Showing posts with label রোজিনা ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label রোজিনা ইসলাম. Show all posts
Tuesday, January 15, 2019
৯৫ হাজার বন্দীর জন্য মাত্র ৮ জন চিকিৎসক by রোজিনা ইসলাম

- • ৬৮ কারাগারে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১২৯টি
- • কারাগারে ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের থাকার ব্যবস্থা
- • কিন্তু আসামির সংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার
- • চিকিৎসক চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বারবার চিঠি
- • স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না
দেশের
৬৮টি কারাগারে প্রায় ৯৫ হাজার বন্দীর জন্য এখন চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র আটজন।
বন্দী ও চিকিৎসকের এই অনুপাতই বলে দিচ্ছে, কারা হাসপাতালগুলোতে
চিকিৎসাসেবার কী অবস্থা। ছোটখোটো শারীরিক সমস্যার জন্যও বন্দীদের কারা
হাসপাতালের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।
তবে কারা কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে বন্দী থাকা মানসিক রোগী ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে। এমন বন্দীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার। তাঁদের নিয়মিত কাউন্সেলিং (পরামর্শ) ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু সে ব্যবস্থা কারাগারগুলোতে নেই।
কারা হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসক চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গত এক বছরে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেও বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চিঠি–চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৬৮টি কারাগারে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১২৯টি। এর মধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে দুজন, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুমিল্লা, বরিশাল ও গাজীপুর জেলা কারা হাসপাতালে একজন করে চিকিৎসক রয়েছেন। দেশের কারাগারগুলোতে ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু আসামির সংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই হাজার কারাবন্দীর জন্যে একজন চিকিৎসকও নেই। আমরা ধার করে সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসি। সত্যিকারের যাঁরা রোগী, তাঁদের কোনো চিকিৎসাই দিতে পারছি না।’ কারা হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসক চেয়ে গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শতাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, সর্বশেষ চলতি বছরের শুরুতেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসক চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩৩টি। সেখানে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি ৩২টি পদই শূন্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে গত ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কড়া ভাষায় চিঠি লেখা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বলা হয়, ২০ জন চিকিৎসককে বিভিন্ন কারা হাসপাতালে যোগদান করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তাঁরা কাজে পর্যন্ত যোগ দেননি। যাঁরা যোগ দেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে বলা হয়। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও চিকিৎসক পদায়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কারা হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ রয়েছে বেশির ভাগ চিকিৎসকের। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের হাসপাতালে তাঁরা যেতে রাজি হন না। তিনি বলেন, ‘দেখি, এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী করে?’
কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ মাহবুবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কারাগারে ১১ হাজার বন্দীর জন্য ২ জন চিকিৎসক। বন্দীদের কোনো চিকিৎসাই আসলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন অন্তত দুই শ বন্দী বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে কারা হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, এক্সরে করার মতো কক্ষ নেই। হাসপাতালের কোনো সুবিধাই এত বড় কারাগারে আসলে নেই।
কারা হাসপাতালে চিকিৎসক–সংকটের সুযোগ নিয়ে খুনের আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরা বাইরের হাসপাতালে অবস্থান করার সুযোগ নেন বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, কারা হাসপাতালে চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকলে নানা অজুহাত দেখিয়ে ভিআইপি বন্দীদের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা যেত। দুর্নীতিও কমে আসত।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক উপ-কারা মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় এক লাখ কারাবন্দীর জন্য মাত্র আটজন চিকিৎসক থাকার বিষয়টি অস্বাভাবিক। বন্দী হিসেবে কারাগারে থাকলেও তাঁদের মানবাধিকারের বিষয়টি সবার ভাবা দরকার। তিনি বলেন, তাঁর সময়ে অবস্থা একই রকম ছিল। এখন সময় এসেছে অবস্থা পরিবর্তনের।
তবে কারা কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে বন্দী থাকা মানসিক রোগী ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে। এমন বন্দীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার। তাঁদের নিয়মিত কাউন্সেলিং (পরামর্শ) ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু সে ব্যবস্থা কারাগারগুলোতে নেই।
কারা হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসক চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গত এক বছরে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেও বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চিঠি–চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৬৮টি কারাগারে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১২৯টি। এর মধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে দুজন, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুমিল্লা, বরিশাল ও গাজীপুর জেলা কারা হাসপাতালে একজন করে চিকিৎসক রয়েছেন। দেশের কারাগারগুলোতে ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু আসামির সংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই হাজার কারাবন্দীর জন্যে একজন চিকিৎসকও নেই। আমরা ধার করে সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসি। সত্যিকারের যাঁরা রোগী, তাঁদের কোনো চিকিৎসাই দিতে পারছি না।’ কারা হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসক চেয়ে গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শতাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, সর্বশেষ চলতি বছরের শুরুতেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসক চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩৩টি। সেখানে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি ৩২টি পদই শূন্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে গত ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কড়া ভাষায় চিঠি লেখা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বলা হয়, ২০ জন চিকিৎসককে বিভিন্ন কারা হাসপাতালে যোগদান করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তাঁরা কাজে পর্যন্ত যোগ দেননি। যাঁরা যোগ দেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে বলা হয়। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও চিকিৎসক পদায়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কারা হাসপাতালে যেতে অনাগ্রহ রয়েছে বেশির ভাগ চিকিৎসকের। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের হাসপাতালে তাঁরা যেতে রাজি হন না। তিনি বলেন, ‘দেখি, এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী করে?’
কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ মাহবুবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কারাগারে ১১ হাজার বন্দীর জন্য ২ জন চিকিৎসক। বন্দীদের কোনো চিকিৎসাই আসলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন অন্তত দুই শ বন্দী বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে কারা হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, এক্সরে করার মতো কক্ষ নেই। হাসপাতালের কোনো সুবিধাই এত বড় কারাগারে আসলে নেই।
কারা হাসপাতালে চিকিৎসক–সংকটের সুযোগ নিয়ে খুনের আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরা বাইরের হাসপাতালে অবস্থান করার সুযোগ নেন বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, কারা হাসপাতালে চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকলে নানা অজুহাত দেখিয়ে ভিআইপি বন্দীদের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা যেত। দুর্নীতিও কমে আসত।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক উপ-কারা মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় এক লাখ কারাবন্দীর জন্য মাত্র আটজন চিকিৎসক থাকার বিষয়টি অস্বাভাবিক। বন্দী হিসেবে কারাগারে থাকলেও তাঁদের মানবাধিকারের বিষয়টি সবার ভাবা দরকার। তিনি বলেন, তাঁর সময়ে অবস্থা একই রকম ছিল। এখন সময় এসেছে অবস্থা পরিবর্তনের।
Thursday, December 3, 2015
অর্থ, আধিপত্যের জন্য অশান্ত হতে পারে কারওয়ান বাজার by রোজিনা ইসলাম
![]() |
| রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ফুটপাতসহ সড়কের দুই পাশ ঘেঁষে রাখা হয় গাড়ি। এতে বাধাগ্রস্ত হয় যান চলাচল ও পথচারীদের হাঁটাচলা। পেট্রোবাংলা ভবনের সামনের ছবি l প্রথম আলো |
রাজধানীতে
পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচার অন্যতম বড় কেন্দ্র কারওয়ান বাজার ঘিরে অবৈধভাবে
ছোট-বড় ট্রাকস্ট্যান্ড, অবৈধ দোকানপাট, চাঁদাবাজি এবং এসবের ওপর আধিপত্য
বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা সেখানে অবৈধ
স্থাপনা করেছে। ইজারার নামে কাঁচাবাজারকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে ফুটপাতে দোকান
বসানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে
বিরোধ দেখা দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ অবস্থায় কারওয়ান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে; এমনকি যেকোনো সময় খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
বেশ কয়েক বছর আগে কারওয়ান বাজার সরিয়ে মহাখালীতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষে৵ সিটি করপোরেশন সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে। এখন ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে যাত্রাবাড়ী, আমিনবাজার ও মহাখালীতে যথাক্রমে আড়ত, খুচরা ও মাছবাজার সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেয়রকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
জানতে চাইলে মেয়র আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে আগে হতো খুনোখুনি, এখন হচ্ছে চাঁদাবাজি। শত শত দোকান জবরদখল করা। যেসব দোকান আড়ত হিসেবে ভাড়া দেওয়া, সেগুলোতে লোক ঘুমায়। কিচেন মার্কেটটিতেও ফাটল ধরেছে। মেয়র বলেন, মূলত ট্রাকস্ট্যান্ড ও বাজারকে ঘিরে প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা সেখানে অবৈধ স্থাপনা করেছে। আমরা যে যুদ্ধে নেমেছি এখন প্রয়োজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের সহযোগিতা।’ প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। তবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে কারওয়ান বাজারে দোকানিদের কাছে চাঁদাবাজির কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে চাঁদা উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সবজি ও ফলফলাদি গাড়িতে ওঠানো-নামানোর সময় গাড়িপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে হয়রানির শিকার হন তাঁরা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মোস্তফা ৮ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকায় এক বছরের জন্য কারওয়ান বাজারে গাড়ি পার্কিংয়ের ইজারা নেন। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত যানবাহন ভেদে নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের কথা। কিন্তু ইজারাদার ২৪ ঘণ্টা ব্যবসায়ী ও চালকদের কাছ থেকে টোল আদায় করছেন। কাজী মোস্তফা নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী ৩০ জন নেতা-কর্মীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে তাঁদের অংশীদার বানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজী মোস্তফা ওরফে কালা মোস্তফা চাঁদাবাজি ও ফুটপাত দখলে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি দুলাল ওরফে বিদেশি দুলাল, কালাম ওরফে লাভলি কামাল, ফারুক বিএসসি ও বিপ্লব গংদের মাধ্যমে চাঁদা উঠিয়ে থাকেন।
তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কখনো মাসিক বাজার করতে ছাড়া কারওয়ান বাজারে যাই না। আমি একটি এতিমখানা পরিচালনা করি।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে তা সঠিক।
জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির কিছু ঘটনা ছিল যা অনেক আগের। এখন এ রকম হচ্ছে বলে তাঁর জানা নেই।
এসব বিষয়ে তেজগাঁও এলাকার সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি আমি স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে এঁরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ আধিপত্য বিস্তার করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মোস্তফা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরই একজন কর্মচারী (পিয়ন)। করপোরেশনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে তিনি ইজারার কাজটি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে মেয়র আনিসুল হক আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই নিলাম ডেকে পার্কিংয়ের জন্য নতুন ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ অবস্থায় কারওয়ান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে; এমনকি যেকোনো সময় খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
বেশ কয়েক বছর আগে কারওয়ান বাজার সরিয়ে মহাখালীতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষে৵ সিটি করপোরেশন সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে। এখন ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে যাত্রাবাড়ী, আমিনবাজার ও মহাখালীতে যথাক্রমে আড়ত, খুচরা ও মাছবাজার সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেয়রকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
জানতে চাইলে মেয়র আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে আগে হতো খুনোখুনি, এখন হচ্ছে চাঁদাবাজি। শত শত দোকান জবরদখল করা। যেসব দোকান আড়ত হিসেবে ভাড়া দেওয়া, সেগুলোতে লোক ঘুমায়। কিচেন মার্কেটটিতেও ফাটল ধরেছে। মেয়র বলেন, মূলত ট্রাকস্ট্যান্ড ও বাজারকে ঘিরে প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা সেখানে অবৈধ স্থাপনা করেছে। আমরা যে যুদ্ধে নেমেছি এখন প্রয়োজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের সহযোগিতা।’ প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। তবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে কারওয়ান বাজারে দোকানিদের কাছে চাঁদাবাজির কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে চাঁদা উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সবজি ও ফলফলাদি গাড়িতে ওঠানো-নামানোর সময় গাড়িপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে হয়রানির শিকার হন তাঁরা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মোস্তফা ৮ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকায় এক বছরের জন্য কারওয়ান বাজারে গাড়ি পার্কিংয়ের ইজারা নেন। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত যানবাহন ভেদে নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের কথা। কিন্তু ইজারাদার ২৪ ঘণ্টা ব্যবসায়ী ও চালকদের কাছ থেকে টোল আদায় করছেন। কাজী মোস্তফা নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী ৩০ জন নেতা-কর্মীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে তাঁদের অংশীদার বানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজী মোস্তফা ওরফে কালা মোস্তফা চাঁদাবাজি ও ফুটপাত দখলে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি দুলাল ওরফে বিদেশি দুলাল, কালাম ওরফে লাভলি কামাল, ফারুক বিএসসি ও বিপ্লব গংদের মাধ্যমে চাঁদা উঠিয়ে থাকেন।
তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কখনো মাসিক বাজার করতে ছাড়া কারওয়ান বাজারে যাই না। আমি একটি এতিমখানা পরিচালনা করি।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে তা সঠিক।
জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির কিছু ঘটনা ছিল যা অনেক আগের। এখন এ রকম হচ্ছে বলে তাঁর জানা নেই।
এসব বিষয়ে তেজগাঁও এলাকার সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি আমি স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে এঁরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ আধিপত্য বিস্তার করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মোস্তফা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরই একজন কর্মচারী (পিয়ন)। করপোরেশনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে তিনি ইজারার কাজটি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে মেয়র আনিসুল হক আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই নিলাম ডেকে পার্কিংয়ের জন্য নতুন ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।’
Monday, November 2, 2015
মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তার কক্ষ তছনছ করলেন উপমন্ত্রী! by রোজিনা ইসলাম
যুব
ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের বিরুদ্ধে তাঁর মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম
সচিবের কক্ষে ভাঙচুর এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়ার
অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে উপমন্ত্রীর নাম না থাকায় তিনি এটা করেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানানো হয়েছে। উপমন্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত যুব দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকতে না পারায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করা হয়। গতকালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বীরেন শিকদারসহ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল ও মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে অনুষ্ঠান মঞ্চের পেছনে রাখা ব্যানারে নিজের নাম না দেখে ক্ষুব্ধ হন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী। তিনি একাধিকবার অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতেও উদ্যত হন। মন্ত্রণালয়ের সচিব নূর মোহাম্মদ উপমন্ত্রীকে নিবৃত্ত করেন। শেষ পর্যন্ত যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার আগে উপমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুপুরে অনুষ্ঠান শেষ না হতেই উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় মন্ত্রণালয়ে ফিরে এসে যুগ্ম সচিব (যুব) মাশুক মিয়ার কক্ষে গিয়ে তাঁর কম্পিউটার ও টেলিফোন টেবিল থেকে ফেলে দেন। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব গোলাম কবিরের কক্ষেও তালা লাগিয়ে দেন তিনি।
জানতে চাইলে সচিব নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, একজন যুগ্ম সচিব যদি অফিসে দেখেন তাঁর কক্ষের কম্পিউটার থেকে শুরু করে সবকিছু মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ভেঙে ফেলেছেন, কোনো কর্মকর্তা যদি দেখেন তাঁর কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন, তাহলে তাঁরা কী করে অফিস করবেন? এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে গেছেন। এ ধরনের ঘটনা এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে। এর একটা সমাধান দরকার।
সচিব বলেন, ‘আমার কাছে ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা এসেছিলেন। আমি বিষয়টি নিয়মানুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
দুপুরে আরিফ খান জয়ের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার রুম থেকে অন্য রুমে গিয়ে কীভাবে কম্পিউটার ভাঙব? পুরো ঘটনাটাই বানানো।’
উপমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের একটি অশুভ চক্র এই মন্ত্রণালয়ের সফলতা দেখে এসব বাজে প্রচারণা চালাচ্ছে। সেভাবেই আপনি এমন তথ্য পেয়েছেন। যেমন কয়েক দিন আগে আমি বিদেশ থেকে এসে শুনেছি, আমি নাকি মানব পাচার করেছি।’ উপমন্ত্রী বলেন, ‘এ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াতের হয়ে কাজ করেন। আমি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।’
গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় যুগ্ম সচিব (যুব) মাশুক মিয়ার কক্ষে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি সহকারী সচিব গোলাম কবিরকেও। মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে কোনো কর্মকর্তাকে কোনো মন্ত্রী দ্বারা এভাবে অপমানিত হতে দেখেননি। ওই দুই কর্মকর্তা ক্ষোভে-দুঃখে অফিস থেকে বের হয়ে গেছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে যা ঘটেছে, তা তো মন্ত্রণালয়ের সবাই দেখেছে। বিষয়টি সাংঘাতিক। এসব একদম ঠিক হয়নি।’
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে উপমন্ত্রীর নাম না থাকায় তিনি এটা করেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানানো হয়েছে। উপমন্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত যুব দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকতে না পারায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করা হয়। গতকালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বীরেন শিকদারসহ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল ও মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে অনুষ্ঠান মঞ্চের পেছনে রাখা ব্যানারে নিজের নাম না দেখে ক্ষুব্ধ হন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী। তিনি একাধিকবার অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতেও উদ্যত হন। মন্ত্রণালয়ের সচিব নূর মোহাম্মদ উপমন্ত্রীকে নিবৃত্ত করেন। শেষ পর্যন্ত যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার আগে উপমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুপুরে অনুষ্ঠান শেষ না হতেই উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় মন্ত্রণালয়ে ফিরে এসে যুগ্ম সচিব (যুব) মাশুক মিয়ার কক্ষে গিয়ে তাঁর কম্পিউটার ও টেলিফোন টেবিল থেকে ফেলে দেন। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব গোলাম কবিরের কক্ষেও তালা লাগিয়ে দেন তিনি।
