Thursday, August 15, 2019

'বন্দুক হাতে তুলে নিতে তৈরি' - বললেন শ্রীনগরের এক কাশ্মীরি যুবক

ভারত শাসিত কাশ্মীরে শুক্রবারের বিক্ষোভের পর থেকেই সেখানে কারফিউ বহাল আছে। গোটা রাজ্য অবরুদ্ধ, কিন্তু তার মধ্যেই বিবিসির কয়েকজন সাংবাদিক যেতে পেরেছেন শ্রীনগরে, তারা দেখতে পেয়েছেন সেখানকার মানুষের মধ্যে কতটা ক্ষোভ-ক্রোধ জমা হয়েছে। বিবিসির গীতা পান্ডে কথা বলতে পেরেছেন শ্রীনগরে বেশ কয়েকজন কাশ্মীরির সাথে।
"এ আমার একমাত্র ছেলে, যদিও এখনো একেবারেই শিশু কিন্তু ও যেন বড় হয়ে বন্দুক হাতে নিতে পারে তেমনভাবেই ওকে তৈরি করবো" - শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে আমার সাথে কথা বলছিলেন এক যুবক।
তিনি বললেন, তিনি নিজেও ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বন্দুক হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত।
জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগরের পথে পথে এখন চলছে ফৌজি টহল ও তল্লাশি, দোকানপাট বন্ধ, জনজীবন স্তব্ধ । আমাদের একেবারে কাছেই পুলিশ দাঁড়ানো।
কিন্তু তারা যে এসব কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে - ব্যাপারটা পাত্তাই দিলেন না যুবকটি, এতই ক্ষেপে আছেন তিনি।
ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীর রাজ্যের স্বায়ত্বশাসন দানকারী ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পর থেকে রাজ্যটি কার্যত অবরুদ্ধ এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। টেলিফোন-ইন্টারনেট সংযোগ ছিন্ন, রাজনৈতিক নেতা সহ শত শত লোক গৃহবন্দী বা আটক অবস্থায় আছেন।
তবে তার মধ্যেও সেখান থেকে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ-সহিংসতার খবর আসছে।
শ্রীনগরের একটি সরু গলি থেকে বের হয়ে এলেন কয়েকজন লোক। তাদের মধ্যে বয়স্ক একজন বললেন, তারা দিন কাটাছেন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায়। তাদের ভাষায় সরকার যা করেছে তা হচ্ছে "চরম গুন্ডামি।"
আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা এসে আমাদের সরিয়ে দেবার চেষ্টা করলো। কিন্তু এই লোকেরা সরতে রাজী নন।
তারা আঙুল তুলে পুলিশের দিকে চিৎকার করতে লাগলেন, "তোমরা দিনের বেলা আমাদের আটকে রাখছো, রাতের বেলাও আটকে রাখছো।"
শ্রীনগরের রাস্তায় কয়েকজন কাশ্মীরী যুবক
পুলিশ তাদের বলতে লাগলো, কারফিউ জারি আছে, আপনারা এক্ষুণি ঘরের ভেতর ঢুকে যান। আমাদেরও বলা হলো এখান থেকে চলে যেতে ।
কারফিউ জারি থাকলেও, শুক্রবার নামাজের জন্য লোকজনকে মসজিদে যাবার সুযোগ করতে দিতে নিরাপত্তা শিথিল করা হয়। এ সময় শ্রীনগরে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভে যোগ দেয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর ছররা গুলি এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে বলে খবর পাওয়া যায়।
প্রায় এক সপ্তাহ হলো, রাজ্যের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী, এবং একজন এমপি গৃহবন্দী।
বুধবার দিল্লি থেকে বিমানে শ্রীনগর এসে নেমেছেন রিজওয়ান মালিক। তার ৪৮ ঘন্টারও কম সময় আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
রিজওয়ান মালিক জানালেন, রোববার সরকার ইন্টারনেট সহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেবার কয়েক ঘন্টা আগে তিনি তার বাবা-মার সাথে শেষ কথা বলেছিলেন। এর পর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর কারো সাথেই কথা বলতে পারছিলেন না। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, শ্রীনগর ফিরে যাবেন।
"কারো সাথেই কোনভাবে যোগাযোগ করার উপায় নেই - আমি জীবনে কখনো এমন অবস্থা দেখিনি" - বলছিলেন রিজওয়ান।
রিজওয়ান মালিক
তিনি বলছিলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদে বিশ্বাসী নন, কখনো সৈন্যদের দিকে একটি ঢিলও ছোঁড়েন নি। তিনি ভারতের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, জীবনে উন্নতি করাই ছিল তার লক্ষ্য।
কিন্ত এখন যা হচ্ছে তা তিনি মানতে পারছেন না।
"ভারত যদি আমাদের এটা বিশ্বাস করাতে চায় যে এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশ, তাহলে তারা আমাদের বোকা ভাবছে। কাশ্মীরের সাথে বাকি ভারতের সম্পর্ক সব সময়ই অস্বস্তিকরা ছিল, কিন্তু এই বিশেষ মর্যাদাই ছিল এ দুয়ের মধ্যে সেতুর মতো। সেটা বাতিল করে আমাদের আত্মপরিচয় কেড়ে নেয়া হয়েছে, কোন কাশ্মীরির কাছেই এটা গ্রহণযোগ্য নয়" - বললেন রিজওয়ান মালিক।
মি. মালিক বললেন, এই অবরোধ যখন উঠবে, আর বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামতে পারবে তখন প্রতিটি কাশ্মীরি তাদের সাথে যোগ দেবে।
মুসকান লতিফ
"বলা হতো, এখানে সব পরিবারেই এক ভাই যদি বিচ্ছিন্নতাবাদী হয়, তো আরেক ভাই ভারতের মূলধারার পক্ষে। এখন ভারতের সরকার দু ভাইকে এক করে দিয়েছে।"
রিজওয়ানের বোন রুখসার রশিদ, বয়েস ২০। তিনি কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যের ছাত্রী।
তিনি বলছিলেন, টিভিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা শোনার পর তার হাত কাঁপছিল, আর তা মা পাশে বসে কাঁদতে শুরু করেছিলেন।
মিজ রশিদ বললেন, আমার মা বলছিলেন এর চেয়ে মৃত্যুও ভালো। "আমি এখন ঘুমে মধ্যে আঁতকে উঠি। আমার দাদা-দাদীরা বাটমালু এলাকায় থাকেন। তারা বলছেন, এটা এখন আফগানিস্তান হয়ে গেছে।
ভারতের সরকার অবশ্য দেখানোর চেষ্টা করছে যে কাশ্মীরে সবকিছুই ঠিক আছে।
বুধবার টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখানো হয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল 'জঙ্গীবাদের উর্বর ক্ষেত্র' বলে কথিত শোপিয়ান শহরে কয়েকজন লোকের সাথে মধ্যাহ্নভোজ সারছেন।
কিন্তু কাশ্মীরিরা বলছেন, এটা একটা স্টান্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।
"লোকে যদি এতই খুশি হবে তাহলে কারফিউ জারি করতে হলো কেন? সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হলো কেন?" প্রশ্ন করলেন রিজওয়ান মালিক।
কাশ্মীর ছেড়ে যাচ্ছে পর্যটকরা
পুলওয়ামার বাসিন্দা আইনজীবী জাহিদ হোসেইন দার। তিনি বললেন, "কাশ্মীর এখন অবরুদ্ধ। কিন্তু যে মুহূর্তে এটা উঠে যাবে, তকনই শুরু হবে গোলমাল।
ভারতের কিছু সংবাদ মাধ্যম বলছে, কাশ্মীরে এখন পর্যন্ত বড় কোন বিক্ষোভ হয় নি -যার অর্থ লোকে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।
কিন্তু যে কাশ্মীর আমার চোখে পড়লো, তা ভেতরে ভেতরে ফুঁসছে।
আমি গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এই অঞ্চল দেখছি, কিন্তু এবার যে ক্ষোভ-ক্রোধের বহি:প্রকাশ দেখলাম তা নজিরবিহীন।
এখানকার লোকদের ন্যূনতম চাওয়া হচ্ছে এই - সরকারকে এ আদেশ বাতিল করতে হবে, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে। অবশ্য মোদী সরকারকে সিদ্ধান্ত নিয়ে পিছিয়ে আসার পত্র বলে মনে করা হয় না। কাশ্মীরের লোকেরাও মি. মোদীর 'নতুন যুগের সূচনার' কথা শুনে পিছু হটতে তৈরি নয়।
শ্রীনগরের একটি হাইস্কুলের ছাত্রী মুসকান লতিফ বলছেন, এখনকার অবস্থাটা আসলে ঝড়ের আগেকার শান্ত অবস্থার মতো।
"সাগর শান্ত, কিন্তু সুনামি আঘাত হানলো বলে" - বলছিলেন তিনি।
কাশ্মীরে দীর্ঘকাল ধরেই ভারতের শাসন-বিরোধী বিদ্রোহ-বিক্ষোভ চলছে

