Thursday, August 5, 2010

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন ২০১২ সাল থেকে

দেশের ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ জন্য সময় নির্ধারণ করেছে ২০১২ সাল।
২০১২ সাল থেকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সর্বশেষ রীতিনীতি অনুসরণ শুরু হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ লক্ষে গত সোমবার দেশের ২৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সার্কুলার জারি করেছে। এই সার্কুলারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যাসেল-২ বাস্তবায়নের পথ নকশা প্রদান করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে যে ইতিমধ্যে দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাসেল বাস্তবায়ন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখন চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রয়োগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খসড়া দিকনির্দেশনা প্রস্তুত করা হবে।
খসড়া দিকনির্দেশনা প্রস্তুত হওয়ার পর আগামী বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষামূলকভাবে বিবরণী দাখিল শুরু করতে হবে।
এক বছর ধরে পরীক্ষামূলক এই বিবরণী দাখিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো হবে। এই কাজে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধনও করা হবে।
পরীক্ষামূলক সময়কালে চিহ্নিত অসঙ্গতি বা সমস্যা নিরসন করে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। আর ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সার্কুলার আকারে প্রকাশ করা হবে।
এরপর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চূড়ান্তভাবে ব্যাসেল-২ দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিবরণ দাখিল শুরু করবে। সে অনুযায়ী তাদের মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ ঝুঁকির জন্য প্রমিত পদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ডাইজড অ্যাপ্রোচ), বাজার ঝুঁকির জন্য প্রমিত বিধিভিত্তিক পদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ডাইজড রুল বেজড অ্যাপ্রোচ) এবং পরিচালনগত ঝুঁকির জন্য মৌলিক নির্দেশক পদ্ধতি (বেসিক ইন্ডিকেটর অ্যাপ্রোচ) মেনে ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন করবে।
আর ২০১৫ সালের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রসর পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবে বলে পথ নকশায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত ব্যাসেল-২ হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজির পর্যাপ্ততার ন্যূনতম মান নির্ধারক। ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টের (বিআইএস) আওতায় ব্যাসেল কমিটি অন ব্যাংক সুপারভিশন আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য একগুচ্ছ নিয়ন্ত্রণবিধি প্রণয়ন করে যা ব্যাসেল-১ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে তা সংশোধন ও হালনাগাদ করে ব্যাসেল-২ করা হয়।
ব্যাসেল-১ বিধিতে ঋণের ঝুঁকির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর ব্যাসেল-২ বিধিতে বিনিয়োগ ও ঋণের বিপরীতে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় ন্যূনতম কী হারে কী পরিমাণ পুঁজি সংরক্ষণ করতে হবে, তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আজ সাধারণ সূচক বেড়েছে ৪৭.৬৭ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ বুধবার সাধারণ সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। বেলা তিনটার সময় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ৪৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৩১ পয়েন্টে। আজ মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৮০ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ছয় কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও সামিট পাওয়ার।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো জেমিনি সি ফুড, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, পদ্মা সিমেন্ট, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স ও সাইহাম টেক্সটাইল।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো দেশ গার্মেন্টস, সমতা লেদার, বিচ হ্যাচারিজ, এইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও মুন্নু জুট স্টাফলারস।

মরগান-প্রিয়রে মুগ্ধ ফ্লাওয়ার

অ্যান্ডারসন-ফিনদের বোলিং সাফল্যের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে মরগান-প্রিয়রের ব্যাটিং সাফল্য। ট্রেন্টব্রিজে পাকিস্তানকে ৩৫৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর বেশি মাতামাতি হয়েছে ইংলিশ পেসারদের নিয়েই। কিন্তু এউইন মরগান ও ম্যাট প্রিয়রকে প্রাপ্য কৃতিত্বটা ঠিকই দিয়েছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ট্রেন্টব্রিজের দুই সেঞ্চুরিয়ানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ড কোচ।
‘দুটো ইনিংসই ছিল অসাধারণ। মরগান পরিস্থিতির সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছিল। শুরুতে বল সুইং করছিল, তখন সে দেখেশুনে খেলেছে। বিকেলে স্পিন আসার পর আবার চালিয়ে খেলেছে। এটাকে বলা যায় একটা পারফেক্ট টেস্ট ইনিংস। প্রিয়রের ইনিংসটাও ছিল দুর্দান্ত। সত্যি বলতে, এটাই আমার দেখা প্রিয়রের সেরা ইনিংস’—প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন ফ্লাওয়ার।
ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে দুই অঙ্কের আগেই থেমে গেছে ২৬টি ইনিংস, ৫০ পার হতে পেরেছেন মোটে চারজন। এমন বোলিং সহায়ক কন্ডিশনে দুজনের সেঞ্চুরিটাকে বিশেষ অর্জনই বলতে হবে। দুটি সেঞ্চুরিই এসেছে দলের দারুণ প্রয়োজনের সময়। দারুণ টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড ১১৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এরপর কলিংউডের সঙ্গে মরগানের ২১৯ রানের জুটি প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। কিছুদিন আগেও যাঁর টেস্ট খেলার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল, সেই মরগান করেন ১৩০। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রিয়র যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, ইংল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ৭২। ম্যাচে তখনো ভালোমতোই ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচটাকে পাকিস্তানের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায় প্রিয়রের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।
যাঁর চোটের কারণে এই সিরিজে খেলতে পারছেন মরগান, সেই ইয়ান বেল মরগানের রান পাওয়াটাকে দেখছেন দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই। দ্য সানকে বেল বলেছেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতিটা দলের জন্য ভালো। এউইন অসাধারণ খেলছে, ও দারুণ একজন তরুণ ক্রিকেটার। ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। চোটের কারণে দু-একজন বাইরে চলে যাওয়ায় তাদের বদলে ঢুকে কেউ যদি ভালো করে, তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।’
শুক্রবার এজবাস্টনে শুরু হচ্ছে চার ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ট্রেন্টব্রিজের দলটিকেই অপরিবর্তিত রেখেছে ইংল্যান্ড।

মাচেরানোর মুখেও শান্তির বারতা

কার্লোস বিলার্দোর পর এবার শান্তির সাদা পতাকা ওড়ালেন হ্যাভিয়ের মাচেরানো। ‘ম্যারাডোনার জন্য আর্জেন্টিনার দরজা খোলা’—বিলার্দোর এমন শান্তি-প্রস্তাবের পর দলের অধিনায়ক মাচেরানো বলেছেন, সবাইকে বসে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। আলোচনাই সব সমস্যার শ্রেয়তর সমাধান।
বিলার্দো, ম্যারাডোনা আর গ্রন্দোনাকে এক টেবিলে দেখার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে মাচেরানো বলেছেন, ‘এঁরা প্রত্যেকেই অনেক বড় মাপের মানুষ। বিষয়টির সমাধান সেভাবেই করা উচিত। সবকিছু যদি একসঙ্গে মিলে সমাধান করা যায়, সেটিই আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য মঙ্গল।’
বিশ্বকাপের পর ঘটনাবহুল বেশ কিছু দিন পার করেছে আর্জেন্টিনা। প্রায় প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রে থাকছে দেশটির ফুটবল। তবে এই প্রথম মুখ খুললেন দলটির অধিনায়ক। মাচেরানো জানালেন, মুখ হয়তো বন্ধই রাখতেন। কিন্তু বাধ্যই হলেন প্রকাশ্যে নিজের কিছু কথা বলতে, ‘বিশ্বকাপে ৩৫টি দিন একসঙ্গে দুর্দান্তভাবে কাটানোর পর শেষটা হয়েছিল ব্যথা আর দুঃখ দিয়ে। তবে শুনলাম, কেউ কেউ বলছেন, আমাদের মধ্যে নাকি অন্তঃকলহ ছড়িয়ে পড়েছিল। বাস্তবতা হলো, দলে সামান্য সমস্যাও ছিল না। বয়সভিত্তিক দলসহ অনেক বছর হয়ে গেল আর্জেন্টিনার ফুটবলে খেলছি আমি। সত্যি বলছি, এ রকম বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ দলের মধ্যে খুব কমই ছিল। মুখ তাই বন্ধ রাখতে পারলাম না। ডিয়েগো আমাকে অধিনায়ক বানিয়েছিলেন। আমাকে তাই কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করতেই হবে।’
আর্জেন্টিনা ফুটবলে এখন স্পষ্ট দুটো বিভাজন—ম্যারাডোনার পক্ষে আর বিপক্ষে। বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের একটা অংশ নাকি ম্যারাডোনার কর্তৃত্বও চ্যালেঞ্জ করে বসেছিল। মাচেরানো জানালেন, ‘এসবই ডাহা মিথ্যা। আমরা ডিয়েগোকে সম্মান করিনি, এটার মধ্যে সামান্য সত্য নেই। ডিয়েগোকে সমর্থন করেছি কি না, সেটি তো আর মাইক্রোফোন হাতে চিৎকার করে বলার দরকার নেই। মাঠে এবং অনুশীলনে সেটি বুঝিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। দলের প্রত্যেকে সেটাই করেছে।’
আর্জেন্টিনা ফুটবলে প্রতিভার কোনো অভাব ছিল না। তার পরও গত ২৪ বছরে কেন বিশ্বকাপ জিততে পারেনি দলটি? মাচেরানো মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবই মূল কারণ, ‘আমাদের সবকিছু ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। মূল বিষয়টিই হলো একটা দীর্ঘ পরিকল্পনা। আমাদের আগে লক্ষ্য স্থির করতে হবে, এরপর দেখতে হবে, সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য সবচেয়ে যোগ্য কোচ কে। পরিকল্পনার বিকল্প নেই। দেখুন, স্পেন তো আর এমনি এমনি ইউরো আর বিশ্বকাপ জেতেনি।’
গ্রন্দোনাকে নিজের ভাবনাগুলো পৌঁছে দেবেন বলেও জানালেন। বললেন, ২০১৪ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে এখনই গোছাতে হবে দল, ‘আমি হুলিওর সঙ্গে কথা বলব। দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। এই দলটায় বড় পরিবর্তন আনা চলবে না। আমাদের একদম গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। এখন যেভাবে চলছে, সেভাবেই যদি চলে, তাহলে ব্রাজিলে (২০১৪ সালে) সেটি হবে দেয়ালে মাথা ঠোকার শামিল।’

চীন যাওয়ার সুযোগে ওরা খুব খুশি

কোচ সুবিমল চন্দ্রের ফোনে চমকেই গিয়েছিল নড়াইল রূপগঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী শারমিন সুলতানা। ঢাকা থেকে কোচ যখন বললেন, ‘তোমার পাসপোর্ট ও ছবি লাগবে, চীনে যাচ্ছ তুমি।’ অনেকক্ষণ পর বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে ওঠা শারমিন বুঝতে পারল আগামী নভেম্বরে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ মিলেছে।
শুধু শারমিনই নয়, জুহি চাকমা, শাহীন আরা বৃষ্টি, রূপালী আক্তার হেনা ও শাহনাজ পারভীন মালেকারাও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই ইভেন্টে খেলবে বাংলাদেশ। অথচ অনেক আগেই মহিলা কাবাডি দলের চীনে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ)। কিন্তু সেটা হয়নি। অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত সব ইভেন্টের খেলোয়াড়দের নাম পাঠানোর মাসখানেক পর এন্ট্রি পাঠায় বিওএ।
ঢাকায় গত দক্ষিণ এশীয় গেমসে রুপা জিতে চীনে যাওয়ার পথটা প্রশস্তই করে রেখেছিল মেয়েরা। অথচ নানা জটিলতার কারণে তাদের ছাড়াই চীনে নাম পাঠানো হয় অন্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের। মহিলা কাবাডি দলের অধিনায়ক শাহনাজ পারভীন মালেকা কষ্ট পেয়েছিলেন এটা শুনে, ‘যখন প্রথমে শুনলাম আমরা যেতে পারব না, তখন খুব খারাপ লাগছিল। পরে অবশ্য চীনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন করে অনুশীলন শুরু করছি।’ এশিয়ান গেমসের জন্য আগামী মাসে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করবে বিওএ। কিন্তু আনসারের হয়ে খেলা শাহনাজ নিয়মিতই তাঁদের একাডেমিতে সকাল-বিকেল অনুশীলন করে চলেছেন। জামালপুরের নান্দিনা জান্নাত আফসার মহিলা কলেজের ছাত্রী রূপালী একা একা অনুশীলন করেন জামালপুর স্টেডিয়ামে। একই সঙ্গে রেইড ও ক্যাচারে সমান পারদর্শী রূপালী স্বপ্ন দেখেন এশিয়ান গেমসে রুপা জেতার। ‘আমরা জানি, ওখানে ভারতই সবচেয়ে কঠিন দল। তবে আমরা এসএ গেমসের মতো নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে রুপা জিততে পারি।’ বললেন রূপালী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় যুব কাবাডিতে যেতে পারেননি বলে মন খারাপ হয়েছিল জুহির। কিন্তু এবার যখন শুনলেন এশিয়ান গেমসে সুযোগ পাচ্ছেন খুবই খুশি হয়েছেন এই কিশোরী, ‘আমার তো খুবই ভালো লাগছে। চীনে আমরা নিজেদের সেরাটা খেলতে চাই।’
এর আগে ২০০৫ সালে হায়দরাবাদে ও ২০০৮ সালে তামিলনাড়ুতে এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ হয়েছিল মেয়েদের দল। কিন্তু এবার প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে কতদূর যেতে পারবে তারা? প্রায় এক বছর ধরে এই দলটিকে হাতে গড়া কোচ সুবিমল চন্দ্র জানালেন, ‘এই দলে শাহনাজ, শাহীন আরা, ফাতেমা আক্তার শীলা, হাসনা মরিয়মদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আমি ওদের সেভাবেই তৈরি করেছি। ইরান, থাইল্যান্ডের মতো দলকে হারাতে পারলে রুপা জেতা অসম্ভব কিছু নয়।’

স্পেন-হল্যান্ডের জরিমানা

তীরে গিয়ে তরী ডোবার দুঃখটা কি হল্যান্ড এত দিনে সামলে উঠেছে? না উঠলেও এর মধ্যেই আরেকটা ধাক্কা সইতে হচ্ছে তাদের। বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতিবাচক ফুটবল খেলার জন্য গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তবে জরিমানা শুধু হল্যান্ডকেই গুনতে হচ্ছে না, হল্যান্ডের সঙ্গে ফিফা জরিমানা করেছে চ্যাম্পিয়ন স্পেনকেও।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-জার্মানি ফাইনালে ৬টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। এত দিন সেটিই হয়ে ছিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি কার্ডময় ফাইনাল। সেটাকে টপকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের স্পেন-হল্যান্ড ফাইনালটি। রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব দুই দলের খেলোয়াড়দের দেখিয়েছেন ১৫টি কার্ড। ওই ম্যাচে হল্যান্ডের নাইজেল ডি ইয়ং স্পেনের জাবি আলোনসোকে ‘কুংফু স্টাইলের কিক’ও মেরেছেন। পুরো ম্যাচে ছিল এমনই কিছু কুৎসিত ট্যাকলের নজির।
সব মিলিয়ে এবারের ফাইনালটিকে ফুটবল-চেতনার পরিপন্থী মনে হয়েছে ফিফার। তবে হল্যান্ডই যেহেতু বেশি নেতিবাচক খেলেছে, তাই তাদের জরিমানার অঙ্কটাও বেশি—৯০৮০ পাউন্ড। আর বিশ্বকাপ শিরোপার সঙ্গে ফেয়ার প্লে পুরস্কার জেতা স্পেনকে জরিমানা গুনতে হচ্ছে ৬০৫৩ পাউন্ড।

ফিরেই ‘প্রথম’ গ্যাটলিন

ডোপ পাপের দায়ে চার বছরের নির্বাসন শেষে মাত্রই ফিরেছেন। আর ফিরে ট্র্যাকে তাঁর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দৌড়েই প্রথম হয়েছেন জাস্টিন গ্যাটলিন। এস্তোনিয়ার খুবই অখ্যাত একটা মিট দিয়েই অবশ্য শুরু করেছেন। কাল ১০০ মিটারের হিটে ১০.৩৪ সেকেন্ড টাইমিং দিয়ে শুরু হয়েছে মার্কিন স্প্রিন্টারের। এখানে ফাইনালে টাইমিংটা ১০ সেকেন্ডের নিচে নামিয়ে আনতে চান। শুরুটা দেখে মনে হয়েছে, সেটি অসম্ভব কিছু নয়। ২০০৪ অলিম্পিকে সোনাজয়ী গ্যাটলিনের মূল লক্ষ্য ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক। যদিও এই ২৮ বছর বয়সী প্রধান প্রধান মিটগুলোতে ডাক নাও পেতে পারেন। কারণটা তাঁর বিতর্কিত অতীত। ডোপ নেওয়ার দায়ে ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি

ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প

২১ খেলোয়াড়কে নিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। এটি চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বেলা আড়াইটায় জাতীয় দলের সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
ডাক পেয়েছেন যাঁরা: মোহাম্মদ আশরাফুল, রকিবুল হাসান, মেহরাব জুনিয়র, নাঈম ইসলাম, অলক কাপালি, শাহরিয়ার নাফীস, শাহাদাত হোসেন, এনামুল হক, মাহবুবুল আলম, ডলার মাহমুদ, নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ সোহ্রাওয়ার্দী, তালহা যুবায়ের, রবিউল ইসলাম, সগীর হোসেন, ফরহাদ হোসেন, সাকলাইন সজীব, শামসুর রহমান, ইলিয়াস সানি, মার্শাল আইয়ুব ও কামরুল ইসলাম।

দাবার নাম ভাঙিয়ে জালিয়াতির চেষ্টা

দাবা ফেডারেশনের অজান্তে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ করেছে খোদ দাবা ফেডারেশনই। শুধু অভিযোগ নয়, পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে।
সাধারণ ডায়েরিতে দাবা ফেডারেশনের সম্পাদক মোকাদ্দেছ হোসাইন অভিযোগ করেছেন, ‘কিছু লোক জালিয়াতির মাধ্যমে খেলোয়াড় পরিচয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশে আদম পাচারের চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়ের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চারজনের নামে আমন্ত্রণপত্র চাওয়া হয় ঢাকা থেকে। এই জালিয়াতচক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ শহিদুল হক নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ঢাকা দাবা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মালয়েশিয়ায় আয়োজকদের কাছে ই-মেইল পাঠান। অথচ ঢাকা দাবা ক্লাব নামে কোনো সংগঠনই নেই। শহিদুল হকের সুনির্দিষ্ট কোনো ঠিকানাও জানা নেই। তাঁর মোবাইলে ফোন করা হলে এই লোকের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে জানানো হয়, তাঁরা ফরিদাবাদে থাকেন। এরপর শামীম নামের এক ব্যক্তি জালিয়াতির ব্যাপারটা স্বীকার করেন ফোনে।’

গ্রামে তো আর ফিরতে পারি না by শর্মিলা সিনড্রেলা

নেত্রকোনার কাকলীতলা নামে ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামেরই এক কোণে একটি দোকান। সেই দোকানে বসে সকাল থেকে রাত অবধি ১২ থেকে ১৪ বছরের ছেলেটি বিক্রি করে চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস। গ্রামে এমন দোকান আর নেই বলে বিক্রিও চলে অবিরত। যখন যার যা দরকার হয় সে তা-ই নিয়ে যায় এই দোকান থেকে যথার্থ দাম দিয়ে। আর সেই বালকটি? তার মনে তো সুখের ছোঁয়া। হোক না সারা দিনের কাজ, কিন্তু আয় তো কম হচ্ছে না। আর গ্রামের স্বচ্ছ-সুন্দর পরিবেশে বসে থেকে কাজ করতেও তো কষ্ট হচ্ছে না।
গ্রামের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে দিনভর কাজ করলেও মনে থাকে প্রশান্তি। কিন্তু সেই সুখ আর সইল কোথায়! একটু বেশি বেচাকেনা হয় দেখে দুর্বৃত্তদের নজর পড়ল। ছয়-ছয়বার ডাকাতি হলো বাড়িতে। মমতাময়ী মা ছেলের প্রতি কুদৃষ্টির কথা চিন্তা করে বললেন, ‘যাউক বাবা, আর করণ লাগত না ব্যবসা।’ ব্যস শেষ হলো দোকানদারির পাট। সেই মমতাময়ী মা আর নেই, নেই সেই সুখের জীবনও।
নিজের গ্রামীণজীবনের কথা শোনাচ্ছিলেন নুরুল ইসলাম। চার ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবা বড় শখ করে চার ভাইয়ের নামেই রেখেছিলেন ‘নুরু’ শব্দটি। ‘হ, আমার ছোট ভাইয়ের নাম নুরুল আমিন। তার পরেরটার নাম নুরুজ্জামান। আর সবচেয়ে ছোট ভাইটির নাম নুরুল হক।’ একই ধরনের নাম হওয়ায় সবাই সম্পূর্ণ নাম ধরে ডাকত তাঁদের।
নুরুল ইসলাম তখন খুব ছোট। তাঁর সন্তানহীন ফুপু তাঁকে নিয়ে যান নিজের কাছে, ঈশ্বরগঞ্জে। সেখানেই এক মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন তাঁকে। এরপর কয়েকটা বছর, শুরু হলো যুদ্ধ। ভয়ে মা যেন আর থাকতে পারলেন না। নিয়ে এলেন ছেলেকে নিজের কাছে। ছেলের চিন্তায় মা-বাবা বিভোর। কত দিন আর ছেলে ঘুরবে ইতস্তত। যুদ্ধের সময় কয়েকজন হিন্দু জমি-জায়গা ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন। তাদেরই একটা ঘর মাত্র ৪০০ টাকায় কিনে নিলেন বাবা। তারপর সেখানেই দোকান তুলে দিলেন ছেলেকে। সেই শুরু তাঁর ব্যবসায়িক জীবনের। আর হয়ে ওঠেনি পড়াশোনা।
স্ত্রী রত্নার বাড়ি ছিল কিশোরগঞ্জে। বাবাই সাধ করে বিয়ে দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের এক ছেলে তিন মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে কিন্তু ছোট মেয়েটিকে আর টাকার অভাবে পড়ানো সম্ভব হলো না। ‘যুদ্ধের পর বাবা হইছিল গ্রাম-সরকার। মা তো আগেই মরে গেছিল। বাবাও একসময় আমাগোরে রেখে চলে গেল। কিছু করার জন্য আইলাম ঢাকায়। আমার এক মামাশ্বশুরের বাড়িতে উঠলাম। পরে কাজ নিলাম একটা। একদিন গুলিস্তানে এসে দেখি অনেকে গেঞ্জি বিক্রি করে। গ্রামে বাবাও একসময় গেঞ্জি বিক্রি করত। তাই কিস্তি নিয়ে শুরু করলাম এই কাজ। এহনও তা-ই করছি। ’
‘বাবার জমি-জায়গা কিছু ছিল না। আমিই করছিলাম কিছু জমি। কিছু আমাগো গ্রামে আর কিছু নেত্রকোনা শহরে। আমার ভাইরা আমার গ্রামের জমিটুকু নিয়ে নিয়েছে। আর শহরে যেটুক ছিল ঋণ শোধ করতে তো তাও বেইচ্চা ফালাইছি। এহন তো আমার আর কিছুই নাই। গ্রামেও এহন যাওয়া হয় কম।’ কষ্টে, রাগে, দুঃখে চোখ ভিজে আসে নুরুল ইসলামের।
গুলিস্তানের গোলাপ শাহ্ মাজার থেকে বঙ্গবাজারের দিকে আসতে গেলে বটতলার পাশেই স্যান্ডো গেঞ্জি, মোজা নিয়ে রোজ সকাল আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত বসেন নুরুল ইসলাম। কারও কিছু পছন্দ বা প্রয়োজন হলে কিনে নিয়ে যায়। বিক্রি করতে পেরে একটু খুশি হন নুরুল ইসলাম। কিন্তু দিনশেষে হিসাব যেন মেলে না। সারা দিন ধুলাবালুতে বসে থেকে লাভ হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তা ছাড়া ‘পুঁজিও এখন নাই। রোজ এর-ওর কাছ থেকে ধার করে মাল লয়ে আসি।’ আর সেই প্রশান্তি তো কবেই গেছে।
দুঃখ যেন বাসা বেঁধেছে নুরুল ইসলামের জীবনে। লাভ যত সীমিতই হোক এই কাজ করেই খাচ্ছিলেন নুরুল ইসলাম। কিন্তু সেটাও যেন সইল না। তিনি দিনভর যে চৌকিতে বসে বিক্রি করেন তা রাতে কাজ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় একটা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে যান। কিন্তু কারা যেন শিকলটা চুরি করে নিয়ে গেছে আর ভেঙে রেখে গেছে চৌকিটা।
‘খুব কষ্টে আছি। এহন তো বইসাও কাম করতে পারি না। সারা দিন খাড়ায়া খাড়ায়া বিক্রি করি। চৌকি কিনতে গেলে এখন এক হাজার টাকা লাগব। কোথায় পামু। কোনো টুলও তো নাই আমার কাছে। শরীরটাও ভালা না। ছেলেটা কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করত, সেই কাজটাও নাই। আমাগো দিকে চাওনের মতো কেউই নাই। শুনছি বুড়া লোকদের টাকা দেওয়া হয়। কই, আমি তো পাইতাছি না। ঢাকায় যদি এখন মরি, তাইলে তো দাফনের কাপড়টুকুও মিলব না। আর গ্রামেও তো যাইতে পারতাছি না।’
তিনি বিড়বিড় করে বলতে থাকেন নিজের কষ্টগুলো। আমি নির্বাক শুনতে থাকি। জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই।