জানতে চাইলে সচিব নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, একজন যুগ্ম সচিব যদি অফিসে দেখেন তাঁর কক্ষের কম্পিউটার থেকে শুরু করে সবকিছু মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ভেঙে ফেলেছেন, কোনো কর্মকর্তা যদি দেখেন তাঁর কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন, তাহলে তাঁরা কী করে অফিস করবেন? এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে গেছেন। এ ধরনের ঘটনা এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে। এর একটা সমাধান দরকার।
সচিব বলেন, ‘আমার কাছে ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা এসেছিলেন। আমি বিষয়টি নিয়মানুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
দুপুরে আরিফ খান জয়ের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার রুম থেকে অন্য রুমে গিয়ে কীভাবে কম্পিউটার ভাঙব? পুরো ঘটনাটাই বানানো।’
উপমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের একটি অশুভ চক্র এই মন্ত্রণালয়ের সফলতা দেখে এসব বাজে প্রচারণা চালাচ্ছে। সেভাবেই আপনি এমন তথ্য পেয়েছেন। যেমন কয়েক দিন আগে আমি বিদেশ থেকে এসে শুনেছি, আমি নাকি মানব পাচার করেছি।’ উপমন্ত্রী বলেন, ‘এ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াতের হয়ে কাজ করেন। আমি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।’
গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় যুগ্ম সচিব (যুব) মাশুক মিয়ার কক্ষে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি সহকারী সচিব গোলাম কবিরকেও। মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে কোনো কর্মকর্তাকে কোনো মন্ত্রী দ্বারা এভাবে অপমানিত হতে দেখেননি। ওই দুই কর্মকর্তা ক্ষোভে-দুঃখে অফিস থেকে বের হয়ে গেছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে যা ঘটেছে, তা তো মন্ত্রণালয়ের সবাই দেখেছে। বিষয়টি সাংঘাতিক। এসব একদম ঠিক হয়নি।’
Wednesday, August 19, 2015
ই–ভিসা নিয়ে জটিলতাঃ হজ অফিসকে দায়ী করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ by রোজিনা ইসলাম
![]() |
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে গত রোববার থেকে। ফ্লাইটের দ্বিতীয় দিন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিমুখে হজযাত্রীদের রওনা দেওয়ার ছবিটি হজক্যাম্প থেকে তোলা l প্রথম আলো |
মনোয়ার
হোসেন-ফজিলাতুন্নেসা দম্পতির ফ্লাইট ছিল গতকাল সোমবার সকাল নয়টা পাঁচ
মিনিটে। এ জন্য আগের দিন সন্ধ্যায় আশকোনা হজক্যাম্পে যান তাঁরা। ভোর
পর্যন্ত কিছু জানানো না হলে তাঁরা বিমান অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন,
স্ত্রীর ভিসা হলেও স্বামীর হয়নি। কবে হবে, সেটাও কেউ জানাতে পারেননি।
এরপর এই দম্পতি বাসায় ফিরে যান। এই পরিবারের একজন সদস্য গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ ব্যাপারে খোঁজখবর করেন।
ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে তাঁর কয়েকজন সহকর্মীরও হজে যাওয়ার কথা। তাঁদেরও পাসপোর্টে ভিসা লাগেনি। এদিকে ই-ভিসা বিড়ম্বনার দ্বিতীয় দিনে গতকালও সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রায় সাড়ে চার শ হজযাত্রী সকাল নয়টার নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরবে যেতে পারেননি।
সৌদি সরকার এ জন্য দায়ী করছে বাংলাদেশের হজ অফিসকে। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ধর্মসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, সৌদি দূতাবাস তাদের জানিয়েছে, হজ ফ্লাইটসূচি অনুযায়ী তারা বাংলাদেশের হজ অফিস থেকে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পায়নি। একদম শেষের দিকে তারা এক হাজার পাসপোর্ট পেয়েছে। ফলে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার দূতাবাস খোলা রেখেছিল। তা ছাড়া সঠিক মাপের ছবি না দেওয়ায় তারা ৩০০ ভিসা ইস্যু করতে পারেনি। এগুলো পুনরায় জমা দিতে হবে।
তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের এ বক্তব্য মানতে নারাজ। গতকাল সন্ধ্যায় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র ও হজ মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ব্যবস্থা এবং অসংগতির কারণে অনেকের ভিসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই ৩০০ ভিসার ব্যাপারে কিছু জানায়নি সৌদি দূতাবাস। এভাবে ভিসা না হওয়ার কারণে তারা খুবই শঙ্কিত এবং ফ্লাইট বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্মসচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাসপোর্ট সঠিক সময়ে জমা না দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। যখন যা তৈরি হয়েছে, আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি। আসলে এবার প্রথম ই-ভিসা চালু হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে।’
যাঁদের স্ত্রী বা স্বামী ভিসা পাননি, তাঁরা কীভাবে যাবেন জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘এটাই এবারের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটা নিয়েই আমরা বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছি। প্রতিটি ফ্লাইটে কিছু কিছু করে হজযাত্রীকে আগাম পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও আশকোনা হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভিসা না হওয়ার খবরে হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সালামত হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের আবদুল্লাহিল ওয়াহিদ জানান, তাঁর দুটি এজেন্সির ৫২৪ জন হজযাত্রীর একজনেরও গতকাল পর্যন্ত ভিসা হয়নি। তিনি এ জন্য হজ অফিসকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, সময়মতো কাগজপত্র ঠিক করে সৌদি দূতাবাসে না পাঠানো এবং ছবির সাইজের সমস্যার কারণে ভিসা হচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁর ও তাঁর মায়ের ভিসা হয়নি। এজেন্টকে ফোন দিলে বলছেন, দোয়া করেন, ভিসা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে।
এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনের হজ পালনের কথা রয়েছে। এঁদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ২ হাজার ৭০০ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৫১ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করবে।
হজ অফিসের তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা যায়, ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইনসের মোট চারটি ফ্লাইটে দেড় হাজার হজযাত্রী জেদ্দায় গেছেন। গতকাল যাত্রা করেছেন ১৩টি ফ্লাইটে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হজযাত্রী।
এরপর এই দম্পতি বাসায় ফিরে যান। এই পরিবারের একজন সদস্য গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ ব্যাপারে খোঁজখবর করেন।
ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে তাঁর কয়েকজন সহকর্মীরও হজে যাওয়ার কথা। তাঁদেরও পাসপোর্টে ভিসা লাগেনি। এদিকে ই-ভিসা বিড়ম্বনার দ্বিতীয় দিনে গতকালও সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রায় সাড়ে চার শ হজযাত্রী সকাল নয়টার নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরবে যেতে পারেননি।
সৌদি সরকার এ জন্য দায়ী করছে বাংলাদেশের হজ অফিসকে। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ধর্মসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, সৌদি দূতাবাস তাদের জানিয়েছে, হজ ফ্লাইটসূচি অনুযায়ী তারা বাংলাদেশের হজ অফিস থেকে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পায়নি। একদম শেষের দিকে তারা এক হাজার পাসপোর্ট পেয়েছে। ফলে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার দূতাবাস খোলা রেখেছিল। তা ছাড়া সঠিক মাপের ছবি না দেওয়ায় তারা ৩০০ ভিসা ইস্যু করতে পারেনি। এগুলো পুনরায় জমা দিতে হবে।
তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের এ বক্তব্য মানতে নারাজ। গতকাল সন্ধ্যায় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র ও হজ মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ব্যবস্থা এবং অসংগতির কারণে অনেকের ভিসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই ৩০০ ভিসার ব্যাপারে কিছু জানায়নি সৌদি দূতাবাস। এভাবে ভিসা না হওয়ার কারণে তারা খুবই শঙ্কিত এবং ফ্লাইট বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্মসচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাসপোর্ট সঠিক সময়ে জমা না দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। যখন যা তৈরি হয়েছে, আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি। আসলে এবার প্রথম ই-ভিসা চালু হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে।’
যাঁদের স্ত্রী বা স্বামী ভিসা পাননি, তাঁরা কীভাবে যাবেন জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘এটাই এবারের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটা নিয়েই আমরা বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছি। প্রতিটি ফ্লাইটে কিছু কিছু করে হজযাত্রীকে আগাম পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও আশকোনা হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভিসা না হওয়ার খবরে হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সালামত হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের আবদুল্লাহিল ওয়াহিদ জানান, তাঁর দুটি এজেন্সির ৫২৪ জন হজযাত্রীর একজনেরও গতকাল পর্যন্ত ভিসা হয়নি। তিনি এ জন্য হজ অফিসকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, সময়মতো কাগজপত্র ঠিক করে সৌদি দূতাবাসে না পাঠানো এবং ছবির সাইজের সমস্যার কারণে ভিসা হচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁর ও তাঁর মায়ের ভিসা হয়নি। এজেন্টকে ফোন দিলে বলছেন, দোয়া করেন, ভিসা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে।
এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনের হজ পালনের কথা রয়েছে। এঁদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ২ হাজার ৭০০ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৫১ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করবে।
হজ অফিসের তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা যায়, ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইনসের মোট চারটি ফ্লাইটে দেড় হাজার হজযাত্রী জেদ্দায় গেছেন। গতকাল যাত্রা করেছেন ১৩টি ফ্লাইটে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হজযাত্রী।
Sunday, August 16, 2015
পলাতক আসামিকে ফেরাতে জটিলতা by রোজিনা ইসলাম
ভারতে বন্দী চট্টগ্রামের আট খুন মামলার আসামি ও শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার পলাতক সাজ্জাদ হোসেন খানকে তিন বছরেও দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে ২০১২ সাল থেকে ভারতকে সাতটি স্মারকে বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হলেও সেগুলোর তথ্য আংশিক ও অসম্পূর্ণ থাকায় এখনো বার্তা চালাচালি চলছে। এ ছাড়া নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে সাজ্জাদ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে মো. আবদুল্লাহ বলে দাবি করায়। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রস্তাবে তাঁর নাম কোথাও সাজ্জাদ খান আবার কোথাও সাজ্জাদ হোসেন খান উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দী রয়েছেন। জটিলতা নিরসন করে সাজ্জাদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সাজ্জাদ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য-সংবলিত নতুন বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো না হলে তিনি ভারতের কারাগার থেকে ছাড়াও পেয়ে যেতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, একটি অস্ত্র মামলায় সন্ত্রাসী সাজ্জাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আট খুন মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলেও হাইকোর্টে তিনি অব্যাহতি পান। তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা বিচারাধীন এবং সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সম্প্রতি নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামে আট খুনের মামলার আসামি সাজ্জাদ ভারত সরকারের কাছে জোরালো দাবি করেছেন, তিনি ‘মো. আবদুল্লাহ’। তাঁর নাম ‘সাজ্জাদ হোসেন খান’ নয়। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর পাসপোর্টও ফেরত চেয়েছেন। ভারতের কর্তৃপক্ষ বলেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব তথ্য পাঠানো হয়েছে তা বিচ্ছিন্ন ও অসম্পূর্ণ।
আসামির নামের ক্ষেত্রেও রয়েছে অমিল। কোনো কোনো স্থানে ‘সাজ্জাদ খান’, আবার কোনো কোনো স্থানে ‘সাজ্জাদ হোসেন খান’ উল্লেখ করা হয়েছে। পাঠানো এফিডেভিটে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, অভিযোগসংশ্লিষ্ট আইনের ধারার উদ্ধৃতি, আসামি গ্রেপ্তার ও জামিনসংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বার্তায় আরও বলা হয়, ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও এবং ‘অতি জরুরি’ বলা হলেও ‘আংশিক’ কাগজপত্র পাঠানো হচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাজ্জাদের বিষয়ে যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র দিতে হবে। না হলে তিনি ছাড়াও পেয়ে যেতে পারেন। তাই যথাযথ নথি ও কাগজপত্রসহ নতুন বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠাতে ওই বার্তায় অনুরোধ জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, নতুন বহিঃসমর্পণ প্রস্তাবের সঙ্গে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী, অভিযোগসমূহের বিস্তারিত বিবরণসহ এফিডেভিট, অপরাধের বিবরণ, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান, অভিযোগসংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ও মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র বলেছে, ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে মাইক্রোবাস থামিয়ে ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীসহ আটজনকে গুলি করে হত্যা করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা। এ মামলায় সাজ্জাদসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের একটি আদালত এ রায় ঘোষণার আগেই সাজ্জাদ দুবাই পালিয়ে যান। হাইকোর্টে ওই মামলায় তিনি খালাস পান।
সূত্র আরও বলেছে, ২০০১ সালের ২ এপ্রিল সাজ্জাদ একে-৪৭ রাইফেলসহ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এর বছর দেড়েক পর জামিনে কারাগার থেকে বের হন। চট্টগ্রামের কারা ফটক থেকে তাঁকে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন একজন সাংসদ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি গোপনে দুবাই চলে যান। অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে গ্রেপ্তার হন সাজ্জাদ। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, সাজ্জাদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আরও জটিলতা হতে পারে। কারণ, সাজ্জাদ দেশে ফিরতে চান না। তিনি পাঞ্জাবের এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তাঁদের একটি সন্তানও আছে। ভারত থেকে সাজ্জাদকে ফিরিয়ে আনার সময় সেখানকার মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাজ্জাদের স্ত্রী-সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি জটিল করে দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, একটি অস্ত্র মামলায় সন্ত্রাসী সাজ্জাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আট খুন মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলেও হাইকোর্টে তিনি অব্যাহতি পান। তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা বিচারাধীন এবং সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সম্প্রতি নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামে আট খুনের মামলার আসামি সাজ্জাদ ভারত সরকারের কাছে জোরালো দাবি করেছেন, তিনি ‘মো. আবদুল্লাহ’। তাঁর নাম ‘সাজ্জাদ হোসেন খান’ নয়। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর পাসপোর্টও ফেরত চেয়েছেন। ভারতের কর্তৃপক্ষ বলেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব তথ্য পাঠানো হয়েছে তা বিচ্ছিন্ন ও অসম্পূর্ণ।
আসামির নামের ক্ষেত্রেও রয়েছে অমিল। কোনো কোনো স্থানে ‘সাজ্জাদ খান’, আবার কোনো কোনো স্থানে ‘সাজ্জাদ হোসেন খান’ উল্লেখ করা হয়েছে। পাঠানো এফিডেভিটে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, অভিযোগসংশ্লিষ্ট আইনের ধারার উদ্ধৃতি, আসামি গ্রেপ্তার ও জামিনসংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বার্তায় আরও বলা হয়, ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও এবং ‘অতি জরুরি’ বলা হলেও ‘আংশিক’ কাগজপত্র পাঠানো হচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাজ্জাদের বিষয়ে যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র দিতে হবে। না হলে তিনি ছাড়াও পেয়ে যেতে পারেন। তাই যথাযথ নথি ও কাগজপত্রসহ নতুন বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠাতে ওই বার্তায় অনুরোধ জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, নতুন বহিঃসমর্পণ প্রস্তাবের সঙ্গে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী, অভিযোগসমূহের বিস্তারিত বিবরণসহ এফিডেভিট, অপরাধের বিবরণ, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান, অভিযোগসংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ও মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র বলেছে, ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে মাইক্রোবাস থামিয়ে ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীসহ আটজনকে গুলি করে হত্যা করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা। এ মামলায় সাজ্জাদসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের একটি আদালত এ রায় ঘোষণার আগেই সাজ্জাদ দুবাই পালিয়ে যান। হাইকোর্টে ওই মামলায় তিনি খালাস পান।
সূত্র আরও বলেছে, ২০০১ সালের ২ এপ্রিল সাজ্জাদ একে-৪৭ রাইফেলসহ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এর বছর দেড়েক পর জামিনে কারাগার থেকে বের হন। চট্টগ্রামের কারা ফটক থেকে তাঁকে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন একজন সাংসদ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি গোপনে দুবাই চলে যান। অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে গ্রেপ্তার হন সাজ্জাদ। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, সাজ্জাদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আরও জটিলতা হতে পারে। কারণ, সাজ্জাদ দেশে ফিরতে চান না। তিনি পাঞ্জাবের এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তাঁদের একটি সন্তানও আছে। ভারত থেকে সাজ্জাদকে ফিরিয়ে আনার সময় সেখানকার মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাজ্জাদের স্ত্রী-সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি জটিল করে দিতে পারে।
Tuesday, August 11, 2015
মাগুরায় খুনোখুনির পেছনে শিখর–বীরেনের দ্বন্দ্ব by রোজিনা ইসলাম
![]() |
| মাগুরায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গর্ভের সন্তানসহ নাজমা খাতুন গুলিবিদ্ধ |
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-২) সাইফুজ্জামান শিখর এবং যুব ও
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের মধ্যে বিরোধ আর দুই পক্ষের আধিপত্য
বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরায় সংঘাত ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। পুলিশের
বিশেষ শাখার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে গর্ভের সন্তানসহ নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিশেষ শাখা এ গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনটি ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরোধের জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইদানীং গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘এলাকার পুলিশ প্রশাসনও এ বিষয়ে আমাদের জানিয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের বিশেষ শাখার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর গ্রুপ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ফলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং গত ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল ও সংঘর্ষ প্রকট আকার ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রায়ই গ্রুপ পরিবর্তন করে স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ নিচ্ছেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের উসকানিতে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শনিবার রাতে ও গতকাল দিনভর সাইফুজ্জামান শিখরের মুঠোফোনে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাঁর মুঠোফোনে কয়েক দফা খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান শিখরের গ্রুপে আছেন মাগুরা-১ আসনের সাংসদ আবদুল ওয়াহহাব, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু, মাগুরা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রুস্তম আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজেল হোসেন খান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী গোলাম মওলা, সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
অপর দিকে বীরেন শিকদার গ্রুপে আছেন সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু নাসির (বাবলু), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানা ওসমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকি ইমাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শরীফ, মাগুরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিরুল ও নাজমুল।
এ বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেছেন যে সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে তাঁর ‘সম্পর্ক খারাপ’। তিনি বলেন, ‘শিখরের বাবা যে নির্বাচনী এলাকার সাংসদ ছিলেন, আমি সেখানকার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি। আর এটাই ওদের বিদ্বেষ। কিন্তু ওরা এলাকায় যেসব অপকর্ম করে চলেছে, তা সবাই জানেন।’
