Wednesday, October 16, 2024

১০০ বছর পর মিলল জুতোসমেত পায়ের অংশ! বদলে যেতে পারে এভারেস্ট জয়ের ইতিহাস?

প্রায় ১০০ বছর আগে ১৯২৪ সালের ৮ই জুন, বিখ্যাত পর্বতারোহী জর্জ ম্যালরির সঙ্গে অ্যান্ড্রু কমিন আরভিন এভারেস্ট অভিযানের জন্য যাত্রা শুরু করেছিলেন। আরভিনের বয়স তখন মাত্র ২২ বছর। এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার জন্য যাত্রা করেছিলেন তাঁরা । এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে তারা অদৃশ্য হয়েছিলেন। তাদের কোনোরকম খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর ১৯৯৯ সালে ম্যালরির দেহাবশেষ পাওয়া গেলেও হদিস মেলেনি আরভিনের।   ১০০ বছর পর মিলল জুতোসমেত পায়ের অংশ। এভারেস্টের উত্তর দিকের রংবুক হিমবাহে অভিযান চালাচ্ছিলেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্যচিত্র নির্মাতারা। হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে একটি জুতো। চলচ্চিত্র নির্মাতা এরিখ রোপেক এবং পর্বতারোহী মার্ক ফিশার ভাল করে পরীক্ষা করে দেখার পর বুঝতে পারেন, আর কারও নয়, ১০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া পর্বতারোহী অ্যান্ড্রু কামিন আর্ভিনের জুতো এটি। যাঁর পরিচিতি স্যান্ডি নামেই।জুতোর মধ্যে যে মোজা গলানো ছিল তাতেই লাল সুতো দিয়ে সেলাই করে লেখা ছিল ওই পর্বতারোহীর নাম। এভারেস্টের বরফ গলে গিয়ে এক শতাব্দী পর আর্ভিনের জুতো সমেত পায়ের অংশ উদ্ধার হল।

দেহাবশেষ অর্ভিনের কিনা তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই আর্ভিনের পরিবারকে ডিএনএর জন্য নমুনা সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরভিনের জুতো ও দেহের অংশ আবিষ্কার হওয়ার পর এক শতাব্দী আগে এভারেস্ট চূড়ায় যা ঘটেছিল সেই রহস্যের সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন পর্বতারোহীরা। যদি এই জুটি এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছিলেন বলে প্রমাণিত হয়, তবে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের রেকর্ডটি ভেঙে যাবে। কারণ এডমন্ড ও তেনজিং জুটিই ১৯৫৩ সালে প্রথম এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন বলে মনে করা হয়। তবে এখন অনেকেই ধারণা করছেন, এডমন্ড এবং তেনজিং এভারেস্টে পৌঁছানোর ২৯ বছর আগেই হয়তো অ্যান্ড্রু কমিন  আরভিন প্রথম আরোহী হিসাবে সফল হয়েছিলেন।

সূত্র : এনবিসি নিউজ

mzamin

ডিম নিয়ে কেন এত আলোচনা

অতিমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের পাত থেকে অনেকটাই উঠে গেছে মাছ ও মাংস। সবজির দামও অসহনীয়। এমন প্রেক্ষাপটে বাড়তি চাপ পড়েছে ডিমের বাজারে। এর সুযোগও নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি  হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া পাইকারি ডিমের বাজার বন্ধ থাকায় মহল্লার দোকানগুলোতে ডিমের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক দোকানেই মিলছে না ডিম। এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

গতকাল ঢাকার আগারগাঁও, তালতলা ও শ্যামলী এলাকার বাজার ও মুদি দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ডিমের দাম আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিম গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া সংকটের কারণে অনেক দোকানে ডিম বিক্রি হচ্ছে না। তালতলা ও পশ্চিম কাফরুলের ভূঁইয়া জেনারেল স্টোর, আল-আমিন স্টোর, তপন স্টোর, বিসমিল্লাহ্‌ স্টোর ও চাঁদপুর স্টোর ঘুরে দেখা যায়, এসব দোকানে ডিম বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বন্ধের কারণ জানতে চাইলে এসব দোকানের স্বত্বাধিকারীরা জানান, পাইকারি বিক্রেতারা গত তিন থেকে চার দিন ধরে তাদেরকে ডিম দিয়ে যাচ্ছে না। এজন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রেখেছেন তারা। আল-আমিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী মানবজমিনকে বলেন, ৫ দিন আগে আমার ডিম শেষ হয়ে  গেছে। এর মধ্যে পাইকারি বিক্রেতারা আমার দোকানে ডিম দিয়ে যায়নি। এজন্য ডিম বিক্রি করতে পারছি না। ডিম না পেয়ে অনেকে ঘুরে চলে যাচ্ছেন। এ ছাড়া পাইকারি বিক্রেতারা নির্ধারিত রেট না দেয়ার ফলে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। ক্রেতারা অনেক ঝামেলা করে। এজন্য আমরাও ডিম বিক্রি করতে বেশি আগ্রহী না।

অন্যদিকে ডিমের দাম বাড়ার তথ্য দিচ্ছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সংস্থাটি রাজধানীর বাজারগুলোতে ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৫৫টি পণ্যের মূল্য মনিটরিং করে থাকে। টিসিবি’র হিসেবে গেল এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বর্তমান বাজারে খুচরা পর্যায়ের ডিমের দাম প্রতি হালি ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি ডজনের দাম হওয়ার কথা ১৭৪ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে ডিমের দাম অত্যধিক বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভোক্তারা। তালতলার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, বাজারে সব পণ্যের দাম অনেক বাড়তি। এর মধ্যে যাও একটু ডিমের দাম কম থাকবে, সেখানে আজকে দাম শুনে এক প্রকার অবাক। ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। প্রতিদিন এভাবে ডিমের দাম বাড়লে খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যান্য জিনিসের দামও তো অনেক বেশি। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন বুঝতে পারছি না। আরেক ক্রেতা রিবন আহমেদ বলেন, আমি বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা করছি। আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ডিম থাকে। কিন্তু এখন খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অসহনীয় দামের কারণে মাছ ও মাংস তো খেতে পারি না। এমন অবস্থায় ডিমের দামও যদি সহনীয় না থাকে তাহলে আমাদের তো অপুষ্টিতে ভুগতে হবে।

এদিকে এক মাসের বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে গরিবের আমিষ খ্যাত ডিম।  বেশি দামের কারণে যারা মাছ- মাংস কিনতে পারেন না তারা মূলত ডিমের উপর নির্ভর করতেন। এই শ্রেণির ক্রেতারা এখন বিপাকে পড়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টাস্কফোর্স ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রি না করলে জরিমানা করছে এই টিম। এজন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রেখেছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার আড়তদাররা। আড়তদাররা জানান, সরকারি দামে ডিম কিনতে পারছেন না তারা। দেড় মাস ধরে তাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। তবে সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে আরও কম। ফলে লোকসান গুনে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ওপর প্রশাসনের অভিযানের কারণে আরও লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই তারা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

রাজধানীতে ডিম বিক্রির অন্যতম বড় পাইকারি বাজার হচ্ছে তেজগাঁও আড়ত। দেশের বিভিন্ন স্থানের খামার থেকে ট্রাকে করে এখানে ডিম আসে। এরপর তেজগাঁও থেকে ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার ও পাড়া-মহল্লায় ডিম সরবরাহ হয়। ফলে তেজগাঁওয়ে ডিম বিক্রি বন্ধ রাখলে সাধারণত খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে। এই আড়তের মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার হাজী রবিউল আলম বলেন, সরকার আমাদের ১১.১ টাকায় ডিম বিক্রি করতে বলছেন। এই দামে তো আমরাও ডিম কিনতে পারছি না। প্রতিটি ডিম কিনতে খরচ পড়ছে ১৩ টাকা। এজন্য ডিম আনা বন্ধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগে আমরা প্রতিদিন প্রায় এক গাড়ি ডিম আনতাম। এখন সেটা আনতে পারছি না। ডিমের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাহিদা অনুযায়ী ডিম পাচ্ছি না। এ ছাড়া কয়েক দফায় হাত বদলের কারণে ডিমের দাম বৃদ্ধি পায় বলেও জানান ডিমের এই আড়তদার। অন্যদিকে চট্টগ্রামে ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর লিটন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া দামে ডিম ক্রয় ও বিক্রি করা যাচ্ছে না। বলা হয়েছে উৎপাদন পর্যায় থেকে ১০ টাকা ৫৮ পয়সায় ডিম কেনা যাবে। কিন্তু বাস্তবে কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকার বেশি দামে। এখন আমরা কীভাবে ১১ টাকায় ডিম বিক্রি করবো?

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসেন বলেন, ডিমের দাম বাড়ানোর বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য নিয়ে আগে ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করছে আর এখন আমলারাও এর সঙ্গে জড়িত হয়েছে। যখন সরকার বলছে এগুলো তদারকি করা হবে তখন এক দল পাইকারি বিক্রেতা ও করপোরেট গ্রুপগুলো বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়। তারা বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে দাম ২০-৩০ টাকা বেড়ে যায়। আমি মনে করি যারা ঘোষণা দিয়ে বন্ধ রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারাই মূলত সিন্ডিকেটকারী।

ডিমের নতুন দাম নির্ধারণ: এদিকে উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মুরগির ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আজ থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে। গতকাল ডিম উৎপাদক এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আলীম আখতার খান নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, উৎপাদক পর্যায়ে ১০ টাকা ৯১ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা ও খুচরায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সায় ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকরের পর ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ডজন কিনতে খরচ হবে ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা। ভোক্তার ডিজি বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে যাতে বেশি মূল্যে ডিম বিক্রি না করা হয় সেজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। তারপরেও বেশি দামে ডিম বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ উৎপাদন ও ক্রেতার মাঝে বহু স্তর বা মধ্যস্বত্বভোগীর সংশ্লিষ্টতা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে উৎপাদনকারী, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা পর্যায় বাদে অন্যান্য স্তরগুলো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মোহাম্মদ আলীম আখতার খান।

১৩০ টাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করছে সরকার:
সরকারি উদ্যোগে ১৩০ টাকা ডজন ডিম বিক্রি করছে সরকার। গতকাল থেকে রাজধানীর ২০টি স্পটে এই মূল্যে ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানগুলো হচ্ছে সচিবালয় এলাকার খাদ্য ভবন, মানিক মিয়া এভিনিউ, মিরপুর-১০, বাসাবো, বছিলা, রায়ের বাজার, রাজারবাগ, মুগদা উত্তর, মুগদা দক্ষিণ, পলাশী মোড়, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, বেগুনবাড়ী, উত্তর খান, দক্ষিণ খান, কামরাঙ্গীরচর, রামপুরা ও জিগাতলা।

