Sunday, February 1, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ইরান

* ক্ষেপণাস্ত্র কখনোই কোনো আলোচনার বিষয়বস্তু হবে না: আরাগচি

* ইরানের পারমাণবিক দক্ষতা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়: হাতামি

ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার হাতামি এ কথা বলেছেন।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মার্কিন হামলা এড়াতে তেহরান চুক্তির পথে হাঁটবে—এমন মন্তব্যের পর হাতামি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক দক্ষতা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘শত্রু যদি কোনো ভুল করে, তবে নিঃসন্দেহে তারা নিজের দেশের নিরাপত্তা, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জায়নিস্ট শাসনের (ইসরায়েল) নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলবে।’

হাতামি আরও বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে পূর্ণ প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতিতে রয়েছে।’

সরাসরি সংঘাতের শঙ্কা

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান নিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা জড়ো করার বিষয়টি ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ওপর হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং মিত্ররাষ্ট্রগুলোতে—বিশেষ করে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর জবাব দেওয়া হবে।

গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে ইরান বরং তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসার পথ খুঁজবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এর আগে বলেছিলেন, তেহরান পারমাণবিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কখনো কোনো আলোচনা হবে না।

মুছে ফেলা অসম্ভব

গত বছরের জুনে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। তবে শনিবার হাতামি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি মুছে ফেলা সম্ভব নয়, এমনকি এই জাতির বিজ্ঞানী ও সন্তানেরা শহীদ হলেও।

শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনের নৌ মহড়া পরিচালনা করবে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম মার্কিন বাহিনীর কাছাকাছি আইআরজিসির যেকোনো ধরনের অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) একই পদক্ষেপ নেয়। ইইউর এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান এবং এর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৮ ও ৯ জানুয়ারি তা চরম আকার ধারণ করে। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে তা ‘দাঙ্গায়’ রূপ নেয় এবং সেখানে হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই অস্থিরতা তৈরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে দায়ী করেছে তারা।

সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা ৬ হাজার ৫৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১২৪ জন শিশু রয়েছে।

বর্তমানে ইরানে বিক্ষোভ থিতিয়ে এসেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল বিক্ষোভ-পরবর্তী জনদুর্ভোগের দিকে নজর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের সঙ্গে এবং জনগণের জন্য কাজ করতে হবে এবং যতটা সম্ভব মানুষের সেবা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি ন্যায়বিচার ও অধিকারের ভিত্তিতে কাজ করে, তবে কোনো শক্তিই তাকে পঙ্গু করতে পারবে না।

একই দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দক্ষিণ তেহরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির মাজার জিয়ারত করেন।

শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কল্পনাপ্রসূত

তুরস্ক সফরে গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র কখনোই কোনো আলোচনার বিষয়বস্তু হবে না। তেহরান আলোচনা বা যুদ্ধ—উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতেও তারা তৈরি।

আরাগচি আরও বলেন, ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন একটি সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত বিষয়। কেউ কেউ এই মোহের জালে আটকা পড়েছেন।

আমাদের ব্যবস্থা এতটাই গভীরভাবে প্রোথিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত যে কোনো ব্যক্তির আসা-যাওয়ায় কিছু যায় আসে না।’

বিক্ষোভ শুরুর পর দমন-পীড়নের শঙ্কায় এখনো সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে প্রবেশ করছেন ইরানিরা। গতকাল দেশ দুটির রাজি-কাপিকয় সীমান্তে
বিক্ষোভ শুরুর পর দমন-পীড়নের শঙ্কায় এখনো সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে প্রবেশ করছেন ইরানিরা। গতকাল দেশ দুটির রাজি-কাপিকয় সীমান্তে। ছবি: এএফপি

আটক ৫ বছরের শিশু ও তার বাবাকে ছেড়ে দিতে আইসিইর প্রতি মার্কিন বিচারকের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই/আইস)’–এর অভিযানে আটক ৫ বছরের শিশু ও তার বাবাকে টেক্সাসের আটককেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ফ্রেড বিয়েরি এমন আদেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি মিনিয়াপোলিস থেকে লিয়াম কোনেহো রামোস নামের ৫ বছর বয়সী শিশু ও তার বাবাকে আটক করেন আইসিইর সদস্যরা। গতকাল বিচারক বিয়েরি তাঁর রুলে লিয়ামের আটককে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন।

ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে, লিয়ামকে মিনিয়াপোলিসের একটি এলাকা থেকে আইসিই কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সময় লিয়ামের মাথায় নীল রঙের হ্যাট ছিল, সঙ্গে একটি ব্যাকপ্যাক। এ ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর অভিবাসননীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিচারক ফ্রেড বিয়েরি রুলে লিখেছেন, শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীদের (অভিবাসনের জন্য) যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিবাসনব্যবস্থার কারণে জোরপূর্বক বা স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে প্রক্রিয়াটি বর্তমানে যা ঘটছে, সে তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল ও মানবিক নীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলমান অভিযানটি এখন পর্যন্ত আইসিইর সবচেয়ে বড় অভিযান। অঙ্গরাজ্যটির মিনিয়াপোলিস শহরে সংস্থাটির প্রায় তিন হাজার সদস্য মোতায়েন আছেন। সেখানে অধিকারকর্মী ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায়দিনই সংঘর্ষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখানে আইসিই সদস্যদের গুলিতে দুই মার্কিন নিহত হয়েছেন।

আইসিইর এমন প্রাণঘাতী অভিযানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।মিনিয়াপোলিসের কলাম্বিয়া হাইটস স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মাসে ওই এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে কমপক্ষে চার শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। লিয়াম তাদের একজন।

স্কুলের তত্ত্বাবধায়ক জেনা স্টেনভিক বলেছেন, ২০ জানুয়ারি আইসিইর সদস্যরা শিশুটিকে বাড়ির প্রবেশপথে থাকা একটি চলন্ত গাড়ি থেকে বের করে আনেন। পরে তাকে বাড়ির দরজার কাছে নিয়ে যান এবং কড়া নাড়তে বলেন।

স্টেনভিক মনে করেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের ধরতে শিশুটিকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহারের কৌশল অবলম্বন করেছেন আইসিইর সদস্যরা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার তা অস্বীকার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেছেন, শিশু লিয়ামের সুরক্ষার কথা ভেবে আইসিই সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন। কারণ, ওই সময় অন্য কর্মকর্তারা তার বাবাকে আটক করায় শিশুটি একা হয়ে পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জোরালোভাবে মিনেসোটায় আইসিইর নেওয়া কৌশল সমর্থন করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যদিও এ ধরনের আটকের ঘটনা শিশুদের জন্য পীড়াদায়ক হতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে মা–বাবা হওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তি আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর কাছ থেকে দায়মুক্তি পেয়ে যাবেন।’

এর আগে আইনজীবীর বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লিয়াম ও তার বাবা ইকুয়েডরের নাগরিক। দুজনের পক্ষ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করা হয়েছিল এবং আবেদনকারী হিসেবে তাঁরা দেশটিতে বৈধভাবে ছিলেন। দুজনকেই টেক্সাসের ডিলিতে একটি পারিবারিক আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-02-01%2F8e9ov4d2%2FICE.jpg?rect=3%2C0%2C615%2C410&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মুখোশধারী আইসিই এজেন্টরা এক শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী শিশুটিকে ৫ বছর বয়সী লিয়াম কোনেহো রামোস নামে শনাক্ত করেছেন। স্কুলের কর্মকর্তারা বলেন, গত ২০ জানুয়ারি মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস থেকে তাকে আটক করা হয়। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানকে যে কারণে পশ্চিমারা কখনো মেনে নেবে না by সুমাইয়া ঘান্নুশি