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভূঁইয়া ও ছাত্রলীগের কর্মী আজিবর শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকি ইমামের চাচা মোমিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হন। মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কন্যাসন্তান হয়। মায়ের পেটে থাকা শিশুটির পিঠে গুলি লেগে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা হয়েছে। ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই দিন মাগুরা থানার রূপদাহ গ্রামে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী-সমর্থিত মোস্তফা মেম্বার, মোক্তার ও নান্নু গ্রুপের সঙ্গে সাইফুজ্জামান শিখর-সমর্থিত জহুর মিয়া ও লালন গ্রুপের সংঘর্ষে নান্নু শেখ নামের একজন নিহত হন। আহত হন ১৬-১৭ জন। একই সময়ে একই থানার ডহরসিংড়া গ্রামে শফিকুল ও রাজা গ্রুপের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর গর্ভজাত সন্তান আহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে আসায় আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার বিরোধ মীমাংসা করা প্রয়োজন। না হলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য স্থানীয় সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, দরপত্র নিয়ে টাকা ভাগাভাগির সময় ওই মারামারি হয়। তখন নিজের ঘরের বারান্দায় ওই মা ও গর্ভজাত সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি দাবি করেন, শিখরের দুই ভাই এর সঙ্গে জড়িত।
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে গর্ভের সন্তানসহ নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিশেষ শাখা এ গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনটি ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরোধের জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইদানীং গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘এলাকার পুলিশ প্রশাসনও এ বিষয়ে আমাদের জানিয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের বিশেষ শাখার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর গ্রুপ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ফলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং গত ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল ও সংঘর্ষ প্রকট আকার ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রায়ই গ্রুপ পরিবর্তন করে স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ নিচ্ছেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের উসকানিতে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শনিবার রাতে ও গতকাল দিনভর সাইফুজ্জামান শিখরের মুঠোফোনে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাঁর মুঠোফোনে কয়েক দফা খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান শিখরের গ্রুপে আছেন মাগুরা-১ আসনের সাংসদ আবদুল ওয়াহহাব, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু, মাগুরা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রুস্তম আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজেল হোসেন খান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী গোলাম মওলা, সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
অপর দিকে বীরেন শিকদার গ্রুপে আছেন সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু নাসির (বাবলু), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানা ওসমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকি ইমাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শরীফ, মাগুরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিরুল ও নাজমুল।
এ বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেছেন যে সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে তাঁর ‘সম্পর্ক খারাপ’। তিনি বলেন, ‘শিখরের বাবা যে নির্বাচনী এলাকার সাংসদ ছিলেন, আমি সেখানকার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি। আর এটাই ওদের বিদ্বেষ। কিন্তু ওরা এলাকায় যেসব অপকর্ম করে চলেছে, তা সবাই জানেন।’
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভূঁইয়া ও ছাত্রলীগের কর্মী আজিবর শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকি ইমামের চাচা মোমিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হন। মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কন্যাসন্তান হয়। মায়ের পেটে থাকা শিশুটির পিঠে গুলি লেগে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা হয়েছে। ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই দিন মাগুরা থানার রূপদাহ গ্রামে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী-সমর্থিত মোস্তফা মেম্বার, মোক্তার ও নান্নু গ্রুপের সঙ্গে সাইফুজ্জামান শিখর-সমর্থিত জহুর মিয়া ও লালন গ্রুপের সংঘর্ষে নান্নু শেখ নামের একজন নিহত হন। আহত হন ১৬-১৭ জন। একই সময়ে একই থানার ডহরসিংড়া গ্রামে শফিকুল ও রাজা গ্রুপের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর গর্ভজাত সন্তান আহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে আসায় আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার বিরোধ মীমাংসা করা প্রয়োজন। না হলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য স্থানীয় সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, দরপত্র নিয়ে টাকা ভাগাভাগির সময় ওই মারামারি হয়। তখন নিজের ঘরের বারান্দায় ওই মা ও গর্ভজাত সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি দাবি করেন, শিখরের দুই ভাই এর সঙ্গে জড়িত।
Sunday, August 2, 2015
সামিউল হত্যা: কামরুলকে ফেরাতে জটিলতার শঙ্কা by রোজিনা ইসলাম
![]() |
| শেখ সামিউল আলম রাজন |
সিলেটে
শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলামকে দেশে
ফিরিয়ে আনা হবে বলা হলেও সৌদি আরবের সঙ্গে বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকায় এ
ক্ষেত্রে জটিলতা হতে পারে। অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কামরুলকে
ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই তাঁকে দেশে
এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সৌদি আরবে আটক কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সে দেশের সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবের সঙ্গে মামলার এজাহারের অনুলিপি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের কপিসহ কোন আইনে কামরুলের বিচার করা হতে পারে, সে-সংক্রান্ত মোট ৩২ পৃষ্ঠার কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে সামিউল হত্যার বিচার করা হবে। প্রস্তাবটি সৌদি কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
১৩ বছর বয়সী সামিউলকে ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর সৌদি আরবপ্রবাসী কামরুল পালিয়ে সেখানে চলে যান। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় জেদ্দায় তাঁকে আটক করে সৌদি পুলিশ। বর্তমানে তিনি সেখানকার কারাগারে আছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে সে দেশে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চুক্তি না থাকায় কামরুলকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে। অন্য কোনো আইনে তাঁকে ফেরত পাঠাতে পারে। সৌদি সরকার চাইলে কামরুলকে পুশব্যাকও করতে পারে অথবা তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে৷ তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে দুই দেশের সম্পর্ক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর৷
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো কাগজপত্রে সিলেটের জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের দায়ের করা এজাহারও পাঠানো হয়েছে। ওই এজাহারে সামিউলের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই ভোর ছয়টায় ভ্যানগাড়ি চুরি করার সময় ওই ওয়ার্কশপের নিরাপত্তা প্রহরী ময়না মিয়া আশপাশের ওয়ার্কশপের লোকজনকে নিয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে (সামিউল) মারধর করে গুরুতর আহত করেন ও পরে ওই ব্যক্তি মারা যায়। তবে সামিউলের বাবা আজিজুর রহমান আলমের দায়ের করা এজাহারে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তাই পুলিশের এজাহারটি পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কামরুলের বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কামরুলের ভাই ও এই মামলার প্রধান আসামি মুহিত আলমসহ বেশ কয়েকজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। চুরির অভিযোগ তুলে সামিউলকে পেটানোর দৃশ্য ভিডিও করে তা নির্যাতনকারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই ভিডিওতে কামরুলকেও দেখা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকার অর্থ এই নয় যে এক দেশের আসামি অন্য দেশে ধরা পড়লে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে৷ এমন বাধ্যবাধকতা নেই৷ এই নোটিশের মাধ্যমে কোনো দেশের অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷
১৮ জুলাই সিলেটের সদর উপজেলার বাদেয়ালি গ্রামে সামিউলের বাড়িতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ২০ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অচিরেই কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ২২ জুলাই সিলেটের বাদেয়ালি গ্রামে গিয়েও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে কামরুলকে দেশে ফেরাতে তৎপরতা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, সামিউল হত্যার বিচার দ্রুত বিচার আইনে করা হবে। কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের আইনগত জটিলতা কাটিয়ে তাঁকে আনা হবে। তবে কখন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। এই হত্যার ঘটনাটি সারা পৃথিবীকে নাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দেশের আপামর জনসাধারণের মনে ঘটনাটি দাগ কেটেছে।
কামরুলের দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসামি কীভাবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সৌদি আরবে আটক কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সে দেশের সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবের সঙ্গে মামলার এজাহারের অনুলিপি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের কপিসহ কোন আইনে কামরুলের বিচার করা হতে পারে, সে-সংক্রান্ত মোট ৩২ পৃষ্ঠার কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে সামিউল হত্যার বিচার করা হবে। প্রস্তাবটি সৌদি কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
১৩ বছর বয়সী সামিউলকে ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর সৌদি আরবপ্রবাসী কামরুল পালিয়ে সেখানে চলে যান। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় জেদ্দায় তাঁকে আটক করে সৌদি পুলিশ। বর্তমানে তিনি সেখানকার কারাগারে আছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে সে দেশে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চুক্তি না থাকায় কামরুলকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে। অন্য কোনো আইনে তাঁকে ফেরত পাঠাতে পারে। সৌদি সরকার চাইলে কামরুলকে পুশব্যাকও করতে পারে অথবা তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে৷ তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে দুই দেশের সম্পর্ক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর৷
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো কাগজপত্রে সিলেটের জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের দায়ের করা এজাহারও পাঠানো হয়েছে। ওই এজাহারে সামিউলের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই ভোর ছয়টায় ভ্যানগাড়ি চুরি করার সময় ওই ওয়ার্কশপের নিরাপত্তা প্রহরী ময়না মিয়া আশপাশের ওয়ার্কশপের লোকজনকে নিয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে (সামিউল) মারধর করে গুরুতর আহত করেন ও পরে ওই ব্যক্তি মারা যায়। তবে সামিউলের বাবা আজিজুর রহমান আলমের দায়ের করা এজাহারে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তাই পুলিশের এজাহারটি পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কামরুলের বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কামরুলের ভাই ও এই মামলার প্রধান আসামি মুহিত আলমসহ বেশ কয়েকজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। চুরির অভিযোগ তুলে সামিউলকে পেটানোর দৃশ্য ভিডিও করে তা নির্যাতনকারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই ভিডিওতে কামরুলকেও দেখা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকার অর্থ এই নয় যে এক দেশের আসামি অন্য দেশে ধরা পড়লে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে৷ এমন বাধ্যবাধকতা নেই৷ এই নোটিশের মাধ্যমে কোনো দেশের অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷
১৮ জুলাই সিলেটের সদর উপজেলার বাদেয়ালি গ্রামে সামিউলের বাড়িতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ২০ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অচিরেই কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ২২ জুলাই সিলেটের বাদেয়ালি গ্রামে গিয়েও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে কামরুলকে দেশে ফেরাতে তৎপরতা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, সামিউল হত্যার বিচার দ্রুত বিচার আইনে করা হবে। কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের আইনগত জটিলতা কাটিয়ে তাঁকে আনা হবে। তবে কখন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। এই হত্যার ঘটনাটি সারা পৃথিবীকে নাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দেশের আপামর জনসাধারণের মনে ঘটনাটি দাগ কেটেছে।
কামরুলের দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসামি কীভাবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Wednesday, July 29, 2015
মানব পাচার প্রতিরোধে তিনটি বিধিমালা হচ্ছে- মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে by রোজিনা ইসলাম
মানব পাচার প্রতিরোধে তিনটি বিধিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সাত বিভাগে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল না হওয়া পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত মামলার বিচার হবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।
আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, বর্তমানে মানব পাচার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সাগরপথে। মানব পাচার আইনে অপরাধ হলেও অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে পাসপোর্ট আইনে। মানব পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণে তিনটি বিধিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৪৩ ও ৪৬ ধারার ক্ষমতাবলে এসব বিধিমালা করা হবে। এগুলো হলো: জাতীয় মানব পাচার দমন সংস্থা বিধিমালা ২০১৫, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা ২০১৫ এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও তহবিল বিধিমালা ২০১৫। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তিনটি বিধিমালার খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, মানব পাচার-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার, যশোর ও নড়াইলের মানব পাচারের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মানব পাচার-সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ও সুপারিশ করা হয়।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার বন্ধে তাঁরা নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে এ ধরনের অপরাধ দমনে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত আপাতত এ-সংক্রান্ত সব মামলা বিচার হচ্ছে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে মানব পাচারের মামলাগুলোর বিচার হলে ঘটনার শিকার লোকজনের বিচার পাওয়া সহজ হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, মানব পাচার-সংক্রান্ত ৫৫৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৭টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ১২টি মামলার রায় হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অপরাধ হলেও অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে পাসপোর্ট আইনে। মানব পাচার আইনে সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের অপরাধে সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানব পাচার মামলার বিচারের বিষয়ে এ আইনে দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারককে নিয়ে যেকোনো জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথাও বলা আছে।
সূত্র বলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মানব পাচার-সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশ মূলত মানব পাচারের উৎস দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রানজিট ও গন্তব্য দেশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে মানব পাচার প্রতিরোধে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ ছাড়া উপকূল ও সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযান ট্রলার এবং এসব যানে কর্মরত ব্যক্তির রেজিস্ট্রেশন দ্রুত করতে হবে। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে আরও অধিক হারে লোক পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকার হঠাৎ করে ধনী হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, কক্সবাজার, টেকনাফ ও উখিয়াতে চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তি মানব পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তদন্তের মাধ্যমে এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকেন। এঁরা যাতে একই কর্মস্থলে বেশি দিন না থাকতে পারেন এবং বদলি হয়ে আবার একই স্থানে না আসতে পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির তদারক কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, মানব পাচার বন্ধে জাল পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। মিয়ানমারের নাগরিকসহ বিদেশি কোনো নাগরিক যেন জরুরি ফি দিয়ে বিনা ভেরিফিকেশনে পাসপোর্ট নিতে না পারেন সে জন্য বিনা ভেরিফিকেশনে পাসপোর্ট দেওয়া নিরুৎসাহিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, বিধিমালা হলে মানব পাচারের মামলার বিচার সহজ হবে। তিনি বলেন, অশিক্ষা ও অজ্ঞতার কারণে লোকজন দালালদের ফাঁদে পড়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশে যাচ্ছে। এটি বন্ধে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধের জন্য সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, বর্তমানে মানব পাচার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সাগরপথে। মানব পাচার আইনে অপরাধ হলেও অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে পাসপোর্ট আইনে। মানব পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণে তিনটি বিধিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৪৩ ও ৪৬ ধারার ক্ষমতাবলে এসব বিধিমালা করা হবে। এগুলো হলো: জাতীয় মানব পাচার দমন সংস্থা বিধিমালা ২০১৫, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা ২০১৫ এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও তহবিল বিধিমালা ২০১৫। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তিনটি বিধিমালার খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, মানব পাচার-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার, যশোর ও নড়াইলের মানব পাচারের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মানব পাচার-সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ও সুপারিশ করা হয়।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার বন্ধে তাঁরা নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে এ ধরনের অপরাধ দমনে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত আপাতত এ-সংক্রান্ত সব মামলা বিচার হচ্ছে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে মানব পাচারের মামলাগুলোর বিচার হলে ঘটনার শিকার লোকজনের বিচার পাওয়া সহজ হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, মানব পাচার-সংক্রান্ত ৫৫৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৭টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ১২টি মামলার রায় হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অপরাধ হলেও অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে পাসপোর্ট আইনে। মানব পাচার আইনে সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের অপরাধে সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানব পাচার মামলার বিচারের বিষয়ে এ আইনে দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারককে নিয়ে যেকোনো জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথাও বলা আছে।
সূত্র বলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মানব পাচার-সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশ মূলত মানব পাচারের উৎস দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রানজিট ও গন্তব্য দেশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে মানব পাচার প্রতিরোধে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ ছাড়া উপকূল ও সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযান ট্রলার এবং এসব যানে কর্মরত ব্যক্তির রেজিস্ট্রেশন দ্রুত করতে হবে। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে আরও অধিক হারে লোক পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকার হঠাৎ করে ধনী হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, কক্সবাজার, টেকনাফ ও উখিয়াতে চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তি মানব পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তদন্তের মাধ্যমে এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকেন। এঁরা যাতে একই কর্মস্থলে বেশি দিন না থাকতে পারেন এবং বদলি হয়ে আবার একই স্থানে না আসতে পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির তদারক কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, মানব পাচার বন্ধে জাল পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। মিয়ানমারের নাগরিকসহ বিদেশি কোনো নাগরিক যেন জরুরি ফি দিয়ে বিনা ভেরিফিকেশনে পাসপোর্ট নিতে না পারেন সে জন্য বিনা ভেরিফিকেশনে পাসপোর্ট দেওয়া নিরুৎসাহিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, বিধিমালা হলে মানব পাচারের মামলার বিচার সহজ হবে। তিনি বলেন, অশিক্ষা ও অজ্ঞতার কারণে লোকজন দালালদের ফাঁদে পড়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশে যাচ্ছে। এটি বন্ধে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধের জন্য সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
Saturday, July 25, 2015
বিদেশ ভ্রমণের জন্য জিও না পেলে মিলবে না অফিশিয়াল পাসপোর্ট! by রোজিনা ইসলাম
সরকারি
কাজে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে যাবেন, কেবল তাঁদেরই অফিশিয়াল
পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম করা হচ্ছে। এই পাসপোর্ট নিতে হবে তাঁদের বিদেশ
ভ্রমণের জন্য দেওয়া সরকারি আদেশ (জিও) দেখিয়ে। এই জিও জারি করবে কেবল
মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।
অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার নীতিমালায় এই পরিবর্তন আনছে সরকার। এ জন্য অফিশিয়াল পাসপোর্টের প্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, অফিশিয়াল পাসপোর্টের অপব্যবহার, এই পাসপোর্টে বিদেশ গিয়ে ফিরে না আসা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সাজিয়ে মানব পাচার রোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থার ফলে অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সব মিলে প্রায় ১৩ লাখ। বর্তমানে সরকারি দপ্তরের পিয়ন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত কর্মকর্তারা অফিশিয়াল পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। সচিবেরা ব্যবহার করেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট। ২০১১ সাল থেকে অফিশিয়াল পাসপোর্টের প্রাধিকারের গণ্ডি বাড়ানো হয়। অফিশিয়াল পাসপোর্টে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে যান। এই পাসপোর্টে বিদেশ যাওয়া সহজ। কিন্তু বিদেশে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ দেশে ফেরেন না। বর্তমানে অফিশিয়াল পাসপোর্টের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে নেই এমন ব্যক্তিরাও অফিশিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে “অফিশিয়াল পাসপোর্টে” বিভিন্ন দেশে মানব পাচারের ঘটনার পর আমরা এ পর্যন্ত কয়েক হাজার পাসপোর্ট বাতিল করেছি। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি দেশ থেকে অফিশিয়াল পাসপোর্ট কমানোর অনুরোধ এসেছে। এ কারণে আমরা অফিশিয়াল পাসপোর্টের শ্রেণি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে গণহারে নয়, জিওর ভিত্তিতে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে।’
মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, পরিবর্তিত নীতিমালায় সাধারণ পাসপোর্টকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। সাধারণ জনগণকে সবুজ রঙের যে পাসপোর্ট দেওয়া হয়, তেমন পাসপোর্টই দেওয়া হবে প্রথম শ্রেণির নিচের কর্মকর্তাদের। তবে তাঁদের পাসপোর্টে লেখা থাকবে পিজি (পাসপোর্ট গভর্নমেন্ট)। আর অফিশিয়াল পাসপোর্টের নম্বরের আগে লেখা থাকবে ওসি (অফিশিয়াল ক্যাটাগরি)। বর্তমানে অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীরা কেবল জিও নিয়ে বিদেশ যেতে পারেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তাঁদের আগে জিও নিতে হবে এবং সেই জিও দেখিয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
বর্তমানে সচিব থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট বা লাল রঙের পাসপোর্ট পান। অফিশিয়াল পাসপোর্টের রং নীল। এ ছাড়া অন্যান্য সাধারণ পাসপোর্টের রং সবুজ। প্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা হলে সরকারি কর্মকর্তাদের দুই ধরনের পাসপোর্ট থাকবে। যাঁরা অফিশিয়াল পাসপোর্টের জন্য প্রাধিকার পাবেন তাঁরা সরকারি সফরের ক্ষেত্রে নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করবেন। এর বাইরে প্রাধিকার/নন-প্রাধিকার নির্বিশেষে অন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবুজ রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করবেন। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের জিও পেলে তাঁরা অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হবেন।
বর্তমানে যেসব অফিশিয়াল পাসপোর্ট আছে, প্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ হলে সেগুলো অকার্যকর হয়ে যাবে। এ ছাড়া বর্তমানে থাকা অফিশিয়াল পাসপোর্টের অনেকগুলোর মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশে থাকা সরকারি কর্মকর্তা যাঁরা এর আওতায় পড়বেন, তাঁদের পাসপোর্টের শ্রেণি পরিবর্তন করতে হবে।
অফিশিয়াল পাসপোর্টের নীতিমালা বদলাচ্ছে, সরকারি আদেশ জারি করবে কেবল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্প্রতি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠকে অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অফিশিয়াল পাসপোর্টের অপব্যবহার রোধে শুধু সরকারি কাজে যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিদেশ যাবেন, তাঁদের জিওর ভিত্তিতে পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখার অতিরিক্ত সচিব জ্যোতির্ময় দত্ত বলেন, অফিশিয়াল পাসপোর্টের গণ্ডি যেভাবে দিন দিন বাড়ছে তাতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। অবশ্য আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, অফিশিয়াল পাসপোর্টের প্রাধিকারের পরিধি হঠাৎ করে সংকুচিত হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে পাশের দেশগুলো এই পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কী নীতি অনুসরণ করে এবং কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাধিকারভুক্ত করে, তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে জালিয়াতি বন্ধ করতে হলে ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। জিও ও এনওসি (অনাপত্তি সনদ) অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলে জালিয়াতির মাধ্যমে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া বন্ধ হবে।
অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ চুক্তি থাকা দেশগুলোতে ভিসা নিয়ে যেতে হয় না। ওই দেশে যাওয়ার পর ভিসা নিতে হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, চীন, তুরস্কসহ ১৩টি দেশের সঙ্গে এই চুক্তি রয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। এই চুক্তির সুবিধা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী সাজিয়ে মানব পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ রয়েছে, অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিদেশে চলে যাচ্ছেন বিসিএস চিকিৎসকেরা। প্রথমে সিঙ্গাপুরে গিয়ে এমন পাসপোর্টধারীদের বেশির ভাগ অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন, আর দেশে ফিরছেন না। অফিশিয়াল পাসপোর্টে তুরস্কে গিয়েও অন্য দেশে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তুরস্ক থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এবং লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালি, স্পেনে যাওয়া যায়। সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্টে এসব পথে মানব পাচার হয়েছে। সম্প্রতি তুরস্ক সরকারের দেওয়া চিঠিতে কয়েকটি মানব পাচারের ঘটনা প্রকাশ পায়। এরপরই অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া কাউকে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হয় না। অফিশিয়াল পাসপোর্টের বিপরীতে দ্রুত ভিসা পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় বলে সেখানে এই ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গড়ে সবাই অফিশিয়াল পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। এ কারণে উন্নত কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের অফিশিয়াল পাসপোর্টের বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছে।
অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার নীতিমালায় এই পরিবর্তন আনছে সরকার। এ জন্য অফিশিয়াল পাসপোর্টের প্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, অফিশিয়াল পাসপোর্টের অপব্যবহার, এই পাসপোর্টে বিদেশ গিয়ে ফিরে না আসা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সাজিয়ে মানব পাচার রোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থার ফলে অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সব মিলে প্রায় ১৩ লাখ। বর্তমানে সরকারি দপ্তরের পিয়ন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত কর্মকর্তারা অফিশিয়াল পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। সচিবেরা ব্যবহার করেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট। ২০১১ সাল থেকে অফিশিয়াল পাসপোর্টের প্রাধিকারের গণ্ডি বাড়ানো হয়। অফিশিয়াল পাসপোর্টে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে যান। এই পাসপোর্টে বিদেশ যাওয়া সহজ। কিন্তু বিদেশে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ দেশে ফেরেন না। বর্তমানে অফিশিয়াল পাসপোর্টের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে নেই এমন ব্যক্তিরাও অফিশিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে “অফিশিয়াল পাসপোর্টে” বিভিন্ন দেশে মানব পাচারের ঘটনার পর আমরা এ পর্যন্ত কয়েক হাজার পাসপোর্ট বাতিল করেছি। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি দেশ থেকে অফিশিয়াল পাসপোর্ট কমানোর অনুরোধ এসেছে। এ কারণে আমরা অফিশিয়াল পাসপোর্টের শ্রেণি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে গণহারে নয়, জিওর ভিত্তিতে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে।’
মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, পরিবর্তিত নীতিমালায় সাধারণ পাসপোর্টকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। সাধারণ জনগণকে সবুজ রঙের যে পাসপোর্ট দেওয়া হয়, তেমন পাসপোর্টই দেওয়া হবে প্রথম শ্রেণির নিচের কর্মকর্তাদের। তবে তাঁদের পাসপোর্টে লেখা থাকবে পিজি (পাসপোর্ট গভর্নমেন্ট)। আর অফিশিয়াল পাসপোর্টের নম্বরের আগে লেখা থাকবে ওসি (অফিশিয়াল ক্যাটাগরি)। বর্তমানে অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীরা কেবল জিও নিয়ে বিদেশ যেতে পারেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তাঁদের আগে জিও নিতে হবে এবং সেই জিও দেখিয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
বর্তমানে সচিব থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট বা লাল রঙের পাসপোর্ট পান। অফিশিয়াল পাসপোর্টের রং নীল। এ ছাড়া অন্যান্য সাধারণ পাসপোর্টের রং সবুজ। প্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা হলে সরকারি কর্মকর্তাদের দুই ধরনের পাসপোর্ট থাকবে। যাঁরা অফিশিয়াল পাসপোর্টের জন্য প্রাধিকার পাবেন তাঁরা সরকারি সফরের ক্ষেত্রে নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করবেন। এর বাইরে প্রাধিকার/নন-প্রাধিকার নির্বিশেষে অন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবুজ রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করবেন। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের জিও পেলে তাঁরা অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হবেন।
বর্তমানে যেসব অফিশিয়াল পাসপোর্ট আছে, প্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ হলে সেগুলো অকার্যকর হয়ে যাবে। এ ছাড়া বর্তমানে থাকা অফিশিয়াল পাসপোর্টের অনেকগুলোর মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশে থাকা সরকারি কর্মকর্তা যাঁরা এর আওতায় পড়বেন, তাঁদের পাসপোর্টের শ্রেণি পরিবর্তন করতে হবে।
অফিশিয়াল পাসপোর্টের নীতিমালা বদলাচ্ছে, সরকারি আদেশ জারি করবে কেবল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্প্রতি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠকে অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অফিশিয়াল পাসপোর্টের অপব্যবহার রোধে শুধু সরকারি কাজে যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিদেশ যাবেন, তাঁদের জিওর ভিত্তিতে পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখার অতিরিক্ত সচিব জ্যোতির্ময় দত্ত বলেন, অফিশিয়াল পাসপোর্টের গণ্ডি যেভাবে দিন দিন বাড়ছে তাতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। অবশ্য আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, অফিশিয়াল পাসপোর্টের প্রাধিকারের পরিধি হঠাৎ করে সংকুচিত হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে পাশের দেশগুলো এই পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কী নীতি অনুসরণ করে এবং কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাধিকারভুক্ত করে, তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে জালিয়াতি বন্ধ করতে হলে ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। জিও ও এনওসি (অনাপত্তি সনদ) অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলে জালিয়াতির মাধ্যমে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া বন্ধ হবে।
অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ চুক্তি থাকা দেশগুলোতে ভিসা নিয়ে যেতে হয় না। ওই দেশে যাওয়ার পর ভিসা নিতে হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, চীন, তুরস্কসহ ১৩টি দেশের সঙ্গে এই চুক্তি রয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। এই চুক্তির সুবিধা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী সাজিয়ে মানব পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ রয়েছে, অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিদেশে চলে যাচ্ছেন বিসিএস চিকিৎসকেরা। প্রথমে সিঙ্গাপুরে গিয়ে এমন পাসপোর্টধারীদের বেশির ভাগ অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন, আর দেশে ফিরছেন না। অফিশিয়াল পাসপোর্টে তুরস্কে গিয়েও অন্য দেশে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তুরস্ক থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এবং লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালি, স্পেনে যাওয়া যায়। সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্টে এসব পথে মানব পাচার হয়েছে। সম্প্রতি তুরস্ক সরকারের দেওয়া চিঠিতে কয়েকটি মানব পাচারের ঘটনা প্রকাশ পায়। এরপরই অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া কাউকে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হয় না। অফিশিয়াল পাসপোর্টের বিপরীতে দ্রুত ভিসা পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় বলে সেখানে এই ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গড়ে সবাই অফিশিয়াল পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। এ কারণে উন্নত কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের অফিশিয়াল পাসপোর্টের বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছে।
Wednesday, July 1, 2015
লতিফ সিদ্দিকী এখনো আ.লীগের সাংসদ- কোনো মামলাতেই সরকারের অনুমোদন নেওয়া হয়নি by জাহাঙ্গীর আলম ও রোজিনা ইসলাম
সাবেক
মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কৃত
হলেও জাতীয় সংসদে এখনো তিনি ওই দলের সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। সংসদে আগের
মতোই সামনের সারির ১৪ নম্বর আসনটি তাঁর জন্য নির্ধারিত আছে। এই সারির
প্রথম আসনটি প্রধানমন্ত্রীর।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ থেকে লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের ব্যাপারে আমি অবহিত নই। আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি আগে যেভাবে সংসদে ছিলেন, এখনো তিনি আমার কাছে সেভাবেই আছেন।’
এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলাগুলোর কোনোটিতেই আইন অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এসব মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় মামলাগুলো ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। প্রায় সাত মাস জেলে থাকার পর গত সোমবার তিনি জামিনে মুক্তি পান।
লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ সম্পর্কে প্রথম আলোর এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের বিষয়টি আওয়ামী লীগ থেকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জানাতে হবে। তখন আমি আইন অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্যপদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে পাঠাব।’
লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের বিষয়টি গত আট মাসেও কেন স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি, সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেউ কথা বলতে চান না। এ ব্যাপারে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে রয়েছে রহস্যময় নীরবতা। জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কি না, বা আদৌ চিঠি দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নাই। আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে আমি কোনো খবরের অংশীদারও হতে চাই না।’
দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারকে কিছু না জানানোয় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে এখনো জটিলতা কাটেনি। ফলে সাংসদ হিসেবে তাঁর আগের অবস্থান বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার। দীর্ঘ সাত মাস চার দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত এই সাবেক মন্ত্রী সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে চান বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। তবে লতিফ সিদ্দিকীর অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও স্পিকার জানান, আইনি ব্যাখ্যায় সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকলে অধিবেশনে যোগ দিতে আইনি বাধা নেই।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে লতিফ সিদ্দিকী অবমাননাকর বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরে গত অক্টোবরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ ও তার কিছুদিন পরে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, মূলত দল থেকেই লতিফ সিদ্দিকীর ভাগ্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত অজ্ঞাত কারণে আটকে আছে। ফলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। চিঠি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সংসদ সচিবালয়ও।
দলীয় সদস্যপদ হারানোর পর লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ থাকছে কি না, সে বিতর্কের অবসান হয়নি। এ ব্যাপারে সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হলে এ বিতর্কের অবসান হতো বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। সংসদ সদস্যপদ শূন্য প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে’। তবে বহিষ্কার করা হলে কী হবে তা স্পষ্ট কিছু নেই এ ধারায়।
জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি সচরাচর ঘটে না। আইনে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে কী হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা নাই। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদের ধারণাটা আমলে নিয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা হবে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয়েছে।
শাহদীন মালিক বলেন, যেহেতু তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) সংসদ সদস্য, তাই আওয়ামী লীগের কর্তব্য বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করা। তখন স্পিকার বিষয়টি আইন অনুযায়ী তা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।
কোনো মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছিল না: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগে দেশের নানা জায়গায় মামলা হলেও এসব মামলা দায়েরের আগে বা পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ কারণে এসব মামলা আদালতে সাধারণ মামলা বলেই বিবেচিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব মামলা অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী (২৯৫)ক অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের মামলার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, কেন তাঁরা এসব মামলায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেননি সে জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী যখন বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাইরের কোনো স্থানে কোনো অপরাধ করে, তখন তাকে যে স্থানে পাওয়া যাবে অপরাধটি সে স্থানে করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো অভিযোগ সম্পর্কে কোনো তদন্ত করা যাবে না। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকীর মামলাগুলোর ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া এই দুই ধরনের মামলা চলতে পারে না। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশে মোট ২৭টি মামলা হয়েছিল। গত ২৩ জুন ১০টি এবং গত ২৬ মে সাতটি মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বাকি ১০টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় জামিন চাননি লতিফ সিদ্দিকী। তাঁর জামিন আবেদনে বলা হয়, দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধ নিজ দেশে বিচার করতে হলে মামলা দায়েরের আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এসব মামলার ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় লতিফ সিদ্দিকী একাধিকবার সংসদে যোগ দেওয়ার জন্য কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও তাঁকে সে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গত অক্টোবরে ওই বিতর্কিত মন্তব্যের পর কয়েক দিন আমেরিকা ও কানাডায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান শেষে লতিফ সিদ্দিকী ভারতের কলকাতায় এসে আত্মগোপনে চলে যান। এ অবস্থায় ১২ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
একই দিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকে বহিষ্কার, প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত এবং কেন তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার আগেই লতিফ সিদ্দিকী দলীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বরাবর ই-মেইলে এর দীর্ঘ জবাবও পাঠান। তবে দলের কাছে তাঁর ওই জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এই সাংসদকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে অনেকটা নাটকীয়ভাবেই দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। প্রায় ৪১ ঘণ্টা ‘অজ্ঞাতবাস’-এর পর ২৫ নভেম্বর দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আদালতের আদেশে তাঁকে নেওয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক দিন পরই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ থেকে লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের ব্যাপারে আমি অবহিত নই। আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি আগে যেভাবে সংসদে ছিলেন, এখনো তিনি আমার কাছে সেভাবেই আছেন।’
এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলাগুলোর কোনোটিতেই আইন অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এসব মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় মামলাগুলো ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। প্রায় সাত মাস জেলে থাকার পর গত সোমবার তিনি জামিনে মুক্তি পান।
লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ সম্পর্কে প্রথম আলোর এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের বিষয়টি আওয়ামী লীগ থেকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জানাতে হবে। তখন আমি আইন অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্যপদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে পাঠাব।’
লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের বিষয়টি গত আট মাসেও কেন স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি, সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেউ কথা বলতে চান না। এ ব্যাপারে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে রয়েছে রহস্যময় নীরবতা। জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কি না, বা আদৌ চিঠি দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নাই। আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে আমি কোনো খবরের অংশীদারও হতে চাই না।’
দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারকে কিছু না জানানোয় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে এখনো জটিলতা কাটেনি। ফলে সাংসদ হিসেবে তাঁর আগের অবস্থান বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার। দীর্ঘ সাত মাস চার দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত এই সাবেক মন্ত্রী সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে চান বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। তবে লতিফ সিদ্দিকীর অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও স্পিকার জানান, আইনি ব্যাখ্যায় সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকলে অধিবেশনে যোগ দিতে আইনি বাধা নেই।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে লতিফ সিদ্দিকী অবমাননাকর বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরে গত অক্টোবরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ ও তার কিছুদিন পরে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, মূলত দল থেকেই লতিফ সিদ্দিকীর ভাগ্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত অজ্ঞাত কারণে আটকে আছে। ফলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। চিঠি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সংসদ সচিবালয়ও।
দলীয় সদস্যপদ হারানোর পর লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ থাকছে কি না, সে বিতর্কের অবসান হয়নি। এ ব্যাপারে সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হলে এ বিতর্কের অবসান হতো বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। সংসদ সদস্যপদ শূন্য প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে’। তবে বহিষ্কার করা হলে কী হবে তা স্পষ্ট কিছু নেই এ ধারায়।
জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি সচরাচর ঘটে না। আইনে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে কী হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা নাই। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদের ধারণাটা আমলে নিয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা হবে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয়েছে।
শাহদীন মালিক বলেন, যেহেতু তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) সংসদ সদস্য, তাই আওয়ামী লীগের কর্তব্য বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করা। তখন স্পিকার বিষয়টি আইন অনুযায়ী তা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।
কোনো মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছিল না: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগে দেশের নানা জায়গায় মামলা হলেও এসব মামলা দায়েরের আগে বা পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ কারণে এসব মামলা আদালতে সাধারণ মামলা বলেই বিবেচিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব মামলা অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী (২৯৫)ক অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের মামলার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, কেন তাঁরা এসব মামলায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেননি সে জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী যখন বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাইরের কোনো স্থানে কোনো অপরাধ করে, তখন তাকে যে স্থানে পাওয়া যাবে অপরাধটি সে স্থানে করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো অভিযোগ সম্পর্কে কোনো তদন্ত করা যাবে না। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকীর মামলাগুলোর ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া এই দুই ধরনের মামলা চলতে পারে না। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশে মোট ২৭টি মামলা হয়েছিল। গত ২৩ জুন ১০টি এবং গত ২৬ মে সাতটি মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বাকি ১০টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় জামিন চাননি লতিফ সিদ্দিকী। তাঁর জামিন আবেদনে বলা হয়, দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধ নিজ দেশে বিচার করতে হলে মামলা দায়েরের আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এসব মামলার ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় লতিফ সিদ্দিকী একাধিকবার সংসদে যোগ দেওয়ার জন্য কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও তাঁকে সে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গত অক্টোবরে ওই বিতর্কিত মন্তব্যের পর কয়েক দিন আমেরিকা ও কানাডায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান শেষে লতিফ সিদ্দিকী ভারতের কলকাতায় এসে আত্মগোপনে চলে যান। এ অবস্থায় ১২ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
একই দিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকে বহিষ্কার, প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত এবং কেন তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার আগেই লতিফ সিদ্দিকী দলীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বরাবর ই-মেইলে এর দীর্ঘ জবাবও পাঠান। তবে দলের কাছে তাঁর ওই জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এই সাংসদকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে অনেকটা নাটকীয়ভাবেই দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। প্রায় ৪১ ঘণ্টা ‘অজ্ঞাতবাস’-এর পর ২৫ নভেম্বর দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আদালতের আদেশে তাঁকে নেওয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক দিন পরই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
Tuesday, June 23, 2015
নিম্নমানের গম খাদ্য বিভাগের, আটায় দুর্গন্ধ by রোজিনা ইসলাম ও ইফতেখার মাহমুদ
খাদ্য বিভাগের সরবরাহ করা গম থেকে তৈরি আটা অত্যন্ত নিম্নমানের। এ অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে একাধিকবার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সর্বশেষ ১০ জুন তাদের সদর দপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে এই আটা চার-পাঁচ দিনের বেশি মজুত থাকলে পোকা হয়। এর আগে পুলিশের রাজশাহীর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বলা হয়, এই আটা বিতরণ করার পর বাহিনীর সদস্যদের মনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে ৩৩ হাজার পুলিশ সদস্যের জন্য রেশন হিসেবে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হয়, তা নিয়ে এমন মন্তব্যসহ একাধিক চিঠি সংস্থাটির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাতে এই গমকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর খাদ্য মন্ত্রণালয়কে উন্নত গম সরবরাহ করতে বলেছে।
তবে খাদ্য বিভাগ তাদের গম নিম্নমানের নয় দাবি করে বলেছে, সরবরাহের আগে এই গম তাদের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে যে প্রতিবেদন পেয়েছে, তাতে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা হয়নি। অর্থাৎ তাদের সরবরাহ করা গমে কোনো সমস্যা নেই।
ডিএমপির ১০ জুনের চিঠিতে আরও বলা হয়, পুলিশের পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশেষ নিরাপত্তা ফোর্সের বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে কর্মরত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ প্রায় ৩৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী পুলিশের রেশন স্টোর থেকে গম নিয়ে থাকেন। তাঁরাও এ বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা গুদাম থেকে গম এনে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে দিয়েছি। পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়গুলো জানাব।’
পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইডি) রেজাউল করিম চাল ও গমের নিম্নমান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অভিযোগের ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, এসব অভিযোগের বিষয় খাদ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য এ বছর চাল ও গম কেনা বাবদ খাদ্য বিভাগকে মোট ১৭৭ কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পুলিশের রেশন হিসেবে দেওয়ার জন্য এ বছর ৪৭ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন গম খাদ্য বিভাগের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। খাদ্য বিভাগ এসব গম প্রতি কেজি ২৮ টাকা দরে কিনে ৩০ টাকা ৪০ পয়সা করে পুলিশ বাহিনীকে সরবরাহ করেছে।
আর খাদ্য বিভাগের দৈনিক খাদ্যশস্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে উন্নতমানের গম আমদানি করলে প্রতি কেজি গমের দাম দাঁড়ায় ১৯ টাকা। আর বাজারে প্রতি কেজি গম বর্তমানে ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পুলিশের সারা দেশের সব কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে প্রায় একই অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, খাদ্য বিভাগের সরবরাহ করা চাল রান্না করার পর ভাত মোটা, স্বাদহীন ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়। এ ছাড়া নোংরা ও কাঁকরযুক্ত চাল পাওয়া গেছে। সরবরাহ করা গমের আটার মানও অত্যন্ত নিম্নমানের।
তবে খাদ্য বিভাগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ অভিযোগ মানতে নারাজ। খাদ্য অধিদপ্তরের মতে, গম ও আটার গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে আটা বা গমের মানের বিষয়ে কোনো ধরনের বিরূপ মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিম্নমানের গম আমদানি কীভাবে হলো, জানতে চাইলে গম আমদানি দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক মো. সারওয়ার খান প্রথম আলোকে বলেন, ব্রাজিল থেকে গম আমদানির ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। সবার মতামত নিয়ে আইন মেনে গম আমদানি হয়েছে। এই গম অখাদ্য নয়। প্রসঙ্গত, ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানির পর সম্প্রতি সারওয়ার খানকে ওসডি করা হয়েছে।
এদিকে ১৮ জুন নিযুক্ত মহাপরিচালক ফয়েজ আহমেদ এই গম আমদানির ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে খাদ্যসচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তিনি মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ব্রাজিল থেকে এই গম আনা হয়।
রাজশাহী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পুলিশ মেসে রান্না করা ভাতে একধরনের গন্ধ, ছোট ছোট পাথর ও পোকা থাকে, এতে বাহিনীর সদস্যদের নানা রকম পেটের পীড়ার সম্মুখীন হতে হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা থেকে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে ৩৩ হাজার পুলিশ সদস্যের জন্য রেশন হিসেবে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হয়, তা নিয়ে এমন মন্তব্যসহ একাধিক চিঠি সংস্থাটির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাতে এই গমকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর খাদ্য মন্ত্রণালয়কে উন্নত গম সরবরাহ করতে বলেছে।
তবে খাদ্য বিভাগ তাদের গম নিম্নমানের নয় দাবি করে বলেছে, সরবরাহের আগে এই গম তাদের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে যে প্রতিবেদন পেয়েছে, তাতে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা হয়নি। অর্থাৎ তাদের সরবরাহ করা গমে কোনো সমস্যা নেই।
ডিএমপির ১০ জুনের চিঠিতে আরও বলা হয়, পুলিশের পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশেষ নিরাপত্তা ফোর্সের বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে কর্মরত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ প্রায় ৩৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী পুলিশের রেশন স্টোর থেকে গম নিয়ে থাকেন। তাঁরাও এ বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা গুদাম থেকে গম এনে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে দিয়েছি। পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়গুলো জানাব।’
পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইডি) রেজাউল করিম চাল ও গমের নিম্নমান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অভিযোগের ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, এসব অভিযোগের বিষয় খাদ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য এ বছর চাল ও গম কেনা বাবদ খাদ্য বিভাগকে মোট ১৭৭ কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পুলিশের রেশন হিসেবে দেওয়ার জন্য এ বছর ৪৭ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন গম খাদ্য বিভাগের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। খাদ্য বিভাগ এসব গম প্রতি কেজি ২৮ টাকা দরে কিনে ৩০ টাকা ৪০ পয়সা করে পুলিশ বাহিনীকে সরবরাহ করেছে।
আর খাদ্য বিভাগের দৈনিক খাদ্যশস্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে উন্নতমানের গম আমদানি করলে প্রতি কেজি গমের দাম দাঁড়ায় ১৯ টাকা। আর বাজারে প্রতি কেজি গম বর্তমানে ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পুলিশের সারা দেশের সব কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে প্রায় একই অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, খাদ্য বিভাগের সরবরাহ করা চাল রান্না করার পর ভাত মোটা, স্বাদহীন ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়। এ ছাড়া নোংরা ও কাঁকরযুক্ত চাল পাওয়া গেছে। সরবরাহ করা গমের আটার মানও অত্যন্ত নিম্নমানের।
তবে খাদ্য বিভাগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ অভিযোগ মানতে নারাজ। খাদ্য অধিদপ্তরের মতে, গম ও আটার গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে আটা বা গমের মানের বিষয়ে কোনো ধরনের বিরূপ মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিম্নমানের গম আমদানি কীভাবে হলো, জানতে চাইলে গম আমদানি দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক মো. সারওয়ার খান প্রথম আলোকে বলেন, ব্রাজিল থেকে গম আমদানির ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। সবার মতামত নিয়ে আইন মেনে গম আমদানি হয়েছে। এই গম অখাদ্য নয়। প্রসঙ্গত, ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানির পর সম্প্রতি সারওয়ার খানকে ওসডি করা হয়েছে।
এদিকে ১৮ জুন নিযুক্ত মহাপরিচালক ফয়েজ আহমেদ এই গম আমদানির ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে খাদ্যসচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তিনি মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ব্রাজিল থেকে এই গম আনা হয়।
রাজশাহী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পুলিশ মেসে রান্না করা ভাতে একধরনের গন্ধ, ছোট ছোট পাথর ও পোকা থাকে, এতে বাহিনীর সদস্যদের নানা রকম পেটের পীড়ার সম্মুখীন হতে হয়।
Monday, June 15, 2015
তদন্তের ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রাখতে চায় পুলিশ by রোজিনা ইসলাম
![]() |
| পুলিশের কাছেই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ নারী! |
![]() |
| পুলিশের কাছেই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ নারী! |
নিজেদের
বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতিসহ স্পর্শকাতর অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা
নিজেদের কাছেই রাখতে চায় পুলিশ। এগুলোর তদন্তের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটিকে দিতে চায় না।
পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসা অনিয়ম-দুর্নীতি ও নানা স্পর্শকাতর অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় দুটি কমিটি গঠন করায় এর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানিয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে ওই কমিটি পুলিশ বাহিনীর অধিকার খর্ব করবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেও পুলিশের কর্মকর্তারা একই দাবি জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী চায়ের নিমন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তরে গেলেও এ দাবি জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে অনেক অভিযোগ স্বরাষ্ট্রে আসে। আগে পুলিশকে এসব তদন্ত করতে দেওয়া হতো। এতে দেখা যায়, বাহিনীর একক তদন্তে দুর্বলতা থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে আসা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য গত মার্চে মন্ত্রণালয় ও জেলা পর্যায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে। আর কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক বা তাঁর প্রতিনিধি। দুই কমিটিরই সদস্যসচিব করা হয়েছে পুলিশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিকে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের অনুমোদনে এই কমিটি করা হয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ১৯ মার্চ চিঠি দিয়ে পুলিশ অধিদপ্তরকে জানায়।
পুলিশ অধিদপ্তর এই কমিটি গঠনের তীব্র বিরোধিতা করে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজস্ব বিধিবিধানের আলোকে বিভিন্ন অভিযোগ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধানে সুস্পষ্টভাবে পুলিশের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে করণীয় পদ্ধতি বলা আছে। গত পাঁচ বছরে পুলিশের সব স্তরের ৬৭ হাজার ৮২০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা প্রতি বছর গড়ে ১৩ হাজার ৫৬৪ জন। এএসপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যাপারেও পুলিশ কর্মকর্তা নিযুক্ত করে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কিন্তু হঠাৎ পুলিশ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভাগ-বহির্ভূত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করার বিষয়টি বোধগম্য নয়। পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এ আদেশ প্রতিষ্ঠিত বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি অপ্রয়োজনীয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ তদন্তের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে তদন্ত করা প্রচলিত নিয়ম। এ ছাড়া পুলিশ আইন, ১৮৬১ অনুসারে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষমতা সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাখে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ অধিদপ্তর পাঁচ বছরের যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, সেখানে বলা নেই কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল বা কতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পর্যালোচনা করে দেখেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ২৬টি অভিযোগ পুলিশ অধিদপ্তরে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮টি প্রমাণিত হয়নি এবং দুটি আংশিক প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তদন্ত করেছে তা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর এককভাবে তদন্তে সত্য উদ্ঘাটন না হয়ে তদন্তে দুর্বলতা রয়ে যায়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি বিভাগীয় মামলা-সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তারা শুধু মন্ত্রণালয়ে আসা অভিযোগ তদন্ত করবে। তাই পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োগ করা বিধিবিধানের সঙ্গে এ কমিটির কার্যপরিধি সাংঘর্ষিক নয়। নালিশ, এজাহার বা আদালতের মন্তব্য ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে পিআরবি প্রবিধান অনুযায়ী যেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করার বা নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, সেখানে সরকার তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে পুলিশ অধিদপ্তরের চিঠিতে কেন ‘বিভাগ-বহির্ভূত কমিটি’ বলা হলো তা মন্ত্রণালয়ের বোধগম্য নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কারণ, মন্ত্রণালয় মনে করে, পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী কোনো আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, সাংঘর্ষিক বা সরকারের এখতিয়ার নেই, এমন কোনো আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ অধিদপ্তর বিষয়টি অনুধাবন না করেই মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে।
জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো কমিটি করতেই পারে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয়ের সেই নির্বাহী ও রাজনৈতিক ক্ষমতা আছে। কিন্তু মাত্রাটা যেন বেশি না হয়ে যায়, সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পুলিশের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। পুলিশের কর্মকর্তারা আমার কাছে এসেছিলেন, তাঁরা এ কমিটির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দেখি এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কী করা যায়।’
আরেকটি চিঠির বিরোধিতা: সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ অধিদপ্তরে ‘জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপার দ্বন্দ্বে মাঠ প্রশাসনের চেইন অব কমান্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা’ শিরোনামে এক চিঠিতে জানানো হয়, হাতে অস্ত্র থাকায় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হওয়ায় পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সখ্য বেশি। রাজনৈতিক ও অবৈধ অর্থের জোরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতি পেয়ে জেলার এসপি হন অনেকেই। এঁদের অনেকের মূল লক্ষ্য থাকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে অর্থ উপার্জন।
মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ ও রাজনীতিবিদদের সন্ধির ন্যূনতম কোনো অবকাশ নেই। প্রতিবেদনের এ বক্তব্য রাজনীতিবিদসহ পুলিশের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুশৃঙ্খল বাহিনীকে হেয় করা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে ভূমিকা পালনকারী একটি সংস্থার মনোবল ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস মাত্র ও সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আঘাত হানার শামিল। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিবেদন অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত।
পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসা অনিয়ম-দুর্নীতি ও নানা স্পর্শকাতর অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় দুটি কমিটি গঠন করায় এর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানিয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে ওই কমিটি পুলিশ বাহিনীর অধিকার খর্ব করবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেও পুলিশের কর্মকর্তারা একই দাবি জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী চায়ের নিমন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তরে গেলেও এ দাবি জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে অনেক অভিযোগ স্বরাষ্ট্রে আসে। আগে পুলিশকে এসব তদন্ত করতে দেওয়া হতো। এতে দেখা যায়, বাহিনীর একক তদন্তে দুর্বলতা থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে আসা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য গত মার্চে মন্ত্রণালয় ও জেলা পর্যায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে। আর কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক বা তাঁর প্রতিনিধি। দুই কমিটিরই সদস্যসচিব করা হয়েছে পুলিশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিকে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের অনুমোদনে এই কমিটি করা হয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ১৯ মার্চ চিঠি দিয়ে পুলিশ অধিদপ্তরকে জানায়।
পুলিশ অধিদপ্তর এই কমিটি গঠনের তীব্র বিরোধিতা করে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজস্ব বিধিবিধানের আলোকে বিভিন্ন অভিযোগ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধানে সুস্পষ্টভাবে পুলিশের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে করণীয় পদ্ধতি বলা আছে। গত পাঁচ বছরে পুলিশের সব স্তরের ৬৭ হাজার ৮২০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা প্রতি বছর গড়ে ১৩ হাজার ৫৬৪ জন। এএসপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যাপারেও পুলিশ কর্মকর্তা নিযুক্ত করে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কিন্তু হঠাৎ পুলিশ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভাগ-বহির্ভূত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করার বিষয়টি বোধগম্য নয়। পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এ আদেশ প্রতিষ্ঠিত বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি অপ্রয়োজনীয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ তদন্তের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে তদন্ত করা প্রচলিত নিয়ম। এ ছাড়া পুলিশ আইন, ১৮৬১ অনুসারে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষমতা সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাখে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ অধিদপ্তর পাঁচ বছরের যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, সেখানে বলা নেই কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল বা কতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পর্যালোচনা করে দেখেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ২৬টি অভিযোগ পুলিশ অধিদপ্তরে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮টি প্রমাণিত হয়নি এবং দুটি আংশিক প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তদন্ত করেছে তা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর এককভাবে তদন্তে সত্য উদ্ঘাটন না হয়ে তদন্তে দুর্বলতা রয়ে যায়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি বিভাগীয় মামলা-সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তারা শুধু মন্ত্রণালয়ে আসা অভিযোগ তদন্ত করবে। তাই পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োগ করা বিধিবিধানের সঙ্গে এ কমিটির কার্যপরিধি সাংঘর্ষিক নয়। নালিশ, এজাহার বা আদালতের মন্তব্য ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে পিআরবি প্রবিধান অনুযায়ী যেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করার বা নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, সেখানে সরকার তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে পুলিশ অধিদপ্তরের চিঠিতে কেন ‘বিভাগ-বহির্ভূত কমিটি’ বলা হলো তা মন্ত্রণালয়ের বোধগম্য নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কারণ, মন্ত্রণালয় মনে করে, পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী কোনো আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, সাংঘর্ষিক বা সরকারের এখতিয়ার নেই, এমন কোনো আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ অধিদপ্তর বিষয়টি অনুধাবন না করেই মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে।
জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো কমিটি করতেই পারে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয়ের সেই নির্বাহী ও রাজনৈতিক ক্ষমতা আছে। কিন্তু মাত্রাটা যেন বেশি না হয়ে যায়, সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পুলিশের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। পুলিশের কর্মকর্তারা আমার কাছে এসেছিলেন, তাঁরা এ কমিটির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দেখি এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কী করা যায়।’
আরেকটি চিঠির বিরোধিতা: সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ অধিদপ্তরে ‘জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপার দ্বন্দ্বে মাঠ প্রশাসনের চেইন অব কমান্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা’ শিরোনামে এক চিঠিতে জানানো হয়, হাতে অস্ত্র থাকায় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হওয়ায় পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সখ্য বেশি। রাজনৈতিক ও অবৈধ অর্থের জোরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতি পেয়ে জেলার এসপি হন অনেকেই। এঁদের অনেকের মূল লক্ষ্য থাকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে অর্থ উপার্জন।
মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ ও রাজনীতিবিদদের সন্ধির ন্যূনতম কোনো অবকাশ নেই। প্রতিবেদনের এ বক্তব্য রাজনীতিবিদসহ পুলিশের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুশৃঙ্খল বাহিনীকে হেয় করা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে ভূমিকা পালনকারী একটি সংস্থার মনোবল ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস মাত্র ও সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আঘাত হানার শামিল। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিবেদন অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত।
Saturday, June 13, 2015
কৃষক এখনো ধানের দর পাচ্ছেন না by ইফতেখার মাহমুদ ও রোজিনা ইসলাম
এপ্রিলে
বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে সেই একই চিত্র। দাম কমছে প্রতি
সপ্তাহে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়া হতাশ কৃষকের কষ্ট জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে
সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। সরকার থেকে বলা হয়েছিল, মে মাসে সরকারি সংগ্রহ
শুরু হলেই দাম বাড়বে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।
এরই মধ্যে বাজার দরের চেয়ে কম দামে ভারতীয় চাল আমদানি বেড়েছে। আর হাটে ধান নিয়ে এসে ফিরে গেছেন কৃষক। সরকার ১০ মে চাল আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কিন্তু মে মাসে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ পুরোদমে শুরু করা যায়নি। চাল আমদানিও থেমে থাকেনি। ফলে ধানের দামের ওপর এর প্রভাব পড়েনি।
১০ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খাদ্য বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৩২ হাজার টন চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে। খাদ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। আরও ১৬ লাখ টন চাল আমদানিপত্র খোলা হয়েছে।
এতে ধান-চালের দর প্রতি সপ্তাহেই কমছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে চিকন ও মাঝারি মানের চালের দর দেড় শতাংশ কমেছে। আর মোটা চালের দর টানা দেড় মাস ধরে ক্রমাগত কমার পর এ সপ্তাহে স্থির হয়েছে।
ধানের দাম কমার প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও একাধিক প্রতিবেদন ও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) দেশের ১৫টি জেলার ধানের মূল্য হ্রাসসংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সরকার ধানের যে সংগ্রহমূল্য ঘোষণা করেছে, বাজারে তার প্রায় অর্ধেক দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কৃষকের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বা উসকানি দিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে ধানের দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ধানের দাম নিয়ে কোনো বিশেষ সংস্থার প্রতিবেদন তার কাছে আসেনি। মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিদিন চালের চাহিদা প্রায় এক লাখ টন। যে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে, তা মাত্র ১৩ দিনের চাহিদা পূরণ করবে। ফলে বাজারে তা তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৬৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাসের টানা রোদ ধান শুকাতে সহায়তা করেছে। ফলে কৃষকের পক্ষে ওই ধান দীর্ঘদিন ধরে রেখে দাম বাড়লে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যেভাবে ধান-চালের সংগ্রহ করছে তাতে খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মচারী ও চালকল মালিকেরা লাভবান হচ্ছেন। কেননা, তাঁরা বাজার থেকে অল্প দামে চাল কিনে বেশি দামে সরকারি গুদামে সরবরাহ করছেন। যদিও সরকারি গুদামগুলোতে এখন ধান সংগ্রহ করার মতো অবকাঠামো রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি দ্রুত প্রতিটি গুদামের গেটে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা শুরু করে, তাহলে দাম বাড়বে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি কৃষকের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সরাসরি ওই ব্যাংক হিসাবে মূল্য পরিশোধ করলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমে আসে।
গত ২৭ মে দেওয়া প্রতিবেদনে কিশোরগঞ্জ জেলার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘ধানের বিক্রয়মূল্য আশানুরূপ না হওয়ার কারণে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।’ আর দিনাজপুরের প্রতিবেদনের বক্তব্য হচ্ছে, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যে (প্রতি মণ ৮৮০ টাকা) ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষকদের অসন্তোষ প্রশমিত হতো।’ শূন্য শুল্কের সুযোগ নিয়ে গুটি কয়েক ব্যবসায়ী অল্প দামে ভারত থেকে চাল আমদানি করায় এবং সরকারি সংগ্রহ সঠিক সময়ে শুরু না হওয়ায় ধানের দাম কম বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, কৃষকের হাত থেকে ধান যায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাতে। তারপর যায় মোকামের ফড়িয়াদের হাতে। মোকামের ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে যায় চালকল মালিকের কাছে। সাধারণত ওই তিন হাত ঘুরেই চাল সরকারি গুদামে যায়। ফলে সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করলেও তা থেকে কৃষকেরা প্রায়ই বঞ্চিত হন। গত বছর কৃষক মোটা ধানের দর পেয়েছিলেন ৬৫০ টাকা। এবার তা ৫৫০ টাকার বেশি উঠছে না।
দেশের প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার চিত্র প্রতিবেদনটিতে দেওয়া রয়েছে। প্রায় প্রতিটি জেলাতেই ধানের দর নিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলার মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট দামে ধান মজুত করে রেখেছেন।
প্রতিবেদনে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। যেমন, সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে বরাবরই মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিয়ে থাকে। এ পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হলে কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হতে পারেন। এতে ক্ষোভ প্রশমিত হওয়া ছাড়াও কৃষকেরা ধান চাষে আগ্রহী হবেন। এ ছাড়া দ্রুত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল সংগ্রহ করার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে বিনিয়োগ বোর্ড থেকে খাদ্যসচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বিনিয়োগ বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. মাহবুব কবীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, সরকার চাল কেনে চাতাল ও মিল মালিকদের কাছ থেকে। ফলে খুব কম কৃষকই সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পান। এ বছর প্রতি মণ বোরো ধান উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ হয়েছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। আর বাজারে ওই ধান বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। সরকার ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে ৮৮০ টাকায়। সেই হিসাবে প্রতি মণ ধান বেচে কৃষকের লোকসান ৩৫০ টাকা।
বিনিয়োগ বোর্ডের ওই চিঠিতে সরকারি সংগ্রহ অভিযানে গত বছরের অবিক্রীত পুরাতন ও আমদানি করা চাল খাদ্যগুদামগুলোতে সরবরাহ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ বিষয়টিকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পুরোনো অবিক্রীত এবং স্বল্প মূল্যে আমদানি করা চাল গছিয়ে দিতে না পারে।
এরই মধ্যে বাজার দরের চেয়ে কম দামে ভারতীয় চাল আমদানি বেড়েছে। আর হাটে ধান নিয়ে এসে ফিরে গেছেন কৃষক। সরকার ১০ মে চাল আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কিন্তু মে মাসে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ পুরোদমে শুরু করা যায়নি। চাল আমদানিও থেমে থাকেনি। ফলে ধানের দামের ওপর এর প্রভাব পড়েনি।
১০ লাখ টন চাল ও ১ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খাদ্য বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৩২ হাজার টন চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে। খাদ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। আরও ১৬ লাখ টন চাল আমদানিপত্র খোলা হয়েছে।
এতে ধান-চালের দর প্রতি সপ্তাহেই কমছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে চিকন ও মাঝারি মানের চালের দর দেড় শতাংশ কমেছে। আর মোটা চালের দর টানা দেড় মাস ধরে ক্রমাগত কমার পর এ সপ্তাহে স্থির হয়েছে।
ধানের দাম কমার প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও একাধিক প্রতিবেদন ও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) দেশের ১৫টি জেলার ধানের মূল্য হ্রাসসংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সরকার ধানের যে সংগ্রহমূল্য ঘোষণা করেছে, বাজারে তার প্রায় অর্ধেক দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কৃষকের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বা উসকানি দিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে ধানের দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ধানের দাম নিয়ে কোনো বিশেষ সংস্থার প্রতিবেদন তার কাছে আসেনি। মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিদিন চালের চাহিদা প্রায় এক লাখ টন। যে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে, তা মাত্র ১৩ দিনের চাহিদা পূরণ করবে। ফলে বাজারে তা তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৬৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাসের টানা রোদ ধান শুকাতে সহায়তা করেছে। ফলে কৃষকের পক্ষে ওই ধান দীর্ঘদিন ধরে রেখে দাম বাড়লে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যেভাবে ধান-চালের সংগ্রহ করছে তাতে খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মচারী ও চালকল মালিকেরা লাভবান হচ্ছেন। কেননা, তাঁরা বাজার থেকে অল্প দামে চাল কিনে বেশি দামে সরকারি গুদামে সরবরাহ করছেন। যদিও সরকারি গুদামগুলোতে এখন ধান সংগ্রহ করার মতো অবকাঠামো রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি দ্রুত প্রতিটি গুদামের গেটে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা শুরু করে, তাহলে দাম বাড়বে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি কৃষকের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সরাসরি ওই ব্যাংক হিসাবে মূল্য পরিশোধ করলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমে আসে।
গত ২৭ মে দেওয়া প্রতিবেদনে কিশোরগঞ্জ জেলার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘ধানের বিক্রয়মূল্য আশানুরূপ না হওয়ার কারণে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।’ আর দিনাজপুরের প্রতিবেদনের বক্তব্য হচ্ছে, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যে (প্রতি মণ ৮৮০ টাকা) ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষকদের অসন্তোষ প্রশমিত হতো।’ শূন্য শুল্কের সুযোগ নিয়ে গুটি কয়েক ব্যবসায়ী অল্প দামে ভারত থেকে চাল আমদানি করায় এবং সরকারি সংগ্রহ সঠিক সময়ে শুরু না হওয়ায় ধানের দাম কম বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, কৃষকের হাত থেকে ধান যায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাতে। তারপর যায় মোকামের ফড়িয়াদের হাতে। মোকামের ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে যায় চালকল মালিকের কাছে। সাধারণত ওই তিন হাত ঘুরেই চাল সরকারি গুদামে যায়। ফলে সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করলেও তা থেকে কৃষকেরা প্রায়ই বঞ্চিত হন। গত বছর কৃষক মোটা ধানের দর পেয়েছিলেন ৬৫০ টাকা। এবার তা ৫৫০ টাকার বেশি উঠছে না।
দেশের প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার চিত্র প্রতিবেদনটিতে দেওয়া রয়েছে। প্রায় প্রতিটি জেলাতেই ধানের দর নিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলার মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট দামে ধান মজুত করে রেখেছেন।
প্রতিবেদনে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। যেমন, সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে বরাবরই মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিয়ে থাকে। এ পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হলে কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হতে পারেন। এতে ক্ষোভ প্রশমিত হওয়া ছাড়াও কৃষকেরা ধান চাষে আগ্রহী হবেন। এ ছাড়া দ্রুত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল সংগ্রহ করার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে বিনিয়োগ বোর্ড থেকে খাদ্যসচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বিনিয়োগ বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. মাহবুব কবীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, সরকার চাল কেনে চাতাল ও মিল মালিকদের কাছ থেকে। ফলে খুব কম কৃষকই সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পান। এ বছর প্রতি মণ বোরো ধান উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ হয়েছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। আর বাজারে ওই ধান বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। সরকার ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে ৮৮০ টাকায়। সেই হিসাবে প্রতি মণ ধান বেচে কৃষকের লোকসান ৩৫০ টাকা।
বিনিয়োগ বোর্ডের ওই চিঠিতে সরকারি সংগ্রহ অভিযানে গত বছরের অবিক্রীত পুরাতন ও আমদানি করা চাল খাদ্যগুদামগুলোতে সরবরাহ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ বিষয়টিকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পুরোনো অবিক্রীত এবং স্বল্প মূল্যে আমদানি করা চাল গছিয়ে দিতে না পারে।
Saturday, May 23, 2015
জঙ্গি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ হচ্ছে by রোজিনা ইসলাম
জঙ্গি
সংগঠন ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’কে (এবিটি) নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হবে। ইতিমধ্যে
এ-সংক্রান্ত নথিপত্র তৈরি করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ঘোষণা করবে।
এর আগে ২০০৫ সালে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম, জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি বি) ও শাহাদাত আল হিকমাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে হিযবুত তাহ্রীরকে নিষিদ্ধ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদের চেয়েও বড় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তারা আল-কায়েদার মতাদর্শ অনুসরণ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর মন্ত্রণালয় সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল বলেন, সংগঠনটির বিরুদ্ধে একটার পর একটা ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা লেখক, ব্লগার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের হত্যা করছে, হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তর অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ চার শিক্ষক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পর সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। ‘আল কায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলা-১৩’ নামের একটি সংগঠন গত বুধবার ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে এ হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি চৌধুরী গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে এখনো কেন নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেটাই তো আশ্চর্য লাগছে। রাজীব হত্যার পরই তাদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে বিচার করা উচিত ছিল। আমি আজও দেখেছি, তাদের ওয়েবসাইট উন্মুক্ত এবং সেখানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।’
