Saturday, November 27, 2010

প্রথম আলোর সাথে সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস 'সামাজিক ব্যবসা অনেক ক্ষেত্রেই বেশিকার্যকর'

সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন অভিযাত্রা শুরু করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর এ ভাবনা আলোচিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। অনেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান কাজ করতে বাংলাদেশে আসছে। এ নিয়ে কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশেও। এ বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। গ্রামীণ ব্যাংকের সদর দপ্তরে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাহীদ এজাজ ও ইফতেখার মাহমুদ

আলোচনা- 'তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে করণীয়' by মোহাম্মদ জমির

স্বাধীন প্রেস অ্যাক্টের মাধ্যমে ১৭৬৬ সালে সুইডেনে শুরু হয় তথ্যপ্রবাহে জনগণের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি। জনপ্রশাসনের ইতিহাসে সেই প্রথমবারের মতো সরকার ও স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অবহিত হওয়ার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়। এ প্রক্রিয়ার অর্থ হলো কতর্ৃপক্ষ যে সমস্ত নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ করেন তা স্বাভাবিক নিয়মেই প্রকাশ করা। তা না হলে বিশেষ করে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য বিফল হতে বাধ্য। তাই এই প্রেস অ্যাক্টে উলেস্নখ থাকে যে, সম্ভাব্য স্পর্শকাতর তথ্যগুলো অবশ্যই আলাদাভাবে সংরক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'গণতন্ত্রের স্বার্থে পারস্পারিক সম্মানবোধ' by ড. আবু এন. এম. ওয়াহিদ

উনিশ শ' বাহাত্তর সাল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কতর্ৃক আযোজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান অতিথি ছিলেন যথাক্রমে, তখনকার উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান এবং প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল ফজল। প্রধান অতিথির ভাষণে অধ্যাপক আবুল ফজল সামান্য কয়েকটি কথা বলেছিলেন। দীর্ঘ আটত্রিশ বছর পর, আজও মনে পড়ে তাঁর সেদিনের দুয়েকটি কথা।

শিল্প-অর্থনীতি 'চরম দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে' by জাহাঙ্গীর শাহ

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের প্রভাবে বছরের পর বছর গরিব মানুষ হতদরিদ্র বা চরম দরিদ্রই থেকে যাচ্ছে। কেন এরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে, তা একটি কঠিন প্রশ্ন। এর উত্তর খুঁজতে গেলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ননীতির সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা থেকে আরম্ভ করে অনেক কিছুই বলা যেতে পারে। আর তাই দারিদ্র্য বিমোচনের বিভিন্ন সময় সরকারি বা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগগুলো নিয়ে কম-বেশি প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ রচনা- মেডির মিরাকল by মাসুদ রহমান

খারাপ আবহাওয়ায় গাড়ি চালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগনবাসী এক কথায় ওস্তাদ। না হয়ে উপায় নেই, সেখানকার আবহাওয়া যে বড়ই খাপছাড়া। এখন ভালো তো তখন খারাপ! ৩৯ বছর বয়সী স্টেফানি ম্যাকরেও ওরিগনবাসী। স্বভাবতই তিনিও ‘ঝড়কে আমি করব মিতে’ নীতিতে অভ্যস্ত। ২০০৯ সালে তেমনি এক ঝড়-বাদলামুখর দিনের কথা। ঘড়িতে তখন ঠিক রাত সাড়ে আটটা। ম্যাকরে তাঁর ফোর্ড গাড়িতে চেপে টিলামুকের পাশের একটি গির্জার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে তিন ছেলেমেয়ে।

ভ্রমণ- 'ঘুরি দেশে দেশে' by মাহফুজ রহমান

৫৭ বছর বয়সী কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি আবদুস সাত্তার গাড়িতে চেপে বেরিয়েছিলেন বিশ্বভ্রমণে। গত বছরের ২ আগস্ট কানাডার টরন্টো থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। একে একে ২২টি দেশ ঘুরে এবার এসেছেন মাতৃভূমি বাংলাদেশে। শুনুন বিচিত্র অভিজ্ঞতায় ভরপুর তাঁর বিশ্বভ্রমণের গল্প।
চোখে পড়ার মতো একটি খবর আমরা দেখেছিলাম ১০ নভেম্বর প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায়। শিরোনাম ছিল ‘বিশ্বভ্রমণকারীর বাংলাদেশ দর্শন’। কী ছিল খবরটিতে? সংক্ষেপে বলা যায়, ৫৭ বছর বয়সী কানাডা-প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুস সাত্তার ও ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্যাল বয় বেরিয়েছিলেন বিশ্বভ্রমণে।

প্রকৃতি- 'বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে হাঁক, দ্বিগুণ হবে বনের বাঘ' by খসরু চৌধুরী

মাস কয়েক আগে বন বিভাগের আমন্ত্রণে উপস্থিত হই বিশ্বব্যাংকের ঢাকার আঞ্চলিক অফিসে। শুনেছিলাম সেখানে বাঘ নিয়ে আলোচনা হবে। গিয়ে শুনলাম অনুষ্ঠানের আয়োজক বিশ্বব্যাংক। দেখলাম, অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন বন বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা, কয়েকজন বাঘ গবেষক, বিশ্বব্যাংকের বাঘবিষয়ক উপদেশকসহ আরও জনা কয়েক। আলোচনার বিষয়বস্তু আগেভাগে জানতাম না। বিশ্বব্যাংকের উপদেশক আমার অজ্ঞতা দূর করে আলোচনার শুরুতেই জানালেন, বিশ্বব্যাংক পরিকল্পনা নিয়েছে আগামী এক যুগের মধ্যে বন্য বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার। সেটা করার জন্য কর্তব্যকর্মে আমাদের কিঞ্চিৎ বিনা পয়সার উপদেশ চান তাঁরা।

জার্মানির কাছে দুটি জাহাজ রপ্তানি করল ওয়েস্টার্ন মেরিন

জার্মানির গ্রোনা শিপিং কোম্পানির কাছে দুটি জাহাজ হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম ড্রাইডক জেটি থেকে জাহাজ দুটি মালিকপক্ষের প্রতিনিধির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় ১৬০ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজ দুটি হচ্ছে ‘গ্রোনা এমারসাম’ ও ‘গ্রোনা বিয়েসসাম’। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দেশীয় প্রকৌশলীরা চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে এই দুটি জাহাজ একসঙ্গে তৈরি করেছে। গ্রোনা শিপিং কোম্পানির কাছে ১২টি জাহাজের রপ্তানি আদেশ পায় ওয়েস্টার্ন মেরিন।হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকাশে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের সফলতার মাধ্যমে বিশ্বের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বাজারে নতুন ভাবমূর্তি তৈরি করছে বাংলাদেশ। জাহাজ দুটি নির্মাণকারী ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড জানায়, ৩৮টি ইউরোপীয় কোম্পানির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি এই দুটি জাহাজে তিন হাজার টন লোহা ব্যবহূত হয়েছে। প্রায় ২২ কিলোমিটার মেরিন কেব্ল এবং মরিচা প্রতিরোধ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ২৪ হাজার লিটার রং। প্রায় ১০০ মিটার লম্বা এই জাহাজে পণ্যের ধারণক্ষমতা পাঁচ হাজার ২০০ টন।জানা গেছে, এই দুটি জাহাজে সৌর ও বায়ু বিদ্যুত্ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি পরিবহন করা হবে। জাহাজ দুটি হিমশীতল ও প্রতিকূল পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলে সক্ষম। সেন্ট জনসের পতাকাবাহী জাহাজ দুটির গতি ১২ নটিক্যাল মাইল হলেও প্রাথমিক সমুদ্র মহড়ায় সর্বোচ্চ গতি ওঠে ১৪ দশমিক তিন নটিক্যাল মাইল। আন্তর্জাতিক নৌসংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা এবং জার্মানশিয়র লয়েডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে জাহাজ দুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এইডস প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

পৃথিবীতে এইডসের মতো ভয়ংকর প্রাণসংহারী রোগের প্রকোপ যেভাবে বাড়ছে, সেখানে মানুষকে রক্ষা করতে পারে ধর্মীয় অনুশাসন। মরণব্যাধি এইডসের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা গণসচেতনতা বৃদ্ধি, ইসলামের বিধিবিধান ও সামাজিক অনুশাসন মেনে বিশ্বস্ত ও নিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং এইচআইভি ভাইরাসবিহীন রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা যায়। নৈতিকতার আদর্শে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে কঠিন রোগব্যাধি সম্পর্কে সচেতন করা সমাজের ধর্মীয় নেতা বা ইমামদের দায়িত্ব। জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ প্রভৃতি আদর্শ জাতি গঠনের লক্ষ্যে মসজিদের ইমামেরা প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক জুমার খুতবায় অত্যন্ত মূল্যবান উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘লোকেরা যখন কোনো মন্দ কাজ দেখেও তা পরিবর্তনে কোনো চেষ্টা না করে, তখন খুবই আশঙ্কা থাকে যে আল্লাহ তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এর শাস্তির বিধান করবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)
যেসব কারণে এইচআইভি ভাইরাস ছড়ায়, এর প্রায় সবগুলোকে ইসলাম আজ থেকে প্রায় এক হাজার ৪০০ বছর আগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নারী-পুরুষের অবাধ যৌনাচার শুধু চরম অশ্লীলতাই নয়, যাবতীয় অন্যায় ও কুকর্মের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। অবাধ যৌন মিলন ও ব্যভিচার পারিবারিক বন্ধনকে বিনষ্ট করে এবং সামাজিক জীবনকে বিষময় করে তোলে; তাই ব্যভিচারের মতো বিবাহবহির্ভূত যৌনাচার শুধু পরিত্যাগ করাই উচিত নয়, বরং এর সংস্রব ও কামনা-বাসনা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বলেছেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৩২)
ঘাতক ব্যাধি এইডসসহ অনেক জটিল রোগের জন্য দায়ী ব্যভিচার নামক সামাজিক অনাচার। অবৈধ মিলন ও ব্যভিচারের ফলে জন্ম নেওয়া বা গর্ভে থাকা শিশুর অধিকারের পথে অন্তরায় সৃষ্টি হয়। ইসলাম ব্যভিচারের পথ চিরতরে বন্ধ করে পৃথিবীতে সুস্থ-সুন্দর বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন যাপনে সমর্থ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। ইসলাম নর-নারীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বাইরে কোনো দৈহিক মিলন অনুমোদন করে না। অবাধ যৌনাচার থেকে দূরে থাকাই মরণঘাতী এইডস থেকে মুক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ পথ। অথচ বাংলাদেশ বর্তমানে এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও জনগণের মধ্যে এসব বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি দেখা যায়। এখনই এ ব্যাপারে ধর্মভীরু লোকেরা সজাগ-সচেতন হলে জাতি এইডস থেকে বহুলাংশে রক্ষা পাবে।
নিয়ন্ত্রিত যৌনজীবন তথা বিবাহিত নারী-পুরুষের সহবাসে এইডসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই, যদি না স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন বিপথগামী হয়ে থাকে। ইসলাম কখনো মানুষের যৌন চাহিদাকে অবদমিত করার পরামর্শ দেয় না বলে বিবাহপ্রথা চালু আছে। পক্ষান্তরে বিয়ে না করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর; এটি মানুষকে ব্যভিচার, অবাধ যৌন মিলনের কাজে ধাবিত করে। বর্তমান বিশ্বে এইডস মহামারি আকার ধারণ করেছে। অবৈধ যৌনাচার ও ব্যভিচারকে মহামারির কারণ হিসেবে হাদিস শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ্যভাবে চলতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে প্লেগ ও এমন অভিনব দুরারোগ্য ব্যাধি দেওয়া হয়, যা তাদের পূর্বপুরুষেরা কখনো শোনেনি।’ (দায়লামি) নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, ‘যখনই কোনো জাতি বা সম্প্রদায় অশ্লীল ও ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়, তখন তাদের মধ্যে এমন এক ভয়ংকর মহামারি দেখা দেয়, যা তারা অতীতে কখনো দেখেনি।’ (ইবনে মাজা)
অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচার এইডস বিস্তারে অন্যতম ভূমিকা পালন করে, তাই ইসলাম বিবাহবহির্ভূত অবাধ নিয়ন্ত্রণহীন যৌনকর্ম অনুমোদন করে না। সমকামিতা ও বহুগামিতা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়াও মানবিক বিচারে একটি ভয়ানক অপরাধ। আধুনিক মানবসভ্যতার প্রতি হুমকিস্বরূপ সমকামিতার মধ্যে দুরারোগ্য ব্যাধি এইডসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যারা অবৈধ যৌনাচার, সমকামিতা, অনৈতিক, অশ্লীল ও ঘৃণ্য কাজে জড়িত; তাদের কঠোর শাস্তির ভয় দেখিয়ে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘আমি লুতকে প্রেরণ করেছিলাম যখন সে তার জাতিকে বলেছিল: তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বে কেউ করেনি? তোমরা তো কামবশত নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে গমন করো, তোমরা তো সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৮০-৮১)
ধর্মীয় অনুশাসনের যথার্থ অনুশীলন না করার জন্য বর্তমানে এইডসের মতো ভয়াবহ রোগ ছড়িয়েছে। হজরত লুত (আ.)-এর সম্প্রদায় নবীর আদেশ লঙ্ঘন করে বিকৃত যৌনাচার বা সমকামিতার অপরাধে আল্লাহর এমন গজবে পতিত হয়েছিল যে পুরো জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। এমনিভাবে আল্লাহর নির্দেশিত সীমা লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি যে কত কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। অবশ্য ইসলামি মূল্যবোধের কারণে ধর্মপ্রাণ লোকেরা এইডস বিস্তারের অন্যতম প্রধান দুটি মাধ্যম অবাধ যৌনাচার ও মাদকাসক্তি থেকে বিরত থাকেন। পক্ষান্তরে সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় যৌন বিকৃতির প্রবণতা সৃষ্টি করে এবং নৈতিক পদস্খলনের কারণে বিপথগামী লোকেরা ইসলামে হারাম ঘোষিত ব্যভিচার, সমকামিতা, বহুগামিতা, মাদকাসক্তি প্রভৃতিতে প্রবৃত্ত হতে পারে। এসব কার্যকলাপ এইডস ছড়ানোর জন্য সমানভাবে দায়ী। এইডস থেকে মুক্ত থাকতে হলে এর অনুষঙ্গ থেকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। অশ্লীলতা ও অবাধ যৌনাচারে উদ্বুদ্ধ করে এমন ইসলামবিরোধী কাজ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হবে
এবং সব ধরনের মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত জীবন যাপন করতে হবে।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী পারিবারিক বন্ধনে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত থাকা, নিরাপদ যৌন অভ্যাস তৈরি করে সমকামিতা ও বহুগামিতা পরিহার করে ধর্মীয় অনুশাসনে দাম্পত্য জীবন পরিচালনা করা এবং রক্ত গ্রহণ ও প্রদানকালে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করাই এইডস থেকে মুক্ত থাকার প্রধান উপায়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ ধর্মের প্রতি আনুগত্য, জীবনের প্রতি মায়া-মমতা, পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও আচরণে শান্ত, কোমল, সংযত ও সংযমী হওয়া উচিত। যেহেতু শতাব্দীর ভয়াবহ এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছাড়া কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই, সেহেতু এইডস প্রতিরোধে নৈতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন অনুশীলন ও ব্যাপকভাবে গণসচেতনতা সৃষ্টি করে এই মরণব্যাধি রুখতে সামাজিক আন্দোলনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
জীবনের সার্বিক সুস্থতার জন্য ধর্মীয় অনুশাসন ও বিধিবিধানই কার্যকর প্রতিষেধক। তাই এইডস প্রতিরোধ বিষয়ে ধর্মীয় নেতারা মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, সেমিনার, কর্মশালা, সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জোরালো বক্তব্য দিয়ে এইডসবিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচারণা বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন। ধর্মীয় উপাসনালয়—মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, চার্চে শুধু শহরকেন্দ্রিক অঞ্চলেই নয়, দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাস এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে ও বোঝাতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

