প্রাচুর্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আর্থিক দারিদ্র্যের যাতনা। এখন তারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
শিক্ষকেরা দিনে স্কুলে পড়ান আর রাতে নিজেরা দায়িত্ব ভাগাভাগি করে বিভিন্ন গ্রামে ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেন হোমওয়ার্ক করতে তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না। টর্চলাইট নিয়ে তাঁরা গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়েন। যাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই, স্কুল থেকে তাদের হারিকেন ও কেরোসিনের খরচ দেওয়া হয়। বাসায় বিদ্যুৎ থাকলে দেওয়া হয় চার্জলাইট, যেন লোডশেডিংয়ে পড়াশোনা আটকে না যায়।
টিফিনের সময় লাইন ধরে সবাই থালায় খাবার নিয়ে ক্লাসে বসে খায়। ডালভাত-শাকসবজি। সপ্তাহে একদিন মাছ। স্কুলের জমি ও পুকুর থেকেই আসে টিফিনের খাবারের শাকসবজি ও মাছ। ছাত্রীরা বাগানে নিজেদের জন্য কাজ করে।
জেলা প্রশাসন বছরে একদিন সার্কিট হাউস থেকে রান্না করে এনে স্কুলের ছাত্রীদের এক বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করে। প্রত্যেকের জন্য প্লেট ভরা পোলাও, দুই টুকরা মাংস, একটি ডিম ও দুটি আলু। জেলা প্রশাসক নিজে এসে সবাইকে খাইয়ে যান। এ ছাড়া, বছরের বিভিন্ন সময় স্কুলের শুভানুধ্যায়ীরা তাঁদের পারিবারিক উদ্যোগে বিশেষ খাওয়ার আয়োজন করে থাকেন।
সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরেও রয়েছে এককালীন বৃত্তি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা শুভানুধ্যায়ীরা এসব বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। তা ছাড়া, ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ডভিশন, রোটারি ক্লাব থেকে ছিটেফোঁটা সহায়তা আসে। প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সাড়াও মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়টির সামনে এখন বিরাট পরীক্ষা।আগামী বছর, অর্থাৎ ২০১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে একাদশ শ্রেণি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ভবনটি দোতলা করতে হবে।দরকার অন্তত ৫০ লাখ টাকা।এত টাকা যে নেই।
আমার চোখের সামনে স্বপ্নের মতো ভেসে উঠছে একটি দৃশ্য। ভাবছি, এত উদ্যমী শুভানুধ্যায়ীরা যখন রয়েছেন, তাহলে হয়তো একদিন এখানে গড়ে উঠবে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।একান্তভাবে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের জন্য সেটি হবে বাংলাদেশের প্রথম একটি অবৈতনিক বিশ্ববিদ্যালয়।
এ জন্য দরকার অনেক মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা।কেউ সহায়তা দিতে চাইলে সরাসরি ব্যাংকে যোগাযোগ করতে পারেন: অ্যাকাউন্ট নেম: কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, অ্যাকাউন্ট নং: ০০১২১০০০১৬৮১৯, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, খুলনা শাখা, বাংলাদেশ, সুইফট কোড, SEBDBDDHKLN
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক |

গান-প্রমোতেই বাজিমাত করলেন তামান্না ভাটিয়া

সাজিদ খানের ‘হামসকলস’ ছবির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বলিউড অভিনেত্রী হিসেবে আলোচনায় আসেন তামান্না ভাটিয়া। এ ছবিতে ভাল অভিনয়ের পাশাপাশি দুর্দান্ত পারফরমেন্সও দেখিয়েছেন তিনি। তন্বি চেহারা, গ্ল্যামার, অভিনয়, শারীরিক সৌন্দর্য-সব মিলিয়ে ছবিটির মাধ্যমে বেশ ভাল সম্ভাবনার আলোও জ্বেলেছেন তিনি। যদিও এর আগে একাধিক তামিল ও তেলেগু ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এদিকে ‘হামসকলস’-এর পর এবার আরও একটি ছবির মাধ্যমে দারুণভাবে আলোচনায় এলেন তামান্না। ছবির নাম ‘এন্টারটেইনমেন্ট’। পরিচালনা করেছেন সাজিদ-ফরহাদ জুটি। এখানে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তামান্না। ছবিটির গান ও প্রমো প্রচারিত হয়ে এরই মধ্যে বাজিমাত করে ফেলেছেন তিনি। সে সুবাদে দর্শকদের আগ্রহ ও কৌতূহলে পরিণত হয়েছেন। এ ছবিতেও দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছেন তামান্না। অক্ষয় কুমারের মতো বড় অভিনেতার বিপরীতে বেশ সাবলীল ভঙ্গিতেই কাজ করেছেন তিনি। তামান্নার এমন পারফরমেন্সে দারুণ খুশি পরিচালক-প্রযোজক এবং খোদ অক্ষয়ও। ছবির প্রচারণায়ও অক্ষয় তামান্নার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ ছবিতে ব্যাপক খোলামেলা হয়ে পর্দায় আসতে যাচ্ছেন তামান্না। বিকিনি, সুইমস্যুটসহ একাধিক খোলামেলা পোশাকে তিনি ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু দৃশ্যে অক্ষয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। সব মিলিয়ে ছবিটির মাধ্যমে বর্তমানে তুমুল আলোচনায় রয়েছেন তামান্না ভাটিয়া। ছবিটি নিয়ে দারুণ আশাবাদীও তিনি। এ বিষয়ে তামান্না বলেন, আমি এখন পর্যন্ত যে ক’টি ছবিতে অভিনয় করেছি, সবচেয়ে বেশি রেসপন্স পাচ্ছি ‘এন্টারটেইনমেন্ট’-এর। ছবিটি কাহিনী অনেক মজার। পুরো ছবিতে দুর্দান্ত কমেডি-রোমান্স-অ্যাকশন দেখতে পাবেন দর্শক। এখানে কাজ করতে গিয়ে অক্ষয় কুমারের অনেক সহায়তা পেয়েছি। অনেক কিছু শেখা হয়েছে তার কাছে। তার সঙ্গে কিছু রোমান্টিক দৃশ্যও রয়েছে। ছবিতে সব মিলিয়ে সুপারহট তামান্নাকেই আবিষ্কার করা যাবে। আশা করছি ভাল লাগবে সবার।

এত্ত এত্ত লাশ!

