Thursday, November 5, 2009

বাংলালিংক ব্যবসা জিজ্ঞাসা চালু হলো

মোবাইল ফোন কোম্পানি বাংলালিংক, সুইসকনট্যাক্ট ও ক্যাটালিস্টের সঙ্গে যৌথভাবে কল সেন্টারভিত্তিক ব্যবসাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ সেবা চালু করেছে।
গত সোমবার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও বাণিজ্যসচিব ফিরোজ আহমেদ এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন সুইস কনট্যাক্টের প্রেসিডেন্ট পিটার গ্রুচো।
আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের সিইও আহমেদ আবু দোমা, বাণিজ্যিক প্রধান আসের ইয়াকুব খান, ক্যাটালিস্টের জিএম জেমস ব্লেওয়ার্টসহ বাংলালিংক, ক্যাটালিস্ট, সিসিএল ও নির্ঝর আইটির প্রতিনিধিরা।
‘কৃষি জিজ্ঞাসা ৭৬৭৬’ (কৃষিবিষয়ক তথ্য সার্ভিস)-এর সাফল্যের পর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়নের জন্য এবারই এ সেবা কার্যক্রম চালু করা হলো।
এই সেবার আওতায় ব্যাংক হিসাব খোলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ঋণ, বিভিন্ন ব্যাংকের আমানত সুবিধা, ট্রেড লাইসেন্স, কর ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা হবে।
‘ব্যবসা জিজ্ঞাসা ৭৬৭৭’ একটি এজেন্টভিত্তিক কলসেন্টার তথ্য সরবরাহ সেবা, যা সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকবে। যেকোনো বাংলালিংক নম্বর থেকে ৭৬৭৭ এই সংক্ষিপ্ত কোডে ডায়াল করে খুব সহজে এই সার্ভিস সুবিধা পাওয়া যাবে।

এবার সিডলও

সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের চার ম্যাচ পর ২-২ সমতা। মীমাংসা হবে বাকি তিন ম্যাচে। কিন্তু তাতে ভারতের চেয়েও বড় এক প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার। যার নাম ইনজুরি। রিকি পন্টিংয়ের কপালের ভাঁজ আরেকটু বাড়িয়ে এবার দেশে ফিরে যাচ্ছেন পেসার পিটার সিডল। সিডলকে নিয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার সেরা একাদশের ৭-৮ জন।
ইনজুরির জন্য মাইকেল ক্লার্ক, ব্র্যাড হাডিন, নাথান ব্র্যাকেন ও ক্যালাম ফার্গুসনকে দেশেই রেখে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের মাঝপথে ফিরে গেছেন ব্রেট লি, টিম পেইন ও জেমস হোপস। এবার যাচ্ছেন সিডলও। পরশু মোহালিতে ৫ ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন সিডল। ব্র্যাকেন ও লির পর সিডলও মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় পেস বোলিংটাই এখন পন্টিংয়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। সিডলের বদলে স্কোয়াডে ডাক পেতে পারেন ডার্ক ন্যানেস অথবা ব্রেট গিভস। উইকেটকিপার নিয়েও ঝামেলা কম হয়নি। বর্তমানে দলের সঙ্গে থাকা গ্রাহাম ম্যানুকে বলা যায় চতুর্থ বিকল্প, প্রথম পছন্দের তিন কিপার হাডিন, পেইন ও লুক রঞ্চি মাঠের বাইরে।

বেকহাম আবার মিলানে

ডেভিড বেকহাম আর এসি মিলান কর্তৃপক্ষ—দু পক্ষের কাছেই প্রার্থিত ছিল বিষয়টি। লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি (এলএ গ্যালাক্সি) কর্তারা রাজি হওয়ায় মিলান-বেকহাম প্রার্থিত সেই ধারের চুক্তিটি হয়ে গেল। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধারে মিলানে খেলা বেকহাম আবার তাই সানসিরোতে।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন অনেক আগে থেকেই দেখে আসছেন বেকহাম। এই স্বপ্নটা পূরণ করতে হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোনো লিগে বড় দলে খেলাটা জরুরি। এ কারণেই মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) বিরতিতে মিলানে খেলার চুক্তি করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। ‘বিশ্বকাপের দলে থাকার জন্য আমাকে সেরা সুযোগটি তৈরি করতে হবে। মিলানে ধারে খেলা আমাকে এতে সাহায্য করবে’—বলেছেন তিনি। এই সুযোগটা তৈরি করে দেওয়ার জন্য এলএ গ্যালাক্সি কর্তাদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন বেকহাম।
এলএ গ্যালাক্সি ধন্যবাদ পেয়েছে মিলান কর্তাদেরও। ‘গত মৌসুমে তাকে নিয়ে আমাদের অসাধারণ অভিজ্ঞতার পর ডেভিড বেকহামকে আবার এখানে পেয়ে আমরা খুশি। লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির কর্মকর্তাদের তাদের সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ’—বলেছেন মিলানের সহসভাপতি আদ্রিয়ানো গ্যালিয়ানি।

ক্রুইফ আবার কোচ

খেলোয়াড় হিসেবে তো বটেই, কোচ হিসেবেও দারুণ সফল ছিলেন ইয়োহান ক্রুইফ। টানা চার বছর বার্সেলোনাকে লিগ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। জিতিয়েছেন ইউরোপ-সেরার ট্রফিও। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বার্সেলোনার কোচের চাকরিটা ছাড়ার পর আর কোনো দলের দায়িত্ব নেননি। বার্সার প্রতি ভালোবাসা থেকেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার অবশেষে আবারও দায়িত্ব নিলেন। তাতে জড়িয়ে থাকল বার্সেলোনাও। ক্রুইফ যে কাতালোনিয়া ‘জাতীয়’ দলের দায়িত্ব নিয়েছেন।
বার্সেলোনা কাতালানদের ক্লাব। কাতালানরা স্পেনের অংশ হলেও নিজেদের স্বাধীনই মনে করে। আপাতত অবশ্য স্বায়ত্তশাসনেই সান্ত্বনা পেতে হচ্ছে তাদের। ১৯৭৩ সালে বার্সেলোনায় খেলতে আসার পর আস্তে আস্তে এই শহরের সঙ্গে মিশে গেছেন ক্রুইফ। এখানেই স্থায়ী বসবাস, নিজেকে একজন কাতালান হিসেবেও দাবি করেন নেদারল্যান্ডের ক্রুইফ। কাতালোনিয়া দলটি ফিফা বা উয়েফা কর্তৃক স্বীকৃত না হলেও প্রতিবছর ডিসেম্বরে তারা একটি করে প্রীতি ম্যাচ খেলে।

দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল যুব ফুটবল দল

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচে ০-৫, কাল সমশক্তির ভিয়েতনামের বিপক্ষে ০-১—ব্যাংককে অনুষ্ঠানরত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে খেলার আশাটা ক্ষীণই দেখছে বাংলাদেশ।
৬ মিনিটে এইচ এম তুয়ানের গোলে এগিয়ে যায় ভিয়েতনাম। গোল শোধের অনেক সময় পেয়েছে বাংলাদেশ, হলে কী হবে বাংলাদেশের যুবারা খুলতেই পারলেন না ভিয়েতনামের গোলমুখ। তাঁদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান ভিয়েতনাম গোলরক্ষক, ৩৮ মিনিটে ফারুকের ক্রস থেকে অধিনায়ক শহিদের হেড বাঁচিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশ পেয়েছে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি অনেক চেষ্টার পরও।
৬ নভেম্বর পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক থাইল্যান্ড।

মোহামেডানের টানা তৃতীয় জয়

পায়ে ব্যথা নিয়ে ৬০ মিনিটে স্ট্রাইকার বুকোলার মাঠের বাইরে চলে আসাটা মোহামেডানের জন্য শাপে বর হলো। ভূমিকা পরিবর্তন করে এমেকা হয়ে গেলেন স্ট্রাইকার, মাঝ মাঠে তাঁর জায়গায় নামলেন মামুন। এই পরিবর্তনের পরই মোহামেডান পেল তিন গোল। যার দুটিই এসেছে এমেকার পা থেকে। কমল আর নাসিরের করে দেওয়া ২-০ স্কোরলাইনটা দাঁড়াল ৪-০।
৭০ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, মোহামেডান হয়তো বিতর্কিত এক গোলেই টানা তৃতীয় জয়টা তুলে নেবে। ১৬ মিনিটে প্রায় ৩০-৩৫ গজ দূর থেকে ফ্রি কিক নিলেন আরমান আজিজ। মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বেরিয়ে গেলেন আরিফ। তাঁর ব্যাকভলির চেষ্টা পুরোপুরি সফল না হওয়ায় বল পড়ল সামনে। আলতো টোকায় তা জালে পাঠিয়ে মোহামেডানকে এগিয়ে দিলেন কমল।
রেফারি আজাদ রহমান গোলের বাঁশি বাজাতেই মুক্তিযোদ্ধার খেলোয়াড়েরা ঘিরে ধরেন লাইন্সম্যানকে। তাঁদের দাবি, আরিফ অফসাইডে ছিলেন। রেফারি অবশ্য নিজের সিদ্ধান্তে অনড়ই থাকেন। এই গোলের আগেই দু গোলে এগিয়ে যেতে পারত মোহামেডান। গোল হয়নি মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডারদের কৃতিত্বে। একবার তো প্রদীপ গোল লাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেছেন।
আগের দু ম্যাচে ব্রাদার্স ও শেখ রাসেলের কাছে হেরে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা গোল খেয়ে চেষ্টা করে গেছে ম্যাচে ফিরতে। সেই সুযোগও এসেছে, কিন্তু মোহামেডান গোলরক্ষক শাকিলকে কাটিয়েও বল বাইরে মারার বিলাসিতা দেখিয়েছেন রাসেল আনসারি। টানা তৃতীয় পরাজয়ে বাংলাদেশ লিগে এখন অবনমন এড়ানোই কঠিন মানছে মুক্তিযোদ্ধা।
মনি, টিপু, প্রদীপদের মুক্তিযোদ্ধা অনেকটাই গতিহীন। তাঁরা অভিজ্ঞ বটে, কখনো কখনো ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে থাকা মোহামেডানের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়ে খেলে গেছে মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মোহামেডানের গতির কাছে আসল মারটা খেয়েছে। মোহামেডান খেলোয়াড়েরা ডিফেন্স চেরা থ্রু বা চূড়ান্ত পাসগুলো যত দ্রুত দিয়ে গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সেটা পারেনি।
চটপটে দুই তরুণ কমল-নাসির যেভাবে দেওয়া-নেওয়া করে দ্বিতীয় গোলটা আদায় করে নিয়েছেন, ঠিক এটাই ছিল না মুক্তিযোদ্ধার খেলায়। কমলের জোগান দেওয়া বল জালে জড়িয়ে ৭০ মিনিটে ব্যবধানটা ২-০ করেন উইং ব্যাক নাসির। ৮১ মিনিটে এমেকার প্রথম আর দলের তৃতীয় গোলটি ছিল দেখার মতো। ওয়ালি থেকে বল পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের কোনা থেকে দর্শনীয় শটে এমেকার ৩-০। শেষ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ফ্রি কিক নিয়েছিলেন মামুন। এমেকার আলতো টোকায় ৪-০।

লাইটনিং বোল্ট টু

না, শেষ পর্যন্ত চিতাবাঘের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেননি। বরং বিশ্বের দ্রুততম মানব আপন করে নিয়েছেন বিশ্বের দ্রুততম প্রাণীটিকে। পরশু কেনিয়ায় পোষার জন্য একটা চিতা-শাবক নিয়েছেন উসাইন বোল্ট। এখন থেকে বিশ্বের ‘লাইটনিং বোল্ট’ আর শুধু একজন থাকল না। কারণ যাঁকে এই নামে ডাকা হয় সেই বোল্ট তাঁর নতুন পোষ্য নেওয়া চিতা-শাবকটিরও নাম রেখেছেন ‘লাইটনিং বোল্ট’! পরম মমতায় শাবকটিকে কোলে নিয়ে ফিডারের সাহায্যে সেটিকে দুধ খাইয়েছেন। বোল্টের সঙ্গে কেনিয়া সফরে আসা ব্রিটিশ হার্ডলার কলিন জ্যাকসনও একটা প্রাণী পোষ্য নিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওডিসগা, যিনি এর আগে পোষ্য নিয়েছিলেন দুটো সিংহ। তবে সিংহের ব্যাপারে খুব একটা উত্সাহ দেখাননি বোল্ট। প্রাণীটিকে যে ভয় পান, সেটি স্বীকার করে নিয়েছেন নির্দ্বিধায়। বোল্টের এই কেনিয়া সফরের উদ্দেশ্য বিপন্ন বন্য প্রাণী সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।

