Monday, August 1, 2011

আদর্শিক রাজনীতির প্রতীক

আপনাদের কারও কারও মনে থাকতে পারে, ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই খুলনা ডিসি অফিসের সামনে প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রতন সেনকে খুন করা হয়। ঘটনাটি ঘটে প্রকাশ্য দিবালোকে। অজাতশত্রু এই মানুষটির হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে খুলনা তথা বাংলাদেশ।
সর্বস্বত্যাগী, নির্লোভ, নিরহংকার এই মানুষটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। তাঁর হত্যার বিচার হয়নি, বিচারের নামে হয়েছে প্রহসন। হত্যার পরিকল্পনাকারীদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তারা খালাস পেয়ে যায়। রতন সেন হত্যার পুনঃ তদন্ত ও পুনর্বিচারের দাবি এখনো উপেক্ষিত। পুনর্বিচারের জন্য হাইকোর্ট মামলাটি গ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে তা স্থগিত হয়ে আছে।
১৯৭৩ সাল থেকে রতন সেন ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ১৯৮৯ সালে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব পালনের জন্য কিছুদিন ঢাকায় অবস্থান করেন। কিন্তু গ্রামে থেকে কাজ করার জন্য তিনি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে খুলনায় ফিরে আসেন। তিনি ছিলেন সিপিবির খুলনা জেলার সভাপতি।
১৯২৩ সালের ৩ এপ্রিল বরিশালের উজিরপুরে রতন সেনের জন্ম। বাবা নরেন্দ্রনাথ সেন ছিলেন খুলনার দৌলতপুর ব্রজলাল কলেজের প্রধান অফিস সহকারী। রতন সেনের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দৌলতপুরে। মুহসীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ব্রজলাল কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করেন তিনি। বড় চাকরি নিয়ে মধ্যবিত্তের আয়েশি জীবন যাপনের সুযোগ ত্যাগ করেন, গ্রহণ করেন শ্রমিকশ্রেণীর দর্শন।
বড় ভাই বিপ্লবী মোহিত সেনের কাছে রাজনীতির দীক্ষা নিয়ে রতন সেন যুক্ত হন ব্রিটিশবিরোধী সন্ত্রাসবাদী ধারার আন্দোলনে। স্কুলছাত্র থাকাকালেই যোগ দেন নিখিল বঙ্গ ছাত্র সমিতিতে। কলেজজীবনে নেতৃত্ব দেন ছাত্র ফেডারেশনে। ১৯৪২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। পার্টির নির্দেশে যুক্ত হন শ্রমিক আন্দোলনে। পরবর্তী সময়ে কৃষক আন্দোলনের দায়িত্ব পেলে তেভাগা ও জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের আন্দোলন গড়ে তোলেন। ভারতীয় কৃষাণ সভা এবং পরে কৃষক সমিতির নেতৃত্ব দেন। তিনি ছিলেন কৃষক সমিতির খুলনা জেলার সভাপতি। ছিলেন অবৈধ চিংড়িঘেরবিরোধী আন্দোলনের রূপকার।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন নেমে আসে। রাজশাহী জেলে সাতজন কমিউনিস্ট বন্দীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জেল থেকে মুচলেকা দিয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য করা হয় কমিউনিস্ট কর্মীদের। নির্যাতন সহ্য করেও যাঁরা দেশেই থেকে গিয়েছিলেন, রতন সেন ছিলেন তাঁদের একজন।
সব মিলিয়ে রতন সেনের জেলজীবন ১৭ বছরের, আত্মগোপন আরও পাঁচ-ছয় বছরের। ১৯৪৮ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গাড়ির পেছনে বেঁধে এক মাইল টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে আসা হয়। কয়েক দিনের ওপর নির্যাতন বন্ধ, রাজবন্দীদের মর্যাদা বৃদ্ধি, কমিউনিস্ট বন্দীদের আন্দোলনে রতন সেন নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে, বালিশ ছাড়া মেঝেতে ঘুমানো তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।
ষাটের দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনে বিভক্তি দেখা দিলে রতন সেন ছাড়া খুলনার পার্টির নেতৃত্বের প্রায় সবাই পিকিংপন্থী ব্লকে চলে যান। কয়েকজন ছাত্র কমরেডকে নিয়ে তিনি পার্টি গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় খুলনায় সিপিবির মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধে রতন সেন ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনী’র সংগঠক ছিলেন। তরুণদের সংগঠিত করে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পশ্চিমবঙ্গের পানতোড়, টার্কি মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে তিনি ছাত্র-তরুণদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দেন।
স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে খুলনায় রতন সেন ছিলেন প্রধান নেতা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন চলাকালে স্বাধীনতাবিরোধীরা খুলনায় ৩৫ জন নেতাকে ‘ভারতের দালাল’ বলে ঘোষণা করে এবং রতন সেনের নাম ছিল শীর্ষে। এ ঘটনার দুই মাসের মধ্যেই তিনি খুন হন।
কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলতে রতন সেনকে কিছুদিন স্কুলে শিক্ষকতাও করতে হয়েছে। তিনি স্কুল থেকে কোনো বেতন নিতেন না। সরকারি বেতনের অধিকাংশই গরিব শিক্ষার্থীদের দিয়ে দিতেন। হয়ে ওঠেন প্রিয় মাস্টারমশাই।
রতন সেনের তাত্ত্বিক জ্ঞান ছিল অসাধারণ। ঘরোয়া বৈঠকে তিনি ছিলেন তুখোড় বক্তা। একতা, মুক্তির দিগন্তসহ পার্টির পত্রিকায় তাত্ত্বিক নিবন্ধ লিখতেন। অনুবাদ সাহিত্যে ছিলেন সাবলীল। তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা স্বাধীনতার খুলনা প্রতিনিধি।
অকৃতদার রতন সেন নিজেই রান্না করতেন। পোশাক-পরিচ্ছদ বলতে ছিল খদ্দরের পাঞ্জাবি, সুতির পাজামা, কালো চওড়া ফ্র্রেমের চশমা, হালকা চপ্পল আর চটের ব্যাগ। যে চৌকিতে ঘুমাতেন, সেখানেই বই রাখতেন। রতন সেন একটা শিঙাড়া বা একটা সন্দেশ বা এক কাপ চা পাঁচ-সাতজনকে ভাগ করে দিতেন আন্তরিকভাবে। কমরেডদের প্রতি তাঁর ছিল শ্রদ্ধা ও শাসন, ছিল আন্তরিকতা ও দরদ। ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে উত্তরণে কমরেডদের পরামর্শ দিতেন। কমরেডদের বকতেন, কিন্তু এই বকুনি ছিল স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসামিশ্রিত।
রতন সেন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোপের বিপর্যয়ের পরও দৃঢ়ভাবেই বলতেন, দ্রুতই পৃথিবী সমাজতন্ত্রের উত্থান দেখতে পাবে।
রতন সেনের নামে খুলনায় একটা রাস্তার নামকরণ হয়েছে। খুলনা শহরে গড়ে উঠেছে ‘রতন সেন পাবলিক লাইব্রেরি’। রূপসার পালেরহাটে যে বাড়িতে তিনি থাকতেন, ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল’।
দেশপ্রেম, আদর্শবাদিতা, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, ত্যাগ, সততা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক উজ্জ্বলতম উদাহরণ কমরেড রতন সেন। আদর্শহীন রাজনীতির বিপরীতে আদর্শিক রাজনীতির প্রতীক। ‘মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন। রতন সেনের মৃত্যু নেই। ‘লাল সালাম’ কমরেড রতন সেন!
অনিরুদ্ধ অঞ্জন