সেই নারকীয় তাণ্ডবের কথা ভুলতে পারি না: শাহান আরা বেগম by মাহবুব হাসান

শাহান আরা বেগম
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেই কালরাতে একই ঘটনায় আরও দুটি পরিবারের ওপর নেমে এসেছিল এই নিষ্ঠুর-নির্মম-নৃশংসতা। এর অন্যতম হলো বঙ্গবন্ধুর বোন আমেনা বেগম ও তার স্বামী তৎকালীন পানিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবতের পরিবার এবং অপরটি হচ্ছে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনির পরিবার।
সেদিন সেরনিয়াবতের বাড়িতে নৃশংসতার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ছিলেন তার বড় পূত্রবধূ শাহান আরা বেগম। যিনি শরীরে চারটি গুলি লাগার পরেও বেঁচে গিয়েছিলেন। তিনি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ত্রী। এবারের শোক দিবসে বাংলা ট্রিবিউন কথা বলেছে তার সঙ্গে। বরিশালে অবস্থানরত শাহান আরা টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।
শাহান আরা আব্দুল্লাহ বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে হয়। কিন্তু সেই নৃশংসতার স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে, আগস্ট এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই নারকীয় তাণ্ডবের কথা।
তিনি বলেন, ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর ১৫ আগস্ট ভোরে ঘুম ভাঙে গুলির শব্দে। তখন আজান হচ্ছিল। হঠাৎ করেই মুহুর্মুহু গুলি। বৃষ্টির মতো গুলি চলতে থাকলো চারদিকে। বাসার সবাই তখন ভয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির ( আব্দুর রব সেরনিয়াবত ও আমেনা বেগম) রুমে জড়ো হই। শ্বশুর সাহেব ফোন করলেন বঙ্গবন্ধুকে। ওদিকে দোতলায় আরেক রুমে ফোন বাজছিল। সেই ফোন ধরতে চলে গেলেন আমার স্বামী আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। শ্বশুর সাহেব বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা শেষ করে শুধু বললেন, তার বাড়িতেও মনে হয় আক্রমণ হয়েছে।
এরপর বেগম শাহান নিজেই শেখ ফজলুল হক মনিকে ফোন করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘টেলিফোনে শেখ মনিকে তাদের বাড়ি আক্রমণ হওয়ার খবর জানালে তিনি জানতে চান, ‘যারা আক্রমণ করেছে, তারা কি পোশাক পরা?’ তখন আমি জবাব দেই, ‘অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না।’ এরপর তার শাশুড়ি ( বেগম সেরনিয়াবত) ফোন নিয়ে শেখ মনিকে বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে, কিছু একটা করো।’ ঠিক ওই সময়ে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে আসে ঘাতকেরা। রুমে ঢুকেই তারা ‘হ্যান্ডস আপ’ বলে নির্দেশ দেয়। সবাইকে নিচে নিয়ে এসে ড্রয়িংরুমে কর্ডন করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখে। এরপর তাদের পক্ষে একজন আমার দিকে অস্ত্র তাক করে জিজ্ঞেস করলো, ‘ওপরে আর কে কে আছে?’ জবাবে আব্দুর রব সেরনিয়াবত আমার দিকে এমনভাবে তাকান, যেন আমি কিছু না বলি। আমি উত্তর দেই, ‘ওপরে কেউ নাই।’ তখন তার শ্বশুর সেরনিয়াবত জানতে চান, ‘তাদের কমান্ডিং অফিসার কে?’ কিন্তু ঘাতকরা তাদের কোনও কমান্ডিং অফিসার নেই উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশফায়ার শুরু করে।
ছেলে সুকান্ত বাবুর ছবি অ্যালবামে দেখছেন শাহান আরা বেগম
শাহান আরা উল্লেখ করেন, ‘প্রায় সবার গায়েই গুলি লাগে। শহীদ ভাইকে (সেরনিয়াবতের ভাইয়ের ছেলে) অস্ত্র ঠেকিয়ে ওরা গুলি করে। উনি সঙ্গে সঙ্গে উপুড় হয়ে পড়ে যান। আমার শ্বশুরের শরীর দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। আমার শরীরের পেছনের অংশে হাত দিয়ে দেখি রক্ত বের হচ্ছে। ওরা চলে যেতে লাগলো। তখনও আমার জ্ঞান ছিল। এরমধ্যেই কে যেন কান্না করে ওঠে। এরপর ঘাতকরা আবারও দৌড়ে এসে ব্রাশফায়ার করে। এবার ওরা নিচ দিয়ে ব্রাশফায়ার করে। আমার শ্বশুর সঙ্গে সঙ্গে মারা যান। আমি আমার শ্বশুরের পেছনে ছিলাম, আমার কোমরে গুলি লাগে। সে সময় ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান। আমরা গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৯ জন কাতরাচ্ছিলাম।’
একটু থেমে শাহান আরা ফের বলেন, ‘‘এরমধ্যে আবারও একদল লোক গাড়ি নিয়ে আসে। তখন ভাবলাম—এই বুঝি শেষ। কিন্তু পরে দেখি রমনা থানার পুলিশ এসেছে। তারা আমার শ্বশুরের পালস দেখে বলে, ‘বাড়ির কেউ আহত আর কেউ মারা গেছে।’ পরে পুলিশ প্রহরায় আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’’
অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে শাহান আরা আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন। আর সেদিন বিপথগামী সেনা কর্মকর্তারা বাড়ির দোতলায় তল্লাশি না চালানোয় প্রাণে বেঁচে যান আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ত্রী স্মৃতিচারণ করতে করতেই ফুঁপিয়ে ওঠেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেদিন তিন প্রজন্মকে একসঙ্গে হারিয়েছেন তিনি। নিজের সন্তান সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, শ্বশুর আব্দুর রব সেরনিয়াবত, চাচাতো ভাসুর শহীদ সেরনিয়াবত, দেবর আরিফ সেরনিয়াবত, ননদ বেবি সেরনিয়াবতসহ ছয়জনকে। আর তিনি নিজেসহ আহত হয়েছিলেন-আব্দুর রব সেরনিয়াবতের স্ত্রী আমেনা বেগম, বিউটি সেরনিয়াবত, হেনা সেরনিয়াবত, আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, খ ম জিল্লুর রহমান, ললিত দাস ও সৈয়দ মাহমুদ।
‘সেই কালরাত্রির কথা এতদিন পরেও বার বার স্মৃতিতে ফিরে আসে,’  উল্লেখ করেন সেরনিয়াবত পরিবারের এই পূত্রবধু। তিনি পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান।
ঘাতকদের বুলেটে নিহত হন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ভূমিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবত

কাশ্মীর সীমান্তে পাক-ভারত গুলি বিনিময়, 'নিহত ১০'

কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান ও ভারতের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ে উভয় পক্ষের অন্তত আট সেনাসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ভারতের পাঁচ জন ও পাকিস্তানের তিন জন সেনা রয়েছেন বলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি। এছাড়া পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে দুই বেসামরিক নাগরিকে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও দ্য টেলিগ্রাফ।
খবরে বলা হয়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী হতাহতের যে দাবি করেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে পাক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুরকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান পরিস্থিতি থেকে মনযোগ সরিয়ে নিতে লাইন অব কন্ট্রোল সংলগ্ন অঞ্চলে গোলাগুলি বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এতে তিন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় পক্ষের গুলির জবাবে পাল্টা গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
এতে পাঁচ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে। একাধিক বাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তীতে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এক টুইটে জানায়, ভারতীয় সেনা নিহতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এদিকে, পাকিস্তান-শাসিন কাশ্মীরের স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে অন্তত দুই বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে।

একতরফা সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর রোববার চীন সফর শুরু করেছেন। সফরের পরিকল্পনা আগেই ছিল। কিন্তু ভারত সম্প্রতি একতরফাভাবে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে এবং মুসলিম সংখ্যাগুরু এই রাজ্যটির স্বায়ত্বশাসনের স্ট্যাটাস বাতিল করেছে। নয়াদিল্লীর ঘোষণার আওতায় ভারত-চীনের মধ্যে অমীমাংসিত এলাকাও পড়েছে এবং এ কারণে প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছে চীন। অনেকেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির সাম্প্রতিক সফরের সাথে জড়িত হিসেবে মনে করছেন।

পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে যে, ভারতের সাথে তারা কূটনৈতিক তৎপরতা কমিয়ে আনবে এবং বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করেছে তারা। কাশ্মীর ইস্যু অত্যন্ত জটিল এবং ভারতের পদক্ষেপে চীনের স্বার্থেরও ক্ষতি হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যেই বলেছে যে, ভারতের সিদ্ধান্ত ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

সীমান্ত ইস্যুতে নয়াদিল্লি খুবই বেপরোয়া। তারা একতরফা পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রেখেছে এবং এর মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ভঙ্গ করছে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব পড়ছে। তাদের পদক্ষেপে আশেপাশের দেশের স্বার্থের ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু তারা চাচ্ছে যাতে এই দেশগুলো তাদের উসকানিকে সহ্য করে এবং ভারতের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেয়।

যে কোন দেশেই একটা জাতিগত বা ধর্মভিত্তিক অঞ্চলের স্বায়ত্বশাসনকে বদলে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে যাওয়াটা একটা চরম স্পর্শকাতর বিষয়। কাশ্মীর একটি বিতর্কিত এলাকা, যেটা নিয়ে বিংশ শতাব্দীতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন তিনবার যুদ্ধ হয়েছে। ভারতের পদক্ষেপে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান। এটা ভাবাই যায় না যে, পাকিস্তান এখানে পাল্টা পদক্ষেপ না নিয়ে চুপ থাকবে।

পাকিস্তান এবং ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলিমদের বিরোধিতার হয়তো বাস্তব পরিণতি রয়েছে। মুসলিমরা যদি সঙ্ঘবদ্ধভাবে ভারতের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা ভারতের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর মতো রাজনৈতিক ও অন্যান্য সম্পদ ভারতের আছে বলে মনে হয় না।

নয়াদিল্লী অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী। ভারতের ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচন মোদি প্রশাসনের ক্ষমতা ও স্ট্যাটাসকে সংহত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোও ভারতের সাথেই রয়েছে। ভারত আরও মনে করেছে চীন যেহেতু বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে ব্যস্ত, আর সে কারণেই সীমান্ত ইস্যুতে পদক্ষেপ নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

কিন্তু বড় কোন দেশের জন্য এটা আদর্শ কৌশল হতে পারে না। নিজেদের উত্থানের জন্য ভারতের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দরকার। ভারত যদি ভূ-রাজনৈতিক কূটকৌশল ও একতরফা নীতিতে এমনকি পার পেয়েও যায়, এর পরও তাদের পদক্ষেপ প্রচুর ঘৃণার জন্ম দেবে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় একতরফা নীতি যে বিপজ্জনক, এটার উল্লেখ না হয় না-ই করলাম।

পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তাদের স্থানীয় শক্তিগুলোর উপর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর এক ধরনের কর্তৃত্বও রয়েছে। প্রতিবেশী সঙ্কুচিত করার চেষ্টা না করাটাই ভারতের জন্য বিজ্ঞের কাজ হবে। ভারত হয়তো মনে করেছে যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের আগের চেষ্টায় স্থানীয় ইসলামী চরমপন্থী গ্রুপগুলোর সহিংস হামলা বন্ধ হয়নি। আর সে কারণেই পূর্ণমাত্রায় কঠোর পদক্ষেপের দিকে তারা এগিয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা থাকলে একটা স্পর্শকাতর পরিস্থিতি আরও জটিলই হয়ে উঠবে।

কাশ্মীরে আঞ্চলিক, জাতিগত ও ধর্মীয় বিবাদগুলো একত্র হয়েছে। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল নয়। কাশ্মীরের স্ট্যাটাস নিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। এই অঞ্চলকে পরিবর্তনের জন্য ভারতের বলপ্রয়োগকারী পদক্ষেপ অত মসৃণভাবে চলে যাবে না। নয়াদিল্লীর একতরফা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পুরনো ও নতুন ঘৃণার কারণে তাদের চলার পথে ফাঁদ তৈরি হবে।

নয়াদিল্লী যদি তাদের বেপরোয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপকে সমর্থনের জন্য জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করে, তাহলে একটা অশুভ চক্রের জন্ম হবে। ভারতকে ক্রমাগত মৌলবাদী হয়ে উঠতে হবে সেক্ষেত্রে।

জাতীয়তাবাদী ভারতের কোন ভবিষ্যৎ নেই। এশিয়ার সাধারণ ভূ-রাজনৈতিক প্যাটার্ন এ ধরনের ভারতকে মেনে নেবে না। বন্ধুপ্রতীম ও যৌক্তিক শক্তির মতো আচরণ করলে ভারতের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।

বাংলাদেশ পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস: বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।  সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক অনার গার্ড প্রদান করা হয়। বেজে ওঠে বিউগলের করুণ সুর। সেখানে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। বেলা ১১টায় শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদের, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি। সকাল সাড়ে ৬টায় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। দলের সভাপতি হিসেবেও শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৪ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় ১৪ দল, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির ভেতরে যান। সেখানে ঘুরে ঘুরে তাঁর পিতার স্মৃতিচিহ্ন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। এরপর তিনি বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রওনা হন। সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মা, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীসহ ১৫ আগস্টে নিহতদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। তাঁদের কবরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি। এরপর পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে মহান আল্লাহর দরবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টে নিহতদের কবরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন শেখ হাসিনা

ইয়েমেনকে খণ্ড-বিখণ্ড করার গভীর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান সর্বোচ্চ নেতার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইয়েমেনকে খণ্ড-বিখণ্ড করার জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই ষড়যন্ত্র অবশ্যই রুখে দিতে হবে এবং তেহরান ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানায়।

