Sunday, July 31, 2016

তুর্কি সেনাবাহিনীতে ব্যাপক রদবদল

তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডাররা শুক্রবার প্রেসিডেন্ট
রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন -এএফপি
তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর তিন প্রধানকে স্বপদে বহাল রাখা, ৯৯ জন কর্নেলকে জেনারেল ও এডমিরাল পদে পদোন্নতিসহ অন্য বিষয়ে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের (ইয়াস) সভায় এসব পরিবর্তন আনা হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টার ওই বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরার। ১৫ জুলাই অভ্যুত্থানচেষ্টার পর এটাই ছিল তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইয়াস সভা। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের কাছে পাঠানো হবে। বুধবার হঠাৎ করেই দেশের ১৪৯ জন এডমিরাল ও জেনারেলকে বরখাস্তের ঘোষণা দেয়ার পর এ বৈঠকে বসে তুরস্কের শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা।
ওই বৈঠকের কিছুক্ষণ আগে তুরস্কের সেনাবাহিনীর দু’জন জেনারেল চাকরি থেকে পদত্যাগ করে দেশের সরকারের এ দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান। দেশটির ল্যান্ড ফোর্সেস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইহসান ইয়ার এবং প্রশিক্ষণবিষয়ক কমান্ডার জেনারেল কামিল বাসোগলু পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তারা দু’জনেই ছিলেন ‘অরজেনারেল’। এটা তুরস্কের জেনারেলদের সর্বোচ্চ পদ। ইয়াস বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, তুরস্কের ‘চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে জেনারেল হালুসি আকার তার পদে বহাল থাকছেন। এছাড়া, টার্কিশ ল্যান্ড ফোর্সেসের কমান্ডার জেনারেল সালিহ জেকি কোলাক, বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আবিদিন উনাল এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল রিসেপ বুলেন্ত বস্তানোগ্লুও তাদের পদে বহাল থাকছেন। তবে আধা সামরিক বাহিনী ‘গেন্ডারমেরি’র জেনারেল কমান্ডার ও জেনারেল স্টাফ ডেপুটি চিফ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই দুই পদে নিয়োগ পেয়েছেন যথাক্রমে জেনারেল ইয়াসের গুলের এবং জেনারেল উমিত দান্দার। জেনারেল মুসা অ্যাভেসার এখন নতুন ফার্স্ট আর্মির কমান্ডার, জেনারেল ইসমাইল মেতিন তেমেল সেকেন্ড আর্মি কমান্ডার হয়েছেন। এদিকে, ৯৯ জন কর্নেলকে জেনারেল ও অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ১৬ জেনারেল ও এডমিরালকেও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। আর ২০ জেনারেল ও অ্যাডমিরালের চাকরি এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের প্রায় অর্ধেক জেনারেল ও এডমিরালকে অসম্মানজনকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৬৮৪ জন জেনারেল ও এডমিরালকে বরখাস্ত করে এরদোগান সরকার। দেশের আরও ১০৯৯ সেনা অফিসার ও ৪৩৬ জুনিয়র অফিসারকে অসম্মানজনকভাবে বরখাস্ত করে সরকার। এছাড়া, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর অধিকারী দেশ তুরস্কের মাত্র ১ দশমিক ৫ ভাগ সদস্য সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার টার্কিশ জেনারেল স্টাফের প্রেস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স ডিপার্টমেন্টের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানচেষ্টায় মোট ৮ হাজার ৬৫১ সৈনিক জড়িত ছিল। এদের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে এতে জড়িয়ে পড়েছিল। এদের ১ হাজার ২১৪ জন আবার ক্যাডেট। সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানচেষ্টায় ২৪টি জঙ্গি বিমানসহ ৩৫টি বিমান ব্যবহৃত হয়েছিল, যা মোট বিমানের সাত শতাংশ। এতে আরও বলা হয়, অভ্যুত্থানচেষ্টায় ৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ ৩৭টি হেলিকপ্টার (যা মোট সংখ্যার প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ), ১৭২টি সাঁজোয়া যান, ৭৪টি ট্যাংক ব্যবহƒত হয়েছিল। বিদ্রোহীরা তিনটি জাহাজও ব্যবহার করেছিল।

দিল্লির রাস্তায় হাঁটুপানি

আকস্মিক বন্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির
রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ
যানজটের। শুক্রবার তোলা ছবি। -এপি
ভারতের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে দেশটির নয়াদিল্লির রাস্তায় যানজটে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সারা রাত ধরে এসব লোক রাস্তার মধ্যে কাটিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ভয়াবহ এ পরিস্থিতি সামাল দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। স্থানীয় টিভি চ্যানেলের খবরে দেখা গেছে, নয়াদিল্লির সঙ্গে সংযুক্ত গুরগাঁও শহরের রাস্তার সংযোগস্থল জুড়ে মাইলের পর মাইল রাস্তা যানজটে পরিপূর্ণ। খবর এএফপির। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দা ও অফিসযাত্রী লোকেরা হাঁটু সমান পানিতে চলাচল করেছেন। শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হারানা রাজ্যের রাস্তাগুলোতে মানুষ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় সরকার। এছাড়া এ এলাকার স্কুল-কলেজগুলোও দু’দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গুরগাঁও ভারতের ‘মিলেনিয়াম শহর’ হিসেবে স্বীকৃত। এখানেই রয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, বিশ্ব সেরা গলফ কোট, দেশ সেরা হাসপাতাল ও জমকালো শপিং মল। গুরগাঁও পুলিশ বলেছে,
রাস্তায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে দিল্লির নাগরিকরা গুরগাঁও শহরে এসেছে। ফলে অতিরিক্ত মানুষের চাপে এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তাদের ফিরে যেতে আদেশ দেয়া হয়েছে। অনুভূতি শর্মা নামের এক বাসিন্দা তার সন্তানকে কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি শিশু রক্ষণাবেক্ষণাগার থেকে নিয়ে আসতে পারেনি। সন্ধ্যা ৭টায় বাসা থেকে রওনা হয়ে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত যানজটে আটকা ছিলেন। শর্মা বলেন, আমার এক প্রতিবেশী রাত ৮টায় তাকে নিয়ে রওনা হন, তখনও আমি যানজটে আটকা ছিলাম। রাজেশ মেহতা নামের একজন টুইটারে লেখেন, গুরুগ্রাম! কি দুঃস্বপ্নের রাত কাটিয়েছি। ৫ ঘণ্টায় পার হয়েছি মাত্র ১ কিলোমিটার পথ। রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করে গাড়িতে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় হিন্দুদের কাছে গুরগাঁও শহরটি ‘গুরুগ্রাম’ নামে পরিচিত। এপ্রিল মাসে স্থানীয় সরকার এটির নাম পরিবর্তন করে গুরুগ্রাম রাখেন। দেশটিতে চার মাসব্যাপী মৌসুমী বৃষ্টি শুরু হয় জুন মাস থেকে। এটা দেশের ৩৩ কোটি কৃষকের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তবে ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ অংশে অতি বৃষ্টির কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়।

যেসব সমস্যা তৈরি করবেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানামুখী সমস্যায় পড়বে। যেমনটা পড়বে গোটা বিশ্ব। প্রথম সমস্যাটি তৈরি করবে তার সীমাহীন অশালীনতা। আমেরিকা অনেক কিছুই দেখেছে, তবে নারীর প্রতি ঘোরতর ঘৃণা প্রদর্শনকারী একজন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টকে এর আগে দেখেনি। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে স্থপতি ফিলিপ জনসনের সঙ্গে এক কথোপকথনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের আবর্জনার মতো বিবেচনা করতে হবে।’ তিনি এখনও তাদের বিরক্তিকর জীব হিসেবে দেখে থাকেন। সমস্যা তৈরি করবে তার নির্লজ্জ বর্ণবাদী চরিত্রও। তার প্রথম স্ত্রীর মতে, ট্রাম্প হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তার বেডসাইড টেবিলে হিটলারের ভাষণগুলো সংগ্রহে রেখেছেন এবং যিনি হাসতে হাসতে কৃষ্ণাঙ্গদের বলেন ‘অলস’, মেক্সিকানদের উপহাস করেন ‘ধর্ষক’ বলেন এবং গোটা মুসলমান জনগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী বলে গণ্য করেন।
তার ইহুদিবিদ্বেষও সমস্যার কারণ হবে। গত বছর ডিসেম্বরে রিপাবলিকান জিউইশ কোয়ালিশনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আমাকে সমর্থন দিচ্ছ না, কেননা আমি তোমাদের টাকা চাই না।’ সমস্যা দেখা দেবে তার অজ্ঞতার কারণেও- শুধু বিশ্বের জন্য নয়, তার নিজ দেশের জন্যও। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের সদস্যপদ থাকা-না থাকা নিয়ে গণভোটের কয়েকদিন আগেও তিনি ‘ব্রেক্সিট’ শব্দটির মানে জানতেন না। আর এই চলতি মাসে জানা গেছে, তিনি জানেন না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে মোট কয়টি অনুচ্ছেদ আছে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক ও উদ্বেগজনক সমস্যাটি হবে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিধর দেশটির নেতার ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে কিছু সরলীকৃত ধারণা। ফলে ‘আমেরিকাকে আবারও মহান’ করার প্রতিশ্র“তি সত্ত্বেও ট্রাম্পের ওইসব সরলীকৃত ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ সংক্রান্ত পুনরালোচনা নিয়ে গত মার্চে তার যে ধারণা প্রকাশ পেয়েছে সেটার কথাই ধরুন। তার ধারণাটি নির্বোধের মতো।
বিশ্বে মুদ্রা মজুদের ক্ষেত্রে যে যুক্তরাষ্ট্র একচেটিয়া অবস্থান ধরে রেখেছে, ঋণ ‘পুনরালোচনার’ ক্ষেত্রে সে দেশের সরকারের নাকি কিছুই করার নেই! তবে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যখন তার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবেন, তখন এর পরিণতি হবে বিপর্যকর। ক্লিভল্যান্ডে মনোনয়ন দৌড়ে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেটার কথাই ধরুন। ন্যাটোর কোনো সদস্যরাষ্ট্র হুমকির সম্মুখীন হলে জোটের অন্য দেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে সমর্থন দেবে- সংস্থাটির এই নীতি তিনি পুনর্বিবেচনা করবেন। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়া বাল্টিক দেশগুলোকে স্বাধীন রেখেছে। ট্রাম্পের মতে, এর ফলে রাশিয়া বিশ্বে তার হুমকি প্রদর্শনের বিষয়টি পুনঃপরীক্ষা করবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে তার সীমানার সহজ সমন্বয় ঘটাবে অথবা অন্যদের দ্বারা ‘জিম্মি হিসেবে আটক’ কোনো সংখ্যালঘু রুশভাষীর উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। বাস্তবতা হল, এর ফলে পোল্যান্ড বা ইউক্রেনে হামলা করতে পারে রাশিয়া। রাশিয়া কেনইবা ন্যাটো সদস্য ও তার প্রতিবেশীদের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকবে? এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপান বা অন্য কোনো পশ্চিমা মিত্রের সঙ্গেও যুদ্ধ বাধাতে পারে রাশিয়া। ট্রাম্প সুযোগ পেলেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের প্রশংসা গাইতে ভোলেন না।
একবার তিনি সিএনএনের ল্যারি কিংকে (তার বেস্টসেলার ‘থিংক বিগ’ ও ‘কিক অ্যাসে’র প্রচারকালে) বলেছিলেন, পুতিন একজন মহান নেতা, যিনি ‘একটি মহান কাজ করে যাচ্ছেন... রাশিয়ার পুনর্গঠন’। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত পুতিন স্বাক্ষরিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনকে ট্রাম্প ‘মাস্টারপিস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যেখানে সিরিয়ায় মার্কিন নীতির সমালোচনা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে, ইউক্রেন নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রায় দুই বছর পর তিনি ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, নেতৃত্বের জন্য পুতিন ‘এ’ পাওয়ার যোগ্য। সত্য হল, রাশিয়ার সঙ্গে পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক পুরনো ও ঘনিষ্ঠ। বর্তমান শতকের প্রথম দশকের শুরুতে মার্কিন ব্যাংকগুলো যখন ট্রাম্পকে কালোতালিকাভুক্ত করে, তখন তিনি রুশ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ টরন্টো, সোহো ও পানামায় সরিয়ে নেন। ট্রাম্প নিজের স্বার্থে ও নানা সুবিধার জন্য রুশ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং নিজের প্রভাব খাটিয়েছেন- এ সংক্রান্ত অসংখ্য তথ্য এখন বেরিয়ে আসছে। ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হলে প্রকৃতই তা হবে আতংকজনক একটি ব্যাপার। সমস্যা শুধু তার অশালীনতা, নারী বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও অজ্ঞতা নয়। এটি আমেরিকার প্রতি তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে ভাষান্তরিত
বার্নার্ড-হেনরি লেভি : ফরাসি দার্শনিক ও লেখক

মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার ইংল্যান্ড না অস্ট্রেলিয়ায়?