সিরিজ এখন তিন ম্যাচের

৪৯ রান করার পর
৩ উইকেট নিয়ে ম্যান
অব দ্য ম্যাচ
১৭৭ রানে পড়ে গিয়েছিল ৭ উইকেট। এর পরও ভারত যে ২২৬ করতে পারল, সেই কৃতিত্ব দুই বোলার হরভজন সিং (২৫ বলে ৩১) ও প্রাভিন কুমারের (১৯ বলে ১৬)। তবে তাতেও ভারতের শেষরক্ষা হয়নি। ২৪ রানে জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সাত ম্যাচের সিরিজ এখন কার্যত হয়ে গেল তিন ম্যাচের। বাকি তিনের দুটির জয়ীদের হাতে উঠবে শিরোপা।
চারটি দুর্দান্ত রান আউট আর বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২৫০ রানে বেঁধে ফেলেও ভারত যে জিততে পারল না, এ জন্য ধোনি ব্যাটসম্যানদেরই দাঁড় করাচ্ছেন কাঠগড়ায়, ‘আমরা দুর্দান্ত বোলিং করার পর আমাদের ব্যাটিং ব্যর্থ হয়েছে। এটি ওয়ানডে উইকেট হিসেবেও ছিল অসাধারণ। বল দারুণভাবে ব্যাটে আসছিল। আমাদের ফিল্ডিংও দারুণ হয়েছে। গত দেড় বছরের সেরা ফিল্ডিং নৈপুণ্য আমরা আজ দেখিয়েছি।’
দুর্দান্ত ফিল্ডিং অস্ট্রেলিয়াও করেছে। আসলে বল হাতে ডগ বলিংগার আর শেন ওয়াটসনের বাইরে ভারতকে ২২৬ রানে আটকে ফেলার পেছনে অস্ট্রেলীয় ফিল্ডারদের বড় অবদান। রিকি পন্টিং নিজে শর্ট কাভার থেকে সরাসরি থ্রোতে ফিরিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ যুবরাজ সিংকে। যুবরাজকে আউট করাটা পন্টিংয়ের জন্য ছিল বাড়তি আনন্দের। হাসিমুখে সেই কারণটা জানিয়েছেনও, ‘যুবির সঙ্গে মাঠে আমার কথা হয়েছিল। ও আমাকে বলেছিল, আমি নাকি অনেক ধীর হয়ে গেছি। আজ (পরশু) রাতে আমি সেটারই জবাব দিলাম।’
অধিনায়ক নিজে ব্যাট হাতে ফর্ম ধরে রেখেছেন। রান আউট হওয়ার আগে ৫৯ বলে করেছেন ৫২। ওয়াটসনের সঙ্গে তাঁর জুটিটায় ২ উইকেটে ১২৩ রান তুলে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ‘একটা সময় মনে হচ্ছিল আমরা ৩০০-এর মতো রান তুলে ফেলব। কিন্তু সেটি হয়নি’—ম্যাচ শেষে পন্টিংয়ের একটাই আক্ষেপ। আর ভারতের আক্ষেপ তো শুধু সিরিজে ৩-১-এ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করারই নয়। এই ম্যাচে জিতলে যে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠে যেত তারা।
আগামীকাল হায়দরাবাদে হবে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচ।

আবাহনীর অনেক প্রতীক্ষার জয়

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জার্সি খুলে মাঠে দৌড়াতে শুরু করলেন আবাহনীর খেলোয়াড়েরা। ডাগআউট ছেড়ে কর্মকর্তারাও যোগ দিলেন তাতে। অন্যদিকে মোহামেডানের কেউ বসে পড়লেন মাঠে কেউ বা পার্শ্বরেখার বাইরে, হতাশায় ঢেকে যাওয়া একেকটি মুখ। কিন্তু হাজার দেড়েক দর্শকের সামনে নীল-হলুদের উন্মাদনা চলল আরও অনেকক্ষণ। ‘কত দিন’ পর তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের বিপক্ষে জয় পেল!
‘কত দিন’—শব্দটার সঠিক সমাধান পাওয়া গেল না। কেউ বললেন পাঁচ বছর, কেউ বললেন তারও বেশি সময় পর এই জয়। বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবলের তৃতীয় আসরে এসে আবাহনী ‘চিরশত্রু’কে কাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে হারাল। গত দুটি বি-লিগে চারবার মুখোমুখি হয়ে দুটি ড্র ও দুটি পরাজয় জুটেছিল আবাহনীর কপালে।
যে জয়টা প্রায় সোনার হরিণ হয়ে ধরা দিচ্ছিল না, সেটি পেয়ে আনন্দে উদ্বেল আবাহনী শিবির। স্কোরলাইন দেখে মনে হবে জয়টা কষ্টার্জিত। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। কোচ নজরুল ইসলামের বিদায়ের পর এলোমেলো হয়ে পড়া মোহামেডানের বিপক্ষে অনেক বড় জয়ই পেতে পারত আবাহনী।
প্রথমার্ধে দু দলের এলোমেলো ফুটবলের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খেলার মোড়টা ঘুরিয়ে দেন আবাহনীর দুই স্ট্রাইকার মিঠুন ও সাখাওয়াত। ৫২ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে সাখাওয়াতের ক্রসে হেড করে গোলটি করেন মিঠুন। গোলরক্ষক উত্তম বড়ুয়া বলে হাত লাগিয়েও গোল রুখতে পারেননি। এরপর সাখাওয়াত-মিঠুন আরও অন্তত পাঁচটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন। ব্যর্থতার দায় দুজনেরই সমান। শেষদিকে মিঠুনই নষ্ট করেছেন দিনের সহজতম সুযোগ।
মাঝে একবার মোহামেডানের তৌহিদ জটলা থেকে গোল পরিশোধের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর শট চলে যায় আবাহনী গোলরক্ষকের হাতে।
এত ব্যর্থতার পরও জয় পেয়ে আবাহনীর প্রধান কোচ মোহাম্মদ কাশেম খুশি, ‘আমরা পাঁচ গোলে জিততে পারতাম। কিন্তু ভাগ্য খারাপ। তার পরও সন্তুষ্ট।’
তবে খেলায় প্রথমার্ধে এগিয়ে যেতে পারত মোহামেডান, যদি তৌহিদের শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে না যেত। খেলা শেষে সমর্থকদের গালিগালাজ হজম করতে হয়েছে মোহামেডান সমর্থকদের। আবাহনীর কাছে দীর্ঘদিন পর পরাজয় মেনে নিতে তাদের কষ্ট হওয়ারই কথা।

বিমানের দ্বিতীয় জয়, গাজী-কলাবাগানের প্রথম

প্রিমিয়ার লিগে কাল টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ বিমান। আর প্রথম ম্যাচে হারের পর জয় পেয়েছে গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে সাদামাটা এক দিনে ৬ উইকেট নিয়ে আলো ছড়িয়েছেন কলাবাগানের রকিবুল ইসলাম।
ফতুল্লায় ক্রিকেট কোচিং স্কুলকে (সিসিএস) ১১৫ রানে হারিয়েছে গাজী। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা গাজী ৪৯.৪ ওভারে অলআউট হয় ২৪৫ রানে। অলক কাপালির দলে একমাত্র ফিফটিটি করেন শাহরিয়ার নাফীস (৬৫)। তবে ফরহাদ হোসেন (৪৫), ফরহাদ রেজা (৪২) ও নাজিমুদ্দিনও (৩১) অবদান রেখেছেন ভালোই। ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন শাকিল ও সিরাজউল্লাহ খাদেম। ৬৪ বল আগেই সিসিএস ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩০ রানে। সর্বোচ্চ ৫৬ রান তাপস ঘোষের। ব্যাটিংয়ের মতো বল হাতেও সফল দুই ফরহাদ, হোসেন নিয়েছেন ৪ উইকেট, ২টি রেজা।
প্রথম ম্যাচে সিসিএসের কাছে পরাজিত পারটেক্স কাল হেরেছে কলাবাগানের কাছে। বিকেএসপিতে টস হেরে ব্যাট করতে নামা পারটেক্সের দুই ওপেনার গাজী সালাউদ্দিন (৫২) ও মাহবুব আলম (৪৩) উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছিলেন ৭৯ রান। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনার রকিবুলের রুদ্রমূর্তির সামনে তারা অলআউট ২১৫ রানেই। ২৭ রানে ছয় উইকেট নিয়েছেন রকিবুল, শেষ চারটি টানা। এবারের লিগে এটাই এখনো পর্যন্ত সেরা বোলিং। অধিনায়ক জাভেদ ওমরের অপরাজিত ৬৭ রানে কলাবাগান জিতেছে ৫ উইকেটে।
প্রথম ম্যাচে গাজী ট্যাংককে হারানো ডিওএইচএস কাল বগুড়ায় ৫ উইকেটে হেরেছে বিমানের কাছে। দু অঙ্কে পৌঁছান ডিওএইচএসের আট ব্যাটসম্যান, কিন্তু শুরুটাকে কাজে লাগাতে পারেননি একজনও। ওপেনার ওয়াসিম নাঈমের ৩১ রানই ছিল সর্বোচ্চ। ৪৬.২ ওভারে মাত্র ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস। ১৩ রানে বিমানের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল ডিওএইচএস। তবে ওপেনার জহুরুল ইসলামের ৫৩ ও ইলিয়াস সানির অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে বিমান জেতে ৬১ বল বাকি থাকতেই, হাতে অক্ষত ছিল ৫ উইকেট।

পারল না ভারত

জিতলেই আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল—ভারতের সামনে এমনই দারুণ সুযোগ ছিল কাল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ জিতে সে সুযোগটা নিতে পারেনি মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। কাল মোহালিতে ২৪ রানে হেরে গেছে তারা। ম্যাচ জিতে ৭ ওয়ানডের সিরিজে ২-২-এ সমতা ফিরিয়ে এনেছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার ২৫০ রান তাড়া করতে এসে ভারত অলআউট হয়েছে ২২৬ রানে। শুরুটা অবশ্য ঝড়ের গতিতেই হয়েছিল ভারতের। বীরেন্দর শেবাগের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ৫ ওভারেই ৪০ রান তুলে ফেলেছিল তারা। শেবাগ পেটাচ্ছেন, উইকেটের অন্য প্রান্তে দেখে-শুনে খেলছেন শচীন টেন্ডুলকার—এ অবস্থা অবশ্য আর বেশি সময় থাকেনি। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ব্যক্তিগত ৩০ রানে শেবাগকে ফিরিয়ে দেন বলিংগার। ৮ রানে উইকেটে থাকা টেন্ডুলকারের সঙ্গে যোগ দেন বিরাট কোহলি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩৮ রান করে কোহলি (১০) আউট হয়ে গেলে চাপটা এসে পড়ে টেন্ডুলকারের ঘাড়ে। বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক ‘প্রথম’-এর জন্ম দেওয়া টেন্ডুলকারের সামনে এদিন ছিল আরেকটি মাইলফলকের হাতছানি। ৪৭ রান করলেই ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এদিনই ১৭ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতেন। কিন্তু এই মাইলফলক থেকে ৭ রান দূরে থাকতেই অশোকা ডি সিলভার বাজে এক এলবিডব্লু সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে ফিরে যান ‘ব্যাটিং মায়েস্ত্রো’ (৪০)।
টেন্ডুলকারের বিদায়ের পর ভারতীয় ইনিংসে বড় একটা জুটির প্রয়োজন ছিল। তবে সেটা দলকে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন যুবরাজ (১২), ধোনি (২৬), রায়না (১৭), জাদেজা (৭)। আট নম্বরে উইকেট এসে হরভজন সিং ভারতকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ২৫ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে তিনি ৩১ রান করে ওয়াটসনকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়ে ভারত।
আগের ম্যাচ ও এ ম্যাচের উইকেটে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কোটলার মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটের তুলনায় মোহালির উইকেট তো স্বর্গ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস অনুসরণ করল দিল্লির চিত্রনাট্যই—টপ অর্ডারের কল্যাণে পাওয়া দারুণ অবস্থানটা শেষ ওভারগুলোতে হলো বিসর্জন। ২৮০ তো অবশ্যই, একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া ৩০০ রান পেতেই পারে। কিন্তু রিকি পন্টিংয়ের দল অলআউট ২৫০ রানে।
প্রথম তিন ম্যাচে ব্যর্থ অ্যাডাম ভোগসের বদলে দলে এসেছিলেন শন মার্শ, কিন্তু ব্যর্থ তিনিও। তবে ফর্মে থাকা পন্টিং এদিনও ছিলেন স্বরূপে। প্রথম বলেই দুর্দান্ত এক পুলে চার মেরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ফর্মটা এ ম্যাচেও বয়ে এনেছেন। ফিফটির পর পরই পন্টিংকে থামিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। তবে বাঁহাতি স্পিনে নয়, দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে। ওয়াটসনের সঙ্গে পন্টিংয়ের ৬৪ রানের জুটিটা অবশ্য ভেঙেছে আগেই। হাফ সেঞ্চুরির মাত্র ১ রান আগে হরভজন সিংয়ের বলে কট বিহাইন্ড ওয়াটসন। এই দুজনের বিদায়ের পর আরেকটি কার্যকরী জুটি (৭৩) গড়েছিলেন ফর্মে থাকা মাইক হাসি ও ক্যামেরন হোয়াইট। ৩৮ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৬, অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টি তখন নিশ্চিতভাবেই ৩০০ রানের দিকে। কিন্তু এর পরই বেদিশা হয়ে যায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস।
যুবরাজের শেষ ওভারের প্রথম বলেই আউট হাসি। আগের ওভারেই একটি ছক্কা মেরেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনারকে, আরেকটি মারতে গিয়েই বিপত্তি। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের পতনের শুরুটাও এখান থেকেই। স্লগ ওভারে ভারতীয়দের আঁটসাঁট বোলিং আর অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের বাজে শট নির্বাচন মিলে ৫৪ রানেই নেই পন্টিংদের শেষ ৭ উইকেট। তবে অস্ট্রেলিয়াকে আড়াই শতে বেঁধে রাখতে বড় ভূমিকা আছে ভারতের ফিল্ডিংয়েরও। চার ব্যাটসম্যান রান আউটের শিকার। ব্যাটিং ‘পাওয়ার প্লে’র ৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তুলতে পেরেছে মাত্র ২৭ রান, উইকেট হারায় ৫টি।

