Saturday, February 12, 2011

বিশ্ব মন্দা তৈরি পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করেছে

বিজিএমইএর এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়েছে।বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ক্রমশ কমতে থাকায় দেশে-বিদেশি মুদ্রা আসার প্রবণতাও দিনদিন কমছে। তাই আগামী দিনে তৈরি পোশাকশিল্পই হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। সরকারের নীতিগত সমর্থন পেলে আগামী তিন বছরে এই খাতে নতুন করে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় বিজিএমইএর নবনির্মিত এ কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।বিজিএমইএর সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের মেয়র মোহাম্মদ মন্জুর আলম ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম। এ ছাড়া বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় ৩০০ তৈরি পোশাকশিল্পের মালিক ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি মুদ্রা কমে গেছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে। তবে তৈরি পোশাক খাতকে সরকার খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা লেখার আগে সঠিক তথ্য বের করবেন, যাতে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।’তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের প্রতি নজর দিন। কম সুবিধাভোগীদের প্রতি বেশি নজর দিলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এই শিল্পে যেসব সমস্যা আছে, তা জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তিনি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। মোহাম্মদ মন্জুর আলম বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ পেলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।’ মো. আবদুচ ছালাম বলেন, পোশাকশিল্পের মালিকেরা সরকারের আনুকূল্য নয়, নীতিগত সমর্থন চায়। এই শিল্প দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে দেশের চেহারা বদলাতে তৈরি পোশাকশিল্পই যথেষ্ট।আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, গত নভেম্বর থেকে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা শ্রমিকদের বর্ধিত বেতন ও ফি দিতে শুরু করেছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে শ্রমিকেরা বর্ধিত বেতনের সুফল পাবেন না। তিনি পোশাকশ্রমিকদের জন্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংশোধিত এডিপিতে দেশজ সম্পদের জোগান কমবে না

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মূল এডিপি থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হচ্ছে। আর এই কাটছাঁটে পুরোটাই বাদ যাবে বিদেশি সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা থেকে। দেশজ উৎস থেকে প্রাপ্ত সম্পদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় মূল এডিপির আকার কমিয়ে ফেলার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।তবে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মূল এডিপিতে স্থানীয় মুদ্রায় জোগান দেওয়া অর্থ কমানো হবে না। তবে স্থানীয় মুদ্রার অর্থ এক খাত থেকে অন্য খাতে স্থানান্তর করা হবে। শুধু বিদেশি সহায়তার অর্থই কমানো হবে।বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, সংশোধিত এডিপিতে বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে মূল এডিপি থেকে বরাদ্দ বাড়ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বিদেশি সহায়তার পরিমাণ আরও কিছু কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।প্রসঙ্গ, চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। মূল এডিপিতে স্থানীয় মুদ্রায় জোগান রাখা হয়েছে ২৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর বিদেশি সহায়তা হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় তিন হাজার কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। আর ইআরডি সংশোধিত এডিপিতে ৩৮টি প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ১২ থেকে ১০০ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে।

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ক্ষুদ্রঋণ এখন দারিদ্র্য কমানোর একটি হাতিয়ার

কিছু সীমাবদ্ধতার পরও ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য হ্রাসের একটি হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর তাই এর পরিধিও অনেক বেড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় মাইক্রোফিন্যান্স ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক কর্মশালায় অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা ক্ষুদ্রঋণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে এ রকম অভিমতই তুলে ধরেন।
এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু এটি এক ধরনের উদ্ভাবনী ব্যাংকিং। প্রচলিত ব্যাংকিং যেখানে গরিব মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে না সেখানে তারা ক্ষুদ্রঋণের সেবা পাচ্ছে।
রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সাংবাদিকদের জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যের উলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস আর ওসমানী, কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ এম আহসান, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মহাব্যবস্থাপক ফজলুল কাদের, যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ডিএফআইডির ইন্টারন্যাশনাল টিম লিডার এম আমানুল্লাহ খান, ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ দেওয়ান এ এইচ আলমগীর প্রমুখ। কর্মশালায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল।
ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার সম্পর্কে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ক্ষুদ্রঋণের জন্য যে তহবিল আসে তা বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হারে দিতে হবে—বিষয়টি তা নয়। বরং ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার এমন জায়গায় রাখতে হবে তা দিয়ে ঋণের পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হয়।
এটা কখনোই মুনাফাভিত্তিক হতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এমন ধরনের ক্ষুদ্রঋণই বাংলাদেশে প্রচলিত রয়েছে। এবং এটা মুনাফার জন্য নয়।
ওয়াহিদ মাহমুদ আরও বলেন, ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে দেখলে বিনিয়োগ ফেরত আসা কিংবা পরিচালন ব্যয়—এসব বিষয় গৌণ হয়ে পড়ে। দারিদ্র্য বিমোচন কতটা হচ্ছে সেটাই দেখার বিষয়। এখানে কিছু ভর্তুকি থাকলেও ক্ষতি নেই।
এই অর্থনীতিবিদ এ প্রসঙ্গে আরও জানান যে সামাজিক নিরাপত্তার নামে দারিদ্র্য বিমোচনের স্বার্থে রাষ্ট্রের উদ্যোগগুলো সবই ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়।
ক্ষুদ্রঋণের জালে গরিবেরা আটকা পড়ে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে ওয়াহিদ মাহমুদ বলেন, ঋণ ক্রমান্বয়ে বাড়তে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতার সম্পদ বাড়ছে কি না তাও দেখতে হবে। দেখতে হবে নিট সম্পদে ওই ব্যক্তি আরও দরিদ্র হলো কি না।
ঋণ আদায় করতে ঘরের টিনের চাল খুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে—এ প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ঋণ আদায় করতে কারও বাড়ির ভেতরে যাওয়া আইনে নিষেধ রয়েছে। প্রশ্ন হলো, দুই কোটি ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার মধ্যে কয়জনের বাড়ির টিন খুলে নেওয়া হয়েছে।
ওয়াহিদ মাহমুদ আরও বলেন, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন বা গবেষণা করা উচিত নয়। বরং, প্রকৃত চিত্রই তুলে ধরা উচিত। তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, দারিদ্র্য বিমোচন মানে কি গরিব লোককে ধনী বানানো?
এস আর ওসমানী বলেন, ক্ষুদ্রঋণের টাকা নিয়ে কেউ যদি উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার না করে পারিবারিক কাজে ব্যয়ও করে ফেলে, তাতেও একধরনের ইতিবাচক দিক রয়েছে। কেননা, ওই গরিব মানুষটি যদি ঋণ না পেত, তাহলে তাকে তার সম্পদ বিক্রি করতে হতো।
ক্ষুদ্রঋণ একধরনের সঞ্চয়ী মনোভাবও তৈরি করে বলে অভিমত দেন ওসমানী।
দেওয়ান এ এইচ আলমগীর জানান, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে এখন আর শুধু টাকা দিয়ে সহায়তা দেওয়া হয় না। বরং ঋণগ্রহীতার পণ্যের বাজার সুবিধা, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলোও নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঋণগ্রহীতার সঞ্চয়, বিমাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
ফজলুল কাদের জানান, বর্তমান বিশ্বে দুই ধরনের ক্ষুদ্রঋণ চালু রয়েছে। একটি হলো উন্নয়ন ধ্যান-ধারণায়, আর অন্যটি বাণিজ্যিক মূল্যবোধে। বাংলাদেশে উন্নয়ন ধ্যান-ধারণায় ক্ষুদ্রঋণ প্রচলিত রয়েছে। আর লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ ও ভারতের একটি রাজ্যে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ক্ষুদ্রঋণ চালু রয়েছে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশনের কাজ শুরু করা হয়েছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশনের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী। বিষয়টি ইতিমধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাকিল রিজভী এসব কথা বলেন। তবে তিনি এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। উল্লেখ্য, গত রোববারই এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শেয়ারবাজারে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের অর্থাৎ স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা পৃথক্করণ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘যিনি বিনিয়োগকারী, তিনিই ব্রোকার—এটা ততটা ভালো বিষয় নয়। তাই বর্তমান সরকারের ক্ষমতা থাকতে থাকতেই ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হবে।’ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশনে আপত্তি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল ডিএসইর প্রেসিডেন্ট বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে আরও বলেন, আপনারা কেউ ধৈর্যহারা বা বিচলিত হবেন না। বাজারে যথেষ্ট মূল্য সংশোধন হয়েছে। এ মুহূর্তে ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ার ক্রয়ের জন্য তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। শাকিল রিজভী বলেন, বর্তমানে যে মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত রয়েছে, তা বাজারের জন্য খুবই সহনীয়। পিই অনুপাত বর্তমানে ১৮, যা গত বছর ছিল ২৯। ২০০৭ সালে এই অনুপাত ছিল সাত। তাই তুলনামূলকভাবে বাজারে পিই রেশিও যথেষ্ট ভালো।শাকিল রিজভী আরও বলেন, আপনারা ডে ট্রেডার বা প্রতিদিনের ব্যবসায়ী না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বাজারে আসুন। বিনিয়োগকৃত কোম্পানির লভ্যাংশ ও বোনাস খান, তাহলে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে লাভবান হবেন।ডিএসইর প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সূচক দেখে কখনো বাজারের অবস্থা নির্ণয় করা যায় না। এটা নিরূপণ করতে হবে কোম্পানির অবস্থা দেখে। আর সূচক হচ্ছে গতিশীল। এটা কোম্পানির দাম বাড়লে বাড়বে, দাম কমলে কমে যাবে। কোম্পানির ওপরই এটা নির্ভরশীল। সুতরাং, সূচক কত বাড়বে বা কমবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ডিএসই কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বই পড়ুন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

শিক্ষাই আলো বা জ্ঞানই আলো। জগতে যত আলো পাওয়া যায়, যত নীতি-আদর্শ, যত গতি—সবই বইয়ের মধ্যে নিহিত। প্রকৃত শিক্ষার অভাবে ধর্মের মর্মকথাও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের অনুসৃত ঐশী ধর্মগ্রন্থের প্রারম্ভিক বাণীতেই পড়ার তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম নাজিলকৃত পাঁচটি আয়াতের চারটিই শিক্ষাবিষয়ক। ইরশাদ হয়েছে, ‘পাঠ করো! তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে জমাট রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেন। পাঠ করো! আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সূরা আল-আলাক, আয়াত-১-৫)
ইসলামে নর-নারীর জন্য বিদ্যাশিক্ষা করা অত্যাবশ্যকীয়। জগতের সবকিছুর বিবরণ বই-পুস্তকে লিপিবদ্ধ। বই হলো বিশ্বমানবের জন্য একটি মানচিত্রসদৃশ। বই পড়ে সৃষ্টিজগতের সব রহস্য এবং সৃষ্টিকর্তার নিদর্শনাবলির পরিচয় জানা যায়। পৃথিবীর সব জ্ঞানের ভান্ডার হলো বই। এতে রয়েছে মানবজাতির ইতিকথা ও জ্ঞানের পথপ্রদর্শন। বই পড়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষদের কাছে আসা যায় এবং তাঁদের জীবন সম্পর্কে জানা যায়। বই মানবজীবনের উত্কৃষ্ট বন্ধু ও জীবনসঙ্গী। মানুষ বই পড়ে নিজেকে জানতে ও গড়ে তুলতে পারে। বই মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, জ্ঞান ও মনের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গভীরতা বাড়ায়।
পৃথিবীর উন্নতি সাধনে, আধুনিক জগতের প্রচার-প্রসারে এবং মানুষের মরণব্যাধির প্রতিরোধে, জীবনদানের ব্যাপারে ওষুধপত্থ আবিষ্কারের বাহন হচ্ছে মহামূল্যবান বই। মানুষের জীবনের নির্মল আনন্দের একমাত্র উপকরণ হচ্ছে বই। দুনিয়ায় যাঁরা মরেও অমর হয়ে আছেন, সেসব মহামানব, ধর্মীয় নেতা, জ্ঞানী-গুণীজন, কবি-সাহিত্যিক, লেখক-সাংবাদিক ও বৈজ্ঞানিক—সবাইকে এই বইয়ের মাধ্যমে আয়নাস্বরূপ দেখা যায়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা মানুষকে ধর্মভীরু ও মহত্প্রাণ করে তোলে, চিত্তকে মুক্তি দেয় এবং মানবাত্মাকে জীবনবোধে বিকশিত করে। বিভিন্ন বিষয়ে সুশৃঙ্খল ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানার্জন এবং পরিপূর্ণ মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে হলে অবশ্যই বই পড়া দরকার। একজন সার্থক মানুষ হতে প্রয়োজন বইয়ের আলো। শিক্ষিত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের সর্বোচ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রকৃত জ্ঞান ও শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি বড় মনের মানুষ হতে আমাদের বইয়ের সান্নিধ্যে আসতে হবে। একদিকে স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টিকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন, অন্যদিকে বিদ্যার্জনের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। আল-কোরআনের শিক্ষার আলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্ঞানার্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘বিদ্যা অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ।’ (বায়হাকি)
জ্ঞানের বদৌলতে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে প্রভূত বিদ্যার্জনের জন্য মানুষকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা তথা সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করতে হয়। সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। একান্তভাবে বৈষয়িক প্রয়োজনেই মানুষ বই পড়ে, যা মানুষের আত্মাকে সতেজ, সবল ও সজাগ রাখতে সহায়তা করে। অনুকূল পরিবেশে ব্যাপকভাবে বই পড়ে অধীত জ্ঞান দ্বারা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ খুব সহজেই তার মনোরাজ্যের আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে। বই শুধু মানুষের প্রজ্ঞাই বৃদ্ধি করে না, বরং বই পাঠে মানুষ হয়ে ওঠে কর্মোদ্যম, সহনশীল ও সহমর্মী। জ্ঞানের গভীরতার জন্য এবং ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে জানার জন্য বই একান্ত প্রয়োজন। বেশি বেশি বই পাঠ করে মানুষকে খুঁজে নিতে হবে জীবনের শুদ্ধতম আনন্দ। সমগ্র সৃষ্টিজগতে আলোকিত জীবন গঠনে মানবজাতিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদানের লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা ‘শিক্ষা’ সংক্রান্ত বিষয়টিকে ব্যবহার করেছেন, ‘বলো! যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?’ (সূরা আয-যুমার, আয়াত-৯)
মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান, ধর্ম-দর্শন, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং অন্তরের সত্য ও স্বপ্ন—সবকিছুর সমন্ব্বয়েই বিভিন্ন সাহিত্যের জন্ম। অন্যান্য শাস্ত্রের চেয়ে সাহিত্যই এসবের পরিপূর্ণতা দিতে সক্ষম, এ জন্য বেশি বেশি বই-পুস্তক অধ্যয়ন করতে হবে। বই পড়া ছাড়া শিক্ষা-সাহিত্য, কৃষ্টি-সভ্যতা ও সংস্কৃতিচর্চার অন্য কোনো উপায় নেই। বই পড়ার নির্মল আনন্দ মানুষের মনে পুষ্টি জোগায়, তার ভেতরের সুকুমার বৃত্তিগুলোকে প্রস্ফুটিত করে তোলে। মানুষের জন্য অকল্যাণকর বিষয় বর্জনের জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই শিক্ষাই মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক, যা তাদের প্রকৃত সত্যের আলো দেখায়, সরল ও সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং মানবতার কল্যাণ সাধন করে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু তিনটি আমলের সওয়াব জারি থাকে। ১. সাদকায়ে জারিয়া, ২. এমন বিদ্যা, যা থেকে লাভবান হওয়া যায় এবং ৩. সুসন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম)
জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্যচর্চা শিক্ষার অন্যতম প্রধান অঙ্গ। যে জাতি মনের দিক দিয়ে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়। সাহিত্যচর্চা ছাড়া কোনো ধর্মপ্রাণ জাতির সুস্থ মানসিকতা ও কল্যাণকর মনোভাব গড়ে উঠতে পারে না। তাই আদর্শ শিক্ষকসমাজ ছাত্রদের মনে জ্ঞানের কৌতূহল সৃষ্টি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রজ্ঞাকে সদাজাগ্রত রাখতে পারেন, তার আত্মাকে উদ্বোধিত করে জ্ঞানপিপাসায় উন্মত্ত করতে পারেন; একে নিবৃত্ত করতে হলে পাঠাভ্যাসের বিকল্প নেই। আসমানি কিতাব বা ঐশী ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে মানবজাতি আল্লাহর পরিচয় ও দিকনির্দেশনা পায়, প্রয়োজনে তারা পার্থিব বইয়েও জাগতিক বিভিন্ন বৈষয়িক জ্ঞানার্জন করতে পারে। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এটি সেই গ্রন্থ; এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য এটা পথপ্রদর্শক।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২)
রুচিশীল সাহিত্যের বিস্তৃত পরিসরে বিচরণের মাধ্যমেই আল্লাহভীরু মানুষের চরিত্রের মহত্ গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধ অর্জিত হয়ে থাকে। আসুন, প্রাত্যহিক জীবনে অযথা খরচ বা অহেতুক অর্থ অপচয় বর্জন করে গ্রন্থমেলা থেকে নিজেদের পছন্দমতো বই-পুস্তক ক্রয় করি; দেশের নারী-পুরুষ, তরুণ-যুবক, শিশু-কিশোরদের বই কেনা ও সংগ্রহের জন্য উত্সাহিত করি, যাতে সবার বই পড়ার মানসিকতা তৈরি হয় এবং পাঠাগারে মূল্যবান গ্রন্থ সংগ্রহে অনুপ্রাণিত হয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে। ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না’—তাই বইমেলা থেকে বই কেনা ও বই পুরস্কার দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং সমাজের সর্বত্র উপহার হিসেবে বই প্রদানকে উত্সাহিত করে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য বই পড়ার আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। সে জন্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জীবন গঠনের জন্য জনগণের মধ্যে বই পড়ার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা একান্ত বাঞ্ছনীয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
dr.munimkhan@yahoo.com

লাদেনকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি চেষ্টা ব্যর্থ

ওসামা বিন লাদেন
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সংগঠনটির কর্মী আবু আল-ফাতাহ দাবি করেছেন, বিন লাদেন তাঁর গোপন ঘাঁটি শনাক্ত করতে মার্কিন বাহিনীর একটি উদ্যোগ ব্যর্থ করে দিয়েছেন।ফাতাহ বলেন, আল-কায়েদা প্রধানের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নসংবলিত একটি ইউএসবি মেমরি স্টিক পাঠানো হয়েছিল। এতে ছিল শনাক্তকরণের একটি ক্ষুদ্র চিপ, যা সংকেত পাঠিয়ে লাদেনের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করত যুক্তরাষ্ট্রকে। আল-ফাতাহর উদ্ধৃতি দিয়ে সান পত্রিকা জানিয়েছে, আল-ফাতাহ বলেন, লাদেনের নিরাপত্তাকর্মীরা ইউএসবি স্টিকটি স্ক্যান করার সময় ওই চিপটি আবিষ্কার করেন। যুক্তরাষ্ট্র চিপ থেকে পাঠানো সংকেতের মাধ্যমে লাদেনের আস্তানার অবস্থান জেনে সেখানে চালকবিহীন বিমান থেকে হামলা চালাতে চেয়েছিল।

শিগগিরই দেশে ফিরবেন অ্যারিস্টাইড

হাইতির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাঁ-বারট্রান্ড অ্যারিস্টাইড শিগগিরই দেশে ফিরবেন। গত বুধবার তাঁর আইনজীবী এ কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যে হুঁশিয়ার করেছে, অ্যারিস্টাইড দেশে ফিরলে সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। এর পরও তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
অ্যারিস্টাইডের আইনজীবী ইরা কুর্জবান বলেন, যত শিগগির সম্ভব দেশে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। গত সপ্তাহে তাঁর জন্য একটি নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি নেতা বশিরের বিচার শুরু

ইন্দোনেশিয়ায় কট্টরপন্থী ইসলামি নেতা আবু বকর বশিরের বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে জাকার্তার একটি আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁর শত শত সমর্থক আদালতের বাইরে বিক্ষোভ করেন। তাঁকে হাজির করার ক্ষেত্রে আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে তাঁর আইনজীবী অভিযোগ করলে আদালত মামলার কার্যক্রম আগামী সোমবার পর্যন্ত স্থগিত করেন।বশিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আচেহ প্রদেশে জঙ্গিদের ঘাঁটি গড়ে তুলতে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়েছেন। তবে তিনি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চক্রান্তে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

রক্ষা পেতে পুলিশকে ফোন করলচোর!

ওরা তিনজন গিয়েছিল চুরি করতে। বাড়িটি ছিল ফাঁকা। সপরিবারে বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিলেন বাড়ির মালিক চরণজিৎ সিং। ঝুটঝামেলা ছাড়াই চুরি করবে বলে ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে খিল লাগিয়ে দিল তারা। চুরি করার জন্য এমন নিরাপদ বাড়ি কি আর পাওয়া যাবে? মোটেই না।এরপর চোরের দল একে একে পছন্দের জিনিসগুলো ব্যাগে ভরতে লাগল। কিন্তু একি! হঠাৎ তারা আবিষ্কার করল, তাদের চৌর্যকর্মের মধ্যে কেউ ছন্দপতন ঘটানোর চেষ্টা করছে। তারা কান খাড়া করে শুনতে পেল, যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। বাড়ির মালিক চরণজিৎ সিং এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে হইচই শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর চিৎকারে জড়ো হয়েছেন আশপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। গণধোলাই থেকে বাঁচতে ‘বুদ্ধি’ করে তাদের একজনের মুঠোফোন থেকে পুলিশকে ফোন দিল। তারা বাড়ির ঠিকানা দিয়ে বলল, ‘আমরা চোর। আমরা এই বাড়িতে আটকা পড়েছি।’ ফোন পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির তিলক বিহার এলাকায়। পুলিশ জানায়, বিপদে পড়ে সাহায্য চেয়ে পুলিশকে অপরাধীদের ফোন করার ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম। তারা গণপিটুনির ভয়ে ফোন করেছে।পুলিশ সদস্য রঙ্গনাথন জানান, চোরদের মধ্যে দুইজন চরণজিৎ সিংয়ের প্রতিবেশী। তাদের কাছ থেকে দশ হাজার রুপি, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রতিভা পাতিলকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে মন্ত্রীর পদত্যাগ

রাজ ও ওয়াকফবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আমিন খান পদত্যাগ করেছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলতের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমিন খান তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গভর্নর শিবরাজ পাতিলের কাছে পাঠানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদের প্রতি যে কারও সম্মান প্রদর্শন করা নৈতিক দায়িত্ব।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রান্নাবান্না ও থালাবাসন ধোয়ামোছার কারণেই প্রতিভা পাতিল প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আমিন খান। গত মঙ্গলবার রাজস্থানের পালি জেলায় কংগ্রেসের জেলা কমিটির এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর এ মন্তব্য নিয়ে চারদিকে শোরগোল ওঠে। প্রধান বিরোধী দল বিজেপিসহ অনেকেই তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী গেহলত বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেল ও রাজস্থানে কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল ওয়াজনিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি প্রতিভা পাতিলের সঙ্গেও কথা বলে মন্ত্রী আমিন খানের পক্ষে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। আমিন খান বলেছেন, ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হওয়ার পর তাঁর রান্নাবান্না ও থালাবাসন ধোয়ামোছার কাজ করতেন প্রতিভা পাতিল। তবে ইন্দিরা গান্ধীর সেবাযত্নের বিনিময়ে প্রতিভা পাতিল কিছুই চাননি। কিন্তু তাঁকে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে সোনিয়া গান্ধী তাঁরই প্রতিদান দিয়েছেন।

ফের শান্তি আলোচনা করতে সম্মত ভারত ও পাকিস্তান

মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে মুখ থুবড়ে পড়া শান্তি আলোচনা আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই দেশের সরকারি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি আগামী জুলাই মাসে নয়াদিল্লি সফরে যাবেন।
গত রোববার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবেরা এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির ওই বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে দুই পক্ষের মতৈক্যে পৌঁছার কথা উল্লেখ করা হয়।বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিষ্ণু প্রকাশ বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠককে সামনে রেখে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দুই পক্ষের প্রস্তুতি চলছে।প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পর থেকে কাশ্মীর সমস্যা, সীমানা ও সম্পদের বণ্টন, জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তান অন্তত তিনবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।দুই দেশের মধ্যে ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিক শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু মুম্বাই হামলার পর ওই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।২০০৮ সালের শেষের দিকে ভারতের মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৬৬ জন নিহত হয়।নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানি জঙ্গিরা মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালালেও এসব জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি ইসলামাবাদ।এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামাবাদ বলে আসছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে তার দেশ যথেষ্ট তৎপর। মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সরবরাহের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আহ্বান জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ।গত বছরের এপ্রিলে থিম্পুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।এরপর জুলাই মাসে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও শান্তি আলোচনা ফের শুরুর ব্যাপারে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে পরস্পরকে দোষারূপ করেন তাঁরা। ফলে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়।

মিসরে বিক্ষোভ দমনে সেনা অভিযানের হুমকি সরকারের

মিসরে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের দমনে সেনা অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটির সরকার। সেনাসদস্যরা ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের আটক ও নির্যাতন শুরু করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট মোবারকবিরোধী বিক্ষোভ দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার মিসরের সর্বদক্ষিণের অঞ্চল খাগড়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালান। এতে পাঁচজন নিহত ও ১০০ জন আহত হন। প্রেসিডেন্ট মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
এদিকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল ঘেইত বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বন্ধ না হলে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করবে। তিনি মিসরে শিগগিরই রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানের কঠোর সমালোচনা করেন।
কায়রোর তাহরির স্কয়ারে প্রেসিডেন্ট মোবারকবিরোধী হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। মোবারকের পদত্যাগ ছাড়া ঘরে না ফেরার দাবিতে অনড় রয়েছে তারা। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে তাহরির স্কয়ার থেকে পার্লামেন্ট ভবন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে। সরকারবিরোধীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবকেরা তাহরির স্কয়ারে তাঁবু টানিয়েছেন ও শৌচাগার তৈরি করেছেন, স্থাপন করেছেন মুঠোফোন চার্জার স্টেশনও। গতকালের বিক্ষোভে পোশাকশ্রমিক ও চিকিৎসকেরা যোগ দেন।
যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্দোলনকারীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, সেনাসদস্যরা শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাদের কারও কারও ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ইজিপশিয়ান ইনিশিয়েটিভ ফর পারসোনাল রাইটস ইন কায়রোর পরিচালক হোসসাম বাঘাত অভিযোগ করেন, সেনাসদস্যরা অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছেন। কাউকে কোনো কারণে সন্দেহ হলেই তাকে আটক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের এভাবে আটক করা একেবারেই অস্বাভাবিক। আর সেনাসদস্যরা নজিরবিহীন সেই কাজটিই করছেন। নির্যাতিত এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট মোবারকের সমর্থকদের হামলায় আহতদের জন্য ওষুধসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সেনাসদস্যরা তাঁকে আটক করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেনাসদস্যরা তাঁকে লাথি মারতে থাকেন এবং বেয়নেট দিয়ে আঘাত করেন।
আল-আরাবিয়া টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘেইত বলেন, যদি বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করবে। তা দেশের জন্য আরও বিপজ্জনক হবে।
জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া ও মিসরে রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানের সমালোচনা করেন ঘেইত। তিনি একে মিসরের ওপর ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া’ বলে আখ্যা দেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিসরের পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে মিসরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দ্য টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, বাদশাহ আবদুল্লাহ প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মিসরে সহায়তা কর্মসূচি বন্ধ করে দিলে সৌদি আরব প্রেসিডেন্ট মোবারককে সহায়তা করবে। বাদশাহ আবদুল্লাহ মিসরের প্রেসিডেন্ট মোবারককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

ব্যথা নিয়েই খেলবেন পন্টিং

গত চারটি বিশ্বকাপেই ছিলেন তিনি। ছিলেন চারটি ফাইনালেও। এর মধ্যে তিনবারই জিতেছেন শিরোপা, সর্বশেষ দুটো আবার অধিনায়ক হিসেবে। বিশ্বকাপে তাঁর চেয়ে বেশি রান আছে কেবল একজনের। তাঁকে ছাড়া কি বিশ্বকাপকে মানায়! বিশ্বকাপ সত্যিই অনেকখানি রং হারাত রিকি পন্টিংকে ছাড়া।
অ্যাশেজের পার্থ টেস্টে বাঁ হাতের কনিষ্ঠায় চোট পেয়েছিলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই অস্ত্রোপচার করানো হয়েছিল দ্রুত। পুনর্বাসন-প্রক্রিয়া শেষে গত সপ্তাহেই ফিরেছেন অনুশীলনে। তার পরও শঙ্কা, বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট হতে পারবেন কি না। পারলেও ক্রিকেট থেকে এই দূরে থাকায় প্রভাব পড়বে না তো ব্যাটিংয়ে? পন্টিংয়ের বিশ্বাস পড়বে না। ব্যাট হাতে দেখা যাবে সেরা ফর্মের পন্টিংকেই। ভারতের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে সিডনি বিমানবন্দরে গত পরশু সন্ধ্যায় বলেছেন, ‘ব্যথা খুব বেশি নেই। যেটুকু আছে সেটাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলে যাবে। আশার খবর হচ্ছে, গত সপ্তাহে নেটে ব্যাটিংয়ের সময় এই নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।’
টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে গতকালই ভারতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া দল। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা বেঙ্গালুরুতে। প্রস্তুতি ম্যাচ দুটোর সময় অবশ্য পুরোপুরি যাবে না পন্টিংয়ের ব্যথা, কিন্তু ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগটা হাতছাড়া করতে চান না পন্টিং, খেলতে চান দুটি ম্যাচেই। এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও নিচ্ছেন, আঙুলে পরবেন বিশেষ এক ধরনের গার্ড। এ জন্য অবশ্য খানিকটা ত্যাগ স্বীকারও করতে হতে পারে তাঁকে, ফিল্ডিং করতে পারবেন না প্রিয় স্লিপ পজিশনে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজটায় খেলতে পারেননি, তার পরও ইংল্যান্ডকে ৬-১-এ হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলের পারফরম্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন পন্টিং। এই জয়ে অ্যাশেজ হারানোর শোক কিছুটা হলেও ভুলেছেন তাঁরা। গত বছরটা বাজে কাটানো অস্ট্রেলিয়া কি এবারও বিশ্বকাপের সুবাস পেয়ে জেগে উঠল?
বিশ্বকাপে টানা ২৯ ম্যাচে অপরাজিত অস্ট্রেলিয়ার এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আহমেদাবাদের ম্যাচ দিয়ে।

আফ্রিদির চোখে ‘স্বপ্নের ফাইনাল’

২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে টস করতে নামছেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি!
এ তো ‘স্বপ্নের ফাইনাল’। পাকিস্তান অধিনায়ক আফ্রিদির কাছে এটি শুধু স্বপ্নেরই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও বড় প্রাপ্তি।
‘বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল হওয়ার একটি সম্ভাবনা আছে। এটি হলে বিশ্বকাপ, ওয়ানডে ক্রিকেট, এমনকি ক্রিকেটের জন্যই সেটা হবে আদর্শ এক ব্যাপার’—বলেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
গ্রুপ পর্বে উপমহাদেশের দুই পরাশক্তি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান পড়েছে দুই গ্রুপে। প্রতি গ্রুপের চারটি দল উঠবে নকআউট পর্বে। দুটি দেশ যদি তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে, কাঙ্ক্ষিত পথে যদি হয় তাদের যাত্রা, তাহলে ফাইনালেই মুখোমুখি হবে তারা। চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া আফ্রিদি সেই স্বপ্নের ফাইনালের জন্যই দিন গুনছেন, ‘এটা বিশ্ব জোড়া কোটি কোটি মানুষের জন্য দারুণ আনন্দের এক ব্যাপার হবে।’
আফ্রিদি এই স্বপ্নের শেষটা কীভাবে দেখছেন? বলাই বাহুল্য, বিশ্বকাপ ট্রফিটা নিজের হাতে দেখতে চাইবেন। সেই স্বপ্ন তিনি দেখছেন। তবে ভারতের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে নামার আলাদা একটা প্রেরণাও আছে আফ্রিদির কাছে, ‘মুম্বাইয়ের ফাইনালে ভারতকে হারাতে পারা হবে দারুণ এক ব্যাপার। ভারতে ও বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে চাই আমরা। এর আগে বিশ্বকাপে কখনো তাদের হারাতে পারিনি।’
বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ৪টি মাচেই হেরেছে পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে আরেকটা জয় ‘সন্ত্রাসকবলিত’ পাকিস্তানের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে বলে বিশ্বাস পাকিস্তান অধিনায়কের। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ছিল পাকিস্তানেও। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তায় পরে পাকিস্তানকে আয়োজক তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে আইসিসি।
তবে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে না পারলে আফ্রিদি স্বপ্নের উপসংহারটা যেভাবে দেখেন, সেভাবে হবে না। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে আজই বাংলাদেশে রওনা হওয়ার আগের দিন আফ্রিদি বলেছেন, ‘আমরা প্রস্তুতির প্রায় ৯০ শতাংশ সেরে ফেলেছি।’ আফ্রিদির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিপক্ষের শেষ পাওয়ার প্লেতে নিজেদের বোলিং। জানিয়েছেন, এটা নিয়েই এখন কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর দল।
স্বপ্নের কথা বলেছেন আফ্রিদি। তাঁকে উত্তর দিতে হয়েছে একটি অপ্রীতিকর প্রশ্নেরও, ভারতের হিন্দু মৌলবাদীদের হুমকি হিসেবে দেখছেন না তো? কোনো হুমকি দেখছেন না পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘দুই দেশের মানুষ ক্রিকেট ভালোবাসে এবং আমি কোনো হুমকি দেখছি না।’

চাপকে ভয় পান না ধোনি

ভারত’ ও ‘চাপ’। বিশ্বকাপ এলেই এই দুটি শব্দ যেন সমার্থক হয়ে ওঠে। ক্রিকেট ভারত সারা বছরই খেলে। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে সব সময়ই উঠে আসে প্রশ্নটা—শতকোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ ভারতীয় দল নিতে পারবে তো!
এবারও সেই আলোচনা পুরোদমে চলছে। কাল বেঙ্গালুরুতে মহেন্দ্র সিং ধোনির সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরে-ফিরে এল এই একটা প্রসঙ্গ—চাপ। ভারতীয় অধিনায়কের অভিধানে ‘চাপ’ শব্দটা নেই, এটা জেনেও প্রশ্নটা করেছিলেন সাংবাদিকেরা। পরিচিত উত্তরই মিলল, ‘চাপ থাকা মানে তো আপনার জন্য বাড়তি দায়িত্বশীলতাও যোগ হওয়া। ভারতের হয়ে খেলতে নামা মানেই তো চাপ। তবে আশার কথা হলো, এই দলের সবাই অভিজ্ঞ। বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ৫-৭ বছর ধরে খেলছে বলে জানে, কীভাবে চাপ সামলাতে হয়। সেই সঙ্গে এমন কিছু তরুণ আছে যারা যেকোনো পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে আনতে পারে।’ধোনির এই কথায় ভারতীয়দের মনে আশার আয়তনটা আরও বাড়বে নির্ঘাত। শিরোপার ক্ষুধা যে ২৮ বছরের। এই প্রত্যাশাকেও স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন ধোনি, ‘বিশ্বকাপ ঘিরে অনেক উন্মাদনা-প্রত্যাশা থাকবে। কিন্তু আমাদের জন্য যেকোনো সিরিজ খেলা মানেই তো অনেক প্রত্যাশা সঙ্গী হওয়া। প্রত্যাশা তাই বিশ্বকাপেও থাকবে। তবে এটাকে আমাদের স্রেফ আরেকটা বড় টুর্নামেন্ট হিসেবেই দেখতে হবে।’ম্যাচের কঠিনতম পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন বলে তাঁকে বলা হয় ‘ক্যাপ্টেন কুল’। ধোনির কাছ থেকেই তো সতীর্থরা জেনে নিতে পারেন চাপ সরিয়ে রাখার উপায়। ব্যক্তি ধোনি নিজে কি কোনো চাপ অনুভব করেন না? উইকেটকিপিং, ব্যাটিং সেই সঙ্গে নেতৃত্ব। প্রশ্নটায় ধোনি সম্ভবত বিরক্তই হয়েছেন, ‘এই কাজ তো আমি আর নতুন করছি না।’১৯৮৩ বিশ্বকাপের পর ভারতের সবচেয়ে বড় ট্রফি ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটি এসেছে ধোনির নেতৃত্বে, ওয়ানডে বিশ্বকাপের ধাক্কা দ্রুত সামলে নিয়ে। ধোনির নেতৃত্বেই ভারত টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠে এসেছে। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান দুইয়ে।সাফল্যের রেসিপিও তাই তাঁর ভালো জানা। সাফল্যের রহস্য খোলাসা করে বলার বোকামি ধোনি করলেন না। শুধু একটা কথাই বললেন, ‘সঠিক রণকৌশল থাকা জরুরি। প্লান বি আর প্লান সি-ও থাকতে হবে। একই সঙ্গে বাড়তি কোনো চাপ নেওয়া যাবে না।’ধোনির চোখে ভারতের এই দলের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য সবার মুখিয়ে থাকা। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা বিরাট কোহলি যেমন কদিন আগে স্বীকার করেছেন, সেরা একাদশে জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য কঠিন।ভারতের লক্ষ্য শিরোপা জয়, এ কথা অনেকবারই বলেছেন। তবে ভারত প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায় বলেই জানালেন ধোনি, ‘আমাদের জন্য বিশ্বকাপ শুরু হবে প্রথম ম্যাচ থেকেই, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নয়। ২০০৭ বিশ্বকাপের মতো কিন্তু ছোট দলগুলো এবারও চমকে দিতে পারে।’নির্দিষ্ট করে কোনো দলের নাম বলেননি, তবে ধোনির ইঙ্গিত মনে হয় বাংলাদেশের দিকেই!

এবার শিরোপা চান স্মিথ

এই বিশ্বকাপ খেলেই ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবেন। অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের জন্য এটা তাই শেষ সুযোগ। শেষ সুযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার চিরসঙ্গী আক্ষেপ মুছে ফেলার। সোনালি ট্রফিটা নিয়ে দেশে ফেরার।
কাল চেন্নাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্মিথও বললেন সে কথাই, ‘এটা আমার জন্য মাথা উঁচু করে অধিনায়কের পদ থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ। বিশ্বকাপ থেকে আমি অনেক শিখেছি। আমি মনে করি, ঠিকভাবে খেলতে পারলে আমরা এবার শিরোপা জিতব।’‘ঠিকভাবে খেলা’র প্রসঙ্গ আসছে বারবার তীরে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার তরী ডোবার কারণেই। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে গত পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছে তারা। এর মধ্যে তিনবার বিদায় নিয়েছে সেমিফাইনাল থেকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ছায়াসঙ্গী হয়ে যায় চাপ। এবার স্মিথ নিজেও হয়তো বাড়তি তাগিদ অনুভব করবে এটা তাঁর শেষ সুযোগ বলে। যদিও স্মিথের দাবি, ‘আমি এটাকে চাপ হিসেবে দেখছি না। আমি বরং অন্যভাবে দেখতে চাই। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। আমরা কঠোর এবং ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। তরুণদের আমি স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে দিতে চাই। পাশাপাশি নেতৃত্ব দিতে চাই সামনে থেকে, যেন অধিনায়ক হিসেবে ওদের ওপর যেন আমার আস্থা থাকে। যেন ওরাও আত্মবিশ্বাস পায়। এই দলে কিন্তু প্রতিভা।’সেই অনেক প্রতিভার মধ্যে জ্যাক ক্যালিস অন্যতম। ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ৩৬ বছর বয়সীকে পুরো ফিট অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকা পাবে কি না, এটা নিয়ে সংশয় থাকছে। চোটের কারণে ক্যালিস সম্ভবত শুধু ব্যাটিং করবেন। এমনও হতে পারে, অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্যালিসকে বিশ্রাম দেওয়া হবে।আট বছর ধরে দলের নেতৃত্বে। ২০০৩ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর দায়িত্বভার নিয়েছিলেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে। এই আট বছরে পুড়ে খাঁটি হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বললেন, বিশ্বকাপের সাফল্যের সরল সূত্র ধারাবাহিকতা, ‘এটা খুবই রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর টুর্নামেন্ট হবে। আমার যদি আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে এগিয়ে যেতে পারি, ঠিক সময়ে জ্বলে উঠি, সাফল্য আসবেই। বিশ্বকাপে ছয় সপ্তাহের জন্য আপনাকে ভালো খেলে যেতে হবে।’দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রুপটাই তুলনামূলক কঠিন হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার দাবিদার হিসেবে স্মিথদের পাশাপাশি আছে ভারত, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের চার দলের রাস্তা পরিষ্কার। কিন্তু কন্ডিশন আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জোরে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশও শেষ আটে যেতে চায় বলে এখানে দাবিদার পাঁচ দল।স্মিথ অবশ্য জানালেন, এবার ভালো প্রস্তুতি নিয়েই এসেছেন। বরাবরের মতোই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বড় শক্তি একগাদা ‘মিনি অলরাউন্ডার’। দেখা যাক, এই ‘মিনি অলরাউন্ডার’রা বড় কিছু করে দেখাতে পারে কিনা।

ধারাবাহিকতাই আমাদের প্রধান শক্তি: দিলশান

গত বিশ্বকাপে অল্পের জন্য শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা পূরণ হয়নি শ্রীলঙ্কার। প্রায় সবগুলো ম্যাচেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপার যোগ্য দাবিদার হিসেবেই ফাইনালে এসেছিল তারা। কিন্তু ফাইনালে বৃষ্টি, আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা আর গিলক্রিস্টের ১৪৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসটার কাছে হার মেনে শিরোপাটা আর হাতে নেওয়া হয়নি লঙ্কানদের। এবার দেশের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের দশম আসরে সেই আক্ষেপটাকে আর সঙ্গী করতে চান না তিলকারত্নে দিলশান। শিরোপা হাতে একেবারে শেষ হাসিটাই হাসতে চান শ্রীলঙ্কার এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। আর গত দেড় বছরের ধারাবাহিক সাফল্যই বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে অনেক এগিয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।বিশ্বকাপের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতি খুবই ভালো উল্লেখ করে দিলশান বলেছেন, ‘আপনি যদি গত ১৫ মাসের পরিসংখ্যানের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন, আমরা ২৭টি ওয়ানডে খেলে হেরেছি মাত্র ছয়টিতে। এটা কিন্তু খুবই ভালো রেকর্ড। আমরা খুবই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছি। আর এটা আমাদের অনেক অনুপ্রেরণা জোগাবে।’কয়েকদিন আগে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা মন্তব্য করেছিলেন, মিডল অর্ডার নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তবে সত্যিই এ ধরনের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে করছেন না দিলশান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মিডল অর্ডারে অ্যাঙ্গেলো ম্যাথিউয়ের মতো মেধাবী ব্যাটসম্যানকে পাচ্ছি। সেই সঙ্গে চামারা কাপুগেদারা, চামারা সিলভা, সামারাবীরাও খুব ভালো ব্যাটিং করে। কাজেই এখানে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’দিলশানের বিশ্বকাপ অভিষেক হয়ে গেছে গত আসরেই। কিন্তু সেবার খুব নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি তিনি। একটি অর্ধসেঞ্চুরিসহ সাত ম্যাচে করেছিলেন ২১৭ রান। এবার আরও ভালো করার ব্যাপারে দিলশান একেবারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ‘এবার সুযোগ পেলেই আমি বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করব। দলের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে চাই।

মেসির জয়, ব্রাজিলের হার

বার্সেলোনার মেসি বনাম রিয়াল মাদ্রিদের রোনালদো—এই দ্বৈরথে লিওনেল মেসিই এগিয়ে। আর্জেন্টিনার মেসি আর পর্তুগালের রোনালদোর লড়াইয়েও জিতলেন আর্জেন্টাইন তারকা। মেসির আর্জেন্টিনার কাছে রোনালদোর পর্তুগাল পরশু জেনেভার প্রীতি ম্যাচে হেরে গেছে ২-১ গোলে। মেসি আর আর্জেন্টিনার দিনে পরাজয়ের হতাশা ছুঁয়ে গেছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে। করিম বেনজেমার গোলে মানো মেনেজেসের নতুন ব্রাজিল ১-০ ব্যবধানে হেরেছে লরাঁ ব্লাঁর নতুন ফ্রান্সের কাছে।
জেনেভায় পর্তুগাল-আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্জেন্টিনারই। ম্যাচের প্রথম আক্রমণ করে প্রথম গোলটিও পায় তারা। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ১৪ মিনিটে। তবে মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথের শুরুটা ছিল রোনালদোর। মিনিট সাতেক পরেই ডি মারিয়ার গোলটি ফিরিয়ে দিয়ে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান এই উইঙ্গার। কিন্তু লড়াইয়ের শেষটা ছিল মেসির। ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি করেন বার্সেলোনা তারকা।
প্রতিযোগিতামূলক অথবা প্রীতি ম্যাচ, ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিল জিততে পারছে না সেই ১৯৯২ সাল থেকে। মানোজেসের নতুন ব্রাজিলও পারল না। দুই দলের সমানে সমান লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহোর কাছে একদা ব্রাত্য বেনজেমার গোলে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ে ৫৫ মিনিটে। এর আগেই অবশ্য ব্রাজিল ১০ জনের দল হয়ে যায় মিডফিল্ডার হার্নানেজ বেনজেমাকে কনুই মেরে লাল কার্ড দেখায়। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্স যে টানা ৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকল, তাতে ওই লাল কার্ডকেই বড় করে দেখেন দায়িত্ব নিয়েই গত নভেম্বরে আর্জেন্টিনার কাছে প্রথম ম্যাচ হারা ব্রাজিল কোচ মেনেজেস, ‘ওই লাল কার্ডটাই সবকিছু বদলে দিয়েছে। ঘুরিয়ে দিয়েছে ম্যাচের মোড়।’
এদিকে সম্ভাবনা জাগিয়েও ইতালির বিপক্ষে ১৫ বছর ধরে জিততে না পারার ‘কুফা’ ভাঙতে পারেনি জার্মানি। মিরোস্লাভ ক্লোসার গোলে ১৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি, ৮১ মিনিটে গোল করে ইতালিকে ১-১ গোলের ড্র এনে দেন বদলি খেলোয়াড় জিওসেপ্পে রসি। ফ্যাবিও ক্যাপেলোর ইংল্যান্ড কিন্তু ডেনিশ-দুর্ভাগ্য কাটিয়েছে। ডেনমার্কের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের জয় ২০০২ সালের পর প্রথম। আর কোপেনহেগেনে ইংল্যান্ড জয় পেল ১৯৭৮ সালের পর।
জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও রানার্সআপ হল্যান্ড। তবে পরশুর প্রীতি ম্যাচের মেলায় সবচেয়ে বিস্ময়ের ছিল ইরানের কাছে রাশিয়ার ১-০ গোলে হার।

ক্যালিসকে নিয়ে সতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্বকাপের দশম আসরে অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই অংশ নিতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগেও দুই-তিনবার শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও দুঃখজনকভাবে ছিটকে পড়তে হয়েছিল প্রোটিয়াসদের। তবে এবার বিমর্ষ-মলিন মুখে নয়, শিরোপা হাতে হাস্যোজ্জ্বল মুখেই বিশ্বকাপটা শেষ করতে চায় গ্রায়েম স্মিথের দল। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরটা শুরুর আগেই একটা বড় ধাক্কা খেয়েছে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার শিরোপা জয়ের মিশনে সবচেয়ে বড় অস্ত্র জ্যাক ক্যালিস লড়ছেন ইনজুরির সঙ্গে। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে রাখা হলেও এখন তাঁকে নিয়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করছে দক্ষিণ আফ্রিকার টিম ম্যানেজমেন্ট।
গতকাল বেশ কিছুদিন পর ক্যালিস অংশ নিয়েছিলেন অনুশীলনে। হালকাভাবে খানিকক্ষণ বলও করেছেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ২৪ ফেব্রুয়ারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি অংশ নিতে পারবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত না। আর ক্যালিসকে নিয়ে খুব বেশি তড়িঘড়ি কোন সিদ্ধান্তও নিতে চান না অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। দলের সেরা এই অস্ত্রটাকে মোক্ষম সময়েই ব্যবহার করতে চান তিনি। ‘ক্যালিসকে খুব তাড়াতাড়ি মাঠে নামানোর কোন প্রয়োজনীয়তা দেখছি না আমি। আজকেই প্রস্তুত হয়ে কালকেই মাঠে নামতে হবে, এমন তাড়া দিয়ে আমরা তার উপর কোন চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। ক্যালিসকে পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে খুবই ভালো হয়। আর সেজন্য আমরা তাকে সময় দিব।