Friday, October 2, 2026

নতুন রণতরি নিয়ে ১০ হাজার মার্কিন সেনা, তীব্র হতে পারে ইরান যুদ্ধ

ইরান যুদ্ধের অষ্টম মাসে এসে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরো বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে আরো ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য ওই অঞ্চলে যাওয়ার পথে রয়েছেন। ফলে চলমান যুদ্ধ আরো বড় আকার ধারণ করতে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী বহর মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর একদিন পর মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও (এমইইউ) যাত্রা শুরু করে। ওই ইউনিটে দুই হাজারের বেশি মেরিন সদস্য রয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে পাঠানো নৌবহর ও অন্যান্য সামরিক ইউনিট মিলিয়ে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য এই অঞ্চলে যুক্ত হতে পারেন। নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি উভচর অবতরণকারী সামরিক দল অবস্থান করবে বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরো বিস্তৃত বিকল্প তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

আল জাজিরার ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিবেদক তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন মোতায়েনের মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এসব সেনা যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই অবস্থান করা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্যের সঙ্গে আরো বড় সামরিক শক্তি যোগ হবে।

পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা যেদিকেই এগোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক বিকল্প খোলা রাখাই এই মোতায়েনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও বর্তমানে মোতায়েন করা সামরিক সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই পেন্টাগনের। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছেন, ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই বড় মার্কিন উপস্থিতি


মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশক ধরেই সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটির অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে।

১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে লেবানন সংকটের সময় প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানো হয়। সে সময় লেবাননে প্রায় ১৫ হাজার মেরিন ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। এ বছরের শুরু থেকেই ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে আসছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি

উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক ও সামরিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ১২০টির বেশি মার্কিন সামরিক বিমান পাঠানো হয়েছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বড় উদ্যোগ বলে বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন।

মোতায়েন করা বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স), এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, এফ-২২, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এসব বিমানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে কার্গো বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকারও পাঠানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব তৎপরতা নিয়মিত ঘাঁটি বদলের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

মার্চে উপসাগরীয় অঞ্চলে আরো সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেয় পেন্টাগন। এর মধ্যে ইউএসএস ট্রিপোলিকে কেন্দ্র করে ট্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ ও ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট, ইউএসএস বক্সারকে কেন্দ্র করে বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ ও ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার সেনা ছিল। সব মিলিয়ে ওই দুটি মেরিন ইউনিটে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মেরিন ও নৌসদস্য যুক্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নতুন মোতায়েন কি যুদ্ধ আরো বাড়ার ইঙ্গিত?

সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে সরাসরি যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ আরো বাড়ানো হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, কোথায় হামলা চালানো হবে—এ ধরনের তথ্য তিনি প্রকাশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক শক্তি প্রদর্শনকে কূটনৈতিক আলোচনার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে ওয়াশিংটন।

গত সপ্তাহে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেয়। তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানায় তেহরান। ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় আনতে হবে। সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে দেশটির রেল ও গাড়ি শিল্পের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের অবশিষ্ট রাজস্বের উৎসগুলো আরও সংকুচিত করা। এর আগে গত মাসেও ইরান এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন।

কূটনৈতিক আলোচনাতেও নেই অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে জটিল ইস্যুগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ওই আলোচনায় ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করে। এতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির দাবি জানায় তেহরান।

ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এনবিসিকে বলেন, ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তার দাবি, এসব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তেহরান তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, নিউইয়র্কে ইরান যুদ্ধ বিক্রি করতে যায়নি, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গিয়েছিল।

এদিকে বৃহস্পতিবার টেক্সাসের ডেন্টনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না এলে কঠোর পরিণতিরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্প আরো প্রশ্ন তোলেন, ইরান কোনো চুক্তি করলে সেটি বাস্তবায়ন করবে কি না। তার বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করলে সেটি মানার নিশ্চয়তা থাকে, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে চুক্তি মানা হবে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।

ফলে একদিকে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক দর-কষাকষি চলছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও দ্রুত বাড়ছে। এই দুই ধারার পাশাপাশি অগ্রগতি আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

নতুন রণতরি নিয়ে ১০ হাজার মার্কিন সেনা, তীব্র হতে পারে ইরান যুদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় কারাওইন, ৮৫৯ সালে মরক্কোয় প্রতিষ্ঠা করেন ফাতিমা

উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ মরক্কোর একটি প্রাচীন শহরের নাম 'ফেজ'। পাহাড়ঘেরা শহরটির রাস্তাগুলো এতটাই সরু ও আঁকাবাঁকা যে, সেখান দিয়ে ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচল করতে পারে না। ফলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য গাধা এবং গরুর গাড়িই বাসিন্দাদের প্রধান ভরসা।

পাহাড়িপথ ধরে মূল শহরে প্রবেশ করতেই পরস্পর সংযুক্ত এমন অসংখ্য গলি চোখে পড়ে, যেগুলো দেখে দর্শনার্থীদের মনে হতে পারে যে, তারা একটি গোলকধাঁধার মধ্যে এসে পড়েছেন।

কিন্তু শহরের যেকোনো প্রান্তের উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে কেউ যদি কেন্দ্রের দিকে তাকান, তাহলে প্রথমেই যে দৃশ্যটিতে তার চোখ আটকে যাবে, সেটি হচ্ছে- সবুজ রঙের সিরামিক টালি দেওয়া চমৎকার কিছু ছাদ। এসব ছাদের নিচেই গত সাড়ে এগারোশ' বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসছে একটি প্রতিষ্ঠান, যার বর্তমান নাম 'ইউনিভার্সিটি অব আল কারাওইন' বা আল কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়। কেউ কেউ এই একে 'আল কারাওইন' এবং 'আল কারাওইন' নামেও ডেকে থাকেন।

৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমান বিশ্বের 'প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো ও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। 'আল কারাওইন' চালু হওয়ার দু'শ বছরেরও বেশি সময় পর ১০৮৮ সালে ইতালিতে 'বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়' কার্যক্রম শুরু করে, যা ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত। এর বছর আটেকের মাথায় ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়েছিল তারও শত বছর পরে, ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে।

কিন্তু এগুলোর চেয়েও চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, আল কারাওইন নামের প্রচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একজন মুসলিম নারী, যার নাম: ফাতিমা আল-ফিহরি। কে ছিলেন এই ফাতিমা? কেন এবং কীভাবে তিনি সেই নবম শতকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর আমরা জানবো, কিন্তু তার আগে আরেকটি একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

ইউনেস্কো ও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস 'আল কারাওইন'কে বর্তমানে কার্যক্রম চালু রয়েছে- এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে 'সবচেয়ে প্রাচীন' বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর অর্থ আল কারাওইনের আগেও বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে থাকতে পারে, যেমন: প্রাচীন ভারতের তক্ষশীলা ও নালন্দার কথা জানা যায়, কিন্তু সেগুলো এখন আর চালু নেই। কিন্তু হাজার বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আল কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় এখনও সারাবিশ্বের শিক্ষার্থীদেরকে আকর্ষণ করে চলেছে।

কে ছিলেন ফাতিমা?

ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থে ফাতিমা আল-ফিহরি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তবে সেসব তথ্যের বেশিরই নেওয়া হয়েছে চতুর্দশ শতাব্দীতে লেখা একটি প্রাচীন ইতিহাস গ্রন্থ থেকে। 'রাওয আল-কিরতাস' নামের ওই বইটি লিখেছেন ইতিহাসবিদ ইবনে আবি জার। এটি মূলত ফেজ শহরের প্রচীন ইতিহাস বিষয়ক একটি গ্রন্থ।

ইতিহাসবিদ ইবনে আবি জারের দেওয়া তথ্যমতে, ফাতিমা আল-ফিহরি'র ছিলেন আরবের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের উত্তরসূরি। তার পূর্বপুরুষরা পেশায় বণিক ছিলেন। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে তাদের যাতায়াত ছিল। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এক সময় তারা তিউনিসিয়ার কাইরুয়ান শহরে যান এবং সেখানে বসতি গড়ে তোলেন।

ওই শহরেই আনুমানিক আটশ' খ্রিস্টাব্দের দিকে জন্ম হয় ফাতিমা আল-ফিহরি'র। তার পুরোনাম ছিল- ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ আল ফিহরি আল কুরাইশিয়া। বাবা মুহাম্মদ আল ফিহরিও ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দীর্ঘদিন ব্যবসায় মন্দা চলার একপর্যায়ে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন এবং ভাগ্য ফেরানোর আশায় নবম শতাব্দীর প্রথমভাগে মরক্কোয় পাড়ি জমান।

সম্পদ লাভ

মরক্কো যাওয়ার পর ক্রমেই আর্থিক অবস্থা ফিরতে থাকে মুহাম্মাদ আল ফিহরি'র। পরিবার-পরিজন নিয়ে একপর্যায়ে তিনি ফেজ শহরে থিতু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফেজ তখন ক্রমেই ওই এলাকার ব্যবসা বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে শুরু করেছে। পরবর্তীতে মুহাম্মদ আল ফিহরি রীতিমত ধনী ব্যবসায়ীতে পরিণত হন।

এই ব্যবসায়ী তার ছেলে-মেয়েদের সবাইকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছিলেন। ছোটবেলায় পরিবারের কাছ থেকেই ইসলামি রীতি-নীতির শিক্ষা পান ফাতিমা আল-ফিহরি। পরবর্তীতে তিনি কোরান-হাদিসের পাশাপাশি ফিকাহ বা ইসলামি আইনশাস্ত্রসহ আরো অনেক বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

বড় হওয়ার পর ফেজ শহরেই একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে হয় ফাতিমার। কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই তার জীবনে যেন দুর্যোগ নেমে আসে। স্বামীকে হারিয়ে অল্প বয়সেই বিধবা হন ফাতিমা। কাছাকাছি সময়ে বাবা এবং ভাইকেও হারান। ফলে উত্তরাধিকারসূত্রে পরিবারের বিপুল সম্পত্তির মালিকানা চলে যায় ফাতিমা আল-ফিহরি এবং তার বোন মারিয়াম আল-ফিহরির নামে।

'আল কারাউইয়্যিন' প্রতিষ্ঠা

উত্তরাধিকারসূত্রে বিপুল সম্পত্তির মালিকানা পাওয়ার পর ফাতিমা এবং তার বোন মারিয়াম সিদ্ধান্ত নেন যে, সেগুলো তারা কোনো বিলাসিতার উদ্দেশ্যে ব্যয় করবেন না। তারা স্থির করেন, সম্পদ দিয়ে এমন কিছু করবেন যা ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজে আসবে।

ফেজে তখন মুসলিমদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। তাদের কথা মাথায় রেখে শহরে বড় মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন দুই বোন। মারিয়াম আল-ফিহরি তার সম্পত্তির বেশিরভাগ অংশ ব্যয় করে বড় একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যেটি 'আল আন্দালুস মসজিদ' নামে পরিচিত।

চমৎকার কারুকার্যখচিত ওই মসজিদটির আয়তন এতটাই বিশাল যে, সেখানে একসঙ্গে প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। অন্যদিকে, ফাতিমা আল-ফিহরিও তার ভাগের অর্থ-সম্পদ খরচ করে আরেকটি বড় মসজিদ তৈরি করেন। তবে অন্য মসজিদগুলোর তুলনায় সেটি ছিল ব্যতিক্রম।

মসজিদ কমপ্লেক্সের নকশায় নামাজ পড়ার জায়গার পাশাপাশি বিশাল একটি ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র বা মাদ্রাসাও রাখেন ফাতিমা। ইতিহাসবিদদের মতে, হিজরি ২৪৫ সালের (৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ) পহেলা রমজানে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরের দুই বছরের মধ্যে মসজিদের মূল ভবন তৈরি হয়ে যায়। তবে মাদ্রাসাসহ পুরো কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ১২ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সময় লেগে গিয়েছিল বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতিহাসবিদ ইবনে আবি জার তার 'রাওয আল-কিরতাস' বইতে উল্লেখ করেছেন যে, ফাতিমা নিজে সার্বক্ষণিকভাবে মসজিদ কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ তদারকি করতেন। এক্ষেত্রে তিনি এতটাই নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন যে, মসজিদ কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত টানা রোজা রেখেছিলেন বলেও জানা যায়।

নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ফাতিমা তার জন্মস্থান তিউনিসিয়ার কাইরুয়ান শহরের নামের সঙ্গে মিল রেখে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সটির নামকরণ করেন 'আল কারাওইন'। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, ফেজ শহরের যে এলাকায় ফাতিমা ও তার পরিবারের সদস্যরা বসবাস করতেন, সেখানকার বাসিন্দাদের বড় অংশই কাইরুয়ান থেকে এসে সেখানে বসতি গড়ে তুলেছিলেন।

