Tuesday, April 29, 2014

অর্থনৈতিক উন্নতি ও নৈতিক দায় by সৈয়দ আবুল মকসুদ

ভোরবেলা যাচ্ছিলাম কমলাপুর স্টেশনে। রাস্তায় খুব কম যানবাহন। তবু এক সিগন্যালে একটু থামতে হলো বাঁ দিক থেকে কয়েকটি গাড়ি ক্রসিং পার হয়ে ডান দিকে আসায়। একটি পিকআপ পাশ ঘেঁষে থামতে বাধ্য হলো। অত ভোরে কোনো বোকা চালকও লালবাতি মানেন না। পিকআপে দুটো চটের বস্তা। একটি বস্তার মুখের দিকে সামান্য ফাঁক দিয়ে দেখা গেল একটি মরা মুরগির পা ও পাখনা। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে হলে মনে করতাম মরা মুরগি কুড়িয়ে কেউ ডাস্টবিনে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছে। এখন মনে পড়ল অন্য কথা। আমার কর্তব্য ছিল গাড়িটিকে আটকে পুলিশকে খবর দেওয়া। তা না করতে পারায় গ্লানি ও অপরাধ বোধ করি। শাঁ করে বস্তাওয়ালা গাড়ি চলে গেল। আমার মনে পড়ল কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম আলো ও অন্যান্য কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন:

উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সামনে চ্যালেঞ্জ by কুলদীপ নায়ার

নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলমানদের হুমকি দেওয়া ও পরে অভিযোগ করা যে মিডিয়া এটা ভুলভাবে বা প্রেক্ষিতহীনভাবে উপস্থাপন করেছে, এ বিষয় এখন রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির এক প্রাদেশিক নেতা বলেছেন, যাঁরা মোদিকে ভোট দেবেন না, তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভালো ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপি এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওই নেতাকে বহিষ্কার করলে দলটি আরও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি মোদির রাজত্বে নির্জীব বসে থাকার চেয়ে পাকিস্তানে যাওয়া শ্রেয় মনে করেন। তাঁর এ মন্তব্যও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় বহন করে না।

‘খাঁচাবন্দী পাখি’ রাষ্ট্রপতি! by মিজানুর রহমান খান

রাষ্ট্রপতি নিজের ভালো না থাকার কথা অকপটে বলতে পেরেছেন। বাক্স্বাধীনতা অনুশীলন নির্মল আনন্দের বিষয়। নাগরিকদের সঙ্গে তিনি তাঁর নিরানন্দ প্রকাশের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশে অগ্নিস্নান চলছে।

ওষুধশিল্প পার্ক আর কত দূর? by আবুল হাসনাত ও মো. মোমিনুর রহমান

বাংলাদেশও ওষুধশিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দুই দশক আগেও এ দেশ ছিল বিদেশি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। ওষুধশিল্পের মতো সংবেদনশীল শিল্পে আমাদের দেশে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বিস্ময়কর। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে তা অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ জোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের ৮০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত ওষুধ আফ্রিকা, এশিয়ার বাজার ছাড়িয়ে এখন ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হওয়ার পথে। ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওষুধের বাজার ধরতে পারলে ২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ওষুধশিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বস-এ গত ১৬ জানুয়ারি ‘উইন্ডো অন এ ডিফরেন্ট ঢাকা’ শিরোনামে বাংলাদেশে ওষুধশিল্পের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়।

মিডিয়া বা রাষ্ট্র বাবুকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দিল না!!

নিজের জীবন বিপন্ন করে সাভারের রানা প্লাজা থেকে বাবু উদ্ধার করেছিলেন ৩০ জন জীবিত মানুষকে। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো তাকে সেদিন হিরো বানিয়েছিলো। ধ্বংশস্তুপ থেকে জীবিত/মৃত দেহগুলো কাঁধে নিয়ে বেড় হতে হতে এক সময় নিজেই অসূস্থ্য হয়ে যান বাবু, ঠাঁই হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বারান্দায়। ছোট লোকের বাচ্চা বাবুর জন্য সিঙ্গাপুর তো দূরের কথা, বাংলাদেশের সরকারী হাসপাতালের একটি বেডও যোগাড় করা যায় নাই। সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হবার দুইদিন পর বাবুর লাশ পাওয়া গেল মেডিকেলেরই একটি তালাবদ্ধ বারান্দায়। গলায় শ্বাসরোধে হত্যার স্পষ্ট আলামত।

এখন কী মিডিয়াগুলো বাবু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উম্মোচনে মাঠে নামবে? রাষ্ট্র কী তাঁর কফিনে একটি জাতীয় পতাকা দিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবার সিদ্ধান্ত নেবে? মনে হয় না।
বাবু এখন আর পন্য নয়, বাবুর মৃতদেহ কোন সেলিব্রেটি চরিত্র নয়।

তবে একদা বাবু পন্য ছিলেন, তাই সেইদিন বাবু পত্রিকার শিরোনামও ছিলেন। তার অসূস্থ্যতা নিয়েও পত্রিকা লিখেছিলো "উদ্ধার করতে গিয়ে জমাটবাধা রক্তের গন্ধে একসময় বমি করে দেন বাবু। মাথা ঝিম ধরে ওঠে তার। চোখ আবছা হয়ে আসে। তারপরও বাবু উদ্ধার থামাননি। মনোবল নিয়ে আবারও নেমে পড়েন উদ্ধার কাজে।"

মিডিয়া বা রাষ্ট্র বাবুকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা না দিলেও আসুন এই বিকল্প মিডিয়াতে আমরা বাবুকে যথাযোগ্য সম্মান জানাই।

অর্থনৈতিক উন্নতি ও নৈতিক দায়

ভোরবেলা যাচ্ছিলাম কমলাপুর স্টেশনে। রাস্তায় খুব কম যানবাহন। তবু এক সিগন্যালে একটু থামতে হলো বাঁ দিক থেকে কয়েকটি গাড়ি ক্রসিং পার হয়ে ডান দিকে আসায়। একটি পিকআপ পাশ ঘেঁষে থামতে বাধ্য হলো। অত ভোরে কোনো বোকা চালকও লালবাতি মানেন না। পিকআপে দুটো চটের বস্তা। একটি বস্তার মুখের দিকে সামান্য ফাঁক দিয়ে দেখা গেল একটি মরা মুরগির পা ও পাখনা। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে হলে মনে করতাম মরা মুরগি কুড়িয়ে কেউ ডাস্টবিনে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছে। এখন মনে পড়ল অন্য কথা। আমার কর্তব্য ছিল গাড়িটিকে আটকে পুলিশকে খবর দেওয়া। তা না করতে পারায় গ্লানি ও অপরাধ বোধ করি। শাঁ করে বস্তাওয়ালা গাড়ি চলে গেল। আমার মনে পড়ল কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম আলো ও অন্যান্য কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন: ‘তেজগাঁও রেলগেট এলাকায় খাটের নিচে স্তূপ করে রাখা ১২০টি মরা মুরগি উদ্ধার করে র‌্যাব। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও তিন মাস জেল।’ প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, দূরদূরান্ত থেকে প্রায় প্রতিদিন ট্রাকে করে আনা মুরগি বিভিন্ন কারণে মারা যায়। এই মুরগি তারা প্রতিটি ৫০ টাকা করে কিনে নেয়। তারপর গরিব মানুষের কাছে জ্যান্ত বলে বিক্রি করে। মরা মুরগি বিক্রির সাত সদস্যের একটি চক্র আছে। এরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ওই মুরগি বিক্রি করে। মোবাইল কোর্টের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানায়, তারা প্রতিদিন এক লাখ টাকার মতো মরা মুরগি বিক্রি করে।
ওই যে মরা মুরগি বস্তায় ভরে আমার চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে গেল, দুপুরে ওগুলো দিয়েই হবে সুস্বাদু চিকেন ফ্রাই, হাম্বার্গার বা চিকেন কারি। অতি কষ্ট করে এ রাজধানীতে থেকে যেসব ছেলেমেয়ে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তারা খাবে ওই হাম্বার্গার বা চিকেন ফ্রাই। আমার ছেলে ও মেয়েও যে খাবে না, তার নিশ্চয়তা কি? আমাদের সরকারের একমাত্র লক্ষ্য অতি দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন। যত বেশিসংখ্যক মানুষ যত দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে পারে। চাই টাকা, টাকা আর টাকা। যে যেদিক দিয়ে পারবে টাকা কামাই করবে। মরা মুরগির ব্যাপারীদের প্রশংসাই করতে হয়। দু-তিন বছরেই ২০-৫০ লাখ টাকার মালিক। পৃথিবীর ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি নতুন সেক্টর খোলার কৃতিত্ব কম নয়। এই সেক্টরে ব্যবসা করে বস্তিবাসী থেকে বিত্তবান হওয়া কম যোগ্যতা নয়। এদেরই তো বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে পরাক্রান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। তখন বস্তির বেড়ার ঘরে তাদের পক্ষে বাস করা সম্ভব হবে না। হয়ে যাবে বিশেষ মহল্লার স্বঘোষিত নেতা। বাসার সামনে ঝুলবে দলের সাইনবোর্ড, যা দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আর স্পর্শ করার স্পর্ধা দেখাবেন না। একপর্যায়ে তার দরকার পড়বে এক খণ্ড জমি। সে জমি যদি রাজউক থেকে না পাওয়া যায় তো দখলকৃত নদীর পাড়ের খাসজমি হলেও চলবে। উঠবে সেখানে দালান। একতলা,