তেহরান ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের প্রতিনিধি দলকে দেয়া সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সৌদি আরব ও আমিরাতের বর্বর আগ্রাসন মোকাবেলায় ইয়েমেনের জনগণের ঈমান, প্রতিরোধ, বিচক্ষণতা ও জিহাদি চেতনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্ম, মাজহাব ও গোত্রের বসবাস ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য ইয়েমেনিদের মধ্যেই সংলাপ জরুরি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে স্থল, আকাশ ও পানিপথে হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর সৌদি আরব ৭২৯ ইয়েমেনি শিশুকে এবং দখলদার ইসরাইল ৫৭ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। খ্যাতনামা মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক নাসের আল ওমরানি ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, জাতিসংঘের একাধিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রিয়াদ ও তেলআবিব বিশ্বে শিশু হত্যায় প্রথম সারিতে অবস্থান করছে এবং এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে আমেরিকা।

সৌদি আরব গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের সাদা আবাসিক এলাকায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা জোরদার করেছে। জাতিসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদ, মানবাধিকার পরিষদসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নীরবতার সুযোগে ইয়েমেনে অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। কানাডার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান স্টোন বলেছেন, "সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে আমেরিকা ও ব্রিটেনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত রয়েছে এবং মূলত তারাই দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। আমেরিকা ও ব্রিটেন সৌদি জোটের কাছে যুদ্ধবিমানসহ অত্যাধুনিক বোমা ও অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করছে। এ ছাড়া ইয়েমেনকে সমুদ্র পথে অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য সৌদি আরব আমেরিকার জাহাজ ব্যবহার করছে যাতে ইয়েমেনে কোনো খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী যেতে না পারে। ইউনেস্কো জানিয়েছে ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে শিশু মারা যাচ্ছে।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, "আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে ইসলামী ইরান যে অবস্থান নিয়েছে তা কোন ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নয় বরং আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর কর্মকাণ্ড ও বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কারণ আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো বাহ্যিকভাবে মানবতা, সভ্যতা ও নৈতিকতার কথা বললেও তারাই সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দুঃখজনকভাবে বর্তমান বিশ্বে চলমান রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর আগ্রাসনের প্রতি আমেরিকার সমর্থন রয়েছে এবং এ ব্যাপারে মানবাধিকারের দাবিদার পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে সৌদি আরব ও আমিরাত ইয়েমেন যুদ্ধে বিজয়ের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছে। কিন্তু তারপরও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তারা এখন ইয়েমেনকে খণ্ড-বিখণ্ড করার চেষ্টা করছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ইয়েমেনি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত

কারফিউ’র মধ্যে কাশ্মীরে ঈদ বন্ধ ছিল বড় ঈদগাহ

চারদিকে অগণিত সেনারা বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে। গলির মুখে, রাস্তার বাঁকে অল্প ব্যবধানের দূরত্বে সশস্ত্র সেনাদের চেকপোস্ট। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাই কঠিন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়েছে কাশ্মীরে। পুরোপুরি অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কেটেছে সেখানকার মানুষদের। ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা বন্ধ থাকায় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি। এমনটাই জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ও এএফপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

কাশ্মীরের শ্রীনগরে ঈদের দিনের বর্ণনায় গার্ডিয়ান বলেছে, ঈদের কয়েকদিন আগেই নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ঈদের আগ দিয়ে তা ফের কঠোর করে দেয়া হয়। স্থানীয় মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি পেয়েছিলেন বাসিন্দারা। তবে শর্ত বেঁধে দেয়া হয় যে, কেউ দুইজনের বেশি একসঙ্গে হেঁটে যেতে পারবেন না। পুরো বছরের মধ্যে ঈদুল আজহা হচ্ছে কাশ্মীরিদের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি। বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যার জন্য বছরের এই সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
‘ঈদের পর আমরা ৩৭০ ফিরিয়ে আনবো’

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিক্ষোভ এড়াতেই এমন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করার পর শ্রীনগরের রাস্তায় নেমে আসে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের দমাতে উন্মুক্তভাবে গুলি ছুড়েছে ভারতীয় সেনারা। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সর্বোচ্চ ২০ জন মানুষ বিক্ষোভ করতে নেমেছিল। যদিও টিভি চ্যানেলগুলোয় প্রচারিত ফুটেজে বিশাল সংখ্যার মানুষ দেখা গিয়েছিল। উল্লেখ্য, ৩৭০ ধারা রদ হওয়ায় সংবিধান কর্তৃক দেয়া বিশেষ মর্যাদা হারিয়েছে কাশ্মীর। এই ধারার অধীনে যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ব্যতীত অন্যান্য সকল বিষয়ে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ছিল জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটির। এ ছাড়া, স্থানীয়দের ছাড়া বাইরের কেউ সেখান থেকে জমি কিনতে পারতো না, চাকরির আবেদনও করতে পারতো না। কেন্দ্রীয় সরকার কেবল কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকারই কেড়ে নেয়নি। রাজ্যটিকে আলাদা দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার ঘোষণাও দিয়েছে।

৩৭০ ধারা রদ করার পরপরই পুরো রাজ্যে আরোপ করা হয় কারফিউ। এর আগেই মোতায়েন করা হয়েছিল আড়াই লাখ সেনা। বন্ধ করে দেয়া হয় সকল ধরনের টেলিযোগাযোগ। বহির্বিশ্ব থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় রাজ্যটিকে। ঈদের আগ দিয়ে কিছুটা শিথিল করা হয় কারফিউ। শ্রীনগর থেকে বিবিসি’র এক প্রতিবেদক জানান, শনিবার কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। শ্রীনগরে খুলেছিল কিছু দোকানপাট। বেশকিছু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, শুধু ঈদের উপহারই নয়- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও। কোরবানির পশু বেচতে শ্রীনগরের একটি রাস্তার মোড়ে এসেছিলেন কয়েকজন বিক্রেতা। তবে হতাশ হতে হয়েছে তাদের। কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে   এমন এক বিক্রেতা জানান, এটি কোনো ঈদ নয়, এটি এবার শোক। গত দুইদিন আমরা তেমন কিছু করিনি। ঈদের পর আমরা ৩৭০ ফিরিয়ে আনবো। এটা কাশ্মীর। এটা আমাদের ভূমি। যখনই মুসলমানদের কোনো উৎসব আসে, তখনই কোনো না কোনো গণ্ডগোল তৈরি হয়। ভারতকে বুঝতে হবে- এটা আমাদের জন্য একটি বড়দিন। এটি আত্মত্যাগের দিন, সুতরাং আত্মত্যাগ করবো। দু’দিন পর দেখবেন, এখানে কী হয়।

‘আমাদের অন্তরে আগুন জ্বলছে’
ঈদের আগে কাশ্মীরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে গ্রামের বহু খামারি এবার শহরে গিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারছেন না। তারা বিরাট সংকটে পড়েছেন। শনিবার কারফিউ শিথিল করার পর কিছু ফেরিওয়ালা ঠেলাগাড়িতে ফল, সবজি সাজিয়ে ফেরি করতে বেরিয়েছিলেন। তারাও তেমন কিছু বিক্রি করতে পারেননি। বিবিসি’র প্রতিবেদক জানান, শুক্রবার একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি প্রকাশ হওয়ায় রোববার থেকে ফের কঠোর করা হয়েছে নিরাপত্তা।

এদিকে, গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তারা শুক্রবার কাশ্মীরে বিক্ষোভ দেখেছে। পুলিশের গুলিতে আহত হওয়া তিনজন ব্যক্তিকে দেখেছে। তবে মোট কতসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের সংখ্যা না জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানায় বৃটিশ গণমাধ্যমটি। তবে জনগণের মনে রোষ দানা বাঁধছে বলে জানায় পত্রিকাটি। ৭৫ বছর বয়সী কাশ্মীরি হাবিবুল্লাহ ভট সোমবার অসুস্থ শরীর নিয়েও ঈদের নামাজ পড়তে যান। তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমাদের অন্তরে আগুন জ্বলছে। ভারত আমাদের কালোযুগে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু খোদা আমাদের সঙ্গে আছেন। আমাদের বিদ্রোহ জয়ী হবেই।
এদিকে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সোমবার দাবি করেন, স্থানীয় মসজিদগুলোয় শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ পড়তে দেয়া হয়েছে। কোনো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাশ্মীরিরা নামাজ পড়তে যাচ্ছে এমন ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তবে সেগুলো কোথায় তোলা হয়েছে তা বলা হয়নি।

পুলিশ বাহিনীতেও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
ঈদের দিন সরকারি একটি ল্যান্ডফোন খুলে দেয়া হয়েছিল জনগণের জন্য। তাতে দেখা যায় বিশাল লম্বা লাইন। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলাপ করেছেন। ছোট্ট একটি কক্ষের ভেতর ফোনটি রাখা হয়েছিল। ওই কক্ষ থেকে এক বালিকা তার বাবাকে বলতে শোনা যায়- আমার উপহার লাগবে না, তুমি ফিরে আসলেই হবে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তার মা কাঁদতে শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গে বাইরের অনেকেও কাঁদতে শুরু করেন। এমতাবস্থায় এক পুলিশ কর্মী তাদের কাঁদতে নিষেধ করেন। বলেন, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ দেখা গেছে সেখানকার স্থানীয় পুলিশদের মধ্যেও। সেনা মোতায়েনের পরপর তাদের সাহায্য করার নির্দেশ দেয়া হয় স্থানীয় পুলিশকর্মীদের। তবে কেড়ে নেয়া হয় তাদের অস্ত্র। এমন এক পুলিশকর্মী জানান, আমাদের হয়রানি করা হয়েছে। আমরা তাদের জন্য রক্ত দিয়েছি আর তারা আমাদের সকলের অস্ত্র কেড়ে নিয়েছে। অপর এক পুলিশকর্মী জানান, যদি বিক্ষোভ হয় তাহলে তিনি তা থামানোর জন্য কিছুই করবেন না। তিনি বলেন, এখন শিশুদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা (সেনা) সব বিধ্বস্ত করে দিয়েছে।

হামলা হলে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র-বৃষ্টি হবে, এটি কৌতুক নয়: হামাস

হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইল যদি আবার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সামরিক আগ্রাসন চালায় তাহলে গাজা থেকে ইসরাইল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র-বৃষ্টিবর্ষণ হবে।

খান ইউনুস শহরে এক সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেছেন গাজার হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার। তিনি বলেন, “যদি পরাজিত ইসরাইলের সেনারা গাজায় প্রবেশ করে তাহলে আমরা তাদেরকে চুরমার করে দেব। আমরা কী বলছি তা জেনেবুঝেই বলছি এবং যা বলছি তার অর্থ রয়েছে, আমরা কোনো কৌতুক করছি না।”

ইয়াহিয়া সিনওয়ার বলেন, “ইসরাইল যদি গাজায় হামলা চালায় তাহলে আমরা ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে একসঙ্গে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করব।”

গত বছরের আগস্ট মাসে গাজার দক্ষিণে ইসরাইলি সেনাদের চালানো অভিযান ব্যর্থ করে দেয়ার প্রশংসা করেন সিনওয়ার। ওই ঘটনায় হামাসের অন্যতম কমান্ডার আবু সালাহ শাহাদাত বরণ করেন তবে ইসরাইলের তিন কমান্ডো সেনা আহত হয়। পরে হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের একটি সেনাভর্তি বাস ধ্বংস হয়েছিল।

হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আজও বন্ধ হয়নি by নূরে আলম সিদ্দিকী

