Showing posts with label পিরোজপুর. Show all posts
Showing posts with label পিরোজপুর. Show all posts

Sunday, March 30, 2025

তিন সন্তানের লাশের ভার নাসির উদ্দিন কীভাবে বইবেন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নাসির উদ্দিনের বাড়িতে সবাই আহাজারি করছেন। বাড়ির সদস্যরা তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী যাঁরা এসেছেন, তাঁরাও কাঁদছেন। এই বাড়ির তিন সন্তান আজ শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সোনার বাংলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। একসঙ্গে তিন সন্তানের লাশের ভার নাসির উদ্দিন কীভাবে বইবেন, মুঠোফোনে বিলাপ করে বলছিলেন তিনি।

নাসির উদ্দিন শ্রমিকের কাজ করতে গেছেন রাঙামাটি। তিন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে সেখান থেকে রওনা দিয়েছেন তিনি। পথে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিন ছেলে হারানোর কষ্টের কথা বলছিলেন, আর হাউমাউ করে কাঁদছিলেন।

নিহত তিন ভাই হলেন মো. নাঈমুজ্জামান খান ওরফে শুভ (২২), মো. শান্ত খান (১৪) ও মো. নাদিম খান (৮)। পাথরঘাটার টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুরা গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দুর্ঘটনার পরপরই তিন ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁদের লাশ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনা হয় মঠবাড়িয়ার গুলশাখালী গ্রামে তাঁদের নানাবাড়িতে। এ সময় সেখানে মাতম শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ খবর অনুযায়ী, লাশ তিনটি নিয়ে স্বজনেরা বাইশকুরা গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে রওনা দিয়েছেন। সেখানেই তাঁদের লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকার লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাঈমুজ্জামানকে গ্রামের সবাই শুভ নামেই বেশি চেনেন। ঢাকার সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন তিনি। তাঁর ছোট ভাই শান্ত গুলশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং নাদিম গুলশাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তাঁদের ছোট আরেক ভাই ছিল। সাত মাস বয়সী ওই ভাইটি গত বছর পানিতে ডুবে মারা গেছে। ফলে একই পরিবারের চার ভাইয়ের কেউ রইল না।

শুভ মাত্র চার দিনের ছুটি পেয়ে ঈদ করতে এসেছিলেন বাড়িতে। তবে তাঁর সহকর্মী বন্ধু রাকিব ঈদে ছুটি পাননি। শুভ ঢাকা থেকে আসার সময় রাকিব নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা নতুন পোশাক শুভকে দিয়েছিলেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য। রাকিবের বাড়ি পাশের পাথরঘাটা উপজেলার মানিকখালী গ্রামে।

ঢাকা থেকে শুভ বাড়িতে পৌঁছান গতকাল শুক্রবার রাতে। আজ শনিবার সকালে মোটরসাইকেলে বেরিয়েছিলেন রাকিবের বাড়ি পাথরঘাটার উদ্দেশে। সঙ্গে নিয়েছিলেন ছোট ভাই শান্ত ও নাদিমকে। পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া সড়কের সোনার বাংলা এলাকায় ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বাবা নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার মতো হতভাগা আর কে আছে। আজকে একসঙ্গে আমার তিন ছেলে মারা গেল, গত বছর আমার ছোট ছেলে (৭ মাস) পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমার জীবনের কী অপরাধ ছিল জানি না। আমার চার ছেলে আজকে কেউ নাই। আমি শ্রমিকের কাজ করি। আমার সংসারের জন্য বড় পোলারে চাকরি করতে দিছি সাভারে। আমি ছিলাম রাঙামাটি, এহন বাড়ির পথে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মঞ্জু বলেন, ‘এর আগে আমাগো গ্রামে একসঙ্গে তিনজনের লাশ কেউ দেখি নাই। নাসির তার পরিবার নিয়ে আমাদের এখানে বাস করত। সে শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কাজ করে। তার চার ছেলে। গত বছর তার ছোট ছেলে পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমরা এ গ্রামের মানুষ আগে কখনো তিনজনের লাশ একসঙ্গে দেখি নাই।’