অতিথি হয়ে মিলানে ফিরছেন কাকা

ঘরে ফিরছেন কাকা। এসি মিলান কি এখনো ঘর আছে তাঁর? আছে তো বটেই। ছয় বছর সম্পর্কের শেকড় কি এত দ্রুত উপড়ে ফেলা যায়! যায় না বলেই এখনো এই ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারের হূদয়ের বড় অংশ জুড়ে মিলানের বাস। যায় না বলেই মিলানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নামার আগে কাকা বলেছিলেন, গোল করলেও কোনো উদ্যাপন তিনি করবেন না।
২১ অক্টোবর কাকার অবশ্য শেষ পর্যন্ত উদ্যাপন করার সুযোগও মেলেনি। সেদিন রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ থেকে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিল মিলান। আজ ফিরতি ম্যাচে রিয়াল যখন মাঠে নামছে সানসিরোতে, কাকা যখন অতিথি হয়ে ফিরে এসেছেন তাঁর পুরোনো ঠিকানায়, তখন তাঁর জন্য আনুগত্যের বড় পরীক্ষার মঞ্চ প্রস্তুত। মিলানের বিপক্ষে আজ না জিতলে বড় চাপে পড়ে যাবে রিয়াল। ‘সি’ গ্রুপের অন্য দুই দল অলিম্পিক মার্শেই আর এফসি জুরিখ আজই মুখোমুখি হচ্ছে। এই দুই দলেরই পয়েন্ট ৩। রিয়ালের ৬। রিয়াল হারলে মিলানের পয়েন্ট হবে ৯, মার্শেই-জুরিখ যেই জিতুক, তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে ৬।
বাজেভাবে মৌসুম শুরু করে রিয়ালের বিপক্ষে যেখান থেকে মিলানের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু, ঠিক সেই ম্যাচ থেকেই উল্টো পথে হাঁটা দিয়েছিল রিয়াল। দারুণভাবে শুরু করা একটা মৌসুমে হঠাত্ই এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল। মিলানের কাছে হেরে যাওয়ার পর লিগে স্পোর্টিং গিজনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র, এরপর কিংস কাপে তৃতীয় বিভাগের এক দলের কাছে ০-৪ গোলে হেরে যাওয়ার লজ্জা পেলেগ্রিনির চাকরিটাকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। অনেকে অবশ্য এর সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ইনজুরিজনিত অনুপস্থিতির যোগসূত্রও খুঁজে পেয়েছেন।
তবে স্প্যানিশ লিগে গত ম্যাচেই রিয়াল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে গঞ্জালো হিগুয়েইনের সৌজন্যে। আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার গত ম্যাচে ১০ জনের দল হয়ে পড়া রিয়ালকে ২-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন গেটাফের বিপক্ষে। মিলান-পরীক্ষার আগে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে অতি জরুরি জয়টা পেয়েছে রিয়াল। পেলেগ্রিনির সবচেয়ে বড় তৃপ্তির জায়গাটা অবশ্য অন্য, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে উদ্বুদ্ধ হয়ে লড়াই করার মানসিকতা। ভয়াবহ একটা সপ্তাহের পর এই জয়টা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ছিল বার্নাব্যুতে ভালো পারফরম্যান্স করাটাও। শুরুতে সমর্থকেরা আমাদের বিদ্রূপ করেছে। কিন্তু এরপর একটা মুহূর্তের জন্যও ওদের সমর্থনে ছেদ পড়েনি।’
এ ম্যাচেও রিয়ালকে মাঠে নামতে হচ্ছে রোনালদোকে ছাড়াই। মহামন্দার কালে ২০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ খরচ করে যে দ্বিতীয় গ্যালাকটিকোস রিয়াল তৈরি করেছে, তার প্রায় অর্ধেকটাই গেছে রোনালদোকে কিনতে। এই পর্তুগিজ উইঙ্গার যে আসলেই কতটা দামি, দলে কতটা অপরিহার্য সেটা গত ছয় ম্যাচে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে রিয়াল। রোনালদোবিহীন রিয়াল জিতেছে মাত্র দুটি ম্যাচে, হেরেছে তিনটিতে। কিংস কাপে তৃতীয় বিভাগের অ্যালকরকনের কাছে ০-৪ গোলের লজ্জাটাও এ সময়ই।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ২ ম্যাচে ৪ গোল করা রোনালদোর অভাব আজও বোধ করবে রিয়াল। যদিও ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস বলছেন, ‘আমরা সবাই জানি, ও কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। দলের জন্য কত বড় অবদান রাখতে পারে। কিন্তু ও যেহেতু ইনজুরিতে, এই মুহূর্তে তাই ওকে নিয়ে না ভাবাই ভালো। এই বড় দলটায় কারও জন্যই শূন্যস্থান পড়ে থাকে না। ওর জায়গায় খেলার মতো অনেকেই আছে।’
রোনালদোর শূন্যতা বুঝতে না দেওয়ার বড় ভার রাউলের ওপর। আজ মিলান-মাদ্রিদ দ্বৈরথের মধ্যে আরেক দ্বৈরথ হবে রাউল আর ফিলিপ্পো ইনজাগির মধ্যে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিয়ে দুই স্ট্রাইকারের যে দ্বৈরথটা বেশ কিছুদিন ধরেই চলে আসছে। এই ম্যাচের আগে ৬৮ গোল নিয়ে দুজন সমান-সমান।
আজই মাঠে নামছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, জুভেন্টাস আর বায়ার্ন মিউনিখের মতো বড় ক্লাবগুলোও।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আরেকটি হার

সাত ম্যাচ সিরিজের প্রথম চারটিতে জিতে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সিরিজ জয়। এর পরই যেন হঠাত্ করে জয়ের ক্ষুধাটা মরে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। কাল ষষ্ঠ ম্যাচে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের কাছে ৩ উইকেটে হেরেছে মাহমুদুল হাসানের দল। পঞ্চম ম্যাচে তারা হেরেছিল ৫ উইকেটে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান তুলতে পেরেছিল মূলত দুটি জুটির কল্যাণে। ৬৬ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর পঞ্চম উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়েন ওপেনার এনামুল হক (৭৪) ও সাব্বির রহমান (৫৩)। অষ্টম উইকেটে আলাউদ্দিন বাবু (২৭) ও আবুল হাসান (৩৪) তোলেন ৫৯ রান। ইংল্যান্ড লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ৩ উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখে। সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন ম্যাচের সেরা আতিক জাভেদ, ওপেনার জো রুট করেছেন ৪৮। অধিনায়ক মাহমুদুল নিয়েছেন ৩ উইকেট।

এবার ক্রিকেটে মন ইউনুস-ভেট্টোরির

গত মাসখানেক ক্রিকেট-বিশ্বে মাঠের বাইরের কারণেই সংবাদের শিরোনামে ছিল দেশ দুটি। আবুধাবিতে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে আজ মাঠে নেমে অন্তত একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। অবশেষে মূল কাজ যেটি, সেই ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে পারছেন তাঁরা।
অনেক বিতর্ক ও নাটকের পর আবার পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব নিয়েছেন ইউনুস খান। তিনি বলছেন, সবার ভালোবাসার দাবিতে পরিবর্তন করেছেন পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত। এই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়াটাও এখন ইউনুসের চ্যালেঞ্জ। দলের অন্তর্কলহ নিয়েও নানা কথা শোনা গেছে। মুখে সবাই তা উড়িয়ে দিলেও প্রমাণ দিতে হবে মাঠের পারফরম্যান্সে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ফেবারিট হয়েও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছিল, সেই সূত্রে এত দুর্যোগ—এটাও আজ পাকিস্তানকে তাতিয়ে দিতে পারে। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই আজ জিততে চান ইউনুস, ‘আমরা যদি আমাদের সামর্থ্যের বেশি দিই এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলতে পারি তবেই জিততে পারি। নিউজিল্যান্ড দলটা অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো, ওরা একাট্টা হয়ে খেলে। ওদের হারাতে হলে আমাদেরও ওদের মতো খেলতে হবে।’
পাকিস্তান-বিতর্ক বিলক্ষণ জানেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। আর পাকিস্তানকে চেনেন বলেই সতর্ক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক, ‘ওদের অনেক ঝামেলার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, কিন্তু আগেও ওদের এসব সামলাতে হয়েছে। এসবে ওরা অভ্যস্ত।’
বিচিত্র এক ঝামেলা পার করছে ভেট্টোরির দলও। কোচের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একযোগে তাঁর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন সব সিনিয়র ক্রিকেটার—এমন ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসেই বিরল। বোর্ড অবশ্য এর পরও কোচ পরিবর্তন করেনি। তবে ক্রিকেটারদের মনোভাব বুঝতে পেরে নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন কোচ অ্যান্ডি মোলস। ভেট্টোরি তাই সম্ভবত ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি যিনি একই সঙ্গে অধিনায়ক, কোচ এবং নির্বাচকের দায়িত্বে। এ নিয়ে এত কথাবার্তা হয়েছে ও হচ্ছে যে, সেটিকে মাটিচাপা দিতেই জয়টা আরও বেশি করে প্রয়োজন ভেট্টোরির, ‘মানুষ আমাদের কাছে জয় চাইছে। আর জিততে পারব না কেন, আমাদের এই মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে। দলের প্রত্যেককে আরও মনোযোগী হতে হবে।’
কিউইদের বড় সমস্য অবশ্য ইনজুরি। জেসি রাইডার, ড্যারেল টাফি ও গ্রান্ট এলিয়টকে আসতে দেয়নি ইনজুরি। পাকিস্তানের ইনজুরি সমস্যা না থাকলেও আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় আসতে পারেননি মোহাম্মদ আসিফ। তবে মাঠে নামার পর দু দলেরই লক্ষ্য হবে জয়। এই একটি বিষয়ই যে তাদের সাম্প্রতিক বিতর্কময় অতীতকে ভুলিয়ে দিতে পারে!