মুস্তাফিজুরের অস্ত্রোপচার করাতে হবে, তা বৃহস্পতিবারই জানা গেছে। কিন্তু কোথায় তার অস্ত্রোপচার হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সেরা জায়গাতেই মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার করাতে চায় বিসিবি। এ মুহূর্তে তিনি ইংল্যান্ডে থাকলেও অস্ট্রেলিয়াতে তার অস্ত্রোপচার হতে পারে। ২০ বছর বয়সী এই পেসারের অবস্থা নিয়ে কাল বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনও নিশ্চিত করিনি কোথায়, কখন ওর অস্ত্রোপচার হবে। অস্ট্রেলিয়াতেও কথা বলব। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। যদি অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচার করানো হয়, তবে গ্রেগ হয়ে’র কাছে পাঠানো হতে পারে। তিনিও এ ধরনের অস্ত্রোপচার করেন। আশা করছি, দু’একদিনের মধ্যে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারব।’
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় এমআরআই রিপোর্টে মুস্তাফিজের বাঁ-কাঁধের ল্যাবরামে ধরা পড়েছে গ্রেড-২ শ্রেণীর চোট। অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় নেই। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টনি কোচার মুস্তাফিজের দ্বিতীয় এমআরআই রিপোর্ট দেখে অস্ত্রোপচারের পরামর্শই দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার হলে পুরোপুরি সুস্থ হতে কমপক্ষে পাঁচ মাস সময় লাগবে। বিসিবির চিকিৎসক বলেন, ‘এ ধরনের ইনজুরি সারতে কমপক্ষে পাঁচ মাস সময় লাগে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি পাঁচ মাসের মধ্যেই খেলার মতো ফিট হয়ে যাবে মুস্তাফিজ।’ মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার হলে নিশ্চিতভাবেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সিরিজ এবং নিউজিল্যান্ডে অ্যাওয়ে সিরিজের দুটিই মিস করবেন কাটার মাস্টার। শুধু তাই নয়, আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিপিএলের চতুর্থ আসরও মিস করবেন তিনি।

ওজন কমাচ্ছেন অভিনেত্রী তিশা

টিভি পর্দার বাইরে সিনে পর্দায়ও ব্যস্ততা বেড়েছে নুসরাত ইমরোজ তিশার। তবে আজকাল এ অভিনেত্রী যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই নিজের ওজন নিয়ে নতুন এক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। সবাই প্রশ্ন করছেন ‘তিশা এতো শুকিয়েছো কেন?’
সত্যিই তিশার ছিপছিপে শরীর দেখে অবাক হচ্ছেন অনেকেই। পাশাপাশি কেউ কেউ আবার কৌতূহলও প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করছি এখন। তাই ছবির প্রয়োজনেই ওজন কমাচ্ছি।’ এর আগে ভিন্নধারার ছবিতে অভিনয় করলেও চলতি বছর থেকে পুরো বাণিজ্যিক ঘরানার ছবির নায়িকা বনে গেছেন তিনি। গেল ঈদেও শাকিব খানের নায়িকা হয়ে হাজির হয়েছেন সিনেমা হলের পর্দায়। আনন্দনগর প্রতিবেদক

Saturday, July 30, 2016

মাযহাব কেন মানতে হবে by মুহাম্মাদুল্লাহ আরমান

হযরত মুআয বিন জাবাল রাযি.-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে ইয়ামানের উদ্দেশে পাঠান, তখন নবীজী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, মুয়ায! তোমার কাছে কোনো দীনী সমস্যা আসলে তার সমাধান তুমি কীভাবে করবে? উত্তরে মুয়ায বলেন, আল্লাহর কিতাব দ্বারা। রাসূল জিজ্ঞাসা করলেন, যদি তুমি কুরআনে সমাধান না পাও? মুয়ায বলেন, আল্লাহর রাসূলের হাদীস দ্বারা। নবীজী আবার প্রশ্ন করলেন, যদি তুমি হাদীসেও সমাধান না পাও তাহলে কী করবে? মুয়ায উত্তর দেন, আমি আমার চিন্তাশক্তি দ্বারা ইজতিহাদ করব এবং ইজতিহাদ করার ক্ষেত্রে আমি কোনো ত্রুটি করবো না। মুয়াযের উত্তর শুনে রাসূূূূূূূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য যিনি তার রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বোধ ও বুদ্ধি দান করেছেন যার ওপর রাসূল সন্তুষ্ট। (হাদীসটি হাসান। ইবনুল কায়্যিম রহ. এটিকে সহীহ বলেছেন।Ñ সুনানে আবু দাউদ ২/৫০৫)
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। জীবনের খুঁটিনাটি সব বিষয়ের সমাধান ইসলামে আছে। পবিত্র কুরআন এবং হাদীস শরীয়তের প্রধান দুই উৎস। তবে জীবনের সব সমস্যার সমাধান সরাসরি কুরআন এবং হাদীসে নেই। আর সব সমস্যার সমাধান যে কুরআন-হাদীসে সরাসরি নেই, সে বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন, যা ওপরের হাদীস থেকে স্পষ্ট। এখন যদি কেউ বলেÑ ‘আল্লাহ এক, রাসূল এক, কুরআন এক; মাযহাব কেন চারটা? আমরা মাযহাব মানি না, কারও ইজতিহাদ মানি না; সব সমস্যার সমাধান আমরা কুরআন এবং হাদীস থেকেই নেব। কীসের আবু হানীফা, কীসের শাফী...।’ এ জাতীয় কথা নিতান্ত বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাযি.-এর কাছে এক লোক এসে কিছু প্রশ্ন করে বলল, আমাকে কুরআন থেকে এগুলোর সমাধান দিন। প্রতিউত্তরে ইমরান রাযি. বললেন, ‘তুমি একটা আহমক। যোহর নামাযের চার রাকাতে কিরাত আস্তে পড়তে হয়, এই কথা তুমি কুরআন থেকে বের করতে পারবে?...।’ (আল ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল মাওযুআত, পৃ: ৪৬)
এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট, সবকিছুর সমাধান সরাসরি কুরআন এবং হাদীস থেকে আশা করা বোকামি। তাই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর অনুসরণ করো, অনুসরণ করো রাসূলের এবং অনুসরণ করো তাদের যারা তোমাদের মধ্যে বিচারক, ফকীহ ও আলেম।’ (সূরা নিসা : ৫৯) এই আয়তের শেষের অংশে যাকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে আল্লাহ তাকে ‘উলিল আমর’ শব্দে ব্যক্ত করেছেন। আর ‘উলিল আমরের’ ব্যাখ্যায় হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি., জাবের বিন আবদুল্লাহ রাযি., হাসান বসরী, মুজাহিদ ও যাহ্হাক রহ. বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যারা আলেম এবং ফকীহ তাদের অনুসরণ করা। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, কান্ধলবী ২/২৪০)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, কোনো মাসআলার সমাধান যদি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বাণীতে না পাওয়া যায় তাহলে তার সমাধানের জন্য মুজতাহিদ ফকীহর শরণাপন্ন হতে হবে। এভাবেই কিয়ামত পর্যন্ত দীন টিকে থাকবে। আর সে জন্যই উলামায়ে কেরামকে আল্লাহর রাসূল নবীদের ওয়ারিস বলেছেন। উদ্দেশ্য একটাই, নবীর অনুপস্থিতিতে উলামায়ে কেরামই দীনের হাল ধরবেন। নতুন নতুন সমস্যার সমাধান দেবেন। এখন কেউ যদি বলে, কারও তাকলীদ করা যাবে না, মাযহাব মানা যাবে না, শুধু কুরআন-হাদীসই মানা যাবে; তাহলে তো ইসলাম ধর্মই একটা অসম্পূর্ণ ধর্ম হয়ে যায়! কারণ কুরআন হাদীসে তো সরাসরি সব সমস্যার সমাধান নেই! বিষয়টা আরেকটু খোলাসা করছি।
পবিত্র কুরআনে যে সকল আয়াত আহকাম ও বিধি-বিধান সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে তার সংখ্যা হলো ৫০০। এই ৫০০ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনের বিভিন্ন বিধি-বিধান বর্ণনা করেছেন। তেমনি হাদীসের মধ্যেও সব হাদীস আহকামের না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীস সংখ্যা তাকরার ছাড়া মাত্র ৪৪০০টি। যদিও সনদের ভিন্নতা, তাকরার হাদীস, সাহাবায়ে কেরামের উক্তি এবং তাবেঈনের ফতোয়াসহ হাদীসের সংখ্যা লাখ লাখ। কিন্তু মূল হাদীস চার হাজার চারশই। ইমাম আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বাগদাদী বলেন, ‘তাকরার ছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীস সংখ্যা চার হাজার চারশ।’ এ ব্যাপারে সুফয়ান সাওরী, ইমাম শে’াবা, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান, আবদুর রহমান বিন মাহদী, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ.-এর মতো হাদীসের ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। (তাওযীহুল আফকার, পৃ: ৬৩, মিশর থেকে প্রককাশিত)
এই ৪৪০০ হাদীসের মধ্যে আহকামের হাদীস মাত্র ১১০০। এ সম্পর্কে ইমাম আবু দাউদ রহ. বর্ণনা করেন যে, ইয়াহইয় বিন সাঈদ আল কাত্তান এবং আবদুর রহমান বিন মাহদীর নিকট আহকামের হাদীস ৮০০টি, আবদুল্লাহ বিন মুবারকের নিকট ৯০০। আর ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেন, আহকামের হাদীস ১১০০। (রেসালায়ে ইমাম আবু দাউদ, পৃ: ৫-৬, মিশর থেকে প্রকাশিতÑ ১৩৬৯হি.)। এখানে ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর মতটি বেশি সঠিক। কারণ তিনি অন্য তিনজনের চেয়ে ফিকহ ও ইজতিহাদের দিক দিয়ে অগ্রগামী। (দেখুন, ইমাম ইবনে মাজাহ আওর ইলমে হাদীস, পৃ: ১৬৪, করাচী; আবদুর রশীদ নোমানী রহ.)
ওপরের পুরো পর্যালোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, কুরআন এবং হাদীস মিলিয়ে আহকামের আয়াত এবং হাদীস হচ্ছে মাত্র ১৬০০। এখন এই ১৬০০ আয়াত ও হাদীস থেকে আমরা আমাদের জীবনের কয়টা সমস্যার সমাধান নিতে পারব? ১৬শ, ৩২শ, কিংবা সর্বোচ্ছ ৪৮শ? আচ্ছা, মানুষের জীবনের সমস্যা ও পুরো ইসলামী জীবন ব্যবস্থা কি এই ৪৮০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ? এর মাধ্যমে কি পুরো ইসলামী জীবন ব্যবস্থার রূপরেখা এবং দৈনন্দিন জীবনে মানুষের প্রত্যেকটি দীনি সমস্যার সমাধান পেশ করা সম্ভব? কখনোই সম্ভব না। জীবনের সব ক্ষেত্র মিলিয়ে দৈনন্দিন জীবনে মানুষ প্রায় লক্ষাধিক মাসআলার মুখোমুখি। হয়তো সব মাসআলা সবসময় লাগে না। তাহলে এটা কীভাবে বলা সম্ভব যে, আমরা সব সমস্যার সমাধান কুরআন এবং হাদীস থেকে নেব। মাযহাব মানার দরকার নেই! তাকলীদের প্রয়োজন নেই!
ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং, বীমা, এমএলএম, হুন্ডি, শেয়ার বাজার, মুদ্রানীতি, চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা এবং বাজার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন এমন নিত্যনতুন সমস্যা মানুষের সামনে আসছে; যার সমাধান কিংবা সমাধানের মূলনীতি মাযহাবের ইমামগণ বহু আগেই রেখে গেছেন এবং এর জন্য তারা অনুকূল পরিবেশও পেয়েছেন। অথচ এসবের সমাধান সরাসরি কুরআন-হাদীসে নেই। যারা মাযহাব মানবেন না বলে অঙ্গীকার করে বসে আছেন তারা নিত্যনতুন সমস্যাগুলোর সমাধান কীভাবে করবেন? হয় মাযহাব মানতে হবে না হয় নিজেরাই ইজতিহাদ করতে হবে। কিন্তু ইজতেহাদ যে করবেন সেই সুযোগ ও যোগ্যতা তো থাকতে হবে! আচ্ছা ধরে নিলাম যোগ্যতা আছে, ইজতিহাদও করলেন। এখন সেই ইজতিহাদকৃত মাসআলা অন্যের জন্য মানা জরুরি কি না? যদি বলেন জরুরি তাহলে তাদের সেই পুরনো কথায় ফিরে যেতে হয়! ‘সব সমাধান কুরআন-হাদীস থেকে নেব, কারও তাকলীদ ও ইজতিহাদ মানি না!’ যদি কুরআন-হাদীসের বাইরে গিয়ে ইমাম আবু হানীফাকে মানা না যায় তাহলে তাদেরই বা কেন মানতে হবে? তাই অনৈক্যর পথে না গিয়ে বাস্তবতায় ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ফেকহে ইসলামী ও মাযহাব অনুসরণ এমন এক বাস্তবতা যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এ জন্যই আরবের সালাফী আলেমগণ মাযহাবের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও বলেন, সাধারণ মানুষকে কোনো না কোনো ইমামের মাযহাব মেনে চলতে হবে। শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহাব নজদী, আবদুল আযীয বিন আবদুল্লাহ বিন বায, সালেহ আল উসাইমিন, মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম আলে শায়খ প্রমুখ এই সিদ্ধান্তই দিয়েছেন। কারণ একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কুরআন-হাদীস থেকে আহকাম বের করে কখনোই আমল করা সম্ভব নয়। কারও না কারও কাছ থেকে তাকে সমাধান নিতেই হবে। আর এটাই তো মাযহাব। মাযহাব মানার অর্থ কুরআন-হাদীসের বাইরে যাওয়া নয়, বরং কুরআন-হাদীস অনুযায়ী সঠিক ও নির্ভুলভাবে আমল করার পথ সুগম করা।

Friday, July 29, 2016

ওবামার সেরা সাত ভাষণ

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থী মনোনয়নের আনুষ্ঠানিকতায় ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে তিনি এক আবেগঘন বক্তৃতায় দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আশাবাদী ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেন। সম্মেলনের এ ভাষণকে ওবামার সেরা ভাষণগুলোর একটি বলে জানিয়েছে ইউএসএ টুডে। ওবামার সেরা সাতটি ভাষণের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হল- ডেমোক্রেটিক সম্মেলন ২০০৪ : ২০০৪ সালে ডেমোক্রেটিক দলের কনভেনশনে ঐতিহাসিক এক ভাষণ দেন বারাক ওবামা। সে সময় তিনি ছিলেন ইলিনয় রাজ্যের সিনেটর প্রার্থী। ১৯২৮ সালের পর ওবামাই প্রথম ব্যক্তি যিনি কংগ্রেস সদস্য কিংবা গভর্নর না হয়েও সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেই ভাষণে ওবামা তার পারিবারিক জীবনের শেকড় থেকে শিখর পর্যন্ত ঘটনাবলি আমেরিকান স্বপ্নের সঙ্গে মিশিয়ে অত্যন্ত আবেগমথিত উপায়ে উপস্থাপন করেন। কীভাবে তার কেনিয়ান বাবা পড়াশোনা করতে আমেরিকায় এসেছিলেন এবং কানসাসের সামরিক পরিবারের মেয়ে বিয়ে করেছিলেন।
কীভাবে ওবামা মার্কিন রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন এবং আমেরিকানদের স্বপ্ন পূরণে ডেমোক্রেট দলের সঙ্গে পথ পাড়ি দিচ্ছেন। সেই ভাষণে ওবামা বলেন, ‘আমার বাবা-মা আমাকে কেবল অসম্ভব ভালোবাসাই দেননি। তারা আমাকে একটি আফ্রিকান নাম দিয়েছেন বারাক (নামের অর্থ শান্তিপূর্ণ)। বাবা বলেছিলেন, শান্ত সহিষ্ণু আমেরিকায় বারাকের সাফল্য কোথাও আটকাবে না। তারা আমাকে সেরা স্কুলে ভর্তি করেছিলেন। যদিও তারা ধনী ছিলেন না। কেননা উদার আমেরিকায় সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে ধনী হওয়া লাগে না।’ কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ : ক্ষমতার মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মিসরের কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। ভাষণের শুরুতে তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে একটি প্রচণ্ড উত্তেজনার মুহূর্তে মিলিত হয়েছি, যে উত্তেজনার শেকড় গ্রথিত রয়েছে ঐতিহাসিক উপাদানের মধ্যে যা কিনা নীতি সম্পর্কিত যে কোনো চলমান বিতর্ককে অতিক্রম করে যায়। ইসলাম ও পশ্চিমের মধ্যকার সম্পর্কের মধ্যে যেমন রয়েছে সহাবস্থান ও সহযোগিতা, তেমনি রয়েছে সংঘাত ও ধর্মযুদ্ধের ঘটনাও। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মের অন্তঃস্থলে একটি নিয়ম আছে, সেটা হল- আমরা অন্যের প্রতি তা-ই করি যা আমরা অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি। এই সত্য জাতি ও মানুষের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
এ বিশ্বাস নতুন কিছু নয়; এটা কালো, সাদা বা বাদামি নয়; সেটা খ্রিস্টান বা মুসলমান বা ইহুদিও নয়। এটা হল সেই বিশ্বাস যা সভ্যতার দোলনাতেই স্পন্দিত হয়েছিল, এবং এটা হল সেই বিশ্বাস যা স্পন্দিত হয়েছে সভ্যতার দোলনায় এবং এখনও যা বিশ্বজুড়ে লাখো-কোটি মানুষের বুকে স্পন্দিত হয়ে চলেছে। এটা হল অন্য মানুষের প্রতি আস্থা, এবং এটা তা-ই যা আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমাদের সেই সামর্থ্য আছে- যে পৃথিবী চাই তাকে বানানোর, তবে শুধু যদি কী লিখা আছে সেটা মনে রেখে আমাদের মনে নবসূচনা সৃষ্টির সাহস থাকে। পবিত্র কোরআন আমাদের বলে, হে মানবজাতি, আমি তোমাদের পুরুষ ও নারী হিসেবে সৃষ্টি করিয়াছি; আমি তোমাদের জাতি ও গোত্রে ভাগ করিয়াছি যাতে তোমরা একে অন্যকে জানিতে পার।’ নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ ২০০৯ : মার্কিন ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন বারাক ওবামা। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ পুরস্কার গ্রহণ অনেকের কাছেই অস্বস্তির ছিল। কেননা যুক্তরাষ্ট্র তখন দুটো যুদ্ধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। আফগানিস্তান ও ইরাকে তার যুদ্ধফ্রন্ট খোলা।
শান্তি পুরস্কার গ্রহণকালে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন ওবামা। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা বা আর যারা এই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের পরিমাপ করার মতো শিক্ষা-দীক্ষা বা যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বশান্তির প্রতি তৈরি হওয়া নতুন নতুন হুমকি থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারি না। এটা শুধু সন্ত্রাসবাদিতা নয়, বরং নাগরিক আÍবিরোধ ও গণ-গোলাগুলি পৃথিবীকে হুমকিতে ফেলেছে। আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলেই হবে না, তার নৈতিক নায্যতাও খতিয়ে দেখতে হবে।’ সেলমা ভাষণ ২০১৫ : আমেরিকার ইতিহাসে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সেলমা’ পদযাত্রার ৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামা তার ভাষণে বলেন, ‘ওই ঘটনাটি ছিল একটি মাইলফলক। অধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক, শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের জন্যই নয়, সব আমেরিকানের জন্যও।’ এ সময় শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ওবামা আরও বলেন, ‘সেই বর্ণবাদের ছায়া আমাদের জাতির ওপর থেকে এখনও সরে যায়নি। আমরা জানি,
আমাদের সেই পদযাত্রা শেষ হয়নি। চূড়ান্ত বিজয় এখনও অর্জিত হয়নি।’ কৃষ্ণাঙ্গ গির্জায় হামলা ২০১৫ : যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের এক গির্জায় শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারীর হামলায় ৯ জন নিহত হন। এরপর ৫ হাজার মানুষের সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের সংকট নিয়ে এক আবেগঘন ভাষণ দেন। ওবামা বলেন, ‘একটি জাতি হিসেবে এই ভয়ংকর ট্র্যাজেডিতে ঈশ্বর আমাদের অপার কৃপা করেছেন, কারণ আমরা কোথায় অন্ধ হয়ে আছি, তা আমাদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।’ ওবামা এতটাই আবেগপূর্ণ কণ্ঠে তার কথাগুলো উচ্চারণ করতে থাকেন, শুনে মনে হচ্ছিল তিনি যেন ধর্মীয় নীতি-উপদেশ দিচ্ছেন। চার্চের বাদকদের যন্ত্রসঙ্গীতে তার সবচেয়ে আবেগঘন কথা আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। রজার বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০১৬ : নিউ জার্সির রজার বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ভাষণে ওবামা বলেন, ‘রাজনীতিতে এবং জীবনে- দুই ক্ষেত্রেই অজ্ঞতা চলে না। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না, তুমি যে বিষয়ে কথা বলছ, সে বিষয়ে তুমি জানো না।’ ডেমোক্রেটিক সম্মেলন ভাষণ ২০১৬ : এই ভাষণে হিলারিকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি ভোটারদের উদ্বেগ আমলে নিয়ে তাদের হতাশা উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেন ওবামা।

চীন সাগরে বেইজিং-মস্কোর যৌথ মহড়ার ঘোষণা

দক্ষিণ চীন সাগরে আগামী সেপ্টেম্বরে যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে চীন ও রাশিয়া। বেইংজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়। দক্ষিণ চীন সাগরের বিশাল এলাকায় চীনের মালিকানা দাবিকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নাকচ করে দেয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এ ঘোষণা এল। খবর এএফপির। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াং ইউজুন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের সংশ্লিষ্ট সাগর ও আকাশে এ মহড়া চালানো হবে। তবে তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্য করে এ মহড়া হচ্ছে না।
হেগের আন্তর্জাতিক স্থায়ী সালিশ আদালত সম্প্রতি এক রায়ে বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের মালিকানা দাবির কোনো বৈধ ভিত্তি নেই। ফলে উনিশশ’ চল্লিশের দশক থেকে চীনা মানচিত্রে দক্ষিণ চীন সাগরের যে মালিকানা দেখানো হচ্ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। দক্ষিণ চীন সাগরে চীন কৃত্রিম দ্বীপসহ বহু সামরিক স্থাপনা তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য চীন এসব করছে বলে মনে করা হয়। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বিরোধ বাড়ছে। পাশ্চাত্যকে লক্ষ্য করে চীন ও রাশিয়া বিভিন্ন সময় যৌথ মহড়া চালায়। এ দেশ দুটোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের মধ্যে প্রায়ই বৈঠকের আয়োজন করা হয় এবং সিরিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান নিয়ে থাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ওই সদস্য দেশ দুটো।

যুদ্ধ এখনও অসমাপ্ত!

শ্রাবণ মাসের অর্ধেকটা চলে গেল। প্রকৃতিও এ মাসের চেহারা দেখাতে কার্পণ্য করছে না। কিন্তু কিছুতেই যেন বৃষ্টিমুখর এই ঋতুর অনুভূতি মনের ভেতরে প্রবেশ করাতে পারছি না। কিছুদিন আগেও বর্ষাকাল এলে একটু বৃষ্টিতে ভিজতাম অথবা খোলা বারান্দায় গিয়ে বসতাম। প্রাণভরে উপভোগ করতাম রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টির গান। এই মুহূর্তে মনের সেই অনুভূতি নেই। নেই মানে একেবারেই নেই। এমনকি গান শোনার জন্য পেনড্রাইভে নতুন যে গানগুলো ডাউনলোড করিয়েছিলাম সেসবও শুনে ওঠা হচ্ছে না। মনের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা, এক ধরনের অশান্তি কাজ করছে! জঙ্গি হামলা, জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের যুদ্ধ, জঙ্গিদের মৃতদেহের ছবির সঙ্গে চোখের সামনে ভেসে উঠছে ডাচ্-বাংলা চেম্বারের সভাপতি হাসানের ছবি। এমন একজন ব্যবসায়ী কয়েক দিন উধাও থাকার পর বুড়িগঙ্গায় তার লাশ ভেসে উঠেছে। হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের লাশগুলো কুপিয়ে বীভৎস করার কথা শুনে মনে হয়েছে খুনিরা লাশের ওপরও প্রতিশোধ নিয়েছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এসব খুনি তাণ্ডব চালাচ্ছে। ৫-৬ বছর আগে মালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরে একজন পাকিস্তানি জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। হঠাৎ করে তার কথা আবার মনে পড়ে গেল।
তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে ভালো করেছ। আমি এই বন্দর থেকে করাচিতে আমার পরিবারের কাছে কিছু টাকা পাঠাতে ব্যাংকে এসেছিলাম। আমার ভয় হয়, করাচিতে আমার স্ত্রী ব্যাংকে এসে সে টাকা তুলে নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা। কারণ ব্যাংকের গেটে, রাস্তায় যে বোমাবাজি হবে না আর সে বোমায় যে আমার স্ত্রী উড়ে যাবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একসঙ্গে থাকলে তোমাদেরও এসব ধকল সামলাতে হতো।’ এখন দেখছি আমাদের দেশটাকেও কারা যেন সেই দিকে নিতে চাচ্ছে। আমাদের দেশে পাকিস্তানি আইএসআই এসব করাচ্ছে কিনা সে কথাও মন থেকে মুছে ফেলতে পারছি না। এই মুহূর্তে ধানমণ্ডির ব্যবসায়ী মানুষটির কথাই বেশি করে মনে হচ্ছে। ভদ্রলোক সপরিবারে সেখানে বসবাস করতেন। শনিবার সকালে ওষুধ কেনার কথা বলে নিচে নেমেছিলেন। মঙ্গলবার তার লাশ বুড়িগঙ্গায় পাওয়া গেল। ভেসে উঠেছে তার পচে-গলে ফুলে ওঠা বীভৎস লাশ। এমন একটি মৃত্যুই বোধহয় তার ভাগ্যে লেখা ছিল? কী জানি হতেও পারে! কিন্তু আমি যেহেতু ভাগ্যে বিশ্বাস না করে কর্মে বিশ্বাস করি, সে বিশ্বাসে কর্মের বিষয়টিই এসে যায়। কর্মদোষে যদি তার জীবন যায় তাহলে সে বিষয়টিও তো জানা দরকার।
নাকি কুমিল্লার তনু, চট্টগ্রামের মিতু এদের মতো মৃত্যু হয়েছে তার। তনু, মিতু কারোরই তো কর্মদোষের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না। তাদের ক্ষেত্রে কে কতটুকু বিচার পাবে তা জানি না। ব্যবসায়ী হাসানের ক্ষেত্রেইবা কী হবে তাও বলতে পারছি না। দ্রুত তদন্ত করে তার মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট করতে না পারলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। জঙ্গি দমনে যেভাবে আইনশৃংখলা বাহিনীকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, তাতে করে হাসানের মৃত্যু নিয়ে কার কতটুকু মাথাব্যথা আছে বা সময়-সুযোগ আছে সে কথাও বলা যাচ্ছে না। কারণ তনু ও মিতু হত্যার কথা মনে উঠলে হাসানের হত্যা রহস্যের কূলকিনারার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এসব হত্যা রহস্যের ঘটনা যখন মনে জায়গা করে নেয়, তখন মন আর সুস্থ থাকে না। সুস্থ চিন্তা-চেতনা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। কল্যাণপুরের জঙ্গিদের নিয়ে নানা লোকে নানা কথা বলছেন। সেসব কথা জল্পনা-কল্পনার নানা ডালপালা গজিয়ে চলেছে। মিডিয়াগুলো থেকে জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পর নানাধর্মী বিশ্লেষণের কথা কানে আসছে। এক ধরনের সরকারবিরোধী শক্তি ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সাফল্যকে ম্লান করতে চাচ্ছে। অথচ পুলিশ যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি না করত, জঙ্গিদের রুখে না দিত তাহলে দেশ ও জাতি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতো। ২-১টি ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রায়ই অতি চাতুর্যের সঙ্গে এমন সব কথা বা ঘটনা প্রচার করে যে,
তাতে জনমনে প্রশ্ন এবং সন্দেহের উদ্রেক ঘটে। তারা এক মণ দুধে এক ফোঁটা টক ফেলার মতো কাজ করে। আর তাতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষে দেশের এতগুলো চ্যানেলের কে কোথায় এসব করে চলেছে সবসময় তা নজরদারি করা সম্ভব হয় না। আর যারা সরকারবিরোধী শক্তি, তারা তো এটাকে ‘একে তো নাচুনি বুড়ি তার ওপর আবার ঢোলের বাড়ি’ হিসেবে নিয়ে দেশ ও জাতিকে অশান্ত করার কাজটিই করে চলেছে। প্রকারান্তরে তারা আমাদের দেশটিকে পাকিস্তানের মতো জঙ্গি এবং অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছে। এসব দুঃখবাদী (sadist) মানুষের সংখ্যা একেবারে কমও নয়। সরকারের ক্ষতিকেই আখেরে তারা লাভ হিসেবে বিবেচনা করছেন। অভিজ্ঞ মহলের কথা, মসজিদে মসজিদে যেমন জঙ্গিবাদে উৎসাহী খুতবা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের চাতুর্যপূর্ণ কথাবার্তাও বন্ধ হওয়া দরকার। কারণ এটা দলাদলি, বিভক্তি বা বিভেদের সময় না হলেও একটি গ্রুপ তাতে বিশ্বাসী নয়। তাই ওই শ্রেণী বা গোষ্ঠী থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে আবারও ’৭১-এর কথা মনে করতে হবে। ’৭১-কে সামনে এনে প্রগতিশীল শক্তিকে আবারও একজোট হতে হবে। কারণ যুদ্ধ এখনও অসমাপ্ত।
মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট

‘সুইং বোলারদের মোকাবেলায় মানসিক প্রস্তুতি জরুরি’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ দু’দলেরই বোলিং আক্রমণ পেস-নির্ভর। জেমস অ্যান্ডারসন, ক্রিস ওকস, ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদির মতো পেসারদের মোকাবেলা করতে হবে টাইগার ব্যাটসম্যানদের। সুইং বোলারদের মোকাবেলার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা জরুরি বলে মনে করেন বাঁ-হাতি ওপেনার সৌম্য সরকার। পেস বোলারদের বিপক্ষে ভালো কিছু ইনিংস খেলেছেন তার সঙ্গী আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিমকে অনুসরণ করতে চান সৌম্য। ব্যাটিং অনুশীলনে সুইং সামলানো নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সৌম্য বলেন, ‘বোলাররা তো অবশ্যই সুযোগ নেবে। ব্যাটসম্যানদের সুইং দেখে বুঝেশুনে খেলতে হবে। বোলিং মেশিনে সুইং বাড়িয়ে অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে আমাদের। তবে আমার মনে হয়, সুইং বোলিং খেলতে মানসিক প্রস্তুতিটা বেশি জরুরি।’
আগামী বছর ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে হবে বাংলাদেশকে। পেস সহায়ক উইকেটে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন সৌম্যও। তিনি বলেন, ‘ওখানে তো সব বাউন্সি উইকেট। ওদের ওখানে সুইং অনেক বেশি হবে। সেভাবে চিন্তা করেই প্রস্তুত হতে হবে। আমার মনে হয়, সুইং বল নিয়ে অনুশীলন করলে আমরা ভালো করব।’ গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন সৌম্য। এরপর থেকেই ওয়ানডে ক্রিকেটে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত আলো ছড়িয়েছেন। ১৬ ওয়ানডেতে ৪৯.৪২ গড়ে এক সেঞ্চুরি ও চার হাফ সেঞ্চুরিতে তার রান ৬৯২। তবে টি ২০ ক্রিকেটে নজর কাড়তে পারেননি এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ১৯ ম্যাচে ১৫.৭৩ গড়ে রান ২৯৯।
টি ২০তে ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘টি ২০ অনেকদিন খেলেছি। চেষ্টা করছি এ সংস্করণেও ভালো করতে। তবে সফল হতে পারিনি। ভুল বেশি করেছি।’ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলা সৌম্যর সর্বশেষ টি ২০ বিশ্বকাপ ভালো যায়নি। রানখরায় ভুগেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি। কয়েকটি বড় ইনিংসই তাকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে চাই। সব ফরম্যাটেই পারফর্ম করতে হবে। পারফর্ম ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়।’ অনুশীলনে এখন নিজেদের সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন ক্রিকেটাররা। সৌম্য বলেন, ‘সবার সমস্যা এক নয়। আমার যে সমস্যা ছিল তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিং সেশনে অনুশীলনের সময়ে চেষ্টা করব আরও উন্নতি করার।’

তানজিন তিশার সুসময়

নিজ প্রতিভাগুণে মিডিয়ায় বেশ আলো ছড়াচ্ছেন মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশা। গেল ঈদে দুটি নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। সে ধারাবাহিকতায় আসছে কোরবানির ঈদের জন্য অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এ ফাঁকে নতুন তিনটি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজও শেষ করেছেন তিনি। দুটি প্রসাধনী ও একটি খাদ্যপণ্যের এ বিজ্ঞাপনগুলোর শুটিং ঢাকার বাইরে হয়েছে। তিনটি বিজ্ঞাপনই নির্মাণ করেছেন কলকাতার নির্মাতা সনক মিত্র। এ প্রসঙ্গে তানজিন তিশা বলেন, 
সব সময়ই আমি মানসম্মত পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করি। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন তিনটি ভালো বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। তিনটি বিজ্ঞাপনই বেশ ভালো হয়েছে। আমার বিশ্বাস প্রচারে এলে বিজ্ঞাপন তিনটি দর্শকেরও খুব ভালো লাগবে।’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের প্রতিও ঝোঁক রয়েছে তিশার। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘মানসিকভাবে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। শিগগিরই একটি বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ শুরু করব। চলচ্চিত্রে কাজ করলেও নাটক থেকে দূরে সরে যাব না। ছোটপর্দার কারণেই কিন্তু আমি আজকের তানজিন তিশা। তাই এই মাধ্যমকে অবহেলা করার কোনোই কারণ নেই বা সুযোগও নেই।’

Thursday, July 28, 2016

হিলারিকে নিয়ে ক্লিনটনের আবেগমথিত দীর্ঘ ভাষণ

১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বানাতে মাঠে নেমেছিলেন স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ২৪ বছর পর এবার হিলারির পক্ষে ভোট চাইলেন ক্লিনটন। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়নের জন্য ডেমোক্রেট কনভেনশনে তিনি বলেন, হিলারি আমার ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। তাকে ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করুন। হিলারির গুণগান গেয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানে হিলারির কোনো তুলনা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে হিলারির ইতিহাস গড়ার দিন ক্লিনটন ফিরে গেলেন ৪৫ বছর পেছনে। প্রায় ৪০ মিনিটের দীর্ঘ আবেগপূর্ণ বক্তৃতায় ক্লিনটন হিলারির সঙ্গে তার পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের বসন্তে এক মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার। সেই মেয়েটিই হিলারি।’
৬৯ বছর বয়সী বিল ক্লিনটন বলেন, ‘আর আমি আমার জীবনের সেরা বন্ধুটিকেই বিয়ে করেছি।’ ইয়েল ল’ স্কুলে পরিচয়ের পর থেকে প্রায় ৪৬ বছরের দীর্ঘ এক জীবন পার করেছেন এ দম্পতি। সরকারি কাজের প্রতি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির দায়িত্বশীলতার কথা তুলে ধরে ক্লিনটন বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনারা তাকে নির্বাচিত করবেন।’ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তার স্ত্রী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেট দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পান। গত সপ্তাহে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ দুটি বিষয়কে তুলনা করেন এভাবে ‘ওয়ান ইজ রিয়েল’ এবং ‘দি এনাদার ইজ মেড আপ’। এ সময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন কন্যা চেলসি ক্লিনটন ও তার স্বামী মার্ক মেজভিনস্কি। তারা বারবারই হাততালি দিয়ে, উঠে দাঁড়িয়ে বাবার বক্তব্যে সমর্থন দিচ্ছিলেন। এক টুইট বার্তায় হিলারির স্বামী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হিলারিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘তোমার জন্য খুবই গর্বিত।’সম্মেলনে প্রতিনিধিদের রোল কল ভোট শেষে দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে হিলারি ক্লিনটনের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে হিলারি ক্লিনটনকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান জানান। এর আগে সম্মেলনের প্রথমদিনে স্যান্ডার্সের সমর্থকরা হিলারি ক্লিনটনের মনোনয়নের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি দিয়ে সম্মেলনে বিঘ্ন ঘটান।
এই কনভেনশনে হিলারি ক্লিনটনের প্রার্থিতা নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টিতে স্পষ্ট বিভক্তি ফুটে উঠতে দেখা গেছে। ট্রাম্পকে পুতিনের সাহায্য সম্ভব -ওবামা : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের হস্তক্ষেপ সম্ভব বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পকে জেতাতে পুতিনের ‘যে কোনো কিছুই সম্ভব’। সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটির কর্মকর্তাদের ই-মেইল ফাঁসের জন্য রুশ গোয়েন্দা সংস্থার হাত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সন্দেহের ভিত্তিতে এর তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে এফবিআই। মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচার শিবির থেকে বলা হচ্ছে, দলে বিবাদ ঘটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তার জন্য এই ই-মেইল ফাঁস করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্রেটদের সম্মেলন শুরুর ঠিক আগেই শুক্রবার দলটির শীর্ষ নেতাদের ২০ হাজারের মতো ফাঁস হওয়া ই-মেইল উইকিলিকসে আসে। এসব ই-মেইলে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী বাচাইয়ের প্রাথমিক পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের তুলনায় হিলারির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে দেখানোর চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনার পর চাপের মুখে রোববার ডিএনসি চেয়ারম্যান ডেবি ওয়াজেরম্যান শুলজ পদত্যাগও করেছেন।

ফ্রান্সে ধর্মযুদ্ধের শংকা

ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে গির্জায় হামলার পর এলিসি প্রাসাদে
বুধবার বৈঠকে বসেন বিভিন্ন ধর্মের নেতারা -ইপিএ
ক্যাথলিক ধর্মযাজক হত্যাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে ধর্মযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে দেশটির রাজনীতিকরা। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস বলেছেন, ‘ক্যাথলিক গির্জায় ধর্মযাজকদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসি নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি ধর্মকে আঘাত করে সরাসরি ধর্মযুদ্ধকে উস্কে দেয়া হচ্ছে।’ বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলান্দ দেশটির ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উত্তেজনা হ্রাস করার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে যে কোনো হামলা প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয় তাদের। নরম্যান্ডির ফাদার জ্যাকস হামেলকে মঙ্গলবার গির্জার মধ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আইএস এই হত্যার দায় স্বীকার করার পর ফুঁসে উঠেছে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাসীরা। এদিকে গত দেড় বছরে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী মুসলিম নাগরিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ব্যাপারে টলায়মান ও অস্থির সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যে ধর্মযাজক হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।
নরম্যান্ডির রুয়েন অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধ এবং হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৪৩১ সালে ফরাসি অগ্নিকন্যা জোয়ান অব আর্ককে হত্যা করা হয় এখানে। সে স্থানের খুব কাছেই হত্যা করা হয়েছে ৮৫ বছর বয়সী ক্যাথলিক ধর্মযাজককে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস এ হত্যাকাণ্ডকে ধর্মযুদ্ধের প্রতীকী আহ্বান হিসেবে গণ্য করে বলেন, ‘ফ্রান্সে দুই ধর্মের মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ধর্মযুদ্ধের জন্য মদদ দেয়া হচ্ছে।’ আরও এক ধাপ এগিয়ে আছেন দেশটির ডানপন্থী একটি দলের প্রধান ম্যারিয়েন লি পেন। ইসলামবিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য জনগণকে উস্কে দিচ্ছেন তিনি। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করে পেন বলেন, ‘পশ্চিম অথবা পূর্বাঞ্চল, যেখানেই হোক না কেন, ইসলামকে প্রতিহত করার জন্য খ্রিস্টানদের গর্জে উঠতে হবে।’ এছাড়া নিজে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সে যোগদানের ঘোষণা দিয়ে তরুণ ফরাসিদেরও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ম্যারিয়েন লি পেন। তবে সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকার কথাও বলছেন অনেকে। রোয়েনের আর্চবিশপ ডোমিনিক লেবরান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠার জন্য প্রার্থনা ছাড়া আর কোনো অস্ত্রে বিশ্বাস করে না ক্যাথলিকরা।’ অন্যদিকে নরম্যান্ড অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ কারাবিলা যাজক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘দেড় বছর ধরে ফ্রান্সের নাগরিকরা হামলার শিকার হচ্ছে। আমাদের ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এভাবে আর চলতে পারে না।’ শুরুতে ফ্রান্সের ইহুদিদের টার্গেট করে হামলা করা হতো। এখন হামলার লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে খ্রিস্টানরা। সিরিয়া ও ইরাকের আইএস জঙ্গিরা সেখানে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তারা এখন বিশ্বজুড়ে নাশকতা ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বাভারিয়া ও নিসে হামলার ঘটনার দ্বারা ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। ফ্রান্সের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুসারে, গত বছর ৪২৯টি হুমকি ও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে- যার সবগুলোতেই অমুসলিমদের টার্গেট করা হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় গত বছরের হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২২৩ শতাংশ। যাজক হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়ার দাবিও উঠেছে দেশটির ন্যাশনাল ফ্রন্টের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে শুধু নাইজেরিয়াতেই গত বছর ৪ হাজার খ্রিস্টানকে হত্যা এবং ২০০ গির্জা ধ্বংস করেছে বোকো হারাম। মিসরে গির্জার যাজককে হত্যা করেছে আইএস। ইরাকের মসুল এবং সিরিয়ার রাঙ্কা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বিপুলসংখ্যক খ্রিস্টান নাগরিককে। সবগুলো ঘটনাকে একত্র করে ফ্রান্সের যাজক হত্যার ঘটনাকে সরাসরি খ্রিস্টান ধর্মের বিরুদ্ধে মুসলিমদের আক্রমণ বলে চিহ্নিত করে ধর্মযুদ্ধের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের আক্রমণে উস্কানি দিচ্ছে ফরাসিদের একাংশ। গির্জায় হামলাকারী সন্ত্রাসের অভিযোগে বন্দি ছিলেন : সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গৃহবন্দি ছিল ফ্রান্সের গির্জায় হামলাকারী ও ধর্মযাজক হত্যাকারী ব্যক্তিটি। মঙ্গলবার গৃহবন্দিত্ব চলাকালীন সময়েই সে এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে দেশজুড়ে। আদেল কারমিচি আক্রমণকারী নামের যুবক দুই ঘাতকের অন্যতম। সে বৃদ্ধ ধর্মযাজককে গলা কেটে হত্যা করে। ১৯ বছর বয়সী এই ঘাতকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে।

সন্তানের বিপথগামিতা রোধে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য

গুলশান ও শোলাকিয়া হত্যাযজ্ঞের পর সন্তানের বিপথগামিতা রোধে পরিবারের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, সন্তানের বিপথগামিতা রুখতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য। একটি শিশু পৃথিবীতে আসে অমিত সম্ভাবনা নিয়ে। তবে এ সম্ভাবনার বিকাশ কতটুকু ঘটবে, তা নির্ভর করে তাকে কীভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে তার ওপর। মূলত শিশুর পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করে তার বিকাশ। সুস্বাস্থ্য, সুশিক্ষা, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ভালোবাসার দাবি পূরণ করে প্রতিটি শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ বিকশিত করে তোলা সম্ভব। প্রত্যেক মা-বাবাই তার শিশুকে হাসি-খুশি, স্বাস্থ্যবান, বুদ্ধিদীপ্ত ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখতে চায়। সন্তানকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবার যদি সঠিক ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি সুন্দর-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও জাতি পাওয়া সম্ভব।
দুশ্চিন্তার বিষয় হল- পরিবার ও সমাজ জীবনে আমরা ক্রমেই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। বর্তমানে পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য লুপ্ত হওয়ার পথে। অতীতের সামাজিকতা এবং সামাজিক সংহতি এখন আর তেমন অবশিষ্ট নেই; যার প্রভাব আমাদের পারিবারিক পরিমণ্ডলে ভর করেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, এ বিচ্ছিন্নতা বিদ্যমান ব্যবস্থারই সৃষ্টি, যা প্রত্যেককে প্রত্যেকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একই সমাজে বসবাস করেও আজ কেউ কারও নয়। পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও অভিন্ন অবস্থা বিরাজমান। একসময় আমাদের প্রায় প্রতিটি পরিবার একান্নবর্তী ছিল। যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। বিচ্ছিন্নতা যেমন গ্রাস করেছে সমাজ জীবনকে; একইভাবে গ্রাস করেছে পরিবারকেও। একটি শিশুর সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল তার পরিবার। সুস্থ ও সুন্দর জাতি গঠন করতে হলে সবার আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিক্ষার্থী বিপথগামী হচ্ছে কিনা। বর্তমানে শিশুরা ক্রমেই প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। প্রকৃতির সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়ছে দিন দিন। সভ্যতার অগ্রগতি এবং মানুষের শহরকেন্দ্রিকতা এ জন্য অনেকাংশে দায়ী। এসব বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ব্যস্ততা ও বাস্তবতার নাগপাশ ছিন্ন করে অভিভাবকরা মাঝে মধ্যে তাদের প্রিয় সন্তানকে যথাসম্ভব প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন। শিশুরা নগরে বেড়ে উঠুক, তবে তার পরিচয় ও সম্পর্ক থাকুক প্রকৃতির সঙ্গেও। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও থাকা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক-সামাজিক প্রতিশ্রুতি শিশু-কিশোরদের সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করে। রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে যেন যথাযথ পরিবেশে শিশু-কিশোররা সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে বেড়ে উঠতে পারে। দেশে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা অন্যূন ২ কোটি ৮০ লাখ। আজকাল মাদক ছাড়াও মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও আকাশ সংস্কৃতির থাবায় অনেক কিশোর-কিশোরী বেপথু হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গিবাদসহ এমন সব ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। বর্তমানে এটি একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আশার কথা, সংবেদনশীল আচরণ, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে সরকার দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের সাতটি জেলায় ৩৭৯টি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সমাজে বিদ্যমান নানা অসঙ্গতির ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যরা হরেক রকম খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হলে তা শিশু-কিশোরদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। মৃত্যু অবধারিত ও অমোঘ। স্বাভাবিক নিয়মে কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের ব্যথিত করলেও তা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকে না। কিন্তু মৃত্যু যদি অস্বাভাবিকতা নিয়ে কারও জীবনে হানা দেয়, তাহলে মর্মযাতনার সীমা থাকে না। গুলশান ও শোলাকিয়ার মৃত্যুগুলো এমনই। এ মৃত্যু আমাদের সন্তান তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পর্কে আরও সচেতন, সজাগ ও সংবেদনশীল হওয়ার শিক্ষা দেবে- এটাই প্রত্যাশা।
ইফতেখার আহমেদ টিপু : একটি ব্যবসায় গ্রুপের চেয়ারম্যান
chairman@ifadgroup.com

‘জয়ের অভ্যাস ধরে রাখতে হবে’

দেশের মাটিতে গত বছর টানা কয়েকটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এ বছরের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজটা হবে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপরই টানা দেশের বাইরে খেলতে হবে টাইগারদের। দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল জানালেন, দেশে হোক আর বিদেশে, জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। দল ভালো অবস্থানে থাকলে যত বেশি ম্যাচ খেলা যায় ততই উপকার হয়। কিন্তু বাংলাদেশ গত বছর ভালো খেলার পর এ বছর টি ২০ বিশ্বকাপ ছাড়া আর কোনো টুর্নামেন্ট বা সিরিজ খেলতে পারেনি। কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তামিম বলেন, ‘খেলা দেশের মাটিতে হোক, আর বিদেশের মাটিতে- জয়টাই আসল। বিদেশের মাটিতে গিয়ে যদি আমরা ভালো খেলি এবং জিতি তাহলে এটা অন্যরকম আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এ বছর আমাদের প্রথম অ্যাওয়ে সিরিজ হবে নিউজিল্যান্ডে। এটা খুব কঠিন সিরিজই হবে। শুধু আমাদের জন্য না, যে কোনো দলের জন্যই নিউজিল্যান্ডে খেলা কঠিন। ওরা নিজেদের মাটিতে খুব শক্তিশালী। তবে ওদের যে হারানো সম্ভব না তা নয়। আমাদের এখান থেকেই জয়ের অভ্যাস ধরে রাখতে হবে।
দেশের মাটিতে সিরিজ জিতে ওইখানে যদি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হবে।’ গত বছরের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কতটা কঠিন? এমন প্রশ্নের জবাবে এই বাঁ-হাতি ওপেনার বলেন, ‘মানুষ যখন ভালো খেলতে থাকে তখন যত বেশি ম্যাচ খেলা সম্ভব ব্যাটসম্যানের জন্য তত ভালো। আমি গতবছর একটা ভালো ধারাবাহিকতায় ছিলাম তখন যদি আরও কিছু ম্যাচ খেলতে পারতাম তাহলে আমার পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে পারত।’ তিনি বলেন, ‘যেভাবে খেলে আমি ভালো করেছি সেটাই ধরে রাখার চেষ্টা করব।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ থেকে বাংলাদেশ টানা খেলার মধ্যে থাকবে। মাঝের দীর্ঘ বিরতিটা নিজেদের ফিটনেসের সহায়ক হবে বলে মনে করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘যখন একটা সিরিজের মধ্যে থাকি তখন ফিটনেস নিয়ে কাজ করার খুব একটা সুযোগ থাকে না। এখন যেহেতু আমাদের সুযোগ আছে, হাতে কয়েক দিন সময়ও আছে, এই সময়ে ফিটনেস ক্যাম্প যদি পুরোটা করতে পারি তাহলে সামনের একটা বছর কাজে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘অক্টোবরে খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে বেশি গ্যাপ নেই,
একটার পর একটা সিরিজ হবে। এই ফিটনেস ক্যাম্প আমাদের জন্য তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মানসিকতাও সেটা খুবই ইতিবাচক । ফিটনেস সেশনের পরও নিজেরাই বাড়তি কাজ করছে।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সব সময়ই ভালো পারফরম্যান্স করেন তামিম। এবারের লক্ষ্য কী? এই ওপেনার বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জ। ওদের খুব ভালো কিছু বোলার আছে। ওদের বিপক্ষে এরআগেও রান করেছি বলে এবারও রান পাব বিষয়টা এমন নয়। হয়তো আমাকে আরও বেশি কষ্ট করতে হবে। আমার চেষ্টা ও মনোযোগ যদি ঠিক থাকে তাহলে সফল হওয়ার সুযোগ থাকবে।’ লর্ডসের অনার বোর্ডে নাম লেখানো বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান তামিম। লর্ডসের মতো মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেও অনার বোর্ড থাকা উচিত বলে মনে করছেন তামিম। এছাড়া ক্রিকেট মিউজিয়ামের প্রয়োজনীয়তাও আছে বলে জানান তিনি।

রেসের ঘোড়া আমব্রিন

কাজ নিয়ে হাজারও ব্যস্ততা থাকলেও নিয়মের মধ্যেই যাপিত জীবন পার করছেন আমব্রিন। কথা রাখাটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখেন এ তারকা। নিজের সব কাজই ঠিক সময়ে করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করে নিয়েছেন তিনি। সময়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের ভাবটা এখনকার শিল্পীদের মধ্যে দেখা না গেলেও এ ক্ষেত্রে আমব্রিনকে ব্যতিক্রমই দেখা গেল। ২০০৭ সালে লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশে ঠাঁই হয়েছিল আমব্রিনের। সেটাকে পুঁজি করেই সামনে এগিয়ে চলার ছক এঁকেছিলেন তিনি। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সেই ছকেই হেঁটেছেন এবং এখনও হাঁটছেন বলে জানালেন এ তারকা। ক্যারিয়ারের একেবারেই শুরুতে ‘চলো বিয়ে করি’ নামে আফজাল হোসেন পরিচালিত একটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পান আমব্রিন। এরপর আর তাকাতে হয়নি পেছনে। একের পর এক নাটকে অভিনয় করে চলেছেন। পাশাপাশি কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনেও। বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই টিভিসি জগতে পা রাখেন। রাতারাতি হয়ে যান বিজ্ঞাপন কন্যা। এ পর্যন্ত প্রায় দু’ডজন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।
অভিনয়ের মতো বিজ্ঞাপনেও তার শৈল্পিক উপস্থিতি লক্ষণীয়। তবে এ দুই পরিচয়ের বাইরে বর্তমানে উপস্থাপক পরিচয়টিই আমব্রিনের কাছে সবচেয়ে বড়। এ মাধ্যমে তার উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করছে নিয়মিত। প্রথম উপস্থাপনা করেন এনটিভির ‘মিউজিক-ই ফোনি’ অনুষ্ঠানে। এতে টানা দু’বছর উপস্থাপনা করে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পান তিনি। বর্তমানে কয়েকটি চ্যানেলে একাধিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা নিয়েই ব্যস্ত আমব্রিন। পাশাপাশি দেশের বড় বড় ইভেন্টগুলোরও উপস্থাপনার দায়িত্বও আসে তার কাঁধে। বিপিএলের গেল আসরের উপস্থাপকের ভূমিকাতেও ছিলেন তিনি। অভিনয়েও বেশ সাবলীল মেয়েটি। বর্তমানে তার অভিনীত একাধিক ধারাবাহিক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এটিএন বাংলায় ‘নীড় খোঁজে গাংচিল’, ‘আয়না ঘর’ ও ‘একদিন ছুটি হবে’। শুধু কাজ নয়, নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বরাবরই আলাদা এই তারকা। বিন্দাস হয়ে চলাফেরা করাটাই তার পছন্দ। ফ্যাশনে ব্যাপক এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসেন। দেশী-বিদেশী কোনো তারকাকে অনুকরণের চেষ্টা তার নেই। বরং তার ফ্যাশন যাতে অন্যরা ফলো করে সেটাই সবসময় করেন তিনি। নিজের মেকআপ-গেটআপ নিয়ে তার বিস্তর গবেষণা। বিদেশ থেকে রূপসজ্জার ওপর কোর্সও করে এসেছেন। ইন্টেরিয়র আর্কিটেক্চার বিষয়ে পড়াশোনা করলেও মিডিয়াতে কাজ করাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন তিনি।

Wednesday, July 27, 2016

ফ্রান্সে যাজককে গলা কেটে হত্যা

ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের রুয়েন শহরের এক গির্জায় এক প্রবীণ যাজককে গলা কেটে হত্যা করেছে দু’জন ছুরিধারী। এ সময় গির্জার সেবিকাসহ চারজনকে জিম্মি করে তারা। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই ছুরিধারী নিহত হয়। ইসলামিক স্টেট এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এএফপি জানায়, ছুরিধারী ওই দুই ব্যক্তি সেন্ট ইটেনি দ্যু রুয়েন গির্জার ৮৬ বছর বয়সী পাদ্রি জ্যাকস হামেলকে গলা কেটে হত্যা করে। ছুরিকাঘাতে আহত এক জিম্মির অবস্থা সংকটাপন্ন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ হামলার সময় যাজক ও দুই সেবিকা ছাড়াও কয়েকজন প্রার্থনাকারী গির্জায় উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্সের সোয়াত এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গুলির শব্দ পাওয়া যায় বলে জানায় ফ্রান্স থ্রি টেলিভিশন সূত্র। সে সময় জনগণকে দূরে সরিয়ে দেয় পুলিশ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ ওই গির্জা সফর করেছেন এবং বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের নামে এ হামলা চালানো হয়। ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমাক বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, আইএসের ‘সৈনিকরা’ এ হামলা চালিয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়ের ভলস এই ‘বর্বরোচিত হামলার’ নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এতে পুরো ফ্রান্স এবং ক্যাথলিকরা আহত হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। স্থানীয় ইউলালি গার্সিয়া বিউটি পার্লারে কর্মরত এক নারী নিহত যাজকের প্রশংসা করে বলেন, তিনি তাকে ছোটবেলা থেকে চিনতেন।

শুধু হিলারিই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য : মিশেল

হিলারি ক্লিনটনকে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র যোগ্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারিকে ‘হৃদয়ের আবেগ’ দিয়ে সমর্থন জানান মিশেল। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠেকাতে হিলারিকেই নির্বাচিত করার আহ্বান জানান বার্নি স্যান্ডার্স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে দলীয় ঐক্য গড়তে চেষ্টা চালাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল নেতারা। খবর এএফপি ও বিবিসির। চার দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিন সোমবার মিশেল ওবামা বলেন, নতুন নেতার হাতে আগামী চার থেকে আট বছর পর্যন্ত আমেরিকান শিশুদের গড়ে তোলার ক্ষমতা থাকবে। হিলারিকে ‘চাপের মুখে অনমনীয়’ একজন নেতা উল্লেখ করে ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তাকে সমর্থন জানান। ফার্স্ট লেডি বলেন, ‘এ নির্বাচনে, আমি দায়িত্ব নিয়ে তার ওপর এই আস্থা রাখছি যিনি সত্যিকার অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য। তিনি আমাদের বন্ধু হিলারি ক্লিনটন।’
২০০৮ সালে বারাক ওবামার সঙ্গে হিলারি ক্লিনটনের মনোনয়ন লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে মিশেল বলেন, ওই সময় হিলারি রাগ বা অন্য কোনো মোহে পড়েননি। একজন জনসেবা কর্মী হিসেবে হিলারি জানেন, এটি ব্যক্তিগত আবেগ ও ক্ষোভের ঊর্ধ্বে। মিশেল ওবামা তার ভাষণে আরও বলেন, হিলারির মাধ্যমেই তার নিজের দুই মেয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। একজন নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারে বলে বিশ্বাস করে তারা। মিশেল ওবামা তার ভাষণে হিলারির নির্বাচনী প্রচারে বিভেদ ভুলে সব ডেমোক্রেটের ঐক্য প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সমালোচনা করেন। ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর তীব্র সমালোচনাও করেন মিশেল ওবামা। বলেন, ‘কখনও কাউকে বলতে দেবেন না আমাদের দেশ মহান নয়, যে একে আবার আমাদের কোনোভাবে মহান বানাতে হবে।’ তার এ বক্তব্যে সমর্থন আর করতালির ঝড় ওঠে সম্মেলনে। উইকিলিকসের ফাঁস করা ইমেইল বিতর্ক নিয়েই চলছে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে দেয়া ভাষণে বিভেদ ভুলে ট্রাম্পকে ঠেকাতে দলের ভেতর ও নিজের সমর্থকদের হিলারির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
সম্মেলনের আগেই হিলারির মনোনয়ন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে ১৯ হাজারেরও বেশি ইমেইল ফাঁস করে উইকিলিকস। স্যান্ডার্সের বিপক্ষে দলীয় নেতৃত্বের কারচুপি চেষ্টা সামনে আসায় দলে ঐক্যের বদলে বিভেদ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডেমোক্রেটরা। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে প্রাইমারি ভোটে জয়ী হিলারি ক্লিনটনকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সিনেটর স্যান্ডার্স ফিলাডেলফিয়ায় মঞ্চে ওঠার পর তাকে তিন মিনিট ধরে করতালি দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। তিনি উচ্ছ্বসিত উপস্থিতির উদ্দেশে বলেন, হিলারি অবশ্যই পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। স্যান্ডার্স বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একের পর এক গ্র“পকে অপমান করছেন তখন হিলারি ক্লিনটন বুঝতে পেরেছেন, বৈচিত্র্যতাই আমাদের বৃহত্তম শক্তি। তিনি বলেন, ধ্যান-ধারণা ও নেতৃত্বের বিচারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে হিলারিই সবচেয়ে ভালো এবং তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। ট্রাম্পকে ঠেকাতে হবে। হিলারিকে নির্বাচিত করতে হবে। স্যান্ডার্স আরও বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন একজন অসামান্য প্রেসিডেন্ট হবেন এবং আমি আজ রাতে এখানে তার পাশে দাঁড়িয়ে গর্বিত।’ এদিকে স্যান্ডার্সের বক্তব্যের পর তার সমর্থকরা তীব্র প্রতিবাদ করে ওঠে। চিৎকার করে স্যান্ডার্সকেই ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে চাইতে থাকে তারা। অনেক স্যান্ডার্স সমর্থককে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সম্মেলনের প্রথম দিন হিলারিবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশও করে স্যান্ডার্সের সমর্থকরা।

জঙ্গিবাদের ডামাডোলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন উপেক্ষিত না হয়

অতিবর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লাখো মানুষ পানিবন্দি। দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বন্যা উপদ্রুত এলাকার হাজার হাজার মানুষ এখন উদ্বাস্তুর মতো সড়কে ও বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক জায়গায় মেহনতি মানুষের কাজ নেই। ঘরে খাবার না থাকায় তাদের পরিবার-পরিজনসহ উপোস থাকতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঁধ। বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা ও নদীভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে চাল, শুকনো খাবার ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে; কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এতে ৭টি ইউনিয়নের ২২টি চর প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ওইসব এলাকায় খাদ্য, ওষুধপত্র, বিশুদ্ধ পানিসহ গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বন্যাদুর্গতরা ত্রাণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দুর্গত এলাকার কৃষকের উৎপন্ন শাক-সবজি, অসংখ্য বীজতলা, উঠতি আখ ও পাট ফসল তলিয়ে গেছে। বস্তুত বন্যাদুর্গত মানুষের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। অতীতে বন্যার সময় আমরা দুর্গত মানুষের দুঃখ ও ক্ষয়ক্ষতির সচিত্র খবর পত্রিকার পাতাজুড়ে দেখেছি। এখন তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় বন্যার খবর নেই। জায়গা পেয়েছে শেষের পৃষ্ঠায়। যেন বন্যা বড় কোনো সমস্যা নয়! বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক ও দরিদ্র মানুষ। সমাজের রথী-মহারথী ও বিত্তবানদের তেমন স্পর্শ করে না বন্যা। তাই কি বন্যাকে কম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবও আমাদের খুঁজতে হবে। তবে এ মুহূর্তে জরুরি করণীয় হল দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে অতীতের মতো। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও। সন্ত্রাস প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য তো সৃষ্টি হল না, বরং আমরা লক্ষ্য করেছি ব্লেমগেম। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এমন মন্দ সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সরকারসহ সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকায় বন্যাকবলিত মানুষের দিকে সেভাবে কেউ দৃষ্টি দিচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে যে ফসল ও সম্পদসহ লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, সেদিকে কারও খেয়াল নেই। এর ফলে বন্যার্তদের আরও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই এটা সত্য। তবে দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধারে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি থাকাটা আবশ্যক। আজকাল বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সরকারসহ বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে গড়িমসি লক্ষ্য করা যায়। যতক্ষণ অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, ততক্ষণ যেন তাদের টনক নড়ে না। ঢিমেতালে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করায় তা দিয়ে বন্যার্তদের একবেলা খাবারের সংস্থান করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এটা সবারই জানা, বন্যায় বিশেষ করে বন্যার পর খাদ্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানির সংকট শুরুর পাশাপাশি বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেয়। এ সমস্যা চিরকালের। অথচ এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের তরফ থেকে যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, শুরুতে তা দেখা যায় না।
এমনকি বেসরকারি কোনো সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। বস্তুত বন্যাকবলিত মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে কোনো রকমে আশ্রয়ের সংস্থান করতে পারলেও জীবন বাঁচানোর যেসব মৌলিক উপকরণ রয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হয়। এ সময়েই জরুরি ভিত্তিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এবারের বন্যা স্বাভাবিক নয়। বন্যায় নিম্ন ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা অববাহিকায় যেসব চরে মানুষের বসবাস রয়েছে, সেসব অঞ্চলে এ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ধরনের ভাঙন অন্য কোনো সময় দেখা যায় না। সাধারণত বন্যায় মানুষ স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার পর বন্যা শেষে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যায়। এবার বন্যার পর দেখা যাবে ভাঙনের কারণে অনেকেরই বাড়িঘর ও ফসলি জমি নেই। ফলে এসব মানুষ সর্বহারা হয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। কর্মসংস্থানের অভাবে অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। আশ্রয় ও সম্বলহারা এ ধরনের হাজার হাজার মানুষের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের আগাম চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদীতে তীব্র পানি সংকট ও বর্ষায় বন্যা দেখা দেয়ার মূল কারণ ভারতের বিদ্যমান পানিনীতি। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ ও গ্রোয়েন নির্মাণ করে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়, আর বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশে বন্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের সরকারেরও ব্যর্থতা রয়েছে। আমরা ভারতের সব চাহিদা পূরণ করলেও বাংলাদেশের জীবনমরণ পানি সমস্যার সমাধান করেনি ভারত। এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কিছুদিন তিস্তা চুক্তি নিয়ে হবে-হচ্ছে বলে আওয়াজ তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত সবই আষাঢ়ে তর্জন-গর্জনে পরিণত হয়। এই চুক্তি এখন পুরোপুরি ভারতের ওপর নির্ভর করছে। পানি সমস্যার সমাধান না হলে বর্ষায় বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে শুকিয়ে মরা বাংলাদেশের নিয়তি হয়েই থাকবে। পানি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হলে বাংলাদেশকে আর এ দুর্ভাগ্য বরণ করতে হবে না। বর্তমান সরকারের সঙ্গে যেহেতু ভারত সরকারের অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে, তাই এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পানি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা সম্ভব। পানি সমস্যার সমাধান করতে পারলে বাংলাদেশকে আর বছর বছর পানি সংকটে পড়তে হবে না, বন্যায়ও কষ্ট পেতে হবে না দেশের মানুষকে। কাজেই পানি সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি।
এমএইচ খান মঞ্জু : প্রাবন্ধিক
samoynews24@gmail.com

লন্ডনে মুস্তাফিজ আশরাফুল সাক্ষাৎ

মুস্তাফিজুর রহমান গেছেন খেলতে। মোহাম্মদ আশরাফুল ঘুরতে। চলতে চলতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের দু’জনের পথ মিশে গেল একই জায়গায়। বিদেশ-বিভূঁইয়ে বাংলাদেশের দুই সেরা ক্রিকেট তারকার দেখা হল। লন্ডনে একসঙ্গে সময় কাটালেন, খাওয়া-দাওয়া করলেন মুস্তাফিজ এবং আশরাফুল। সাসেক্সের হয়ে মুস্তাফিজ ২১ জুলাই প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন চেমসফোর্ডের কাউন্টি গ্রাউন্ডে।
ওই ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। গ্যালারি থেকে তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী। কাউন্টিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ২৩ রান দিয়ে তোলে চার উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তার দুর্দান্ত অভিষেকের সাক্ষী হন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের কাটার মাস্টার পরের ম্যাচে ছিলেন কিছুটা নিষ্প্রভ। এরপর অনুশীলনে কাঁধের পুরনো ইনজুরিতে চোট পাওয়ায় রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপে খেলা হয়নি তার। এরই মাঝে একদিন দেখা হল মুস্তাফিজ ও আশরাফুলের। লন্ডনে মেমোরাইজ অব ইন্ডিয়া ওস্টারলে রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে মুস্তাফিজের সঙ্গে ছবি তুললেন আশরাফুল। সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আশরাফুল। ওয়েবসাইট।

অতঃপর বিরতিতে পূর্ণিমা

সিনেমায় ব্যস্ততা কমলেও টিভি পর্দায় দিনকে দিন চাহিদা বাড়ছে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার। গেল ঈদে তাই একাধিক নাটকে দেখা গেছে এ নায়িকাকে। টিভি পর্দার ব্যস্ততা ঝেড়ে এক মাসের অবসর কাটাতে চাইছেন তিনি। এই এক মাস স্বামী-সংসার ও কন্যা আরশিয়াকে পূর্ণ সময় দেবেন বলে জানিয়েছেন এ তারকা। মেয়ের বয়স এখন মাত্র দুই বছর। তাই তাকে একটু বেশি সময় দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন পূর্ণিমা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গেল ঈদে বেশ কয়েকটি নাটকে টানা অভিনয় করেছি। ঈদের কাজের চাপে মেয়ে ও পরিবারকে সময় দিতে পারিনি।
তাই এখন থেকে আগামী এক মাস মেয়ে আর পরিবারের জন্যই বরাদ্দ করেছি। এসময় নতুন কোনো নাটকে অভিনয় করব না।’ তবে এক মাস বিরতির পর আগামী ঈদুল আজহার জন্য আবার নাটকে অভিনয় করবেন বলেও জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী। প্রসঙ্গত, গেল ঈদে ইমরাউল রাফাতের নির্দেশনায় ‘ভিমরতি বিড়ম্বনা’, মাসুদ সেজানের ‘লাভ অ্যান্ড কোং’ এসএ হক অলিকের ‘ফিরে যাওয়া হলো না’সহ বেশক’টি নাটক প্রচার হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সব নাটকই দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও নাটকের পাশাপাশি নতুন একটি চলচ্চিত্রেও নাম লিখিয়েছেন তিনি। ছবিটির নাম ‘বন্ধ দরজা’। এটি পরিচালনা করবেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ছবিটির শিগগিরিই শুটিং শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন পূর্ণিমা।

কেন ছাত্ররাজনীতি?

সম্প্রতি সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠন তথা ছাত্ররাজনীতি চালু করার যে ঘোষণা দিয়েছে, তাঅশনিসংকেত বলেই প্রতীয়মান হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষাবিদেরাও এই ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু হলে সেখানেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ছাত্রলীগ নেতৃত্ব ছাত্ররাজনীতির অনুপস্থিতির কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি তৈরি হচ্ছে বলে যে ধারণা দিয়েছে, তা-ও পুরো সত্য নয়। সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যেমন জঙ্গিবাদে দীক্ষা নিচ্ছে না, তেমনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও এই সংক্রমণ হতে মুক্ত বলা যাবে না। দ্বিতীয়ত, অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি শিক্ষাঙ্গনকে প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে। গত এক বছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠনটির ৮৭টি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া কিংবা নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে। আনুষ্ঠানিক ছাত্ররাজনীতি না থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘাতে একজন শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু হলে সংঘাত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমান বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু করা হবে আত্মঘাতী। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সবাই শিক্ষাঙ্গনে জঙ্গিবাদের অবসান চায়। কিন্তু  অসুস্থ ও সংঘাতময় ছাত্ররাজনীতি দিয়ে সেটি সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একযোগে কাজ করতে হবে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ। সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠনটি যদি সত্যিই ছাত্রসমাজের কল্যাণ চায়, তাদের উচিত হবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি সামনে নিয়ে আসা। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সামরিক শাসনামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক শাসনামলে তা বন্ধ আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির দুষ্টক্ষত না ছড়িয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ও সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিতে হবে।

Tuesday, July 26, 2016

নোয়াখালীতে নববধূ অপহরণের ১১ দিনেও উদ্ধার হয়নি

নোয়াখালীতে নববধুকে অপহরণ ১১ দিনেও উদ্ধার হয়নি। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার ১১নং আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জয়নারায়নপুর গ্রামের ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী নববধু আরাফা হোসেন অন্বেষাকে (১৯) সন্ত্রাসী নাসিমের নেতৃত্বে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। ঘটনার ১১দিন পরও উদ্ধার হয়নি নববধু। এ ঘটনায় নববধুর স্বামী ফিরোজ আহমেদ বাদী হয়ে রোববার দুপুরে এবিএম সিদ্দিক নাসিম, মাসুদ, মামুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিচারক অপহৃতাকে উদ্ধার করে আদালতকে জানানোর জন্য বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। নববধুর স্বামী ফিরোজ আহমেদ ও তার পরিবার জানান, গত ৭ই মার্চ বেগমগঞ্জের জয়নারায়নপুর গ্রামের প্রবাসী মোজাম্মেল হোসেনের কন্যা আরাফা হোসেন অন্বেষার সাথে একই গ্রামের মৃত শাহজাহানের পুত্র ফিরোজ আহমেদের সাথে বিবাহ হয়। ঈদের পরদিন গত ৮ই জুলাই ২০১৬ইং নববধু তার মাকে দেখার জন্য বাবার বাড়ীতে গেলে একই গ্রামের এবিএম সিদ্দিক নাসিমের নেতৃত্বে তিন বখাটে সন্ত্রাসী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নববধুকে জোরপুর্বক মাইক্রোযোগে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনার দীর্ঘ ১১ দিন পরেও নববধু উদ্ধার হয়নি। বর্তমানে নববধুর স্বামী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপহৃতাকে উদ্ধার করতে ভিকটিম পরিবার প্রধানমন্ত্রী ও স্ব-রাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংসদে ক্ষমা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

টিআর-কাবিখার বরাদ্দে চুরি নিয়ে মন্তব্য করায় সংসদ অধিবেশনে রীতিমতো তোপের মুখে পড়েন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সোমবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর এনিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তারা ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। জবাবে মন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করেন। এতেও সংসদ সদস্যরা শান্ত না হলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তীব্র ক্ষোভ ও হৈ-চৈ-এর মধ্য ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে সেটি অনভিপ্রেত ছিল। সেজন্য আমি সকল সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাইছি। ‘টিআর-কাবিখার অর্ধেক বরাদ্দ যায় এমপিদের পকেটে’- রোববার রাজধানীর একটি আলোচনা সভায় এমন মন্তব্যে করায় তথ্যমন্ত্রীকে এমন ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর থেকেই এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেয়ার দাবি জানাতে থাকেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ নিয়ে অধিবেশনে তথ্যমন্ত্রী ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন, এটি বুঝতে পেরে মাগরিবের নামাজের বিরতি ২০ মিনিটের জন্য দেয়া হলেও বিষয়টি সুরাহা করতে আরও ৩০ মিনিট লাগে অধিবেশন শুরু করতে। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দলের তীব্র দাবির মুখে স্পিকারকে এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর দিতেই হয়। সরকার ও বিরোধী দলের প্রবীণ-নবীন প্রায় সকল সংসদ সদস্যই দাঁড়িয়ে ফ্লোর চাইলেও স্পিকার মাত্র তিন জনকে ফ্লোর দেন। তীব্র হৈ-চৈ’র মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা প্রার্থণার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত করে তথ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সকল এমপিদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। তথ্যমন্ত্রীর এলাকায় টিআর ও কাবিখার কি কি কাজ হয়েছে তা তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সংসদের সাড়ে তিনশ’ সংসদ সদস্যই চোর, আর একমাত্র সাধু হচ্ছেন আমাদের তথ্যমন্ত্রী। সারাদেশে এতো উন্নয়ন কী বাতাসে হচ্ছে? তথ্যমন্ত্রী কি ম্যাসেজ জাতিকে দিতে চাইছেন? হাসানুল হক ইনুর বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। এই সংসদের প্রতিটি সদস্যকে তথ্যমন্ত্রী অপমান করেছেন। এই সংসদে দাঁড়িয়ে উনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, তথ্যমন্ত্রী সবাইকে চোর বানাতে পারেন না। উনি যা বলেছেন তাতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রীরা কেউ-ই সেই অপবাদ থেকে বাদ পড়েন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দুদকসহ তথ্যমন্ত্রীর সব মিডিয়া নিয়ে আমার এলাকা তদন্ত করুন। এক টাকার অনিয়ম হলে আমি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবো। তবে তথ্যমন্ত্রীর এলাকারও তদন্ত করা উচিত। তথ্যমন্ত্রী সবারই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন, উনার বিবেকের তাড়নায় তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, তথ্যমন্ত্রী তার দপ্তরের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি নিজে জানাননি। এর মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আমাদের অপমান করেছেন। তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রথমে তার বক্তব্যে প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশ করলেও এমপিদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণার দাবি জানান। সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানাতে থাকলে স্পিকার বলেন- তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। এরপরও আপনারা কি চান তা আমাকে বুঝতে হবে। এ সময় জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ আরও বেশ ক’জন সংসদ সদস্য মাইক ছাড়াই চিৎকার করে বলতে থাকেন- মাননীয় স্পিকার, তথ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে আমরা শান্ত হবো না। তাকে ক্ষমা চাইতেই হবে। এরপর দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার বক্তব্যের জন্য এমপিদের সামনে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, রবিবার দুপুরে রাজধানীতে পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা ফাউন্ডেশনের একটি আলোচনা সভায় টিআর ও কাবিখা নিয়ে আমার একটি মন্তব্য নিয়ে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এই মন্তব্যে কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এ ব্যাপারে রবিবার রাতেই আমি একটি বিবৃতি দিয়েছি। আসলে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টিআর ও কাবিখা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে আমি সম্প্রতি সময়ে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু দুর্নীতির কথা বলেছি। ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করে কিছু বলিনি। এ সময় সংসদ সদস্যরা ‘নো নো, আপনি বলেছেন’ বলে প্রতিবাদ করতে থাকলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে আমার বক্তব্য আংশিকভাবে প্রচার হয়েছে, পুরোটা প্রচার হয়নি। তবে আমি একজন এমপি হয়ে অন্য সব এমপিকে আন্তরিকভাবে সম্মান করি এবং তা অব্যাহত আছে। তাই আমার বক্তব্যে এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাকে দুঃখিত এবং আমার ওই বক্তব্যে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।  এরপরও সংসদ সদস্যরা শান্ত না হলে এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে সরকার ও বিরোধী দলের অধিকাংশ এমপি ফ্লোরের দাবি জানাতে থাকলে দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এমপি ও জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আমার মন্তব্যে অনভিপ্রেত ছিল। সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাচ্ছি। এরপর স্পিকার দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন কার্যাবলীতে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিল আহত জঙ্গি হাসান

ঢাকার কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে আহত রাকিবুল হাসান রিগ্যানের (১৯) বাড়ি বগুড়া সদরের জামিলনগরে। সে ওই এলাকার মৃত রেজাউল করিমের ছেলে। হাসানের মা রোকেয়া আক্তার জানান, ২০১৩ সালে স্থানীয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল করতোয়া মাল্টি মিডিয়া স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে রিগ্যান। গতবছর বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর মেডিকেলে ভর্তির জন্য জন্য একটি কোচিংয়ে ভর্তি হয়। ওই কোচিংয়ে হাসান মাস খানেক পড়ার পর ২০১৫ সালের ১৪ই জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তার নিখোঁজের বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় ওই বছরের ১৫ই জুলাই একটি জিডি করা হয়। জিডি নং ১৭২০। নিখোঁজের পর থেকে হাসানের পরিবার সম্ভব্য সব জায়গায় খুঁজে তাকে পায়নি। আজ ভোর রাতে ঢাকার কল্যাণপুরে একটি বাড়িতে পুলিশের জঙ্গি ধরার অভিযানে সে গুলিতে আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  সেখানে সে পুলিশকে জানায়, তার বাড়ি বগুড়ায়। বিভিন্ন মিডয়ায় তার নাম এবং ছবি প্রচার হলে তার পরিবার তাকে দেখে চিনে ফেলে।

ফ্রান্সে দুই জিম্মিকারী ও এক জিম্মি নিহত

ফ্রান্সের রোউয়েন শহরের একটি চার্চে চার থেকে ছয় জনকে জিম্মি করেছিল দুই জিম্মিকারী। পরে ওই জিম্মিকারীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। একজন জিম্মিও এই ঘটনায় নিহত হয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশ ও গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দেশটির রোউয়েন শহরের সেইন্ট-এটিয়েন-ডু-রোভরে চার্চের একজন যাজক, দুজন নান ও চার্চে যাওয়া কয়েকজনকে জিম্মি করে জিম্মিকারীরা। সব মিলিয়ে জিম্মির সংখ্যা ছিল চার থেকে ছয় জন। ফ্রান্স ৩ টেলিভিশন জানিয়েছে, এসময় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং গোটা এলাকাকে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। ফ্রেঞ্চ টিভি জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড ক্যাজেনিউভ ঘটনাস্থলের পথে রয়েছেন। এই ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সোমালিয়ায় শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৭

সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধান শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে আজ এক আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। জঙ্গি সংগঠন আল শাবাব এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশন এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আজ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধান শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে এই আত্মঘাতী হামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে একজন হামলাকারী একটি গাড়িতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। দ্বিতীয় আরেক হামলাকারী নিজের শরীরে বেঁধে রাখা বোমা নিয়ে ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে গেটেই গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার শরীরে থাকা বোমা বিস্ফোরিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  বোমার প্রবল বিস্ফোরণের পর নিকটবর্তী বিমানবন্দরের কাঁচের জানালাও ভেঙে যায়। এই হামলার দায় স্বীকার করে আল শাবাবের একজন মুখপাত্র আবদিয়াসিস আবু মুসাব জানান, দুজন হামলাকারীই গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশন টুইটারে এই হামলাকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে এবং একে সোমালিয়ার সাধারণ জনগণের জীবনকে ‘বিপর্যস্ত ও বিকল’ করার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এখনও পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত ‘জঙ্গি’ ও গুলশানে হামলাকারীরা একই গ্রুপের: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, রাজধানীর কল্যাণপুরে অভিযানে হতাহত ‘জঙ্গিরা’ ও গুলশানের হামলায় অংশগ্রহণকারীরা একই গ্রুপের সদস্য। আজ ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিপুল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, চারটি পিস্তল, ২২টি গুলি, একটি তলোয়ার, তিনটি চাকু, ১২টি গেরিলা চাকু, আল্লাহু আকবর লেখা দুটি কালো পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, সোয়াটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযান চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নয়জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। হাসান নামের গুলিবিদ্ধ একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা জানা যায়নি। তাঁদের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হবে। আছাদুজ্জামান আরও জানান, নিহত ‘জঙ্গিদের’ সবার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পরনে কালো পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট ছিল। একজন বাদে সবার পায়ে কেডস ছিল। এই অভিযানকে ইতিহাসের অন্যতম সফল অভিযান বলে চিহ্নিত করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, এতে শতভাগ জঙ্গি নিহত হয়েছে। শুধু একজন পুলিশ সামান্য আহত হয়েছেন। অভিযানে সহায়তার জন্য নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান ডিএমপি কমিশনার।

নিখোঁজ ব্যবসায়ী খালেদের লাশ বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে নিখোঁজ ডাচ বাংলা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির (ডিবিসিসিআই) সভাপতি মো. খালেদ হাসানের মরদেহ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এএসআই মো. বাশার মানবজমিনকে জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কামরাঙ্গীরচর বরাবর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ী খালেদ হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর মৃতদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে  নেয়া হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। এরপরই রাতে তার শ্যালক শরিফুল আলম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তার অফিস ৫২/১ নিউ ইস্কাটনের হাসান হোল্ডিংয়ের অষ্টম তলায় ছিল।

নিহত ‘জঙ্গি’দের পরনে ছিল কালো পোশাক

কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহতদের পরনে কালো পোশাক দেখা গেছে। এছাড়া কারও কারও মাথায় পাগড়িও দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পুলিশের তোলা ছবিতে মেঝেতে পড়ে থাকা মৃতদেহে এসব পোশাক দেখা গেছে। ছবিতে ঘরের ভেতর ও সিঁড়িতে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখা  গেছে। তাদের পরনে ছিল কালো পায়জামা-পাঞ্জাবি। মেঝেতে রক্ত জমাট বেধে আছে। ঘরের ভেতর আসবাবপত্র বিশেষ কিছু নেই। একটি প্লস্টিকের তাক রয়েছে তাতে কিছু বই রয়েছে। এছাড়া রয়েছে তোশক, বালিশ ও চাদর। আসবাবপত্র না থাকলেও বাসায় ১০-১২টি ব্যাগ ও ব্যাগপ্যাক রয়েছে।  বাড়ির ভেতর কিছু অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ছুরি ও তলোয়ার। এছাড়া বাড়তি কিছু কালো  পোশাকও পাওয়া গেছে। সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক  বলেন, সবার পরনে জঙ্গি পোশাক, যেটা গুলশানে তারা অভিযানে যে  পোশাক পরেছিল, কালো পোশাক, সবার কাছে একটা ব্যাগপ্যাক আছে, ব্যাগ আছে। মাথায় পাগড়ি আছে, হাতে নাইফ (ছুরি) আছে। তাদের ব্যাগগুলোর মধ্যে নিশ্চয়ই তল্লাশি করলে আমরা কিছু পাব। এদিকে অসমর্থিত একটি সূত্রে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জনের নাম জানা গেছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

নয়াপল্টনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, আটক ৩

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। আজ দুপুরে নয়াপল্টনের স্কাউট ভবনের বিপরীত দিকের বটতলা থেকে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। মিছিলটি নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল সভাপতি ছাড়াও সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, তারিকুজ্জামান তারেক, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, মাসুম বিল্লাহ, মামুন বিল্লাহ, আশরাফ বাবুসহ অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিক্ষোভ মিছিলের পরপরই নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে থেকে ছাত্রদলের তিন কর্মীকে আটক পল্টন থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেনÑ করিম সরকার, মামুন ও জাহাঙ্গীর। এর পরপই অতঙ্কে নয়াপল্টন এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ে।

স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে শ্রীলংকায় বাংলাদেশী আটক

এক কেজিরও বেশি স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে শ্রীলংকায় এক বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছে। আজ বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করে কাস্টমস কর্মকর্তারা। এ সময় তার কাছে ১.১৫১ কেজি স্বর্ণ পাওয়া যায়। আটক ব্যক্তির নাম জানা যায় নি। এ খবর দিয়েছে শ্রীলংকার ডেইলি মিরর। এতে বলা হয়, ওই বাংলাদেশী আজই মঙ্গলবার শ্রীলংকা যান। এ সময় তার ব্যাগে ছিল ১১টি স্বর্ণের বিস্কুট। সিøপারের ভিতরে লুকিয়ে রেখেছিল স্বর্ণের ৩টি বিস্কুট, চেইন। কর্মকর্তারা বলেছেন, উদ্ধার করা স্বর্ণের দাম ৫৭ লাখ রুপি। এসব স্বর্ণ নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় কল্যানপুর অভিযান

প্রতি রাতের মতো সোমবার রাতেও কল্যানপুরে একটি বাড়ির সামনে পাহাড়ায় ছিলেন নিরাপত্তা কর্মী আবুল কাশেম। মাঝে মধ্যেই সে এলাকায় ডিউটি পুলিশের উপস্থিতি মি: কাশেমের চেখে পড়ে। কিন্তু সোমবার রাতে একসাথে অনেক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন তিনি। বিষয়টি তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। এক পর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, বিশেষ কোন অভিযান পরিচালনা করার জন্য পুলিশ এসেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল খুব কাছেই ‘জাহাজ বাড়ি’। আবুল কাশেম নামের একজন নিরাপত্তা কর্মী ঘটনাটি অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি যে বাড়িতে থাকেন সেখান থেকে কয়েকটি বাড়ি পরেই ‘জঙ্গি আস্তানা’। সে বাড়িটির নাম ‘জাহাজ বাড়ি’।ছয়তলা সে বাড়িতে অনেক ছাত্র এবং চাকুরীজীবীরা মেস ভাড়া করে সেখানে থাকেন বলে জানা গেছে। এই বাড়িটি এলাকার অনেকের কাছেই পরিচিত। কারণ বাড়িটির দেখতে অনেকটা জাহাজের মতো। রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে আবুল কাশেম হঠাৎ বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন পুলিশ হয়তো কোন অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু সেটি যে জঙ্গি বিরোধী অভিযান, তা বুঝতে পারেননি মি: কাশেম। এ সময় তিনি কয়েকজন ছেলেকে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেন। মি: কাশেম বলেন, “ হঠাৎ দেখি ভারি একটা ব্যাগ নিয়া এক ছেলে আমার সামনে এসে উদভ্রান্তের মতো আচরণ করতে লাগল।”নিরাপত্তা কর্মী মি: কাশেম ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন , “ভাই, আপনি কী করেন?” ছেলেটি তখন উত্তর দিয়েছে, “কাগজ কুড়াই।” তখন সে নিরাপত্তা কর্মী বুঝতে পেরেছেন, ব্যাগের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু আছে। কারণ সে তরুণের চেহারা এবং পোশাকের সাথে ‘কাগজ কুড়ানোর’ দাবী সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়নি মি: কাশেমের। তিনি বলেছেন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু তরুণ সেখান থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। বাদল নামের আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন পুলিশ আসার পরে কিছু তরুণকে তিনি সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। যারা পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিলে তাদের পরনে প্যান্ট ও টি-শার্ট ছিল।মি: বাদল বলেন, “ এসময় ভিতর থেকে অনেকে সাথে আল্লাহু আকবর বলছিল। আমরা সে শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ” তার বর্ণনায় সারারাত ‘টুকটাক গোলাগুলি’ হলেও ভোর পাঁচটা থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। ভোরের দিকে তীব্র গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। এসময় ‘জাহাজ বাড়ির’ থেকেও গুলি করে প্রতিরোধের চেষ্টা হয়েছে, বলেন মি: বাদল। কল্যানপুর এলাকার অধিকাংশ বাড়ি একটি সাথে আরেকটি প্রায় জড়ানো অবস্থায়। ঢাকা শহরের বহু এলাকার মতো কল্যানপুর এলাকাটিও বেশ ঘিঞ্জি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পুলিশি অভিযানের সময় ‘জাহাজ বাড়ি’ থেকে অনেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।তাদের অনেকে একটি বাড়ির ছাদ থেকে অপর আরেকটি বাড়ির ছাদে লাফিয়ে পালিয়ে গেছে বলে তাদের মনে হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কল্যাণপুরের আরেকজন বাসিন্দা জানান , সকাল ছয়টার দিকে তার এক প্রতিবেশ টেলিফোন করে তাকে পুলিশি অভিযানের কথা জানান। ঘুম থেকে উঠার কিছুক্ষণ পরে আনুমানিক ভোর ছয়টা দিকে তিনি দুই দফায় ‘বৃষ্টির মতো’ গুলির শব্দ শুনেছেন।

সোফিয়ার বিরুদ্ধে নির্মাতার আইনি পদক্ষেপ

একদা অভিনেত্রী, অধুনা সন্ন্যাসিনী সোফিয়া হায়াতের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিচালক প্রন্দ্রকান্ত সিংহ। সন্ন্যাস নেওয়ার আগে ‘সিক্স এক্স’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সোফিয়া। আগামী মাসে ছবিটি মুক্তি পেতে পারে। কিন্তু, এখনও ডাবিংয়ের বেশ কিছু কাজ বাকি। আরো বাকি রয়েছে সোফিয়ার অংশ। সোফিয়া এখন তা করতে নারাজ। এমনকি, ছবির প্রচারণায়ও আর তিনি হাজির থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। আর সে কারণেই আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন পরিচালক। চন্দ্রকান্তের কথায়, আমরা বিষয়টা নিয়ে বহু বার সোফিয়াকে ফোন করেছি। মেসেজ করেছি। কিন্তু, ও কোনো উত্তর দেয়নি। আমাদের বাধ্য হয়ে ডাবিং আর্টিস্ট দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। ফলে ওর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাই ভাবছি। কিন্তু সোফিয়ার কি মত? কেন তিনি রাজি হচ্ছেন না? তিনি বললেন, এক বছর আগে ছবির শুটিং আমি শেষ করেছি। ফলে কোনও চুক্তিবদ্ধ দায়বদ্ধতাও এখন আর নেই। আর এসব আমার ট্রান্সফরমেশনের আগের ঘটনা। এখন আমি আর কোনও ছবি করতে চাই না, কোনও ছবির সঙ্গে যুক্তও থাকতে চাই না। আমার কর্তব্য এখন নিজের প্রতি, সাধারণ মানুষের প্রতি। কোনও ফিল্ম মেকারের কাছে আমার আলাদা করে কোনো দায়বদ্ধতা নেই।