সত্যি বিচিত্র এ দেশ, বিচিত্র এদেশের মানুষের মনন ও মানসিকতা। সীমাহীন আত্মত্যাগ ও অজস্র রক্তধারায় সিক্ত এই ঢাকার রাজপথ। ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে ও ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এখানে মানুষের বুকনিঃসৃত রক্ত ঝরেছে অনেক। এর বিপরীতে প্রাপ্তিও কম নয়। স্বরবর্ণ-ব্যঞ্জনবর্ণের অধিকার অর্জনের সফলতা ছাড়াও ৭০-এর গণম্যান্ডেট ও তার উপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও চেতনায় সূর্যস্নাত আমাদের এ স্বাধীনতায় বিশাল জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব একটি অবিস্মরণীয় ও অভূতপূর্ব অর্জন। এই অর্জনে বাংলার তরুণ তাজা তপ্তপ্রাণ নেতৃত্বের সিংহাসনে বসিয়েছিল এদেশের রাজনীতির অতি সাধারণ স্তর হতে উঠে আসা বাংলার মুকুটহীন সম্রাট, মানুষের হৃদয়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত শেখ মুজিবকে। তিনি বাংলার মানুষকে বিশ্বাস করতেন অকপটে এবং তার হৃদয়ের দুয়ার শুধু অবারিতই নয়, তিনি গণভবনে যাননি সাধারণ মানুষের জন্য গণভবনের লৌহকপাট সর্বদা উন্মুক্ত ও অবারিত রাখা সম্ভব নয় বলে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং অনেকেই সম্পূর্ণ নিরাপত্তা-বিবর্জিত ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের তাঁর নিজস্ব বাড়ি হতে তাঁকে স্থানান্তরের জন্য অনেক অনুরোধ-উপরোধ কাকুতি-মিনতি করে ব্যর্থ হওয়ার পরও অন্তত রাত্রিযাপনের জন্য হলেও গণভবনে অবস্থানের জন্য কী পীড়াপীড়ি ও অনুরোধই না করেছি।
এ প্রশ্নে শুধু উপেক্ষাই নয়, অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও তিনি করেছেন, টীকা-টিপ্পনিও কেটেছেন। সবকিছু সহ্য করেও আমরা অনুরোধ ও চাপ সৃষ্টির প্রাণান্ত প্রচেষ্টা থেকে সরে আসিনি। আমাদের অনুরোধ-উপরোধ যখন কার্যকর হলো না, তখনও নাছোড়বান্দার মতো আমরা তাঁর রাত্রিযাপনের স্থানটির নিরাপত্তা অনেকগুণে বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছি। আজকের প্রজন্ম বিস্ময়াভিভূত ও আশ্চর্যান্বিত হবেন, তিনি অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে নিরাপত্তার সেই প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করে তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রায়শই বলতেন- ‘দরদ দেখাও মিয়ারা? আমি জানি তোমাদের উদ্বিগ্নতার কারণ। কিন্তু তোমরা যেটা জানো, সেটা আমার উদাসীনতা নয়, বাংলার মানুষের প্রতি আমার অকুণ্ঠ বিশ্বাস। আমার প্রতি বাংলার মানুষের ভালোবাসা পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সকলেই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন বলেই আমাকে বাংলাদেশের কোনো কারাগার তো দূরে থাক, ক্যান্টনমেন্টেও রাখতে সাহস পায়নি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হওয়ার পর তারা আমাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সরিয়ে সেনানিবাসে অবরুদ্ধ করে। কিন্তু তাতেও কি তাদের শেষরক্ষা হয়েছিল?’ এ প্রশ্নে আমরা নিরুত্তর থাকলেও পরিপূর্ণ আশ্বস্ত হতে পারতাম না, মনকেও প্রবোধ দিতে পারতাম না। প্রতিনিয়তই আমাদের আন্তরিক অনুরোধকে বিদ্রূপ করে তিনি বলতেন- আমি না বলেছি, ও ষড়াব সু ঢ়বড়ঢ়ষব. আমাকে ধমক দিয়ে বলতেন, ডেভিড ফ্রস্টের কাছে আমি যখন বললাম, আমার চরিত্রের সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো, ও ষড়াব সু ঢ়বড়ঢ়ষব ঃড়ড় সঁপয. তুমি কি মনে করো এটি চটকদার রাজনৈতিক একটি কথার কথা ছিল? হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে কর্মী থেকে নেতা এবং জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছি। এই কারণে আমি যা বলি, সেটা বিশ্বাস করি। আর যেটা বিশ্বাস করি না, সেটা কখনো বলি না। প্রচণ্ড অস্বস্তি এবং দিগন্তবিস্তৃত আকাশের কালো মেঘের মতো একটা অজানা আশঙ্কা ও আতঙ্ক নিয়ে সেদিনের মতো নিশ্চুপ হয়ে যেতাম।

মুজিব ভাইয়ের নেতৃত্বের যে আসন, সেটি মানুষের হৃদয়ে তিল তিল করে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। সে আসনটি ছিল মুঘলদের হীরকখচিত ময়ূর সিংহাসনের চাইতেও মূল্যবান, অতুলনীয়। তাইতো প্রশ্ন এসে যায়, ১৫ই আগস্টের পর সারা বাংলাদেশ আগ্নেয়গিরির গলিত লাভার মতো বিস্ফোরিত তো হলোই না, বরং নীরব, নিথর, নিস্পৃহ, নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে রইলো কেন? এই নিস্পৃহতার কী কারণ- তার পূর্ণ বিশ্লেষণের ভার আমি ইতিহাসের কাছেই অর্পণ করতে চাই। তবুও আমার নিজের ধারণা, ঘটনার আকস্মিকতা এবং নৃশংস নির্মমতায় সমগ্র জাতি হতচকিত হয়ে গিয়েছিল, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত- বাকশাল গঠন প্রক্রিয়ার প্রকোপে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। অনেক দল, বিশেষ করে ভ্রান্ত বামের সংমিশ্রণে আওয়ামী লীগ তার নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, যাদের উপর সংগঠনসমূহের দায়িত্ব অর্পিত ছিল তারা সকলেই দায়িত্ব পালনে কেবল ব্যর্থই হননি, অনেকটা অস্বীকৃতি জানানোর মতোই ছিল তাদের নিস্পৃহতা। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, রক্ষীবাহিনী রাজনৈতিক নির্দেশের অভাবে সেনাবাহিনী হতে পরিত্যক্ত ২৬ জন ধিকৃত মানুষকে প্রতিরোধ করার জন্য এগিয়ে আসেনি।

বঙ্গবন্ধুকে অকালে হারানোর ক্ষতবিক্ষত আমার হৃদয়কে দীপ্তিহীন আগুনের শিখায় দগ্ধীভূত করে যখন একান্তে ভাবি, বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের গৃহটি আক্রান্ত হওয়ার পর দুই ঘণ্টার কাছাকাছি সময় তিনি হাতে পেয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এবং রক্ষীবাহিনীর যিনি রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন- তাদের সবার সঙ্গে টেলিফোনে বারবার পরিস্থিতি জানিয়ে সাহায্যের জন্য, অর্থাৎ ওদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার টেলিফোন করার পরও কারো কাছ থেকে তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি শুধুমাত্র কর্নেল জামিল ব্যতিরেকে। আমি প্রত্যয় দৃঢ়চিত্তে মনে করি, সশস্ত্র বাহিনী ও রক্ষীবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তো বটেই, ন্যূনতমভাবে তাদের দেহরক্ষীদের নিয়ে বের হলেও দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করার পথ খুঁজে পেতো না। কিন্তু দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধুর, মর্মান্তিক শাহাদাতের পূর্বে তিনি বুকভরা বেদনা নিয়ে উপলব্ধি করে গেলেন, তিনি কতটা একা, নিঃস্ব ও রিক্ত!

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে কিন্তু দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে যারা সাড়া দেননি, নিষ্ক্রিয়, নিস্পৃহ ও নিস্তব্ধ থেকেছেন, তাদের শনাক্ত করে আওয়ামী লীগের মতো সংগঠন থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরে থাক, তাদের চিহ্নিত করে প্রতিবাদ ও জবাবদিহিতা পর্যন্ত চাওয়া হয়নি। বারবার সাহায্য চেয়েও নিস্ফল হয়ে একাকিত্ব ও অসহায়ত্বের বেদনা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আজও সেই গ্লানি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। যারা নিষ্কলুষ চিত্তে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, তারা আজও কান পাতলে হয়তো ইথারে তাঁর বিদেহী আত্মার এই বেদনার ধ্বনি শুনতে পান।

১৫ই আগস্ট কোনো সেনা-অভ্যুত্থান বা কোনো বিদ্রোহ হয়নি। কোনো জনতার বিপ্লবও সংঘটিত হয়নি। অন্যদিকে হত্যাকারীরা সংখ্যায় যে কেবল ২৬ জন ছিল তাই নয়, তাদের প্রায় সকলেই সামরিক বাহিনী হতে হয় বহিষ্কৃত, নয় চাকরিচ্যুত।

এখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য নয়, পরিস্থিতি ব্যাখ্যার প্রয়োজনে আমি উল্লেখ করতে চাই, ১৫ই আগস্টে আমার হৃদয়ের যে রক্তক্ষরণ, তা আজও বন্ধ হয়নি। এর প্রধানতম কারণ, তখন আমার হাতে কোনো সংগঠনই ছিল না। ৭১-এর ২৫শে মার্চ সারা বাংলাদেশ যখন পৈশাচিক শক্তি সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হলো এবং কারফিউ জারি করে নির্বিচারে গুলি ছুড়ে নিরীহ নিরস্ত্র নিতান্ত সহজ সরল মাটির মানুষগুলোকে হত্যা করা হলো, তখন হৃদয়ের সমস্ত যন্ত্রণাকে প্রশমিত করে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করার সংকল্প ও পূর্ব পরিকল্পনাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রজ্বলিত আকাঙ্ক্ষাকে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করি। কারণ, ২৫শে মার্চে আমার একহাতে ছিল বাঁশের বাঁশরি আর হাতে রণতূর্য (তখন আমি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা)। কিন্তু ১৫ই আগস্টে হৃদয়ে শুধু রক্তক্ষরণ হয়েছে, কিছুই করতে পারিনি। 

১৫ই আগস্টের কিছুদিন আগেও আমি যুবলীগের মহাসচিব ছিলাম। সেখান থেকেও আমাকে সুকৌশলে সরিয়ে দিলে (মণি ভাই-এর বিপক্ষে ছিলেন) আমি শুধু নিষ্ক্রিয় ও নিস্তব্ধই হয়ে যাইনি, হয়তো ওই প্রতাপশালী অংশের কেউ আমাকে রক্ষীবাহিনী অথবা আততায়ী দিয়ে হত্যা করিয়ে তারা নিজেরাই শোকসভা, প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করতেন। আমার সুহৃদ, শুভাকাঙ্ক্ষীদের এমন হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে আমি আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হই। সকল ধরনের সংগঠন থেকেই আমাকে বিযুক্ত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর আমি ওইদিন ভোরে আমার পিতার টেলিফোনের মাধ্যমে জানতে পারি। আমি যে বন্ধুর বাসায় থাকতাম, তার টেলিফোন নম্বর কেবলমাত্র আমার পরিবারের সদস্যদেরই জানা ছিল। খবরটি শুনে পিঞ্জিরাবদ্ধ ব্যাঘ্রের ন্যায় বন্ধুর বাসায় ছটফট করছিলাম। মানসিক অবস্থা এমন ছিল যে, মন চাইছিল চিৎকার করে একাকী রাস্তায় বের হয়ে একাই প্রতিবাদ করতে থাকি। আমার বন্ধু ও তার স্ত্রী আমাকে নিবৃত্ত করার জন্য নানা ধরনের সান্ত্বনা ও প্রবোধ বাণী শোনাচ্ছিলেন। তাদের মূল কথা ছিল, ধৈর্য ধরো, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করো, বিশ্বস্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করো। যাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি, তারাই আমাকে ধৈর্যধারণ ও শান্ত থাকতে বলেছেন। অকস্মাৎ এমন কিছু যেন না করে বসি যেটি আত্মঘাতী ও অনর্থক বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে আমাকে ঠেলে দেবে। জীবনে আমি আর কখনো এতটা অসহায়বোধ করিনি।   