উতসেয়ার জন্য অপেক্ষা

আজ ম্যাচে জিম্বাবুয়ে কী করবে কে জানে, তবে কাল অনুশীলনে অনেকটাই ব্যতিক্রম দেখাল তাদের। ব্যতিক্রম মানে নিজেদের তুলনাতেই। ঢাকায় যে মার্ক ভারমিউলেনকে হেসে-খেলে-বসে থেকে সময় কাটাতে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামের নেটে কাল সেই তিনিই দারুণ ব্যস্ত। উল্টোদিকে ভারমিউলেনের চেয়ারটাই যেন নিলেন টাটেন্ডা টাইবু! নেট প্র্যাকটিসের সময়টা তিনি কাটালেন ছাতার নিচে বসে।
উরুর মাংসপেশিতে টান পড়ায় দ্বিতীয় ম্যাচের পর থেকেই মাঠের বাইরে টাইবু। আর ভারমিউলেন কুঁচকির ইনজুরিটা বয়ে এনেছেন কেনিয়ার বিপক্ষে সিরিজ থেকে। কাল অনুশীলনের বিপরীতধর্মী ছবি দেখে মনে হলো চট্টগ্রামে আজ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে খেলতে পারেন ভারমিউলেন, আর টাইবু হয়তো বসেই থাকবেন। তবে বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কথা চিন্তা করে জিম্বাবুয়ের অপেক্ষাটা এই দুজনের কারও জন্যই নয়। তারা অপেক্ষায় অধিনায়ক প্রসপার উতসেয়ার সুস্থ হয়ে ওঠার। তাঁর অফ স্পিনের অভাবটা যে বড় অনুভূত হচ্ছে!
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অ্যাঙ্কেলের ইনজুরিতে পড়েন উতসেয়া। পরের দুই ম্যাচ বাইরে বসে থাকতে হলো সে কারণেই। কাল বিকেলে অনুশীলনে নামার আগে সহ-অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আরেকবার বললেন উতসেয়ার জন্য অপেক্ষার কথা, ‘অনুশীলন থেকে ফিরে উতসেয়াকে নিয়ে জিমে যাবে ফিজিও। জিমে অনুশীলনের পরই বোঝা যাবে ম্যাচে ফিরতে কতটা ফিট সে।’ আজকের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের প্রথম একাদশ চূড়ান্ত হওয়াটাও নির্ভর করছিল সেটার ওপরই।
এই সিরিজে জিম্বাবুয়ের লড়াই যতটা না বাংলাদেশের বিপক্ষে, তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশের বাঁহাতিদের বিপক্ষে। বল হাতে কখনো আবদুর রাজ্জাক, কখনো সাকিব আল হাসান বা এনামুল হক জুনিয়র দাঁড়িয়ে পড়ছেন তাঁদের সামনে। ব্যাট হাতে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠছেন সাকিবের সঙ্গে তামিম ইকবালও। মাসাকাদজা অবশ্য বোলারদের কথা বললেন না। জানালেন, আজ সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে তাঁদের বিশেষ পরিকল্পনা বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। তবে সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখবে কি না, সেটা নির্ভর করছে উতসেয়ার ফেরার ওপর, ‘বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সামলাতে আমরা এ ম্যাচে অফ স্পিনারদের দিয়ে আরও বেশি চেষ্টা করব। উতসেয়া ফিরলে হয়তো এর একটা সমাধান হবে।’
চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ে এর আগে তিনটা ওয়ানডে খেললেও তার সবই ছিল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আজই প্রথম খেলছে তারা। তামিম ইকবালের হোমগ্রাউন্ডে হাসি ফিরে পেতে এখন উতসেয়ার দিকেই তাকিয়ে জিম্বাবুয়ে।

অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে আশরাফুলের by তারেক মাহমুদ

শাহাদাত হোসেনের একটা বাউন্সারে খুব জোরে পুল করলেন মাহমুদউল্লাহ। নেটের পাশে দাঁড়ানো কোচ জেমি সিডন্সের সেটা পছন্দ হলো। তার পরও পরের বলে শটে জোরটা আরও বেশি চাইলেন তিনি, ‘কাম অন...ইউ আর আ বিগ ম্যান। হিট দ্য বল হার্ড।’
কোচের চাওয়ার শেষ কখনোই থাকে না। কিন্তু চাওয়া অনুযায়ী সবই কি দেওয়া সম্ভব? জেমি সিডন্সের পরীক্ষাগারে এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ান কোচ অনেক বড় বাজি ধরেছেন আশরাফুলকে নিয়ে। তিনি বদলে দিতে চান আশরাফুলের ব্যাটিংয়ের মৌলিকতম দিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় আট বছর ধরে আশরাফুলের ব্যাটের যে ‘ব্যাক লিফট’ ছিল, গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কীভাবে যেন বদলে গেল সেটা। কোচ জেমি সিডন্স আশরাফুলের এই দুই ব্যাক লিফটই বাদ দিয়ে আনতে চাচ্ছেন নতুনত্ব। কোচের চাওয়ায় আশরাফুলও রাজি। বলছেন, ‘এখনো পুরোপুরি রপ্ত করতে পারিনি। তবে কোচের দেখানো ব্যাক লিফট আমাকে সাহায্যই করছে মনে হচ্ছে। শট খেলতে আরও বেশি সময় পাচ্ছি এখন।’
বদলটা কী? কোচ সিডন্সের ‘টেকনিক্যাল’ ব্যাখ্যা, ‘আশরাফুল এখন ব্যাট প্রথমে নিচে নামিয়ে তারপর ওপরে ওঠায়। এরপর আবার সেটা নামিয়ে এনে শট খেলে। আমি চাইছি ওর ব্যাক লিফটটা হোক মুশফিকুর রহিমের মতো। নিচে-ওপরে-নিচে না করে সরাসরি ওপর থেকে নামিয়ে এনে শট খেলবে। তাতে শট খেলায় আরও বেশি সময় পাবে ও। টাইমিং ভালো হবে, শটে জোর বাড়বে, আর মাঝখানে যে রকম শট খেলার সময় ওর শরীরটা নিচু হয়ে যেত, সেটা আর হবে না।’ কোচের দেখানো পথে হেঁটে আশরাফুলের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা, ‘আমার এতে সমস্যা হচ্ছে না। এই ব্যাক লিফটে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে গেলে আমার জন্য ভালো হবে। এতে টাইমিংও ভালো হবে। আমি এখন উইকেটে টিকে থেকে খেলতে চাই। সে জন্যও এটা জরুরি।’ আশরাফুল বলছেন, কোচ ব্যাক লিফটের যে জিনিসটা বদলাতে চাচ্ছেন, সেটা জরুরি মনে করেন তিনি নিজেও, ‘আমার ব্যাট কিন্তু আগে ওপর বা নিচ কোনো দিক থেকেই আসত না। ব্যাট ক্রিজে রেখেই খেলতাম। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত টেস্ট সিরিজেই ব্যাট প্রথমে নামতে শুরু করল। ওখানেই ওয়ানডে সিরিজ থেকে সেটা বদলানোর চেষ্টা করছি। কোচের পরামর্শমতো ব্যাট এখন ওপর থেকে আনার চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হচ্ছিলাম না। গত ম্যাচেই (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে) প্রথম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন ব্যাক লিফটে খেললাম।’
আশরাফুলের ব্যাটিং যাঁরা দীর্ঘদিন খুব কাছ থেকে দেখে আসছেন, তাঁরা এই পরিবর্তনের পক্ষে না বিপক্ষে? অনুসন্ধানে পাওয়া গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আশরাফুলের প্রায় সব ব্যাটিং-কীর্তির প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাবিবুল বাশার পুরো ব্যাপারটা আশরাফুলের ওপর ছেড়ে দিয়েও বললেন, ‘কোচ তার একজন ব্যাটসম্যানের বাটিংয়ে এ রকম সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনতে চাইতেই পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা ব্যাটসম্যানেরই। তবে আমি বলব, আশরাফুল গত ৮-৯ বছর ধরে কোনো সমস্যা ছাড়াই ওভাবে খেলে আসছিল। টাইমিং বা সময় কম পাওয়ার সমস্যা তো ওর কখনোই ছিল না।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতগুলো বছর পার করে দেওয়ার পরও আশরাফুল এখনো যাঁকে ‘গুরু’র মর্যাদা দেন, সেই কোচ ওয়াহিদুল গনি অবশ্য সরাসরি সংঘর্ষে যেতে চাইলেন না সিডন্সীয় তত্ত্বের সঙ্গে। কারণটা পরিষ্কারই—ওয়াহিদুল নিজেও তো এখন বোর্ডের কোচ! তার পরও ব্যক্তিগত মতামতটুকু তিনি দিয়েছেন নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকেই, ‘শেষ কথা হলো, ব্যাটসম্যান রান পাচ্ছে কি না। আশরাফুল জাতীয় দলে খেলে, জাতীয় দলের কোচ তাকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করলে সে ব্যাপারে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে সে পরিকল্পনায় ব্যাটসম্যান স্বচ্ছন্দ বোধ করছে কি না এবং তাতে কাজ হচ্ছে কি না, সেটাই আসল ব্যাপার।’
ব্যাটিং টেকনিকের দিক থেকে অনেকের কাছেই উদাহরণ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান অবশ্য পুরোপুরিই সমর্থন করছেন সিডন্সকে, ‘মাঝখানে দেখেছি শট খেলার সময় আশরাফুলের শরীর নিচু হয়ে যাচ্ছে। এই সিরিজে তা দেখছি না। আমিও মনে করি শট খেলার সময় ব্যাট ওপর থেকেই আসা উচিত। তবে সেটা পয়েন্ট বা অন্য কোনো দিক থেকে নয়, নামতে হবে স্লিপের দিক থেকে।’ তবে উপসংহারে রকিবুল একমত হাবিবুল আর ওয়াহিদুলের সঙ্গে, ‘শেষ কথাটা ব্যাটসম্যানকেই বলতে হবে। ব্যাটসম্যান কী চায়...? আর সবকিছু যে ব্যাকরণ মেনে হবে তা তো না! জাভেদ মিয়াঁদাদের ব্যাটিংয়ের অনেক কিছুই ব্যাকরণের বাইরে ছিল। তার পরও তিনি এক কিংবদন্তি, টেস্টে সাড়ে ৮ হাজারের ওপর রান।’
আশরাফুলের বিনোদনদায়ী ব্যাটিং দেখে অভ্যস্ত অনেকেরই ক্ষোভ—সেই মারকাটারি ব্যাটিংটা হারিয়ে যাচ্ছে তাঁর ব্যাট থেকে। ব্যাপারটা আশরাফুলও বোঝেন এবং বলেন, দর্শক-সমর্থকদের এই দাবিই তাঁর বদলে যাওয়ার পথে বড় অন্তরায় হচ্ছে, ‘সমর্থকেরা হয়তো আমার এই খেলাটা পছন্দ করছে না। যখন বাইরে থেকে কথা আসে, চিত্কার আসে, একটু সমস্যা তো হয়ই। তার পরও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা আনতে এটা সহ্য করতে হবে।’
সব মিলিয়ে আশরাফুলের বদলে যাওয়া ব্যাটিংয়ের রহস্য তাহলে ব্যাক লিফট বদলে যাওয়াই! আশরাফুল মানছেন সত্যটা, ‘আমি আমার ব্যাটিং স্টাইল বদলানোর চেষ্টা করছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পরপর দুই ম্যাচে ফিফটি করেছিলাম। ওখানেও স্টার্ট ধীর ছিল, পরে কাভার করেছি। আগে শুরুটা দ্রুত করতাম, তারপর দেখা যেত আউট হয়ে যেতাম। এখন চেষ্টা করছি শুরুতে সতর্ক থাকার, তারপর কাভার করার।’
সব নতুনেই নতুন দিনের দেখা মেলে কি না, সেটা দেখার সময় তো থাকলই...।

সীতাকুণ্ডে শীতের সবজি চাষের ধূম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে শাকসবজি চাষের ধুম পড়েছে। শীতের আগেই বাজারে শীতকালীন সবজি বিক্রি করে বেশি লাভ করার চিন্তা মাথায় রেখেই তাঁরা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা এখন নানা ধরনের শাকসবজির চারা তৈরি ও জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সীতাকুণ্ড পৌরসভা, বারৈয়াঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি ঢালুতেও ব্যাপকহারে সবজি চাষ হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মুলা, লালশাক, তিতা করলা ও পালংশাক বাজারে আসতে শুরু করেছে। এতে কৃষকেরা বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন।
গত মৌসুমে সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় তাঁরা এবার শীতের আগাম শাকসবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এসব শাকসবজির মধ্যে রয়েছে মুলা, বেগুন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, তিতা করলা, টমেটো, ঢ্যাঁড়স, পালংশাক ও পুঁইশাক ইত্যাদি।
গত বুধবার বারৈয়াঢালা ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা ব্যাপকহারে শীতকালীন শাকসবজির চারা তৈরি ও রোপণের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। মহালংগা গ্রামের কৃষক অলি উল্যা প্রথম আলোকে জানান, যেকোনো শাকসবজি যদি মৌসুমের শুরুতে বাজারে তোলা যায় তবে তার দামও বেশি পাওয়া যায়।
পূর্ব সৈয়দপুরের গ্রামের নুর সোলেমান তাঁর জমিতে ছাউনি দিয়ে বেগুনের চারা তৈরি করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা যেমন কম থাকে তেমনি চারাও সতেজ হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ জমিতে শাকসবজি চাষ হয়েছিল। এবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ফরিদপুরে এএফসি রেস্তোরাঁ উদ্বোধন

