Sunday, May 22, 2011

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রশ্নে by ম. ইনামুল হক

গত ২৯ এপ্রিল ঢাকার শহীদ মিনারে আদিবাসীদের এক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই মহাসমাবেশের প্রধান দাবি ছিল—বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি। পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রায় সব জাতিসত্তার প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং অনেক এনজিও প্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরা এতে যোগ দিয়েছিলেন। সভার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসীদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করার সরকারি উদ্যোগকে গ্রহণ না করে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। উল্লেখ্য, আদিবাসী বিষয়ে ১৯৭২ সালের কিংবা বর্তমানে বাতিল করা সংবিধানে কোনোই উল্লেখ নেই। তাই সমতলের বাঙালি অধিবাসীরাও নিজেদের আদিবাসী বলে দাবি করায় বিষয়টির ওপর চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি (এপ্রিল ২০১১) ‘মানুষের জন্য’ এবং ‘ক্যাপেং’ নামের দুটি ফাউন্ডেশন একটি যৌথ গবেষণা পুস্তিকায় বলে, বাংলাদেশে বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠী ছাড়াও প্রায় ৫৪টির অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী স্মরণাতীত কাল থেকে বসবাস করছে। ১৯৯১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এদের সংখ্যা ১২ লাখ পাঁচ হাজার ৯৭৮, যা মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৮ শতাংশ; সঠিক জনগণনা হলে এই সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি বা মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ হবে। তবে ওই গবেষণা পুস্তিকায় এমন সব জনগোষ্ঠীর নাম আছে, যাদের আগমন বাংলার ভূমিতে দুই বা তিন শ বছরের মধ্যে হয়েছে। তাই হাজার হাজার বছর ধরে বসবাসকারী বাঙালিরাও যে আদিবাসী, তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না। বহির্বিশ্বে আদিবাসী বলতে বোঝায় যারা কোনো দেশে অভিবাসীদের (immigrants) চাপে কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে বা নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে বসেছে। বাংলাদেশে অভিবাসীদের চাপে নয়, নিজ দেশেরই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চাপে ক্ষুদ্রতর জনগোষ্ঠী হুমকির মধ্যে পড়েছে।
মানুষের জন্য এবং ক্যাপেং-এর গবেষণা পুস্তিকায় আইএলওর বরাত দিয়ে যা বলা হয়েছে, তা উপনিবেশগুলোতেই খাটে। মালয়েশিয়ার সংবিধানে সারাওয়াকে মালয়সহ বৃহত্তর ও ক্ষুদ্রতর সব জনগোষ্ঠীকেই আদিবাসীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশে আদিবাসীদের সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে গিয়ে বাঙালিদের পৃথক করা যায় না; বরং এর মাধ্যমে বিষয়টি জটিল করে ক্ষুদ্রতর জাতিগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্য রক্ষার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়। আমরা বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হিসেবে নাগরিকদের জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলি। আমরা বলি সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু সবার ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করে সমাজে বিভেদের পরিবর্তে পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা। এ লক্ষ্যে সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থ, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অন্যদের সমান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু ধর্মের দেশ। তাই আদিবাসী কি অভিবাসী, বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাধীনতার সুফল ভোগ করার জন্য মালয়েশিয়ার মতো সব জাতি ও ধর্মের মানুষের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকা দরকার (সংযুক্ত তফসিলের মাধ্যমে)। পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার ৪০ বছর অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদের ওপর সবল জনগোষ্ঠীর আগ্রাসন অব্যাহত আছে। আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তাই স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার দাবিও অনেক সময় করা হয়। যা-ই হোক, পাহাড় কি সমতল—সব স্থানের, বৃহৎ কি ক্ষুদ্র, সব জনগোষ্ঠীর সম্পদ, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য রাষ্ট্রকে রক্ষকের দায়িত্ব নিতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য করা দরকার। সংখ্যা যতই ক্ষুদ্র হোক, নাগরিকমাত্র কোনো জনগোষ্ঠীই অবহেলার শিকার হতে পারে না।
স্বাধীনতার পর কাপ্তাই ড্যামে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি আদিবাসীদের সমস্যা দূর করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার তাদের বাঙালিদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু নিজেদের জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি হারানোর ভয়ে পাহাড়িরা এই পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর ১৯৭৯ সালে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরিব বাঙালিদের পার্বত্য অঞ্চলে বসতি (সেটেলার) করিয়ে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে পাহাড়িদের সমস্যা দূর না করে সরকার সামরিক শক্তি দিয়ে দমন করার চেষ্টা করে যায়। এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পাহাড়িরা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে এর বিরোধিতা করতে থাকে। ১৯৯৭ সালে সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়, তা ছিল এই সমস্যা সমাধানের একটি সূচনা, কিন্তু তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশ সরকারকে পার্বত্য শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তে অবস্থিত বিজিবির ক্যাম্প ব্যতীত সব অস্থায়ী সেনাক্যাম্প গুটিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তবে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার্স থাকবে। স্থায়ীভাবে বসবাসরত জনগণের মধ্য থেকে পুলিশ নিয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধান করা দরকার। পার্বত্য এলাকায় সেটেলার বসানো, সমতল ও পার্বত্য বনভূমি উন্নয়নের নামে ভূমিদস্যুদের কাছে লিজ দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বনভূমিনির্ভর জাতিসমূহের জীবিকার জন্য তাদের ভূমির ওপর অধিকার দিতে হবে। পাহাড় ও সমতলের সব নাগরিকের সম্পদ ও সংস্কৃতি রক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ নদীভাঙন ও সরকারি উন্নয়নকাজে বাস্তুচ্যুত বা ভূমিহীন ব্যক্তিদের একই এলাকার খাসজমিতে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
মানুষের জন্য এবং ক্যাপেং-এর গবেষণা পুস্তিকায় প্রায় ৫৪টি জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে আদিবাসী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে এমন কিছু অবহেলিত জনগোষ্ঠীর নাম নেই, যারা বাঙালি বা প্রচলিত অর্থে আদিবাসী নয়, কিন্তু তারা এ দেশেরই নাগরিক। তাই শুধু আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশের সব শ্রেণীর নাগরিকদের সমানাধিকার এবং সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা যায় না। আমরা সংবিধানে ওই স্বীকৃতি দেখতে চাই, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ছোট-বড় সব জাতির নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।
ম. ইনামুল হক: প্রকৌশলী। চেয়ারম্যান, দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চ।

