Wednesday, October 22, 2025

মেয়েকে ধর্ষণ, নরপিশাচ পিতার কারাদণ্ড

জাপানের এক আদালত নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা নামের এক নরপিশাচকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সাধারণত এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীরা নিজের পরিচয় গোপন রাখেন। কিন্তু এই মামলায় মেয়েটি সাহসিকতার সঙ্গে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কোজি দাইমন। ২০১৬ সালে তার মেয়ে রিহো ফুকুয়ামা হাইস্কুলে পড়তেন। সে সময় তাকে ধর্ষণ করে সে। আদালতে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও দাবি করে, ‘আমার মেয়ে এমন অবস্থায় ছিল, যেখানে সে আমাকে বাধা দিতে পারতো।’

বিচারক তোশিআকি উমেজাওয়া রায় ঘোষণার সময় বলেন, ভুক্তভোগী আজও শারীরিক ও মানসিক কষ্টে ভুগছেন। তাই এই অপরাধের পরিণতি গুরুতর বলে বিবেচিত হবে। ফুকুয়ামা জানান, তার ওপর যৌন নির্যাতন শুরু হয় যখন তিনি জুনিয়র হাইস্কুলে পড়তেন এবং তার মা তখন বাড়িতে থাকতেন না। গত বছর মার্চ মাসে তার পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। রায়ের পর আদালতের বাইরে ফুকুয়ামা সাংবাদিকদের বলে, রায় শোনার পর আমি স্বস্তি পেয়েছি। আমি সবাইকে বলতে চাই, পারিবারিক যৌন সহিংসতা সত্যিই ঘটে। দয়া করে ভুক্তভোগীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। এর আগে সাংবাদিক শিওরি ইতো এক প্রভাবশালী টিভি প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে ঐতিহাসিক রায় জিতেছিলেন। ২০২১ সালে রিনা গোনোই তার সহকর্মী সেনাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন, যার পর তিনজন সেনাকে স্থগিত সাজা দেয়া হয়। ঘটনার পর গোনোই সেনাবাহিনী ছেড়ে দেয়। ইতো ও গোনোই দু’জনই প্রকাশ্যে আসার জন্য ব্যাপক প্রশংসা পেলেও, তারা অনলাইনে প্রচুর ঘৃণার শিকার হন। এ কারণে ইতোকে লন্ডনে চলে যেতে হয়।

সম্প্রতি আলোচিত এক মামলায় ওসাকার এক নারী প্রসিকিউটর তার সাবেক বসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। তবে তিনি এখনো নাম প্রকাশ করেননি। কারণ তিনি আবার কাজে ফিরতে চান। যদিও জাপানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বড় কোনো মিটু আন্দোলন গড়ে ওঠেনি, তবুও ২০১৯ সালে কয়েকজন অভিযুক্ত ধর্ষক খালাস পাওয়ার পর দেশজুড়ে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়। আইন পরিবর্তনের ফলে ভুক্তভোগীদের জন্য বিচার পাওয়া কিছুটা সহজ হয়েছে। ২০১৭ সালে ধর্ষণের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত হয়, এবং ২০২৩ সালে আইন থেকে ভুক্তভোগীদের জন্য ‘সহিংসতা বা ভয় প্রদর্শনের প্রমাণ’ দেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। 

mzamin

সি চিন পিংয়ের কাছে লড়াইয়ে পরিষ্কারভাবে হেরে যাচ্ছেন ট্রাম্প by সাইমন টিসডাল

গত সপ্তাহে মিসরের শার্ম আল-শেখ শহরে ক্যামেরার সামনে বসে নিজের সাফল্যের বড়াই করছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজেকে গাজার ত্রাণকর্তা হিসেবে জাহির করতে চাইছিলেন। তাঁর পাশে ছিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল–সিসির মতো আরও কয়েকজন স্বৈরশাসক। এই স্বৈরশাসকেরাই ট্রাম্পকে ইসরায়েল-হামাসের নাটকীয় যুদ্ধবিরতির মঞ্চ সাজাতে সাহায্য করেছেন।

কিন্তু এ মাসের শেষ দিকে অসীম ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সহজে বশ না মানার পাত্র চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। একুশ শতকে প্রভাব বিস্তারের দৌড়ে সি অনেকটাই এগিয়ে, আর সেটা সম্ভব হচ্ছে প্রতি পদে ট্রাম্পের ভুলের কারণে।

সম্প্রসারণবাদী চীনের কমিউনিস্ট সরকারের চরিত্র ও উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে দেখে অবাক হতে হয়। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা; হংকং, জিনজিয়াং ও তিব্বতে মানুষের মৌলিক অধিকার দমন; প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুদ্ধের হুমকি দেওয়া আর দুনিয়াজুড়ে সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি চালানো—   চীন সম্পর্কে এমন একটা উপসংহারে পৌঁছনো যায়।

সম্প্রতি চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের ওপর কড়া রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে। এ খাতে চীনের প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির উদ্দেশ্যে এটা খুব ইচ্ছাকৃতভাবে নেওয়া ক্ষতিকর পদক্ষেপ।

বিরল খনিজ এ চুম্বকের মতো উপকরণ মোবাইল ফোন, গাড়িসহ আধুনিক ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরির অপরিহার্য উপাদান। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব গুরুতর। বিরল খনিজ ও চুম্বক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন, ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। চীনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এগুলো কোনো সামরিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বিভিন্ন দেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর বিকল্প উৎস খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। আগামী মাসে যদি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তাহলে ইউক্রেনে পশ্চিমাদের অস্ত্র সরবরাহ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