ফরিদপুর শহরে অ্যারাবিয়ান ফ্রায়েড চিকেন (এএফসি) নামের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁর যাত্রা শুরু হয়েছে।
শহরের কেন্দ্রস্থল মুজিব সড়কে নিউমার্কেটের এক নম্বর গেটের পাশে গত রোববার সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে রেস্তোরাঁটির উদ্বোধন করেন করিম জুট স্পিনার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর মিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফসিসিআই) সভাপতি আওলাদ হোসেন।
এএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, এখানে উন্নতমানের চায়নিজ ও অ্যারাবিয়ান খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড পাওয়া যাবে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে শাকসবজি চাষের ধুম পড়েছে। শীতের আগেই বাজারে শীতকালীন সবজি বিক্রি করে বেশি লাভ করার চিন্তা মাথায় রেখেই তাঁরা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা এখন নানা ধরনের শাকসবজির চারা তৈরি ও জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সীতাকুণ্ড পৌরসভা, বারৈয়াঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি ঢালুতেও ব্যাপকহারে সবজি চাষ হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মুলা, লালশাক, তিতা করলা ও পালংশাক বাজারে আসতে শুরু করেছে। এতে কৃষকেরা বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন।
গত মৌসুমে সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় তাঁরা এবার শীতের আগাম শাকসবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এসব শাকসবজির মধ্যে রয়েছে মুলা, বেগুন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, তিতা করলা, টমেটো, ঢ্যাঁড়স, পালংশাক ও পুঁইশাক ইত্যাদি।
গত বুধবার বারৈয়াঢালা ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা ব্যাপকহারে শীতকালীন শাকসবজির চারা তৈরি ও রোপণের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। মহালংগা গ্রামের কৃষক অলি উল্যা প্রথম আলোকে জানান, যেকোনো শাকসবজি যদি মৌসুমের শুরুতে বাজারে তোলা যায় তবে তার দামও বেশি পাওয়া যায়।
পূর্ব সৈয়দপুরের গ্রামের নুর সোলেমান তাঁর জমিতে ছাউনি দিয়ে বেগুনের চারা তৈরি করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা যেমন কম থাকে তেমনি চারাও সতেজ হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ জমিতে শাকসবজি চাষ হয়েছিল। এবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দেশের ইপিজেডগুলোর রপ্তানি আয় বাড়ছে

দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) শিল্পকারখানার রপ্তানি আয় প্রতিবছর বাড়ছে। বিগত ১০ বছরে ইপিজেডের রপ্তানি আয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইপিজেডগুলোর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।
অবশ্য দেশের আটটি ইপিজেডের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের অবদান ৯০ শতাংশের বেশি।
বেপজা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ইপিজেডগুলোর রপ্তানি আয় ছিল ৮৯ কোটি ডলারের কিছু বেশি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি ৮২ লাখ ডলার। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে হয়েছে ৪৯ কোটি ৯১ লাখ ডলার।
জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইপিজেডগুলোর মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ঢাকা ইপিজেডের আয় ছিল ১১৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের আয় ছিল ১১১ কোটি ৭২ লাখ ডলার।
অর্থাত্ ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের সম্মিলিত রপ্তানি আয় ২৩৭ কোটি ৮৫ লাখ ডলার, যা ইপিজেডের মোট রপ্তানি আয়ের ৯২ শতাংশের বেশি।
বেপজা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের অন্যান্য ইপিজেডের মধ্যে কুমিল্লার নয় কোটি সাড়ে ৫৮ লাখ ডলার, উত্তরার দুই লাখ ৪০ হাজার ডলার, ঈশ্বরদীর সাত লাখ ৯০ হাজার ডলার, আদমজীর ছয় কোটি ডলার, কর্ণফুলীর তিন কোটি ৯১ লাখ ডলার ও মংলার ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।
এ ছাড়া ২০০৯-১০ অর্থবছরে জুলাই-আগস্ট মাসে ঢাকা ইপিজেডে ২১ কোটি ১১ লাখ ডলার, চট্টগ্রামের ২৪ কোটি ৭১ লাখ ডলার, কুমিল্লার এক কোটি ৬৯ লাখ ডলার, উত্তরার এক লাখ ডলার, ঈশ্বরদীর দুই লাখ ৩০ হাজার ডলার, আদমজীর এক কোটি ৫০ লাখ ডলার, কর্ণফুলীর ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার ও মংলার আট লাখ ৪০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।
দেশের ইপিজেডগুলোয় স্থাপিত শিল্প কারখানার মধ্যে রয়েছে ওভেন পোশাক, নিট পোশাক, টেরিটাওয়েল, তৈরি পোশাকের এক্সেসরিজ, কৃষিজাত পণ্য, রসায়ন ও রাসায়নিক সার, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী, আসবাবপত্র, পাদুকা ও চামড়া, পাটপণ্য, গৃহ সাজসজ্জার সামগ্রী, প্রকৌশল কারখানা, সফটওয়্যার, চশমা, খেলনা, মেডিকেল ও বায়োলজিক্যাল, ওষুধ, প্লাস্টিক, অলংকার, বিমানের যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি সামগ্রী, মুদ্রণ ও প্রকাশনা, সংগীতবাদন যন্ত্রপাতি, খেলাধুলার সামগ্রী, ধাতব পণ্য, তাঁবু প্রভৃতি।

মহাকাশে এসার নতুন উপগ্রহ

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (এসা) তাদের নতুন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। ওই উপগ্রহ কক্ষপথ থেকে পৃথিবী নামের এই গ্রহের মাটির আর্দ্রতা এবং সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণ দূর থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করবে। আর এরই ভিত্তিতে তৈরি হবে একটি বিশেষ মানচিত্র।
গতকাল সোমবার ভোরে রাশিয়ার প্লেসেতাস্ত স্পেস এজেন্সি থেকে রোকত নামের ওই উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠানো হয়। এসার মহাপরিচালক জাঁ জ্যাক দোরদাইন বলেন, উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠানোর সময় কোনো সমস্যা হয়নি। এটাকে শুধু একটা উপগ্রহ পাঠানোর বিষয় হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না। বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চেষ্টা করবে ওই উপগ্রহ।
জানা গেছে, উপগ্রহটি আগামী দুই বছর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে। এসব তথ্য আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস দিতে ব্যবহার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টিতে আদর্শিক সংঘাত

নিউইয়র্কে কংগ্রেসের একটি আসনের আগাম নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে দলে আদর্শিক সংঘাত।
গত শনিবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডেডে স্কোজ্জাফাভা। আজ ৩ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী জরিপে তৃতীয় স্থানে ছিলেন ডেডে স্কোজ্জাফাভা। তিনি শুধু ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থীর পেছনেই ছিলেন না। ছোট একটি রাজনৈতিক দলের একজন ডানপন্থী প্রার্থীও জরিপে তাঁর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বী ডগ হফম্যানকে সমর্থন না দিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বিল ওয়েনসকে সমর্থন দেন ডেডে স্কোজ্জাফাভা।
এ নির্বাচনের ফলাফল ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ডেমোক্র্যাট পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রিপাবলিকান দলের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পেলিনসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ডানপন্থী রিপাবলিকান সদস্য উদারপন্থী ডেডে স্কোজ্জাফাভার পরিবর্তে ডগ হফম্যানকে সমর্থন দেওয়ায় দলের অভ্যন্তরে আদর্শিক সংঘাত শুরু হয়ে যায়।
ডেডে স্কোজ্জাফাভা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বিল ওয়েনসকে সমর্থন দেওয়ার পর এ সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। শুধু প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হননি স্কোজ্জাফাভা, ওয়েনসকে সমর্থন দেওয়ার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ওয়েনসকে পূর্বসূরি রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্ণনা করেন ডেডে স্কোজ্জাফাভা। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বিল ওয়েসন বলেন, ডেডে স্কোজ্জাফাভার এ সিদ্ধান্তে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। তবে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডগ হফম্যান বলেন, রক্ষণশীল প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন ডেডে স্কোজ্জাফাভা।

হামিদ কারজাইকে বিজয়ী ঘোষণা -আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

আফগানিস্তানে হামিদ কারজাইকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করেছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার দেশটির নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের (আইইসি) চেয়ারম্যান আজিজুল্লাহ লুদিন বলেন, ‘আমরা হামিদ কারজাইকেই আফগানিস্তানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করছি।’ রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। আগামী ৭ নভেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণের আগেই এই ঘোষণা দেওয়া হলো। এর আগে গত রোববার কারজাইর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
লুদিন আরও বলেন, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রথম দফা ভোটে হামিদ কারজাই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সরে দাঁড়ানোর পর কারজাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ জয় লাভ করলেন। লুদিন বলেন, ‘দেশের সংবিধান মেনে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী জনগণের বৃহত্ স্বার্থেই আমরা হামিদ কারজাইকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করছি।’ কমিশনের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কারজাই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আইইসির এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হলো। ভোট গ্রহণ করতে নিরাপত্তার পেছনে আমাদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বিপুল অর্থও বেঁচে গেল। আমরা আশা করি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।’
কমিশনের এ ঘোষণার মাত্র এক দিন আগে রোববার আবদুল্লাহ ঘোষণা দেন, তিনি ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
ওই দিন নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বিবিসিকে জানান, ‘দেশের মঙ্গলের স্বার্থেই আমি নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য তাঁর দাবিগুলো মেনে না নেওয়ায় তিনি নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তবে তিনি দ্বিতীয় দফা নির্বাচন প্রতিহত করার কোনো ডাক তাঁর সমর্থকদের প্রতি দেননি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আফগানিস্তানে
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে গতকাল কাবুলে গিয়ে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের অতিথি ভবনে প্রাণঘাতী হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, গত সপ্তাহের হূদয়বিদারক ঘটনার পর জাতিসংঘ কর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই আফগানিস্তান গেছেন বান কি মুন।
আইইসির গতকালের ঘোষণার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বান কি মুন বলেন, ‘কমিশন নির্বাচনের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তা শ্রদ্ধার সঙ্গে সমর্থন করব।’
দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে হামিদ কারজাই ও আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে বান কি মুনের গতকাল সোমবারই বৈঠক করার কথা ছিল।

পরমাণু জ্বালানি চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন চায় ইরান

চুক্তি সইয়ের আগে জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট পরমাণু জ্বালানি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে আরও আলোচনা চায় তারা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনুশেহের মোত্তাকি গতকাল এ কথা বলেন।
সমঝোতা চুক্তিতে সই করার প্রশ্নে ইরান চাপের মুখে রয়েছে। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, ইরান সমৃদ্ধ করা হয়নি, এমন ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠাবে। রাশিয়া ওই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জ্বালানিতে রূপান্তর করবে। পরে তা ইরানে পাঠাবে। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা (আইএইএ) ওই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।
মালয়েশিয়া সফরকালে গতকাল মোত্তাকি সে দেশের রাজধানী কুয়ালালামপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ওই প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখেছি। প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে আমাদের আরও কিছু বলার আছে। এ বিষয়ে আলোচনা দরকার।’ তিনি এও বলেন, ‘আমরা দুই দিন আগেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্য আইএইএকে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।’ মোত্তাকি উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর এক সম্মেলনে যোগ দিতে মালয়েশিয়া সফর করছেন। তিনি বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

আল-কায়েদার বিপুল অস্ত্র উদ্ধার সৌদি আরবে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। অস্ত্রগুলো গত আগস্টে গুঁড়িয়ে দেওয়া একটি আল-কায়েদা চক্রের। গত রোববার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এ কথা জানান।
মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪৪ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর রিয়াদের নিকটবর্তী একটি বাড়ি থেকে এই অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গত ১৯ আগস্ট তাদের গ্রেপ্তারের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার ৪৪ জনের মধ্যে ৪৩ জন সৌদি নাগরিক এবং অপরজন বিদেশি।
মুখপাত্র বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২৮১টি কলাশনিকভ রাইফেল, ২৫০টি ম্যাগাজিন ও ৪১ হাজার ২৫০টি গুলিভর্তি ৩৫টি কেস।
গত আগস্ট মাসে ওই ৪৪ জনকে গ্রেপ্তারের সময় রিয়াদের একটি বাড়ি এবং মরুভূমির গোপন আস্তানা থেকে ৭০টি মেশিনগান, ৩৭৬টি ইলেকট্রনিক ডেটোনেশন ডিভাইস এবং ৩১ হাজারেরও বেশি গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি বলেছিলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে মূল আল-কায়েদা সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

