Wednesday, August 12, 2026
নারায়ণগঞ্জে এক বিস্ফোরণে না ফেরার দেশে একটি পরিবার
এর আগে সোমবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুলের স্ত্রী বিউটি আক্তার (২৪)। আর গত শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাদের একমাত্র সন্তান আট বছরের মারুফ। ফলে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় পরিবারটির তিন সদস্যই প্রাণ হারালেন। এখন ওই পরিবারের আর কেউ জীবিত নেই। গত শুক্রবার ভোরে বন্দরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া চাপাতলী এলাকায় সালাহউদ্দিনের টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির একটি কক্ষে স্ত্রী বিউটি আক্তার ও আট বছরের ছেলে মারুফকে নিয়ে থাকতেন রাজমিস্ত্রি মাইদুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, কাজের সুবাদে প্রায় এক বছর ধরে ওই টিনশেডের ঘরে ভাড়া ছিলেন নাটোরের বাসিন্দা মাইদুলের পরিবার।
বিস্ফোরণের পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মধ্যেও একে একে নিভে গেল তিনটি প্রাণ।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা ছিল, গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ঘরের জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে ভেতরে জমে যায়। ভোরে মাইদুল ইসলাম সিগারেট ধরানোর সময় আগুনের সংস্পর্শে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই শেষ করে দিলো একটি পুরো পরিবারকে। কর্মসূত্রে নারায়ণগঞ্জে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস করা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও একমাত্র সন্তান মারুফ- তিনজনই এখন শুধুই স্মৃতি।

Sunday, August 9, 2026
দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা by আবু সাউদ মাসুদ
প্রতিপক্ষের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই সাবেক সংসদ সদস্যকে নিউইয়র্কের ওই সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রকাশ্যে তার অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। দুই বছর পরে অবশেষে তাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেল।
সভায় নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অনেকটা আত্মসমালোচনার সুরেই কথা বলেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ।’ একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শামীম ওসমানের বক্তব্যে অবশ্য পুরোনো রাজনৈতিক ‘খেলার’ প্রসঙ্গও ফিরে আসে। তিনি বলেন, কে বড় নেতা আর কে ছোট নেতা—এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেক আগেই তিনি দেশে কী হতে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরেছিলেন। তার দাবি, তিনি ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতেন। বিএনপিকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
নিউইয়র্কের সভায় শামীম ওসমান দাবি করেন, তার রাজনৈতিক মনোযোগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন গোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানে না। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গোলাম আজমের নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। নিজের কার্যালয়ে দেশের বড় বোমা হামলার ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি।
এরপর আসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের উত্তাল সময়ের প্রসঙ্গ। শামীম ওসমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট রাতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তিনি সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া, কারফিউ প্রত্যাহার এবং নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের জনসমাবেশ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে তার দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ জড়ো করার সক্ষমতা ছিল। আশপাশের এলাকাতেও খবর পাঠানোর কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস ছিল জনগণ। তবে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় শেখ হাসিনা রক্তপাত এড়াতে চেয়েছিলেন।
১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ওই সময় সংঘর্ষ ও গুলিতে শিশু রিয়া গোপসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও ওঠে।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত এই নেতাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এরপর তিনি দেশ ছাড়েন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার চলমান রয়েছে।
তবে নিউইয়র্কের কর্মীসভায় শামীম ওসমানের উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন পর তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

Saturday, August 9, 2025
দেশে অনেক ছোট ছোট শামীম ওসমানের জন্ম হচ্ছে: আনু মুহাম্মদ
শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৪৯ মাস উপলক্ষে মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচিতে আনু মুহাম্মদ এই মন্তব্য করেন।
প্রতি মাসের ৮ তারিখে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে এই মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
কর্মসূচিতে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ত্বকী, তনু, সাগর-রুনি, মুনিয়াসহ এই হত্যাকাণ্ডগুলো শেখ হাসিনা শাসনামলের একেকটা চিহ্ন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল মাফিয়াতন্ত্রের পরিবর্তন হবে, হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। এই সরকারের অনেক উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ছিল বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলো তারা দ্রুত সমাধান করবেন। কিন্তু এক বছর পার হওয়ার পরও আমরা দেখছি একই জায়গায় আছি।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, শামীম ওসমানের মতো মাফিয়া চলে গেলেও অনেক ছোট ছোট শামীম ওসমানের জন্ম হচ্ছে দেশে। তিনি আরও বলেন, শামীম ওসমানের জন্ম হচ্ছে, মব সন্ত্রাস হচ্ছে, নারীর ওপর আক্রমণ হচ্ছে; সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যেও যারা দুর্বল, তাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জোরজবরদস্তি, মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নতুন নতুন মাফিয়াতন্ত্র তৈরি হচ্ছে, সরকারের মধ্য থেকে একধরনের নিষ্ক্রিয়তা, নির্লিপ্ততা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে।
ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে গেছে। যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ রাজপথে দলে দলে নেমে এসেছে, দেড় হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ ও আহত হয়েছে, তাদের আকাঙ্ক্ষার কোনো বাস্তবায়ন নাই। বরং এর বিপরীত দিকটা আমরা লক্ষ করছি। ত্বকীর ঘাতক ওসমান পরিবার পালিয়ে গেলেও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী ও খুনিরা বিএনপির বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ছে। প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ওসমান পরিবারের সেই চাঁদাবাজি, হাট–ঘাট, মাঠ, মাদক এখন বিএনপির লোকেরা নিয়ন্ত্রণ করছে। ওসমান পরিবারের এই খুনিরা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন মাফিয়াতন্ত্র গড়ে তোলার তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছেন।
| নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তন প্রাঙ্গণে। ছবি: প্রথম আলো |
Sunday, May 11, 2025
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শেষ প্রদীপের আলোটাও নিভে গেল by বিল্লাল হোসেন রবিন
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ডালপালা ছড়ায় হত্যা মামলার পরও আইভীর নিজ বাড়িতে অবস্থানের বিষয়টি। অনেকে ধরেই নিয়েছেন, আগামী রিফর্ম আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিবেন আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন ও প্রভাবশালী এই নেত্রী। ফলে তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। দলের দুঃসময়ে তাদের ভরসার জায়গায় হয়ে উঠেছিলেন আইভী। তাদের মতে, সারা দেশে আওয়ামী লীগের বেহাল অবস্থা। দলের শীর্ষ নেতারা কেউ পালিয়েছে, কেউ জেলে। বাকিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আছেন। সেখানে আইভী নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। হয়তো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলে সেই নির্বাচনে দলীয় ফোরামে আইভীর গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা থাকবে। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা আপাতত ভেস্তে গেছে শুক্রবার ভোরে আইভীকে গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে। জুলাই অভ্যুত্থানে সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরীর দেওভোগের চুনকা কুটির থেকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রাখা হয়েছে তাকে। এতে করে প্রদীপের শেষ আলোটাও যেন নিভে গেল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের।
এদিকে আইভীর গ্রেপ্তার নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বত্র যে আলোচনা চলমান তা হলো, আইভীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সাড়ে ৬ ঘণ্টা পুলিশ চুনকা কুটিরে অবরুদ্ধ ছিল। রাস্তা অবরোধ করে শত শত এলাকাবাসী ও আইভীর সমর্থক নেতাকর্মীরা চুনকা কুটির ঘিরে রাখে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশও অনেকটা ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং রাতভর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আইভীকে বুঝিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। কিন্তু আইভী তার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যতকিছুই হোক তিনি দিনের বেলা ছাড়া যাবেন না। ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে রাতভর অপেক্ষা করে। যদিও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় আইভী তার বক্তব্যে দীর্ঘ সময় পুলিশকে অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পর পুলিশের উপস্থিতিতে দৃঢ়তার সঙ্গে আইভীর বক্তব্য ও জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান নেতাকর্মীদের মাঝে অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে। যেখানে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, এমপি-মন্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার সময় কোনো প্রকার বক্তব্য তো দূরের কথা স্লোগান দেয়ার সাহস করেনি সেখানে আইভী ছিলে ব্যতিক্রম।
ওদিকে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই আইভীর গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে পজেটিভভাবে নিয়েছেন। তারা বলছেন, পোশাক শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও নারায়ণগঞ্জবাসী জানে আইভীকে রাজনৈতিক কারণে মিথ্যাভাবে এই ধরনের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে আইভী দলমত নির্বিশেষে কতোটা জনপ্রিয়। শিগগিরই তিনি জামিনে বেরিয়ে আসবেন।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে আওয়ামী লীগের ভোট বিপর্যয় হয়। অনেক শীর্ষ নেতা পালিয়ে যায় এলাকা ছেড়ে। আওয়ামী লীগের এমন দুঃসময়ে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনের কয়েকদিন আগে নিউজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি’র প্রার্থী নুরুল ইসলাম সরদারকে পরাজিত করে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তার বিজয়ের মধ্যদিয়ে ওই সময় সারা দেশে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। নারায়ণগঞ্জে ঘুরে দাঁড়ায় বিএনপি। ২০১১ সালের ৫ই মে সরকার বন্দরের কদম রসুল, সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে একত্রিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন করে। ওই বছরের ৩০শে অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে পরাজিত করে দেশে প্রথমবারের মতো নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন সেলিনা আইভী। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট সাখায়ত হোসেন খানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আইভী। ২০২২ সালের ১৬ই জানুয়ারি বিএনপি’র এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে পরাজিত করে তৃতীয়ভারের মতো মেয়রের পদে আসীন হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারা দেশে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ বিলুপ্ত করা হলে তখন থেকে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন আলোচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

Saturday, May 10, 2025
আইভী গ্রেপ্তার নানা প্রশ্ন by বিল্লাল হোসেন রবিন
অন্যদিকে ৫ই আগস্টে আওয়ামী লীগের চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর গুঞ্জন ওঠে, সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি আব্দুল হামিদকে আহ্বায়ক ও নাসিকের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সদস্য সচিব করে আওয়ামী লীগের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠিত হবে। তাদের নেতৃত্বে রিফর্ম আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হবে। এমন গুঞ্জনের মধ্যেই বুধবার রাতে দেশ ছাড়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সেই ক্ষেত্রে ডা. আইভীও গোপনে দেশ ছাড়তে পারে। এমন আশঙ্কায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এদিকে আইভীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম সুজন এবং কবি ও সাহিত্যিক সাহেদ কায়েসসহ অনেকেই।
কারাগারে আইভী
এদিকে গ্রেপ্তারের পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলামের নিহত হওয়ার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনউদ্দিন কাদিরের আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পরে তাকে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইউম খান জানান, মিনারুল হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ ১২ নম্বর আসামি। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২৬শে মে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হন আইভী
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেলিনা হায়াৎকে গ্রেপ্তারের জন্য শহরের দেওভোগ এলাকায় তার বাড়ি চুনকা কুঠিরের সামনে যায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। পুলিশ দেখে দারোয়ান গেট খুলতে না চাইলে আইভী নিজেই গেট খুলে দিলে পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। আইভীকে গ্রেপ্তার করতে বাড়িতে পুলিশ, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষ ও আইভীর কর্মী সমর্থকরা ছুটে বাড়ির দিকে। তারা আইভীর বাড়ির দিকে যাওয়ার চারটি রাস্তায় বাঁশ, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি ও বালু ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। আশপাশের এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকলকে আইভীর বাড়ির দিকে রওয়ানা দেয়ার আহ্বান জানান। বিপুলসংখ্যক নারী পুরুষ ও দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ অবরোধ সৃষ্টিকারী লোকজনকে বুঝিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তখন বাড়ির ভেতরে পুলিশ ছাড়াও আইভীর পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা অবস্থান নেয়। পুলিশের কর্মকর্তারা আইভীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন। আইভী পুলিশকে বলেন, তিনি দিনের বেলা ছাড়া পুলিশের সঙ্গে যাবেন না। রাতভর বাড়ির ভেতরে পুলিশ এবং বাড়ির বাইরে আইভীর জনতার বিক্ষোভ চলতে থাকে। একপর্যায়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গাড়ি বহরে হামলা
এদিকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বহনকারী গাড়ির ওপর হামলা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিবি রোডের কালীর বাজার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় র্যাব ও পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে পুলিশের দুই সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। দ্রুত পুলিশ তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে হামলার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-ক) রকিব উদ্দিন জানান, হামলার সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টরসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
আইভীর বক্তব্য
গ্রেপ্তারের সময় আইভী গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন বর্তমান সরকার বৈষম্যের কথা বলে ক্ষমতায় এসে আমার সঙ্গে বৈষম্যমূলক কাজ করছে। কোনো অন্যায় না করেও কোনো রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। নিজেকে জয় বাংলার লোক উল্লেখ করে এ সময় জয়বাংলা স্লোগানও দেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।
তিনি বলেন, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমি অপরাধী। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে ২১ বছরের সেবায় কোনো দল কিংবা ব্যক্তিকে আঘাত করার মতো কিছু কখনো করিনি। যখনি নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তখনি প্রতিবাদ করেছি। কোনো অপরাধ না করেও অপরাধী হিসেবে আমাকে গ্রেপ্তার করা বৈষম্য বলে দাবি করেন তিনি। বিগত সময়ের মতো নারায়ণগঞ্জবাসীকে পাশে থাকার আহ্বান জানান আইভী।
তিনি বলেন, পুলিশ রাতের বেলায় এসেছে আমি রাতের বেলায় বের হতে চাইনি। তারা সারারাত আমার বাড়িতে অবস্থান করেছে। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি ওনাদের কষ্ট দিয়েছি। আমার মহল্লার লোকজন সারারাত এখানে অবস্থান নিয়েছে। আমি আমার এলাকাবাসী ও মহল্লাবাসীকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আপনারা কোনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন নাই। শান্ত ছিলেন। আমি আপনাদের মেয়ে, আপনাদের সন্তান। আমার প্রতি যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন আমি আজীবন আপনাদের এই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মানের কথা মনে রাখবো। আমার এলাকাবাসী জানেন আমি আলী আহম্মদ চুনকার সন্তান। আমার বাবা দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করেছে। আমার যদি অপরাধ হয়ে থাকে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলার কারণে তাহলে আমি সেই অপরাধে অপরাধী হতে চাই। এই জন্য যদি আমার বিচার হয়, হবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শহরে ২১ বছর নারায়ণগঞ্জবাসীকে সেবা দিয়েছি। কেউ কোনোদিন বলতে পারবে না। আমি কোনো প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে অন্য কোনো দলের প্রতি আঘাত করেছি। অথবা কারও সঙ্গে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করেছি। দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের দলের মধ্যে থেকের মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিরোধ ও মতভেদ সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে প্রতিবাদ করি নাই।
এ সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে আইভী বলেন, আপনারা জানেন, এক মাস হয় নাই। আমার অত্যন্ত আদরের ছোট ভাই আলী আহম্মদ রেজা রিপনকে আমরা হারিয়েছি। সেই ভাইয়ের শোক এখনো ভুলতে পারি নাই। তিনটা ছোট ছোট নাবালক বাচ্চা। চার বছর আগে তাদের মাও মারা গেছে। যেখানে আমার বড় ভাই নাই বোন নাই। তার মাঝখান দিয়ে আমাকে এইভাবে কি কারণে অ্যারেস্ট করা হলো, আমি কি জুলুমবাজ, হত্যাকারী, চাঁদাবাজি করেছি, আমার কি কোনো রেকর্ড আছে যে আমি কোনোদিন কোনো বিরোধী দলকে আঘাত করেছি। তাহলে কিসের জন্য কি কারণে কোন ষড়যন্ত্রের কারণে, কার স্বার্থে আমাকে অ্যারেস্ট করা হলো?
আমিও প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তারা সাম্যের কথা বলেছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করেছেন। সরকার হটিয়ে নতুন সরকার এসেছেন। তাহলে কি এই বৈষম্য? তাহলে ওনেস্ট রাজনীতির কি মূল্যায়ন?
আমি তো বাড়িতেই ছিলাম। আমি তো পালাইনি। তাহলে এভাবে আমাকে অ্যারেস্ট করতে হলো কেন? সেই জবাব জনগণের কাছে চাই। জনগণই দিবে।
আইভীর গ্রেপ্তারে রফিউর রাব্বির প্রতিক্রিয়া
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন সহযোদ্ধা রফিউর রাব্বি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা এক স্ট্যাটাসে তিনি এই নিন্দা জানান।
রফিউর রাব্বি তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানাই। নারায়ণগঞ্জকে নরক বানিয়ে রাখা শামীম ওসমানকে সরকারের বাহিনী সসম্মানে দেশ থেকে পালাতে সহায়তা করলো, তার পরিবারকে বিএনপি’র নেতারা পালাতে সহায়তা করলো আর আইভীকে করা হলো গ্রেপ্তার।’
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা প্রসঙ্গে রফিউর রাব্বি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি শামীম ওসমানকে সঙ্গে নিয়ে হত্যা করেছেন। যে শামীম ওসমানের সঙ্গে তার সাপে-নেউলের সম্পর্ক, তাকে সঙ্গে নিয়ে আইভী হত্যা করেছেন? একদিকে সরকার বলছে, মামলা হলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তদন্ত করে প্রমাণ পেলে গ্রেপ্তার। আবার এমনি রাতভর বাড়ি ঘিরে রেখে সকালে গ্রেপ্তার।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল আইভীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, আইভী আওয়ামী লীগ করেন এটা সত্যি। আবার এটাও সত্যি, নারায়ণগঞ্জে যারা আওয়ামী লীগ করেছে সেই দুর্বৃত্তশক্তির বিরুদ্ধে তার সাহসী প্রতিবাদও ছিল। ফলে জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় জায়গায় তিনি ছিলেন। আওয়ামী লীগের সত্যিকারের যারা খুনি, সত্যিকারের দোষী তাদের পালিয়ে যেতে সরকার সহায়তা করেছে। আর জনগণ যাকে নির্দোষ মনে করে তাকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করাটা যুক্ত সঙ্গত মনে করি না।
তবে তিনি যদি অপরাধ করে থাকেন সেই অপরাধের শাস্তি চাই। কিন্তু অযথা যেন হয়রানি করা না হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই।
গণসংহতি আন্দোলন
গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম সুজন বলেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জে গুম-খুন-সন্ত্রাসের প্রতীক ছিল না। এমনকি গত ১৭ বছরে বিএনপি কিংবা বিরোধী মত হিসেবে আমরা যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জানবাজি রাখা লড়াই চালিয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১টি মামলাও করে নাই। প্রতিপক্ষকে নির্মূল কিংবা দমন-পীড়ন আইভীর রাজনীতি ছিল না।

Saturday, December 14, 2024
চাঁদাবাজি দখলের হাত বদল, ক্ষোভ by শুভ্র দেব
৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ কেমন আছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থা কেমন লাগছে, সাধারণ মানুষের জীবনমানে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা এসব জানতে বুধবার জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে বিভিন্ন তথ্য মিলেছে। বেশির ভাগ মানুষের সঙ্গে কথা বলে মোটাদাগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।
বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুরের বাসিন্দা আব্দুল কাদের। ৬০ বছর বয়সী কাদের গত ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যেই হউক আমি কখনো কোনো সুবিধা নেইনি। আমরা সাধারণ মানুষ। ছোটখাটো ব্যবসা বাণিজ্য করে খাই। আওয়ামী লীগের আমলে ব্যবসা নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন আর সেই সমস্যা নাই। সব জিনিসের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। কিনতে হয় বেশি দিয়ে অথচ বিক্রি করতে হয় আগের দামে। এতে করে লাভ কমে গেছে। যে হারে দাম বাড়ছে সেভাবে মানুষের আয় বাড়ছে না। তাই সরকারের জিনিসপত্রের দাম কমানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া দরকার। হাসিনা সরকারের আমলে ভোট দিতে পারি নাই ১৬ বছর। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি। মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ সালাম ভোট জালিয়াতি করে ১৬ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিই এই এলাকার সব নিয়ন্ত্রণ করতেন। শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সঙ্গে সখ্যতা রেখে দাপট দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ ছিল না। কতো মানুষের যে জমিজমা দখল করেছে তার হিসাব নাই। কেওঢালা বাজারের জুতার ব্যবসায়ী ইয়াকুব দেওয়ান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে সব সমাধান করা সম্ভব না। কারণ এতগুলো মন্ত্রণালয় অথচ সব মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা নাই। অনেকগুলো মন্ত্রণালয় একজন উপদেষ্টা সামলাচ্ছেন। তাই এখন মানুষ যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এসব সমাধানের জন্য সরকারপ্রধান ও উপদেষ্টাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত। আর জনগণের নির্বাচিত সরকার যত দ্রুত আসবে ততই সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে অনেক পরিবর্তন এসেছে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে। এই এলাকায় আওয়ামী নেতাদের প্রভাব কমেছে। সবাই পালিয়েছেন। এখন মানুষ চাচ্ছে দ্র্রব্যমূল্যর দাম নিয়ন্ত্রণে আসুক।
সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী শাহেদ শাহ বলেন, দ্রব্যমূল্য এত বেশি হয়েছে আমাদের মতো মানুষের একেবারে নাগালের বাইরে। মানুষ আশাবাদী ছিল এই সরকার সব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু এখনও সবকিছু বেড়েই চলছে। একই ইউনিয়নের সুখেরটেক গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, কত বছর পরে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি গত কয়েকমাস ধরে। ভয় ছাড়া হাটাচলা করতে পারছি। পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করার ভয় নেই। অকারণে বিনা অপরাধে অনেক মামলার আসামি হতে হয়েছে। এখন শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান যেভাবে দেশে চালাচ্ছেন তাতে আমরা অনেক খুশি। এ ছাড়া জিনিসপত্রের দাম তিনি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না। কারণ এখানে বড় একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। সিন্ডিকেট ভাঙা কষ্ট হবে। একই এলাকার অলি উল্লাহ বলেন, আমাদের এলাকায় শান্তি ফিরেছে। আমরা মিলেমিশে আছি। ধর্মীয় কোনো সংঘাত নাই। আলাউদ্দিন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, সবমিলিয়ে দেশের যা অবস্থা তাতে আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে না। অস্থির এক পরিবেশ বিরাজ করছে। বাজারে গেলে জিনিসপত্রের দাম শুনলে মন খারাপ হয়ে যায়। সোনারগাঁও উপজেলার পানামনগর সিটির পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচিত সরকার না আসলে দেশ এরকমই অস্থির থাকবে। কারণ নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহিতা করতে হয়। তারা খারাপ করলে মানুষ আর ভোট দিবে না। এই ভয় তাদের মনে কাজ করে। তাই এই সরকার কোনো কিছু না করলেও বলার মতো কিছু থাকবে না। তবে সরকারের উচিত মানুষ কী চায় সেটা বোঝার। রিকশাচালক আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমার রিকশায় করে প্রতিদিন কতো যাত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাই। যাত্রীদের গল্প শুনে বোঝা যায়। সবাই এক অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।
রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ বলেন, ভেবেছিলাম হাসিনা সরকারের পতনের পর স্বস্তিতে থাকবো। কিন্তু কিছু পরিবর্তন আসলেও বেশির ভাগ সমস্যার সমাধান হয়নি। আগে চাঁদাবাজি, দখল, মাদক ব্যবসা আওয়ামী লীগের নেতারা করতো। তারা পালিয়ে যাওয়ার পর এখন হাতবদল হয়েছে। চিত্র আগের মতোই আছে। এ ছাড়া আমরা সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়াও নাই। আমরা চাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকুক। প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে দাম বাড়লেও আমাদের আয় একই জায়গায় বন্দি। তাই এসবের পরিবর্তন হওয়া দরকার। কায়েতপাড়ার বাসিন্দা সোলায়মান ভূঁইয়া বলেন, স্বৈরাচারের পতনে আমরা খুশি। দেশে এক দুঃশাসন ছিল। এখন আমরা স্বস্তিতে আছি।
সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনানী নতুন মহল্লার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লুটপাটের জমানা এখন আর নাই। সব মানুষ এখন ভালো আছে। আয় কম হলেও মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে। কোনো ভয় নাই মনে। আগে তো একটা ভয় নিয়ে চলতে হতো। কখন কার ওপর কোন বিপদ আসে। একই এলাকার বাহরাইন প্রবাসী মকবুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ব্যবসা করেছি দেশে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমরা দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদন করেছি। অথচ ভারত থেকে পণ্য আনার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অনেক টাকা লোকসানের পরে আমি মধ্যেপ্রাচ্য চলে যাই। এখন ভালো আছি। তবে আওয়ামী লীগের সময় আমার পরিবারের সদস্যরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়েও হয়রানি করা হয়েছে আমার পরিবারকে। হাসিনা সরকারের পতনের খবর পেয়ে দেশে এসেছি। এখন আর কোনো সমস্যা নাই।

Monday, October 7, 2024
ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ৭ দিনের রিমান্ডে
এদিকে গত ২২ দিনে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যাব ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক মো. জামশেদসহ ৬ ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে আজমেরী ওসমানের সহযোগী কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য দুই আসামি শাফায়েত হোসেন (শিপন) ও মামুন মিয়াকে দুই দফায় ৯ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গাড়িচালক জামশেদকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ইয়ার মোহাম্মদ কারাগারে আছেন। র্যাব জানায়, আগে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার র্যাব-১১ এর কাছে অর্পণ করা হয়। ২০১৩ সালের ৬ই মার্চ বিকালে শহরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী।
৮ই মার্চ শহরের কালিরবাজার চারারগোপ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তার লাশ পাওয়া যায়।

Wednesday, September 18, 2024
৭৫ দিনের শিশুটি এখন অসহায়: ৬ তলার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সুমাইয়া by ফাহিমা আক্তার সুমি
নিহত সুমাইয়ার মা আসমা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমার নাতনিটাকে কী জবাব দিবো। সে তো অবুঝ, মায়ের অভাব বুঝতে পারলেও মুখ ফুটে বলতে পারছে না কাউকে। ওইদিন নতুন মহল্লার আশেপাশের সবাই গুলি ও হেলিকপ্টারের শব্দ শুনতে পায়। অনেকে তখন বারান্দা, ছাদ এবং জানালায় ছুটে যায় দেখার জন্য। আমার মেয়েও তার বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে বাসার উত্তর দিকের বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এ সময় গ্রিল ভেদ করে বুলেটটি এসে সুমাইয়ার মাথায় লাগে। দুই বছর আগে বিয়ে হয় মেয়েটার। বাচ্চার বয়স এখন চারমাস চলে। সুমাইয়া যখন মারা যায় তখন ওর বয়স আড়াইমাস ছিল।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ নতুন মহল্লায় সুমাইয়াদের ভাড়া বাসায় গেলে তার মা বারান্দার গ্রিলে থাকা বুলেটের ক্ষত চিহ্নটি দেখিয়ে কাঁদছিলেন। ঘরে মধ্যে সবখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মেয়ের স্মৃতি। একমাত্র নাতনিকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রেখে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, মা আর সন্তান কী জিনিস সেটা ভাষায় বোঝানোর মতো না। আমি হারিয়েছি আমার বুকের সন্তানকে। আমার নাতনি হারিয়েছে তার মাকে। মায়ের কষ্টটা ওর কী কখনো পূরণ হবে। আমার মেয়েটা খুব শান্ত ছিল নিজের কষ্ট সবসময় লুকিয়ে রাখতো। সুমাইয়ার বাচ্চা হওয়ার পর এত খুশি ছিল যেটা বলার বহিরে। সব বসময় মেয়েকে নিয়ে হাসিখুশিতে কেটে যেতো। মেয়েটিও ওর মাকে মাত্র চিনতে শিখেছিল। মেয়ের জন্য বেশি লাল জামা পছন্দ করতো সুমাইয়া। আমাকে এমন কিছু বলে যেতেও পারেনি আমার মেয়েটা। আমার মেয়েটা বলে যেতে পারেনি যে মা আামি চলে যাচ্ছি আমার মেয়েটিকে দেখে রেখো। গুলি লাগার পরেই নিচের দিকে ঢলে পড়ে যায়।
আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ঘটনার দিন বিকাল পাঁচটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি ভবনে আগুন দেয়ার পর থেকে হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি শুরু হয়। ওই ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় পুলিশ সদস্যরাও থাকতেন। আন্দোলনকারীদের ধাওয়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীরাও সেখানে আশ্রয় নেয়। ভবনের ভেতরে আটকে থাকা পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গুলি চালায়। এতে অনেক লোক নিহত ও আহত হয়।
ওইদিনের ঘটনার বর্ননা দিয়ে তিনি বলেন, ২০শে জুলাই সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। ওইদিন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। চারিদিকে গোলাগুলি হচ্ছে। একটার পর একটা র্যাব, পুলিশের হেলিকপ্টার ঘুরছিল। এটা দেখার জন্য সবাই উৎসুক ছিল। আমার মেয়ে তার বাচ্চাটিকে পাশের রুমে ঘুম পাড়িয়ে রেখে আমাকে বলে সবাই দেখছে আমি একটু দেখি মা। গিয়ে পাশের রুমের বেলকনিতে দাঁড়ায়। তার কিছুক্ষণ পরে আমি একটা শব্দ শুনতে পাই। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি আমার মেয়ে বেলকনিতে ঢলে পড়ে আছে। চিৎকার দিয়ে উঠে ওর কাছে দৌড়ে যাই। তখন ওর মাথাটা বেলকনির দরজার কাছে এসে পড়ে। মাথায় হাত দিয়ে উঠিয়ে দেখি প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। চিৎকার দিয়ে সবাইকে ডাকি। আমার ছেলেরা এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে পাগলের মতো হয়ে যায়। তারা কী করবে, কোথায় নিবে কিছুই বুঝতে পারছে না। রক্ত বন্ধ করতে একটা কাপড় দিয়ে মাথায় বেঁধে দেই। যখন হাত দিয়ে গুলিবিদ্ধ জায়গা চেপে ধরি তখন ওর নাক দিয়ে রক্ত ছোটা শুরু করে। তখনই মনে হয়েছে আমার মেয়ে আর বাঁচবে না। এ সময় ঘরে থাকা সবাই দিকবিদিক হয়ে পড়েছিল। এত রক্তক্ষরণ হয়েছিল মেঝে পুরো লাল হয়ে যায়। এম্বুলেন্স আনার জন্য সবাইকে বলি, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে সেখানেও কাউকে পাওয়া যায়নি। আশেপাশের মানুষ তখন অনেকে আসে। সবাইকে বলি আমার মেয়েটাকে একটু ধরেন। লোকজনকে বলি মেয়ের হাতটা একটু দেখেন ও বেঁচে আছে নাকি। সবার হাতে-পায়ে ধরেছি মেয়েটিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু বাইরে যে পরিস্থিতি ছিল তারাইবা কী করবে।
তিনি বলেন, এ সময় আমার বড় মেয়ে বাসার নিচে গিয়ে রিকশাচালকদের হাতে-পায়ে ধরেছে। পরে একজনের দয়া হলে সে রাজি হয় হাসপাতালে নিতে। আমার ছেলেরা ও একজন ভাড়াটিয়া ধরে ছয়তলা থেকে নামিয়েছে আমার মেয়েকে। যতদূর নেমেছে সিঁড়িতে ততদূর রক্ত পড়তে পড়তে গেছে। পরে আমার দুই ছেলে ও মেয়ে সাইনবোর্ড প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিতে চেয়েও পারিনি। এরপর সবার পরামর্শে সিদ্ধিরগঞ্জ কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেই। সেখানে দাফন করতে গেলেও ছিল আতঙ্ক। আমার মেয়েকে দাফন করতে গেলে ছাত্রলীগের লোকজন বাধা দেয়। তারা বলে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধদের দাফন করতে দিবে না। অনেক হেনস্তা করেছে আমাদের।
আসমা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকি। আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ। নদীতে আমাদের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ওদের বাবা সেলিম মাতুব্বর করোনার সময় মারা যায়। তখন সন্তানেরা ছোট ছিল। কাঁচপুরে একটি টেক্সটাইল মিলের নিরাপত্তারক্ষী ছিল।
তিনি বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঝামেলার কারণে সুমাইয়া তাদের বাসায় থাকতেন। তার মৃত্যুর পর কয়েকদিন পর সুমাইয়ার স্বামী মেয়েকে এসে দেখে যান। নাতনীকে কৌটার দুধ খাওয়ানো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলেরা কিছু কাজ করে তা নিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। এখন এই দুধের শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা দুঃশ্চিন্তায় আছি।

Friday, September 13, 2024
সংবিধানের যে ধারাগুলো স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ দেয় তা বাতিল করতে হবে: মান্না
মান্না বলেন, প্রথম পর্যায়ে যে লড়াইটা হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছর যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলেছে সেটায় আমরা বিজয়ী হয়েছি। পরে, সময়ের প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী একটি সরকার গঠিত হয়েছে। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, অর্থনীতিতেও গতি ফিরে আসছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আছে, তবে তারা চুপ। তাদেরকে আরও বেগবান হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ছিল স্বৈরাচারের আখড়া। পটপরিবর্তনের পর এটা এখন খুবই স্পষ্ট যে, আমাদের প্রথম পর্যায়ে বিজয় হয়ে গেছে। স্বৈরাচার যেটা চেপে বসেছিল, সেটা যে যেতে পারে এবং এত তাড়াতাড়ি সেটা বিশ্বাসও করতে পারি নাই। ৪ তারিখেও আমাকে অনেকে ফোন করে বলেছিল, ভাই এটা কী পারবেন? এটা কী হবে? ৫ তারিখেই স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জীবনবাজি রেখে এত বড় ঘটনা শিক্ষার্থীরা করলো যা কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেনি। রাজনৈতিক দলগুলো লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটিয়েছে আবার যখন পুলিশ বলেছে, তারা তখন চলে গেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা করেনি। তারা বুক পেতে দিয়েছে। পুলিশ গুলি করেছে একজন প্রাণ হারিয়েছে আরেকজন দাঁড়িয়ে গেছে। নতুন কিছু দেখতে হলে দৃষ্টির পরিবর্তন করতে হবে। এখন পলিটিক্স মাসলম্যান দিয়ে চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা করছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের আন্দোলনের সঙ্গে অতীতের আন্দোলনের মিল নেই। এখানে কোনো নেতৃত্ব নেই, কোনো স্ট্রাকচারই নেই। এটা কালচারাল ফাইট। এটা না বুঝলে সমস্যা হবে। এই পরিবর্তন আমাদের বুঝতে হবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো। কিন্তু সরকার ভুল করলে সমালোচনাও যেন করতে পারি, সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। নারায়ণগঞ্জ জেলা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, ঢাকা উত্তরের সভাপতি খসরু, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

Saturday, September 7, 2024
গাজী টায়ারসে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ: কী ঘটেছিল সেদিন? by নাজমুল হুদা
সূত্র জানায়, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে গ্রেপ্তারের খবরের পরই ঘটে গাজী টায়ারস কারখানায় লুটপাটের ঘটনা। তবে লুটপাটের আগে খাদুন উত্তরপাড়া মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ জড়ো করা হয় কারখানার সামনে। একপর্যায়ে কারখানার পূর্ব পাশ দিয়ে খাদুন এলাকার একটি গ্রুপ কারখানার ভেতর লুটপাট করে। ওদিকে প্রধান ফটক দিয়ে আরেকটা গ্রুপ ঢুকে লুটপাটে অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র বলছে, গত ৫ই আগস্টও লুটপাট হয় কারখানায়। তার কিছুদিন পর থেকে স্থানীয় সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা তোফাজ্জেল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা রায়হান মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রায়হান মীরের ভাই ছাত্রলীগ নেতা রবিনসহ ২০ জনের একটা গ্রুপ প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কারখানা পাহারা দিতো। তবে তারা প্রতিদিন জনপ্রতি ৫ হাজার করে এক লাখ টাকা দাবি করে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। সেটা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মসজিদে মাইকিং করে পাহারা দেয়া ওই গ্রুপটি। মসজিদের মাইকে গাজী গ্রুপের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দে জড়ানো মালিকদের মানববন্ধন করার জন্য ডাকা হয়। মাইকে ঘোষণার পর তারা কারখানায় লুটপাট শুরু করলে সাধারণ পথচারী ও আশেপাশের কারখানার শ্রমিকরা লুটপাট শুরু করেন। এ সময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। লুটপাটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বরাবো এলাকা থেকে শহিদুল ওরফে ডাকাত শহিদুল ৫০ জনের একটা গ্রুপ নিয়ে লুটপাটের জন্য কারখানায় ঢুকে পড়ে। তখন আগের লুটপাটকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় শহিদুলের গ্রুপের। এ সময় বন্দুকের গুলির মতো শব্দও পান এলাকাবাসী। এ ছাড়া ওইদিন চনপাড়ার আরও একটি গ্রুপের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি গ্রুপ কারখানার নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়।
গাজী টায়ারস কারখানার পাশেই রূপসী বাসস্ট্যান্ড। সেখানের স্থানীয় দুই সিএনজি চালক মো. উজ্জ্বল ও মিরাজ জানিয়েছেন, আগুন লাগার পরও প্রতিদিন লুটপাট হয়েছে কারখানায়। চনপাড়া, ডেমরা, কাঁচপুর, গাউছিয়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন এসে লুটপাট করেছে। অনেকে রিকশা, ভ্যান, অটো, পিকাপ ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। এক গ্রুপ ভিতর থেকে বাইরে মালামাল বের করেছে। আরেক গ্রুপ বাইরে থেকে তা বিক্রি করতে নিয়ে গেছে। গাজী টায়ার্সের অপারেটর শহিদুল ইসলাম ঘটনার দিন কারখানায় ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সেদিন শতশত মানুষ এসে হামলা, লুটপাট করে। আমরা পরে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যাই। তাদের বাধা দেয়ার কেউ ছিল না।
এদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পরও কারখানার বাইরে নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। গতকাল সকালে হাতে সন্তানের ছবি নিয়ে গাজী টায়ারস কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোকসেদ আলী। তার ছেলে রেজাউল করিম ২৫ আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। রেজাউল একটি মশারির কারখানায় কাজ করতেন। বাবা মোকসেদ আলী বলেন, আমার ছেলে সেদিন এখানে দেখতে আসছিল। সেদিন রাত থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। মোবাইল নম্বরও বন্ধ। ছেলে মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে তাও জানি না। শিশু ইসমাইলের (১৪) খোঁজে কারখানার গেটের সামনে বসেছিলেন মা বেদেনা। ইসমাইল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। বেদেনা বলেন, সেদিন সন্ধায় ছেলেটা মাদ্রাসায় গেল। কিন্তু মাদ্রাসা থেকে কখন বের হইছে, কোথায় গেছে জানি না। ছেলের আর খোঁজ পাচ্ছি না। আমার একটাই সন্তান। তারে ছাড়া কেমনে থাকবো। কারখানায় এসে ছেলের ছবি আর জন্ম নিবন্ধন জমা দিয়েছেন বলেও জানান বেদেনা। ভাগ্নে নিহাদের খোঁজ নিতে এসেছেন রুবেল। নিহাদও ২৫শে আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ। একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে কাজ শিখতো নিহাদ। প্রতিদিন সকালে গ্যারেজে দিয়ে রাতে আবার বাসায় ফিরতো। কিন্তু সেদিন রাতে আর বাসায় ফিরেনি। রাতে মামা রুবেল কারখানায় এসে খোঁজ নেয়। রুবেল বলেন, ভবনের ভেতরে গিয়ে খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু আগুনের কারণে পারিনি। এখন পর্যন্ত তার কোনো খবর নেই।
উদ্ধারকারী টিম মানুষের দেহাবশেষ খুঁজে না পেলেও নিহতের স্বজনেরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ঢুকে মানুষের হাড়, মাথার খুলিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো পুলিশের কাছে দেন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ৮০ জনের তালিকা করেছে জেলা প্রশাসন গঠিত ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি। গতকাল দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, এখন তদন্ত চলমান রয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। বুয়েটের একটা বিশেষ দল ভবন দেখে জানিয়েছে এখানে উদ্ধার কাজ চালানো যাবে না। এটা অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।
Monday, September 2, 2024
কারখানায় মিলছে মানুষের হাড়গোড়, এখনো নিখোঁজ ১২৯
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান মাহমুদ রাসেল জানান, ২৫শে আগস্ট গাজী টায়ার্স কারখানায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। টানা ৩২ ঘণ্টার আগুনে সেখানে কিছু ইঞ্জিন আর ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ছাড়া কিছুই ছিল না। আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ভবন ও লোহার অবকাঠামোও যেকোনো সময় ধসে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় বুয়েট বিশেষজ্ঞের মতামতে গত ৩০শে আগস্ট থেকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। আগুনের সময়ে ভেতরে বেশ কিছু মানুষ আটকে পড়ার অভিযোগ তোলেন নিখোঁজদের স্বজনরা। তাই রোববার কারখানা অভ্যন্তরে নিখোঁজদের সঠিক তালিকা তৈরি করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৮ সদস্যর তদন্ত কমিটি গণশুনানি আয়োজন করেন।
এদিন মোট ১২৯ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়ে নাম লিপিবদ্ধ করেন তাদের স্বজনরা। অপরদিকে শুনানি চলাকালে কয়েকজন অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে যায়। সেখান থেকে তারা মানুষের পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেন। সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু মানুষের পোড়া অংশবিশেষ পাওয়া গেছে তাই নিখোঁজের ব্যাপারটি গুজব নয়। আমরা যেকোনো প্রক্রিয়ায় আবারো উদ্ধার অভিযান শুরু করবো। আমরা চাই যেনো একটু আলামত নিয়ে হলেও পরিবার তাদের জানাজা দিতে পারেন অথবা সৎকার করতে পারেন।
Thursday, August 29, 2024
গাজীর কারখানায় আগুন: ড্রোন দিয়ে খোঁজা হচ্ছে নিখোঁজ মরদেহ, তদন্ত শুরু
ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমান বলেছেন, আমরা তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছি। ফায়ার সার্ভিস তাদের ড্রোন টিম দিয়ে মরদেহের অনুসন্ধান করে কোনো মরদেহ পায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২১ঘণ্টা কেমিক্যালের আগুনে মরদেহ আর আগের মতো পাওয়া সম্ভব না। তারপরও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান চলমান আছে। নিখোঁজ পরিবারের যারা আসছেন আমরা নিখোঁজদের তালিকা লিপিবদ্ধ করছি। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা তদন্ত কমিটি সেই লক্ষ্যে প্রতিটি বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তদন্তের কাজ শুরু করেছি।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাত ৯টায় রূপগঞ্জের খাদুন এলাকার কারখানাটির ছয়তলা একটি ভবনে লুটপাট চলাকালে নিচতলায় সিঁড়ির মুখে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ভবনটির ভেতরে থাকা অনেকেই আটকা পড়েন বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। গাজী টায়ার্স কারখানার মালিক নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। রোববার ভোররাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের তরফ থেকে নিখোঁজদের কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা না পেয়ে রূপগঞ্জের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালিকা তৈরি শুরু করেছেন। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তারা অন্তত ১২৬ জনের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থী মাহিমা মীর। তিনি বলেন, ‘রোববার রাতে আগুন লাগলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তালিকা করা হচ্ছিল না। নিখোঁজদের স্বজনেরা হাতে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। গণমাধ্যমে দেখেছি, ফায়ার সার্ভিস একটি নিখোঁজ তালিকা করেছে। কিন্তু আমরা তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা অস্বীকার করে। ফলে আমরা দুর্ঘটনায় কতজন নিখোঁজ আছে, তা জানার জন্য দুপুর থেকে তালিকা করা শুরু করি। আমরা নিখোঁজদের নামের পাশাপাশি ভোটার আইডি ও ছবি সংগ্রহ করছি।’
Monday, August 26, 2024
শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর গুলিবর্ষণের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের একপর্যায়ে সরকার পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সরকার পতনের পর শামীম ওসমান ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ১৯শে জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে অনেকগুলো হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনা, স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৯শে জুলাই বিকালে শহরের চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল বের করে। একটি উঁচু ভবনের উপর থেকে মুঠোফোনে ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি ধারণ করা।
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, শামীম ওসমান ও তার কয়েক শতাধিক অনুসারী আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কে শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকার দিকে ধাওয়া দিচ্ছে। সেখানে শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ (টিটু) গুলি ছোড়ে।
দুটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছিল টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজ ও যুগান্তর পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রাজু আহমেদ। আরও ছিল, শামীম ওসমানের আত্মীয় (অয়ন ওসমানের শ্বশুর) ফয়েজ উদ্দিন লাভলু, তার ছেলে মিনহাজুল ইসলাম ভিকি ও শীতল পরিবহন বাসের পরিচালক অনুপ কুমার সাহা, ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নিয়াজুল ইসলাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু প্রমুখ। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ও তার ছেলে এমআরকে রিয়েনও গুলি চালিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহড়ায় শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাইল রাফেল প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান উপস্থিত ছিল। তারা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। দেশ রূপান্তর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি কমল খানকেও অস্ত্রের মহড়ায় দেখা যায়। গুলি করে শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা কাউসার আহমেদও।
১৯শে জুলাই শামীম ওসমানের নেতৃত্বে গুলি চালানোর ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। তারা জানান, সেদিনের পরিস্থিতি ছিল ভীতিকর। ওই পরিস্থিতিতে ছবি ও ভিডিওধারণের কোনো সুযোগ ছিল না। ভিডিওধারণ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক মারধরেরও শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া থেকে মণ্ডলপাড়া মোড় পর্যন্ত শামীম ওসমান ও তার বাহিনী কয়েক দফায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়ে। এই সময় শতাধিক গাড়ির বহর ব্যবহার করে তারা। তারা গাড়ি নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের জালকুড়ি এলাকাতেও আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়ে। এ ছাড়া চাষাঢ়া-আদমজী চিটাগাংরোড সড়ক দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জেও মহড়া দেয়।
ওদিকে ১৯শে জুলাই জুমার নামাজের পর যখন শামীম ওসমান তার বাহিনী নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর মুহুর্মুহু গুলি ছোড়েন তখন বঙ্গবন্ধু সড়কের নয়ামাটি এলাকার চারতলা ভবনের ছাদে খেলছিল ছয় বছর বয়সী রিয়া গোপ। রিয়ার বাবা ব্যবসায়ী দীপক কুমার গোপ সাংবাদিকদের তখন জানিয়েছিলেন, ‘গুলির শব্দ শুনে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে মেয়েকে আনতে ছাদে যান। ছাদ থেকে শিশুকন্যাকে কোলে নেয়ার পরই রিয়ার মাথার পেছনের দিকে একটি গুলি লাগে। রক্তে ভেসে যায় দীপক কুমারের হাত।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ২৪শে জুলাই হাসপাতালে মারা যায় রিয়া।
বঙ্গবন্ধু সড়কে শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর গুলি করার ভিডিওটি নিজের ফেসবুক একাউন্টে শেয়ার করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বিও। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ১৯শে জুলাই ২০২৪, শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরে শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর অস্ত্রসন্ত্রাস। যোগাযোগ করা হলে রফিউর রাব্বি জানান, ১৯শে জুলাই শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর গুলিতেই শিশু রিয়া গোপ নিহত হয়। তিনি বলেন, ঘটনার দিন ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে ছিল না। তখন শামীম ওসমান তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অসংখ্য গুলি ছুড়েন। প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে মুহুর্মুহু গুলি ছোড়ার বিষয়টি থেকে বোঝা যায়, শামীম ওসমানদের গুলিতেই রিয়া গোপ মারা গেছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ক ফারহানা মানিক বলেন, ওই দিন (১৯শে জুলাই) ওই এলাকায় কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না। কার গুলিতে রিয়া গোপের মৃত্যু হলো, সেটি প্রশাসনকে খুঁজে বের করতে হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও তাদের অনুসারী শাহ নিজামের নামে অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আমীর খসরু গণমাধ্যমকে জানান, অস্ত্রের মহড়া দিয়ে গুলি করার ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। সেখানে কারা, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গুলিবিদ্ধ হয়ে শিশু রিয়া গোপের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিন ওই এলাকায় কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না। কার গুলিতে রিয়া গোপের মৃত্যু হয়েছে, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুই সাংবাদিক বরখাস্ত: ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে শনিবার রাতে দৈনিক যুগান্তর ও ডিবিসি নিউজ কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রাজু আহমেদকে বরখাস্ত করেন। ডিবিসি নিউজ কর্তৃপক্ষ ও যুগান্তর কর্তৃপক্ষ তাদের অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদে বলেন, একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রচারিত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই আদেশ ২৪শে আগস্ট থেকে কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ।
ওদিকে রোববার দুপুরে দেশ রূপান্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মোবারক হোসেন খান কমল (কমল খান)কে বরখাস্ত করা হয়। সাংবাদিকসুলভ আচরণের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পত্রিকাটি তাদের অনলাইনে প্রকাশ করেন। এই আদেশ ২৫শে আগস্ট ২০২৪ থেকে কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ।
Sunday, August 25, 2024
শামীম ওসমান ও তার সঙ্গীদের গুলি ছোড়ার ভিডিও ভাইরাল
২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায় শামীম ওসমান ও তার কয়েক শতাধিক অনুসারী আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কে শহরের ২ নম্বর রেলগেইট এলাকার দিকে ধাওয়া করে।
সেখানে শামীম ওসমানের শ্যালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক তানভীর আহমেদকে (টিটু) গুলি ছুড়তে যায়। ভিডিওতে শামীম ওসমানের ছেলে (অয়ন) এর শ্বশুর ফয়েজ উদ্দিন (লাভলু) ও তার ছেলে মিনহাজুল ইসলাম ও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ শীতল পরিবহণ বাসের পরিচালক অনুপ কুমার সাহা, ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নিয়াজুল ইসলাম (২০১৮ সালে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর অস্ত্র উঁচিয়ে ধরে আলোচিত) প্রমুখকে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৯শে জুলাই বিকেলে শহরের চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা মিছিল বের করেন। এসময় একটি উঁচু ভবনের ওপর থেকে মুঠোফোনে ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
এছাড়া ভিডিওতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায় ডিবিসি নিউজ ও যুগান্তর পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রাজু আহমেদকে। পরে পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে গতকাল রাজকেু বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে ১৯ জুলাই শহরের নয়ামাটি এলাকায় চারতলার বাড়ির ছাদে খেলার সময় ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, শামীম ওসমান ও তার সহযোগীদের গুলিতে রিয়া গোপের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শামীম ও তাঁর ছেলে অয়ন ও তাদের অনুসারী শাহ নিজামের নামে অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আমির খসরু বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিশু রিয়া গোপের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিন ওই এলাকা কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না। কার গুলিতে রিয়া গোপের মৃত্যু হয়েছে, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Thursday, August 15, 2024
‘মারা গেলে আমার লাশ ফেলে যাইস না’
সেই বাড়িতে মাকে নিয়ে থাকবে। তবে বাড়ি করতে না পারলেও পারভেজের নামে একটি সড়কের নামকরণ করেছে এলাকাবাসী। কারণ বাড়ি করার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে একটি বুলেট। নিভে গেছে পারভেজের জীবন প্রদীপ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া পারভেজ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে মাথায় বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এরআগে সকালে ফেসবুকে সে তার আইডি থেকে শেষ স্ট্যাটাস দেয় ‘আল্লাহ তুমি ভালো পরিকল্পনাকারী, আল্লাহ তুমি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবনের খেয়াল রাইখো। দেশের জন্য দশের জন্য যেইটা ভালো হয় তাই কইরো আল্লাহ। আজকে যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয়। আমিন’। আর আন্দোলনের মাঠে বন্ধুদের বলেছিল, ‘আমি মারা গেলে আমার লাশ ফেলে যাইস না, পরিবারের কাছে লাশ পৌঁছে দিস, বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে যেন আমার দাফন না হয়’।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাকাইশারী বাজার এলাকায় জনৈক রমজানদের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতো পারভেজ। কথা হয় পারভেজের পরিবার ও তার বন্ধুদের সঙ্গে।
তাদের দেয়া তথ্যমতে, সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসপি পাশ করার পর আর্থিক সংকটের কারণে লেখা-পড়া আর করতে পারেনি পারভেজ। তারপরও শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন তাকে ঘরে থাকতে দেয়নি। পরিবারের সকল বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনে যোগ দেয় সে। ৩ বোন ২ ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। তার সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয় তার বড় বোন সেলিনা আক্তার, মেঝ বোন রোকসানা আক্তার ও ভাগ্নি সিদ্বেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মাহমুদা আক্তার। ৪ঠা আগস্ট একের পর এক নিহতের ঘটনায় পারভেজ বোন আর ভাগ্নিকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করে। কিন্তু বাইরে নাস্তা খেতে যাই বলে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের মার্চ টু ঢাকা ঘোষিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে ৫ই আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় ঘর থেকে বেরিয়ে যায় পারভেজ। মহসিন, শাকিলসহ অনেকের সঙ্গে মৌচাক থেকে পায়ে হেঁটে রওনা হয় তারা। প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ হেটে কাজলা এলাকায় পুলিশের বাঁধায় পড়ে তারা। সেখানে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার সঙ্গে বিক্ষোভ করে পারভেজরা। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে টোল প্লাজার সামনে একটি গুলি এসে পারভেজের বাম চোয়াল ভেদ করে পিছনে ঘাড় দিয়ে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়ে সে। মোহসিন ও শাকিল সহ কয়েকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাশে সালমান হসপিটালে নিয়ে যায়। সেখানে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎক পারভেকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার লাশ বাসায় নিয়ে আসা হয়। ওইদিনই আছরের নামাজের পর বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে নামাজের জানাজা শেষে শুকুরসী কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। পরদিন এলাকাবাসী পারভেজের নামে নিমাকাশারী বাজার রোডের নাম করণ করেন‘ শহীদ পারভেজ রোড’।
পারভেজের বড় বোন সেলিনা আক্তার বলেন, আমি আমার বোন রোকসানা ও আমার মেয়ে মাহমুদা আক্তার কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাইনবোর্ড এলাকায় কয়েকদিন গিয়েছি। যখন একের পর নিহত হচ্ছিল ছাত্ররা। তখন পারভেজ বলে, তোমরা বাসায় থাকো। গুলি খেয়ে মরে গেলে তো এক কথা। আর না মরলে পঙ্গু হয়ে গেলে তো তোমার মেয়ের বিয়ে দিতে পারবা না। তার ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাবে। তখন তাকে বলি ঠিক আছে আমরা যখন আন্দোলনে যাবো না তাহলে তুমিও যেতে পারবে না। সে বলে আচ্ছা। কিন্তু সকালে নাস্তা খেতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যায়। সকাল ১০টার দিকে ফোন দিলে বলে ঠিক আছি কোন চিন্তা করো না। বলি সাবধানে থাকিস। বলে কোন সমস্যা নাই। আবার ১১টার দিকে ফোন দিলে বলে, ঠিক আছি। সাড়ে ১১টায় বন্ধু মহসিনকে বলে‘ ‘আমি মারা গেলে আমার লাশ ফেলে যাইস না, পরিবারের কাছে লাশ পৌছে দিস, বেওয়ারিশ ভাবে যেন আমার দাফন না হয়’। ১২টার পর শাকিল ফোন করে বলে পারভেজ মারা গেছে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে সেলিনা আক্তার বলেন, পারভেজ বলতো আমি ছাত্র ছিলাম। এখন ছাত্রদের আন্দোলনে কি ঘরে বসে থাকা যায়। জীবন দিয়ে হলেও তাদের সঙ্গে আছি। আর্থিক সংকটের কারণে বেশিদূর পড়তে পারেনি সে। এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে কাজ করে সংসারে কিছুটা সহায়তা করতো। আর বলতো আমাকে বিদেশ পাঠিয়ে দাও। বিদেশ গিয়ে এই নিমাইকাশারীতে একটা বাড়ি করবো। সবাইকে নিয়ে সেই বাড়িতে থাকবো। বলতাম এতো টাকা কই পাবো। ধৈর্য ধরো, টাকা যোগাড় হলে বিদেশ পাঠাবোনে। সে বলতো ‘স্বপ্ন দেখতে সমস্যা নাই। স্বপ্ন পুরন করবো আল্লাহ’। কিন্তু ভাইয়ের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো।
পারভেজের মা হাসি বেগম বলেন, গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি দিঘীরপাড় এলাকায় নদী ভাঙ্গায় সব শেষ হয়ে গেছে। ৩৫-৪০ বছল আগে গ্রাম থেকে চলে আসি। স্বামী মজিবুর রহমান ঢাকার সদরঘাটে ফেরি করে। কালিগঞ্জের চরে আশ্রয় নেই। এরপর পারভেজের বয়স যখন ৬ বছর তখন নিমাইকাশারী এলাকায় ভাড়ায় বাসায় উঠি। গ্রামে কিছুই নাই। তাই এখানেই ভোটার হই। ১৪ মাস আগে পারভেজের বাবা মারা যায়। সবার ছোট পারভেজ অনেক আদরের সন্তান ছিল আমার। মাঝে মাঝেই আমার হাতে খেত। ৪ আগস্ট রাতেই নিজ হাতে খাওয়াইছি। আজ আমার বাবা (পারভেজ) নাই। কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসি বেগম। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার কিছু চাওয়ার নাই। আমার ছেলেকে যেন মানুষ ভুলে না যায়। সে দেশের মানুষের জন্য শহীদ হয়েছে। সরকার যেন তার নাম শহীদ হিসেবে লিখে রাখে।
Thursday, August 1, 2024
‘বন্দুকের গুলি রাজুকে বাসায় ফিরতে দেয়নি’ by বিল্লাল হোসেন রবিন
বুধবার দুপুরে কথা হয় নিহত রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, বিকাল সাড়ে তিনটা কি পৌনে ৪টায় দুপুরের খাবার খেতে বাসায় আসে রাজু। কয়েকদিন ধরেই চিটাগাং রোডের অবস্থা ভালো না। খাবার খাওয়ার সময়ই আমাদের বাসার জানালা দিয়ে দেখা যায় একটি মার্কেটে আগুন, হইচই বিকট শব্দ। তখন রাজু খাবার শেষ করে ছাদে যায় দেখতে।
আমরা ভাড়াটিয়ারাও কয়েকবার গিয়েছি ছাদে দেখতে। পরে রাজু ছাদ থেকে দেখেন নিচে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে মার্কেটের আগুন দেখতেছে। তখন সেও আগুন দেখতে যায়। কিছুক্ষণ পরেই এলোপাতাড়ি গুলি শুরু হয়। অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে। রাজু আহত একজনকে ধরতে গেছে। এমন সময় তার মাথায় গুলি লাগে। ধরাধরি করে তাকে প্রথমে বাসার সামনে নিয়ে আসে। এলাকার পরিস্থিতি তখন ভয়াবহ। কোনোমতে মহল্লার ভেতর দিয়ে একটি অটোরিকশাযোগে সাইনবোর্ড এলাকায় প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে সেখান থেকে এম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিনই রাত ১১টায় তার মাথায় অস্ত্রোপচার করার পর বেডে দেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত ৩টায় আইসিইউতে নেয়া হয়। পরের দিন ২১শে জুলাই রাত দেড়টায় মারা যায় রাজু।
আকলিমা জানান, গুলি খাওয়ার ৫ মিনিট আগে মোবাইলে রাজু সঙ্গে আমার কথা হয়। আমি বলি তুমি কোথায়। বলে বাড়ির সামনে। সবাই মার্কেটের আগুন দেখতেছে। আমিও সেখানে আছি। তুমি চিন্তা করো না, চলে আসতেছি। এরপরই আমি খবর পাই রাজুর মাথায় গুলি লেগেছে। আমাকে সামনে যেতে দেয় নাই। আমি কান্নাকাটি করলে যদি তার ক্ষতি হয়। আমার তখন হিতাহিত জ্ঞান ছিল না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকলিমা বলেন, আমার স্বামী অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিল। পাইনাদী নতুন মহল্লায় এবং গ্রামের বাড়িতে দুইটা নামাজে জানাজা হয়েছে। অনেক মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছে। রাজু অনেক পরিশ্রম করতেন। ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী ছিলেন। সব সময় কাজেকর্মে ব্যস্ত থাকতেন। পরিশ্রমকে অনেক প্রাধান্য দিতেন। বলতেন পরিশ্রম না করলে দুনিয়াতে কোনো কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। গ্রামে তার বাড়ি আর আমাদের বাড়ি পাশিপাশি ছিল। আর ভালো মানুষ দেখেই আমি ওনাকে বিয়ে করেছি। আমাদের বিয়ের ১৪ বছর চলছে। নিজের আপন মানুষ মরে গেলে জীবনে যে অন্ধকার নেমে আসে তা আমি এখন বুঝতেছি। চিন্তা করে কোনো কুলকিনারা পাচ্ছি না। কী করবো, কীভাবে দিন চলবে এই তিন ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে। মাথায় কিছু কাজ করে না। এভাবে মানুষটাকে গুলি খেয়ে মরতে হবে কোনোভাবেই মানতে পারছি না। তিন সন্তানকে নিয়ে আমি এখন কী করবো। বুঝতে পারছি না। ভাড়াবাসা তো ছাড়তে হবে। মাসে সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও সংসার খরচ কোথা থেকে দিবো আমি।
নিহত রাজুর বড় মেয়ে সৈয়দা আয়শা সিদ্দিকা (১৩), মেঝ ছেলে সৈয়দ রাইয়ান আবদুল্লাহ (১১) ও ছোট ছেলে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (৫) পাইনাদী নতুন মহল্লা ও হিরাঝিল এলাকায় মাদ্রাসায় পড়ছে। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল রাজু। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জের ১নং কাঞ্চনপুর এলাকার সৈয়দ আব্দুল করিমের ছেলে সে। পাইনাদী নতুন মহল্লায় জনৈক সোরওয়ার্দীর বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করছেন। গত ২২ বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় থাকেন। মোটর মেকানিকের পাশপাশি পুরাতন গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন। ভালোই চলছিল তার সংসার।
আকলিমা আক্তার আরও জানান, রাজু চলে যাওয়ায় এখন আমার পরিবার ও তার ভাইদের পরিবারও চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। গ্রামে তার ভাইদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। রাজু তাদেরও মাঝে মধ্যে আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন। আমাদের দুই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রাজু। তার মৃত্যুতে সবাই শোকাহত। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তার ভাইয়েরা।
আকলিমা বলেন, আমি রামগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক এবং চাঁদপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। আমার স্বামী আমাকে পড়িয়েছে। আমি চাকরি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে রাজি ছিল না। সে বলে আমি তোমার স্বামী। আমি থাকতে তুমি কেন চাকরি করবা। আমি কষ্ট করে হলেও তোমাদের খাওয়াবো। হেলথে আমার চাকরি হয়েছিল তখনো উনি করতে দেয় নাই। এখন আমি যদি কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাই, সুযোগ পাই, আমাকে একটা চাকরি দিবে, তাহলে আমি চাকরি করে আমার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে জীবনটা কাটাতে পারবো। হয়তো বাবা হিসেবে রাজু ছেলে-মেয়েকে যেভাবে রাখছে আমি হয়তো মা হিসেবে সেভাবে পারবো না। তবে দু-মুঠো ভাত তাদের মুখে দিতে পারবো। আমি শুধু আমার তিন সন্তানকে নিয়ে মান সম্মানের সঙ্গে বাকি জীবনটা দুইটা ডাল-ভাত খেয়ে কাটিয়ে দিতে চাই। ওদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
Saturday, October 26, 2019
ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না কেন? :-আনিসুজ্জামানের প্রশ্ন

গতকাল রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর ২৪ তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে ‘জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা’ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।
ড. আনিসুজ্জামান বলেন ,ত্বকী হত্যার পর আমরা প্রতিবছর ১ থেকে ২ বার সভা সমিতির আয়োজন করে বিচার দাবি করেছি। এত দিনেও দাবি পূরণ হয়নি, এটা গভীর আক্ষেপের কথা। ত্বকীর মত প্রতিভাবান ছেলেকে নিষ্ঠুরভাবে নিহত হতে হলো, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না। তবু আমরা হাল ছেড়ে দেব না।
আমরা ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি সবসময় করবো। আশা করি একদিন না একদিন ত্বকী হত্যার বিচার হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না একমাত্র একটি গোষ্ঠীর জন্য। যে দেশে নুসরাত হত্যার বিচার সাত মাসের মধ্যে হতে পারে সেই দেশে ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না কেনো? নারায়গঞ্জে সেভেন মার্ডার থেকে শুরু করে সব কিছুই হয় ওই গোষ্ঠীর মাধ্যমে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবই সবার জানা তারপরও কিছু হচ্ছে না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে ৩৫ বছর পর। অথচ এই বিচার বন্ধ করতে আইন করা হয়েছিলো। এতো বছর পর কিন্তু বিচার হয়েছে। আমরাও আশা রাখি একদিন না একদিন ত্বকী হত্যার বিচার হবে নারায়গঞ্জের মাটিতে। ত্বকী হত্যায় পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী মর্মাহত। তাকে হত্যার উদ্দেশ্য নারায়ণগঞ্জকে স্তব্ধ করা, পরিবার ও নারায়ণগঞ্জবাসীকে থামিয়ে দেয়া। ছয় বছর ধরে বলছি, বিচার চাচ্ছি। কিন্তু বিচার হচ্ছে না। বিচার হবে না প্রায় ৯৯ ভাগ মানুষেরই ধারণা। নারায়ণগঞ্জবাসীও সেটাই মনে করে।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না কেনো এটা সবারই জানা। কারো হস্তক্ষেপে এই বিচারটি হচ্ছে না। এটা খুব দুঃখজনক। যে ব্যাক্তিটির হস্তক্ষেপে এ্ বিচারটি হচ্ছে না। তিনি দেখলাম ওই দিন আবরার হত্যারকারীদের জন্য আফসোস করছেন। তাদের পরিবারের জন্য সমাবেদনা জানাচ্ছেন। তাহলে এই লোকটির বিবেকবোধ কেমন হবে সেটা অনুমান করা যায়। ত্বকী যদি বড় হতো, ধরা যাক সে বুয়েটে পড়তে আসতো, সে যদি একটা রাষ্ট্রের নীতি সম্পর্কে মন্তব্য করতো, তাহলেও তাকে নিহত হতে হতো, যেমনটা বুয়েটের আবরারের সঙ্গে হয়েছে। ত্বকীকে আমরা প্রতীকী হিসেবে দেখতে পাই। দেশের কৈশোরের সম্ভাবনা ও তাদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী হিসেবে ত্বকী হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে চলে আসে। তিনি আরও বলেন, যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা চলছি সেখানে কৈশোরের সম্ভাবনা ও নিরাপত্তা খুব সংকুচিত ও সংকটের মধ্যে আছে। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা বদলাতে একটি কিশোর আন্দোলন দরকার।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, একটি ঘটনার যদি বিচার না হয় তাহলে হাজারো ঘটনার জন্ম হয়। দেশে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠছে। এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সামনের দিকে আরো অন্ধকার দেখবে ভবিষৎ। শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক হায়াৎ মাহমুদ বলেন, ত্বকীকে জীবন দিতে হলো তার বাবার জন্য। একটি গোষ্ঠী তার বাবা’কে সারাজীবনের জন্য শেষ করে দিতেই তাকে হত্যা করেছে। কি ভয়ংকর ব্যাপার। অথচ তার বিচার হচ্ছে না এতো বছর পরও। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। এ প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে চিত্রাঙ্কনে ৭৫০ এবং রচনায় ৩০০ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে। চিত্রাঙ্কন ও রচনার প্রতিটি বিষয়ে তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটির প্রথম স্থান অধিকারীদের ‘ত্বকী পদক’ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের বিশেষ ক্রেস্ট, বই ও সনদ দেয়া হয়েছে। আর সেরা ১০ প্রতিযোগীকে ক্রেস্ট, বই ও সনদ দেয়া হয়েছে। উভয় বিষয়ের প্রতিটি বিভাগের সেরা ১০ জনের ছবি ও লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সুশোভিত স্মারক ‘ত্বকী’। অনুষ্ঠানের শুরুতে ত্বকীকে নিয়ে ‘মানুষ হয়ে মরবো’ নামে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
Friday, September 27, 2019
মাত্র ৭ দিনেই সব লণ্ডভণ্ড

যদিও সোমবার অভিযানের পরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তালা ঝুলিয়ে রেখেছে ওই বাড়িতে। অভিযানের সময়ে ওই বাড়িতে শক্তিশালী চারটি বোমা নিষ্ক্রিয় করে বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দাবি এ বাড়িটি নব্য জেএমবির ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গত এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীতে পুলিশের ওপর যেসব হামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটির সঙ্গে এ ল্যাবের যেমন সম্পর্ক আছে তেমনি গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ উদ্দিন রুমি ও মিশুক হোসেন মিজানের সম্পৃক্ততা আছে। কারণ হামলায় যেসব বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে তার প্রত্যেকটির সঙ্গে সোমবার উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মিল রয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে রোববার রাতে মাশুক খান মিজানকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যমতেই সোমবার ভোরে ফতুল্লার শেয়াচর ব্যাংক কলোনির বাড়ি থেকে ফরিদ উদ্দিন রুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক করা হয় তার স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকেও। পরে অভিযান চলে ফতুল্লার তক্কার মাঠে তাদের পরিত্যক্ত বাড়িতে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, মিজান ও রুমি নব্য জেএমবির সদস্য। গুলিস্তানে পুলিশকে টার্গেট করে আইইডি হামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ উদ্দিন রুমি আরেক ভাই জামাল উদ্দিন রফিককে আটকের কথা এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্বীকার না করলেও পরিবারের দাবি তাকেও নিয়ে গেছে।
জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার দুই ছেলে ফরিদ উদ্দিন রুমি ও জামাল উদ্দিন রফিক এবং বড় ছেলের বউ জান্নাতুল ফোয়ারা অনু। রোববার রাত অনুমান ১টায় এ তিনজনকে আমার বাসা থেকে নিয়ে গেছে। তখন আমরা এখানে ছিলাম না। আমি ও আমার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। প্রতিবেশীরা ফোনে রোববার রাত ২টার দিকে আমাকে জানিয়েছে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীরা বলেছে আপনার বাসায় তল্লাশি করছে ও ভাঙচুর করছে। তবে ফতুল্লা থানায় তাদের নেয়া হয়নি ঢাকা থেকে পুলিশ এসে নিয়েছে। ফোনের এই খবরে আমি রীতিমতো আঁতকে উঠি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল আমার বাড়িতে কেন অভিযান হবে। আমি তো এমন কিছু করিনি যে আমার বাড়িতে পুলিশ আসবে। এলাকার সব মানুষ আমাদের পরিবারের সবাইকে চিনে-জানে। কেউ বলতে পারবে না আমার ছেলেমেয়ের কোনো দোষ-ত্রুটি দেখেছে। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি। ভদ্রতা, নম্রতা পরিবার থেকেই শিখিয়েছি। এতো মেধাবী আর শান্ত আমার দুই ছেলে। তাদের সম্পর্কে এখন আমি এসব কি শুনছি। এটা বিশ্বাস করতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। কোথাও যেন একটা ভুল হচ্ছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার সন্তানরা এমন কাজ করতে পারে না। এলাকায় মাথা তুলে তারা কারো সামনে কথা বলেনি।
তিনি জানান, ১৯৮১ সালে জায়গা কিনে ১৯৮৫ সালে বাড়ি করি। যে বাড়ি থেকে ধরে নিয়েছে সেটাই আগে কিনে বাড়ি করি। পরে যে বাড়িতে অভিযান হয়েছে সেটা কিনেছি। ভাড়া দেয়ার জন্য টিনশেডের রুম করে দেই। সেখানে কেউ থাকে না। আমার ছোট ছেলে রফিক সেখানে থাকে মাঝে মাঝে ও দেখাশোনা করে। বাড়িতে যেহেতু লোকজন নেই কিন্তু সেখানে পানির পাম্প, রান্নার চুলাসহ আসবাবপত্র আছে। সেজন্যই মাঝে মাঝে সেখানে থাকে। কোরবানির দুটা ছাগল কেনা হলে ওই ছাগলগুলোর ঘাস খাওয়ানোর জন্য ওই বাড়িতে রাখা হয়। সে সময় কয়েকদিন ওখানে ছিল। এছাড়াও বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসলে জায়গা হতো না তখন সে ওখানে থাকতো।
জয়নাল আবেদীন বলেন, ভাড়াটিয়া থাকার মতো পরিবেশ নেই। বৃষ্টি হলে চালা দিয়ে পানি পড়ে আর পানি জমে থাকে যার জন্য ভাড়াটিয়ারা চলে যায়। সবাই যাওয়ার পরও একজন ভাড়াটিয়া ছিল। এছাড়াও ভবন নির্মাণের জন্য চিন্তাভাবনা ছিল সেজন্য এখানে মাটি পরীক্ষা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জয়নাল আবেদীন বলেন, ১৪ই সেপ্টেম্বর আমি সেখানে গিয়ে ঘাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের জন্য তার রুম খুলি। সেখানে একটি কাস্তি, নিড়ানি ছিল সেটা দিয়ে ঘাস পরিষ্কার করি লাউ গাছের চারা লাগানোর জন্য। এছাড়াও বাড়ির সামনের ঘাসগুলোও পরিষ্কার করি। তারপর দিন ১৫ই সেপ্টেম্বর আমি গ্রামের বাড়ি চলে যাই। কিন্তু তার রুমে এসব কোনো কিছুই দেখিনি। রেফ্রিজেরেটরের কথা শুনেছি, কিন্তু এখানে ফ্রিজ আসার প্রশ্নই আসে না। এগুলো কিভাবে কি হয়েছে আমি বলতে পারছি না। আমার জানা মতে ১৪ই সেপ্টেম্বর আমি রুম খুলেছি কিন্তু আমার নজরে এসব কিছুই পড়েনি। এখানে ৬টা রুম। যার মধ্যে উত্তর দক্ষিণে দুটা রুম আর পূর্ব-পশ্চিমে ৪টি রুম। পূর্ব পশ্চিমের ৪টি রুমের প্রথমটিতে আমার দেখা একটা চকি, টেবিল, চেয়ার, বিছানা ও জামা কাপড় ছিল।
তিনি আরো বলেন, যখন দেখলাম বাড়িটি সংস্কার করা ছাড়া এখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই তখন আমিই ভাড়াটিয়াদের বলি যে চলে যান শুকনো মৌসুম আসলে আমি সংস্কার করবো। তখন আপনারা এসে আবার থাকতে পারবেন। তারপর ৬ মাসের সময় নিয়ে তারা ছেড়ে দেয়। এছাড়াও ভবন নির্মাণের জন্য চিন্তাভাবনা ছিল সেজন্য এখানে মাটি পরীক্ষা করা হয়। ছেলেদের প্রসঙ্গে জয়নাল আবেদীন বলেন, তাদের মধ্যে হঠাৎ করে কোনো পরিবর্তন দেখিনি। আমার মনেও পড়ে না। তারা স্কুল, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে এমন কোনো কিছু দেখিনি। এছাড়া সব সময় নামাজ আগে থেকেই পড়ে। তাদের আমি আগেই সব সময় বলেছি, সন্তান হয় নেয়ামত কিংবা কেয়ামত। ছেলে যদি ভালো হয় তাহলে বাবা মায়ের জন্য নেয়ামত আর যদি খারাপ হয় তাহলে কেয়ামত। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী আছে তারা কেউ বলতে পারবে না, আমার ছেলেরা খারাপ, মারামারি, কাটাকাটি, ঝগড়া করেছে। মানুষ তো র্নূনতম নালিশ দেয় সেটাও কখনো আসেনি।
জয়নাল আবেদীন বলেন, তার বড় ছেলে রুমি আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক। রুমি ব্যাচের প্রথম ছিল আর সেই হিসেবে সেখানেই চাকরি করছে। ছোট ছেলে রফিক কুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য আবেদন করছে। ছেলেরা এসএসসি পাস করেছে ফতুল্লা পাইলট স্কুল থেকে আর এইচএসসি পাস করেছে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে।
তিনি আরো জানান, প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আমাকে ফোন করা হয়। তারা আমার তথ্য নেয়। তাদের আমি বলেছি, সুষ্ঠু তদন্ত করুন। তাদের অন্যায় ভাবে যেন না ফাঁসানো হয়। এখন যে ঘটনা ঘটেছে সেটা সাজানো নাকি কেউ শত্রুতার থেকে করেছে এটা আমার জানা নেই।
দুই ভাইকে আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা: এদিকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারসহ দুইজন আটকের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।
মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম জয়নাল আবেদিনের বড় ছেলে শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন রুমি ও ছোট ছেলে জামাল উদ্দিন রফিক (পলাতক)সহ ৬ জন ও অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ফরিদ উদ্দিন রুমির স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন জানান, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজমের দায়ের করা ওই মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ উদ্দিন রুমি ও মিশুক খান মিজানকে চলতি বছরের ২৯শে এগ্রিল গুলিস্তানে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, রোববার রাত ২টা থেকে সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ফতুল্লা থানার তক্কার মাঠ এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকসহ নব্য জেএমবি সদস্য ফরিদ উদ্দিন রুমি ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকে আটক করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এর আগের রাতে ঢাকা থেকে মিজানকে আটক করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্য মতেই ফতুল্লার ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী ৪টি শক্তিশালী তাজা বোমা ঘটনাস্থলেই বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করে।
Friday, August 9, 2019
শিশুদের স্কুলমুখী করেন তিনি by গোলাম রাব্বানী
চার বছর ধরে চাষাঢ়া রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকার শিশুদের বিনা মূল্যে পড়াশোনা করাচ্ছেন চা-দোকানি শুভ চন্দ্র দাস। শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে দিচ্ছেন বই, খাতা, কলম, ব্যাগসহ পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণ। এ পর্যন্ত শতাধিক ছেলেমেয়ে পড়তে-লিখতে শিখেছে তাঁর কাছে। অক্ষরজ্ঞান দিয়ে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থীকে তিনি ভর্তি করিয়েছেন আশপাশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখনো তাদের নিয়মিত সরবরাহ করছেন পড়াশোনার উপকরণ।
নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভ চন্দ্র পড়াশোনা শেষ করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় গার্মেন্টসে শ্রমিকের চাকরি নেন। কিছুদিনের মধ্যেই মায়ের মৃত্যু হয়। নানান কারণে আর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা হয়নি। গার্মেন্টসে চাকরির পাশাপাশি পরিচিত এক স্কুলশিক্ষকের কাছে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই পড়েছেন। সেই শিক্ষকের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনাও শেষ হয়ে যায় তাঁর।
২৫ জুন বিকেলে চাষাঢ়া স্টেশনে পৌঁছাতেই দূর থেকে একটি জাতীয় পতাকা চোখে পড়ে, এটি ছোট্ট টংদোকানের সঙ্গে বাঁশে বাঁধা। এগিয়ে যেতেই কানে আসে ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি, আমার সোনার বাংলা’। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বুকে হাত রেখে একসঙ্গে জাতীয় সংগীত গাইছে। এরপর শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পড়ালেখা। খোলা আকাশের নিচে ছেঁড়া চটে বই-খাতা নিয়ে সামনের সারিতে বসেছে শিশুরা। পেছনে একসঙ্গে বসেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শুভর পুরোনো শিক্ষার্থীরা। তাদের সামনেই সবুজ টংদোকান। দোকানের এক পাশে লেখা, ‘শ্রী শুভ চন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা খরচে লেখাপড়া শেখানো হয়।’ পড়ালেখা শেষে কথা হয় শুভর সঙ্গে। তিনি জানান পেছনের গল্প।
শুভ চন্দ্র বলেন, ‘স্টেশনে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। খেয়াল করলাম, এখানকার শিশুরা সারা দিন ঝগড়া আর খেলাধুলা করে সময় কাটায়। বাবা-মায়েরা শিশুদের কাজ করতে পাঠায়, কিন্তু স্কুলে পাঠায় না। এসব শিশুর অভিভাবকেরা নিম্ন আয়ের। শিশুদের বাবারা রিকশা, ভ্যান চালায়; মায়েরা ঝিয়ের কাজ করে। অর্থ আর সচেতনতার অভাবে সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ নেই। ওদের দেখে আমার মনে দাগ কাটে। তখন থেকেই শিশুদের সঙ্গে মিশতে শুরু করি। ওদের বাবা-মাকে স্বপ্ন দেখাই। প্রায় পাঁচ বছর শিক্ষার্থী সংগ্রহ করার পর ২০১৬ সালের ১১ মার্চ তাদের পড়ানো শুরু করি। একসময় শিক্ষার্থী পাইনি। এখন বন্দর, পাগলাসহ দূর-দূরান্ত থেকে বাচ্চারা আসে।’
শুভ জানান, ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে তাঁর শিক্ষার্থী ৭৭ জন। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পড়াশোনা। শুভর স্বপ্ন, তাঁর এই কার্যক্রমের গণ্ডি বিস্তৃত হবে। এটি বিদ্যালয়ে রূপ নেবে, যেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকবে। বিদ্যালয়ের জায়গা হবে, শিশুদের মাথার ওপর ছাদ হবে। ওরা যেন রোদ-বৃষ্টিতে কষ্ট না পায়।
শুভর কাছে পড়ালেখা করে ছাদিয়া জাহান। সে স্থানীয় আনন্দ স্লাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছাদিয়া জানায়, সে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। পাশের হামিদার ইচ্ছা শিক্ষক হওয়ার। ছাদিয়ার মা আসমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওরে পড়ানোর সামর্থ্য ছিল আমাগো। কিন্তু ইচ্ছা ছিল না। উনি (শুভ) ইচ্ছাটা তৈরি কইরা দিছেন। মাইয়ারে পড়াশোনা করায়া পাশের স্কুলে ভর্তি করাইছেন। খাতা-কলম, সবই উনি ব্যবস্থা করেন।’
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ হোসাইন ও মাশরুল আফতাব। নিয়মিত আড্ডা দেন শুভর চায়ের দোকানে। আসিফ বলেন, ‘শুভ শুধু বাচ্চাদের শেখান না, আমাদের সমাজের করণীয় কী, সেটাও দেখিয়ে দেন। শুভ আমাদের সমাজেরও শিক্ষক।’
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘যে কাজটা রাষ্ট্রের করার কথা ছিল, সেটা করছেন শুভ। কোনো কিছুই যে স্বপ্নপূরণে বাধা হতে পারে না, তা শুভ আমাদের শেখান। শুভ সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের মধ্যে স্বপ্নের দীপ জ্বেলে দেন।’
![]() |
| শিশুদের লেখা শেখাচ্ছেন শুভ চন্দ্র দাস। গত মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায়। ছবি: দিনার মাহমুদ |
Saturday, July 13, 2019
নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্পাঞ্চল: রাস্তা ভাঙা, বিদেশী ক্রেতারা যান হেলিকপ্টারে

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটির প্রতি অযতœ অবহেলার যেন শেষ নেই । শিল্প উদ্যোক্তাদের আশাবাদ, শিল্প এ খাতটির প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিলে শুধু পঞ্চবটি বিসিক থেকে বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন সম্ভব হবে।
সরেজমনি গিয়ে দেখা যায়, নীট সম্রাজ্যে নেতৃত্ব দেয়া নারায়ণঞ্জের ফতুল্লা বিসিকি শিল্প নগরী যোগাযোগ ব্যবস্থায় রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। যানবাহন চলাচল পণ্য বহনের ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ-মোক্তারপুর মুন্সীগঞ্জ মূল সড়কটি বিসিক এলাকায় মাত্র ১৮ ফিট প্রশস্থ। উচু নীচু ভগ্ন রাস্তা যেন ভয়ংকর দূর্ঘটনার ফাঁদ। প্রায় সময় পণ্যবাহি যানের স্প্রিং ভেংগে বিকল হয়ে পড়ে থাকা রাস্তায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পুরো বিসিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানের অলিগলির যত্রতত্র পড়ে আছে বর্জ্য ময়লা। নেই কোন নির্দিষ্ট ডাস্টবিন। বৃষ্টির দিন কাঁদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলেবালিতে নোংরা এক পরিবেশ।
উৎপাদন ক্ষেত্রে অপরিহার্য চাহিদা গ্যাসে রয়েছে তীব্র সংকট। গ্যাসে চাহিদামত প্রেসার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। ডাইংগুলোতে ওয়াসা চাহিদার ১৫ ভাগ পানিও সরবরাহ করতে পারলেও নিচ্ছে পানির বিল। নিচ্ছে ডিপ বাসানোর টেক্স।
অন্যদিকে রয়েছে প্রভাবশালীদের ঝুট ব্যবসার অজুহাতে জিম্মি করে শিল্পে চাঁদাবাজি। বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ঝুট না দিলেই নির্দিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানে ধেয়ে আসে শ্রমিক অসন্তোষ। বেশ কয়েক শ্রমিক নেতা নেপথ্যে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করেন এই সেক্টর। তাদের কথামত কাজ না করলেই শুরু হয় কৃত্রিম শ্রমিক অসন্তোষ।
নীট শিল্পের উত্থানের ইতিহাসে জানা যায়, ৮০ দশকে দেশের গার্মেন্ট শিল্পের অভিষেক হয়ে নব্বইয়ের দশকে এর ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) পরিসখ্যানে বর্তমানে রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পের সংখ্যা দেড় হাজার। এর ৬০ ভাগই নারায়ণগঞ্জে, বাকিগুলো গাজীপুর ও চট্টগ্রামে অবস্থিত। এর বাইরেও কিছু নিটওয়্যার কারখানা আছে, যারা বিজেএমইএর সদস্যভুক্ত।
এ বিষয়ে কথা হয় বিকেএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি আসলাম সানির সাথে। তিনি জানান, শতভাগ রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার পণ্য তৈরীতে যেসব একসেসোরিজ অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার হয় এর ৮০ ভাগ উৎপাদন হয় দেশীয় সামগ্রী। বাকিটা আমদানিকৃত। আর ওভেনে (শার্ট-প্যান্ট) ৬৫-৭০ ভাগই আমদানিকৃত। কিন্তু নীট পণ্য সহায়ক পণ্য আমদানিতে যেমন ডাইস কেমিক্যাল ইত্যাদি আমদানিতে কাস্টমস ও ইনসেনটিভ অডিট ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে পদে পদে। এতে ব্যবসায়িরা নানা হয়রারানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আক্ষেপ করে জানান, পঞ্চবটি বিসিকটি থেকে বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানী করছে নীট শিল্প। কিন্তু সেই বিসিকের পণ্য বহনের সড়কটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মোক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ সড়কটির বিসিক এলাকায় রাস্তাটি মাত্র ১৮ ফিট প্রশস্ত। এখানে প্রয়োজন অন্তত ৪০ ফিট রাস্তা। এতে যানবাহন যানজট লেগেই থাকে। এর মধ্যে রাস্তা ভাঙ্গা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি চক্র এখানে শত কোটি টাকার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রায় সময় কৃত্রিম শ্রমিক আন্দোলন সৃষ্টি করে থাকে। এরা কম মূল্যে ব্যবসা করতে না পারলেই নির্দিষ্ট কারখানায় শ্রমিক আন্দোলন লাগিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে সিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বর্তমানে এখানে প্রায় ৫০০ নীট কারখানা রয়েছে। যা সারা দেশের মোট নীট কারখানার এক-তৃতীয়াংশ। এর বাইরে ওভেন গার্মেন্টস, নিটিং, পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প আছে এখানে। এখান থেকে বছরে ৪০০ কোটি ডলার পণ্য রপ্তানি হয়। এখানে শ্রম দিচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ থেকে ৪ লাখ শ্রমিক। কিন্তু সমস্যার কথা বললে শুরু হবে তো শেষ হবে না।
তিনি আরো জানান, এত সমস্যা দেখলে বিদেশী ক্রেতারা ফিরে যাবে। এই কারণে বেশ কয়েকটি নীট কারখানা বিদেশী ক্রেতাদের হেলিকপ্টারে বহন করে ছাঁদে থাকা হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। আবার সেখান থেকেই নিয়ে যায়। কারণ এই পরিবেশ দেখলে অর্ডার প্রত্যখাত হতে পারে। কিন্তু এই সামর্থ্য সকলের নেই ।
বিসিকের এই নেতা বলেন, নীট খাতের সকল সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