জাপানে পদত্যাগ করেছেন টেপকোর প্রেসিডেন্ট

জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) প্রেসিডেন্ট মাসাতাকা শিমিজু গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোশিও নিশিজাওয়া।
টোকিওতে টেপকোর সদর দপ্তরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন শিমিজু। এ সময় নিশিজাওয়া তাঁর পাশে ছিলেন।
গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ১২ হাজার কোটি ইয়েন বা এক হাজার ৫৩০ কোটি ডলার লোকসান দিয়েছে। সম্প্রতি ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিমিজু বলেন, পরমাণু বিদ্যুতের ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত দায়দায়িত্ব নেওয়া শীর্ষ ব্যবস্থাপকের জন্য সঠিক পন্থা।
টেপকোর পরমাণু বিভাগের প্রধান সাকায়ে মুতোও পদত্যাগ করেছেন। গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ লোকসান দিয়েছে টেপকো। অর্থনৈতিক খাতের বাইরে জাপানের করপোরেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লোকসান দিল টেপকো।

বিয়ে করছেন ভুটানের রাজা

বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক (৩১)। কনে থিম্পু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। নাম জেতসুন পেমা। গতকাল শুক্রবার সকালে পার্লামেন্টে রাজা নিজেই তাঁর বিয়ের কথা ঘোষণা করেন।
তথ্যসচিব দেশো কিনলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের রাজা আগামী অক্টোবরে বিয়ে করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।’
রাজধানী থিম্পু থেকে রয়্যাল প্রেস কার্যালয়ের মুখপাত্র দোরজি ওয়াংচুক টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘বিয়েতে ধুমধাম হবে, তবে খুব বেশি নয়। এই অনুষ্ঠান নিয়ে বড় ধরনের পরিকল্পনা না করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজা। এর প্রথম কারণ, ভুটানে সম্পদের অপ্রতুলতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এ অনুষ্ঠান তাঁর ব্যক্তিগত।’
কনের বিষয়ে দোরজি ওয়াংচুক বলেন, ‘পেমা থিম্পু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। রাজা তাঁকে বেশ কিছুদিন ধরে জানেন। তাঁর সম্পর্কে পরে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’
রাজা জিগমে খেসার ওয়াংচুক অক্সফোর্ড থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। ২০০৮ সালে তাঁকে রাজমুকুট পরানো হয়।

চূড়ান্ত ফলাফলে করেয়া বিজয়ী

ইকুয়েডরের গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রেসিডেন্ট রাফায়েল করেয়া বিজয়ী হয়েছেন। দেশটির রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর ৭ মে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার এই ফল ঘোষণা করা হয়।
প্রেসিডেন্ট করেয়ার পরিকল্পনার মধ্যে আছে গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের ওপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে ভোটের চূড়ান্ত ফলে জয়ী হলেও করেয়ার জন্য এখনো দেশটির ন্যাশনাল ইলেকটোরাল কাউন্সিলের স্বীকৃতির প্রয়োজন। এ ছাড়া ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করার জন্য বিরোধী দলের হাতে এখনো সময় রয়েছে।
চূড়ান্ত ভোট গণনায় দেখা গেছে, নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪৪ দশমিক ৯৬ থেকে ৫০ দশমিক ৪৬ শতাংশের মধ্যে। ‘না’ ভোট পড়েছে ৩৯ দশমিক ২৫ থেকে ৪২ দশমিক ৫৬ শতাংশের মধ্যে।
গণভোটে জয়ী হওয়ায় করেয়া দেশটির সবচেয়ে বিতর্কিত দুটি বিষয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করার অনুমোদন পেয়েছেন। এগুলো হচ্ছে গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু ও মালিকানাসহ বিচার বিভাগের ওপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
আগামী সপ্তাহে ইকুয়েডরের পার্লামেন্টে গণমাধ্যমের ওপর করেয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের বিষয়ে বিতর্ক হওয়ার কথা। বিরোধী রাজনীতিকদের মতে, করেয়ার সংস্কার তাঁকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সাহায্য করবে। ২০১৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ গণভোটকে প্রেসিডেন্ট করেয়ার জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যিক ভবন

দক্ষিণ কোরিয়া গত মাসে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটি ব্যবসায়িক ভবন উদ্বোধন করেছে। রাজধানী সিউলের কাছে ইনশিওন এলাকায় গড়া হয়েছে এই স্থাপনা। এর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮০ লাখ ডলার। দেশটির পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি নির্মাণ করে।
পৃথিবীতে এটিই প্রথম পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়িক ভবন। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রয়টার্সের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনের পর ভবনটিতে ওই দেশের জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আড়াই হাজার বর্গমিটারের এই ভবন কোনো কার্বন নিঃসরণ করবে না। ভবনে ব্যবহার করা হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। প্রতিবছর ১০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড হ্রাস করবে এই ভবন। একটি দুই হাজার সিসি গাড়ি দুই লাখ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে এই পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে থাকে।
দেশটির জাতীয় পরিবেশ গবেষণা সংস্থার (এনআইইআর) গবেষক জায়ে-বাম লি রয়টার্সকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ২৫ শতাংশের জন্য দায়ী বিভিন্ন ভবন। আর এ কারণেই কার্বন নিঃসরণ করে না এমন ভবন নির্মাণের এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাকের প্রশাসন আগামী ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৩০ শতাংশ হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে।
এনআইইআর সূত্র জানায়, এটিই পৃথিবীর প্রথম ব্যবসায়িক স্থাপনা, যা কার্বন নিঃসরণ করবে না। এই ভবনে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনতে প্রতীকী ভূমিকা রাখবে এই ভবন। জনসাধারণকেও এ ধরনের ভবন তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে।

পাকিস্তানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে লাদেন-পরবর্তী প্রথম হামলা