রাকিবের বাবা হিরু হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলে রাকিব আর শুভ একসঙ্গে ঢাকায় চাকরি করে। রাকিব এবার ঈদে ছুটি পায় নাই। এ জন্য শুভর কাছে আমাদের জন্য কিছু কাপড় কিনে দিছে। সেগুলো দেওয়ার জন্য আজ সকালে আমাদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলে সোনার বাংলা এলাকায় সে আর তার দুই ছোট ভাই বাসচাপায় মারা গেছে। আমি স্বপ্নেও ভাবি নাই আজকে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিরোজপুর বাসমালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনাই আমাদের কাম্য নয়। মঠবাড়িয়া সড়কটি ব্যস্ত সড়ক হওয়ার পরও এটি প্রশস্ত নয়। রাস্তা প্রশস্ত না হওয়া এবং বাস ও মোটরসাইকেল উভয়ে বেপরোয়া গতির হওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘তিন ভাইয়ের দাফনের ব্যবস্থা করতে পরিবারের সদস্যরা আবেদন করলে আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য একটি অনুদানের ব্যবস্থা করব।’ 

বরগুনার পাথরঘাটায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী তিন ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সোনার বাংলা এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে
বরগুনার পাথরঘাটায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী তিন ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সোনার বাংলা এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে। ছবি: প্রথম আলো

Friday, February 21, 2025

আমরা এখনো বৈষম্যমুক্ত হতে পারলাম না : মাসুদ সাঈদী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বাংলাদেশ হাসিনা মুক্ত হলো, কিন্তু আমরা এখনো বৈষম্যমুক্ত হতে পারলাম না।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাজিরপুর উপজেলার নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজার মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, গত ৬ মাসে যত রাজনৈতিক নেতা ফাঁসির আসামিসহ বন্দি ছিলেন প্রায় সবাই মুক্তি পেয়েছেন, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলামকে এখনো কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য-জুলুম এখনো শেষ হয়নি। আজকের এই সমাবেশ থেকে এটিএম আজাহারুল ইসলামের মুক্তির দাবি করছি। একই সঙ্গে জামায়েতে ইসলামীর নিবন্ধন ও মার্কা দাড়ি পাল্লা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্য কাকে বলে তা কড়ায়-গণ্ডায় জামায়াতে ইসলামীকে দেখিয়ে দিয়ে গেছে পাপিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ। আমাদের ১১ কেন্দ্রীয় নেতাকে তারা হত্যা করেছে, তার মধ্যে ৫ জনকে তারা ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। ৫ জনকে কারাগারে রেখে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করেছে। আর একজন কোরআনের পাখি আল্লামা সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে। বাংলাদেশে আর কোনো একটি রাজনৈতিক দল নেই, যে দলের ওপরে জামায়াতের মতো অত্যাচার করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশে জামায়াত ও শিবিরের সব অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মাসুদ সাঈদী বলেন, যে জিনিসের ভালো প্রসার যত বেশি, ওই জিনিসের বদনামও বেশি। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের হাতে একটা তসবি ছিল, এই তসবিতে তারা একটা জিকির করত। সেই জিকির হলো- জামায়াত-শিবির, জামায়াত-শিবির। একই কায়দায় আমাদের বন্ধুপ্রতিম কিছু সংগঠন ওই একই ব্যবসা জামায়াত-শিবির, জামায়াত-শিবির।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এই বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের কাছে বলতে চাই- ভাইয়েরা ১৯৭১-এর এই বস্তা পচা অভিযোগ জামায়াত এবং শিবিরের বিরুদ্ধে উত্থাপন করে আওয়ামী লীগ তার পুঁজি-পাট্টা সব হারিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। মেহেরবানি করে আপনারা কোথাও যাইয়েন না, আপনারা এখানে থাকেন। জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা আপনারা করেন এটি একটি অলাভজনক ব্যবসা, এ ব্যবসা করে লাভ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমার পিতা দুইবারের এমপি ছিলেন, কেউ বলতে পারবেন না ১টি টাকার দুর্নীতি করেছেন। কারও ওপরে জুলুম করেছেন। জাহান্নামের আগুনকে যে ভয় করে সে অন্যের সম্পত্তি লুণ্ঠন করতে পারে না। আগামী সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর ১ আসনের প্রার্থী হিসেবে দোয়া চেয়ে বলেন, আপনাদের অনেক পছন্দের প্রার্থী থাকতে পারে। আপনারা দেখে-শুনে-বুঝে, প্রার্থী বাছাই করবেন।

এ গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এসএম শামসুল হক ও সঞ্চালনা করেন জামায়াতের উপজেলা বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আবু দাউদ।

এ সময় বক্তব্য দেন নাজিরপুর উপজেলা জামায়েতের আমির মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি কাজী মোসলেহ উদ্দিন, উপজেলা সাবেক আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, পিরোজপুর সদর থানা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, নাজিরপুর সদর ইউনিয়ন জামায়েতের সভাপতি মাস্টার আবুল হোসাইন, সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাড. আবু সাঈদ মোল্লা, নাজিরপুর শহীদ জিয়া কলেজের প্রভাষক প্রদীপ কুমার হালদার প্রমুখ।

মাসুদ সাঈদী এর আগে সকালে উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি উপজেলার বাবুরহাট শামসুল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

আমরা এখনো বৈষম্যমুক্ত হতে পারলাম না : মাসুদ সাঈদী


Friday, October 11, 2024

পিরোজপুরে প্রাইভেটকার খাদে: দুই পরিবারে নিহত ৮ সদস্য

পিরোজপুরে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পড়ে নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত তিনটার দিকে পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের কদমতলার নুরানী গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আটজনের মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুরের একই পরিবারের চারজন ও শেরপুরের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।  নিহতরা হলেন, শাওন মৃধা (৩২) ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম (২৫), ছেলে আবদুল্লাহ (৩) ও শাহাদাৎ (১০)।

তাদের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া এলাকায়। এ ছাড়া নিহত অপর পরিবারের চারজন হলেন, মোতালেব (৪৫) ও তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩০), মেয়ে মুক্তা (১২) এবং ছেলে সোয়াইব (২)। তাদের বাড়ি শেরপুর জেলার খোলআচার পাড়ায়। রাতে প্রাইভেটকারে তারা পিরোজপুর শহর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।

নিহত শাওনের খালাতো ভাই মুরাদ জানান, ছুটি কাটাতে শাওন ও তার বন্ধু পরিবার নিয়ে কুয়াকাটা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি নাজিরপুরের হোগলাবুনিয়া ফেরার পথে প্রাইভেটকারটি খালে পড়ে যায়। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা হাসপাতালের আরএমও বলেন, প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ৮ জনকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সদর থানার ওসি আব্দুস সোবাহান বলেন, খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেরপুরে শোকের মাতম
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে শেরপুরের একই পরিবারের ৪ জন ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে ওই পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। নিহতরা হলেন- সেনাবাহিনীর বেসামরিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ রঘুনাথপুর গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে মো. মোতালেব হোসেন (৩৮), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), মেয়ে মুক্তা (১২) ও ছেলে  সোয়াইব (৪)। জানা যায়, মোতালেব হোসেন সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। দু’দিন আগে তিনি ও তার বন্ধু শাওন তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে।

সরজমিন দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে আহাজারি করছেন মোতালেবের বৃদ্ধ বাবা-মা ও একমাত্র বোন। তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্য স্বজনরা। নিহতদের লাশ আনতে স্বজনরা গতকাল ভোরে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বাড়িতে নিহতদের ছবি নিয়েই আহাজারি করছেন বৃদ্ধ বাবা-মা ও বোনসহ স্বজনরা। স্থানীয়রা জানান, হতদরিদ্র নাজির উদ্দিনের (৮০) দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে মোতালেব ছোট। আগে আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ছিলেন তিনি। ৩ বছর আগে তার চাকরি সরকারি হয়। সামান্য বসতভিটার জমি ছাড়া তাদের আর কোনো সহায় সম্পত্তি নেই। মোতালেব সংসারের খরচ চালাতো। তার স্ত্রী-সন্তানসহ মৃত্যু হওয়ায় এখন পরিবারের খরচ চালানোই দায় হয়ে যাবে পরিবারটির। এখন মোতালেবের বৃদ্ধ বাবা-মাকে কে দেখবে তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‘শাওনের জন্য মাছ, মুরগি ও করলা ভাজি করে রেখেছি’
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি জেলার নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামে। এর মধ্যে নিহত শাওন মৃধা উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামের মৃত আসাদুজ্জামান মৃধার ছেলে। তারা পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করেন। শাওন ও তার বন্ধুর প?রিবারসহ কুয়াকাটা ভ্রমণ শেষে মামা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার মামাতো বোন রিমা আক্তার জানান, শাওন তাকে সন্ধ্যায় ফোন করে কুয়াকাটা থেকে আমাদের বাড়িতে আসার কথা বলে। তখন তার সঙ্গে ভাবী ও ভাইয়ার বন্ধুসহ ৮ জনের খাবার রান্না করার কথা বলে। আমরা খাবার রান্না করে রাত আড়াইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। আমার সঙ্গে তাদের রাত ১টায় কথা হয়। এরপর আর কথা হয়নি। সকালে ঢাকা থেকে বড় ভাই ফোন করে তাদের নিহতের কথা জানান। ছোট মামি রেবা জানান, শাওনের জন্য রুই মাছ, দেশি মুরগি ও করলা ভাজি করে রেখেছি। কিন্তু সকালে শুনতে পারি তার মৃত্যুর কথা। 

mzamin

Saturday, September 14, 2019

কাউখালীতে আমড়ার বাম্পার ফলন

পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। আমড়া ইতিমধ্যে একটি অর্থকরী ফল হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে বেড়ে গেছে আমড়ার চাষাবাদ। এই আমড়া কাউখালীর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাগানের মালিকরা কোটি টাকারও বেশি আয় করছেন। কাউখালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে গত ২-৩ বছরের তুলনায় আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু হিমাগারের অভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না এসব আমড়া। এতে করে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। তাই কম মূল্যেই কোটি টাকার আমড়া বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের।
ফলে আমড়ার বাম্পার ফলনেও হতাশ চাষিরা। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলাসহ নাজিরপুর ও নেছারাবাদে আমড়ার আবাদ বেশি হয়। এ সব এলাকার এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে কম করে হলেও দুই তিনটি আমড়া গাছ নেই। রাস্তার পাশে বাড়ির আঙ্গিনায় আমড়া গাছ লাগানো প্রতিটি মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। এই সকল আমড়া গাছে এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিরা বেশি খুশি। পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলাসহ নাজিরপুর ও নেছারাবাদ এলাকার আমড়া কেনাবেচার জন্য রয়েছে একদল বেপারী। তারা চৈত্র-বৈশাখ মাসে গৃহস্থদের অগ্রিম টাকা দিয়ে আমড়ার গাছ কিনে থাকেন। এরপর বেপারীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক এই ৪ মাস পর্যন্ত তারা পর্যায়ক্রমে গাছ থেকে আমড়া সংগ্রহ করেন। পরে  আমড়াগুলো বস্তায় ভরে বস্তা হিসাবে বেপারীরা জেলার সবচেয়ে বড় আমড়ার মোকাম কাউখালীতে বিক্রি করে। এরপর এখান থেকে লঞ্চ যোগে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেট, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এসব আমড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন দেশের বাহিরে ভারত, মালয়েশিয়া, নেপালসহ দেশ- বিদেশের বহু স্থানে এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী আমড়ার বেশ চাহিদা রয়েছে। কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের আমড়াচাষি একলাসুর রহমান জনান, মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফার কারণে আমড়া চাষকারী গৃহস্থরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেপারীরা গৃহস্থদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া ৮০০-৯০০ টাকায় কিনে কাউখালী মোকামে বিক্রি করে থাকেন প্রায় ১২০০- ১৫০০ টাকা করে। সেই আমড়া বস্তায় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাইকারি প্রতি বস্তা ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন, কাউখালীর মাটি ও আবহাওয়া আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। লাভজনক এই মৌসুমী ফল আমড়া গাছে রোগ বালাই খুবই কম।

Monday, July 1, 2019

কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় কিশোরীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরের (১৫) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার রাতে মেয়েটির মামা বাদী হয়ে ওই মামলা করেন।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কিশোর নাজিরপুরের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ওই কিশোরীর মা-বাবা ভারতে থাকেন। মেয়েটি মামার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সাত মাস আগে তার মামার বাড়ির এলাকার এক কিশোর মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এরপর থেকে সে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। চার মাস আগে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কিশোরী বিষয়টি কিশোরকে জানায়। এতে কিশোর ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীকে হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। পরে মেয়েটি ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন করে রাখে। সম্প্রতি প্রতিবেশীরা মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে বিষয়টি তার নানিকে জানান। এরপর মেয়েটি তার নানির কাছে শারীরিক সম্পর্ক ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা স্বীকার করে। মেয়েটির স্বজনেরা বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় থানায় মামলা করেন মেয়েটির মামা। মামলার পর থেকে ওই কিশোর পলাতক।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই কিশোরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Monday, February 12, 2018

‘ব্লেড’ দিয়ে গলার টিউমারে অস্ত্রোপচার, অতঃপর..

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এক স্কুলছাত্র মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার পথে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শিশুটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমরান (৯) নামে ওই স্কুলছাত্র মঠবাড়িয়া উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের প্রাইভেটকার চালক মো. বাবুল হাওলাদারের ছেলে ও ৫৭নং আন্ধারমানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ইমরানের বাবা বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে ইমরানের গলায় ছোট্ট একটি টিউমারের মতো দেখা যায়। চিকিৎসার জন্য উপজেলার বান্ধবপাড়া গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার মো. আবুল কালামের কাছে নিয়ে গেলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অস্ত্রোপচার করে চামচের মতো একটি অস্ত্র ঢুকিয়ে দেন।
এরপর রক্ত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ইমরানের অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে গত বছরের ১৫ নভেম্বর ইমরানকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার এ কে এম আমিরুল ইসলাম খসরুর তত্বাবধানে শিশু ইমরানের চিকিৎসা চলছে। ইমরানের বাবা আরও জানান, গ্রাম্য ডাক্তারের অপচিকিৎসায় ছোট ছেলে ক্যান্সারের চিকিৎসায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তিনি গ্রাম্য ওই ডাক্তারের বিচার দাবি জানান। এ ব্যাপারে গ্রাম্য চিকিৎসক আবুল কালাম প্রথমে স্কুলছাত্র ইমরানের টিউমারে অস্ত্রোপচারের কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে সার্জিক্যাল ব্লেড দিয়ে পুঁজ বের করে দেয়ার কথা স্বীকার করেন। ৫৭নং আন্ধারমানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার সোহেল অসহায় স্কুল ছাত্র ইমরানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন।

Monday, January 8, 2018

পরীক্ষা না দিয়েও পাস!

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পাস করেছে এক ছাত্রী। সে জিপিএ–৪.৬৭ পেয়েছে। তবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আরেক ছাত্রকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুল সংশোধন করা হচ্ছে। গত ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশে একযোগে পিইসি-২০১৭–এর ফলাফল প্রকাশিত হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়েবসাইটে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় উপজেলার ৫৭ নম্বর আন্ধারমানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী জিপিএ–৪.৬৭ পেয়ে পাস করেছে। অথচ সে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। গতকাল শনিবার ওই ছাত্রীর পাসের ঘটনাটি জানাজানি হয়। অপর দিকে ৫০ নম্বর আংগুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফলাফলে তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়। ওই ছাত্রের বাবা জানান, তাঁর ছেলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র জমা দিয়ে স্থানীয় কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এখন রেজাল্ট শিট না থাকায় সে ভর্তি হতে পারছে না। আংগুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহামুদা বেগম ও আন্ধারমানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Wednesday, December 6, 2017

নাজিরপুরে ছাগল চুরির দায়ে আ’লীগ নেতার জরিমানা

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ছাগল চুরির অভিযোগে লোকমান বেপারি নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে সালিশ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুনীল হালদার যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে ওই  ইউনিয়নের বন্দরের দলীয় কার্যালয়ে এ সালিশ  বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ বৈঠক ও ইউপি চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের উদয়তারা গ্রামের বিধবা ফিরোজা বেগমের (৬০) একটি গর্ভবতী ছাগল ১ নভেম্বর একই গ্রামের মৃত মন্নান বেপারির ছেলে লোকমান বেপারি চুরি করে। এ ঘটনায় ওই চুরি হওয়া ছাগলের মালিক ২৫ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান অভিযুক্ত ওই নেতাকে ১৬ ও ২৬ নভেম্বর ২ বার নোটিশ করেন। ওই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. খোকন কাজী, স্থানীয় বন্দর ব্যবসায়ী সমিতি ও যুবলীগ সহসভাপতি ফারুক হোসেন হাওলাদার, আওয়ামী লীগ নেতা নিত্যানন্দ হালদার, মনোজ কান্তি মণ্ডল, লিটন হালদারসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ বিচার কার্য অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাগল মালিক ফিরোজা বেগম জানান, তিনি অসহায় হওয়ায় গত ২ বছর আগে ছাগলটি স্থানীয় একটি এনজিও তাকে সাহায্য হিসেবে প্রদান করে। বিচারকার্য অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান বেপারি ছাগলটি ১৫ দিন আগে ২৫শ’ টাকায় স্থানীয় শ্রীরামকাঠী বাজারে বিক্রি করেছেন বলে নিজে দোষী স্বীকার করেন।

Monday, April 10, 2017

ইন্দুরকানীতে ২৩ দোকান পুড়ে ছাই

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অগ্নিকাণ্ডে ২৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ইন্দুরকানী বাজারের আদমআলী সড়কে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরুল হুদা জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট ও স্থানীয় জনতা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আলমগীরের মিষ্টির দোকানের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছে দমকল বাহিনী।

Tuesday, March 21, 2017

১৯ বছর পর নেছারাবাদে আহ্বায়ক কমিটি : জেলা আ’লীগের কোন্দলে নতুন মাত্রা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে ১৯ বছর পর। জেলা কমিটির সভাপতি এ আসনের এমপি এ কে এম এ আউয়াল ও তার অনুসারিদের বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণা করায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। ১৭ মার্চ শুক্রবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার ৫৯ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। তিনি এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি কমিটির আহ্বায়ককে দিয়েছেন। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এ কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে আউয়ালের অনুসারীদের রাখা হয়নি। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কিসের কমিটি, কেন্দ্র ও আমার অনুমোদন ছাড়া কোনো কমিটি হবে না।’ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে সভাপতি এবং এস এম ফুয়াদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের মৃত্যুর পর সহ-সভাপতি আবদুল হামিদ প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু নতুন করে কমিটি না করায় ওই কমিটিই দায়িত্ব পালন করে আসছিল। ১৭ মার্চ এম এ হাকিম হাওলাদার স্বাক্ষরিত ৫৯ সদস্যবিশিষ্ট নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ শহীদ উল আহসানকে আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মুইদুল ইসলাম, আবদুস সালাম শিকদার, সুব্রত কুমার ঠাকুর, মো: শরিফ আহমেদ এবং এম এ সালাম রেজাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। ১ নম্বর সদস্য করা হয়েছে সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অধ্যক্ষ শাহ আলমকে। তবে কমিটিতে স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র মো: গোলাম কবিরসহ এমপি আউয়ালের অনুসারীদের রাখা হয়নি। আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
পিরোজপুর-১ আসনের এমপি আউয়ালের সাথে তার ভাই পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক আরেক ভাই সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক, এম এ হাকিম হাওলাদার ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অধ্যক্ষ শাহ আলমের বিরোধ রয়েছে। শাহ আলমের অনুসারী সৈয়দ শহীদ উল আহসানকে আহ্বায়ক এবং এস এম মুইদুল ইসলামকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করে পছন্দের লোকদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে অনুমোদন করান। তবে এ কমিটিতে আউয়ালের অনুমোদন নেই। স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: গোলাম কবির বলেন, ‘আমরা শুনেছি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সবাইকে ডেকে আলোচনা করে কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। গোপনে এভাবে কমিটি করার ফলে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেবে। জেলা কমিটির সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এভাবে আহ্বায়ক কমিটি করতে পারেন না। করে থাকলে ওই কমিটি অবৈধ। এ বিষয়ে এম এ হাকিম হাওলাদার বলেন, ‘১২ মার্চ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক চিঠিতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলেন। ওই চিঠি পাওয়ার পর শুক্রবার নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্মেলন করার জন্য বলেছি।’ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দাবি নাকচ করে দিয়ে এম এ হাকিম বলেন, ‘সভাপতি সভায় উপস্থিত থাকেন না। জেলা কমিটি রেজ্যুলেশন করে আমাকে কমিটি করার দায়িত্ব দিয়েছে।