২০ জনের বেশি যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা -অস্ট্রেলিয়ায় নৌকাডুবি

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক নৌকাডুবিতে ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সোমবার কোকো দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৪০ জন আরোহী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় কাছ দিয়ে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও একটি মাছ ধরার নৌকা ১৭ জনকে উদ্ধার করে।
অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র উপকূলীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘যাদের উদ্ধার করা যায়নি, তাদের নিয়ে আমরা বেশ উত্কণ্ঠার মধ্যে আছি।’ নৌকার আরোহীদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এরা অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী শ্রীলঙ্কা ও আফগান উদ্বাস্তু হতে পারে।

সাহসী ভূমিকার জন্য পদোন্নতি রুখসানার -ভারতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান

ভারতে সন্ত্রাসী হামলাবিরোধী অভিযানে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় এক নারী পুলিশ সদস্যকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। রুখসানা কাওসার নামের ওই নারীকে করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে পুলিশের বিশেষ কর্মকর্তা (এসপিও)। তাঁর ভাই ও চাচাকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
২৭ সেপ্টেম্বর এক অভিযানে রুখসানা লস্কর-ই তাইয়েবার এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেন। জঙ্গিদের পাল্টা গুলিতে তিনি ও তাঁর ভাই ইজাজ এবং চাচা ওয়াকালাত হোসেন আহত হন। জঙ্গিবিরোধী এ ভূমিকার জন্য তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

ইরাকে পৃথক বোমায় ১০ জন নিহত

ইরাকে পৃথক বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছে। গত রোববার এসব হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিন দেশটির উত্তরাঞ্চলে বন্যায় তিন নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি এক মুখপাত্র গতকাল সোমবার এ তথ্য দিয়েছেন।
বাগদাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে জাতিসংঘের এক বিশেষ দূত এ সময়ের মধ্যে বাগদাদ পৌঁছেছেন। বাবিল প্রদেশের মুসাইব শহরে গাড়িবোমা হামলায় পাঁচজন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, একটি গাড়ি বাগদাদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণের মুসাইব শহরের একটি বাজারে রেখে যাওয়া গাড়িতে ওই বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হলে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।
রামাদি শহরে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত ও চারজন আহত হয়। একই দিন রামাদিরই উপকণ্ঠে আরও একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। তবে এতে ওই আত্মঘাতী ছাড়া আর কেউ হতাহত হয়নি। কারবালায় একটি বাসে বোমা হামলায় এক নারী নিহত ও ১২ জন আহত হয়। মসুলে দুই বেসামরিক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ইরাক-তুরস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী বর্ষণজনিত কারণে সৃষ্ট বন্যায় তিন নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাকিস্তানে মরিয়া হয়ে লড়ছে উজবেক যোদ্ধারা

তাদের বাসভূমি ছিল মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান। আর খ্যাতি ছিল যোদ্ধা হিসেবে। কিন্তু তাঁরা এখন মাতৃভূমি থেকে অনেক দূরে। আফগানিস্তানে তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার পর তারা ঘাঁটি গেড়েছিল দেশটির উত্তরাঞ্চলে। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভের বিরুদ্ধে তারাও শুরু করেছিল লড়াই। কিন্তু ২০০১ সালে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের মুখে তাদের সেখান থেকে সরে যেতে হয়। পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় পাকিস্তানের উপজাতি এলাকায়।
কিন্তু সেখানে এখন শুরু হয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তালেবানবিরোধী অভিযান। পাশাপাশি চলছে মার্কিন মনুষ্যবিহীন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। সব মিলিয়ে জীবন বাঁচাতে এখন মরিয়া হয়ে লড়ছে উজবেক যোদ্ধারা।
বিশ্লেষকেরা জানান, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে উজবেকিস্তানের অভ্যুদয় হওয়ার পর এই বাস্তুহীন উজবেক যোদ্ধাগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। ১৯৯১ সালে ইসলামিক মুভমেন্ট অব উজবেকিস্তান (আইএমইউ) নামের সংগঠন তৈরি করে তারা। আফগানিস্তানে তালেবান শাসকগোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়ায় তারা উজবেকিস্তানে প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভের সরকারের বিরুদ্ধে তত্পরতা শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালে আইএমইউকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ২০০১ সালে মার্কিন বাহিনী তাদের আফগানিস্তানছাড়া করে। কয়েক হাজার বিদেশি জঙ্গিসহ এসব উজবেক যোদ্ধা আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় এসে আশ্রয় নেয়। পাকিস্তানের উপজাতিরা তাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সূত্র জানায়, ছিনতাই, হত্যা ও অপহরণে জড়িয়ে পড়ায় এসব উজবেক যোদ্ধা স্থানীয়দের আস্থা হারায় এবং তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দেয়।
গত ১৭ অক্টোবর পাকিস্তানি সেনারা দেশের উত্তরাঞ্চলে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খালিদ রাব্বানি বলেন, ‘দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের শেরাঙ্গি গ্রামে বিদেশি জঙ্গিদের ঘাঁটি। উজবেক যোদ্ধারা এখানে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।’ এ ছাড়া গত শনিবারও কানিগুরামেও সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কানিগুরামও উজবেক যোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি।
পাকিস্তানের উপজাতি এলাকাবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ রহিমুল্লাহ ইউসুফজাই বলেন, ‘এসব উজবেক যোদ্ধা কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ বা লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করছে না। বেঁচে থাকার জন্যই তারা তালেবানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে এবং লড়ছে। আমি মনে করি না তারা (উজবেক) সেখানে অবস্থান ধরে রাখবে এবং মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। বরং তারা পালানোর চেষ্টা করবে।’
পাকিস্তানের উপজাতি এলাকার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মাহমুদ শাহ বলেন, উজবেকিস্তানে কিছু অস্থিরতা থাকলেও নিজেদের দেশে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি এই উজবেক যোদ্ধারা। যোদ্ধা হিসেবে তারা তুখোর। কিন্তু মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের জীবন এখন উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়েছে। এখন কোনো লক্ষ্য ছাড়াই তারা লড়ছে। মাহমুদ শাহ আরও বলেন, উজবেক যোদ্ধারা বুঝে গেছে, তাদের যাওয়ার কোনো স্থান নেই, তাই তারা এখন মরিয়া।

রক্ষণশীলদের এক হাত নিলেন বারাক ওবামা

প্রেসিডেন্ট হলেই কি সব স্বাদ-আহ্লাদ উবে যাবে? এমনটা মনে করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আর তাই তো তিনি বেজায় খেপেছেন সমালোচকদের ওপর। ঘটনার সূত্রপাত স্ত্রী মিশেলকে সঙ্গে করে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে। এই তো মে মাসে স্ত্রীকে নিয়ে হোয়াইট হাউস ছেড়ে নিউইয়র্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওবামা। ম্যানহাটনে নৈশভোজ সারেন তাঁরা। স্ত্রীকে নিয়ে নাটক দেখেছেন নিউইয়র্কের নাট্যশালায়। এরপর একান্ত সঙ্গোপনে ছিলেন বেশ কিছু সময়।
হোয়াইট হাউসে ঢোকার পর রাজ্যের সব কাজে বিষণ্নতা চলে এসেছিল তাঁর জীবনে। তা থেকে মুক্তি পেতেই একটুখানি বেড়াতে যাওয়া। আর তাতেই নিন্দুকের চোখ ওপরে উঠে গেছে। সরকারি টাকা খরচ করে ওবামা আনন্দ করেছেন বলে সুর তুলেছে তারা। বিষয়টি মোটেই মেনে নিতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ওবামা।
এ ব্যাপারে জবাব দিতে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন ওবামা। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘নিন্দুকেরা আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। (সমালোচকদের জানা উচিত) প্রেসিডেন্ট না হলে আমি মিশেলকে নিয়ে নাটকপাড়ায় যেতেই বেশি পছন্দ করতাম।’ ওবামা আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় আমি মিশেলের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরও আমরা এমন জায়গায় বেড়াতে যাব, যেখানে কোনো ব্যস্ততা থাকবে না। থাকবে না আলোকচিত্রীদের বিড়ম্বনা।’
কিন্তু রক্ষণশীলেরা এর পর থেকেই বলে আসছে, স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে ওবামা নিরাপত্তা ও পরিবহন বাবদ যে অর্থ খরচ করেছেন, তার বোঝা বইছে মার্কিনরা। এ ব্যাপারে ওবামা বলেছেন, ‘রাজনীতির বাইরে গিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আমি বেড়াতে পারব না—এই ধারণা ঠিক নয়। বিষয়টি আমার মোটেই পছন্দ হচ্ছে না। দাম্পত্য জীবনটা হলো অন্য বিষয়। এটা ওয়াশিংটনের ঠুনকো রাজনীতির মতো নয়। আমার স্ত্রী ওয়াশিংটনের রাজনীতির বাইরে।’
নিউইয়র্ক টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনে ওবামা ও মিশেলের ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের নানা অনুষঙ্গও আলোচিত হয়েছে। ইলিনয় রাজ্যের সিনেট নির্বাচনের সময় দুজনের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছিল, তাও তুলে ধরা হয়েছে

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৪ জন নিহত

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি শহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৪৫ জন। গতকাল সোমবার শহরের সেনা সদরের কাছে একটি হোটেল ও ব্যাংক ভবনের সামনে বেতন তোলার জন্য কর্মীরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় ওই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বোমার আঘাতে চার তারকাবিশিষ্ট শালিমার হোটেল ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই ভবনে ব্যাংকটির কার্যালয়ও ছিল। পুলিশ এই হামলাকে আত্মঘাতী বোমা হামলা উল্লেখ করলেও উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, বিস্ফোরণের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আসলাম তারিন সাংবাদিকদের বলেন, আত্মঘাতী হামলাকারী একটি মোটরসাইকেলে আসে এবং বেতন তোলার জন্য জড়ো হওয়া কর্মীদের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলে আত্মঘাতী হামলাকারীর দেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কর্মীরা বেতন নেওয়ার জন্য ওই হোটেল ভবনের ব্যাংকের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের মুখপাত্র দিবা শেহনাজ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ৩৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি এবং এতে ৪৫ জন আহত হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিদের স্থানীয় তিনটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।’ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থানকারী একটি স্থানীয় কোম্পানির বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক রাজা শের আলী বলেন, ‘আমরা দোতলায় অবস্থান করছিলাম। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আমাদের ভবনটি কেঁপে ওঠে।’
গত মাসে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় তিন শতাধিক মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে অতি সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দপ্তরে তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তাব্যবস্থার এক নাজুক চিত্র তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি ইসলামাবাদে জাতিসংঘের এক দপ্তরে জঙ্গিদের হামলায় বেশ কয়েকজন জাতিসংঘকর্মী নিহত হন।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, আল-কায়েদা পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। গতকালের হামলার ঘটনায় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছেন, ‘এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে সরে আসব না।’
পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জাতিসংঘ দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে সংস্থার কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র ইশরাত রিজভি বলেন, তাঁদের দ্রুত অন্যত্র নিয়োগ করা হবে। এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ‘চার মাত্রার’ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছেন।

প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকি বাড়ছে

বিশ্বের তিন ভাগের এক ভাগের বেশি প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্যবিষয়ক এক গবেষণায় সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তাঁরা বলছেন, তাঁদের হাতে যে বৈজ্ঞানিক প্রমাণপত্র এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, নানা প্রজাতির বিলুপ্তির বিষয়টি দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন নেচার (আইইউসিএন) বিলুপ্তির হুমকির মুখে রয়েছে এমন ৪৭ হাজার ৬৭৭টি প্রজাতির একটি তালিকা করেছে। এর মধ্যে আবার ১৭ হাজার ২৯১টি প্রজাতি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ২১ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩০ শতাংশ উভচর, ৭০ শতাংশ উদ্ভিদ এবং ৩৫ অন্যান্য প্রজাতির।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের আন্দোলনের কর্মীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের আবাসন ধ্বংসের মতো জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর নানা ধরনের হুমকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কাজ করা হচ্ছে না। সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হবে না।
আইইউসিএনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ গ্রুপের পরিচালক জেন ম্মার্ট বলেন, প্রাণী ও উদ্ভিদকুলকে বাঁচাতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করতে হবে। আগামী বছর তাদের এজেন্ডায় এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিলুপ্তির হুমকির মুখে রয়েছে আইইউসিএনের এমন প্রজাতির তালিকা তৈরিতে সারা বিশ্বে হাজার হাজার বিজ্ঞানী কাজ করেছেন। সংগঠনটির সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উভচর প্রাণী। ছয় হাজার ২৮৫ উভচর প্রজাতির মধ্যে এক হাজার ৮৯৫টি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ভারতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অর্থ দেবে সরকার