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে গতকাল শুক্রবার মার্কিন কনস্যুলেটের দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মার্কিন নাগরিক। পাকিস্তানি তালেবান এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
২ মে ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদ শহরে মার্কিন কমান্ডোদের হামলায় আল-কায়েদার নেতা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে এটাই প্রথম জঙ্গি হামলা।
পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র আলবার্টো রডরিগুয়েজ বলেন, ‘সকালের দিকে মার্কিন কনস্যুলেটের দুটি গাড়ি কনস্যুলেটের দিকে আসছিল। এ সময় হামলা হয়। এতে একটি গাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই গাড়িতে আমাদের কূটনীতিকেরা ছিলেন। আমাদের নিজেদের লোকের মধ্যে কেউ মারা যাননি বা গুরুতর আহত হননি।’
মার্কিন দূতাবাস থেকে জানানো হয়, এক আত্মঘাতী হামলাকারী মোটরসাইকেল নিয়ে ওই হামলা চালায়। তবে পাকিস্তানি পুলিশ জানায়, এটি রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় সময় সকাল আটটা ২৫ মিনিটের দিকে ওই ঘটনা ঘটে। এতে মার্কিন কনস্যুলেটের একটি গাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে ফুটপাতের ওপর বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়।
স্থানীয় কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, বিস্ফোরণে স্থানীয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ ছাড়া ১১ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক।
পেশোয়ার পুলিশের বিস্ফোরক অপসারণ দলের প্রধান বলেন, এ হামলায় প্রায় ৫০ কিলোগ্রাম ওজনের বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলার কিছুক্ষণের মধ্যে এর দায়িত্ব স্বীকার করে পাকিস্তানি তালেবান। বার্তা সংস্থা এএফপিকে ফোন করে তারা জানায়, পশ্চিমি লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা হবে।
পাকিস্তানি তালেবানের মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান বলেন, ‘আমাদের প্রথম শত্রু পাকিস্তান, এরপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলো। আমাদের লোকেরা পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ঢুকে পড়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও হামলা হবে।’
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে বোমা হামলায় ৯৮ জন নিহত হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পর গতকাল পেশোয়ারে ওই হামলা হলো। আগের ওই হামলার পর তালেবানরা বলেছিল, বিন লাদেন হত্যার প্রতিশোধ নিতে তারা ওই হামলা চালিয়েছে।

কে হচ্ছেন আইএমএফ প্রধান?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান হিসেবে দমিনিক স্ত্রস কান পদত্যাগের পর সংস্থাটির নতুন প্রধান কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এখন তুঙ্গে। তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে ইতিমধ্যেই ফরাসি অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিন লাগার্দের নাম বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। নিউইয়র্কের একটি আদালত শর্তসাপেক্ষে আইএমএফের সাবেক প্রধান দমিনিক স্ত্রস কানকে গত বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি দিয়েছেন।
ইইউর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, আসন্ন জি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ক্রিস্টিন লাগার্দকে সংস্থার পরবর্তী প্রধান হিসেবে সমর্থন জানাতে পারে। সূত্র জানায়, আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার ফ্রান্সের দোওভিলে বিশ্বের সবচেয়ে শিল্পোন্নত আট দেশের সংস্থা জি-৮-এর সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সেখান থেকেই আইএমএফেএর আগামী প্রধান হিসেবে লাগার্দকে সমর্থন জানানো হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সূত্রটি আরও জানায়, ইইউর লাগার্দ ছাড়া আর কোনো প্রার্থী নেই মুদ্রা তহবিলের জন্য।
প্যারিসভিত্তিক সংস্থা ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মহাসচিব ম্যাক্সিকান বংশোদ্ভূত অ্যাঙ্গেল গুরিয়া আইএমএফের প্রধান হিসেবে এবার ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পরপরই ইইউর ওই সূত্র লাগার্দের সমর্থনে তথ্যগুলো দিলেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রতিষ্ঠার পর এর প্রধান বরাবরই ইউরোপ থেকে নিয়োগ হয়ে আসছে। অ্যাঙ্গেলা গুরিয়া বলেন, প্রথাটি ভাঙার এখনই সময়, তবে যা করার তা শিগগিরই করতে হবে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক গতকাল শুক্রবার আইএমএফের প্রধান হিসেবে লেসজেক বালসেরোউইকজের নাম প্রস্তাব করেছেন।
নিউইয়র্কের একটি আদালত আইএমএফের সাবেক প্রধান কানকে গত বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। তবে এ জন্য তাঁকে ১০ লাখ ডলার নগদ ও ৫০ লাখ ডলারের মুচলেকা দিতে হয়েছে। তাঁর গোড়ালিতে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক একটি বন্ধনী। এর সাহায্যে তাঁর ওপর নজর রাখবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া তাঁর ভ্রমণসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র জমা নিয়ে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা গৃহবন্দী রাখার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরাস ভ্যান্স জামিনের শুনানির পর জানিয়েছেন, মার্কিন আইন অনুযায়ী কানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওবামার বক্তব্য সরাসরি নাকচ নেতানিয়াহুর

ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রকাঠামো অবশ্যই ১৯৬৭ সালের যুদ্ধপূর্ব সীমানার ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সরাসরি নাকচ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু বলেছেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়া অবাস্তব ও অসম্ভব। এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টির কয়েক ঘণ্টা পরই গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটনে ওবামা-নেতানিয়াহু বৈঠকে বসেন।
নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের এক দিন আগে গত বৃহস্পতিবার ওবামা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলকে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধপূর্ব সীমান্তে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। ওবামা বলেন,”১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী সমঝোতার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সীমানা নির্ধারিত হওয়া উচিত, যাতে উভয় রাষ্ট্র নিরাপদ সীমারেখা নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অবশ্যই স্বশাসনের অধিকার আছে। একই সঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বের অধিকারও রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, সমঝোতার মাধ্যমে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হবে। ইসরায়েল, জর্ডান ও মিসরের সঙ্গে ফিলিস্তিনের এবং ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের স্থায়ী সীমান্ত প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সীমানা নির্ধারিত হতে হবে, যাতে দুটি রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সুরক্ষিত সীমান্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারে।’
ওবামার এ বক্তব্যের পরপরই নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বলি দিয়ে টেকসই ফিলিস্তিন ভূখণ্ড কায়েম করা যাবে না।’ ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের বিষয়ে যে অঙ্গীকার করেছিল, তা পুনর্ব্যক্ত করতে ওই বিবৃতিতে ওবামার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এর মধ্যে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধপরবর্তী সীমানা বাতিল না করার বিষয়টি ছিল অন্যতম। এতে আরও বলা হয়েছিল, ফিলিস্তিনের শরণার্থীরা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে নয় বরং নিজেদের সীমানায় পুনর্বাসিত হবে।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ওবামার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওবামার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেন, স্লোগানসর্বস্ব ঘোষণা না দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণ ও আরব জাতির অধিকার রক্ষায় গঠনমূলক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, গোলান উপত্যকা ও সিনাই পর্বতমালা দখল করে নেয়। তখন থেকেই ইসরায়েল এসব এলাকা নিজেদের দখলে রেখেছে এবং পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক আদালত এ দখল অবৈধ বলে রায় দিলেও ইসরায়েল তাদের দখল ছাড়েনি।