নিউজিল্যান্ডে শোক দিবস পালন

খনি দুর্ঘটনায় ২৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল নিউজিল্যান্ডে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। নিহত ব্যক্তিদের সম্মানে গির্জাগুলোতে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এ ছাড়া পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতারা কালো কাপড় পরে শোক দিবস পালন করেন।
গত ১৯ নভেম্বর সাউথ আইল্যান্ডের গ্রে মাউথ এলাকার পাইক রিভার কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ২৯ শ্রমিক নিখোঁজ হন। এ ঘটনার পর কর্মকর্তারা নিখোঁজ শ্রমিকদের বেঁচে থাকার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু গত বুধবার দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণের পর নিখোঁজ শ্রমিকদের কারোরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা না থাকায় গতকাল এ শোক দিবস পালন করা হয়।
খনির কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘যেভাবেই হোক, নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করা হবে। এতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। কারণ খনির মধ্যে মিথেন ও অন্য বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে আবারও বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য এই মুহূর্তে উদ্ধারকারী দলকে খনিতে প্রবেশের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি তিন নেতা ও দুটি সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা

পাকিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার লস্কর-ই-তাইয়েবার কয়েকজন শীর্ষনেতা ও এর সহযোগীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকটি দাতব্য সংগঠনকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন বলেছে, এসব সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার ছায়া সংগঠন হিসেবে কাজ করে আসছিল।
কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া জঙ্গি নেতারা হলেন লস্করের বাণিজ্য বিভাগের প্রধান মিয়া আবদুল্লাহ, সংগঠনটির অন্যতম অর্থযোগানদাতা মোহাম্মদ নওশদ আলম খান ও জঙ্গি নেতা হাফিজ আবদুর রউফ।
অন্যদিকে, কালো তালিকাভুক্ত সংগঠনগুলো হলো পাকিস্তানভিত্তিক ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত (এফআইএফ) ও জামায়াত-উদ-দাওয়া (জেইউডি)। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে এই দুটি সংগঠনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে জেইউডি পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে মানবিক সাহায্য দেয়। এফআইএফও একই ধরনের কাজ করে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব জঙ্গি নেতা ও সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হলো, লস্কর-ই-তাইয়েবাকে সমর্থনদানকারী কোনো কর্মকাণ্ডই মেনে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের ব্যাপারে জেইউডির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এফআইএফ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
করাচিতে নিযুক্ত বিবিসির সংবাদদাতা জানান, দাতব্য সংগঠন জামায়াত-উদ-দাওয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ করে আসছিল ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত। অন্যদিকে, লস্কর-ই-তাইয়েবার সামনে থেকে কাজ করছিল জামায়াত-উদ-দাওয়া।

সরকার গঠনের জন্য মালিকিকে আমন্ত্রণ জানালেন তালাবানি

ইরাকের প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানি গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য তাঁকে ৩০ দিন সময় দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
সরকারের শীর্ষ পদগুলো নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা একটি সমঝোতায় পৌঁছার দুই সপ্তাহ পর প্রেসিডেন্ট তালাবানি সরকার গঠনের জন্য মালিকিকে আমন্ত্রণ জানালেন। চুক্তি অনুযায়ী শিয়া প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন।
ক্ষমতা ভাগাভাগির এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কুর্দি প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানি আরেক মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। পার্লামেন্টের স্পিকার হবেন সুন্নি আইনপ্রণেতা ওসামা আল-নুজাইফি।
বাগদাদে আল-সালাম প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানে তালাবানি বলেন, নতুন সরকার গঠনের জন্য নুরি আল-মালিকিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। আশা করা হচ্ছে, এটা হবে প্রকৃত জাতীয় অংশীদারিত্বমূলক সরকার, যাতে কোনো গোষ্ঠীকে বাদ দেওয়া হবে না।

আমার পাকিস্তানে ফেরা কেউ ঠেকাতে পারবে না: মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁর পাকিস্তানে ফেরা কেউ ঠেকাতে পারবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মনসেহরা শহরের কাছের একটি গ্রামে টেলিফোনের মাধ্যমে জনসভায় যোগ দেন মোশাররফ। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মোশাররফ বলেন, ‘আমাকে যদি জনগণ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে, তাহলে জাতির ভাগ্য বদলে দেব।’
মোশাররফ ১৯৯৯ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেন। এরপর নয় বছর দেশটি শাসন করেন তিনি। আন্দোলনের মুখে ২০০৮ সালে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এর পর থেকে ব্রিটেনে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি অল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এপিএমএল) নামের একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবার তিনি খাইবার পাকতুনখাওয়া প্রদেশের চিত্রল এলাকা থেকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।
মোশাররফ আরও বলেন, তিনি দেশে ফিরে ‘পাকিস্তান বাঁচাও’ আন্দোলনের ডাক দেবেন। তাঁর দল দেশে আরও প্রদেশ সৃষ্টির বিরোধী নয়, বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে মোশাররফের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সে দেশের কর্তৃপক্ষ পারভেজ মোশাররফের কাছে কোনো প্রশ্নপত্র পাঠালে তিনি কোনো উত্তর দেবেন না।
বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বোমা হামলায় নিহত হন। তাঁর নিরাপত্তা দিতে মোশাররফ ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩২টি প্রশ্নসংবলিত একটি প্রশ্নপত্র মোশাররফের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।

জান্তার বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ, আপিল করবেন সু চি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) বিলুপ্ত করার জন্য সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন তিনি। কিন্তু গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেন।
সু চির আইনজীবী নিয়ান উইন গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ওই মামলা আমলে নিতে শুনানির জন্য আমরা নেপিডোতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আপিল আবেদন করব।’
নিয়ান উইন আরও বলেন, সু চি বলেছেন যে এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সামরিক জান্তা সু চিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের শর্ত বেঁধে দিলে এনএলডি তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে জান্তা সরকার দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। তাই সামরিক জান্তার অধীনে ২০ বছরের মধ্যে দেশটির প্রথম নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি সু চির দল। ৭ নভেম্বর ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মিয়ানমারে আদালতের রায় খুব কমই বিরোধী দলের পক্ষে গেছে। এর আগে গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্তি দিতে সু চির করা বেশ কয়েক দফা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন সে দেশের আদালত। ১৩ নভেম্বর তাঁর সর্বশেষ গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ শেষ হয়। পরে সু চিকে মুক্তি দেওয়া হয়। গত ২০ বছরের অন্তত ১৫ বছরই তিনি গৃহবন্দী ছিলেন। এএফপি।

উ. কোরিয়ার ফের হামলার হুমকি সীমান্তে শক্তি বাড়াবে দ. কোরিয়া

দুই কোরিয়ার মধ্যে গোলাবিনিময় এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার নৌমহড়ায় অংশ নিতে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ পীত সাগরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর কোরীয় উপদ্বীপে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, পিয়ংইয়ং আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত। উত্তর কোরিয়ার এই হুমকির পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার হামলা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি এমন সমালোচনার মুখে দক্ষিণকোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে-ইয়ং গতকাল পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং বাক তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণকরেছেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া বলেছে, সাম্প্রতিক গোলাবিনিময়ের ঘটনার দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এড়াতে পারে না। যুদ্ধবাজ দক্ষিণ কোরিয়ার পুতুল সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে এবং আবারও নির্দয়ভাবে সামরিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালে তার পরিণতি মোটেও ভালো হবে না। পিয়ংইয়ংয়ের সেনারাও কোনো রকমের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় হামলা চালিয়ে এর কঠোর জবাব দেবে।
ওয়াশিংটন বলেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরোধের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও পীত সাগরের পাঁচটি দ্বীপে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে সিউল। উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় বাজেটও বাড়ানো হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীনকে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। জবাবে চীন উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া সফররত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও বলেছেন, চীন যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বেইজিং অঙ্গীকারবদ্ধ।
দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হং সাং-পিও জানান, গোলাবিনিময়ের ঘটনায় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ফের উসকানিমূলক তৎপরতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই আমাদের সেনাবাহিনীকেও অপ্রস্তুত অবস্থায় রাখাটা সমীচীন হবে না। আমার আশঙ্কা, উত্তর কোরিয়া যেকোনো সময় আবারও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।’
হং সাং-পিও জানান, ইয়নপিয়ং দ্বীপে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে সামরিক শক্তি জোরদার করবে দক্ষিণ কোরিয়া। এ ছাড়া আরও চারটি দ্বীপে শক্তি বৃদ্ধি করা হবে। তবে দ্বীপগুলোতে ঠিক কতসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তিনি বলেননি। বর্তমানে এসব দ্বীপে চার হাজারের মতো সেনা রয়েছে। সিউল সেনা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তার আগেকার নীতি থেকে সরে এল। ২০০৬ সালে দ্বীপগুলোতে সামরিক শক্তি কমানোর আহ্বান জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষাপ্রধান ইয়নপিয়ং দ্বীপ পরিদর্শন করেছেন। গত মঙ্গলবার এই দ্বীপেই গোলাবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। দ্বীপটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন বন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার এবং উত্তর কোরিয়ার উপকূলবর্তী এলাকা থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইয়নপিয়ং দ্বীপে গোলাবিনিময়ের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার দুজন মেরিন সেনাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, উত্তর কোরিয়া প্রথমে উসকানিমূলকভাবে গোলা ছুড়েছে। পরে তারাও গোলা ছুড়ে এর জবাব দেয়। দুই পক্ষের ছোড়া গোলার আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দ্বীপটি।
কর্মকর্তারা জানান, ইয়নপিয়ং দ্বীপের শত শত বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে পাড়ি জামিয়েছে। তবে এখনো কিছু লোক সেখানে অবস্থান করছে। তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তীব্র শীতের এই মৌসুমে রাত হলে তারা ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চার দিনব্যাপী যৌথ নৌ-সামরিক মহড়া আগামী রোববার শুরু হচ্ছে।

বার্সার সঙ্গে ইন্টার-টটেনহাম

রাফায়েল বেনিতেজের স্বস্তি ফিরে পাওয়া আর ওয়েইন রুনির আনন্দময় মাঠে ফেরা। লিওনেল মেসির আরেকটা কেতাদুরস্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেকেই টটেনহামের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরণ। এই হলো পরশু রাতের চ্যাম্পিয়নস লিগ সারসংক্ষেপ।
অনুপুঙ্খ বর্ণনায় গেলে ইন্টার মিলানের জয়টিকে বলতে হবে কষ্টসাধ্য। নিজেদের মাঠে এফসি টোয়েন্টেকে ন্যূনতম ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে রাফায়েল বেনিতেজের দল। জয়সূচক গোলটি করেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো। সিরি ‘আ’তে গত দু-তিনটি বাজে সপ্তাহের পর এই জয়টা স্বস্তির বাতাসই নিয়ে এসেছে চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের কাছে।
বিশেষ করে কোচ বেনিতেজের মনে যে অস্বস্তি আর শঙ্কার কালো মেঘ জমেছিল, তা একেবারেই উধাও। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ক্লাব সভাপতির মানসিক অবস্থা নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তাতেই সব স্পষ্ট, ‘ম্যাচের শেষে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি এবং সবকিছু ঠিক আছে।’
সবকিছু ঠিক আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনিরও। অ্যাঙ্কেলের চোট আর পারিবারিক ঝামেলা কাটিয়ে প্রায় দুই মাস পর মাঠে ফিরেছেন, কিন্তু মানসিক শক্তিটা ঠিক আগের মতোই আছে রুনির। ৮৭ মিনিটে তাঁর পেনাল্টি গোলেই রেঞ্জার্সকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে গেছে ম্যানইউ।
কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন আবার রুনির প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘পেনাল্টি নিতে অনেক সাহস লাগে। ওর জন্য রাতটি সহজ ছিল না। এর আগে দু-তিনটি সুযোগও মিস করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওর মানসিক শক্তিই জয়ী হয়েছে।’
পরশু গোলের অনেক সুযোগ নষ্ট করেছেন মেসিও। তবে মিস-টিসের পরও আসল কাজটা ঠিকই করেছেন আর্জেন্টাইন চ্যাম্পিয়ন। নিজে গোল করেছেন আর ৩-০ গোলের জয়ে পেদ্রোর জোড়া গোলের একটিতে রেখেছেন অবদান। টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়া মেসি ছুঁয়েছেন একটি ব্যক্তিগত মাইলফলকও। বার্সার জার্সি গায়ে পরশু তিনি করলেন ১৫০তম গোল। মেসির প্রশংসা না করে আর উপায় কী! কোচ পেপ গার্দিওলা এদিনও ম্যাচ শেষে নিয়মে পরিণত হয়ে যাওয়া কাজটি করলেন, ‘মেসি সত্যিই অসাধারণ। গোল করা আর করানো, দুটিতেই ওর সমান মনোযোগ।’
তবে পরশুর রাতটি সবচেয়ে আনন্দের গেছে টটেনহাম হটস্পারেরই। কাবুল, মরডিচ ও ক্রাউচের গোলে জার্মান ক্লাব ভেরডার ব্রেমেনকে ৩-০-তে হারিয়ে নকআউটে উঠে গেছে তারা। এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে এসেই শেষ ষোলোয় ইংলিশ ক্লাবটি। স্পারদের আনন্দ যেন থামতেই চায় না। সবার মনের কথারই যেন প্রতিফলন কোচ হ্যারি রেডনাপের কণ্ঠে, ‘এটা আমাদের জন্য আরেকটা বড় রাত। আমি নিশ্চিত, সমর্থকদের এটা খুব ভালো লেগেছে।’

অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে জিতল বাংলাদেশ

সুব্রত মুখার্জি কাপ ফুটবলে জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দল। নয়াদিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে কাল মাসুদ রানার একমাত্র গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাগাল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশের যুবারা। আজ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অরুণাচল প্রদেশ।

আজ আসছে জিম্বাবুয়ে

পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ শুরু হবে আগামী ১ ডিসেম্বর। এর আগে জিম্বাবুয়ে দল ঢাকা চলে আসছে আজই। দুপুরে পৌঁছে আজকের দিনটা বিশ্রাম। কাল থেকে ঢাকায় শুরু হবে তাদের বাংলাদেশ সিরিজের প্রস্তুতি। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৯ নভেম্বর বিকেএসপিতে জিম্বাবুয়ে দল একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে।
সিরিজের আগের কয়েকটা দিনে জিম্বাবুয়ে চাইবে বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে যতটা সম্ভব মানিয়ে নিতে। বাংলাদেশ দল যেমন একই উদ্দেশে তিন দিনের ক্যাম্প করে এল চট্টগ্রামে। মাশরাফি বিন মুর্তজার দৃষ্টিতে তো চট্টগ্রামের ক্যাম্পটা না হলে সমস্যায়ই পড়তে হতো দলকে। চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে চিন্তার রেখা ফুটে উঠছে মাশরাফির কপালে, ‘উইকেটে খুব বেশি টার্ন, পেস বলও আসে প্রায় গড়িয়ে। ২০০ রান করাও কঠিন হবে। ওখানে না গেলে সিরিজের সময় সমস্যায় পড়তে হতো। তবে আমরা যদি এই উইকেটে ২২০ রানও করতে পারি, জিম্বাবুয়ে সমস্যায় পড়ে যাবে। ওরা তো জানে না উইকেট কেমন।’
জহুর আহমেদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের আউটফিল্ডও নাকি অনেক মন্থর। মাশরাফির মতো এ নিয়ে উদ্বিগ্ন কোচ জেমি সিডন্সও। যদিও স্টেডিয়ামের কিউরেটর জাহিদ রেজা কাল টেলিফোনে বললেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণত যে রকম উইকেট হয়, সে রকম উইকেটই বানানো হচ্ছে। আর চট্টগ্রামে আসার পর দল প্র্যাকটিস করেছে ১ নম্বর উইকেটে। সেটা যে স্পিন উইকেট, এ তো আগেই বলে দিয়েছিলাম টিম ম্যানেজমেন্টকে।’ কিউরেটর পরে স্বীকার করেছেন, চট্টগ্রামের সব উইকেটের চরিত্র প্রায় একই রকম হবে। সেটাই যদি হয়, শুধু জিম্বাবুয়ে সিরিজ নয়, চট্টগ্রামের উইকেট সম্ভবত প্রশ্নবোধক চিহ্ন ঝুলিয়ে দিচ্ছে বিশ্বকাপের গায়েও!
চট্টগ্রামে কন্ডিশন বুঝে আসার পর কাল ঢাকায় শুরু হলো জিম্বাবুয়ে সিরিজের আসল অনুশীলন। ম্যাচের দিন যেভাবে ওয়ার্মআপ হয় সেভাবে ওয়ার্মআপ করে অনুশীলনটা চলল চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। বোলিং মেশিন, নেট আর সেন্টার উইকেট মিলিয়ে একেকজন ব্যাটসম্যান ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেছেন দুই-আড়াই ঘণ্টার মতো। ইয়ান পন্টের সঙ্গে পেস বোলাররা করলেন দুই রকম অনুশীলন। ঘণ্টা খানেক নতুন বলে বল করার অনুশীলনের পর কোচ ছাত্রদের নিয়ে মনোযোগী হন পাওয়ার প্লের বোলিং অনুশীলনে। কোচ ইয়র্কার আর স্লোয়ারে জোর দিতে বললেও ব্যাটসম্যান উইকেটে থিতু হয়ে গেলে যেহেতু স্লোয়ারেও কাজ হয় না, পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ দলের পেসারদের মূল অস্ত্র হবে ইয়র্কারই।
জেমি সিডন্স আর তাঁর কোচিং স্টাফ অনুশীলনটা ঠিকঠাক চালিয়ে নিলেও জিম্বাবুয়ে সিরিজের আসল কাজটাই হয়নি কাল পর্যন্ত। ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ দলের হোটেলে ওঠার কথা, পরদিন প্রস্তুতি ম্যাচেও নিশ্চয়ই বিসিবি একাদশের হয়ে জাতীয় দলের কেউ কেউ খেলবেন। অথচ কালও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি জিম্বাবুয়ে সিরিজে কারা খেলছেন, অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কই বা কারা হবেন। বিকেলে অবশ্য চূড়ান্ত দল নির্বাচনী সভায় বসেছিল রফিকুল আলমের নির্বাচক কমিটি। সাম্প্রতিক ‘প্রথা’ অনুযায়ী নির্বাচকদের দেওয়া দলটা টেকনিক্যাল কমিটিতে আলোচনা ও বোর্ড সভাপতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরই ঘোষণা হওয়ার কথা। কিন্তু কাল পর্যন্তও টেকনিক্যাল কমিটির একাধিক সদস্য ছিলেন দেশের বাইরে। তবে সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল দল ঘোষনা হতে পারে।
আনুষ্ঠানিকভাবে জানা না গেলেও বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যে অবশ্য একটা সম্ভাব্য চেহারা দাঁড় করানো যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে সিরিজের বাংলাদেশ দলের। ১৫ সদস্যের দলে নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল থেকে সম্ভবত নেই দুই ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফীস ও জহুরুল ইসলাম। দলে ফিরছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এ ছাড়া থাকছেন ইনজুরি থেকে ফেরা মাশরাফি, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেনও।

আফগানদের পাকিস্তান-বধ

আফগানিস্তান এই পাকিস্তান দলের চেয়ে ভালো, তিন বছরের মধ্যে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য—আগের দিন এ ধরনের মন্তব্য করে চমকেই দিয়েছিলেন রশিদ লতিফ। ‘কাগজে-কলমে’ টুর্নামেন্টে আফগানিস্তান যে পাকিস্তানের এশিয়ান গেমস দলটির চেয়ে ভালো, কোচের মন্তব্য সম্পাদ্যের মতো প্রমাণ করে দিয়েছেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা।
কাল প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ২২ রানে হারিয়ে আফগানিস্তান উঠে এসেছে ফাইনালে। যেখানে আজ তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।
প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে আফগানরা তুলেছিল ৮ উইকেটে ১২৫ রান। ৭ উইকেটে ১০৩ রান তুলতেই আটকে যায় পাকিস্তান। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়েই ক্রিকেট-বিশ্বে দ্রুত এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। হোক না এশিয়ান গেমসের টি-টোয়েন্টির অফিসিয়াল ম্যাচ, এই জয় একের পর এক চমক দেখিয়ে চলা আফগানিস্তানের ক্রিকেটকেও এগিয়ে নেবে কয়েক ধাপ।
সে কথাই বলেছেন দলের কোচ লতিফ। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক অবশ্য সেমিফাইনালের জয়টি উদ্যাপন করেননি পাকিস্তান তাঁর নিজের দেশ বলে। তবে জানিয়েছেন, সেই উদ্যাপন তিনি তুলে রেখেছেন আজকের ফাইনালটির জন্য। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই লতিফের এই সতর্কবার্তা শুনেছে!
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি ক্রিকেটের মধ্যে নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা খুঁজে পাবে বলে মনে করেন দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী, ‘এটা আফগানিস্তানের জন্য বিরাট এক জয়।’