বর্তমান যুগে চাকরি এক সোনার হরিণ। আর এই চাকরি পেতে বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষই থাকে ব্যাকুল। ভারতের চাকরিপ্রার্থীরাই বা বাদ যাবেন কেন? স্নাতক ডিগ্রিটা পেলেই চাকরি খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরাও। শিক্ষার্থীটি যদি হন বিজ্ঞানের, তাহলে তো কথাই নেই। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা না থাকায় এসব শিক্ষার্থী মৌলিক বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে পারেন না। ফলে জাতি হিসেবে ভারতকে নতুন আবিষ্কারের দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।
আর তাই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। এমএসসি ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানে পড়াশোনার জন্য দুই বছর অর্থ সহায়তা দেবে সরকার। শিগগিরই শুরু করা হবে এই আর্থিক সহায়তার প্রকল্প। সবকিছু দেখভাল করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।
এ অর্থ পাওয়ার জন্য মৌলিক বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত এমএসসি ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠাতে হবে। তবে ওই গবেষণার মাধ্যমে অবশ্যই কার্যকর কোনো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে হবে। সেটা হতে পারে নতুন কোনো পণ্য, কোনো বিষয়ে আরও সমৃদ্ধ জ্ঞান কিংবা মৌলিক বিজ্ঞানের নতুন কোনো সূত্র। শিক্ষার্থীদের পাঠানো প্রস্তাবনা বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত করবেন। যাদের প্রস্তাবনা গৃহীত হবে তাঁরা পরবর্তী দুই বছর এ বিষয়ে কাজ করতে অর্থ পাবেন।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চাকরি খুঁজতে গিয়ে মৌলিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এখন আর এমএসসি বা পিএইচডি করতে চান না। যার কারণে দেশের গবেষণা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মৌলিক বিজ্ঞানে ছাত্র ও গবেষণার হার কমে যাচ্ছে। এর পেছনে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা বড় একটা কারণ।
মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবনা বাতিল হয়ে যাবে—এমন ভয়ে ভীত না হতে তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। কারণ, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশে মৌলিক বিজ্ঞান শিক্ষাকে উত্সাহিত করা; তাই বাতিলের হার কমই হবে। তিনি জানান, এ অনুদান দুই বছর পর বন্ধ হয়ে যাবে। তখন নতুন আরও কিছু শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে এ অনুদান।
ওই কর্মকর্তা মনে করেন, শিক্ষার্থীকে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া অর্থ তার চলার জন্য যথেষ্ট। আর চাকরির ক্ষেত্রেও এই দুই বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। তারপরও যদি ওই শিক্ষার্থী চাকরি না পান মন্ত্রণালয় তার দেখভাল করবে বলে তিনি জানান।

ইমদাদুল হকের ভুবন by কাজী নুসরাত সুলতানা

আমার দাদাজান খান বাহাদুর কাজী ইমদাদুল হককে আমি চোখে দেখিনি। দেখার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ ১৯২৬ সালে ৪১ বছর বয়সে যখন তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন, তখন তাঁর ছয় সন্তানের প্রথমজন কাজী আনোয়ারুল হকের বয়স ১৬ এবং চতুর্থ সন্তান আমার বাবা কাজী নুরুল হকের বয়স ১০ বছর। কিন্তু তাঁর সমসাময়িক সাহিত্যিক ও বন্ধুজনের তাঁর সম্বন্ধে লেখা পড়ে এবং চাচা-বাবা-ফুফুদের কাছ থেকে গল্প শুনে তিনি আমার কাছে চেনা মানুষই হয়ে উঠেছেন। তাঁর জীবনদর্শন সম্পর্কে কিছুটা পরিচয় তাঁর উপন্যাস ‘আবদুল্লাহ’ পড়েও পাওয়া যায়। শিক্ষক কাজী ইমদাদুল হক-এর শিক্ষাদর্শনের পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলাম আমি; যা প্রবন্ধ আকারে বাংলা একাডেমী গবেষণা পত্রিকার মাঘ-চৈত্র, ১৪০৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
আজ ৪ নভেম্বর তাঁর ১২৭তম জন্মদিনে তুলে ধরতে চাই অন্য একটি দিকের পরিচয়।
১৯২১ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। কাজী ইমদাদুল হক তার প্রধান কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন। তখনই ঢাকার রমনা এলাকার ইস্কাটনে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমি কেনেন কাজী ইমদাদুল হক। জমি কিনে বিভিন্নরকম ফলের গাছসমৃদ্ধ বাগান গড়ে তোলেন তিনি। বেশকিছুটা খালি জমিও রাখেন, যেখানে লাগানো হতো মৌসুমী শাকসবজি। কলকাতার নার্সারি থেকে কেনা ফলের গাছের মধ্যে ছিল— হিমসাগর, গোপালভোগ, বোম্বাই, ফজলি, সিন্দুরী, কাঁচামিঠা প্রভৃতি আম এবং ফলসা, সফেদা, গোলাপজাম, কালোজাম, জামরুল, বেল, কেবল, কাঁঠাল, করমচা ইত্যাদি ফলের গাছ। বাগানের তথা জমির চৌহদ্দি বোঝার জন্য ছিল ডুরেন্টা আর টগরের বেড়া।
তখন ঢাকা শহর দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে উত্তরে ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন বা রেললাইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। রেললাইনের উত্তরে রমনা এলাকায় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভবন (বর্তমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন), মিন্টো রোডের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাল রঙা আবাসিক ভবন (বর্তমানে মন্ত্রীদের বাসভবন), এবং ঢাকার নবাবদের বাগান ও কিছু ছোট ছোট স্থাপনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসায় আসা-যাওয়া করতে গিয়েই কাজী ইমদাদুল হক লক্ষ করেন, মিন্টো রোডের ওই বাড়িগুলোর পর উত্তরদিকে বিস্তীর্ণ খালি জায়গা আর তার পর বেশ বড়সড় ঝিল বা জলাভূমি। বেশ ভালো লেগে গেল এলাকাটি তাঁর, আর তারই ফলে ওইখানে জমি কেনা।
জমি কেনার পর দুই ঘরের ছোট একটি বাড়ি তৈরি করিয়ে এখানে চলে এলেন শহর ছেড়ে। একটি দুইঘোড়ার গাড়িও কিনলেন অফিসে যাতায়াতের সুবিধার জন্য। এরপর ১৯২৪ সালে শুরু করেন আসল বাড়িটি। এক বছর ধরে বহু যত্নে ও পরিশ্রমে যে বাড়িটি গড়ে তোলা হলো, সেটি একটি মাটির বাড়ি। জমির মাটি কেটেই তৈরি হলো বাড়ি, গর্তটি পরিণত হলো একটি পুকুরে। মাটির বাড়ি তো ওভাবেই তৈরি হয়, এ আর এমন ফলাও করে বলার বিষয় হয় কি করে?
বলা অন্য কারণে। বাড়িটির বিশিষ্টতা তার গঠনশৈলীতে, যে শৈলীর রচয়িতা ছিলেন কাজী ইমদাদুল হক নিজে। দক্ষিণমুখী তিন ফুট উঁচু ভিতের ওপর ছিল বাড়িটি। ভিতের ঘেরাটি ছিল পাকা, ভেতরে মাটি, ওপরের মেঝেটি পাকা। বাড়িটিতে ঘর ছিল মোট পাঁচটি, বারান্দা ছিল তিন পাশ ঘিরে আট ফুট প্রস্থের, সিঁড়ি ছিল পাঁচ দিক দিয়ে। ঘরগুলো সব লাগোয়া, একটার ভেতর দিয়ে অন্যটায় যাওয়ার দরজা। জানালাগুলোও দরজার সমান বড় বড়, উত্তর ও দক্ষিণের প্রায় দেয়ালজুড়ে এবং পুবের ঘরের পুবের দেয়ালে একটি ও পশ্চিমের বড় ঘরের পশ্চিমের দেয়ালে একটি। জানালাগুলোর দুটি করে ভাগ ছিল, মেঝে থেকে তিন ফুট পর্যন্ত এক ভাগ এবং বাকি চার ফুটের আরেক ভাগ। প্রত্যেক ভাগের কপাট আলাদা আলাদা করে বন্ধ করা বা খোলা রাখা যেত।
বাড়ির ছাদটি ছিল টিনের। লাল রঙ করা। ১৯২৪ সালে তৈরি করার পর থেকে নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিকে ভাঙার আগে পর্যন্ত টিন বদলানোর প্রয়োজন পড়েনি। টিনগুলো বসানোর ক্ষেত্রেও বিশিষ্টতা ছিল। সাধারণত যেভাবে চালে টিন বসানো হয়, তার চেয়েও অনেক বেশি ঢালু করে বসানো হয়েছিল। ফলে ১৯৬৬ সালে ঢাকায় যে মারাত্মক ঝড় হয়েছিল, সেই ঝড়েও ওই চালের কোনো ক্ষতি হয়নি।
বাড়ির নকশা ছাড়াও কাজী ইমদাদুল হকের আগ্রহ ছিল, অন্য জিনিসপত্রের নকশা করায়। তিনি তাঁর গ্রন্থাগারের জন্য একটি চেয়ার তৈরি করিয়েছিলেন, যেটি খুললে একটি সিঁড়ি হয়ে যেত উপরের তাক থেকে বই নামানোর জন্য; আবার ভাঁজ করলেই চেয়ার হতো। তাঁর খাতায় একটি কোষা নৌকার নকশা রয়েছে, যা তিনি করেছিলেন অল্প ব্যয়ে মজবুত করে নৌকা তৈরি করার জন্য।
সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সাময়িকী প্রকাশক-সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি কাজী ইমদাদুল হক একজন সফল নকশাবিদও ছিলেন। প্রতিভার বহুমুখিতার তিনি ছিলেন এক অনন্য উদাহরণ।

আইলা-দুর্গতদের আর্তনাদ

চলতি বছরের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় খুলনার কয়রা উপজেলার ১১৯টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। চার মাস পরও বাড়ি ফিরতে পারছে না তারা। বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশগুলো সংস্কার না করায় তাদের বসতবাড়ি ও জমিতে পানি রয়ে গেছে। তারা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও রাস্তার পাশে ছোট ছোট খুপরি তৈরি করে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এখন তারা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানার সুবিধাও নেই। এ পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রম, পাউবোর উদ্যোগ ও টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধের কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে। তবে বাঁধের ভেঙে যাওয়া ১০টি জায়গা এখনো মেরামত করা হয়নি।
উপকূলবাসীর প্রাণের দাবি, বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করা হোক। শুধু তাই নয়, পাথর, কংক্রিট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে ও যাদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তাদের অতিসত্বর ঘরবাড়ি নির্মাণ ও চাহিদা অনুযায়ী কৃষিঋণ দেওয়া হোক। আশা করি, আইলা-দুর্গত কয়রাবাসীর সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
সাধন সরকার
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

যুদ্ধাপরাধের বিচার

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কাছে জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা হলো, তাদের আমলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। গত নির্বাচনে তাদের বিজয়ের পেছনেও এ ইস্যুটি বড় ভূমিকা রেখেছে। সরকার যদি এবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে, তাহলে তা হবে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার শামিল। দেশের জন্যও তা হবে ক্ষতিকর। যুদ্ধাপরাধীদের আইনের আওতায় এবার আনা না গেলে, পরে তা আর সম্ভব হবে কি না সন্দেহ। তাই এ সরকারকেই বিচারের কাজ সম্পাদন করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী যত বড় রুই-কাতলাই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারের কাছে অনুরোধ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বিচারকাজ শুরু করুন।
মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন
চট্টগ্রাম।

মাওবাদী ও ভারত -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জনবিরোধী যুদ্ধ by অরুন্ধতী রায়