দেশ আজ মূলত কার্যকরী বিরোধী দলশূন্য। সরকারি মারাত্মক ভুলের বিরুদ্ধে একটা ফলপ্রসূ ও কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলা আজ অসম্ভব প্রায়। কেন এমন হলো? কী করেই-বা হলো- সমস্ত রাজনৈতিক অঙ্গন আজ নীরব, নিস্তব্ধ ও নিস্পৃহ প্রায়। ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের মোড়কে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মুক্তির লক্ষ্যে তো সফল আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। আজ কেন রাজনীতির এই দৈন্যদশা! অনেকে হয়তো ঠাট্টা করে বলবেন, শেখ হাসিনা মনোমুগ্ধকর ঘুমপাড়ানি গান শুনিয়ে গোটা জাতিটাকেই নিদ্রাভিভূত করে রেখেছেন। শেখ হাসিনার হাতে পরম নিশ্চিন্তে গোটা জাতির ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণের দায়ভার অর্পণ করে গোটা জাতি নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে ঘুমোচ্ছে। এ ঘুম যেন কুম্ভকর্ণের ঘুমের চাইতেও মারাত্মক ও বিপজ্জনক।

আজকে যেদিকে তাকাই, সবাই যেন আওয়ামী লীগ। একদিন যারা গণবাহিনী করেছেন, থানার পর থানা লুট করেছেন, খাদ্যগুদামে আগুন দিতে দ্বিধাবোধ করেননি, ঈদের জামাতে সংসদ সদস্য হত্যাকে অত্যন্ত বীরোচিত কাজ মনে করেছেন, যাদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে মানুষের হৃদয় সর্বদা আতঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত থাকতো, ১৫ই আগস্টের পর সেনাবাহিনীর ট্যাংকে উঠে যারা রাইফেল উঁচিয়ে উন্মাদের মতো উল্লাস প্রকাশ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসম্মানজনক স্লোগানে বিষোদগার করেছেন, ছাত্রলীগে আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতাম, তাদের দেখলেই নিষ্ঠুর নির্মম ব্যঙ্গ করে ‘মুজিববাদের কাঁধে চড়ে আমেরিকা যাবো গো’, ‘শেখ মুজিবের কাঁধে চড়ে দিল্লি যাবো গো’ বলে যারা সুর করে গান গাইতো, এখন তারাও আওয়ামী লীগ। ডানে তাকালেও আওয়ামী লীগ, বামে তাকালেও আওয়ামী লীগ। সামনে-পেছনে,  উপরে-নিচে ডান-বাম এমনকি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীরাও আজ আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে বীরদর্পে সমাজের সর্বত্রই বিচরণ করছেন। তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি অবস্থা ও অবস্থানই নেহায়েত কম নয়। তাদের কাউকে যারা ১৫ই আগস্টের পর সেনাবাহিনীর ট্যাংকে উঠে রাইফেল উঁচিয়ে অদম্য উল্লাস প্রকাশ করেছেন, তাদেরই কেউ কেউ শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। আপাতত নাই, তবে আবার হতে কতক্ষণ! স্বাধীনতার শত্রু যারা তারাও আজ নৌকার সমর্থকই শুধু নন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী! এই নব্য এবং হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতাদের কনুইয়ের গুঁতোয় কত যে নিবেদিত নেতা ও কর্মী ধরাশায়ী হয়েছেন, কতজন যে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে গিয়েছেন- তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ডেঙ্গু থেকে শুরু করে অনেক প্রাণঘাতী অসুখ আজ সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তার চাইতেও সর্বনাশা ব্যাধি হলো নব্য আওয়ামী লীগারদের দৌরাত্ম্য।

দেশ আজ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। প্রশাসন ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি এমনভাবে মিশে গেছে যে, স্বাভাবিক সমাজব্যবস্থা ও দুর্নীতির সঙ্গে বিভাজন করাই দুরূহ কাজ। এটা যিনি করতে পারবেন, তিনি গৃহযুদ্ধ থেকে আমেরিকাকে রক্ষাকারী আব্রাহাম লিংকনের সম্মান পাবেন- এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

পাশবিক শক্তির হাতে মর্মান্তিকভাবে বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছেন, ৪৪ বছর হয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময়ে দেশ স্বৈরাচারের খাদে পড়েছে। সেখান থেকে কিছুদিনের জন্য হলেও টেনে-হিঁচড়ে তুলে গণতান্ত্রিক পথে পরিক্রমণের জন্য তাকে কোনরকমে খাঁড়া করা সম্ভব হলেও আবার হোঁচট খেয়ে সেই স্বৈরাচারের গহিন অন্ধকারেই নিপতিত হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে জনগণ যখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করলো, তখন গণতন্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। কিন্তু কপাল মন্দ দেশের, দুর্ভাগ্য প্রান্তিক জনতার। শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদে ডান-বামের সেই সমস্ত চেনামুখগুলোর কেউ কেউ ঢুকে গেলেন, যারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে আমজনতার বিরুদ্ধে অনেকবার অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরাও ক্ষেত্রবিশেষে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছেন। সত্যিই বিচিত্র এই দেশ, বড়ো দুর্ভাগা এদেশের মানুষ!

ভারতে পৌঁছার পর শেইখ জাকজাকি’র চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণা

শেইখ জাকজাকি ও তার স্ত্রী
নাইজেরিয়ার ইসলামিক মুভমেন্টের নেতা শেইখ ইব্রাহিম জাকজাকি ও তার স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। শেইখ জাকজাকির ইরানস্থ দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ভারতে যাদের মাধ্যমে চিকিৎসা করানোর জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত তাদেরকে চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয় নি।

শেইখ জাকজাকি নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছার পরপরই প্রতারণামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে ভিন্ন একদল চিকিৎসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যাদের কাছে জাকজাকি ও তার স্ত্রীকে হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের সঙ্গে জাকজাকির ঘনিষ্টদের ঠিক করা চিকিৎসক টিমের কোনো সম্পর্ক নেই।

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের অনুচরদের সহযোগিতায় এ প্রতারণামূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জাকজাকির দপ্তর থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

শেইখ জাকজাকির দপ্তর থেকে আরও বলা হয়েছে, তাদের নেতা এবং নেতার স্ত্রী’র চিকিৎসার ক্ষেত্রে নেতিবাচক কিছু ঘটলে নাইজেরিয়ার সরকার বিশেষকরে নাইজেরীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে এর দায় বহন করতে হবে।

নাইজেরিয়ার আদালতের এক রায়ের ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য শেইখ জাকজাকি ও তার স্ত্রীকে ভারতে পাঠিয়েছে দেশটির সরকার।

এতিম-গরিবের ভাগে থাবা by পিয়াস সরকার

ইবাদত হোসেন সৌরভ। বয়স মাত্র ৬ বছর। বাবা হারিয়েছে বছর দুয়েক আগে। মা অন্যের জমিতে কাজ করে কোনোরকম পেট চালান। তারা তিন ভাই বোন। সৌরভ ছাইগারি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মাদ্রাসাটি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্ল্যাপুরে। বিদ্যুৎ পর্যন্ত পৌঁছাইনি এখানে।
মাটির ঘর। হতদরিদ্র এই সৌরভ এবছর থেকেই এখানে থাকে। জীর্ণ পোশাকে চলে তার মাদ্রাসা জীবন। শিক্ষক বলেছিলেন চামড়ার টাকা থেকে কিনে দেবেন নতুন পোশাক। প্রায় ৫০ অনাথ শিশুর বাস এখানে। এই মাদ্রাসার মূলত আয় কোরবানির পশুর চামড়া ও অন্যের সহযোগিতা। এখানে পড়ান ৩ জন শিক্ষক। মাদ্রাসার প্রধান ইকবাল আহমেদ বলেন, অনাথ বাচ্চাগুলা নিয়ে এমনিতেই করুণ অবস্থার মাঝে আছি। এবারের চামড়ার টাকা দিয়ে কথা ছিলো ঘরের চাল সারাবো। বৃষ্টি হলেই ভিজে যায় শিশুরা। আর কিছু শিশুর নতুন পোশাক কিনে দেবার কথা ছিলো। শিক্ষকদের বেতন আর বাকী টাকা থাকবে তাদের খাওয়ার খরচ হিসেবে। কিন্তু চামড়ার দাম না থাকায় কিছুই সম্ভব হবেনা এবার। চামড়ার জন্য ঈদের আগে মাইকিং করা হয়েছে, তিনদিন ধরে। মাইকিং বিনামূল্যেই করা হয়েছে। তার পরও দিতে হয়েছে ৩ শ’ টাকা। আর পোস্টার লাগাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ শ’ টাকা। চামড়া থেকে আয় হয়েছে মাত্র আড়াই হজার টাকা। আগেরবার আয় হয়েছিলো ৪৮ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, আমাদের বেতনের কথা না হয় বাদই দিলাম। এই বাচ্চাগুলার খাবার এখন পুরাই অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লো। আর যাদের নতুন পাঞ্জাবি দিতে চেয়েছিলাম তাদের মুখের দিকে তাকাবো কী করে? নিজেকে পাপী মনে হচ্ছে।

এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আর শিক্ষকদের মতোই সারা দেশের হাজার হাজার মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভাবনার কারণ হয়েছে চামড়ার দাম। কোরবানীর ঈদে পশুর চামড়া সংগ্রহ করে সারা বছরের ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসে এসব মাদরাসার। অনেক মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অল্প মূল্য দিয়ে চামড়া কিনেও থাকে। এবার চামড়ার মূল্যে ধ্বস নামায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে এসব মাদরাসা।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদ্রাসা। প্রায় ৮ হাজার ছাত্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আশ্রয়স্থল এই মাদ্রাসার বড় একটি আয়ের উৎস কোরবানির পশুর চামড়া থেকে অর্জিত অর্থ। কিন্তু এবারের চামড়ার দামে ভাটা পড়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। শঙ্কায় আছেন এই একবছর কিভাবে চলবেন? এই মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শফিকুল ইসলাম জানান, আগের বছর ৫ থেকে ৬ হাজার পশুর চমড়া পেয়েছিলাম। গড়ে এসব চামড়া বিক্রি হয়েছিলো হাজার টাকায়। কিন্তু এবারের চামড়ার দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। এবারে আরো বেশি চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। গরুর চামড়ার দাম প্রথমে বলা হচ্ছিল ১শ’ থেকে ১২০ টাকা। অল্প দাম হওয়ায় প্রথমে বিক্রি করেননি। পরে সেই দামেও আর নেবার লোক নেই। আর ছাগলের চামড়া তো নিচ্ছেই না কেউ। এই মাদ্রাসায় এবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে চামড়ায় লবণ দেবার কাজ। অধিক দামের আশা তাদের। তবে পরবর্তীতে বিক্রি না হলে উল্টো লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