ইসফাক বলেন, ‘শুধু ঘোষণা দিয়ে এসব জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করলে সমস্যা কমবে না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। এদের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। জনসচেতনতা তৈরি করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সেমিনার করে মানুষকে জানাতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভূমিকা রাখতে হবে। না হলে এ সংকট কমবে না।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম একটি সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন। সংগঠনটি ২০১৩ সাল থেকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। বাংলাদেশের যুবকদের উগ্রপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে জিহাদের মাধ্যমে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। সংগঠনটি তাদের মতাদর্শ প্রচারের জন্য মসজিদকেও ব্যবহার করে থাকে। সংগঠনটির হামলার মূল লক্ষ্য হলো মুক্ত চিন্তার অনুসারী, ব্লগার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট বরগুনা জেলার একটি মসজিদে জঙ্গি হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করার সময় সংগঠনটির নেতা মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ ৩০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে হত্যা করে। এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যাঁরা পরে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। একই বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে এবং ৭ মার্চ সানিউর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। এতে অভিজিৎ রায় নিহত ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হন। গত ৩০ মার্চ ব্লগার ওয়াসিকুর রহমানকে একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জানা যায়, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে বাংলাদেশে সক্রিয় গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট ও একাধিক ব্লগে আল-কায়েদার মতাদর্শ নিয়ে প্রচার, উদ্বুদ্ধকরণমূলক লেখা, অডিও-ভিডিও বক্তৃতা, আলোচনা, পরামর্শ, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদির চর্চা করা হয়। বিদেশি জঙ্গি নেতাদের লেখা, বক্তৃতা-বিবৃতি বাংলায় অনুবাদ করে এই সাইটে প্রচার করা হয়।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামটিও ইরাকি আল-কায়েদার আনসার উল ইসলাম-এর অনুকরণে নেওয়া। তবে বাংলাদেশি এই গোষ্ঠী আধ্যাত্মিক নেতা মানেন ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদার নেতা আনওয়ার আওলাকিকে। আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (আরব উপদ্বীপ) নামে সক্রিয় এই গোষ্ঠীর প্রধান আওলাকি ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলায় ইয়েমেনে নিহত হন।
দেশের নামকরা একাধিক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এই গোষ্ঠীর যাত্রা ২০০৮ সালে। তখন রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বনানীর একটি মসজিদকে ঘিরে আল-কায়েদার মতাদর্শে বিশ্বাসী এ গোষ্ঠীর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানত ইংরেজি মাধ্যম বা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তাদের মতাদর্শ প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ চলত। পরে ফেসবুক, ব্লগসহ তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্রিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। শুরুতে এ দল বা গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট কোনো নাম ছিল না। তবে এর সদস্যরা ঘনিষ্ঠজনদের কাছে নিজেদের আল-কায়েদাপন্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু একই সময়ে হিযবুত তাহ্রীরের ব্যাপক কার্যক্রম থাকায় নতুন এই গোষ্ঠীর তৎপরতা আলাদাভাবে নজরে পড়েনি।
এর আগে ২০০৫ সালে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম, জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি বি) ও শাহাদাত আল হিকমাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে হিযবুত তাহ্রীরকে নিষিদ্ধ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদের চেয়েও বড় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তারা আল-কায়েদার মতাদর্শ অনুসরণ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর মন্ত্রণালয় সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল বলেন, সংগঠনটির বিরুদ্ধে একটার পর একটা ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা লেখক, ব্লগার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের হত্যা করছে, হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তর অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ চার শিক্ষক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পর সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। ‘আল কায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলা-১৩’ নামের একটি সংগঠন গত বুধবার ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে এ হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি চৌধুরী গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে এখনো কেন নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেটাই তো আশ্চর্য লাগছে। রাজীব হত্যার পরই তাদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে বিচার করা উচিত ছিল। আমি আজও দেখেছি, তাদের ওয়েবসাইট উন্মুক্ত এবং সেখানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।’
ইসফাক বলেন, ‘শুধু ঘোষণা দিয়ে এসব জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করলে সমস্যা কমবে না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। এদের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। জনসচেতনতা তৈরি করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সেমিনার করে মানুষকে জানাতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভূমিকা রাখতে হবে। না হলে এ সংকট কমবে না।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম একটি সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন। সংগঠনটি ২০১৩ সাল থেকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। বাংলাদেশের যুবকদের উগ্রপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে জিহাদের মাধ্যমে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। সংগঠনটি তাদের মতাদর্শ প্রচারের জন্য মসজিদকেও ব্যবহার করে থাকে। সংগঠনটির হামলার মূল লক্ষ্য হলো মুক্ত চিন্তার অনুসারী, ব্লগার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট বরগুনা জেলার একটি মসজিদে জঙ্গি হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করার সময় সংগঠনটির নেতা মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ ৩০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে হত্যা করে। এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যাঁরা পরে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। একই বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে এবং ৭ মার্চ সানিউর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। এতে অভিজিৎ রায় নিহত ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হন। গত ৩০ মার্চ ব্লগার ওয়াসিকুর রহমানকে একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জানা যায়, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে বাংলাদেশে সক্রিয় গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট ও একাধিক ব্লগে আল-কায়েদার মতাদর্শ নিয়ে প্রচার, উদ্বুদ্ধকরণমূলক লেখা, অডিও-ভিডিও বক্তৃতা, আলোচনা, পরামর্শ, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদির চর্চা করা হয়। বিদেশি জঙ্গি নেতাদের লেখা, বক্তৃতা-বিবৃতি বাংলায় অনুবাদ করে এই সাইটে প্রচার করা হয়।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামটিও ইরাকি আল-কায়েদার আনসার উল ইসলাম-এর অনুকরণে নেওয়া। তবে বাংলাদেশি এই গোষ্ঠী আধ্যাত্মিক নেতা মানেন ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদার নেতা আনওয়ার আওলাকিকে। আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (আরব উপদ্বীপ) নামে সক্রিয় এই গোষ্ঠীর প্রধান আওলাকি ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলায় ইয়েমেনে নিহত হন।
দেশের নামকরা একাধিক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এই গোষ্ঠীর যাত্রা ২০০৮ সালে। তখন রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বনানীর একটি মসজিদকে ঘিরে আল-কায়েদার মতাদর্শে বিশ্বাসী এ গোষ্ঠীর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানত ইংরেজি মাধ্যম বা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তাদের মতাদর্শ প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ চলত। পরে ফেসবুক, ব্লগসহ তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্রিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। শুরুতে এ দল বা গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট কোনো নাম ছিল না। তবে এর সদস্যরা ঘনিষ্ঠজনদের কাছে নিজেদের আল-কায়েদাপন্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু একই সময়ে হিযবুত তাহ্রীরের ব্যাপক কার্যক্রম থাকায় নতুন এই গোষ্ঠীর তৎপরতা আলাদাভাবে নজরে পড়েনি।
Thursday, May 21, 2015
কেউ ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না- প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র দায় চাপাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর by রোজিনা ইসলাম ও শরিফুল হাসান
![]() |
| উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম |
সমুদ্রপথে
মানব পাচারের কোনো দায় নিতে রাজি নয় পররাষ্ট্র কিংবা প্রবাসীকল্যাণ ও
বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন,
বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পাচার
বন্ধের কাজটি করার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রের। কিন্তু তারা কাজটি করতে ব্যর্থ
হয়েছে।
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে ২০১২ সালে যে আইন করা হয়েছে, তার অধীনে তিনটি বিধিমালা করার কথা। কিন্তু তিন বছরেও সেটি করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইনে পাচারকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাচারকারীদের তালিকা করলেও তারা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সামগ্রিকভাবে পাচার বন্ধে সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা সেই কাজটিও করতে পারেনি। এমনকি মাঠ প্রশাসন ও দূতাবাস থেকে গত কয়েক বছরে সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি; বরং বেশির ভাগ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে ব্যস্ত ছিলেন বিদেশ সফরে।
তারপরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে মানব পাচার প্রতিরোধে তাদের সাফল্যের প্রতিবেদন দিয়ে আসছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। কিন্তু এখন থাইল্যান্ডে গণকবর আবিষ্কার এবং হাজার হাজার বাংলাদেশি আটক হওয়ার পর মন্ত্রণালয় বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, পাচার বন্ধে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে পররাষ্ট্র, প্রবাসী, আইন মন্ত্রণালয়সহ র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড—সবার প্রতিনিধি আছেন। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এ কমিটি ঠিকমতো কাজ করে না। এ ছাড়া, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পাচার প্রতিরোধে কমিটি থাকার কথা থাকলেও সেগুলো কার্যকর করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আবার জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এখন তারা পদক্ষেপ নেবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে মানব পাচার। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হলেও বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহে কয়েকটি বৈঠক এবং কয়েকজন পাচারকারীকে ক্রসফায়ারে দেওয়া ছাড়া বড় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে সর্বশেষ গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মানব পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাচার বন্ধের কাজটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এ জন্য আমরা প্রতিনিয়তই পাচারকারীদের আটক করছি। র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি কথা আমি বারবারই বলতে চাই যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কারণেই সমুদ্রপথে মানব পাচার সমস্যা বেড়েছে। আমরা এখন এর সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের কাহিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে জনসচেতনতা বাড়াতে বলেছি।’
আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু বৈধ অভিবাসন করি। অবৈধ অভিবাসন নিয়ে যেহেতু আমরা যুক্ত নই, কাজেই আমাদের সেখানে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না। এটি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তবে এ বিষয়ে এই দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা করব।’
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্রপথে মানব পাচার যে বাড়ছে, সেটি বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আর এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি দল থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া উপকূলে রয়েছে। আটক বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে এই মন্ত্রণালয়।
তবে দায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও আছে। কেননা, অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া বন্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৭ ধারায় বলা আছে, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বন্দর বা স্থান দিয়েই বহির্গমন করতে হবে।’ আর আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট অন্য কোনো ব্যক্তিকে বহির্গমনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের ব্যবস্থা করলে বা সহায়তা করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং এ জন্য তিনি অনধিক দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আইনটির ব্যাখ্যা করে বলেন, এই আইন অনুযায়ী সরকার শুধু বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বহির্গমনের স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাজেই কেউ যদি সমুদ্রপথে লোক পাঠায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই আইনের অধীনে একটি মামলাও করেনি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানব পাচার আর বিদেশে চাকরি নিয়ে বৈধভাবে যাওয়া—দুটো দুই জিনিস। আমরা শুধু বৈধভাবে যারা যায়, তাদের বিষয়টি দেখভাল করি। পাচারের বিষয়টি দেখার কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত কয়েক বছরে পাচার বন্ধে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল প্রথম আলোকে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলা পুলিশ পাঁচ মাসে ৬৬ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার এবং ৩৫৮ জনকে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে কোস্টগার্ডের বিরাট সাফল্য হচ্ছে, ৭ হাজার ৩৯২টি অভিযান পরিচালনা করে ২২৩ জনকে আটক। আর বিজিবি গত চার মাসে ৮২৩ জনকে পাচারকারীর হাত থেকে উদ্ধার করেছে।
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে ২০১২ সালে যে আইন করা হয়েছে, তার অধীনে তিনটি বিধিমালা করার কথা। কিন্তু তিন বছরেও সেটি করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইনে পাচারকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাচারকারীদের তালিকা করলেও তারা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সামগ্রিকভাবে পাচার বন্ধে সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা সেই কাজটিও করতে পারেনি। এমনকি মাঠ প্রশাসন ও দূতাবাস থেকে গত কয়েক বছরে সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি; বরং বেশির ভাগ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে ব্যস্ত ছিলেন বিদেশ সফরে।
তারপরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে মানব পাচার প্রতিরোধে তাদের সাফল্যের প্রতিবেদন দিয়ে আসছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। কিন্তু এখন থাইল্যান্ডে গণকবর আবিষ্কার এবং হাজার হাজার বাংলাদেশি আটক হওয়ার পর মন্ত্রণালয় বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, পাচার বন্ধে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে পররাষ্ট্র, প্রবাসী, আইন মন্ত্রণালয়সহ র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড—সবার প্রতিনিধি আছেন। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এ কমিটি ঠিকমতো কাজ করে না। এ ছাড়া, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পাচার প্রতিরোধে কমিটি থাকার কথা থাকলেও সেগুলো কার্যকর করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আবার জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সমুদ্রপথে পাচারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এখন তারা পদক্ষেপ নেবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে মানব পাচার। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হলেও বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহে কয়েকটি বৈঠক এবং কয়েকজন পাচারকারীকে ক্রসফায়ারে দেওয়া ছাড়া বড় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে সর্বশেষ গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মানব পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাচার বন্ধের কাজটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এ জন্য আমরা প্রতিনিয়তই পাচারকারীদের আটক করছি। র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি কথা আমি বারবারই বলতে চাই যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কারণেই সমুদ্রপথে মানব পাচার সমস্যা বেড়েছে। আমরা এখন এর সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের কাহিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে জনসচেতনতা বাড়াতে বলেছি।’
আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু বৈধ অভিবাসন করি। অবৈধ অভিবাসন নিয়ে যেহেতু আমরা যুক্ত নই, কাজেই আমাদের সেখানে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না। এটি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তবে এ বিষয়ে এই দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা করব।’
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্রপথে মানব পাচার যে বাড়ছে, সেটি বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আর এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি দল থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া উপকূলে রয়েছে। আটক বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে এই মন্ত্রণালয়।
তবে দায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও আছে। কেননা, অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া বন্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৭ ধারায় বলা আছে, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বন্দর বা স্থান দিয়েই বহির্গমন করতে হবে।’ আর আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট অন্য কোনো ব্যক্তিকে বহির্গমনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের ব্যবস্থা করলে বা সহায়তা করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং এ জন্য তিনি অনধিক দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আইনটির ব্যাখ্যা করে বলেন, এই আইন অনুযায়ী সরকার শুধু বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বহির্গমনের স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাজেই কেউ যদি সমুদ্রপথে লোক পাঠায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই আইনের অধীনে একটি মামলাও করেনি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানব পাচার আর বিদেশে চাকরি নিয়ে বৈধভাবে যাওয়া—দুটো দুই জিনিস। আমরা শুধু বৈধভাবে যারা যায়, তাদের বিষয়টি দেখভাল করি। পাচারের বিষয়টি দেখার কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত কয়েক বছরে পাচার বন্ধে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল প্রথম আলোকে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলা পুলিশ পাঁচ মাসে ৬৬ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার এবং ৩৫৮ জনকে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে কোস্টগার্ডের বিরাট সাফল্য হচ্ছে, ৭ হাজার ৩৯২টি অভিযান পরিচালনা করে ২২৩ জনকে আটক। আর বিজিবি গত চার মাসে ৮২৩ জনকে পাচারকারীর হাত থেকে উদ্ধার করেছে।
Wednesday, March 11, 2015
নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাতে ভারতকে চিঠি by রোজিনা ইসলাম
নারায়ণগঞ্জের
সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত
সরকারকে তাগিদ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে
এই তাগিদসংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইন্টারপোলের পরোয়ানাভুক্ত আসামি নূর হোসেনকে ভারতের সুবিধামতো তারিখ ও সময়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে। হস্তান্তর-গ্রহণের কার্যক্রম যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। নিয়মানুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফিকুর রহমানের স্বাক্ষর করা এ চিঠি প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের (দক্ষিণ এশিয়া) কাছে পাঠানো হয়। পরে পত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে পাঠায়। এর আগেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকবার নূর হোসেনকে ফেরত দেওয়ার তাগিদ দিয়ে ভারতে চিঠি পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান আজ মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাতে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
গত বছরের ১৮ আগস্ট বাগুইহাটি থানার পুলিশ নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযোগপত্র দায়ের করে।
গত ডিসেম্বরে নূর হোসেনকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে জানায় ভারত সরকার। সে সময় জানানো হয়, বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো দিন নূর হোসেনকে হস্তান্তর করা হবে।
ভারত সরকারের এ প্রস্তাব পাওয়ার পর নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। নূর হোসেনকে কোথায়, কখন গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে আমরা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ’
প্রসঙ্গত গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের বৈঠকে কলকাতায় কারাবন্দী নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানের তাগিদ দেয় বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার নূর হোসেনসহ যেসব সন্দেহভাজন অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দেয়।
গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ১৪ জুন কলকাতায় নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার কারণে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক সংক্রান্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনও জমা দিতে পারেনি। নূর হোসেনের সাক্ষ্য ছাড়া পূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কমিটির একজন সদস্য। এ কারণে দ্রুত নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। যদিও র্যাব তাদের নিজস্ব তদন্তে ২১ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতে নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তদন্ত প্রতিবেদনসহ ‘অনুরোধপত্র’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