তারপর দোতলা, তিনতলা বা আরও বেশি। সেসব ঘর ভাড়া দিয়ে টাকা আসবে, তখন আর মরা মুরগির ব্যবসা না করলেও হবে। গণতন্ত্র যখন আছে, তখন নিচের স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও নির্বাচনে দাঁড়িয়ে মেম্বারটা হওয়া যাবে। হজ করে নাম হবে আলহাজ খেদামতুল্লাহ মোরগপুরী। তারপর যেকোনো সরকারি দলের স্থায়ী বন্ধু হতে বাধা থাকবে না মোরগপুরীর। দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশ হতে গিয়ে অর্থনৈতিক দিকে জোর দিয়ে জাতির নৈতিক অবস্থানটা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তাতে কোনো জাতি দপ্ করে জ্বলে উঠে নিভে যাবে। তা ছাড়া, নিম্নমানের নিকৃষ্ট মানুষের মধ্যম আয়ের দেশ হলেই বা কী লাভ? কোন আয়ের দেশ, তার চেয়ে বড় কথা কোন মানের এবং কেমন চরিত্রের মানুষের দেশ। খাদ্যদ্রব্য ছাড়া মানুষ বাঁচে না। ভেজাল ও দূষিত খাদ্য খেলে সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ মরে না—দ্রুত মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হয়। করাতকলের ভুসি চলে যাচ্ছে মসলার কারখানায়। মেশানো হচ্ছে তা গুঁড়া মসলার সঙ্গে। ইটের গুঁড়া মিশছে হলুদ-মরিচের সঙ্গে। মানুষের পেটে যাচ্ছে। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই সব কারখানায় হানা দিয়ে জেল-জরিমানাও করছেন। ৫০ লাখ টাকা মুনাফা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলে কী যায়-আসে। যেভাবেই টাকা রোজগার হোক না কেন, সমাজে টাকাওয়ালার জোর বেশি। যার টাকা আছে, যত বড় অভিযোগেই সে অভিযুক্ত হোক, রাষ্ট্র তার একটি লোমও ছিঁড়তে পারে না। যত উন্নয়ন তত প্রকল্প। যত প্রকল্প তত টাকা। প্রকল্পের টাকা বরাদ্দটাই বড়, কাজ কিছু হলে তো হলো, না হলে কিছু যায়-আসে না।
কাজ শেষ হওয়ার আগে টাকা তুলে ভাগাভাগি। সরকারি দলের ছাত্র যুব ক্যাডারদের আয়ের উৎস একাধিক। চাঁদাবাজি হলো সবচেয়ে সহজ পথ। একটু ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝামেলার হলো টেন্ডারবাজি। চাঁদাবাজি করে হোক বা টেন্ডারবাজি করে হোক, বিত্তবান হলে তার চড়া বাজারদর শুধু হবু শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে নয়, দলের কাছেও। কারণ, বিত্তবান হওয়ার মধ্যেই যোগ্যতা প্রমাণিত। বিনাশ্রমে বিত্তবান হওয়ায় আরও বেশি করে প্রমাণিত হয় যোগ্যতা। তিন-চার বছরের মধ্যে ডেসটিনির এক কর্তার অজপাড়াগাঁয়ে উঠে গেছে প্রাসাদ। (একটি অট্টালিকা আমাকে দেখিয়েছেন একজন)। উপজেলাজুড়ে অমন সুরম্য অট্টালিকা আর দ্বিতীয়টি নেই। কেউ প্রশ্ন করেনি কোথায় পেলেন টাকা। ১০ বছর আগে তো টিনের ঘর তোলার ক্ষমতা ছিল না। যে দেশের মানুষ মরা মুরগির ব্যবসা করে বড়লোক হতে জানে, সেখানে যেকোনো কিছু নিয়েই ব্যবসা হবে। উপার্জিত হবে অর্থ। মরা মুরগি বিক্রি আর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিক্রির মধ্যে তফাত কী? তফাত হলো মরা মুরগির ব্যবসায়ীদের দু-এক বছর জেল খাটতে হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের কিছুই হয় না। আর শাস্তি যদি হয়ও, বিজি প্রেসের পিয়ন বা মেশিনম্যানের হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পেছনে তোয়ালে দেওয়া গদিওয়ালা চেয়ারের কর্মকর্তার কিছু হবে না। এই বাংলার মাটিতে ব্যবসাটা হচ্ছে না কী নিয়ে? যারা মরা মুরগির ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করতে জানে, তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে করবে না কেন? তারা মাদকের ব্যবসা করবে, শিশুদের জন্য কিন্ডারগার্টেন খুলে ব্যবসা করবে, মাদ্রাসা বানিয়ে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করবে, উচ্চশিক্ষার নামে কলেজ-বিদ্যালয় খুলে

উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সামনে চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলমানদের হুমকি দেওয়া ও পরে অভিযোগ করা যে মিডিয়া এটা ভুলভাবে বা প্রেক্ষিতহীনভাবে উপস্থাপন করেছে, এ বিষয় এখন রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির এক প্রাদেশিক নেতা বলেছেন, যাঁরা মোদিকে ভোট দেবেন না, তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভালো ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপি এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওই নেতাকে বহিষ্কার করলে দলটি আরও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি মোদির রাজত্বে নির্জীব বসে থাকার চেয়ে পাকিস্তানে যাওয়া শ্রেয় মনে করেন। তাঁর এ মন্তব্যও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় বহন করে না। প্রতিদিনই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আমার কাছে ফোন আসছে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী নিবন্ধ লেখার জন্য। তাঁদের মনে ভয়, মোদি ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করবেন, যার ব্যাপারে তাঁদের মনে ঈর্ষাও আছে। আমি আশা করি, মোদি পরবর্তী সরকারের প্রধান হবেন না। এটা সত্য, সব মতামত জরিপেই দেখা যাচ্ছে, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ জোট ও এর নেতা মোদি পরিষ্কারভাবে এগিয়ে আছেন। কিন্তু এসব জরিপ নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ, মোদির সমর্থনে দক্ষিণের রাজ্যগুলো, যেমন অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা ও ওডিশায় মোদি-সমর্থনের কোনো তরঙ্গও দেখা যাচ্ছে না, ঢেউ তো বহু দূরের ব্যাপার। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতেও বিজেপির দশা করুণ হতে পারে; এসব স্থানে আঞ্চলিক দলগুলো ভোট কাটে। দেশের অন্যান্য স্থানেও আরএসএসের আশীর্বাদপুষ্ট নেতারা যে উত্তপ্ত ভাষা ব্যবহার করছেন, তাতে বুদ্ধিজীবী ও দোদুল্যমান ভোটাররাও বিজেপি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। তার পরও বিজেপি ও তার বুদ্ধিদাতা আরএসএস জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভুল পাঠ করছে।
জনগণ হিন্দু ও মুসলমান হিসেবে বিভাজিত হতে চায় না। সমাজ এমন কোনো রাজনৈতিক নেতাকে চায় না, যাঁর রাজনীতি বিভাজনমূলক, এমনকি কর্তৃত্বপরায়ণ। বিজেপি ও আরএসএস যা-ই বলুক না কেন, তারা বহুত্ববাদিতাকে বিনষ্ট করতে পারবে—এটা আমার মনে হয় না। গুজরাটে ২০০২ সালের মুসলমানবিনাশী দাঙ্গায় মোদির সম্পৃক্ততা নাকচ করে দেওয়া যাবে না; যদিও গুজরাটের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সে সময় তিনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন,  ই হিসেবে সবকিছুর দায়দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তিনি এমনকি দুঃখ প্রকাশও করেননি, ক্ষমা চাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার। কিছুদিন আগে তিনি দুঃখ প্রকাশের একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তার পরও একজন হিন্দুত্ববাদী নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। মোদির বক্তব্য জাতীয়তাবাদী হলেও তাতে পাকিস্তানের উল্লেখ নেই। কিন্তু তিনি গুজরাটে উন্নয়নের আড়ালে তাঁর সাম্প্রদায়িক চেহারাটা ঢাকার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তাঁকে ভারতের বৈচিত্র্যের মুখোমুখি হতে হবে এবং তিনি আরেকজন অটল বিহারি বাজপেয়িতে রূপান্তরিত হতে পারেন। বাজপেয়ি ছিলেন পাকিস্তানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। মোদির রাজনৈতিক সূচি যা-ই হোক না কেন, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে তিনি খারাপ সম্পর্ক রেখে চলতে পারবেন না। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচনাও তিনি আবার শুরু করতে পারেন। মোদি ও বিজেপির রাজনৈতিক বয়ান যা-ই হোক না কেন, উভয়েরই এই উপলব্ধি আছে যে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার এবং তা নয়াদিল্লির স্বার্থেই। পাকিস্তানে মৌলবাদের ছায়া ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের

উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সামনে চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলমানদের হুমকি দেওয়া ও পরে অভিযোগ করা যে মিডিয়া এটা ভুলভাবে বা প্রেক্ষিতহীনভাবে উপস্থাপন করেছে, এ বিষয় এখন রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির এক প্রাদেশিক নেতা বলেছেন, যাঁরা মোদিকে ভোট দেবেন না, তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভালো ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপি এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওই নেতাকে বহিষ্কার করলে দলটি আরও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি মোদির রাজত্বে নির্জীব বসে থাকার চেয়ে পাকিস্তানে যাওয়া শ্রেয় মনে করেন। তাঁর এ মন্তব্যও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় বহন করে না। প্রতিদিনই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আমার কাছে ফোন আসছে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী নিবন্ধ লেখার জন্য। তাঁদের মনে ভয়, মোদি ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করবেন, যার ব্যাপারে তাঁদের মনে ঈর্ষাও আছে। আমি আশা করি, মোদি পরবর্তী সরকারের প্রধান হবেন না। এটা সত্য, সব মতামত জরিপেই দেখা যাচ্ছে, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ জোট ও এর নেতা মোদি পরিষ্কারভাবে এগিয়ে আছেন। কিন্তু এসব জরিপ নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ, মোদির সমর্থনে দক্ষিণের রাজ্যগুলো, যেমন অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা ও ওডিশায় মোদি-সমর্থনের কোনো তরঙ্গও দেখা যাচ্ছে না, ঢেউ তো বহু দূরের ব্যাপার। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতেও বিজেপির দশা করুণ হতে পারে; এসব স্থানে আঞ্চলিক দলগুলো ভোট কাটে। দেশের অন্যান্য স্থানেও আরএসএসের আশীর্বাদপুষ্ট নেতারা যে উত্তপ্ত ভাষা ব্যবহার করছেন, তাতে বুদ্ধিজীবী ও দোদুল্যমান ভোটাররাও বিজেপি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। তার পরও বিজেপি ও তার বুদ্ধিদাতা আরএসএস জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভুল পাঠ করছে।
জনগণ হিন্দু ও মুসলমান হিসেবে বিভাজিত হতে চায় না। সমাজ এমন কোনো রাজনৈতিক নেতাকে চায় না, যাঁর রাজনীতি বিভাজনমূলক, এমনকি কর্তৃত্বপরায়ণ। বিজেপি ও আরএসএস যা-ই বলুক না কেন, তারা বহুত্ববাদিতাকে বিনষ্ট করতে পারবে—এটা আমার মনে হয় না। গুজরাটে ২০০২ সালের মুসলমানবিনাশী দাঙ্গায় মোদির সম্পৃক্ততা নাকচ করে দেওয়া যাবে না; যদিও গুজরাটের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সে সময় তিনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, এই হিসেবে সবকিছুর দায়দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তিনি এমনকি দুঃখ প্রকাশও করেননি, ক্ষমা চাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার। কিছুদিন আগে তিনি দুঃখ প্রকাশের একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।তার পরও একজন হিন্দুত্ববাদী নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। মোদির বক্তব্য জাতীয়তাবাদী হলেও তাতে পাকিস্তানের উল্লেখ নেই। কিন্তু তিনি গুজরাটে উন্নয়নের আড়ালে তাঁর সাম্প্রদায়িক চেহারাটা ঢাকার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তাঁকে ভারতের বৈচিত্র্যের মুখোমুখি হতে হবে এবং তিনি আরেকজন অটল বিহারি বাজপেয়িতে রূপান্তরিত হতে পারেন। বাজপেয়ি ছিলেন পাকিস্তানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। মোদির রাজনৈতিক সূচি যা-ই হোক না কেন, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে তিনি খারাপ সম্পর্ক রেখে চলতে পারবেন না। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচনাও তিনি আবার শুরু করতে পারেন। মোদি ও বিজেপির রাজনৈতিক বয়ান যা-ই হোক না কেন, উভয়েরই এই উপলব্ধি আছে যে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার এবং তা নয়াদিল্লির স্বার্থেই। পাকিস্তানে মৌলবাদের ছায়া ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের

পোশাক-বাণিজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া? by কামাল আহমেদ

২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে লন্ডনে যত ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছে, সম্ভবত ঢাকার পর বিশ্বের অন্য আর কোনো শহরে এত আয়োজন হয়নি। এ রকম একটি আয়োজন ছিল বাংলা টাউনের র‌্যাগ ফ্যাক্টরিতে, যার আয়োজক ছিল ওয়ার্ল্ড ফেয়ার ট্রেড ফাউন্ডেশন। পুরোনো একটা গুদামঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন শ দুয়েক শ্রোতা। তাঁদের সবাই এসেছিলেন ১০ পাউন্ড মূল্যের টিকিট কেটে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের মালিক কোম্পানিগুলোকে আইনগতভাবে বাধ্য করার উপায় নিয়ে একপর্যায়ে সেখানে শুরু হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। দর্শকদের সারি থেকে একজন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গ্যাপের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানালে দেখা গেল মিলনায়তনের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাতে হাত তুলে সম্মতি জানালেন। তাঁদের ক্ষোভের কারণ, রানা প্লাজা ধসের হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন তহবিলে অংশ নিতে গ্যাপের অস্বীকৃতি।

না'গঞ্জে কাউন্সিলরসহ সাতজন অপহরণ- সবাই চুপ, সবাই আতঙ্কে by গোলাম মর্তুজা ও আসিফ হোসেন

আট কিলোমিটার লম্বা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে দিনে-রাতে যান চলাচলের কোনো বিরাম নেই। দিনদুপুরে এই ব্যস্ত রাস্তা থেকে উধাও হয়ে গেল দুটি গাড়িসহ সাতজন মানুষ। পরে দুটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় মিললেও লোকগুলোর খোঁজ মেলেনি ২৪ ঘণ্টায়ও। এক গাড়িতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজন। আরেক গাড়িতে আইনজীবী চন্দনকুমার ও তাঁর গাড়িচালক।