সেজন্য ফেজের বাকি অংশের বাসিন্দাদের কাছে এলাকাটি পরিচিত পায় 'কারাওইন' নামে, যার অর্থ 'কাইরুয়ান থেকে আসা ব্যক্তিগণ'। সেই ধারাবাহিকতায় মসজিদ কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হয়েছিল 'আল কারাওইন'।

হাজার বছরের পথচলা

কমপ্লেক্সটি প্রাচীন ফেজ শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সেখানকার মূল স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা এবং একটি গ্রন্থাগার। কমপ্লেক্সের একেবারে কেন্দ্রে আল কারাউইয়্যিন মসজিদের অবস্থান। সেখানে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্যও আলাদা নামাজ পড়ার জায়গা রাখা হয়। মসজিদের দিকে তাকালেই ছাদে একটি বড় মিনার চোখে পড়ে। ওই মিনার থেকে প্রতিদিন নামাজের আগে আজানের শব্দ ভেসে আসে।

মসজিদের বাইরের অংশে বেশ বড় একটি খালি আঙিনা দেখা যায়। সেখানে মার্বেল পাথরের তিনটি ফোয়ারা রয়েছে, যা মুসল্লিদের ওযু করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শুরুর দিকে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ১০০ ফুট, যা পরবর্তীতে আরো বড় করা হয়েছে। এটি প্রথমবার সংস্কার করা হয়েছিল ৯৫৬ সালে। কর্ডোবার তৎকালীন শাসক তৃতীয় আব্দুর রহমানের উদ্যোগে তখন মসজিদটি আরো বড় করা হয়। এতে মসজিদের সামনের খোলা জায়গাটিও আগের জায়গা থেকে পেছনে সরে যায়। আর ওপরের সাদ রঙের মিনারটি স্থানান্তর করে মসজিদের উত্তরপাশের দেয়ালে স্থাপন করা হয়।

এরপর দ্বাদশ এবং ষোড়শ শতাব্দীতে আরো দু'বার মসজিদের আকার সম্প্রসারণ করা হয়। এভাবে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭২ ফুটে দাঁড়িয়েছে, যা এটিকে আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম মসজিদে পরিণত করেছে। সেখানে প্রায় ২২ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের ছাদে পাঁচটি গম্বুজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রবেশদ্বারটির ওপরে থাকা গম্বুজটি ভেতরের অংশ অত্যন্ত কারুকার্যমণ্ডিত। ভবনের মাঠের দরজা এবং উঁচু দেয়ালেও চমৎকার সব নকশা চোখে পড়ে।

সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার

মসজিদের বাইরে আল কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক একাডেমিক ভবন এবং ছাত্রাবাস যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার।মারিনিড রাজবংশের শাসনামলে ১৩৫৯ সালে গ্রন্থাগারটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই গ্রন্থাগারে মধ্যযুগের ২০ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে, যেগুলো মূলত হাতে লেখা। এর মধ্যে চার হাজারের মতো 'দুর্লভ গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি' অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইসলামী ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে গ্রন্থাগারের সংগ্রহে থাকা উল্লেখযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইমাম মালিক ইবনে আনাস রচিত বিখ্যাত হাদিস সংকলন 'আল-মুওয়াত্তা'-র খণ্ডসমূহ, ইবনে ইসহাক রচিত 'আল-সিরাহ আন-নাবাওয়িয়্যাহ' বা ইসলামের নবী মোহাম্মদের জীবনী, ইবনে খালদুনের ঐতিহাসিক গ্রন্থ 'মুকাদ্দিমাহ ' ও 'আল- ইবারে'র মূল পাণ্ডুলিপি।

এছাড়াও লাইব্রেরিটিতে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের একটি প্রচীন পাল্ডুলিপি পাওয়া যায়, যা ১৬০২ সালে সুলতান আহমদ আল মনসুর গ্রন্থাগারটিতে দান করেছিলেন। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এই লাইব্রেরির সর্বশেষ সংস্কারের সময় ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপিগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার নির্মাণ করা হয়। গ্রন্থাগারটিতে ষোড়শ শতাব্দীর একটি ভল্ট রয়েছে, যেখানে একটি দুর্ভেদ্য তামার দরজা আছে। সেই দরজায় চারটি তালা রয়েছে এবং এটি খুলতে চারজন চাবিধারীর প্রয়োজন হয়। 'দুর্লভ গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপিগুলো' ওই নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষিত আছে।

সনদ প্রথা চালু

ফাতিমার হাতে প্রতিষ্ঠিত আল কারাওইনকে কেন্দ্র করে ফেজ হয়ে উঠতে থাকে আফ্রিকার ইসলামী শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এখানে জ্ঞানার্জন করতে পারতো। তবে তাদের পড়ার জায়গা ছিল পুরুষদের থেকে আলাদা। এমনকি ফাতিমা নিজেও এখানে অধ্যয়ন করতেন বলে জানা যায়।

প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে মাদ্রাসাটি মূলত ইসলামী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিত। কিন্তু পরবর্তীতে ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ, আইন, গণিত, সঙ্গীত, দর্শন, সুফিবাদ, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যন্ত এর পরিধি বিস্তৃত হয়। শুধু মুসলমান না, মধ্যযুগের অনেক খ্যাতিমান ইহুদি এবং খ্রিস্টান মনীষীও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন। এর ছাত্রদের মধ্যে একজন ছিলেন পোপ দ্বিতীয় সিলভাস্টার, যিনি এখান থেকে আরবি সংখ্যাপদ্ধতি বিষয়ে ধারণা লাভ করে সেই জ্ঞান ইউরোপে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত ছিলেন বিখ্যাত মালিকি বিচারপতি ইবনে আল-আরাবি, ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন এবং জ্যোতির্বিদ নূরুদ্দীন আল-বিতরুজি।

মরক্কোর ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আল-মানুনি'র মতে, আনুমানিক ১০৪০ থেকে ১১৪৭ সালের মধ্যে মাদ্রাসাটি উচ্চশিক্ষার একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদেরকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সনদ প্রদান করা হতো। বেশিরভাগ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা একমত হয়েছে যে, আল কারাউইয়্যিনই ছিল বিশ্বের প্রথম ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৩ সালে একটি রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে একে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার উদ্যোগ গ্রহণ করে মরক্কো। ১৯৬৫ সালে আল কারাউইয়্যিন নামের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি যুক্ত করা হয়।

বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় কারাওইন, ৮৫৯ সালে মরক্কোয় প্রতিষ্ঠা করেন ফাতিমা

গাজায় শিশুসহ সবাইকে হত্যার পক্ষে তরুণ ইসরাইলিরা: ইয়ার লাপিদ

ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ জানিয়েছেন, তিনি একদল তরুণ ইসরাইলির সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন যারা গাজা উপত্যকার সকল ফিলিস্তিনিকে—এমনকি শিশুদেরও—হত্যা করার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল।

একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে লাপিদ এই মন্তব্য করেন; সম্প্রতি সেই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

লাপিদ বলেন, খুবই তরুণ একদল মানুষের সঙ্গে আমার একটি বেদনাদায়ক সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাদের মুখে সবাইকে হত্যার আহ্বান এবং কেউই নিরপরাধ নয়—এমন বক্তব্য শুনেছি।

তিনি জানান, এরপর ওই তরুণদের তিনি প্রশ্ন করেন, শিশুদেরও?

লাপিদের ভাষ্যমতে, তারা উত্তরে বলেছিল: শিশুদেরও, কারণ শেষ পর্যন্ত তারা বড় হয়ে সন্ত্রাসীই হবে।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় যে গণহত্যা চালিয়েছে, তাতে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন; যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চরম শক্তি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে এবং বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে আনার পক্ষে নানা মন্তব্য করেছেন।

গাজায় শিশুসহ সবাইকে হত্যার পক্ষে তরুণ ইসরাইলিরা: ইয়ার লাপিদ
ছবি: সংগৃহীত।

সিলিন্ডার বাজারে অরাজকতা, বাড়ছে ৫০০-৭০০ টাকা by জিয়াউল হক মিজান

দোকানে লাইন ধরে সাজানো এলপিজি সিলিন্ডার। বিক্রেতার দাবি, বেশির ভাগই খালি। কিছুতে গ্যাস থাকলেও সেগুলো বিক্রির জন্য নয়; অর্ডারের মাল, শুধু ডেলিভারির অপেক্ষা। তবে প্রতি সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে হাজার টাকা বাড়তি দিলেই পাঁচ মিনিটে মিলছে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার। পাশের গুদাম থেকে এনে রিকশায় তুলে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতার হাতে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলছেন, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। আমদানিকারকেরাও মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সরবরাহে ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন। ফলে গৃহস্থালি ও রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে বাজারে একধরনের লুকোচুরি চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমদানিকারক, সরবরাহকারী, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন নেই। একদিকে পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকট, অন্যদিকে বোতলজাত গ্যাসের বাজারে এই অরাজকতাÑসব মিলিয়ে রান্নার জ্বালানি নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কোটি কোটি গ্রাহক। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

বিইআরসি নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ১২ কেজির একেকটি সিলিন্ডার ১,৫৮৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২,২৫০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। কোনো কোনো দোকানে ৩ হাজার টাকা চাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুচরা দোকানে ৩৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৫,৩৫০ থেকে ৫,৮০০ টাকায়। যদিও সরকার নির্ধারিত দাম ৪,৬২৪ টাকা। ৫,৯৪৫ টাকার ৪৫ কেজির সিলিন্ডার দোকানিরা বিক্রি করছেন ৬,৭৫০ থেকে ৭,০০০ টাকায়। ১,৯৮২ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া ১৫ কেজির একেকটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,৫৫০ থেকে ৩,০০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়টি সবপক্ষই জানেন কিন্তু মুখে স্বীকার করছেন না। সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে আমদানিকারকরা বলছেন, আমদানি ও সরবরাহে ঘাটতি নেই। অথচ অনেক আমদানিকারক এলপিজি আমদানির সিডিউলই নিশ্চিত করতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়েছে এলপিজি আমদানিতে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়েকগুণ বেড়েছে জাহাজ ভাড়া। ফলে বেশি দাম দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে এলপিজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বেশকিছু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আমদানি বন্ধ রেখেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আমদানিকারক বলেন, এলপিজির মূল্য নির্ধারণের সময় বিইআরসি টনপ্রতি ১৬০ ডলার প্রিমিয়াম ধরে হিসাব করেছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে। বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করতে না পারায় কেউ কেউ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একই সময়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পর্যাপ্ত কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোরও কেউ কেউ চুক্তির পুরো পরিমাণ পণ্য পাচ্ছে না।

তবে গত সোমবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এলপিজি অপারেটররা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে আশ্বস্ত করেন, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। আশ্বাসের পক্ষে গতকাল তারা একটি বিবৃতিও দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ফোন ধরেননি কোনো নেতা।

দেশের বর্তমান এলপিজি আমদানির পরিমাণ, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজারদর এবং আনুষঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যুৎমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক চিত্র উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, গত আগস্টে এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনে এক লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন এলপিজি আমদানি করা হয়। আমদানিকারক ও অপারেটররা দেশের জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে বলেও দাবি করেন।

দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশই যায় গৃহস্থালির রান্নায়। পরিবহন ও শিল্পকারখানায়ও এর ব্যবহার রয়েছে।

এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা এবং ১৯ এপ্রিল আরো ২১২ টাকা বাড়ানো হয়। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয়। চলতি মাসের দাম নির্ধারণ করা হয় গত ২ সেপ্টেম্বর।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বিইআরসি দাম পুনর্নির্ধারণ করতে পারে। এ আশঙ্কায় খুচরা বিক্রেতাদের কেউ কেউ বিক্রির চেয়ে মজুতের দিকে বেশি ঝুঁকছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়টি জানলেও এখনই কঠোর অভিযান চালাতে ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিইআরসির কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, অভিযান চালানো হলে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে সরবরাহ আরো কমে সংকট বাড়তে পারে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে এলপিজির বাড়তি দামের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সংকটের সময় অভিযান চালানোর ঝুঁকি রয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা দোকান বন্ধ করে দিলে সরবরাহ আরো কমতে পারে। আমদানি অব্যাহত রাখা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা

এদিকে দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক রয়েছে জানিয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধ মজুত করা হলে সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক।

লোয়াব জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ১.৫৬ লাখ টন এবং আগস্ট মাসে ১.৫৮ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করেন বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করেন, তবে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটরিং করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা বজায় রাখবে।

