Saturday, January 10, 2015
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ২০ গাড়ি ভাঙচুর, আগুন- ‘হরতাল-অবরোধে পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়েছে’ বগুড়ায় আহত ট্রাক চালকের মৃত্যু


About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ -রিজভী, কুলাউড়ায় বাসে অগ্নিসংযোগ , মহাখালীতে প্রাইভেটকারে আগুন


About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরাজগঞ্জে ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ২০, রোববার হরতাল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মেডিকেল কলেজ থেকে যেন রোগী মারার ডাক্তার বের না হয়’

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাঙামাটিতে সংঘর্ষে আহত ১৫, ১৪৪ ধারা জারি

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ খালেদা

বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটির সামনে ও ডান পাশে দুটি ফটক আছে। দুই ফটকের সামনে ও রাস্তায় পুলিশের প্রায় ১০০ জন নারী ও পুরুষ সদস্য এখনো পাহারায় আছেন। ৩ জানুয়ারি রাত থেকেই সেখানে পার্কিং করা অবস্থায় আছে পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান, দুটি জিপ ও চারটি মাইক্রোবাস। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবকেও গতকাল দুপুরে এ সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে। গতকাল পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি নিয়ে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। আবার অনেকে যেতে না পেরে ফটক থেকে ফিরে গেছেন। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, তাদের কাছে খবর ছিল ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার লক্ষ্যে খালেদা জিয়া ৩ জানুয়ারি রাতেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন। সমাবেশ করতে পারলে নেতা-কর্মীদের নিয়ে নয়াপল্টনে অবস্থান নিতে পারেন বলেও গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এ কারণে দুই দিন আগেই খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার কৌশল নেওয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শার্লি এব্দো – উসকানি দেয়াটাই যাদের ঐতিহ্য -ডয়েচে ভেলে

কী এমন ছাপিয়েছিল শার্লি এব্দো?
কোনো মুসলমান যদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে কেমন হবে দেশের পরিস্থিতি? – এটাই হলো বিতর্কিত ফরাসি লেখক মিশেল উলেবেক-এর সাম্প্রতিকতম উপন্যাসের কাহিনি৷ আর সেটা যে স্যাটায়ারে ভরপুর একটা গল্প – তা বলাই বাহুল্য৷ এখন এই উলেবেককেই তাদের সর্বাধুনিক সংস্করণের প্রচ্ছদ হিসেবে বেছে নিয়েছিল বাম ভাবধারায় বিশ্বাসী পত্রিকাটি৷ আর তাতেই যত সমস্যা!
এটা অবশ্য প্রথম নয়৷ এর আগেও বহুবার হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছেপেছে শার্লি এব্দো এবং সেজন্য একাধিকবার হুমকির মুখেও পড়েছে তারা৷ ২০০৬ সালে ডেনমার্কের ইলান্ড্স পোস্টেন পত্রিকায় হজরত মোহাম্মদের যে সব ব্যঙ্গচিত্র বেরিয়েছিল, তা সে সময়েই ছাপিয়েছিল ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরাসি এই ব্যঙ্গ-পত্রিকা৷ বলা বাহুল্য, সেই ব্যঙ্গচিত্রগুলো গোটা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ ও উষ্মার সৃষ্টি করে৷ চলে বিক্ষোভ, বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ডেনমার্ক ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের দূতাবাসের ওপর হামলা৷ এমনকি ২০১১ সালে প্যারিসে শার্লি এব্দো-র দপ্তরে বোমাও ছোঁড়া হয়৷ তা সত্ত্বেও কিন্তু পত্রিকাটি হজরত মোহাম্মদ এবং ইসলামকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও ছবি ছাপানো বন্ধ করেনি: বিশেষ করে তাদের শরিয়া সংস্করণটিতে সম্পাদকের নাম দেওয়া হয়েছিল প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ৷
ইসলামবিরোধী না বাকস্বাধীনতার সপক্ষে?
মুসলমান, অমুসলমান অনেকের কাছেই এ ধরণের লেখা ইসলামবিরোধী মনে হতে পারে৷ অনেকে হয়ত ব্যঙ্গাত্মক লেখার রসাস্বাদনে পটু নন, সক্ষমও নন৷ তবে এ পত্রিকাটি কিন্তু বরাবরই ধর্ম, সাধু-সন্ত, ঈশ্বর-আল্লাহকে নিয়ে রসিকতা করে আসছে, দিচ্ছে উসকানি৷ কারণ এখানেই স্যাটায়ারের মজা, এটাই যে তাদের ঐতিহ্য৷ অবশ্য শুধু ইসলাম নিয়ে কটাক্ষ নয়, একাধিকবার পোপকে নিয়েও ঠাট্টা-মশকরা করেছে শার্লি এব্দো, ক্যাথলিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়েছে বিরোধে৷ কিন্তু প্রতিবারই মামলায় জিতেছে তারা৷ ক্যাথলিক খ্রিষ্টানরা পোপকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় রুষ্ট হতে পারেন, কিন্তু শেষমেষ সেটা তাঁরা মেনে নেন৷ মুক্ত, গণতান্ত্রিক সমাজ এবং সরকারও এর বিপক্ষে যেতে পারে না৷ কিন্তু এবার একটা অনুরূপ অপরাধের জন্যই প্রাণ হারালেন শার্লি এব্দো-র প্রধান সম্পাদক স্টেফান শাবনিয়ের এবং জর্জে ভলিনস্কি, বের্বা ভের্লাক ও জঁ কাবুর মতো প্রতিভাধর কার্টুনিস্ট৷
আর তাই শার্লি এব্দো-র পত্রিকা অফিসে হামলার ধিক্কার জানিয়েছে, জানাচ্ছে অগুন্তি মানুষ৷ ফরাসি হ্যাশট্যাগ #জেসুইশার্লি, অর্থাৎ আইঅ্যামশার্লি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে৷ফ্রান্সের বেন পোয়েল লিখেছেন, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের নিস্তব্ধ করা যায়নি৷ ফ্রান্সের শার্লি এব্দো অনেকটা জার্মানির অন্যতম স্যাটায়ার পত্রিকা টিটানিক-এর মতো৷ তাই জার্মানিও দাঁড়িয়েছে তার পাশে৷ আইনজীবী এবং সাংবাদিক ডানিয়েল মার্টিনসন #এব্দো ব্যবহার করে যুক্তিসঙ্গত কারণেই লিখেছেন, বাকস্বাধীনতা, স্যাটায়ার এবং মুক্ত সমাজের জন্য এ ছিল একটা কালো দিন৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে জয় দেখতে পাচ্ছেন দুই প্রার্থীই
![]() |
| শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে ১৯৫ কিলোমিটার দূরের শহর তাঙ্গালার একটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত
![]() |
| রিয়াদ মনসুর |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কার্টুনিস্ট–লেখকদের নিন্দা ও উদ্বেগ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লাখো মানুষের প্রতিবাদ মিছিল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিজেপি নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে by ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক
ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পালন করেছে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করেছে। দেশে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। তার অভিমত, তথাগত রায়ের যুক্তিতে বোঝা যায়, ভারত সরকার আওয়ামী লীগ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে এবং হিন্দু ধর্মীয় লোকদের প্রকাশ্যে এ সরকারকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কী হতে পারে? তার বক্তব্য অনুযায়ী, তথাগত রায়ের বক্তব্যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির পরিষ্কার উসকানি বিদ্যমান। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু প্রশ্নটি অবান্তর। এ কথাটি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তার দৃষ্টিতে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশী। তথাগত রায়ের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশের চেয়ে আলাদা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দাদাগিরি সুবিদিত। বাংলাদেশের সৎ আকাক্সক্ষা ও শুভেচ্ছা ভারতের বৃহৎ প্রতিবেশীসুলভ দাম্ভিকতার ফলে এগোতে পারে না। পৃথিবীর অনেক দেশেরই বৃহৎ প্রতিবেশী থাকে। তবে বাংলাদেশ যে বৃহৎ রাষ্ট্রকে প্রতিবেশী হিসেবে পেয়েছে, তার আচরণ অন্য যে কোনো বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আচরণকে ম্লান করে দেবে। তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরেছেন, পানি সমস্যার বিষয় উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা সম্পর্কে তথাগত রায় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতীয় কংগ্রেসের ভরাডুবির পর বিএনপিকে আশ্বস্তবোধ করতে দেখা গেছে। বিএনপি দ্রুত গতিতে মোদির বিজয়কে অভিনন্দিত করেছে।
ড. মাহবুব উল্লাহ অভিমত ব্যক্ত করেছেন- ভারত একটি সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্র। পাশাপাশি বলেছেন, বর্তমান ভারত সরকার বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পর্কে কী মনোভাব পোষণ করছে তা তিনি জানেন না। তবে মোদি যদি বাংলাদেশ সফরে এসে এ সুযোগে সেরকম একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য জনচক্ষুর আড়ালেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাগাদা দেন, তাহলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার পথে সেটি হবে একটি শুভ উদ্যোগ। নরেন্দ্র মোদির সরকার নিশ্চয়ই তার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অবগত আছেন, বাংলাদেশে গত ছয় বছরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা খুব শান্তিতে দিনাতিপাত করতে পারেননি। তাদের মন্দির-বিগ্রহ ধ্বংস করা হয়েছে। এসব ঘটেছে কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তির লোভের ফলে। ক্ষমতাসীন দল এদের কতটা নিবৃত করতে পেরেছে সেটিও দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারত ও বাংলাদেশ পরস্পরের প্রতিবেশী দেশ এবং বিশ্বস্ত বন্ধু। আমাদের প্রতিটি গণআন্দোলনে ভারত নৈতিক সমর্থন দিয়েছে এবং উন্নয়ন-অগ্রগতিতে সহযোগিতা করছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত সর্বাত্মকভাবে আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। দলমত নির্বিশেষে ভারতবাসী এগিয়ে এসেছেন।
বিজেপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি তৎকালীন বিরোধী দলের অন্যতম নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সর্বদয়নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ ৭১-এর সেপ্টেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ভারত শরণার্থীদের আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে লাখ লাখ বাঙালির সঙ্গে হাজার হাজার মিত্র বাহিনীর সৈন্যও মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুততম সময়ে ১৯৭২ সালের মার্চে মিত্র বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গণপরিষদ ১৯৭২ সালে অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংবিধান রচনা করে, যা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত। স্থলসীমান্ত চুক্তি, গঙ্গার পানির ব্যাপারে অস্থায়ী সমঝোতা ও অন্যান্য চুক্তিও সম্পাদিত হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাতিল ও অন্যান্য নীতিমালাকে অকার্যকর করে ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদগামী শক্তিকে পুনর্বাসিত করা হয়। বিএনপি এ ধারাকে ধারণ করেই রাজনীতি করতে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু দলে দলে দেশত্যাগ করতে থাকে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলতে থাকে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত থাকে। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার ভারত সফরের সময় সমঝোতা স্মারকে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অভিবাসী বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভারতের কংগ্রেসি-অকংগ্রেসি সব সরকার ও দলই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও ক্রান্তিলগ্নে নৈতিক সমর্থনসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের বিষয়ে তাদের উৎকণ্ঠা প্রকাশ পেয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বিজেপি নেতার বক্তব্য যথাযথ বলে মনে করি। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও ভারত নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার প্রতি সমর্থন দিয়েছে। নির্বাচনের পর সরকারকে শুধু ভারত নয়, রাশিয়া ও চীনও সমর্থন দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও জাপান এ সরকারকে মেনে নিয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ ও বক্তব্যে আশা করা যায়, শিগগিরই তিস্তা চুক্তি হবে এবং সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংযোগ ও সহযোগিতা এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সমুদ্রসীমাও নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ড. মাহবুব উল্লাহ একদিকে হস্তক্ষেপের কথা বলছেন, অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য তাগাদা দেয়ারও অনুরোধ জানাচ্ছেন। এটা দ্বৈতনীতি (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) নয় কি? প্রসঙ্গত, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতকে তার ভাষায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারত বৃহৎ প্রতিবেশী ও শক্তিশালী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সীমান্তসহ অন্যান্য সমস্যা প্রায় সমাধান করেছে এবং দেশগুলোর অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সহযোগিতা করছে। সেক্ষেত্রে ভারতকে সম্প্রসারণবাদী আখ্যা দেয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। আসুন শান্তি, গণতন্ত্র ও অগ্রগতির পথে আমরা সবাই এগিয়ে যাই।
ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক রাষ্ট্রদূত
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিতে সবাই অসহায় থাকতে পারি না by মইনুল হোসেন
সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকেই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। ওইদিন (৫ জানুয়ারি) বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে দেখা গেছে এবং তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষিপ্রগতিতে গ্রেফতার করেছে। সবচেয়ে খারাপ হয়েছে দলটির শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে পুলিশ বেষ্টনীতে অবরুদ্ধ রাখা। সরকার জনসমর্থন হারিয়ে কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সেটাই প্রকটরূপে জনসম্মুখে ধরা পড়েছে। এমনকি পুলিশের বেষ্টনীও তাদের কাছে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি। তাই সরকারকে দরজায় তালা দিয়ে ইট-বালু ভর্তি ট্রাক জড়ো করে পথ অবরোধ করতে হয়েছে যাতে বেগম খালেদা জিয়া বেরিয়ে জনসভায় না যেতে পারেন। তাকে লক্ষ করে মরিচের গুঁড়া ছিটানো হয়েছে। ভেবে কষ্ট হয়, রাজনীতির নামে আর কত নোংরামি দেখতে হবে আমাদের!
অনেক আগে থেকেই সরকারের মন্ত্রীরা এবং তাদের লোকেরা এ ধরনের পরিকল্পনার কথা পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা বলছিলেন যে, বিএনপি নেতাকর্মীদের রাস্তায় বেরোতে দেয়া হবে না। তারা নিজেদের ভয়ভীতি ও আতংকের বিষয়টিও পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন এ ইঙ্গিত দিয়ে যে, তাদের মধ্যে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকার বেপরোয়া সংকল্প কাজ করছে। আর তাই সংলাপ ও নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার তীব্র অনীহা দেখিয়ে যাচ্ছে। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হল জনগণের ভোটের স্বাধীনতা। তাই এভাবে নির্বাচন না দিয়ে শুধু দল বা ব্যক্তির বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে না, সমগ্র জনগণের বাক স্বাধীনতা অস্বীকার করা হচ্ছে।
অবাধ নির্বাচনের প্রশ্নে জনগণকে মোকাবেলা করার অনিচ্ছা থেকে সরকার তার প্রিয় বক্তব্যই রেখে চলেছে- নতুন করে নির্বাচনও হবে না, সংলাপও হবে না। জনগণের ভোট ও জনমতের তোয়াক্কা না করেই তারা ক্ষমতায় থাকবে। এ ধরনের ভাষা পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে তো চলার কথা নয়।
গণতন্ত্রের যে সংজ্ঞাই দেয়া হোক না কেন, অবাধ নির্বাচন এড়িয়ে এবং বিরোধীদের কোনো সভা-সমাবেশ করতে না দিয়ে গণতন্ত্র চর্চার কথা বলা কারও মুখে মানায় না। এটা করার অর্থ আসলে সংঘাত-সংঘর্ষকে আমন্ত্রণ জানানো। এ কারণেই আমরা বেদনার্ত হয়ে এ কথা বলতে বাধ্য হয়েছি যে, আমাদের কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই- যে নেতৃত্ব দেশকে বিচার বিবেচনা সহকারে শান্তিপূর্ণ পথে পরিচালনা করতে সক্ষম।
জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, পুলিশি ক্ষমতার রাজনৈতিক ব্যবহার এবং সরকারের গণতান্ত্রিক বৈধতার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীকে কোনোভাবেই উদ্ভূত সংকট থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না। সর্বস্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট জনগণ হৃষ্টচিত্তে মেনে নেবে- এ কথা ভাবার কোনো কারণ দেখি না। এ দেশের জনগণের সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস জানতে হবে। তারা নানা ধরনের শোষণ ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, জীবন দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কেবল বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ এটিও ভুল ধারণা। অধিকারহারা জনগণের দুঃসহ জীবনের কথা অস্বীকার করার নয়।
বিএনপিকে নির্মূল করতে পারলেই বর্তমান সরকার জনগণের কাছে ন্যায্য অথবা অধিকতর গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে এটাও সত্য নয়। সরকারের পক্ষে যদি সম্ভব হয় তবে এমন চিন্তা বদলে ফেলাই ভালো হবে।
নিরপেক্ষ নির্বাচনের আতংকে তো তাদেরই ভোগার কথা, যাদের জনগণের ওপর আস্থা নেই। জনগণের ওপর সরকারের আস্থা থাকলে তারা তো অবাধ নির্বাচন দিয়ে তা প্রমাণ করতে পারেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ তার গৌরবোজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের কথা ভুলে জনগণের ভোটে অবিশ্বাসী দলে পরিণত হয়েছে। ন্যায়-অন্যায়ের তোয়াক্কা না করে একশ্রেণীর
রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী জনগণের শাসনের পরিবর্তে দলনেত্রীকে গোষ্ঠীবিশেষের স্থায়ী শাসনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
জনগণের ভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করার পরিবর্তে পুলিশি শক্তির ওপর নির্ভরতা সরকারের দুটি দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলেছে। প্রথমত, জনসমর্থনের ব্যাপারে সরকারের নিজের আত্মবিশ্বাসের অভাব। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিকভাবে সমস্যা মোকাবেলার যোগ্যতা দেখাতে অপারগতা। বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠানের ফল কী হয় সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করারও ধৈর্য ছিল না সরকারের। ফলে সরকার এটাই প্রমাণ করল- সে জনগণকে ও জনসমাবেশকে কত ভয় পায়।
অন্যদিকে বিএনপির ত্রুটি হচ্ছে, দলটি কোনো পরিষ্কার গণতান্ত্রিক বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারছে না। ঘুরেফিরে একই রাজনীতিতে বৃত্তবন্দি থাকা গণতান্ত্রিক রাজনীতি হতে পারে না। তাদের আন্দোলনে জনগণের ক্ষোভও যুক্ত হচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু দলীয় লোকদেরসহ অন্যদের নিয়ে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা করতে পারছে না বিএনপি।
