Showing posts with label সামাজ. Show all posts
Showing posts with label সামাজ. Show all posts
Thursday, May 19, 2011
জাপানি বালক, তোমাকে স্যালুট by শেখ আবদুস সালাম
স্পেনের রাজা জুয়ান কার্লোস এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ড ‘কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দ্য সিভিল মেরিট’-এ ভূষিত করেছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত উপাচার্যের বাংলোয় এসে এক অনাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আরেফিন সিদ্দিকের কাছে অ্যাওয়ার্ডটির পদক এবং সাইটেশন হস্তান্তর করেন। এই অ্যাওয়ার্ডটি যতটা গৌরবের ব্যক্তি আরেফিন সিদ্দিকের, ততটা গৌরবান্বিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই। অধ্যাপক আরেফিনকে এটি প্রদান করা হয়েছে ‘সিভিক ভারচ্যু’ প্রমোট করায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। আরেফিন সিদ্দিককে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন।
পত্রপত্রিকায় যখন দেখি, কোনো বেতনহীন প্রাথমিক বা মাদ্রাসাশিক্ষকের করুণ জীবনকাহিনি দেখে কোনো ফেরিওয়ালা তাঁকে সাহায্যের জন্য অর্থদানে এগিয়ে আসেন কিংবা লাখ টাকাসহ ব্যাগ ফেলে কোনো রিকশা কিংবা অটোরিকশার আরোহী চলে গেছেন এবং ওই রিকশাওয়ালা বা অটোরিকশার চালক তাঁকে খুঁজে বের করে টাকাসহ তাঁর ব্যাগটি বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন অথবা আগুনে পুড়ে মা-বাবা-ভাইবোন এবং সর্বস্ব হারানো এতিম মেয়েদের নিজেকে মা গণ্য করে এবং মায়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ঘর সাজিয়ে দিয়েছেন, তখন স্বভাবতই আমাদের মন থেকে অমলিনতার ছাপ ক্ষণিকের জন্য হলেও বিদূরিত হয় এবং আমরা সিভিক ভারচ্যুর এক বিরল অস্তিত্বের সন্ধান পাই।
আমি ‘সিভিক ভারচ্যু’ কী, এর অস্তিত্ব ও পরিধি-পরিসর এবং পরিচর্যার জায়গাটি কোথায়, সেসব প্রশ্নের অনুসন্ধান এবং উত্তর পাওয়ার বিষয়টি খুঁজতে চেষ্টা করি। গত ২২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের মুখে এক গল্প শুনতে পাই। সুখ-বেদনা এবং একজন জাপানি বালককে নিয়ে এই গল্প খানিক সময়ের জন্য আমাকে রীতিমতো হতভম্ব করে দেয়; ওই জাপানি বালকটির প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মাথা নুইয়ে দেয়। পাঠকদের সেই গল্পটি জানানোর জন্যই এই লেখা। আনোয়ার হোসেন এ ঘটনাটি জেনেছেন তাঁদের গ্রুপের একটি ওয়েবসাইট থেকে। এটি আমাকে ই-মেইল করে পাঠান তিনি। এই মেইলটি ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত জাপানে এক ইমিগ্রান্ট পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছেন তাঁর এক ভিয়েতনামি বন্ধুকে। ১৯ এপ্রিল তা ছাপা হয়েছে নিউ আমেরিকা মিডিয়ায়। আমি এই ই-মেইলটি বয়ান করতে চাই।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জাপানি সুনামির কথা আমরা সবাই অবগত রয়েছি। জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সার্বিক ধ্বংসের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একালের পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ দেশ। অর্থনীতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ঐতিহ্য, মানবিকতা, সিভিক ভারচ্যুর চর্চা—সবকিছুর জন্য অনুকরণীয় জাতি হিসেবে জাপানের অবস্থান অনেক ওপরে। সাম্প্রতিক সুনামি-পরবর্তী সময়ও জাপানের মানুষ এসব গুণ থেকে একবিন্দুও বিচ্যুত হয়নি। এ সময়ে জাপানের সুনামি আঘাতপ্রাপ্ত এলাকায় মানুষকে আমরা অসহায় দেখেছি, কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও মানবিক অবস্থান থেকে সরে আসতে দেখিনি। দরিদ্র বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণে সাহায্যের অঙ্গীকার থেকেও তারা সরে যায়নি। যাবে কীভাবে? কারণ, জাপানের মানুষের মূল্যবোধ, সিভিক ভারচ্যুর চর্চা অসীম মনোনিবেশে প্রোথিত রয়েছে তাদের মনের গভীরে; মিশে গেছে জেনারেশনের মধ্যে নির্মিত এক মানবিক আত্মার মর্মমূলে। আমরা জানি, সুনামি-পরবর্তী জাপানে ফুকুশিমায় এখন দুর্গত ও পীড়িত মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, কাপড়, পানি ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে। পারমাণবিক চুল্লি দুর্ঘটনার ২৫ মাইল দূরে একটি স্কুল প্রাঙ্গণে সেদিন একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দুর্গত ব্যক্তিদের লাইনে দাঁড়িয়ে আয়োজন করেছিল খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির। সেদিন জাপানের একটি নয় বছরের বালক দাঁড়িয়েছিল এই খাবার সংগ্রহের লাইনে। খাবার ছিল সীমিত; কিন্তু লাইন ছিল দীর্ঘ। এই বালক একজন স্কুলছাত্র। সে দাঁড়িয়েছিল ওই লাইনের একেবারে শেষের দিকে। খাদ্য বিতরণের লাইন ঠিক রাখার কাজে নিয়োজিত ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত ওই ইমিগ্রান্ট পুলিশ সদস্য হঠাৎ বালকটিকে দেখতে পান। লাইনের শেষভাগে দাঁড়িয়ে বালকটি খাবার পাওয়ার অনিশ্চয়তা জেনেও খাবার বিতরণ পয়েন্টে জড়ো করা খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। গায়ে শীত নিবারণের জন্য পরিধেয় বস্ত্র খুবই কম; একটি মাত্র টি-শার্ট এবং পায়ে দুটি মোজা। ক্ষুধা এবং শীত দুটোই তাকে পেয়ে বসেছে। হঠাৎ পুলিশ সদস্য বালকটির কাছে গিয়ে তার সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় বালকটি জানাল, সুনামির সময় স্কুল ব্যালকনির তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে সে দেখতে পেয়েছিল তার বাবা তাকে স্কুল থেকে নেওয়ার জন্য গাড়ি চালিয়ে রাস্তা থেকে স্কুলের দিকে ঢুকছেন। ছেলেটির বাবা ওই স্কুলের কাছেই একটি কারখানায় কাজ করতেন। অকস্মাৎ ছেলেটি প্রত্যক্ষ করল, তাদের গাড়িটি অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে পানির টানে সাগরের দিকে ভেসে গেল। তারপর তার বাবা আর তাকে নিতে আসেননি...। ছেলেটি তার পরিবার সম্পর্কে জানাল যে তারা সমুদ্রপারে বিচ এলাকায় একটি সুন্দর বাড়িতে থাকত। মা, বাবা, সে এবং এক বোন। সুনামির পর বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। মা ও বোনেরও কোনো খোঁজ নেই। ঘটনা শুনে পুলিশ সদস্য প্রায় বাক্রুদ্ধ। দুরবস্থা জেনে ওই পুলিশ সদস্য তাঁর নিজের গায়ের জ্যাকেটটি খুলে বালকটিকে পরিয়ে দিলেন। জ্যাকেটটি পরিয়ে দেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যের কাছে থাকা তাঁর নিজের খাবারের প্যাকেটটি একপর্যায়ে বালকটির পায়ের কাছে পড়ে যায়। বালকটি তখন খাবারের প্যাকেটটির দিকে তাকিয়ে থাকে। এ অবস্থায় পুলিশ সদস্য প্যাকেটটি হাতে তুলে সেটি বালকটিকে নিতে বলেন। বালকটি প্যাকেটটি নিয়ে সোজা হেঁটে একেবারে খাবারের লাইনের শেষ প্রান্তে খাবার বণ্টন পয়েন্টে গিয়ে তা সেখানে রেখে আসে এবং পুনরায় লাইনে নিজ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্য বালকটির কাছে সে এমনটি করল কেন তা জানতে চাইলেন। জবাবে বালকটি জানায়, ‘আমি দেখেছি, এখানে আমার চেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অনেক; যদি আমি খাবারের প্যাকেটটি ওখানে রাখি, তাহলে তারা খাবার সমভাবে বণ্টন করে নেবে।’ বালকটির এই অভাবনীয় বক্তব্য শুনে পুলিশ সদস্য কেঁদে ফেলেন। তাঁর ভাষায়, ‘এ কথা শোনার পর আমি কান্না ঢাকতে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যেতে ঘুরে দাঁড়ালাম।’