এর আগে গত বছরের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময়ের সুযোগ রেখে এ চুক্তি করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে বন্দী বিনিময় করতে পারবে। এর আগে ২০১১ সালে অনুমোদন করা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর চুক্তি (টিএসপি)। তবে এখন পর্যন্ত এসব চুক্তির আওতায় কোনো আসামি বা বন্দীকে ফেরত আনা হয়নি।
টিএসপি চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি ভারতে কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাঁকে দেশে সাজা খাটানোর জন্য ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিনিময় করার বিধান রয়েছে।
তবে বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷ এ ছাড়া, পুশ ব্যাক, কমনওয়েলথের হারারে স্কিমের অধীনেও এ ধরনের ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুরাহা করা হচ্ছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, নূর হোসেনকে হস্তান্তরের পর আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারতও তাঁকে ফিরিয়ে নিতে রাজি আছে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া ভারতে পালিয়ে থাকা অন্য সন্দেহভাজন অপরাধী এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদেরও বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে নূর হোসেন বা অনুপ চেটিয়াকে একজনের বিনিময়ে অন্যজনকে হস্তান্তর করা হবে না। দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা বলে জানান স্বরাষ্ট্রসচিব।
প্রসঙ্গত, অনুপ চেটিয়ার কারাভোগ শেষ হয়ে গেছে, আর নূর হোসেনের বিষয়টি এখনো সে দেশে বিচারাধীন। অনুপ চেটিয়া দেশে ফিরতে চান। নূর হোসেনের দিক থেকে তেমন কোনো আগ্রহের কথা জানা যায়নি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইন্টারপোলের পরোয়ানাভুক্ত আসামি নূর হোসেনকে ভারতের সুবিধামতো তারিখ ও সময়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে। হস্তান্তর-গ্রহণের কার্যক্রম যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। নিয়মানুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফিকুর রহমানের স্বাক্ষর করা এ চিঠি প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের (দক্ষিণ এশিয়া) কাছে পাঠানো হয়। পরে পত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে পাঠায়। এর আগেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকবার নূর হোসেনকে ফেরত দেওয়ার তাগিদ দিয়ে ভারতে চিঠি পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান আজ মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাতে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
গত বছরের ১৮ আগস্ট বাগুইহাটি থানার পুলিশ নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযোগপত্র দায়ের করে।
গত ডিসেম্বরে নূর হোসেনকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে জানায় ভারত সরকার। সে সময় জানানো হয়, বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো দিন নূর হোসেনকে হস্তান্তর করা হবে।
ভারত সরকারের এ প্রস্তাব পাওয়ার পর নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। নূর হোসেনকে কোথায়, কখন গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে আমরা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ’
প্রসঙ্গত গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের বৈঠকে কলকাতায় কারাবন্দী নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানের তাগিদ দেয় বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার নূর হোসেনসহ যেসব সন্দেহভাজন অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দেয়।
গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ১৪ জুন কলকাতায় নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার কারণে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক সংক্রান্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনও জমা দিতে পারেনি। নূর হোসেনের সাক্ষ্য ছাড়া পূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কমিটির একজন সদস্য। এ কারণে দ্রুত নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। যদিও র্যাব তাদের নিজস্ব তদন্তে ২১ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতে নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তদন্ত প্রতিবেদনসহ ‘অনুরোধপত্র’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
এর আগে গত বছরের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময়ের সুযোগ রেখে এ চুক্তি করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে বন্দী বিনিময় করতে পারবে। এর আগে ২০১১ সালে অনুমোদন করা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর চুক্তি (টিএসপি)। তবে এখন পর্যন্ত এসব চুক্তির আওতায় কোনো আসামি বা বন্দীকে ফেরত আনা হয়নি।
টিএসপি চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি ভারতে কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাঁকে দেশে সাজা খাটানোর জন্য ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিনিময় করার বিধান রয়েছে।
তবে বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷ এ ছাড়া, পুশ ব্যাক, কমনওয়েলথের হারারে স্কিমের অধীনেও এ ধরনের ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুরাহা করা হচ্ছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, নূর হোসেনকে হস্তান্তরের পর আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারতও তাঁকে ফিরিয়ে নিতে রাজি আছে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া ভারতে পালিয়ে থাকা অন্য সন্দেহভাজন অপরাধী এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদেরও বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে নূর হোসেন বা অনুপ চেটিয়াকে একজনের বিনিময়ে অন্যজনকে হস্তান্তর করা হবে না। দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা বলে জানান স্বরাষ্ট্রসচিব।
প্রসঙ্গত, অনুপ চেটিয়ার কারাভোগ শেষ হয়ে গেছে, আর নূর হোসেনের বিষয়টি এখনো সে দেশে বিচারাধীন। অনুপ চেটিয়া দেশে ফিরতে চান। নূর হোসেনের দিক থেকে তেমন কোনো আগ্রহের কথা জানা যায়নি।
Monday, January 12, 2015
২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের নির্দেশ by রোজিনা ইসলাম

২২ জেলায় মোট ৫৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য
মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়াও পাঁচ
জেলায় চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিজিবির সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আজ সোমবার এ নির্দেশনা
দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার উপসচিব হাবীবুর রহমান
এ-সংক্রান্ত চিঠিতে সই করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় বিভিন্ন জেলায় এ ফোর্স
মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয়
জোটের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত
কয়েক দিনে সরকারের কাছে নিরাপত্তা জোরদার করতে অনুরোধ জানান ডিসিরা।
তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠান। জানতে
চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, জেলা প্রশাসকদের
চাহিদা অনুযায়ী যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই বিজিবি, আনসারসহ
প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মোতায়েনের নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনে যেখানেই নিরাপত্তা চাওয়া হবে,
সেখানেই নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এ জন্য ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ দেওয়া আছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই ডিসিদের এসব চাহিদাপত্র তদারকি করা হবে।
সরকার এসব বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। যেখানেই নিরাপত্তা প্রয়োজন, দেওয়া
হবে। এসব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এদিকে আজ সকালে মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগ থেকে ডিসিদের চাহিদাপত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সে সময়
মন্ত্রিসভার বৈঠক চলছিল। তাৎক্ষণিক বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। পরে লিখিতভাবে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রেলের নিরাপত্তার জন্য প্রতি ৪৫ দিনে আট হাজার ৩২৮ আনসার মোতায়েনের ব্যয় হিসেবে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে আজ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে সাতটি জাদুঘরের জন্য মোট ১২০ জন আনসার চাওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে লালবাগ দুর্গ, মহাস্থানগড় দুর্গ, পাহাড়পুর জাদুঘর, ময়নামতি জাদুঘর, বাগেরহাট জাদুঘর, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর ও রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি জাদুঘর। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বিজিবির টহল নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলায় জেলায় পণ্যবোঝাই ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তার জন্য বিজিবির গাড়ি বহরের জ্বালানির জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রেলের নিরাপত্তার জন্য প্রতি ৪৫ দিনে আট হাজার ৩২৮ আনসার মোতায়েনের ব্যয় হিসেবে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে আজ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে সাতটি জাদুঘরের জন্য মোট ১২০ জন আনসার চাওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে লালবাগ দুর্গ, মহাস্থানগড় দুর্গ, পাহাড়পুর জাদুঘর, ময়নামতি জাদুঘর, বাগেরহাট জাদুঘর, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর ও রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি জাদুঘর। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বিজিবির টহল নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলায় জেলায় পণ্যবোঝাই ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তার জন্য বিজিবির গাড়ি বহরের জ্বালানির জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
টানা অবরোধে মাঠ প্রশাসনে আতঙ্ক- বিজিবি চেয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে চিঠি by রোজিনা ইসলাম

সারা
দেশের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কয়েক দিন ধরে
সরকারি কার্যালয়, মন্ত্রী ও বিচারপতির বাড়ি, দূতাবাস এলাকা এবং যানবাহনে
হামলা ও চোরাগোপ্তা বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনে আতঙ্ক বিরাজ
করছে। এ অবস্থায় মাঠ প্রশাসন বিজিবি চেয়ে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছে।
কেন্দ্র থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া
হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে
জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার কথা
জানিয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিকে
কেন্দ্র করে চলমান সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা সরকারের সহায়তা
চেয়েছেন। বেশির ভাগ ডিসি পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যা ব-পুলিশের পাশাপাশি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তারা তাঁদের নিজেদের ও পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা, সরকারি সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। জেলা-উপজেলায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসাবাড়িতেও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এসব চিঠি আসার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ডিসিদের চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মাঠ প্রশাসনের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে আনসার, র্যা ব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে সেনা মোতায়েনের কোনো আশঙ্কা নেই।
এদিকে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোকাবিলায় রেল চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং রেল লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এক হাজার ৪১টি স্থান ও স্থাপনায় ১০ দিনের জন্য ৮ হাজার ৩২৮ জন আনসার মোতায়োনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জেলায় জেলায় সামাজিক কমিটি করার কথা ভাবা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মী, সব বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব কমিটিতে থাকবেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁরা কাজ করবেন।
আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ চাইতে পারেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে ২০-দলীয় জোট এই টানা অবরোধ ডেকেছে। কিন্তু সংঘাতের শুরু ৪ জানুয়ারি থেকে। এই আট দিনে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১২ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালের সহিংসতায় বেশির ভাগ হতাহতের ঘটনা ছিল ঢাকার বাইরে। এবার ঢাকায়ও হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন সম্পদ ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জের ডিসি আনিসুর রহমান মিঞা বলেন, গত কয়েক দিনে নারায়ণগঞ্জে চোরাগোপ্তা হামলা বেড়ে গেছে, অগ্নিসংযোগ হচ্ছে। শনিবার রাতেও একটি ট্রাক পোড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়াতে তাঁরা আগেই আনসার চেয়েছেন। এখন অতিরিক্ত ফোর্স হিসেবে বিজিবি চেয়েছেন।
জানতে চাইলে বগুড়ার ডিসি শফিকুর রেজা বিশ্বাস বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনও অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছেন।
আরও হামলা হওয়ার আশঙ্কায় ইউএনওসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন জেলা প্রশাসকেরা। রংপুর বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে সতর্ক তো থাকতেই হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (এপিডি) মহিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মাঠ প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছি।’
নিরাপত্তা জোরদার করতে চিঠি: গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এর আগে তাঁরা দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আরও দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য পলাশবাড়ী উপজেলার মহাসড়কে মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে অবরোধ চলা পর্যন্ত তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করার অনুরোধ করা হয়েছে।
পাবনা জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও একই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তারা তাঁদের নিজেদের ও পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা, সরকারি সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। জেলা-উপজেলায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসাবাড়িতেও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এসব চিঠি আসার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ডিসিদের চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মাঠ প্রশাসনের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে আনসার, র্যা ব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে সেনা মোতায়েনের কোনো আশঙ্কা নেই।
এদিকে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোকাবিলায় রেল চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং রেল লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এক হাজার ৪১টি স্থান ও স্থাপনায় ১০ দিনের জন্য ৮ হাজার ৩২৮ জন আনসার মোতায়োনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জেলায় জেলায় সামাজিক কমিটি করার কথা ভাবা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মী, সব বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব কমিটিতে থাকবেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁরা কাজ করবেন।
আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ চাইতে পারেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে ২০-দলীয় জোট এই টানা অবরোধ ডেকেছে। কিন্তু সংঘাতের শুরু ৪ জানুয়ারি থেকে। এই আট দিনে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১২ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালের সহিংসতায় বেশির ভাগ হতাহতের ঘটনা ছিল ঢাকার বাইরে। এবার ঢাকায়ও হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন সম্পদ ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জের ডিসি আনিসুর রহমান মিঞা বলেন, গত কয়েক দিনে নারায়ণগঞ্জে চোরাগোপ্তা হামলা বেড়ে গেছে, অগ্নিসংযোগ হচ্ছে। শনিবার রাতেও একটি ট্রাক পোড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়াতে তাঁরা আগেই আনসার চেয়েছেন। এখন অতিরিক্ত ফোর্স হিসেবে বিজিবি চেয়েছেন।
জানতে চাইলে বগুড়ার ডিসি শফিকুর রেজা বিশ্বাস বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনও অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছেন।
আরও হামলা হওয়ার আশঙ্কায় ইউএনওসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন জেলা প্রশাসকেরা। রংপুর বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে সতর্ক তো থাকতেই হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (এপিডি) মহিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মাঠ প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছি।’
নিরাপত্তা জোরদার করতে চিঠি: গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এর আগে তাঁরা দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আরও দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য পলাশবাড়ী উপজেলার মহাসড়কে মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে অবরোধ চলা পর্যন্ত তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করার অনুরোধ করা হয়েছে।
পাবনা জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও একই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2236)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
বিনোদন
শেষের পাতা
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
দেশে দেশে
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
ইরান
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
কালবেলা
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
হত্যা
নতুন বার্তা
ধর্ম
স্মরণ
যুক্তরাজ্য
গল্প
মুসলিম
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
রাশিয়া
ফুটবল
জাতিসংঘ
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
ইউরোপ
সৌদি আরব
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ইতিহাস
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
তুরস্ক
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
ইউক্রেন
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
স্বাস্থ্য
তরুণ প্রজন্ম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
Exclusive
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
ইয়েমেন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
শিল্প ও সাহিত্য
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
ঢাকা
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
জীবনযাপন
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
ফ্রান্স
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
কিশোরগঞ্জ
লেবানন
আবদুল মান্নান
কুমিল্লা
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
শিল্প
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
সীমান্ত সন্ত্রাস
ইরাক
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
চিকিৎসা
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
কলকাতা
তথ্য প্রযুক্তি
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
ব্রাজিল
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
মসজিদ
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
বরিশাল
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
রোকনুজ্জামান পিয়াস
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
রণজিৎ বিশ্বাস
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
অরুণ কর্মকার
উত্তর কোরিয়া
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
কালি ও কলম
তুহিন ওয়াদুদ
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
জনস্বাস্থ্য
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
নিবন্ধ
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
দিল্লি
বিজ্ঞান
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
প্রযুক্তি
কাতার
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আদিবাসী
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
কালের খেয়া
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
কানাডা
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আরব আমিরাত বা দুবাই
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
জার্মানি
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
লাতিন আমেরিকা
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
ইসলাম
এবনে গোলাম সামাদ
দক্ষিণ কোরিয়া
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
লিবিয়া
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
জোহরান মামদানি
টাকা আনা পাই
মহাকাশচারী
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
নিয়ন আলোয়
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ইহুদি
ডিডাব্লিউ
নরসিংদী
শরিফ রুবেল
কিশোর আলো
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
গণমাধ্যম
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
পিরোজপুর
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
প্রবাসী শ্রমিক
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
শিশুমৃত্যু
সুশাসনের জন্য নাগরিক
সোমালিয়া
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মরক্কো
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
ওমান
কুয়েত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বন্য প্রাণী
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুজন সুপান্থ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
অ্যান্টার্কটিকা
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আলজেরিয়া
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইলহান ওমর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাত্রদল
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নীহারুল ইসলাম
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বাহরাইন
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলগেরিয়া
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রকিব হাসান
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট












