Saturday, November 4, 2017
শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে উপজাতিদের বাধা by কাজী সোহাগ

শান্তিচুক্তি বিশ্লষণ করে জানা যায়, এ পর্যন্ত শান্তিচুক্তির মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টির পূর্ণ বাস্তবায়ন, ১৫টির আংশিক বাস্তবায়ন এবং ৯টি ধারার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলায় হস্তান্তরযোগ্য ৩৩টি বিষয়/বিভাগের মধ্যে এ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ২৮টি বিষয়ে/দপ্তর হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চুক্তির কিছু কিছু ধারা বাংলাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে অবশিষ্ট চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার চুক্তির যে ধারাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এরপরও আঞ্চলিক উপজাতি সংগঠনের নেতা ও কতিপয় বুদ্ধিজীবী ক্রমাগত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করে যাচ্ছেন। সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকলেও আঞ্চলিক উপজাতি রাজনৈতিক দলসমূহের বিরূপ মনোভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। পার্বত্য জেলা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলেন, আঞ্চলিক উপজাতি সংগঠনগুলোর এ ধরনের নেতিবাচক মনোভাব থাকলে সরকারের একার পক্ষে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। চুক্তি বাস্তবায়নে সকলকে শান্তিপূর্ণ ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ ২১ বছরের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এবং রক্তক্ষরণের অবসান ঘটে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্য কোনো তৃতীয়পক্ষের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এই শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয় যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল উদাহরণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির সুফল হিসেবে উপজাতি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, তাদের দলের অন্যান্য সদস্য এবং পাহাড়ের সাধারণ মানুষ বেশকিছু সুবিধা ভোগ করছে। বাংলাদেশের সমতলের জেলাগুলোর মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতেও বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা গড়ে উঠেছে। সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করে ইতিমধ্যে পাহাড়ের সব উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালে মাত্র ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য অঞ্চলে নির্মাণ করেছে প্রায় ১৫৩৫ কিলোমিটার রাস্তা, অসংখ্য ব্রিজ ও কালভার্ট। পার্বত্য জেলার অধিবাসীরা জানান, পার্বত্যাঞ্চলে মোতায়েনরত সেনাবাহিনীকে ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাসে প্রত্যাবর্তন, সামাজিক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৩ পার্বত্য জেলায় ৪১ হাজার ৮৪৭ জনকে বয়স্ক ভাতা, ২২ হাজার ৪১০ জনকে বিধবা ভাতা, ৭ হাজার ৩১১ জনকে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা এবং ৯৮১ জন প্রতিবন্ধীকে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলে ১ হাজার ৪৬টি সমিতির মাধ্যমে ৫২ হাজার ১৭২ জন সদস্যের দারিদ্র্যবিমোচন তথা জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬২৩টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে যেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ ছিল না সেখানে নির্মিত হয়েছে ১টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১টি মেডিকেল কলেজ। হাইস্কুল ও কলেজের সংখ্যা যেখানে ছিল মাত্র ১১টি সেটা এখন ৪৭৯টি। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। শিক্ষার হার ২ ভাগ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪৪ দশমিক ৬২ ভাগে পৌঁছেছে। যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষার হার ৫৯ দশমিক ৮২ ভাগ সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার ৭৩ ভাগ। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের শিক্ষার হার ২৩ ভাগ । সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১টি থেকে ৩টি করা হয়েছে, হাসপাতালের সংখ্যা ৩টি থেকে ২৫টিতে উন্নীত হয়েছে। যেখানে কোনো খেলার মাঠ ছিলো না সেখানে ৫টি স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে। কলকারখানা, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ১৯৩টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৩৮২টিতে উন্নীত হয়েছে। ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এককালের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভূত উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকার চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উপজাতিদের জন্য ৫ ভাগ সংরক্ষিত কোটার ব্যবস্থা করেছেন, উপজাতিদের সরকারি ট্যাক্সের আওতামুক্ত রেখেছেন। এ সবই করা হয়েছে তাদের আর্থ-সামাজিক ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে। সরকারের দেয়া এসব সুবিধা ভোগ করে শিক্ষা, চাকরি এবং জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে উপজাতিদের ব্যাপক উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। দিন দিন এ অবস্থার আরও উন্নতি হবে। শান্তিচুক্তির সুফল ভোগ করে উপজাতিদের বর্তমান জীবন যাত্রার মান, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রসরতা প্রভৃতি বিবেচনা করে এ কথা বলা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন আর বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়। শান্তিচুক্তিতে বলা হয়েছে, পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা অস্ত্র সমর্পণ করবে, সন্ত্রাস ও অপরাধের রাস্তা ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, আজও খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের স্বর্গরাজ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা নতুন করে আরো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সংগ্রহ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও একই ধরনের সন্ত্রাসী-কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইউপিডিএফ, জেএসএস (সন্তু) এবং জেএসএস(সংস্কার) নামে তিন উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে জোর জবরদস্তি করে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। পাহাড়ের কোথায় কখন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কার ওপর হামলে পড়বে তা নিয়ে সার্বক্ষণিক উৎকণ্ঠায় থাকতে হচ্ছে পাহাড়ি-বাঙালি শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গন্তব্য কোথায়?