বাস্তবতা হল, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে ক্ষমতায় যাওয়ার নির্বাচনসর্বস্ব গণতন্ত্রের চর্চা করতে গিয়ে গণতন্ত্রের আজ মরণ দশা। গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের পবিত্রতা নেই। উভয় দল মিলেই আইনের শাসন পঙ্গু করেছে। পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। তাই বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতা দখলের দলীয় সংগ্রাম হিসেবেই চিত্রিত হচ্ছে। এ কথার অর্থ এই নয় যে, ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সহজে অবসান হবে।
যারা ক্ষমতায় আছেন তারা নিজেদের জনপ্রিয় দাবি করছেন, কিন্তু নির্বাচনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত নন। বিরোধী দলকে দাবিয়ে রাখতে কত পুলিশের দরকার হচ্ছে সেটা কোনো বিষয় নয়। আসলে তারা সংকট উত্তরণের কোনো যুক্তিসঙ্গত পথ খুঁজতে চাইছেন না এবং প্রকারান্তরে নিজেদের নিজেরাই প্রতারিত করছেন।
সরকারের পেছনে জনসমর্থন না থাকাটা যে কোনো সরকারের জন্য মারাত্মক দুর্বলতা। বর্তমান সরকার নির্বাচনী বৈধতা দাবি করে থাকে; কিন্তু বাস্তবে সে বৈধতা তার নেই। সংঘবদ্ধ কিছু অতিলোভী লোকের সরকার নড়বড়ে ভিত্তির সরকার না হয়ে পারে না। এ রকম সরকারকে সর্বদা অনিশ্চয়তার ভয়ে থাকতে হয়-কখন কী হয় এ আশংকায়।
অথচ সবাই মিলে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটি অধিকতর সহজ। তবে এটুকু বুঝতে হবে যে, দলতন্ত্র চালিয়ে যাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে। এ ধরনের অবাস্তব চেষ্টা সংঘাত-সংঘর্ষ আর রক্তপাতকেই দীর্ঘায়িত করবে। জাতি যখন অশুভ ভবিষ্যতের সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন যারা ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় তাদেরও অসহায় থাকতে হবে এটা মেনে নেয়া যায় না। সবাই মিলেই তো জনগণ।
কথায় কথায় মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারদের বিষয়টিকে টেনে এনে সমস্যা সমাধানের বিপক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই। কারণ চলমান আন্দোলন জনগণের সার্বভৌম অধিকার সম্পর্কিত আন্দোলন- জনগণের ভোটের অধিকার। কারা কোন ধরনের রাজাকার বা মুক্তিযোদ্ধা জনগণই তা নির্ধারণের মালিক। এটা কোনো ব্যক্তির খেয়ালখুশির ব্যাপার নয়।
আমরা তো দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন ও গণতন্ত্র চর্চা দেখে আসছি। আজ আমাদের অবস্থান যার যেখানেই হোক না কেন, দলীয় সম্পৃক্ততা থাকুক বা না-ই থাকুক, সবাইকে এটা উপলব্ধি করতে হবে যে, গণতন্ত্র তথা জনগণের শাসন বিনির্মাণের কাজটি দলীয় ব্যাপার নয়, এটা জাতীয় দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনে আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তি জনগণেরই শক্তি। এই শক্তির অপব্যবহার কাম্য নয়।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বন্দিত্ব থেকে বীরের মর্যাদায় অভিষিক্ত by তোফায়েল আহমেদ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে যাওয়ার সময় লাহোরে রাস্তার দুই পাশে লাখ লাখ লোক দাঁড়িয়েছিল। তারা বঙ্গবন্ধুকে লক্ষ্য করে স্লোগান তুলেছিল, ‘জীয়ে মুজিব, জীয়ে মুজিব’ অর্থাৎ মুজিব জিন্দাবাদ, মুজিব জিন্দাবাদ। বঙ্গবন্ধুর গাড়িতে ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। বঙ্গবন্ধু যখন অতিথিশালায় পৌঁছলেন, তখন সেখানে স্যুট-টাই পরিহিত ছোটখাটো একজন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করেন। বঙ্গবন্ধুও পরমাদরে তাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেন, ‘হাবীব আলী, ইউ আর হেয়ার।’ জানতে পারলাম লোকটির নাম হাবীব আলী। বঙ্গবন্ধু যখন মিয়ানওয়ালী কারাগারে বন্দি তখন তিনি ছিলেন সেই কারাগারের প্রিজন গভর্নর। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপের পর তিনি আমাদের কক্ষে আসেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু মিয়ানওয়ালী কারাগারে কীভাবে জীবনযাপন করেছেন, কীভাবে তিনি মুক্তিলাভ করেছেন- সবিস্তারে তার বর্ণনা দেন। গভীর শ্রদ্ধায় স্মৃতি তর্পণ করে একটানা বলে যান মিয়ানওয়ালী কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে বঙ্গবন্ধুর নয় মাস চৌদ্দ দিনের কঠিন কারাজীবনের কথা। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আগের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আমাদের বলেছিলেন- ‘‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বরের ১০ দিন পর ২৬ ডিসেম্বর রাতে মুজিবকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশের পরপরই একটা ট্রাক নিয়ে মিয়ানওয়ালী কারাগারের দিকে যাই। কারা ফটক খুলে তার সেলের কাছে গিয়ে দেখি তিনি একটা কম্বল জড়িয়ে বিছানার ওপর ঢুলছেন। এমন সময় সেখানে যারা কয়েদি ছিল তারা শেখ মুজিবকে ফিসফিস করে বলছিল যে, ‘ওরা এসেছে।’ মুজিবও ফিসফিসিয়ে বললেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি মাথানত করব না।’ তার আগে মিয়ানওয়ালী কারাগারেই সেলের সামনে একটা কবর খনন করা হয়েছিল। শেখ মুজিব যখন জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এটা কী?’ তখন তাকে বলা হয়েছিল যে, ‘যুদ্ধ চলছে, এটা বাংকার। শেল্টার নেয়ার জন্য।’ আসলে ছিল কবর। মুজিবকে একজন কয়েদি বলছিল, ‘আসলে এটা কবর। আপনি যদি আজ বের হন আপনাকে মেরে এখানে কবর দেয়া হবে।’ তখন মুজিব আমাকে বলেছিল, ‘কবরকে আমি ভয় পাই না। আমি তো জানি ওরা আমাকে ফাঁসি দেবে। কিন্তু আমি জানি আমার বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবে এবং আমি এও জানি, যে বাংলার দামাল ছেলেরা হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, সেই বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’ সেদিন তিনি মিনতি করে বলেছিলেন, ‘আমাকে হত্যা করে এই কবরে না, এই লাশটি আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও। যে বাংলার আলো-বাতাসে আমি বর্ধিত হয়েছি- সেই বাংলার মাটিতে আমি চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে চাই।’
যা হোক, ওইদিন ২৬ তারিখে আমি ট্রাকে করে মুজিবকে নেয়ার জন্য মিয়ানওয়ালী কারাগারে আসি। কারণ, এরই মধ্যে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরকালে ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর কাছে প্রার্থনা করেছিল, ‘আমার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে শেখ মুজিবকে হত্যা করার অনুমতি দাও। আমি আমার জীবনে যদি কোনো ভুল করে থাকি তা হল শেখ মুজিবকে ফাঁসি কাষ্ঠে না ঝোলানো।’ তখন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো আমার কাছে এই মর্মে জরুরি বার্তা প্রেরণ করেন যে, ‘শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে দ্রুত নিরাপদ কোনো স্থানে সরিয়ে ফেলা হোক।’ তখন আমি মুজিবকে মিয়ানওয়ালী কারাগার থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে ট্রাক নিয়ে কারা ফটকে আসি এবং সেলের মধ্যে গিয়ে শেখ মুজিবকে আমার সঙ্গে যেতে অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আমাকে বাধা দেন। তখন আমি তাকে বলি, ‘শেখ, আমি আপনার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি আপনাকে এখান থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে এসেছি। কারণ, এখানে কমান্ডো আসতে পারে। তারা আপনাকে হত্যা করবে। আমার ওপর আপনি আস্থা রাখুন।’
তারপর মুজিবকে ট্রাকে তুলে, ট্রাকের মধ্যে লুকিয়ে, আমার চশমা ব্যারাজ নামক বাড়িতে নিয়ে যাই। সেখানে গিয়েই তিনি একটা টেলিফোন করতে চান। মুজিব আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি কি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারি?’ তখন আমি তাকে বলেছিলাম, ‘না, আমার একমাত্র কাজ হল আপনার জীবন রক্ষা করা। আপনি টেলিফোন করতে পারবেন না।’ তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি খবরের কাগজ পড়তে পারি?’ আমার উত্তর ছিল, ‘না।’ এরপর বললেন, ‘আমি কি এক কাপ চা পেতে পারি?’ তখন তাকে এক কাপ চা দেয়া হয়। আমার বাড়িতে তিনি দুই দিন থাকেন। দিন দুই পর শেখ মুজিবকে নিয়ে যাই শাহুল্যা নামক স্থানে, যেটা একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউস ছিল। পিন্ডি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এ শাহুল্যাতে প্রেসিডেন্ট ভুট্টো মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। ভুট্টো যখন আসেন তখন একজন কর্নেল এসে মুজিবকে বলেছিল, ‘পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসবে।’ তারপর সেখানে ভুট্টো এলেন এবং মুজিবকে সালাম দিয়ে বললেন, ‘নাউ আই অ্যাম দ্য প্রেসিডেন্ট অব পাকিস্তান অ্যান্ড চিফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর।’ তারপরই শেখ মুজিবের প্রশ্ন ছিল, ‘ভুট্টো, টেল মি ফার্স্ট, হোয়েদার আই অ্যাম এ ফ্রিম্যান অর প্রিজনার।’ তখন ভুট্টো উত্তর দিয়েছিলেন, ‘নাইদার ইউ আর এ প্রিজনার, নর ইউ আর এ ফ্রিম্যান।’ তখন শেখ মুজিব বললেন, ‘ইন দ্যাট কেইস আই উইল নট টক টু ইউ।’ তখন জুলফিকার আলী ভুট্টো বলতে বাধ্য হলেন, ‘ইউ আর এ ফ্রিম্যান।’ এরপর শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। তারপর তিনি অনেক রকমের প্রস্তাব দিলেন। কীভাবে একটা কনফেডারেশন করা যায়, কীভাবে একসঙ্গে থাকা যায়, ইত্যাদি। কিন্তু শেখ মুজিব কোনো কথাই বললেন না। চুপ করে থেকে শুধু বললেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমি আমার প্রিয় সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে না পারব, ততক্ষণ আমার পক্ষে কিছুই বলা সম্ভবপর নয়।’ এরপর শেখ মুজিবকে একটা যৌথ ইশতেহার দেয়া হয়েছিল স্বাক্ষর করার জন্য। মুজিব সেটাও প্রত্যাখ্যান করলেন। পরিশেষে শেখ মুজিব বললেন, ‘আমি কি এখন দেশে যেতে পারি?’ ভুট্টো বললেন, ‘হ্যাঁ, যেতে পারেন। কিন্তু কীভাবে যাবেন? পাকিস্তানের পিআইএ ভারতের ওপর দিয়ে যায় না।’ তখন মুজিব বললেন, ‘সেক্ষেত্রে আমি লন্ডন হয়ে যাব।’ এরপর ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিব মুক্তি পেয়ে পিআইএ’র একটি বিশেষ বিমানে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেন।’’
কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি লাভ এবং ভুট্টোর সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ শেষে হাবীব আলী আমাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা বাঙালিরা গর্বিত ও মহাসৌভাগ্যবান যে, শেখ মুজিবের মতো একজন নেতা তোমরা পেয়েছ।’ সেদিন হাবীব আলীর স্মৃতিকথা ও মন্তব্য শুনে বিস্মিত হইনি; কিন্তু গর্বে বুক ভরে উঠেছিল। আমরা তো জানতাম আমাদের নেতার ইস্পাত-কঠিন দৃঢ় সংকল্পের কথা।
প্রতি বছর যখন আমাদের জীবনে ১০ জানুয়ারি ফিরে আসে, তখন জাতির জনককে ঘিরে কত কথা হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে। কারণ ১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে চিরস্মরণীয় এক অনন্য ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭২-এর এই দিনটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষ বিজয়ের পরিপূর্ণতা অর্জন করেছিল। যদিও ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হয়েছিল; কিন্তু বাংলার মানুষ স্বাধীন দেশে বিজয়ের পরিপূর্ণ স্বাদ পায়নি। পাকিস্তানের কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠের নারকীয় বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের নিপীড়িত-মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম মুখপাত্র বঙ্গবন্ধু মুজিব জানুয়ারির ৮ তারিখে পিআইএ’র একটি বিশেষ বিমানে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান। বঙ্গবন্ধুর লন্ডন আগমনের সংবাদ শোনামাত্র জামুরকাই নামক অবকাশ যাপন কেন্দ্রে ছুটিতে থাকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডোয়ার্ড হিথ ছুটে আসেন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং ব্রিটিশ রীতি-ঐতিহ্য অনুযায়ী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাগত জানান।
পরদিন ৯ জানুয়ারি লন্ডনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু একটি বিবৃতি প্রদান করেন। ‘জয় বাংলা’ রণধ্বনি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলার মুক্তি সংগ্রামে স্বাধীনতার অপরিসীম ও অনাবিল আনন্দ অনুভব করছি। এ মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। আমার জনগণ যখন আমাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেছে, তখন আমি রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত সেলে বন্দি জীবন কাটাচ্ছি। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন ও সহযোগিতা দানের জন্য ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে আমি ধন্যবাদ জানাই। স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তব সত্য। এদেশকে বিশ্বের স্বীকৃতি দিতে হবে। বাংলাদেশ অবিলম্বে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য অনুরোধ জানাবে।’ পরিশেষে তিনি বলেন, ‘আমি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকতে রাজি নই। আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই।’ তিনি জনগণের কাছে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের বন্দি জীবনের নিঃসঙ্গতা তাকে কাবু করতে পারেনি। জনগণের আরাধ্য প্রিয় নেতা তার মানস জগতে জনতার সাহচর্য লালন করেছেন প্রতিনিয়তই।
যেদিন, ৮ জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর মুক্তির সংবাদ জানলাম, সেদিন এক অনির্বচনীয় আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল সারা দেশে। মানুষের যে কী আনন্দ তা ভাষায় ব্যক্ত করার নয়। সমগ্র দেশবাসী অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে কখন প্রিয় নেতা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করবেন। অবশেষে পরমাকাক্সিক্ষত সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি এলো। সেদিন ছিল সোমবার। সকাল থেকেই লাখ লাখ মানুষ ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে দশদিক মুখরিত করে মিছিল নিয়ে বিমানবন্দর অভিমুখে যাচ্ছে। কোটি কোটি হৃদয় রুদ্ধবাক মুহূর্ত গুনছে, প্রতি নিঃশ্বাসে অধীর আগ্রহে কালক্ষেপণ করছে- কখন, কখন আসবেন প্রিয় নেতা? কী দিয়ে তারা বরণ করে নেবে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে, বাঙালির হৃদয়ের শ্রেষ্ঠ গর্বকে। রণক্লান্ত যুদ্ধজয়ী মুক্তিযোদ্ধা, শ্রদ্ধাবনত চিত্তে সংগ্রামী জনতা, অশ্র“ভারাক্রান্ত চোখে সন্তানহারা জননী, স্বামীহারা পত্নী, পিতৃহারা পুত্র-কন্যা সব দুঃখকে জয় করে স্বজন হারানোর বিয়োগ ব্যথা ভুলে গর্বোদ্ধত মস্তকে সবাই অধীর আগ্রহে আজ অপেক্ষমাণ দু’হাত বাড়িয়ে জাতির জনককে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করার জন্য।
ঢাকায় যখন সাজসাজ রব, তখন সকাল থেকে দিল্লির রাজপথ ধরে হাজার হাজার মানুষের মিছিল পালাম বিমানবন্দর ও প্যারেড গ্রাউন্ডের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। দিল্লির জনসাধারণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে এক অভূতপূর্ব রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে। বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি শ্রী ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর কমেট জেটটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অবতরণ করলে তার সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ তাকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন।
দিল্লি থেকে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর কমেট বিমানটি ঢাকার আকাশ সীমায় দেখা দিতেই জনসমুদ্র উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। দুপুর ১-৫১ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে। বিমানে সিঁড়ি স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও অন্য নেতারা, আমরা মুজিব বাহিনীর চার প্রধান, কেন্দ্রীয় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ছুটে যাই নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে। আমার হাতে ছিল পুষ্পমাল্য। জাতির জনককে মাল্যভূষিত করার সঙ্গে সঙ্গেই তার সংযমের সব বাঁধ ভেঙে যায়। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু জনতার মহাসমুদ্রের উদ্দেশে হাত নাড়েন। তার চোখে তখন স্বজন হারানোর বেদনা-ভারাক্রান্ত অশ্র“র নদী, আর জ্যোতির্ময় দ্যুতি ছড়ানো মুখাবয়বজুড়ে বিজয়ী বীরের পরিতৃপ্তির হাসি। বিমানের সিঁড়ি বেয়ে জাতির জনক তার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি করে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি সম্মান জানানো হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুকে মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী রাষ্ট্রপ্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করে। মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু সালাম গ্রহণ করেন।
রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার জন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অপেক্ষমাণ ট্রাকে উঠে রওনা দিই। সুদৃশ্য তোরণ, স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দিয়ে সজ্জিত রাজপথের দুই পাশে দাঁড়ানো জনসমুদ্র পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যখন ময়দানে পৌঁছলাম তখন বিকাল সাড়ে ৪টা। অর্থাৎ বিমানবন্দর থেকে ময়দান পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। নেতাকে নিয়ে যখন ময়দানে প্রবেশ করি, কোনো দিকে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আবালবৃদ্ধবনিতার মুহুর্মুহু করতালিতে চারদিক মুখরিত। বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠে ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে চতুর্দিকে তাকালেন এবং রুমালে চোখ মুছে চিরাচরিত ভঙ্গিতে ‘ভায়েরা আমার’ বলে উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশে নিবেদন করলেন তার ঐতিহাসিক বক্তৃতা। হৃদয়ের সবটুকু অর্ঘ্য ঢেলে আবেগঘন ভাষায় বললেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাবার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।’ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘ভায়েরা, তোমাদের একদিন বলেছিলাম, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। আজকে আমি বলি, আজকে আমাদের উন্নয়নের জন্য আমাদের ঘরে ঘরে কাজ করে যেতে হবে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে- গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। আমার বাংলায় আজ বিরাট ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। ৩০ লাখ লোক মারা গেছে। আপনারাই জীবন দিয়েছেন, কষ্ট করেছেন। বাংলার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে, খেয়ে-পরে সুখে থাকবে, এটাই ছিল আমার সাধনা।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে বলেন, ‘গত পঁচিশে মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ নয় মাসে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এদেশের প্রায় সব বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। বিশ্বকে মানব ইতিহাসের জঘন্যতম কুকীর্তির তদন্ত অবশ্যই করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এসব কুকীর্তির বিচার করতে হবে।’ বিশ্বের সব রাষ্ট্র ও জাতিসংঘের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বের সব মুক্ত দেশকে অনুরোধ জানাই, আপনারা অবিলম্বে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন। জাতিসংঘেরও উচিত অবিলম্বে বাংলাদেশকে আসন দিয়ে তার ন্যায়সঙ্গত দাবি পূরণ
