Wednesday, December 23, 2009

গুয়ানতানামোর ১২ বন্দীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে

গুয়ানতানামো কারাগার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১২ জন বন্দীকে আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের কারাগারে রাখা হবে। মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিমে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় লরেন্স আঘাত হানার আশঙ্কায় গতকাল সোমবার সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এর প্রভাবে কিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাস থেকে বন্যা দেখা দেবে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ বলছে, গত সপ্তাহে তিমুর সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে আকরিক লোহাসমৃদ্ধ পিলবারা অঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সতর্ক বার্তায় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে যাওয়ার সময় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ২৬০ কিলোমিটার। ওই এলাকার লোকজনকে উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

তামিল গেরিলাদের জাহাজ আটক করেছে শ্রীলঙ্কা

তামিল গেরিলাদের ব্যবহার করা একটি জাহাজ আটক করেছে শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী। গতকাল সোমবার শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী এ কথা জানায়। একটি বিদেশি নৌবন্দর থেকে জাহাজটি আটক করা হলেও বন্দরের নাম জানায়নি তারা। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই জাহাজে করে অস্ত্র চোরাচালান করা হচ্ছিল।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন আথুলা সেনারাথ বলেন, ‘প্রিন্সেস ক্রিস্টিনা নামের ৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি একটি বিদেশি বন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। আমাদের ক্রুরা সেটিকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে এসেছে।’ সরকারের ধারণা, বিদ্রোহীদের অস্ত্রের মূল উত্স দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ ইউক্রেন।

ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরির আশপাশের এলাকায় সতর্কতা জারি

ফিলিপাইনে একটি আগ্নেয়গিরির আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার গ্রামবাসীকে অন্যত্র সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার কর্মকর্তারা জানান, মাউন্ট মায়োন আগ্নেয়গিরি এলাকা থেকে গ্রামবাসী নিজে থেকে সরে না গেলে জোর করে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে ।
অ্যালবেই প্রদেশের গভর্নর জোয়ে স্যালসেদা বলেন, ‘যে বাসিন্দারা বাড়ি ছাড়তে চাইবে না, তাদেরও সরিয়ে আনব আমরা।’ তিনি জানান, বিপত্সীমানার আট কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আরও কমপক্ষে এক হাজার ৩০০টি পরিবার অবস্থান করছে। প্রায় আট হাজার ৬০০টি পরিবারকে বিপজ্জনক এলাকার বাইরে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।

অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাতের নাম পাল্টাবেন শাভেজ

পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাতের নাম পাল্টানো হবে। ভেনেজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলের ওই জলপ্রপাতটি সারা বিশ্বে ‘অ্যাঞ্জেল ফলস’ নামে পরিচিত। সে দেশের প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ সম্প্রতি এ কথা বলেছেন।
জলপ্রপাতটি ১৯৩৭ সালে মার্কিন বিমানচালক জিমি অ্যাঞ্জেল আবিষ্কার করেন। এর পর থেকে তাঁর নামানুসারেই এটির পরিচিতি লাভ করে। শাভেজ তাঁর সাপ্তাহিক রেডিও এবং টেলিভিশন শো হ্যালো মি. প্রেসিডেন্ট-এ বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া হাস্যকর যে এক মার্কিন ভদ্রলোক বিমানে উড়ে এসে আমাদের জলপ্রপাতটি আবিষ্কার করেন। তার মানে এখানে জনবসতি ছিল না। কোনো মানুষ ছিল না।’ শাভেজ আরও বলেন, ‘এটাই সত্য যে অ্যাঞ্জেল সাহেব উড়ে আসার অনেক আগে থেকেই জলপ্রপাতটি আমাদের ছিল। এটিকে অ্যাঞ্জেল বলে আর ডাকা কারও উচিত নয়। স্থানীয় আদিবাসীরা জলপ্রপাতটিকে বলে কেরেপাকুপাই মেরু।’

সু চির গৃহবন্দিত্বের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল

মিয়ানমারের গণতন্ত্রী নেত্রী অং সান সু চির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। গতকাল সোমবার তাঁরা আপিলের পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন।
গত আগস্টে অং সান সু চির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ আরও ১৮ মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত অক্টোবরে আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল নিম্ন আদালত খারিজ করে দেন।
গতকাল সকালে শুনানি প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে। শুনানিতে সু চির আইনজীবীরা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা আইনসম্মত নয়। সু চির প্রধান আইনজীবী চি উইন এ কথা জানান।
চি উইন জানান, বিচারকেরা বলেছেন, আপিল চলার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সোমবার দিনের শেষে তাঁরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে আপিলের বিরুদ্ধে যুক্তি প্রদর্শনের জন্য সরকারি কৌঁসুলিদের আহ্বান জানানো হবে।
চি উইন বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে আমরা সবচেয়ে ভালো কিছু আশা করছি। আমরা সব সময় আশাবাদী।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সরাসরি সামরিক সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারি।’
শুনানির সময় অং সান সু চি আদালতে হাজির ছিলেন না। শুনানিতে সাংবাদিকদেরও প্রবেশাধিকার ছিল না। আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আদালতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল বেশ কড়া। সাদা পোশাকের পুলিশ আদালত এলাকায় টহল দেয়।