নতুন ব্যাংক খুলতে চাপ

দেশে নতুন ব্যাংক খোলার প্রয়োজনীয়তা আছে কি নেই, সে বিষয়টি পুরোপুরি অর্থনৈতিক। কিন্তু এ নিয়ে জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। শনিবার ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যাংক খোলার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক চাপের মধ্যে আছে। ইতিমধ্যে ব্যাংকে ৮২টি দরখাস্ত জমা পড়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, সাংসদ ও নেতাদের নামে।
১৭ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্য নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। বৈঠকের পর তিনি বলেছিলেন, নতুন ব্যাংক খোলার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সমীক্ষা করবে এবং আগামী মাসে (আগস্ট) প্রতিবেদন দেবে। অথচ অর্থমন্ত্রী ২৪ জুলাই এক অনুষ্ঠানে জানিয়ে দেন, সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছায় নতুন ব্যাংক হচ্ছে।
রাজনৈতিক ইচ্ছায়ই যদি নতুন ব্যাংক হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমীক্ষার কী প্রয়োজন? সমীক্ষায় নেতিবাচক মত এলে কি সরকার নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ থেকে সরে আসবে? ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৩১ ধারায় ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এ সরকার বিভিন্ন নির্দেশনার ভিত্তিতে নতুন নির্দেশনা দিতে পারবে বলে যে কথা বলা হয়েছিল, ২০০৩ সালে তা তুলে নেওয়া হয়। ফলে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ন্যস্ত হয়।
রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলেছেন, অর্থনীতির আকার বেড়েছে। কতটা বেড়েছে? বর্তমানে দেশে ৪৯টি ব্যাংক আছে, যার মধ্যে ৩০টি বেসরকারি। এ ছাড়া বিদেশি মালিকানাধীন নয়টি ব্যাংক আছে। এসব ব্যাংক গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না—এমন অভিযোগ কোনো মহল থেকেই ওঠেনি। সে ক্ষেত্রে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে এত তাড়াহুড়ার প্রয়োজন কী? অন্তত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যন্ত সরকারের অপেক্ষা করা উচিত। অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকারের অংশ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবেন না। কিন্তু সরকার আইন করে যাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া উচিত। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের বেলায় রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপ বাঞ্ছনীয় নয়।
অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার একাধিক মন্দ নজির রয়েছে। দলীয় লোকদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার দৃষ্টান্তও কম নয়। আবার অসাধু উদ্যোক্তাদের পাল্লায় পড়ে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল; যার খেসারত কেবল গ্রাহকদেরই দিতে হয়নি, সরকারকেও দিতে হয়েছে। কোথাও বা প্রশাসক বসিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়েছে। এর পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক খুললে তা অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার না করে বিপদও ডেকে আনতে পারে।

আইসিবির ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য আটটি মিউচুয়াল ও আইসিবি ইউনিট ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
গতকাল শনিবার আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ লভাংশ অনুমোদন করা হয়।
বিগত ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ৫০০ শতাংশ, দ্বিতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ২৫০ শতাংশ, তৃতীয় ফান্ডে ১৮৫ শতাংশ, চতুর্থ ফান্ডে ১৬৫ শতাংশ, পঞ্চম ফান্ডে ১৩৫ শতাংশ, ষষ্ঠ ফান্ডে ৯০ শতাংশ, সপ্তম ফান্ডে ৯৫ শতাংশ ও অষ্টম আইসিবি ফান্ডে ৯০ শতাংশ এবং প্রতিটি আইসিবি ইউনিট ফান্ডের জন্য ৩০ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে, যা ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় অনেক বেশি।
বিগত ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ৪০০ শতাংশ, দ্বিতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ২০০ শতাংশ, তৃতীয় ফান্ডে ১৪০ শতাংশ, চতুর্থ ফান্ডে ১২৫ শতাংশ, পঞ্চম ফান্ডে ১০০ শতাংশ, ষষ্ঠ ফান্ডে ৭৫ শতাংশ, সপ্তম ফান্ডে ৭০ শতাংশ ও অষ্টম ফান্ডে ৬৫ শতাংশ এবং প্রতিটি আইসিবি ইউনিট ফান্ডের জন্য ২৬ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