কিন্তু গত কিছুদিনে সে দৃশ্যে পরিবর্তন এসেছে। যন্ত্রটি আবার সক্রিয় পুরোদমে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে কেন্দ্র করেই প্রথম এ মেশিন সক্রিয় হয়। গুজবে কান দিবেন না- বহু পুরনো উপদেশ। কিন্তু কিছু গুজব যে সত্য হয় তার প্রমাণ দিয়ে এরইমধ্যে ছুটিতে চলে গেছেন প্রধান বিচারপতি। তার ফেরা, না ফেরা নিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে নানা গুজব। কোন্টি সত্য আর কোন্টি মিথ্যা তা বুঝা দায়।
ভোটের বহুআগে ভোটের রাজনীতি চালু হয়ে গেছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট সে আলোচনা অনেকটা থামিয়ে দেয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যস্ত সময় কাটান রাজনীতিবিদেরা। যদিও ১০ লাখের বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হবে তা এখনো খোলাসা নয়। তবে প্রায় তিন মাস পর বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার পর রাজনীতির ট্রেন আবার সচল হয়েছে। তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার দীর্ঘপথে বিপুল শোডাউন করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। দোষারোপের পুরনো রাজনীতিও পুরো মাত্রায় সক্রিয়। দুই দলের দুই সেক্রেটারি আলাদা মঞ্চ থেকে প্রতিদিনই বাহাসে জড়াচ্ছেন। এই যখন অবস্থা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিবেশী দেশের ভূমিকাও ফের বিপুল আলোচনা তৈরি করেছে। সুষমা স্বরাজ তার সফরে কী বার্তা দিয়ে গেছেন দুই দলকে এ নিয়ে রাজনীতির অন্দরমহলে নানা আলোচনা। গুরুত্ব পাচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণও। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমাতে ভারতের সরনাপন্ন যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, চীন-ভারত দ্বন্ধ বহু পুরনো। যদিও চীনের বড় অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের লড়াই অনেকটাই অসম।
অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, জটিল এক রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে তার নির্বাচনী প্রস্তুতি অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে দফায় দফায় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। চালানো হয়েছে একাধিক জরিপ। বিএনপিও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে। খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। বিএনপি নেত্রী সহসাই দেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও যেতে পারেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখন তাদের সব কর্মসূচির উদ্দেশ্য নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং বিএনপি’র দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, গত দুই বছর আমরা আন্দোলনমুখী কোনো কর্মসূচি দেইনি। কিন্তু এখন তো সময় এসেছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। তাঁর (খালেদা জিয়ার) এই সফরই মাত্র শুরু। এরপরেও আমরা কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করবো। সেখানে ব্যাপকভাবে সারা দেশে বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোতে তিনি সফরে যাবেন। মি. আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে আমরা খুবই আন্তরিক। এবং আমাদের প্রস্তুতিও একইভাবে চলছে। কিন্তু নির্বাচনটা কিভাবে হবে? আমরা দেখেছি ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে যখনই কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তখন নির্বাচন কমিশন কোনো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বিএনপি’র মধ্যেও অনেকে ভাবেন যে আগামী নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর নেই। কারণ বিএনপি এর আগে যে নির্বাচনগুলো বর্জন করেছিল- ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে- সেটা তাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছিল। এ কারণে তারা ১৯৯১ সালে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল। কিন্তু গত নির্বাচনটা যে তারা বর্জন করেছে এটা তাদের জন্য অনেক এক্সপেনসিভ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি বিএনপি যেভাবে কথা বলছে, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার সহিংসতা থেকে যেভাবে দূরে আছে, এটা ভাবা স্বাভাবিক যে, তারা ইলেকশনে অংশ নেয়ার পথে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যদি খুবই বড় ধরনের আনসেটেলিং কিছু করা হয়, যেমন হঠাৎ করে বেগম জিয়াকে জেলে দিয়ে দিলো বা যদি বিএনপি’র বড় একটা অংশকে জেলে দিলো কিংবা যদি দেখা যায় বিএনপি’র মধ্যে একটা বড় ধরনের ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করলো বা সফল হলো, এই ধরনের বড় কোনো ঘটনা না ঘটলে আমি মনে করি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশকিছু বিষয় স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিএনপি-জামায়াত দূরত্ব বাড়ছে। দুই দলের সম্পর্ক ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিঙ্গাপুরে হার্টে অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফিরেছেন। রাজনীতিতে তিনি আর কতটা সক্রিয় থাকতে পারেন তাই হবে দেখার বিষয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষকদের। আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে নির্বাচনী ট্রেনে উঠে পড়েছে। বিএনপি সে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছে। যদিও নানা গুজব। শেষ পর্যন্ত রাজনীতি কোনদিকে যায় কে জানে!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে রক্ষা পেলো মেয়েটি by সিরাজুস সালেকিন

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার কাউন্টার থেকে রয়্যাল এক্সপ্রেস বাসে করে ঢাকা আসছিলেন তিনি ও তার বান্ধবী সায়মা (ছদ্মনাম)। পথে ডাকবাংলা থেকে একজন বোরখা পরা মেয়ে বাসে ওঠে তাদের বিপরীত পাশে সিটে বসে। মেয়েটির সঙ্গে আলাপচারিতার পর তারা জানতে পারে, মেয়েটি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে স্থানীয় এক কলেজে। গরিব কৃষকের তিন মেয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তার বাবা তাকে গাড়িতে তুলে দিতেও এসেছিলেন। মেয়েটি জানায়, বিয়ে করতে সে ঢাকায় যাচ্ছে। দুই মাস আগে মোবাইল ফোনে দুঃসম্পর্কের এক ভাবির মাধ্যমে এক লোকের সঙ্গে তার প্রেম হয়। যার জন্য সে বাবার ঘর ছেড়ে কথিত প্রেমিকের ঘরে যেতে বের হয়েছে। বিষয়টি তার পরিবারের সবাই জানে। ফলে তার বাবা তাকে তার কথিত প্রেমিকের উপর ভরসা করে ঢাকায় একা একা পাঠিয়ে দেন। মেয়েটি জানায়, লোকটির নাম শহীদুল ইসলাম। দেশের স্বনামধন্য একটি টিভি চ্যানেলের একজন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। এ ঘটনা শুনে হতভম্ব হয়ে যান নাজমা ও সায়মা। তাদের মনে সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনে পরিচয় গত দুই মাস ধরে। প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে এসে তার পরিবারকেও এক প্রকার গ্রাস করে ফেলেছে। এতটাই গ্রাস করেছে যে, মেয়েটির বাবা এই কথিত সাংবাদিক এর উপর ভরসা ও বিশ্বাস করে মেয়েটিকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। এমনকি লোকটির কোনো ছবিও মেয়ে বা তার পরিবারের কেউ দেখেনি। তারা আরও জানতে পারে, মেয়েটি এই প্রথমবার ঢাকা শহরে যাচ্ছে। শুধুমাত্র ফোনেই তাদের আলাপ হচ্ছে। সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তাদের দুই বান্ধবীর কৌতূহল আরো বেড়ে যায়। এই মেয়ে নির্ঘাত কোনো প্রতারণার শিকার হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তারা দু’জন সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই মেয়েকে যে ভাবেই হোক বাঁচাতে হবে। তারা কথার ছলে সবকিছু জানার চেষ্টা করে। ততক্ষণে বাস ফেরি পার হয়ে সাভারের কাছে পৌঁছে। মেয়েটির সঙ্গে কথার ছলে তারা জানতে পারে, সাংবাদিক পরিচয় দেয়া মেয়েটির কথিত প্রেমিক শহীদুল তাকে রিসিভ করার জন্য গাবতলী মাজার রোডে আসবে। নাজমা ও সায়মা সিদ্ধান্ত নেয় তারা নিজেদের গন্তব্য টেকনিক্যাল মোড়ে না নেমে গাবতলী মাজার রোডে নামবে। ইতিমধ্যে তারা ঐ সাংবাদিকের নামে অনলাইনে সার্চ করে তার ফেসবুক আইডি পায়। তার ছবি এবং কর্মকাণ্ডের ছবি দেখে বুঝে ফেলে এই সাংবাদিক এর ইনফো সব ঠিকই আছে। কিন্তু মেয়েটি যেভাবে বর্ণনা করছে তার সঙ্গে ওই প্রতারকের তথ্য মিলছে না। তারা পরিচিত এক সাংবাদিককে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়। তাদের কিছু ছেলে বন্ধুকে ডেকেও আনে গাবতলীতে। বাস থেকে নেমে মেয়েটিকে বলা হয় তার প্রেমিককে ডেকে আনতে। মেয়েটিকে দাঁড় করিয়ে পেছনে দুই বান্ধবী ও তাদের বন্ধুরা লুকিয়ে থাকে। এরপর ওই প্রতারক সামনে এলে সবার চোখ ছানাবড়া। লোকটি পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের। এবং দুপুরের তীব্র গরমের মধ্যেও লাল একটি সোয়েটার গায়ে। মুখে মাস্ক এবং কানে হেডফোন। যা ইন্টারনেটে সার্চ করা সাংবাদিকের সাথে কোনভাবেই মিলে না। সবাই লোকটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপর লোকটিকে পাশের এক রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় তারা। তার প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন রকম প্রমাণ চাওয়া হয়। কিন্তু লোকটি নিজেকে সাংবাদিক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে নাজমা ও তার বন্ধুরা নিশ্চিত হয়ে যায় মেয়েটি খুব বড় রকমের একটা প্রতারণায় পড়েছে। পরে এক সাংবাদিকের সহযোগিতায় স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করে লোকটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। রাতে ভিকটিম নিজেই শহীদুলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শহীদুল জানিয়েছে, তার বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায় এবং তার একাধিক স্ত্রীসহ বাচ্চা রয়েছে। সে মেয়েটির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছে এবং তাদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানায়, মেয়েটি স্কুলছাত্রী এবং সে প্রথমে নিজেকে কলেজছাত্রী পরিচয় দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার এসআই রবিন মণ্ডল জানান, ধারণা করা হচ্ছে শহীদুল একজন পেশাদার প্রতারক। তাদের একটি চক্র থাকতে পারে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো তারা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। মেয়েটিকে প্রতারকের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরে উচ্ছ্বসিত নাজমা বলেন, এত কষ্টের মাঝেও কেন জানি অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করছে। বর্ণনা করার ভাষা নেই। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছিল আসার সময় মেয়েটি যখন আমাদের দুইজনের হাত দু’টি শক্ত করে চেপে ধরেছিল। নিজের অজান্তেই চোখ ছলছল করে উঠেছিল। নাজমা বলেন, বন্ধুরা একসাথে থাকলে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারার আত্মবিশ্বাস আমাদের জন্মে গেছে। জানি না যদি বাসে মেয়েটি আমাদের পাশের সিটে না বসতো তবে হয়তো আগামীকালের কোনো এক দুঃসংবাদের শিরোনাম হয়ে যেত সে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাবা-মেয়ে খুনের নেপথ্যে পরকীয়া by আল-আমীন

৪ মাস আগে জামিল শেখ হঠাৎ বাসা পরিবর্তন করে। উঠেন বাড্ডার ময়নারবাগের পাঠান ভিলার তৃতীয় তলায়। আরজিনা কৌশলে প্রেমিক শাহীনকে একটি কক্ষ সাবলেট ভাড়া দেয়। চলতে থাকে আরজিনা-শাহিনের উন্মুত্ত প্রেম। পক্ষান্তরে, স্বামী জামিলের সঙ্গে আরজিনার ঝগড়া-বিবাদ বাড়তে থাকে। পরকীয়া প্রকাশ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পেয়ে বসে আরজিনা-শাহিনকে। এরপরই জামিল শেখকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে আরজিনা-শাহিন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বৃস্পতিবার গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জামিল শেখকে হত্যা করে শাহীন। তাকে ঘরে প্রবেশ করা থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয় আরজিনা। একপর্যায়ে মেয়ে নুসরাত ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।’ বাবা ও মেয়ের জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নিহত জামিলের স্ত্রী আরজিনা বেগম পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোমহর্ষক এমন তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল ভোরে খুলনায় অভিযান চালিয়ে আরজিনার পরকীয়া প্রেমিক শাহীন মল্লিক ও তার স্ত্রী মাসুমাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি ভ্রাম্যমাণ টিম।
বৃহস্পতিবার ভোরে বাড্ডা থানাধীন ময়নারবাগ কবরস্থান রোডের ৩০৬ নম্বর পাঠান ভিলার তৃতীয় তলায় নৃশংসভাবে খুন হন জামিল শেখ (৩৮) নামে এক গাড়ি চালক এবং মেয়ে নুসরাত জাহান (৯)। ঘটনার সময় জামিলের স্ত্রী আরজিনা বেগম তার আরেক ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাসায় ছিলেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, জামিলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এবং নুসরাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরজিনা বেগমকে আটক করে পুলিশ।
সূত্র জানায়, এ ঘটনায় নিহত জামিলের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা নম্বর-৩। মামলায় জামিলের স্ত্রী আরজিনা ও ভাড়াটিয়া শাহীন মল্লিককে আসামি করা হয়। গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহীন মল্লিক ও তার স্ত্রী মাসুমাকে আটক করে।
এ বিষয়ে পুলিশের বাড্ডা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আশরাফুল কবীর জানান, ৪ মাস আগে ময়নারবাগের পাঠান ভিলা নামে একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে উঠেন জামিল শেখ। তবে এর আগে একই এলাকায় আরেকটি বাড়িতে ভাড়া ছিলেন জামিল শেখ। সেই বাড়িতে জামিলের স্ত্রী আরজিনার সঙ্গে আরেক ভাড়াটিয়া শাহীন মল্লিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি জানান, একপর্যায়ে তারা পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। আরজিনা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, তাদের পরকীয়ায় বাধা হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এবং তার প্রেমিক শাহীন মল্লিক স্বামী জামিল ও তার মেয়েকে হত্যা করেছে।
তিনি আরো জানান, পুলিশ ঘটনার পরেই জামিলের স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রথমে সে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য দিতে চাচ্ছিল না। গরমিল তথ্য দিচ্ছিল। অসংলগ্ন কথা বলছিল। অব্যাহত জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে আরজিনা তার দোষ স্বীকার করে। তাদের রিমান্ডে এনে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী নাসিমা পাঠান জানান, তাদের বাড়ির তৃতীয় তলায় জামিল ও আরজিনা দম্পতি ভাড়া নেয়। জামিল ও আরজিনার মধ্যে ঝগড়া হতো। এ নিয়ে কয়েকবার আরজিনা বাবা ও মায়ের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। তিনি আরো জানান, জামিলের কক্ষের পাশের আরেকটি কক্ষ ফাঁকা ছিল। ওই কক্ষটিও ভাড়া নিয়েছিল জামিল দম্পতি। পরে আরজিনার পূর্ব পরিচিত এক দম্পতিকে সেই কক্ষটি সাবলেট দেয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এমন কথা উড়োভাবে শুনেছি। যেহেতু তাদের বিষয়টি পারিবারিক বিষয় সেহেতু এ নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে যাইনি।
বাড্ডা থানার পুলিশের এক এসআই মানবজমিনকে জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ নিহতের স্ত্রী আরজিনাকে সন্দেহ করছিল। কারণ, ওই হত্যাকাণ্ডের পর সিঁড়িতে বসে ছিল আরজিনা। ঘটনাটি তিনি ডাকাতি হিসাবে চালিয়ে দেবার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু, বাইরের মূল গেট সবসময় তালা লাগানো থাকার কারণে তিনি পুলিশকে ডাকাতি বলতে পারেন নি। এ ছাড়াও খুনিরা তার এক সন্তানকে হত্যা করবে, আর আরেক সন্তানকে হত্যা করবে না- তা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। এ ছাড়াও এত বড় ঘটনার পর আরজিনা কাউকে বিষয়টি অবগত না করে সিঁড়িতে বসে কাঁদছিলেন। অন্য ভাড়াটিয়া ইউসুফ ফজরের নামাজ পড়তে বের হলে তখন আরজিনা বিষয়টি তাকে জানান। এ ছাড়াও ঘটনার পর সাবলেটে থাকা অন্য ভাড়াটিয়া ছিল না। ঘটনার রাতে তারা বাসায় ছিলেন। খুনের পর ভাড়াটিয়ারা হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। এতে পুলিশের আরও সংশয় বাঁধে।
সূত্র জানায়, নিহত জামিল গুলশানে এক ব্যবসায়ীর গাড়ি চালানোর কারণে সকালে বের হয়ে রাতে আসতেন। আর শাহীন বিভিন্ন দোকানে সাইকেলে করে পাইকারি মাল সরবরাহ করতো। তবে দুইজনের পরকীয়ার বিষয়টি জামিল জানতো না। অন্যদিকে শাহীন মল্লিকের স্ত্রী মাসুমাও বিষয়টি জানতো না। তবে কিছুদিন আগে বিষয়টি টের পেয়ে যায়। দুপুর বেলায় মাসুমা ময়নারবাগের তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই বাড়ি থেকে দ্রুত আসার ফলে শাহীন ও আরজিনাকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পেলে মাসুমা পরকীয়ার বিষয়টি টের পেয়ে যায়।
সূত্র জানায়, পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার কারণে আরজিনা তার স্বামীর সঙ্গে প্রায় ঝগড়া লাগাতো। গত সপ্তাহে রাগ করে তিনি বাবার বাড়ি সাভারে চলে গিয়েছিলেন। পরে তার বাবা ও মা তাকে বুঝিয়ে আবার জামিলের কাছে রেখে যায়। কিন্তু, আরজিনার পরকীয়ার আসক্তি থেকেই যায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুচির কট্টর মুখপাত্রের দাবি ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য পেয়েছে তাই...

তারা বিলম্ব করতে চাইছে। অথচ আমরা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত।’ গতকাল মিয়ানমার টাইমসে তার এই বক্তব্য ছাপা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়ার বিষয়টি মিয়ানমার টাইমসে ছাপা হলেও ২রা নভেম্বরের নিউ ইয়র্ক টাইমসে তা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদদাতা হাননা বেক লিখেছেন, মি. জ তে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরতে দিতে চাইছে না। কারণ, তারা আন্তর্জাতিক অনুদান হারাতে চায় না।’ মিয়ানমার টাইমস বলেছে, ঢাকায় একজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, আমরা তাদের এই মনোভাব জেনে শঙ্কিত। কারণ, গোটা বিশ্ব জানে যে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বের জন্য কারা দায়ী?” বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে বলেছে, গত সপ্তাহের আলোচনায় বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নসহ যে ১০ দফা পেশ করেছেন, সে বিষয়ে মিয়ানমারের কোনো সাড়া নেই। গত শুক্রবার আসাদুজ্জামান খান মিডিয়াকে বলেছেন, একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে তারা ব্যর্থ হলেও এ বিষয়ে আগামী ৩০শে নভেম্বরে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরকালে তা হতে পারে। ওই মুখপাত্রটি বলেছেন, ১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে তারা। কিন্তু বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব জানে এটা একটা বর্মী ভাঁওতাবাজি। কারণ, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে বলা হয়েছিল, মিয়ানমার উদ্বাস্তুদের ফেরত নেবে। কিন্তু শর্ত হলো তারা যে মিয়ানমারের নাগরিক তার সপক্ষে তাদের প্রমাণ দিতে হবে। আর এটা সবারই জানা যে, রোহিঙ্গাদের বহু বছর ধরে কোনো প্রকারের নাগরিকত্বের সনদ দেয়া হয়নি। উপরন্তু যার কাছে যে কাগজপত্র অবশিষ্ট ছিল তাও তারা আনতে পারেনি। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। মানুষ প্রাণ হাতে করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আর এখন তারা বলছে, নাগরিকত্বের প্রমাণ ছাড়া তারা কোনো রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করবে না। ওই মুখপাত্র আরো বলেন, আমরা এখন শঙ্কিত যে বাংলাদেশ সরকার এত বিপুল পরিমাণ সাহায্য পেয়েছে, তাই এখন তারা তাদের আর ছাড়তে চাইবে না। তারা আন্তর্জাতিক সাবসিডি বা ভর্তুকি পেয়েছে। মিয়ানমার টাইমসের শুক্রবারের রিপোর্টে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাম্প্রতিক সফরকালে দুপক্ষের মধ্যে কমিটি গঠনে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করাই এই কমিটির লক্ষ্য। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে উ জ তে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাখাইনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কেন গুলি চালানো হয়েছে? এর উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘মার্কিন সেনারা আক্রান্ত হলে তারা গুলি চালাতে পারে। ‘বাঙালি সন্ত্রাসীরা’ বেসামরিক নাগরিকদের সঙ্গে মিশে আছে। এখন তারা যদি আপনার ক্ষতি করতে চায়, তাহলে আপনি তাদের ওপর গুলি চালাতে পারেন।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ▼ 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...