ফিলিপাইনে নির্বাচনপূর্ব জরিপে এগিয়ে অ্যাকুইনোর ছেলে

আগামী বছর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে করা একটি জরিপে দেখা গেছে, ফিলিপাইনের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী প্রয়াত কোরাজন অ্যাকুইনোর ছেলে বেনিগনো অ্যাকুইনো সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছেন। গতকাল সোমবার জরিপকারী সংস্থা পালস এশিয়ার করা ওই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা গেছে, ফিলিপাইনের আইনসভার সদস্য বেনিগনো ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন এবং ২৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তাঁর নিকটতম অবস্থানে রয়েছেন কোটিপতি আবাসন ব্যবসায়ী ও আইনসভার আরেক সদস্য মানি ভিলার। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ এস্ত্রাদার পক্ষে সমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ।
৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এক হাজার ৮০০ জন উত্তরদাতার মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। জরিপটি শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই ফিলিপাইনের নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন জমা দেওয়া আটজন প্রার্থীর মধ্যে চারজনকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। পালস এশিয়ার এই জরিপের আগে আরেকটি জরিপকারী সংস্থার পরিচালিত জরিপেও বেনিগনোর প্রতি জনসমর্থন প্রায় একই রকম ছিল।
১১ বছর ধরে আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক অর্জন নেই বেনিগনোর। গত আগস্টে মায়ের মৃত্যুর পর আলোচনায় আসেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন বেনিগনো।

জিহ্বা দিয়ে ছবি আঁকেন কেরালার অনিল!

যারাই তার ছবি দেখে, তারাই অবাক হয়ে যায়। হাতেও মানুষ এত সুন্দর ছবি আঁকতে পারে না, সেখানে তিনি জিহ্বা দিয়েই এঁকে চলেছেন সুন্দর সব ছবি। অবাক কাণ্ডই বটে! রঙের তুলির পরিবর্তে এখন জিহ্বা দিয়েই ছবি আঁকছেন ভারতের কেরালা রাজ্যের কোল্লাম শহরের ওই ড্রয়িং শিক্ষক। নাম কে অনিল। জিভে রং তুলে দিব্যি ছবি এঁকে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের।
গিনেস কর্মকর্তারাও জানিয়ে দিয়েছেন, অনিলের নাম শিগগিরই গিনেস বুকে উঠবে। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের একদল সদস্য সম্প্রতি গিয়েছিলেন কোল্লামে। তাঁদের সামনেই অনিল মাত্র ৯০ মিনিটে আড়াই ফুট লম্বা ও দেড় ফুট চওড়া একটি ক্যানভাসে জিভ দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ‘দ্য লাস্ট সাপার’ শীর্ষক একটি ছবি।
অনিল আগে ছবি আঁকতেন তুলি দিয়েই। সুনামির পর তাঁর আঁকা একটি ছবি নিয়ে তিনি যান স্থানীয় একটি সংবাদপত্র অফিসে ছাপানোর জন্য। পত্রিকা অফিস ওই সময় অনিলকে ফিরিয়ে দিয়ে বলে, ভিন্ন স্বাদের ছবি আঁকেন, ছাপা হবে। মনের কষ্ট চেপে বাড়ি ফিরে অনিল শুরু করেন জিহ্বা দিয়ে ছবি আঁকা। এরই মধ্যে অনিল এঁকে ফেলেছেন সহস্রাধিক ছবি।

থাইল্যান্ডে আটক উ. কোরীয় বিমানটি ইরানেই যাচ্ছিল

থাইল্যান্ডে আটক অস্ত্রবোঝাই উত্তর কোরীয় বিমানটি ইরান যাচ্ছিল। অস্ত্র পাচারের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল সোমবার একটি দৈনিক পত্রিকা এ তথ্য দিয়েছে।
দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ওই বিমানটি ইরানে অস্ত্র খালাস করার আগে শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউক্রেনে জ্বালানি ভরার জন্য বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
শিকাগোভিত্তিক ট্রান্সআর্মস এবং দ্য ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনফরমেশন সার্ভিসের (আপিআইএস) যৌথ তদন্তে তৈরি একটি খসড়া প্রতিবেদন থেকে এই নতুন তথ্য মিলেছে। এর আগে গত শুক্রবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর পরিচালক ডেনিস ব্লেয়ার বলেন, বিমানটি মধ্যপ্রাচ্য যাচ্ছিল।
জ্বালানি নেওয়ার জন্য গত ১১ ডিসেম্বর ওই বিমানটি ব্যাংককের ডন মুয়াং বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩৫ টন অস্ত্র উদ্ধার ও বিমানের চালক এবং চারজন ক্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ বিমানটিতে বহন করা অবৈধ অস্ত্র গত শনিবার বাজেয়াপ্ত করে।

লুইজিয়ানাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্য -গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যের মানুষ সবচেয়ে সুখী? রৌদ্রকরোজ্জ্বল ফ্লোরিডা নাকি বরফস্নাত মিনেসোটার নাগরিকেরা—এর জবাব মিলবে একটি নতুন জরিপ থেকে।
নতুন ওই গবেষণা জরিপে সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্যের তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য লুইজিয়ানা। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রয়েছে রৌদ্রস্নাত ফ্লোরিডা ও অন্য দুটি অঙ্গরাজ্য। তালিকার ২৬-এর মধ্যেও নেই মিনেসোটা।
ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যান্ড্রু ওসওয়াল্ড বলেন, কোন মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করলে নিজেকে সন্তুষ্ট মনে করে, তা গভীর মনোযোগের সঙ্গে শোনা উচিত। কারণ তাদের উত্তরগুলোর ওপর আস্থা রাখা যায়। তারা মনের গভীর থেকে এসব ব্যাপারে কথা বলে। গত মাসে অপর একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি সহিষ্ণু ও ধনী অঙ্গরাজ্যগুলোর মানুষ গড়পড়তা সবচেয়ে বেশি সুখী।
নতুন প্রতিবেদন আগের এই তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করেছে। লাইভসায়েন্স পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে গবেষক অ্যান্ড্রু ওসওয়াল্ড বলেন, আগের প্রতিবেদনটিতে ব্যক্তিমানুষের বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমাদের গবেষণায় এসব ব্যাপারেও আলোকপাত করা হয়েছে।
নতুন গবেষণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্য হলো লুইজিয়ানা, হাওয়াই, ফ্লোরিডা, টিনেজি, অ্যারিজোনা, মিসিসিপি, মনটানা, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, অ্যালাবামা ও মেইনে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করলে ভারত ও চীনকে চ্যালেঞ্জ করবে যুক্তরাষ্ট্র -গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ

কোপেনহেগেন অঙ্গীকারনামাকে ‘বড় ধরনের অগ্রযাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করে হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা বলেছেন, ভারত ও চীন যদি নিজেদের অঙ্গীকার করা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সিএনএন টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য চারটি দেশের সম্পাদিত সমঝোতার অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত ও চীন। বিষয়টি উল্লেখ করে ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড এক্সেলর্ড ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভারত ও চীন কী করছে, যুক্তরাষ্ট্র সেটা পর্যালোচনা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করলে দেশ দুটোকে চ্যালেঞ্জ জানানো হতে পারে।
ডেভিড আরও বলেন, ওবামার দৃঢ় নেতৃত্বের ফলস্বরূপ চীন, ভারতসহ অন্যান্য বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো এগিয়ে এসেছে। কোপেনহেগেন সম্মেলন শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁরা ওই অঙ্গীকারে পৌঁছাতে পেরেছেন।
ভারত, চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশগুলোর প্রতি স্বেচ্ছায় প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে পরে সেটা আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। ডেভিড বলেন, বিশ্বের অন্য বড় অর্থনৈতিক শক্তির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষাকৃত প্রতিকূল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চায় না ওবামা প্রশাসন।
কোপেনহেগেন অঙ্গীকারনামাকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে হোয়াইট হাউসের এই উপদেষ্টা বলেন, ওই খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও প্রচেষ্টার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।
বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি না থাকা সত্ত্বেও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের চেষ্টা চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

জলবায়ু পরিবর্তন আলোচনা ‘ছিনতাই’ করেছে চীন: ব্রিটিশ পরিবেশমন্ত্রী

ব্রিটেনের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অভিযোগ করেছেন, একটি আইনি বাধ্যবাধকতাসহ চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে কোপেনহেগেনে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আলোচনা ছিনতাই করেছে চীন। গতকাল সোমবার ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ অভিযোগ করেন তিনি। কোপেনগেহেনে গত শনিবার শেষ হওয়া সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা একটি অঙ্গীকারনামা গৃহীত হয়। অঙ্গীকারনামায় সম্মতি জানানোর আগে বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ এর বিরোধিতা করে।
নিবন্ধে মিলিব্যান্ড আরও অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও অসম্মতি জানান চীনা প্রতিনিধিরা। তিনি লিখেছেন, ‘উন্নত ও উন্নয়নশীল বেশির ভাগ দেশ বিশ্বাস করে, সব দেশের প্রতিশ্রুতি বা কর্মসূচিগুলো একটি আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকলেই কেবল একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে (জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে) এই বিশ্বকে রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু নেতৃস্থানীয় অনেক উন্নয়নশীল দেশই এখন এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছি।’
মিলিব্যান্ড উল্লেখ করেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ৫০ শতাংশ (উন্নত দেশগুলোর ৮০ শতাংশ) কমিয়ে আনার প্রস্তাব দুটিতে উন্নত দেশগুলোর জোট ও বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশ সমর্থন জানালেও তাতে ভোটো দিয়েছে চীন। ফলে এ ব্যাপারে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। গত দুই সপ্তাহে বিশ্ববাসীর সামনে একটি হাস্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে উল্লেখ করে মিলিব্যান্ড বলেন, ‘আমরা আলোচনার মূল বিষয়ের সারবস্তু এভাবে আবার ছিনতাই হতে দিতে পারি না।’

জলবায়ু নিয়ে আলোচনায় চীন এখন পরোক্ষ সিদ্ধান্তপ্রণেতা হয়ে উঠেছে

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনায় পরোক্ষ সিদ্ধান্তপ্রণেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পর্যবেক্ষকেরা অন্তত এটাই মনে করছেন। তাঁদের মতে, কোপেনহেগেনে সদ্যসমাপ্ত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পরোক্ষভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দেশটির। শুক্রবার একটি সমঝোতা খসড়া তৈরির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও দুবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পর্যবেক্ষকেরা জানান, মূলত ১২ দিনের ওই সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আগের অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসায় সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনায় নিজেদের প্রায় অনড় অবস্থান ধরে রাখার কারণে দেশটিকে কঠোর সমালোচনাও শুনতে হয়েছে।
চূড়ান্ত সমঝোতা প্রস্তাবে বিশ্বের উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়টি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে যে শর্ত রাখা হয়েছে, সেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মূলত চীনের চাপে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার ব্যাপারেও আপত্তি জানিয়েছে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো। তাদের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।
গ্রিনপিসের চীন শাখার জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রচার বিভাগের ব্যবস্থাপক ইয়াং আইলুন বলেন, সম্মেলনের শুরুতে চীন যে উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব রেখেছিল, তার চেয়েও অনেক দুর্বল একটি চূড়ান্ত সমঝোতা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। খুবই দুঃখের বিষয়, একটি যথাযথ চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে যে গতি সঞ্চার হয়েছিল, তা একটি দুর্বল সমঝোতায় পর্যবসিত হয়েছে। অবশ্য তিনি এটাও স্বীকার করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় চীন অনেক বেশি উদ্যোগী হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন নেচার কনজারভেন্সির কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ডিউটজ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ সম্পর্কে ওয়াশিংটনের কাছে আপনি যখনই প্রশ্ন তুলবেন, তখন এর জবাব আসবে এ রকম—এ ব্যাপারে চীন কী উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা আগে দেখুন।’
লন্ডনভিত্তিক পরিবেশবিষয়ক ব্লগ সাইট চায়নাডায়ালগ-এর সম্পাদক ইসাবেল হিলটন বলেন, অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, (কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে) চীন নিজের স্বার্থেই একটি নজরদারি ব্যবস্থা রাখতে চায়। কিন্তু সব সময়ই তাদের একটি সন্দেহ—যুক্তরাষ্ট্র চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত করার জন্য এই বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কূটনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ঝ্যাং হেইবিন বলেন, মৌলিক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে চীন এখনো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গেই রয়েছে, কিন্তু কোপেনহেগেন সম্মেলনে সুদান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
অঙ্গীকারনামাকে স্বাগত: সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জাইচি বলেন, ‘সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্মেলন থেকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক ফলাফল বেরিয়ে এসেছে।’

খুলনায় এবি ব্যাংকের এসএমই সেন্টার চালু

খুলনায় সম্প্রতি এবি ব্যাংক লিমিটেডের ষষ্ঠ এসএমই সেন্টার উদ্বোধন করা হলো। এটি উদ্বোধন করেন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার এ চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের হেড অব এসএমই ও ইভিপি মশিউর রহমান চৌধুরী, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান মো. মাহমুদুর রহমান, এভিপি (এসএমই ডিভিশন) মো. ফারুক আহম্মেদ এবং দক্ষিণ অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপকেরা।

পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা দূর করতে সভা

দেশে উত্পাদিত পাটজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিরাজমান প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যাগুলো দূরীকরণের বিষয়ে গত রোববার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বিদেশের সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পাটশিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্ব দেবে সরকার। তিনি এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। খবর তথ্য বিবরণীর।
বিজেএমসিকে ব্যাংক প্রদত্ত টাকার সুদ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিজেএমসি গৃহীত ঋণের গ্যারান্টার হবে সরকার। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাট ব্যবসায়ীরা যাতে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন, সে ব্যাপারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের তিনি অনুরোধ জানান। মন্ত্রী বলেন, পাট খাতকে লাভজনক পর্যায়ে উঠিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, তফসিলি ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও এমডি, বিজেএমসি, পাট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এক মন্ত্রণালয় বৈঠকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের আদেশের আগে যেসব পাট জাহাজীকরণের অপেক্ষায় ছিল, সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে।

আটকে আছে সৈয়দপুর বিসিকের সম্প্রসারণ by এম আর আলম ঝণ্টু

বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহায়ণ খাতে তাদের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুনভাবে ২০০ কোটি টাকার তহবিল জোগান দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে গৃহায়ণ খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পুনঃ অর্থায়ন তহবিল দাঁড়াবে ৭০০ কোটি টাকা।
এদিকে সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ইতিপূর্বে ৫০০ কোটি টাকার যে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল ছিল, তার প্রায় সবটাই ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, তাদের কাছে গত অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া পুনঃ অর্থায়ন তহবিলে মাত্র ২২ কোটি টাকা ছিল। নভেম্বর মাসের আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর পুরো অর্থই বিতরণ হয়ে যাবে, এমনকি কিছু ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।
গত ২০০৭ সালে জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তহবিল গঠন করে। কিন্তু প্রথম দিকে পুনঃ অর্থায়ন-সুবিধার কিছু শর্তের কারণে গ্রাহক এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারেননি। পরে শর্ত শিথিল করায় ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় এবং দ্রুত পুনঃ অর্থায়ন তহবিল ব্যবহার হতে থাকে।
উল্লেখ্য, আবাসন খাতে এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশন, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় শুধু আবাসিক ব্যবহারের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় অথবা তৈরির জন্য এই ঋণ দেওয়া হয়। অনধিক এক হাজার ২৫০ বর্গফুট অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এই ঋণ প্রযোজ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবাসনচাহিদা মেটাতে গৃহায়ণ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম প্রণয়ন করে গত ২০০৭ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে। শুরুতেই স্কিমের শর্তে বলা ছিল, যাঁদের মাসিক মোট আয় অনধিক ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাঁরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে গৃহায়ণ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।
কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা অনুসারে, প্রথম দিকে গ্রাহকেরা এই ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাননি বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তা বিতরণে তেমন উদ্যোগী হয়নি। পরে কয়েকটি নীতি সংশোধন করা হয়। তাতেও খুব লাভ হয়নি। সূত্র জানায়, স্কিম ঘোষণার পর প্রথম ছয় মাসে মাত্র ছয় কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনরায় ‘গৃহায়ণ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম’-এর সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করে নতুন নির্দেশ জারি করে।
এই নতুন নির্দেশে যাঁদের মোট মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে, তাঁরা এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃ অর্থায়নে গৃহায়ণ খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের পরিবর্তে নয় শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়।
আবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পুনঃ অর্থায়ন চেয়ে আবেদন করার যে নিয়ম আগে করেছিল, যা সংশোধন করে এক মাস অন্তর আবেদন করার সুযোগ দেয়। এ ছাড়া চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে গৃহনির্মাণ ঋণ কর্মসূচি বা স্কিম থাকলে তাঁদের ঋণ না দেওয়ার বিধান আগে করা হয়েছিল। এ নিয়মও সংশোধন করে বলা হয়, কেউ যদি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এ সুবিধা না নিয়ে থাকেন, তবে তিনি এই পুনঃ অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণসুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
এরপর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় এবং ঋণের চাহিদা বাড়ে। প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে ১০০ কোটি টাকা ধরে তিন বছরে ৩০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে গৃহায়ণ খাতের এই স্কিম হাতে নেয়। পরে তা বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ তহবিল থেকে ব্যাংক রেটে অর্থাত্ পাঁচ শতাংশ সুদের হারে পুনঃ অর্থায়ন দেওয়া হয়। আর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক পর্যায়ে এর সঙ্গে আরও চার শতাংশ যোগ করে সর্বোচ্চ নয় শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিতে পারে।
অবশ্য সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তহবিল নিম্নমধ্যবিত্ত তো বটেই এমনকি মধ্যবিত্তদের আবাসনসমস্যা সমাধানে কতটা ভূমিকা রেখেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চমধ্যবিত্তরাই এ তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। যাঁদের হাতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ ছিল, তাঁরাই কেবল ব্যাংকগুলো থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ করে ফ্ল্যাট কিনতে উদ্যোগী হয়েছেন। কেননা ঢাকা ও এর আশপাশে এক হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য এখন ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। জানা যায়, এ তহবিলের বড় অংশই ফ্ল্যাট কিনতে গ্রাহকের ঋণ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
তবে সূত্রগুলো বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আরও একটু শিথিলতা এনে নিম্নমধ্যবিত্তদের আবাসনসমস্যা সমাধানে তহবিল জোগান দিতে পারে। বিশেষত, ঢাকা শহর ও এর আশপাশে নিম্নমধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্তদের আবাসনসমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হাউজিং ডেভেলপার, ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করতে পারে।
জানা যায়, এই তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ করলে গ্রাহককে ব্যাংকভেদে মাসিক ১৭ হাজার ৭৮০ টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া হয়। ফলে যাঁদের উদ্দেশ্য করে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে, তাঁদের পক্ষে মাসিক কিস্তি পরিশোধ কষ্টকর। আর মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তের পক্ষে শুরুতেই ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার নগদ অর্থের সংস্থানও প্রায় অসম্ভব।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহায়ণ তহবিলে আরও ২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর উদ্যোগ -ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহায়ণ খাতে তাদের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুনভাবে ২০০ কোটি টাকার তহবিল জোগান দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে গৃহায়ণ খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পুনঃ অর্থায়ন তহবিল দাঁড়াবে ৭০০ কোটি টাকা।
এদিকে সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ইতিপূর্বে ৫০০ কোটি টাকার যে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল ছিল, তার প্রায় সবটাই ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, তাদের কাছে গত অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া পুনঃ অর্থায়ন তহবিলে মাত্র ২২ কোটি টাকা ছিল। নভেম্বর মাসের আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর পুরো অর্থই বিতরণ হয়ে যাবে, এমনকি কিছু ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।
গত ২০০৭ সালে জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তহবিল গঠন করে। কিন্তু প্রথম দিকে পুনঃ অর্থায়ন-সুবিধার কিছু শর্তের কারণে গ্রাহক এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারেননি। পরে শর্ত শিথিল করায় ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় এবং দ্রুত পুনঃ অর্থায়ন তহবিল ব্যবহার হতে থাকে।
উল্লেখ্য, আবাসন খাতে এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশন, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় শুধু আবাসিক ব্যবহারের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় অথবা তৈরির জন্য এই ঋণ দেওয়া হয়। অনধিক এক হাজার ২৫০ বর্গফুট অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এই ঋণ প্রযোজ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবাসনচাহিদা মেটাতে গৃহায়ণ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম প্রণয়ন করে গত ২০০৭ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে। শুরুতেই স্কিমের শর্তে বলা ছিল, যাঁদের মাসিক মোট আয় অনধিক ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাঁরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে গৃহায়ণ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।
কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা অনুসারে, প্রথম দিকে গ্রাহকেরা এই ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাননি বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তা বিতরণে তেমন উদ্যোগী হয়নি। পরে কয়েকটি নীতি সংশোধন করা হয়। তাতেও খুব লাভ হয়নি। সূত্র জানায়, স্কিম ঘোষণার পর প্রথম ছয় মাসে মাত্র ছয় কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনরায় ‘গৃহায়ণ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম’-এর সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করে নতুন নির্দেশ জারি করে।
এই নতুন নির্দেশে যাঁদের মোট মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে, তাঁরা এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃ অর্থায়নে গৃহায়ণ খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের পরিবর্তে নয় শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়।
আবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পুনঃ অর্থায়ন চেয়ে আবেদন করার যে নিয়ম আগে করেছিল, যা সংশোধন করে এক মাস অন্তর আবেদন করার সুযোগ দেয়। এ ছাড়া চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে গৃহনির্মাণ ঋণ কর্মসূচি বা স্কিম থাকলে তাঁদের ঋণ না দেওয়ার বিধান আগে করা হয়েছিল। এ নিয়মও সংশোধন করে বলা হয়, কেউ যদি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এ সুবিধা না নিয়ে থাকেন, তবে তিনি এই পুনঃ অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণসুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
এরপর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় এবং ঋণের চাহিদা বাড়ে। প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে ১০০ কোটি টাকা ধরে তিন বছরে ৩০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে গৃহায়ণ খাতের এই স্কিম হাতে নেয়। পরে তা বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ তহবিল থেকে ব্যাংক রেটে অর্থাত্ পাঁচ শতাংশ সুদের হারে পুনঃ অর্থায়ন দেওয়া হয়। আর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক পর্যায়ে এর সঙ্গে আরও চার শতাংশ যোগ করে সর্বোচ্চ নয় শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিতে পারে।
অবশ্য সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তহবিল নিম্নমধ্যবিত্ত তো বটেই এমনকি মধ্যবিত্তদের আবাসনসমস্যা সমাধানে কতটা ভূমিকা রেখেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চমধ্যবিত্তরাই এ তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। যাঁদের হাতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ ছিল, তাঁরাই কেবল ব্যাংকগুলো থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ করে ফ্ল্যাট কিনতে উদ্যোগী হয়েছেন। কেননা ঢাকা ও এর আশপাশে এক হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য এখন ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। জানা যায়, এ তহবিলের বড় অংশই ফ্ল্যাট কিনতে গ্রাহকের ঋণ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
তবে সূত্রগুলো বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আরও একটু শিথিলতা এনে নিম্নমধ্যবিত্তদের আবাসনসমস্যা সমাধানে তহবিল জোগান দিতে পারে। বিশেষত, ঢাকা শহর ও এর আশপাশে নিম্নমধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্তদের আবাসনসমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হাউজিং ডেভেলপার, ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করতে পারে।
জানা যায়, এই তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ করলে গ্রাহককে ব্যাংকভেদে মাসিক ১৭ হাজার ৭৮০ টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া হয়। ফলে যাঁদের উদ্দেশ্য করে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে, তাঁদের পক্ষে মাসিক কিস্তি পরিশোধ কষ্টকর। আর মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তের পক্ষে শুরুতেই ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার নগদ অর্থের সংস্থানও প্রায় অসম্ভব।

পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান আগামী ফেব্রুয়ারিতে -আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত

আগামী জানুয়ারিতে পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে দাতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং ফেব্রুয়ারিতে এটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গতকাল সোমবার পদ্মা সেতুর অর্থায়নবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিসংক্রান্ত উপদেষ্টা মসিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আগামী জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), জাপান এবং অন্য আরেকটি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণব্যয় বেড়ে ২৪০ কোটি ডলার দাঁড়াবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, সেতুটি নির্মাণে এখন পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে ১৪ কোটি ডলার। বাকি অর্থের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকারের আমলেই এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রধান দাতা সংস্থা কে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে দাতারা বলেছে, সরকার যাকে প্রধান দাতা সংস্থা মনে করবে, তাই তারা মেনে নেবে। এ ব্যাপারে একটি খসড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন জানান, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) বাড়বে ১ দশমিক ২ শতাংশ।
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সুপারিশ মেনে ২০০৪ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের স্থান মাওয়া-জাজিরা নির্ধারণ করা হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় মোট আট হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) একনেকের অনুমোদনের জন্য পেশ করে। কিন্তু বিদেশি অর্থের সংস্থান নিশ্চিত না হওয়া এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ব্যয় ধরা হয়েছে বলে প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকায় পদ্মা নদীর ওপর ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সেতু স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত এপ্রিল মাসে নিউজিল্যান্ডের পরামর্শক সংস্থা মুনসেল লিমিটেডের সঙ্গে ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নকশার কাজ শেষ করার জন্য চুক্তি করে।

পাকিস্তানকে সমীহ পন্টিংয়ের

এভাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকেই রক্তচক্ষু দেখানো—গত দেড় দশকের অস্ট্রেলীয় ‘একদলীয়’ শাসন বিবেচনায় ক্রিকেট-বিশ্বে নতুন ঘটনাই। গত সিরিজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘জিততে চাই’ ঘোষণা দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াতে পা রেখেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াইয়ের সাক্ষী হওয়া পাকিস্তান দলও পাচ্ছে বাড়তি প্রেরণা। যে প্রেরণা থেকে অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও জানাচ্ছেন, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের কাজটা এবারই সেরে ফেলতে চান।
ওদিকে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা দেখুন। চিরকালই মাঠের লড়াই শুরুর আগে কথার লড়াই দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করার চিরাচরিত প্রথা থেকে সরে এসে রিকি পন্টিং একদম উল্টো অবস্থানে। এই পাকিস্তানকে যে সমীহ পাচ্ছেন, সে কথা ঠারেঠোরে জানিয়েই দিলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক।
পাকিস্তানকে সমীহ করার মূলে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের বৈচিত্র্যে, ‘আমরা জানি, ওরা খুবই বিপজ্জনক দল। ওদের ফাস্ট বোলিং আক্রমণটা আবারও সুসংগঠিত হয়েছে। তরুণ বাঁহাতি বোলারটি (মোহাম্মদ আমির) তো বেশ মনে ধরার মতো। মোহাম্মদ আসিফ আবার দলে ফিরেছে। উমর গুলও ভালো বোলার। কানেরিয়াও বিশ্বমাপের স্পিনার। আজমলও। এই সিরিজে মেলবোর্ন আর সিডনিতে ম্যাচ আছে। তাই একটা ভয়ংকর বোলিং আক্রমণের যে মুখোমুখি হতে হবে আমাদের—তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’
বোলিং আক্রমণের কথা আগে বললেও পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদেরও অগ্রাহ্য করছেন না পন্টিং, ‘পুরো দলটার ওপর চোখ বোলালে আপনি দেখবেন, ওদের বেশ কিছু ব্যতিক্রমী খেলোয়াড় আছে। তাই একটা দল হিসেবে ওরা খেলতে পারলে আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।’
দুদলের পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে, এতটা আতঙ্কগ্রস্ত পন্টিং না হলেও পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় ২৯ টেস্ট খেলে মাত্র ৪টিতে জিতেছে পাকিস্তান। ঘরে-বাইরে মিলিয়ে হেরেছে সর্বশেষ নয় টেস্টের প্রতিটাই। সর্বশেষ ১৭ টেস্টের মধ্যে জিতেছে মাত্র একটি। সেই জয়টাও আবার ১৪ বছর আগের ঘটনা। গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো সিরিজই জেতেনি তারা। অবশ্য সেই অস্ট্রেলিয়া আর এই অস্ট্রেলিয়া দল এক নয়। কারণ গত প্রায় পাঁচ বছরে টেস্টে এই দুদল মুখোমুখিই হয়নি। যে সময়টায় অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে তাদের সেরা খেলোয়াড়দের।
নিউজিল্যান্ড সফরে ১-১-এ ড্র করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা পাকিস্তান তাই এটাকে তাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ মনে করছে। পাঁচ বছর আগে এই অস্ট্রেলিয়াতেই প্রথম টেস্ট নেতৃত্বের স্বাদ পাওয়া ইউসুফ স্বপ্ন দেখছেন, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জেতা প্রথম পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবেও ইতিহাসে ঠাঁই পাবে তাঁর নাম।
যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছ থেকে প্রেরণা খুঁজছে পাকিস্তান, তারা আরও একটি উপকার করে গেছে তাদের। কেমার রোচের আঘাতে আহত পন্টিং বক্সিং ডে টেস্টে খেলবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ঘোষিত ১৩ জনের দলে পন্টিংকে রাখা হলেও সংশয়ের কারণেই তাঁর বিকল্প হিসেবে দলে রাখা হয়েছে ফিলিপ হিউজকেও। তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট।
অস্ট্রেলিয়া দল: শেন ওয়াটসন, সাইমন ক্যাটিচ, ফিলিপ হিউজ, রিকি পন্টিং (অধিনায়ক), মাইক হাসি, মাইকেল ক্লার্ক, মার্কাস নর্থ, ব্র্যাড হাডিন, মিচেল জনসন, নাথান হরিজ, পিটার সিডল, ক্লিন্ট ম্যাকে ও ডগ বলিঞ্জার।

জুভেন্টাসের ‘বি’ ও ‘সি’ কুফা

টানা ৬টি ম্যাচ জয় দিয়ে জুভেন্টাসের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সিরো ফেরারা। আর এখন এই সুদিন তিনি হারিয়ে খুঁজছেন। সর্বশেষ ১৮ ম্যাচের মাত্র ৭টি জিতেছে জুভেন্টাস। একের পর এক পরাজয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম রাউন্ড থেকে যেমন ছিটকে পড়তে হয়েছে, তেমনি সিরি ‘আ’তে এসি মিলানের কাছে হারাতে হয়েছে দ্বিতীয় স্থান। সর্বশেষ লিগ ম্যাচটিতে পরশু কাতানিয়ার কাছে ১-২ গোলে হেরেছে জুভেন্টাস।
জুভেন্টাসের এ অবস্থার সঙ্গে একটা অদ্ভুত মিলও খুঁজতে পারেন কেউ কেউ। আসলে বারবার ‘বি’ ও সি’-তেই আটকে যাচ্ছে তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ দুটি ম্যাচে তারা হেরেছে বোর্দো ও বায়ার্নের কাছে। দুটি দলের আদ্যাক্ষরই ‘বি’। আর সিরি ‘আ’তে সর্বশেষ তিনটি ম্যাচে যাদের কাছে হেরেছে তাদের দুটির আদ্যাক্ষর ‘সি’—ক্যালিয়ারি ও কাতানিয়া এবং আরেকটির...ঠিকই অনুমান করেছেন...‘বি’—বারি!

রানার্সআপ বিমান

শেষ বলে মোহামেডানের কাছে হেরে রানার্সআপও হতে পারল না আবাহনী। কাল সিসিএসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে রানার্সআপ হয়ে গেছে বিমান। আবাহনী ও বিমান দুদলের পয়েন্ট (২৫) হলেও লিগের প্রথম পর্বে মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় এগিয়ে দিয়েছে বিমানকে। সুপার লিগে দুদলের ম্যাচটি হয়েছিল ‘টাই’।
ফতুল্লায় তাপস ঘোষ (৮৫) ও নাজমুলের (৮৯) হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৯.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয়ে যায় সিসিএস। ২৪ বল বাকি থাকতেই এই রান টপকে যায় বিমান। সর্বোচ্চ ৫৫ রান ওপেনার মুশফিকুর রহিমের, ৫৪ করেছেন হাশান্থা ফার্নান্দো। ধানমন্ডিতে কলাবাগান-ভিক্টোরিয়া ম্যাচটি ছিল দুই ব্যাটসম্যান আবুল বাশার ও মোহাম্মদ জাহিদের লড়াই। ভিক্টোরিয়ার বাশার করেছেন ১০১, কলাবাগানের পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান জাহিদ ১০৭। রানসংখ্যার মতো ম্যাচের ফলেও জয়ী জাহিদ। ভিক্টোরিয়া ৫০ ওভারে ২৫৯ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর জাহিদের কল্যাণে ৪৪.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কলাবাগান।

প্রদর্শনী হ্যান্ডবলে জয় বাংলাদেশের

কক্সবাজার স্টেডিয়ামে কাল প্রদর্শনী হ্যান্ডবলে জাপান বিশ্ববিদ্যালয় দলকে ১৯-১৮ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দল। এর আগে জাপান হ্যান্ডবল প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় হ্যান্ডবল কোচেস অ্যান্ড রেফারিজ কোর্স। এতে অংশ নেন ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী। প্রশিক্ষণ শেষে সবার হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হুসাইন।

সেঞ্চুরিটা হলো না টেন্ডুলকারের -ওয়ানডে সিরিজ

দিনেশ কার্তিকের বাউন্ডারিতে এল জয়সূচক রান। তবু ওই বাউন্ডারির পর একটুও উচ্ছ্বাস নেই কার্তিকের। জয়ের জন্য যখন ভারতের দরকার ২ রান, সেঞ্চুরির জন্য টেন্ডুলকারের ৪। বোলার লাসিথ মালিঙ্গাকে ঠেকাতেই গিয়েছিলেন কার্তিক। কিন্তু বল ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপার সাঙ্গাকারাকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় সীমানার বাইরে। ৭ উইকেটে ভারতের জয় নিশ্চিত করা ওই বাউন্ডারিতেই ম্যাচে টেন্ডুলকারের ৪৬তম সেঞ্চুরি না পাওয়াটাও নিশ্চিত হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষের অনেক আগেই জয়টা ‘অবধারিত’ হয়ে গিয়েছিল ভারতের। তখন দেখার ছিল একটাই—টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি হয় কি না। তাঁর সেঞ্চুরি না পাওয়ার অতৃপ্তিটা বাদ দিলে বড় জয়ই পেয়েছে ভারত। শেবাগের (২৮ বলে ৪৪) মারমুখী ব্যাটিংয়ে ৬.৩ ওভারেই বিনা উইকেটে ৫০ রান করে ভারত। ৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটির পর গম্ভীরের সঙ্গে টেন্ডুলকারের ৭২ রান ভারতের সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেয়। আর চতুর্থ উইকেটে টেন্ডুলকার-কার্তিকের (৩৬*) ৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৭.২ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয় ভারতকে। টেন্ডুলকারের ১০৪ বলের ইনিংটিসে আছে ১৩টি চার।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১ উইকেটে ২২.২ ওভারে করে ১৬৫। তার পরও তারা ৪৪.২ ওভারে অলআউট। মাঝখানের ২২ ওভারে যা হলো, সেটিকে শ্রীলঙ্কানরা বলতে পারে ‘সুনামি’। যে সুনামির আঘাতে মাত্র ৭৪ রানে শ্রীলঙ্কার শেষ ৯ উইকেটের পতন!
প্রথম দুই ম্যাচের মতো রান-বন্যা হবে না, সেটি কটকের পরিসংখ্যানই বলছিল। এই মাঠে ৩০০ পেরোনো ইনিংস একটাই। কিন্তু ব্যাট হাতে যখন ছন্দে থাকেন তিলকরত্নে দিলশান, তখন কী আসে-যায় অতীত পরিসংখ্যানে!
শুরুটা করেছিলেন জহির খানের করা প্রথম ওভারেই, দুটো চার মেরে। ইশান্ত শর্মার করা পরের ওভারে চার মারলেন টানা তিনটি। ইশান্তের পরের ওভারে আবারও টানা তিনটি চার মেরে তাঁর দলে ফেরার আনন্দটাই উধাও করে দিলেন। ১৭ বলে ৪১। এর মধ্যে ৪০ রানই হলো কেবল চার থেকে। দিলশান-তাণ্ডবে ভারত যখন দিশেহারা, তখনই ত্রাতার ভূমিকায় আশীষ নেহরা। দিলশানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানালেন, যেখানে দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞায় অনুপস্থিত মহেন্দ্র সিং ধোনির বদলে দিনেশ কার্তিক। স্কোরবোর্ডে শ্রীলঙ্কা ৬.২ ওভারে ৬৫/১। এরপর থারাঙ্গার সঙ্গে সাঙ্গাকারার শতরানের জুটি; বড় স্কোর স্বপ্নই দেখাচ্ছিল শ্রীলঙ্কাকে। কিন্তু এরপরই লঙ্কান ইনিংসের হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া।
৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার রবীন্দ্র জাদেজা, ম্যান অব দ্য ম্যাচও।