সিলিন্ডার বাজারে অরাজকতা, বাড়ছে ৫০০-৭০০ টাকা
সিলিন্ডার

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের : সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মার্ক কার্নি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় এসেছেন। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার কথা।

পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে কার্নির নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। সে সময় তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স এবং সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসের চেয়েও এগিয়ে ছিলেন। তবে সোমবার সন্ধ্যায় কার্নির সম্ভাবনা কমে ৫ শতাংশে নেমে যায়। তখন সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স তার ওপরে ছিল। ট্রাম্পের সম্ভাবনা ছিল ২ শতাংশ।

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্প গত বছরজুড়ে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাতের অবসানে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং এ কারণে পুরস্কারটি তার প্রাপ্য। চলতি মাসের শুরুতে ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, কিন্তু নোবেল পুরস্কার পাননি।

ট্রাম্প ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাচাদোর কাছ থেকে তিনি নোবেল পদক পেয়েছেন। তবে মাচাদো নিজে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেননি; এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেও কানাডার স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন অবস্থানের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যের পর তিনি উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পান।

কার্নি বলেন, কানাডা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে এবং আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কানাডার মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রাখে। মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন, সংহতি, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান—এসব মূল্যবোধকে তিনি গুরুত্ব দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সম্পর্কও সম্প্রতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলেছেন এবং কার্নিকে ‘কানাডার ভবিষ্যৎ গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর জবাবে কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।

অন্যদিকে ইরান নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান কঠোর হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটিকে ধ্বংস করার হুমকি দেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিতে কার্নির নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ট্রাম্পের পুরস্কার প্রত্যাশার সঙ্গে নতুন করে তুলনা তৈরি করেছে। তবে পূর্বাভাস কোনোভাবেই নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নয়। আগামী ৯ অক্টোবর পুরস্কার ঘোষণার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

ট্রাম্প-বিরোধী অবস্থান নিয়ে নোবেল দৌড়ে কার্নি
২০২৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে কানাডার স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নিজের প্রভাব বাড়িয়েছেন মার্ক কার্নি । এরই মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে-চলতি বছরের শেষে নোবেল শান্তি পুরস্কার কিংবা টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার ‘কালশি’তে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কার্নি সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠে এসেছিলেন। ব্যবসায়ীরা তার জয়ের সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ বলে ধারণা করেছিলেন। পরে সেই হার কমে যায়। তবে নোবেল কমিটির গোপন সংক্ষিপ্ত তালিকায় কার্নির নাম রয়েছে এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তীব্রভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কার্নির এই অবস্থানই তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এনেছে বলে কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন। এদিকে টাইম ম্যাগাজিন ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় কার্নিকে স্থান দিয়েছে। পূর্বাভাস বাজারগুলোতেও তিনি ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচনে সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থীদের একজন। পুরস্কারটি ঘোষণা হবে ১০ ডিসেম্বর। জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কার্নি বলেন, পুরোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য বৃহৎ শক্তির ওপর নির্ভর না করে মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এরপর কানাডা ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও কার্নি সম্প্রতি উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে কার্নির অবস্থানই তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি বাড়িয়েছে। সূত্র: বার্তা সংস্থা এপি

ইরানি জাতির সাহস ও দৃঢ়তায় বিস্মিত বিশ্ববাসী: পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানি জাতির সাহস, বীরত্ব ও দৃঢ়তা পুরো বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। মস্কোয় ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের ২৩তম বার্ষিক সভায় তিনি বলেন, বিশ্ব গভীরভাবে ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির জনগণের প্রতিরোধে হতবাক হয়ে গেছে।

পুতিন বলেন, ইরানের প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দক্ষ নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী পরিসর রয়েছে। এসব নেতার অনেকেই দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগে প্রস্তুত।
বিজ্ঞাপন

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি হত্যাকাণ্ডকে ‘বিরাট ভুল’ বলে মন্তব্য করেন পুতিন। তার মতে, লারিজানি ছিলেন সমঝোতাপ্রবণ ব্যক্তি এবং ইরানের জনগণের স্বার্থে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে আগ্রহী ছিলেন।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে রাশিয়ার প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন পুতিন। তিনি বলেন, একপর্যায়ে ইরান রাশিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে সম্মত হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর হওয়ায় আলোচনা জটিল হয়ে পড়ে। পুতিন জানান, ইরানের ভূখণ্ডে রাশিয়া-ইরানের যৌথ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবও মস্কোর পক্ষ থেকে এখনো বহাল রয়েছে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা প্রকাশ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে সংকটের সমাধানে রাশিয়া মধ্যস্থতা ও সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়া ও ইরানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিও করেছে এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ।

সূত্র: প্রেসি টিভি

ইরানি জাতির সাহস ও দৃঢ়তায় বিস্মিত বিশ্ববাসী: পুতিন
ছবি: প্রেস টিভি

যুক্তরাষ্ট্রে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আইনজীবী র‌্যান্ডি স্পাইভি বিবিসিকে বলেন, পাইক ‘সংকটাপন্ন অবস্থায় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা’ নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জীবিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী।

৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৮ বছর বয়সে পাইক ও তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপ স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। আইনজীবীদের দাবি, তাকে পরপর দুই দফা প্রাণঘাতী ডোজ পেন্টোবার্বিটাল দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবী স্পাইভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার শরীরে শিরায় ইনজেকশন দেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার বাঁ হাতেই অন্তত সাতটি সূচ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। একটি সূচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় দেখা যায় বলেও জানান তিনি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের একটি পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে জানান স্পাইভি। দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন, এটি স্পষ্ট হওয়ার পরও পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, সে বিষয়ে তারা কিছু জানতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

পাইকের আইনজীবীরা এখন তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে অন্য শাস্তিতে রূপান্তরের (কমিউট) আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তারা। আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, পাইক সুস্থ হয়ে ওঠার পর তার নিজের মতামত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে এ ঘটনায় টেনেসির গভর্নর বিল লি অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার গভর্নর লি বলেন, ঘটনাটির তদন্ত ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে’ করা হবে। তবে তদন্ত শেষ করতে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রত্যক্ষ করতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ‘একটি বিশৃঙ্খলা’ হয়ে গিয়েছিল।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার আগে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালত প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পথ খোলা রাখে।