এদিকে ডিমের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে ডিমের চাহিদা সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। ডিম তো আর আমি মেশিন দিয়ে তৈরি করতে পারবো না। বাজারে সরবরাহ নেই, তাই দাম বেড়েছে।

তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, ডিমের দাম বাড়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। ৭০ শতাংশ দাম ফিডের খরচের ওপর নির্ভর করছে। এই ফিডের দাম তো এই সময়ে বাড়েনি। তাহলে দামটা বাড়লো কেন? বাজারে ডিমের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে। এটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত।  উপদেষ্টা বলেন, পত্রিকায় খবর এসেছে, আমদানির কারণে ডিমের দাম কমে গেল। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, এখানে একটা কারসাজি আছে। এখানে কোনো একটা পক্ষ সক্রিয়, যারা ডিমের দাম বাড়িয়েছে। তা না হলে কমে কী করে?

mzamin

জামায়াতের আমীরের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ সালেহ ওয়াই রামাদান। বুধবার রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের শফিকুর রহমান বলেন, সারা বিশ্বের মুসলিম দেশের মত ফিলিস্তিনের সঙ্গে আমাদের চিরদিনের আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান এবং এ সম্পর্ক সামনে অটুট থাকবে, ইনশাআল্লাহ। বহু দিন ধরে এবং এই মুহূর্তে ফিলিস্তিন একটি নির্যাতিত দেশ। তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। দিনের পর দিন শহীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের দল-মত-নির্বিশেষে সকল মানুষের সমর্থন রয়েছে। ফিলিস্তিনের জন্য আমাদের দোয়া, ভালবাসা, সহযোগিতা, সমর্থন রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই ফিলিস্তিন একটি জাতি রাষ্ট্র হিসেবে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে বিশ্বের বুকে দাঁড়াক। কারণ এই জায়গাটা হচ্ছে অসংখ্য নবী-পয়গাম্বরদের স্মৃতি-বিজড়িত স্থান। মুসলমানদের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস এই মাটিতেই রয়েছে। ফিলিস্তিনের বঞ্চিত, ক্ষতিগ্রস্ত ভাই বোনদের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। ফিলিস্তিনে যারা নিহত হয়েছেন আল্লাহ তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন এবং আহতদের মহান রব সুস্থতার নিয়ামত দান করুন। ফিলিস্তিনের দুর্দশাগ্রস্ত সকল জনগণের প্রতি আমাদের দোয়া, ভালবাসা, সহযোগিতা ও সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

ইউসুফ সালেহ ওয়াই রামাদান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ায় আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। ফিলিস্তিন বিশেষ করে গাজা উপত্যকার প্রতি বাংলাদেশের জনগণের অর্থবহ ভালবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেই সঙ্গে আমি ফিলিস্তিনের এ্যাম্বেসেডর হিসেবে আশা প্রকাশ করছি যে, ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অর্থবহ সমর্থন, সাহায্য, সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

mzamin

আমেরিকার আবিষ্কারক কলম্বাসের ধর্ম নিয়ে বিতর্ক

ইতিহাস নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ রয়েছে এমন যেকোনো ব্যক্তিই ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে এক নামে চিনবেন। নামটি শুনলেই মনের মাঝে ভেসে উঠে বর্তমান পরাশক্তি আমেরিকার কথা।

ইতিহাস বলছে, ১৪৯১ সালে আটলান্টিক অভিযানে বেরিয়ে ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর কলম্বাস ও তার দলবল আমেরিকা আবিষ্কার করেন।

বলা হয়ে থাকে, দেশ আবিষ্কারের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীদের জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মেও ধর্মান্তরিত করেছিলেন ইতালিয় এই নাবিক। এমন অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি তার সম্পর্কে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর আরেক তথ্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ শতকের অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস পশ্চিম ইউরোপের একজন সেফার্ডিক ইহুদি ছিলেন। এমন তথ্য জানিয়েছে স্পেনের বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, কয়েক শতাব্দীর পুরোনো এই রহস্যের সমাধানে ডিএনএ বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছে। ১৪৯০-এর দশক থেকে তিনি স্প্যানিশ অর্থায়নে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এর জেরে ইউরোপীয়দের আমেরিকা জয়ের পথ খোলে।

কলম্বাস নিয়ে যেসব তথ্য প্রচলিত আছে তার মধ্যে একটি হল তিনি ইতালির জেনোয়ায় জন্ম নিয়েছিলেন। অন্যান্য তত্ত্বের মধ্যে রয়েছে—তিনি স্পেনের একজন ইহুদি কিংবা গ্রিক থেকে শুরু করে বাস্ক, পর্তুগিজ বা ব্রিটিশ নাগরিক। রহস্যের সমাধানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ মিগুয়েল লোরেন্তের নেতৃত্বে ২২ বছর অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন গবেষকেরা। স্পেনের সেভিল ক্যাথেড্রালে সমাহিত দেহাবশেষের ক্ষুদ্র নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখানে কলম্বাসের দেহাবশেষ আছে বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে কর্তৃপক্ষ। যদিও এ বিষয়ে ভিন্ন দাবিও আছে।

গবেষকেরা কলম্বাসের দেহাবশেষের ক্ষুদ্র নমুনা পরিচিত আত্মীয় ও বংশধরদের সঙ্গে তুলনা করেন। শনিবার স্পেনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইতে ‘কলম্বাস ডিএনএ: দ্য ট্রু অরিজিন’ শিরোনামের একটি তথ্যচিত্রে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। সেখানে গবেষক দলের প্রধান মিগুয়েল জানান, তাদের কাছে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ডিএনএ আছে, তা খুব আংশিক, কিন্তু যথেষ্ট। তাদের কাছে কলম্বাসের ছেলে ফার্নান্দো কোলনের ডিএনএ আছে।

মিগুয়েল জানান, ফার্নান্দোর ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম ও মায়ের কাছ থেকে আসা মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ উভয়ের সঙ্গে ইহুদি উৎসের সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রেইস ক্যাটোলিকোসের আগে প্রায় ৩ লাখ ইহুদি স্পেনে বসবাস করত। ক্যাথলিক শাসকরা ইহুদি ও মুসলমানদের ক্যাথলিক ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে বা দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। মিগুয়েল জানান, ২৫টি সম্ভাব্য স্থান বিশ্লেষণের পর কলম্বাস পশ্চিম ইউরোপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সে কথা বলা যেতেই পারে। 

ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভাস্কর্য। ছবি : সংগৃহীত
ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভাস্কর্য। ছবি : সংগৃহীত

পরীক্ষার ফল এসেছে কিন্তু তারা নেই

এইচএসসি পরীক্ষা চলার মধ্যেই শুরু হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বহু পরীক্ষার্থী। তাদের কয়েকজন শহীদ হয়েছেন আন্দোলনে। আহত হয়েছেন অনেকে। মঙ্গলবার প্রকাশ হওয়া ফলাফলে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থীদের ফলও হাতে পেয়েছেন তাদের স্বজনরা। ফল আসলেও সেই শিক্ষার্থীরা চিরতরে হারিয়ে গেছেন পরিবার থেকে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়া এই শিক্ষার্থীদের ফল হাতে পেয়ে শোকাতুর পরিবারে নতুন শোক চেপেছে। আপ্লুত হয়েছেন সহপাঠী, বন্ধু, স্বজন ও তাদের শিক্ষকরা।

গতকাল প্রকাশ হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শহীদ নাফিসা হোসেন মারওয়া পেয়েছেন ৪.২৫। ঢাকা জেলার সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত হন তিনি। ১৭ বছর বয়সী এই সাহসী কিশোরী ছিলেন আন্দোলনের সম্মুখে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছেড়ে পালানোর দিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন থানা রোডে পুলিশের গুলিতে মারা যান তিনি।

তার বাবা আবুল হোসেন চায়ের দোকান চালান। তিনি বলেন, মেয়ে আমাকে না জানিয়ে ১৮ই জুলাই থেকে উত্তরায় যেত আন্দোলনে। সারাদিন দোকানে থাকায় খোঁজ পেতাম না। প্রতিবেশীর কাছে জেনে মেয়েকে ঘরে আটকাই রাখি। আন্দোলনে যাওয়া নিয়ে খুব রাগ করেছিলাম। তবে মেয়ে আমাকে ফাঁকি দিয়ে যায়। ৩রা আগস্ট বললো, লেখাপড়া নেই, ঘরে থেকে দমবন্ধ লাগছে। সাভারে মামার বাসায় বেড়াতে যাবে। ভেবেছিলাম, সাভারে গেলে আন্দোলনে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, সাভারের বক্তারপুরে মামার বাসায় গিয়ে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার আন্দোলনে যায়। ৪ঠা আগস্ট দুপুরে মেয়েকে ফোন করলে গোলাগুলির শব্দ শুনি। মেয়ে তখন স্বীকার করে, আন্দোলনে আছে। আর পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। ৫ই আগস্ট থানা রোডে যায় নাফিসা। তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ফোনে বললো, শেখ হাসিনা পলাইছে। আব্বু, আমি গণভবন যামু। আজ আমারে বাধা দিও না। দুপুর ২টার দিকে মেয়ের ফোন থেকে এক ছেলে জানায়, আমার মেয়ের বুকে গুলি লাগছে। মেয়েটা সোয়া ২টার দিকে আমারে ফোন করে বলে, আব্বু আমি মরে যামু। লাশটা নিও। এটাই মেয়ের শেষ কথা ছিল।

আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নিহত মাহাদী হাসান পান্থ। তিনি পেয়েছেন জিপিএ-৩.১৭। গত ১৯শে জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে সেদিন সন্ধ্যায়ই মৃত্যুবরণ করেন সরকারি তোলারাম কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান পান্থ।
লক্ষ্মীপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে লক্ষ্মীপুর ভিক্টোরিয়া কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাদ আল আফনান পাটওয়ারী। শহীদ আফনান লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর গ্রামের বাস টার্মিনাল এলাকার মৃত সালেহ আহমেদের ছেলে। তিনি এইচএসসি’তে পেয়েছেন জিপিএ- ৪.১৭। আফনানের মা নাছিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আফনানের ভালো ফলাফল আমার কাছে খুশির খবর। কিন্তু যাকে নিয়ে আমি খুশি উদ্‌যাপন করবো, সে তো আমার কাছে নেই। গুলি করে আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমার কোলশূন্য করে দিয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৪ঠা আগস্ট লক্ষ্মীপুরের মাদাম ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আফনান। শেরপুরে নিহত শহীদ সবুজ মিয়া এইচএসচি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি মানবিক বিভাগ থেকে তিনি জিপিএ- ৪.৩৩ পেয়েছেন। শহীদ সবুজ মিয়া শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের রুপারপাড়া গ্রামের আজহার আলীর ছেলে। গত ৪ঠা আগস্ট শেরপুর জেলা শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে গুলিতে শহীদ হন সবুজ মিয়া।

গত ৫ই আগস্ট রাজধানীর বাড্ডায় বিজয় মিছিলে গিয়েছিলেন মো. রায়হান। মিছিলে হঠাৎ মাথায় ও পিঠে গুলি এসে লাগে তার। শহীদ হন গুলশান কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান। রায়হান নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী বাড়ির মো. মোজাম্মেল হোসেন ও আমেনা দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি রাজধানীর গুলশান কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাণিজ্য বিভাগ থেকে পেয়েছেন ২.৯২। তার বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন বাড্ডায় একটি বাড়িতে কেয়ারটেকারের চাকরি করতেন। রায়হান পাশেই একটা মেসে থাকতেন। তার বোন উর্মি আক্তার বলেন, ফলাফল শোনার পর বাবা-মা কান্না করছেন। মা বলেন, আমার ছেলে বেঁচে নেই, তার এই ফল দিয়ে কী হবে? সে পাস করসে তা দিয়ে এখন কি করবো। বাবা এখনো কান্না করছেন।

শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৮৩ পেয়েছেন। তার বাবা মোহাম্মদ আবদুল মতিন গতকাল ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শাহাদতবরণকারী আমার একমাত্র ছেলে কলিজার টুকরা শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

গত ১৮ই জুলাই বিকালে ঢাকার মিরপুরে ১০ নম্বরের গোলচত্বরের কাছে গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। ডান চোখের পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে মস্তিষ্ক ছেদ হয়ে যায়। শাহরিয়ারের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমড়াশাসন উত্তরপাড়া গ্রামে। 

mzamin

ফ্যাক্টরিতে যেভাবে বিমান তৈরি হয়

দূরবর্তী কোন দেশ কিংবা কোনো শহরে যেতে বিমানের বিকল্প নেই। আকাশ যাত্রা মানুষের যাতায়াতকে সহজ ও আরামদায়ক করে তোলে। অনেকের মনেই প্রশ্ন তৈরি হতে পারে- বিশালদেহী এসব আকাশযান কীভাবে তৈরি করা হয়।

প্রতিটি বিমান তৈরির সূচনা হয় একটি প্রাথমিক নকশা থেকে। সেখানে মূলত বিমানটির আকার-আকৃতি, ককপিট, যাত্রীদের বসার জায়গা, ইঞ্জিন সবকিছু বিস্তারিত বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই ডিজাইনগুলোর একটি ত্রিমাত্রিক মডেলে রূপান্তর করা হয়। তৈরি এই মডেলটি দিয়েই বিমানের বিভিন্ন অংশের আকার-আকৃতি, অবস্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

পরের ধাপে আসে বিমানের বডি তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করার পালা। বিমান তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আছে অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম, কার্বন ফাইবার ইত্যাদি। বিমান তৈরিতে ব্যবহার করা এসব উপকরণ সাধারণত বেশ হালকা, তবে প্রচণ্ড শক্তিশালী হওয়ায় এসবকেই বেছে নেন প্রকৌশলীরা।

বলা হয়ে থাকে, কার্বন ব্যবহারের ফলে বিমানের ওজন কমে যায় এবং এর গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বিমান তৈরিতে কাচ, রাবার ও প্লাস্টিকেরও ব্যবহার হয়ে থাকে। আর এসব উপকরণ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে পরবর্তীতে ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, এসব সংগ্রহ করা উপাদান দিয়ে সর্বপ্রথম বিমানের কাঠামো তৈরি করার কাজে নেমে পড়ে নির্মাণকর্মীরা। আর এই কাজগুলো মূলত সম্পন্ন করা হয় বিশাল আকৃতির মেশিন দ্বারা। বিমান তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমেই বিমানের বড় বড় অংশগুলো তৈরি করা হয়ে থাকে।

এসব কাঠামো তৈরি করা হয়ে গেলে তাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন সংযুক্ত করা হয়। এসব কাজ চূড়ান্ত হলে বিমানকে বিভিন্ন ধরনের পেইন্ট করে সজ্জিত করা হয়ে থাকে। এসব কাজ শেষ হলে এতে যাত্রীদের আসন বসানোর কাজ করা হয় এবং এর মাধ্যমেই বিমান তৈরির কাজ সম্পন্ন করে তা রানওয়েতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিমানটিকে সর্বশেষ পরীক্ষা করে প্রস্তুত করা হয় উড্ডয়নের জন্য। 

বিমান নির্মাণের একটি ফ্যাক্টরি। ছবি : সংগৃহীত
বিমান নির্মাণের একটি ফ্যাক্টরি। ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানে কলেজের ভিতরেই ছাত্রীকে ধর্ষণ, রণক্ষেত্র লাহোর

এক নামী বেসরকারি কলেজের ভিতরে শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল লাহোর। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তার পরই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে পাঞ্জাব গ্রুপ অব কলেজের ১০ নম্বর ক্যাম্পাসে। সেটি মেয়েদের কলেজ। ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গোটা লাহোরের সমস্ত সরকারি-বেসরকারি কলেজের পড়ুয়ারা সোমবার রাজপথের দখল নেয়। তাদের দাবি অবিলম্বে কলেজের অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করতে হবে। পুলিশ অভিযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষীকে গ্রেপ্তার করলেও পড়ুয়াদের দাবি অধ্যক্ষ ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অধ্যক্ষকে সারাদিন কলেজে আটকে রাখে ছাত্রীরা। গভীর রাতে পুলিশ অধ্যক্ষকে ঘেরাও মুক্ত করে। ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে ২৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহতদের বয়স ১৬ থেকে ২৫-এর মধ্যে। জানা গিয়েছে, ওই কলেজের ভিতরে ঢুকে আসবাবে আগুন ধরান বিক্ষোভকারীরা। স্লোগান দিতে থাকেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। তারা রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিশ বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালায়। শারাজ আব্বাস নামে পাঞ্জাব কলেজের এক শিক্ষার্থী সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘পাঞ্জাব পুলিশ নির্দয়ের মতো কলেজের ভিতরে ও বাইরের চত্বরে আমাদের উপরে নির্যাতন করেছে। ছাড় পায়নি মেয়েরাও।’

যদিও পুলিশের ব্যাখ্যা, তারা যা করেছে তা বাধ্যতই করেছে। সিনিয়র পুলিশ অফিসার ফয়জল কামরানের দাবি, শিক্ষার্থীরা চাইছিলেন কলেজের অধ্যক্ষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হোক। পরিস্থিতি এমনদিকে গড়াচ্ছিল, ছাত্রছাত্রীরা অধ্যক্ষকে আঘাতও করতে পারতেন। অগত্যা পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। আহতদের মধ্যে লাহোর পুলিশের এসপি, ডিএসপি-রাও আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে সন্ত্রাস-দমন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  ছাত্রদের অভিযোগ, ধর্ষণের অভিযোগটি চেপে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মেয়েটির সহপাঠীরা অভিযোগ জানাতে গেলে অধ্যক্ষ তা কানে তোলেননি। পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ডাকা হয়।

পাকিস্তানে কলেজে এখন নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি চলছে। লাহোরের শিক্ষা বিভাগ গোলমালের জেরে সব কলেজের ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে। লাহোর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী। ওই প্রদেশের তথ্যমন্ত্রী আজমা বুখারি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম শরিফ প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। আক্রান্ত ছাত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কথা বলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাঞ্জাব প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী রানা সিকান্দর হায়াত সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমরা ন্যায় নিশ্চিত করব। ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যান। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ কলেজের এক বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ সোমবার রাত পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনায় এফআইআর করেনি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষ। পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ পেলে তখন অভিযোগ দায়ের করা হবে। কলেজের এই বক্তব্যই আগুনে ঘি ঢেলেছে লাহোরে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের একটি প্রভাবশালী পরিবার ওই কলেজের মালিক। সারা দেশে তাদের কয়েকশে কলেজ আছে। প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহলে তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।  পাঞ্জাব প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী রানা হায়াত জানাচ্ছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা যদি সত্যি হয় তাহলে অবশ্যই কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড় পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।

সূত্র : ডন

mzamin

ইরানের কোথায় হামলা করবে ইসরায়েল, জানালেন নেতানিয়াহু

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালাবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পারমাণবিক বা তেলসংক্রান্ত কোনো স্থাপনায় হামলা করবে না ইসরায়েল এ বিষয়ে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই কর্মকর্তাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) প্রায় দুই মাস পর ফোনে কথা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, এ ফোন আলাপেই নেতানিয়াহু জানান, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছেন তিনি।

তবে, পারমাণবিক স্থাপনা ও তেল পরিশোধনাগারগুলোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে মঙ্গলবার সকালে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, তবে তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের দিকে ইরান ১৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এ হামলার পর নেতানিয়াহু কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেন, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর ‘মধ্যম মাত্রার’ হামলায় রাজি হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দুই কর্মকর্তা আরও জানান, মূলত এ কারণে নেতানিয়াহু ‘মধ্যম মাত্রার’ হামলায় রাজি হয়েছেন। শুরুতে তিনি পারমাণবিক স্থাপনা ও তেল পরিশোধনাগারে হামলার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেছিলেন।

এদিকে নেতানিয়াহু নমনীয় হওয়ার কারণেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলকে একটি শক্তিশালী আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (থাড) এবং এর পরিচালনার জন্য ১০০ মার্কিন সেনা পাঠাতে রাজি হয়েছেন। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ১ অক্টোবর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বাইডেন প্রকাশ্যে জানান তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনার ওপর ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন করেন না।

এদিকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো উদ্বেগে রয়েছে। ইসরায়েলি পাল্টা হামলা যে কোনো সময় বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

ইরানের কোথায় হামলা করবে ইসরায়েল তা নিয়ে ফোনে কথা বলেন বাইডেন-নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের কোথায় হামলা করবে ইসরায়েল তা নিয়ে ফোনে কথা বলেন বাইডেন-নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

ঈর্ষার আগুন নয় ভালোবাসার শক্তিই হোক আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূল প্রেরণা by রেজানুর রহমান

এত গেল মঞ্চের অবস্থা। সিনেমা হলের অবস্থা কেমন? এমনিতেই সিনেমার ক্ষেত্রে দুর্দিন চলছে। ১৩শ’ সিনেমা হল ছিল সারা দেশে। এখন সেই সংখ্যা একশ’রও নিচে এসে ঠেকেছে। দেশের অনেক বিভাগীয় শহরেও সিনেমা হল নাই। দেশের প্রতিটি জেলা শহরে সিনেপ্লেক্স করার কথা শোনা গিয়েছিল পতিত সরকারের আমলে। এখন সেই উদ্যোগ বোধকরি থেমে আছে। এফডিসিতে আধুনিক ভবন ও শুটিং ফ্লোর নির্মাণের কাজ চলছে। সে কারণে এফডিসিতে শুটিং বন্ধ রয়েছে। কবীরপুরে সিনেমা পল্লী নির্মাণের কল্প-কাহিনী অনেক বছর থেকেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কার্যত দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও দেখা দিয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা। বিগত ১৫/১৬ বছরের বৈষম্য নিয়ে কথা উঠেছে। এতদিন যারা ছিলেন চরম অবহেলিত, এখন তারা গুরুত্ব পাচ্ছেন।

একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন সেটা বুঝা যায় দেশটির কোনো একটি শহরের রাস্তার পরিবেশ, পরিস্থিতি দেখে। হাঁড়ির একটি ভাত টিপলেই বুঝে নেয়া সম্ভব চাল সেদ্ধ হয়েছে কিনা। তেমনই দেশের কোনো একটি শহরের রাস্তার নিয়মকানুন দেখেও বুঝা যায় দেশটি কতোটা সভ্য? দেশ কী সভ্য হয়? নাকি দেশের মানুষকে সভ্য হতে হয়? প্রথম যেবার সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলাম রাস্তার নিয়মকানুন দেখে অবাক হয়েছি। ছোট্ট দু’টি শিশু রাস্তা পার হবে। সেজন্য রাস্তার দুই দিকেই চলন্ত সব গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল। ট্রাফিক পুলিশ পরম যত্ন ও মমতার সঙ্গে শিশু দু’টির হাত ধরে রাস্তা পার করে দিলেন। এর চেয়ে সভ্য, সুন্দর দৃশ্য আর কী হতে পারে? আমাদের দেশে এই দৃশ্য কল্পনা করাও অমূলক। মাত্র দু’দিন আগে ঢাকার রাস্তায় দু’টি চলন্ত বাস কে আগে যাবে এই প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে একজন তরুণীকে পিষে মেরেছে। কী বীভৎস, নির্দয় ও নিষ্ঠুর ঘটনা। এজন্য কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এর থেকে বুঝা যায় দেশের সড়ক ব্যবস্থা কতোটা অমানবিক।

একটি দেশ কতোটা সভ্য সেটা বুঝা যায় দেশটির সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ ও অতীত ঐতিহ্য দেখেও। বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে নাচ, গান, নাটক, সিনেমা, খেলাধুলা এমনকী খাদ্যও একটি দেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে। সেজন্য প্রতিটি দেশে বিদেশি কেউ এলে অর্থাৎ বিদেশি অতিথিদের সম্মানার্থে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়। নাচ, গান, নাটক, সিনেমার আয়োজন থাকে ওই সব জাতীয় অনুষ্ঠানে। কেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে? থাকে এই জন্য যে, দেশটি তার বিদেশি বন্ধুদের বুঝাতে চায় দেখো সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমরা কতোটা সভ্য। কতোটা উন্নত। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখো। তার মানে একটি দেশের সংস্কৃতিও দেশটির উন্নয়ন- অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রেরণা শক্তি। সাংস্কৃতিক জাগরণ একটি দেশকে আধুনিক ভাবনায় বিকশিত করে। অথচ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একটা বন্ধ্যত্ব দেখা দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্র- জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সচেষ্ট হয়ে উঠেছে। শুধু ব্যতিক্রম দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। সিনেমা হল খোলা। কিন্তু প্রাণচাঞ্চল্য নাই। ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকের মঞ্চ খুলেছে। কিন্তু সেটা না খোলার মতোই। শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতিদিন ৩টি মঞ্চে নাটক মঞ্চস্থ হয়। সেখানে একটি মাত্র হল খুলে দেয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে অনেক নিয়মকানুনের বেড়াজাল। নাটক, সিনেমা, নাচ, গান, উৎসবমুখর পরিবেশেই বিকশিত হয়। সেখানে কঠোর নিয়ম, নিরাপত্তার আয়োজন কতোটা কাজে দিবে- এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগের প্রশংসাও হচ্ছে। ৩টি মঞ্চের একটি খুললো। এটা শুভ লক্ষণ। শুভ উদ্যোগ। অচিরেই হয়তো অন্য দু’টি মঞ্চও খুলে যাবে। শিল্পকলার আঙিনায় এখনো সেনাবাহিনীর ক্যাম্প রয়েছে। কাজেই শিল্পকলার আঙিনা ঠিক কতোদিন পর আবার সংস্কৃতি কর্মীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠবে তা বলা মুশকিল।
বেইলি রোডে মহিলা সমিতির মঞ্চ নাট্যকর্মীদের অনেক আস্থার জায়গা। এতদিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৩টি মঞ্চের পাশাপাশি মহিলা সমিতির মঞ্চেও নিয়মিত নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এখনো হচ্ছে। কিন্তু মহিলা সমিতির ভাড়া নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। কিছু দিন আগেও ৫ হাজার টাকা ভাড়ায় মঞ্চ কর্মীরা এক বেলা মহিলা সমিতির মঞ্চ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। এখন ভাড়া হয়েছে দ্বিগুণ। কেন দ্বিগুণ হলো? এর ব্যাখ্যা দিয়েছে মহিলা সমিতি। এতদিন মহিলা সমিতির জন্য সরকারের তরফ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা অনুদান দেয়া হতো। সেই অনুদানকে পুঁজি করে মহিলা সমিতি মঞ্চ ভাড়া ৫ হাজার টাকা ধার্য করেছিল। এখন মহিলা সমিতির জন্য ওই সরকারি অনুদান বন্ধ রয়েছে। সে কারণে মহিলা সমিতি বাধ্য হয়ে প্রতিদিনের হল ভাড়া দ্বিগুণ করেছে। ফলে বিপাকে পড়েছে নাট্য সংগঠনগুলো। ৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে যেখানে একদিনের মঞ্চ প্রযোজনা কঠিন হয়ে পড়েছিল; সেখানে ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ার পর মঞ্চের সক্রিয় সংগঠনগুলোর অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। একটি ছোট্ট হিসাব উল্লেখ করছি। মহিলা সমিতিতে এখন একবেলা নাটক করতে হলে ছোট-বড় সব দলেরই সতের থেকে আঠার হাজার টাকা খরচ হবে। অনেক দলের ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পকলা একাডেমিই মঞ্চকর্মীদের জন্য অন্যতম ভরসা। পাশাপাশি মহিলা সমিতির ক্ষেত্রে আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার জোর দাবিও উঠেছে। যাতে করে আবার মঞ্চপাড়া সরব হয়ে ওঠে।

এত গেল মঞ্চের অবস্থা। সিনেমা হলের অবস্থা কেমন? এমনিতেই সিনেমার ক্ষেত্রে দুর্দিন চলছে। ১৩শ’ সিনেমা হল ছিল সারা দেশে। এখন সেই সংখ্যা একশ’রও নিচে এসে ঠেকেছে। দেশের অনেক বিভাগীয় শহরেও সিনেমা হল নাই। দেশের প্রতিটি জেলা শহরে সিনেপ্লেক্স করার কথা শোনা গিয়েছিল পতিত সরকারের আমলে। এখন সেই উদ্যোগ বোধকরি থেমে আছে। এফডিসিতে আধুনিক ভবন ও শুটিং ফ্লোর নির্মাণের কাজ চলছে। সে কারণে এফডিসিতে শুটিং বন্ধ রয়েছে। কবীরপুরে সিনেমা পল্লী নির্মাণের কল্প-কাহিনী অনেক বছর থেকেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কার্যত দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও দেখা দিয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা। বিগত ১৫/১৬ বছরের বৈষম্য নিয়ে কথা উঠেছে। এতদিন যারা ছিলেন চরম অবহেলিত, এখন তারা গুরুত্ব পাচ্ছেন। এটাই তো হওয়ার কথা। বৈষম্য দূর না হলে শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ আদৌ সম্ভব নয়। কিন্তু বৈষম্যের কথা তুলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রতিহিংসার মানসিকতা এতটাই গুরুত্ব পাচ্ছে যে, সংস্কৃতির বিকাশ ভাবনা দিনে দিনে শক্তি হারাচ্ছে। একথা সত্য, বিগত সরকারের আমলে সংস্কৃতির বিকাশ ভাবনায় দলীয় দৃষ্টিকোণকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে ভিন্ন মতের সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল চরম অবহেলিত। ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটায় অন্যান্য সেক্টরের মতো দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও একটি পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এটাই স্বাভাবিক। পরিবর্তনের কথা বলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে চেয়ারের মানুষ বদল হচ্ছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বৈষম্য দূর হচ্ছে না। ‘ক’-এর জায়গায় ‘খ’ আসছেন। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের চিত্র মোটেও পাল্টাচ্ছে না।
অতীতকালে দেখা গেছে যে, কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভূমিকা বেশ জোরালো ছিল। কিন্তু এবার ছাত্র গণআন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের সেভাবে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ আছে। সে কারণে দেশবরেণ্য অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও বর্তমান সময়ে গুরুত্ব পাচ্ছেন না। বরং তাদেরকে উপেক্ষা করার প্রবণতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দৃশ্যমান। এর ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ঐক্য ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। যা ভবিষ্যতে দেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
আবারো বলি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিও বটে। ঈর্ষা, স্বার্থপরতা ও বৈষম্যকে গুরুত্ব দিয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিকাশ ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়া বেশ কঠিন কাজ। নষ্ট মানুষ, নষ্ট সহকর্মী কারও বন্ধু নয়। তবে বিরুদ্ধ মতের অভিযোগ তুলে কাউকে নষ্ট মানুষ, নষ্ট সহকর্মীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাও সমীচীন নয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশকে একটি নতুন ভোরের সন্ধান দিয়েছে। আলোকিত ভোর। এখন সময় ভোরের এই ঝলমলে আলোকে পরম যত্নে ছড়িয়ে দিয়ে পুরো দিনটাকে অনিন্দ্য সুন্দর করে তোলা। এজন্য ঐক্যের বিকল্প নাই। ঐক্যই শক্তি। ঐক্যেই মুক্তি। ঈর্ষার আগুন নয়, ভালোবাসার শক্তি হোক আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূল প্রেরণা। শুভ কামনা সবার জন্য।  

লেখক: কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক আনন্দ আলো।

mzamin

সরকার কি তাহলে প্রতিবিপ্লবের মুখোমুখি? by মতিউর রহমান চৌধুরী

বিপ্লবের ছায়াসঙ্গী হচ্ছে প্রতিবিপ্লব। যেখানেই বিপ্লব সেখানেই প্রতিবিপ্লবের আলামত। কোথাও সফল হয়। কোথাও ব্যর্থ। বাংলাদেশের বিপ্লব নিয়েও দেশে-বিদেশে আলোচনা এখন তুঙ্গে। নানামুখী প্রচারণা। নানা ছক তো আছেই। সরকারের ভেতরেও একটি মহল প্রতিবিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে। যদিও এর আগে অনেকগুলো পরিকল্পনা বা ছক ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু পরাজিতরা বসে নেই। তারা বিজয়ের হাসি হাসতে চায়। তাই বলছে, ক’দিন যায় দেখুন! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন টানটান উত্তেজনা। বলা হচ্ছে, প্রতিবিপ্লব এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অবাধ স্বাধীনতার যুগে এমনটাই স্বাভাবিক। ফিলিপাইনেও বিপ্লবের পর এমনটা ঘটেছিল। সরকারি মহল কি তাহলে চিন্তিত? প্রশ্ন রেখেছিলাম সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। বললেন, এটা নতুন কোনো খবর নয়। আমরা সবাই জানি এবং দেখছি। নানাভাবে সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। আপনি কি তাহলে চিন্তিত? জবাব দিলেন সোজাসাপটা। বললেন, চোখ-কান খোলা রেখেছি। যা ব্যবস্থা নেয়ার নিচ্ছি। বিপ্লবের পর প্রতিবিপ্লব কি তাহলে অবশ্যম্ভাবী! ইতিহাস তো তাই বলে। আমরা আমাদের কাজ করছি। কিছু ভুল-ত্রুটি তো আছেই। এটা দূর করে আমরা গন্তব্যে যেতে চাই। সে গন্তব্য কোথায়? এই প্রশ্ন কেন? আমরা তো বলেছি সংস্কার এবং নির্বাচন, আমরা দুটোই চাই। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে আমরা থাকতে চাই না। আমার তো সব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তুমি তো জানো আমি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখাই। এখন তো আমি আর কোনো স্বপ্নও দেখতে পারি না। যেখানে ছিলাম আমি একজন মুক্ত মানুষ।

এখানে কি আপনি মুক্ত নন? মুক্ত কিনা জানি না, তবে ফাইলে বন্দি। এন্তার ফাইল আমাকে সই করতে হয় প্রতিদিন। অন্যকাজে সময় দিতে পারছি কম- এটা সত্য। বাস্তব সত্য।

সব ফাইল কি পড়তে হয়? সব ফাইল পড়তে হয় না। কিন্তু সই করতে হয়। দুনিয়ায় ফাইল উঠে যাচ্ছে, সবই ডিজিটাল। আমরা এখনো ‘লাল ফিতায় বন্দি’। এই অবস্থার অবসান কবে হবে।

স্যার, সুযোগ যখন পেলাম তখন জানতে ইচ্ছা করে আপনার উপদেষ্টামণ্ডলী কেমন করছেন? পাল্টা প্রশ্ন- তোমার কী ধারণা? আমার ধারণা এখানে মুখ্য নয়, মানুষ কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে বললেন, ভালো-মন্দ সবই আছে। কেউ দুর্বল, কেউ সবল। আমি তাদের কাজ দেখছি, মানুষও দেখছে। একটা জায়গায় পৌঁছে তো আমাকে নম্বর দিতে হবে। সেটার কাজ এখন চলছে। মানুষ চেয়ে আছে আমাদের দিকে। আমরা কী পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিলাম এটা তো অজানা নয়। চারদিকে তো অস্থিরতা। মানুষ তো স্বস্তি চায়। নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে- তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। আর এখানেই শেষ হয়ে গেল ষাট মিনিটের আলোচনা।

mzamin

মেট্রোরেলের সাবেক এমডি’র আয়েশে গচ্চা সাড়ে সাত কোটি by নাজমুল হুদা

নিজের সুবিধার জন্য বাসার কাছেই নেন অফিস ভাড়া। বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব ছিল ৭০০ মিটার। শুধু অফিস ভাড়া বাবদই মাসে খরচ হতো কয়েক লাখ টাকা। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে একচ্ছত্র ক্ষমতায় পরিচালনা করা সাবেক এমডি এম এ এন ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে রয়েছে এমন অভিযোগ। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিশাল জায়গায় মেট্রোরেলের নিজস্ব ভবন থাকলেও এতদিন ভাড়া কার্যালয়ে অফিস করেছেন ছিদ্দিক। এজন্য মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে গচ্চা দিতে হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা। ডিএমটিসিএল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক এমডি এম এ এন ছিদ্দিকের সুবিধার জন্য এতদিন অফিস স্থান্তরিত করা হয়নি। তাই এই অর্থ ভাড়া হিসেবে দেয়া লেগেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের।

উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত এমআরটি লাইন-৬ এর ডিপো। সেখানে অবস্থিত ডিএমটিসিএল ভবন। ওই ভবনটি নির্মাণে চুক্তি বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর। নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হয়েছে কাজ। এরপর ডিফেক্ট লাইবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি) ছিল দেড় বছর। ২০২১ সালে ভবনের কাজ শেষ হওয়ার পরই ডিএমটিসিএলে অফিস করেছেন মেট্রোরেলের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে ডিএমটিসিএল এর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইস্কাটন রোডের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ভাড়া অফিসেই এতদিন কার্যক্রম চালিয়েছেন। এমআরটি লাইন-১, লাইন-৬ ও লাইন-৫ এর রুটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে অফিস করেছেন। চলতি মাস থেকে এ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সাবেক এমডি এম এ এন ছিদ্দিকের কারণে এতদিন নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হতে পারেনি ডিএমটিসিএল এর অফিস। প্রবাসী কল্যাণের ভবন থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে রাজধানীর বেইলী রোডের সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার গুলফিশানে থাকতেন ছিদ্দিক। সেখান থেকে প্রবাসী কল্যাণ ভবন কাছাকাছি হওয়ায় এতদিন ভবনটি ভাড়া নিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালিয়েছেন। যদিও দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএল এর নিজস্ব অফিসটি দৃষ্টিনন্দন। এতদিন সেখানে অফিস না করা নিয়ে উষ্মাও রয়েছে কিছু কর্মকর্তাদের মধ্যে। মঙ্গলবার বেইলী রোডের গুলফিশানে গিয়ে খোঁজ নিলে জানা যায়, ডিএমটিসিএল’র সাবেক এমডি সেখানে আর নেই। ডিএমটিসিএল থেকে তার নিয়োগের চুক্তি বাতিল হওয়ার পর গুলফিশান থেকে চলে গেছেন ছিদ্দিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবন ভাড়া নিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। এমআরটি লাইন-১ এর জন্য ১১ হাজার ৮৯০ স্কয়ারফিট জায়গায় ভাড়া নিয়েছিলো প্রবাসী কল্যাণ ভবনে। তবে দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএল এর নিজস্ব ভবন নির্মাণ হওয়ার পর অর্থাৎ ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এরমধ্যে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মাসে প্রতি স্কয়ার ফিট ভাড়া ছিল ৫৫ টাকা করে। আর ওই বছরের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি স্কয়ার ফিট ভাড়া ছিল ৬০ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৬৬ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া এমআরটি লাইন-১ এর আরও একটি ফ্লোর ভাড়া নেয়া হয় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। ৫ হাজার ৪৪৪ স্কয়ার ফিটের প্রতি স্কয়ার ফিটের মাসিক মূল্য ছিল ৫৫ টাকা। অর্থাৎ তখন থেকে চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ভাড়া দিয়েছে ৪১ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মেট্রোরেল সাউদার্ন রুটের জন্য ভাড়া নেয়া হয়েছিল ৭ হাজার ৮৫৭ স্কয়ার ফিট। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এজন্য ভাড়া দিতে হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসে প্রতি স্কয়ার ফিট ভাড়া ছিল ৫৫ টাকা করে। আর তারপর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ভাড়া দিয়েছে ৬০ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া মেট্রোরেল লাইন-৬ এর জন্য ১৩ হাজার ৭৮৫ স্কয়ার ফুটের অফিস ভাড়া নিয়েছিল ডিএমটিসিএল। ২০২১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এজন্য ভাড়া দিতে হয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মাসে প্রতি স্কয়ার ফিট ভাড়া ছিল ৫৫ টাকা। এরপর থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৬০ টাকা ৫০ পয়সা। এপ্রিল থেকে চলতি আগস্ট পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৬৬ টাকা ৫০ পয়সা। সব মিলে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রবাসী কল্যাণে অফিস ভাড়া নেয়ার জন্য ডিএমটিসিএলকে দিতে হয়েছে ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা প্রায়।

ডিএমটিসিএলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের ভেতরেই দিয়াবাড়ির ভবনের কাজ হয়েছে। তারপর থেকে সেখানে অপারেশন, মেইনটেইনেন্স দলের সবাই অফিস করেছেন। চলতি মাস থেকে প্রবাসী কল্যাণের ভবনে কাজ করা কর্মকর্তারাও এখানে অফিস শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমটিসিএল’র আরেক কর্মকর্তা বলেন, সাবেক এমডি চাননি দেখে এতদিন দিয়াবাড়িতে অফিস নেয়া যায়নি। তার নিজস্ব সুবিধার কারণে প্রবাসী কল্যাণে আমাদের অফিস করতে হয়েছে। এখানে আমাদের এতদিন শুধু শুধু ভাড়া দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগের এমডি বলেছেন, কমলাপুরের কাজ শেষ না হলে দিয়াবাড়ির অফিস আনা যাবে না। তাহলে এখন কীভাবে এনেছে। প্রবাসী কল্যাণে যখন অফিস ছিল সেখান থেকে তো দিয়াবাড়ির কাজ চালানো গেছে। তাহলে এখান থেকে কমলাপুরের কাজ চালাতে তো অসুবিধা নেই। তার ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল সেজন্য সেখানে অফিস রাখতে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন সাবেক এমডি। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তার বাইরে কথা বলতে পারতেন না কেউই। গণমাধ্যমের সঙ্গেও তার ভয়ে কথা বলতেন না কোনো কর্মকর্তা। এমনকি জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে সাংবাদিকরা কিছু জানতে চাইলেও সাবেক এমডি’র কাছেই জানার জন্য বলতেন। সাবেক এমডি’র ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ ছিল।

এ ব্যাপারে জানতে মঙ্গলবার ডিএমটিসিএলের সাবেক এমডি এম এ এন ছিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, সিপি-০২ এর কাজ ২০২২ সালে পরিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছিল। তৎপূর্ব থেকেই ডিএমটিসিএল’র পূর্ণ অপারেশন ও কারিগরি টিম দিয়াবাড়ি কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছে। অতি নগণ্য সংখ্যক অকারিগরি জনবল প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অবস্থিত এমআরটি লাইন-৬ এর প্রকল্প অফিসের অব্যবহৃত কক্ষ ব্যবহার করেছে। ডিএমটিসিএল কখনো কোনো কক্ষ ভাড়া করেনি।

তিনি আরও বলেন, ডিএমটিসিএল’র নিজস্ব অকারিগরি জনবল কম থাকায় বিভিন্ন লাইনের (লাইন-৬, লাইন-১, লাইন-৫ (উভয় রুট) জনবলকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হয়েছে। তারা সবাই প্রবাসী কল্যাণ ভবনের স্ব স্ব প্রকল্প কার্যালয়ে বসতেন। এখান থেকে জনস্বার্থে স্বল্প ব্যয়ে মতিঝিল-কমলাপুর অংশের এবং বিনা ব্যয়ে অন্যান্য সকল লাইনে কাজের সহজ সমন্বয় করা গিয়েছে। প্রতি মাসে সচিবালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনুষ্ঠিত সভায় অংশগ্রহণে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। সর্বোপরি অপারেশন ও কারিগরি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম একইসঙ্গে দিয়াবাড়ি অফিসে যেয়ে নিয়মিত পরিচালনা করা হয়েছে। কাজেই কোনো ভাড়ার অপচয় হয়নি বরং সাশ্রয় হয়েছে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক মানবজমিনকে বলেন, ডিএমটিসিএলের চাহিদা অনুযায়ী তাদের অফিস ধরাই ছিল ডিপোতে হবে। সেটা চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ হয়ে যাওয়ার পর অস্থায়ীভাবে বসে যে অর্থ খরচ হলো সেটা বেচে যাওয়ার কথা। এজন্যই বিনিয়োগ করা হয়েছে। কেউ যদি বিনিয়োগের সদ্ব্যবহার না করে অপচয় করে তাহলে নিশ্চয়ই এখানে আইন বহির্ভূত কাজ হয়েছে। এই অর্থ অপচয়ে যদি সঙ্গত কোনো কারণ না থাকে তাহলে তদন্ত করে যার দায় তার কাছ থেকে আদায় করতে হবে। কারণ জনগণের টাকায় এটা করা হয়েছে। যারা এটা তদন্ত করবে না তারাও দায়ী থাকবে।

৩৫০ কোটি নয়, দেড় কোটিতে চালু ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন:
এদিকে বিগত সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেলের স্টেশন সংস্কার করতে ৩৫০ কোটি টাকা লাগবে বলে দাবি করা হয়েছিল। এ ছাড়া কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন চালু করতেও এক বছর লাগতে পারে বলে দাবি করা হলেছিল। তবে মাত্র দেড় কোটি টাকার মধ্যেই চালু করা হয়েছে স্টেশন দু’টি। এ ছাড়া মিরপুর স্টেশন চালু করতে সময় লেগেছে ২ মাস ২৭ দিন ও কাজীপাড়া স্টেশন চালু হয়েছে গত ২০শে সেপ্টেম্বরে। মঙ্গলবার পুনরায় চালু হওয়া মিরপুর-১০ স্টেশন পরিদর্শন করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, এই স্টেশন চালু করতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মেট্রোরেলের সব স্টেশন মিলিয়ে আরও খরচ লাগবে ১৭ কোটি টাকা। মোট লাগবে ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে এই টাকা এই মেট্রো থেকেই নেয়া হবে। এ ছাড়া সাড়ে ২০ লাখ টাকায় মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশন চালু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিল মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। মেট্রোরেলের ভাড়া কমানোর ব্যাপারে চেষ্টা করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্পের মেয়াদ ও টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পে দুর্নীতি নাকি অপচয়, সেটি চিহ্নিত করতে হবে।

mzamin

শেখ হাসিনাসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাইবে প্রসিকিউশন by রাশিম মোল্লা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী  অপরাধের বিচার কার্যক্রম আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। বুধবার ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে বিচারপতিদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। এরপর কাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা জুমদারের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এজলাসে বসবেন। সেদিন থেকে বিচারকাজ শুরু হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের বিচার অগ্রাধিকার পাবে বলে জানা গেছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, বিচারকার্যক্রমের প্রথম দিন বৃহস্পতিবারই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করবে প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান কৌঁসুলি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রেওয়াজ অনুযায়ী নবনিযুক্ত বিচারপতিদের আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বরণ করে নেয়া হয়। বুধবার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও অপর দুই সদস্যের বরণ অনুষ্ঠান হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনের সংস্কার কাজের পূর্বে বর্তমান অস্থায়ী কক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

সূত্র জানায়,  শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হতে পারে তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এ আরাফাত ও পুলিশের পলাতক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। পুলিশের মধ্যে বিশেষ করে- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন-আর-রশিদ, সাবেক যগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে এরইমধ্যে ৪৫টি এবং তদন্ত সংস্থায় ১৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সবমিলে ৬১টি অভিযোগ পড়েছে। বেশির ভাগ অভিযোগই আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পড়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তিনি ইতিমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন। অন্য অভিযুক্তদের একটি বড় অংশও এরইমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর  মিলছে।

এর আগে সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও সাবেক  জেলা ও দায়রা জজ মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরীকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। নিয়োগের পর প্রথম কর্মদিবসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ  মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা ট্রাইব্যুনালে আসেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার ও অন্য কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। এরপর বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। ট্রাইব্যুনাল ভবনের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে নির্মমভাবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী নির্মমভাবে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। সে সময় কমপক্ষে দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। হাজার হাজার মানুষের অঙ্গহানি, গুরুতর আহত ও চিরতরের জন্য বিকলাঙ্গ হয়ে গিয়েছে। আইন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ কেন, এ উপমহাদেশের ইতিহাসে শান্তিকালীন সময়ে এত বড় গণহত্যার নজির কোথাও নাই। পৃথিবীর ইতিহাসেও এরূপ ঘটনা বিরল।  আসিফ নজরুল বলেন, এত বড় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার যেখানে হবে সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংস্কার কাজ আজ আমরা দ্বিতীয় বারের মতো পরিদর্শন করলাম। সংস্কার কাজ সুন্দর ও সঠিকভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে গণপূর্ত উপদেষ্টা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামও মেরামত ও সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে তদারকি করছেন। আমরা কাজের অগ্রগতি দেখতে আবারো এখানে আসবো।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্যক্রম নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। এবার যেন এমন কোনো অভিযোগ না উঠে যেটার কারণে বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি বলেন, আদালতে কোনো দরখাস্ত দায়েরের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে সতর্ক থাকতে হবে। যেন ভাষাগত ও তথ্যগত কোনো ভুল না থাকে। মামলার সাক্ষীগণ যেন রিলেইবল ও নিরপেক্ষ হয়। যেহেতু এখন থেকে ট্রাইব্যুনালে ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি আছে, সেহেতু ব্যবহৃত চিত্রগুলো যাতে সঠিকভাবে উত্থাপিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ই অক্টোবর হাইকোর্টে ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ রয়েছেন।

mzamin

রংপুরে সারজিস হাসনাতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা জাপা’র

রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় পার্টি মুখোমুখি অবস্থান করছে। জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের দোসর বলায় সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমকে রংপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে দলটি। এ নিয়ে রংপুরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই সমন্বয়ককে রংপুরে প্রবেশ ঠেকাতে জেলা-উপজেলা, মহানগর কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে দলটির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। অপরদিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা জাতীয় পার্টির বক্তব্য প্রত্যাহারসহ হুঁশিয়ার দিয়েছেন।

সোমবার রাতে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে জেলা, মহানগর এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের কো- চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বক্তব্য রাখেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা। সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ রংপুরে আসতে পারবে না। যদি কোনো ফেসবুকে মেসেজে দেখেন তারা রংপুরে আসছে, তাহলে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই জাতীয় পার্টির শক্তি কতটুকু। এই আন্দোলন পুলিশ, বিজিবি না র‌্যাব ঠেকাতে তাই দেখা যাবে। তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যেক উপজেলার নেতৃবৃন্দ কান খুলে শোনেন, মহানগর থেকে যখনই ঘোষণা আসবে, সারজিস ও হাসনাতের কোনো অংশগ্রহণ রংপুরের মাটিতে হতে দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনার আপনারা কান খুলে শুনে রাখেন, রাজনৈতিক সংলাপে জাপাকে আমন্ত্রণ করা না হলে সেই সংলাপ রংপুরে হতে দেবো না। জাপা ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রংপুরে আমাদের অস্তিত্ব। এটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনে আমি মোস্তফা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেবো।

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার এ বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা সোমবার দিবাগত মধ্য রাতে নগরীর মেডিকেল মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় তারা ‘স্বৈরাচারের দোসরেরা হুঁশিয়ার সাবধান, ‘দালালের ঠিকানা এই রংপুরে হবে না’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘সারজিস-হাসনাতের অপমান মানবে না রংপুরের জনগণ’, ‘২৪’র বিপ্লবীদের অপমান মানবে না জনগণ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এরপর মেডিকেল মোড়ে বক্তব্য রাখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুরের সমন্বয়ক ইমরান আহমেদ, ইমতিয়াজ ইমতি, মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহসহ অন্যরা।  এ সময় বক্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। তাদেরকে নিয়ে কথা বলার দুঃসাহস যদি কেউ দেখায়, তাদের সমুচিত জবাব এই রংপুর থেকেই প্রথম শুরু হবে। আমরা জাতীয় পার্টির বক্তব্য প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।

mzamin

যে অভিযোগে বরখাস্ত হলেন হাথুরুসিংহে: এই মেয়াদে হাথুরুর অধীনে কেমন ছিল বাংলাদেশ?

২০২৩, ভারতের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স ভয়াবহ খারাপ। ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টিতে জয়। ওয়ানডেতে দলের এমন পারফরম্যান্সকে বলা হচ্ছিলো দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা। তবে হঠাৎ করে ক্রিকেট থেকে আলোচনা সরে গিয়ে সব চোখ তখন স্পিনার নাসুম আহমেদের দিকে। কারণ শোনা যাচ্ছিলো দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুুরুসিংহে নাকি চড় মেরেছেন। তবে প্রধান কোচ তা অস্বীকার করেন নিজেই। এমনকি নাজমুল হাসান পাপন সভাপতি থাকা অবস্থায় এ নিয়ে তদন্তও হয়। যে রিপোর্টে এমন কিছু পাওয়া যায়নি বলেই তখন জানানো হয়েছিল। শুধু তাই নয় গেল ২৩শে ডিসেম্বর এই ঘটনায় তদন্ত চেয়ে তৎকালীন বোর্ড সভাপতি বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফুর রহমান। সেই ঘটনার প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। বিসিবিতে এসেছেন নয়া সভাপতি ফারুক আহমেদ। এবার সেই ঘটনার তদন্ত করে নিলেন ব্যবস্থা। শোকজ নোটিশ দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে প্রধান কোচকে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বিসিবি’র নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের কোচকে (হাথুরুসিংহে) শোকজ নোটিশ দিয়েছি এবং সাময়িক বরখাস্ত করেছি। (তার কর্মকাণ্ডে) এমন কিছু সমস্যা ছিল যা আমি একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় হিসেবে সহ্য করতে পারি না। হাথুরুসিংহকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং তার বরখাস্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর পরে তার চুক্তি স্থগিত করা হবে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ার পরপরই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে ছাঁটাই করবেন বলে জানিয়ে এসেছিলেন ফারুক আহমেদ। পাকিস্তান সফরে টাইগারদের দারুণ সাফল্যে টিকে গিয়েছিলেন এই কোচ। ভারত সফরে ভরাডুবির পর শেষ রক্ষা আর হলো না। শেষ পর্যন্ত বরখাস্ত করা হয়েছে এই লঙ্কান কোচকে। তবে আপাতত সাময়িকভাবে। তার পরিবর্তে ১০০ দিনের জন্য অন্তবর্তীকালীন কোচ হিসেবে ক্যারিবিয়ান ফিল সিমন্সকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ফারুক বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফিল সিমন্সকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত কাজ করবেন।’ জাতীয় দলে দুই দফা কোচ ছিলেন হাথুরুসিংহে। ২০১৪, জুন থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। এরপর ২০২৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আবার হাথুরুসিংহকে কোচের পদে ফিরিয়ে আনেন নাজমুল হোসেন পাপনের অধীনে থাকা তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ড। তার সঙ্গে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত চুক্তি করা হয়। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে বিদায় করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রশ্ন হচ্ছে ১২ মাস পর কেন এই শাস্তির মুখোমুখি হলেন হাথুুরু! এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক কারণটা জানালেও যে ক্রিকেটারকে চড় মেরেছিলেন হাথুরু সেটি প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি তো ২ মাসের কথা বলতে পারবো। দেড় মাসের কাছাকাছি। আগে তো পত্রিকা পড়ে হালকাভাবে জেনেছি। প্রথম দিন থেকেই আমার খারাপ লেগেছে। এরপর মনে হয়েছে এটা আসলে একটা কিছু হলে ভালো হয়। আর আপনারা জানবেন আইসিসি এখন শক্তভাবে রেসিজম, অ্যাবিউজ হ্যান্ডেল করে, আর ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট যদি হয় তাহলে তো আরও করবে, খুব ভালো বলেছেন জাতীয় দলের একজন প্লেয়ার। আমরা সবাই মানুষ। হিট অব দ্য মোমেন্টে কিছু জিনিস হতে পারে তবে ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট আসলে কোনো পর্যায়ে জাতীয় দলের প্লেয়ারকে আপনি করতে পারবেন না। এটার শাস্তি এটাই আরকি যেটা এখন হচ্ছে আরকি, ওইটাই হওয়া উচিত ছিল আগে যেটা। রিপোর্ট নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি। প্লেয়ারের সঙ্গে ফোন, ফিজিক্যাল মিট করেছি। রিপোর্ট আমি পড়েছি সবকিছু আছে, সব নিয়মের মধ্যে থেকে চেষ্টা করেছি আমি একটা (কিছু করতে)। আপনি জানেন পাকিস্তানে খেলতে গেলাম, এরপর ভারতে চলে গেলাম। এসেই কিন্তু জিনিসটা প্রসেস হয়েছে। আর কার সঙ্গে ঘটনা সেই নামটা না হয় নাই বলি।’ অন্যদিকে পাপনের বোর্ডও তদন্ত করেছিলেন। কিন্তু তখন রিপোর্ট পেয়েও বিসিবি সভাপতি জানিয়েছিলেন এমন কোনো কিছু নেই। এ নিয়ে ফারুক বলেন, ‘আগের তদন্ত রিপোর্টেও এমনটা ছিল। আর এবার আমি নতুন করে তদন্ত করেছি।’ 

এই মেয়াদে হাথুরুর অধীনে কেমন ছিল বাংলাদেশ?

২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৩, হাফ প্যান্টের সঙ্গে সাদা রঙের টি-শার্ট আর মাথায় ক্যাপ, চোখে কালো রোদচশমা পরে হোম অফ ক্রিকেটে ঢুকেছিলেন। সেটা ছিল দ্বিতীয় দফায় মিরপুরে তার প্রত্যাবর্তন। ১৫ই অক্টোবর, ২০২৪ অনুশীলন শেষে বের হলেন মাঠ থেকে আর এই দফায় সেটাই শেষবার। নানা অপরাধে গতকাল চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দ্বিতীয় মেয়াদে চান্ডিকা হাথুরুসিংহেকে কোচ করে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে মজা করে বলেছিলেন, প্রাক্তনকে কখনো ফেরানো উচিত নয়। এ ছাড়া প্রথম মেয়াদের যাদের সঙ্গে ঝামেলা ছিল সবাই তখনও দলেই ছিলেন। যদিও প্রথম সংবাদ সম্মেলনে হাথুরু বলেছিলেন সবার সঙ্গে কথা বলে নিয়েছেন তিনি। কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা নেই। তবে এবারো শেষ পর্যন্ত মাঠের বাইরের নানা ঘটনা ও বিতর্ক কাল হলো তার জন্য। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকেই হাথুরুর বাংলাদেশে ফেরার গুঞ্জন তৈরি হয়। একপর্যায়ে গত বছরের ৩১শে জানুয়ারি বিসিবি জানায়, আবার কোচের দায়িত্বে ফেরানো হচ্ছে হাথুরুসিংহেকে। দুই বছরের চুক্তিতে কাজ শুরু করেন গত ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে। এই দফায় হাথুরুর কোচিংয়ে ১০ টেস্ট, ৩৫ ওয়ানডে ও ৩৫ টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ দল। টেস্টে জয়-হার সমান ৫টি করে। টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে জয় এবং পাকিস্তানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় এই মেয়াদে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। আবার ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে বাজেভাবে হার এবং ক’দিন আগে ভারত সফরে বিব্রতকর পরাজয়ও আছে এই মেয়াদে। ওয়ানডেতে ৩৫ ম্যাচের মধ্যে জয় ১৩টি, হার ১৯টি, পরিত্যক্ত হয়েছে তিন ম্যাচ। এই সংস্করণে সবচেয়ে হতাশার অধ্যায় ছিল গত ওয়ানডে বিশ্বকাপ। নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল যে আসরে, সেখানেই নেদারল্যান্ডসের মতো দলের বিপক্ষেও হারে বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচে মাত্র ৩টি ম্যাচ জেতে টাইগাররা। এই বিশ্বকাপের আগে নানা বিতর্কে বাদ পড়েন তামিম ইকবাল। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হলে ঘটনা আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। তামিম অবসর নেন ফিরে আসেন আবার বিশ্বকাপ স্কোয়ার্ড থেকেও বাদ পড়েন। দুইজনের সম্পর্কের অবনতিতে অনেকেই হাথুরুকে দায়ী করেন। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাথুরুর অধীনেই প্রথমবার ৩টি ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। কিন্তু পারফর্ম্যান্স কোনো ম্যাচেই সন্তোষজনক ছিল না। শেষ ম্যাচে সুপার এইটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সমীকরণ মেলালেই সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শুরুতেই হাল ছেড়ে দেয় টাইগাররা। এটা নিয়েও সমালোচিত হন হাথুরু। এই সংস্করণে তার অধীনে এই মেয়াদে জয় ১৯টি, হার ১৫টি, পরিত্যক্ত এক ম্যাচ।

mzamin

চীনের একদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সামরিক মহড়া

তাইওয়ানের চারপাশে চীনের বড় রকমের সামরিক মহড়ার পর ফিলিপাইনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ১০ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের কয়েক হাজার নৌসেনা। মঙ্গলবারের এই বার্ষিক ‘কামানডাগ’ বা ভেনোম মহড়া শুরু হয়েছে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে প্রধানত লুজোন দ্বীপকে রক্ষার উদ্দেশ্যে। এই দ্বীপটি স্বশাসিত তাইওয়ান থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে। তবে বিজ্ঞ মহল যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের এই যৌথ মহড়াকে দেখছেন চীনের সোমবারের মহড়ার জবাব হিসেবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে বেইজিং। একে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেদেরকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে। এর প্রেক্ষিতে চীনের চোখে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে কঠোর হুঁশিয়ারি’ হিসেবে সোমবারের মহড়াকে উল্লেখ করেছে তারা। দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অন্তরীপ এবং পানিসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে বিরোধ আছে ফিলিপাইনেরও। মাঝেমধ্যেই বেইজিং পুরো ওই অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা, মুখোমুখি অবস্থান বিদ্যমান। তারই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। রাজধানী ম্যানিলায় মঙ্গলবার এই অভিযানের উদ্বোধন করেছেন ফিলিপাইনের মেরিন কোরের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল আর্থুরো রোজাস। এ সময় তিনি বলেন, এই মহড়া বহু আগে থেকেই পরিকল্পনায় ছিল। এ অঞ্চলে যা ঘটছে তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। জানানো হয়, মহড়ার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো লুজোন দ্বীপের উত্তর উপকূলে সরাসরি গুলির মহড়া। অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে ফিলিপাইনের লুজোন দ্বীপ ও তাইওয়ানের মধ্যবর্তী অঞ্চলে। ফিলিপাইনের মহড়া পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ভিসেন্টে ব্লাঙ্কো বলেন, এই মহড়া হলো উপকূলকে সুরক্ষার জন্য। আমরা তাইওয়ানের বিষয়ে লড়াই করার জন্য যৌথ মহড়া দিচ্ছি না। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রতিনিধি কর্নেল স্টুয়ার্ট গ্লেন বলেন, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরকে যেকোনো সংকটে সহায়তা করার জন্য। বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে মুখ করে থাকা ফিলিপাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ পালাওয়ানেও মহড়ার কিছু অংশ পালিত হবে। দুই দেশের প্রতিটির কমপক্ষে এক হাজার সদস্য এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়ান, বৃটিশ, জাপানিজ ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্বল্প সংখ্যক সদস্য আছেন এই মিশনে। রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে পানি এবং মাটিতে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এতে। মঙ্গলবার এই ওয়ারগেম যখন শুরু হয়েছে তখন ফিলিপাইন সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে, গত ১১ই অক্টোবর তাদের একটি বেসামরিক টহল বিষয়ক নৌযানে ধাক্কা দেয় চাইনিজ মেরিটাইম মিলিশিয়াদের নৌযান। তাদের ইচ্ছাকৃত এই ধাক্কায় ফিলিপাইনের নৌযানের অল্প ক্ষতি হয়েছে। ব্যুরো অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াটিক রিসোর্সেস বলেছে, এই সংঘর্ষ হয়েছে ফিলিপাইনের গ্যারিসন দ্বীপ বলে পরিচিত থিতু থেকে প্রায় ৯.৩ কিলোমিটার দূরে। এতে নাবিকরা অক্ষত আছেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। এক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক আইন বা রায়কে একপাশে ঠেলে রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ওই অঞ্চলে সামরিক ও কোস্টগার্ডের নৌযান মোতায়েন করেছে।
mzamin

দুর্নীতির মামলায় জেল খেটেও তিনি বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী by মুনির হোসেন

প্রায় দশ বছর আগের ঘটনা। কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য একটি ৩০০ কেভিএ জেনারেটর ক্রয়ের কথা বলে অর্থ তুলে নেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শহীদুল আফরোজ। কিন্তু জেনারেটর না কিনে সেই অর্থ পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন তিনি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এ ঘটনায় পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যে মামলায় তিনি জেলও খাটেন। সাময়িক বরখাস্ত হন চাকরি থেকে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতি পরায়ণতার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। বিভাগীয় মামলার তদন্তে তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে তার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়। ‘মানবিক দিক’- বিবেচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে করা হয় প্রধান প্রকৌশলী (আর.সি)। কিন্তু আদালতের বারান্দা দৌড়ানো বন্ধ হয়নি তার। এখনো নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হয় বেবিচক প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল আফরোজকে। গত ১লা অক্টোবরও তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে হাজিরা দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও একজন ফৌজদারি মামলার আসামি যিনি বেআইনি সুপারিশে চাকরি ফিরে পেয়েছেন তিনি এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। সাবেক আইনমন্ত্রীর বেআইনি সুপারিশে চাকরিতে বহাল ও প্রধান প্রকৌশলী বনে যাওয়া শহীদুল আফরোজকে নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে বেবিচকে। সেখানকার অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

বেবিচকের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি অবগত রয়েছেন। তবে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। জানা গেছে, জেনারেটর কেনার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেবিচকের তৎকালীন তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী মো. শহীদুল আফরোজসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তিনিসহ অন্য আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে বেবিচক কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৮ এর ৪৫(৫) প্রবিধি মোতাবেক শহীদুল আফরোজকে ওইদিন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতি পরায়ণতার অভিযোগ আনয়ন করে ৪ঠা মার্চ ২০২০ সালে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। বিভাগীয় মামলার তদন্তে তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড প্রদানপূর্বক বিভাগীয় মামলাটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ১১ই মে ২০২১ সালে নিষ্পত্তি করা হয় এবং তিনি ফৌজদারি অপরাধে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার হওয়ায় ও মামলা চলমান থাকায় তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ বলবৎ রাখা হয়। বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তির পর শহীদুল আফরোজ ২০২১ সালের ১৫ই জুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সাময়িক বরখাস্ত চলমান রাখার আদেশের বিরুদ্ধে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এর কর্মচারী প্রবিধানমালা-২০২১ এর ৫৮ প্রবিধি অনুযায়ী আপিল দায়ের করেন।

সেই অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৪শে মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় শহীদুল আফরোজের বিভাগীয় মামলা ও সাময়িক বরখাস্ত আদেশ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেয়। যেখানে বেবিচকের চাকরির বিভিন্ন প্রবিধি উল্লেখ করে বলা হয়, বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি ও বিভাগীয় মামলায় সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার হলেও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে। তাই প্রকৃতপক্ষে সাময়িক বরখাস্তকৃত মো. শহীদুল আফরোজের সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয়ের এ স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপ-সচিব (রুটিন দায়িত্ব) রোকসিন্দা ফারহানা। এরপর ২০২২ সালের ১৬ই মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। তার প্রেক্ষিতে ১৭ই মে মো. শহীদুল আফরোজের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করার বিষয়ে মতামত দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক স্মারকে জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করায় এবং উক্ত মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-এর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-২০২১ এর অনুচ্ছেদ-৬৭ এবং সরকারি কর্মচারী চাকরি আইন-২০১৮ অনুসারে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। এতে স্বাক্ষর করেন উপ-সচিব মো. মশিউর রহমান তালুকদার। অন্যদিকে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে একাদশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির গত ৬ই মার্চ ২০২৩ সালের অনুষ্ঠিত ৩৪তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগকে মতামত প্রদানের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আইন ও বিচার বিভাগ ১৩ই জুন ২০২৩ সালে ‘মানবিক দিক’ বিবেচনা করে পুনারায় স্বপদে বহালের বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করার সুপারিশ করে।

উপ-সচিব (মতামত-২) এর এ মতামতে ২০২৩ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহের বিভিন্ন তারিখে স্বাক্ষর করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সচিব মো. গোলাম সরওয়ারসহ সাত কর্মকর্তা। যেটি সিনিয়র সহকারী সচিব তৈয়াবুল হাসানের ১৩ই জুন ২০২৩ এর স্বাক্ষরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৬শে জুন বেবিচকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শহীদুল আফরোজের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর চলতি বছরের ৫ই ফেব্রুয়ারি তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে শহীদুল আফরোজের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। যেটি করতে বেবিচকের তৎকালীন চেয়ারম্যান কয়েকবার অপরাগতাও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী ফারুক খান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কঠোর অবস্থানের কারণে তাকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করতে হয়। শহীদুল আফরোজের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলাটি এখন হিয়ারিং অবস্থায় আছে।

গত ১লা অক্টোবরও চট্টগ্রামে গিয়ে আদালতে হাজির হতে হয়েছিল তাকে। পরবর্তী তারিখ নভেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে মো. শহীদুল আফরোজ মুঠোফোনে কথা বলতে অপরাগতা জানান। অন্যদিকে বেবিচকের বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত আছি। এ বিষয়ে এখনই কথা বলতে চাচ্ছি না। আগামী ২০ তারিখের পর কথা বলবো। তিনি বলেন, আমরা সবকিছু নতুনভাবে সাজাবো। কিছুদিনের মধ্যেই পরিবর্তন দেখতে পাবেন। এ বিষয়ে সাবেক জজ (কোর্ট অব আপিল, জাতিসংঘ) ড. শাজাহান সাজু মানবজমিনকে বলেন, ফৌজদারি মামলায় জেল খাটা, বিভাগীয় তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়া ও চার্জশিট হওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেয়া ভাষ্য অনুযায়ী মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। অন্যদিকে এটি নৈতিকারও প্রশ্ন।

mzamin

বন্দর ঘিরে নেয়া মেগা প্রকল্প, পর্যালোচনা হচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে নেয়া মেগা প্রকল্পের বিষয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। যেসব প্রকল্প রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নেয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করবে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনকি এসব প্রকল্প যাতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সরকারও  বাস্তবায়ন  না করে সে সম্পর্কিত সুপারিশ রেখে যেতে পারে সরকার। প্রয়োজন ও সুবিধা বিবেচনায় জাপানি অর্থায়নে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একনেক। এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া বে-টার্মিনাল প্রকল্পটি নিয়ে এখন পর্যালোচনা চলছে। দায়িত্ব নেয়ার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে এসেছেন।

এর মধ্যে বে-টার্মিনাল এলাকাও তিনি পরিদর্শন করেন। মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কম ব্যয় এবং সরকারি বেসরকারি বে-টার্মিনালগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পরবর্তী চিন্তা করা হবে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বে-টার্মিনাল প্রয়োজন হলেও যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তা অনেকটা বিলাসী। গভীর সমুদ্র বন্দর বাস্তবায়ন হলে এই বিশাল এবং বিলাসী প্রকল্পের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু টানেলের উদাহরণ দিয়ে অনেকে বলছেন, এটি একটি বিলাসী প্রকল্প। এই প্রকল্পে এখন প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে হওয়ার কথা। প্রকল্প এলাকায় চারটি টার্মিনাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনের বিষয়টি যাচাই না করে একসঙ্গে চারটি টার্মিনালের কাজ হাতে নেয়াও যৌক্তিক নয়। সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা ও পরামর্শক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উৎসাহী ছিলেন। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সরকারি এবং বেসরকারি জেটিগুলোর প্রায় অর্ধেক অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সেগুলো ব্যবহার না করে বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে বে-টার্মিনাল নির্মাণের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বর্তমানে যে জেটিগুলো কার্যকর ও নির্মাণাধীন আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক এ সংকটের সময় বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার প্রয়োজন হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন জেটি সংখ্যা ১৭টি, যার মধ্যে ১১টি কনটেইনার জেটি, বাকি ছয়টি বাল্ক কার্গো জেটি। এ ছাড়াও সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত জেটির মধ্যে চালু আছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, ডলফিন ওয়েল জেটি, গ্রেইন সাইলো জেটি, সিমেন্ট ক্লিংকার জেটি, টিএসপি জেটি ও সিইউএফএল জেটি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ড্রাইডকের দুটি জেটিও চালু আছে।  এই প্রকল্পের জন্য বড় ঝুঁকি হলো বিশাল জায়গা জুড়ে দ্রুত পলি পড়ার কারণে যতই ড্রেজিং করা হোক না কেন, দীর্ঘ  মেয়াদে নাব্যতা সংকট দূর করা প্রায় অসম্ভব। এই প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে বিভিন্ন সমীক্ষায় এসব তথ্য আসলেও উৎসাহী কর্মকর্তারা তা আমলে নেননি।

সম্প্রতি মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এতে জাপান বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিদায়ী সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রকল্প নেয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়ার পরই সেগুলো কাটছাঁটের তালিকা তৈরি শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা রাজনৈতিক প্রকল্প বাদ দেয়া হচ্ছে। কমানো হচ্ছে অন্যান্য প্রকল্পের পরিধি। পরিস্থিতি ও বিবেচনায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ নিয়েও গভীর পর্যালোচনা হচ্ছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির পরিচালক (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন) মো. আলী আজম আল আজাদ এ বিষয়ে বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রকল্পে সরকারকে কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না। তবে যে কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে দেশের এবং স্থানীয় অংশীজনের স্বার্থ দেখা হয়ে থাকে। বে-টার্মিনাল নির্মাণ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক  বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিদর্শন করে গেছেন। এই প্রকল্পের অর্থায়ন কারা করবে তাও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সরকার  যে সিদ্ধান্ত নেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাই বাস্তবায়ন করবে।