করা।’ পরিশেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা
থেকে উদ্ধৃত করে তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি।’ কবিগুরু, তুমি এসে দেখে যাও, তোমার বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে।’
কী অসাধারণ রাষ্ট্রনায়কোচিত বক্তৃতা! রাষ্ট্রের আশু করণীয় কী হবে, তা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত, ইঙ্গিতবহ অথচ তাৎপর্যপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বক্তৃতা দিলেন বঙ্গবন্ধু। লাখ লাখ মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছে এবং পরম পরিতৃপ্ত হয়েছে এই ভেবে যে, আজ থেকে আমরা প্রকৃতই স্বাধীন। সভামঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু ধানমণ্ডির ১৮নং বাড়িতে গেলেন। যেখানে পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। সেই বাড়ির সামনে আরেকটি বাড়ি তখন তার জন্য রাখা হয়েছিল। কেননা ধানমণ্ডির ৩২নং বাসভবনটি শত্র“বাহিনী এমনভাবে তছনছ করে দিয়েছিল যে তা বসবাসের অনুপযুক্ত ছিল। ১১ জানুয়ারি প্রিয় সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ১২ জানুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন এবং আবু সাইদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করলেন। ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আমাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তার রাজনৈতিক সচিব করেন। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় সংসদীয় গণতন্ত্র।
আজ জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অবিস্মরণীয় এই ঐতিহাসিক দিনটিতে কেবলই মনে পড়ে সাতই মার্চের ভাষণের শেষাংশ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ রাজনৈতিক মুক্তি আমাদের অর্জিত হয়েছে। আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা এবং বহু ত্যাগের বিনিময়ে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র পেয়েছি। কিন্তু জাতির জনকের স্বপ্নের শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে আর তার ভালোবাসার হতদরিদ্র দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি আজও অর্জন করতে না পারলেও আমরা সেই লক্ষ্য পরিপূরণে এগিয়ে চলেছি। আন্তর্জাতিক জরিপকারী বিভিন্ন সংস্থার মতে আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির অধিকাংশ সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি এক কথায় বিস্ময়কর। যদিও আমরা এখনও স্বল্পোন্নত, তথাপি আমরা জনসাধারণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমাদের আশাবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রূপকল্প’ অনুযায়ী ২০২১ সালে আমরা মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত হব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত সরকার অর্থনৈতিক মুক্তি আনয়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হবে।
তোফায়েল আহমেদ : আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য; বাণিজ্যমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বিপ্লবী’ তরুণ যেভাবে প্রেসিডেন্ট

১৯৬৭ সালে সিরিসেনা যোগ দেন প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) যুব শাখায়। তিন বছর পর মাত্র ২০ বছর বয়সে তাঁকে সরকারবিরোধী ‘বিপ্লবে’ নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দুই বছর কারাগারে থাকতে হয়। তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে।
১৯৮১ সালে এসএলএফপির পলিটব্যুরোতে যোগদানের মধ্য দিয়ে সিরিসেনার রাজনৈতিক উত্থান শুরু। ১৯৮৯ সালে দলটির টিকিট নিয়ে নিজ এলাকা থেকে নির্বাচন করে পার্লামেন্ট সদস্য হন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের অধীনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
সিরিসেনা খুব ডাকসাইটে মন্ত্রী ছিলেন, বিষয়টি তেমন নয়। তবে কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সবাই তাঁকে পছন্দ করতেন। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও সিরিসেনার সাবেক সহকর্মী অস্টিন ফার্নান্দো সেভাবেই তুলে ধরলেন তাঁকে। সিরিসেনাকে ‘নম্র-ভদ্র ও মৃদুভাষী রাজনীতিক’ হিসেবে বর্ণনা করে ফার্নান্দো বলেন, ‘তিনি এমন একজন পছন্দ হওয়ার মতো মানুষ, যিনি সহজেই অন্যের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠতে পারেন।’
কৃষক পরিবার থেকে এসেছেন সিরিসেনা। বাবা অ্যালবার্ট সিরিসেনা সেনাসদস্য হলেও বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে কৃষিকাজেই মন দেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের মতো তিনিও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহিল জাতিগোষ্ঠীর সদস্য। দুজনই বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।
সূত্র: এএফপি ও বিবিসি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টানা অবরোধে কোমর ভাঙছে কৃষকের- বিপাকে ব্যবসায়ীরাও

সবজির ক্রেতা নেই: বৃহস্পতিবার পাবনার সাঁথিয়ার অন্যতম পাইকারি সবজির হাট করমজা হাটে গিয়ে দেখা যায়, এক জায়গায় স্তূপাকারে পড়ে আছে পেঁয়াজকলি (পেঁয়াজের ফুল)। ছবি তুলতে গেলে এগিয়ে আসেন সবজি ব্যবসায়ী সাহাদাত। তিনি জানান, ক্রেতা না পাওয়ায় এগুলো ফেলে গেছেন কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা। হাটের আরেক পাশে ফুলকপি নিয়ে মুখ ভার করে বসেছিলেন শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন। তিনি জানান, অবরোধের আগেও এই হাটে আট থেকে দশ টাকা কেজি দরে ফুলকপি বিক্রি করেছেন। এখন বিক্রি হচ্ছে চার থেকে সাড়ে চার টাকা কেজিতে।
করমজা হাটের কাঁচামালের আড়ত আজমির ভান্ডারের মালিক ফজলুর রহমান জানান, অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রামে কোনো সবজিই পাঠানো যাচ্ছে না। ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, কাঁচা মরিচসহ সব ধরনের সবজির দাম অর্ধেকে নেমে গেছে। তিনি বলেন, এতে শুধু কৃষকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, ব্যবসায়ীদেরও লোকসান হচ্ছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আলুচাষি আলম হোসেন জানান, অবরোধের আগে যে আলু খেত থেকে পাইকােররা ১২ থেকে ১৪ টাকা দরে কিনে নিয়ে গেছেন, এখন সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় টাকা কেজি দরে। শহরের বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘এ জেলা থেকে যেসব কাঁচামাল বাইরে যায়, তার দাম কমেছে আর যেসব মাল বাইরে থেকে এখানে আসে তার দাম বেড়েছে।’ দেশের সবচেয়ে বেশি শীতকালীন টমেটো চাষ হয় রাজশাহীর গোদাগাড়িতে। উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের চাষি গোলাম রসুল জানান, গত রোববার তিনি প্রতি মণ পাকা টমেটো বিক্রি করেছেন ৩৬০ টাকা। গতকাল সেই টমেটো বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা মণ দরে। দাম এত কমল কেন জানতে চাইলে নাটোর থেকে গোদাগাড়িতে টমেটো কিনতে আসা ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী বলেন, ‘গোদাগাড়ি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া লাগত ২৫ হাজার টাকা। অবরোধের কারণে সেই ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে ৬০ হাজার। এর পরও ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না, চালকেরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামতে চাইছেন না। ফলে আগের দামে টমেটো কিনলে ট্রাকভাড়া মিটিয়ে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে।’
দুধের দাম অর্ধেক: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও পার্শ্ববর্তী পাবনা জেলা থেকে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে মিল্ক ভিটা, ব্র্যাক, প্রাণ, আকিজ ও অ্যামোসহ প্রায় দশটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ লিটার দুধ কেনে তারা। কিন্তু অবরোধের কারণে ঢাকায় পাঠাতে না পারায় দুধ কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা লিটারের দুধ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ওই এলাকার দুধের প্রায় অর্ধেক কেনে মিল্ক ভিটা। প্রতিষ্ঠানটির বাঘাবাড়ি কারখানার ব্যবস্থাপক মো. ইদ্রিস আলী জানান, সংগ্রহ করা দুধের বেশির ভাগই ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে না। এর মধ্যে কেবল গত বুধবার পুলিশ পাহারায় চার গাড়ি (৪২ হাজার লিটার) দুধ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ কারণে তাঁরা দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। বগুড়ার ধুনট ও শেরপুর বাজারেও বৃহস্পতিবার দুধ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা লিটার দরে। অবরোধের আগে দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
কমেছে ধানের দামও: বগুড়া ও পাবনায় ধানের দামও কমে গেছে। ধান ও চাল বাইরে পাঠাতে না পারায় ওই সব এলাকার ধানচাতালগুলোও বন্ধ হতে বসেছে। কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন চাতালশ্রমিকেরা। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের দাম কমেছে মণপ্রতি ৪০ টাকা। উপজেলার কোলগ্রামের কৃষক খয়বর আলী বলেন, ‘এবার আমন ধানের ফলন হয়েছিল ভালো। আমরা খেটে খাওয়া কৃষকেরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু গত কয়েক দিনে ধানের বাজার মণপ্রতি ৩০-৪০ টাকা করে কমে গেছে। রবিশস্য খেতে সার ও কীটনাশক দেওয়া এবং ঋণের টাকা শোধ করার জন্য বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীর ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস বলেন, উপজেলার অধিকাংশ চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। অবরোধ প্রত্যাহার না হলে দু-এক দিনের মধ্যে সব চাতাল বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন চাতালশ্রমিকেরা। প্রায় ১২ হাজার শ্রমিকের কাজ নেই। চাতালশ্রমিক মুছলিমা খাতুন বলেন, ‘অবরোধের কারণে বুধবার থেকে চাতাল বন্ধ। মালিক কাজে যেতে নিষেধ করেছেন। ফলে হাজিরাও (পারিশ্রমিক) পাব না।’
{প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী এবং সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, ঈশ্বরদী ও বেড়া (পাবনা), দুপচাঁচিয়া, শেরপুর ও ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি}
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাতৃক্রোড় by জয়দীপ দে
লেংড়ি ছিল আমাদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এ রকম একটা শয়তানকে কলোনির মুখে থাকতে দেওয়ার অর্থ কী, সেটাই ঘুরপাক খেত আমাদের মাথায়। প্রশ্নের উত্তর আমরা পেতাম না, উল্টো আরও কিছু ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হতো আমাদের ছোট ছোট বুকগুলোর ভেতর। ‘তাড়াতাড়ি খেয়ে নে’, নইলে লেংড়ি এলে পালানোর শক্তি পাবি না।’
২. এই বাচ্চা-চোর লেংড়িকে দেখে দেখেই আমাদের বড়ো হওয়া। কিন্তু ওর কোলের বাচ্চাটা কোনো দিন বড়ো হয় না। ছোট্ট একটা দুগ্ধপোষ্য বাচ্চা সব সময় তার বুকের ওমে লেগে থাকে। তখনো এসব বুঝে ওঠার বয়স হয়নি। যেমন বয়স হয়নি ‘লেংড়ির বাচ্চা’ গালিটার অর্থ বোঝার। খেলার মাঠে একটা কিছু হলেই কলোনির একটা বাচ্চা আরেকটা বাচ্চাকে লেংড়ির বাচ্চা বলে গালি দিত। এই গালির ব্যুৎপত্তি আমাদের জানা ছিল না। অনুমান, কারও মা-বাবার দাম্পত্য কলহ থেকে ফসকে গেছে শব্দটা। কিন্তু গালিটা যে খুব অপমানের, সেটা বুঝতে কষ্ট হতো না। এই গালি নিয়ে খুনোখুনির মতো দশা হয়ে যেত। পাড়ার মা-খালারা প্রায় ফিসফিস করে বলত, সাইফুল সাহেবের পোলাটা দেখছেন, একেবারে মা-বাবার মতো হয়নি... আরেকজন কৌতূহলী চোখ মেলে বলত, হবে কেমনে, বাচ্চাটা তো লেংড়ির কাছ থেকে— আমাদের দেখে তারা স্মাগলারদের মতো টুপ করে কথা গিলে ফেলত। আমি বা আমরা অবাক হই, লেংড়ি এত বাচ্চা পায় কই! নিশ্চয়ই এর-ওর বাচ্চা চুরি করে এনে বেচে দেয়। ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসত। লেংড়ির রোদে পোড়া মুখটার সঙ্গে হরর ছবির ডাইনিদের মুখের অদ্ভুত সাদৃশ ভেসে উঠত মনের পর্দায়। ভয়ের চোটে রাতে চোখের পাতাটা পর্যন্ত নামতে চাইত না।
৩. লেংড়ির স্বামীটা সারা দিন ছইয়ের তলায় বসে রান্নাবাটি খেলত। অল্প অল্প ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকত তাদের ছোট্ট ডেরাটা। কাছে গেলে ভাতের বলক দেওয়ার শব্দ শোনা যেত। সেই রান্নার ধোঁয়া, ভাতের বলক আমাদের মনে রহস্যের ইন্দ্রজাল বুনে দিত। মন চাইত, গিয়ে দেখি কী হয় ডাইনির আস্তানায়। কিন্তু সেই সেগুন গাছ, লেংড়ির পোষা লেঠেলের মতো বড়ো বড়ো সবুজ পাতা নাড়িয়ে চোখ পাকাত। শোঁ শোঁ শব্দ আসত দূরের পাহাড়গুলো থেকে। কী জানি, ডাইনিটা এই বুঝি উড়ে এসে ছোঁ মারবে আমাদের পিঠে! নিয়ে যাবে অচিন কোনো দেশে। বিক্রি করে দেবে সেখানকার নিঃসন্তান কোনো বাবা-মায়ের কাছে। কোনো দিন আর ফেরা হবে না এত দিনের পরিচিত গৃহকোণে। মা-বাবার মুখটা স্মরণ করে অবোধ কান্নায় ভেঙে পড়ি। দূর থেকে দেখি, হলদে হলদে দাঁতগুলো বের করে হাসছে লেংড়ি। নোংরা পুঁটলির ভেতর থেকে হাত বের করে ইশারায় ডাকছে আমাকে। চোখ-মুখ বন্ধ করে খিঁচিয়ে একটা দৌড় লাগাই। মায়ের উষ্ণ বুকে মাথা গুঁজে কাঁদি। এর মধ্যেই দেখা গেল লেংড়ি অন্যরূপে হাজির—ছোট্ট একটা করগেটেড বক্সের ওপর গোটা চারেক বৈয়াম সাজিয়ে রেখেছে। তাতে আটানা দামের নাবিস্কো লজেন্স আর গ্লুকোজ বিস্কিট। কাঠি লজেন্স ছিল কি না মনে নেই। আমরা অবাক হয়ে দেখি লেংড়ি দোকান পেতে বসেছে। কিন্তু কে কিনবে তার বিস্কিট-লজেন্স। বাচ্চারা তো ভয়েই তার পাশ ঘেঁষে না। তাই তার পুরোনো পেশাটি ছাড়ল না সে। দোকানে বসে বসেই সে ঘ্যান ঘ্যান করে বলত, ‘ও ভাই দু-গা টিঁয়া সাইয্য করি যান’। এভাবে তার পুরোনো পেশা আর নতুন পাতানো ব্যবসা চলতে লাগল সমান্তরাল।
৪. জাদুটা লজেন্সের না বিস্কিটের মনে নেই। ছোট্ট বাচ্চারা ভয়ের কাটা সরিয়ে আসতে লাগল সেগুনগাছটার গোড়ায়। দিনে দু-চারটা লজেন্স বিক্রি হতে শুরু করল লেংড়ির দোকান থেকে। মা-খালারা এ নিয়ে ভীষণ-উদ্বিগ্ন, সাবধান ওর কাছে যাবি না, যদি নিয়ে পালায় বুঝবি— অমৃতের আকর্ষণে অনেক বড়ো ঝুঁকিও তুচ্ছ হয়ে যায়। আমাদের ক্ষেত্রে সেটাই হতে লাগল। হ্যাংলার মতো গিয়ে আমরা দাঁড়াই তার ছোট্ট পসরাটার সামনে। বুকের সব শক্তি ছেড়ে দিয়ে লেংড়ির কোলের বাচ্চাটা যেন কাঁদে। বাচ্চা সামলাতে সামলাতে আমাদের দিকে তাকায় লেংড়ি। ছাতা-পড়া মুখ উজ্জ্বল করে হেসে ওঠে, ও বাজান লজেন্স নিবা— মনের ভেতরে ভয় দাগ কাটে, ওর লজেন্সে কোনো মন্ত্র পড়া নেই তো! এ তার বাচ্চা চুরির কোনো বাহানা নয় তো? ভয়ে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। উল্টো ঘুরেই ছুট লাগাই। অন্যদের দেখাদেখি একসময় ভয় ভেঙে যায়। আটানায় পাওয়া লজেন্সে লেংড়ি আসলে অমৃত পুরে দিয়েছে। দিনে এক দুইবার ওর দোকানে গিয়ে লজেন্স কিনি। লেংড়ির যতটা না লজেন্স বিক্রির আগ্রহ তার চেয়ে বেশি কথা বলার।
ও বাজান তোঁয়ার নাম কিও...
কোনায় থাহো...
আইজ কি দি ভাইত খাইছো...
রাজ্যের সব প্রশ্ন তার। বিরক্তিতে এড়িয়ে যাই।
৫. আস্তে আস্তে লেংড়ির কথার ফাঁদে পড়ে যাই আমরা। রাজ্যের সব গল্প তার জানা। কোথাকার কোন সোনাগাজি, মহীপাল কিংবা কমলাপুর সদরঘাট...সব সে প্রায়-নিশ্চল পা খানা টেনে টেনে ঘুরে বেড়িয়েছে। সে সেসব গল্প আমাদের বলে। আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি। নোংরা বসনের ছাতা-পড়া মুখের লেংড়িকে আর ডাইনি লাগে না। ভালোই মনে হয়। মনে হয় তার বুকটাও আমাদের মা-খালাদের মতো মমতা দিয়ে গড়া। কেন যেন লেংড়ি আমাকে একটু বেশিই স্নেহ করত। দুটো চাইলে তিনটে লজেন্স ধরিয়ে দিত। ‘আর আটানা তো নাই’ বললে সস্নেহে মাথায় হাত রেখে বলত, লাগবে না। গ্রীষ্ম কিংবা শরতের ছুটি পেলে ঘণ্টা কে ঘণ্টা বসে থাকতাম লেংড়ির দোকানের পাশে। লেংড়ি কোথা থেকে যেন চুরি করে আনা পেয়ারা আমার হাতে দিয়ে খেতে বলত। প্রথম প্রথম সংকোচ হতো, তারপর চেয়ে নিয়ে খেতাম। মা এসব দেখলে বাসায় নিয়ে দু-গালে চটাস চটাস লাগাত। আর অগ্নিগর্ভ মুখ করে বলত, সাবধান ওদিকে যাবি না, লোকে খারাপ বলবে। লেংড়ির সঙ্গে কথা হতো রাজ্যের সব বিষয় নিয়ে। এর মধ্যে এক দিন দেখা গেল তার দোকান বন্ধ। ছইয়ের ভেতরেও কেউ নেই। দিন দুয়েক পর লেংড়ি ফিরল ছোট্ট একটা ইঁদুরের বাচ্চার মতো শিশুকে কোলে নিয়ে। আর আগেরটা হামাগুড়ি দিচ্ছে মাটিতে।
৬. দুপুরে ঘুম পাড়ানো ছিল মায়ের জন্য এক যুদ্ধ। দুপুরে না ঘুমালে রাতে পড়তে বসলে ঝিমুবি, এই অজুহাতে মা ধরেবেঁধে শুইয়ে দিত বিছানায়। ঘুমের ভান করে শুইয়ে থাকতাম। মা রান্না ঘরের কাজ সেরে যেই একটু বিছানায় মাথা দিত, এই সুযোগে ছুট লাগাতাম। বাইরে এসে দেখতাম কেউ নেই পথেঘাটে। মাঠটাও শূন্য। ঝিম ঝিম করছে চারিধার। গুটি গুটি পায়ে হাজির হতাম লেংড়ির ডেরায়। কী বাজান, ঘুম আয় ন— মাথা নাড়াই। লেংড়ি তার নানার পোষা জিনটার গল্প বলে। তার কোলের বাচ্চাটা কিছুক্ষণ কেঁদে ঘুমিয়ে পড়ে। নিঃশব্দ চরাচর। আমি ডুবে যাই লেংড়ির গল্পের জগতে। তার কিছু কথা, কিছু বুঝি কিছু বুঝি না। তবে অবোধ্যটা বোধ্য হয়ে ওঠে তার কথকী ঢঙের কারণে। অজান্তেই কখন মাথাটা রাখি তার কোলে। চারদিকে যেন স্বপ্নের প্রজাপতি ওড়ে। জিন, পাখাওলা ঘোড়া—বোরাক, সোলেমান বাদশা...সবাই এসে ঘিরে ধরে আমাকে। ভুলে যাই কোনো কালে এ কলোনিতে ছিলাম আমি। কারখানার সিটিতে বোরাক, জিন কিংবা সোলেমান বাদশা সবাই ভয়ে পালায়। দলে দলে লোকজন ফিরতে থাকে কারখানা থেকে। লেংড়ি নড়েচড়ে বসে। টিনের থালাটা সামনে টেনে নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান করে বলতে লাগে, ‘ও ভাই দু-গা টিঁয়া সাইয্য করি যান’। কেউ তেমন একটা পয়সাকড়ি দেয় না। তাই বলে লেংড়িও থামায় না তার সংগীতচর্চা । মাঝবয়সী এক ভদ্রলোক এসে দাঁড়ায় তার সামনে। দুটো আটানার কয়েন ছুড়ে দিয়ে বলল, ইসমাইল সাবরে মনে আছে। জে। উনি পাঠাইছেন তোমার কাছে। বুইচচি সার। কিন্তু এহন তো বাইচ্চা অইত ন।
এইটা না দাও, পেটের টা দাও...