সিরিয়ায় বিক্ষোভ গুলিতে আরও ৩৪ জন নিহত

সিরিয়ায় গতকাল শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে বিভিন্ন শহরে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে।
গতকাল জুমার নামাজের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি উপেক্ষা করে রাজধানী দামেস্ক, হোমস, বানিয়াস, দেরা, হামা, লাতাকিয়সহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও গুলি চালায়। গুলিতে হোমস শহরে ১০ জন, পশ্চিমাঞ্চলীয় মারেত-আল নামান শহরে ১০ জন, সানামিন শহরে দুজন, দেরা শহরে দুজন লাতাকিয়ায় দুজন এবং দামেস্কের শহরতলি দরিয়ায় একজন, সানামিন শহরে ২ জন, পূর্বাঞ্চলীয় শহর দের ইজরে দুজনসহ কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হয়। দামেস্ক থেকে আইনজীবী রজন জইতুনা এ কথা জানান।
বানিয়াস শহরেও গুলি চলছে। শহরটি থেকে গত কয়েক সপ্তায় প্রায় এক হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচারে গুলি ও হত্যার নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট আসাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বৃহস্পতিবার বলেছেন, সিরিয়াকে অবশ্যই হত্যা এবং গণগ্রেপ্তারের পথ থেকে সরে আসতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জরিমানার ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব

পুঁজিবাজারের আইন লঙ্ঘনের কারণে কোনো বিনিয়োগকারী যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে সেই ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
শেয়ারবাজারে এমন বিধান চালু করতে চাইছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কিন্তু এসইসির এই প্রস্তাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ সম্মত নয়।
উভয় স্টক এক্সচেঞ্জই বলছে, প্রস্তাবটি করার আগে তাদের বিষয়টি জানানোই হয়নি। স্টক এক্সচেঞ্জের মতে, জরিমানার ভাগ যদি বিনিয়োগকারীদের দিতেই হয়, সে ব্যাপারে স্পষ্টতা থাকতে হবে। অর্থাৎ কত টাকা, কী হারে বা কীভাবে দেওয়া হবে ইত্যাদি বিষয় নির্ধারিত থাকতে হবে।
এসইসি সূত্র আরও জানায়, দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জরিমানা না দিয়ে উল্টো এসইসির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। বছরের পর বছর চলতে থাকে এ মামলা। এসইসি চাইছে, এসইসির বিরুদ্ধে মামলা করার আগে আরোপিত জরিমানার অন্তত ২৫ শতাংশ সংস্থাটির তহবিলে জমা রাখতে হবে। ডিএসই-ডিএসই এতেও রাজি নয়।
এসইসি বলেছে, আইন লঙ্ঘনের দায়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যে জরিমানা আদায় করা হয়, তার ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরাও পাবেন। বিদ্যমান ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশে এমন কোনো ধারা নেই। তবে ধারাটি সংযোজন করে অধ্যাদেশ সংশোধন করতে চায় এসইসি।
সম্প্রতি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের সংশোধনী চেয়ে উল্লিখিত দুই প্রস্তাবসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আরও কিছু প্রস্তাব জমা দিয়েছে এসইসি। এসইসির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত এপ্রিলের শুরুর দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব অমলেন্দু মুখার্জি এতে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ডিএসই এবং সিএসইর প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পাকিস্তান আমলের এ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের বিভিন্ন অসংগতির কথা গত পাঁচ বছর আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু তা সংশোধনের উদ্যোগ আর নেওয়া হয়নি। এসইসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সংশোধনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটিকে যুগোপযোগী করার জন্য কয়েক দফা প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। কিন্তু কোনোবারই তা আমলে নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি বাজার ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনকানুনের সংশোধনের তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার পরই অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিনও অর্থমন্ত্রী যে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তার মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের সংশোধনীর বিষয়টিও রয়েছে।
জানা গেছে, এরই মধ্যে ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ (সংশোধন), ২০১১’ নামে একটি খসড়া তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। অনুমোদনের জন্য তা অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিতও হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। খসড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী-বান্ধব বেশ কিছু নতুন ধারা সংযোজন এবং বিদ্যমান কিছু ধারার সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী প্রমাণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনেক সময় জরিমানা করা হয়। আদায় করা জরিমানার অর্থ জমা হয় এসইসি তথা সরকারি কোষাগারে। এ জরিমানার একটি অংশ মাত্রাভেদে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে দেওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, অর্থঋণ আদালতে রিট মামলা করতে গেলে ব্যাংকের ঋণখেলাপি গ্রাহকদের আগে ব্যাংকের অনুকূলে ২৫ শতাংশ অর্থ জমা রাখতে হয়।
এসইসির প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে সংঘটিত অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তাধীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে ব্যাংকে লেনদেন করে, সেই ব্যাংক ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এসইসিকে দেয় না। কারণ, আইনে সুযোগ না থাকায় এসইসির নিয়োজিত তদন্ত কমিটির কাছে চাহিদা অনুসারে ব্যাংকগুলো কোনো তথ্য দিতে বাধ্য নয়। তাই তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশে সংযোজন করা যেতে পারে।
বিদ্যমান আইনে ১৪ দিনের জন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত রাখতে পারে এসইসি। প্রয়োজনে তা আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে আইনে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে লেনদেন স্থগিতের সময়সীমা ৯০ দিন এবং প্রয়োজনে তা আরও ৪৫ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে শুধু ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত কোম্পানির শেয়ার বা ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার) ইস্যুর ক্ষেত্রে এসইসির সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোম্পানি আইন অনুযায়ী গঠিত নয়, এমন কৃত্রিম আইনগত সত্তাসম্পন্ন কোম্পানিও এসইসির অনুমতি নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে।
বিদ্যমান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশে ব্যাংকের সংজ্ঞা নির্ধারিত রয়েছে ১৯৬২ সালের ব্যাংকিং কোম্পানি অধ্যাদেশ অনুযায়ী। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ যে কতটা অনাধুনিক এ থেকেই তা বোঝা যায়। ৫০ বছর ধরে এ নিয়ে কেউ ভাবেইনি। সংশোধনী প্রস্তাবে তাই বলা হয়েছে, ব্যাংক বলতে ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসরণ করতে হবে।
যোগাযোগ করলে এসইসির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী ও অধিকতর বিনিয়োগকারী-বান্ধব করতে সরকারের কাছে তা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অধ্যাদেশটি যত দ্রুত সম্ভব সংশোধন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, আইন সংশোধনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, বাজারের স্বার্থে অবশ্যই তা শুভ উদ্যোগ। তবে জরিমানার অঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা কীভাবে পাবেন, সেই প্রক্রিয়াটির স্পষ্টতা থাকতে হবে।
তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং লেনদেন বন্ধের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দুটিও বাস্তবোচিত ও সময়োচিত বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ খান।
সিএসইর সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যাদেশটি সংশোধনীর উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রস্তাবগুলো দিয়েছে এসইসি নিজের মতো করে। এ ব্যাপারে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেরই যে কিছু বলার থাকতে পারে, এসইসি তা মনেই করেনি।
তবে বাজার ছোট হলেও বিশ্ব পুঁজিবাজারে যে ধরনের নিয়মকানুন চালু রয়েছে, তা থেকে বাইরে থাকতে চান না বলে জানান সিএসইর সভাপতি।