কন্দ সম্প্রদায়ের সর্বজনীন বিধানদাতা দেবতা নিয়াম রাজার বাসস্থান নিয়ামগিরি পাহাড় বিক্রি করা হয়েছে বেদান্ত নামের এক কোম্পানির কাছে। বেদান্ত বিশ্বের বৃহত্তম খনি করপোরেশনের অন্যতম। এর মালিক অনীল আগরওয়াল লন্ডনের যে প্রাসাদে বাস করেন, সেটির মালিক ছিলেন ইরানের শাহ।
এসব পাহাড় ধ্বংস হলে পাহাড়কে পরিবেষ্টিত করে রাখা বনও ধ্বংস হবে। এখানে জন্ম নেওয়া নদী-নালা ও ঝরনার প্রবাহও থেমে যাবে। সমতলে আর সেচের পানি মিলবে না। ভারতের আরণ্যক কেন্দ্রে বসবাসকারী লাখ লাখ আদিবাসীর জীবন আজ এভাবেই আক্রান্ত।
শহরের কিছু মানুষ বলবে, ‘তাতে কী? প্রগতির জন্য কাউকে না কাউকে তো কোরবানি হতেই হবে। এবার এদের পালা। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশকে দেখুন—তারাও এ রকম উচ্ছেদ করেছে, আমাদের করতে দোষ কী?’ এমন ভাবনা থেকেই সরকার অপারেশন ‘সবুজ শিকার’ (গ্রিন হান্ট) ঘোষণা করেছে। এ যুদ্ধের ঘোষিত নিশানা মধ্য ভারতের অরণ্যের ভেতর গড়ে তোলা ‘মাওবাদী’ বিদ্রোহী ঘাঁটিগুলো। কেবল মাওবাদীরাই বিদ্রোহী নয়। ভারতজুড়েই ভূমিহীন, দলিত, বাস্তুহারা, শ্রমিক, কৃষক, তাঁতি জনসাধারণ লড়াইয়ে নেমে পড়েছে। তারা লড়ছে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, জনগণের জমি ও সম্পদ করপোরেট কোম্পানিকে দিয়ে দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে। তাদের শত্রুপক্ষ মহা প্রতাপশালী। দুই বছর আগে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মাওবাদীদের ‘সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে দাগিয়ে দেন। এ বছর ১৮ জুন লোকসভায় এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদবহুল এলাকায় চরম বামপন্থার বিস্তার ঘটলে বিনিয়োগের পরিবেশের ওপর নির্ঘাত এর প্রভাব পড়বে।’
এই মাওবাদী কারা? এরা নিষিদ্ধঘোষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)—সিপিআই (মাওবাদী)-এর সদস্য। ১৯৬৯ সালের নকশালবাড়ী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) অন্যতম উত্তরসূরি এই দল। মাওবাদীরা মনে করে, ভারতীয় সমাজের হাড়ে-মজ্জায় ঢুকে যাওয়া বৈষম্য দূর করার একমাত্র পথ ভারতীয় রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করা। ঝাড়খণ্ড ও বিহারে মাওবাদী কমিউনিস্ট কেন্দ্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশে জনযুদ্ধ গ্রুপের বিপুল জনসমর্থন ছিল। ২০০৪ সালে অল্প দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়ারানগালে তাদের এক জমায়েতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।
মধ্য ভারতে মাওবাদীদের গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় সবাই হতদরিদ্র ও দুর্ভিক্ষপীড়িত উপজাতীয়। তাদের সঙ্গে তুলনীয় কেবল সাহারা মরুর ভুখা মানুষেরা। স্বাধীনতার ৬০ বছর পরও এসব মানুষের জীবনে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বা আইনি অধিকারের সুযোগ আসেনি। দশকের পর দশক এরা নির্মম শোষণে বন্দী। ব্যবসায়ী ও মহাজনরা প্রতিনিয়ত এদের প্রতারিত করে, পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মীরা মনে করেন, এদের নারীদের ধর্ষণ করা তাঁদের অধিকার। মাওবাদী কর্মীরাই প্রথম তাদের মর্যাদা দিয়েছে, দশকের পর দশক তারা এদের সঙ্গে থেকেছে, কাজ করেছে এবং একসঙ্গে লড়েছে।
যে সরকার হিংসা ও অবজ্ঞা ছাড়া এদের কিছুই দেয়নি, সেই সরকার এখন তাদের শেষ সম্বল জমিটুকুও ছিনিয়ে নিতে চায়। তারা সরকারের উন্নয়নের বুলিতে বিশ্বাস করে না। এ জন্যই তারা আজ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। অন্যদিকে মাওবাদী আন্দোলনের লক্ষ্য ভারতীয় রাষ্ট্রের উচ্ছেদ হলেও এখন নেতারাও বুঝছেন যে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি অপুষ্ট আদিবাসীদের এই বাহিনী— যাদের অনেকেই জীবনে কখনো ট্রেন বা বাস বা এমনকি কোনো ছোট শহরও দেখেনি, তাদের লড়াই কেবলই টিকে থাকার জন্য। আর কিছু তারা বোঝে না।
২০০৮ সালে পরিকল্পনা কমিশন নিযুক্ত এক বিশেষজ্ঞ দল চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের চ্যালেঞ্জবিষয়ক এক প্রতিবেদন তৈরি করে। তাতে বলা হয়, ‘নকশাল (মাওবাদী) আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনের স্বীকৃতি দিতে হবে, যার শক্ত ভিত আছে ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষক এবং আদিবাসীদের মধ্যে। এ আন্দোলনকে সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা, সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়নের লড়াই হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’ এ বক্তব্য ‘সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি’র থেকে অনেক আলাদা।
যে জনগণ আজ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে, তারা টিভি দেখতে দেখতে (অথবা টিভির জন্য পারফর্ম করতে করতে) বা পত্রিকা পড়তে পড়তে বা কোনো এসএমএস জরিপে সময় ব্যয় করছে না। তারা মাঠে আছে। লড়াইয়ে আছে। তারা মনে করে, নিজেদের ঘরদোর ও জমিজিরাত রক্ষা করা তাদের অধিকার। তারা মনে করে ন্যায়বিচার প্রাপ্য তাদের।
এসব বিপজ্জনক মানুষদের হাত থেকে স্বচ্ছল নাগরিকদের নিরাপদ রাখতে সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সরকার বলছে, এ যুদ্ধ জিততে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। অদ্ভুত ব্যাপার যে ২৬/১১-তে মুম্বাই হামলার পরও সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলতে রাজি ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গেও কথা বলতে প্রস্তুত তারা। কিন্তু গরিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান কঠোর।
পুলিশের বিশেষ বাহিনী খুনের অনুমতি নিয়ে পাহাড়ে হন্যে হয়ে মাওবাদী খোঁজে; সেন্টাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ), বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ও কুখ্যাত নাগা ব্যাটালিয়ন ইতিমধ্যে গভীর বনের ভেতর গ্রামগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অমানবিক নৃশংসতা ঘটায়। সরকারি অস্ত্রে সজ্জিত সালওয়া জুদাম নামের মিলিশিয়ারা বনের ভেতর সামনে যাদের পেয়েছে, তাদের খুন, ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। তাদের কারণে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াদার তিন লাখ মানুষ বাস্তুহারা ও পলাতক। এখন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ ও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। ব্যবহার হবে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার। এরা সবাই গুলি করবে ‘আত্মরক্ষা’র খাতিরে। অথচ গরিব মানুষের সেই অধিকার নেই। খনি কোস্পানিগুলো এ যুদ্ধের জন্য মরিয়া। তাদের ধারণা, যে মানুষ এত দিন উচ্ছেদ ঠেকাতে সমর্থ হয়েছে, সহিংসতার চাপে তারা এবার সরে দাঁড়াবে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরাম অতীতে করপোরেট আইনজীবী হিসেবে বহু খনি কোম্পানির পক্ষে কাজ করেছেন, তিনি বেদান্তের পরিচালক ছিলেন, ২০০৪ সালে সেই পদ ছেড়ে ওই দিনই অর্থমন্ত্রী হন। এটি কী বার্তা বহন করে?
জনগণের ওপর নৃসংশতা নেমে এলে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া তাদের জন্য আর কী পথ খোলা থাকে? একমাত্র বিকল্প পথ আত্মহত্যা, ঋণের চক্রে আটকা পড়ে এক লাখ ৮০ হাজার কৃষক যেমন করেছে। প্রতিটি পাহাড়, নদী ও বনের ফাঁকা জায়গার জন্য চুক্তি করা আছে। সামাজিক ও পরিবেশগত অবিশ্বাস্য বদল ঘটানো হচ্ছে গোপনে, দক্ষতার সঙ্গে। শান্তিপূর্ণ পথে তা করা না গেলে, বলপ্রয়োগে তা আদায় করা হবে। মুক্তবাজার ব্যবস্থার চাপ ও প্রয়োজন এমনই।
জনগণ দেখেছে নদী শুকিয়ে গেছে, বন বিলীন হয়েছে, পানির স্তর নিচে নেমে গেছে; তারা বুঝতে পারছে তাদের প্রতি কী করা হয়েছে। আজ সারা ভারতে অস্থিরতা। জনগণ তাদের ভূমি, তাদের সম্পদে অধিকার ছেড়ে দিতে নারাজ, তাই প্রতিবাদ। তারা আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করতে চায় না। ভারতের উন্নতির জাহাজ চড়ায় আটকে গেছে। তাই পুঁজিপতিরাও মরিয়া। ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রাখতে হলে গণতন্ত্র থাকবে না। পাহাড় থেকে বক্সাইট আর লোহার আকরিক আহরণ, ভারতের ৮৫ শতাংশ মানুষকে তাদের জমি থেকে উত্খাত করে শহরে নিয়ে আসতে ভারতকে পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে উঠতে হবে। সামরিকায়নের পথে যেতে হবে। সামরিকায়নের জন্য দেখাতে হবে শত্রুর জুজুভীতি। আর মাওবাদীরা হলো সেই ‘শত্রু’। হিন্দু মৌলবাদীদের কাছে মুসলমানরা যেমন, করপোরেট মৌলবাদীদের কাছে মাওবাদীরাও তেমন। শুধু কয়েক হাজার মাওবাদীকে বন থেকে বের করে আনতে এত আয়োজন—এমন ভাবনা হবে বিরাট ভুল।
ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: আহসান হাবীব
অরুন্ধতী রায়: বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় ঔপন্যাসিক ও সমাজকর্মী

বাংলাদেশের সিরিজ জয় অভিনন্দন, তবে

বোলারদেরই কাঁধে ভর করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচটি জিতল বাংলাদেশ। স্পিনার-ত্রয়ী আবদুর রাজ্জাক, এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান এবং মিডিয়াম পেসার নাজমুল হোসেনের অসামান্য বোলিংয়ে মাত্র ৪৪ রানে অলআউট করা গেল জিম্বাবুয়েকে। একই সঙ্গে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিশ্চিত হলো সিরিজ বিজয়। অভিনন্দন বাংলাদেশ, অভিনন্দন!
আমরা আনন্দ করতেই পারি। কিন্তু আনন্দটাকে বাঁধভাঙা চেহারা পেতে দিলেন না ব্যাটসম্যানরা। এই অল্প কটা রান তাড়া করতে গিয়ে চারজন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে ফিরলেন। যেভাবে এলোপাতাড়ি খেলতে গিয়ে অন্তত দুজন ব্যাটসম্যান আউট হলেন, তা নিতান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হওয়ার প্রমাণ।
স্বভাবত প্রত্যক্ষ দায়টা ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু আমাদের ভেবে দেখাটা খুব জরুরি যে এ ধরনের আউট হয়ে ফেরা বা আত্মবিসর্জনের দায় শুধু ব্যাটসম্যানদের কি না। একটু তলিয়ে দেখলে আমরা সেই বহুল আলোচিত সিদ্ধান্তেই পৌঁছাব, ঘরোয়া ক্রিকেটের শোচনীয় অবস্থাই আমাদের ব্যাটসম্যানদের এই ‘শিক্ষা’ দিচ্ছে। বারবার দুনিয়ার সব ক্রিকেট-বিশ্লেষক তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত একটি মানসম্পন্ন ঘরোয়া ক্রিকেট-কাঠামো গড়ে তুলতে পারিনি আমরা; যে কাঠামো আমাদের ব্যাটসম্যানদের সত্যিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে অভ্যস্ত করতে পারে।
মনে রাখা দরকার, চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচটিই আমরা জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছি; যার কারণ হিসেবে অনেকেই এ সিরিজের আগের টি-টোয়েন্টিকে দায়ী করছেন। তাহলে কি আমরা অগ্র-পশ্চাত্ বিবেচনা না করে ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি তৈরি করছি! এসব বিষয় ক্রিকেট বোর্ডকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় স্বস্তির হলেও তা নিয়ে আমোদে ভেসে যাওয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। নানা কারণে খর্ব শক্তির জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাফল্যে ভেসে গেলে সমূহ বিপদ। সামনে আমাদের বড় বড় দলের বিপক্ষে পরীক্ষা দিতে হবে; বড় পরীক্ষাটা দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। ফলে ক্রিকেট বোর্ড বিজয়ের জোয়ারে গা না ভাসিয়ে সত্যিকারের ক্রিকেট-কাঠামো ও মান উন্নয়নে কাজ করবে, এটাই প্রত্যাশা।