চীন বিদেশি কোম্পানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপরও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫৯ সাল থেকে একই ধরনের এখতিয়ার দাবি করে আসছে। এখন বেইজিং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার নিজের কৌশলে খেলছে। এর মানে হচ্ছে, রাজনৈতিক স্বার্থে বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা শুনে ট্রাম্প প্রথমে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি চীনের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পরিকল্পিত বৈঠক বাতিলের কথাও বলেন। কিন্তু বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত তিনি পিছু হটেন। তবু দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ চলছেই, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার শঙ্কা বাড়াচ্ছে।

যথারীতি এ ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের কোনো পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্প নিজেই জানেন না তিনি কী করছেন। সি চিন পিং কিন্তু এমন নেতা নন। তিনি প্রমাণ করছেন যে ট্রাম্প যদি পূর্ণমাত্রার বাণিজ্যযুদ্ধের পথে হাঁটেন, তবু তিনি হোয়াইট হাউসের হামবড়া ভাবের মানুষদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে মোকাবিলা করতে পারেন।

বিরল খনিজ ও চুম্বকের ওপর চীনের কঠোর বিধিনিষেধ হতে পারে দর–কষাকষির ক্ষেত্রে একটি কৌশল, অথবা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির  রাজনৈতিক কৌশলের ফসল। তবে এটি সম্ভবত কল্পনাজনিত আশাবাদ। বিশ্লেষকেরা চিহ্নিত করছেন যে চীনের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধৈর্য ধরার পর সি চিন পিং এখন আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাচ্ছেন।

এই পরিবর্তনের কারণ কী? বেইজিংয়ের শাসকেরা এই উপলব্ধি করছেন যে ট্রাম্পের বেপরোয়া ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি পুরোনো ও নতুন সব বন্ধুদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব তৈরি করেছে। ট্রাম্পের নীতি বিশ্বে একটি শূন্যস্থান সৃষ্টি করছে, যেটা চীন পূরণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব ও প্রাধান্য দ্রুত কমছে। ইউরোপ ও এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জোটে সমস্যা সৃষ্টি হওয়া, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মতো কর্তৃত্ববাদী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে না পারা, অন্য দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ও সফট পাওয়ারের ক্ষমতা কমে যাওয়া, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনকে অবজ্ঞা করা—এসবই সেই পতনের প্রতিফলন।

চীন যেন একেবারে ফাঁকা গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সি চিন পিং, বেসামাল ট্রাম্পের মধ্যকার একটি বিব্রতকর অসম ম্যাচ এটি। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারক, যাঁদের মস্তিষ্ক ধীরে চলে, তাঁরা এখন পর্যন্ত বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে চীনের চেয়ে অনেক বেশি কার্ড আছে।

কিন্তু ভ্যান্স কি বাস্তবতাটা বোঝেন? উদাহরণস্বরূপ, স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টারের তথ্য বলছে, ‘চীন (দেশটির কাছে সীমাহীন বিরল খনিজ আছে) দ্রুত যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং আধুনিক অস্ত্র তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের গতির চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ দ্রুত?’ ভ্যান্স কি বোঝেন যে যুক্তরাষ্ট্রই এই শুল্কযুদ্ধে হেরে যাচ্ছে, যেটা তারা শুরু করেছে? ফরেন পলিসিতে জেমস পামেলা লিখেছেন, ‘এ বছর ট্রাম্প বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করার পর চীনা রপ্তানিকারকেরা নতুন বাজার খুঁজে নিতে যথেষ্ট সফল হয়েছেন। গত মাসে চীনের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমেছে, কিন্তু মোট রপ্তানি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চীনের সয়াবিন বাজার হারিয়েছেন। সম্ভবত এটি স্থায়ীভাবে। চীনের সয়াবিন বাজার এখন ব্রাজিলিয়ান উৎপাদকদের হাতে চলে গেছে। উৎসবের মৌসুম আসার আগে এবার আমেরিকান ভোক্তাদের বাড়তি মূল্য গুনতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ খেলনা এবং ক্রিসমাস পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ চীনের তৈরি।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, সি চিন পিং আসলে বিশ্ব শাসন করতে চান না এবং বিশ্বও তাঁর কর্তৃত্ববাদী শাসন চায় না। তাঁরা বলছেন, সি চিন পিংয়ের অগ্রাধিকার ও চীনের মৌলিক স্বার্থে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সেগুলো হলো দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন।

কিন্তু এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সি চিন পিং এতটা সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন যে তাঁকে শুধু এই তত্ত্বের খাপে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। বর্তমান প্রবণতা হচ্ছে, চীন ও আমেরিকার মধ্যে প্রাধান্যের লড়াই অনিবার্যভাবে আরও তীব্র হবে। ট্রাম্প ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কেননা, তিনি যতটা শক্তিশালী, তার থেকে অনেক বেশি পতিত ব্যক্তি। চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হারের সম্ভাবনা বেশি।

* সাইমন টিসডাল, দ্য গার্ডিয়ানের কলাম লেখক
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

বেইজিংয়ে সামরিক মহড়ায় সি চিন পিং
বেইজিংয়ে সামরিক মহড়ায় সি চিন পিং। ছবি : রয়টার্স

আত্মজীবনীতে তথ্য: একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী ধর্ষণ করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রেকে

ভার্জিনিয়া জিফ্রে দাবি করেছেন, তাকে একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছিলেন। ‘নোবডিস গার্ল’ আত্মজীবনীতে তিনি এ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌণ অপরাধের অভিযোগ এনেছেন যে কয়েকজন নারী, তার প্রধান ভার্জিনিয়া জিফ্রে। ওদিকে জেফ্রি এপস্টেইন কানেকশনের কারণে বৃটেনে রাজপরিবার থেকে সব পদ পদবী ত্যাগ করেছেন বহুল আলোচিত প্রিন্স অ্যানড্রু। তাকে নিয়ে বৃটেনে এখন তোলপাড় চলছে।