হাটহাজারী কওমি মাদ্রাসায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তাদেরও একই অবস্থা। তাদের শিক্ষক মাওলানা কামাল উদ্দীন বলেন, আগের বছর চামড়া থেকে আমাদের আয় হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা। আর এবারে সমপরিমাণ চামড়া থেকে আয় হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। কিছু চামড়া এখনো অবিক্রিত রয়েছে। এগুলো ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই।

এই দুই মাদ্রাসার দুই শিক্ষক জানান, এই অর্থ থেকে মূলত শিক্ষকদের বেতন। শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা হয়। এই বছর চামড়ার দাম না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খাওয়া পরিধেয় পোশাক এবং শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সমস্যা হবে। এমনিতেই মাদ্রাসাগুলোর আয়ের কোনরকম চলে শিক্ষার্থীরা। সেখানে মোটা অংকের আয়ের পার্থক্য হওয়ায় আরো খারাপ অবস্থায় চলে যাবে তারা। এখন কোন রকম তিনবেলা খাওয়া দেয়া হয়। নীলফামারী হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব সৈয়দ আফরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের মাদরাসায় দুটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়। আর গাই গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা। আর চারটি ষাড় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪৫০ টাকায়। লক্ষীপুর জেলার আতারিল হাফিজিয়িা মাদ্রাসা। এখানে থাকে ১৫০ জন এতিম শিক্ষার্থী। হাফেজ সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের মাদ্রাসার অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস কোরবানির পশুর চামড়া। এই চামড়া থেকে গতবছর আয় হয়েছিলো প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এবারের আয় ১৮ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, আমাদের মাদ্রাসার বছরব্যাপি বেতন দেয়া হয় না। বছরের শুরুতে একবার আর কোরবানির ঈদে একবার। এই ঈদের বেতন দেয়া হয় কোরবানির চামড়ার টাকা থেকে। এবারের বেতন দেয়া হয়নি। কিভাবে দেয়া হবে তাও জানি না।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর উসালিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল মাদরাসা উল্টো প্রায় ২০ হাজার টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারা চামড়ার মূল্য না পেয়ে নিজেরাই লবণ দিয়ে রেখেছেন। আর এখনো বিক্রি করতে পারেননি সেই চামড়া। জামালপুর জেলার রেলওয়ে নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক বায়েজীদ হোসেন জানান, গতবার তারা প্রায় ২৫ হাজার টাকা চামড়া থেকে আয় করেছিলেন আর এবার আয় হয়েছে মাত্র সাড়ে ৭ হাজার টাকা।

দুই মলাটে সৈয়দ হাসান ইমামের আত্মজীবনী

দেশের নাট্য জগতের আলোকিত মানুষ ও প্রবীণ অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম। তাকে নিয়ে প্রকাশিত হলো আত্মজীবনীমূলক বই ‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’।

গত ৩০ জুন রোববার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সৈয়দ হাসান ইমাম, তার স্ত্রী লায়লা হাসান এবং নূহ-উল-আলম লেনিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুছ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স’র চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়ক, মাহমুদ সেলিম, রতন সিদ্দিকী সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সৈয়দ হাসান ইমামকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘বিনম্র মানুষ বিক্ষুব্ধ শিল্পী’ দেখানো হয়। ৭১ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রটির পরিচালক সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসানের মেয়ে সঙ্গীতা ইমাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমামের মেয়ে সঙ্গীতা ইমাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী।

‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’ বইতে উল্লেখিত হয়েছে সৈয়দ হাসান ইমামের কর্ম ও জীবনের নানা আখ্যান। আছে অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজনীতি, দেশভাগ, একষট্টির প্রতিবাদী রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষ, চৌষট্টির সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, সত্তরের ত্রাণকার্য এবং সাধারণ নির্বাচন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা, জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইড নির্মাণের বর্ণনা।

৩৪০ পৃষ্ঠার বইতে আরও রয়েছে শিল্পী সংস্থার কার্যক্রম, স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন, শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, পনেরই আগস্টের নির্মমতা, মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে চলচ্চিত্রের নানা অজানা অধ্যায়।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম দিকপাল সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, জহির রায়হান, আলমগীর কবীরসহ আরও অনেক নির্মাতা ও তাদের সৃষ্টি সম্বন্ধে নিজস্ব স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিশদ আলোচনা করেছেন সৈয়দ হাসান ইমাম।

গ্রন্থটিতে রয়েছে অনেক দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র। ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে ‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’ বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড।

জাতীয় শোক দিবস আজ

শোকাবহ ১৫ই আগস্ট আজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী। জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এদিনে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে নির্মমভাবে সপরিবারে শাহাদতবরণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও নাতি সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে থমকে দাঁড়ায় সদ্য স্বাধীন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
থেমে যায় সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া।

নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আজ সারা দেশে পালিত হবে জাতীয় শোক দিবস। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করা হবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে। সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচি। দিবসটিকে ইতিমধ্যেই সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি কর্মসূচির মধ্যে ১৫ই আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পুুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এ ছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার বনানী কবরস্থানে জাতির পিতার পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্য ও অন্যান্য শহীদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া করবেন।

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া সেখানে ফাতেহা পাঠ, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি পালন করবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। ছড়িয়ে পড়ে হত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন।

পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ওই ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ সালে। ওই  বছরের ১৪ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২রা অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এএফএম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন। ১৯৯৬ সালের ১৪ই নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ই জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ই মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ১৯শে জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ই নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে ২০০০ সালের ১৪ই ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করেন। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এবিএম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ২০০১ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি বিভক্ত রায় প্রদানের ফলে মামলাটি ডেথ রেফারেন্সে ও আপিল শুনানি দ্বিতীয় বেঞ্চের তৃতীয় বিচারকের কাছে স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেয়ায় এর শুনানি উচ্চ আদালতের আরেকটি বেঞ্চে শুরু হয়।

একই বছরের ৩০শে এপ্রিল তৃতীয় বিচারক মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২৫ দিন শুনানির পর অভিযুক্ত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩শে আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩শে সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ২০০৯ সালের ১২ই নভেম্বর- ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯শে নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯শে নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭শে জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮শে জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়। এদিকে পলাতক ছয় আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের দাবি উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিবছর। সরকারের তরফেও বলা হচ্ছে খুনীদের ফিরিয়ে এনে তাদের দণ্ড কার্যকর করা হবে। এমন দাবি সামনে রেখে এবারও জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশে মসজিদসমূহে বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।
জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রোথ সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার স্থাপিত হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে তারা কর্মসূচি পালন করবে। 

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন টুংগীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে এবং ঢাকায় ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করবে।
দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য জাতীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি পালন করবে।

আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ই আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭টা ৩০মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষে জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুরে-অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ। বাদ আছর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে । আগামীকাল বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও সর্বস্তরের  নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

চামড়ার দামে মহা ধস: সিন্ডিকেটের কারসাজি

পশুর কাঁচা চামড়া নিয়ে মহা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যা গত ৩০ বছরের মধ্যে সব চেয়ে ভয়াবহ দরপতন। ১৯৯০ সালে ব্যাপক দরপতন হলেও ওই সময় পাঁচ থেকে সাতশ টাকায় বিক্রি হয় গরুর কাঁচা চামড়া। কিন্তু এবার চামড়া কেনার লোকই পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রি করতে না পেরে অনেকে চামড়া রাস্তায় বা ময়লার স্তূপে ফেলে দিয়েছেন। মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে হাজার হাজার চামড়া। যেসব চামড়া বিক্রি হয়েছে তারও দাম দেয়া হয়েছে নামমাত্র। এমন পরিস্থিতিতে দেশের চামড়া শিল্পে বড় আঘাত আসবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
আগের মজুত থাকায় এবার চামড়ার বাজারে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল আগে থেকেই। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগাম যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেনি। পরিস্থিতি আঁচ করে শেষ মুহূর্তে ঈদের দিন কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত দেয় মন্ত্রণালয়। ঈদের দিনে এমন সিদ্ধান্ত দেয়ায় বাজারে কোন প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন চামড়া ক্রয় বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ গরিব এবং দুঃস্থদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। চামড়ার দাম না থাকায় এ শ্রেণির মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া দেশের হাজার হাজার মাদ্রাসা কোরবানির পশুর চামড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ব্যয়ের একটি বড় অংশ পূরণ করে থাকে। দাম না পাওয়ায় এসব মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও বিপাকে পড়েছে।

চামড়ার বাজারের এমন অবস্থার পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা ফায়দা লুটছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে লোকসানে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। বঞ্চিত হয়েছে গরিব, এতিমরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়ার বাজারে ধস নামার কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠী কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে কম দামে চামড়া কিনতে পারায় এবং এখন কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানির অনুমতি মেলায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত লাভ হাতিয়ে নেবে আড়তদার, ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকরা।
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তার আড়তদাররা বলছেন, ৯০ ভাগ ট্যানারির মালিক পোস্তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। তাই নগদ টাকার সংকটে চামড়া কিনতে পারেননি তারা। 

অন্যদিকে ট্যানারির মালিকরা বলছেন, ঢালাওভাবে অভিযোগ করা ঠিক নয়। কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ ট্যানারি পাওনা অর্থ পরিশোধ করেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, প্রতি পিস ছোট চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় চামড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। এছাড়া রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।
এ ছাড়া বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া রাস্তায় পড়ে আছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত কোরবানি সম্পন্ন হওয়া পশুর চামড়াগুলো কেনার জন্য তখনো কেউ আসেননি।

সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া দাম অনুযায়ী, ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু এবার ফড়িয়া বা মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলেনি। কোথাও কোথাও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হয়েছে আরো কম দামে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। চামড়ার মৌসুমী ব্যবসায়ী হাজী আরফান বলেন, পোস্তায় চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। বিক্রি করেছি ৪০৫ টাকা করে। কিন্তু গড়ে চামড়া কিনেছি ৫০০ টাকা ধরে। পরে আবার কিছু চামড়া এনেছি দাম বলছে ২১০-২২০ টাকা। যে দাম গাড়ি ভাড়ার খরচও উঠবে না। উল্টো চার-পাঁচ লাখ টাকা লোকসান। তিনি বলেন, আমি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করি। চামড়ার এত কম দাম কোনো সময় দেখিনি। ট্যানারি ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়েছে। তাদের কাছে সবাই এখন জিম্মি।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সেক্রেটারি হাজি টিপু সুলতান বলেন, চামড়ার এই দরপতন গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর নানা করণে চামড়ার দাম কমে যায়। তিনি বলেন, ওই সময় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দামের একটি গরুর চামড়া বিক্রি হতো ৭০০ টাকায়। এবার সেই মানের চামড়া কেনা সম্ভব হয়েছে ৩০০ টাকারও কম দামে। ট্যানারি মালিকরা আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি অভিযোগ করে বলেন, তারা টাকা আটকে রেখেছে। টাকা না থাকলে আমরা চামড়া কিনব কীভাবে? তাই দাম পড়ে গেছে। চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অনেক চামড়া পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এখন করণীয় কী- জানতে চাইলে টিপু সুলতান বলেন, পোস্তার ব্যবসায়ীরা সাধ্যমতো চামড়া কিনেছে। এখন আড়তে চামড়া না এনে যে যেখানে চামড়া কিনছেন সেখানেই লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। তা ছাড়া কোনো কিছু করার নেই।