ধ্বংসস্তূপের ভিতরে লাশ। হাসপাতালের মর্গে লাশ। সেখানেও আর জায়গা হচ্ছে না। লাশ রাখা হচ্ছে ফ্রিজে। একটা দু’টা নয়- শত শত লাশ। রাস্তায় পড়ে আছে লাশ। কোল্ড স্টোরেজে যেভাবে আলুর বস্তা রাখা হয় তারচেয়েও এলোমেলো ফেলে রাখা হয়েছে লাশ। ঊষর মাটি আর সইতে পারছে না এত্ত লাশ। তার বুক আজ হু হু করে কাঁদছে। এত্ত লাশ দেখে কাঁদছে ভিনধর্মী সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মা। কিন্তু কিছুতেই মন গলছে না ইসরাইল নামের দানব রাষ্ট্রের। শিশুর লাশ। সদ্যজাত শিশুর লাশ। সবেমাত্র ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর লাশ। এখন তার গা থেকে মুছে যায় নি গর্ভধারিণী মায়ের রক্তের ছাপ। এসব শিশুর লাশ বুকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদছেন পিতা-মাতা। অথবা তারা দু’জনেই হয়েছেন অতীত। বিধ্বস্ত কংক্রিটের মাঝ থেকে উঁকি দিয়ে আছে মৃত শিশুর মুখ। পড়ে আছে যুবকের লাশ। যুবতীর লাশ। বৃদ্ধ-বৃদ্ধার লাশ। স্বামীর লাশ। স্ত্রীর লাশ। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। এতটুকু গাজায় লাশের সংখ্যা ২ হাজার ছুঁই ছুঁই। দৃষ্টিসীমা যতদূর যায় ততদূর শুধু লাশ আর লাশ। ধ্বংসস্তূপ সরালেই লাশ। রেডক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মীরা সে লাশ দেখে, রক্তপাত দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আর যা-ই হোক তারা তো রক্তমাংসের মানুষ। তাদের অন্তরাত্মা কাঁছছে। এত লাশ দেখে, এত নির্মম মৃত্যু দেখে তারা দিশাহারা। তাইতো একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছেন-  এত্ত লাশ! হায় সৃষ্টিকর্তা তুমি কিভাবে সইছো! ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের এই শুদ্ধ উচ্চারণেই কি এতগুলো মৃতের, তার স্বজনের ফরিয়াদ শেষ হয়ে যাবে! এর বিচার কে করবে! ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাত এখন ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর রক্তে রঞ্জিত। তার হাত থেকে টপ টপ করে এ রক্ত ঝরে পড়ছে। তিনি যে পরিমাণ মানুষ হত্যা করছেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কি তার চেয়েও বেশি কুর্দিকে হত্যা করেছিলেন? যদি সে জন্য সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয়, তার ফাঁসি হয়- তাহলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কি পুরস্কার পাওয়া উচিত? তার কি বিচার হবে! কে করবে বিচার! উল্টো তাকে ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অস্ত্র পুরস্কার তুলে দেয়া হচ্ছে। আর যা-ই হোক তার তো আত্মরক্ষার অধিকার আছে! লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি কত মানুষ হত্যা করেছিলেন? তার বিরুদ্ধে যত দ্রুত ন্যাটো পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরাইলের বেলায় কেন তারা বেমালুম বেহুঁশ। তাদের হুঁশ ফিরাবে কে! কোথায় জাতিসংঘ! বিবৃতির মধ্যে কেন আজ তারা বন্দি! কোথায় নিরাপত্তা পরিষদ! এত্ত লাশেও কি কারো মন ভরছে না! আর কত! আর কত লাশ হলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হবে! মানবতার সংজ্ঞা আজ কি নতুন করে লিখতে হবে গুনীজনদের! গাজায় চারদিকে শুধু বিধ্বস্ত ভবনের হাহাকার। দূরে দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটি মিনার। ওখানে মসজিদ ছিল। তারই সাক্ষ্য বহন করছে সে। কতগুলো মসজিদ ধ্বংস করেছে ইসরাইল! একটি, দুটি, তিনটি! না, কমপক্ষে ৬টি। এসব মসজিদে মিনার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শুধু। আল্লাহর দরবারে তাদের ফরিয়াদ কি পৌঁছায় না! কোথায় হামলা করে নি ইসরাইল! হাসপাতাল, জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্র, মসজিদ, লোকালয়- কোথায় করে নি হামলা! রাস্তার কালো পিচে লেগে আছে তরতাজা রক্ত। বহমান নদীর মতো বয়ে চলেছে তা। আর কত রক্ত! আর কত লাশ! এত্ত লাশ এতটুকু গাজা ঠাঁই দেবে কোথায়! এত্ত এত্ত লাশ।

দীপিকা-প্রিয়াংকাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে কাটরিনা

এরই মধ্যে মাদামতুসো জাদুঘরে বলিউডের শীর্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে বেশ কজনের মোমের মূর্তি ঠাঁই পেয়েছে। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সালমান খান, হৃতিক রোশন, ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এবং সর্বশেষ কারিনা কাপুরের মূর্তি এ জাদুঘরে ঠাঁই পায়। এবার এই সম্মানের দৌড়ে ছুটছেন বলিউডের এই সময়ের সবচেয়ে সফল তিন অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন, কাটরিনা কাইফ ও প্রিয়াংকা চোপড়া। বলিউডের এই তিন কন্যাকে নিয়ে দর্শক জরিপ করা হচ্ছে। এই জরিপে যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন তার মোমের মূর্তিই স্থাপন করা হবে মাদামতুসো জাদুঘরে। এদিকে এরই মধ্যে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে একজন সু-অভিনেত্রী ও দুর্দান্ত পারফরমার হিসেবে পরিণত করেছেন প্রিয়াংকা। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত দীপিকা অভিনীত বেশিরভাগ ছবিই সফল। গত বছর পাঁচ পাঁচটি সুপারহিট ছবি উপহার দেন তিনি। অন্যদিকে কাটরিনা এরই মধ্যে অলরাউন্ডার অভিনেত্রী হিসেবে তরুণদের আইকনে পরিণত হয়েছেন। তার সর্বশেষ ছবি ‘ধূম-৩’ এরই মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বলিউডের সর্বোচ্চ আয়ের ছবি হিসেবে। প্রিয়াংকা, কাটরিনা, দীপিকা- এই তিন অভিনেত্রী কেউই কারও চেয়ে কম যান না।
তবে আপাতত দর্শক জরিপে প্রিয়াংকা ও দীপিকাকে পেছনে ফেলে অনেক এগিয়ে রয়েছেন কাটরিনা। দর্শক জরিপে এ অভিনেত্রী ভোট পেয়েছেন ৭২ ভাগ। এরপর ভোটের দিক দিয়ে দ্বিতীয় প্রিয়াংকা ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন দীপিকা। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। তরুণদের মধ্যে
কাটরিনার ক্রেজই তার এই এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবেই মানা হচ্ছে। তবে ভোটিংয়ের সময় আরও অনেক বাকি আছে। এতে যে কোন সময়ই এগিয়ে যেতে
পারেন প্রিয়াংকা ও দীপিকাও। তবে কাটরিনাকে পেছনে ফেলতে বেশ বেগ পেতে হবে এই দুই অভিনেত্রীকে এতটুকু তো বলাই যায়!

যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জোরদার

গাজার বাসিন্দা হিসেবে যুদ্ধ ও ধ্বংসে অভ্যস্ত হয়ে
উঠেছে এই শিশুরা। এ কারণেই হয়তো ইসরায়েলি
গোলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে বল খুঁজে পেয়ে
খুশি এই ফিলিস্তিনি শিশুরা। ছবি: এএফপি
সর্বশেষ দফা যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। তাদের নির্বিচারে গোলাবর্ষণ কেড়ে নিয়েছে আরও ১০৭ জনের প্রাণ। বিধ্বস্ত হয়েছে গাজা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ। গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্তা হামাসও থেমে নেই। ইসরায়েলের দিকে তারাও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে সেসব হামলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে এ রকম একটি নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোমে’র জন্য ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছে। আয়রন ডোমের সাহায্যে ইসরায়েল হামাসের ছোড়া রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার যুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ইতিমধ্যে সে দেশেই মজুত মার্কিন সমর উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরার। গত ৭ জুলাই থেকে চলা ইসরায়েলের এ অভিযানে গাজা উপত্যকায় এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৬৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় নয় হাজার। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। পক্ষান্তরে ইসরায়েল ৬৬ জনকে হারিয়েছে; যাঁদের মধ্যে ৬৩ জনই সেনাসদস্য। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায় আরেক দফা মানবিক যুদ্ধবিরতিতে যায় ইসরায়েল ও হামাস। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক যেতে না-যেতেই গাজার দক্ষিণে রাফা শহরে ফের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামাসের চোরাগোপ্তা হামলায় তাদের দুজন সেনা নিহত হওয়া ছাড়াও এক সেনা অপহৃত হয়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কথিত অপহৃত সেনাটি সংঘর্ষে নিহত হয়ে থাকতে পারে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, রাফা শহরে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো শুরু হয়। গতকাল সকালেও তা অব্যাহত ছিল। হামলায় গাজা শহরে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইমতিয়াজ তায়েব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন হামলা চালানো হলো, তা স্পষ্ট নয়। তবে গাজার পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এ ঘটনা এটাই প্রমাণ করে।
দুই পক্ষকে ওবামার আহ্বান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘নিখোঁজ’ ইসরায়েলি সেনার ‘নিঃশর্ত’ মুক্তি দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, গাজার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় ইসরায়েলকে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে। এদিকে ইসরায়েলের এ অভিযানকে ‘বোকামি’ ও ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের জোট সরকারের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির সাবেক নেতা লর্ড অ্যাশডাউন। তিনি উভয় পক্ষকে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাশডাউন বলেন, ‘বিশ্বের সেরা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা হাতে থাকার পরও সামরিক অভিযান শুরু করা ইসরায়েলের জন্য বোকামি হয়েছে।’ পাশাপাশি সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রক্ষণশীল দলের এমপি পিটার লাফ প্রধানমন্ত্রীকে চলমান গাজা-সংকটের বিষয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলটির আরও কয়েকজন এমপি অনুরূপ আহ্বান জানিয়েছেন। অস্ত্রবিরতির আহ্বান মিসরের: দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গতকাল বলেছেন, মিসরের অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনাই গাজায় সংঘাত নিরসনের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হতে পারে। তিনি এই অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘এটাই উপযুক্ত সময়। ফিলিস্তিনে রক্তপাত বন্ধে ও গাজার আগুন নেভাতে আমাদের দ্রুত এর সুবিধা নিতে হবে।’

ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণায় টুটু

ডেসমন্ড টুটু
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শুরু হওয়া এক প্রচারে যোগ দিয়েছেন। অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারি থেকে লাভবান হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এ প্রচারে। খবর রয়টার্সের। আন্তর্জাতিক ওই উদ্যোগে এরই মধ্যে যোগ দিয়েছে ১৫ লাখ মানুষ। উদ্যোগটি শুরু করেছে আন্তর্জাতিক প্রচারকারী সংগঠন আভাজ। ফিলিস্তিন-শাসিত গাজায় ইসরায়েলের একতরফা সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি এ উদ্যোগ নেয়। যেসব সংগঠনের প্রতি ইসরায়েলকে অর্থায়ন করা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, সেসবের মধ্যে হিউলেট প্যাকার্ড, জিফোরএস, ক্যাটারপিলার, এবিপি ও ভিয়োলিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি নির্মাণ কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থায়নের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান যুক্ত। আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলের এই বসতি নির্মাণ কার্যক্রম অবৈধ বলে গণ্য করা হয়। ইসরায়েলবিরোধী এ প্রচারে যোগদানের পক্ষে টুটু বলেন, গত শতকের আশির দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্য সম্পর্ক প্রত্যাহারের ঘটনা তৎকালীন বর্ণবাদী রাষ্ট্রটিতে কার্যত রক্তপাত থামাতে সহায়তা করেছিল। টুটু আরও বলেন, ওই সব প্রতিষ্ঠান বুঝেছিল, আফ্রিকার অর্থনীতিতে অবদান রেখে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে নিপীড়নকেই সহায়তা করছে। আর তাই তারা বর্ণবাদীদের অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। যেখানে বিশ্বের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতারা ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেখানে সুশীল সমাজ সফলতা লাভ করেছিল। টুটু বলেন, ‘আমরা আজ গাজায় যে দৃশ্য দেখছি, তা মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যকার কোনো সংকট নয়, এটা মানবতার সংকট।’

মহান শিশু

ভালো কাজকে কখনো খাটো করে দেখতে নেই
ভালো কাজকে কখনো খাটো করে দেখতে নেই। আর কাজটি যদি হয় মাত্র ১১ বছর বয়সী সেই চীনা ছেলেটির মতো, তাহলে তো কথাই নেই। দেশটির শেনঝেন প্রদেশের ওই ছেলের নাম লিয়াং ইয়াওয়ি। খবর এনডিটিভির। ক্যানসারে দীর্ঘদিন ভুগে মারা গেছে লিয়াং। মৃত্যুর আগে নিজের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল সে। লিয়াংয়ের মা পূরণ করেছেন সন্তানের সেই অনুরোধ। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করায় শিশুটির মা রেডক্রসের কাছ থেকে সনদও পেয়েছেন।
লিয়াংয়ের বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, পাঠ্যবইয়ে একটি গল্প পড়েই সম্ভবত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করার বিষয়ে ধারণা পেয়েছিল লিয়াং। বিষয়টি ভাবতে খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু অনেক মানুষ আছে, যারা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করার গুরুত্ব সম্পর্কেই জানে না। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবন কাটিয়ে চলে গেলেও সে বেঁচে থাকবে সেসব মানুষের মধ্যে, যারা তার বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহার করবেন। লিয়াংয়ের কাজে শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়েছেন তার চিকিৎসকেরাও। মাত্র ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে যদি এ রকম মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেতে পারে, তবে অন্যরাও নিশ্চয় পারবে মানবতার সেবায় নিজেদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করে যেতে। সে বলেছিল, ‘পৃথিবীতে অনেক মহান মানুষ আছেন। তাঁরা সবার জন্য বড় বড় কাজ করছেন। আমিও একটি মহান শিশু হতে চাই।’ সত্যিকার অর্থে লিয়াং প্রমাণ করেছে, সে একজন মহান শিশু।