আসুন, আমরা সবাই মিলে জাপানি এই বালককে স্যালুট জানাই। তোমাকে কোটি কোটি স্যালুট হে জাপানি বালক! জয় হোক মানবতার, জয় হোক ‘সিভিক ভারচ্যু’ মুভমেন্টের।
ড. শেখ আবদুস সালাম: অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
salam@univdhaka.edu
পত্রপত্রিকায় যখন দেখি, কোনো বেতনহীন প্রাথমিক বা মাদ্রাসাশিক্ষকের করুণ জীবনকাহিনি দেখে কোনো ফেরিওয়ালা তাঁকে সাহায্যের জন্য অর্থদানে এগিয়ে আসেন কিংবা লাখ টাকাসহ ব্যাগ ফেলে কোনো রিকশা কিংবা অটোরিকশার আরোহী চলে গেছেন এবং ওই রিকশাওয়ালা বা অটোরিকশার চালক তাঁকে খুঁজে বের করে টাকাসহ তাঁর ব্যাগটি বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন অথবা আগুনে পুড়ে মা-বাবা-ভাইবোন এবং সর্বস্ব হারানো এতিম মেয়েদের নিজেকে মা গণ্য করে এবং মায়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ঘর সাজিয়ে দিয়েছেন, তখন স্বভাবতই আমাদের মন থেকে অমলিনতার ছাপ ক্ষণিকের জন্য হলেও বিদূরিত হয় এবং আমরা সিভিক ভারচ্যুর এক বিরল অস্তিত্বের সন্ধান পাই।
আমি ‘সিভিক ভারচ্যু’ কী, এর অস্তিত্ব ও পরিধি-পরিসর এবং পরিচর্যার জায়গাটি কোথায়, সেসব প্রশ্নের অনুসন্ধান এবং উত্তর পাওয়ার বিষয়টি খুঁজতে চেষ্টা করি। গত ২২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের মুখে এক গল্প শুনতে পাই। সুখ-বেদনা এবং একজন জাপানি বালককে নিয়ে এই গল্প খানিক সময়ের জন্য আমাকে রীতিমতো হতভম্ব করে দেয়; ওই জাপানি বালকটির প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মাথা নুইয়ে দেয়। পাঠকদের সেই গল্পটি জানানোর জন্যই এই লেখা। আনোয়ার হোসেন এ ঘটনাটি জেনেছেন তাঁদের গ্রুপের একটি ওয়েবসাইট থেকে। এটি আমাকে ই-মেইল করে পাঠান তিনি। এই মেইলটি ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত জাপানে এক ইমিগ্রান্ট পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছেন তাঁর এক ভিয়েতনামি বন্ধুকে। ১৯ এপ্রিল তা ছাপা হয়েছে নিউ আমেরিকা মিডিয়ায়। আমি এই ই-মেইলটি বয়ান করতে চাই।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জাপানি সুনামির কথা আমরা সবাই অবগত রয়েছি। জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সার্বিক ধ্বংসের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একালের পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ দেশ। অর্থনীতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ঐতিহ্য, মানবিকতা, সিভিক ভারচ্যুর চর্চা—সবকিছুর জন্য অনুকরণীয় জাতি হিসেবে জাপানের অবস্থান অনেক ওপরে। সাম্প্রতিক সুনামি-পরবর্তী সময়ও জাপানের মানুষ এসব গুণ থেকে একবিন্দুও বিচ্যুত হয়নি। এ সময়ে জাপানের সুনামি আঘাতপ্রাপ্ত এলাকায় মানুষকে আমরা অসহায় দেখেছি, কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও মানবিক অবস্থান থেকে সরে আসতে দেখিনি। দরিদ্র বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণে সাহায্যের অঙ্গীকার থেকেও তারা সরে যায়নি। যাবে কীভাবে? কারণ, জাপানের মানুষের মূল্যবোধ, সিভিক ভারচ্যুর চর্চা অসীম মনোনিবেশে প্রোথিত রয়েছে তাদের মনের গভীরে; মিশে গেছে জেনারেশনের মধ্যে নির্মিত এক মানবিক আত্মার মর্মমূলে। আমরা জানি, সুনামি-পরবর্তী জাপানে ফুকুশিমায় এখন দুর্গত ও পীড়িত মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, কাপড়, পানি ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে। পারমাণবিক চুল্লি দুর্ঘটনার ২৫ মাইল দূরে একটি স্কুল প্রাঙ্গণে সেদিন একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দুর্গত ব্যক্তিদের লাইনে দাঁড়িয়ে আয়োজন করেছিল খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির। সেদিন জাপানের একটি নয় বছরের বালক দাঁড়িয়েছিল এই খাবার সংগ্রহের লাইনে। খাবার ছিল সীমিত; কিন্তু লাইন ছিল দীর্ঘ। এই বালক একজন স্কুলছাত্র। সে দাঁড়িয়েছিল ওই লাইনের একেবারে শেষের দিকে। খাদ্য বিতরণের লাইন ঠিক রাখার কাজে নিয়োজিত ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত ওই ইমিগ্রান্ট পুলিশ সদস্য হঠাৎ বালকটিকে দেখতে পান। লাইনের শেষভাগে দাঁড়িয়ে বালকটি খাবার পাওয়ার অনিশ্চয়তা জেনেও খাবার বিতরণ পয়েন্টে জড়ো করা খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। গায়ে শীত নিবারণের জন্য পরিধেয় বস্ত্র খুবই কম; একটি মাত্র টি-শার্ট এবং পায়ে দুটি মোজা। ক্ষুধা এবং শীত দুটোই তাকে পেয়ে বসেছে। হঠাৎ পুলিশ সদস্য বালকটির কাছে গিয়ে তার সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় বালকটি জানাল, সুনামির সময় স্কুল ব্যালকনির তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে সে দেখতে পেয়েছিল তার বাবা তাকে স্কুল থেকে নেওয়ার জন্য গাড়ি চালিয়ে রাস্তা থেকে স্কুলের দিকে ঢুকছেন। ছেলেটির বাবা ওই স্কুলের কাছেই একটি কারখানায় কাজ করতেন। অকস্মাৎ ছেলেটি প্রত্যক্ষ করল, তাদের গাড়িটি অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে পানির টানে সাগরের দিকে ভেসে গেল। তারপর তার বাবা আর তাকে নিতে আসেননি...। ছেলেটি তার পরিবার সম্পর্কে জানাল যে তারা সমুদ্রপারে বিচ এলাকায় একটি সুন্দর বাড়িতে থাকত। মা, বাবা, সে এবং এক বোন। সুনামির পর বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। মা ও বোনেরও কোনো খোঁজ নেই। ঘটনা শুনে পুলিশ সদস্য প্রায় বাক্রুদ্ধ। দুরবস্থা জেনে ওই পুলিশ সদস্য তাঁর নিজের গায়ের জ্যাকেটটি খুলে বালকটিকে পরিয়ে দিলেন। জ্যাকেটটি পরিয়ে দেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যের কাছে থাকা তাঁর নিজের খাবারের প্যাকেটটি একপর্যায়ে বালকটির পায়ের কাছে পড়ে যায়। বালকটি তখন খাবারের প্যাকেটটির দিকে তাকিয়ে থাকে। এ অবস্থায় পুলিশ সদস্য প্যাকেটটি হাতে তুলে সেটি বালকটিকে নিতে বলেন। বালকটি প্যাকেটটি নিয়ে সোজা হেঁটে একেবারে খাবারের লাইনের শেষ প্রান্তে খাবার বণ্টন পয়েন্টে গিয়ে তা সেখানে রেখে আসে এবং পুনরায় লাইনে নিজ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্য বালকটির কাছে সে এমনটি করল কেন তা জানতে চাইলেন। জবাবে বালকটি জানায়, ‘আমি দেখেছি, এখানে আমার চেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অনেক; যদি আমি খাবারের প্যাকেটটি ওখানে রাখি, তাহলে তারা খাবার সমভাবে বণ্টন করে নেবে।’ বালকটির এই অভাবনীয় বক্তব্য শুনে পুলিশ সদস্য কেঁদে ফেলেন। তাঁর ভাষায়, ‘এ কথা শোনার পর আমি কান্না ঢাকতে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যেতে ঘুরে দাঁড়ালাম।’
আসুন, আমরা সবাই মিলে জাপানি এই বালককে স্যালুট জানাই। তোমাকে কোটি কোটি স্যালুট হে জাপানি বালক! জয় হোক মানবতার, জয় হোক ‘সিভিক ভারচ্যু’ মুভমেন্টের।
ড. শেখ আবদুস সালাম: অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
salam@univdhaka.edu
Monday, April 18, 2011
ব্যক্তি, বিচ্ছিন্নতা ও ফেসবুক by জুনান নাশিত
সেদিন আমার এক আত্মীয় ভদ্রলোক বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, ‘টিভি, মোবাইলের অত্যাচারেই বাঁচা দায়, তার ওপর ফেসবুক! ছেলেমেয়ে দুটো যে ওতে কী পায় বুঝি না! কেবল ফেসবুক নিয়ে সময় কাটায়।’ আমি ওনার কথায় একটু বিব্রত হলাম। কারণ, আমি নিজেও একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী। এ তো গেল আমার আত্মীয় ভদ্রলোকের কথা। অফিসে, আড্ডায়ও ফেসবুক ভালো কি মন্দ এ নিয়ে মুখর তর্কে মেতে উঠতে দেখি অনেককেই। এসব কারণে আমার মতো যে কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—জাগা স্বাভাবিক—সত্যিই কি ফেসবুক আমাদের জীবনে আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে? ফেসবুক কি কেবল আমাদের মূল্যবান সময়ই ধ্বংস করছে?
বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের জীবন যে এক-একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, এ কথায় কারও সম্ভবত দ্বিমত থাকার কথা নয়। বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে। মানুষ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে পরিবার থেকে। বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সমাজ থেকে, এমনকি নিজের সত্তা থেকেও। যৌথ পরিবারপ্রথা ভেঙে পড়ছে। বাড়ছে নিউক্লিয়ার পরিবার। বিকল্প পরিবারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিচ্ছিন্নতা নানা ধরনে এবং নানা কারণে আমাদের গ্রাস করছে। বিচ্ছিন্নতা থেকে জন্ম নিচ্ছে হতাশা। বাড়ছে জীবনবিমুখতা। আর জীবনবিরোধিতা সহজেই নানা ধরনের ব্যক্তিক ও সামাজিক অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নতা আমাদের আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপরও করে তুলছে। তৈরি করছে দূরত্ব। আর দূরত্ব তৈরি করছে অনান্তরিকতা। আন্তরিকতাহীন মানুষ বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয় অতি সহজে। এতে করে বাড়ে হিংস্রতা। বাড়ে হানাহানি। হানাহানি নতুন করে বিচ্ছিন্নতার জন্ম দেয়। মানুষ ডুবে যায় নৈঃসঙ্গের অন্ধকার ভুবনে। নিঃসঙ্গ মানুষ ক্ষয়ে যায় অনবরত। ক্ষয়িষ্ণু জীবন তাকে খণ্ডিত চেতনায় ডুবিয়ে দেয়। সে তখন আর মহত্ত্বকে বড় কিছু ভাবতে পারে না। ক্ষুদ্রত্বের সীমাকেই জীবন ও গন্তব্য বলে ভেবে নেয়। আর এ ক্ষুদ্রত্বের সীমা বাড়িয়ে দেয় সীমাহীন দ্বিধাবিভক্তি; পথ ও মতের পার্থক্যকে করে প্রসারিত। তাই একক বিশ্বে মানুষ আজ শতধাবিভক্ত। যদিও পৃথিবী আজ অনেক বেশি একক ও অবিচ্ছিন্ন, কিন্তু মানুষ বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত হয়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
আমাদের জীবনে আছে হরেক রকম ব্যস্ততা। কি সকাল কি সন্ধ্যা, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে আমাদের ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে হয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে পিষ্ট হতে হতে আমরা ভুলতে বসি বন্ধুর মুখ। আতিথেয়তার কোমল সম্ভাষণে মনকে সিক্ত করার মতো ফুরসত আজ আমাদের কতটুকু আছে? এ বাস্তবতায় আমি আমার নিজের কাছে করা নিজের প্রশ্নের সহজ সমাধান খুঁজি। বলতে দ্বিধা নেই, সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুক আমাদের বিচ্ছিন্ন জীবনপ্রবাহকে কিছুটা হলেও অবিচ্ছিন্নতার সূত্রে গাঁথতে সমর্থ হয়েছে। এ কথায় আমার ওই আত্মীয় ভদ্রলোকটির মতো অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠবেন, আমি জানি। কিন্তু তাঁদের আশ্বস্ত করে বলতে পারি, আসলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে হু হু করে। দিন দিনই তা বাড়ছে। অগণিত লোক আজ মোবাইল ফোনের গ্রাহক। এরও কি নেতিবাচক দিক নেই? আছে। তা সত্ত্বেও মানুষ এর ভালো দিকটিই গ্রহণ করেছে। তেমনি ক্রমবিচ্ছিন্ন মানুষ ফেসবুককেও সঙ্গী করে নিতে দ্বিধা করছে না। যদিও এ দেশে এর প্রসার এখনো ততটা নয়, কিন্তু এর ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বে এখন ৫০ কোটির বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই ব্যবহারকারীর এ সংখ্যা ৭০ শতাংশ। ফেসবুকে যারা সক্রিয়, তাদের ২০ কোটি মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করে। সুতরাং, বাংলাদেশেও এর ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটবে নিঃসন্দেহে।
যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক টুইটারসহ অন্যান্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। মাধ্যমটি যত জনপ্রিয়, তত এর সমালোচনাকারীর সংখ্যাও। পক্ষে যেমন মত পাওয়া যাবে ঢের, তেমনি বিপক্ষে বলার লোকেরও অভাব নেই। অনেকেই বলেন, ফেসবুক দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু করে নানা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু এ দোষে কি কেবল ফেসবুকই দুষ্ট? সব প্রযুক্তিরই যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে মন্দ দিক। ভালো-মন্দের বিষয়টি নির্ভর করে এর ব্যবহারকারীর ওপর। কে কেমন করে ব্যবহার করছে, তার ওপর। আর কোনো কিছু ব্যবহারে যে সচেতনতা বাঞ্ছনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তাই বলে ঢালাওভাবে ফেসবুকের বিরোধিতা করে কী লাভ? আমরা অন্ধ হলেই কি আর প্রলয় বন্ধ থাকবে?
আধুনিক জীবনে দ্রুত ও সহজলভ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুক অনন্যসাধারণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বহু দূরের কোনো বন্ধু কিংবা আত্মীয়ের সঙ্গে মুহূর্তে আমরা যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছি। আমরা সম্পর্কসূত্রে গ্রথিত হচ্ছি। আনন্দ, দুঃখ, বেদনা একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করার সুযোগ পাচ্ছি; জীবনে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিংবা দীর্ঘদিনের যোগাযোগহীনতায় যে বন্ধুটিকে আমরা প্রায় ভুলে যেতে বসেছি, তাকেও ফেসবুকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হতে পারছি। নিরাশার দোলাচলে দুলতে থাকা এ জীবনে এটা খুব একটা কম পাওয়া বলে আমার মনে হয় না। এ ছাড়া ইদানীং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ফেসবুকের ইতিবাচক ব্যবহারের খবর আমরা হামেশাই পাচ্ছি। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মধ্যপ্রাচ্যের গণবিপ্লব এবং জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামির কথা; যেখানে দুর্যোগ-দুুর্বিপাকে মানুষ ফেসবুককে আশার আলো হিসেবে ব্যবহার করছে। আমি আগেই বলেছি, যেকোনো বিষয়েরই ভালো ও মন্দ দিক রয়েছে। কিন্তু আমরা কেন মন্দের কথা ভেবে ফেসবুকের ভালো দিকটা অবজ্ঞা করব? কেন নিজেদের বঞ্চিত করব প্রযুক্তির আধুনিক সিঁড়িতে পা রাখার সুবর্ণ সুযোগ থেকে?
জুনান নাশিত: কবি ও সাংবাদিক।
nashit_junan@yahoo.com
বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের জীবন যে এক-একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, এ কথায় কারও সম্ভবত দ্বিমত থাকার কথা নয়। বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে। মানুষ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে পরিবার থেকে। বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সমাজ থেকে, এমনকি নিজের সত্তা থেকেও। যৌথ পরিবারপ্রথা ভেঙে পড়ছে। বাড়ছে নিউক্লিয়ার পরিবার। বিকল্প পরিবারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিচ্ছিন্নতা নানা ধরনে এবং নানা কারণে আমাদের গ্রাস করছে। বিচ্ছিন্নতা থেকে জন্ম নিচ্ছে হতাশা। বাড়ছে জীবনবিমুখতা। আর জীবনবিরোধিতা সহজেই নানা ধরনের ব্যক্তিক ও সামাজিক অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নতা আমাদের আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপরও করে তুলছে। তৈরি করছে দূরত্ব। আর দূরত্ব তৈরি করছে অনান্তরিকতা। আন্তরিকতাহীন মানুষ বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয় অতি সহজে। এতে করে বাড়ে হিংস্রতা। বাড়ে হানাহানি। হানাহানি নতুন করে বিচ্ছিন্নতার জন্ম দেয়। মানুষ ডুবে যায় নৈঃসঙ্গের অন্ধকার ভুবনে। নিঃসঙ্গ মানুষ ক্ষয়ে যায় অনবরত। ক্ষয়িষ্ণু জীবন তাকে খণ্ডিত চেতনায় ডুবিয়ে দেয়। সে তখন আর মহত্ত্বকে বড় কিছু ভাবতে পারে না। ক্ষুদ্রত্বের সীমাকেই জীবন ও গন্তব্য বলে ভেবে নেয়। আর এ ক্ষুদ্রত্বের সীমা বাড়িয়ে দেয় সীমাহীন দ্বিধাবিভক্তি; পথ ও মতের পার্থক্যকে করে প্রসারিত। তাই একক বিশ্বে মানুষ আজ শতধাবিভক্ত। যদিও পৃথিবী আজ অনেক বেশি একক ও অবিচ্ছিন্ন, কিন্তু মানুষ বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত হয়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
আমাদের জীবনে আছে হরেক রকম ব্যস্ততা। কি সকাল কি সন্ধ্যা, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে আমাদের ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে হয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে পিষ্ট হতে হতে আমরা ভুলতে বসি বন্ধুর মুখ। আতিথেয়তার কোমল সম্ভাষণে মনকে সিক্ত করার মতো ফুরসত আজ আমাদের কতটুকু আছে? এ বাস্তবতায় আমি আমার নিজের কাছে করা নিজের প্রশ্নের সহজ সমাধান খুঁজি। বলতে দ্বিধা নেই, সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুক আমাদের বিচ্ছিন্ন জীবনপ্রবাহকে কিছুটা হলেও অবিচ্ছিন্নতার সূত্রে গাঁথতে সমর্থ হয়েছে। এ কথায় আমার ওই আত্মীয় ভদ্রলোকটির মতো অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠবেন, আমি জানি। কিন্তু তাঁদের আশ্বস্ত করে বলতে পারি, আসলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে হু হু করে। দিন দিনই তা বাড়ছে। অগণিত লোক আজ মোবাইল ফোনের গ্রাহক। এরও কি নেতিবাচক দিক নেই? আছে। তা সত্ত্বেও মানুষ এর ভালো দিকটিই গ্রহণ করেছে। তেমনি ক্রমবিচ্ছিন্ন মানুষ ফেসবুককেও সঙ্গী করে নিতে দ্বিধা করছে না। যদিও এ দেশে এর প্রসার এখনো ততটা নয়, কিন্তু এর ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বে এখন ৫০ কোটির বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই ব্যবহারকারীর এ সংখ্যা ৭০ শতাংশ। ফেসবুকে যারা সক্রিয়, তাদের ২০ কোটি মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করে। সুতরাং, বাংলাদেশেও এর ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটবে নিঃসন্দেহে।
যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক টুইটারসহ অন্যান্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। মাধ্যমটি যত জনপ্রিয়, তত এর সমালোচনাকারীর সংখ্যাও। পক্ষে যেমন মত পাওয়া যাবে ঢের, তেমনি বিপক্ষে বলার লোকেরও অভাব নেই। অনেকেই বলেন, ফেসবুক দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু করে নানা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু এ দোষে কি কেবল ফেসবুকই দুষ্ট? সব প্রযুক্তিরই যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে মন্দ দিক। ভালো-মন্দের বিষয়টি নির্ভর করে এর ব্যবহারকারীর ওপর। কে কেমন করে ব্যবহার করছে, তার ওপর। আর কোনো কিছু ব্যবহারে যে সচেতনতা বাঞ্ছনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তাই বলে ঢালাওভাবে ফেসবুকের বিরোধিতা করে কী লাভ? আমরা অন্ধ হলেই কি আর প্রলয় বন্ধ থাকবে?