ওদিকে আত্মজীবনীতে ভার্জিনিয়া জানিয়েছেন, এপস্টেইন ও তার চক্র তাকে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিত। ভার্জিনিয়া জিফ্রে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী ‘যতটা নৃশংসভাবে আমাকে ধর্ষণ করেছিলেন, কেউ আগে তার চেয়ে বেশি নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেনি’। তিনি ভয় পেতেন যে, হয়তো তিনি ‘যৌনদাসী হয়ে মারা যেতে পারেন।’ তিনি বর্ণনা করেছেন, তাকে ঘাড়ে হাত দিয়ে চেপে ধরাও হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। অবমাননা করা হয়েছে। ধর্ষক ওই প্রধানমন্ত্রী তার কষ্ট দেখে হাসতেন। মার্কিন সংস্করণে ওই ব্যক্তিকে ‘সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আত্মজীবনীর বৃটিশ সংস্করণে তাকে কেবল ‘সাবেক মন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে প্রিন্স অ্যানড্রু সম্পর্কে অভিযোগগুলোকেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/185965_Abul-10.webp

ইসরায়েলকে ‘মহান’ বানানোর নতুন প্রকল্প by জাররার খৌরো

২০২৩ সালের ৬ অক্টোবরের আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, ইসরায়েল এত দ্রুত সারা দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আজ ইসরায়েল নামটা গণহত্যা, পরিকল্পিত ধর্ষণ, নৃশংসতা ও শিশুহত্যার প্রতিশব্দ হয়ে গেছে।

ইসরায়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকের বিরুদ্ধে এমনভাবে অ্যান্টিসেমিটিজম বা ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তুলছে, যেন এসব প্ল্যাটফর্ম ইসরায়েলবিরোধী মতামত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী। তাদের ধারণা, তাদের প্রতি মানুষের ঘৃণার কারণ বর্বরতা নয়, আসল কারণ অ্যালগরিদম। তাই তারা মনে করে, যেভাবে তারা পশ্চিমা মূলধারার মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও দখল করা যায়, তাহলে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবও থামানো সম্ভব।

প্রথম আঘাত এসেছে টিকটকের ওপর। নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ৭ অক্টোবরের পরপর টিকটকে ফিলিস্তিনপন্থী ও ইসরায়েলপন্থী বার্তা নিয়ে একটি গবেষণা করেছে। সেখানে দেখা যায়, ফিলিস্তিনপন্থী পোস্ট ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০টি আর ইসরায়েলপন্থী পোস্ট মাত্র ৮ হাজার ৮৪৩টি। শুধু সংখ্যায় নয়, এনগেজমেন্টে ছিল বিশাল ফারাক। ফিলিস্তিনপন্থী পোস্ট দেখা হয়েছে ২৩৬ মিলিয়ন বার আর ইসরায়েলপন্থী পোস্ট দেখা হয়েছে মাত্র ১৪ মিলিয়ন বার।

দুই বছর পরেও ছবিটা বদলায়নি; বরং সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষেই কথা বলছে। ৭ অক্টোবরের পরপরই কিছুদিনের জন্য ইসরায়েলপন্থী পোস্ট ও ভিউ বেড়েছিল। এটি ঘটেছিল ঘটনাটির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে। কিন্তু কিছুদিন পর সেগুলো কমতে থাকে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের পক্ষে পোস্ট ও সমর্থন প্রতিদিনই বাড়ছে আর এই বাড়া কোনো হঠাৎ আবেগের মতো নয়—এটা টানা, বড় পরিসরের, দীর্ঘমেয়াদি এক আন্দোলনের মতো বিস্তার পাচ্ছে।

জায়নবাদীরা শুরুতেই এটি ধরে ফেলেন। আমেরিকার অ্যান্টিডিফেমেশন লিগের প্রধান জনাথন গ্রিনব্ল্যাটের এক ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়, তিনি বলছেন, ‘আমাদের টিকটক সমস্যা আছে, জেনারেশন-জেড সমস্যা আছে। এটার সমাধান করতেই হবে।’ এরপর স্বভাবসুলভ জায়নবাদী কায়দায় তাঁরা মার্কিন রাজনীতির ক্ষমতার চাকা ঘুরিয়ে এবং টাকার জোরে সমস্যা মোকাবিলা শুরু করেন। হঠাৎই যুক্তরাষ্ট্রে দাবি ওঠে, চীন নাকি টিকটকের অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করছে, আমেরিকান ইউজারদের ব্যক্তিগত ডেটা নিচ্ছে এবং এরপরই বলা হলো টিকটকের মার্কিন শাখা বিক্রি করে দিতে হবে।

আসল উদ্দেশ্য কিন্তু ছিল একদম স্পষ্ট। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, টিকটককে টার্গেট করার কারণ চীন নয়। আসল কারণ ইসরায়েল ও তার ভাবমূর্তি রক্ষা করা। সুতরাং ‘ইসরায়েলকে আবার মহান বানানোর’ অভিযানে আমরা দেখলাম, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি—উভয় দলই একসঙ্গে টিকটকের বিরুদ্ধে দাঁড়াল এবং শেষ পর্যন্ত টিকটককে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের অংশীদারত্ব বিক্রি করতে বাধ্য করা হলো।

কিন্তু কে কিনবে টিকটক? দেখা গেল, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়াম এগিয়ে এসেছে, যার মধ্যে প্রধান হলো ওরাকল।

ওরাকল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মার্কিন ধনকুবের ল্যারি এলিসন। তিনি বেশ কিছুদিন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় ব্যক্তিপর্যায়ের চাঁদাদাতা এবং ‘ইসরায়েলের স্বার্থ আগে’—এমন ঘোষণা দেওয়া কট্টর জায়নবাদী।

নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে আনন্দে আত্মহারা। তিনি নিজের অনুগতদের সঙ্গে এক আলোচনায় বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র হলো সোশ্যাল মিডিয়া আর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কেনাকাটা চলছে, তা হলো...টিকটক।’

এ যুদ্ধে নিজেদের জয় দেখে এখন তারা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের দিকে নজর দিচ্ছে। তাদের পরের টার্গেট ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)। এরই মধ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রবন্ধ ছাপা হচ্ছে যেখানে ‘এক্স’-কে ‘নতুন অ্যান্টিসেমিটিজমের আস্তানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। কিন্তু নেতানিয়াহু চিন্তিত নন। তিনি বলেছেন, ‘ইলন (মাস্ক) আমাদের বন্ধু...ওর সঙ্গে কথা বললেই হবে।’ অর্থাৎ তিনি কথা বলবেন, আর ইলন সে কথা মানবেন।

তারা কেবল সোশ্যাল মিডিয়া নয়, এআইয়ের দিকেও এগোচ্ছে। ইসরায়েল সরকার ট্রাম্পের সাবেক এক প্রচারপ্রধানের সঙ্গে ৬০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি করেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী তারা নতুন ইসরায়েলপন্থী ওয়েবসাইট ও ভিডিও বানাবে, যেগুলোর ডেটা দিয়ে চ্যাটজিপিটিসহ বিভিন্ন বড় এআই মডেলকে প্রশিক্ষিত করা হবে।

এসবের লক্ষ্য একটাই—এআইকে ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা গেলানো, যাতে এআইও তাদের কথা বারবার বলে চলে। এভাবেই একটি গণহত্যার স্মৃতি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।

* জাররার খৌরো, পাকিস্তানের সাংবাদিক ও লেখক
- ডন থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

রহস্যময় ‘ইনফিনিটি গ্যালাক্সি’ আবিষ্কার: বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন by আরিফুল ইসলাম

নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (জেডব্লিউএসটি) ডেটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর গবেষকরা তার সংরক্ষিত ডেটার মধ্যে অজানা মহাজাগতিক রহস্যের খোঁজে নেমে কসমস-ওয়েব সার্ভের ছবি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির অস্ট্রোনমি এন্ড ফিজিক্সের প্রফেসর পিটার ভ্যান ডকুম এবং কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটির গ্যাব্রিয়েল ব্র্যামার একটি অদ্ভুত আকৃতির বস্তু আবিষ্কার করেছেন, যাকে তারা নাম (ডাক) দিয়েছেন ‘ইনফিনিটি গ্যালাক্সি’।

গত ১৫ জুলাই নাসার গডডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের ওয়েব মিশন ‍টিম কর্তৃক ব্লগে পাবলিশকৃত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই গ্যালাক্সিটির আকৃতি অস্বাভাবিক টাইপের। গ্যালাক্সিটির দুইটি কম্প্যাক্ট লাল নিউক্লিয়াস ও প্রতিটির চারপাশে একটি করে রিং রয়েছে যা একসাথে মিলিয়ে ইংরেজি '∞' বা ইনফিনিটির চিহ্নের মতো দেখায়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দুটি ডিস্ক, গ্যালাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকেই এর সৃষ্টি হয়েছে। ফলো-আপ অবজারভেশন থেকে বিজ্ঞানীদ্বয় জেনেছেন, এই ইনফিনিটি গ্যালাক্সিটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি সক্রিয় সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল!

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—এই ব্ল্যাক হোলটি গ্যালাক্সির কোনো একটি নিউক্লিয়াসের মধ্যে নয়, বরং দু’টি নিউক্লিয়াসের মাঝখানে এক বিশাল গ্যাসময় অঞ্চলে অবস্থান করছে। এই গবেষকদের মতে, এটি একটি গ্যাস মেঘ সরাসরি ধসে গিয়ে ব্ল্যাক হোল তৈরি হওয়ার ঘটনা হতে পারে—যা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল কীভাবে গঠিত হয় সেই প্রশ্নে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

ড. পিটার ভ্যান ডকম নাসাকে বলেছেন, ‘এই গ্যালাক্সি সম্পর্কে সব কিছুই অস্বাভাবিক। এর আকৃতি যেমন, তেমনি এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলটিও খুব সক্রিয়। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, ব্ল্যাক হোলটি কোনো নিউক্লিয়াসে নয়, বরং ঠিক মাঝখানে। তখন আমাদের প্রশ্ন জাগে—এটি এখানে এল কীভাবে?’ তিনি ব্যাখ্যা করে আরো বলেন, ‘ব্ল্যাক হোলটি যদি সত্যিই মাঝখানে গঠিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা হয়তো প্রথমবারের মতো একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের জন্মপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করছি।’

নাসা জানিয়েছে, সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল কীভাবে সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে দুটি মূল তত্ত্ব রয়েছে—তার মধ্যে একটি ‘লাইট সিড’ এবং অপরটি ‘হেভি সিড’। লাইট সিড তত্ত্ব অনুসারে, তারার মৃত্যুতে যে ব্ল্যাক হোল তৈরি হয় যা সাধারণত ১ হাজার সূর্যের ওজনের সমান, সেগুলো ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে বিশাল ব্ল্যাক হোল তৈরি করে। তবে এতে সময় লাগে অনেক, অথচ ওয়েব এমন অনেক বিশাল ব্ল্যাক হোল খুঁজে পেয়েছে মহাবিশ্বের একেবারে প্রাথমিক সময়ে—যার ব্যাখ্যায় আবার ‘লাইট সিড’ যথেষ্ট নয়।

এদিকে হেভি সিড তত্ত্ব অনুযায়ী, এক বিশাল গ্যাসীয় মেঘ সরাসরি ধসে গিয়ে এক ধাক্কায় এক মিলিয়ন সূর্যের সমান ওজনের ব্ল্যাক হোল তৈরি করতে পারে। এটা দ্রুত হয়, কিন্তু সমস্যা হলো—গ্যাসিও মেঘ সাধারণত ধসে তারকা তৈরি করলেও ব্ল্যাক হোল তৈরি করে না। নাসার ঐ প্রতিবেদন থেকে আরো জানা গেছে, তবে এই ধরনের ধসকে তারকা উৎপাদন থেকে বিরত রাখা কঠিন।

নাসা আরো জানিয়েছে, তবে ইনফিনিটি গ্যালাক্সির ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, দু’টি ডিস্ক গ্যালাক্সির সংঘর্ষের ফলে গ্যাস চাপে সংকুচিত হয়ে একটি ঘন গাঁঠ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাক হোলে রূপ নেয়।

তারা (বিজ্ঞানীরা) দেখতে পেয়েছেন—দু’টি নিউক্লিয়াসের মাঝখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণ আয়নিত হাইড্রোজেন গ্যাস, যা ব্ল্যাক হোলের চারপাশে বিস্তৃত। ব্ল্যাক হোলটি সক্রিয়ভাবে পদার্থ শোষণ করছে, যার প্রমাণ মিলেছে নাসার চন্দ্রা এক্স-রে ও ভেরি লার্জ অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া এক্স-রে ও রেডিও তরঙ্গ থেকে। তাছাড়া ব্ল্যাক হোলটি যদি বাইরে থেকে এসে পড়ে, তাহলে তার গতি (ভেলোসিটি) আশেপাশের গ্যাসের গতির সঙ্গে মিলবে না। কিন্তু দেখা গেছে, ব্ল্যাক হোল এবং আশপাশের গ্যাসের গতি প্রায় অভিন্ন যা পের্ সেকেন্ডে প্রায় ৫০ কিমি মধ্যে।

গত ১৫ জুলাইয়ের নাসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পর্যবেক্ষণের জন্য তারা ডিরেক্টর'স ডিসক্রিশনারি টাইম পেয়ে ওয়েব দিয়ে ফলো-আপ স্টাডি করেন। সেখানে তারা আরও চমৎকার তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, আয়নিত গ্যাসের বিস্তৃতি (ব্যাস) নিশ্চিত হয়েছে। ব্ল্যাক হোলটি গ্যাসের গতির ঠিক মাঝখানে অবস্থান করছে, যা প্রমাণ করে এটি ওই গ্যাস থেকেই গঠিত। এবং অবাক করা বিষয় হচ্ছে, উভয় নিউক্লিয়াসেও সক্রিয় ব্ল্যাক হোল রয়েছে! অর্থাৎ, এই একটি গ্যালাক্সি সিস্টেমে রয়েছে তিনটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল!

উক্ত প্রতিবেদনে থেকে আরো জানা গেছে, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে, এটা সরাসরি পতিত ব্ল্যাক হোল। কিন্তু আমরা বলতে পারি, এটি একটি সদ্য জন্ম নেওয়া ব্ল্যাক হোল হওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালোভাবে সমর্থন করছে, এবং অন্যান্য সম্ভাবনাকে দুর্বল করছে। তবে আমরা আরও এটি আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবো। এবং এই আবিষ্কার শুধু একটি মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনই নয়, বরং ব্ল্যাক হোল সৃষ্টির একটি নতুন প্রক্রিয়ার সম্ভবনাকে সামনে এনেছে—যা আমাদের মহাবিশ্ব বোঝার ধারাকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে নাসাকে জানিয়েছে, ইয়েল ইউনিভার্সিটির অস্ট্রোনমি অ্যান্ড ফিজিক্সের প্রফেসর, ভ্যান ডকুম।

রেফারেন্স:
১) van Dokkum, P., Brammer, G., et al. (2025). A candidate direct-collapse black hole discovered with JWST in a dual-ring galaxy system. The Astrophysical Journal Letters.
২) NASA. (2025, July 15). NASA’s Webb finds possible “direct collapse” black hole. NASA Science. https://science.nasa.gov/blogs/webb/2025/07/15/nasas-webb-finds-possible-direct-collapse-black-hole/
৩) AAS Nova. (2025, July 15). A candidate direct-collapse black hole in the Infinity Galaxy. American Astronomical Society. https://aasnova.org/2025/07/15/a-candidate-direct-collapse-black-hole-in-the-infinity-galaxy/
৪) Howell, E. (2025, July 16). The JWST might have found the first direct-collapse black hole. Universe Today. https://www.universetoday.com/165320/the-jwst-might-have-found-the-first-direct-collapse-black-hole/
৫) Pultar, L. (2025, July 17). James Webb just found a black hole that breaks the rules—and now physicists are tearing each other apart over what it means. Rude Baguette. https://www.rudebaguette.com/en/2025/07/james-webb-just-found-a-black-hole-that-breaks-the-rules/
৬) Time Magazine. (2025, July 18). Astronomers discover an uncommon way for black holes to form. Time. https://time.com/7303593/astronomers-discover-uncommon-black-hole/
৭) Barrow, K. S. S., Aykutalp, A., & Wise, J. H. (2018). Direct-collapse black hole formation in metal-poor gas-rich galaxies. Monthly Notices of the Royal Astronomical Society, 480(1), 60–74. https://doi.org/10.1093/mnras/sty1706
৮) Wikipedia contributors. (n.d.). Direct collapse black hole. Wikipedia. Retrieved July 30, 2025, from https://en.wikipedia.org/wiki/Direct_collapse_black_hole
৯) https://science.nasa.gov/blogs/webb/2025/07/15/nasas-webb-finds-possible-direct-collapse-black-hole/

mzamin

গাজায় দুর্ভিক্ষ কাটতে সময় লাগবে, ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক রোগ

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ত্রাণ সরবরাহ বেড়েছে। তবে দুই বছর ধরে ইসরায়েলের অবরোধের কারণে উপত্যকাটিতে যে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, তা স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া ইসরায়েলি নৃশংসতায় গাজার বেশির ভাগ হাসপাতাল ধ্বংস হওয়ায় সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে সংক্রামক রোগবালাই।

গত শুক্রবার ছিল গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির অষ্টম দিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তি’ পরিকল্পনার প্রথম ধাপ অনুযায়ী এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ গাজায় ঢুকতে দেবে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ রাখায় নির্ধারিত ত্রাণের অনেক কম গাজায় প্রবেশ করছে।

গাজা থেকে সাংবাদিক হিন্দ কোউদারি জানান, দিনে ৬০০ ট্রাক ত্রাণও উপত্যকাটির জন্য যথেষ্ট নয়। তবে প্রতিদিন ৩০০টির কম গাজায় প্রবেশ করছে। গতকালও অনেক ট্রাক ইসরায়েলের কিসুফিম সীমান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছিল। সেগুলো নিরীক্ষা করতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। নিরীক্ষায় অনেক ট্রাকের পণ্য আটকে রাখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এসব পণ্যে বিধিনিষেধ আছে।

এমন পরিস্থিতিতে গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। জাতিসংঘের সংস্থাটির মুখপাত্র আবির ইতেফা গতকাল জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আরও কিছু সময় লাগবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে টানা দুই বছর গাজায় নৃশংসতা চালায় ইসরায়েল। অবরোধের জেরে এ সময় উপত্যকাটিতে দেখা দেয় খাবার, পানি, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ জরুরি পণ্যের তীব্র সংকট। অনাহারে মৃত্যু হয় ৪৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির। এমন পরিস্থিতিতে গত আগস্টে জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণবিষয়ক প্যানেল আইপিসি জানায়, গাজা নগরীতে দুর্ভিক্ষ চলছে।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে সংক্রামক রোগ

গাজায় ইসরায়েলের হামলার কারণে ৩৬টি হাসপাতালের মাত্র ১৩টি আংশিক চালু আছে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। গতকাল মিসরের রাজধানী কায়রোয় এএফপিকে সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালকি বলেন, ‘এটি মেনিনজাইটিস হোক বা ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ, আমরা বিপুল পরিমাণ কাজের কথা বলছি।’

মধ্যস্থতাকারীদের হামাসের আহ্বান

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাকি শর্তগুলো অনুসরণের জন্য মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস। সংগঠনটির এক বিবৃতির বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সংঘাত-পরবর্তী গাজায় একটি কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছে হামাস। এই কমিটি উপত্যকাটির প্রশাসনিক কাজ শুরু করবে।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর গাজার শাসনক্ষমতায় থাকতে পারবে না হামাস। এই শর্তে সংগঠনটি রাজি হয়েছে। তবে গাজায় যেসব এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেখানে হামাস সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, গাজায় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সাময়িক সময় অস্ত্র ধারণ করতে পারবে হামাস।

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আলবানি মসজিদ। সেই জায়গায় পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করছেন ফিলিস্তিনিরা। গতকাল গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে
ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আলবানি মসজিদ। সেই জায়গায় পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করছেন ফিলিস্তিনিরা। গত শুক্রবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে। ছবি: এএফপি

নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: যেভাবে বিশ্ব অর্থনীতি বদলে দিচ্ছে চীন

নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পাকাপোক্ত করতে রাজধানী বেইজিংয়ে জড়ো হয়েছেন চীনের শীর্ষ নেতারা। সেখানে তারা ২০২৬-২০৩০ সালের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন। বিশেষ করে আগামী পাঁচ বছর অর্থনৈতিকভাবে চীন নিজেদের কোন কোন লক্ষ্য পূরণ করতে চায় তার রূপরেখা এবং কর্মপদ্ধতি ঠিক হবে এই বৈঠকে। চীনে প্রতিবছরই এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেইজিংয়ে সপ্তাহব্যাপী চলে এসব বৈঠক। সেখান থেকে তারা পরবর্তী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন এবং লক্ষ্য পূরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করেন। কাগজে কলমে চীনের এই পদ্ধতি সাদামাটা মনে হলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। চীনের এসব পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বিশ্বের অর্থনৈতিক গতিপথ বদলে দেয়ার নজিরও রয়েছে। এ ছাড়া এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো নীল থমাস বলেন, পশ্চিমা নীতি নির্বাচনী চক্রে পরিচালিত হয়। আর চীনের নীতিনির্ধারণ চলে পরিকল্পনা চক্রে। চীনের এসব পরিকল্পনা দেশটির লক্ষ্য সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা দেয়। বিশেষ করে দেশটির নেতৃত্বের অভিমুখ কোন পথে তা জানা যায়। অতীতের তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে, তার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

সেখানে বলা হয়, চীনের উত্থান-পর্ব হিসেবে ধরা হয় ১৯৮১-৮৪ সালকে। কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুংয়ের বিধ্বংসী শাসন ও সোভিয়েত-শৈলীর কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি যখন দেশের সমৃদ্ধি আনতে ব্যর্থ হয়, তখন নতুন নেতা দেং জিয়াও পিং মুক্তবাজার অর্থনীতির কিছু উপাদানকে গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে শুরু হওয়া ওই পরিকল্পনায় সংস্কার ও উন্মুক্তকরণকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি এবং তাতে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার মধ্যদিয়ে চীনের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তিত হয়।

এর বৈশ্বিক প্রভাব ছিল ব্যাপক। একবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা দেশগুলোর উৎপাদন খাতের বহু কাজ চীনের উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়। যা ইতিহাসে চায়না শক নামে পরিচিত। এর পেছনে রয়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শিল্পাঞ্চলে জনপ্রিয়তাবাদী দলগুলোর উত্থান। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং শুল্কনীতির প্রধান লক্ষ্য চীন। এর মাধ্যমে চীনের দখলে চলে যাওয়া হারানো সেই আমেরিকান শিল্প ফিরিয়ে আনতে চান ট্রাম্প।

২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দিয়ে চীন নিজেদের অবস্থান পাকা করেছে। এরপরই কম মজুরি আর সস্তা উৎপাদনের গণ্ডি পেরিয়ে এবার নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে উচ্চ-প্রযুক্তিগত পণ্য ও পরিষেবা তৈরির উদ্ভাবনী ক্ষমতা আয়ত্ত করার পরিকল্পনা করে চীন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন কৌশলগত উদীয়মান শিল্পের ওপর মনোযোগ দেয়। যার মধ্যে প্রধান ছিল সবুজ প্রযুক্তি। যেমন ইলেকট্রিক যান এবং সৌর প্যানেল। জলবায়ু পরিবর্তন যখন পশ্চিমা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো, চীন তখন এই শিল্পগুলোতে অভূতপূর্ব সম্পদ বিনিয়োগ শুরু করে। এর ফলস্বরূপ, আজ চীন কেবল নবায়নযোগ্য শক্তি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে সবার উপরে নয় বরং এই প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ সরবরাহেও প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে বেইজিং। কৌশলগত এই সম্পদগুলোর ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জুড়ে তাদের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। নীল থমাসের মতে, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে চীনের এই আত্মনির্ভরশীলতার আকাক্সক্ষা কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের মূলে প্রোথিত।

বর্তমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শি জিনপিং প্রবর্তিত ‘উচ্চমানের উন্নয়ন’ স্লোগানটি প্রযুক্তি খাতে আমেরিকান আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। টিকটক, হুয়াওয়ে এবং ডিপসিক-এর মতো ঘরোয়া সাফল্যের গল্পগুলো চীনের এই প্রযুক্তিগত উত্থানের প্রমাণ। তবে পশ্চিমাদের এই প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে চীনা প্রযুক্তির ওপর বিশ্ব জুড়ে নিষেধাজ্ঞা বা নিষেধাজ্ঞার প্রচেষ্টা কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিকল্পনা  বৈঠক চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন এখন নতুন স্লোগানের দিকে ঝুঁকছে। যার প্রধান লক্ষ্য হলো প্রযুক্তি খাতে স্বনির্ভর হওয়া। বিশেষ করে চিপ তৈরি, কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় উদ্ভাবনী ক্ষেত্রগুলোতে পশ্চিমা প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই পরবর্তী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নীল থমাসের বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা এখন চীনের অর্থনৈতিক নীতির সংজ্ঞায়িত মিশন। আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বিশ্বকে কোন নতুন পথে নিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

mzamin

কাশ্মীর নিয়ে লেখা বইয়ে ভারতের কেন এত ভয় by অনুরাধা ভাসিন

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা (ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা) বাতিল করে দেয়। রাজ্যটিকে দুটি ভাগে ভাগ করে সরাসরি নয়াদিল্লির নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়।

কয়েক দিন আগে ওই ঘটনার ছয় বছর পূর্তির আগমুহূর্তে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বিভক্তি বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রীনগরের আকাশে যুদ্ধবিমানের অস্বাভাবিক ওড়াউড়ি দেখে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এতে ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের আগে কাশ্মীরের আকাশে যুদ্ধবিমানের ওড়াউড়ি দেখে মানুষের মনে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, সেই ভয়ংকর স্মৃতি ফিরে আসে। কী ঘটতে যাচ্ছে, ভেবে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

ছয় বছর পূরণের দিনে সরকার হঠাৎ ঘোষণা দেয়, জম্মু ও কাশ্মীরের ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে লেখা ২৫টি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, এসব বই ‘মিথ্যা বয়ান’ ও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’ প্রচার করছে। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি।

এসব বইয়ের মধ্যে আমার লেখা একটি বই আছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে হারপারকলিন্স থেকে প্রকাশিত বইটির শিরোনাম আ ডিসম্যান্টেলড স্টেট: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব কাশ্মীর আফটার আর্টিকেল ৩৭০। বইটি ২০১৯ সালের পরের কাশ্মীরের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। বইটি মাঠপর্যায়ের গবেষণা, বিস্তৃত সাক্ষাৎকার এবং নানান তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে লেখা। এটি সরকারের প্রচার করা ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি’র দাবি ভেঙে দেয়।

সরকার ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিয়েছিল এই বলে যে এতে শান্তি ও উন্নয়ন আসবে; কিন্তু তারা যে নজিরবিহীন ফিজিক্যাল ও সাইবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং তিনজন মুখ্যমন্ত্রীসহ ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বহু রাজনীতিক ও হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছিল, তা গোপন করেছে। কাঁটাতার আর সামরিক ব্যারিকেডে কাশ্মীরকে কারফিউ অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছিল। ফোন ও ইন্টারনেট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ছয় মাস পরে আংশিক ইন্টারনেট চালু হলেও দমন-পীড়ন আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী, মানবাধিকারকর্মীদের ওপর অভিযান তীব্র হয়েছিল। জননিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইন (এই আইনে বিনা অভিযোগে দুই বছর পর্যন্ত আটক রাখা যায়) ব্যবহার করে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছিল।

এই বাস্তবতার খুব কমই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেত। স্থানীয় পত্রিকাগুলো দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। যারা সরকারের সঙ্গে তাল মেলায়নি, তাদের আর্থিকভাবে চেপে ধরা হয়, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যারা মানিয়ে নিয়েছিল, তারা সরকারি বিজ্ঞাপন পেয়ে বেঁচে ছিল; তবে তারা বেঁচে ছিল সাংবাদিকতা ছাড়া।

এভাবে পত্রিকাগুলো হয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, নয়তো ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যায়। সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তোলা বন্ধ করে দেন। কিছু পত্রিকার সমৃদ্ধ আর্কাইভ (যা কাশ্মীরের প্রতিদিনের জটিল ইতিহাস ধরে রাখত) সরিয়ে ফেলা হয় বা আর দেখা যায় না।

গত ছয় বছরে সরকার কোনো সমালোচনা সহ্য করেনি। সামান্য বিরোধী মত পেলেই শুরু হয় ভয় দেখানো, জিজ্ঞাসাবাদ, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত, আয়কর বা মানি লন্ডারিং মামলা, সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এবং কখনো স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি আটক। স্থানীয় সাংবাদিকতা সরকারের জনসংযোগ দপ্তরের দালালে পরিণত হয়। নাগরিক সমাজের সব কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তথ্যের বড় শূন্যতা তৈরি হয়।

এই শূন্যতা পূরণ করাই ছিল আমার বইয়ের উদ্দেশ্য। ১২টি অধ্যায়ে আমি ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রথম দুই বছরের চিত্র তুলে ধরেছি। বেড়ে চলা দমননীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাব, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংকোচন, বিরোধী মতকে অপরাধী করা, সরকারের শান্তি ও স্বাভাবিকতার দাবির বিপরীতে সন্ত্রাসবাদের অব্যাহত উপস্থিতি সেখানে তুলে ধরেছি।

এটি ছিল সত্যের অনুসন্ধান। এটি ছিল নগ্ন সত্য, যা সরকারের বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করেছে। একটি আতঙ্কগ্রস্ত রাষ্ট্র, যে কেবল সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে, বাসিন্দাদের দমন করে এবং সব বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করে কাশ্মীরে তার নিয়ন্ত্রণ চালায়, তারা আমার কাজে অস্বস্তি বোধ করেছিল। আমার বই সরকারকে সতর্ক করেছিল—এই নিয়ন্ত্রণনীতি, পুলিশ ও নজরদারি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং ভুল উন্নয়ন মডেল টেকসই নয়, এটি ব্যর্থ হবে।

গত ছয় বছরে সরকার বিশ্বের চোখে ধুলা দিয়ে এসেছে। তারা দাবি করেছে, তারা শান্তি, স্বাভাবিকতা, পর্যটন ও উন্নয়ন এনেছে; কিন্তু এ বছরের ২২ এপ্রিল ২৬ জন নিরপরাধ বেসামরিক লোকের হত্যাকাণ্ড সেই বুদ্‌বুদ ফাটিয়ে দিয়েছে। এটি সরকারের জন্য কাশ্মীর নীতি পুনর্বিবেচনা করার সতর্কবার্তা ছিল।

কিন্তু তারা উল্টো দমন বাড়িয়েছে। কাশ্মীরিদের অপদস্থ করা, নির্বিচার আটক করা, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এই সময়েই কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের প্রকাশ্য নিন্দা হয়েছে। মোমবাতি প্রজ্বলিত হয়েছে। সহিংসতা বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী ব্যক্তিরাও জানিয়েছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডে বিদেশি জঙ্গিরা জড়িত, স্থানীয় ব্যক্তিরা নয়।

গত তিন মাসে সরকার দেখিয়েছে, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সর্বব্যাপী নজরদারির নীতি আরও তীব্র হবে। ২৫টি বইয়ের নিষেধাজ্ঞা (যার অনেকগুলোই গবেষণাসমৃদ্ধ, বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও আইনভিত্তিক রচনা) এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। এর মাধ্যমে বিকল্প বয়ান ও ভিন্ন স্মৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।

সরকার বিরোধী মত বা সরকারি বয়ানের সঙ্গে না মেলা সবকিছুকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে এখন এই বই বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করতে পারবে। শুধু লেখাই নয়, পড়াকেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলা হবে। এতে হয়তো চিন্তা ও স্মৃতি পুরোপুরি দমন করা যাবে না; কিন্তু মানুষ কী লিখবে ও পড়বে, তা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

অনুরাধা ভাসিন, কাশ্মীর টাইমস–এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা রদ করে ভারত সরকার। জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে এক কাশ্মীরি। শ্রীনগর, কাশ্মীর,
জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা রদ করে ভারত সরকার। জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে এক কাশ্মীরি। শ্রীনগর, কাশ্মীর, ফাইল ছবি: রয়টার্স