গাজায় নেমে এসেছে মহাপ্রলয় -চারদিকে শুধু লাশ

মসজিদ, জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল, লোকালয়- সর্বত্র বোমা হামলায় ফিলিস্তিনের গাজায় যেন নেমে এসেছে মহাপ্রলয়। চারদিকে শুধু লাশ। লাশের গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। এত লাশ, এত ধ্বংসযজ্ঞ দেখে শিহরিত বৃটিশ চিকিৎসক ডেভিড নট। তিনি বলেছেন, এ তো হামলা নয়, যুদ্ধ নয়- এ এক বীভৎস ধ্বংসযজ্ঞ। তিনি আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা রেডক্রসের হয়ে বর্তমানে রয়েছেন গাজায়। এর আগে যুদ্ধকবলিত বসনিয়া, ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু গাজার সঙ্গে কোন স্থানের ভয়াবহতাকে মেলাতে পারছেন না। গতকালও অব্যাহতভাবে গাজায় বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ভীতসন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েও রেহাই পাচ্ছে না। এরই মধ্যে জাতিসংঘ পরিচালিত বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে ইসরাইল। গতকালও তারা জাতিসংঘ পরিচালিত আরেকটি স্কুলে হামলা করেছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কমপক্ষে ১০ শরণার্থী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। তারা যখন খাদ্যের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল ঠিক তখনই সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল। এ হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন। এ নিয়ে জাতিসংঘ পরিচালিত কমপক্ষে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে এমন হামলা চালালো তারা। গাজা হামলার ২৭তম দিন অতিবাহিত হয়েছে গতকাল। এ সময়ে কমপক্ষে ১৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই সাধারণ নারী ও শিশু। পক্ষান্তরে ইসরাইলে নিহত হয়েছে ৬৭ জন। এর ৬৪ জনই সেনা সদস্য। গাজায় ইসরাইলের নৃশংস হামলায় যে পরিমাণ মানুষ নিহত হয়েছেন তাদের লাশ রাখার এখন আর কোন জায়গা নেই। মর্গে ঠেসে ঠেসে রাখা হয়েছে মৃতদেহ। তারপরও স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না। ফলে লাশ রাখা হচ্ছে এখন ফ্রিজে স্তূপ করে। এ এক ভয়াবহ দৃশ্য। গতকাল রাফা এলাকায় জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলার পর সেখানে রাস্তায় দেখা যায় শুধু রক্ত আর রক্ত। মরে পড়ে আছেন অনেক মানুষ। তাদের দেহ থেকে রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে বহমান নদীর মতো। এ অবস্থায় ইসরাইলকে নিবৃত করতে বিশ্ব বিবেক যথার্থ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে দিনকে দিন বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এক পর্যায়ে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি ট্যাংক প্রত্যাহারের দৃশ্য মিডিয়ায় দেখানো হয়। কিন্তু গতকালই তারা নতুন করে হামলা চালায়। এমন বর্বর হামলায় বিস্মিত বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। তিনি এ পরিস্থিতিতে চুপ থাকতে পারেননি। বলেছেন, গাজার এ পরিস্থিতি অসহনীয়। এটা আর সহ্য করা যায় না। আমাদেরকে এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। ওবামা প্রশাসনকে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন-তাকে যেন দ্বিতীয়বার যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেয়া না হয়। তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য গতকাল বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়। ওদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরে গতকালের হামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি ইসরাইলের সেনাবাহিনী। ওদিকে মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংলাপে যোগ দিতে হামাসের কর্মকর্তারা কায়রোতে পৌঁছেছেন। ইসরাইল ঘোষণা করেছে তাদের যে সেনা সদস্য লেফটেন্যান্ট হাদার গোল্ডিনকে অপহরণ করা হয়েছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে এ কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে তার পরিবারকে। এর আগে গাজা থেকে ট্যাংক প্রত্যাহার করা হলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য ফের সেনা মোতায়েন করা হবে। ওদিকে গতকাল সকালে ইসরাইল গাজার দক্ষিণে রাফায় জাতিসংঘের স্কুলে বোমা হামলা চালালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। রক্তে ভেসে যায় এলাকা। মৃত ও জীবিতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন রেডক্রসের উদ্ধারকর্মীরা। তারা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক ফিলিস্তিনির হাত-পা রক্তে ভেজা। সে অবস্থায় তিনি দৌড়াচ্ছেন আহত এক শিশুকে উদ্ধারে। আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে স্বজন হারানো নারীদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছিল। তারা চিৎকার করে বলছিলেন- জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রেও যদি আমরা নিরাপদ না থাকি, আমাদের ওপর বোমা হামলা করা হয়, আমাদের সন্তানদের হত্যা করা হয়, নিরপরাধ স্বামীকে হত্যা করা হয়- তাহলে আল্লাহর দুনিয়ায় আমরা যাবো কোথায়? আমাদের জন্য নিরাপদ স্থান কি দুনিয়ায় নেই? তার কান্নায় যেন স্তব্ধ হয়ে যায় প্রকৃতিও। কিন্তু নির্বিকার মনোভাব ইসরাইলের। তাদের অভিযোগ, হামাস ইসরাইলের দিকে রকেট ছুড়ে মেরেছে। তারা টানেল ব্যবহার করে ইসরাইলের ভিতরে হামলা চালাচ্ছে। তবে প্রশ্ন এসে যায়- তাহলে এর জবাবে ইসরাইল কি সম-শক্তি ব্যবহার করছে? তারা গাজায় এক হাজার ৭ শতাধিক বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। পক্ষান্তরে হামাসের হামলায় নিহত হয়েছে ৬৭ জন। তারা সাধারণ নাগরিক নয়, সেনা সদস্য। তাহলে কি করে সম-শক্তির ব্যবহার হলো! গাজায় এই হত্যাযজ্ঞ দেখে বৃটিশ চিকিৎসক ডেভিড নট বলেন, আহত গাজাবাসীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে। তিনি গাজা শহরে আল শিফা হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে আহতদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কোনদিন ১২ ঘণ্টাও তাকে সেখানে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এতে তিনি বিরক্ত নন। তিনি শুক্রবারের হতাহতের দিনকে একটি জটিল দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একটি ৮ বছরের শিশুর শরীর বিস্ফোরিত বোমায় মারাত্মক জখম হয়েছে। তার পাকস্থলী, শরীরের পশ্চাৎদিকে, বুকে ও কোলনে ফুটো হয়ে গেছে। ডেভিড নট বলেন, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আমরা ওই শিশুটির জীবন বাঁচাতে পেরেছি। তার ভাষায়- আমরা যেসব অপারেশন করছি তার বেশির ভাগই শিশু, যুবক। তাদেরকে মারাত্মক জখম অবস্থায় আমাদের কাছে আনা হচ্ছে। তাদের শরীরে বিদ্ধ হয়ে আছে বোমার টুকরো, বিধ্বস্ত ভবনের নির্মাণ সামগ্রী। তিনি বলেন, আমরা বিকালে শুনতে পাই হাসপাতালে বোমা হামলা করা হতে পারে। ওই সময় আমি অপারেশনে ব্যস্ত। ফলে ওই রোগীদের ফেলে সরে যেতে পারিনি। পুরো হাসপাতালের সবাই তখন চলে গেছেন ভয়ে। শুধু আমি আর আমার এক সহকর্মী অপারেশন থিয়েটারে ব্যস্ত। আমরা এ কাজে অভিজ্ঞ। তাই আমরা অপারেশন থিয়েটারের পাশে লুকিয়ে রাখি। সেখানেই অপারেশন চলতে থাকে। শুক্রবার রাতে আমি ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের অপারেশন করছিলাম। কিন্তু অপারেশনের ৬ ঘণ্টা পরে তিনি মারা যান। তার ক্ষত ছিল প্রাণঘাতী।

ওদিকে গাজার জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। গতকাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল ঢাকাস্থ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শাহের মোহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সেখানকার জনগণের প্রতি সিপিডির পক্ষ থেকে সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করা হয়। এ সময় সিপিডির পক্ষ থেকে গাজার জনগণের জন্য রাষ্ট্রদূতের কাছে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দু’দিনের বেতনের সমপরিমাণ দুই লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।

দুই নারীর ফাঁদ

ভারতের কেরালা রাজ্যজুড়ে আলোচনায় ফিরছে দু’নারী। শুধু তা-ই নয়, ইন্টারনেট আর মিডিয়ার কল্যাণে তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। এর কারণ, ওই দু’নারী উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক সম্পর্কে প্রলুব্ধ করে সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করেছে। এরপর ওই ভিডিও ব্যবহার করে তারা পুরুষদের ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করেছে। আলোচিত ওই দু’নারী হলো রুখসানা ও বিন্দাস। অনলাইন গালফ নিউজ এ খবর দিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এই দু’নারী ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলতো। তারপর তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতো। সেই দৃশ্য তারা আবার কৌশলে ক্যামেরায় বন্দি করতো। যখনই এ কাজ শেষ হয়ে যেত তখনই তারা ওই ভিডিও ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ব্লাকমেইল করতো। এ নিয়ে মামলা হলে দু’জনকেই জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে তারা উধাও। তাদের বাড়ি কেরালার কোচি’তে। সেখানে তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা যেসব ব্যবসায়ীকে টার্গেট করেছিল এরই মধ্যে তাদের একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পুলিশ ওই দু’নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও এখন ব্যর্থ হচ্ছে। এ ঘটনাটি বেশি আলোচিত হয় যখন রিপোর্ট প্রকাশ হয় যে, ওই দু’নারী শুধু ব্যবসায়ী নয়, শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিবিদদেরও ফাঁদে ফেলে শিকারে পরিণত করেছে। যদি রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তাদের শারীরিক মেলামেশার ভিডিও প্রকাশ হয়ে পড়ে তাহলে অনেক রাজনীতিকের ভবিষ্যত শেষ হয়ে যেতে পারে। এই ব্লাকমেইল নাটক সাজানোর মূল হোতা জয়াচন্দ্রন। ইতিমধ্যে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। রাজ্যের রাজধানীতে এমপিদের জন্য যে হোস্টেল আছে তিনি তা ব্যবহার করেছেন এ কাজে। তিনি শিকার করেছেন বিরোধী দলীয় কিছু এমপিকেও। এ কথা প্রকাশ হওয়ার পর রাজ্যসভার স্পিকার নির্দেশ দিয়েছেন হোস্টেলে যাওয়া ভিডিটরদের ভালভাবে যাচাই-বাছাই করতে। এই ব্লাকমেইল নাটক আলোর মুখ দেখে যখন ঘটনার শিকার হয়ে কোল্লামভিত্তিক ব্যবসায়ী রবীন্দ্রন মারা যান। ধারণা করা হয়, ব্লাকমেইলের শিকার হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার এক বন্ধু উইলসন পেরেইরা বলেন, ব্লাকমেইলাররা রবীন্দ্রনকে একটি ভিডিওতে ধারণ করেছেন। এতে রবীন্দ্রনের সঙ্গে রয়েছে ওই নারীদের একজন। তারা বরীন্দ্রনকে হুমকি দিয়েছিল ভিডিওটি তার পরিবার ও বন্ধবান্ধবদের কাছে প্রকাশ করে দেয়ার। পেরেইরা আরও বলেন, সাজি নামে আরেকজন ব্যবসায়ীকে ব্লাকমেইল করেছে ওই দু’নারী। তারা আরও যাদেরকে ফাঁদে ফেলেছে তার মধ্যে রয়েছে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, কোল্লামের এক কাঠ ব্যবসায় ও কোচির অন্য এক ব্যবসায়ী। এদের সবাইকে ফাঁদে ফেলে তারা আর্থিক সুবিধা নিয়েছে। এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে যে জয়াচন্দ্রন তাকে এ মামলার তদন্তের জন্য নেয়া হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সে লাখ লাখ রুপি হাতিয়ে নিয়েছে বা নেয়ার চেষ্টা করেছে।