আধুনিক জীবনে দ্রুত ও সহজলভ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুক অনন্যসাধারণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বহু দূরের কোনো বন্ধু কিংবা আত্মীয়ের সঙ্গে মুহূর্তে আমরা যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছি। আমরা সম্পর্কসূত্রে গ্রথিত হচ্ছি। আনন্দ, দুঃখ, বেদনা একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করার সুযোগ পাচ্ছি; জীবনে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিংবা দীর্ঘদিনের যোগাযোগহীনতায় যে বন্ধুটিকে আমরা প্রায় ভুলে যেতে বসেছি, তাকেও ফেসবুকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হতে পারছি। নিরাশার দোলাচলে দুলতে থাকা এ জীবনে এটা খুব একটা কম পাওয়া বলে আমার মনে হয় না। এ ছাড়া ইদানীং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ফেসবুকের ইতিবাচক ব্যবহারের খবর আমরা হামেশাই পাচ্ছি। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মধ্যপ্রাচ্যের গণবিপ্লব এবং জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামির কথা; যেখানে দুর্যোগ-দুুর্বিপাকে মানুষ ফেসবুককে আশার আলো হিসেবে ব্যবহার করছে। আমি আগেই বলেছি, যেকোনো বিষয়েরই ভালো ও মন্দ দিক রয়েছে। কিন্তু আমরা কেন মন্দের কথা ভেবে ফেসবুকের ভালো দিকটা অবজ্ঞা করব? কেন নিজেদের বঞ্চিত করব প্রযুক্তির আধুনিক সিঁড়িতে পা রাখার সুবর্ণ সুযোগ থেকে?
জুনান নাশিত: কবি ও সাংবাদিক।
nashit_junan@yahoo.com
Monday, December 13, 2010
আসুন, আমরা গর্বিত নাগরিক হই ব্য সালমা খান
প্রথম আলো বিগত এক যুগ ধরে শুধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নয়, সেই সঙ্গে মানবিক চিন্তা বিকাশে ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা সুশীল সমাজে প্রশংসিত হয়েছে। দশম বছর পূর্তিতে ‘বদলে যাও বদলে দাও’ স্লোগানের পর এ বছর এক যুগ পূর্তিতে প্রথম আলো আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে হূদয় নিঙড়ানো এক অঙ্গীকারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছে, ‘আসুন, মায়ের মতো দেশকে ভালো বাসি।’
প্রতিটি জাতিই দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে, যে ভাষাতেই হোক, দেশমাতৃকার চরণে সবাই বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথা ঠেকায়। কিন্তু দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসা যদি অতি স্বাভাবিক ও সপ্রতিভ হয়, তাহলে দেশে দেশে আজকে এত হানাহানি, শোষণ, দুর্নীতি ও বঞ্চনা কেন? কটা দেশে শান্তি ও সমতা, মানবিক বোধ ও সুশাসন বিরাজ করছে?
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ দেশের জন্য কম ত্যাগ করেনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন, ভাষাসংগ্রাম থেকে স্বাধীনতাসংগ্রাম—সবকিছুর পটভূমি ছিল দেশকে ভালোবাসার গভীর চেতনাবোধে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মধ্যে এত হাতাশা কেন? সরকারি পরিসংখ্যান মোতাবেক মাথাপিছু আয় বাড়ছে, আর বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দারিদ্র্য। দুর্নীতি আর অপশাসনে আমরা এগিয়ে চলেছি পাগলা ঘোড়ার গতিতে, নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমবর্ধমান। এ সবকিছুর সঙ্গে রাজনীতির সাংঘর্ষিক রূপান্তর গণতন্ত্রকে করে তুলেছে বিপন্ন। অথচ এমন তো হওয়ার কথা নয়, কী অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের, যাকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নের আর প্রত্যাশার শেষ নেই, যাকে আমরা মায়ের মতো ভালোবাসতে চাই।
আমার ধারণায় দেশকে ভালোবাসার প্রধান শর্ত হলো দেশের জন্য গর্ববোধ করা। দেশ আমাদের যতটুকু দিতে পেরেছে বিনম্র শ্রদ্ধার তা গ্রহণ করে দেশকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা পূরণের সংগ্রামে নিজেকে আন্তরিকভাবে উৎসর্গ করা। স্বাধীনতার ৪০ বছরের খতিয়ানে যেমন রয়েছে আমাদের অপ্রাপ্তির হতাশা, তেমনি রয়েছে উজ্জ্বল অর্জন। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্বের ১৬৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১২৯। সেই সঙ্গে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে, নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে এবং গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধিতে আমরা ভারতসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে পেছনে ফেলে এসেছি। সামান্য স্বার্থত্যাগ দেশের জন্য অপার ভালোবাসা আর অসীম গর্ববোধ থাকলে এই উপাদানগুলোই আমাদের নিয়ে যেতে পারে আকাঙ্ক্ষিত সামষ্টিক উন্নয়নের পথে, প্রত্যাশা পূরণের নবদিগন্তে।
তাহলে আমাদের সমস্যাটা কোথায়—আমরা কি দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসতে পারিনি? আমার মনে হয়, দেশকে আমরা অনেকেই মায়ের মতো ভালোবাসি ঠিকই, কিন্তু দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে গর্বিত অহংবোধ আমাদের মধ্যে আজও সৃষ্টি হয়নি। ইন্দোনেশিয়ায় থাকাকালে এমন অনেক বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, যারা ঘরের ভেতর বাঙালিপনার আবেগে ভরপুর। কিন্তু বাইরে বেরোলে নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় না দিয়ে ‘ভারতীয়’ পরিচয় দেয় এই অজুহাতে যে বাংলাদেশকে অনেকে চেনে না। কী চরম হীনম্মন্যতা!
এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ একটি সংবাদ উল্লেখ্য। এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দেশের পতাকাখচিত ট্র্যাকস্যুট, জার্সি, প্যান্ট ও ব্লেজার দেওয়া হয়েছে। অথচ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে গেমসের পোশাক পরার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা গেছে এবং কাবাডি কোচ ও ক্রিকেটাররাও গেমসের পোশাক পরে খুব একটা বের হননি। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও গেমসের পোশাক পরা নিয়ে ছিল অনীহা। কিন্তু ভারতীয় ক্রীড়াবিদেরা সর্বক্ষণ দেশের পতাকাখচিত পোশাক পরেন। ভারতীয় মহিলা কাবাডি দলের কোচ সুনীল বলেন, ‘এ পোশাক আমার গর্বের। গেমসের পোশাক দিয়ে দেশের পরিচয় তুলে ধরতে পারি।’ (আমাদের সময় ১৩.১১.১০)
আসলে মাকে ভালোবাসা অনেক সহজ। কারণ, মা শুধু দিয়ে যায়, বিনিময়ে মাকে কিছু দিতে হয় না। মাকে আমরা সহজাতভাবে, বিনা প্রচেষ্টায়, বিনা ত্যাগে ভালোবাসি, মা ততটা দায়িত্বপ্রসূত নয়, যতটা আবেগপ্রসূত। তাই দেখা যায়, চরম দুর্নীতিবাজ, শঠ ও জনস্বার্থবিরোধী লোকেরাও মাকে ভালোবাসতে কার্পণ্য বোধ করে না। কিন্তু দেশকে ভালোবাসতে হলে দেশের অসংখ্য অদেখা-অচেনা মানুষের ন্যায্যতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, স্বার্থপরতা ত্যাগের বিনিময়ে একজন বাংলাদেশি হওয়ার অহংকারবোধ নিয়ে ভালোবাসতে হবে।
জন্মলগ্ন থেকেই আমরা জানি বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। শুধু বাংলাদেশে জন্মানোর আত্মপরিচয়ের অহংকারবোধ থেকেই আমরা কঠিন যাত্রাপথ পরিক্রম করে এত দূর এসেছি। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সবাইকে নিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে হলে একদিকে দেশের মূল সমস্যা এবং অন্যদিকে দেশকে নিয়ে আমাদের অহংকারের প্রতীকগুলো আবিষ্কার করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো ঘোচানোর দায়িত্ব সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে। যার যার স্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করলেও উন্নত অর্থনীতি ও বিকশিত সমাজ গঠনের সংগ্রামটা হতে হবে সমষ্টিগতভাবে, যে সক্ষমতার পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব বর্তাবে সরকারের ওপর। একটা বৈষম্যহীন গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এ স্বপ্ন সফল করতে হলে দেশের প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষ করে তরুণদের কাছে উন্মোচিত করে দিতে হবে সুযোগের দুয়ার। একদিকে যেমন তারুণ্যের অপচয় রোধে চাই সৃজনশীল পরিকল্পনা, অন্যদিকে দেখতে হবে তারা যাতে বেকারত্বের ঘেরাটোপে না পড়ে। এক বিরাট জনসংখ্যা নিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সর্ব প্রথম জনসংখ্যা-বিস্ফোরণকে প্রধান জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। স্বল্প আয়তনের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দৃঢ়সংকল্প ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত এক দশকে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশজ উৎপাদিত দ্রব্যের বাজার না পেয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সীমিত সম্পদে প্রস্তুতকৃত পণ্যের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বাজার সংকুচিত হচ্ছে আর সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আমদানি বাড়ছে। এমনকি আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও আমাদের রয়েছে বিরাট বাণিজ্য ঘাটতি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র তিন কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিপরীতে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৪০০ কোটি ডলারের। বহির্বাণিজ্য নীতি ও শুল্ক ছাড়াও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য প্রধান অন্তরায় ছিল দেশীয় পণ্যের প্রতি জনগণের অনাগ্রহ। গত দুই ঈদের বাজারে তাই ঢাকার গুলশান থেকে গাউছিয়া, এমনকি মফস্বলের ছোট বাজারগুলোও ছিল বিদেশি পণ্যে উপচে পড়া। অনেক দোকানিকে গর্বের সঙ্গে বলতে শুনেছি, ‘আমরা কোনো দেশীয় জিনিস দোকানে রাখি না।’
এখনো আমাদের শপিং মলগুলোতে গেলে অনায়াসে মনে করা যাবে যে আমরা বিদেশে কোথাও শপিং করছি। এ রকম দৃশ্য কি আমাদের প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রে দেখা যাবে? আমাদের আশপাশের সব দেশই তাদের শিল্প সংরক্ষণ নীতিতে দৃঢ় এবং সেই সঙ্গে দেখা যায় তাদের জনগণ অধিক গর্ববোধ করে নিজের দেশের পণ্য ব্যবহার করতে। দেশজ সংস্কৃতি ও বিনোদন চাহিদার ক্ষেত্রেও অনেক সময় উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ ধরনের আচরণ দেখা যায়, আমরা যার প্রতিবাদ করি না। অন্য দেশের সাধারণ মানের নাম না-জানা শিল্পীদের কোটি টাকা দিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়, অথচ দেশের অনেক প্রতিভা অর্থাভাবে দারিদ্র্যের গহ্বরে হারিয়ে যায়। সেদিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি না। এসবই দেশ নিয়ে আমাদের গর্ব ও অহংকারবোধের অভাব। নিজের কানা ছেলেকে ভালোবাসব, কিন্তু আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখব, পাছে কেউ দেখে ফেলে—এ রকম মনোভাব থেকে মুক্তি পেতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে অবশ্যই জানালাগুলো খুলে দেব মুক্ত বাতাস সঞ্চালনের জন্য, তবে সিংহ দুয়ার আগলে রাখব দেশের গর্বিত প্রহরী হিসেবে। আসুন, আমরা দেশের গর্বিত নাগরিক হই, স্বাধীনতার মাসে এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।
সালমা খান: অর্থনীতিবিদ, নারীনেত্রী।
Tuesday, June 8, 2010
রেল কেন উপেক্ষিত by হানিফ মাহমুদ
সামাজিক সেবা ও লাভজনক কোম্পানি হিসেবে টিকে থাকার মধ্যে এক সফল সমন্বয় করেছে ভারতীয় রেল। এই সাফল্য এসেছে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়িয়ে। যে যাত্রীবাহী ট্রেন আগে আটশ যাত্রী বহন করত, এখন তা দুই হাজার। আর এতেই খরচ কমে গেছে ৪৫ ভাগ। ফলে কোনো ভাড়া না বাড়িয়েই যাত্রীদের জন্য সেবা বেড়েছে।
যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ নিয়মিত ট্রেনে বিলাসবহুল কামরায় ভ্রমণ করতে পারে না, তাদের জন্য চালু হয়েছে ‘গরিব রথ’। এই ট্রেনে আছে শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত কামরা থেকে আরামদায়ক আসন। এভাবেই বিগত এক দশকে প্রতিবেশী ভারতে যোগাযোগব্যবস্থায় রেলের একটি বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটে গেছে। সরকারনিয়ন্ত্রিত একসময়ের লোকসানী রেল এখন বিপুল মুনাফার একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রায় ১৬ লাখ লোক কাজ করেন। উড়োজাহাজে চড়ার সুখ না পেলেও ভারতের দুই কোটি মানুষ প্রতিদিন চলছে ভারতের প্রায় ১১ হাজার ট্রেনে। এই রেলব্যবস্থায় প্রতিদিন ১৫ লাখ টন পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে, যা ভারতীয় রেলওয়ে উদ্যোক্তাদের অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় অনেকটা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দিয়েছে।
কিন্তু যেকোনো দেশের উন্নয়নে অত্যাবশ্যকীয় এই অবকাঠামোতে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোনো বিনিয়োগ হয়নি। যেসব পথ চালু ছিল নব্বইয়ের দশকে তার অনেকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন কোনো কোচ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত না হওয়ার কারণে ক্রমেই সাধারণ ভ্রমণকারীদের কাছে রেল অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে।
অতীতে বিরোধিতা করলেও নৌপথ ছোট হয়ে পড়া এবং সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে ২০০৫ সালের দিকে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশে রেল উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিতে থাকে। বিগত জোট সরকারের আমলে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং বিভিন্ন স্থানে রেললাইন স্থাপন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনে ডবল ট্রাকে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১১ সালের মধ্যে মোট ৯২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ছয় হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি), বিশ্বব্যাংক এবং জাইকা অধিকাংশ অর্থ জোগান দিতে রাজি হয়। কিন্তু এসব অর্থ বিনিয়োগে উন্নয়নের সহযোগীরা শর্ত জুড়ে দেয়। সরকার তাদের সংস্কার প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে রাজিও হয়। রেলওয়ের এই সংস্কারপ্রক্রিয়া তদারকির জন্য যোগাযোগসচিবকে চেয়ারম্যান এবং অর্থসচিবকে কো-চেয়ারম্যান করে আন্তমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক ডজন বৈঠক করেছে কিন্তু সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদনের ব্যাপারে কিছুই হয়নি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলওয়ে থেকে সংস্কারের প্রস্তাবটি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বর্তমান কাঠামো ভেঙে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানায় একটি বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে কয়েকটি বিভাগ বা ‘লাইন অব বিজনেস’-এ (এলওবি) রূপান্তরের কথা আছে খসড়া সংস্কার প্রস্তাবে। খসড়া সংস্কার প্রস্তাবে পুরো রেলওয়েকে আটটি এলওবিতে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং রেলওয়ের ভূমি ব্যবহার—এ তিনটিকে আয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর ব্যয় করা হবে পরিচালন, অবকাঠামো, রোলিং স্টক (ইঞ্জিন-কোচ), করপোরেট সার্ভিস, অর্থ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে। প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ কাজের জন্য জবাবদিহি করবে। সংস্কারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যোগাযোগমন্ত্রীর অধীনে রেলওয়ের জন্য আট সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বাধীন বোর্ড গঠনেরও সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু সংস্কার হলে মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা খর্ব হবে—এই আশঙ্কায় এই সংক্রান্ত ফাইলটি ঝুলে গেছে বলে একটি সুত্রে জানা গেছে।
শুধু ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার নয়, রেলওয়ের সেবা সম্প্রসারণ ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কাগজে-কলমে রেলওয়েতে বর্তমানে ৩৪টি প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে কিছু চুক্তি হয়েছে, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। কিছু প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে কিন্তু অগ্রগতি শূন্য। বেশ কিছু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১১ সালে কিন্তু প্রকৃত বাস্তবায়ন ২-৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে রেলের সেবা উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি রেলের যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ এবং ৬০টি ব্রডগেজ কোচ মেরামত/পুনর্বাসনে ১২৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এক বছর পাঁচ মাস পার হতে চলেছে, বাস্তব অগ্রগতি শূন্য। বাকি ছয় মাসে ২৬০টি কোচের সংস্কারকাজ কীভাবে হবে, এর উত্তর কেউ জানে না।