বিদেশি সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক চাপের কাছে আমরা মাথা নত করব না’—১৯৫১ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাঁড়িয়ে এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক।

সাত দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজ, যখন একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির বহর ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মিসাইলবাহী জাহাজ, তখন মোসাদ্দেকের সেই কথা ইতিহাসের উদ্ধৃতি নয়, বরং চলমান বাস্তবতার ভাষ্য বলে মনে হয়।

যুদ্ধজাহাজ কাকতালীয়ভাবে কোথাও গিয়ে ভেড়ে না। তাদের গতিবিধি উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে তথাকথিত গোয়েন্দা নথিপত্রও সাধারণত সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তৈরি হয় না। এগুলো বানানো হয় সামরিক আগ্রাসনের পক্ষে জনমত তৈরির জন্য। হস্তক্ষেপের যে কাঠামো আগেই দাঁড় করানো থাকে, এসব নথি তারই খুঁটি।

এ প্রেক্ষাপটেই ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছে এমন এক তথাকথিত চূড়ান্ত প্রমাণ, যার দাবি অনুযায়ী সাম্প্রতিক দেশব্যাপী দমন অভিযানে ইরানি কর্তৃপক্ষ শত শত আটক বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। তেল আবিব এখন নিজেকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রমাণ সরবরাহকারী নিরপেক্ষ মানবাধিকার সাক্ষী হিসেবে হাজির করছে। বিষয়টি হাস্যকরই হতো, যদি এর পরিণতি এত ভয়াবহ না হতো।

যে রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য লবিং করেছে, যে রাষ্ট্র প্রকাশ্যেই ইরানে সরকার পরিবর্তনকে কৌশলগত লক্ষ্য বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং ইরান ভেঙে পড়লে যে রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে, তাকেই আজ নিরপেক্ষ বিচারকের আসনে বসানো হয়েছে। তেল আবিবকে কার্যত প্রধান কৌঁসুলি বানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্যকে প্রচারণা হিসেবে নয়, সত্য হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

এর অর্থ এই নয় যে ইরান সংকটে নেই। ইরান গভীর সংকটে আছে। কয়েক দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক অবরোধে মানুষের জীবনে যে ক্লান্তি জমেছে, তার ফলেই বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমেছে। তাদের অভিযোগ বাস্তব। তাদের ক্ষোভ অস্বীকার করা যায় না।

কিন্তু ইতিহাস বলে, ঠিক এমন মুহূর্তেই গণ-আন্দোলন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। শুধু রাষ্ট্রীয় দমন নয়, বাইরের শক্তির কবজায় পড়ার ঝুঁকিও তখন তীব্র হয়। বাইরের শক্তিরা অসন্তোষ তৈরি করে না। তারা বিদ্যমান অসন্তোষকে নিজেদের মতো করে পরিচালনা করে।

এই কাঠামো নতুন নয়। ১৯৬৪ সালে ব্রাজিলে জোয়াও গুলার্তের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান, ১৯৭৩ সালে চিলিতে সালভাদোর আলেন্দের পতন, তারও আগে ১৯৬১ সালে কঙ্গোতে প্যাট্রিস লুমুম্বার উৎখাত ও হত্যা, এরপর আরব বসন্তের পরবর্তী দীর্ঘ পাল্টা বিপ্লবের ইতিহাস একই ছকে সাজানো। সব ঘটনা এক নয়। কিন্তু কাঠামো এতটাই পরিচিত যে সতর্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যখনই কোনো দেশ বা আন্দোলন পশ্চিমা স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে, প্রথমে এসেছে নিষেধাজ্ঞা। তারপর পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংকট। অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দেওয়া। মিডিয়া প্রচারণা। পাল্টা বিপ্লবের অর্থায়ন। আর এসব ব্যর্থ হলে অভ্যুত্থান, দখলদারি বা তথাকথিত মুক্তির নামে যুদ্ধ।

ইরানের কাছে এসব তত্ত্ব নয়, বরং তাদের জীবন্ত স্মৃতি। ১৯৫৩ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেককে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল, কারণ তিনি ইরানের তেল জাতীয়করণ করেছিলেন। তখন অ্যাংলো–ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি ইরানকে তার নিজস্ব সম্পদের লাভের মাত্র ১৬ শতাংশ দিত।

ব্রিটেন তখন অবরোধ আরোপ করে। আবাদান শোধনাগার বন্ধ করে দেয়। বিদেশি ক্রেতাদের ইরানি তেল কিনতে বাধা দেয়। অর্থনীতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

অর্থনৈতিক যুদ্ধ ব্যর্থ হলে লন্ডন ওয়াশিংটনকে ঠেলে আনে। শীতল যুদ্ধের ভয় দেখানো হয়। সিআইএর অপারেশন অ্যাজাক্সের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। রাজনীতিকদের ঘুষ দেওয়া হয়। ধর্মীয় নেতাদের হেনস্তা করা হয়। অস্থিরতা তৈরি করা হয়। মোসাদ্দেককে সরানো হয়। শাহকে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন সিআইএ নিজেই এই অভ্যুত্থানকে অগণতান্ত্রিক বলে স্বীকার করে।

এ ঘটনাই শুধু ইরানের পথ বদলায়নি। এটি একটি ছক তৈরি করেছে। আজও সেই ছকের উপাদানগুলো স্পষ্ট। ইরানের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে হামলার খবর সেই পুরোনো বিভাজন উসকে দেওয়ার কৌশলের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ইসরায়েলের কিছু গণমাধ্যম আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, সরকার পতনের পর ইরানকে সিরিয়ার মতো করে পুরোপুরি সামরিকভাবে অক্ষম করা হবে। অর্থাৎ সরকার পরিবর্তনই শেষ কথা নয়। সেটি আরও বড় ধ্বংসের প্রথম ধাপ।

১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরান আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে। সম্পদ জব্দ, তেল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শুরু হয়ে তা আর্থিক ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞাকে শান্তিপূর্ণ বিকল্প বলা হয়। বাস্তবে এটি ধীর অবরোধ। এতে মুদ্রা ধ্বংস হয়। সমাজ ভেঙে পড়ে। রাজনীতি চরমপন্থায় ঝুঁকে পড়ে। ভুগতে হয় সাধারণ মানুষকে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ কেবল মানবাধিকার নয়; ইরানের তেল চীনের জন্য কৌশলগত শক্তি। ২০২৫ সালে চীনের সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের প্রায় ১৩ শতাংশ এসেছে ইরান থেকে।

এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বারবার সরাসরি ইরানি জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার পতনের পর সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট আরও খোলামেলা ভাষায় বলেছেন অদৃশ্য হাত দিয়ে ঘটনাপ্রবাহ চালানোর কথা।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এমনকি বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র সরবরাহের কথাও গর্বের সঙ্গে বলা হয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়। এটি একটি বিস্তৃত প্রচারণার অংশ।
রেজা পাহলভিকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টাও এই পরিকল্পনার অংশ। যিনি নিজের দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার পক্ষে কথা বলেন, তাঁকেই ভবিষ্যতের নেতা বানানোর চেষ্টা চলছে। ইতিহাস যেন আবার মঞ্চস্থ হচ্ছে।

এর কোনোটাই ইরানি কর্তৃপক্ষের দমনকে বৈধতা দেয় না। কিন্তু বিদেশি নৈতিকতার মুখোশ যে কতটা ফাঁপা, তা স্পষ্ট করে। যারা অর্ধশতাব্দী ধরে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করেছে, যারা আশির দশকে এক ভয়াবহ প্রক্সি যুদ্ধে ইন্ধন জুগিয়েছে, যারা আজও দেশভাগের কথা বলে, তারাই আবার ইরানের মুক্তির ঠিকাদার সেজেছে।

১ ফেব্রুয়ারি ইরানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৯ সালের এই দিনে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি তেহরানে ফিরে আসেন। তাঁর ফিরে আসার মধ্য দিয়ে বিদেশি শক্তির সমর্থনে টিকে থাকা রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং ইরান আবার নিজের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ফিরে পায়। ঠিক এ সময়েই নতুন সামরিক প্রস্তুতির গতি বাড়া কাকতাল নয়।

সাত দশক আগেও ইরান যা বলেছিল, আজও সেটাই বলছে—সার্বভৌমত্ব। স্বাধীনতা। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। আর এটাই এমন এক দাবি, যা বাইরের শক্তিগুলো কখনো মেনে নেয়নি। ক্ষমা করেনি এবং ছাড় দিতেও রাজি নয়।

* সুমাইয়া ঘানুশি, ব্রিটিশ-তিউনিসীয় লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি-বিশেষজ্ঞ
- মিডিল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

সাত দশক আগেও ইরান যা বলেছিল, আজও সেটাই বলছে—সার্বভৌমত্ব। স্বাধীনতা। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।
সাত দশক আগেও ইরান যা বলেছিল, আজও সেটাই বলছে—সার্বভৌমত্ব। স্বাধীনতা। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। ছবি: এএফপি

ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহরে আইসিইকে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে (ডিএইচএস) ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে চলমান বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোনো শহর থেকে ফেডারেল সহায়তা চাওয়া হলে, তখনই শুধু হস্তক্ষেপ করা যাবে।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বড় আকারে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই/আইস) এজেন্ট মোতায়েন করা এবং সেখানে এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নিহত হওয়ার জেরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, তিনি ডিএইচএস মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন।

ক্রিস্টি নোয়েমকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আমরা ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহরে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করব না, যদি না তারা আমাদের সাহায্য চায়।’

তবে আইসিই এবং বর্ডার প্যাট্রোল ফেডারেল ভবনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেবে।

এ প্রসঙ্গে খানিকটা হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের মুখে থুতু ছোড়া যাবে না, আমাদের গাড়ির হেডলাইটে ঘুষি বা লাথি মারা যাবে না এবং আমাদের যানবাহন কিংবা আমাদের দেশপ্রেমী যোদ্ধাদের দিকে পাথর বা ইট নিক্ষেপ করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন অথবা এর চেয়েও কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের সুরক্ষার আওতায় থাকা আদালত ভবন, ফেডারেল ভবন কিংবা অন্য কোনো স্থাপনা কোনোভাবেই বা কোনো মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।’

ডিএইচএস বা মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের দপ্তর থেকে তৎক্ষণাৎ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ট্রাম্প কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেন। তিনি বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য ও শহরগুলোতে কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেন। তাঁর যুক্তি, অপরাধীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের জন্য সশস্ত্র অভিযান প্রয়োজন।

ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, মিনেসোটার সবচেয়ে বড় শহর মিনিয়াপোলিসের অভিযানটি এখন পর্যন্ত ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তম অভিযান। শহরটিতে নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য, মিনিয়াপোলিসের সোমালি বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা অভিবাসনবিষয়ক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস আইসিই এজেন্টরা, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস আইসিই এজেন্টরা, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

ইসরাইলি দূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার, অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকা দেশটিতে নিযুক্ত ইসরাইলি দূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সার্বভৌমত্ব চ্যালেঞ্জ করার অভিযোগে তেল আবিবের কর্মকর্তাকে পারসোনা নন গ্রাটা বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এরিয়েল সাইডম্যানকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সাইডম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বিরুদ্ধে অপমানজনক আক্রমণ চালিয়েছেন। পাশাপাশি, উচ্চপর্যায়ের ইসরাইলি কর্মকর্তাদের কথিত সফর সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহিত না করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের আচরণ কূটনৈতিক সুবিধার গুরুতর অপব্যবহার এবং ভিয়েনা কনভেনশনের মৌলিক লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য আস্থা ও প্রটোকলকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে ইসরাইল যেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালা ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, সে আহ্বান জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ঘোষণার পর দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শন এডওয়ার্ড বাইনেভেল্টকে পারসোনা নন গ্রাটা ঘোষণা করেছে এবং তাকেও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাইনেভেল্ট ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত, যিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

mzamin

বেলুচিস্তানে ‘সন্ত্রাসী’ হামলা ও অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৫

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৯২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার প্রদেশটির একাধিক জেলায় ভয়াবহ ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর এ অভিযান চালানো হয়।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ হামলা ও অভিযান সম্পর্কে পাওয়া প্রাথমিক খবরে মোট নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৬৮ উল্লেখ করা হয়েছিল।

আজ রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’–এর সদস্যরা কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, ডালবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, তাম্প, গোয়াদর ও পাসনি এলাকায় একযোগে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা নারী, শিশু ও শ্রমিকসহ ১৮ জন নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে।

আইএসপিআর বলেছে, ‘হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। অভিযানে ৩ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ ৯২ সন্ত্রাসী নিহত হন। লড়াইয়ে ১৫ সেনাসদস্য বীরত্বের সঙ্গে প্রাণ দেন। এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসীদের মূলহোতা ও সহায়তাকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।’

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ হামলার নকশা ভারত থেকে করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কোথায় বসে এসব করছেন, তার অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আমরা বিশ্ববাসীর কাছে তাঁদের মুখোশ খুলে দেব।’

মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পুরো বেলুচ পরিবারও রয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক কমানো সম্ভব হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঞ্জাব থেকে বেলুচিস্তানে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডেরা গাজী খান শহরের পুলিশ উপকমিশনার উসমান খালিদ বলেন, ফোর্ট মুনরো হাইওয়ে ও তৌনসা-মুসা খেল সড়ক দিয়ে যানচলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ওই হামলাকে সন্ত্রাসীদের একটি ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আইএসপিআর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, গত এক বছরে পাকিস্তানে ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে আফগান ও ভারতীয় মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। শুধু গত বছরেই পাকিস্তানজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে ২ হাজার ৫৯৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে হামলাস্থল পরিদর্শন করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, কোয়েটা
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে হামলাস্থল পরিদর্শন করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, কোয়েটা। ছবি: এএফপি

ইরানের জমিনে সিআইএর যত ‘আদি পাপ’ by জাসিম আল-আজ্জাবি

ইরানের গ্রীষ্ম মানেই ভারী আর্দ্রতা আর দম বন্ধ করা গরম পরিবেশ। কিন্তু ১৯৫৩ সালের আগস্টে তেহরানের বাতাসে শুধু তাপ আর আর্দ্রতা ছিল না, ছিল আরও ভয়ংকর কিছু। ছিল সাজানো বিপ্লবের বাতাস।

তখন তেহরানে মার্কিন দূতাবাসের ছায়ায় বসে ছিলেন কারমিট রুজভেল্ট। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের বংশধর এই ব্যক্তি সঙ্গে এনেছিলেন প্রায় ১০ লাখ ডলার সমমূল্যের নগদ অর্থ। এই অর্থ দিয়েই বাস্তবায়ন হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় হস্তক্ষেপ। ইতিহাসে যা আজ ‘দ্য অরিজিনাল সিন’ বা ‘আদি পাপ’ হিসেবে পরিচিত।

এই ইতিহাস এখন আর কেবল অতীতের আলাপ নয়, বরং এটি এক নকশা। ২০২৬ সালের অস্থির ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই নকশাই আবার সামনে এসেছে। ইরানে চলমান অস্থিরতায় সিআইএ, এমআই সিক্স এবং মোসাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে। এর মধ্যেই সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকা মোসাদ সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এতে বোঝা যায় সেই আদি পাপ আবার নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এবার বিষয়টি শুধু তেলের চুক্তি নয়। এবার প্রশ্নটি বৈশ্বিক জ্বালানি ভারসাম্য।

১৯৫৩ সালে লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক। তিনি ছিলেন একজন ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী নেতা। তাঁর অপরাধ ছিল একটাই। তিনি বলেছিলেন, ইরানের তেল কেবলই ইরানিদের। ১৯০৮ সাল থেকে ব্রিটিশরা ইরানে তেলক্ষেত্র গড়ে তুললেও ইরানকে দিত সামান্য একটু ভাগ।

মোসাদ্দেকের তেলের দাবি ব্রিটিশদের কাছে ছিল অমার্জনীয়। উইনস্টন চার্চিল এই ইস্যুতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
এখানেই ইতিহাসের ভয়ংকর বিদ্রূপ। যে আইজেনহাওয়ার উপনিবেশ ভাঙার নীতির কথা বলেছিলেন, তিনিই আবার একটি গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে সম্মতি দেন। তখন ক্ষেপণাস্ত্রের দরকার হয়নি। সংবাদপত্র কেনা হয়েছে। লেখক ভাড়া করা হয়েছে। দিনে ১০ থেকে ১৫ ডলারের বিনিময়ে ভাড়া করা হয়েছে দাঙ্গাবাজ জনতা।

শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেককে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে বিচারের নামে অপমানিত করা হয় এবং আজীবন গৃহবন্দী করে রাখা হয়। শাহকে ফিরিয়ে আনা হয় সিংহাসনে। সাময়িক সাফল্যই ভবিষ্যতের বিপর্যয়ের বীজ বপন করেছিল।

আজকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষা এখন আর শুধু সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগে সীমাবদ্ধ নেই। এখন কথা হচ্ছে নেতৃত্ব ছিন্ন করার কৌশল নিয়ে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হুমকি দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার মাদুরোর অভ্যন্তরীণ বলয় ভাঙার উদাহরণ টেনে আনা হচ্ছে। কিন্তু তেহরান আর কারাকাস এক নয়। ইরান সাত দশক ধরে ১৯৫৩ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তারা এমন এক নিরাপত্তাকাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে স্যুটকেস কূটনীতি কাজ করবে না।

২০২৫ সালের জুনে ঘটে যাওয়া ১২ দিনের সংঘাত ছিল সেই প্রস্তুতির মহড়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান ছুড়েছে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। ট্রাম্প দাবি করছে যে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ধ্বংস হয়েছে। বাস্তবতা হলো ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা এখনো সক্রিয়। পরিস্থিতি আপাত শান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর ইরান শত শত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আবার হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চালাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে না। ট্রাম্পও আবার সেই কাজ শেষ করতে আগ্রহী।

বার্তাটি স্পষ্ট। ১৯৫৩ সালের মতো আর পরিস্থিতি নেই। ইরান আজ পুরো অঞ্চলকে জ্বালিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। যদি ইরান মনে করে হামলা আসন্ন, তাহলে তারা অপেক্ষা করবে না। তারা একযোগে হামলা চালাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেবে হরমুজ প্রণালি। এর ফল হবে তেলের দামে ভয়াবহ উল্লম্ফন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বিপর্যয়।

১৯৫৩ সালের আদি পাপ ওয়াশিংটনকে শিখিয়েছিল টাকা দিয়ে রাজপথ কেনা যায় এবং নেতৃত্ব সরানো যায়। দীর্ঘমেয়াদি ফলের কথা কেউ ভাবেনি। আজ সেই বুমেরাং ফিরে আসছে ধারালো হয়ে।

মার্ক টোয়েন বলেছিলেন ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্ত করে না। কিন্তু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আজ সিআইএ আর ইসরায়েলের করিডরে আবার সেই ইতিহাসের পাঠ চলছে। কিন্তু একটি বড় পার্থক্য তারা ভুলে যাচ্ছে। ১৯৫৩ সালে ইরান প্রস্তুত ছিল না। ২০২৬ সালে ইরান বারুদের পাশে দেশলাই হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যদি কারমিট রুজভেল্টের ছায়া নিয়ে তেহরানের পথে হাঁটেন তাহলে তাঁরা এমন আগুন জ্বালাতে পারেন, যা আর নেভানো যাবে না। ১৯৫৩ সালের আদি পাপ শুরু হয়েছিল ১০ লাখ ডলার দিয়ে। ২০২৬ সালের বুমেরাংয়ের মূল্য হতে পারে গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ।

* জাসিম আল-আজ্জাবি, সাংবাদিক, কাজ করেছেন এমবিসি, আবুধাবি টিভি, আল-জাজিরা ইংলিশসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

সিআইএর সদর দপ্তরের প্রবেশপথে মেঝেতে সংস্থাটির লোগো। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকলিন শহরে। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
সিআইএর সদর দপ্তরের প্রবেশপথে মেঝেতে সংস্থাটির লোগো। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকলিন শহরে। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ছবি: রয়টার্স

এরদোয়ানই কি ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় রাজি করিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা কমাতে আলোচনা করতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে তেহরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অবশ্যই ছাড় দিতে হবে—তুর্কি কূটনীতিকেরা ইরানকে এমনটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্সের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতি মার্কিন নেতার পছন্দ হতে পারে। কিন্তু ইরানের সতর্ক কূটনীতিকদের কাছে এটি একেবারেই অপছন্দনীয়। উল্লেখ্য, গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি।

এমন এক সময় (গতকাল শুক্রবার) আরাগচির এ সফরে যাওয়ার কথা ছিল। এটি এমন সময় হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইস্যুতে আলোচনার জন্য ইসরায়েল ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘চুক্তি করার সব পথ ইরানের সামনে খোলা আছে। তাদের পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের পথে হাঁটা উচিত নয়। প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) যা প্রত্যাশা করবেন, আমরা তা–ই করতে প্রস্তুত আছি।’

সম্প্রতি ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তা হবে ভয়ংকর এবং ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের অনেক বড়, খুবই শক্তিশালী জাহাজ ইরানের দিকে এগোচ্ছে। যদি সেগুলো ব্যবহার না করতে হয়, সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে।’

অবশ্য ট্রাম্প যতই হুমকি দিন না কেন, এখনো অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি ঘোষণা করেছেন, গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার রণকৌশলে পরিবর্তন এনেছে এবং এক হাজার জল ও স্থলভিত্তিক ড্রোন তৈরি করেছে।

ইরানি সেনাপ্রধান বলেন, এই ড্রোন ও ইরানের বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার যেকোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে সক্ষম। তবে ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বুধবার বলেন, প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য ইরানের হাজার হাজার ‘ওয়ান–ওয়ে’ ড্রোন (ইউএভি) ও স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে রয়েছেন।

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ইরান সামরিক সংঘাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখছে।

এ অবস্থায় ক্রেমলিন উভয় পক্ষকে কূটনীতির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে তুরস্কই এখন প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইরানের ভেতরে যাঁরা সরকারকে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাঁদের কণ্ঠ ক্রমেই চাপা পড়ে যাচ্ছে। ইরানি সমাজ এখন চরমভাবে বিভক্ত। এক পক্ষ চায় নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিক। আরেক পক্ষ এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যাতে পুরো শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করছেন। তবে দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাব ও বর্তমানে অবিশ্বাসের পরিবেশ এতটাই চড়া যে নিহত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

এভিন কারাগারে বন্দী প্রখ্যাত রাজনীতিক মোস্তফা তাজজাদেহ সরকারিভাবে ঘোষিত নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যাকে ‘লজ্জাজনক মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার করেননি। কখনো বলছেন, বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় ইরানে হামলা চালাবেন, আবার কখনো তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে হুমকি দিচ্ছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও বিপ্লবী গার্ডের মতো বাহিনীর ওপর হামলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে তিনি হয়তো পুরো শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে অথবা অন্তত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ নিশ্চিত করতে চান। জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়ার দাবিও করেছিলেন তিনি। যদিও পরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সেই অভিযানের প্রভাব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন দেয়।

বুধবার কংগ্রেসে বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি শাসনব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, যা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় আছে। তাই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভাবতে হবে।’

অন্যদিকে ইরানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মির হোসেন মুসাভি বর্তমান সরকারকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, খেলা শেষ।’ তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপহীন ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি সাংবিধানিক গণভোটের দাবি তুলেছেন।

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সাধারণ সমঝোতার পথ খুঁজতে গত সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন এরদোয়ান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, শুক্রবার সরকারি সফরে তুরস্কে যাচ্ছেন আরাগচি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থের নীতির ভিত্তিতে ইরান সম্পর্ক দৃঢ় করতে বদ্ধপরিকর।’

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো ইরান পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উন্নত মানের ইউরেনিয়াম মজুত তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর, দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনা ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করা। এই চার শর্তই ইরানের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘ইরানে হামলা চালানো ভুল হবে। নতুন করে যুদ্ধ শুরু করাও হবে ভুল সিদ্ধান্ত। ইরান তাদের পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।’

হাকান ফিদান স্বীকার করেন যে আলোচনার টেবিলে ইরান বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি তাদের জন্য অবমাননাকর মনে হতে পারে। শুধু নিজের কাছে নয়, নেতৃত্বের কাছেও এটি ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে। তাই আমরা যদি বিষয়টিকে সহনীয় করতে পারি, তবে তা সহায়ক হবে।’

ফিদান আরও যুক্তি দেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে হাজির হতে হবে। তিনি ইরানিদের সঙ্গে এ বিষয়ে অত্যন্ত ‘খোলামেলা’ কথা বলেছেন জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলে আস্থা তৈরি করা ও আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের কীভাবে দেখছে, সেদিকে নজর দেওয়া ইরানের জন্য জরুরি।

বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম বারাকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফিদান।

অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশ জানিয়েছে, তারা ইরানকে আক্রমণ করার জন্য তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ফাইল ছবি: এএফপি

সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তেমন কোনো লাভ নেই: রেহমান সোবহান

প্রকাশ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ঃ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তেমন কোনো লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা: ক্রান্তিকালে দুঃসহ পথচলা’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এ আয়োজনে সহায়তা করে যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (আইডিআরসি)। অনুষ্ঠানে বিআইজিডির স্টেট অব গভর্ন্যান্স ২০২৪–২৫ গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরা হয়। বিআইজিডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেশনে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে কি না, এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বক্তারা অভ্যুত্থানের সময়কার সংহতি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি, তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠনের গতিপ্রকৃতি, সংস্কার ও বিপ্লবের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জেন্ডারভিত্তিক বিতর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

২০০৬ সাল থেকে বিআইজিডির স্টেট অব গভর্ন্যান্স প্রতিবেদনগুলো তাত্ত্বিক এবং মাঠভিত্তিক গবেষণা ও সুসংগঠিত কাঠামোর ভিত্তিতে দেশের শাসনব্যবস্থার জাতীয়, স্থানীয় ও খাতভিত্তিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আসছে।

সম্মেলনে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘সংস্কার বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনার কথা কাগজে তুলে ধরলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাতে তেমন কোনো লাভ নেই।’

বিআইজিডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারকে পতনের দিকে নিয়ে যায়, সেটি আসলে ধারাবাহিকভাবে তৈরি হওয়া একাধিক সংহতির ফল ছিল। একক কোনো কারণ থেকে উদ্ভূত হয়ে নয়; বরং এই অভ্যুত্থান ছিল বহুদিনের মিলিত কারণের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ, যা মাত্র দুই মাসের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াসে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। ক্রমে এটি সামান্য ইস্যুভিত্তিক প্রতিবাদ থেকে প্রসারিত হয়ে বহুমুখী, বহু খাতের আন্দোলনে রূপ নেয়, যার প্রভাব পড়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। শেষ পর্যন্ত রাজপথের সঙ্গে, ডিজিটাল এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ধরনের সংহতি একসাথে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলে। তবে বক্তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই অভ্যুত্থানটি সত্যিকারের ‘গণ–আন্দোলন’-এ পরিণত হতে পারেনি।

গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনীতি

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনসমর্থন ও বৈধতা অনেক বেশি ছিল। কারণ আন্দোলনকে জনগণ ব্যাপকভাবে সমর্থন করেছিল। বিআইজিডির একটি জাতীয় জরিপ (আগস্ট ২০২৪) অনুযায়ী ৮৩ শতাংশ মানুষ আগের সরকারকে উৎখাত করার পক্ষে ছিল। আন্দোলনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা সবচেয়ে বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এটি আবারও প্রায় গণ–অভ্যুত্থানের আগের পর্যায়ে নেমে আসে। অর্থনৈতিক আশাবাদও কমে যায়, কারণ গভর্ন্যান্স ও অর্থনীতি উন্নত হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। আস্থা কমার ফলে দ্রুত নির্বাচনের দাবিও বাড়তে থাকে। রাজনৈতিক চাপ, দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিআইজিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের যথেষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়। জনশৃঙ্খলার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় দলবদ্ধ সহিংসতা বাড়ে, যা সরকার পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। অনেক সময় জনগণের দাবিগুলো ন্যায্যতা বা সমতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করে বিবেচনা করা হয়েছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার খুব একটা সক্রিয় ছিল না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক অভিজাতদের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং সাধারণ নাগরিক গোষ্ঠীর জন্য কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ কঠিন হয়েছে । এ ছাড়া সংস্কার কার্যক্রম মূলত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দেওয়ায় এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা সংসদে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি রাজপথেও নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।