সিএসইতে পুঁজিবাজার সাংবাদিকদের নিয়ে কর্মশালা

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ শনিবার পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় রাজধানীর মতিঝিলে সিএসইর ঢাকার কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিএসইর সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ। সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিএসই সভাপতি বলেন, সাংবাদিকেরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আজকের এই কর্মশালা সাংবাদিকদের পুঁজিবাজার বিকাশে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে।
কর্মশালায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী পরিচালক আবদুল হান্নান জোয়ার্দার ও সিটিব্যাংক এনএর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন রশিদ।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিএসইর পরিচালক মফিজউদ্দিন ও উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ সাজিদ হোসেইন।
কর্মশালায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা অংশ নেন।

সংশয়ে কাতারের বিশ্বকাপ!

কাতারের জন্য একটা দুঃসংবাদ। ২০২২ বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত না-ও পেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। খোদ সেপ ব্ল্যাটার এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ফিফা সভাপতির এমন মন্তব্য ছাপা হয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্ট-এ। বলা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কাতারের কাছ থেকে বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার অধিকার ফিরিয়ে নিলে ফিফার ইতিহাসে সেটি হবে সবচেয়ে বড় ‘ইউটার্ন’।
কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পাইয়ে দিতে ফিফা নির্বাহী কমিটির দুই সদস্য বড় অঙ্কের ঘুষ খেয়েছেন—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটেনেরই আরেকটি পত্রিকা সানডে টাইমস-এ। এই পত্রিকাতেই প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে ভোটাভুটির আগেই নির্বাহী কমিটির অন্য দুই সদস্যকে নিষিদ্ধ করে ফিফার নৈতিক (এথিকাল) কমিটি।
সানডে টাইমস-এর এই নতুন খবরটিও যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ফিফা। তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সানডে টাইমস তাদের সূত্রকে ফিফার কমিটির সামনে হাজির করবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাতারের কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘গভীর উদ্বেগের’ সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়ে ব্ল্যাটার বলেছেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট প্রমাণ পেলে তাঁরা ‘ধাপে ধাপে’ সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই সিদ্ধান্ত যে কাতারের পক্ষে যাবে, সে নিশ্চয়তা তিনি দেননি।
যা-ই হোক না কেন, এ মাসের ২৭ তারিখের মধ্যেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করে ফেলতে চান ব্ল্যাটার। কারণ চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হওয়ার জন্য ভোটে দাঁড়িয়েছেন এই সুইস। সেই ভোট হবে ১ জুন।
সেদিনের কংগ্রেসে ইংল্যান্ড ভোট না-ও দিতে পারে। বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ মূলত ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকেই করা হচ্ছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার দৌড়েও নিরঙ্কুশভাবে পরাজিত হয় ভোটের আগে ফেবারিট বিবেচিত হওয়া ইংল্যান্ড। ব্রিটেনের সংসদে সম্প্রতি এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। সেখানে এফএর (ইংলিশ ফুটবল সংস্থা) সাবেক প্রধান ডেভিড ট্রাইজম্যান ফিফার চার নির্বাহী সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংসদীয় কমিটির সদস্যরা এফএকে ১ জুন ভোটদানে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। ব্ল্যাটার বলেছেন, ‘বিশ্বের এক নম্বর ফিফা সদস্যটি দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে পারছে না! এটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগছে।’

জাতীয় মহিলা ফুটবলে গোল-উৎসব চলছেই

বিলকিসের হ্যাটট্রিকে জাতীয় মহিলা ফুটবলের আঞ্চলিক পর্বে কাল স্থানীয় স্টেডিয়ামে যশোর ১০-০ গোলে হারিয়েছে ফরিদপুরকে। শিল্পী ও রেহানা করেছেন ২টি করে গোল। বেলি, শিউলি ও রুপার গোল ১টি করে। একই মাঠে রাজবাড়ী ৩-০ গোলে জিতেছে নড়াইলের বিপক্ষে। সালমা দুটি গোল করেছেন। অন্য গোলটি ডলির।
ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাগতিক দল ৪-১ গোলে হারিয়েছে জয়পুরহাটকে। গোল করেছেন মুনমুন, জাফুরা, মনসা ও মৌসুমী। টাঙ্গাইলে জামালপুরের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে টাঙ্গাইল। জয়ী দলের মালেকা ২টি, রোকসানা ও শাহানা ১টি গোল করেছেন। জামালপুরের গোলটি নূরজাহানের। দিনাজপুরে গাইবান্ধা ৩-১ গোলে জিতেছে দিনাজপুরের বিপক্ষে। মিতু ২টি, বেবি ১টি করে গোল করেছেন।

খেলার মেলা

ফুটবলের জন্যই বিশ্বজোড়া পরিচিতি। তবে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার ফুটবল ছাড়াও আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, হ্যান্ডবল, গলফ, বক্সিং, সাইক্লিং, জুডো, রাগবি, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ভলিবলসহ ২০টি ভিন্ন ভিন্ন খেলার নিয়মিত দলও আছে!