এর পরের কথোপকথন আর আমার কানে ঢোকেনি। স্তম্ভিত হয়ে চেয়ে রইলাম কোলের বাচ্চাটির দিকে।
৭. সব গল্পের শেষ আছে। আমাদের লেংড়ির গল্পও শেষের দিকে। একবার হইচই পড়ল পাড়ায়। এ কলোনির ওমুকের ছেলে সে কলোনির তমুকের ছেলে উধাও। সাপ্তা খানেকের জন্য আমাদের স্কুলে যাওয়াই বন্ধ হয়ে গেল। মেঘনা না যমুনা কোনো এক নদীর ওপর সেতু তোলা হবে। সে জন্য ছোট ছোট বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদের নাকি ছুড়ে দেওয়া হবে নদীর বুকে। এতে নাকি তৃপ্ত হবে নদী। অনুমতি দেবে ব্রিজ করার। তাই এই ছেলে ধরার তোড়জোড়। ভয়ে সিঁটিয়ে যাই আমরা। ওয়েলফেয়ার কমিটির মিটিং বসে। আলোচনা হয় এই ছেলে ধরা নিয়ে। সবাই একমত, অনেক হয়েছে, আর লেংড়িকে বাড়তে দেওয়া যায় না। তার সঙ্গে ওই ছেলেধরাদের যোগাযোগ অনেক দিনের। সে এর-ওর জন্য বাচ্চা জুটিয়ে দেয়। কানেকশন না থাকলে কোত্থেকে পায় এই বাচ্চাগুলো। এখন যে বাচ্চারা উধাও হয়ে যাচ্ছে এর পেছনে যে ওর হাত নেই, তারই বা গ্যারান্টি কী। পরের দিন ছিল শুক্রবার। সকালে সবাই জড়ো হলো সেগুনগাছের তলায়। সবাই বলতে সবাই বড়, ছোট, মেজো—সবাই। আমরাও গেলাম আমাদের বাবাদের পিছু পিছু। ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি গড়নের দিক দিয়ে যেন ছোটখাটো একটা মাংসের কনটেইনার। প্রথম হুংকারটা এল তার কণ্ঠ থেকে, অনেক দিন তো থাকলা এইবার বিদায় হও।
কিললাই! আঁই কিইচ্চি (করেছি)?
কইছি যাইবা, যাও—
চারদিকে শোরগোল শুরু হলো। কেউ উদ্যত হলো মার দিতে। কেউ গাল ছুড়ল লেংড়িকে। পুলিশের ভয়ও দেখানো হলো। লেংড়ি নাছোড়। সুরে সুরে কাঁদতে লাগল, আঁই যাইতান ন, আঁরে মারি হালাইলেও যাইতান ন...
কিসের জন্য তুই যাবি না, কী আছে তোর এই খানে?
আঁর পোলাপাইন... ইগুনরে দেখি আঁর বুক জুড়ায়। আঁরে মারি হালাইলেও আঁই যাইতান ন... কলোনির ভদ্রলোকেরা থতমত খেয়ে যান। পরস্পর পরস্পরের দিকে চাওয়া-চাওয়ি শুরু করেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আদিবাসী ছাত্রনেতা নিজ ঘরে খুন- রাজশাহী ও তানোরে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সভা

বাবলুর বাবা মহেশ্বর হেমব্রম প্রথম আলোকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে মানুষের আওয়াজে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খুলে দেখতে পান ছেলের ঘরের দরজা খোলা। এগিয়ে এসে বাইরের বাড়ির দরজা খোলা দেখে মনে করেন চোরে তাঁর গরু নিয়ে গেছে। চিৎকার করতে থাকেন। ছেলের ঘরে ঢুকে দেখতে পান ছেলে চৌকির পরিবর্তে মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। ডেকে কোনো সাড়া না পেয়ে মাথা নাড়াতে গিয়ে বুঝতে পারেন, গলা প্রায় সম্পূর্ণই কাটা। মহেশ্বর হেমব্রম জানান, তিনি ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না যে তাঁর এমন শান্ত ও নরম স্বভাবের ছেলে, যার কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না, তাঁকে কেউ এমন নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করতে পারে। ছেলের মৃত্যুতে তাঁর সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
ক্ষোভ-প্রতিবাদ-কর্মসূচি: নিহত বাবলু হেমব্রমের বাড়ির সামনে উপস্থিত কয়েক শ নারী-পুরুষ সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা করেন। এতে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন ও রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিলম রাজোয়ার। তাঁরা বলেন, দেশে যখনই গোলযোগপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তখনই আদিবাসীদের ওপর হামলা হয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে ভূমিদস্যু বা কোনো স্বার্থান্বেষী মহল। তাঁরা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানান এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুিখ করার দাবি জানান। সভা থেকে আজ শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন এবং রোববার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে রাজশাহীর জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল, পথ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ। এখানে বক্তব্য দেন আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেন, রাজকুমার শাওঁ, ছাত্রনেতা সুবাস হেমব্রম, উজিত মুন্ডা, বাংলাদেশের ওয়ার্কর্স পার্টির নেতা লিয়াকত আলী, ছাত্র মৈত্রীর নেতা মতিউর রহমান প্রমুখ। গতকাল সান্তাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রাজশাহী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়। সান্তাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সমর মাইকেল সরেন বলেন, তাঁরা আজ শনিবার রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সব সংগঠনকে নিয়ে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিলুপ্তপ্রায় ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার

পঙ্কবিলা গ্রামের গুরুপদ বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছরই অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের বেশি সময় ধরে তাঁরা ১০ থেকে ১২টি নৌকা আর দুই থেকে চারটি ভোঁদড় নিয়ে নদীপথে পাড়ি জমান। মাছ ধরেন আর ঘাটে ঘাটে বিক্রি করেন। বছরের এই সময়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে প্রায় সারা বছর সংসার চালান। গোয়ালবাড়ি গ্রামের মৎস্যজীবী শচীন বিশ্বাস জানান, বংশপরম্পরায় ভোঁদড় দিয়ে তাঁরা মাছ ধরে আসছেন। রতডাঙ্গা গ্রামের পাগল চান বিশ্বাস জানান, নদীতে বেশি পানি থাকলে সুন্দরবন পর্যন্ত মাছ ধরতে যান। এখন জলদস্যুদের ভয়ে সুন্দরবন না গিয়ে চিত্রা নদীর পাশের মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ পাড়ি দিয়ে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুর চলে যান। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হরিপদ মণ্ডল জানান, ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরা জেলেদের পেশা হলেও বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণী সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আলাদা কোনো নীতিমালা বা বরাদ্দ না থাকায় কোনো কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। সমাজ উন্নয়নকর্মী ও পরিবেশবিদ কাজী হাফিজ জানান, আগের মতো এখন আর তেমন ভোঁদড় দেখা যায় না। ২০১২ সালের ১২ জুলাই বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ৩০ নম্বর আইন পাস হয়েছে। এই আইন পাসের ১৮০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির কাছে সংগৃহীত ও সংরক্ষিত কোনো বন্য প্রাণী থাকলে সেগুলো নিবন্ধন করাতে হবে। আইনে নিবন্ধনের কথা উল্লেখ থাকলেও সংরক্ষণের তেমন জোর দেওয়া হয়নি।
কাজী হাফিজ বলেন, ‘আমি মনে করি, সরকারের সময়োপযোগী এ আইনে বিলুপ্তপ্রায় ভোঁদড় সংরক্ষণের জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টির কথা উল্লেখ থাকা জরুরি ছিল। যেসব অঞ্চলে জেলেদের জীবিকার জন্য বংশপরম্পরায় মাছ ধরার কৌশল হিসেবে ভোঁদড় ব্যবহার করে আসছে, তাঁদের দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় এনে বিলুপ্তপ্রায় এসব প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কনটেইনারের স্তূপ চট্টগ্রামে- ভোগ্যপণ্যের বাজারে ধস ক্ষতি ১২০০ কোটি by মহিউদ্দীন জুয়েল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বরিশাল বিসিক শিল্পনগর- মন্ত্রীদের আশ্বাসে বন্দী উন্নয়ন

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর পরিদর্শনে এসে বিসিককে আধুনিকায়নের আশ্বাস দেন। ওই সময় তিনি বলেন, বরিশাল বিসিকের আধুনিকায়নে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরের মধ্যে অবকাঠামো, প্রাচীর, সড়ক, নর্দমা ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করা হবে। চার বছরেও মন্ত্রীর ওই আশ্বাসের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এমন বাস্তবতায় বর্তমান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুও শোনালেন আশ্বাসের বাণী। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বরিশাল বিসিক এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বিসিকের সব সমস্যা সমাধান করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিকের কয়েকজন ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, বিসিকের উন্নয়নে শুধু মন্ত্রীদের আশ্বাসই পাওয়া গেছে। বাস্তবে উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেই। সে কারণে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না। নামমাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে বরিশাল বিসিক শিল্প নগর চলছে।
বরিশাল বিসিক সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালের ৯ জানুয়ারি ১৩১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩০ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে বরিশাল বিসিক শিল্প নগর। মোট সম্পত্তির ৯৯ দশমিক ৯৫ একর ভূমিতে প্লট করা হয়েছে। বাকি সম্পত্তিতে বিসিক ভবন, সড়ক ও নর্দমার জন্য রাখা হয়। ৪৬৩টি প্লটের মধ্যে ৩৩০টি উন্নত, ১৩৩টি অনুন্নত প্লট। ৩৩৯টি প্লট বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উন্নত ও অনুন্নত মিলে মোট ৪৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। চালু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে ২২টি প্রতিষ্ঠান।
বিসিকের শিল্প উদ্যোক্তা অনন্যা ফুডস ও ফ্লাওয়ার মিলের মালিক শামসুদ্দিন আলম অভিযোগ করেন, বিসিকের মূল সমস্যা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা। এ ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, সড়কের খারাপ অবস্থা ও নিরাপত্তার অভাবে উদ্যোক্তারা বিসিকের প্রতি আগ্রহ দেখায় না। বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক নগেন্দ্রনাথ পাল বলেন, আগে শিল্পমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ছিল মৌখিক। এর কারণে বরাদ্দ আসেনি। এবার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিসিকের অনুন্নত ৩০ একরসহ সব রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। আগে এর উন্নয়ন না হলেও গত চার বছর ধরে বিসিক এগোচ্ছে। বর্তমানে ২৮ লাখ টাকায় বিসিক ভবন ও আশপাশের কিছু কাজ করা হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া