গণতন্ত্রের রেলগাড়িটি কোন পথে by আব্দুল কাইয়ুম

বলা হয়েছিল, গণতন্ত্রের রেলগাড়িটি লাইনচ্যুত হয়ে গেছে। তাকে মেরামত করে লাইনে উঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হলো। ভালো নির্বাচন হলো। কয়েক মাস ভালো চলল। মানুষ আশা করেছিল যে এবার রাজনীতিতে কিছুটা হলেও সুস্থতা ফিরে আসবে। কিন্তু এখন মনে হয়, আগের ব্যাধিগুলো সব ফিরে আসছে। সেই একই চিত্র। রাস্তায় সহিংস আন্দোলন, ভাঙচুর, জ্বালাওপোড়াও। পুলিশের নির্মম লাঠিপেটা। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি। দুই নেত্রীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। রাজপথে গরম আন্দোলনের হুমকি। সরকার পতনের আন্দোলন বুঝি শুরু হয়ে গেল। এই কি ছিল কপালের লিখন? আমাদের গণতন্ত্র কি এভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে?
অথচ সরকার, বিশেষত প্রধানমন্ত্রী চাইলে রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেকখানিই শান্ত রাখা সম্ভব ছিল এবং এখনো সম্ভব। এ ব্যাপারে বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সুবিবেচনাপ্রসূত অবস্থান বেশ সাহায্য করতে পারে। যেমন, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সহিংস আন্দোলনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বললেন, তিনি ‘উসকানি দিয়ে এই অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন’। এভাবে কথাটা না বলাই ভালো ছিল। খালেদা জিয়া যদি উসকানি দিয়ে থাকেন, তাহলে তো নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী সে কথা বলবেন, কিন্তু তার সাক্ষী-প্রমাণ লাগবে না? শুধু অনুমাননির্ভর কথা বললে তো মানুষের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে না। কারণ তিনি তো এর আগে দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এ রকম একটা গুরুতর অভিযোগ নিখুঁত হওয়া দরকার।
বিএনপি যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চির-প্রতিপক্ষ! এ ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় শব্দ প্রয়োগে একটা রাজনৈতিক ব্যাকরণ অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। আপনি ‘নাকে খত’ দিতে বললেই তো বিরোধী দল সুরসুর করে গিয়ে নাকে খত দেওয়া শুরু করবে না। বরং তারা আরও উৎসাহ নিয়ে মাঠে নেমে পড়বে। তাদের রাজপথ গরম করার প্ররোচনা দিয়ে লাভ কার হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করেন, তা কিন্তু কোনো ব্যাকরণের মধ্যে পড়ে না। অথচ তিনি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কাছে মানুষ অনেক বেশি বিনয় ও নম্রতা আশা করে। সরকার গঠনের পরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা ও কাজে যতটা নমনীয় মনোভাব নিয়ে চলছিলেন, তা সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছিল। এটা দুঃখজনক যে ধীরে ধীরে তিনি যেন সেই অবস্থান থেকে সরে আসছেন। রজনীতিতে সহনশীলতা ও ধৈর্যের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বিশেষত ক্ষমতাসীন মহলের জন্য এটা অবশ্য পালনীয়। কিন্তু আজকাল এর দারুণ অভাব দেখা যায়।
নব্বই-উত্তর গণতন্ত্র এক বিরাট বিপদে পড়েছিল। এ জন্য দেশের ওপর দিয়ে বেশ বড় ধরনের ঝড় বয়ে গেছে। দুই বছর ‘সেনাসমর্থিত’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্টিম রোলার চলেছে। এই তিক্ত বাস্তবতার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে বেশি আর কে জানে। তিনি নিজেও বিভিন্ন সময় বলেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় দেশে কি ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছিল। কীভাবে বিচারকদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কীভাবে ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সবাই জানে। এসব করা সম্ভব হয়েছিল সে সময়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালিয়ে, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বল প্রয়োগে তাদের নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টার মাধ্যমে। গণতন্ত্রের জন্য সেটা ছিল সবচেয়ে বড় বিপদ। সেই দুঃসময় পার হয়ে আসা গেছে। এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা বিসর্জন দিয়ে তা হবে না।
পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের অস্থিরতাকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। রাস্তায় শ্রমিকদের সহিংস আন্দোলন সুস্থ শাসনের লক্ষণ নয়। কিন্তু তারা তো পেটের দায়েই রাজপথে নেমেছে। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য দরকার খেয়েপরে বেঁচে থাকার মতো মজুরি। ওরা তো নিজেরাই বলেছে, ‘মুরগি চাইলে ডিম পাব!’ এই বাস্তবতার আলোকে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছে। তিন হাজার তারা তো মেনেই নিয়েছে বলা যায়। কিন্তু সেটা কেন নভেম্বর থেকে, কেন চলতি মাস থেকে নয়? মামলা তো এক কথায় ডিশমিশ হয়ে যায়, যদি এ মাস থেকেই বর্ধিত মজুরি দেওয়া হয়। রাস্তায় শ্রমিকদের নামতে হয় না। আর যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্রকারী’ থেকেও থাকে, তারা উসকানি দেওয়ার কোনো সুযোগও পায় না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও পোশাকশ্রমিকদের অমানবিক অবস্থার কথা বলেছেন। তার পরও এই সামান্য ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে এত সময় লাগে কেন?
মালিকেরা বলছেন, আগের ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। কম দামে তৈরি পোশাক সরবরাহ করতে হবে। তাই এখন হবে না, তিন মাস পর থেকে বর্ধিত মজুরি কার্যকর করতে হবে। কিন্তু পোশাকশিল্পের মালিকেরা কি এতই গরিব যে মাত্র তিন মাসের অর্ডারের কাজে বাড়তি মুনাফা নিতে না পারলে শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে? সরকার তো একটা হিসাব করে দেখাতে পারত যে, তিন মাসের জন্য মালিকদের কত টাকা বেশি দিতে হবে, আর এ সময় তাদের মোট মুনাফা কত হবে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, তিন মাসের জন্য মালিকদের পথে বসতে হবে না। কিন্তু শ্রমিকদের তো দেয়ালে পিঠ। এই তিন মাসে রোজা ও দুটি ঈদ যাবে। শ্রমিকদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য তাদের বেতন এ মাস থেকে বাড়ানো দরকার। সরকার এ কথাটি কেন জোর দিয়ে বলতে পারল না? নাকি বলতে চায় না?
শ্রমিকেরা রাজপথে নামবে, ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটবে হয়তো। বিরোধী দল বিএনপি রাজপথে মিছিল করবে। তারা অনশন করতে চায়, সরকার পল্টন ময়দানের অনুমতি দেবে না। তাহলে গণমিছিল না করে তাদের উপায় কী? মিছিল থেকে যদি ভাঙচুর করা হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, তাহলে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। কিন্তু মিছিল যতক্ষণ শান্তিপূর্ণ থাকবে, ততক্ষণ পুলিশকেও শান্ত থাকতে হবে। মিছিলে উচ্ছৃঙ্খল লোকজন থাকে। তারা হয়তো বাড়াবাড়ি করে। কিন্তু এর প্রতিকার কি পুলিশ দিয়ে নির্মমভাবে লাঠিপেটা করে হবে? পুলিশের নতুন ট্রেনিং দরকার। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে পেটানো হতো। মাথা ফাটিয়ে রক্ত ঝরানো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সেই দুঃসময় পার করে এসে এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। তারা কি সেই আগের মতো অবস্থায় ফিরে যাবে? নির্বিচার বলপ্রয়োগে রাজপথের আন্দোলন দমনের জন্য পুলিশকে ব্যবহার করার পরিণতি অতীতে কখনো শুভ হয়নি। বর্তমান সরকারের জন্যও তা সুফল দেবে না। এই সোজা সমীকরণটি সরকার কেন বোঝে না, তা এক বিরাট বিস্ময়। বিরোধী দলকে নিয়মতান্ত্রিক পথে আন্দোলনের সুযোগ দিতে হবে। না হলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে। স্বার্থান্বেষী মহল গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এই উপাদানটি বিরোধী দলের হাতে তুলে দেওয়া উচিত কি না তা সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলকে ভেবে দেখতে হবে।
আপনি বিদ্যুৎ দিতে পারবেন না। রোজার মাসে ইফতার বা সেহরির কোনো একসময়ে লোডশেডিং হবেই—এই হলো আপনাদের কথা। ওদিকে ছাত্রলীগ-কর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব চলবে, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব চলবে, ছিনতাই-রাহাজানি চলবে। তাহলে বিরোধী দলকে আন্দোলন করতে দেবেন না কেন? মানুষকে কিছু দেবেন না তা কী করে হয়? হয় এটা দিন, না হয় ওটা দিন। দুইটার একটাও দেবেন না, তা কী করে হয়? বিরোধী দলকে ঠান্ডা রাখতে হলে প্রথমে জনজীবনে স্বস্তি দিতে হবে।
দেশে হাজারটা সমস্যা। সরকার তো সব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে দিতে পারবে না। কেউ সেটা আশাও করে না। কিন্তু এটা আশা করে যে মূল কয়েকটি সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সে বিবেচনায় বলা যায়, সরকারের সামনে এখন তিনটি বড় দায়িত্ব। প্রথমে বিদ্যুৎ। অবারিত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, সবাই জানে। কিন্তু দুই বছর পর যে সমস্যা থাকবে না তার নিশ্চয়তা কী? অন্তত এ পর্যন্ত সরকার এমন কোনো উদাহরণ দেখাতে পারেনি যে খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হতে যাচ্ছে। তাই উঠেপড়ে লেগে বিদ্যুতের ব্যাপারে মানুষকে আশ্বস্ত করাই হবে সরকারের প্রথম কাজ। দ্বিতীয়ত, দলের লোকজন, বিশেষত ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অভিযোগ যেন না ওঠে যে ক্ষমতাসীন মহল প্রতিকারহীনভাবে দুর্নীতি করে যাচ্ছে। আমাদের মতো শিথিল সমাজে দলীয় লোকজনকে দুর্নীতি থেকে দূরে রাখা কঠিন, কিন্তু কঠিন কাজটি করতে না পারলে দেশ চালানোও কঠিন। তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার এক বিপজ্জনক পথে হাঁটছে। গুম-খুনের যে অভিযোগ উঠছে, তা খারাপ লক্ষণ। গণতন্ত্র আর গুম-খুন একসঙ্গে যায় না। এখন আদালত রায় দিয়েছেন। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু আর চলতে দেওয়া যাবে না।
মাত্র এই তিনটি সমস্যার সমাধানে সক্রিয় উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন অন্য অনেক সমস্যা সমাধানের দরজা খুলে যাবে, তেমনি বিরোধী দলের রাজপথে নামার সুযোগও সীমিত করা যাবে। পুলিশি ব্যবস্থার চেয়ে এটা উত্তম। গণতন্ত্রের রেলগাড়িটা ঠিকভাবে চালানোর জন্য এর চেয়ে ভালো ওষুধ আর হয় না।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

রাজনৈতিক দলের ভেতর গণতন্ত্র by কুলদীপ নায়ার

আগামী দুই মাসের মধ্যে সোনিয়া গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি হবেন দলটির সবচেয়ে দীর্ঘকাল ধরে সভাপতির দায়িত্বে থাকা নেতা। ভারতের সবচেয়ে পুরোনো ও সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলটিতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র যে নেই, এই ব্যাপার থেকে তা আবারও দেখা যাচ্ছে। ধরে নেওয়া যায়, দলের সদস্যরা তাঁর পক্ষেই ভোট দেবেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করে যতটা না রাজতান্ত্রিক ক্ষমতার প্রতি তাঁদের আচ্ছন্নতা, তার চেয়ে বেশি সরকার ও দলে তাঁর অবিসংবাদী ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার বাস্তবতা।
আসলে ভারতের প্রধান দুই দল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্বের জায়গা যা-ই হোক না কেন, দুই দলই একই স্বার্থগোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন যেখানেই রাজ্য নির্বাচন হোক না কেন দেখা যায়, একক কোনো ব্যক্তি অথবা অভিন্ন স্বার্থের ব্যক্তিবর্গের সমষ্টির হাতেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। তিনি বা তাঁর পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে নির্বাচনের টিকিট বিলি করেন। নির্বাচিত ব্যক্তিরা হাইকমান্ডের (কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বোঝানোর জন্য এ শব্দটি তৈরি করা হয়েছিল) ব্যাপারে এতটাই শঙ্কিত থাকেন যে তাঁরা নিজেরাই তাঁদের মাথা নত করে দেন। নিজেরা রাজ্যনেতৃত্ব নির্বাচন না করে, বরং এ কাজটিও করার ভার হাইকমান্ডের ওপর ছেড়ে দেন।
আমরা দিল্লি, রাজস্তান, হরিয়ানা ও মিজোরামে দেখেছি কত সহজে নেতা বাছাইয়ের কাজটি সোনিয়া গান্ধীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে জিতেছে বিজেপি। সেখানে নেতা নির্বাচনের জন্য এল কে আদভানির দ্বারস্থ হয়েছে দলটি। বোঝাই যায়, তিনি এ ব্যাপারে বিজেপির চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ আরএসএসের সঙ্গেই আলোচনা করবেন।
দিল্লির নির্বাচনে কংগ্রেস বিজয়ী হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধীকে নেতা নির্বাচনে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। তবু কিছু সময় উদ্বিগ্ন অবস্থায় পার করতে হয়েছে শিলা দীক্ষিতকে। তখন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে শিলা যদি তৃতীয়বারের মতো দিল্লিতে কংগ্রেসের বিজয় ঘটাতে পারেন তাহলে তাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও করা হতে পারে। এ গুজবের ফলে যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে সে বিষয়ে তিনি ঘাবড়ে গিয়ে বললেন যে এটা রটনা মাত্র। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলকে তিনি জানালেন, তাঁর কিছু বিরোধীরা এই মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রাপ্য পদ পেয়েছিলেন। তবে অশোক গেহলটের ক্ষেত্রে বাছাই কাজটা একটু কঠিনই ছিল, কেননা কয়েকজন নেতৃত্বের দাবিদার দিল্লির স্বার্থগোষ্ঠীদের কথামতো কাজ করতেন। রাজস্তানের ভোটাররা অশোকের কারণেই কংগ্রেসের দিকে ফিরে এসেছেন। তবু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সোনিয়া গান্ধীর ওপরই ছেড়ে দেওয়া হলো। অশোক মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি পেলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁকে সোনিয়ার হুকুম মেনে দুজন ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী নিতে হলো। আর হরিয়ানার ভূপিন্দর সিং হোড়া তো অল্পের জন্য পার পেয়ে গেলেন। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দিল্লিতে তিনি তাঁবু গেড়ে অশেষ প্রতীক্ষায় বসেছিলেন। চন্ডিগড় ও রাজধানীর মধ্যে কয়েকবার আনাগোনার পর অবশেষে তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়।
রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও দল নয়, ব্যক্তি সোনিয়া গান্ধীকে প্রভাব ফেলতে দেখা যায়। রাজিব গান্ধীর উপদেষ্টা সতিশ শর্মা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে কারও মনে কোনো সন্দেহ ছিল না। হঠাৎ করে পেট্রলপাম্প ইজারাসংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অভিযুক্ত করেন। আদালত কর্তৃক সাবেক মন্ত্রীদের জরিমানা করার ঘটনা তেমন দেখা যায় না, কিন্তু শর্মার ক্ষেত্রে জরিমানা করা হয়। কিন্তু এবারও প্রার্থী করার ক্ষেত্রে সোনিয়ার কাছে বিবেচ্য নিষ্ঠা নয়, আনুগত্য।
সোনিয়া কিংবা তাঁর ১০ জনপথের বাসভবন এখন ক্ষমতার সমার্থক। তাঁর অনুমোদন ছাড়া সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত বা কোন বিষয়ে অবস্থান নেওয়া হয় না। তিনি এমন এক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন, যিনি তাঁর সব কথা শোনেন।
কংগ্রেসের ইতিহাসে বহু নজির আছে, যেখানে দলের সভাপতি ও দেশের প্রধানমন্ত্রী সমান্তরাল কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। জওহরলাল নেহরু দলের সভাপতিকে পূর্ণ শ্রদ্ধা করতেন। সভাপতির কথাকেই তিনি চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করতেন। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও ইন্দিরা গান্ধী উভয়েই, বিশেষ করে ইন্দিরা, কংগ্রেস সভাপতিকে নামিয়ে নিয়ে এসেছিলেন, সঞ্জিব রেড্ডির ভাষায়, ‘চাপরাশি’র স্তরে।
কেরালায় ই এম এস নাম্বুড়িরিপাদের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকারকে বরখাস্ত করা হোক, সেটা নেহরু চাননি। কিন্তু কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দলের রাজনৈতিক স্বার্থে বরখাস্ত করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। ইন্দিরার নিজস্ব স্বতন্ত্র পন্থা ছিল, নেহরুর কন্যা হিসেবে নয়, যে কংগ্রেস নেহরুকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেছিল, সেটির সভাপতি হিসেবেই। নেহরু চাইলে নিজস্ব পন্থা করে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাতেই অটল ছিলেন।
তাঁর উত্তরসূরি শাস্ত্রী মনে করতেন, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি কে কামারাজ তাঁকে দমিয়ে রাখেন। যদিও কামারাজ শাস্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কুরসিতে বসতে সহায়তা করেছিলেন, কিন্তু শাস্ত্রী তাঁকে গুরুত্বহীন করে তোলেন। রাষ্ট্রপতির কাছে মন্ত্রীদের যে তালিকা শাস্ত্রী প্রেরণ করেন তা কামারাজকে তিনি দেখাননি। তবে ইন্দিরা গান্ধীর মতো নির্মম ছিলেন না শাস্ত্রী। তিনি কামারাজের সম্মানহানি হতে দেননি।
কামারাজের সহায়তায় ইন্দিরা গান্ধী যখন ক্ষমতাসীন হলেন তখনো কামারাজ কংগ্রেসের সভাপতি। ইন্দিরা তাঁকে ও তাঁর সিন্ডিকেটকে পথের বাধা হিসেবে গণ্য করলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী সঞ্জীব রেড্ডিকে হারিয়ে ভি ভি গিরিকে জয়ী করার মাধ্যমে তিনি তাঁদের পরাজিত করেন। পরবর্তীকালে তিনি দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদে একই ব্যক্তি আসীন হওয়ার চল করলেন। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন তাঁর ছেলে রাজিব গান্ধী।
সোনিয়া গান্ধী এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তাঁর সুবিধা হলো, তাঁর নেতৃত্বেই কংগ্রেস আবার ক্ষমতাসীন হতে পারবে, এ কথা দলটির নেতারা মেনে নিয়েছিলেন। আর তিনি সেটা করেছেনও। সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি দলের ভেতর নেতৃত্বের বিরোধিতা একেবারে কমিয়ে এনেছেন। এখন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধীকে বাছাই করেছেন, সে কারণে যত দিন পর্যন্ত না রাহুল প্রধানমন্ত্রীর গদিতে বসতে পারেন, তত দিন পর্যন্ত তিনি মনমোহন সিংকে দিয়েই চালিয়ে নেবেন। দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তো বলেই দিয়েছেন যে তিনি রাহুল গান্ধীর জন্য সরে যেতে প্রস্তুত থাকবেন।
বিজেপির ক্ষেত্রে, আরএসএস তাদের চাওয়া স্পষ্ট করার পর নিতিন গড়করিকে দলীয় প্রধান ‘নির্বাচিত’ করতে হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য শুধু এই যে বিজেপির রিমোট কন্ট্রোল আরএসএসের প্রধান কার্যালয় নাগপুরে আর সোনিয়া গান্ধী নিজেই নিজের নিয়ন্তা।
কংগ্রেস ও বিজেপিদলীয় আইনপ্রণেতারা এখন এমন পর্যায়ে নেমে গেছেন যে, তাঁরা অন্যের স্বার্থে ব্যবহূত হন। অতীতে এমন অবস্থা ছিল না। তাঁরা এখন দাবার পটে বড়ের ভূমিকায়, যাদের নিয়ে দলীয় প্রধানেরা দক্ষতার সঙ্গে খেলে চলেন। এসব নির্বাচিত সদস্যদের কথা বলার কোনো জায়গা নেই। চূড়ান্ত রায় আসবে হাইকমান্ড থেকেই, হাইকমান্ডই পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকারী। কংগ্রেসের সোনিয়া আর বিজেপির আরএসএস-সমর্থিত আদভানির ওপরই যদি প্রার্থী নির্বাচন পুরোপুরি নির্ভর করে, তবে কেন আর যোগ্যতর প্রার্থীর দাবি তোলা?
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।

চিন্তা যখন চিনি নিয়ে -বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি

রমজান মাস ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার শঙ্কা বাংলাদেশে নতুন বিষয় নয়। এসব পণ্যের মধ্যে অন্যতম হলো চিনি। চিনির দাম নিয়ে সরকারের মধ্যেও একধরনের দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ কাজ করছে বলে মনে হয়। আর তাই সরকারি চিনিকলগুলো তাদের ডিলারদের কাছে প্রতি কেজি চিনি ৪৫ টাকার পরিবর্তে দুই টাকা কমিয়ে ৪৩ টাকায় বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। হ্রাসকৃত এই দরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন রমজান মাসে ৭৭ হাজার টনের বেশি চিনি বাজারে বিক্রি করবে বলে জানিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারে চিনির সরবরাহজনিত সংকট অনেকটাই কমে যাবে।
মুশকিল হলো সরকারের কাজে গতি-মন্থরতার বিষয়টি। করপোরেশন যে এই পরিমাণ চিনি বাজারে জোগান দেবে, তার মধ্যে ২৫ হাজার টন আসবে আমদানি করার মাধ্যমে। আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতা শেষ পর্যন্ত পুরো পরিকল্পনাকেই অকার্যকর করে তুলতে পারে। অন্যদিকে প্রথম আলোর আরেক খবর থেকে জানা যায়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) গত এক বছরে আড়াই লাখ টন চিনি সরবরাহের জন্য ১৭টি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হলেও একটি বাদে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ছটাক চিনিও আনতে পারেনি। তাই রমজান মাসে টিসিবি যে বাজারে পর্যাপ্ত চিনি বিক্রি করবে, সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। তার মানে সরবরাহজনিত সংকটের একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্রশ্ন হলো, এসব প্রতিষ্ঠান চিনি আনতে ব্যর্থ হলো কেন? শর্ত ও দর সব জেনেই তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। এখন নতুনভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে চিনি আমদানি করতে গেলে রমজান মাস পেরিয়ে যাবে। যে সময় চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে, সে সময়ই যদি পর্যাপ্ত জোগান দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সংকট বাড়ে বৈ কমে না। আর সরকারের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি খাত থেকে যদি বাজারে দাম বাড়ানো হয়, তাহলে আর বলার কিছু নেই। কারণ, বাজারের নিয়মেই চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়ে। অভিজ্ঞতাই বলে, ধমক-ধামক দিয়ে বা দফায় দফায় বৈঠক করে দাম ঠিক করা যায় না। এই বাস্তবতায় সরকারের উচিত হবে, তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু চিনি দ্রুত বাজারে ছেড়ে দেওয়ার সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া। মনে রাখতে হবে, এখানেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিলে দেশের মানুষ সরকারি উদ্যোগের কোনোই সুফল পাবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা -ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেতন-ফি বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেননি, পরিণতিতে বিক্ষোভ-সংঘাত ও শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার মতো ঘটনায় গড়াল। কিন্তু এমন পরিণতি কি সত্যিই অবধারিত ছিল? বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের জানা-বোঝার ঘাটতি রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার সহজ পথটি কর্তৃপক্ষ বেছে নিয়েছে।
জুলাই মাস থেকে বর্ধিত বেতন-ফি কার্যকরের পর শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে ২৬ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু করেন। এ ধরনের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রশমনের পথ হতে পারত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলাপ-আলোচনার পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। বেতন-ফি বৃদ্ধির পেছনে যদি যৌক্তিক কারণ থেকে থাকে, তা তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
২৬ জুলাই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার আগ পর্যন্ত এ নিয়ে সংঘাত-সহিংসতা এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে চট্টগ্রাম শহরেও যানবাহন ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরপর ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিষয়টি আমলে না নিয়ে পুলিশ দিয়ে দমনের চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে লাঠিপেটা এবং ২৪১ জনকে গ্রেপ্তারের পর কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় দেড় মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমরা বারবার এ ধরনের হতাশাজনক চিত্র দেখে আসছি—একদিকে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ প্রশমনে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করা এবং অন্যদিকে প্রতিবাদের নিয়মতান্ত্রিক পথে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের নৈরাজ্য ও ভাঙচুরের পথ বেছে নেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম যথাযথভাবে চালাতে হলে এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে মোকাবিলা করেছে, তা সঠিক পথে ছিল না। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিরোধিতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান হাজির করতে উদ্যোগী হলে পরবর্তী নৈরাজ্য হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো। এখন তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর বাইরে যে ভাঙচুর চালিয়েছেন, তাও মেনে নেওয়া যায় না। ভাঙচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টি দাবি আদায়ের পথ হতে পারে না। তাঁদের উচিত ছিল নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানানো।
কিছুদিন পরপর নানা কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংঘাত-সহিংসতা এবং পরিণতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা দেশের উচ্চশিক্ষা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমনিতেই সেশনজটে আক্রান্ত। সেখানে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে যদি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হয়, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই আরও শোচনীয় হতে বাধ্য। আমরা অবিলম্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়াসহ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে ৪৫টি নাম বাদ

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা-তালিকা থেকে আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৪৫ ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা-তালিকা পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তালিকা থেকে যেসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৫ ব্যক্তি বা সংগঠন এবং তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১০ ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম রয়েছে।
জাতিসংঘে অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূত থমাস মেয়ার-হার্টিং বলেন, ‘নয় বছর পর আমরা প্রথমবারের মতো তালিকা পর্যালোচনা করতে সক্ষম হয়েছি।

তেল নিঃসরণ বন্ধ করছে বিপি

মেক্সিকো উপসাগরের তেলক্ষেত্র থেকে তেল নিঃসরণ চূড়ান্তভাবে বন্ধে প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। বিস্ফোরণে ভেঙে পড়া পাইপের মধ্যে প্রথমে ‘মাড’ নামে পরিচিত এক ধরনের ‘হেভি ড্রিলিং’ জ্বালানি ঢোকানো হবে। এরপর সিমেন্ট দিয়ে পাইপের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তেল নিঃসরণ চূড়ান্তভাবে বন্ধ করার প্রস্তুতি নিলেও কর্তৃপক্ষ গত সোমবার আরও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে এ পর্যন্ত কী পরিমাণ তেল সেখান থেকে নিঃসরণ হয়েছে। তারা বলেছে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ওই তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬২ হাজার ব্যারেল তেল সমুদ্রের পানিতে মিশেছে। গত এপ্রিলে দুর্ঘটনার পরপরই বিপি কর্তৃপক্ষ তেল নিঃসরণের পরিমাণ যা জানিয়েছিল তার থেকে এই হিসাব ১২ গুণ বেশি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৫ জুলাই প্রাথমিকভাবে তেল নিঃসরণ বন্ধ করার আগ পর্যন্ত ৮৭ দিনে মোট ৪৯ লাখ ব্যারেল তেল ওই তেলক্ষেত্র থেকে নিঃসরিত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র আট লাখ ব্যারেল তেল সমুদ্রের পানি থেকে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে এটাই ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অনাকাঙ্ক্ষিত তেল নিঃসরণের ঘটনা।

বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মীর

কাশ্মীরে গতকাল মঙ্গলবারও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে।
সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যের ১০টি জেলায় কারফিউ অব্যাহত আছে। নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করেছে। তবে গতকালও কারফিউ লঙ্ঘন করে রাস্তায় নেমে আসে রাজধানী শ্রীনগরের কামারওয়ারি এলাকার বাসিন্দারা। নিরাপত্তারক্ষীরা লোকজনকে সরে যেতে বললেও তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। এ সময় গুলি চালান নিরাপত্তাকর্মীরা। এতে চারজন নিহত হন। আহত হন তিনজন। এ নিয়ে গত শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় ২৬ জন নিহত হলো। এর মধ্যে গত সোমবারই নিহত হয় সাতজন।
বাদগাম জেলায়ও গতকাল বিক্ষোভ করে লোকজন। সেখানে গুলি চালান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এতে দুজন আহত হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
শ্রীনগরের জালবাগার নয়াবাজার এলাকায় গত রাতে একটি প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া জম্মুর রামবান, দোদা ও কিশতাওয়ার জেলায়ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়েছে।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে করণীয় নির্ধারণে গত সোমবার ইউনিফাইড কমান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
এদিকে আরও প্রায় দুই হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য কাশ্মীরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কাশ্মীরে বর্তমানে তিন হাজার ২০০ আধাসামরিক সেনা রয়েছে। তাদের এখন সংঘাতময় এলাকায় মোতায়েন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯ কোম্পানির এক হাজার ৯০০ সেনা দু-এক দিনের মধ্যে কাশ্মীরে পৌঁছাবে।

দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত

নিউইয়র্কের জনএফ কেনেডি বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাঁরা হলেন গায়ানার সাবেক সাংসদ আবদুল কাদির (৫৮) ও গায়ানার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক রাসেল ডেমারিয়েটাস (৬৬)। হামলার পরিকল্পনার সময় তাঁরা কেনেডি বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে জুরিবোর্ড টানা পাঁচ দিন ধরে এই রায় ঘোষণা করেন। গত সোমবার রায়ের শেষ দিনে জুরিবোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে তাঁদের সাজার মেয়াদ ঘোষণা করা হবে।
আদালতে সরকার পক্ষের কৌঁসুলি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ২০০৭ সালে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। কেনেডি বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগের সাবেক কর্মচারী রাসেল ও আবদুল কাদের বিমানবন্দরের ভূগর্ভে জ্বালানি সরবরাহের লাইনে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁরা গায়ানাভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ও আল-কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে আবদুল নুর নামের অপর এক ব্যক্তিও কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ে।
গত জুন মাসে বিচার শুরু হওয়ার সময় আবদুল নুর আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
আদালতের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে ওই জঙ্গি-পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে পড়ে। মার্কিন গোয়েন্দারা গোপনে ওই হামলা-পরিকল্পনার বিস্তারিত ভিডিওচিত্রে ধারণ করে।

রাশিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ১২

সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে গত সোমবার এক বিমান দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল স্থানীয় কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানায়, ক্রাসনোইয়ার্সক থেকে ছেড়ে আসা রুশ আঞ্চলিক বিমান সংস্থার বিমানটি ইগারকা বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টার সময় বিস্ফোরিত হয়। দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জন নিহত হন। পরে গতকাল হাসপাতালে আরও একজন মারা যান।
ধ্বংসস্তূপ থেকে বিমানের তিন ক্রু-সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা জানায়, আহত ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে ও আঘাতজনিত ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

রকেট ছোড়া হয়েছে সিনাই থেকেই

জর্ডান গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগের দিন সোমবার তাদের আকাবা সমুদ্রবন্দরে আঘাত হানা রকেট মিসরের সিনাই এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে। ওই রকেট হামলায় একজন ট্যাক্সিচালক নিহত ও অপর পাঁচজন আহত হন বলে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জর্ডানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই আমরা এখন বলতে পারি, রকেট ছোড়া হয়েছে সিনাই এলাকা থেকে।’ ঘটনা তদন্তের সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রকেট হামলার সঙ্গে কোন সংগঠন জড়িত, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’
গত সোমবার জর্ডানের আকাবা এবং এর কাছাকাছি অবস্থিত ইসরায়েলের ইলাত সমুদ্রবন্দরে আঘাত হানে কয়েকটি রকেট। জর্ডান এবং ইসরায়েল উভয় দেশের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানান, মিসরের সিনাই উপত্যকা থেকে এ রকেট ছোড়া হয়েছে।
জর্ডানের ওই কর্মকর্তা জানান, রকেট হামলার লক্ষ্য আকাবা ছিল না। তার পরও এটা অবশ্যই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরপরাধ মানুষ এতে হতাহত হয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তিন মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এ ধরনের হামলা হলো। জর্ডান এ ঘটনা সহ্য করবে না।

জেরা করা হবে এমআইটির গ্র্যাজুয়েটদের

আফগান যুদ্ধ নিয়ে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘গোপন তথ্য’ ফাঁসের ঘটনায় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) কয়েকজন গ্র্যাজুয়েটকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে মার্কিন তদন্ত কর্মকর্তারা। ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের সঙ্গে ওই গ্র্যাজুয়েটদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ব্র্যাডলিকে প্রধান সন্দেহভাজন বলে মনে করা হচ্ছে।
এমআইটির গ্র্যাজুয়েটদের জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা এই শিক্ষায়তন সংশ্লিষ্ট সবাইকে দারুণ অস্বস্তিতে ফেলেছে।
সন্দেহভাজন ব্র্যাডলি ইরাক যুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর একটি বিমান হামলার গোপন ভিডিওচিত্র ফাঁস করার অভিযোগে গত জুন মাসে ব্রাডলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইরাকে ওই হামলায় রয়টার্সের দুই সাংবাদিকসহ কয়েক ডজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ২২ বছর বয়সী ব্র্যাডলির সহায়তাকারীদের খুঁজছে। আড্রিয়ান লামো নামের একজন সাবেক কম্পিউটার হ্যাকার কর্তৃপক্ষকে জানান, এমআইটির দুজন গ্র্যাজুয়েট তাঁকে বলেছেন, তাঁরা ব্র্যাডলিকে সহায়তা করেছেন। লামো দাবি করেন, ওই দুই গ্র্যাজুয়েট ইউকিলিকসের পক্ষে কাজ করেছেন।
এমআইটির একজন মুখপাত্র জানান, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আপাতত এ ব্যাপারে তাঁরা কোনো মন্তব্য করবেন না।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস তথ্য ফাঁসের বিষয়টিকে অনৈতিক বলে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে আখ্যা দেন।
সম্প্রতি উইকিলিকস নামের একটি সংস্থার ওয়েবসাইটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৯২ হাজারেরও বেশি গোপন তথ্যের নথি ফাঁস করা হয়।

উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়া পিছিয়ে

জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য হ্রাসের দিক থেকে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়া অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং এ এলাকার দেশগুলোর জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এমডিজি-সংক্রান্ত এক বৈঠকে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াদি-সংক্রান্ত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল শা জুক্যাং এ কথা বলেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, জাতিসংঘ ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও দরিদ্র দেশগুলোর দারিদ্র্য কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, বৈঠকে তার ওপর পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রতিনিধিদের শা জুক্যাং বলেন, বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া অর্থনৈতিক মন্দা এবং খাদ্য ও জ্বালানিসংকটের কারণে জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে এর মধ্য দিয়েই পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত চরম দারিদ্র্য হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, ইতিমধ্যে তারা সে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ ২০১৫ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারবে কি না, সে বিষয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বড় ধরনের বিমান প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু করেছে চীন

চীন গতকাল মঙ্গলবার থেকে বড় ধরনের বিমান প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু করেছে। বেইজিংয়ের সামরিক সামর্থ্য বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মধ্যে চীন একের পর এক এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করছে।
কর্মকর্তারা জানান, এবারের মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে পূর্বাঞ্চলীয় শ্যানডং এবং কেন্দ্রীয় হেনান প্রদেশে। এ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে ১০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য ও সাত ধরনের জঙ্গিবিমান।
চায়না নিউজ সার্ভিস জানিয়েছে, ‘ভ্যানগার্ড ২০১০’ নামের এই মহড়ায় জরুরি উদ্ধার, যুদ্ধ পরিকল্পনা, শত্রুপক্ষ সম্পর্কে তথ্য জোগাড় ও পূর্ব সতর্কতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাঁচ দিন চলবে এই মহড়া।
দেশের দক্ষিণ উপকূলে বড় ধরনের নৌ ও বিমান মহড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার এ ধরনের মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় যৌথভাবে নৌমহড়া করেছে।

করাচিতে সহিংসতা, ৪৫ জন নিহত

পাকিস্তানের বন্দর নগর করাচিতে গত সোমবার রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতায় কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার হত্যাকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
রাজনৈতিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) নেতা ও সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য রাজা হায়দার সোমবার করাচির নাজিমাবাদ এলাকার একটি মসজিদে অস্ত্রধারীদের গুলিতে একজন দেহরক্ষীসহ নিহত হন।
করাচির পুলিশ জানায়, সহিংসতার সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছে। সহিংসতা ও চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকাতে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে হায়দারকে দাফন করা হয়। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক শ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়।
সিন্ধু প্রদেশের পুলিশ সার্জেন্ট হামিদ পারহিয়ার বলেন, শহরের হাসপাতালগুলোয় গুলিতে আহত লোকের সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৯৩ জনকে ভর্তি করার খবর পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তারা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রিকশাচালক, ট্যাক্সি ক্যাবচালক, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারী রয়েছেন— যাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র জামিল সুমরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, এমকিউএমের নেতাকে হত্যার জেরে এই সহিংসতা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তৃতীয় কোনো পক্ষ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এই সহিংসতায় ইন্ধন জোগাচ্ছে।’ তিনি জানান, রাজা হায়দার নিহত হওয়ার পর সোমবার রাতে ২৪টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। একটি পেট্রল স্টেশন ও শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত হয়ে এসেছে।
সহিংসতার ব্যাপারে স্থানীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষক হাসান আসকারি রিজভি বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এতে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা এবং এই ঘটনা সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিকদের প্রতি মৌলিক দায়িত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের অসহায়ত্বকে ফুটিয়ে তুলেছে।
সহিংসতার কারণে গতকাল শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হায়দারের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক পালন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এমকিউএম। দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি বছর এ পর্যন্ত করাচিতে পরিকল্পিতভাবে ১৭০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

গর্ডন ব্রাউন ব্রিটেনের তৃতীয় নিকৃষ্টতম প্রধানমন্ত্রী!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যাঁরা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে গর্ডন ব্রাউন ‘তৃতীয় নিকৃষ্টতম’। সম্প্রতি এক ভোটাভুটিতে এই ফলাফল বেরিয়ে এসেছে। এতে অংশ নেন ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষাবিদ।
গত মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে ডেভিড ক্যামেরনের কাছে হেরে যান গর্ডন ব্রাউন। জরিপে প্রণীত তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে স্যার অ্যান্থনি ইডেনের নাম। তাঁর ওপরে রয়েছেন স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমস।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ক্লেমেন্ট অ্যাটলি ব্রিটেনের সবচেয়ে সফল প্রধানমন্ত্রী। এই লেবার নেতা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি দশের মধ্যে ৮ দশমিক ১ পেয়েছেন।
জরিপটি সংকলন করেছেন ইউনিভার্সিটি অব লিডসের অধ্যাপক কেভিন থিকসটন।
জরিপের ফলাফলে গর্ডন ব্রাউনকে ৬৫ বছরের মধ্যে ব্রিটেনের ‘তৃতীয় নিকৃষ্টতম’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই জরিপে ভোট দিয়েছে ১০৬ জন পণ্ডিত। ব্রাউন দশে মাত্র ৩ দশমিক ৯ পেয়েছেন।
মার্গারেট থ্যাচার ও টনি ব্লেয়ার যথাক্রমে ৬ দশমিক ৯ ও ৬ দশমিক ৪ পেয়েছেন।
অধ্যাপক থিকসটন বলেন, সফলতার শীর্ষে থাকা পাঁচ প্রধানমন্ত্রীর সবাই কমপক্ষে ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তালিকার নিচের দিকে থাকা প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে শুধু মেজর বেশি দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ক্ষমতায় ছিলেন সাত বছর।
জরিপে প্রণীত তালিকা—ক্লেমেন্ট অ্যাটলি (১৯৪৫-’৫১), ম্যার্গারেট থ্যাচার (১৯৭৯-’৯০), টনি ব্লেয়ার (১৯৯৭-’০৭), হ্যারল্ড ম্যাকমিলান (১৯৫৭-’৬৩), হ্যারল্ড উইলসন (১৯৬৪-’৭০, ১৯৭৪-’৭৬), উইনস্টন চার্চিল (১৯৫১-’৫৫), জেমস কালাহান (১৯৭৬-’৭৯), জন মেজর (১৯৯০-’৯৭), এডওয়ার্ড হিথ (১৯৭০-’৭৪), গর্ডন ব্রাউন (২০০৭-’১০), অ্যালেক ডগলাস-হোম (১৯৬৩-’৬৪), অ্যান্থনি ইডেন (১৯৫৫-’৫৭)।

হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ

ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তেহরান। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরাক ও আফগানিস্তানে তাদের যে পরিণতি হয়েছে তার চেয়ে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মাইক মুলেন ওয়াশিংটন ইরানে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে মন্তব্য করার পর ইরানের কর্মকর্তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহর মোত্তাকি বলেছেন, আফগানিস্তান ও ইরাকে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের যে পরিণতি বরণ করতে হয়েছে, ইরানের দিকে এগোলে তার চেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে তাদের। একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অনেক বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ আছেন, যাঁরা আমেরিকার ভাবমূর্তিকে বিকিয়ে দিতে দেবেন না।
মঙ্গলবার ভোরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রমিম মেহমানপরাশত সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের এসব ‘অযৌক্তিক’ কথাবার্তার প্রতি খেয়াল রাখছেন।
এদিকে ভিন্ন এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি মুলেনের ওই বক্তব্যকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ওই বিবৃতিতে ভাহিদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তির স্বপক্ষে যে পরিবর্তনের কথা বলছে, মুলেনের ওই ঘোষণা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
একটি মার্কিন টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাইক মুলেন বলেন, আলোচনার টেবিলে বসে অথবা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে ইরানকে পরমাণু কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা সম্ভব বলে এখন আর তাঁরা মনে করছেন না। এ কারণে বিকল্প পথ হিসেবে তাঁরা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন।
তাঁর এ বক্তব্যের সূত্র ধরে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মুলেনের কথায় বোঝা যাচ্ছে, ইরানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তৃতীয় সহস্রাব্দে এসে একটি স্বাধীন দেশে হামলার পরিকল্পনা করা সরাসরি জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

লেবানন-ইসরায়েল গুলিবিনিময়

লেবানন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে রকেট
ও গুলিবিনিময়ের পর সীমান্তে সতর্ক প্রহরায়
লেবাননের সেনা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনীর সদস্যরা
লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রকেট ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে লেবাননের পক্ষে তিন সেনা ও এক সাংবাদিক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের এক সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
লেবাননের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের দিক থেকে চারটি রকেট ছোড়া হয়েছে। অদায়সেহ গ্রামে লেবানিজ বাহিনীর একটি অবস্থানের কাছাকাছি এগুলো পড়ে। এরপর লেবাননের সেনারা পাল্টা গুলি চালান।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের ছোড়া রকেটে তিন সেনা ও এক সাংবাদিক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
লেবাননের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্তে লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরের একটি গাছ ইসরায়েলি সেনারা কেটে ফেলার চেষ্টা করলে এই রকেট ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা গুলি করতে শুরু করলে আমরা তার জবাব দিয়েছি।’
লেবানন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি রুলা আমিন জানান, আদায়সেহ ও কুফেরকিল্লা গ্রামের কাছে সীমান্তের কয়েকটি গাছ কেটে ফেলার জন্য ইসরায়েলি সেনারা সীমান্তের কাছাকাছি আসার পর এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
রকেট ও গোলাগুলির এ ঘটনাকে ইসরায়েলি আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল সুলাইমান ও প্রধানমন্ত্রী শাদ আল হারিরি।
প্রেসিডেন্ট সুলাইমানের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবানিজ বাহিনীর তল্লাশি ফাঁড়ি এবং লেবাননের সম্পত্তির ওপর এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।
২০০৬ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী এবং ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের অবসান হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শাদ আল হারিরির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হয়েছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ ধরনের আগ্রাসন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে, তাদের প্রকৌশলীরা সীমান্তের কাছাকাছি কাজ করছিলেন। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান লেবাননের সেনারা। তখন ইসরায়েলি সেনারা এর জবাব দেন।
আল জাজিরার প্রতিনিধি আরও জানান, ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের আদায়সেহ গ্রামে চারটি গোলা নিক্ষেপ করেন। এতে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন এক সেনা। এর জবাবে লেবাননের সেনারা ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে কয়েকটি গোলা নিক্ষেপ করেন।
জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জ্যাকি রাওল্যান্ড জানান, ইসরায়েলি টেলিভিশনে প্রচারিত খবর দেখে মনে হয়েছে পুরো ঘটনাটি ঘটেছে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
লেবাননের শিয়াপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে ২০০৬ সালে ইসরায়েলি বাহিনীর একবার যুদ্ধ হয়েছে। তবে গতকাল ইসরায়েলি টেলিভিশন জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনার সঙ্গে হিজবুল্লাহ জড়িত নয়।

একনেকের সভায় ২৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্রকল্প অনুমোদিত

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো: ‘বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’, ‘নড়িয়া-পাঠানবাড়ী নয়ন মাতবারকান্দি-ডগরী-শাওড়া সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখোলা সড়ক নির্মাণ (সংশোধিত) প্রকল্প’।

গুদামের দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ নির্ধারিত সময়েই সরাতে হবে

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, পুরান ঢাকার বিভিন্ন গুদাম থেকে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ১৭ আগস্টের মধ্যেই সরিয়ে ফেলতে হবে। যেসব ব্যবসায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হবেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘পুরান ঢাকার শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় দাহ্য কেমিক্যালের বা রাসায়নিক পদার্থের গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুই মাস সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, কিন্তু সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও ব্যবসায়ীরা দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ সরানোর উদ্যোগ নেননি। দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে বেঁধে দেওয়া সময় বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় বিসিআইসি মিলনায়তনে বিসিআই সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংসদ জাহিদ মালেক ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ বিশেষ অতিথি ছিলেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি সাহাব উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিআইয়ের পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আবদুস সালাম, শহীদুল্লাহ মিয়া, খোকা সিকদার প্রমুখ।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, পুরান ঢাকায় যেভাবে দাহ্য কেমিক্যাল রাখা হয়েছে তা মৃত্যুফাঁদের মতো। সরকার জেনেশুনে জনগণকে মৃত্যুফাঁদের মধ্যে রাখতে পারে না। তিনি যেসব ভবনে কেমিক্যাল রাখা রয়েছে, এগুলোর গাঁয়ে ‘বিপজ্জনক’ লিখে রাখারও নির্দেশ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সব কেমিক্যাল বিপজ্জনক নয়। তবে দাহ্য কেমিক্যাল অত্যন্ত বিপজ্জনক। আর বিপজ্জনক কেমিক্যালের সঙ্গে সহাবস্থান সম্ভব নয়। তিনি পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের দাহ্য কেমিক্যাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইন অনুযায়ী কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার না থাকলে কারখানার অনুমোদন পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু শিল্পমালিকেরা কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন না করায় বুড়িগঙ্গা দূষিত হয়ে যাচ্ছে। বর্জ্য শোধনাগারবিহীন কারখানা বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ বলেন, যাঁরা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে কেমিক্যাল ব্যবসা করছেন, তাঁদের গুদাম যাতে বন্ধ না হয় সেটি দেখা হবে। তিনি বলেন, ১৯৬১ সালের আইন দিয়ে এখনো কেমিক্যালের দাহ্য পদার্থ চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে অনেক নতুন নতুন রাসায়নিক পদার্থ বাজারে এসেছে। এ জন্য তিনি আইন সংশোধনের জন্য আইন প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসা রাতারাতি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানোর জন্য সাভারে জায়গা দেওয়ার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে কেমিক্যালের গুদাম সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জমি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে কেমিক্যালের গুদাম অন্যত্র সরানোর জন্য আরও কিছু সময় দেওয়ার দাবি জানান।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন ২০১২ সাল থেকে

দেশের ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ জন্য সময় নির্ধারণ করেছে ২০১২ সাল।
২০১২ সাল থেকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সর্বশেষ রীতিনীতি অনুসরণ শুরু হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ লক্ষে গত সোমবার দেশের ২৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সার্কুলার জারি করেছে। এই সার্কুলারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যাসেল-২ বাস্তবায়নের পথ নকশা প্রদান করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে যে ইতিমধ্যে দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাসেল বাস্তবায়ন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখন চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রয়োগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খসড়া দিকনির্দেশনা প্রস্তুত করা হবে।
খসড়া দিকনির্দেশনা প্রস্তুত হওয়ার পর আগামী বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষামূলকভাবে বিবরণী দাখিল শুরু করতে হবে।
এক বছর ধরে পরীক্ষামূলক এই বিবরণী দাখিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো হবে। এই কাজে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধনও করা হবে।
পরীক্ষামূলক সময়কালে চিহ্নিত অসঙ্গতি বা সমস্যা নিরসন করে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। আর ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সার্কুলার আকারে প্রকাশ করা হবে।
এরপর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চূড়ান্তভাবে ব্যাসেল-২ দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিবরণ দাখিল শুরু করবে। সে অনুযায়ী তাদের মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ ঝুঁকির জন্য প্রমিত পদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ডাইজড অ্যাপ্রোচ), বাজার ঝুঁকির জন্য প্রমিত বিধিভিত্তিক পদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ডাইজড রুল বেজড অ্যাপ্রোচ) এবং পরিচালনগত ঝুঁকির জন্য মৌলিক নির্দেশক পদ্ধতি (বেসিক ইন্ডিকেটর অ্যাপ্রোচ) মেনে ব্যাসেল-২ বাস্তবায়ন করবে।
আর ২০১৫ সালের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রসর পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবে বলে পথ নকশায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত ব্যাসেল-২ হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজির পর্যাপ্ততার ন্যূনতম মান নির্ধারক। ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টের (বিআইএস) আওতায় ব্যাসেল কমিটি অন ব্যাংক সুপারভিশন আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য একগুচ্ছ নিয়ন্ত্রণবিধি প্রণয়ন করে যা ব্যাসেল-১ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে তা সংশোধন ও হালনাগাদ করে ব্যাসেল-২ করা হয়।
ব্যাসেল-১ বিধিতে ঋণের ঝুঁকির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর ব্যাসেল-২ বিধিতে বিনিয়োগ ও ঋণের বিপরীতে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় ন্যূনতম কী হারে কী পরিমাণ পুঁজি সংরক্ষণ করতে হবে, তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পাট কেনার জন্য বিজেএমসিকে ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে

চলতি মৌসুমে পাট কেনার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে চালু ১৬টি পাটকলকে মোট ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জুটমিল করপোরেশনকে (বিজেএমসি) ২০০ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এখনো পুরোদমে পাট কেনা শুরু হয়নি। বৃষ্টির অভাবে কৃষকেরা সময়মতো পাট জাগ দিতে না পারায় এবার বাজারে পাট আসতে দেরি হচ্ছে।
জানা গেছে, এ বছর রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার জন্য মোট ২২ লাখ কুইন্টাল পাট কেনা হবে। ইতিমধ্যেই এক লাখ ৭০ হাজার কুইন্টাল পাট কেনা হয়ে গেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পুরোদমে পাট কেনার প্রস্তুতি চলছে।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের কারখানাগুলোর পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ভর করছে সরকারের কাছ থেকে বাকি অর্থ পাওয়ার ওপর।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দকৃত অর্থের বাকি ৩০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিশ্চয়তার দরকার হবে। সেটি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল মকবুল প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা বেড়েছে। সদস্যসমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতের পর সার্বিকভাবে পাট খাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়, দেশের ভেতরও পাটের চাহিদা বেড়েছে। ভালো দাম পাওয়ার পর এবার কৃষকেরাও বেশি জমিতে পাট চাষ করেছে।’ ফলে এ বছরও পাটের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, চলতি বছর বিজেএমসি পাট কিনতে ক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৪টি থেকে বাড়িয়ে ১১৯টি করেছে। দেশের প্রধান ক্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রাজবাড়ীর বহরপুর, পাংশা, খলিলপুর, কানাইপুর, মাদারীপুরের চর মগলিয়া, ফরিদপুরের খানখানাপুর অন্যতম। এই হাটগুলোতে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রতি হাটের দিনে ১৫ থেকে ২০ হাজার মণ পাট ওঠে।
এদিকে খুলনায় যোগাযোগ করে জানা গেছে, সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো পাট কেনা শুরু করে দিয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ক্রিসেন্ট জুটমিলের হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান খুরশীদ আলম জাহাঙ্গীর বলেন, বাজারে পাট উঠতে শুরু করেছে। এবার ক্রিসেন্ট জুটমিলের লক্ষ্যমাত্রা আছে আড়াই লাখ কুইন্টাল পাট কেনার। ইতিমধ্যে সাত শতাংশ পাট কেনা হয়ে গেছে। বাজারে পাট মাত্র আসা শুরু করেছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ পাট কেনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পানির অভাবে এখন পর্যন্ত সবাই পাট কাটতে পারেনি। তাই বাজারে পাট আসতে কিছুটা বিলম্ব হবে। তাদের তথ্য অনুসারে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ পাট কাটা হয়েছে।
চলতি বছর চার লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ৫০ লাখ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মার্চ-এপ্রিল মাসে জমিতে পাট বোনার পর দেখা গেছে আট লাখ ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন ৮০ লাখ বেল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংস্থাটি মনে করছে।
প্রসঙ্গত, পাটের অভাবে গত অর্থবছর দেশে বেসরকারি খাতের অর্ধশতাধিক মিল প্রায় তিন মাস বন্ধ ছিল। সরকারি খাতের কারখানাগুলোও মে মাসের পর বন্ধ করে রাখা হয়।
মৌসুমে পাটের দর মণপ্রতি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে থাকলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চে গিয়ে তা ২৫০০ টাকায় উঠে। এবারের পাটের চাষ বেশি হওয়ায় বাজার স্বাভাবিক থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

আজ সাধারণ সূচক বেড়েছে ৪৭.৬৭ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ বুধবার সাধারণ সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। বেলা তিনটার সময় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ৪৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৩১ পয়েন্টে। আজ মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৮০ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ছয় কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও সামিট পাওয়ার।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো জেমিনি সি ফুড, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, পদ্মা সিমেন্ট, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স ও সাইহাম টেক্সটাইল।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো দেশ গার্মেন্টস, সমতা লেদার, বিচ হ্যাচারিজ, এইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও মুন্নু জুট স্টাফলারস।

সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার ’০৯ ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ

সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার ’০৯ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর একটি হোটেলে আজ বেলা ১১টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, শ্রেষ্ঠ কৃষি উদ্যোক্তা পাবনার নূরুন নাহার বেগম, শ্রেষ্ঠ মহিলা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জয়পুরহাটের রেহেনা বেগম, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সাতক্ষীরার শেফালী রায় ও শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গাইবান্ধার সমাজকল্যাণ সংস্থা (এসকেএস)।
প্রধান অতিথি উপহার হিসেবে প্রত্যেকের হাতে পাঁচ হাজার ডলার ও একটি করে ক্রেস্ট প্রদান করেন।
সিটি ব্যাংক এনএ, বাংলাদেশ ও শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিজ-অ্যাডভানটেজড ওম্যান এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শক্তি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক হুমায়রা ইসলাম, সিটি ব্যাংক এনএ বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসার মামুন রশিদ ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপক প্রসার রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় দারিদ্র্য বিমোচন খুব একটা হয়নি। তিনি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোাকে লেখাপড়া, জ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

মরগান-প্রিয়রে মুগ্ধ ফ্লাওয়ার

অ্যান্ডারসন-ফিনদের বোলিং সাফল্যের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে মরগান-প্রিয়রের ব্যাটিং সাফল্য। ট্রেন্টব্রিজে পাকিস্তানকে ৩৫৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর বেশি মাতামাতি হয়েছে ইংলিশ পেসারদের নিয়েই। কিন্তু এউইন মরগান ও ম্যাট প্রিয়রকে প্রাপ্য কৃতিত্বটা ঠিকই দিয়েছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ট্রেন্টব্রিজের দুই সেঞ্চুরিয়ানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ড কোচ।
‘দুটো ইনিংসই ছিল অসাধারণ। মরগান পরিস্থিতির সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছিল। শুরুতে বল সুইং করছিল, তখন সে দেখেশুনে খেলেছে। বিকেলে স্পিন আসার পর আবার চালিয়ে খেলেছে। এটাকে বলা যায় একটা পারফেক্ট টেস্ট ইনিংস। প্রিয়রের ইনিংসটাও ছিল দুর্দান্ত। সত্যি বলতে, এটাই আমার দেখা প্রিয়রের সেরা ইনিংস’—প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন ফ্লাওয়ার।
ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে দুই অঙ্কের আগেই থেমে গেছে ২৬টি ইনিংস, ৫০ পার হতে পেরেছেন মোটে চারজন। এমন বোলিং সহায়ক কন্ডিশনে দুজনের সেঞ্চুরিটাকে বিশেষ অর্জনই বলতে হবে। দুটি সেঞ্চুরিই এসেছে দলের দারুণ প্রয়োজনের সময়। দারুণ টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড ১১৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এরপর কলিংউডের সঙ্গে মরগানের ২১৯ রানের জুটি প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। কিছুদিন আগেও যাঁর টেস্ট খেলার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল, সেই মরগান করেন ১৩০। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রিয়র যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, ইংল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ৭২। ম্যাচে তখনো ভালোমতোই ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচটাকে পাকিস্তানের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায় প্রিয়রের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।
যাঁর চোটের কারণে এই সিরিজে খেলতে পারছেন মরগান, সেই ইয়ান বেল মরগানের রান পাওয়াটাকে দেখছেন দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই। দ্য সানকে বেল বলেছেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতিটা দলের জন্য ভালো। এউইন অসাধারণ খেলছে, ও দারুণ একজন তরুণ ক্রিকেটার। ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। চোটের কারণে দু-একজন বাইরে চলে যাওয়ায় তাদের বদলে ঢুকে কেউ যদি ভালো করে, তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।’
শুক্রবার এজবাস্টনে শুরু হচ্ছে চার ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ট্রেন্টব্রিজের দলটিকেই অপরিবর্তিত রেখেছে ইংল্যান্ড।

মাচেরানোর মুখেও শান্তির বারতা

কার্লোস বিলার্দোর পর এবার শান্তির সাদা পতাকা ওড়ালেন হ্যাভিয়ের মাচেরানো। ‘ম্যারাডোনার জন্য আর্জেন্টিনার দরজা খোলা’—বিলার্দোর এমন শান্তি-প্রস্তাবের পর দলের অধিনায়ক মাচেরানো বলেছেন, সবাইকে বসে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। আলোচনাই সব সমস্যার শ্রেয়তর সমাধান।
বিলার্দো, ম্যারাডোনা আর গ্রন্দোনাকে এক টেবিলে দেখার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে মাচেরানো বলেছেন, ‘এঁরা প্রত্যেকেই অনেক বড় মাপের মানুষ। বিষয়টির সমাধান সেভাবেই করা উচিত। সবকিছু যদি একসঙ্গে মিলে সমাধান করা যায়, সেটিই আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য মঙ্গল।’
বিশ্বকাপের পর ঘটনাবহুল বেশ কিছু দিন পার করেছে আর্জেন্টিনা। প্রায় প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রে থাকছে দেশটির ফুটবল। তবে এই প্রথম মুখ খুললেন দলটির অধিনায়ক। মাচেরানো জানালেন, মুখ হয়তো বন্ধই রাখতেন। কিন্তু বাধ্যই হলেন প্রকাশ্যে নিজের কিছু কথা বলতে, ‘বিশ্বকাপে ৩৫টি দিন একসঙ্গে দুর্দান্তভাবে কাটানোর পর শেষটা হয়েছিল ব্যথা আর দুঃখ দিয়ে। তবে শুনলাম, কেউ কেউ বলছেন, আমাদের মধ্যে নাকি অন্তঃকলহ ছড়িয়ে পড়েছিল। বাস্তবতা হলো, দলে সামান্য সমস্যাও ছিল না। বয়সভিত্তিক দলসহ অনেক বছর হয়ে গেল আর্জেন্টিনার ফুটবলে খেলছি আমি। সত্যি বলছি, এ রকম বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ দলের মধ্যে খুব কমই ছিল। মুখ তাই বন্ধ রাখতে পারলাম না। ডিয়েগো আমাকে অধিনায়ক বানিয়েছিলেন। আমাকে তাই কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করতেই হবে।’
আর্জেন্টিনা ফুটবলে এখন স্পষ্ট দুটো বিভাজন—ম্যারাডোনার পক্ষে আর বিপক্ষে। বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের একটা অংশ নাকি ম্যারাডোনার কর্তৃত্বও চ্যালেঞ্জ করে বসেছিল। মাচেরানো জানালেন, ‘এসবই ডাহা মিথ্যা। আমরা ডিয়েগোকে সম্মান করিনি, এটার মধ্যে সামান্য সত্য নেই। ডিয়েগোকে সমর্থন করেছি কি না, সেটি তো আর মাইক্রোফোন হাতে চিৎকার করে বলার দরকার নেই। মাঠে এবং অনুশীলনে সেটি বুঝিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। দলের প্রত্যেকে সেটাই করেছে।’
আর্জেন্টিনা ফুটবলে প্রতিভার কোনো অভাব ছিল না। তার পরও গত ২৪ বছরে কেন বিশ্বকাপ জিততে পারেনি দলটি? মাচেরানো মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবই মূল কারণ, ‘আমাদের সবকিছু ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। মূল বিষয়টিই হলো একটা দীর্ঘ পরিকল্পনা। আমাদের আগে লক্ষ্য স্থির করতে হবে, এরপর দেখতে হবে, সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য সবচেয়ে যোগ্য কোচ কে। পরিকল্পনার বিকল্প নেই। দেখুন, স্পেন তো আর এমনি এমনি ইউরো আর বিশ্বকাপ জেতেনি।’
গ্রন্দোনাকে নিজের ভাবনাগুলো পৌঁছে দেবেন বলেও জানালেন। বললেন, ২০১৪ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে এখনই গোছাতে হবে দল, ‘আমি হুলিওর সঙ্গে কথা বলব। দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। এই দলটায় বড় পরিবর্তন আনা চলবে না। আমাদের একদম গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। এখন যেভাবে চলছে, সেভাবেই যদি চলে, তাহলে ব্রাজিলে (২০১৪ সালে) সেটি হবে দেয়ালে মাথা ঠোকার শামিল।’

স্পেন-হল্যান্ডের জরিমানা

তীরে গিয়ে তরী ডোবার দুঃখটা কি হল্যান্ড এত দিনে সামলে উঠেছে? না উঠলেও এর মধ্যেই আরেকটা ধাক্কা সইতে হচ্ছে তাদের। বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতিবাচক ফুটবল খেলার জন্য গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তবে জরিমানা শুধু হল্যান্ডকেই গুনতে হচ্ছে না, হল্যান্ডের সঙ্গে ফিফা জরিমানা করেছে চ্যাম্পিয়ন স্পেনকেও।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-জার্মানি ফাইনালে ৬টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। এত দিন সেটিই হয়ে ছিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি কার্ডময় ফাইনাল। সেটাকে টপকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের স্পেন-হল্যান্ড ফাইনালটি। রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব দুই দলের খেলোয়াড়দের দেখিয়েছেন ১৫টি কার্ড। ওই ম্যাচে হল্যান্ডের নাইজেল ডি ইয়ং স্পেনের জাবি আলোনসোকে ‘কুংফু স্টাইলের কিক’ও মেরেছেন। পুরো ম্যাচে ছিল এমনই কিছু কুৎসিত ট্যাকলের নজির।
সব মিলিয়ে এবারের ফাইনালটিকে ফুটবল-চেতনার পরিপন্থী মনে হয়েছে ফিফার। তবে হল্যান্ডই যেহেতু বেশি নেতিবাচক খেলেছে, তাই তাদের জরিমানার অঙ্কটাও বেশি—৯০৮০ পাউন্ড। আর বিশ্বকাপ শিরোপার সঙ্গে ফেয়ার প্লে পুরস্কার জেতা স্পেনকে জরিমানা গুনতে হচ্ছে ৬০৫৩ পাউন্ড।

চীন যাওয়ার সুযোগে ওরা খুব খুশি

কোচ সুবিমল চন্দ্রের ফোনে চমকেই গিয়েছিল নড়াইল রূপগঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী শারমিন সুলতানা। ঢাকা থেকে কোচ যখন বললেন, ‘তোমার পাসপোর্ট ও ছবি লাগবে, চীনে যাচ্ছ তুমি।’ অনেকক্ষণ পর বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে ওঠা শারমিন বুঝতে পারল আগামী নভেম্বরে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ মিলেছে।
শুধু শারমিনই নয়, জুহি চাকমা, শাহীন আরা বৃষ্টি, রূপালী আক্তার হেনা ও শাহনাজ পারভীন মালেকারাও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই ইভেন্টে খেলবে বাংলাদেশ। অথচ অনেক আগেই মহিলা কাবাডি দলের চীনে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ)। কিন্তু সেটা হয়নি। অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত সব ইভেন্টের খেলোয়াড়দের নাম পাঠানোর মাসখানেক পর এন্ট্রি পাঠায় বিওএ।
ঢাকায় গত দক্ষিণ এশীয় গেমসে রুপা জিতে চীনে যাওয়ার পথটা প্রশস্তই করে রেখেছিল মেয়েরা। অথচ নানা জটিলতার কারণে তাদের ছাড়াই চীনে নাম পাঠানো হয় অন্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের। মহিলা কাবাডি দলের অধিনায়ক শাহনাজ পারভীন মালেকা কষ্ট পেয়েছিলেন এটা শুনে, ‘যখন প্রথমে শুনলাম আমরা যেতে পারব না, তখন খুব খারাপ লাগছিল। পরে অবশ্য চীনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন করে অনুশীলন শুরু করছি।’ এশিয়ান গেমসের জন্য আগামী মাসে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করবে বিওএ। কিন্তু আনসারের হয়ে খেলা শাহনাজ নিয়মিতই তাঁদের একাডেমিতে সকাল-বিকেল অনুশীলন করে চলেছেন। জামালপুরের নান্দিনা জান্নাত আফসার মহিলা কলেজের ছাত্রী রূপালী একা একা অনুশীলন করেন জামালপুর স্টেডিয়ামে। একই সঙ্গে রেইড ও ক্যাচারে সমান পারদর্শী রূপালী স্বপ্ন দেখেন এশিয়ান গেমসে রুপা জেতার। ‘আমরা জানি, ওখানে ভারতই সবচেয়ে কঠিন দল। তবে আমরা এসএ গেমসের মতো নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে রুপা জিততে পারি।’ বললেন রূপালী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় যুব কাবাডিতে যেতে পারেননি বলে মন খারাপ হয়েছিল জুহির। কিন্তু এবার যখন শুনলেন এশিয়ান গেমসে সুযোগ পাচ্ছেন খুবই খুশি হয়েছেন এই কিশোরী, ‘আমার তো খুবই ভালো লাগছে। চীনে আমরা নিজেদের সেরাটা খেলতে চাই।’
এর আগে ২০০৫ সালে হায়দরাবাদে ও ২০০৮ সালে তামিলনাড়ুতে এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ হয়েছিল মেয়েদের দল। কিন্তু এবার প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে কতদূর যেতে পারবে তারা? প্রায় এক বছর ধরে এই দলটিকে হাতে গড়া কোচ সুবিমল চন্দ্র জানালেন, ‘এই দলে শাহনাজ, শাহীন আরা, ফাতেমা আক্তার শীলা, হাসনা মরিয়মদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আমি ওদের সেভাবেই তৈরি করেছি। ইরান, থাইল্যান্ডের মতো দলকে হারাতে পারলে রুপা জেতা অসম্ভব কিছু নয়।’

ফিরেই ‘প্রথম’ গ্যাটলিন

ডোপ পাপের দায়ে চার বছরের নির্বাসন শেষে মাত্রই ফিরেছেন। আর ফিরে ট্র্যাকে তাঁর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দৌড়েই প্রথম হয়েছেন জাস্টিন গ্যাটলিন। এস্তোনিয়ার খুবই অখ্যাত একটা মিট দিয়েই অবশ্য শুরু করেছেন। কাল ১০০ মিটারের হিটে ১০.৩৪ সেকেন্ড টাইমিং দিয়ে শুরু হয়েছে মার্কিন স্প্রিন্টারের। এখানে ফাইনালে টাইমিংটা ১০ সেকেন্ডের নিচে নামিয়ে আনতে চান। শুরুটা দেখে মনে হয়েছে, সেটি অসম্ভব কিছু নয়। ২০০৪ অলিম্পিকে সোনাজয়ী গ্যাটলিনের মূল লক্ষ্য ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক। যদিও এই ২৮ বছর বয়সী প্রধান প্রধান মিটগুলোতে ডাক নাও পেতে পারেন। কারণটা তাঁর বিতর্কিত অতীত। ডোপ নেওয়ার দায়ে ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।

অপেক্ষা বাড়ল ফ্লিনটফের

আপাতত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা হচ্ছে না অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের। গত পরশু ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় দলের হয়ে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সে ম্যাচটিতে খেলা তো হয়ইনি, উল্টো শুনতে হলো আরও বড় দুঃসংবাদ—ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে চলতি মৌসুমে আর খেলাই হচ্ছে না তাঁর।
না, নতুন করে চোট পাননি ইংলিশ অলরাউন্ডার। ল্যাঙ্কাশায়ারের চিকিৎসক দলের পরামর্শেই সোমবারের ম্যাচটিতে খেলা হয়নি তাঁর। চিকিৎসকেরা সমর্থকদের জন্য আশার বাণী শুনিয়ে বলেছিলেন, ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় দলের বিপক্ষে গতকাল থেকে শুরু তিন দিনের ম্যাচে খেলতে পারবেন তিনি। কিন্তু ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার খেলতে পারছেন না এই ম্যাচেও। বরং জানা গেল, চলতি কাউন্টি মৌসুমেই আর মাঠে নামা হবে না ফ্লিনটফের। ‘অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সার্জন অ্যান্ডি উইলিয়ামসের সঙ্গে ক্লাবের চিকিৎসক দলের কথা হয়েছে। ল্যাঙ্কাশায়ার এটা নিশ্চিত করছে যে ২০১০ কাউন্টি মৌসুমে আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলা হবে না ফ্লিনটফের’—ল্যাঙ্কাশায়ারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে কাল। তার মানে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস লিগেও খেলা হচ্ছে না ফ্লিনটফের।
গত বছর ওভালে অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্ট খেলার পর হাঁটুর ইনজুরি নিয়ে দুই দফায় শল্যবিদের ছুরির নিচে গিয়েছেন ফ্লিনটফ। ইনজুরি এড়িয়ে যাতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারটা দীর্ঘায়িত হয়, সে জন্য টেস্টও ছেড়েছেন। কিন্তু ইনজুরি পিছু ছাড়ছে না তাঁর।

দাবার নাম ভাঙিয়ে জালিয়াতির চেষ্টা

দাবা ফেডারেশনের অজান্তে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ করেছে খোদ দাবা ফেডারেশনই। শুধু অভিযোগ নয়, পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে।
সাধারণ ডায়েরিতে দাবা ফেডারেশনের সম্পাদক মোকাদ্দেছ হোসাইন অভিযোগ করেছেন, ‘কিছু লোক জালিয়াতির মাধ্যমে খেলোয়াড় পরিচয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশে আদম পাচারের চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়ের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চারজনের নামে আমন্ত্রণপত্র চাওয়া হয় ঢাকা থেকে। এই জালিয়াতচক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ শহিদুল হক নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ঢাকা দাবা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মালয়েশিয়ায় আয়োজকদের কাছে ই-মেইল পাঠান। অথচ ঢাকা দাবা ক্লাব নামে কোনো সংগঠনই নেই। শহিদুল হকের সুনির্দিষ্ট কোনো ঠিকানাও জানা নেই। তাঁর মোবাইলে ফোন করা হলে এই লোকের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে জানানো হয়, তাঁরা ফরিদাবাদে থাকেন। এরপর শামীম নামের এক ব্যক্তি জালিয়াতির ব্যাপারটা স্বীকার করেন ফোনে।’

ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প

২১ খেলোয়াড়কে নিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। এটি চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বেলা আড়াইটায় জাতীয় দলের সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
ডাক পেয়েছেন যাঁরা: মোহাম্মদ আশরাফুল, রকিবুল হাসান, মেহরাব জুনিয়র, নাঈম ইসলাম, অলক কাপালি, শাহরিয়ার নাফীস, শাহাদাত হোসেন, এনামুল হক, মাহবুবুল আলম, ডলার মাহমুদ, নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ সোহ্রাওয়ার্দী, তালহা যুবায়ের, রবিউল ইসলাম, সগীর হোসেন, ফরহাদ হোসেন, সাকলাইন সজীব, শামসুর রহমান, ইলিয়াস সানি, মার্শাল আইয়ুব ও কামরুল ইসলাম।

আইনি মারপ্যাঁচে ইউসুফ

আরও একটি প্রত্যাবর্তন নাটকের জন্ম দিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটে আবারও ফিরেছেন । কিন্তু সহসাই মাঠে হয়তো ফেরা হচ্ছে না এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের। ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে ৮০ রানে অলআউট হওয়ার পরই তাঁকে আবারও দলে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু শুক্রবার থেকে শুরু দ্বিতীয় টেস্টে ইউসুফের না থাকার আশঙ্কাই বেশি। ইউসুফ পড়ে গেছেন আইনের মারপ্যাঁচে।
দুটো আইনি ঝামেলা এখন ঝুলে আছে ইউসুফের মাথার ওপর। প্রথমত, তাঁকে যে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নিষিদ্ধ করেছিল, এখনো সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। বিভিন্ন আইনকানুন ঘেঁটে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তির শর্ত উল্টেপাল্টে দেখার পর যাঁরা তাঁকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন, পিসিবির সেই আইনজীবীরাই এখন পথ খুঁজছেন, কী করে তাঁকে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু এত দ্রুত তাঁর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথও পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টির সঙ্গে যে জড়িয়ে আছে বেশ কটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া!
পিসিবির প্রধান আইনজীবী তাফাজ্জুল রিজভি অবশ্য একটা পথ খুঁজে পেয়েছেন, ‘নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আবেদনের সুযোগ ছিল। কিন্তু ইউসুফ সেই সুযোগটি নেননি। ফলে ৩০ দিন পর আপনা-আপনি তাঁর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে গেছে। সেটাই এখনো বহাল আছে। এখন পিসিবির চেয়ারম্যানই পারেন গঠনতন্ত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ইউসুফকে মাফ করে দিতে।’
এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইউসুফের জাতীয় দলে খেলতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু এই ক্রিকেটার অবসর নিয়ে নিলে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি প্রত্যাহার করাও হয়নি। এ ক্ষেত্রে আইনি কোনো জটিলতা কি থাকছে না? রিজভির উত্তর, ‘যেহেতু উনি জনসমক্ষে বলেছেন, জাতীয় দল ডাকলে আবারও খেলতে রাজি আছেন, এটা এক ধরনের অবসর থেকে ফেরাই।’
মজার ব্যাপার হলো, পিসিবিরই আরেক আইনজীবী তালিব রিজভি প্রথমে ইউসুফের ফেরা আইনসিদ্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইউসুফ নিষিদ্ধই থাকবেন। অবশ্য দুদিনের মাথায় আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তিনি, ‘ইউসুফ যদি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই থাকেন, ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে পাকিস্তানের হয়ে তাঁর খেলার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।’
নিজ বোর্ডের আইনজীবীদের না হয় পিসিবি তাদের মনমতোই চালাবে। কিন্তু বিদেশে? সেই উপায় তো আর নেই। প্রথম আইনি সমস্যার সমাধান করা গেলেও ইউসুফের সামনে অপেক্ষা করছে দ্বিতীয় জট। ‘ইউসুফের এখন ভিজিট ভিসা আছে। এই ভিসা দিয়ে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করা গেলেও খেলা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। সেটি পাওয়া মাত্রই আমরা তাঁকে বুধবার (আজ) লন্ডনের বিমানে তুলে দেব’—জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবির এক কর্মকর্তা।
তিনি এও জানিয়েছেন, শুক্রবার শুরু এজবাস্টন টেস্টে ইউসুফের খেলা হচ্ছে না। ইংল্যান্ডে পৌঁছেই তাঁর পক্ষে সরাসরি টেস্টে নামা সম্ভব নয়। তা ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলেননি। ইউসুফের ফিটনেস কোন পর্যায়ে আছে, কে জানে। চার টেস্ট সিরিজের তৃতীয়টিতে (১৯ আগস্ট শুরু) তিনি খেলবেন। এর আগে ১৩-১৪ আগস্ট দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলানো হবে তাঁকে ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। ওই প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ সাকিব আল হাসানের উস্টারশায়ার।

বাজ্জোর ‘ফেরা’

ইতালি জাতীয় দলে ফিরছেন বাজ্জো। তবে অন্য
ভূমিকায়। পরশু ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের
প্রধানের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেছেন সাবেক তারকা
২০০৪ সালে বিদায় জানিয়েছেন ফুটবলকে। বিদায়ের পর একরকম ডুবই দিয়েছিলেন ইতালির সাবেক স্ট্রাইকার রবার্তো বাজ্জো। খবরের শিরোনামে খুব একটা দেখা যায়নি এত দিন। বাজ্জো আবার খবরে এলেন। আবার ফুটবলে ফিরছেন তিনি। এএফপি, ওয়েবসাইট।
বয়স হয়ে গেছে ৪৩। ফুটবল ছেড়েছেন তাও ৬ বছর হয়ে গেছে। ভাবনার কিছু নেই। খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বাজ্জো আসলে ফুটবলে ফিরছেন কোচিং স্টাফের অংশ হয়ে।
ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (আইএফএফ) সভাপতি জিয়ানকার্লো অ্যাবাতের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন বাজ্জো। সেখানেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতালির কোচিং স্টাফের একজন হওয়ার প্রস্তাবটা দিয়েছেন অ্যাবাতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চুক্তিটা আজই স্বাক্ষর করে ফেলতে পারেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকার মিস করা বাজ্জো।
১৯৮৮ থেকে ২০০৪, ইতালির হয়ে খেলেছেন ১৬ বছর। ৫৬ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। তবে শুধু ম্যাচ খেলা আর গোল করা দিয়ে বাজ্জোকে বিচার করা দুরূহ। যুগে যুগে ইতালিতে যে কয়জন স্ট্রাইকার এসেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বাজ্জো। ইতালির ফুটবলে সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে এ কারণেই তাঁর দিকে ঝুঁকছে আইএফএফ। বাজ্জোও কাজটি করতে উৎসাহী, ‘আমি জানিয়েছি, তারা আমাকে পাবে। আমি দলের টেকনিক্যাল বিভাগের প্রধান হতে রাজি আছি।’
জাতীয় দলের দায়িত্ব আইএফএফ দিয়েছে প্রানদেল্লির হাতে। তবে সুদিন ফিরিয়ে আনতে প্রানদেল্লির ওপরই নির্ভর করে থাকছে না তারা। বাজ্জোসহ আইএফএফ শরণাপন্ন হয়েছে সাবেক কোচ আরিগো সাচ্চিরও। তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তুলতে তাঁকে সাহায্য করবেন ব্যালন ডি’অর জেতা প্রথম ইতালিয়ান জিয়ান্নি রিভেরা।
বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার পর ইতালি দলের খোলনলচে পাল্টে যাওয়াটা অনুমিতই ছিল। এটাই হতে চলেছে এখন। কোচিং স্টাফে সমন্বয় করা হচ্ছে তরুণ আর অভিজ্ঞ কোচদের মধ্যে। সিজার প্রানদেল্লির প্রথম ঘোষিত দলেও তরুণ খেলোয়াড়দের আধিক্য।
ইতালির পত্রিকা লা গেজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-এর ধারণা, ইতালি পা বাড়াচ্ছে জার্মানির পথে। বাজ্জোও দিয়েছেন সে রকম ইঙ্গিতই, ‘ইতালির কোচ আর খেলোয়াড়েরা শুধুই জয়ের দিকেই নজর দেয়। এমনকি সুন্দর ফুটবলকে বিসর্জন দিয়েও এটা করে তারা। কিন্তু স্পেনে সুন্দর ফুটবল খেলা হয়। সেখানে হেরে গেলেও দলগুলো সুন্দর ফুটবলই খেলে।’