Friday, November 21, 2014

‘ব্ল্যাকমানি’ ছবিতে লেমিস

চলচ্চিত্রের গান নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন চলতি প্রজন্মের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী লেমিস। তার কণ্ঠে ‘অগ্নি’ ছবির টাইটেল গানটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর আরও একাধিক চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান প্রশংসিত হয়েছে। ক’দিন আগেই ‘রাত্রীর যাত্রি’ ছবিতে আসিফ আকবরের সঙ্গে একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। গানটির সুর করেছেন রাজেশ। একই চলচ্চিত্রের একটি আইটেম গানও তিনি গেয়েছেন। এ ছাড়া জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘অনেক দামে কেনা’ চলচ্চিত্রে শফিক তুহিনের সুরে আরও একটি আইটেম গানে কণ্ঠ দিয়েছেন লেমিস। তবে নতুন খবর হলো সম্প্রতি সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘ব্ল্যাকমানি’ ছবির একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এ গায়িকা। গত বুধবার রাতে তিনি এ গানটির রেকর্ডে অংশ নেন। গানটি লিখেছেন কবির বকুল। সুর-সংগীতায়োজন করেছেন শওকত আলী ইমন। এর আগে অনেক সুরকারের সঙ্গে কাজ করলেও এবারই প্রথমবারের মতো ইমনের সুর-সংগীতে গান গাইলেন লেমিস। এরই মধ্যে সায়মন, কেয়া, মৌসুমী হামিদকে নিয়ে ‘ব্ল্যাকমানি’ ছবির কাজ শুরু করেছেন সাফি উদ্দিন সাফি। শিগগিরই লেমিসের গাওয়া এ গানটির চিত্রায়ণ হবে বলেও জানা গেছে।
 এ বিষয়ে শওকত আলী ইমন বলেন, লেমিসের কণ্ঠ শুনেছি আমি আগে। বেশ ভাল লেগেছে। যে গানটি করলাম সেটি তার কণ্ঠে শতভাগ মানিয়েছে। আশা করছি সবারই ভাল লাগবে। লেমিস বলেন, ইমন ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তাই আমি অনেক আনন্দিত। গানটির কথা-সুর-সংগীত আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে। শ্রোতাদের ভাল লাগবে আশা করি। এদিকে চলচ্চিত্রের বাইরে স্টেজ শো নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন লেমিস। এরই মধ্যে শুরু করেছেন নিজের একক অ্যালবামের কাজও। শফিক তুহিনের সুরে লেমিসের এ অ্যালবামটি প্রকাশ পাবে নতুন বছরে।

এক বছর পর নিঝুম রুবিনা

এক বছরেরও বেশি সময় পর প্রেক্ষাগৃহের পর্দায় আসছেন সম্ভাবনাময়ী নায়িকা নিঝুম রুবিনা। আজ তার অভিনীত ‘অনেক সাধনার পরে’ মুক্তি পাচ্ছে। আবুল কালাম আজাদ পরিচালিত এ ছবিতে তার নায়ক নবাগত শান্ত। এটিএন বাংলার প্রযোজনা সংস্থা মাল্টিমিডিয়া ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘অনেক সাধনার পরে’র প্রধান নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিঝুম রুবিনা। এটি তার অভিনীত দ্বিতীয় মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। এর আগে তার অভিনীত ‘এর বেশি ভালোবাসা যায় না’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০শে আগস্ট। সাইমন ছিল তার নায়ক। তারপর মুক্তি পাচ্ছে ‘অনেক সাধনার পরে’। নিঝুম জানান, এ সময় তিনি কাজ করেছেন দিলশাদুল হক শিমুল পরিচালিত ‘লিডার’ ছবিতে। ফেরদৌসের বিপরীতে কাজ করেছেন তিনি। আর প্রথম অভিনীত ছবি নূর মোহাম্মদ মনি পরিচালিত ‘কিস্তির জ্বালা’ সম্প্রতি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নিঝুম জানান, তবে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ইউরো অরেঞ্জ, সিটিসেল, গ্রামীণফোন, হোমটেক্স, সিঙ্গার, বোটানিক স্পট আউট ক্রিম, অলিম্পিক চকোব্রেড, রাঙাপরী হারবাল হেয়ার অয়েল উল্লেখযোগ্য। ‘অনেক সাধনার পরে’ ছবিটি নিয়ে নিঝুম রুবিনা বেশ আশাবাদী। বললেন, অনেক যত্ন নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। গান, গল্প সব মিলিয়েই চমৎকার একটি ছবি। আমার বিশ্বাস ছবিটি দর্শকদের ভাল লাগবে। আমি ভাল ভাল ছবিতে কাজ করতে চাই বলে একটু বুঝে-শুনে এগোচ্ছি। অফার প্রচুর আসে। কিন্তু ছবির মতো ছবি করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি। সব ছবি করার ইচ্ছা নেই। তিনি বলেন, একজন উঁচুমাপের অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আমার সিনেমায় আসা। আমার বিশ্বাস এ স্বপ্ন আমার পূরণ হবেই।

কক্সবাজার জেলার সেরা চেয়ারম্যানের সম্মাননা অর্জনে কুতুবদিয়ায় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ সংবর্ধিত by জেসমিন আখতার

উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং ইউপির সফল চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন আল-আজাদকে গন-সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ব্যক্তিত্ব স্মৃতি পরিষদ কর্তৃক কক্সবাজার জেলার সফল চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক হিসেবে শের-ই-বাংলা এ.কে.ফজলুল হক সম্মাননা-২০১৪ লাভ করায় স্বত:স্ফূর্তভাবে এলাকাবাসীর বর্নাঢ্য আয়োজনে তাকে এ বিশাল সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রবীণ আলেমেদ্বীন মাওলানা মোছলেহ্ উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুক্রবার ধূরুং হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্টিত সভায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির হায়দার প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্টানে এলাকার সর্বস্তরে মানুষ সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন। রাজাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ছলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় রাজনীতিক ও সমাজসেবক মুহাম্মদ তাহের, ধূরুং হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোরশেদুল আলম, সতরুদ্দীন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শুক্কুর আলম আজাদ, লেমশীখালী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ, কুতুবদিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, প্রবীণ শিক্ষক আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান, মাষ্টার ফরিদুল আলম, ধূরুং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরওয়ার আলম, স্থানীয় ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মোতাহের হোছাইন, মাষ্টার জয়নুল আবেদীন, মাষ্টার আবুল হোছাইন, ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগণ বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে মাষ্টার নুরুল আবছার কুতুবী, মাদ্রাসা সুপার মাহফুজুর রহমান ও মাষ্টার মোস্তান মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। সংবর্ধিত চেয়ারম্যান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার অর্জিত সম্মাননা এলাকাবাসীর প্রতি উৎসর্গ করেন। শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান পরিবেশিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে ১০ জনের প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুষারঝড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বাফেলো শহরের কাছে ছয় ফুট পর্যন্ত বরফ জমেছে। ওই এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সেখানে এ ধরনের তুষারঝড়ের ঘটনা বিরল।
এএফপির খবরে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ সতর্কতা জারি করে বলেছে, ঝোড়ো বাতাসের কারণে আরও দুই থেকে তিন ফুট তুষার জমতে পারে।
নিউইয়র্কের পশ্চিমাঞ্চলে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেখানে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। তুষারপাতের কারণে কাছের জিনিস দেখতেও কষ্ট হচ্ছে।
তুষারে নিউইয়র্কের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা-রক্ষীদের পাশাপাশি প্রায় পাঁচ হাজার লোক তুষার সরানোর জন্য কাজ করছেন।
সরকারি হিসাব অনুসারে, তুষারঝড়ের আঘাতে মৃতের সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছেছে। গতকাল নিয়াগারা কাউন্টি ও ইরি কাউন্টির বস্টন শহরে তুষারঝড়ে দুজন প্রাণ হারায়। এর আগে চার থেকে পাঁচজন মারা যায়। বাফেলো শহরের স্থানীয় সব খেলা বাতিল করা হয়েছে।
ইরি কাউন্টির ডেপুটি নির্বাহী রিচার্ড টবে বলেন, তুষারঝড় জনজীবনের জন্য খুব বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সবাইকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাড়ি চালানোর ওপরও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী অ্যালেক্স ক্লিয়ারি বলেন, তিনি ও তাঁর স্বামী তিন দিন ধরে তুষারঝড়ের কারণে বাড়িতে বন্দী হয়ে আছেন।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের আবহাওয়াবিদ ডেভ জ্যাভ বলেন, বাফেলো শহরের বেশ কিছু এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ ইঞ্চি পুরু তুষার জমেছে।

ছাত্রলীগ দায়ী নয়, ছাত্রলীগকে জড়ানোর ‘হীন’ চেষ্টা: বদিউজ্জামান

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগ দায়ী নয় বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান। তিনি দাবি করেন, কিছু গণমাধ্যম এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে জড়ানোর ‘হীন’ চেষ্টা করছে। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বদিউজ্জামান এ দাবি করেন।
বদিউজ্জামান বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। বহিরাগতরা এসে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে জড়ানোর ‘হীন’ চেষ্টা করছে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষ নেতা-কর্মীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে সুমন চন্দ্র দাস নামের এক কর্মী প্রাণ হারান।
সংঘর্ষকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বদিউজ্জামান বলেন, ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের ফলে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে ‘বহিরাগত’ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সুমন দাস নামের এক শিক্ষার্থীকে।
বদিউজ্জামান দাবি করেন, ‘নিহত সুমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ছিল না। আপনাদের মতো আমাদেরও প্রশ্ন, গতকাল কেন তিনি (সুমন) ক্যাম্পাসে আসলেন? বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি করলে তা করবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে কেন আসবে? আর তার দায় বরাবরের মতো ছাত্রলীগের ঘাড়ে কেন বর্তাবে?’
ছাত্রলীগের সভাপতি ওই সংঘর্ষের অন্যতম হোতা হিসেবে উত্তম কুমারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, গত বছরের ৮ মে ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক শামসুজ্জামান চৌধুরীকে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় পরদিন উত্তম কুমারকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। অথচ, পুলিশ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বদিউজ্জামান বলেন, ‘উত্তম কুমারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না। ত্যাজ্যপুত্রের অভিভাবক হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছাত্রলীগের নেই। আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। কিন্তু শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছাত্রলীগের নয়। সে দায়িত্ব পুলিশের।’
সংবাদ সম্মেলনে বদিউজ্জামান গতকালের ঘটনাটিকে ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘর্ষ’ও বলতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, বহিরাগতরাই এখানে এসে নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের যে বা যারা জড়িত বলে নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। চেইন অব কমান্ড ঠিক আছে। বেশির ভাগ জায়গায় সংঘর্ষে ছাত্রলীগ জড়িত না। তৃণমূল পর্যায়ে কেন্দ্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’
২০১৩ সালের ৮ মে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পর এখন পর্যন্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেন ক্যাম্পাসে তাঁদের রাজনীতি চালাতে পারছিলেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, ‘বহিরাগতরা ক্যাম্পাস দখল করে রেখেছিল।’
কিছু গণমাধ্যম ছাত্রলীগকে জড়ানোর চেষ্টা করছে—অভিযোগ করে বদিউজ্জামান আগের কিছু ‘ঘটনার’ উদাহরণ টানেন। তিনি ২০ নভেম্বর প্রথম আলো ও সমকালে প্রকাশিত শিক্ষা ভবনে যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেই সংবাদের ভেতরেই লেখা হয়েছে যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির সম্পাদক। তবে কেন ছাত্রলীগের নাম, দয়া করে বলবেন কী?’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির, মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক শামসুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

সেনাপ্রধানের সফরে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান সম্পর্কে বরফ গলবে?

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটিতে চার বছরের মধ্যে এটিই কোনো পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের প্রথম সফর।
ভারত ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তৎপর জঙ্গিদের পাকিস্তান মদদ দিচ্ছে বলে মাত্র কয়েক দিন আগেই এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। আর জেনারেল রাহিল শরিফ ঠিক এমন এক সময় যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত পর্যায় চলছে এখনই।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অদূরে গোপন মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে। তবে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য গত বছর অনেক চেষ্টা চালানো হয়েছে। জেনারেল শরিফ গত বছর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় জঙ্গি ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। জঙ্গি দমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ ২০১৪-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আবার সামরিক সহায়তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা করতে পারে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্কে সম্প্রতি কিছুটা উন্নতি হওয়াতেও পাকিস্তান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন সম্পর্কে এখনো আস্থায় অনেক ঘাটতি। মার্কিন স্বার্থের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তৎপরতা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাদের অনেকে প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান কৌশলগত অংশীদারির কার্যকারিতা নিয়ে কংগ্রেসের অনেক আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছেন। তবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে তাঁর দেশ সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয় না। তবে মার্কিন কংগ্রেসকে সন্তুষ্ট করার জন্য পাকিস্তানকে আরও অনেক কিছু করে দেখাতে হবে।
পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সারতাজ আজিজের এক মন্তব্যে পাক-মার্কিন আস্থাহীনতা আরও প্রকট হতে পারে। তিনি চলতি সপ্তাহে বিবিসিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুকে কেন অকারণে আমাদেরও শত্রু বলে গণ্য করতে হবে?’
জেনারেল শরিফকে সব ধরনের চরমপন্থীদের অবাধ তৎপরতা বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।
রাহিলের আশ্বাস: যুক্তরাষ্ট্র সফররত জেনারেল রাহিল শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সন্ত্রাসবাদের হুমকি দমন করতে বর্তমানে সব ধরনের জঙ্গি নির্বিশেষে ‘জারব-ই-আজব’ নামে এক অভিযান চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত জলিল আব্বাসের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে জেনারেল শরিফ এ কথা বলেন।

১৯টি রামদাসহ ছাত্রলীগের ৫ কর্মী গ্রেপ্তার

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির পাঁচ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১৯টি রামদা ও চারটি গুলিভর্তি একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে।
সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মী সুমন চন্দ্র দাস (২২)। সংঘর্ষকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশ রাবার বুলেটে আহত। সংঘর্ষের জের ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেনের ভাষ্য, সংঘর্ষের পরে গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছাত্রলীগের পাঁচজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সজল দাস (২৪), জয়ন্ত দাস (২৪), এমদাদুল হক (২৭), বেলাল আহমদ (২২) ও নাইম আহমদ (২১) । এর মধ্যে এমদাদুল হককে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অন্যদের হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে বলে জানান ওসি আখতার হোসেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় আজ সকাল পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৪ জন আটকের ব্যাপারে পুলিশের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসকে প্রধান করে ওই কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন নজরুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস।

খান সাম্রাজ্যের সম্রাট কে?

অভিনেতা আমির, সালমান ও শাহরুখ
বলিউডকে বলা হয় খানদের সাম্রাজ্য। সালমান, আমির ও শাহরুখ বলিউডের তিন খান। কিন্তু সাম্রাজ্যের অধিপতি কে? সত্যিকারের খান সম্রাটের খোঁজ করতে গিয়ে অদ্ভুত এক ফলাফলই চোখে পড়ে। কারণ এই তিন খানই তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে আধিপত্য ধরে রেখেছেন। অর্থাৎ তিনজনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সম্রাট।
ভারতের বক্স অফিসের জনপ্রিয়তার হিসাবে ‘সম্রাট’ হিসেবে যে খানকে এগিয়ে রাখা যাবে তিনি সালমান খান। আর যদি ছবির মান বা রেটিং বিবেচনা করা যায় তবে আমির খানই হচ্ছেন আসল সম্রাট। তবে শাহরুখ খানকে কী বলবেন? শাহরুখ খান হচ্ছেন ‘বলিউড বাদশা’। অর্থ-সম্পদ উপার্জনের দিক দিয়ে তিনিই সম্রাট।
বর্তমানে তিন খানের কার সম্পদের পরিমাণ কত? আমির খানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ডলার। সালমান খানের সম্পদ ২০ কোটি আর শাহরুখের ৬০ কোটি ডলারের ওপর। এই তুলনায় শাহরুখ খানই যে প্রভাবশালী সম্রাট, তা সহজেই বোঝা যায়।
কিন্তু বলিউডের এই শীর্ষ তিন অভিনেতার সর্বশেষ সাতটি ছবি বিবেচনায় ধরলে দেখা যাবে বক্স অফিসে জনপ্রিয়তার হিসেবে সালমান খানই সেরা। ২০১০ সালে মুক্তি পেয়েছিল সালমান খানের দাবাং। এরপর ২০১১ সালে মুক্তি পেয়েছে রেডি ও বডিগার্ড ছবি দুটি। ২০১২ সালে মুক্তি পায় এক থা টাইগার ও দাবাং ২। ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছে জয় হো ও কিক। সালমানের সর্বশেষ সাতটি ছবির আয়ের পরিমাণ এক হাজার ১১৭ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ভারতের বক্স অফিসে ছবিগুলো আয় করেছে যথাক্রমে ১৪১, ১৩১, ১৬১, ১৯৯, ১৭৮, ১০৭ ও ২০০ কোটি রুপি।
মশলাদার ছবি হিসেবে সালমানের মোট আয়ের পরিমাণ বেশি হলেও আইএমডিবির রেটিংয়ে শাহরুখ ও আমিরের চেয়ে পিছিয়েই আছেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ সাতটি ছবির গড় রেটিং ১০ এর মধ্যে মাত্র ৫.৪। সেই তুলনায় আমির খানের রেটিং সাতের ওপরে। রেটিংয়ে সালমান অভিনীত দাবাং ও কিক ছবিগুলো সর্বোচ্চ ৬.৩ করে রেটিং পেয়েছে।
আমির খানকে বলা হয় নিখুঁত অভিনেতা বা ‘মি. পারফেকশনিস্ট’। তাঁর সর্বশেষ ছবি ধুম থ্রি মুক্তি পেয়েছে গত বছর। এ ছবিটি শুধু ভারতে আয় করেছে ২৮৪ কোটি রুপি। আমিরের সর্বশেষ সাতটি ছবির আয় হিসাব করলে দেখা যায় তা থেকে মোট ৭৮৯ কোটি রুপি আয় হয়েছে। কিন্তু আইএমডিবির রেটিংয়ের বিবেচনায় তিনিই শীর্ষে। তাঁর এই ছবিগুলোর গড় রেটিং ৭.৪। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া আমিরের রং দে বাসন্তী ছবিটি মাত্র ৪০ কোটি রুপি আয় করলেও রেটিং পেয়েছে ৮.৫। ওই বছরই মুক্তি পাওয়া ফানা ছবিটি ৪৪ কোটি রুপি আয় করে। কিন্তু রেটিং পায় ৭.২। আমিরের ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির নাম গজনি। এটি আয় করে ১১৪ কোটি রুপি। এর রেটিং ৭.৩। ২০০৯ সালে জনপ্রিয় ছবি থ্রি ইডিয়টস মুক্তি পায়। এ ছবিটি ভারতে আয় করে ২০২ কোটি রুপি। এ ছবিটির রেটিংও ৮.৫। ২০১১ সালে মুক্তি পায় ধোবি ঘাট। মাত্র ১৪ কোটি রুপি আয় করলেও এর রেটিং সাতের ওপরে। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া তালাশ ছবিটি ৯১ কোটি রুপি আয় করে। এর রেটিং ৭.৪।

এবার আসা যাক শাহরুখের সাম্রাজ্যে। শাহরুখের সর্বশেষ সাতটি ছবি ভারতে আয় করেছে ৮২৮ কোটি রুপি। ছবিগুলোর গড় রেটিং ৬.৬। সর্বশেষ সাতটি ছবির মধ্যে বেশি আয় করেছে গত বছরে মুক্তি পাওয়া চেন্নাই এক্সপ্রেস ছবিটি। এ ছবিটির আয় ২০৮ কোটি রুপি। শাহরুখের সর্বশেষ সাতটি ছবি হচ্ছে ২০০৯ সালের বিল্লু, ২০১০ সালের মাই নেম ইজ খান, ২০১১ সালের রা ওয়ান ও ডন ২, ২০১২ সালের যব তক হ্যায় জান, ২০১৩ সালের চেন্নাই এক্সপ্রেস এবং এ বছর মুক্তি পাওয়া ছবি হ্যাপি নিউ ইয়ার। এ ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেটিং পেয়েছে মাই নেম ইজ খান ছবিটি। এর রেটিং ৭.৯। কিন্তু ৬০ কোটি ডলার অর্থ সম্পদের বিবেচনায় সালমান ও আমির খানের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন শাহরুখ খান। (ইন্ডিয়া টুডে)

‘জয়ের নিয়োগ নিয়ে বিলম্বে প্রজ্ঞাপন রহস্যজনক’ -রফিকুল ইসলাম মিয়া

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ  জয়ের নিয়োগ নিয়ে সরকারের বিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারিকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। বলেছেন, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. ওয়াজেদ মিঞার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তাকে নিয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না। তবে তার নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন নিয়ে কিছু বলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জয় তার উপদেষ্টা। তখন কোন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। এখন কেন প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রয়োজন হলো? এর মধ্যে কি রহস্য রয়েছে? সরকারকে তার জবাব দিতে হবে। আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।  রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, জয় প্রতি মাসে ২ লাখ ডলার বেতন নেন- নিউ ইয়র্কে মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এ রকম বক্তব্যের পর আমাদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সরকারের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা  চেয়েছিলন। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। আমার প্রশ্ন, আগে কেন প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো না। বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন,  ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আনবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ মিয়াকে চাকরিচ্যুত করার একটি প্রস্তাব এসেছিল। আমি যখন ওই মন্ত্রণালয়ের (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) দায়িত্বে ছিলাম, তখনকার সচিব একটি ফাইল নিয়ে আসেন। তাতে আমি হতভম্ভ হয়ে গেলাম। এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে ওই প্রস্ত—াব আটকে দেই। তিনি বলেন, বন্ধু ওয়াজেদ মিয়া আনবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকলেন। এ হচ্ছেন খালেদা জিয়া, যিনি কখনও প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করেন না। আর যে সচিব ওয়াজেদ মিয়াকে চাকরিচ্যুত করতে ফাইল নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে  লেখেন বলেও মন্তব্য করেন রফিকুল ইসলাম মিয়া।  তিনি বলেন,  আজ শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসায় বশবর্তী হয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এটাই হচ্ছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে তফাৎ।

‘সিলেট গিয়ে ছাত্রলীগকে রাবিশ বলে আসুন’ -অর্থমন্ত্রীকে সুরঞ্জিত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অর্থমন্ত্রীকে সেখানে গিয়ে রাবিশ বলে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় তার নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন যাতে তিনি সেখানে গিয়ে কেঁদে আসেন। এর আগে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ এর ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দিয়েছিল ছাত্রলীগ। এ ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে কেঁদেছিলেন নূরুল ইসলাম নাহিদ।
আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচার মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু একাডেমী একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুরঞ্জিত বলেন, বিগত সময়ে যখন ছাত্রলীগ সিলেট এমসি কলেজ পোড়ানোর ঘটনা ঘটায়, তখন শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দুজনই গিয়েছিলেন। তখন শিক্ষামন্ত্রী সেখানে গিয়ে কেঁদেছিলেন। আমি এবারও শিক্ষামন্ত্রীকে বলব, আর কিছু না পারেন একবার সেখানে গিয়ে কাঁদেন। আর অর্থমন্ত্রীকে বলব সেখানে গিয়ে রাবিশ বলে আসেন।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে রক্ষা করতে হবে। গুটি কয়েক কর্মী ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ম্লান করে দিচ্ছে। সময় চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগকে আবার নীতি ও আদর্শের পথে নিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কষ্ট করে যা কিছু অর্জন করছেন তা কয়েকজনের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বিমান চালানো বাদ নিয়ে এখন সোনা চোরাচালানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এবার রাঘব বোয়াল নয়, ছোট পদের রুই, মৃগেল ধরা পরেছে। এর পিছনে আরও বড় রাগব বোয়াল রয়েছে। এ জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি হওয়া প্রয়োজন। বিমানকর্তারা ধরা পড়ার পর এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ বা বক্তব্য না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক এ মন্ত্রী।

তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে লন্ডনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কর্মময় জীবন নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের টিডিআরবি হলে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ইউকে-বাংলাদেশ রিলেশন ডেভোলাপমেন্ট ইউনিটের (ইউকেবিআরডিইউ) উদ্যোগে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পারভেজ মল্লিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বৃটিশ এমপি মার্ক ফিল্ড। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউকে-বাংলাদেশ রিলেশন ডেভোলাপমেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কামাল উদ্দিন। প্রদর্শনীর বিভিন্ন চিত্রকর্ম ঘুরে ঘুরে দেখে উচ্ছাস প্রকাশ করেন মার্ক ফিল্ড এমপি। তিনি তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, উন্নয়সহযোগী দেশ হিসেবে বৃটেন বাংলাদেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে। আর এজন্য বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। সিটি অব ওয়েস্ট মিনিষ্টারের এমপি মার্ক ফিল্ড তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সুশাসন ও গণতন্ত্রের ভীত শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বিভিন্ন আলোকচিত্রের মাধ্যমে তারেক রহমানের সাথে তৃণমূলের সম্পৃক্ততা দেখে বলেন, নিজস্ব মেধা, বুদ্ধি ও চিন্তা চেতনা নিয়ে তারেক রহমান সাধারণ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে তথা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে পারবেন। তিনি সুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মার্ক ফিল্ড। গ্রেট বৃটেন ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সাবেক সেক্রেটারী মিসেস আইলিন তারেক রহামানের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন চিত্র কর্ম দেখে অভিভূত হন। তিনি তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মাটি ও মানুষের সাথে মিশে থাকা এই নেতা নিশ্চয়ই অনেক বিশেষ গুণাবলীর অধিকারি। আমি তার উত্তোরোত্তর মঙ্গল কামনা করি। স্বাগত বক্তব্যে কামাল উদ্দিন বলেন, এই প্রদর্শনীতে তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন কর্মসুচীর ছবি স্থান পেয়েছে। তিনি তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে  বলেন, আমাদের  নেতা সুস্থ্য দেশে ফিরে যাবেন। তার যোগ্য ও আধুনিক নেতৃত্বে আগামী দিনে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে এটাই তার ৫০তম জন্মদিনে কামনা করি। তিনি সবাইকে এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। ২ ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, সিটিজেন মুভমেন্টের আহ্বায়ক এম এ মালেক, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার এম এ সালাম, তথ্য ও গবেষনা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিশেষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সাবেক ট্রান্সপোর্ট সচিব মি. জেফ, গ্রেট বৃটেন ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সাবেক সেক্রেটারী মিসেস আইলিন, মি. টম, আল জাজিরার সাংবাদিক গেরি, ডেইলী মেট্রো-র পলিটিক্যাল করসপনডেন্ট উইলিয়াম, বিশিষ্ট টিভি ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র পরিচালক জুবায়ের বাবু, আমিনুল ইসলাম আলিম, শরীফুজ্জামান তপন, প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, ড. মুজিবুর রহমান, ব্যারিষ্টার তমিজ উদ্দিন, ব্যারিষ্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, শফিকুল ইসলাম রিবলু, গোলাম জাকারিয়া, আবেদ রাজা, খসরুজ্জামান খসরু, নাসির আহমেদ শাহীন, আবুল হোসেন, সেলিম আহমেদ, পাবেল আহমেদ, মঈন উদ্দিন প্রমুখ।

এবার জয়াসুরিয়া-ক্যালিসদের পাশে সাকিবের নাম

একের পর এক অর্জন দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাচ্ছেন। সাকিব আল হাসানের অর্জনের তালিকায় আজ যুক্ত হলো আরও একটি অধ্যায়। ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে নিজ দেশের মাটিতে দুই হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’-এর ক্লাবে নাম লেখালেন এই অলরাউন্ডার। যে কীর্তি এত দিন ছিল কেবল সনাৎ জয়াসুরিয়া, স্টিভ ওয়াহ ও জ্যাক ক্যালিসের নামের পাশে।
দেশের মাটিতে ১০০ উইকেট সাকিবের আগেই হয়ে গিয়েছিল। ২০০০ রান পূর্ণ হতে আজ দরকার ছিল মাত্র ১৬ রান। ১৯তম ওভারের শেষ বলে এলটন চিগুম্বুরাকে থার্ডম্যানে ঠেলে দিয়ে দুই হাজার রান পূর্ণ হয় সাকিবের। সঙ্গে সঙ্গেই বিরল সেই তালিকায় উঠে যায় সাকিবের নাম। ৭১ ম্যাচ খেলে এই অর্জন পূর্ণ করলেন সাকিব। দিনটাকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে দারুণ ব্যাটিংও করেছেন। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
শ্রীলঙ্কার সাবেক তারকা জয়াসুরিয়া দেশের মাটিতে ১২৮ ম্যাচ খেলে তিন হাজার ৮৮০ রানের পাশাপাশি নিয়েছেন ১১৯ উইকেট। ১৫৩ ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ তিন হাজার ১৬৫ রানের পাশাপাশি নিয়েছেন ১০১ উইকেট। আর দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার ক্যালিস নিজ দেশে ১৪২ ম্যাচ খেলে পাঁচ হাজার ১৭৮ রানের পাশাপাশি নিয়েছেন ১১৬ উইকেট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব।

আবার পারমাণবিক পরীক্ষা চালাব -জাতিসংঘের সুপারিশের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের কমিটি যে সুপারিশ করেছে, তা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। তারা একে ‘অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে জবাবে নতুন আরেকটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর হুমকিও দিয়েছে। খবর এএফপি, এপি ও বিবিসির।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটিতে গত মঙ্গলবার অনুমোদিত প্রস্তাবটিকে মিথ্যাচার আখ্যা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পিয়ংইয়ংকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে অপমানিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র ওই উদ্যোগ নিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার শত্রুদের কাছ থেকে নেওয়া ‘বানোয়াট’ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বড় ধরনের রাজনৈতিক উসকানি’ দিচ্ছে এবং ‘এ ধরনের আগ্রাসনের কারণে আরেকটি নতুন পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো থেকে বিরত থাকা উত্তর কোরিয়ার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’
‘মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং যেকোনো সশস্ত্র হামলা’ প্রতিহত করার লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক সামর্থ্য ‘সীমাহীনভাবে’ বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকেরা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনার সময় উত্তরের এ ধরনের কথাবার্তা মূলত বাগাড়ম্বর মাত্র।
নিভৃতকামী কমিউনিস্ট দেশটির উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়ার জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় এ ধরনের হুমকি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক।’
উত্তর কোরিয়ায় ব্যাপক মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানানোর বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি একটি প্রস্তাব তোলে। এর পক্ষে ১১১ এবং বিপক্ষে ১৯ ভোট পড়ে। ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল ৫৫টি সদস্যরাষ্ট্র। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিম জং উনসহ উত্তর কোরিয়ার নেতাদের আদালতে হাজির করার জন্য এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা। প্রস্তাবটি এখন সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির জন্য আগামী মাসে উত্থাপন করা যাবে। তবে প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদন করবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটিতে ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর চীন পরিচিত উত্তর কোরিয়ার মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে।
এদিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া তার ইয়ংবায়ন পরমাণুকেন্দ্রে প্লুটোনিয়ামের মতো উপাদান জড়ো করতে শুরু করেছে বলে কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) নতুন ছবিতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্র-কোরিয়া ইনস্টিটিউট এ কথা বলেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ৩৮ নর্থ নামের একটি ওয়েবসাইট অনুসরণ করে এ তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করছে। ওই ওয়েবসাইটে জন হপকিন্সসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে তথ্য ও মতামত জানিয়ে থাকেন।
উত্তর কোরিয়া ২০০৬, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এই তিনটি ঘটনায়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তীব্র নিন্দা জানায় এবং পিয়ংইয়ংয়ের ওপর বেশ কিছু অবরোধ আরোপ করে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, হুমকি দিলেও উত্তর কোরিয়া এই মুহূর্তে আরেকটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালাবে না। কারণ, দেশটির ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক নিন্দা ও অবরোধ আরোপ করা হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে তাদের নাজুক অর্থনীতি চাঙা করার প্রয়াস ব্যাহত হবে।

বাংলাদেশের এক লাখ রান!

চাতারার করা ৪০তম ওভারের প্রথম বলটি আলতো করে কাভারে ঠেলে দিয়ে ১ রান নিলেন সাকিব আল হাসান। বিশেষ কোনো উদযাপন হলো না। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিশেষ একটা মুহূর্ত ছিল এই ১টি রান। এই ১ রানে বাংলাদেশের স্কোর গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ১৯৬ রানে। আর তাতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ পূর্ণ করল এক লাখ রান। আজকের ম্যাচের আগে টেস্ট–ওয়ানডে–টি–টোয়েন্টি মিলে বাংলাদেশ তুলেছিল ৯৯ হাজার ৮০৪ রান। অনুমিতই ছিল, সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এক লাখ রানের সেই মাইলফলক স্পর্শ করবে বাংলাদেশ। যদিও শুরুতে ভয়ই পাইয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ভয়ের মেঘ তাড়িয়েছে সাকিব–মুশফিকের পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে রেকর্ড জুটি। ১ লাখ রানের ঘরে পৌঁছাতে ৪১৯টি ম্যাচ খেলতে হলো বাংলাদেশকে। এর মধ্যে টেস্টে বাংলাদেশ করেছে ৩৯ হাজার ৫৩৫ রান। ওয়ানডেতে আজকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৭৩৭ রান। আর টি–টোয়েন্টিতে ৫ হাজার ৫৩২ রান।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ সর্বশেষ সদস্য। স্বাভাবিকভাবে বাকি নয়টি দেশ আগেই এক লাখ রানের এই মাইলফলক ছুঁয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো দুই দলের। ১৬৫২ ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ড রান করেছে ৬ লাখ ৫৯৮২ । অস্ট্রেলিয়া ১৬৮৭ ম্যাচ খেলে রান তুলেছে ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮২৪। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর পরই রান তোলার দিক দিয়ে আছে ভারত ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ লাখ ৮ হাজার ৬২০। আর কোনো দলের চার লাখ রান নেই। তিন লাখ রান আছে পাকিস্তান (৩ লাখ ৭৫ হাজার ৭০৩), নিউজিল্যান্ড (৩ লাখ ২৫ হাজার ৫১৩) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার (৩ লাখ ১৯ হাজার ৬২৯)। শ্রীলঙ্কার রান ২ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬। জিম্বাবুয়ের রান আজকের আগ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭১১। জিম্বাবুয়ে খেলেছে ৫৬০টি ম্যাচ।

সাকিব–মুশফিকে ঘুরে দাঁ​ড়িয়েছে বাংলাদেশ

তামিম ফিরে গেলেন পানিয়াঙ্গারার বলে। ছবি: শামসুল হক
শুরুতেই জোড়া একটা ধাক্কা। ২৬ রানেই ফিরে গেলেন দুই ওপেনার। সেটি সামলে উঠতে না উঠতেই ৭০ রান উঠতেই নেই চার ব্যাটসম্যান! বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করতে লড়ছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। দুজনের অবিচ্ছিন্ন শতরানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে  বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ৩৭ ওভারে বাংল​াদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১৭৭। ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি থেকে ২৩ রান দূরে সাকিব। মুশফিক ব্যাট করছেন ৪১ রানে।
শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। রান উঠতে থাকে ধীর গতিতে। ২৫ ওভার পর্যন্ত ওভার প্রতি রান ছিল চারের নিচে। তবে সাকিব-মুশফিকের দৃঢ়তায় রানের গতি বাড়তে শুরু করে। প্রতিবেদন লেখার সময় ওভার-প্রতি রান ৪.৭৮।
সাজঘরে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যানের তিনজনই নিজের উইকেটটি বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন প্রতিপক্ষের হাতে! তামিমের বলটি অবশ্য বেশ ভালো ছিল। তিনাশে পানিয়াঙ্গারার ভেতরে ঢোকা বল কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন তামিম। জিম্বুাবুয়ের বিপক্ষে তিন টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তামিম ফিরেছিলেন মাত্র ৫ রানে। বোলার ছিলেন পানিয়াঙ্গারা। চট্টগ্রামে প্রথম ওয়ানডেতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি! তামিম ফিরলেন ওই ৫ রানেই। বোলার? সেই পানিয়াঙ্গারা!
এনামুল আউট হলেন আত্মঘাতী এক শট খেলে। টেন্ডাই চাতারার বলটি অমন অদ্ভুত শট কেন খেলতে গেলেন, তা এনামুলই ভালো বলতে পারবেন! চিগুম্বুরার হাতে ধরা পড়ার আগে করলেন ১২ রান। মাহমুদউল্লাহ আউট হলেন আত্মঘাতী শট খেলে। চাতারার বলে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ উঠিয়ে দিলেন মিড অনে দাঁড়ানো তাফাদজাওয়া কামুনগোজির হাতে। আগের দুই ব্যাটসম্যানের মতো মুমিনুলও যোগ দিলেন আত্মহননের মিছিলে! উইকেটে থিতু হয়েও কেন জন নিয়ুম্বুর অফস্টাম্পের বাইরের বল স্কুপ করতে গেলেন এ বাঁহাতি, তার উত্তর কোথায় মিলবে? ফেরার আগে মুমিনুলের সংগ্রহ ৩১ রান। সাকিবের সঙ্গে মুমিনুলের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ৩৯ রান। সেখান থেকে সাকিব–মুশফিক জুটি ঘুরে দাঁড়ানোর পথ না দেখালে ভীষণ বিপদেই পড়ে যেত বাংলাদেশ।

অভিনয় থেকে জোলির অবসর

অভিনয়কে বিদায় জানাচ্ছেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছে তার নির্মিত দ্বিতীয় ছবি ‘আনব্রোকেন’। এ কারণে সম্প্রতি ফ্রান্সে যান তিনি। সেখানেই অভিনয় থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দেন অস্কার জয়ী এ অভিনেত্রী। অভিনয়গুণেই অস্কার পেলেও নির্মাণেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন জোলি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অভিনয়ে ভাল লাগে। কিন্তু নিয়মিত করতে একঘেঁয়ে লাগে। যে কারণে এখন আর অভিনয় করতে ইচ্ছা হয় না। তাই অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। সামনের সময়গুলো নির্মাণেই দিতে চাই। ১৯৯৫ সালে ‘হ্যাকার্স’ ছবির মধ্য দিয়ে হলিউড ছবিতে নাম লেখান অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এরপর একে একে বহু ছবিতে অভিনয় করে দর্শক মাতান তিনি। অবশ্য অভিনয়ের চেয়ে নির্মাণকে বেশি পছন্দ করেন বলেই ৩৮ বছর বয়সে এসে অভিনয়কে বিদায় জানানোর কথা জানালেন তিনি। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তি পাবে তার অভিনীত ছবি ‘ক্লিওপেট্রা’। এ ছবিতে মিশরীয় রানীর ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। পরিচালনায় পেশাদারিত্ব দেখাতে চান তিনি। তাই নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করে নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নিজের পরিচালনায় পরের ছবিটি উপহার দেয়ার অপেক্ষায়ও রয়েছেন জোলি। নিজের অভিনয় ছাড়া স্বামী ব্র্যাড পিটকে প্রধান চরিত্রে রেখেছেন তিনি। নতুন এ ছবিটির নাম ‘বাই দ্য সি’।

ছোট খবর

বোগোটা
সমঝোতা
কলাম্বিয়ার অপহৃত এক জেনারেলের মুক্তি দেয়ার শর্তে ঐক্যমতে পৌঁছেছে বামপন্থী ফার্ক গেরিলা গোষ্ঠী এবং দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার হাভানা থেকে এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিউবা এবং নরওয়ের কর্মকর্তারা। যত দ্রুত সম্ভব অপহৃত জেনারেলসহ চার ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হবে বলে জানান হলেও এ চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এএফপি
ইয়াউন্দে
বোকো হারামের হামলা
নাইজেরিয়ার ইসলামপন্থী জঙ্গি গ্রুপ বোকো হারাম প্রতিবেশী ক্যামেরুনে হামলা জোরদার করছে। তারা সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে নতুন নতুন গ্রাম লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সীমান্ত জোনের এলিট ব্যাটালিয়ানের কমান্ডার লিওপল্ড নাতে এবালে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি বোকো হারাম তাদের খিলাফত প্রতিষ্ঠা কেবল নাইজেরিয়ায় নয় প্রতিবেশী ক্যামেরুনেও করতে চাচ্ছে। এপি
সিউল
১০ বছরের জেল
দক্ষিণ কোরিয়ার সিওল ফেরি অপারেটর কোম্পানির প্রধানকে বৃহস্পতিবার ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ফেরিডুবির ঘটনায় নরহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে এ সাজা দেয়া হল। ওই নৌ দুর্ঘটনায় তিন শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। চংহায়েজিন মেরিন কোম্পানির সিইও কিম হ্যান-সিক ফেরিটির যাত্রী ধারণের সক্ষমতা বাড়াতে অবৈধভাবে সংস্কারের এবং নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছিলেন। এএফপি
ওয়াশিংটন
বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলি
ফ্লোরিডার একটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে এক বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের গুলিতে হামলাকারীও নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার এটা সর্বশেষ ঘটনা। রাজ্যের রাজধানী টালাহ্যাসির ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাঝরাতের পরেই এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পাঠাগারের বাইরে গুলি বর্ষণ শুরু করে। এএফপি

তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চান রাজাপাকসে

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন, তিনি নজিরবিহীনভাবে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আগামী জানুয়ারিতে এ আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজাপাকসের দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সংকল্প ব্যক্ত করে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে তথ্যমন্ত্রী কেহেলিয়া বাম্বুক ওয়েলা জানান, জানুয়ারির প্রথমদিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মনোনয়নপত্র আহ্বান করা হতে পারে এবং ৭ থেকে ৯ জানুয়ারির কোনো একদিন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এএফপি।

পরমাণু বোমার উপাদান তৈরি করছে উত্তর কোরিয়া!

উত্তর কোরিয়া পরমাণু বোমা তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য প্লুটোনিয়াম প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি স্থাপনা চালু করছে বলে উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবির ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউএস-কোরিয়া ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইয়ংবিয়নে উত্তর কোরিয়ার প্রধান পরমাণু স্থাপনার পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট থেকে ধোঁয়া উড়ছে।
প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের আগে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষার জন্য প্ল্যান্ট চালু করলে এ রকম ধোঁয়া দেখা দেয়। খবরে বলা হয়েছে, ওই পরমাণু কেন্দ্রটি ১০ সপ্তাহের বেশি বন্ধ ছিল। তাও উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবিতে দেখা গেছে। প্রচলিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে সময় লাগে তার চেয়ে বেশি সময় এটি বন্ধ ছিল। হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউএস-কোরিয়া ইন্সটিটিউট ধারণা করছে, সীমিত সংখ্যক জ্বালানি দগ্ধ সম্ভাব্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের জন্য সরিয়ে নেয়ার কারণেই এ বাড়তি সময়ের দরকার পড়েছে। এ ছাড়া ব্যবহৃত জ্বালানি দণ্ড কেন্দ্রটিকে ঢোকানোর জন্য যে প্রবেশপথ ব্যবহার করা হয় তার কাছে ট্রাক চলাচলের চিহ্নও উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবিতে ধরা পড়েছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের জন্য ব্যবহৃত প্লুটোনিয়াম ইয়ংবিয়ন প্লান্টে পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এটিই পাঁচ মেগাওয়াট চুল্লিতে বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত প্লুটোনিয়ামের প্রধান উৎস।
পরমাণু পরীক্ষার হুমকি উ. কোরিয়ার মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। একইসঙ্গে এ প্রস্তাব দেশটিকে পরমাণু পরীক্ষা চালানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পিয়ংইয়ং। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রস্তাবকে জালিয়াতি বলে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পিয়ংইয়ংকে অবমাননা করার তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের এ আগ্রাসী আচরণে পিয়ংইয়ংর সামনে নতুন পরমাণু পরীক্ষা চালানো ছাড়া বিকল্প নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) পাঠানোর জন্য মঙ্গলবার গৃহীত এক প্রস্তাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাক-ভারতের রণক্ষেত্র হবে না আফগানিস্তান

ভারত ও পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধ আফগানিস্তান কখনও মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। বুধবার নয়া দিল্লিতে বুদ্ধিজীবীদের এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তান যে কোনো সময় ছায়াযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে-পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ এর এমন সতর্কবাণী উপেক্ষা করে হামিদ কারজাই বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সত্যিই দুঃখজনক।
তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কোনো ধরনের ছায়াযুদ্ধ অবশ্যই আফগানিস্তান মেনে নেবে না। আমাদের দেশকে রণক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। কারজাই বলেন, এ ধরনের ছায়াযুদ্ধ ভারতও মেনে নেবে না। এ সপ্তাহের শুরুতে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মোশাররফ বলেন, ভারত আফগানিস্তানের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তানবিরোধী প্রচারণায় ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আর এমনটি হলে পাকিস্তানও পশতুনের নৃতাত্ত্বিকদের ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে।
পারভেজ মোশাররফের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কারজাই বলেন, তার এ বক্তব্য সত্যিকার অর্থেই দুর্ভাগ্যজনক। ডন।

চীনে হাসপাতালে ছুরি চালিয়ে ৭ জনকে হত্যা

চীনের এক হাসপাতালের নারী কর্মীদের ডরমিটরিতে বৃহস্পতিবার এক স্টাফের ছুরি হামলায় ছয় সেবিকা ও তাদের এক সহকর্মী নিহত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সিনহুয়া জানায়, হামলাকারী পুলিশকে বলেছে যে, তার আগে থেকেই মানসিক সমস্যা ছিল। উত্তরাঞ্চলীয় হেবেই প্রদেশের অবকাশযাপন শহর বিদাইহিতে এ ঘটনা ঘটে। চায়না সেন্টাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানায়, হামলাকারীর নাম লি জিয়াওলং। তার বয়স প্রায় ২৭ বছর। তাকে পুলিশ আটক করেছে।
সিসিটিভির অনলাইন সংস্করণে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোরে মহিলাদের ডরমিটরিতে হামলাটি চালানো হয়। এতে আরও এক মহিলা আহত হয়েছে। বিদাইহির একটি হাসপাতালে মহিলাদের ডরমিটরিতে এ হামলা চালানো হয়। খবরে বলা হয়, মানসিক সমস্যার কারণেই এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার অন্য কোনো উদ্দেশ নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারী অনেক আগে থেকেই মানসিক রোগে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ওই হাসাপাতালেই ভর্তি ছিলেন। এর আগেও চীনে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এটি তারই ধারাবাহিকতা। চলতি বছরের প্রথমদিকে চীনের কুর্মিংয়ের একটি রেলস্টেশনে ছুরি চালিয়ে অন্তত ৩৫ জনকে হত্যা করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে একটি স্কুলে এলাপাতাড়ি ছুরি চালিয়ে তিন শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল। বিবিসি।

ভারতে সম্মান রক্ষায় তরুণীকে হত্যা

ভারতে সম্মান রক্ষার নামে এক তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভিন্ন বর্ণের একটি ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে নিজের মেয়েকেই খুন করেছে বাবা-মা। মেয়েটির নাম ভাবনা যাদব। ২১ বছরের এ তরুণী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভেঙ্কটেশ্বর কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ছিলেন। শনিবার রাতে বাবা জগমোহন যাদব ও মা সাবিত্রী পশ্চিম দিল্লির কারোলাতে নিজের বাড়িতেই ভাবনাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জগমোহন যাদব একজন প্রপার্টি ডিলার। তিনি স্থানীয় কংগ্রেসের একজন সদস্য।
দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সুমন গোয়েল বলেন, বাবা-মা মেয়েটির মৃতদেহ রাজস্থানের আলওয়ারে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেতে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।
আমরা মেয়েটির বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। ২০১২ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী অভিষেক শেঠের (২৪) সঙ্গে পরিচয় হয় ভাবনার। প্রাথমিকভাবে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়। অভিষেক ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটের একজন সহকারী প্রোগ্রামার। ভাবনা রাজস্থানের যাদব সম্প্রদায়ের। অভিষেক পাঞ্জাবি। বাড়ি থেকে মেনে নেবে না জেনেও বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
চলতি মাসের ১২ তারিখ অভিষেক ও ভাবনা দিল্লির মার্গের আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে করেন। এরপর অভিষেক ভাবনাকে পশ্চিম দিল্লির উত্তম নগরে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। অভিষেকের বাবা-মা এ বিয়ে মেনে নেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিষেক জানিয়েছেন, সেদিন রাতেই ভাবনার বাবা-মা তাদের বাড়ি এসে জানান, ঘটা করে অভিষেকের সঙ্গে ভাবনার বিয়ে দিতে চান তারা। মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর অবশ্য তার বাবা-মা কথা রাখেননি। এ বিয়ে তারা মানছেন না এবং তাদের ইচ্ছামতই ভাবনাকে অন্য জায়গায় বিয়ে করতে হবে বলে জানান তারা। ১৪ নভেম্বর ভাবনা অভিষেকের বাড়ি ফিরে আসেন। কিছু প্রতিবেশীকে সঙ্গে করে ভাবনার বাবা-মা ফের অভিষেকের বাড়ি আসেন। প্রতিশ্র“তি দেন এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানের পর রোববার তারা ভাবনাকে অভিষেকের বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে যাবেন।
শনিবার রাতে ভাবনার মামা অভিষেককে ফোন করে খুনের হুমকি দেন। এর মিনিটখানেক পর ভাবনা অভিষেককে ফোন করে মাতাল মামার কথায় গুরুত্ব না দিতে বলেন। রোববার সকাল থেকে বারবার ভাবনা ও তার বাবা-মাকে ফোন করলেও উত্তর পাননি অভিষেক। এরপর ভাবনার এক সম্পর্কের ভাই অভিষেককে ফোন করে জানান, আলওয়ারে ভাবনাকে দাহ করা হয়ে গেছে। এরপরই অভিষেক পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডে ভাবনার মামার ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে। টাইসম অব ইন্ডিয়া।

জাতিসংঘের কালো তালিকায় নতুন সংগঠন

আনসার আল-শরিয়া নামে নতুন একটি দলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। ২০১২ সালে লিবিয়ার রাজধানী বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি মিশনে হামলার দায়ে একটি সশস্ত্র দলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। আল কায়দার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত সংগঠন আনসার আল-শরিয়ার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সংগঠনটির সব সদস্যের ভিসা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বেনগাজিতে হামলার জন্য মূলত দায়ী করা হয় আনসার আল-শরিয়া এবং আনসার আল-শরিয়া দেরনা নামক দুটি সংগঠনকে। আর এই দুটি সংগঠনই লিবিয়ার আল কায়দা, ইসলামিক মেঘরাব এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত।
গত অক্টোবর মাসে আনসার আল-শরিয়া দেরনা ইরাকের ইসলামিক স্টেট বাহিনীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিবৃতি প্রদান করেছিল। এরপর থেকেই মূলত সংগঠন দুটিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে তৎপর হয় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো।

কে এই কথিত ঈশ্বরমানব?

ভক্তদের কাছে পরিচিত ‘সৎগুরু’ নামে। নিজেকে পরিচয় দেন ‘ঈশ্বরমানব’। তিনি ভারতের বিতর্কিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামপাল দাস। ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পুলিশ অনেক নাটকীয়তা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় আশ্রম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ ভক্তের লাশ। কিন্তু কে এ কথিত ঈশ্বরমানব বা ধর্মগুরু রামপাল দাস? ১৯৫১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের হরিয়ানার সোনেপত জেলার ধানানা গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্ম রামপালের। হরিয়ানা সরকারের সেচ বিভাগে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু। চাকরিতে থাকার সময়ই স্বামী রামদেবানন্দ নামে এক সাধুর সংস্পর্শে আসেন। তার প্রভাবেই আধ্যাত্মিকতায় মন দেন। ১৯৯৫ সালে নিজেকে ‘কবীরের অবতার’ বলে প্রচার শুরু করেন। বর্তমানে তিনিশ’ কোটি রুপির মালিক এ ধর্মগুরু। ‘সৎগুরু রামপাল জি মহারাজা’ নামে ১২ একর জায়গা নিয়ে আশ্রম, তার মূল্য ১০০ কোটি রুপির কাছাকাছি। ৬৩ বছর বয়সী রামপালের রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। গুরুত্বপূর্ণ ভক্তদের জন্য রামপালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ রয়েছে। তার ভাষণ দেয়ার জন্য যে লেকচার হল রয়েছে তা এলইডি স্ক্রিনসমৃদ্ধ। ফেসবুকে তার পেজ রয়েছে, ইউটিউবে রয়েছে তার নিজস্ব চ্যানেল। রামপালের অনুসারীর সংখ্যা ২৫ লাখ বলে ধারণা করা হয়। খুনের দায়ে ১৮ মাস জেলও খেটেছেন এ রামপাল।
গত চার বছরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে ৪৩ বার সমন জারি করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। ২০০৬ সালে একটি খুনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা। আদালতের নির্দেশে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত আপাতত তাকে হাজতে থাকতে হচ্ছে। এনডিটিভি, বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রকে পুতিনের হুশিয়ারি

মস্কোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। ইউক্রেন-সংকট নিয়ে দেশটির মধ্যে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে এমন জোর গুঞ্জনের মধ্যে রাশিয়ায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন টেফট নিজের পরিচয় দিতে বুধবার ক্রেমলিনে সাক্ষাৎ করতে গেলে এ হুশিয়ারি দেন পুতিন। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুতিন বলেন, দুদেশের একে অপরের স্বার্থ, সমধিকার ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি সাপেক্ষে আমেরিকার সঙ্গে আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এগিয়ে যেতে রাজি আছি। উত্তর কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ওই সময় উপস্থিত ছিলেন। ইউক্রেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০০৯ থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত কাজ করার পর রাশিয়ায় টেফটকে নিয়োগ দিল ওবামা প্রশাসন।
এর আগে পুতিন অভিযোগ করেন, রাশিয়াকে ক্রীতদাস বানাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই আশা কখনও সফল হবে না। তারা আমাদের শায়েস্তা করতে চায়। তারা তাদের সমস্যা আমাদের জীবনের বিনিময়ে সমাধান করতে চায়। ইতিহাসে কেউ কখনও রাশিয়াকে বসে আনতে পারেনি। আর কখনও কেউ পারবেও না। দুদেশের সম্পর্ক শীতল যুদ্ধের পর্যায়ে চলে গেছে সেটা অনুমান করা গিয়েছিল গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে।
সেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নেতাদের ব্যাপক চাপের মুখে পড়েন পুতিন। এমনকি সম্মেলন শেষ না করে চলে আসেন তিনি। ওবামা ওই সম্মেলনে রাশিয়াকে বর্তমান বিশ্বের ঘাতক ভাইরাস ইবোলা ও সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তুলনা করেন। মার্কিন মিত্র জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে পুরো ইউরোপের শান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বে যেসব সংকট-সংঘাত চলছে তা পশ্চিমা দেশের কেউই দেখতে চায় না- এটা আমি বিশ্বাস করি। তেমনটি বিশ্বে সংঘাত বাড়ুক তা অন্য দেশেরও কেউই চায় না। কিন্তু বিশ্বাস করুন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে এ বাস্তবতাকে মেনে নিতে চায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ লোকদের ধারণাও একই। পুতিনের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মনোনীত নতুন দেশটির রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত। এ সময় দুদেশের আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানান পুতিন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

নির্বাহী আদেশে ৫০ লাখ অভিবাসীর বৈধতা দিচ্ছেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত ৫০ লাখ অভিবাসীর বৈধতার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) টেলিভিশন ভাষণে ওবামার এ ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
ওবামা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশটির জনগণের উদ্দেশে অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় কোনো সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার না করে নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে ঘোষণা দিলেন। ওবামা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও পোস্টে জানান, প্রত্যেকেই সম্মত হয়েছেন যে আমাদের অভিবাসী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, ওয়াশিংটন এ সমস্যাটিকে দীর্ঘদিন ধরেই বাড়তে দিয়েছে। আমি আমার কর্তৃপক্ষ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এ সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জজ আর্নেস্ট জানিয়েছেন, বুধবার রাতে হোয়াইট হাউসের এক নৈশভোজে ১৮ জন ডেমোক্রেট প্রতিনিধির সঙ্গে ইমিগ্রেশন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ৫ মিলিয়ন ( ৫০ লাখ) অভিবাসীর ডিপোর্টেশন বন্ধ এবং তাদের অধিকাংশই ওয়ার্ক পারমিট পেতে যাচ্ছে এই নির্বাহী আদেশে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ এ খবরে আশংকা প্রকাশ করেছে।
তারা বলছে, এতে করে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আবারও বেড়ে যেতে পারে। অনেকে নানা পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিয়ে করেছেন, লিভ টুগেদার করেছেন, সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া এসব লোকজনের সন্তানরা জন্মসূত্রেই এ দেশের নাগরিক। এসব সন্তানের বাবা-মারা প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে বৈধতার সুযোগ পাবেন। অন্যদের সঙ্গে ব্যাপকসংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশী এ দলটিতে রয়েছেন। অভিবাসন সংস্কার নিয়ে ওবামার নির্বাহী আদেশের দিকে উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে এমন লাখো অবৈধ অভিবাসী অবশেষে বৈধতা পাচ্ছেন। অবৈধ অভিবাসনের সময় যারা গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাদের দ্রুত দেশ থেকে বিতাড়ন করা হবে। সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। সীমান্তরক্ষীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
বৈধতার জন্য উৎসাহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে অভিবাসন আবেদনের ফি কমানো হবে। বর্তমানে প্রতি আবেদনের জন্য ৬৮০ ডলার ফি দেয়া হয়। নির্বাহী আদেশে প্রথম ১০ হাজার আবেদনকারীর জন্য ফি অর্ধেক করা হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন রিপাবলিকানদের হাতে।

পর্যাপ্ত অস্ত্র পাচ্ছে না কুর্দিরা

ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো পর্যাপ্ত অস্ত্র দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে কুর্দি পেশমার্গারা। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি এ অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ভূমিকা পালন করছে ইরাকি কুর্দি পেশমেরগা বাহিনী। আইএস নির্মূল করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি ছাড়াও আরও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র জোগান দিচ্ছে। তবে মাসুদ বলেন, আইএস মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলো আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভারি অস্ত্র জোগান দিচ্ছে না। কথিত ইসলামি ‘খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরাক ও সিরিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চল নিজেদের দখলে নিয়েছে আইএস বাহিনী।
ফ্রান্স টোয়েন্টিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বারজানি বলেন, ‘‘আইএসবিরোধী জোটের সদস্যরা আমাদের যে সহায়তা করছে সেজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যে সহায়তা পেয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।’
‘আইএস’কে পরাজিত করতে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য আমাদের এপিসিএস (সশস্ত্র সামরিক যান), হেলিকপ্টার ও কামানের মতো ভারি অস্ত্র প্রয়োজন। আমরা এখনও তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অস্ত্র পাইনি।” ইরাকের কুর্দি বাহিনীকে মেশিনগানসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্র দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফ্রান্স। সেই সঙ্গে ‘সংবেদনশীল’ অস্ত্রের জোগান দেয়ার কথাও বলেছে দেশটি। এছাড়া ফ্রান্সের বিশেষ বাহিনীর প্রায় দুইশ’ সদস্য পেশমেরগা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। চার হাজার কুর্দি যোদ্ধার জন্য অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। যেগুলোর মধ্যে মেশিন গান, গ্রেনেড, অ্যান্টি ট্যাংক সিস্টেম, সাঁজোয়া যান রয়েছে। যুক্তরাজ্য ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, অন্ধকারেও দেখা যায় এমন চশমা, রাডার ও যুদ্ধ পোশাক দেবে বলে জানিয়েছে।
৫০ ফরাসি নাগরিক নিহত : ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভ্যালস বলেছেন, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ৫০ জন ফরাসি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাজধানী প্যারিসের উত্তরে বিয়াউভাইস শহরে একটি নিরাপত্তা বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ভ্যালস সাংবাদিকদের বলেন, এক হাজারেরও বেশি ফরাসি সিরিয়ার যুদ্ধে অংশ নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সিরিয়ায় নিহত ফরাসি নাগরিকের সংখ্যা ৫০-এর কাছাকাছি।
তিনি বলেন, কাজেই আমরা বিপদের গভীরতা বুঝতে পেরেছি এবং বর্বরতার এ চক্রের সঙ্গে দুঃখজনকভাবে সিরিয়ার নাগরিক জড়িয়ে পড়ায় আমরা মোটেও বিস্মিত হয়নি। বরং এ বিষয়টি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের মনোবল আরও দৃঢ় করেছে।
এদিকে ফরাসি সরকার আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীতে নাম লেখানো তার দ্বিতীয় নাগরিকের নাম প্রকাশ করেছে। ভিডিও ছবি দেখে ওই নাম প্রকাশ করা হয়। এ জঙ্গির নাম মাইকেল ডস সান্টোস। বয়স ২২।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্যারিসের পূর্বাঞ্চলের শহরতলিতে থাকতেন তিনি। এর আগে ফরাসি সরকার আইএসে নামে লেখানো তার দেশের প্রথম নাগরিক ম্যাক্সিম হকার্ডের নাম প্রকাশ করে।

রাঙ্গামাটিতে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলীতে আত্মহত্যা করেছে এক প্রেমিক যুগল। বৃহস্পতিবার উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। বাঙ্গালহালিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র অংপ্য থোয়াই মারমা (১৮) ও তার প্রেমিকা জুলিমা মারমা (১৭) প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে জানিয়েছে উভয়ের পারিবারিক সূত্র।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে জুলিমা মারমা বাড়ির সবার অগোচরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। এ খবর শুনে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে অংপ্য থোয়াই মারমা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রেমের বিষয়টি উভয়ের পরিবার মেনে না নেয়ায় তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

যুবলীগ নেতার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নগরীর উত্তর রূপাতলীতে বৃদ্ধাকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন যুবলীগ নেতা বাবুসহ দুই আসামি। এ ঘটনায় আটক অপর আসামি বাবুলকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বরিশালের মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান এ নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ নভেম্বর সন্দেহজনকভাবে আটক করে ওই এলাকার আজিজ হাওলাদারের ছেলে বাবুল হাওলাদারকে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে সোমবার আটক করা হয় ২৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বাবু ও স্থানীয় জয়নাল আবেদীনের ছেলে রুবেলকে। আটক যুবলীগ নেতা বাবু এবং রুবেলকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারকের সামনে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সাগরদী এলাকায় মমতাজ ভিলার মমতাজ বেগমকে (৬৫) জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আলমগীর সিকদার বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ দিবসটি উদযাপিত হবে। দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনীর মসজিদগুলোয় ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হবে। এতে সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি এবং দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারাপরসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারীও নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৪ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪-২০১৫ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ছাড়াও সাভার, বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা এবং রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসেও একই ধরনের সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।
রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আমাদের অহংকার। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ও বীরত্বগাথা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তিনি বলেন, আমি এ দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফকে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

১০ ধরনের ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগছে না

অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ ছাড়াই সাময়িকভাবে ১০ প্রকারের ভিসা আবেদন গ্রহণ করবে ভারত। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় গতি আনতে সাময়িকভাবে ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, রোগী, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক, সম্মেলনে গমনেচ্ছু, চাকরিজীবী, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আমন্ত্রিত এবং ট্রানজিট পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরই এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব সুজিত ঘোষ এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী ভিসা আবেদন কেন্দ্রে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে, ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫ নভেম্বর থেকে আবেদনকারীরা এ সুযোগ পাবেন। তবে, সংশোধিত পদ্ধতি হিসেবে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের প্রথমে https://indianvisaonline.gov.in-এ গিয়ে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে ঠিকভাবে নিজের ভিসা ক্যাটাগরি নিশ্চিত করতে হবে। পরে ফরমের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রিন্ট করে ভিসা আবেদন কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফিসহ জমা দিতে হবে।
অনলাইনে নিবন্ধনের চার দিনের ভেতর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ে (রোববার-বৃহস্পতিবার) আবেদন জমা দিতে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত নিয়মwww.ivacbd.com কিংবা www.hcidhaka.gov.in-এ পাওয়া যাবে। ট্যুরিস্ট ভিসার বিস্তারিত প্রক্রিয়া http://www.ivacbd.com-এ উল্লেখ রয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণ করে একটি প্রিন্টেড রশিদ দেয়া হবে, যেখানে ভিসা প্রক্রিয়ার তারিখ উল্লেখ থাকবে। পরে রশিদটি দিয়ে পাসপোর্টসহ ভিসা পাওয়া যাবে। ভিসা পেতে প্রার্থীদের সঠিকভাবে নিজের মোবাইল ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা লিখতে বলা হয়েছে যাতে প্রার্থীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা যায়। কোনো ধরনের অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় দেরি হতে পারে। ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সবসময়ই কোনো ধরনের দালাল বা প্রতিনিধির আশ্রয় নিতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতার জন্য নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনকে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে নতুন এ পদ্ধতি ভালোভাবে চললে ভবিষ্যতে ঢাকায়ও এ পদ্ধতি চালু হবে। তবে আপাতত ঢাকায় এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে না।

নানা আয়োজনে তারেক রহমানের জন্মদিন পালিত

আলোচনা সভা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কেককাটাসহ নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন। বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে জন্মদিনের কর্মসূচি শুরু করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে নয়াপল্টন ও ভাসানী মিলনায়তনে কেক কাটেন মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনের কড়ইতলায় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্রদল ও ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি)। বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছাত্রদল। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীরা জন্মদিনের কেক কাটেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে মহিলা দলের কেককাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের কারণে তারেক রহমান আমাদের কাছে থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন। আমরা আশা করছি, তিনি অতি শিগগিরই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং দেশে ফিরে গণতন্ত্রকামী মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে নেতৃত্ব দেবেন। বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নের কারণে তারেক রহমান নির্বাসনে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিলকিস জাহান শিরিন, নেওয়াজ হালিমা আর্লিসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জন্মদিনের কেককাটা হয়। এ সময় মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, আবদুস সালাম, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, এসএ খালেক, আবুল বাসার, শামসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাবের উদ্যোগে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্র্যালয়ের সামনে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনা মূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় ড্যাবের মহাসচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. রায়হান, ডা. পান্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনের কড়ইতলায় তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্রদল। রাজধানীর দুই শতাধিক শিশু এতে অংশ নেয়। এ ছাড়া ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে তারেক রহমানের জীবনের তিন অধ্যায় নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেখানে আড়াইশ ছবি প্রদর্শিত হয়।
বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের উদ্যোগে আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা ১/১১ সময়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল, তাদের কারণে তারেক রহমান আজ নির্বাসিত। তিনি যাতে দেশে ফিরে না আসতে পারেন সেজন্য বর্তমান সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাবেক ছাত্রদলে নেতা আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ পরিষদ-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিনের কেক কাটলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বহিষ্কৃত ও পদবঞ্চিত নেতারা। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে কেককাটা ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবু সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাবেদ হাসান স্বাধীন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, তরিকুল ইসলাম টিটু, নুরুজ্জামান মুকিত লিংকন প্রমুখ।

বিধির তোয়াক্কা না করেই চলছে নিয়োগ প্রক্রিয়া

জনবল কাঠামো ও নিয়োগবিধির তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ ঘটনায় ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যাবে। সম্প্রতি সংস্থার ট্রেডলাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার পদে সংযুক্ত এক কর্মকর্তা হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্বপদে বহাল রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বঞ্চিত শংকায় লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার, ওয়ার্ড সচিব, হিসাব সহকারী, কমিউনিটি সেন্টার তত্ত্বাবধায়ক পদোন্নতির যোগ্য অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একজোট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ডিএসসিসি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে তারাও উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেবেন বলে জানা গেছে।
গত ২১ অক্টোবর দুটি জাতীয় পত্রিকায় ডিএসসিসি ১০৯ জন লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গত ৫ নভেম্বর আবেদন জমা দেয়ার শেষদিন ছিল। বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ীয়াস্থ নগর ভবনে ডিএসসিসি নিয়োগ কমিটি এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেছে। আবেদনপ্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব ও সংস্থার সচিব খান মো. রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, নতুন নিয়োগবিধি চূড়ান্ত না হওয়ায় অবিভক্ত সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। সেখানে ওই সব পদে সরাসরি নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন জনবল কাঠামো ও নিয়োগবিধি-তো এখনও কার্যকর হয়নি।
বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন জনবল কাঠামোর পদ অনুসরণ করা হচ্ছে না কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।
২০১১ সালের নভেম্বরে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) বিলুপ্ত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটি সিটি কর্পোরেশন গঠন করে সরকার। তিন বছর অতিবাহিত হলেও নতুন জনবল কাঠামো ও নিয়োগবিধি পাস হয়নি। কয়েক দফা ঘষামাজার পর একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোর আলোকে ১৯৮৯ সালের নিয়োগবিধিও অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জনবল কাঠামো ও নিয়োগবিধি সরকার চূড়ান্ত করতে না পারলেও রুটিন কার্যক্রম, উন্নয়ন কার্যক্রম, পদোন্নতি, নিয়োগ সবই চালাতে হচ্ছে দুই সিটি কর্পোরেশনকে। এ ক্ষেত্রে দুই সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রেষণ ও স্থায়ী কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে নানা ধরনের অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ ডিএসসিসির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর।
পদোন্নতি বঞ্চিতের শংকায় ভুগছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিএসসিসি নিয়োগ কমিটির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োগ বাণিজ্য করার অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়োগবিধি না মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইব্রাহীম হোসেন খানের সঙ্গে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ বিষয় নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। বিষয়টি আমি দেখছি কি করা যায়। তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন বঞ্চিত না হয় সেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চার কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ব্যবসায়ী

মাছের ট্রলার দিয়ে মৎস্য ব্যবসার নামে বিশাল অংকের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে এক ফিশিং ব্যবসায়ী। নগরীর ফিশারিঘাটের মেসার্স আরিফ ট্রেডিংয়ের মালিক আনোয়ারুল ইসলাম এসব প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় ৭ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়েছেন পৌনে দুই কোটি টাকা, আরও প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ধার হিসেবে। দিন দিন লম্বা হচ্ছে পাওনাদারদের তালিকা। ওই ৭ ব্যবসায়ী পাওনা দাবি করে স্থানীয় কর্ণফুলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বাকিরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও থানার ওসির মাধ্যমে পাওনা আদায়ের চেষ্টা করছেন। বর্তমানে আনোয়ারুল ইসলামের ট্রলার দুটি নিয়ে চলছে টানাটানি। শিকলবাহা খালে অবস্থানরত ট্রলারটি পাওনাদাররা আটকে রেখেছে। ডিসিএইচ ইত্তেফাক ফিশারিজ লিমিটেড ট্রলার দুটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে পাওনাদার ও ক্রেতা দাবিদাররা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় থানা ও চেয়ারম্যান বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নগরীর ফিশারিঘাট এলাকার মেসার্স আরিফ ট্রেডিংয়ের মালিক আনোয়ারুল ইসলামের এফভি সালাম-০২ ও এফভি ফিস হান্টার নামের দুটি ফিশিং ট্রলার রয়েছে। ফিশিং ট্রলারগুলো দিয়ে সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণের কথা বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন (ঋণ) নেয় আনোয়ারুল ইসলাম। শিকলবাহা এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিনের কাছ থেকে ২৮ লাখ ৫০ হাজার, জামাল উদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার, ফিশারিঘাট এলাকার ফারুক সওদাগরের কাছ থেকে ৩৯ লাখ ৬২ হাজার, বেলাল হোসেনের কাছ থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার, পাথরঘাটা এলাকার ভক্ত দাশের কাছ থেকে ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা, মুরাদপুর এলাকার আলী আকবরের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা মিলে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাদন নেয় আনোয়ারুল আরিফ। পরে এক সময় তারা জানতে পারেন, তাদের এসব টাকা পরিশোধ না করে আত্মগোপন করে দেশের বাইরে চলে গেছেন ফিশিং ব্যবসায়ী আনোয়ার। পাওনাদার সেলিম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, ফারুক সওদাগর, বেলাল হোসেন, ভক্ত দাশ ও মো. আলী আকবর নামের সাত ব্যবসায়ী কর্ণফুলী থানা ও সামুদ্রিক মৎস্য অধিদফতরের পরিচালককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ট্রলারের মৎস্য ব্যবসার বিপরীতে এসব টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
জানা গেছে, আনোয়ারুল ইসলাম আত্মগোপনে যাওয়ার আগে থেকে ফিশিং ট্রলার দুটি শিকলবাহা খালে ফেলে যান। তিনি আনোয়ারুল আরিফ ট্রেডিং এবং ইসলাম ট্রেডিং নামে দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক। এছাড়াও তিনি ডিসিএইচ গ্রুপের পরিচালক।
পাওনাদার ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, আনোয়ারুল ফিশিং ট্রলার দুটি দেখিয়ে অনেক জনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের পাওনা না দিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এতদিন ফিশিং ট্রলার দুটির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এখন জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি রেজিস্ট্রিবিহীন একটি ভুয়া বিক্রয় দলিল বানিয়ে ট্রলার দুটির মালিকানা দাবি করছেন। এতে আমরা আমাদের পাওনা নিয়ে শংকায় পড়েছি।
অনেক পাওনাদার কর্ণফুলী থানার চরপাথরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান ছাবের আহমদের মাধ্যমে পাওনা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্বীকার করে তিনি জানান, বিভিন্ন মানুষের টাকা-পয়সা নিয়ে ব্যবসায়ী আনোয়ার লাপাত্তা হয়ে গেছেন।
দাদন ও কমিশন হিসেবে এসব টাকা নিয়েছেন। ট্রলার দুটিও তার বড় ভাই সামশুল ইসলাম বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন তা নিয়ে চলছে টানাটানি।
আনোয়ারুল ইসলামের ভাই সামশুল ইসলাম জানান, তার ভাই আনোয়ার বর্তমানে দুবাই রয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় পাওনা টাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না। পাওনাদারদের চাপাচাপিতে তার (আনোয়ারুল ইসলাম) ট্রলার ছাড়াও স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার ওসি মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ফিশিং ট্রলার ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। কমপক্ষে ১৪০ জন লোক তার কাছে টাকা পাওনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই ব্যবসায়ী আত্মগোপনে থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে পাওনাদারদের নিয়ে বৈঠক করে সমঝোতা করা হচ্ছে।

বিয়ের পর প্রথমবারের মতো...

অনেকেই বলেছিলেন কারিনা কাপুরের পড়তি ক্যারিয়ারে নতুন মোড় ঘোরাতে পারে ‘সিংহাম রিটার্নস’। ছবিটি ব্যবসায়িক দিক দিয়ে ভাল সফলতাও অর্জন করে। পাশাপাশি অজয় দেবগানের অভিনয় আরও একবার প্রসংশিত হয়। তবে ছবিতে অজয়ের কারণে মাথা উচু করে দাঁড়াতেই পারেনি কারিনার চরিত্রটি। আর তাই এ অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে কোন কিছুই যোগ করতে পারেনি ‘সিংহাম রিটার্নস’। এমনটাই বলাবলি হচ্ছে বলিউড পাড়ায়। তবে সমালোচকদের কথায় কান দেবার মেয়ে নন জেদি কারিনা। চলতি বছরই আরও একটি বড় সুযোগ ধরা দিয়েছে তার হাতে। কবির খানের ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এই ছবিতে সালমান খানের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করছেন কারিনা। এর আগে সালমান-কারিনা জুটির ‘বডিগার্ড’ ছবিটি ব্যবসা সফলতায় রেকর্ড গড়েছিলো। তারপর থেকেই এ জুটিকে নিয়ে অনেকে বড় বড় পরিচালক ছবি তৈরির পরিকল্পনা করলেও দুই তারকার শিডিউল জটিলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে এই ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। ছবিতে কারিনাকে ব্যাপক খোলামেলা রূপে দেখা যাবে। পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে  ক্যামেরাবন্দি হবেন সালমানের সঙ্গে। জানা গেছে বিয়ের পর প্রথমবারের মতো বিকিনি পড়েও এই ছবিতে ক্যামেরাবন্দি হবেন কারিনা। সব মিলিয়ে ছবিটির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণভাবে আলোচনায় এসেছেন এ অভিনেত্রী। এদিকে কারিনা কাপুর ক’দিন আগেই নিজের জন্মদিন পালন করেছেন স্বামী সাইফ আলী খানসহ তার শশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে। জন্মদিনেও তিনি মিডিয়ার কাছে ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ ছবিটি নিয়ে নিজের উচ্চ প্রত্যাশার কথা ব্যাক্ত করেন। এ ছবির জন্য নিজের লুকেও পরিবর্তন এনেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে কারিনা কাপুর বলেন, ছবিটির কাহিনী অনেক চমৎকার। এখানে দীর্ঘদিন পর দর্শক আমাকে আবেদনময়ী তরুণীর ভূমিকায় দেখতে পাবেন। আর সঙ্গে সাল্লুতো রয়েছেই। সব মিলিয়ে ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ আগামী ঈদে ধূম মাচাবে বলেই আমার বিশ্বাস। 

নরসিংদীতে যুবককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা

নরসিংদীর দত্তপাড়া এলাকায় স্বপন মিয়া (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের শ্মশান ঘাট রোডের বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্বপন মিয়া (৩৫) দত্তপাড়া মহল্লার প্রয়াত ওমর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে স্বপন কাউরিয়া পাড়ার ভাড়া বাসা থেকে দত্তপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে যান। সেখানে ৮/১০ জনের একদল সন্ত্রাসী তার ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। স্বপন সেখান থেকে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী জয়নাল আবেদীনের দেয়াল ঘেরা একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাকে আবার এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে তারা তার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।
হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম বলেন, পূর্ব শত্র“তার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে ঘটনা পূর্ণ তদন্ত করে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

স্মার্টফোনে নতুন মহামারী

মানুষের মাথার ওজন বড়জোর ১২ থেকে ১৪ পাউন্ড। মেরুদণ্ড অনায়াসে এ ওজন বইতে পারে। কিন্তু একটু ঝুঁকে যখন সামনে তাকানো হয় তখন মেরুদণ্ডের চাপ বাড়তে থাকে। যেমন- ১৫ ডিগ্রি বাঁকালে চাপ পড়ে ২৭ পাউন্ড, ৩০ ডিগ্রির জন্য ৪০ পাউন্ড, ৪৫ ডিগ্রির জন্য ৪৯ পাউন্ড আর ৬০ ডিগ্রির জন্য ৬০ পাউন্ড। এ অতিরিক্ত চাপ পড়ছে মূলত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ঘাড়ে বা ঘাড় থেকে মাথা পর্যন্ত মেরুদণ্ডে। প্রতিদিন এভাবে অতিরিক্ত ভার বহন করার ফলে দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বর্তমান প্রজন্ম। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের গবেষক কেনেথ হ্যান্সরাজের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনে স্ক্রিনের দিকে এভাবে ঝুঁকে থাকার প্রবণতার কারণে মানুষের মেরুদণ্ডে চিড় ধরে যেতে পারে, বিকৃত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার ছাড়া হয়তো কোনো উপায় থাকবে না। হ্যান্সরাজ বলেন, এটা একটা মহামারী। অনুমান করুন, আপনার ঘাড়ে ৬০ পাউন্ডের একটি বোঝা। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা আপনি তা বয়ে বেড়াচ্ছেন। বছরে ৭০০ থেকে ১৪০০ ঘণ্টা আপনি মেরুদণ্ডের ওপর অত্যধিক চাপ দিচ্ছেন, কী হবে?
তবে এ সমস্যা এড়ানোর জন্য কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তারা- ১. ঝুঁকে না পড়ে বরং চোখটাই নিচু করে ডিভাইসের দিকে তাকান। ২. হালকা ব্যায়াম করুন। মাথাটা ডান-বাম ও সামনে-পেছনে মাঝে মাঝে নাড়ান। হাতের ওপর মাথাটা হেলে রাখুন আর হাত দিয়ে বিপরীত দিকে চাপ দিন। দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে দুই হাত প্রসারিত করে চৌকাঠ ধরুন এবং বুকটা সামনে বাড়িয়ে দিয়ে পেশিতে চাপ দিন।

মনের ক্ষুধা পূরণে সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের কেবল পেট পুরলেই হবে না। মনের চাহিদা মেটানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বেশি বেশি সংস্কৃতিচর্চা করতে হবে। সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই চিরায়ত যে, সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চা বিনোদনেরও খোরাক জোগায়। কিন্তু আমাদের সজাগ থাকতে হবে, অপসংস্কৃতি যেন আমাদের গ্রাস না করে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর স্বাগত বক্তৃতা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রনজিত কুমার বিশ্বাস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে বর্তমানে দেশে খাদ্য সংকট নেই। এখন আমরা জনগণের মনের বিনোদনের জন্য অর্থাৎ আরও বেশি সংস্কৃতিচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি। তিনি বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের মানুষের সামনে বাংলাদেশের পরিচয় ও স্বকীয়তা তুলে ধরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ সংস্কৃতিমনা। এখন সংস্কৃতির ওপর গবেষণার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সাহিত্য তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি ও শিক্ষার ওপর নির্ভর করে একটি জাতির পরিচয় ও স্বকীয়তা। শুধু ব্যাপক সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে একটি জাতি আর্থসামাজিকভাবে উন্নত হয়।

চোখ খোলা অথবা বন্ধ করার পর by শুভাশিস সিনহা

এ রকম বিড়ম্বনায় পড়তে হবে আমি কখনো ভাবিনি। আসলে আমার কখনো কোনো দিন ইচ্ছে করেনি মানুষকে বোকা বানাই। মানুষের সঙ্গে ফটকাবাজি করার প্ল্যানও আমার মাথায় নেই। কিন্তু তার পরও নিয়তি আমার সঙ্গে এই যড়যন্ত্রের খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি ছোটখাটো একটা চাকরি করি। তারও চেয়ে ছোট একটা রুমে আমি থাকি। আমার রুমে আরেকজন থাকে। তারও একটা চাকরি আছে। কিন্তু কী সেটা আমি জানি না। জিজ্ঞেস করলে খুনির মতো তাকায়। আমার ধারণা, সে খুনখারাবি করে বেড়ায়। একবার তার ড্রয়ারে একটা পিস্তল পেয়েছি। পিস্তলে গুলি ভরা ছিল, আমি জানতাম না। হাতে নিয়ে খেলাচ্ছলে ট্রিগার টিপতেই বিকট আওয়াজ। জানালার কাচ ভেঙে গুঁড়া। হাত ঘেমে পিচ্ছিল হয়ে গেল। একটা ফার্মেসিতে গিয়ে প্রেশার মাপালাম। দু-এক দিন স্লিপিং পিল খেলাম। আমার রুমমেট ব্যাপারটা শুনে হাসতে হাসতে মরে। কিন্তু তার হাসিটাও খুনিদের মতো। এমন নয় যে জীবনে আমি প্রচুর খুনি দেখেছি। বলতে গেলে নাটক-সিনেমা ছাড়া দেখিইনি। অবশ্য নাটক-সিনেমা আমাদের জীবনের দর্পণ বলে সেখানকার দেখাটাকে মিথ্যা মনে করার কারণ নেই। ঘটনাটা যখন প্রথম ঘটল আমি অমীমাংসার মধ্যে থাকলেও একটা চমক পেয়েছিলাম। আসলেই খুব মজার ব্যাপার। কিন্তু যখন রেগুলার এ রকম ঘটতে শুরু করল, তখন একটা ভয় ঘিরে ধরল আমাকে। হঠাৎ করেই একদিন আমার মনে হলো, আমি স্বপ্নের ভেতর আছি। আর রাতে যেটা স্বপ্ন বলে মনে করতাম, সেটাই আসলে আমার বাস্তব। স্বপ্ন আর বাস্তবের হিসাব আমি মেলাতে পারতাম না। কোনটা স্বপ্ন আর কোনটা বাস্তব?
২. এ রকম বিভ্রমে পড়ার ব্যাপারটা আমার কাছে প্রথম আসে যেদিন আমি পাক্কা চার ঘণ্টা হেঁটে এসে অবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুমের ভেতর আমি টের পাচ্ছিলাম আমার নাক-মুখ-চোখ দিয়ে একটা ঠান্ডা বাতাস ঢুকে যাচ্ছে। আমি নাক-কান-মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেও পারছি না। তারপর সারা রাত বালিশে মুখ চাপা দিয়ে থাকলাম। যখন সকাল হয়, তখন আমি একটা নদীর ধারে। আমার কাছে সব কেমন জানি লাগতে শুরু করে। কারণ ওই নদীটার নাম আমি জানতাম না। আর আমি যখন বালুর চড়ায় পড়ে আছি, তার খানিক দূরেই আমার রুমমেট চোখে একটা সানগ্লাস পরে হাতে একটা পিস্তল নিয়ে নাচাচ্ছিল। সে কিছুক্ষণ পর তার নুনুটা বের করে নদীর বালুর চরে প্রস্রাব করছিল। আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল।  আমি তখন ভাবতে শুরু করলাম, এটা একটা স্বপ্ন। এবং আমি তাকেও বললাম। তার নাম রসু। রসু শুনে হাসতে হাসতে মরে। আমি যে স্বপ্ন দেখছি, সে কোনোভাবেই মানতে নারাজ। আমাদের অনেক সময় ধরে তর্কাতর্কি হলো—এটা স্বপ্ন, না বাস্তব। একটা সময় আমি ক্লান্ত হয়ে রসুর পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়লাম। আমার খুব কান্না পেল। রসু আমার কান্না থামানোর জন্য দু-চারটা গুলির ফাঁকা আওয়াজ করল। এর পর থেকে আমার এই বিভ্রমটা মনে ঘিরে থাকতে শুরু করল যে, আমি স্বপ্নে আছি, নাকি বাস্তবে?
রসু আমাকে প্রায় বলে তারও এ রকম হয়েছে। তার মা মারা যায় তার জন্মের সময়। রসুর বাপ তাকে বস্তার ভেতর ভরে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসতে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন বস্তার ভেতর রসুর কুঁইকুঁই আওয়াজ শুনে আশপাশের কিছু কুকুর মনে করে, বস্তার ভেতর বিপন্ন তাদেরই স্বজাতি। তারা রসুর বাপের পিছু নেয়। এর মধ্যে একটা কুকুর ছিল পাগল। সে রসুর বাপকে তাড়া করতে থাকে।
রসুর বাপ মারা যায় পাগলা কুকুরের কামড়ে।
রসু আমাকে এসব কথা বলে একদিন গভীর রাতে শার্টের হাতায় রক্তের দাগ নিয়ে রুমে ফেরার পর। সেদিন আমি অফিস থেকে ফিরে জ্বরে ভুগছিলাম। অফিসে থাকার সময়ই জ্বর অনুভব করি। আমার কলিগ রেশমা আমার কপালে হাত দিয়ে জ্বর মাপে। আমি খুব লজ্জিত বোধ করি, যদিও রেশমার হাতের স্পর্শ আমার ভেতর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অনুভূতি তৈরি করে। কিন্তু জ্বরের প্রথম ঘোরের মধ্যে মাত্র পা রাখায় তখন আমি টলে উঠছিলাম। রেশমা আমাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলে। রেশমা আমার প্রেমিকার মতো কেউ নয়। আর সে বিবাহিত। তার স্বামী মাঝেমধ্যে অফিসে এসে তাকে গালিগালাজ করে যায়। আমরা তার কোনো কারণ জানি না। রেশমাও বলে না। রেশমা যখন গালি খায় আমার খুব খারাপ লাগে। লোকটাকে কষে চড় লাগাতে ইচ্ছে করে। কিন্তু লোকটার চোয়াল খুব শক্ত। আমার মতো লোকের চড়ে তার কিছু যাবে-আসবে মনে হয় না। রেশমাকে একদিন কাঁদতে দেখলাম। রেশমার সেই কান্না ছিল আমার জীবনের দুঃখের দৃশ্যগুলোর একটি।
সেদিন নিজেকে খুব অসহায় ভাবতে ভাবতে আমি চোখ বুজে রেখেছিলাম। যখন চোখ খুলি তখন আমি নিজেকে আবিষ্কার করি নিজের রুমের বিছানায়। এবং তার পরই ঝাপসা ঝাপসা দেখতে পাই রসুর মুখ। রসুর শার্টের হাতায় রক্তের দাগ।
৩. আমার অফিসটা রহস্যময়। আমি এখনো তার ফাংশনগুলো ভালো জানি না। আমার আরেক বন্ধু রামলাল, যে এখন সুন্দরবনের কোনো এক গুহায় আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে, সে আমাকে এই অফিসে এনে ঢোকায়। এখানে নানান গবেষণা হয়। আর মানুষের নানান ক্রিয়াকলাপ নিয়ে জরিপ হয়। জরিপের দলগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করে। তারা নানান ফাইল-টাইল আমার সামনে রাখে। আমি সেগুলোকে লাইন-আপ করি। অদ্ভুত সব জরিপ। মানুষের এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে তারা জরিপ করে না। একদিন আজব একটা ফাইল দেখলাম। সেখানে দেওয়া আছে, চরাঞ্চলে একটা দম্পতি দশ বছরে গড়ে কয়বার সঙ্গম করে। ফাইলটা পাওয়ার পর আমার শরীর নুয়ে পড়ে। ঘেন্না হয়।
আমি সেদিন রামলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। আমার আর ভালো লাগছে না। আমি চাকরিটা ছেড়ে দেব। কিন্তু তত দিনে সে মোবাইল-টোবাইল থেকে বহু দূরে। তার বেশ কয়েক দিন পর আমি আরেক পরিচিতজনের সূত্রে তাকে পাই। ফোনে রামলাল গম্ভীর হয়ে আমাকে বলে, জগৎ রহস্যময়। সেই রহস্য ধরতে চেষ্টা কর। আমি একভাবে চেষ্টা করতেছি, তুই অন্যভাবে।
এই বলে একবার হুম্ জাতীয় আওয়াজ করে কথা শেষ করে রামলাল। এই অফিসে একমাত্র আশ্রয় রেশমা। রেশমাও আমার মতো দেয়ালে-পিঠ-ঠেকা মানুষ। তাকে নিজ চাকরির পয়সায় স্বামীকে পুষতে হয়। রেশমার স্বামী দিনের বেলা ঘরে থাকে, যখন রেশমা বাসায় থাকে না, আবার রাতের বেলা রেশমা যখন বাসায় ফেরে, তার একটু আগে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রেশমার সঙ্গে আমারও তেমন কোনো কথা হয় না। প্রায় প্রতিদিনই ভাবি, জিজ্ঞেস করব, ওই সংসার করার কারণ কী, কিন্তু জিজ্ঞেস আর করা হয় না। আমার সামনে স্বামীর গালিগালাজ খেয়েই চলতে থাকে রেশমা।
এই অফিসে বলতে গেলে আমার কোনো কণ্ঠ নেই। এখানে আমি হাত চালাই, মাথা দেই, ঘাম খরচ করি, কিন্তু কোনো কথা বলি না। কে যেন আমাকে মিউট করে রেখেছে। ব্যাপারটা আমি এভাবে জানতে পারতাম না। চাকরির অনেক দিন পর একদিন আমার বস আমাকে ডেকে বলেন যে, তিনি জানতেন না আমি কথা বলতে পারি না। রামলাল তাকে ঠকিয়েছে। সে কোনো একটা সময় তাকে নাকি মহাবিপদ থেকে বাঁচিয়েছিল। রামলাল একসময় কুস্তি-টুস্তি শিখেছিল। রাস্তায় দশ লাখ টাকা খোয়ানোর এক মিশনে সে বাংলা সিনেমার হিরোর মতো আমার বসকে বাঁচায়। আর তার বিনিময়ে আমাকে এই চাকরি আদায় করে দিয়েছে বসের কাছ থেকে।
একদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমার মাথা ঘুরতে থাকে, পায়ের বল হারিয়ে ফেলি, যখন আমার বিছানাটা হঠাৎ করে টেবিল হয়ে যায়। আমার পাশের চেয়ারে বসে রেশমা একটা ল্যাপটপে টাইপ করতে থাকে। আর এক কলিগ বোর্ডে গ্রাফ এঁকে বোঝাতে থাকে যে, তৃতীয় বিশ্বের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো অস্তিত্বের সংকট। আমি নিজেকে ঠিক করতে চেষ্টা করি। বিছানা থেকে নেমে এক গ্লাস পানি খাই আর পানি খাওয়ার পর শুনতে পাই পিয়নের গলা। সে স্বভাবসুলভ গলাখাঁকারি দিয়ে জিজ্ঞেস করে, স্যার, চা কেমন? উঠতে দেরি করলেন, মনে হয় ঠান্ডা হয়া গেছে। আবার গরম কইরা দেই?
আমি মাথা নাড়াই। এক গ্লাস পানি খাওয়ার পর বুঝতে পারি, চায়ে লিকার কম হয়েছে। রেশমার শাড়ির রংটা আজ চড়া লাগে। আমি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। চড়া রোদ। আমার মাথায় এই চিন্তা এবার টনটন করে ওঠে—সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে সময়টা কাটিয়ে এসেছি, অফিসে রাস্তায়, সেটা কি বাস্তব? নাকি পুরোটাই স্বপ্ন? এখন কি আমি অফিসে আছি? নাকি বাসায়? আমার খুব অসহায় লাগতে শুরু করে। সামান্য ব্যাপারটার ফয়সালা করতে পারি না।
আমার বস অফিসে প্রায়ই সিগারেট টানেন। অথচ তিনি নিজে বড় করে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, ‘ধূমপান নিষেধ’। তার রুমে ঢোকা মাত্র সিগারেটের কড়া গন্ধ। এখন সেই সিগারেটের গন্ধ নাকে এসে লাগছে।
এর মানে আমার আশপাশেই বস আছেন। আমি বলি, স্যার, পুরো রিপোর্টটা বারবার চেক করেছি। স্যার, ডাটাগুলো আমি কালকেই ঠিক করব। তিনি খালি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দেন। টয়লেটে নিজের প্রস্রাবের শব্দ শুনতে শুনতে তার হাসি শুনতে পাচ্ছি। লজ্জা করে। এর মানে তিনি টয়লেটেই আছেন। এবং নিশ্চয় দেখতে পাচ্ছেন আমাকে। আমি কোনোমতে প্রস্রাবটা শেষ করি। আমি হাতে পানি লাগাতে লাগাতে বলি, স্যার, এই ডাটাগুলো বিদেশে পাঠানোর দরকার নেই। এইগুলো আমাদের আপন খবর। আমরা আমরা জেনে রাখি। চাকরের খবর মনিবকে শুনিয়ে লাভ নেই, স্যার। মনিব করুণাই করবে। আর কী!আমি টলে পড়ে যাচ্ছিলাম। বিছানার শিক থেকে হাত ফসকে যাচ্ছিল, নাকি অসাড় হয়ে টয়লেটে পড়ে যাচ্ছিলাম, নাকি রাস্তায় ট্রাকের নিচে ঢুকে পড়ছিলাম... কেবল দেখতে পাচ্ছি, রেশমা আমার মাথাটা তার কোলে রেখে খালি ডেকে চলেছে, দাদা, দাদা, দাদা...
৪. ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিক শুনছি। ডেইলি দুই-তিন ঘণ্টা। ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন। রসু এনে দিয়েছে। সে এগুলো শোনে না। তবে দুনিয়ায় তার জন্য অসম্ভব কিছু নেই। আমারও খুব একটা ইচ্ছে নেই এসব ক্লাসিক্যাল গান-ফানে। গ্রামে থাকতে নাজুম মাঝির গলায় প্রায় প্রতিদিন একটা গান শুনতাম, ‘আমার হাড় কালা করলাম রে, আমার দেহকালার লাইগা রে...।’ হাড় ক্যামনে কালা হয়, আবার দেহকালা জিনিসটা কী, আমি কিছুই বুঝিনি। কিন্তু নৌকাটা যখন দুপুরবেলা ক্লান্ত হয়ে ঘাটের মাটিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকত, নাজুম মাঝির গান শুনলে মায়া লাগত খুব। নাজুম মাঝি আমার বড় প্রিয় মানুষ ছিল। ডাক্তারকে আর বলতে পারিনি নাজুম মাঝির গান এনে দিতে। সে গান তো রেকর্ডেও নেই।
কী হবে ক্লাসিক্যাল গান শুনে?
ডাক্তার বলেছেন, মাথা কুল রাখবে। স্থির করবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। টাইম স্পেস ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে নাকি আমার! রেশমাকে প্রায়ই আশা করতাম। একবার আসবে। খুব অপেক্ষায় থাকতাম। আসে আসে, আসে না। কিন্তু কষ্ট আর নেই। বুঝেছি এটা আমারই অসুখ। কারণ রেশমা তো তিন-চারবার লুকিয়ে লুকিয়ে এসে গেছে। আমি তাকে বলেছি, আপনার জন্য অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সূর্য অনেকবার ডুবে গেছে। রেশমা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েছে। বলেছে, সেটা আপনার স্বপ্ন দাদা। অপেক্ষা করতে হলো কখন, আমি তো রেগুলারই আসছি। আমার মাথা ঘুরে যায়। কিন্তু নিজেকে সামলে নেই। এগুলো এখন স্বাভাবিক করেই নিতে হবে। আমি তা-ও ফের প্রশ্ন করি, আপনি এসেছেন? কবে?
রেশমা কিছু বলে না। আমাকে এক গ্লাস দুধ খাওয়ায়। দুধ মাথা পরিষ্কার করে। রেশমার জন্য অপেক্ষায় থাকাটা বাস্তব, নাকি রেশমা আমাকে দুধ খাওয়াচ্ছে এটা? এই হিসাব মেলাতে মেলাতে আমি ঝাপসা হয়ে গেলে রেশমার গায়ের লাল-লাল কামড়ের দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওগুলো কী? রেশমা বলে পিঁপড়ার কামড়। রেশমার স্বামী এসে গালিগালাজ শুরু করে। মাগি-টাগি কিচ্ছু বাদ নেই। বস বলে, অফিসটা একদম আউট অব কন্ট্রোল হয়ে গেছে। ডোনাররা নাখোশ। গত এক মাসে নাকি যত উল্টাপাল্টা ডাটা গেছে। আমি দেখে দেওয়ার পর এসব কীভাবে হয়? জরিপ হয়েছে একটা, রিপোর্টে গেছে আরেকটা। পশুপাখির জীবন কীভাবে আরও বেটার হয়, এটা কি তাদের ভাবার কথা? কোন কালপ্রিট এসব করছে? বস আগুন। পুরো এক গ্লাস দুধ খেয়ে শেষ করি। এর মধ্যেই রেশমা বসকে বলছে, স্যার, ফাইলটা রেডি। না রেশমা ফাইলটা খুলো না। প্লিজ। প্লিজ, ওর সামনে ফাইলটা খুলো না, আমি কাকুতি-মিনতি করি। ঝটিকায় রসু এসে দাঁড়িয়ে গেল। ওর হাতে একটা পিস্তল। ওটা অনেকবার ওর হাতে দেখেছি। পিস্তলে ট্রিগার টিপতেই শুনলাম পাগলা কুকুরের আওয়াজ। রসু চিৎকার করে বলছে, আমাকে বস্তা থিকা বাইর করো বাপ। বাপ। বসের শরীর থেকে গলগল রক্ত ঝরছে। রেশমার স্বামী চিত হয়ে পড়ে আছে মেঝেতে। রসুর বাপ দৌড়াচ্ছে। পিছে পিছে পাগলা কুকুর।
৫. আজকের দিনটা ভালো। অফিসে প্রচুর চাপ। তবু ভালো লাগছে। কারণ এটা বাস্তব না। নিখাদ স্বাভাবিক সহজ অর্থহীন স্বপ্ন। আমার বাস্তব এখন শুরু হয় মাঝরাতে। চোখ খোলা অথবা বন্ধ হওয়ার পর।

এখন আমার বেঁচে থাকাটাই শাস্তি

‘এখন আমার কেউ নেই। আমি একা, খুব অসহায়। এখন আমার বেঁচে থাকাটাই শাস্তি।’ বাবার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় অশ্র“সিক্ত কণ্ঠে এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল ইসলাম লিলনের একমাত্র ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন। এ সময় কান্নার শব্দে সভাস্থলের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। ঢুকরে কেঁদে ওঠেন সবাই। সৌমিনের মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এবার বাবাকে হারালেন তিনি। এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি কেউ। ওপরের দিকে চোখ তুলে দিকভ্রান্ত পথিকের মতো জেভিন বলছিলেন, ‘বাবা ছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তার যদি স্বাভাবিক মৃত্যু হতো তাহলে না হয় মেনে নিতাম। প্রাণীর প্রতি সহিংসতা হয় বলে যে মানুষটি আমিষ খাওয়া বাদ দিয়েছিলেন, তাকে কেন এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল?
বৃহস্পতিবার দুপুরে সমাজবিজ্ঞান সমিতির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলাভবনে আয়োজিত শোকসভায় তার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি কেউ।
সৌমিন আরও বলেন, ‘আমার বাবা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন একশ’ বছর বাঁচতে চান তিনি। অথচ পঞ্চাশ বছর বয়সেই তাকে এভাবে চলে যেতে হল। এ সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের মাঝে বাবার আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখুন। তার আদর্শকে মরতে দিয়েন না।’
শোকসভায় প্রফেসর শফিউল ইসলামের বোন ওয়াসিম রুমানা লিপি বলেন, ‘আমরা সংবাদের শিরোনাম হতে চাই না। হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের এখনই রুখে দিতে হবে, যাতে আর কোনো খুনি খুন করার সাহস না পায়। তিনি বলেন, আন্দোলন ম্লান হয়ে গেলে আরও রক্ত ঝরবে, তাই খুনিদের বিচার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বারবার হত্যাকাণ্ডের শিকার মেনে নেয়া যায় না। আর যাতে এ রকম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা না ঘটে সেজন্য এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে সর্বোচ্চ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন নীলুফার সুলতানা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ওয়ারদাতুল আকমাম, বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর জুলফিকার আলী, প্রফেসর আবদুর রহমান সিদ্দিকী, প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক শিক্ষক ফয়জার রহমান। সভা সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবা সরকার।
রিমান্ডে নতুন তথ্য নেই, তদন্ত জঙ্গিদের দিকে : অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যা মামলার কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। হত্যার কারণ নিশ্চিত ও এর সঙ্গে জড়িতদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। এ কারণে নিহতের পরিবারসহ ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশের তদন্ত এখন সেদিকেই যাচ্ছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার বর্ণনায় এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে, প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অধ্যাপক শফিউল প্রচলিত ধর্মীয় ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে নানান ব্যক্তিগত আচরণ ও মন্তব্য করেছিলেন। তিনি লালন চর্চার নামে প্রতি সপ্তাহেই বাসায় গানের আসর বসাতেন। তিনি ফেসবুকেও ধর্ম নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। এ কারণে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীদের টার্গেট হয়ে থাকতে পারেন।
মহানগর পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, অধ্যাপক শফিউল ইসলাম তার গ্রামের এক দরিদ্র ছাত্রীর লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। সে নিয়মিতই অধ্যাপক শফিউলের বাসায় যাতায়াত করত। এমন কি শফিউলের কাপড়চোপড় ধোয়া ও গৃহস্থালির কিছু কাজও করে দিত। বর্তমানে ওই মেয়েকে মাসহ নগরীর শাহ মখদুম থানায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। র‌্যাব মেয়েটিকে তিনদিন জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। ওই মেয়েকে পুলিশ এখনও গ্রেফতারও দেখায়নি। এই মেয়েটি হত্যাকাণ্ডের কারণ কিনা তাও পরিষ্কার করেনি পুলিশ।
অধ্যাপক শফিউল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে জানান, পুলিশের রিমান্ডে থাকা ১১ আসামির কাছ থেকে এখনও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য প্রফেসর জালাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখনও হত্যার মোটিভ উদ্ধার ও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়াটা দুঃখজনক। পুলিশ আইওয়াশ করতেই যাকে তাকে ধরে আনছে। গতকাল দুপুরে সমাজবিজ্ঞান সমিতি আয়োজিত শোকসভায় নিহতের বোন ওয়াসিম রুমানা বলেন, দেশ এখনও স্বাধীন হয়নি। আপনারা সজাগ হোন। স্বাধীনতাবিরোধীরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। খুনিদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডের জন্য জঙ্গিদের দায়ী করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও নিহত শফিউলের একমাত্র ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন ওই শোকসভায় বলেছেন, ‘এটা সম্পূর্ণ জঙ্গি হামলা, মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন আমার বাবা।’ তিনি আরও বলেন, আমিও তো বাবার মতাদর্শী ও একই ভাবধারার লোক। আমি আসলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, তদন্ত সঠিকভাবে এগোলে গত কয়েক দিনে হয়তো অনেক কিছু উদঘাটন করা সম্ভব হতো। তবে এমনও হতে পারে, পুলিশ তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতেই সময় নিচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাই কোনো ‘ম্যাজিক’ আশা না করে তাদের আরও কিছুটা সময় দেয়া দরকার।’
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মো. শামসুদ্দিন যোগদান করেছেন। পরে তিনি মহানগর পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বিকালে তিনি শফিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
শিবির সভাপতিকে গ্রেফতারে ছাত্রলীগের আলটিমেটাম : বেলা ১২টার দিকে শিক্ষক হত্যার বিচারের দাবিতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে শিবির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ইমনকে গ্রেফতারে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর রহমান রানা।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইদুর ইসলাম রুবেল, ইয়াসির আরাফাত সৈকত ও রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহমদ আলী মোল্লা। বক্তারা বলেন, জাতিকে মেধাশূন্য করতে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র একের পর এক শিক্ষক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং শিক্ষকদের কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
মেয়রের সঙ্গে শিবির নেতাদের বৈঠক : দুপুরে রাসিক মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মহানগর শিবিরের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাফিস রাইয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় শিবির নেতারা ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কবলে ইসলামী ছাত্রশিবির’ নামের একসেট বই মেয়রের হাতে তুলে দেন।

সড়ক ও রেলপথে সংযুক্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর দেশের মধ্যে পণ্য ও মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে আসন্ন ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে তিনটি চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। এগুলো হল- সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সার্ক মোটরযান চুক্তি, আঞ্চলিক রেলওয়ে চুক্তি এবং জ্বালানি (বিদ্যুৎ) সংক্রান্ত কাঠামো চুক্তি। এছাড়াও আসন্ন সার্ক সম্মেলনে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ দশটি অগ্রাধিকার খাতের ঘোষণা দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বাংলাদেশের ৩৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সহায়তায় ৯১ জন সাংবাদিকও সম্মেলনে যাচ্ছেন।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করব। এগুলো হল- যুবশক্তির উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার (কানেকটিভিটি) উন্নয়ন, সাফটা ও সার্ভিস সেক্টরে সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ।
সার্ক অঞ্চলে মোটরযান ও রেল চুক্তি হলেও ভিসা ব্যবস্থা কঠোর থাকায় তার সুফল কতটা পাওয়া যাবে-জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবস্থার পরিবর্তন ধীরে ধীরে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সবাই মিলে কাজ করতে হবে’।
মন্ত্রী বলেন, আসন্ন সার্ক সম্মেলনে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশের সঙ্গে সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের বহুপাক্ষিক এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে মনে করি। তিনি জানান, শীর্ষ সম্মেলনের অব্যবহিত পূর্বে ২২ নভেম্বর প্রোগ্রামিং কমিটির ৪৯তম সভা, ২৩-২৪ নভেম্বর স্ট্যান্ডিং কমিটির (পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে) ৪১তম সভা, ২৫ নভেম্বর কাউন্সিল অব মিনিস্টার্সের (পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের) ৩৬তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রোগ্রামিং কমিটির সভায় মহাপরিচালক (সার্ক ও বিমসটেক), স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় পররাষ্ট্র সচিব এবং কাউন্সিল অব মিনিস্টার্সের সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেতৃত্ব দেবেন।
মাহমুদ আলী মনে করেন, আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গভীর সংযোগ’। প্রধানমন্ত্রী বিগত মেয়াদকালে (২০০৯-২০১৩ পর্যন্ত) ২০১০ সালের ২৮-২৯ এপ্রিল থিম্পুতে অনুষ্ঠিত ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন এবং ২০১১ সালের ১০-১১ নভেম্বর মালদ্বীপের আদ্দু সিটিতে অনুষ্ঠিত ১৭তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানরা সার্ক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন এবং বিশেষ করে পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সার্ক অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নসহ এ অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশসহ অন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, নিরাপত্তা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মেলনে আমরা জোর দেব সার্কে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর যথাযথ এবং সময়ানুগ বাস্তবায়নের ওপর। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে সার্ককে সত্যিকার অর্থে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করা সম্ভব হবে। আমরা চাই সার্ক আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক। একই সঙ্গে এ সংগঠনের কার্যক্রম দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের কাছে দৃষ্টিগোচর হোক’।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশগুলোর তরুণদের উন্নয়ন এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরেও জোর দেব। আমরা মনে করি, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এর বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর। এদের প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হবে’।
মাহমুদ আলী বলেন, সার্ক অঞ্চলে ১৭০ কোটি লোকের বাস। এ অঞ্চলে রয়েছে একটি সম্ভাবনাময় বিশাল বাজার। কিন্তু আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিমাণ সেই তুলনায় বাড়েনি। বর্তমানে আন্তঃসার্ক বাণিজ্যের পরিমাণ এ অঞ্চলের মোট বাণিজ্যের পাঁচ শতাংশেরও কম। অথচ অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থা যেমন আসিয়ানের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ২৬ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশের বেশি। আন্তঃবাণিজ্যের ক্ষেত্রে সার্ককে আরও গতিশীল করতে হবে বলে মনে করি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সময় উপস্থিত সার্ক সদস্য দেশসমূহের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানরা পরস্পরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে এখনও কাজ চলছে। কোনো বৈঠকই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সাতটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।