শোকস্তব্ধ ক্রীড়াঙ্গন

ক্রীড়া সাংবাদিক ও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির সাদীর (পামেল) অকালমৃত্যুতে শোকে আচ্ছন্ন দেশের ক্রীড়াঙ্গন। কাল বাংলাদেশ লিগের খেলা স্থগিত রাখা হয়েছিল তাঁর সম্মানে। শোকবার্তা দিয়ে প্রয়াত পামেলের আত্মার শান্তি কামনা করেছে বিভিন্ন ফেডারেশন। এর মধ্যে আছে ফুটবল ফেডারেশন, ক্রিকেট বোর্ড, টেবিল টেনিস। ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি, স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, স্পোর্টস জার্নালিস্ট কমিউনিটি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা মহানগর লিগ কমিটি ও সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় প্রয়াত পামেলের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার।

চাপে পাকিস্তান

১৭ টেস্টের পর জয়ের মুখ দেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর সিরিজ উদ্বোধনী গত গায়ানা টেস্টে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন জয়ের পার্শ্বনায়ক। কাল রবি রামপলকে দেখে মনে হলো, এবার আর ‘পার্শ্ব’ ভূমিকায় তিনি তৃপ্ত নন; হয়ে যেতে চান ‘নায়ক’ই। টানা তিন ওভারে পাকিস্তানের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিলেন এই ডানহাতি পেসার। সেন্ট কিটস টেস্টের প্রথম দিনে ১২ ওভারের মধ্যেই ২৪ রানে ৩ উইকেট হারাল পাকিস্তান। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই মনে মনে নিজেই অভিসম্পাত করছেন মিসবাহ-উল-হক!
চতুর্থ উইকেটে আজহার আলীর সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধস সামলালেও ২৫ রানেই আউট অধিনায়ক। বিশুর বলে স্যামুয়েলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে মিসবাহর বিদায়ের পর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি আজহার (৪৩*) ও উমর আকমল (৩০*)। ৫২ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর: ১২০/৪।
পাকিস্তান প্রথম উইকেট হারায় ইনিংসের অষ্টম আর রামপলের চতুর্থ ওভারে। বল ছাড়তে গিয়েই উইকেটকিপারকে ক্যাচ দেন তৌফিক উমর (১১)। রামপলের পরের ওভারের প্রথম বলেই তৃতীয় স্লিপে বধ হন মোহাম্মদ হাফিজ (৮)। নিজের ষষ্ঠ ওভারে এবার আসাদ শফিককে (০) আউট করেন রামপল।
চোটের কারণে এই টেস্টে খেলছেন না শিবনারায়ণ চন্দরপল। এই বাঁহাতির বদলে তিন বছর পর টেস্ট দলে সুযোগ পেলেন মারলন স্যামুয়েলস। চন্দরপলের ‘ডানহাতি সংস্করণ’ অবশ্য আছেন। অভিষেক হয়েছে ওপেনার ক্রেইগ ব্রাফেটের।

আন্তজেলা শিরোপাও রাজশাহীর

আরেকবার প্রমাণিত হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটে চলছে ‘রাজশাহী-যুগ’। জাতীয় ক্রিকেট লিগের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন তারা, এবার জিতে নিয়েছে আন্তজেলা ক্রিকেটও। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও তাদের কাছে পাত্তা পায়নি প্রতিপক্ষ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৩১তম আন্তজেলা ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কাল ময়মনসিংহ হেরেছে ১০৮ রানে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহীর শুরুটা ভালো হয়নি। সেমিফাইনালের সেঞ্চুরিয়ান মিজানুর রহমান ফিরে যান পঞ্চম ওভারে। দলীয় ৬২ রানে আউট আরও দুজন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে পরিস্থিতি সামাল দেন সাব্বির রহমান ও শাহরিয়ার ইসলাম। শাহরিয়ারকে আউট করে ৮৩ রানের জুটি ভাঙার পরের ওভারে সাব্বিরকেও ফেরান জাকির হোসেন। তবে রাজশাহী ম্যাচটা ময়মনসিংহের নাগালের বাইরে চলে যায় পরের জুটিতেই। ষষ্ঠ উইকেটে ৯১ বলে ১০৮ রানের জুটি গড়েন ইশরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান। ৪ চার, ২ ছয়ে ৫৭ বলে ৬৮ করলেন ইশরুল। ২টি করে চার-ছয়ে ৪৮ বলে হাবিবুর অপরাজিত ৪৮।
ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায় ময়মনসিংহের ইনিংস শুরুর মিনিট চল্লিশের মধ্যেই। ৩৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ময়মনসিংহ। এরপর ৬১ রানে ৬টি। আরাফাত সালাউদ্দিনের ৫০ আর মাহমুদউল্লাহর ৩৪ কেবল ব্যবধানটাই কমিয়েছে, বড় হার তবু এড়ানো যায়নি। ব্যাট হাতে ফিফটির পর লেগ স্পিনে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা সাব্বির।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী: ৫০ ওভারে ২৬৯/৬ (মিজানুর ১০, নাঈম ১৯, সাদিক ১৬, সাব্বির ৫৪, শাহরিয়ার ৪০, ইশরুল ৬৮, হাবিবুর ৪৮*, সানজামুল ১*; আরাফাত ২/৩৭, জাকির ২/৬৫, মোজাম্মেল ১/৩৭, মুসাদ্দেক ১/৪১)। ময়মনসিংহ: ৪৪ ওভারে ১৬১ (উত্তম ১৭, মজিদ ০, মোসাদ্দেক ০, নাঈমুর ৪, লিপন ১৮, সালেহীন ৭, মাহমুদউল্লাহ ৩৪, আরাফাত ৫০, মাজিদুর ১৬, জাকির ০, মোজাম্মেল ০; সাব্বির ৩/২৯, শামসুল ২/১১, কামরুল ১/২৪, শাহরিয়ার ১/২৪, রেজাউল ১/২৭, সানজামুল ১/৩৬)। ফলাফল: রাজশাহী ১০৮ রানে জয়ী; ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাব্বির রহমান।