সূত্র: বিবিসি

ক্রিস্টা পাইক। ছবি: বিবিসি
ক্রিস্টা পাইক। ছবি: বিবিসি

পিন্টুর বোন, নিউটনের স্ত্রী থেকে এমপি: মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান-পতনের গল্প

স্বামী সাইদুর রহমান ওরফে নিউটন খুন হওয়ার পর তারই নির্বাচনি ওয়ার্ডে উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টি। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কমিশনার হিসেবে স্থানীয় সরকারে যাত্রা শুরু হয় তার। এর আগে কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতি ও ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। পরে ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

চলতি বছরের মে মাসে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেন মিষ্টি। তবে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়।

মিষ্টির স্বামী নিউটন ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার। তার বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুও ছাত্রদলের সভাপতি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত এই দুই নেতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি মিষ্টির নিজের রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দলীয় দায়িত্ব পালন এবং মামলা মোকাবিলার ইতিহাস।

সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির নাম সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে দুই দশক আগে তার স্বাক্ষরে করা আবেদন এবং হামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

ছাত্রদল থেকে ওয়ার্ডের নির্বাচনে

মিষ্টির জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, পেশায় ব্যবসায়ী। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস নির্বাচিত হন। বড় ভাই পিন্টুও তখন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

কলেজের রাজনীতি থেকে মিষ্টি পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসেন। ২০০২ সালে স্বামী নিউটন খুন হওয়ার পর অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে নয়, সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটারদের সরাসরি ভোটে কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন মিষ্টি।

পরবর্তী সময়েও সাধারণ ওয়ার্ডের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি তৃতীয়বারের মতো সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সে সময় এলাকার কয়েকটি সমস্যা সমাধানের দাবিও করেছিলেন।

কাউন্সিলর হিসেবে নিজের কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে মিষ্টি বলেছিলেন, এলাকায় গ্যাসলাইনের সমস্যার সমাধান করেছেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে শিশুদের জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেছেন। তার দায়িত্ব পালনের সময়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমেছিল বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

গৃহকর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন মিষ্টি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আয়োজিত একটি শোভাযাত্রায় তিনি নেতৃত্ব দেন। এতে স্কুলশিক্ষার্থী, গৃহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। ওই সময় তার নির্দেশনায় ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে কর্মরত গৃহকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

মহানগর বিএনপিতেও দায়িত্ব

স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি মহানগর বিএনপিতেও দায়িত্ব পান মিষ্টি। ২০১৮ সালে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। ওই বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতে মিষ্টি ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক। চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপি তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়। সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত হয়ে ৩ মে শপথ নেন তিনি। এটিই ছিল তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদ।

স্বামী নিউটন যেভাবে খুন হন

মিষ্টির স্বামী নিউটনের রাজনৈতিক জীবনও শুরু হয়েছিল ছাত্রদল দিয়ে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেজগাঁও কলেজে পড়ার সময় তিনি সংগঠনটিতে যুক্ত হন। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের দায়িত্ব পেরিয়ে মহানগরে আসেন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হন।

২০০২ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন নিউটন। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। কমিশনার হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন দিন পর, ওই বছরের ১০ মে ধানমন্ডিতে গুলিতে নিহত হন তিনি।

দলীয় পদ ও নির্বাচনি সাফল্যের পাশাপাশি নিউটনের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও ছিল। সে সময় তার বিরুদ্ধে ৩৬টি ফৌজদারি মামলার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আগের আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক কারণে এসব মামলা করেছিল।

হত্যাকাণ্ডের দিন ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ধানমন্ডিতে এসেছিলেন নিউটন। অর্কিড প্লাজার একটি সেলুন থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় তাকে গুলি করা হয়। হামলায় তার গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। নিউটনের মা রাবেয়া বেগম সেদিনই ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটিতে ২০০৬ সালের ২৪ মে বিচারিক আদালত ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১১ সালে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে খালাস দেন। কালা জাহাঙ্গীরসহ বাকি সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। অন্য তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।

নিউটন নিহত হওয়ার পর তার ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে অংশ নেন মিষ্টি। ওই নির্বাচনে জয় দিয়ে তার স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের শুরু। এরপর দলীয় রাজনীতি ও স্থানীয় নির্বাচনে সক্রিয় থাকেন তিনি।

ছাত্রদলের সভাপতি থেকে সংসদে পিন্টু

মিষ্টির বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ছিলেন পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক বিএনপির পরিচিত নেতা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি দুই পদেই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন।

ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পিন্টু। পরে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব থেকে জাতীয় সংসদ ও মূল দলের দায়িত্বে আসেন তিনি।

২০০১ সালে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকার গঠন করার আড়াই মাসের মধ্যেই গ্রেপ্তার হন পিন্টু। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, একটি দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিলামের দরপত্রের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।

২৯ দিনের মাথায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন বিএনপি সরকার। ২০০৫ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।

পিন্টু পিলখানা হত্যা মামলায় দণ্ডিত হন। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা ওই মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন তিনি।

কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের উদ্যোগ নেন পিন্টু। তবে দণ্ডিত হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি তিনি।

২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর পিন্টুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা জানানো হয়।

তার মৃত্যুর পর পরিবার ও বিএনপি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলে। চিকিৎসক রইস উদ্দিনও হাসপাতালে নিতে বিলম্ব এবং আগের দিন কারাগারে গিয়ে পিন্টুকে দেখতে না পারার অভিযোগ করেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

স্বামী ও ভাইয়ের মৃত্যুর পরও মিষ্টি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মহানগর সংগঠনে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন।

রাড্ডার ঘটনায় পুরোনো আবেদন সামনে

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। এরপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে সমিতির পক্ষ থেকে অতীতে করা আবেদনের তথ্য সামনে আসে।

২০০৬ সালে ওই সমিতির সভাপতি হিসেবে জায়গা বরাদ্দের আবেদনে মিষ্টির স্বাক্ষর ছিল। তখন তিনি শাহ আলী থানা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। অনুসন্ধানে হামলার আয়োজনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে। মিষ্টি অবশ্য সমিতির সঙ্গে বর্তমানে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, সমিতির সঙ্গে এখন তার সম্পর্ক নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গেও তিনি জড়িত নন।

হামলার ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার মামলা করেছেন। মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং জায়গা দখলের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনে একাধিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গত বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। বিএনপির তিনজন, ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকে বহিষ্কার করা হয়। তবে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির কারণ দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পাঁচ মাসেই শেষ সংসদীয় মেয়াদ