আরো কয়েকটি উদাহরন দেওয়া যাক। রেল ট্রানজিটের ব্যাপারে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে সীমান্ত এলাকার—এ ধরনের রেললাইনের মেরামতকাজ দুই বছর ধরে ঝুলে আছে। রাজশাহী-রোহানপুর সীমান্ত এবং আমনুরা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইনের উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় আড়াই বছর আগে। বাস্তবায়নের জন্য সময় আছে আর এক বছর তিন মাস। বাস্তব অগ্রগতি মাত্র এক শতাংশ। চারবার দরপত্র বাতিল হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা শহর নারায়ণগঞ্জের মধ্যে রেলযোগাযোগ-ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় তিন বছর আগে। ৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্পটির ঠিকাদার ঠিক করতে রেলওয়ে সময় নিয়েছে দুই বছর। গত বছর অক্টোবরে ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়নি। টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার পর্যন্ত দুই লাইন করার উদ্যোগও একই ভাবে ঝুলে আছে। প্রায় ৭২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন হয় ২০০৬ সালের ১ জুলাই। এরপর প্রায় চার বছর সময় পার হতে চলেছে, কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের তেমন কোনো কাজ শুরু হয়নি।
অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০০২-০৩ থেকে ২০০৬-০৭ পর্যন্ত তাদের দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় রেল উন্নয়নে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) ব্যয় করেছে। আর ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তাদের ব্যয়ের পরিকল্পনা দুই লাখ ৫১ হাজার কোটি রুপি। নতুন রেলমন্ত্রী ভারতে ২০২০ সালের মধ্যে ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিবেগের ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এভাবেই ভারত ধাপে ধাপে রেলের উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছে। অথচ অত্যাবশ্যকীয় এই অবকাঠামো উন্নয়নে স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকার অবহেলা দেখিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের মতো স্বল্প আয়ের দেশ যেখানে সমাজের একটি বড় অংশ মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে বিচ্ছিন্ন, এদের অর্থনীতির মূল স্রোতের আওতায় নিয়ে আসতে রেল একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য এ এম এম সফিউল্লাহর সঙ্গে কথা হচ্ছিল এ প্রসঙ্গে। তিনি বললেন, রেলওয়ে অগ্রাধিকার বা পরিকল্পনা প্রণয়নে যত এগিয়ে, বাস্তবায়নে ততটা পিছিয়ে থাকে। এ জন্যই ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া রেলওয়ের বড় ধরনের উন্নতি হয়নি, বরং রেলপথ কমেছে। রেলওয়ের উন্নয়নে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়, সেগুলোর উন্নয়ন একদিন পিছিয়ে যাওয়া দেশের উন্নয়নও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার মতো।
কম খরচে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করতে পারে রেল। বাংলাদেশের মত জনবহুল ও প্রায় সমতল একটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন ব্যবস্থাটি কেন উপেক্ষিত তা সত্যিই এক বড় প্রশ্ন। ভারতের অভিজ্ঞতা কী আমাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না?
হানিফ মাহমুদ: সাংবাদিক।
যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ নিয়মিত ট্রেনে বিলাসবহুল কামরায় ভ্রমণ করতে পারে না, তাদের জন্য চালু হয়েছে ‘গরিব রথ’। এই ট্রেনে আছে শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত কামরা থেকে আরামদায়ক আসন। এভাবেই বিগত এক দশকে প্রতিবেশী ভারতে যোগাযোগব্যবস্থায় রেলের একটি বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটে গেছে। সরকারনিয়ন্ত্রিত একসময়ের লোকসানী রেল এখন বিপুল মুনাফার একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রায় ১৬ লাখ লোক কাজ করেন। উড়োজাহাজে চড়ার সুখ না পেলেও ভারতের দুই কোটি মানুষ প্রতিদিন চলছে ভারতের প্রায় ১১ হাজার ট্রেনে। এই রেলব্যবস্থায় প্রতিদিন ১৫ লাখ টন পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে, যা ভারতীয় রেলওয়ে উদ্যোক্তাদের অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় অনেকটা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দিয়েছে।
কিন্তু যেকোনো দেশের উন্নয়নে অত্যাবশ্যকীয় এই অবকাঠামোতে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোনো বিনিয়োগ হয়নি। যেসব পথ চালু ছিল নব্বইয়ের দশকে তার অনেকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন কোনো কোচ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত না হওয়ার কারণে ক্রমেই সাধারণ ভ্রমণকারীদের কাছে রেল অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে।
অতীতে বিরোধিতা করলেও নৌপথ ছোট হয়ে পড়া এবং সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে ২০০৫ সালের দিকে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশে রেল উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিতে থাকে। বিগত জোট সরকারের আমলে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং বিভিন্ন স্থানে রেললাইন স্থাপন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনে ডবল ট্রাকে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১১ সালের মধ্যে মোট ৯২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ছয় হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি), বিশ্বব্যাংক এবং জাইকা অধিকাংশ অর্থ জোগান দিতে রাজি হয়। কিন্তু এসব অর্থ বিনিয়োগে উন্নয়নের সহযোগীরা শর্ত জুড়ে দেয়। সরকার তাদের সংস্কার প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে রাজিও হয়। রেলওয়ের এই সংস্কারপ্রক্রিয়া তদারকির জন্য যোগাযোগসচিবকে চেয়ারম্যান এবং অর্থসচিবকে কো-চেয়ারম্যান করে আন্তমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক ডজন বৈঠক করেছে কিন্তু সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদনের ব্যাপারে কিছুই হয়নি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলওয়ে থেকে সংস্কারের প্রস্তাবটি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বর্তমান কাঠামো ভেঙে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানায় একটি বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে কয়েকটি বিভাগ বা ‘লাইন অব বিজনেস’-এ (এলওবি) রূপান্তরের কথা আছে খসড়া সংস্কার প্রস্তাবে। খসড়া সংস্কার প্রস্তাবে পুরো রেলওয়েকে আটটি এলওবিতে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং রেলওয়ের ভূমি ব্যবহার—এ তিনটিকে আয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর ব্যয় করা হবে পরিচালন, অবকাঠামো, রোলিং স্টক (ইঞ্জিন-কোচ), করপোরেট সার্ভিস, অর্থ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে। প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ কাজের জন্য জবাবদিহি করবে। সংস্কারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যোগাযোগমন্ত্রীর অধীনে রেলওয়ের জন্য আট সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বাধীন বোর্ড গঠনেরও সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু সংস্কার হলে মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা খর্ব হবে—এই আশঙ্কায় এই সংক্রান্ত ফাইলটি ঝুলে গেছে বলে একটি সুত্রে জানা গেছে।
শুধু ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার নয়, রেলওয়ের সেবা সম্প্রসারণ ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কাগজে-কলমে রেলওয়েতে বর্তমানে ৩৪টি প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে কিছু চুক্তি হয়েছে, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। কিছু প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে কিন্তু অগ্রগতি শূন্য। বেশ কিছু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১১ সালে কিন্তু প্রকৃত বাস্তবায়ন ২-৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে রেলের সেবা উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি রেলের যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ এবং ৬০টি ব্রডগেজ কোচ মেরামত/পুনর্বাসনে ১২৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এক বছর পাঁচ মাস পার হতে চলেছে, বাস্তব অগ্রগতি শূন্য। বাকি ছয় মাসে ২৬০টি কোচের সংস্কারকাজ কীভাবে হবে, এর উত্তর কেউ জানে না।
আরো কয়েকটি উদাহরন দেওয়া যাক। রেল ট্রানজিটের ব্যাপারে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে সীমান্ত এলাকার—এ ধরনের রেললাইনের মেরামতকাজ দুই বছর ধরে ঝুলে আছে। রাজশাহী-রোহানপুর সীমান্ত এবং আমনুরা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইনের উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় আড়াই বছর আগে। বাস্তবায়নের জন্য সময় আছে আর এক বছর তিন মাস। বাস্তব অগ্রগতি মাত্র এক শতাংশ। চারবার দরপত্র বাতিল হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা শহর নারায়ণগঞ্জের মধ্যে রেলযোগাযোগ-ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় তিন বছর আগে। ৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্পটির ঠিকাদার ঠিক করতে রেলওয়ে সময় নিয়েছে দুই বছর। গত বছর অক্টোবরে ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়নি। টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার পর্যন্ত দুই লাইন করার উদ্যোগও একই ভাবে ঝুলে আছে। প্রায় ৭২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন হয় ২০০৬ সালের ১ জুলাই। এরপর প্রায় চার বছর সময় পার হতে চলেছে, কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের তেমন কোনো কাজ শুরু হয়নি।
অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০০২-০৩ থেকে ২০০৬-০৭ পর্যন্ত তাদের দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় রেল উন্নয়নে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) ব্যয় করেছে। আর ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তাদের ব্যয়ের পরিকল্পনা দুই লাখ ৫১ হাজার কোটি রুপি। নতুন রেলমন্ত্রী ভারতে ২০২০ সালের মধ্যে ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিবেগের ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এভাবেই ভারত ধাপে ধাপে রেলের উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছে। অথচ অত্যাবশ্যকীয় এই অবকাঠামো উন্নয়নে স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকার অবহেলা দেখিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের মতো স্বল্প আয়ের দেশ যেখানে সমাজের একটি বড় অংশ মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে বিচ্ছিন্ন, এদের অর্থনীতির মূল স্রোতের আওতায় নিয়ে আসতে রেল একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য এ এম এম সফিউল্লাহর সঙ্গে কথা হচ্ছিল এ প্রসঙ্গে। তিনি বললেন, রেলওয়ে অগ্রাধিকার বা পরিকল্পনা প্রণয়নে যত এগিয়ে, বাস্তবায়নে ততটা পিছিয়ে থাকে। এ জন্যই ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া রেলওয়ের বড় ধরনের উন্নতি হয়নি, বরং রেলপথ কমেছে। রেলওয়ের উন্নয়নে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়, সেগুলোর উন্নয়ন একদিন পিছিয়ে যাওয়া দেশের উন্নয়নও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার মতো।
কম খরচে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করতে পারে রেল। বাংলাদেশের মত জনবহুল ও প্রায় সমতল একটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন ব্যবস্থাটি কেন উপেক্ষিত তা সত্যিই এক বড় প্রশ্ন। ভারতের অভিজ্ঞতা কী আমাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না?
হানিফ মাহমুদ: সাংবাদিক।
Wednesday, December 2, 2009
নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে -মা এখন অভিভাবক
একটি শিশুর জন্ম, প্রতিপালনসহ সব ক্ষেত্রেই মায়ের ভূমিকা মুখ্য হলেও রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুন আর সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে আমাদের সমাজে মায়ের অবস্থান এখনো প্রান্তিক। মা তথা নারীর প্রান্তিক এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথে বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেল সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তে: ‘অভিভাবক হিসেবে শুধু মায়ের নাম দিয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করার পক্ষে মত দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’ একটি সন্তানের মা-বাবা হিসেবে দুজনই একই মর্যাদায় অভিভাবকত্ব পাওয়ার দাবিদার। পুরুষতান্ত্রিক সমাজকাঠামোয় এ উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে বড় ধরনের অগ্রগতি বলেই আমরা মনে করি।
শুধু মায়ের নাম ব্যবহার করলে ফরম অপূর্ণ বিবেচিত হবে কেন জানতে চেয়ে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও নারীপক্ষ হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে মায়ের অভিভাবকত্ব নিশ্চিত হলো। কিন্তু জীবনের অন্য ক্ষেত্রে? হাইকোর্ট এই রুল জারির সময় পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, কেবল এসএসসি বা এইচএসসির কথা না বলে সব পর্যায়ের শিক্ষা ও চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে এই দাবি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার শুধু এসএসসি ও এইচএসসির কথাই ঘোষণায় বলেছে। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত হবে, শিক্ষা ও চাকরিসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে বাবার সমান্তরালে অভিভাবক হিসেবে মায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করা।
মা ও নারীদের ব্যাপারে নানা নীতিবাক্য সমাজে প্রচলিত থাকলেও সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এখনো মায়ের অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর মূল কারণ সমাজে মেয়েশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। আজকের মেয়েশিশুই আগামীকালের মা। সুতরাং তার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ প্রত্যাশিত। পরিবার থেকেই এ বৈষম্য অবসানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাজের অর্ধেক অংশকে অনগ্রসর রেখে একটি দেশ কখনোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে অগ্রসর হতে পারে না। আমরা চাই, শিক্ষা এবং সামাজিক জীবনাচরণের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত হোক।
শুধু মায়ের নাম ব্যবহার করলে ফরম অপূর্ণ বিবেচিত হবে কেন জানতে চেয়ে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও নারীপক্ষ হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে মায়ের অভিভাবকত্ব নিশ্চিত হলো। কিন্তু জীবনের অন্য ক্ষেত্রে? হাইকোর্ট এই রুল জারির সময় পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, কেবল এসএসসি বা এইচএসসির কথা না বলে সব পর্যায়ের শিক্ষা ও চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে এই দাবি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার শুধু এসএসসি ও এইচএসসির কথাই ঘোষণায় বলেছে। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত হবে, শিক্ষা ও চাকরিসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে বাবার সমান্তরালে অভিভাবক হিসেবে মায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করা।
মা ও নারীদের ব্যাপারে নানা নীতিবাক্য সমাজে প্রচলিত থাকলেও সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এখনো মায়ের অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর মূল কারণ সমাজে মেয়েশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। আজকের মেয়েশিশুই আগামীকালের মা। সুতরাং তার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ প্রত্যাশিত। পরিবার থেকেই এ বৈষম্য অবসানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাজের অর্ধেক অংশকে অনগ্রসর রেখে একটি দেশ কখনোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে অগ্রসর হতে পারে না। আমরা চাই, শিক্ষা এবং সামাজিক জীবনাচরণের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত হোক।
Subscribe to:
Posts (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1445)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
মুসলিম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট