Sunday, March 28, 2010

ঋণে জর্জরিত গ্রিসকে যুদ্ধজাহাজ কেনার চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স-জার্মানি

ঋণে জর্জরিত ইউরোপের দেশ গ্রিসকে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স ও জার্মানি। এ জন্য প্রয়োজনে গ্রিসকে সরকারি ব্যয় কমানোর কথাও বলেছে তারা।
গ্রিসের সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক মন্দার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বার্লিন ও প্যারিস অস্ত্র কিনতে এথেন্সকে চাপ দিচ্ছে। ঋণে জর্জরিত হয়ে গ্রিস যখন নিজের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমাতে চাইছে, তখন তাদের ওপর এই চাপ আসছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রুর একজন উপদেষ্টা বলেন, ‘জার্মানি ও ফ্রান্স আমাদের সরাসরি অস্ত্র কেনার কথা বলছে না। কিন্তু বিষয়টা এমন যে অস্ত্র কিনলে তারা আমাদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে।’ কূটনৈতিক কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি প্রধানমন্ত্রীর ওই উপদেষ্টা।
ফ্রান্স ছয়টি রণতরী, ১৫টি হেলিকপ্টার ও ৪০টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে গ্রিসকে। দুই দেশের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টির সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত। দেশের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সহায়তার জন্য গত মাসে ফ্রান্স সফর করেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রু। তখন দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
এদিকে জার্মানিও একটি ডুবোজাহাজ কেনার জন্য এথেন্সকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গ্রিস ২০০৬ সালে ওই ডুবোজাহাজ কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার সাবেক প্রধান নিক উইটনি বলেন, ঋণগ্রস্ত দেশ গ্রিসকে সহায়তা দিতে এটা এক ধরনের হাস্যকর পন্থা। তবে তিনি জার্মান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলেন, এর আগে জার্মানির কাছ থেকে ট্যাংক কেনার পর অর্থ পরিশোধে ঝামেলা করেছিল গ্রিস। এ কারণে বার্লিন এমন করছে।
তবে গ্রিসের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস বেগলিটিস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ট্যাংক কেনা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করতেই কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর কোনো ঝামেলা হয়নি। তিনি অবশ্য গ্রিসের মন্দার সুযোগ নিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের অস্ত্র কিনতে এথেন্সকে চাপ দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।

ওবামার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নীতির বিজয় পররাষ্ট্রনীতিকে শক্তিশালী করবে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক বিজয় তাঁর পররাষ্ট্রনীতিকেও শক্তিশালী করবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিলে সই করার পর ডজনখানেক বিদেশি সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান ওবামাকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ থেকেই বোঝা যায় যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়টি নিয়ে বিদেশি নেতারা কতটা মনোযোগী ছিলেন।
তবে ওবামার উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাঁর এত বড় বিজয় অর্জনের পর আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না বরং কিছুটা সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, আগামী বছরগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক মার্কিন নাগরিক স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আসবে—শুধু এই কারণে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবে না অথবা উত্তর কোরিয়াও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাবে না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওবামার প্রথম বছরটি কেটেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে। তবে এই এক বছরে দেশে ও দেশের বাইরে বেশ কিছু নীতিগত জয় ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার করবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন হ্যাডলি বলেন, এই বিজয় ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে সাহায্য করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই বিজয় ওবামার রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণ করেছে এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি মাথায় রাখবেন বিদেশি নেতারা।
ওবামার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার নিয়ে ওবামার দীর্ঘ লড়াই তাঁর বক্তৃতাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও অন্যান্য পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিকে এখন অনেক বেশি অর্থপূর্ণ করে তুলবে। স্বাস্থ্যসেবা বিল নিয়ে বিজয় নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ওবামার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে সবাইকে।’
রোডস আরও বলেন, ‘ওবামা সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে, তিনি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন করেন না। এই সমালোচনার সবচেয়ে বড় জবাব স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কারনীতিতে বিজয়।’
তবে পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে এই বিজয়ের প্রভাব এত অল্প সময়ের মধ্যে নজরে আসবে না। মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রগতি থমকে থাকলেও পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। গত সপ্তাহে অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওবামার দুবারের বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল বেরিয়ে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করা নিয়ে দুই দেশ একটি যৌথ ঘোষণা দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। কয়েকজন বিশ্লেষক বলেছেন, ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য ও ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসে সমর্থকদের উসকে দেন আদভানি

‘ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করতে সমর্থকদের উসকে দিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এক বক্তৃতায় তিনি মসজিদের জায়গাতেই মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর মসজিদে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়।’
গতকাল শুক্রবার ভারতের পুলিশ বাহিনীর (আইপিএস) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনজু গুপ্ত আদালতে এ কথা বলেন। বর্তমানে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ে (আরএডব্লিউ) কর্মরত আনজু ওই সময় বিজেপির নেতা আদভানির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন।
আনজু গুপ্ত আদালতে বলেন, ‘বিজেপির নেতা আদভানিকে ফৈজাবাদ সীমান্তে আমি অভ্যর্থনা জানাই। তাঁকে বাবরি মসজিদ থেকে মাত্র দেড় শ মিটার দূরে রামকথা কুঞ্জে নেওয়া হয়। ওই সময় কালরাজ মিশ্র, মুরলি মনোহর যোশি, উমা ভারতী, বিনয় কাতিয়ার, গিরিরাজ কিশোর, অশোক সিংহল ও প্রমোদ মহাজনসহ দলটির অনেক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’
আদভানি তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই মন্দির নির্মাণ করা হবে। এ সময় বিজেপির নেতা বিনয় কাটিয়ত উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত সবাইকে খেপিয়ে তোলেন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘সমথর্করা’ মসজিদ ধ্বংস করতে এগিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গতকাল আদালত আনজু গুপ্তের বিবৃতি রেকর্ড করেন।

ছাত্রলীগকে হতে হবে ছাত্রদের লীগ by আব্দুল কাইয়ুম

আপনি যদি কোনো গুরুতর ব্যাপারে কথা দিয়ে কথা না রাখেন, তাহলে সমাজে হেয় হতে হবে। এটা রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও খাটে। যদি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতির খেলাপ করে, তাহলে তো ছি ছি পড়ে যাওয়ার কথা। ঠিক এ রকমই এক লজ্জাজনক ব্যাপার ঘটে চলেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই সেদিন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন করিয়েছে এই বলে যে ছাত্রদের মধ্যে তাদের কোনো অঙ্গসংগঠন থাকবে না; অথচ এর পর থেকে মনে হচ্ছে, অঙ্গসংগঠন ছাড়া বোধহয় তাদের আর কিছু নেই। সম্মেলন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী ঘটনায় সাংসদ ও দলীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা এত বেশি যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও নিশ্চুপ থাকা কঠিন। তারা চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো কী বলবে?
তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম দাবি করেছেন যে ছাত্রলীগ তাঁদের একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, অঙ্গসংগঠন নয়। এটা সত্যের অপলাপ। আওয়ামী লীগ এখনো ছাত্রলীগকে তাদের আজ্ঞাবহ একটি সংগঠন হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তাদের আদেশ অনুযায়ীই ছাত্রলীগ চলছে। সম্প্রতি ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক নিহত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ঘটনার কারণ বের করা ও করণীয় নির্ধারণে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ দুজনকে দায়িত্ব দেন। এরই ভিত্তিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রশ্ন হলো, ছাত্রলীগের সঙ্গে তো আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার কথা নয়। কোন এখতিয়ারে তাঁরা গেলেন সেখানে? আর প্রধানমন্ত্রী নিজে কীভাবে মন্ত্রী-নেতাদের সেখানে পাঠালেন? এরপর আওয়ামী লীগ কি দাবি করতে পারে যে ছাত্রলীগ নিজেদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলছে? তারা স্বাধীন?
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ঘটনায় যদি মন্ত্রী মীমাংসা করতে যান, তাহলে পুলিশ কি কোনো আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাবে? আবু বকর সিদ্দিক হত্যার ঘটনা তো ইতিমধ্যেই প্রায় ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন অভিযুক্তকে জেলখানায় পাঠিয়ে এবং তাদের কয়েকজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেই যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করা হয়েছে বলে তাঁরা ধরে নিয়েছেন।
সম্প্রতি যশোরে ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও জেলা ছাত্রলীগের নেতা রিপন হোসেনকে হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একদিকে দলীয় নেতা খালেদুর রহমান টিটো, অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের জোট। তাঁদের মধ্যে দলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে, আর প্রাণ দিতে হচ্ছে ছাত্রলীগের নেতার। উভয় পক্ষই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ও মাদক ব্যবসার মতো অবৈধ বাণিজ্যের বখরা আদায়ে একক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অভিযোগ রয়েছে যে তাঁরা এসব অনৈতিক ও অপরাধমূলক তৎপরতায় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেন এবং তাই অনুগত ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আনার জন্য খুনোখুনি করতেও তাঁরা দ্বিধা করছেন না। এগুলো কোনো মনগড়া অভিযোগ নয়। যশোর আওয়ামী লীগের নেতারাই প্রকাশ্যে এসব আলোচনা করছেন। পত্রিকায়ও এসব কাহিনী বেরিয়েছে।
আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। তাই ছাত্রলীগের সহিংস ঘটনা বড় হয়ে সামনে আসছে। ছাত্রদল তুলনামূলকভাবে নিশ্চুপ। কারণ নির্বাচনে বিপুল পরাজয়ের পর তারা এক কথায় নির্জীব হয়ে পড়েছে। যদি ছাত্রদলের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা না থাকত, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল তো তাদের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারত না। হয়তো বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়ত, কিন্তু ছাত্রদল মাঠে থাকতে পারত। আজ ছাত্রদলের নির্জীব অবস্থান প্রমাণ করে যে তারাও বিএনপির কার্যত অঙ্গসংগঠন হিসেবেই চলছে। বিএনপির উত্থান-পতনের সঙ্গে তাদের ভাগ্যও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। অবশ্য অঙ্গসংগঠন না রাখার বিষয়টি এসেছে সম্প্রতি। এর আগে ছাত্রদল ছিল ঘোষিতভাবে বিএনপির অঙ্গসংগঠন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলবিধি (পিপিআর) আইনে সব দলের ছাত্র ও অন্যান্য সংগঠনকে অঙ্গসংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়েছে। তখন যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র ও অন্যান্য সংগঠনের কার্যকলাপের পূর্ণ দায়দায়িত্ব না নিলে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। বিশেষভাবে ছাত্র সংগঠনের ব্যাপারে জিয়াউর রহমান অতিমাত্রায় সতর্ক ছিলেন। কারণ ছাত্ররা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। তাই তাদের দায়দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে চাপানো হয়।
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছাত্র সংগঠন আগেও সম্পর্ক রাখত, কিন্তু সেটা ছিল মূলত আদর্শগত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছাত্রলীগ, ন্যাপ-সিপিবির সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের সম্পর্ক ছিল সর্বজনবিদিত। কিন্তু সংগঠন হিসেবে তারা ছিল অলাদা। কোনো ছাত্র সংগঠন তাদের সম্মেলনে বা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানাত না। জিয়াউর রহমানের আইনের ফলে সংগঠন আর দল একাকার হয়ে গেল। ছাত্রলীগের অফিস নিউমার্কেটের কাছে বলাকা ভবন থেকে সোজা আওয়ামী লীগ অফিসে চলে গেল। স্বয়ং সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হিজবুল বাহার জাহাজে করে সমুদ্র ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হলো। এধরনের প্রমোদ ভ্রমণের আয়োজন চললো আরো কয়েক বছর। তারপর শুরু হলো তাদের দলে ভিড়ানোর পালা। এদেরই উত্তরসূরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাদের চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
বিগত বিএনপি সরকারের সময়, ২০০২ সালের ৮ জুন ব্যুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ক্যাডারদের দুই প্রতিপক্ষ গ্রুপ টেন্ডার ছিনতাইয়ের জন্য বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী সাবিকুন্নাহার সনি নিহত হন। সে সময় খুনি চক্রের বিরুদ্ধে যে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি, তার কারণ ওই দলীয় সম্পৃক্ততা। ক্ষমতাসীন বিএনপি বহু দিন পর্যন্ত অভিযুক্ত খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এরপর মাসখানেক না যেতেই, ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে সিট দখলের জন্য ছাত্রদলের নেত্রীরা ছাত্রলীগের কর্মী ও সাধারণ ছাত্রীদের ওপর সহিংস হামলা চালায়। এ কাজে বিএনপির নেতাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাতের বেলায় পুলিশ ছাত্রীদের হলে ঢুকে নির্যাতন চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সেদিন রচিত হয়।
দলীয় সম্পৃক্ততার এসব ভয়াবহ পরিণতি এড়ানোর জন্যই ২০০৯ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনকে মূল রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন না রাখার বিধান করা হয়েছে। বিএনপি সেটা মেনেও নিয়েছে। এরপর এটাই স্বাভাবিক যে তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কিন্তু তারা তো আগের ধারাতেই চলছে। এমনকি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি এক সমাবেশে ছাত্রদলকে বিএনপির সংগঠন বলে উল্লেখ করেছেন। যদি অভ্যাসবশে বলে থাকেন, তাহলে তো পরে কোনো উপলক্ষে সেটা উল্লেখ করা যেত। কিন্তু সেটা করা হয়নি। তাতে মনে হয় বিএনপি সচেতনভাবেই ছাত্রদলকে নিজেদের সঙ্গে জড়িয়ে রাখছে। নানা ঘটনায় এই মনোভাব প্রকাশও পাচ্ছে। বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদলের বর্ধিত সভা উদ্বোধন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্র ছাড়া অন্য কাউকে না রাখা, বয়স্কদের স্থান না দেওয়া প্রভৃতি বিষয়ে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দেন এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ছাত্রদলের একটি স্থায়ী গঠনতন্ত্র করার ‘নির্দেশ’ দেন। প্রশ্ন হলো, একটি স্বাধীন সংগঠন কীভাবে চলবে, সে ব্যাপারে নির্দেশ কেন খালেদা জিয়া দিচ্ছেন? বিএনপির গঠনতন্ত্রে তো ছাত্রদলকে অঙ্গসংগঠন হিসেবে রাখা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দেশের মূল নেতা। ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রনেতাদের ভালোর জন্যই তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। শুধু মুখের কথায় নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে দলের সমস্ত সংশ্লিষ্টতা ত্যাগ করা উচিত। প্রথম কাজ হবে নিজেদের দূরে রাখা। ছাত্র সংগঠনের সম্মেলন বা সভায় তাঁরা যাবেন না। কোনো নেতা বা মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর আদেশ দিতে হবে। ছাত্রনেতাদের ওপর দলীয় মন্ত্রী-নেতাদের প্রভাব বিস্তারের যেকোনো অপচেষ্টাকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য করে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশ্ন হলো তাঁরা নিজেরা সরে দাঁড়াতে কতটা প্রস্তুত? নিজেরা সরে না দাঁড়ালে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া যাবে না।
ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মতো সংগঠনগুলো অবশ্যই থাকবে, কিন্তু ছাত্রলীগ হবে কার্যত ‘ছাত্রদের লীগ’ আর ছাত্রদল হবে ‘ছাত্রদের দল’। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই সরল সমীকরণটি মানতে রাজি কি না, তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষতে ছাত্র সংগঠন অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি পারবে না।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।

চিরস্থায়ী যুদ্ধের যুগ -জন পিলজার

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংবাদ শুনুন। আফ্রিকায় আক্রমণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঢুকে পড়েছে সোমালিয়ায়। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে তাদের যুদ্ধক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে ইয়েমেনে আর এখন হর্ন অব আফ্রিকায়। ইরান আক্রমণের প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে আনা হচ্ছে ভূগর্ভের গভীরে ঢুকে বা মজবুত তল ভেদ করে অনেক গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণক্ষম বোমা (bunker-buster)।
গাজায় আমেরিকার সরবরাহকৃত ভূগর্ভস্থ দেয়ালের পেছনে গাজার অসুস্থ, পরিত্যক্ত জনগণ চাপা পড়ছে। এদের বেশির ভাগই শিশু। এই দেয়ালের উদ্দেশ্য আবারও অন্যায় দখল কায়েম করা। ল্যাটিন আমেরিকায় কলম্বিয়ার জমিনে সাতটি সামরিক ঘাঁটির বন্দোবস্ত করে নিয়েছে ওবামা প্রশাসন। ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রিয় সরকারগুলোর শক্তিক্ষয়ের যুদ্ধে লিপ্ত করার জন্য এই ঘাঁটিগুলো তাদের দরকার ছিল। ইত্যবসরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিরক্ষা’মন্ত্রী রবার্ট গেটস অভিযোগ করছেন, ‘সাধারণ [ইউরোপীয়] জনগণ ও রাজনীতিক শ্রেণী’ যুদ্ধের এতটাই বিরোধী যে তারা শান্তির পথে ‘প্রতিবন্ধক’।
আমেরিকার এক জেনারেলের মতে, আফগানিস্তানে আক্রমণ যতটা না বাস্তব যুদ্ধ, তার অধিক ‘মস্তিষ্কের যুদ্ধ’। এমনিভাবে তালেবানের ‘কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণকাঠামো’ থেকে সম্প্রতি ‘মারজাহ নগর মুক্ত’ করাও পুরোপুরি হলিউডি কায়দায় সত্য উৎপাদন। মারজাহ কোনো নগর নয়; সেখানে তালেবানের কোনো কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। মুক্তিদাতা এই বীরেরা সচরাচর যেমন বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করে, তেমনি এখানেও করেছে। অথচ যেটা বলা হয়েছে তা পুরোপুরি বানোয়াট। এই মস্তিষ্কের যুদ্ধের উদ্দেশ্য স্বদেশে বানোয়াট সংবাদ পৌঁছে দেওয়া; একটি ব্যর্থ ঔপনিবেশিক অভিযান যেন মনে হয় যথার্থ ও দেশপ্রেমাত্মক, যেন মনে হয় দ্য হার্ট লকারই বাস্তব।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রগুলোর জন্য বহু দূরের তালেবান বা অন্য কোনো অন্তর্মুখী উপজাতীয় গোষ্ঠী হুমকি নয়, বরং নিজ দেশের নাগরিকদের যুদ্ধবিরোধী প্রবৃত্তি বড় হুমকি। গত বছরের জানুয়ারি মাসে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিবাদকারী অসংখ্য তরুণের ওপর যে কঠোর ও নির্মম দণ্ডাদেশ দেওয়া হলো, তা থেকেও বিষয়টা স্পষ্ট হচ্ছে। কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে বেসামরিক পুলিশ ঘিরে রেখেছিল। বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর যারা প্রথমবারের মতো আইন অমান্য করেছে, তাদেরও অত্যন্ত লঘু অপরাধে দেওয়া হয় আড়াই বছরের কারাদণ্ড। এই লঘু অপরাধে সাধারণত কোনো বিচারিক দণ্ডাদেশ দেওয়া হয় না। অবৈধ যুদ্ধের প্রকৃত চেহারা জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেওয়া গুরুতর ভিন্নমত এখন আটলান্টিকের দুই পারেই গুরুতর অপরাধে পরিণত হয়েছে।
অন্যান্য উচ্চতর মানবিক জায়গায় নীরবতা এই নৈতিক প্রহসনের অনুমোদন দেয়। শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও আইন, উদারনৈতিক অভিজাতবর্গ—সবখানে নিস্পৃহতা দেখা যাচ্ছে। নিস্পৃহতার বিষয়ে নানা গোঁজামিল তাঁরা দিয়ে যাচ্ছেন। হেরল্ড পিন্টার মারা যাওয়ার পর ব্রিটেনের স্বনামধন্য লেখক, শিল্পী ও আইনজীবীদের একটি তালিকা করার চেষ্টা করুন; যাদের আদর্শকে ‘বাজার’ হজম করে ফেলে না বা সেলিব্রেটি প্রতিচ্ছবি যাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলে না। এই তালিকায় এমন কেউ কি আছেন, যিনি ২০ বছর ধরে ইরাকে একের পর এক প্রাণঘাতী অবরোধ ও হামলার ফলে যে হলোকাস্ট হয়েছে সে বিষয়ে কথা বলছেন? এই অবরোধ আর হামলা ছিল ইচ্ছাকৃত। ১৯৯১ সালের ২২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিআইএ বিস্তারিত বর্ণনাসহ তাদের পূর্বাভাসে দেখিয়েছিল, কেমন করে একটি অবরোধ ইরাকে নির্মল পানিব্যবস্থাকে নিয়মতান্ত্রিক পথে ধ্বংস করবে এবং এর ফলে রোগজীবাণু ‘যদি মহামারি আকারে ছড়িয়ে না-ও পড়ে, তবু রোগের বিস্তার অনেক বেড়ে যাবে।’ তাই ইরাকি জনগণের নির্মল পানিব্যবস্থা নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র নেমে পড়ে। ইরাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে নির্মল পানিব্যবস্থা ভেঙে পড়াকে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। কিন্তু এই উগ্রবাদিতার স্পষ্টত কোনো নাম নেই।
আমেরিকান সাহিত্যিক নরম্যান মেইলার একবার বলেছিলেন, তাঁর মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও আধিপত্যের সীমাহীন অন্বেষায় ‘ফ্যাসিস্ট-পূর্ব যুগে’ ঢুকে পড়েছে। মেইলারের বক্তব্যে মনে হয়েছে সংশয় রয়ে গেছে, যেন তিনি এমন বিষয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, যা তিনি নিজেও স্পষ্ট সংজ্ঞায়িত করতে পারছেন না। ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি এখানে যথার্থ হয় না। কারণ এটি সামনে টেনে আনে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, মানসপটে আবারও ভেসে ওঠে জার্মানি ও ইতালীয় দমননীতির স্মৃতিচিহ্ন। অন্যদিকে, আমেরিকার কর্তৃত্বপরায়ণতা যতটা না নিয়ন্ত্রণ আরোপের দমনমূলক পদ্ধতির বিষয়ে উৎসাহী, তার চেয়ে বরং সম্মতির মাধ্যমে নিজের পক্ষে কাজে লাগানোর পদ্ধতিতে অধিকতর আগ্রহী।
এই হলো আমেরিকানিজম, এটি একমাত্র লুণ্ঠনপরায়ণ মতাদর্শ যা নিজেকে মতাদর্শ বলে মানতে নারাজ। সর্বোত্কৃষ্ট গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে স্বৈরতন্ত্রী চরিত্রের করপোরেশনগুলোর ও রাষ্ট্রের মধ্যে আরেক রাষ্ট্র হয়ে ওঠা সামরিক বাহিনীর উত্থান এবং বিপথগামী আর বোকা বানানোর জনসংস্কৃতির দিশা আগে কোনো দিন পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ইরাকে অবরোধ চলার সময়ে সেখানে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেনিস হ্যালিডে ও হান্স ফন স্পনেক নিশ্চিত ইরাকে তাঁরা গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁরা কোনো গ্যাস চেম্বার দেখেননি সত্যি; কিন্তু অলক্ষে, অঘোষিতভাবে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আলোকপ্রাপ্তির অগ্রযাত্রা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েই এগিয়ে চলেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
নিউ স্টেটসম্যান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
জন পিলজার: লন্ডনভিত্তিক অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা।

দুটি বিপন্ন তরুবীথি by মোকারম হোসেন

ঢাকায় পার্ক বা উদ্যান ব্যতীত অন্য কোথাও অশোক এবং রুদ্রপলাশের কোনো সুদীর্ঘ বীথির কথা মনে পড়ে? না পড়ারই কথা। কারণ, এমন দুটি নান্দনিক বীথি প্রকৃতিকে আলোকিত করার আগেই প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে। কোন প্রকৃতিপ্রেমিক, কখন কীভাবে এই শৈল্পিক নিসর্গের আয়োজন করেছিলেন তার সঠিক কোনো ইতিহাস আজ আর জানা যায় না। ধানমন্ডির ১৫/এ সড়কে গেলে দেখা যাবে, সড়কের দুই পাশে মাত্র সাতটি অশোকগাছ জরাজীর্ণভাবে বেঁচে আছে। দেখে খুব সহজেই বোঝা যায়, এগুলো প্রতিনিয়ত মানুষের হিংস্রতার শিকার হচ্ছে। কাণ্ড ও ডালপালায় ধুলো জমে হতশ্রী অবস্থা। কোনো কোনো গাছে ডালপালা উপড়ে ফেলারও চিহ্ন রয়েছে। অশোক দুষ্প্রাপ্য কোনো বৃক্ষ না হলেও পথের ধারে কিংবা উন্মুক্ত কোনো স্থানে পরিণত অশোকের পরিকল্পিত বীথি সচরাচর চোখে পড়ে না। ঢাকায় রমনা পার্কে আছে নান্দনিক অশোককুঞ্জ আর বোটানিক গার্ডেনে আছে একটি সুদীর্ঘ অশোকবীথি। অশোক এ অঞ্চলের নিজস্ব বৃক্ষ। মূলত ফুলের জন্যই গাছটি বিখ্যাত। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এ ফুল কিছুটা আলাদা। কারণ, এর কাণ্ড ও ডালপালাজুড়ে ফুল ফোটে। শুধু তাই নয়, এর প্রস্ফুটনকালও অতি দীর্ঘ। অশোক মাঝারি আকৃতির ছায়াসুনিবিড় চিরহরিত্বৃক্ষ। গাঢ় সবুজ পাতাগুলো দীর্ঘ, চওড়া ও বর্শাফলাকৃতির। কচিপাতা কোমল, নমনীয়, ঝুলন্ত এবং তামাটে। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম বসন্তকাল। অজস্র ফুলে ঘনবদ্ধ অশোকমঞ্জরি বর্ণ ও গড়নে আকর্ষণীয়। তাজা ফুলের রঙ কমলা, কিন্তু বাসি ফুল লাল। পরাগকেশর দীর্ঘ, উিক্ষপ্ত এবং পরাগকোষ গাঢ় লাল। মঞ্জরি পিঁপড়ার প্রিয় আবাস।
একই অবস্থা ধানমন্ডির ৮/এ ও ৯/এ সড়কের রুদ্রপলাশগুলোরও (আফ্রিকান টিউলিপ)। একসময় এ দুটি সড়কে বেশ কিছু গাছ থাকলেও এখন রুগ্ন অবস্থায় মাত্র চারটি রুদ্রপলাশ বেঁচে আছে। এই গাছ সুদূর আফ্রিকা থেকে বেশ আগেই আমাদের দেশে এসেছে। কিন্তু সে তুলনায় ততটা বিকশিত হয়নি। ঢাকায় রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদউদ্যান, জাতীয় উদ্ভিদউদ্যান ও ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদউদ্যানে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি গাছ দেখা যায়। বেশ বড়সড় ধরনের গাছ, শাখা-প্রশাখা এলোমেলো, পাতা সংখ্যায় কম। বসন্তে নতুন পাতার সঙ্গে উজ্জ্বল লাল রঙের ফুলগুলো ফুটতে শুরু করে। ফুল দেখতে অনেকটা মিষ্টি কুমড়ার ফুলের মতো।
প্রকৃতিপ্রেমী প্রিসিলা রাজ দীর্ঘদিন ধরে ধানমন্ডিতে বসবাস করছেন। তিনি উল্লিখিত তিনটি সড়কে আরও অনেকগুলো অশোক ও রুদ্রপলাশ দেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এতগুলো গাছ কীভাবে হারিয়ে গেল তা তাঁর কাছেও বিস্ময়। তাঁর কথার সূত্র ধরেই কিছুটা তাগিদ অনুভব করি। স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিতে চেষ্টা করি, কিন্তু সঠিক কোনো তথ্য মেলে না। শেষে কথা হয় ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আবাসিক সড়কগুলোর তেমন কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই বা সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থাও নেই। ভবিষ্যতে আমাদের এ বিষয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঢাকা শহরকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে বিউটিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। তারা গাছপালা লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করছে।’ জানি তাঁর এ তথ্যটিও পূর্ণাঙ্গ নয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি তথ্য আর কোথায় মিলবে! আমরা আসলেই খুব আত্মবিস্মৃত। মাত্র পঞ্চাশ বছর আগের অনেক কিছুরই এখন আর হদিস নেই। ঘটা করে পালন করা হচ্ছে ঢাকার চার শ বছর। কিন্তু এই শহরে কি চার শ বছরের পুরোনো কোনো বৃক্ষ বেঁচে আছে? একসময় মানুষ বুঝে, না বুঝে বৃক্ষ নিধন করেছে, বন উজাড় করেছে। এখন সময় এসেছে প্রকৃতি সংরক্ষণের। নিজেদের প্রয়োজনেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে বনবনানী। আমরা যদি প্রকৃতিমনস্ক হই তাহলে অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের পাশাপাশি উপরোক্ত অশোক ও রুদ্রপলাশের বীথিগুলোও বেঁচে থাকবে।
ধানমন্ডির আদি বাসিন্দা বৃক্ষপ্রেমিক সিরাজ আহমদ মনে করেন, ধানমন্ডির এসব গাছপালার অধিকাংশই পাকিস্তান আমলে সরকারের অবাঙালি কর্মকর্তাদের লাগানো। তারা সরকারি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাড়ি লাগোয়া সড়কের দুই পাশে বৃক্ষসজ্জা করতে চেয়েছিলেন। সময়টা ষাটের দশকের প্রথম ভাগ। তখন ধানমন্ডি এলাকায় এমন আরও অনেক গাছপালা লাগানো হয়। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—কুর্চি, অ্যাভোকাডো, ট্যাবেবুইয়া, জংলি বাদাম, বুদ্ধনারকেল, জ্যাকারান্ডা, বাওবাব, অর্জুন, হরীতকী, বহেড়া, মিলেশিয়া, সোনাইল, ক্যাশিয়া জাভানিকা ইত্যাদি। তবে অসচেতনতা ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে ইদানীং অনেক গাছপালাই হারিয়ে গেছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে (বর্তমান ১৬) আছে সুদৃশ্য পরশপিপুল, জ্যাকারান্ডা, নীলমণি আর মহুয়া। জানামতে রাজধানীর সবচেয়ে পুরোনো বাওবাব গাছটি আছে ৮ নম্বর সড়কের রেস্টুরেন্টের পেছনে। এভাবে পুরো ধানমন্ডিতেই বিচিত্র গাছপালার সমারোহ দেখা যায়। ধানমন্ডি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হলেও ক্রমেই সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনার পরিমাণ বাড়ছে। বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। ফলে সেখানকার আবাসিক এলাকার পরিবেশ ক্রমশ বিঘ্নিত হচ্ছে। আর এসবের প্রভাবে প্রকৃতিও বিপন্ন হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
পৃথিবীর সব উন্নত শহরের গাছপালাই পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়। কোন সড়কে কোন স্থাপনার পাশে কী ধরনের গাছ মানানসই এবং টেকসই—এসব নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা হয়। বিভিন্ন সড়কে কতটি গাছ লাগানো হলো, তারও একটি বিশদ বিবরণ সংরক্ষণ করা হয়। আমাদের দেশেও এমন পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। তাহলে কোন গাছটি কাটা পড়ল, কোনটি ঝড়ে উপড়ে পড়ল, কোনটি চুরি গেল, কোনটি মরে গেল তার একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্য আমাদের হাতে থাকবে।
মোকারম হোসেন : প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক
tarupallab@gmail.com

সড়ক দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা গত বুধবার জাতীয় জাদুঘরে যে ব্যতিক্রমী সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, তা সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে। ‘সড়ক দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত পরিবারবর্গ’ শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে স্বজন হারানো ২১টি পরিবারের সদস্যরা যোগ দিয়েছিলেন। তাঁরা কেউ সন্তান হারিয়েছেন, কেউ বাবা-মা হারিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালক দায়ী, সন্দেহ নেই। যানবাহন চালনার ক্ষেত্রে তাঁরা বেপরোয়া, সে কথাও সত্য। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার অন্যান্য কারণও উপেক্ষণীয় নয়। স্বীকার করতে হবে, আমাদের মহাসড়ক ও সেতুগুলো সংকীর্ণ, ভঙ্গুর ও আঁকাবাঁকা। সেখানে চলাচলকারী অধিকাংশ যানবাহন পুরোনো, জীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ। তদুপরি নেই সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। চালক কিংবা যাত্রী—কেউই আইন মেনে চলতে চান না। জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়েও এঁরা চলতে দ্বিধা করেন না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের যে দাবি উঠেছে, তা সমর্থনযোগ্য। তবে আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, তার প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের তিন বছরের কারাদণ্ডের যে বিধান আছে, তা খুবই কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতিও কম দায়ী নয়। আগে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির শাস্তির মেয়াদ বেশি ছিল। কিন্তু এরশাদ সরকারের আমলে চালকেরা আন্দোলন করে শাস্তির মেয়াদ কমাতে বাধ্য করেন।
সড়ক দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর উদ্যোগের প্রতি সর্বমহলের সমর্থন ও সহমর্মিতা আছে। যে স্বজনদের তারা হারিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনা যাবে না সত্য, কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও সজাগ হতে হবে। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি—কথাটি শুধু মুখে বললেই হবে না, নিজেদের জীবনাচরণেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তদন্ত-প্রক্রিয়া হোক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন- যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল

স্বাধীনতার ৩৯তম বার্ষিকীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল, তদন্তকারী সংস্থা ও আইনজীবী প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্তকে আমরা নীতিগতভাবে স্বাগত জানাই। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে—এখন আমরা সেই প্রত্যাশাই করব। তবে এই প্রক্রিয়ার প্রথম চ্যালেঞ্জ তদন্ত সংস্থার সাফল্য। তাদের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। সে কারণে আমরা আশা করব, তদন্তকারী সংস্থা যথাশিগগির কোনো একটি উপযুক্ত সময়ে তদন্ত-প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে একটা সময়সীমার ধারণা দেবে। আইনমন্ত্রীর বর্ণনায় তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহসহ আনুষঙ্গিক কাজে ‘কিছু সময়’ লাগার ধারণা বড় বেশি অনির্দিষ্ট। তদন্তের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেই কেবল আমরা আশ্বস্ত হতে পারি। আমরা তখনই শুধু নিশ্চিত ধারণা পেতে পারি যে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীরা সত্যি চার দশক আগে সংঘটিত অপরাধের দায়ে সাজা পেতে পারেন। সাবেক জেলা জজ আবদুল মতিনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার বিষয়টি গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ করবে। পুরো বিচার-প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য তালিকা যদি আগেভাগেই প্রকাশ করা হতো, তাহলে এতে জনগণের বা সচেতন মহলের একটা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। কিন্তু তা হয়নি। তদন্তকারী সংস্থাই হবে অভিযোগকারী। দলীয় রাজনৈতিক বা কোনো সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠার প্রাথমিক দায়দায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই বর্তাবে।
আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট সবাই যথাযথ সতর্কতা ও যত্ন নিলে সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম তেমন কোনো বাধার মুখে পড়বে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো একটি বড় চ্যালেঞ্জপূর্ণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের অভিজ্ঞতা সরকারের রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু হত্যার অভিযুক্তদের চেয়ে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধীরা ঢের বেশি শক্তিশালী ও সংগঠিত। বঙ্গবন্ধু হত্যার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল না। সংসদে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। কিন্তু সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের তা রয়েছে। উপরন্তু, আন্তর্জাতিক মহলের একটা বিশেষ নজরদারি এই বিচার-প্রক্রিয়ার ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকবে। জামায়াতে ইসলামী বিদেশিদের দ্বারে ইতিমধ্যে হাজির হয়ে গেছে। তারা বিচার-প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি বা ভ্রান্তিকে দ্রুততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে সচেষ্ট থাকবে।
তবে আমরা আশা করি, প্রধান বিরোধী দল বিএনপির উচিত হবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানানো। এমনকি জামায়াতের নতুন প্রজন্মও ভাবতে পারে যে তারা কেন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বোঝা কাঁধে নেওয়ার ঝুঁকি নেবে? তারা বিবেচনায় নিতে পারে যে রাজনৈতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য বিচার নয়, যারা ওই সময় খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধ করেছে, তাদের বিচার হবে। এবার কিন্তু হানাদার বাহিনীকে মদদ বা রাজাকার হওয়ার প্রশ্ন নেই, যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপরাধ করেছে, তাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। অপরাধীদের বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টিতে তদন্তকারী সংস্থাকে দ্রুত গণসংযোগ গড়ে তুলতে হবে। তাদের পুরো কার্যক্রম গুণে-মানে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হতে হবে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক বলেন, কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে সাজা না পায় তা নিশ্চিত করতে তিনি সংকল্পবদ্ধ। আমাদের প্রত্যাশা, এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না এবং তদন্ত-প্রক্রিয়া হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।

ওবামার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নীতির বিজয় পররাষ্ট্রনীতিকে শক্তিশালী করবে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক বিজয় তাঁর পররাষ্ট্রনীতিকেও শক্তিশালী করবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিলে সই করার পর ডজনখানেক বিদেশি সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান ওবামাকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ থেকেই বোঝা যায় যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়টি নিয়ে বিদেশি নেতারা কতটা মনোযোগী ছিলেন।
তবে ওবামার উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাঁর এত বড় বিজয় অর্জনের পর আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না বরং কিছুটা সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, আগামী বছরগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক মার্কিন নাগরিক স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আসবে—শুধু এই কারণে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবে না অথবা উত্তর কোরিয়াও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাবে না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওবামার প্রথম বছরটি কেটেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে। তবে এই এক বছরে দেশে ও দেশের বাইরে বেশ কিছু নীতিগত জয় ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার করবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন হ্যাডলি বলেন, এই বিজয় ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে সাহায্য করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই বিজয় ওবামার রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণ করেছে এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি মাথায় রাখবেন বিদেশি নেতারা।
ওবামার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার নিয়ে ওবামার দীর্ঘ লড়াই তাঁর বক্তৃতাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও অন্যান্য পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিকে এখন অনেক বেশি অর্থপূর্ণ করে তুলবে। স্বাস্থ্যসেবা বিল নিয়ে বিজয় নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ওবামার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে সবাইকে।’
রোডস আরও বলেন, ‘ওবামা সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে, তিনি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন করেন না। এই সমালোচনার সবচেয়ে বড় জবাব স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কারনীতিতে বিজয়।’
তবে পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে এই বিজয়ের প্রভাব এত অল্প সময়ের মধ্যে নজরে আসবে না। মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রগতি থমকে থাকলেও পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। গত সপ্তাহে অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওবামার দুবারের বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল বেরিয়ে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করা নিয়ে দুই দেশ একটি যৌথ ঘোষণা দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। কয়েকজন বিশ্লেষক বলেছেন, ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য ও ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া।

মিয়ানমারে অবাধ নির্বাচন চায় মিত্র দেশগুলো

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, মিত্র দেশগুলো চায়, বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি ও রাজনৈতিক বন্দীসহ সবাইকে মুক্তভাবে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে মিয়ানমার সরকার। দেশটির নতুন নির্বাচনী আইন নিয়ে মিত্র দেশগুলোর জোট ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব মিয়ানমার’-এর বৈঠকের পর জাতিসংঘ মহাসচিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী নেত্রী অং সান সু চিকে নির্বাচনী লড়াই থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে নতুন নির্বাচনী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব মিয়ানমার’-এ রয়েছে মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ, দেশটি সম্পর্কে আগ্রহী এশীয় ও ইউরোপীয় দেশ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশসহ প্রায় ১৫টি দেশ।
বান কি মুন বলেন, গ্রুপ বিশ্বাস করে, মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরি।
মুন গত বৃহস্পতিবার বলেন, সরকারকে অবশ্যই এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যা সব পক্ষকে অবাধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এর মধ্যে রয়েছে অং সান সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি ও সব মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত জুলাইয়ে মিয়ানমারের সামরিক শাসক সিনিয়র জেনারেল থান শয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে থান শয়ে সু চি ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তিসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে তিনি খুবই ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছেন, যা নৈরাশ্যজনক ও হতাশাব্যঞ্জক।

ফিদা হুসেনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ

বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের একটি আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন।
সাবেক সাংসদ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের প্যান্থার পার্টির প্রধান ভীম সিং সুপ্রিম কোর্টে ওই আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এই বলে নির্দেশ দিন, যাতে কেন্দ্রীয় সরকার মকবুল ফিদা হুসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে তিনি এই আবেদনও করেন, মহামান্য কোর্ট যেন ফিদা হুসেনের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কে জি বালাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে গড়া ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল শুক্রবার ওই মামলার শুনানি শেষে জানিয়ে দেন, হুসেন ইচ্ছে করলেই দেশে ফিরে আসতে পারেন। একই সঙ্গে বেঞ্চ আরও জানান, আদালত ফৌজদারি মামলা তোলার নির্দেশ দিতে পারেন না। বিভিন্ন ব্যক্তি আলাদাভাবে এসব মামলা করেছেন। তাই এই আবেদন মঞ্জুর করা যায় না।
মকবুল ফিদা হুসেন (৯৫) হিন্দু দেবদেবীর নগ্ন ছবি এঁকে তিনি মৌলবাদী হিন্দুদের রোষানলে পড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে ৯৫টি মামলা হয়। অবশেষে তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে দুবাই যান।

কার্লা ব্রুনি চান না সারকোজি আবার প্রেসিডেন্ট হন

ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি কার্লা ব্রুনি চান না তাঁর স্বামী প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। কেননা নির্বাচনের চাপে সারকোজির শরীর আরও অসুস্থ হতে পারে। সম্প্রতি মাদাম ফিগারো সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কার্লা ব্রুনি (৪২) এ কথা বলেন।
কার্লা ব্রুনি জানান, গণমাধ্যমকে তিনি ঘৃণা করেন। এই মাসে গণমাধ্যম সারকোজি ও তাঁর পরকীয়া প্রেম নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের গণমাধ্যম ও রাজনীতি তাঁর স্বামীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে।
টাইমস অনলাইন কার্লা ব্রুনির বরাত দিয়ে জানায়, তাঁর স্বামীর জন্য ভারসাম্য, সুখ, সুস্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবনের এ মুহূর্তে খুব উদ্বিগ্নের সঙ্গে কাটাচ্ছেন তিনি (ব্রুনি)।
কার্লা ব্রুনিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৫৫ বছর বয়সী সারকোজি ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিক, তা তিনি চান কি না। জবাবে কার্লা ব্রুনি বলেন, ‘স্ত্রী হিসেবে সত্যিকার অর্থে আমি তা চাই না, পাছে তাঁর শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, এটা নিয়ে আমি শঙ্কিত। আমি কি তাঁর সঙ্গে শান্তিতে সময় কাটাতে চাইতে পারি না?’
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের আঞ্চলিক নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলোর কাছে সারকোজির ইউনিয়ন ফর এ পপুলার মুভমেন্ট (ইউএমপি) রক্ষণশীল দল বিপুল ভোটে পরাজিত হয়। এতে একদিকে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সারকোজির দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে। এ ছাড়া বর্তমানে ফ্রান্সে বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার খরচের বৃদ্ধি, মজুরি হ্রাস ও অবসরভাতা সংস্কারের পরিকল্পনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে লোকজন। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার পরিচালনায় বেশ ঝামেলার মধ্যে আছেন তিনি।

পাকিস্তানে সংঘর্ষে ৫ সেনা ও ৩২ জঙ্গি নিহত

আফগান সীমান্তের কাছে সংঘর্ষে পাঁচ পাকিস্তানি সেনা ও ৩২ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে।
উপজাতীয় ওরাকজাই শহরে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার এক দিন পর এ ঘটনা ঘটল।
দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনাদের একটি হামলার ঘটনার সূত্র ধরে পাকিস্তানি তালেবান কমান্ডার হাকিমুল্লাহ মেহসুদ ওরাকজাইয়ের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

৯৬ বছরে বিয়ে

তাইওয়ানে চুং নামের ৯৬ বছরের এক ব্যক্তি তাঁর চেয়ে অনেক কম বয়সী এক নারীকে বিয়ে করে হইচই ফেলে দিয়েছেন। কনের বয়স ৩০ বছর। তাঁর বাড়ি চীনের হুনান প্রদেশে। চুংয়ের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ৬৮ বছর। বাবার এই বিয়ে নিয়ে ছেলেরা আপত্তি করলেও এতে কর্ণপাত করেননি চুং।

পরমাণু অস্ত্র হ্রাস চুক্তি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদ গতকাল শুক্রবার দূরপাল্লার পরমাণু অস্ত্র হ্রাস-সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন। টানা কয়েক মাস আলোচনার পর তাঁরা এই ঐতিহাসিক চুক্তির ব্যাপারে একমত হলেন। ৮ এপ্রিল তাঁরা চুক্তিটিতে সই করবেন।
১৯৯১ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু অস্ত্র হ্রাস-সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিয়েটির (স্টার্ট) স্থলাভিষিক্ত হবে নতুন এই চুক্তি। নতুন এই চুক্তির ফলে আমেরিকা ও রাশিয়া এক হাজার ৫৫০টি পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করবে। অবশ্য ২০০২ সালে দেশ দুটি যে-সংখ্যক পরমাণু অস্ত্র কমিয়েছিল, এ সংখ্যা তার চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দুই হাজার ২০০টি এবং রাশিয়ার কাছে তিন হাজার পরমাণু অস্ত্র মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন নতুন এই চুক্তিকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। খবর এএফপি, বিবিসির।
গতকাল ওবামা ও মেদভেদ টেলিফোন আলাপে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রভান্ডার কমিয়ে আনার ব্যাপারে একমত হন। এরপর ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। এ অস্ত্রের বিস্তার রোধে আমরা যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এই চুক্তি তারই বহিঃপ্রকাশ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব অন্যান্য দেশও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।’
রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইন্টার ফ্যাক্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে। চুক্তিটি মার্কিন সিনেট ও রাশিয়ার ডুমায় অনুমোদিত হতে হবে।
চীনা মুদ্রার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ: প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন থেকে আগামী মাসে প্রতিবেদন পাওয়ার পর মার্কিন কংগ্রেসে চীনের মুদ্রানীতির ব্যাপারে তাদের বিকল্প পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা করবে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, চীনের মুদ্রা ইউয়ানের মূল্য কমিয়ে রাখার অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগে আইনপ্রণেতারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এই প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

ইন্টারনেটে দ্য টাইমস পড়তে পয়সা লাগবে

আগামী জুন মাস থেকে ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য টাইমস ও সানডে টাইমস-এর ওয়েবসাইটে ঢুকতে পাঠকদের পয়সা খরচ করতে হবে। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে বিনা মূল্যে ওই দুটি পত্রিকা তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়ে ফেলা যাচ্ছে। কিন্তু জুন মাস থেকে এক দিনের জন্য এক পাউন্ড (দেড় ডলার) এবং এক সপ্তাহের জন্য দুই পাউন্ড খরচ করতে হবে। পত্রিকা দুটির স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এনআই) গতকাল শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে।
এনআইয়ের প্রধান নির্বাহী রেবেকা ব্রুকস বলেছেন, সংবাদের নতুন ধরনের অর্থমূল্য দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

পশ্চিমবঙ্গে সেনাবাহিনীর অস্ত্রভান্ডারে অগ্নিকাণ্ড

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার পানাগড় এলাকায় সে দেশের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় গোলাবারুদের ভান্ডারে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, আগুনে ভান্ডারের ১৫০ টন বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছে।
কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের উইং কমান্ডার মহেশ উপাসনি বলেন, রাত দেড়টার দিকে পানাগড়ের ১৬ নম্বর ছাউনিতে (গোলাবারুদের ভান্ডার) আগুন লাগে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ছাউনিটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়। বিস্ফোরিত হয় বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। পুড়ে যায় প্রচুর ছোট অস্ত্র। তিনি দাবি করেন, অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হয়নি।
ওই এলাকায় বাস করা বাসিন্দারা জানিয়েছে, রাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পর পর অনেকগুলো বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দ শুনেছেন তাঁরা। সেনাঘাঁটির কাছে বুদবুদ গ্রামের কাশিনাথ চট্টোপাধ্যায় এএফপিকে বলেন, এটা ছিল অবিশ্বাস্য শব্দ। গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসে এবং প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের উৎস তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে।

ফিলিপাইনে নির্বাচনী প্রচার শুরু

ফিলিপাইনে আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন। আঁততায়ীর হামলার হুমকি, সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক প্রতারণার অভিযোগ ইত্যাদির মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে এই নির্বাচনী প্রচার। আগামী ১০ মে দেশটিতে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে।
দেশের জনগণ বর্তমান প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া অ্যারোইয়োর নয় বছরের শাসনের ইতি টানার পক্ষে রায় দিতে পারেন বলে আশা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে অ্যারোইয়োর প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক ফার্স্ট লেডি ইমেলদা মার্কোস, ফিলিপাইনের প্রয়াত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী কোরাজন অ্যাকুইনোর ছেলে বেনিগনো অ্যাকুইনো ছাড়াও রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট অ্যারোইয়ো ও বক্সিং তারকা ম্যানি প্যাকুইয়াও। ফিলিপাইনের কংগ্রেস ও স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ৪৫ দিন প্রচার চালানোর সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। প্রায় ১৮ হাজার আসনে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
গতকাল ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে ইলোকোস নর্তে এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন ইমেলদা মার্কোস। তিনি আইন সভার নিম্নকক্ষের আসনের জন্য ওই এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইমেলদার প্রয়াত স্বামী সাবেক একনায়ক ফার্দিনান্দ মার্কোস ১৯৮৬ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। ক্ষমতায় থাকার সময় এই দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ইমেলদার ছেলে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আইনসভার উচ্চকক্ষে একটি আসনের জন্য এবং তাঁর বড় মেয়ে প্রাদেশিক গভর্নর পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইমেলদা মার্কোস বলেছেন, তিনি নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান।
অন্য প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। তবে নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ায় সহিংসতার আশঙ্কা বেড়ে গেছে বলে সতর্ক করেছেন ফিলিপাইনের পুলিশের মুখপাত্র চিফ সুপারিনটেন্ডেন্ট লিওনার্দো এসপিনা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের সময় সহিংসতা বেড়ে যায়। অতীতে অনেকবারই এমনটি হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন সে দেশের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র। ফিলিপাইনের মেরিন বাহিনীর প্রধান বলেন, ‘সামরিক জান্তার ক্ষমতা দখলের খবর শুধুই গুজব। বরং সামরিক বাহিনী জনগণ ও ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আমাদের কেউই আইন ভাঙবে না।’ ফিলিপিনোরা এই প্রথম স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভোট দেবেন। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্বাচনে বিপর্যয় দেখা দেবে।
তবে প্রেসিডেন্ট অ্যারোইয়োর কার্যালয় এ ধরনের আশঙ্কা ও গুজবে জনগণকে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র রিকার্দো সালুদো বলেন, ‘আগামী ৩০ জুন দেশ একজন নতুন নেতা পাবে। আমাদের সংবিধান রয়েছে এবং সেটাই প্রেসিডেন্ট অ্যারোইয়োর হাত থেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতার হস্তান্তর নিশ্চিত করবে।

জেরুজালেমে বসতি নির্মাণ বন্ধ করা হবে না: ইসরায়েল

অধিকৃত জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েল তার নীতি থেকে সরে আসেনি এবং সেখানে বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্তও বাতিল করা হয়নি। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে এ-সংক্রান্ত আলোচনা শেষে দেশে ফিরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেরুজালেম ইস্যুতে ৪২ বছর ধরে ইসরায়েলের বিগত সব সরকার যে নীতি অবলম্বন করে আসছে, তা থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একচুলও সরে আসেননি। সুতরাং সেখানে বসতি নির্মাণ বন্ধের কোনো কারণই দেখছে না ইসরায়েল। নেতানিয়াহুর এই কট্টর অবস্থান থমকে থাকা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাকে অনেকখানি পিছিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর এএফপি ও জি নিউজ অনলাইনের।
যুক্তরাষ্ট্র এ মাসের শুরুতে ইসরায়েলকে পূর্ব জেরুজালেমে নতুন কোনো বসতি না গড়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জেরুজালেম সফর করার সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সেখানে আরও এক হাজার ৬০০ নতুন ইহুদি বাসস্থান গড়ার ঘোষণা দেন। এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। নিজেদের মধ্যে ‘ভুল বোঝাবুঝি’র অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে যান। জেরুজালেম ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে এই দুই নেতা বৈঠক করার পর গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু দেশে ফেরেন।
গতকাল নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল বসতি স্থাপনের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রেখেছে। কিন্তু এই নীতি জেরুজালেমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। জেরুজালেমকে ইসরায়েল তার ‘শাশ্বত ও অবিভাজ্য’ রাজধানী মনে করে এবং সে কারণেই সেখানে বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবার সঙ্গে কী কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর মুখপাত্র নির হেফেজ ইসরায়েলের সামরিক রেডিওকে বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমে বসতি গড়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে এখনো ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের কিছু মতানৈক্য রয়ে গেছে।
ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার সচিব য’ভি হাউসার বলেছেন, শুক্রবার (গতকাল) সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার সাত সদস্যকে নিয়ে নেতানিয়াহুর বৈঠক করার কথা। ওই বৈঠক থেকে শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে একটা দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

ঋণে জর্জরিত গ্রিসকে যুদ্ধজাহাজ কেনার চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স-জার্মানি

ঋণে জর্জরিত ইউরোপের দেশ গ্রিসকে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স ও জার্মানি। এ জন্য প্রয়োজনে গ্রিসকে সরকারি ব্যয় কমানোর কথাও বলেছে তারা।
গ্রিসের সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক মন্দার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বার্লিন ও প্যারিস অস্ত্র কিনতে এথেন্সকে চাপ দিচ্ছে। ঋণে জর্জরিত হয়ে গ্রিস যখন নিজের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমাতে চাইছে, তখন তাদের ওপর এই চাপ আসছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রুর একজন উপদেষ্টা বলেন, ‘জার্মানি ও ফ্রান্স আমাদের সরাসরি অস্ত্র কেনার কথা বলছে না। কিন্তু বিষয়টা এমন যে অস্ত্র কিনলে তারা আমাদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে।’ কূটনৈতিক কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি প্রধানমন্ত্রীর ওই উপদেষ্টা।
ফ্রান্স ছয়টি রণতরী, ১৫টি হেলিকপ্টার ও ৪০টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে গ্রিসকে। দুই দেশের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টির সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত। দেশের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সহায়তার জন্য গত মাসে ফ্রান্স সফর করেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রু। তখন দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
এদিকে জার্মানিও একটি ডুবোজাহাজ কেনার জন্য এথেন্সকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গ্রিস ২০০৬ সালে ওই ডুবোজাহাজ কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার সাবেক প্রধান নিক উইটনি বলেন, ঋণগ্রস্ত দেশ গ্রিসকে সহায়তা দিতে এটা এক ধরনের হাস্যকর পন্থা। তবে তিনি জার্মান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলেন, এর আগে জার্মানির কাছ থেকে ট্যাংক কেনার পর অর্থ পরিশোধে ঝামেলা করেছিল গ্রিস। এ কারণে বার্লিন এমন করছে।
তবে গ্রিসের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস বেগলিটিস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ট্যাংক কেনা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করতেই কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর কোনো ঝামেলা হয়নি। তিনি অবশ্য গ্রিসের মন্দার সুযোগ নিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের অস্ত্র কিনতে এথেন্সকে চাপ দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসে সমর্থকদের উসকে দেন আদভানি

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করতে সমর্থকদের উসকে দিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এক বক্তৃতায় তিনি মসজিদের জায়গাতেই মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর মসজিদে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়।’
গতকাল শুক্রবার ভারতের পুলিশ বাহিনীর (আইপিএস) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনজু গুপ্ত আদালতে এ কথা বলেন। বর্তমানে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ে (আরএডব্লিউ) কর্মরত আনজু ওই সময় বিজেপির নেতা আদভানির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন।
আনজু গুপ্ত আদালতে বলেন, ‘বিজেপির নেতা আদভানিকে ফৈজাবাদ সীমান্তে আমি অভ্যর্থনা জানাই। তাঁকে বাবরি মসজিদ থেকে মাত্র দেড় শ মিটার দূরে রামকথা কুঞ্জে নেওয়া হয়। ওই সময় কালরাজ মিশ্র, মুরলি মনোহর যোশি, উমা ভারতী, বিনয় কাতিয়ার, গিরিরাজ কিশোর, অশোক সিংহল ও প্রমোদ মহাজনসহ দলটির অনেক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’
আদভানি তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই মন্দির নির্মাণ করা হবে। এ সময় বিজেপির নেতা বিনয় কাটিয়ত উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত সবাইকে খেপিয়ে তোলেন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘সমথর্করা’ মসজিদ ধ্বংস করতে এগিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গতকাল আদালত আনজু গুপ্তের বিবৃতি রেকর্ড করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

স্বাধীনতা কাপ হ্যান্ডবল

স্বাধীনতা কাপ হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ রাইফেলস ও রানার্সআপ বাংলাদেশ পুলিশ। কাল পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ রাইফেলস ৩০-২১ গোলে হারিয়েছে বিএইচএফ সভাপতি যুবদলকে এবং বাংলাদেশ পুলিশ ৫৯-১৪ গোলে বাংলাদেশ আনসারকে হারিয়েছে। সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মাহবুব। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

জিম্বাবুয়ে দলে ফিরলেন ব্লিগনট

অ্যান্ডি ব্লিগনটকে মনে আছে? ২০০৪ সালে আরও ১৫ জন শ্বেতাঙ্গ সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে ‘বিদ্রোহ’ করার পরিণতি হিসেবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক বহিষ্কৃত হতে হয়েছিল। সেই ব্লিগনট প্রায় পাঁচ বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে। আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় স্বল্প দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট মহাযজ্ঞের ১৫ সদস্যের জিম্বাবুয়ে দলে আছেন ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। ২০০৬ সালে জাতীয় অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে একবার দলে ফিরলেও বোর্ডের সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে মতদ্বৈধতার কারণে আর খেলেননি ৩১ বছর বয়সী এই জিম্বাবুইয়ান। এবার নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই নজর কেড়েছেন নির্বাচকদের। এ বছরের জানুয়ারিতেই দলে ফেরার উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিল তাঁর। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চার ইনিংসে ৩৭ গড়ে করেছেন ১১১ রান। একটি ম্যাচজয়ী হাফ সেঞ্চুরিও আছে তাঁর। ওয়েবসাইট।
জিম্বাবুয়ে দল: প্রসপার উতসেয়া (অধিনায়ক), ব্রেন্ডন টেলর, চার্লস কভেন্ট্রি, অ্যান্ডি ব্লিগনট, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, টাটেন্ডা টাইবু, গ্রেগ ল্যাম্ব, এলটন চিগুম্বুরা, ভুসি সিবান্দা, রে প্রাইস, গ্রায়েম ক্রেমার, চামু চিবাবা, ক্রিস পোফু, টিমাইসেন মারুমা, ক্রেইগ আরভিন।

আবারও টেন্ডুলকার-মণ্ডিত জয় মুম্বাইয়ের

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে জেতাতে আগের ম্যাচে শচীন টেন্ডুলকার ৪৮ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৭১ রান। আর পরশু মুম্বাইয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৫১ বলে ৭২ করে দলকে জেতালেন ৫ উইকেটে। প্রথমে ব্যাট করে চেন্নাই সুরেশ রায়না (৮৩*) ও সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথের (৫৫*) অপরাজিত জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ১৮০ রান তোলে। কিন্তু এই স্কোরকে টপকে যেতে মুম্বাইয়ের পক্ষে (১৮১/৫) টেন্ডুলকার ছাড়াও বড় ভূমিকা রাখেন ধাওয়ান (৫৬)।
এদিকে কাল মোতেরায় রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়ে ১৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান করেছে।

পিটারসেনকে তিনেই চান ভন

গত বুধবার শেষ হওয়া মিরপুর টেস্টে নতুন একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে কেভিন পিটারসেনের। ৬০ টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন ৩ নম্বরে। নতুন পজিশনে পিটারসেনকে দেখার পর তাঁকে নিয়মিতই তিনে খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন। অবশ্য শুধু ঢাকা টেস্টের পারফরম্যান্সই নয়, নিজের মতের পক্ষে ভনের আরেকটা যুক্তি পিটারসেনের খেলার ধরন।
দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে ওয়ান ডাউনে নামানোর একটা প্রবণতা ঐতিহ্যগতভাবেই দেখা যায়, যাতে খেলার নিয়ন্ত্রণটা সে ভালোভাবে নিতে পারে। পিটারসেন এর আগে খেলা ৫৯ টেস্টের ৪৬টিতেই ব্যাট করেছেন চারে, ২১টিতে পাঁচে আর ২টিতে ছয়ে। গত দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে তিনে ব্যাটিং করছেন জোনাথন ট্রট। ঢাকা টেস্টে ইংল্যান্ড পাঁচ বোলার খেলানোয় ওপেন করতে হয়েছে ট্রটকে, আর তিনে নেমে পিটারসেন দুই ইনিংসে করেছেন ৪৫ ও অপরাজিত ৭৪।
‘সে জাত ব্যাটসম্যান। তিন নম্বরে সে যেভাবে খেলেছে, আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। এই পজিশনে ওকে আমি নিয়মিত দেখতে চাই, কারণ তিনে নামলে পার্থক্য গড়ে দেওয়া সম্ভব। তিন নম্বর জায়গাটা গুরুত্বপূর্ণ, এখানে নামলে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কেভিনের মধ্যে সেই আভিজাত্য, সেই ডাকাবুকো ভঙ্গিটা আছে’—পিটারসেনকে তিনে খেলানোর পক্ষে ভনের যুক্তি। ভন নিজেও ২৪ টেস্টে তিন নম্বরে ব্যাটিং করে ৬ সেঞ্চুরিতে করেছেন ১৪৯৪ রান।
ঢাকা টেস্টে রান পাওয়ার আগে চট্টগ্রাম টেস্টে করেছিলেন ৯৯ ও ৩২ রান। তবে তার আগে বাংলাদেশ সফরটা পিটারসেনের জন্য ছিল বিভীষিকা। বাঁহাতি স্পিনের মায়াজালটাই ভেদ করতে পারছিলেন না। তবে যেভাবে ফিরে এসেছেন, সেটাই বেশি মনে ধরেছে ভনের, ‘বাঁহাতি স্পিনে ও বারবার আউট হচ্ছিল। যখন এসব হয় অবচেতন মনে একটা ছাপ ফেলেই। ও অফসাইডে একটু বেশি খেলছিল। তবে সে টেকনিক্যাল সমন্বয় করেছে। আর এর পর খেলেছে নিজের মতোই।’
ভন সন্তুষ্ট অ্যালিস্টার কুকের অধিনায়কত্বেও। মাইকেল আথারটনের মতো কেউ কেউ বলেছেন, ‘কুক খুব খারাপও করেননি, খুব ভালোও করেননি।’ সমালোচনাগুলো মেনে নিয়েই কুককে একটু সময় দিতে বলেছেন ভন, ‘আমি আর অধিনায়ক নেই, কিন্তু একজন অধিনায়ককে কত কিছু করতে হয়, এটা আমাকে দারুণ ভাবায়। কুক কেবল পাঁচটি ম্যাচেই নেতৃত্ব দিয়েছে, ওকে সময় দিন।’

জয়ের দেখা মিলল ইভানোভিচের

কী দারুণ শুরুটাই না হয়েছিল তাঁর! আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বছর দুয়েক পার করতে না-করতেই গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা হাতছানি দিচ্ছিল তাঁকে। ২০০৭ ফ্রেঞ্চ ওপেনে হয়েছিলেন রানারআপ, পরের বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও ফাইনালে উঠলেন। তবে ২০০৮ সাল আক্ষরিক অর্থে তাঁর জন্য ছিল পয়মন্ত। ওই বছরই রোলাঁ গাঁরোয় ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতলেন আনা ইভানোভিচ। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো উঠে গেলেন র্যাঙ্কিংয়েরও শীর্ষে। অথচ সেই আনা ইভানোভিচই এখন র্যাঙ্কিংয়ের ৫৮ নম্বরে! প্রতিটি টুর্নামেন্টেই যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন।
গত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর জিততে ভুলেই গিয়েছিলেন ইভানোভিচ। তবে পরশু মায়ামি মাস্টার্স টেনিসের তৃতীয় রাউন্ডে ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারালেন ফ্রান্সের পলিন পারমেনটিয়েরকে। এই জয়টাও এল পেশাদার টুর্নামেন্টে টানা চারটি ম্যাচ হারার পর। মায়ামি মাস্টার্স টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়েছিলেন। প্রতিটি ম্যাচে নিজের খেলায় পরিবর্তন আনতে, উন্নতির ছোঁয়া আনতে কত কী-ই না করে চলেছেন সার্বিয়ান তারকা। বারবার কোচ বদলাচ্ছিলেন। তবুও কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। তবে এবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে তাঁর, ‘আমার মনে হয়, আমি সত্যি ভালোই খেলেছি। জিততে পেরে ভালো লাগছে। গত মাস থেকেই আমার খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। অবশ্যই এটা হয়েছে নতুন কোচ হেইঞ্জের (গানথার্ট) জন্য। প্রতিদিনই একটু একটু করে উন্নতি দেখছি। ব্যাপারটা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।’

চেলসির ‘নয় ফাইনালের’ প্রথমটি আজ

ফাইনাল মানে চূড়ান্ত বা শেষ। চেলসির ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ অভিযান শেষ হবে ৭ ম্যাচ পর। এফএ কাপের ফাইনালে উঠলে এর সঙ্গে যোগ হবে আরও দুটি। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে আরও নয়টি ম্যাচ খেলবে কার্লো আনচেলত্তির দল। চূড়ান্ত বা শেষ ম্যাচ অনেক দূরে এখনো। তবে চেলসি কোচ আনচেলত্তির কাছে প্রতিটি ম্যাচই একেকটা ‘ফাইনাল’।
চেলসির জন্য সত্যি প্রতিটি ম্যাচই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ১০ এপ্রিল এফএ কাপের সেমিফাইনালে অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে গেলেই ফাইনালের আশার সমাধি হবে। আর প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একটু এগিয়ে আছে। এখানেও একটু পা হড়কালেই ব্যবধানটা যাবে বেড়ে। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা-স্বপ্নটাও হয়ে যেতে পারে বিবর্ণ। চেলসি কোচ মনে হয় এ কারণেই হাতে থাকা নয়টি ম্যাচকেই ফাইনাল বা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
চেলসির এই ‘নয় ফাইনালের’ প্রথমটি আজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে ম্যাচ ‘ব্লু’দের। স্টামফোর্ড ব্রিজে এই ম্যাচের আগেই খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘এই নয়টি ম্যাচে আমাদের প্রস্তুত হবে একেকটা ফাইনাল মনে করে।’ প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ ম্যাচে পোর্টসমাউথকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে চেলসি। আনচেলত্তি খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত হতে বলছেন পোর্টসমাউথের বিপক্ষে পাওয়া জয়ে আত্মবিশ্বাস থেকেও, ‘আমাদের আসলে এই ম্যাচটিতে যেমন স্পিরিট ছিল, সেটা দেখাতে হবে ভিলার বিপক্ষে ম্যাচেও।’
প্রতিটি ম্যাচই ‘ফাইনাল’। টানা নয়টি ফাইনাল খেলা তো কষ্টকরই। অনন্ত চাপও বটে। নয় ম্যাচ ধরে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে চেলসি খেলোয়াড়েরা। আশা আর স্বপ্নের বন্দরে নোঙর গাড়তে পারবে তারা? আনচেলত্তির বিশ্বাস পারবে। তাঁর সেই বিশ্বাসের মূলে চেলসির আইভরিয়ান স্ট্রাইকার দিদিয়ের দ্রগবা। ‘দ্রগবার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ এক মৌসুম। সে দারুণ এক স্ট্রাইকার। তবে আমি তাকিয়ে আছি, শেষ নয়টি ম্যাচে ও কী রকম কী করে তার জন্য। আমার মনে হয় না ও গোল করা থামিয়ে দিয়েছে’—বলেছেন আনচেলত্তি। দ্রগবার কণ্ঠেও কোচের প্রত্যাশা পূরণের প্রত্যয়, ‘অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, আমরা ভালো করতে পারব। সত্যি বলতে কি ১ পয়েন্টের ব্যবধানটাই ঠিক রাখতে হবে আমাদের। এর পর ওল্ড ট্রাফোর্ড গিয়ে যেতে হবে ওদের (ম্যানইউ) ছাড়িয়ে।’
সিরি ‘আ’তেও আজ আছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। যে ম্যাচে ঘুরে যেতে পারে শিরোপা লড়াইয়ের হিসাব। এএস রোমার সঙ্গে খেলতে রোমে যাচ্ছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলান। ইন্টার এ ম্যাচে হেরে গেলে শিরোপা লড়াইটা যাবে আরও জমে। ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে ইন্টার আছে শীর্ষে, রোমার পয়েন্ট ৫৯। ইন্টারের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানেরও ৫৯ পয়েন্ট। আগামীকাল মিলান নিজেদের মাঠে খেলবে লািসওর বিপক্ষে।

দ্বিতীয় দিনেও পেছনে পশ্চিমবঙ্গ

ইন্দো-বাংলাদেশ বাংলা গেমসের দ্বিতীয় দিনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে দুই বাংলার অ্যাথলেটদের। কাল ১১টি করে সোনা জিতেছে বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলা। কালও অবশ্য সাঁতার ও শ্যুটিংয়েই ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। সাঁতারের ৭টি ইভেন্টের ৫টিতে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশের সাঁতারুরা। শ্যুটিং ও অ্যাথলেটিকস থেকে এসেছে ৩টি করে সোনা।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সোনা ২৬টি, পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে ৪টি বেশি। আজ তৃতীয় ও শেষ দিনেই আসলে বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে, ‘সব ভালো তার, শেষ ভালো যার।’
দক্ষিণ এশীয় গেমসে আট দেশের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে একটিও সোনা জিততে না পারা সাঁতারুদের জন্য নিজেদের প্রমাণের একটা উপলক্ষও ছিল এই গেমস। যদিও এসএ গেমসের সঙ্গে এই গেমসের তুলনা চলে না। তার পরও মোট ১৪টি ইভেন্টের মধ্যে দুই দিন মিলিয়ে মোট ১০টি সোনা জিতলেন সাঁতারুরা। কলকাতার বেলেঘাটা সাঁতারপুলে ছেলেদের ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সোনা জিতেছেন কামাল হোসেন (১:০৭.১০ সেকেন্ড)। মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সোনা জিতেছেন ডলি আক্তার (৩৫.৩২ সেকেন্ড)। ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে জুয়েল আহমেদ (৫৬.০২), ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে সোনিয়া আক্তার (৩২ সেকেন্ড) এবং ৪–১০০ মিটার ছেলেদের ফ্রি-স্টাইলে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশের কামাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, জুয়েল আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম।
শ্যুটিংয়ে কালও ছিল সোনায় মোড়ানো দিন। ছেলেদের ৫০ মিটার থ্রি পজিশনে রাইফেলে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশের তৌফিক শাহরিয়ার (১১৪৭ পয়েন্ট), এই ইভেন্টে মেয়েদের সোনা সাবরিনা সুলতানার (৫৭৩) এবং ২৫ মিটার পিস্তলে মোকসেদুর রহমান (৫২৫) জিতেছেন সোনা।
অ্যাথলেটিকসে ছেলেদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে আফজাল হোসেন, হাইজাম্পে সজীব হোসেন ও ৪–১০০ মিটারে মেয়েদের রিলেতে সোনা জিতেছেন নাজমুন নাহার (বিউটি), শামসুন নাহার (চুমকি), ইশরাত জাহান (ইভা) ও সুমিতা রানীর বাংলাদেশ।
মেয়েদের ফুটবলে কালও গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ পশ্চিম বাংলার মেয়েদের সঙ্গে। জুডোতে ৭৩ কেজি ওজন শ্রেণীর রুপা জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের হাবিবুর রহমানকে। জিমন্যাস্টিকসে মেয়েদের ফ্লোর এক্সারসাইজে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলাদেশের সাথী আক্তার এবং ছেলেদের প্যারালাল বারেও ব্রোঞ্জ এসেছে বাংলাদেশে। জিতেছেন তানভীর আহমেদ।

দর্শকই ম্যাচসেরার নির্বাচক

এত দিন কাজটি ছিল ‘ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের’। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করত তারাই। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব থাকছে দর্শকদের হাতে।
ম্যাচসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হবেন দর্শক-ভোটে। ভোট নেওয়া হবে অনলাইন এবং মোবাইলের খুদে বার্তায়। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার স্পনসর করছে যে বিয়ার কোম্পানি, পরিকল্পনাটা এসেছে তাদের মাথা থেকেই। ফুটবলারদের হাতে ম্যাচসেরার ট্রফিও তুলে দেবেন দর্শকেরা। ৬৪ ম্যাচের জন্য ৬৪ জনকে খুঁজে নিতে নানা রকম প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে স্পনসর কোম্পানিটি।
এই বিয়ার কোম্পানিটিই আবার আয়োজন করছে আরেকটি প্রতিযোগিতা। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’—এর অনুকরণে অনুষ্ঠেয় শোর নাম ‘বাড হাউজ’। ১৬ জন ছেলে এবং ১৬ জন মেয়ে প্রতিযোগীকে নিয়ে শুরু হবে প্রতিযোগিতা, দুই ফাইনালিস্ট পাবেন বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিট।

পিসিএল শেষ পর্যন্ত হলেই হয়

দ্বিতীয় চট্টগ্রামখ্যাত সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় বন্দর নগরের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অংশ নিতে ইমরুল কায়েস ও জুনায়েদ সিদ্দিক গতকাল ভিসা ছাড়াই ঢাকা থেকে শারজা উড়াল দেন। কিন্তু ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসার আশায় এসে দারুণ ঝামেলায় পড়েন বিমানবন্দরে। পরে অনেক চেষ্টায় তাঁদের শারজায় ঠাঁই হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ভিসা ছাড়া লাল পাসপোর্ট নিয়ে এসে দুই ক্রিকেটারের মতো দীর্ঘক্ষণ ধরে দুবাই বিমানবন্দরে আটকা পড়েন বাংলাদেশের ছয় সাংসদ।
এগুলো শারজায় পিসিএলের সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। তাই পিসিএল নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি। ভিসা জটিলতায় এটিএন বাংলার কলাকুশলীরা তো বটেই, শারজা আসতে পারেননি খোদ ব্যাট-বল নিয়ে লড়াই করার নায়কেরা। ভিসা ছাড়াও রয়েছে বহুমুখী সংকট।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভিসা জটিলতাসহ নানা সমন্বয়হীনতায় পিসিএলের উদ্বোধন শুক্রবার থেকে পিছিয়ে রোববার করা হয়। এখন পুনর্নির্ধারিত দিনেও এটির আলোর মুখ দেখাটা প্রশ্নসাপেক্ষ। মুখ দেখলেও তা সরাসরি সম্প্রচারিত হবে না এটা বলেই দেওয়া যায়।
ভিসা জটিলতা কাটেনি, তাই বলে টুর্নামেন্ট আরেক দফা পেছানোর কথাও ভাবতে পারছেন না আয়োজকেরা। এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শারজা স্টেডিয়ামের পরবর্তী সূচি। এ মাঠে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যানেজার আরশাদ আহমেদ খান। তিনি জানান, ‘পিসিএল অবশ্যই ৪ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে হবে। ৫ তারিখ থেকে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের জন্য মাঠ ছেড়ে দিতে হবে।’ তবে পিসিএলের শুরু করা নিয়ে অতটা আত্মবিশ্বাসী শোনায়নি তাঁর কণ্ঠ, ‘ওরা আমাকে রোববার থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করার বিষয়টি জানিয়েছেন।’
আয়োজক কমিটির অগ্রবর্তী দলের সদস্য আবুল হাশেমও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু রোববার থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হলে এর সরাসরি সম্প্রচারের সম্ভাবনা ক্ষীণতর। কারণ এটিএন বাংলার কলাকুশলীদের সবাই এখনো ভিসা পাননি। এটা নিয়ে পিসিএল কমিটির সঙ্গে এটিএনের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়েছে। আর চাইলেই আজ শনিবারের মধ্যে এটিএনের সব কলাকুশলীকে শারজায় আনাও সম্ভব নয়। কারণ শুক্র ও শনিবার আমিরাতে সাপ্তাহিক ছুটি। ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। তাই তাদের যদি ভিসা নিতে হয় রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই কারণেই আবারও টুর্নামেন্ট পেছানোর কথা ভাবছিলেন আয়োজকেরা।
অথচ তাঁদের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ অনেকে ভিসা নিয়ে এখন দুবাই, শারজা প্রমোদ ভ্রমণ করছেন। এই তালিকায় রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট লোকজন ৮৫ জন, ক্রীড়াসংগঠক দেড় শতাধিক। এ কারণেই খেপেছে এটিএন বাংলা।
এ ছাড়া এখনো দলগুলোর সব ক্রিকেটার শারজা পৌঁছাতে পারেননি। পাইরেটস অব চিটাগংয়ের ৭ জন, চিটাগং টাইগারসের ৫ জন, মোহামেডানের এক ক্রিকেটার এখনো ভিসা পাননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার একই ধরনের জটিলতায় পড়েন কয়েকজন সাংসদ। এ তালিকায় রয়েছেন শামসুল হক, চেমন আরা বেগম, নূরে আলম চৌধুরী, জাহিদ আহসান, মাহবুবুর রহমান, সাগুফতা ইয়াসমিন, মো. শাহ আলম প্রমুখ। সঙ্গে তাঁদের পরিবারও। এ রকম ঝামেলা মাথায় নিয়ে তাঁরা পিসিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তাঁদের বিশেষ ব্যবস্থায় ভিসার ব্যবস্থা করলে শারজায় পা রাখা সম্ভব হয় তাঁদের।
টুর্নামেন্টের ভবিষ্যত্ নিয়ে শারজায় ইতিমধ্যে আসা ক্রিকেটারদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে তাঁদের স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব পড়বে বলে অনেক ক্রিকেটার মন্তব্য করেছেন। তাঁরাও ঘুরেফিরে সময় কাটাচ্ছেন।
একই শঙ্কা দ্বিতীয় চট্টগ্রামখ্যাত আরব আমিরাতের প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও। দেশের ক্রিকেটারদের দেখার অপেক্ষায় থাকা দুবাইয়ের এমদাদ হোসেন বলেন, ‘এখানে চট্টগ্রামের লোক অনেক। আমরা টুর্নামেন্টটি হবে জেনে খুশি হয়েছিলাম। এখন নাকি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কী হয় কে জানে?’