চামড়ার দরপতনের বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ট্যানারির মালিকরা পাওনা অর্থ পরিশোধ করছে না, এ কথা ঠিক নয়। ঢালাওভাবে অভিযোগ করাও ঠিক হচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ ট্যানারি আড়তদারদের টাকা দিয়েছে। তারা কম দামে চামড়া কিনছে। আমাদের কাছে বেশি দামেই চামড়া বিক্রি করবে। লবণযুক্ত চামড়া আমাদের ১ হাজার টাকার উপরে কিনতে হবে। তিনি বলেন, গরু জবাইয়ের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চামড়া সংরক্ষণ করলে চামড়া ভালো থাকে। ১৫ থেকে ২০ দিন পর ট্যানারিগুলো চামড়া কেনা শুরু করবে। যেসব চামড়া ভালো থাকবে তা সরকার নির্ধারিত দামে কিনব। তিনি বলেন, এবার ৮৫ লাখ কাঁচা চামড়ার সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছি। তবে এবার কোরবানি বেশি হয়েছে। তাই লক্ষ্য অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহের কোনো সমস্যা হবে না।

জানা গেছে, সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া ও অর্থ সংকটের কারণে এ বছর চামড়ার দাম কমানোর সুপারিশ করেছিল কাচা চামড়ার ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকরা। এসব বিবেচনায় সরকার দাম না বাড়িয়ে আগের মূল্য নির্ধারণ করে।

চামড়ার কম দাম ব্যবসায়ীদের কারসাজি: বাণিজ্যমন্ত্রী
চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল রংপুরের শালবন এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চামড়া নিয়ে যখনই ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করি, তখনই তার বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলো, তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
চামড়ার দাম একেবারেই কমে গেছে উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলছেন। টিপু মুনশি আরো বলেন, কোনোভাবেই চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করতে দেয়া যাবে না।

মরুভূমিতে ১২০০ বছর আগের মসজিদ আবিষ্কার

ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করলেন ১২০০ বছর আগে গড়ে তোলা একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ। বিশ্বের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমির রাহাত শহরে মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়েছে
বেদুঈনদের শহর রাহাতে মসজিদটি পাওয়া যায়। ইসরায়েল সরকারের পুরাকীর্তি বিভাগ জানায়, সেখানে ভবনের নির্মাণকাজের সময় মাটি খুঁড়ে এর অস্তিত্ব মিলেছে।
ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে মসজিদটির অস্তিত্ব মিলেছে
ধারণা করা হচ্ছে, সপ্তম কিংবা অষ্টম শতকে ইসরায়েলে ইসলামের আগমনের পর দেশটিতে প্রথম যেসব মসজিদ স্থাপিত হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। 
খনন কাজের পরিচালক জন সেলিগম্যান ও শাহার জুরের মন্তব্য, বিশ্বের যেকোনও দেশের প্রেক্ষাপটে এই মসজিদ বিরল এক আবিষ্কার।
মাটি খুঁড়ে পাওয়া মসজিদে নামাজ পড়ছেন স্থানীয়রা
গবেষকদের বিশ্বাস, স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষ মসজিদটিতে ইবাদত করতেন। এখন স্থানীয়রা সেখানে নামাজ আদায় করেন।
এ মসজিদের উপরিভাগ ছিল খোলা। এর আকৃতি আয়তক্ষেত্রাকার। এতে একটি অর্ধবৃত্তাকার কুলুঙ্গি ছিল। এগুলো দেখে অনুমান করা হয়, একহাজারেরও বেশি বছর আগে এটি নামাজের জন্য ব্যবহার হতো।
>>>সূত্র: বিবিসি

চাঁদে আটকা পড়ে যাওয়া অবিনশ্বর ‘ওয়াটার বেয়ার’ আসলে কী?

পৃথিবীর যেসব প্রাণীকে অমর বললেও ভুল হয় না, সেরকম কিছু প্রাণীকে এখন চাঁদের বাসিন্দা বলা যেতে পারে।

টার্ডিগ্রেডস - যাদেরকে ‘ওয়াটার বেয়ার’বা পানির ভাল্লুকও বলা হয়, এক মিলিমিটারের চেয়ে কম দৈর্ঘ্যের প্রাণী যারা ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলেও যেমন টিকে থাকতে পারে, তেমনি শুণ্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় জমিয়ে ফেললেও তাদের বেঁচে থাকতে খুব একটা কষ্ট হয় না।

ইসরায়েলের একটি মহাকাশযানে করে তারা চাঁদে পৌঁছায়, যেটি চন্দ্রপৃষ্ঠে ভেঙে পড়ে। আর ওই ওয়াটার বেয়ারগুলোকে যেই প্রতিষ্ঠান মহাকাশযানে রেখেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতার দৃঢ় বিশ্বাস যে তারা ওই দুর্ঘটনার পর এখনও বেঁচে রয়েছে।

ওয়াটার বেয়ারগুলোকে আদ্রতাশুণ্য করে এমনভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয় যেন তাদের সহজেই পুনরুজ্জীবিত করা যায় এবং তারপর সেগুলোকে কৃত্রিম অ্যাম্বারের মধ্যে রাখা হয়।

আর্চ মিশন ফাউন্ডেশনের প্রধান নোভা স্পিভ্যাক বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, টার্ডিগ্রেডগুলোর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক।’

মানুষের জ্ঞান এবং পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহে তারা পাঠায়, যেন পৃথিবীর সকল প্রাণী হঠাৎ বড় কোন বিপর্যয়ের মুখে পড়লে সেগুলো একেবারে হারিয়ে না যায়।

বেরেশিট রোবট ল্যান্ডার তাদের 'লুনার লাইব্রেরি' নিয়ে যাত্রা করে চাঁদের উদ্দেশ্যে। এই লুনার লাইব্রেরিকে একটি ডিভিডি'র সাথে তুলনা করা যায়, যার মধ্যে পৃথিবীতে মানুষের ইতিহাসের ৩ কোটি পৃষ্ঠার একটি সংকলনের পাশাপাশি মানুষের ডিএনএ'র আর্কাইভও রয়েছে।

আর ওই যাত্রায় এই লাইব্রেরির সাথে ছিল আর্দ্রতাশুণ্য টার্ডিগ্রেডগুলো। অধিকাংশ প্রাণীকেই একবার পানিশুণ্য করে ফেলার পর তাকে আর পুনরায় জীবিত করা সম্ভব হয় না, কিন্তু এই ওয়াটার বেয়ারগুলো এই ক্ষেত্রে ভিন্ন।

ওয়াটার বেয়ারগুলোর আরেকটি মজার নাম হলো ‘মস পিগলেট’ বা শৈবাল শূকরছানা। আর্দ্রতাশুণ্য অবস্থায় কয়েক দশক থাকার পরও এগুলোকে জীবিত করা সম্ভব হয়। বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন, এটি টার্ডিগ্রেডদের একটি সুপার পাওয়ারই বলা চলে।

শুকিয়ে যাওয়ার পর এরা মাথা এবং আটটি পা অনেকটা শরীরের ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়ে ছোট একটি বলে রূপান্তরিত হয় এবং এমন একটি অবস্থায় যায় যার সাথে মৃত্যুর তুলনা করা যেতে পারে।

তারা তখন শরীরের প্রায় সব পানি ঝরিয়ে ফেলে এবং তাদের মেটাবলিজম স্বাভাবিক হারের প্রায় ০.০১ ভাগ হারে চলতে থাকে। আর কয়েক দশক পর পানি পেলে তারা আবার পুনর্জন্ম লাভ করতে সক্ষম হয়।

আর্চ মিশনের লুনার লাইব্রেরির জন্য তাদেরকে যোগ্য প্রার্থী মন করার আরেকটি কারণ, ২০০৭ সালে মহাকাশে টিকে থাকা একমাত্র প্রাণী ছিল এই টার্ডিগ্রেড।

‘টার্ডিগ্রেড এই লাইব্রেরির জন্য শ্রেষ্ঠ কারণ তারা অতি ক্ষুদ্র, বহুকোষী এবং পৃথিবীর বুকে থাকা সবচেয়ে টেকসই প্রজাতির প্রাণীগুলোর মধ্যে একটি’, বলেন নোভা স্পিভ্যাক।

চন্দ্রপৃষ্ঠে দুর্ঘটনার পরও ওয়াটার বেয়ারগুলো বেঁচে থাকলেও তাদের সেখানে উপস্থিতি কিছুটা শঙ্কায়ও ফেলছে বৈজ্ঞানিকদের।

‘এর অর্থ হলো চাঁদের যে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি পরিবেশ ছিল, তা পরিবর্তিত হয়ে গেল’, জানান ওপেন ইউনিভার্সিটির গ্রহ ও মহাকাশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক মনিকা গ্রেডি।

কোন মহাকাশ যখন পৃথিবী ত্যাগ করে, তখন ‘আউটার স্পেস ট্রিটি'র মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ থাকে যেন তারা মহাবিশ্বের পরিবেশকে কোনভাবে সংক্রমিত না করে।

‘আপনি বলতে পারেন যে নিল আর্মস্ট্রং এবং বাজ আলড্রিন যখন সেখানে গেলেন, তারাও এই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন। সেটি আংশিক সত্য। কিন্তু তারপর থেকে মহাকাশের বাইরের এসব অঞ্চলকে কীভাবে সংরক্ষিত রাখতে হয়, সেবিষয়ে আমরা আরো অনেক কিছু জানতে পেরেছি।’

‘আমার মনে হয় না চাঁদের পৃষ্ঠে আর্দ্রতাহীন টার্ডিগ্রেড ছাড়ার অনুমতি কেউ পেত, সেই হিসেবে এটি খুব একটা ভাল বিষয় নয়।’

টার্ডিগ্রেডগুলো যদি চাঁদে থাকে, তাহলে পানি ছাড়া তাদের আবারো পুনর্জীবিত থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

কিন্তু তত্বগতভাবে হিসেব করলে, এই টার্ডিগ্রেডগুলোকে আবার পৃথিবীতে ফেরত এনে পুনরুজ্জীবিত করে গবেষণা চালিয়ে বোঝা সম্ভব যে চাঁদে থাকার কারণে তাদের মধ্যে কী পরিবর্তন এসেছে।

কাজেই আপনি এখন চাঁদের দিকে তাকালে ভাবতেই পারেন যে, আপনার দিকে হাজার হাজার (পানিশুণ্য) ওয়াটার বেয়ার তাকিয়ে রয়েছে। সূত্র : বিবিসি

বাধার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-শ্রীলংকা সামরিক সমঝোতা by মারওয়ান মাকান-মার্কার

ভারত মহাসাগরে মার্কিন সরকারের নতুন সামরিক পরিকল্পনা শ্রীলংকায় বাধার মুখে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দেশটিকে ভারত, চীন ও জাপানও নিজেদের প্রভাব বলয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শ্রীলংকার স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট চুক্তি রয়েছে, যেটা প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৫ সালে। এই চুক্তির অধীনে লজিস্টিক্স সহায়তা নেয়ার জন্য শ্রীলংকায় প্রবেশের সুবিধা রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর। কিন্তু সোফা’র অধীনে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন সামরিক সহযোগিতা চুক্তি করার চেষ্টা করছে, যেখানে সফরকারী মার্কিন সেনাদের জন্য অনেক ধরনের সুরক্ষা ও সুবিধার উল্লেখ রয়েছে, সেই চুক্তিটি কড়া যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েছে।

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গের জন্য এটা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যিনি শ্রীলংকার চরম বিভাজিত ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে আমেরিকা-পন্থী অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথা নত করে দিয়েছেন।

এমনকি কলম্বোর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কর্মকর্তারাও বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, যে সব শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক চুক্তির ব্যাপারে দর কষাকষি চলছে, সেগুলো মেনে নিলে শ্রীলংকা ভবিষ্যতে ‘সামরিক প্রতিযোগিতার’ মধ্যে ঢুকে পড়বে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিক্কি এশিয়ান রিভিউকে বলেন, “এ অঞ্চলে ভবিষ্যতে কোন উত্তেজনা তৈরি হলে সেখানে যে কোন এক পক্ষ নিয়ে বসে থাকাটা আমাদের পক্ষে সঠিক হবে না, কারণ সেটা আমাদের কূটনৈতিক পরিসরকে সংকীর্ণ করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সোফা চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হলে চীন, ভারত ও এমনকি রাশিয়ার মতো আমাদের মিত্ররাও আমাদের সাথে এ ধরনের চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী হবে। আমরা কি তাদের না বলে দেবো?