পুরোনো আইনেই শেয়ার ছাড়তে চায় ১৪ বিমা কোম্পানি

শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা ১৪টি বিমা কোম্পানি নতুন বিমা আইনকে এড়িয়ে পুরোনো আইন অনুসরণ করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইছে। এতে করে কম পরিমাণ শেয়ার ছেড়েই কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হতে পারবে। অন্যদিকে উদ্যোক্তাদেরও বেশি টাকা দিতে হবে না।
পুরোনো আইনের আওতায় শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) সরকারের বিভিন্ন মহলে তদবির করে আসছে বলে জানা গেছে।
নতুন বিমা আইন-২০১০ অনুযায়ী যেকোনো সাধারণ বিমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে ৪০ কোটি টাকা, আর জীবন বিমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০ কোটি টাকা।
নতুন আইনে সাধারণ বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকার ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ২৪ কোটি টাকা উদ্যোক্তা, আর বাকি ১৬ কোটি টাকা জনসাধারণের কাছ থেকে উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে।
একইভাবে জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে উত্তোলন করতে হবে ৩০ কোটি টাকার ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ১৮ কোটি টাকা। বাকি ১২ কোটি টাকা শেয়ার ছেড়ে জনসাধারণের কাছ থেকে তুলতে হবে।
অন্যদিকে পুরোনো ১৯৩৮ সালের বিমা আইন ও পরের বিধি অনুযায়ী সাধারণ বিমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি টাকা, আর জীবন বিমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন সাত কোটি ৫০ লাখ টাকা।
পুরোনো আইনের আওতায় পরিশোধিত মূলধনের ৬০ শতাংশ জনসাধারণের কাছ থেকে বা শেয়ার ছেড়ে সংগ্রহের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু মোট পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ অনেক কম হওয়ায় কম শেয়ার ছেড়েই পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতা পূরণ করা যায়।
নতুন বিমা আইন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২১ (১) ও ২১ (৩) ধারা অনুযায়ী বিমা কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত মূলধন কমিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) মতামত নিয়েও কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি।
এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এসইসি, আইডিআরএ ও বিআইএর সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এসইসির সদস্য আরিফ খান, আইডিআরএর সদস্য ফজলুল করিম, বিআইএর চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিমা কোম্পানিগুলোর আইপিওতে আসার যাবতীয় বিষয় এসইসি দেখবে বলে মতামত এসেছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা কোম্পানিগুলো কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে পারে, সে জন্য এসইসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে যখনই আসুক না কেন, আইন মেনেই আসতে হবে।’
পুরোনো না নতুন কোন আইনের আওতায় আসবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, ‘সেটাও সিদ্ধান্ত নেবে এসইসি।’
তবে বিমা কোম্পানিগুলোকে নতুন আইনে বর্ণিত পরিশোধিত মূলধনই পূরণ করতে হবে বলে মনে করেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘নতুন আইন কার্যকর হবে নতুন বিধির মাধ্যমে। সেই বিধি এখনো তৈরি হয়নি। বিধিতে যে পদ্ধতি ও সময়সীমা দেওয়া থাকবে, বিমা কোম্পানিগুলোকে তাই মানতে হবে।’
কোনো কোম্পানিরই আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন শেফাক আহমেদ।
বিআইএ চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘বাজারের বাইরে থাকা বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাজারে আনার চেষ্টা চলছে। আইপিওর বিষয়টি এসইসি দেখবে।’
এসইসি সদস্য আরিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শেয়ারের সরবরাহ সংকটের বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকে। সে অনুযায়ীই বিমা কোম্পানিগুলোর আইপিও প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে। তবে নতুন আইনে না পুরোনো আইনে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় (১৯৯৬ থেকে ২০০১) বিমা কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার সময় তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত দিয়েছিল। ১৪টি কোম্পানি সেই শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি। ফলে আইন অনুযায়ী সাত থেকে আট বছর ধরে বিলম্বের জন্য প্রত্যেক কোম্পানি প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়ে আসছে।
আইডিআরএ: অর্থ মন্ত্রণালয়কে আইডিআরএ বলেছে, নতুন আইনে বিমা কোম্পানির জন্য পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন আইন পাস হওয়ার আগে যেসব কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে, সেগুলোকে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি ও ৩০ কোটি টাকা থাকার শর্ত পূরণ করতে হবে নতুন বিধির মাধ্যমে। বিধিতে নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়সীমা দেওয়া থাকবে। এ জন্য বর্তমানে বিমা ব্যবসায় নিয়োজিত কোম্পানিগুলোকে আইন প্রবর্তনের তারিখ (১৮ মার্চ, ২০১০) থেকে তিন বছর সময় দেওয়া যেতে পারে।
আইডিআরএ আরও বলেছে, স্বল্প মূলধনসম্পন্ন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে নতুন আইনে বর্ণিত মূলধনের শর্ত পরিপালন করলেই কোনো কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে, অন্যথায় নয়।
এসইসি: আইপিওর বিষয়ে ২০১০ সালের ১৪ নভেম্বর একটি নীতিমালা জারি করেছে এসইসি। এতে বলা হয়েছে, আইপিওর জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে (বর্তমান + প্রস্তাবিত) ৩০ কোটি টাকা। আর ন্যূনতম আইপিওর আকার হবে ১২ কোটি টাকা, তবে তা কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের কম হবে না।
নীতিমালাটি বর্তমানেও প্রযোজ্য—এ কথা উল্লেখ করে এসইসি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, এই নীতিমালার কারণে আগের আইনের আওতায় নিবন্ধন নেওয়া বিমা কোম্পানিগুলো আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়তে পারছে না।
এসইসি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, স্বল্প মূলধন অর্থাৎ ১৮ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের ক্ষেত্রে আইডিআরএর সঙ্গে এসইসি একমত। আইডিআরএ যে তিন বছরের সময় দিয়েছে, তাতেও দ্বিমত নেই সংস্থাটির।
এসইসি আরও জানিয়েছে, আইপিওতে আসার পর স্বল্প মূলধনসম্পন্ন বিমা কোম্পানিগুলোকে নতুন আইন অনুসারে মূলধন উত্তোলন করতে হবে। কোম্পানিগুলো এই মূলধন উত্তোলিত না হওয়া পর্যন্ত রাইট শেয়ার ও বোনাস শেয়ার ইস্যু করে তা উত্তোলন করতে পারবে এবং এ সময় তারা কোনো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।
১৪টি কোম্পানি: জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা মিলিয়ে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে ৪৪টি। আর তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ১৪টি কোম্পানি। এর মধ্যে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো হলো, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স। জীবন বিমার মধ্যে রয়েছে সান লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ ও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

পরিচালকদের ভুলে চার মাস ধরে বন্ধ পদ্মা অয়েলে শেয়ার লেনদেন

লভ্যাংশ ঘোষণা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে জ্বালানি খাতের সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি পদ্মা অয়েল লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন।
এ কারণে কোম্পানিটির কয়েক হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদের ভুলে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এর মাশুল গুনতে হচ্ছে তাঁদের। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করে লেনদেন চালু করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁরা বলেছেন, যাঁদের ভুলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, প্রয়োজনে তাঁদের শাস্তির মুখোমুখি করে হলেও লেনদেন চালু করা হোক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পরামর্শে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ গত ৩০ মার্চ থেকে পদ্মা অয়েলের শেয়ার লেনদেন বন্ধ ঘোষণা করে। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সম্প্রতি পদ্মা অয়েলের লেনদেন চালুর ব্যাপারে নির্দেশনা চাইলেও এসইসি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও লেনদেন চালুর জন্য এসইসিতে কয়েক দফা অনুরোধ জানিয়েছে।
এসইসির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘পদ্মা অয়েলের বিষয়টি এতই জটিল আকার ধারণ করেছে যে তাঁদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া খুব কঠিন।’ তিনি জানান, বিষয়টি এখন আদালতে রয়েছে। আদালত কী ধরনের নির্দেশনা দেন, সে জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছেন।
গত বছর ১৮ ডিসেম্বর পদ্মা অয়েলের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের জন্য ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আর ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি শেয়ারের মালিকানা নির্ধারণের দিন (রেকর্ড ডেট) ও ৫ মার্চ বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু লভ্যাংশের এই হারে সন্তুষ্ট না হয়ে আজিজ আহমেদ নামের একজন বিনিয়োগকারী রেকর্ড ডেটের চার দিন আগে হাইকোর্টে রিট করেন। রিট পিটিশনে বলা হয়, কোম্পানিটি পরিচালনা পর্ষদের আগে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অবগতির জন্য কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
পুঁজিবাজারের নিয়মানুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষিত হিসাব চূড়ান্তকরণ ও লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের তারিখ আগেই এসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত পরিচালনা পর্ষদের ঘোষণাগুলো তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।
পরে কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থগিতাদেশ তুলে নিলে গত ২০ মার্চ পরিচালনা পর্ষদ আরেকটি বৈঠক করে ঘোষিত লভ্যাংশে পরিবর্তন আনে। এতে শেয়ারধারীদের জন্য ৫০ শতাংশ নগদ ও ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার কথা জানানো হয়। এ জন্য রেকর্ড ডেট এবং এজিএমের তারিখ নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ৪ ও ৩০ এপ্রিল। এ ঘোষণার পর শেয়ারটির দাম আবার বাড়তে শুরু করে।
জানা গেছে, জটিলতার শুরু মূলত এখান থেকেই। কারণ পুঁজিবাজারের আইন অনুযায়ী এজিএম ছাড়া তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি আগের ঘোষিত লভ্যাংশ পরিবর্তন বা সমন্বয় করতে পারে না। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সে সময় এসইসিসহ দুই স্টক এক্সচেঞ্জ নিশ্চুপ ছিল। পরে নতুন রেকর্ড ডেটের আগে ৩০ মার্চ স্পট বাজারে (নগদ লেনদেনের বাজার) লেনদেন শুরুর পর তা বন্ধ করা হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন লেনদেন বন্ধ হওয়ার আগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার হাতবদল হয়েছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে পুরো পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। কারণ, এখন কোম্পানি যদি আগের ঘোষণা (১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ) বাস্তবায়ন করতে যায়, তাহলে দ্বিতীয় ঘোষণার পর যাঁরা শেয়ার কিনেছেন, তাঁরা ক্ষুব্ধ হবেন। আবার দ্বিতীয় ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে গেলে আগে যাঁরা নগদ লভ্যাংশে সন্তুষ্ট না হয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে। তা ছাড়া দ্বিতীয় ঘোষণার পর স্পট বাজারের লেনদেন অসম্পন্ন থেকে যাওয়ায় প্রথম ঘোষণায় ফিরে যাওয়া দুরূহ হবে।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম শামসুদ্দোহাকে গতকাল কয়েকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এসইসি তাঁদের নির্দেশ দিয়েছে কোন লভ্যাংশ কার্যকর হবে, সে ব্যাপারে আদালতের রায় নিয়ে আসতে। সে অনুযায়ী কোম্পানির পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গত সপ্তাহে শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও এখনো রায় পাওয়া যায়নি। আর দ্বিতীয়বার লভ্যাংশ ঘোষণা করার সময় তাঁরা অভিজ্ঞ আইনজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছিলেন।
জানা গেছে, গত ৩০ মে পদ্মা অয়েলের পক্ষ থেকে এসইসিকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মতামত এভাবে উদ্ধৃত করা হয় যে গত ১৮ ডিসেম্বর রেকর্ড ডেট এবং এজিএমের তারিখ বিষয়ে কোম্পানির সিদ্ধান্ত আগের অবস্থায় থাকবে অথবা যদি নির্ধারিত দিন পার হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন মেনে নতুন তারিখ ঘোষণা করা যাবে। আইনজীবীর এই মতামতের ভিত্তিতে কোম্পানি এজিএম, রেকর্ড ডেট ও লভ্যাংশের জন্য নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে গত ৫ জুন এসইসিকে দেওয়া অন্য একটি চিঠিতে ডিএসই জানায়, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী পরিষ্কারভাবেই কোম্পানিকে ডিএসইর তালিকাভুক্তি-সম্পর্কিত আইনসহ এসইসির সংশ্লিষ্ট শর্ত মানারও পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোম্পানিটি লভ্যাংশ পরিবর্তন বা সমন্বয়সংক্রান্ত এসইসির প্রজ্ঞাপন মানেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনজীবীর মতামতের আংশিক এসইসির কাছে উপস্থাপন করে কোম্পানিটি এক ধরনের প্রতারণা করেছে।

কাল থেকে তালিকাচ্যুত হবে বেক্সটেক্স

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ কাল সোমবার থেকে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেক্সিমকো টেক্সটাইলকে তালিকাচ্যুত (বেক্সটেক্সের শেয়ার লেনদেন চালিয়ে না যাওয়া) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ রোববার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই বেক্সটেক্সকে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদন করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বেক্সটেক্সকে অধিগ্রহণের জন্য বেক্সিমকো লিমিটেড ১০৭ কোটি ২৮ লাখ ২৯ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ১০ কোটি ৭২ রাখ ৮২ হাজার ৯২০টি শেয়ার ইস্যু করবে।
এ দিকে বেক্সিমকোর সঙ্গে বেক্সটেক্সের একীভূতকরণের রেকর্ড ডেট পার হওয়ায় কাল পুনরায় বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেন শুরু হবে।

প্রেসিডেন্ট নিক্সনের দেওয়া সাক্ষ্য প্রকাশ করা হচ্ছে

ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বিচারক প্যানেলের (গ্রান্ড জুরি) সামনে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় বিচারকের নির্দেশে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় পর এ সাক্ষ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
রিচার্ড নিক্সনের দেওয়া সাক্ষ্যের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ওই সাক্ষ্যের প্রতিলিপি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি কাটলার। আদালতের বিচারক রয়েস ল্যামবার্থ এ আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করতে পারবে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারে আবার বিয়ে

আবারও বিয়ের বাদ্য বাজল ব্রিটিশ রাজপরিবারে। এবার বিয়ে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বড় নাতনি জারা ফিলিপসের। বর রাগবি তারকা মাইক টিনডাল। গতকাল শনিবার তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
গত ২৯ এপ্রিল মহাজাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিয়ে হয় রানির নাতি প্রিন্স উইলিয়ামের। এতে অতিথি ছিলেন এক হাজার ৯০০ জন। লন্ডনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে এই বিয়ের আয়োজন উপভোগ করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ।

চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব ছিল

ফ্রান্সের তদন্তকারীরা বলেছেন, পাইলটদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে ২০০৯ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে এয়ার ফ্রান্স বিমানের দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তদন্ত শেষে ফ্রান্সের বিইএ কর্তৃপক্ষ বলেছে, দুর্ঘটনার আগে উচ্চতা-নিয়ন্ত্রণ হারানোর সংকেত ধরতে পারেননি বিমানটির চালকেরা। এ ছাড়া এই সমস্যা সমাধানে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন থেকে সব পাইলটকে অবশ্যই আকাশের অনেক উঁচু দিয়ে ওড়ার সময় বিমানের হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানোর এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
এয়ার ফ্রান্সের ওই বিমানটি ব্রাজিল থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে বিমানটির ২২৮ আরোহীর সবাই নিহত হয়।
বিইএর প্রধান জাঁ-পল ত্রোয়েদেক বলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ের সমস্যা সমাধানযোগ্য ছিল। এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, দুর্ঘটনার শিকার বিমানটির রেকর্ডারে ধারণকৃত শেষ কয়েক মিনিটের তথ্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, প্রায় এক মিনিট ধরে বিমানটির উচ্চতা-হারানো বিষয়ে সংকেত বাজে। কিন্তু এর চালকেরা ওই সংকেত বুঝতে পারেননি।

বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আবার বৈঠক ইয়েদুরাপ্পার

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা গতকাল শনিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অরুণ জেটলি ও রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এর আগে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে দলীয় চাপের মুখে তিনি শর্তসাপেক্ষে পদত্যাগে রাজি হয়েছিলেন। তবে ইয়েদুরাপ্পার পক্ষ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পদত্যাগের ব্যাপারে তিনি এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি।
বিজেপির নেতা অরুণ জেটলি ও রাজনাথ সিং যে হোটেলে অবস্থান করছেন, গতকাল সেই হোটেলে যান ইয়েদুরাপ্পা। সেখানে তিনি তাঁদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এ নিয়ে গত শুক্রবার থেকে এই দুই কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে দুইবার বৈঠক করলেন ইয়েদুরাপ্পা।
গত বৃহস্পতিবার বিজেপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ইয়েদুরাপ্পা জানান, ৩১ জুলাই তিনি পদত্যাগ করছেন। তবে ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপ ডি এন জীবারাজ ইয়েদুরাপ্পার বাসবভনের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, এমএলএ’দের সম্মিলিত (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মতামত হলো, তাঁর পদত্যাগ করা উচিত হবে না। তিনি বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন কি করবেন না—এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ইয়েদুরাপ্পার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন ৭৪ জন এমএলএ।

কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তদন্তে নতুন দল

কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তদন্তে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। গত শুক্রবার স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এ ঘোষণা দেয়।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত জানুয়ারি থেকে শুরু করা বিশেষ তদন্ত ‘অপারেশন টুলেটা’ পরিচালনা করতে গিয়ে তারা কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের অনেক অভিযোগ পেয়েছে। এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তদন্তে নতুন দল গঠন করা হবে। এই দল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সিউ আকার্সের কাছে প্রতিবেদন দেবে।
সম্প্রতি ফোনে আড়ি পাতার দায়ে বন্ধ করে দেওয়া ব্রিটিশ পত্রিকা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর বিরুদ্ধে তদন্তে ব্যর্থতার কারণে মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও ২০০৬ সালে তাদের পরিচালিত তদন্তে ২০০৭ সালে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর তৎকালীন রয়েল এডিটরের কারাদণ্ড হয়।

ইসলামপন্থী মিলিশিয়ারাই ইউনিসকে হত্যা করেছে

লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সামরিক শাখার প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ ইউনিসকে হত্যা করেছে একটি ইসলামপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্যরা। গত শুক্রবার বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে।
তবে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকার এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করেছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে বিদ্রোহীরা।
এদিকে ব্রাসেলসে ন্যাটোর বিবৃতিতে বলা হয়, লিবিয়ার তিনটি টেলিভিশনের ট্রান্সমিটার লক্ষ্য করে ন্যাটোর বিমান থেকে নির্ভুল নিশানায় হামলা চালানো হয়। গাদ্দাফির সরকারের ‘সন্ত্রাসী প্রচারণা’ স্তব্ধ করতে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বিদ্রোহীদের জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) তেলমন্ত্রী আলী তারহুনি বলেন, ‘এনটিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা তদন্তে পাওয়া সব তথ্য প্রকাশ করব।’ তিনি বলেন, ওবাইদা ইবনে জাররাহ ব্রিগেডের সদস্যরাই জেনারেল ইউনিসকে হত্যা করেছে।
নিহত ইউনিস লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফির খুব বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন গাদ্দাফি। ইউনিস পরে গাদ্দাফির পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে গাদ্দাফিকে হটাতে লড়াই করে আসছিলেন তিনি।
তারহুনি জানান, ইউনিসের লাশ গত শুক্রবার বেনগাজির উপকণ্ঠে পাওয়া যায়। তিনি জানান, অপরাধের নেপথ্যে থাকা একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রধানের স্বীকারোক্তির পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা ইউনিসের মৃত্যুর সংবাদ পান।
তারহুনি বলেন, ‘ওই মিলিশিয়া বাহিনীর প্রধান এখন কারাবন্দী।’ তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।
তারহুনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী কয়েকজন ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না যে তারা কার পক্ষে এ কাজ করেছে।’
ত্রিপোলি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করেছে। গাদ্দাফি সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম ত্রিপোলিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ কাজের মাধ্যমে আল-কায়েদা এ অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাবের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের অন্য সদস্যরা এ সম্পর্কে জানেন। তবে তাঁরা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারছেন না। কারণ, তাঁরা আল-কায়েদার ভয়ে আতঙ্কিত।’
এ হত্যাকাণ্ডকে ব্রিটিশ সরকারের মুখে চপেটাঘাত হিসেবেও বর্ণনা করেন মুসা ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘এটা ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বড় আঘাত। যে কাউন্সিলকে তারা স্বীকৃতি দিয়েছে, সে কাউন্সিল নিজেদের সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে রক্ষা করতে পারে না।’
গাদ্দাফি সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এ হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে বিদ্রোহীদের লিবিয়া শাসনের সামর্থ্য নেই।
মুসা ইব্রাহিম গত শুক্রবার বলেন, গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী গত বুধবার থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে কমপক্ষে ১৯০ জন বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে।

ঋণসীমা নিয়ে সমঝোতার সময় ফুরিয়ে আসছে

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান দলের প্রাধান্য থাকা প্রতিনিধি পরিষদে দলটির উত্থাপিত ঋণসীমা ও ব্যয়হ্রাসের বিল পাস হলেও ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত উচ্চকক্ষ সিনেটে তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা বলছে, ওই বিলে যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়।
দেশের ঋণসংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঋণসীমা বাড়াতে আইনপ্রণেতাদের অব্যাহতভাবে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পাস না হলে মার্কিন সরকারের ব্যয় নির্বাহ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ঋণের সীমা বাড়াতে মতৈক্যে পৌঁছানোর জন্য গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়। বাজেটে আগামী ১০ বছরে ৯১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় কাটছাঁট ও ঋণসীমা ৯০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদলীয় নেতা স্পিকার জন বোয়েনার। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধি পরিষদে শুক্রবার বোয়েনারের বিল পাস হয়। তবে এর দুই ঘণ্টা পর ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেটে ৫৯-৪১ ভোটে তা বাতিল হয়ে যায়।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হ্যারি রিড আশা প্রকাশ করে বলেন, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সিনেটে সংখ্যালঘু রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককোলেন সহায়তা করবেন। আগামী ১০ বছরে ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় কাটছাঁট ও ঋণসীমা ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন রিড। কেন্দ্রীয় সরকারের এবারের বাজেট ঘাটতি ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার (এক ট্রিলিয়ন=এক লাখ কোটি) এবং জাতীয় ঋণ ১৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
ঋণসীমা বৃদ্ধিসংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানোর জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘আমাদের সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। মঙ্গলবারের মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে আমরা সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারি। কারণ, আমরা সব সময় সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করে আসছি।’
এদিকে ঋণসংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে শুক্রবার পঞ্চম দিনের মতো বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করে।

ইয়েমেনে সংঘর্ষে ছয় সেনাসহ ২১ জন নিহত

ইয়েমেনে গত শুক্রবার রাতে সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনায় ছয় সেনাসহ ২১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দুজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। নিহত অন্যরা সন্দেহভাজন আল-কায়েদার জঙ্গি ও সরকার-সমর্থক উপজাতি। গতকাল শনিবার সেনা সূত্র ও স্থানীয় কর্মকর্তারা এ খবর জানান।
একজন সেনা মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, শুক্রবার রাতে আবিয়ান প্রদেশের রাজধানী জিঞ্জিবারের নয় মাইল দক্ষিণে দোফাস এলাকায় আল-কায়েদার সন্দেহভাজন জঙ্গিরা একটি সেনা ইউনিটের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে দুই সেনা কর্মকর্তা ও চার সেনাসদস্য নিহত ও নয়জন আহত হন।
নিহত দুই সেনা কর্মকর্তা হলেন কর্নেল মোহাম্মদ আল-সালাহি ও কর্নেল হিলাল শামছান। বন্দর শহর এডেনের এক সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দোফাসের স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, ওই সংঘর্ষে সাত জঙ্গি নিহত ও অপর চারজন আহত হয়েছে।
এক উপজাতীয় কর্মকর্তা জানান, সরকার-সমর্থক স্থানীয় উপজাতীয় বাসিন্দারা গত শুক্রবার রাতে জিঞ্জিবারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সেনারা জঙ্গি ভেবে ভুল করে তাদের ওপর কামানের গোলা নিক্ষেপ করলে আটজন নিহত হয়।

শাস্তি কমল মরিনহোর

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলে একটু হলেও জয়ী হোসে মরিনহো। রিয়াল মাদ্রিদের কোচের শাস্তিটা কমিয়েছে উয়েফা। গত মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ম্যাচে মরিনহোকে ডাগ-আউট থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাজে বিবৃতি দেওয়ার জন্য চার ম্যাচ নিষিদ্ধ, আগামী তিন বছরের মধ্যে একই আচরণ করলে এক ম্যাচের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সঙ্গে জরিমানা করা হয় ৫০ হাজার ইউরো। এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে রিয়াল মাদ্রিদ।
সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাজা কমল রিয়াল কোচের। জরিমানা একই আছে। চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে করা হয়েছে তিন ম্যাচের। তবে স্থগিত নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে করা হয়েছে দুই ম্যাচের। অর্থাৎ আগামী তিন বছরের মধ্যে এ ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে ওই দুই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। উয়েফার সদর দপ্তরে ছয় ঘণ্টার শুনানি শেষে শুক্রবার এই রায় দেওয়া হয়। এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এরই মধ্যে কাটিয়েছেন (বার্সার বিপক্ষে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে)। ফলে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই কেবল ডাগ-আউটে থাকতে পারবেন না মরিনহো।

বার্সাকে হুমকি রোনালদোর

রোনালদো এসে গেছেন, এবার কাটবে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা-খরা। দুই মৌসুম আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যখন ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ড গড়ে রিয়ালে নাম লেখান, বার্নাব্যু-জুড়ে উঠেছিল এই রব। রোনালদো পারেননি। দুই মৌসুম কেটে গেছে—স্প্যানিশ লিগে সেই বার্সেলোনারই জয়জয়কার, চ্যাম্পিয়নস লিগে খরাই চলছে রিয়াল মাদ্রিদের। শুধু কোপা দেল রে জয়ের সঙ্গে গত মৌসুমে রোনালদোর সান্ত্বনা হয়ে ছিল পিচিচি ট্রফি জয়ের ব্যক্তিগত অর্জন।
এবার দলীয় অর্জনেও ভাসতে চান রোনালদো। বার্সেলোনাকে হটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের মাথায় পরাতে চান স্প্যানিশ আর ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। ‘গোল করতে পেরে আমি খুব খুশি। কিন্তু সব সময়ই আমার লক্ষ্য দলকে জেতানো। আমি সবচেয়ে খুশি হব স্প্যানিশ লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলে’—বলেছেন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে দুর্দান্ত ফর্ম দেখানো রোনালদো।
প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিটা রোনালদোর ভালোই হচ্ছে। গত মৌসুমটা যেখানে শেষ করেছিলেন, যেন সেখানেই আছেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। গত মৌসুমে ৪০ গোল করে স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি জেতা রোনালদো ৪ ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ৫ গোল।
অথচ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ২০০৯ সালে রোনালদো যখন বার্নাব্যুকে ঠিকানা বানান, তাঁকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল অনেক। একদিকে ট্রান্সফার ফির রেকর্ড নিয়ে হইচই, অন্য দিকে ছিল তাঁর ডাইভ দেওয়া নিয়ে সমালোচনা। দুই মৌসুমে রোনালদো প্রমাণ করেছেন, তিনি ফুটবল দিয়েই মানুষের মন জয় করতে পারেন। ওয়েবসাইট।
রিয়ালে রোনালদোর আরেকটা পরিচয়—ফ্রি-কিক মাস্টার। সেট পিসের জন্য বিখ্যাত ডেভিড বেকহামের ৭ নম্বর জার্সিটাই রিয়ালে পেয়েছেন রোনালদো। এ কারণেই কি না, রিয়ালে নাম লেখানোর পর থেকেই ভালো ফ্রি-কিক নিতে শুরু করেন। গত বুধবার হার্থা বার্লিনের বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল করেন এবং সেটা ফ্রি-কিক থেকে। দুই বছরে এ নিয়ে ফ্রি-কিক থেকে ১৩টি গোল করেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
আসন্ন মৌসুমে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে নিশ্চয়ই। হয়তো আরও একবার জ্বলজ্বল করে জ্বলবেন। তা যদি পারেন, তাহলে হয়তো তাঁর অন্য ইচ্ছাটাও পূরণ হবে—বার্সেলোনাকে সিংহাসনচ্যুত করে রিয়ালকে এনে দিতে পারবেন স্প্যানিশ আর চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট।

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হলেন ক্লিন্সমান

বরখাস্ত হওয়া বব ব্র্যাডলির উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের কাঁধেই উঠল যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের দায়িত্ব। গত বৃহস্পতিবার বব ব্র্যাডলিকে ছাঁটাইয়ের পরদিনই নতুন কোচ হিসেবে ক্লিন্সমানের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশন।
জার্মানির সাবেক এই কোচের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ সেই ২০০৬ বিশ্বকাপের পর থেকেই। গত মৌসুমেও তিনি ছিলেন আলোচনায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বব ব্র্যাডলির সঙ্গেই চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করে। কিন্তু এক বছর পেরোতেই ব্র্যাডলিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হলো ক্লিন্সমানকে। তবে চুক্তিটা কত দিনের, সেটা জানানো হয়নি।
১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর থেকেই মার্কিন স্ত্রীকে নিয়ে ক্লিন্সমান বসবাস করছেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। ২০০৮-০৯ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের কোচের চাকরি হারানোর পর থেকে এখানেই স্থায়ী। ফলে জার্মানির এই সাবেক স্ট্রাইকার যুক্তরাষ্ট্রে খুবই জনপ্রিয়। এবার জনপ্রিয়তার পারদ নিশ্চিতভাবেই আরও উর্ধ্বমুখী হবে। গতকাল গতকালই ৪৭-এ পা দেওয়া ক্লিন্সমানের মতো বিশ্ব ফুটবল ব্যক্তিত্বকে কোচ হিসেবে পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন উচ্ছ্বসিত। খেলোয়াড় হিসেবে জার্মানিকে ১৯৯০ বিশ্বকাপ এবং ১৯৯৬ ইউরো জেতানো ক্লিন্সমান নিজেও রোমাঞ্চিত।
২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানিকে ‘তৃতীয়’ করা কোচ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পুরুষ দলের কোচ হতে পেরে আমি গর্বিত এবং সম্মানিত। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই এবং আগামীর এই চ্যালেঞ্জের জন্য আমি রোমাঞ্চিত বোধ করছি।’ চুক্তি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনের পর। তবে কোচ হিসেবে প্রথম লক্ষ্যটা স্থির করে ফেলেছেন। আগস্টে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ। ফিলাডেলফিয়ার এই ম্যাচ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য দলকে নতুন করে সংগঠিত করাই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য।

যেভাবে মুক্ত সিয়েলো

৫০ মিটার বাটারফ্লাই জিতেছেন আগেই, কাল ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইল জিতে হয়েছেন বিশ্বের দ্রুততম সাঁতারু। অথচ সিজার সিয়েলোর সাংহাইয়ের বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে না থাকারই কথা ছিল। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার সময় ডোপিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। তিন মাস নিষিদ্ধ হতে পারতেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস) তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। কেন? অসুস্থতাজনিত শারীরিক ঘাটতি পূরণে চিকিৎসক তাঁকে যে ক্যাফিন নিতে বলেছিল, সিয়েলোর ডোপ টেস্টে পাওয়া গিয়েছিল সেটাই, এতে তাই সিয়েলোর কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছে না সিএএস।

মেসির সমর্থনে রিকেলমে

জাতীয় দলের জার্সি গায়েও মেসি কীভাবে বার্সেলোনার খেলাটি খেলতে পারেন—সেটা তাঁরই ভালো জানা। ২০০৭ কোপা আমেরিকার পর ২০০৮ অলিম্পিকেও মেসির সঙ্গে দারুণ জমেছিল হুয়ান রোমান রিকেলমের জুটি। রিকেলমে-বিহীন আর্জেন্টিনায় মেসি যখন আবার ব্যর্থ, বোকা জুনিয়র্সের এই তারকা পাশে দাঁড়ালেন সতীর্থের। বললেন, মেসিকে প্রত্যাশার চাপে নতজানু করে নয়, তাঁকে খেলাটা উপভোগ করতে দিতে হবে।
বলেছেন, ‘এত আগেভাগে আর্জেন্টিনা কোপা থেকে বিদায় নেবে ভাবতেই পারিনি। কিন্তু যতবারই জাতীয় দল ব্যর্থ হয়, আমরা সব দোষ চাপিয়ে দিই মেসির ওপর। আরে, আমাদের সৌভাগ্য, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়টি এই দলেই খেলে।’

ওপেন স্কোয়াশ

ডিজিটাল অটো কেয়ার ওপেন স্কোয়াশের অনূর্ধ্ব-১৮ ডিভিশনে চ্যাম্পিয়ন গুলশান ক্লাবের ইমান। কাল ফাইনালে ইমান হারিয়েছেন ঢাকা ক্লাবের অকশিত সান্নিকে। প্রিমিয়ার ডিভিশনের সেমিফাইনালে বসুন্ধরা গ্রুপের স্বপন পারভেজ হারিয়েছেন আমেরিকান ক্লাবের উইলিয়াম ম্যাথারকে। সিনিয়র ডিভিশনের ফাইনালে ঢাকা ক্লাবের আনিসুল বুয়েটের সাইফুল আলমকে এবং ঢাকা ক্লাবের এরশাদ একই ক্লাবের শামসুদ্দিন নান্নুকে হারিয়েছে।

দ্রাবিড়কে ছাপিয়ে নায়ক ব্রড

২৭৩। স্কোরবোর্ডের এই সংখ্যাটা কি কাল রাতে দুঃস্বপ্ন হয়ে তাড়া করেছে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে? শুধু ধোনি নন, এই ২৭৩ পুরো ভারতীয় দলকেই তাড়িয়ে বেড়ানোর কথা। ‘মি. ওয়াল’ রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যাটে ভারত ছুটছিল রোশনাই ছড়ানো পথে। কিন্তু ওই ২৭৩-এ এসেই আলোকিত পথে নামে অন্ধকার। ২৭৩-এ দাঁড়িয়েই ৪ উইকেটের পতন! এর তিনটিই পর পর তিন বলে তুলে নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের ‘৩৯তম’ হ্যাটট্রিক উদ্যাপন করলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। টেস্টে ভারতের বিপক্ষে কোনো বোলারের প্রথম হ্যাটট্রিক।
ইতিহাসের ৩৭তম এবং ইংল্যান্ডের দ্বাদশ বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন ব্রড। অস্ট্রেলিয়ার জিমি ম্যাথাউস এবং পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরামের কেবল দুটি করে হ্যাটট্রিক। জিমি ম্যাথাউস আবার হ্যাটট্রিক দুটি করেছিলেন ১৯১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একই টেস্টের একই দিনে!
ধোনি, হরভজন ও প্রাভিন কুমারকে দিয়ে ব্রডের এই হ্যাটট্রিকে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার মারাইস এরাসমাসের অবদানও আছে! হরভজনের বলটি আগে ব্যাটে লাগলেও ব্রডের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন এরাসমাস। সে যা-ই হোক, ব্রডের এই হ্যাটট্রিকই কাল শেষ বিকেলে নাটকীয়ভাবে ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। ২৭৩-এর ধাক্কায় ৪ উইকেটে ২৬৭ রান থেকে ভারত ২৮৮ রানে অলআউট! মানে ২১ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেটের পতন! একপর্যায়ে বড় লিডের স্বপ্ন দেখা ভারত পায় মাত্র ৬৭ রানের লিড।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতেও দলকে বিপদ থেকে টেনে তুলেছিলেন ব্রড। এবার দলকে ব্যাকফুট থেকে ম্যাচে ফেরালেন হ্যাটট্রিকসহ ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে। ৪৬ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ইনিংসে চতুর্থবারের মতো ৫ উইকেট-কীর্তি।
অথচ দিনের গল্পটা ব্রডময় না হয়ে পারত দ্রাবিড়ময়। রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যাটই ভারতকে নিয়ে যায় লিডের পথে। লর্ডসের পর কাল ট্রেন্টব্রিজেও করেছেন সেঞ্চুরি (১১৭)। এই সেঞ্চুরি দিয়ে দ্রাবিড় ছুঁয়ে ফেললেন সুনীল গাভাস্কার ও ব্রায়ান লারাকে। টেস্টে তিনজনেরই সেঞ্চুরি সমান—৩৪টি করে। ওয়েবসাইট।
১ উইকেটে ২৪ রান নিয়ে দিন শুরু করে দ্রাবিড়-লক্ষ্মণ কাল যোগ করেন আরও ৬৯। দর্শনীয় সব শট খেলে হাফ সেঞ্চুরি করা লক্ষ্মণ (৫৪) আরও একবার আউট আলস্য ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি আলোচনায় আরও একবার পানি ঢেলে টেন্ডুলকার আউট ১৬ রানে। অনেক দিন পর টেস্টে ফিরে যুবরাজ সিং প্রমাণ করেছেন নিজের সামর্থ্য। দ্রাবিড়ের সঙ্গে তাঁর ১২৮ রানের জুটিটিই মূলত ভারতকে নিয়ে যাচ্ছিল বড় লিগের পথে। কিন্তু অল্প সময়ের ওই ঝড়েই সর্বনাশ ভারতের। যে ঝড়ের শুরুটা যুবরাজকে (৬২) দিয়েই। ব্রেসনান-অ্যান্ডারসন নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছে ১ উইকেটে ২৪ রান। ভারত এখনো এগিয়ে আছে ৪৩ রানে।

রানপ্রবাহ
টেস্টে টানা চার ইনিংসে অন্তত ফিফটির দেখা পাননি—টেন্ডুলকারের জন্য এই অভিজ্ঞতা এর আগে সর্বশেষ হয়েছিল তিন বছর আগে।

মাঠে এলেই ফ্রিজ, টিভি

‘গত সুপার কাপে খেলা হয়েছিল ‘সুপার’, ‘সুপার’ দর্শক এসেছিল। কিন্তু এবার সুপার কাপের গ্রুপ পর্বে তেমন দর্শক আসেনি স্টেডিয়ামে’—কাল বাফুফে ভবনে আক্ষেপ করে বলছিলেন ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর। তবে আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া সুপার কাপের সেমিফাইনালে আবারও দর্শক উপচে পড়বে বলেই আশাবাদী তিনি। দর্শক টানতে যে এবার বাফুফে নিয়েছে আকর্ষণীয় উদ্যোগ।
গ্রামীণফোন সুপার কাপে দর্শকদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কারের তালিকা। পুরস্কারের বিনিময়ে দর্শক টানতে বাফুফের সহায় হয়ে এসেছে ওয়ালটন। ইলেকট্রনিকসামগ্রী প্রস্তুতকারক কোম্পানিটির পুরস্কারের তালিকায় আছে এলসিডি টেলিভিশন, ১১০ সিসি মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও মোবাইল ফোনসেট।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য গত ১৪ জুলাইয়ের পর হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছিল সুপার কাপ। নতুন সূচি অনুসারে আগামী ২ আগস্ট প্রথম সেমিফাইনালে মোহামেডান খেলবে বাংলাদেশ লিগের নতুন চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে। ৩ আগস্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ লিগ রানার্সআপ মুক্তিযোদ্ধা। ৬ আগস্ট ফাইনাল। সব ম্যাচই বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে। পুরস্কারগুলো পর্যায়ক্রমে দেওয়া শুরু হবে সেমিফাইনাল থেকে।
দুই সেমিফাইনালের ভাগ্যবান দর্শকেরাই পাবেন একটি করে রেফ্রিজারেটর ও ৫টি দামি মোবাইল ফোনসেট। ফাইনালে দেওয়া হবে ২৬ ইঞ্চি এলসিডি টেলিভিশন, একটি ১১০ সিসি মোটরসাইকেল ও ১৪ ইঞ্চি সিআরটি টেলিভিশন। টিকিটের দাম আগের মতোই, সাধারণ গ্যালারি ৩০ টাকা ও ভিআইপি গ্যালারি ৫০ টাকা করে। টিকিটের তিনটি অংশ থাকবে—একটি অংশ বাফুফে কর্মকর্তাদের কাছে, একটি প্রবেশদ্বারে এবং একটি দর্শকের কাছে। দর্শকদের পুরস্কার দেওয়ার এই বিষয়টি জানাতেই কাল সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাফুফে। সেখানেই তথ্যগুলো জানান ওয়ালটনের ডেপুটি ডিরেক্টর (মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্টস) ইকবাল বিন আনোয়ার।

আর্জেন্টিনার জয়, ব্রাজিলের ড্র

সিনিয়ররা ব্যর্থ হয়েছে কোপা আমেরিকায়। সেই ব্যর্থতাকে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও টেনে নিয়ে এল ব্রাজিল। মিসরের সঙ্গে ড্র করেছে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রতিবেশী ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের সফলতম দল আর্জেন্টিনার শুরুটা ভালোই হয়েছে। ১-০ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়েছে তারা।
কলম্বিয়ায় পরশু শুরু হওয়া যুব ফুটবলের ১৮তম আসরের উদ্বোধনী দিনের চার ম্যাচের তিনটিই হয়েছে ড্র। গোল হয়েছে মাত্র ৩টি। ই-গ্রুপে ব্রাজিল ১২ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল দানিলোর গোলে। ২৬ মিনিটে মিসরকে সমতায় ফেরান ওমর জাবের। অন্য ম্যাচে অস্ট্রিয়া ও পানামার ম্যাচটি শেষ হয় গোলশূন্য।
এফ-গ্রুপে আর্জেন্টিনাকে জিতেয়েছেন এই মৌসুমে ইতালিয়ান ক্লাব রোমায় যোগ দেওয়া এরিক লামেলা। পুরো ম্যাচেই দারুণ খেলা ১৯ বছর বয়সী লামেলা ৭০ মিনিটে করেছেন জয়সূচক গোলটি।

ফেল্প্স ও ‘মিসাইলে’র জয়

আমেরিকান ‘মিসাইল’ আক্রমণ হয়েছে সাংহাইয়ে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সাঁতারপুলে হয়েছে বিস্ফোরণ। তবে কেউই হতাহত হয়নি। হওয়ার কথাও নয়। এই মিসাইল রক্ত-মাংসের মানুষ! সাংহাইয়ের সাঁতারপুলে ঝড় তুলে মিসাইল উপাধি পেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শী সাতারু। নাম মেলিসা ‘মিসাইল’ ফ্রাঙ্কলিন।
এই মানব ‘মিসাইল’ কালকেই পেয়েছেন দুটি সোনার পদক। ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক জেতার দুই ঘণ্টা পর দেশকে জিতিয়েছেন ৪–১০০ মিটার মিডলের রিলে। ১৯৯৮-এর পর এই প্রথম এই ইভেন্টটি জিতল যুক্তরাষ্ট্র। সাংহাইয়ে কালকের দুটি সোনাসহ মোট পাঁচটি পদক পাওয়া হয়ে গেল এই সাঁতারুর। যার তিনটিই সোনা।
মিসি ‘মিসাইলের’ খুশিটা টের পাওয়া যায় তাঁর কথাতেই, ‘এটা বর্ণনা করার মতো কোনো শব্দ সত্যিই নেই। আমি খুব খুশি। আমি এমন খুশি সারা জীবনেও ছিলাম না।’
তাঁর বিখ্যাত সতীর্থ মাইকেল ফেল্প্সও উচ্ছ্বসিত ফ্রাঙ্কলিনকে নিয়ে, ‘সে এক কথায় অবিশ্বাস্য।’ ফেল্প্স নিজেও কাল জিতেছেন ১০০ মিটার বাটারফ্লাই। এই ইভেন্টে এটা তাঁর হ্যাটট্রিক শিরোপা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ২৫টি শিরোপা জেতা হয়ে গেল গত অলিম্পিকে ৮টি সোনাজয়ী ফেল্পেসর। যার মাত্র তিনটিই এবারের।
কাল খুব সহজেই ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইল জিতে বিশ্বের দ্রুততম সাঁতারু হয়েছেন বিতর্কিত সিজার সিয়েলো। ২০০৯ সালে রোমেও দ্রুততম সাঁতারু ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব রেকর্ডের মালিক সময় নিয়েছেন ২১.৫২ সেকেন্ড।
এদিকে সাঁতারপুলে ব্রিটেনকে প্রথম সোনা এনে দিয়েছেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন রেবেকো অ্যাডলিংটন। মেয়েদের ৮০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল জিতেছেন তিনি। কাল মেয়েদের আরেকটি ইভেন্ট ৫০ মিটার বাটারফ্লাই জিতেছেন হল্যান্ডের ইঙ্গে ডেকার।