রোনালদোর ম্যাচে নেই কাকা

সবুজ আয়তক্ষেত্রের রোনালদোকে বিদায় বলে দিতে যেন কুণ্ঠা। অবসর ভেঙে তাই আবার ফিরতে চান ফুটবলে। কয়েক দিন আগেই ক্লাব সভাপতি ঘোষণা দিয়েছেন, রোনালদো ফিরছেন করিন্থিয়ানসে। মানো মেনেজেস এককাঠি এগিয়ে। কোনো প্রকার ঘোষণা-টোষণা না দিয়েই কিংবদন্তি স্ট্রাইকারকে ব্রাজিল দলে ফিরিয়েছেন কোচ।
আগামী ৭ জুন সাও পাওলোতে রোমানিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের দলে ব্রাজিল কোচ দলে ডেকেছেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের মালিককে। এর মানে অবশ্য এই নয় যে, ব্রাজিলে প্রতিভার আকাল পড়েছে। আসলে রোনালদোকে মাঠ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানাতেই এই ম্যাচে ডেকেছেন মেনেজেস।
ব্রাজিল-রোমানিয়া ম্যাচটির মাহাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে রোনালদো খেলবেন বলেই। মেনেজেসের প্রীতি ম্যাচের দল নিয়ে বড় খবর আছে আরও একটি—এই দলে নেই কাকা। কোপা আমেরিকা শুরু হতে প্রায় দেড় মাস বাকি। এর আগে কাকাকে দলের বাইরে রেখে বিশেষ কোনো ইঙ্গিত কি দিলেন ব্রাজিল কোচ?
মেনেজেস অবশ্য সে রকম কিছু বলেননি। হাঁটুর অস্ত্রোপচার সেরে মাঠে ফিরে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তেমন ভালো করতে পারেননি। তাই বলে মেনেজেসের রাডারের বাইরে নন রিয়াল মাদ্রিদ প্লে-মেকার, ‘সে যে পুরো সেরে উঠেছে, কোপা আমেরিকার আগে এমন কিছু দেখাতে হবে। কাকার সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের।’
মেনেজেস কথা বলেছেন রোনালদোর বিদায় প্রসঙ্গেও। কীভাবে কী হবে, পাণ্ডুলিপি লিখেই রেখেছেন ব্রাজিল কোচ, ‘তার থেকে বেশি কিছু চাই না আমরা। তার কাছে বড় কিছু চাওয়ার নেই। এটা বন্ধুতার একটি মুহূর্ত, মাঠে থাকার চেয়েও আনন্দটাই তার কাছে বড় হয়ে উঠবে। সে প্রথমার্ধে হয়তো নামবে। কয়েক মিনিট খেলবে, পরে বিরতির সময় এসে বিদায় নেবে।’
রোনালদো-কাকার ব্যাপার বাদ দিলে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচে দেখার বিষয় ফ্রেডের ফেরা। ফ্লুমিনেন্সের এই স্ট্রাইকার ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০০৭ কোপা আমেরিকায়।

কী দিচ্ছেন এই বিদেশিরা?

একসময় বিশ্বকাপে খেলা এশিয়ার সর্বোচ্চ স্তরের খেলোয়াড় আসত বাংলাদেশে। এমেকা, নাসের হেজাজিদের কথা বলতে পারি। মাঠে তো বটেই, এই খেলোয়াড়দের অনুশীলনেও অনেক কিছু শেখার ছিল। কিন্তু এখন যেসব বিদেশি আনা হচ্ছে, তাঁদের কাছ থেকে আমাদের প্রাপ্তির খাতা শূন্য। এই বিদেশি এনে আদতে কোনো লাভ হচ্ছে না।’
জুয়েল রানার মুখে আক্ষেপ এবং হতাশা। জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক যেন গোটা ফুটবল অঙ্গনের মনের কথাটাই বলেছেন।
এমনকি এ কথাটা যেন বাজছে ভিনদেশি রবার্ট রুবচিচের মনেও। বাংলাদেশে কয়েক মাস কাটিয়ে জাতীয় দলের ক্রোয়েশিয়ান কোচ রবার্ট রুবচিচ বলছেন, ‘এমন বিদেশি আনা উচিত যাদের খেলা লোকে দেখবে এবং স্থানীয়রা শিখবে। কিন্তু সে রকম বিদেশি আসছে না বাংলাদেশে। বরং বিদেশির ভিড়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরাই চলে গেছে বেঞ্চে। এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য খুবই খারাপ একটা সংকেত।’
প্রমাণ হাতের কাছেই। দল বেঁধে নবাগত শেখ জামালে নাম লিখিয়েছেন এবার জাতীয় দলের প্রায় সব খেলোয়াড়। কিন্তু শেখ জামাল এখন নিয়মিত চারজন বিদেশি খেলানোয় জাতীয় দলের ৭-৮ জন খেলোয়াড় ঠাঁই নিয়েছেন বেঞ্চে, যাঁর মধ্যে আছেন দেশের প্রধান দুই স্ট্রাইকার এমিলি-এনামুলও। অন্য দলগুলোয়ও বিদেশিদের জায়গা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা।
অথচ কয়েকজন বিদেশিকে মোটামুটি মানের ধরে নিলে বাকিদের সঙ্গে স্থানীয়দের খুব একটা পার্থক্য নেই। শারীরিক দিক থেকেই যা একটু এগিয়ে বিদেশিরা (পড়ুন আফ্রিকানরা)। তার পরও ক্লাব বিদেশিদের কেন খেলায়? অনেক ক্লাব কর্মকর্তাকে প্রশ্নটা করে পাওয়া গেছে এমন উত্তর—‘টাকা দিয়ে বিদেশি এনে বসিয়ে রাখা যায় না। তা ছাড়া স্থানীয়দের চেয়ে তুলনামূলক ভালো সার্ভিস দেয় বিদেশিরা।’
কথাটা হয়তো ঠিক। কিন্তু বৃহত্তর পরিসরে দেখলে প্রশ্নটা আসেই—সামগ্রিকভাবে বিদেশি খেলিয়ে দেশের ফুটবল কতটা লাভবান হচ্ছে? সাবেক স্ট্রাইকার শেখ মোহাম্মদ আসলামের পর্যবেক্ষণটা এমন, ‘দু-চারজন বিদেশি ছাড়া অন্য বিদেশিরা নজর কাড়ছে না। ভালো বিদেশির পাশে খেলতে পারলে উপকৃত হতো আমাদের খেলোয়াড়েরা। স্থানীয়দের মানও আগের মতো নেই। ভালো বিদেশিদের কাছ থেকে ভালোটা নিতে পারছে না ওরা। বিদেশি খেলোয়াড়কে বোঝার মতো খেলোয়াড়ের ভীষণ অভাব এখন দেশে। তাই বিদেশিরাও নিজেদের তুলে ধরতে পারছে না।’
এবার বিদেশি কোটা ৩ থেকে ৫ হয়েছে। ১২ দলে ৫৫ জন বিদেশি নিবন্ধিত। শেখ জামাল জাতীয় দলের প্রায় সব খেলোয়াড় দলভুক্ত করায় অন্যদের আবদারে সাড়া দেয় বাফুফে। কিন্তু তাতে সমস্যাটা না কমে বরং বেড়েছে।
গোলরক্ষক আমিনুল ঠিক এই দিকটিই বড় করে দেখছেন, ‘যে মানের বিদেশি খেলোয়াড় এখন আসছে তাতে দেশের ফুটবলে কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। উল্টো তাদের কারণে অনেক খেলোয়াড় সাইড লাইনে চলে যাওয়ায় দেশে ফুটবলার-সংকট আগের চেয়েও আরও বেড়েছে।’
তাহলে এখন করণীয় কী? ব্রাদার্স কোচ খোন্দকার ওয়াসিম ইকবালের কথা, ‘এখন আমরা বিদেশি আনি দলে ভারসাম্য আনার জন্য। কিন্তু এতে দেশের ফুটবলে আর কোনো লাভ নেই। এ অবস্থায় ফেডারেশনের উচিত বিদেশি কোটা সর্বোচ্চ দুজন করা। পাঁচজন না এনে ওই টাকায় ভালো দুজন আনলেই বোধ হয় দেশের ফুটবলের জন্য মঙ্গল।’
বাফুফের নীতিনির্ধারকেরা কি শুনছেন?