এই মনোভাবের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় যে, তিন দশকের গৃহযুদ্ধের সময় শ্রীলংকা বিদেশী সামরিক সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে যেই অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে তারা সরে এসেছে। ২০০৯ সালের মে মাসে ওই গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। ভারত, পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় মতপার্থক্যগুলো সরিয়ে রেখে তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে শ্রীলংকান সেনাদের সাহায্য করেছিল।

শ্রীলংকায় গত এক দশকে যে প্রায় ৫০০ যুদ্ধজাহাজ সফর করেছে, এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত, জাপান আর চীনের নৌযানগুলো। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলংকান নৌ শক্তিকে বাড়িয়ে দিতে তাদেরকে টহল বোট, কোস্ট গার্ড কাটার এবং ফ্রিগেট সরবরাহ করেছে।

কিন্তু ভবিষ্যতে নৌ সফরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শর্তগুলো বদলে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টার কারণেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদী মহলে এমন ধারণা রয়েছে নতুন চুক্তিটি হলে ওয়াশিংটন শ্রীলংকায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ পেয়ে যাবে। আইনজীবীরা এই যুক্তিতে চুক্তির বিরোধিতা করছেন যে, এর মাধ্যমে মার্কিন সেনারা অস্বাভাবিক সুবিধা পাবে। মিডিয়া ভাষ্যকাররা এই প্রশ্ন তুলছেন যে, মার্কিন প্রাইভেট সামরিক ঠিকাদারদেরকে কেন কূটনৈতিক ছাড় দেয়া হচ্ছে।

সোফা নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে আরেকটি সামরিক চুক্তি হয়েছিল, যেটার নাম অ্যাকুইজিশান অ্যান্ড ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট, যেটা আগের আকসা চুক্তির মেয়াদ শেষের পর দুই দেশ ২০১৭ সালে স্বাক্ষর করেছিল। আকসা প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ২০০৭ সালে, যে চুক্তির অধীনে শ্রীলংকায় সামরিক নৌযান সফরের সুযোগ ছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো আরেকটি কারণ যে জন্য দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। কারণ অকার্যকর শাসনের রেকর্ডের কারণে জণগণের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সে অবস্থায় কোয়ালিশন সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

শ্রীলংকায় চীনের বহু বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প এবং দ্বীপরাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন এখানে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়, কারণ তাদের পরিকল্পনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত তাদের প্রভাব বলয় বিস্তৃত করা। কলম্বোর পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, শ্রীলংকায় চীনের সম্প্রসারণশীল অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও শ্রীলংকার সাথে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

>>>মারওয়ান মাকান-মার্কার

ভাড়ায়চালিত বাইকে মেয়েরা কতটা নিরাপদ by মরিয়ম চম্পা

দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন অনেকে অ্যাপ ভিত্তিক ভাড়ায় চালিত মোটরবাইকে চলাচল করছেন। ভাড়ায় মোটরবাইক চালাচ্ছেন অনেক নারী রাইডারও। এছাড়া সাধারণ বাইকারদের বাইকেও যাতায়াত করছেন অনেক নারী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মারা যান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্য। তিনি ভাড়ায় চালিত একটি মোটরবাইকে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন। তার এমন মৃতুর পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নারীদের এভাবে মোটরবাইকে চলাচল কতোটা নিরাপদ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারীদের গণপরিবহনে চলাচল করা এমনিতে নানা কারণে অনিরাপদ। মোটরবাইকে চলাচলটা আরও অনিরাপদ।
সংশ্লিষ্টদের মতে শুধু নারী না, নিয়ম কানুন না থাকায় ভাড়ায় চালিত মোটরবাইকে চলাচল অন্য যাত্রীদের জন্যও তেমন নিরাপদ না। কারণ চালকদের অনেকের প্রশিক্ষণ নেই। অনেকে রাজধানীর সড়ক সম্পর্কে যথেষ্ট পরিচিত নয়।
ব্র্যাকের করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ১৯ শতাংশ প্রাণ যায় বাস বা অন্য যানের যাত্রীদের। মোটরসাইকেল বা থ্রী হুইলার আরোহী মারা যান ১৬ শতাংশ। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত হওয়া দুর্ঘটনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সড়ক দুর্ঘটনা ইনস্টিটিউট (এআরআই) বলছে, ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া মনোভাব দায়ী। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, এখানে সামাজিক নিরাপত্তার কোনো সমস্যা নেই বলে মনে করছি। রোড সেফটির প্রশ্নে মোটরসাইকেলের যাত্রীর জন্য বড় বিষয় হচ্ছে হেলমেট। এক্ষেত্রে যাত্রী যেন মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করে। হেলমেটের ভেতরে যেন অবশ্যই কোশন থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক বলেন, ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে প্রথম দিকে আমরা এই ধরনের পরিবহনগুলোকে স্বাগত জানিয়েছি। পাঠাও অথবা উবারের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরামদায়কভাবে ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনো সম্ভব। কিন্তু দুঃখের বিষয় এগুলো যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে  বিশেষ করে রাজধানীতে মেয়েদের পরিবহন হিসেবে আমাদের সমাজ এটাকে ওভাবে সমর্থন করেনা। পাশাপাশি রোড সেফটিরও একটি বিষয় থেকে যায়। আমরা সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো দেখছি তারই প্রেক্ষিতে বলতে চাই এসব পরিবহনকে অবশ্যই মনিটরিং এর মধ্যে আনতে হবে। গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, মোটরসাইকেলে চড়ে যাত্রী যাতায়াতের ব্যবস্থা এটা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। এটা কোনো নিরাপদ বাহন হতে পারে না। পরিবহন চালক হিসেবে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে যেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে না। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, মহাসড়কে ১০টি মোটরসাইকেল একটি বাসের সমান জায়গা দখল করে। ১০টি মোটরসাইকেলে যাত্রী নেয় ১০ জন। আর একটি বাসে যাত্রী নেয় ৬০ জন। রাজধানীতে সড়কে জায়গার অভাব থাকা সত্ত্বেও আমরা মোটরসাইকেল দিয়ে সারা ঢাকা শহর ভরে ফেলেছি। যেখানে কিছু সংখ্যক বাস দিয়ে এই যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যায়। আমি মনে করি, মোটরসাইকেলে মেয়েদের যাতায়াতে নিরাপত্তাতো নেইই। পাশাপাশি ছেলেদের জন্যও এটা ঝুঁকিপূর্ণ। যদি সাময়িকভাবে মোটরসাইকেলকে গণপরিবহন হিসেবে রাখা হয় সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম মনে করেন নানা কারণেই ভাড়ায় চালিত সাধারণ বাইকে মেয়েদের যাতায়াত নিরাপদ নয়। এ কারণে তাদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেশি।

পাসপোর্টের ফিঃ সর্বোচ্চ ১২০০০ ও সর্বনিম্ন ৩৫০০ টাকা by দীন ইসলাম

বাড়লো পাসপোর্টের ফি। বর্তমানে জরুরি ফি ভ্যাটসহ ৩৪৫০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ভ্যাটসহ ৬৯০০ টাকা। তবে ভ্যাট ছাড়াই ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)- এর সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ফি তিন হাজার পাঁচশ’ টাকা  নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ মার্কিন ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ১০০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ মার্কিন ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ৩০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। সবক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার হবে। পৃষ্ঠা অনুযায়ী আলাদা ফি নির্ধারণ করে গত ১লা আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। পরিপত্রে সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি এ তিনভাবে ই-পাসপোর্টের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি কাগজপত্র সত্যায়নের ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ি বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১০৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২০০০ টাকা। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য্য করা হয়েছে।

এদিকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ৪৫ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য্য করা হয়েছে। পরিপত্রে ই-পাসপোর্টের ফর্ম পূরণের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইন এ পূরণ করা যাবে। এছাড়া পিডিএফ ফরম্যাট ডাউনলোড করে যে কোন কম্পিউটারে ফরমটি পূরণ করা যাবে। ই-পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া কোন ছবি সংযোজন করা এবং তা সত্যায়ন করার দরকার হবে না। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ি পূরণ করতে হবে। তবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারি যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নাই, তাঁর পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে ১৮ বছরের নীচে হলে জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি), ১৮ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) এবং ১৮ বছরের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবশ্যই লাগবে। তবে ১৮ বছরের নিচে সব আবেদনকারীর ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এতে বলা হয়েছে, টেকনিক্যাল সনদগুলো (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও ড্রাইভার) আপলোড করতে হবে। এছাড়া এনওসি, জিও, প্রত্যয়নপত্র, পেনশন বই অবশ্যই আপলোড করতে হবে। ইস্যুকারি অথরিটি তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে এটা আপলোড করতে হবে।

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রয়াত্ব কর্পোরেশনের স্থায়ী কর্মচারি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি ও তাদের নির্ভরশীল স্ত্রী বা স্বামী এবং সরকারি চাকুরীজীবিদের ১৫ বছরের কম বয়সের সন্তান সাধারণ ফি জমা দিয়ে অতি জরুরি সুবিধা পাবেন। দেশে পাসপোর্টের ফি জমা দিলে নির্ধারিত ভ্যাট এবং বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক সারচার্জসহ নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার এন্ড ওয়েলফেয়ার উইং বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। বৈদেশিক মিশন থেকে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশে যোগাযোগের ঠিকানা থাকতে হবে। অতি জরুরি পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। এতে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭২ ঘন্টা বা তিন দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। দেশের অভ্যন্তরে জরুরি পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে।

দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট পেতে আবেদনের সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে অন্যান্য সব তথ্য ঠিক থাকলে ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। জরুরি পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। রেগুলার পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে কোন অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন বা ছবি পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতির দরকার নেই। রিইস্যুর ক্ষেত্রে যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট ইস্যুকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হওয়ার দরকার হতে পারে। কোন ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর পাসপোর্ট বাতিলের জন্য নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস বা বাংলাদেশ মিশনে জমা দিতে হবে। বাতিল করা পাসপোর্ট আবেদনের ভিত্তিতে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারদের কাছে ফেরত দেয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সহসাই ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই ই-পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তখন থেকেই পরিপত্র অনুযায়ি কাজ করবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।