অবশ্য খালেদা জিয়ার অবরুদ্ধ হওয়ার পরদিন ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘...উনি তো বন্দী নয়। ইচ্ছা করলে উনি উনার বাসায় এখনই যেতে পারেন।’ এর পরদিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ নন। তাঁকে আটকও করা হয়নি। পুলিশ যদি মনে করে তিনি নিরাপদ, তাহলে তিনি বাসায় যেতে পারেন। গতকাল শুক্রবার সকালে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের মূল ফটকের তালা পুলিশ আবার খুলে দেয়। কিন্তু কার্যালয় থেকে বের হওয়ার অবস্থা নেই। সোমবার রাতে ইট-বালু ও মাটির ট্রাকগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি জলকামান ও দুটি প্রিজন ভ্যান দিয়ে এখনো রাস্তা আটকানো আছে। এর আগে বৃহস্পতিবারও দিনের বেলায় ফটকের তালা খুলে দিয়ে রাতে আবার তালা দেয় পুলিশ। বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটির সামনে ও ডান পাশে দুটি ফটক আছে। দুই ফটকের সামনে ও রাস্তায় পুলিশের প্রায় ১০০ জন নারী ও পুরুষ সদস্য এখনো পাহারায় আছেন। ৩ জানুয়ারি রাত থেকেই সেখানে পার্কিং করা অবস্থায় আছে পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান, দুটি জিপ ও চারটি মাইক্রোবাস। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবকেও গতকাল দুপুরে এ সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার একটাই বক্তব্য, কোনো রাজনৈতিক নেতার ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা যুক্তিসংগত নয়।’
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, তাদের কাছে খবর ছিল ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার লক্ষ্যে খালেদা জিয়া ৩ জানুয়ারি রাতেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন। সমাবেশ করতে পারলে নেতা-কর্মীদের নিয়ে নয়াপল্টনে অবস্থান নিতে পারেন বলেও গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এ কারণে দুই দিন আগেই খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার কৌশল নেওয়া হয়। বিএনপির নেতাদের দাবি, ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে আটটায় খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয়ে আসেন। এর মধ্যে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত দলের নেতা রুহুল কবির রিজভী ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েন। তাঁকে দেখতে খালেদা জিয়া নয়াপল্টনে যেতে চেয়েছিলেন। এরই মধ্যে রাত নয়টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁর কার্যালয় ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। রাত ১১টার দিকে খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের হতে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তার মাধ্যমে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়াকে বাসা পর্যন্ত যেতে দেওয়া হবে। এ সময় তাঁর গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের দুটি করে চারটি গাড়ি থাকবে। এটা জেনে তিনি আর বের হওয়ার চেষ্টা করেননি।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন একজন চিকিৎসকসহ এমন কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেন, ৫ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে যে পেপার স্প্রে ছোড়ে, তাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মরিচের মতো ঝাঁজালো এই রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অবশ্য এই অসুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দাবি করেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার ভান করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াসহ প্রায় ৫০ জন ওই কার্যালয়ে আছেন। এঁদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, দলের নেতা বিলকিস জাহান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুবুল আলম ডিউ, মিডিয়া উইংয়ের দুই সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দীন দিদার, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা সমন্বয়ক আবদুল মজিদসহ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের ৩৫ জন সদস্য। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বাসার গৃহকর্মী কুলসুমসহ কার্যালয়ের কর্মচারীরাও আছেন। কার্যালয় সূত্র জানায়, ৩ জানুয়ারি অবরুদ্ধ হওয়ার রাতে খালেদা জিয়ার জন্য তাঁর বাসা থেকে একটি খাট ও ম্যাট্রেস আনা হয়। এ ছাড়া ওই কার্যালয়ে শীতবস্ত্র হিসেবে বিতরণের জন্য থাকা কম্বল বিছিয়ে নিরাপত্তা দলের সদস্যসহ অন্যরা ঘুমাচ্ছেন।
কার্যালয় সূত্র জানায়, এ কার্যালয়ে চা ছাড়া আর কোনো রান্নাবান্না হয় না। অবরুদ্ধ হওয়ার প্রথম দিন খালেদা জিয়ার জন্য গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেল থেকে খাবার আনা হয়। এর পরদিন থেকে খালেদা জিয়ার খাবারসহ প্রতিদিন আরও ১০-১৫ জনের খাবার রান্না করে পাঠান তারেক রহমানের স্ত্রীর বড় বোন শাহীনা খান। অন্যদের খাবার-দাবার সরবরাহ করছেন দলের নেতারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এমন একজন রাজনৈতিক নেতাকে অবরুদ্ধ করে রেখে সরকার প্রতিপক্ষকে দমন ও নিপীড়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর মতে, ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে সরকারের এ ধরনের নিপীড়ন খুবই অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক।
গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ৭ দিন
কার্যালয় ঘিরে আছে পুলিশ। প্রধান ফটকে তালা। সামনের দুই পাশের রাস্তাতেই পুলিশের গাড়ি ও জলকামান
৩ জানুয়ারি
কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার প্রবেশ, পুলিশের অবস্থান
৪ জানুয়ারি
অনুমতি না পেলেও ৫ জানু. সমাবেশের ঘোষণা
৫ জানুয়ারি
অবরোধের ডাক, ১১টি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা
৬ জানুয়ারি
আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা
৭ জানুয়ারি
খালেদা জিয়া অসুস্থ, দাবি তাঁর প্রেস সচিবের
৮ জানুয়ারি
বিকেলে তালা খুলে সন্ধ্যায় আবারও তালা।
৯ জানুয়ারি
পুলিশের পাহারা অব্যাহত
খালেদা জিয়া সম্পর্কে তাঁরা যা বললেন
প্রধানমন্ত্রী
উনি তো বন্দী নয়। ইচ্ছা করলে এখনই যেতে পারেন
ত্রাণমন্ত্রী
ইট ও বালুর ট্রাক তাঁর বাড়ি সংস্কারের জন্য এনে রেখেছেন
তথ্যমন্ত্রী
ওনাকে উসকানি থেকে বিরত করেছি
ত্রাণমন্ত্রী
খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অসুস্থতার ভান করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন
হানিফ
খালেদা জিয়া দেশবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
January
(1455)
-
▼
Jan 10
(42)
- ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ২০ গাড়ি ভাঙচুর, আগুন- ‘হরতা...
- প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ
- ‘সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ -র...
- সিরাজগঞ্জে ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ২০, রোববার হরতাল
- ‘মেডিকেল কলেজ থেকে যেন রোগী মারার ডাক্তার বের না হয়’
- রাঙামাটিতে সংঘর্ষে আহত ১৫, ১৪৪ ধারা জারি
- অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ খালেদা
- শার্লি এব্দো – উসকানি দেয়াটাই যাদের ঐতিহ্য -ডয়েচে ...
- শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে জয় দেখতে পাচ্ছেন দুই প্রার্থীই
- যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত
- কার্টুনিস্ট–লেখকদের নিন্দা ও উদ্বেগ
- লাখো মানুষের প্রতিবাদ মিছিল
- বিজেপি নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে by ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক
- এ ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিতে সবাই অসহায় থাকতে পারি না ...
- বন্দিত্ব থেকে বীরের মর্যাদায় অভিষিক্ত by তোফায়েল আ...
- ‘বিপ্লবী’ তরুণ যেভাবে প্রেসিডেন্ট
- টানা অবরোধে কোমর ভাঙছে কৃষকের- বিপাকে ব্যবসায়ীরাও
- মাতৃক্রোড় by জয়দীপ দে
- আদিবাসী ছাত্রনেতা নিজ ঘরে খুন- রাজশাহী ও তানোরে ব...
- বিলুপ্তপ্রায় ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার
- কনটেইনারের স্তূপ চট্টগ্রামে- ভোগ্যপণ্যের বাজারে ধস...
- বরিশাল বিসিক শিল্পনগর- মন্ত্রীদের আশ্বাসে বন্দী উন...
- সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া
- ছাত্রদল ও শিবিরের নেতৃত্বে হচ্ছে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য
- বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
- শব্দ–ধুলা–ধোঁয়ায় মানুষের ভোগান্তি- আবাসিক এলাকায়...
- জৈবপ্রযুক্তিনির্ভর ওষুধ ও পণ্যের বাজারে প্রবেশের প...
- কণ্ঠে তাদের স্বপ্নের কথা- ডাচ্–বাংলা ব্যাংক প্রথম ...
- বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ করুন
- প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর তদন্ত, আটককৃতদের মুক্তির আ...
- টানা অবরোধে বিপর্যস্ত জনজীবন
- বাণিজ্যমেলা নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
- আকাশেই জন্মাল শিশু
- খালেদার সঙ্গে অমিতের ফোনে কথা হয়েছে দাবিতে অনড় ব...
- খালেদাকে আটকে রাখা বিপদের পূর্বাভাস by মাহফুজ আনাম
- সাড়া জাগাতে ব্যর্থ! by মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন
- আম বয়ানে শুরু ইজতেমার প্রথম পর্ব by ইকবাল আহমদ সরক...
- অবরুদ্ধ খালেদার ষষ্ঠ দিন
- শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা
- রাজনৈতিক অস্থিরতায় ছন্দপতন শিক্ষাব্যবস্থায়
- শমসের মবিন রিমান্ডে- সিলেটে হরতাল
- ফের দুই বেগমের লড়াই
-
▼
Jan 10
(42)
-
▼
January
(1455)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