ক্যাম্প আছে, লিগ নেই

মিরপুর ক্রীড়াপল্লীর ডাইনিং থেকে দুপুরের খাবার সেরে বেরোচ্ছিলেন এলিনা, শাপলা, এনায়েতরা। পর পরই মালয়েশিয়ান কোচ সুই পেংয়ের তাগাদা—এখনই শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী ইনডোরে যেতে হবে অনুশীলন করার জন্য। এমন ব্যস্ততার মধ্যেই এখন কাটছে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের।
এর জন্য তাঁদের কৃতজ্ঞতা এশিয়ান ব্যাডমিন্টন কনফেডারেশনের কাছে। এবারই যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ান ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে এশিয়ান ব্যাডমিন্টনের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা মনে করেন, এটি তাঁদের জন্য সোনালি এক সুযোগ। ৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পে সিনিয়রদের সঙ্গে অনুশীলন করছেন অনিক, রেজা, অভি, আইমান, তুষার, মুন্না, বৃষ্টি, রেহানা, বীথিদের মতো উদীয়মানরা।
গত এসএ গেমসের আগে-পরে এমন চারটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্প করেই যেন দায়িত্ব শেষ ফেডারেশনের। রুবাবা দৌলার নেতৃত্বে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কাছে খেলোয়াড়দের প্রত্যাশাটা অনেক বড়। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মিল খুঁজে না পেয়ে হতাশ খেলোয়াড়েরা।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব ব্যক্তিগত কাজে অনেক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের দাবি, ‘খেলা নিয়মিতই হচ্ছে।’
দুটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, দ্বিতীয় বিভাগ ও সামার টুর্নামেন্ট—১৫ মাসে এই ফেডারেশন মাত্র ৪টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করল। কিন্তু লিগটা তো বাক্সবন্দী। ১৯৮৬ সালে শুরু হওয়া প্রথম বিভাগ লিগ সর্বশেষ হয়েছে ২০০৮ সালে। ওদিকে ২০০২-০৩ মৌসুমে মামলার জটিলতায় পড়ে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মোহামেডান আর ফেডারেশনমুখী হয়নি। এ জন্য খেলোয়াড়ও কমে গেছে।
২০০৯ সালের পর জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ হয়নি। সেটি মনে করেই সর্বশেষ জুনিয়রে দ্বিমুকুট পাওয়া বৃষ্টি বলছেন, ‘ক্যাম্প করে লাভ কী? খেলা কবে, সেটাই তো জানি না। আমাদের আগ্রহটা কমে যাচ্ছে। নিজেকে প্রমাণের জায়গা পাচ্ছি না লিগ না থাকায়।’
লিগ না হওয়ায় খেলোয়াড়েরা ক্ষুব্ধও। অন্যতম শীর্ষ খেলোয়াড় এলিনা সুলতানা এর সঙ্গে সামনে আনলেন অন্য একটা বিষয়, ‘দেখুন, এমনিতেই খেলা নেই। তার ওপর আমাদের বিদেশে খেলতে যেতে হচ্ছে (আগামী ১৭-৩০ জুন আমন্ত্রণমূলক ওপেন চ্যালেঞ্জ কাপে খেলতে মালদ্বীপে যাবে বাংলাদেল দল) নিজের খরচে। এটা কী করে হয়! এভাবে চললে ভবিষ্যতে কেউ ব্যাডমিন্টনে আসতেই আগ্রহী হবে না।’
এ অবস্থায় ফেডারেশনের সভাপতি রুবাবা দৌলা ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছেন, ‘কয়েকটি করপোরেট হাউসের সঙ্গে কথা বলেছি। তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে আশা করি এসব সমস্যা হবে না ভবিষ্যতে।’ তবে ফেডারেশন স্থবির বলতে নারাজ রুবাবা দৌলা, ‘টুর্নামেন্ট হয়তো কম হচ্ছে। তবে ফেডারেশন চলছে ঠিকভাবে। শিগগিরই আমরা প্রতিভা অন্বেষণ শুরু করব।’
খেলোয়াড় তুলে এনে লাভ কী? যদি লিগই না থাকে!