গতকালের অনুষ্ঠানে উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান আলী রীয়াজ বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন না থাকায় রাষ্ট্রকে এমন এক আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আগের সরকারের সময় শক্তিশালী ছিল।’ তিনি বলেন, ‘এর মানে হলো আমার সঙ্গে যোগ দাও, যদিও একই সঙ্গে আমি তোমাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের গল্প এখানেই শেষ হয়নি। এখানে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলোই গণভোটে সামনে আনা হয়েছে। যদি এগুলো অনুমোদিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সুশীল সমাজ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারত। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুশীল সমাজ মূলত রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছে। অথচ তারা আরও সক্রিয় হলে সরকারকে জবাবদিহি করতে সাহায্য করতে পারত।’ তিনি বলেন, ‘দেশ এখনো অনেক দূর এগোতে পারে, সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান হয়নি; এবং এখনো এগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। গণভোটে এমন অনেক বিষয় আনা হয়েছে, যেগুলো ভোটে পাস হলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার চাপের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে।’

ক্ষমতাবিহীন দৃশ্যমানতা: বাংলাদেশের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জেন্ডারভিত্তিক বিতর্ক

স্টেট অব গভর্ন্যান্স গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি যে, নারীর উন্নয়ন ও অধিকারবিষয়ক এজেন্ডা সামনে আনার ফলে জনগণের মধ্যে এত শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার অফিস নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করেছে এবং নেতিবাচক মতগুলোকে নিয়ে জনগণের আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত সুপারিশগুলোও তারা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই প্রকাশ করেছে।

পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তারা এমন একটি ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যেখানে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ পরিবারের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে, নিজের অধিকার বা স্বতন্ত্রভাবে নয়। জাতীয় কনসেনসাস কমিশন জেন্ডারভিত্তিক এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি; আর সরকারও প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে সমর্থন করতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হয়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘নীতিনির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জেন্ডারভিত্তিক সমস্যাগুলোকে প্রান্ত থেকে কেন্দ্রের দিকে তুলে আনে। নারীরা, বিশেষ করে যাঁরা নীতিনির্ধারণের অবস্থানে আছেন, যদি অন্যদের ওপর নির্ভর করে তাদের লক্ষ্য এগোতে দেন, তাহলে নারীবাদী আন্দোলন পিছিয়ে যায়।’

গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন যুবরাজনীতি

বাংলাদেশের তরুণ এবং শিক্ষার্থীরা আগেও রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, তবে বেশির ভাগ সময় তাঁরা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম তরুণেরাই বাংলাদেশে নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার এবং তাতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার সূচনা করেন। বিআইজিডির যুব নেতৃত্বাধীন রাজনীতিবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে যে জুলাই বিপ্লব থেকে জন্ম নেওয়া জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) একটি যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলনভিত্তিক দল, যা শুরুতে অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হতো; কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সংগঠিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপান্তরিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, আন্দোলনভিত্তিক দলগুলো প্রায়ই আন্দোলনের স্বাধীন কার্যপদ্ধতিকে পার্টি রাজনীতির দাবির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশেও দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যতই চেষ্টা করুক, ভেতরে অরাজক ও বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন অন্তর্বর্তী সরকারের মূলশক্তি হতে পারত। তারা একধরনের জবাবদিহিব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী সমর্থন গড়ে তুলতে পারত। হয়তো তারা ভেবেছিল, যদি সরকার থেকে দূরে থাকে, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে, তাই তারা সরকারের সঙ্গে যুক্ত হলো; কিন্তু এই কৌশল ব্যর্থ হলো—অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হয়ে তারা সেই রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেল, যেটির থেকে তারা স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। তাদের কাছে স্পষ্ট কোনো ম্যান্ডেট বা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানোর সুসংগঠিত কাঠামোও ছিল না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আসিফ শাহান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের কঠিন সময়’ অতিক্রম করেছে, এবং এই কঠিন সময়কে পার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে অভিজাতদের ঐকমত্য এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি; এবং এখন আমাদের কাছে এমন একটি অভিজাত ঐকমত্য আছে, যেটিতে সাধারণ মানুষ বা নাগরিকদের কোনো অংশ নেই। আমরা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি এবং সংস্কারের ভবিষ্যৎকে নিয়ে নিশ্চিত নই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘যদিও শিক্ষা, জেন্ডার ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ সংস্কার নেওয়া যায়নি, তবু অর্থনীতিতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। সংস্কার আমাদের প্রজন্মের জন্য কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন ছিল না; এটি একটি গভীরভাবে শিকড়গাঁথা প্রত্যাশা। সরকার হয়তো এগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু আমাদের আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট।’

লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাওমী হোসাইন বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের পরে সুশীল সমাজের শূন্য স্থানে একটি হিংস্র শক্তি প্রবেশ করেছে। আমরা দেখেছি মব নারী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করেছে এবং দেশের দুটি প্রধান সংবাদপত্রকেও টার্গেট করেছে। এই হামলাগুলো আগের সরকারের কর্মকাণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি ফ্যাসিস্ট আচরণের মতো। অন্তর্বর্তী সরকার আরও দৃঢ়ভাবে বার্তা দিতে পারত যে কী গ্রহণযোগ্য এবং কী নয়—যাতে ব্যক্তিগত অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সমাজের নীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।’

‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা: ক্রান্তিকালে দুঃসহ পথচলা’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য দেন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান
‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা: ক্রান্তিকালে দুঃসহ পথচলা’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য দেন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। ছবি: বিআইজিডির সৌজন্যে

গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলা, শিশুসহ ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শনিবার অন্তত ২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই অন্যতম সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, হামাসের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার একদিন পর গাজার বিভিন্ন স্থানে এই হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গাজা সিটিতে একটি আবাসিক ভবন এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি শরণার্থী তাবু শিবিরে প্রাণঘাতী হামলা হয়। হাসপাতাল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি আলাদা পরিবারের দুই নারী ও ছয় শিশু নিহত হয়েছে।

এছাড়া গাজা সিটির একটি পুলিশ স্টেশনে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, চারজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্টেশনে আটক থাকা বন্দিরাও রয়েছেন। হামাস-পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজার দক্ষিণে মিশর সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং রোববার খুলে দেয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়জুড়েই গাজার সব সীমান্তপথ বন্ধ ছিল। গুরুতর অসুস্থ ও আহত হাজারো ফিলিস্তিনির জন্য রাফাহ ক্রসিংকে জীবনরক্ষাকারী পথ হিসেবে দেখা হয়, বিশেষ করে যখন গাজার অধিকাংশ স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

সীমিত পরিসরে রাফাহ ক্রসিং খোলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের প্রথম বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধাপে পুনরায় সীমান্ত খোলা, প্রায় দুই দশক ধরে হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের তদারকির জন্য নতুন প্রশাসন গঠনের মতো জটিল বিষয়গুলো আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

তবে শনিবারের হামলা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া এগোলেও গাজায় প্রাণহানি থামেনি। নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, খান ইউনিসের শরণার্থী শিবিরে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং এতে সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন বাবা, তার তিন সন্তান ও তিন নাতি-নাতনি রয়েছে। অন্যদিকে শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, গাজা সিটির আবাসিক ভবনে হামলায় তিন শিশু, তাদের খালা ও দাদি নিহত হন।

হামাস শনিবারের হামলাকে যুদ্ধবিরতির প্রকাশ্য ও নতুন লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি ইসরাইলকে হামলা বন্ধে চাপ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, একদিন আগে রাফাহর ইসরাইল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসা অন্তত চারজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়, যাকে তারা চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস-নিয়ন্ত্রিত এই মন্ত্রণালয়ের হতাহত সংক্রান্ত তথ্য জাতিসংঘ সংস্থা ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কাছে সাধারণভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

mzamin

আল–জাজিরাকে শফিকুর রহমান: জামায়াতের আমির পদে নারী সম্ভব নয়

‘বাংলাদেশ নির্বাচন: জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান’ শিরোনামে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল–জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন

জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী আসা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার আল–জাজিরার ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ নির্বাচন: জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান’ শিরোনামে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল–জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। সাক্ষাৎকারের ভূমিকায় তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এবং জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে জামায়াত একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

আল–জাজিরার সাংবাদিক জামায়াত আমিরের কাছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা, ইসলামিক আইন চালুর বিষয়ে দলের অবস্থান, নারী, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চান।

নারীদের নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির জানান, এবার নির্বাচনে তাঁদের দল থেকে একজন নারীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে তাঁরা এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামায়াতের প্রধান পদে নারী আসতে পারেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি সম্ভব নয়।’ এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেককে তাঁর নিজস্ব সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবে না বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবে না। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে, তাঁরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিছু শারীরিক অসুবিধা আছে, যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। একজন মা যখন সন্তান জন্ম দেন, তিনি কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন? এটি সম্ভব নয়।’

জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে ইসলামি আইন চালু করা হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদি দেশের মঙ্গলের জন্য এটি অপরিহার্য হয়, তবে সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এটি আমি নই, সংসদই বিষয়টি স্থির করবে।’ তিনি এটাও বলেন যে তাঁরা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করবেন না।

জামায়াতের উত্থান সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুজন নেতা দুটি সংবাদমাধ্যম এবং উদীচী ও ছায়ানটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান জানতে চান সাংবাদিক। জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা এটা সমর্থন করেন না, এর নিন্দা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির আমাদের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়; এটি জামায়াতের আইনি কাঠামোর অংশ নয়। মানুষ ভুল করতে পারে, তাকে সংশোধন করতে হবে। যদি তারা এটি পুনরায় করে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জামায়াতে ইসলামীর যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির আমির। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কেউ কখনো এ ধরনের ভাঙচুর বা হামলায় জড়িত ছিল না। গত ১৫ বছরে যা–ই ঘটেছে, তারা জামায়াতকে দায়ী করেছে, কিন্তু আদালতে কোনো একটি মামলাও প্রমাণিত হয়নি। আগস্টের অভ্যুত্থানের পরের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্টটিও আমি প্রত্যাখ্যান করছি। এগুলো সব মিথ্যা অপপ্রচার।’

১৯৭১ সালে বাঙালির ওপর চালানো নৃশংসতার ঘটনায় জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন দলটির আমির। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন জামায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কোনো সশস্ত্র বাহিনীর সিদ্ধান্ত নয়। আমাদের নেতারা মনে করেছিলেন ভারতের সাহায্যে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সেটি বাংলাদেশের ওপর ভারতের আরেকটি আধিপত্য তৈরি করবে।’ এ পর্যায়ে আল–জাজিরার সাংবাদিক জামায়াত–সংশ্লিষ্ট আধা সামরিক বাহিনীর হাতে বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করেন। তার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সেই বাহিনীগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল, কোনো সংগঠনের দ্বারা নয়। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তবে স্বাধীনতার পর কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হয়নি? শেখ মুজিবুর রহমান নিজেও ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা করেছিলেন, যারা সবাই ছিল পাকিস্তানি সেনা; এই ভূখণ্ডের কেউ নয়।’

ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে অস্বীকার করলে জামায়াত কী করবে, সে প্রশ্নে দলটির আমির বলেন, ‘আমরা ভারতের সাথে ফলপ্রসূ সংলাপ করব। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা প্রতিবেশীদের কোনো অস্বস্তিতে ফেলব না এবং বিনিময়ে তাদের কাছ থেকেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস আশা করি।’

তরুণ প্রজন্ম জামায়াতকে গ্রহণ করবে বলে আশাবাদী শফিকুর রহমান। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে শিক্ষার্থীরা আমাদের ছাত্রসংগঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, তরুণদের মর্যাদা ও অধিকার আমাদের মাধ্যমেই রক্ষিত হবে।’

শফিকুর রহমান
শফিকুর রহমান। আল–জাজিরার ভিডিও থেকে

ডিআর কঙ্গোতে খনি ধসে নিহত দুই শতাধিক মানুষ

পূর্ব গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) উত্তর কিভু প্রদেশে একটি খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

উত্তর কিভুর গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা সাংবাদিকদের জানান, বুধবার রুবায়া শহরের ওই খনিটি ভারী বৃষ্টির কারণে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় হতাহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

ধসে পড়া খনিটিতে কলটান খনিজ উত্তোলনের কাজ চলছিল। কলটান স্মার্টফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ। দুর্ঘটনার সময় নারী, শিশু এবং খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

খনিটির এক সাবেক তত্ত্বাবধায়ক বিবিসিকে জানান, খনিটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল অত্যন্ত বেশি। উদ্ধারকাজেও চরম অসুবিধা দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, এলাকার মাটির গঠন অত্যন্ত ভঙ্গুর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

ধসে পড়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ জন জীবিত উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

mzamin

অচল মানবাধিকার ও তথ্য কমিশন by মোশতাক আহমেদ

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নীরব। শেষ সময়ে কমিশন গঠনে তোড়জোড়। নেই তথ্য কমিশনও।

বাগেরহাটের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা স্ত্রী ও শিশুসন্তানের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পাননি। পরে কারাফটকে নিয়ে আসা হয় তাঁদের মরদেহ। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আরও অভিযোগ উঠলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। কারণ, কাগজে–কলমে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে প্রায় দেড় বছর ধরে কমিশনই নেই।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নভেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর কমিশন পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে মানবাধিকারবিষয়ক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে।

একই চিত্র তথ্য কমিশনেও। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তথ্য কমিশনও কার্যত অচল। কমিশনের প্রধান ও অন্য কমিশনারদের পদত্যাগ ও অপসারণের পর আর কমিশন গঠন করেনি সরকার। ফলে তথ্য পাওয়ার অধিকারসংক্রান্ত অভিযোগের পাহাড় জমলেও সেগুলোর নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। কমিশনে ছয় শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে, এগুলোর কোনো শুনানি হচ্ছে না।

এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থাকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা’ হিসেবে দেখছেন। মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সরকারের লুকানোর মতো কিছু আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার একেবারে শেষ সময়ে এসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগে তোড়জোড় শুরু করেছে। আর তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তথ্য কমিশন গঠনে নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

মানবাধিকার কমিশনের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বা অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে কমিশন। মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি, ক্ষতিগ্রস্তকে আইনি সহায়তা দেওয়া, নারী ও শিশু অধিকারসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, কারাগার ও আটককেন্দ্র পরিদর্শন করে তা উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করাসহ মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের করা সংশোধিত অধ্যাদেশে কমিশনের কাজ ও ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু এসব কাগজেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে নেই। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে পাঁচজন সদস্যও পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে কমিশন অচল।

গত সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে আছেন। কর্মীরা জানান, এখন মূলত রুটিন কাজ চলছে। অভিযোগ জমা পড়লে তা সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কমিশন না থাকায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। ২৫ জানুয়ারি ছিল তথ্য জমা দেওয়ার শেষ সময়। এর আগে একটি বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ৫০টির বেশি আবেদন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বাছাই কমিটির সভা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এই নিয়োগ হতে পারে।

তথ্য কমিশনেও শূন্যতা

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, তথ্য কমিশন গঠিত হয় জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে। তথ্য না পেলে নাগরিকেরা কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন এবং কমিশন শুনানি শেষে জরিমানা, ক্ষতিপূরণ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।

সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। আরেক তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকে গত বছরের জানুয়ারিতে অপসারণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগ দিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে কমিশনের নিয়মিত সচিবও নেই। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধুলার স্তর জমে আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, কমিশনার না থাকায় শুনানি বন্ধ।

তথ্য কমিশন সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সারা দেশে তথ্য চেয়ে ১২ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। আর শুরু থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আবেদন ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি। কমিশন না থাকার সময় থেকে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

কবে নাগাদ প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগ হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে কাজ শুরু করেছি।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা যে দুটি প্রতিষ্ঠানের, সেগুলো প্রায় দেড় বছরেও পুনর্গঠন করতে না পারার এমন নজির বাংলাদেশে নেই। এমনকি পৃথিবীর কোনো দেশেও আছে বলে তাঁর জানা নেই।

ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সরকার এ দুটি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করেনি। এতে প্রশ্ন উঠছে, সরকারের কি কোনো ভয় বা উৎকণ্ঠা ছিল যে এ দুটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হলে তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অস্বচ্ছতা-অনিয়মের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসতে পারে?

ইফতেখারুজ্জামান
ইফতেখারুজ্জামান। ফাইল ছবি

গাজায় প্রথমবারের মতো ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের কথা স্বীকার ইসরায়েলের

গাজায় নিজেদের নির্বিচার হামলায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েল। অবশ্য এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের ধরা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন। পরদিন শুক্রবার ইসরায়েলের প্রায় সব সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে প্রতিবেদন করেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে আকাশ, স্থল ও জলপথে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। শুরু থেকে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংখ্যার পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির নাম, বয়স, জন্মতারিখ এবং ইসরায়েলের ইস্যু করা পরিচয়পত্রের নম্বরও প্রকাশ করেছে হামাস পরিচালিত মন্ত্রণালয়টি।

জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে মোটাদাগে সঠিক বলে মনে করে; কিন্তু ইসরায়েল সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী সব সময় বলে আসছে, হতাহতের এ সংখ্যা ‘সঠিক নয়’। এসব হামাসের ‘অপপ্রচার’। ইসরায়েলের উদারপন্থী পত্রিকা হারেৎজ ছাড়া প্রায় সব সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহু সরকারের সুরে কথা বলেছে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল-জাজিরা জানায়, গাজা নগরী, খান ইউনিসসহ গাজার বিভিন্ন স্থানে গতকাল শনিবার ভোর থেকে ইসরায়েলের হামলায় ৬ শিশুসহ অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে ইসরায়েলের দুই বছরের বেশি সময়ের আগ্রাসনে গাজায় অন্তত ৭১ হাজার ৭৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৩ জন। তা ছাড়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ এখনো ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন। আর প্রায় আড়াই শ জনকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

নিহতের সংখ্যা নিয়ে হঠাৎ করে অবস্থান পরিবর্তনের ফলে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের দাবি বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের একটি কমিশন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকেরা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেছে।

বেসামরিক নিহতের সংখ্যা কত

নিরাপত্তা কর্মকর্তার ব্রিফিংয়ের পর ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রশ্ন তুলেছে, আর কী কী অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হতে পারে? সংবাদমাধ্যমটির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বিলম্বিত স্বীকৃতি গাজায় ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয়—তা ইসরায়েলের জনগণকে নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করে দেখতে হবে।

এর আগে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, তারা গাজায় ২২ হাজার ‘যোদ্ধা’কে হত্যা করেছে। এটাকে সত্য ধরে নিলে ৭০ হাজার নিহত ফিলিস্তিনির মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বেসামরিক মানুষ। তবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক গোপন ডেটাবেজে গাজায় নিহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজায় নিহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা এখনো পর্যালোচনা করছে ইসরায়েল। অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডেটাবেজে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা, কতজন বেসামরিক মানুষ, তা আলাদা করা হয়নি।

রাফা খুলছে

দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ রাখার পর আজ রোববার মিসর সীমান্তবর্তী রাফার মূল ক্রসিং খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ২০২৪ সালের মে মাস থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্রসিংটি বন্ধ করে রেখেছেন ইসরায়েলের সেনারা।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) একজন মুখপাত্র জানান, যাঁরা গাজা ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা এবার ফেরার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি বাহিনী ক্রসিংটি তত্ত্বাবধান করবে। কিন্তু গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পুরো বিষয় নিয়ন্ত্রণ করবেন ইসরায়েলের সেনারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরের অন্যতম শর্ত হচ্ছে রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়া। কিন্তু ক্রসিংটি কেবল পদচারীদের জন্য খোলা হবে। ফলে গাজায় খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা সরবরাহে তেমন কোনো সুবিধা হবে না।

ইসরায়েলের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন ঘুরে দেখছেন এক ফিলিস্তিনি। গাজা উপত্যকার গাজা নগরীতে, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ইসরায়েলের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন ঘুরে দেখছেন এক ফিলিস্তিনি। গাজা উপত্যকার গাজা নগরীতে, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

ইরানের বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ১৪

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বন্দর আব্বাসে আজ শনিবার এক বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় একজন কর্মকর্তা ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন। কিন্তু বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেছিলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। কিন্তু এ দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

তেহরান টাইমস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে পরে আর কোনো তথ্য জানায়নি। বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে জানতে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রয়টার্সের পক্ষে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর জানায়, বন্দর আব্বাসের একটি ভবনে গ্যাস লিক থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাতে বার্তা সংস্থাটি এ কথা জানিয়েছে।

এদিকে ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের আহভাজ শহরে শনিবার গ্যাস–সম্পর্কিত বিস্ফোরণের পৃথক এক ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান টাইমস। তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইসরায়েলের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে আজকের বিস্ফোরণের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা নেই।

ইরানে এমন একসময়ে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের দেশব্যাপী সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার বলেন, যুদ্ধজাহাজের একটি নৌবহর (আর্মাদা) ইরানের দিকে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প। এসব বিকল্পের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলাও রয়েছে।

শনিবার সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় নেতারা ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিচ্ছেন, বিশৃঙ্খলা উসকে এবং জনগণকে ‘দেশকে টুকরো টুকরো করার’ প্ররোচনা দিচ্ছেন।

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত বন্দর আব্বাস কনটেইনার ওঠানামার দিকে থেকে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত। বিশ্বের সমুদ্রপথে যত জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়, সেটার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয় এ প্রণালি দিয়ে।

গত এপ্রিলে বন্দর আব্বাসে একটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এতে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং এক হাজারের বেশি আহত হয়েছিলেন। নাগরিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল বলে ওই সময় এক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা ঘিরে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। দ্রুত তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ থেকে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি ওঠে। সরকার শক্ত হাতে বিক্ষোভ দমন করে।

ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০০ সদস্য রয়েছেন।

ইরানের উপকূলবর্তী এলাকা ও হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত বন্দর আব্বাসের দৃশ্য। ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
ইরানের উপকূলবর্তী এলাকা ও হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত বন্দর আব্বাসের দৃশ্য। ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ছবি: রয়টার্স