সোনার মূল্য বুঝছেন আশরাফুল

এত দিন সাফ গেমসে বাংলাদেশ দলের সোনা জয়ের খবর শুনতাম। কিন্তু এই সোনাটা কী বুঝতাম না। কীভাবে সোনা জেতে, কীভাবে একজন খেলোয়াড় দেশকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যান এসব আমার জানার বাইরেই ছিল। এই গেমসে এসে জানতে পেরেছি সোনা জিনিসটা কী। কীভাবে এটা জিততে হয়। এটার মূল্য কতটুকু।’
মোহাম্মদ আশরাফুলের মুখে কথাটা শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ক্রিকেটার আশরাফুল ক্রিকেট নিয়েই বেড়ে উঠেছেন। ব্যাট-বলের সঙ্গে সখ্য গড়ে নিজের যোগ্যতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়কও হয়েছেন। ব্যাটসম্যান আশরাফুলকে তো ক্রিকেট-বিশ্বই চেনে-জানে।
সেই আশরাফুলের হাত ধরে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে প্রথম সোনা জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শেষ পর্যন্ত সোনা জিতলে ইতিহাস হয়ে যাবেন আশরাফুল নিজেও এবং সম্ভাব্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণের আগে ‘গেমসের সোনা’ জিনিসটা নিয়ে তাঁর একটা ধারণা হলো।
শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট-বলে বিধ্বস্ত করে ৫ উইকেটের সহজ জয়। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। সতীর্থদের নিয়ে উচ্ছ্বসিত আশরাফুল বললেন, ‘এশিয়ান গেমসের মতো আসরে সোনা জয় দেশের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। এখানে এসে দেখলাম সোনাজয়ীদের অনেক সম্মান, অনেক গর্বও। একটা সোনা জিতলে পদক-তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিচ থেকে কিছুটা ওপরের দিকে আসবে। কাজেই একটা সোনার অনেক মূল্য।’
আশরাফুলের ডানে দাঁড়িয়ে শাহাদাত, নাঈমরা কথা বলছেন। পাশে শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়েরাও। ম্যানেজার রণজিৎ ফার্নান্ডোসহ শ্রীলঙ্কার দু-তিনজন কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত। সবারই মুখ কালো। ওদিকে স্বেচ্ছাসেবীদের কড়া মার্কিং, বেশিক্ষণ কথা বলা যাবে না। ‘ওয়ান মিনিট প্লিজ’ লেখা ছোট্ট প্লাকার্ড ধরে খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী। কিন্তু ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশ দলের কথা তো এক মিনিটে শেষ হয় না!
আশরাফুল বলে যান, ‘ফাইনালে আফগানিস্তানকে হারানো সহজ হবে না। ওদের ব্যাটিং দেখিনি, তবে বোলিং-ফিল্ডিং দেখে ভালো দল মনে হয়েছে। পাকিস্তানকে তো যোগ্যতা দিয়েই হারিয়েছে! আমাদের সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। শারীরিকভাবে ওরা বেশ শক্তিশালী এবং টিম স্পিরিট ভালো।’
পরক্ষণে আশার কথাও শোনান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আফগানিস্তানকে নিয়ে চিন্তা করছি না। আজ যেমন সব বিভাগেই ভালো খেললাম, এই খেলাটা খেলতে পারলে আমরাই জিতব।’ বিশ্বাসটা সতীর্থদের মধ্যেও দেখা গেল। ৩ উইকেট পাওয়া পেসার শাহাদাতের কথা, ‘ভালো ক্রিকেট খেললে ইনশাআল্লাহ আমরা গোল্ড নিয়েই দেশে যাব।’
মেয়েরা পারেনি। ছেলেরা কি পারবে? কোচ সারোয়ার ইমরান না পারার কোনো কারণই দেখছেন না, ‘নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেললে অবশ্যই আমরা জিতব।’ বাংলাদেশ কোচ খানিক গর্বিত এই ভেবে, ‘ইন্দো-বাংলা গেমসে বাংলাদেশ গোল্ড জিতেছে আমার কোচিংয়ে। এসএ গেমসেও তাই। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা হবে আমার জন্য বিরাট ব্যাপার।’
সোনাজয়ী দল হিসেবে বাংলাদেশকে দেখার অপেক্ষায় আমিনুল ইসলাম। স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার আগে দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ও সাবেক অধিনায়ক বলে গেলেন, ‘বাংলাদেশ দল খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এটাই দরকার ছিল।’
১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ার সর্বোচ্চ ক্রীড়ামঞ্চে গতবার পর্যন্ত লাল-সবুজের অর্জন ৩টি করে রুপা ও ব্রোঞ্জ (কাবাডিতে ৩ রুপা, ২ ব্রোঞ্জ। একটি ব্রোঞ্জ বক্সার মোশররফ হোসেন জিতছেন ৮৬ এশিয়াডে)। এবার এক রুপা-ব্রোঞ্জের সঙ্গে সোনা যোগ হলে প্রাপ্তির খাতাটা আগের তুলনায় ভারীই হবে।

এটিপি ট্যুরের সেমিফাইনালে ফেদেরার

টানা তিনটি ম্যাচ জিতে মৌসুমের শেষ প্রতিযোগিতা এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুরের সেমিফাইনালে উঠেছেন রজার ফেদেরার। গত দুই ম্যাচে ডেভিড ফেরার আর অ্যান্ডি মারের বিপক্ষে সহজ জয়ের পর গতকাল সুইডেনের টেনিস তারকা রবিন সোডার্লিংকে ৭-৬ (৭-৫), ৬-৩ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন ১৬ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী রজার ফেদেরার।
‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ চারে ফেদেরারের সঙ্গী হয়েছেন অ্যান্ডি মারে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডেভিড ফেরারের বিপক্ষে ৬-২, ৬-২ গেমের সহজ জয় পেয়ে সেমিফাইনালে চলে এসেছেন এই স্কটিশ তারকা।
এদিকে ‘এ’ গ্রুপে প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের পথে অনেকখানিই এগিয়ে গেছেন টেনিসের এক নম্বর তারকা রাফায়েল নাদাল। আজ টমাস বারডিচের বিপক্ষে জিতলেই ফেদেরারের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারবেন এই স্প্যানিশ তারকা।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'সংসদীয় গণতন্ত্র, না ভানুমতির খেল' by সোহরাব হাসান

প্রতিদ্বন্দ্বী দল দক্ষতা, যোগ্যতা, কৌশলে ও কুটিলতায় সমান না হলে খেলা জমে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল যখন হাঁটি হাঁটি পা পা এগোচ্ছিল, তখন অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতকে হারিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেনি। এখন পারে। সরকার ও বিরোধী দলের খেলা দেখে প্রতীয়মান হয়, তারা কেউ কারও চেয়ে কম যায় না। বিবৃতির বিপরীতে বিবৃতি, হুমকির বিপরীতে হুমকি, উচ্ছেদের বিপরীতে উচ্ছেদ—প্রতিটি ক্ষেত্রে দুই পক্ষই মরিয়া হয়ে উঠেছে। না হলে বাড়ির মতো একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে জাতীয় রাজনীতি এমন উত্তপ্ত হয়ে উঠত না। ১৩ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত বিষয়টি ছিল আদালতের এখতিয়ার, এখন দুই পক্ষ এটিকে রাজপথের বিষয় করে ফেলেছে। ২৯ নভেম্বর আদালত যে রায়ই দিন না কেন, বাড়ি নিয়ে অন্তত আগামী তিন বছর রাজনীতি চলতে থাকবে। সরকার বিএনপির নেত্রীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে, বিরোধী দল সরকারকে সিংহাসন থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছে।

গল্পালোচনা- 'এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু...' by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

সামনে শীত আসছে। নানাবাড়ি ডোমারে চলেছি বহুদিন পর। ৩০০ ছেলেমেয়ে ভোর থেকে অপেক্ষা করছে মহিলা কলেজের সামনে। কানাডা থেকে ফি বছর বন্ধুরা আসেন ‘স্লিপিং কিটস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ [SCAW] প্রোগ্রামে শিশুদের জন্য এই সম্ভার বিতরণ করতে, যাতে জামাকাপড়, দুটি কম্বল, বালিশ, মশারি, বেডকভার, খাতা-পেনসিল, আরও কত কী নিয়ে প্রস্তুত একটি কিট। ১৫ বছর ধরে চলছে এই কার্যক্রম।