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফেরদৌসী আহমেদ ১ অক্টোবর পদত্যাগ করায় সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন, অর্থাৎ সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ একই তারিখে শূন্য হয়েছে।

চলতি বছরের ৩ মে শপথ নেওয়া মিষ্টির প্রথম সংসদীয় মেয়াদ শেষ হলো প্রায় পাঁচ মাসের মাথায়। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার, মহানগর বিএনপির দায়িত্ব এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ- দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাকে ঘিরে তার সংসদ সদস্য পদে ইতি ঘটল।

ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গ্রাফিক্স: কালবেলা
ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গ্রাফিক্স: কালবেলা

মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দেশটিতে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প এর আগে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা বলছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া নতুন নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী বহর এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। দুটি জাহাজসহ এ বহরে সাত হাজারের বেশি নাবিক ও দুই হাজারের বেশি মেরিন সদস্য রয়েছেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে একই সময়ে তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে। সংবেদনশীল সামরিক কার্যক্রম নিয়ে কথা বলায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ তথ্য জানান।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কয়েকশ সামরিক বিমানও এ অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরী বহর মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে এ অঞ্চলে রয়েছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরী এবং ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।

সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত করতে। দীর্ঘ ওই মোতায়েনে আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা টানা ২৬০ দিনের বেশি সমুদ্রে ছিলেন। থিওডোর রুজভেল্ট বহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটনকে আবার জাপানের আশপাশের সমুদ্রসীমায় পাঠানো হতে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে নতুন করে বিমান হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা আরও বাড়ানো ‘সম্ভব’।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কৌশল জানাতে অস্বীকৃতি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এক বছর আগে যেসব শর্ত তিনি মেনে নিতেন না, এখনো সেসব শর্ত গ্রহণ করার অবস্থানে নেই।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী। ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী। ছবি: এপি

মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারীর খবর নাকচ সৌদি আরবের

সৌদি আরবের মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারী আটক হওয়ার খবর নাকচ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সৌদি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ব্যক্তিকে পথচারীদের হয়রানি করা এবং আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তবে তার কাছে বিস্ফোরক ছিল বা তিনি আত্মঘাতী হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন, এমন কোনো সত্যতা নেই।

এ বরাতে খবর প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পবিত্র নগরী মক্কায় নিরাপত্তা বাহিনী পথচারীদের হয়রানি এবং তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিস্ফোরকভর্তি পোশাক পরা এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী গ্র্যান্ড মসজিদে কাবার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটক করেন বলেও দাবি করা হয়।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে। গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কাবা মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদ ও কাবা শরিফ। পুরোনো ছবি
পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদ ও কাবা শরিফ। পুরোনো ছবি

ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।

সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’

এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’

সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

ইরান নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট ৭১ শতাংশ মার্কিনি

ইরান ও দেশটির সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি দেশটির নাগরিকদের বড় একটি অংশ অসন্তুষ্ট। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের (এপি-এনওআরসি) এক নতুন জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৭১ শতাংশ মার্কিনি ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করেননি। অন্যদিকে ৬৯ শতাংশ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ মার্কিনি দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন। অর্থাৎ ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়টি এরই মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনায় এসেছে। যুদ্ধের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদে জুন মাসে একটি প্রস্তাব পাস হয়। সেপ্টেম্বর মাসে সিনেটেও এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা অল্প ব্যবধানে আটকে যায়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্টের নীতির ওপর আইনপ্রণেতাদের নজরদারি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি সামরিক অনুমোদন ও যুদ্ধের অর্থায়ন নিয়েও কংগ্রেসে নতুন করে ভোটাভুটির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

জরিপের ফলাফল এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইউরিন ইনফেকশন নেই, তবু কেন প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করে by ডা. আফলাতুন আকতার জাহান

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা কিটকিট করা অনেকের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সময় জ্বালা করলে অনেকে ধরে নেন, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বা মূত্রনালির সংক্রমণ হয়েছে। অনেকে কোনো পরীক্ষা–নিরীক্ষা না করে নিজে নিজে বা দোকানির পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে শুরু করেন। আদতে প্রস্রাবের কালচার টেস্ট না করে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। কারণ, কালচার পরীক্ষায় অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনই নেই। তার মানে অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া হয় এতে। সংক্রমণ ছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক ও পরিবেশগত কারণ প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার জন্য দায়ী হতে পারে। বিস্তারিত জানুন।

ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা

শরীরে পানি কম থাকলে মূত্র স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন হয়ে যায়। ঘন মূত্রে অ্যাসিডিটি বাড়ে, যা মূত্রনালির দেয়ালে জ্বালা সৃষ্টি করে। তখন প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ থেকে বাদামি হয়, দুর্গন্ধ হয় ও সামান্য পরিমাণে বারবার প্রস্রাবের চাপ হয়। তাই পানিশূন্যতা দেখা দিলে প্রস্রাবে জ্বালা হতে পারে, যা প্রচুর পানি খাওয়ার পর চলে যায়।

খাদ্য ও পানীয় থেকে প্রতিক্রিয়া

কিছু খাবার মূত্রনালিকে উত্তেজিত করে। যেমন—

* অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার।

* কফি, চা, কোমল পানীয়।

* অ্যালকোহল।

* টমেটো ও লেবুজাতীয় খাবার।

এসব খাবার প্রস্রাবে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে।

সাবান, সুগন্ধি বা রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়া

বেশি সুগন্ধিযুক্ত সাবান, বডি ওয়াশ, টয়লেট টিস্যু, স্যানিটারি ন্যাপকিন বা ফেমিনিন ওয়াশে থাকা রাসায়নিক উপাদান যোনিপথ বা মূত্রনালিতে জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব সৃষ্টি করতে পারে।

যৌনমিলনের পর

যৌনমিলনের সময় ঘর্ষণ, লুব্রিকেশনের অভাব বা শুষ্কতার জন্য যোনিপথে মাইক্রো ইনজুরি হতে পারে। এসব মূত্রনালিতে অস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এটি আবার ‘হানিমুন সিস্টাইটিস’ নামে পরিচিত, যদিও সংক্রমণ না–ও থাকতে পারে।

ইস্ট ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস

শুধু মূত্রনালির সংক্রমণ নয়, যোনিপথের ছত্রাক সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবের সময় জ্বালা করতে পারে। লক্ষণ হিসেবে সাদা দলা স্রাব, তীব্র চুলকানি, লালচে ভাব থাকে। অনেক সময় ইউরিন টেস্টে ইনফেকশন না ধরা পড়লেও যোনিপথের রস কালচার করে সংক্রমণ পাওয়া যায়।

হরমোনের পরিবর্তন

মেনোপজ, স্তন্যদানকাল বা হরমোনাল ভারসাম্যহীনতায় যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যায়। এ অবস্থায় মূত্রনালি সংবেদনশীল হয়ে জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

স্ট্রেস ও উদ্বেগ

মানসিক চাপ শরীরের হরমোন এবং নার্ভাস সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে স্ট্রেসের কারণে ব্লাডার অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে জ্বালা বা চুলকানির অনুভূতি বাড়ায়।

পাথর বা মূত্রনালির সমস্যা

অনেক সময় কিডনির পাথর বা মূত্রনালির ভেতরের ক্ষুদ্র প্রদাহও পোড়া অনুভূতি তৈরি করে। কিডনিতে পাথর হলে কোমরে ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, তীব্র চাপ অনুভূত হয়।

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কমাতে কী করবেন

* প্রচুর পানি খান।

* অতিরিক্ত ঝাল, কফি, চা, কোমল পানীয় পরিহার করুন।

* দই, ফারমেন্টেড খাবার যোনিপথের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

* সুগন্ধিযুক্ত সাবান ও ন্যাপকিন এড়িয়ে চলুন।

* ঢিলেঢালা ও সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

* জ্বালা ২-৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।

* প্রস্রাব কম হলে বা খুব ঘন হলে।

* তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে।

* যোনিপথে স্রাব বা চুলকানি হলে।

* বারবার প্রস্রাবের চাপ থাকলে।

* এসবের পাশাপাশি জ্বর থাকলে।

যেকোনো ধরনের প্রস্রাবজনিত জ্বালাপোড়াকে অবহেলা করা উচিত নয়। সংক্রমণ না থাকলেও এটি শরীরের কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, তাই সচেতন থাকুন, প্রয়োজন বুঝে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

* ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

প্রস্রাবের কালচার টেস্ট না করে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়; কারণ, কালচার পরীক্ষায় অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনই নেই
প্রস্রাবের কালচার টেস্ট না করে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়; কারণ, কালচার পরীক্ষায় অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনই নেই। ছবি: পেক্সেলস

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুতিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীসহ (মসজিদ আন-নববী) আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে জোটটি।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার পর পরিচালিত তদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, দুই ক্ষেত্রেই হুতিরা জড়িত ছিল।

তবে হুতি পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে সংগঠনটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সৌদি জোটের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব এর আগে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার যে অভিযোগ তুলেছিল, তার পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি আড়াল করতেই নতুন এ দাবি করা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মুসলমানদের দুই পবিত্র মসজিদ মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী, লক্ষ্য করে হুথিদের চালানো ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পবিত্র স্থান ও হাজি-ওমরাহ পালনকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের তাইজ গভর্নরেটে হুথিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। তাদের দাবি, হামলায় হুথি যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশে হুথিদের উৎক্ষেপণ করা চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া খামিস মুশাইত ও দক্ষিণাঞ্চলের জাজান শহরের আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে জোটটি।

সূত্র: আল জাজিরা

মসজিদে নববী। পুরোনো ছবি: এপি
মসজিদে নববী। পুরোনো ছবি: এপি

কবে ফুরাবে পৃথিবীর অক্সিজেন, জানাল নাসা

মানবসভ্যতার জন্য ভয়ংকর এক সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসবে যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আর শ্বাস নেওয়ার মতো অক্সিজেন থাকবে না। গাছপালা বিলুপ্ত হবে, প্রাণের অস্তিত্ব মুছে যাবে, আর পৃথিবী পরিণত হবে এক শুষ্ক ও মৃত গ্রহে।

নাসার নেক্সাস ফর এক্সোপ্ল্যানেট সিস্টেম সায়েন্স এবং জাপানের তোহো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, আজ থেকে প্রায় ১০০ কোটি বছর পর অক্সিজেনহীন হয়ে পড়বে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। ফলে তখন মানুষ তো দূরের কথা, কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদই এখানে টিকে থাকতে পারবে না।

এই ভয়াবহ পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সূর্য। এই নক্ষত্র ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, সূর্যের তাপ বৃদ্ধির কারণে একসময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড অণুগুলো ভেঙে যাবে। অথচ এই কার্বন ডাইঅক্সাইডই উদ্ভিদের জন্য অপরিহার্য, কারণ এ গ্যাস দিয়েই তারা সালোকসংশ্লেষণ করে অক্সিজেন তৈরি করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড না থাকলে গাছ বাঁচবে না, অক্সিজেন উৎপাদন বন্ধ হবে এবং ধাপে ধাপে বিলীন হবে প্রাণিকুল।

তোহো ইউনিভার্সিটির কাজুমি ওজাকি এবং জর্জিয়া টেকের ক্রিস্টোফার রেইনহার্ডের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, অক্সিজেন বিলীন হওয়ার পর পৃথিবীতে শুধু কিছু অণুজীব টিকে থাকতে পারবে, যারা অক্সিজেন ছাড়াই বেঁচে থাকে। আর তখন ভেঙে পড়বে ওজোনস্তরও। ফলে সূর্যের প্রাণঘাতী অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে প্রাণ বিকাশকে পুরোপুরি অসম্ভব করে তুলবে।

অক্সিজেন হারানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে বাড়বে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ। এই গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলবে, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। যদিও এ ঘটনা ঘটতে এক হাজার কোটি বছর বাকি, তবুও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন—এর প্রভাবের ইঙ্গিত হয়তো হাজার হাজার বছর আগেই দৃশ্যমান হতে শুরু করবে।

গবেষকদের মতে, এই তথ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—পৃথিবী কোনোভাবেই চিরকাল বসবাসযোগ্য নয়। সূক্ষ্ম এক ভারসাম্যের ওপর টিকে আছে আমাদের অস্তিত্ব, আর সেটি ভঙ্গুর ও ক্ষণস্থায়ী।

তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ ভবিষ্যদ্বাণী শুধু দূর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়, বরং আজকের জন্যও একটি বার্তা। প্রকৃতিকে রক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতা ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেওয়া সম্ভব নয়।

সূত্র: বিবিসি স্কাই এট নাইট ম্যাগাজিন
প্রতীকী ছবি।