ফিচার গল্প- ‘ইতালির রাস্তায় পুলিশ খুঁজতাম' by বাবুল আক্তার

কিছু দিন আগে ইতালিতে গিয়েছিলাম একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পাঁচ সপ্তাহের মিডিল ম্যানেজমেন্ট কোর্সে বাংলাদেশ থেকে আমরা গিয়েছিলাম ৯ জন পুলিশ অফিসার। আমেরিকাসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের ৯৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা অংশ নেন এই কোর্সে। ভেন্যু ছিল ভেনিস থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে ভিসেন্জা নামক শহরে। সকাল ৮টায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে ভিসেন্জা পেঁৗছতে আমাদের প্রায় রাত দুটো বেজে গেল। ভেনিস বিমানবন্দরে নেমে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলাম আর খুঁজছিলাম পুলিশের কাউকে দেখা যায় কি না। আমাদের রিসিভ করতে আয়োজক সংস্থার প্রতিনিধি আসার কথা ছিল।

খবর- মৃত ভেবে মাছুমার নিথর দেহ ওরা ফেলে দেয় মহাসড়কে

বিয়ের আট মাস যেতে না যেতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন মাছুমা আক্তারের মাথা, কপাল ও গালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছে। তারা সারা শরীর কুপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বাঁ হাত মুচড়ে ভেঙেও ফেলে। বাঁ পায়ের উরুর মাংস কুপিয়ে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে; এমনকি গ্যাস লাইটের আগুন দিয়ে ডান হাত পুড়িয়ে দেয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানুষিক নির্যাতনে মাছুমার দেহ এক পর্যায়ে নিথর হয়ে যায়। তারা মাছুমাকে মৃত ভেবে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য সেই নিথর দেহটিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ফেলে দেয়।

অদ্ভুত ফিচার- 'বাংলার বিস্ময়ঃ আশ্চর্য কুলাগিনা' by মেহরিন জাহান

বাহুতে নয়, তাঁর শক্তি ছিল মনে। মানসিক শক্তি দিয়েই নাড়াচাড়া করতে পারতেন ছোটখাট বস্তু। এই আজব ক্ষমতাধর নারীর নাম নিনা কুলাগিনা। তাঁর আশ্চর্য গল্প শোনুন... নিনা কুলাগিনা ছিলেন গৃহবধূ। একদিন কেন যেন খুব রেগে গেলেন। রাগে কাঁপতে গিয়ে দেখলেন, তাঁর সঙ্গে চারপাশের ছোট ছোট হাঁড়ি-পাতিলগুলোও কাঁপছে। রাগ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে গেল তখন তাক থেকে নিচে পড়ে গেল পানির পাত্র। ঘরের বাতি আর পাখা নিজে নিজেই চালু আর বন্ধ হতে লাগল।

স্মরণ- 'ডা. মিলনকে যেন না ভুলি' by পলাশ আহসান

২৭ নভেম্বর ১৯৯০। ডা. মিলন পরিচিত সবাইকে বারণ করেছিলেনম_'আজ ও-পথে কেউ যেয়ো না।' অথচ নিজেই গেলেন সে পথে। মৃত্যুর পথ। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল কলম-বিরতি। সকাল থেকে থমথমে ক্যাম্পাস। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও সরকার সমর্থকরা। থেমে থেমে চলছে গোলাগুলি। সকাল ১০টা কী সাড়ে ১০টা হবে। বিএমএর জরুরি সভায় যোগ দিতে হবে। তাই গোলাগুলির মধ্যেও তড়িঘড়ি করে রিকশা নিয়েছেলিন। যাবেন তখনকার পিজি হাসপাতালে। রিকশা হাকিম চত্বরের কাছে আসতেই পেছন থেকে এল ঘাতক বুলেট। বিদ্ধ হলেন মিলন। ততক্ষণে রণক্ষেত্র গোটা ক্যাম্পাস। যে যার মতো ছুটছে পড়িমরি।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'যার যা কাজ' by আতাউস সামাদ

আজ ও আগামী কয়েক দিন বাংলাদেশে কথা হতে থাকবে হরতাল নিয়ে। ৩০ নভেম্বর বিএনপির হরতাল পার না হওয়া পর্যন্ত এমনভাবেই চলবে। কেউ বলবেন, হরতাল করা খুব খারাপ। দেশের সর্বনাশ হয়ে যায়। কেউ বলবেন, আইন করে হরতাল নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত। কেউ বা জবাব দেবেন, তা কী করে হয়। দাবি আদায়ের জন্য হরতাল একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার। তবে তাঁরাও স্বীকার করবেন, তূণের শেষ অস্ত্রগুলোর মধ্যে হরতাল একটি। এর ব্যবহার হিসাব করে করা উচিত। বিএনপি বলবে, আমরা নাচার হয়ে হরতাল ডেকেছি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মন্তব্য করবে, সব বাজে কথা, বিএনপি হরতাল ডেকেছে খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি পুনরুদ্ধার, তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা তুলে নেওয়া ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য।

নিবন্ধ- 'অবলা বলে কেন না-বলা থাকবে' by মোস্তফা হোসেইন

আলোর দিশা খোঁজে নারী, পুরুষের কাছে। বন্ধু, আপনজন কিংবা স্বামী যে নামেই তিনি সানি্নধ্যে আসুন না কেন, পথসঙ্গী হওয়ার কথা তাঁর। প্রয়োজনে হতে পারেন পথপ্রদর্শকও। এই দুয়ে মিলে সুন্দর জীবন রচিত হবে, এই তো স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যত্যয় ঘটে অনেক ক্ষেত্রে। পুষে রাখা স্বপ্নগুলো খান খান হয়ে যায় অপঘাতে। কেন রক্তাক্ত হয় স্বপি্নল সব ইচ্ছা? স্পষ্টতই বলা যায়, ব্যক্তি-মানুষটি তখন মনুষ্যত্বের বোধ হারিয়ে ফেলে, আবেগ-ভালোবাসা পরাজিত হয় স্বার্থের কাছে, তখনই ব্যত্যয় ঘটে।

ইতিহাস- সিপাহি বিদ্রোহঃ সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে

চট্টগ্রাম বাংলাদেশে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় চট্টগ্রামে। সে সময় ৩৪ নম্বর দেশীয় পদাতিক বাহিনীর তিনটি কম্পানি ছিল চট্টগ্রামে। এসব কম্পানিতে কোনো বাঙালি সৈন্য ছিল না। ব্যারাকপুরে ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চে মঙ্গল পাণ্ডের বিদ্রোহের পর চট্টগ্রামের দেশীয় সৈন্যদের পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় ক্যাপ্টেন পি এইচ আর ডয়েল। পরে ২২ এপ্রিল এক আবেদনপত্রের মাধ্যমে নিজেদের এসবের বাইরে রাখার প্রতিজ্ঞা করে দেশীয় সৈন্যরা। তার পরও ইংরেজ প্রশাসন সিপাহিদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেনি। শহরে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। যা শহরে স্থানীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।